প্রিন্ট এর তারিখ : ১৫ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৫ জুন ২০২৬
বিশ্বকাপে সুইডেন গোল উৎসব করে তিউনিসিয়াকে হারাল া
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
রোববার মেক্সিকোর মন্টেরি স্টেডিয়ামে এফ গ্রুপের নিজেদের প্রথম ম্যাচে তিউনিসিয়াকে ৫-১ গোলে হারিয়েছে সুইডেন। প্রথম ৩০ মিনিটেই দুইবার তিউনিসিয়ার জাল কাঁপিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে তুলে নেয় সুইডেন। প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগে একটি গোল শোধ করলেও দ্বিতীয়ার্ধে আর কোনো সুযোগ পায়নি তিউনিসিয়া। এই জয়ের মধ্য দিয়ে বিশ্বকাপ ইতিহাসে মাত্র দ্বিতীয়বারের মতো এক ম্যাচে পাঁচ বা তার বেশি গোল করল সুইডিশরা।
দলটির হয়ে জোড়া গোল করেন ইয়াসিন আয়ারি। এছাড়া একটি করে গোল করেন আলেকজান্ডার আইজাক, ভিক্টর ইয়োকেরেস ও মাতিয়াস স্বানবেরি।
এদিন ম্যাচের সপ্তম মিনিটেই এগিয়ে যায় সুইডেন। বক্সের বাইরে থেকে ডান পায়ের জোড়ালো শটে লক্ষ্যভেদ করেন ইয়াসিন আয়ারি। বল জালে জড়াতেই উদযাপনে মেতে ওঠেন সুইডিশ খেলোয়াড়রা। ম্যাচের ৩০তম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন আলেকজান্ডার আইজাক। বল দখলের লড়াই থেকে আক্রমণ সবখানেই এগিয়ে ছিল সুইডেন।
তিউনিসিয়া রক্ষণ সামলে আক্রমণের সুযোগ খুঁজতে থাকে। কিন্তু সুইডেনের শক্ত রক্ষণের দেয়াল ভাঙতে পারেনি তারা। প্রথমার্ধের শেষ দিকে অবশ্য স্রোতের বিপরীতে একটি গোল শোধ করে তিউনিসিয়া। ৪৩তম মিনিটে হানিবাল মেজব্রির বাড়ানো ক্রসে হেড করে বল জালে জড়ান ওমর রেকিক।
বিরতি থেকে ফিরে তৃতীয় গোলটিও পেয়ে যায় সুইডেন। ৫৯তম মিনিটে ব্যবধান বাড়ানো গোলটি করেন ভিক্টর ইয়োকেরেস। এই গোলে অবশ্য ইয়োকেরেসের নৈপুণ্যের চেয়ে তিউনিসিয়ার রক্ষণ ও গোলরক্ষকের দায়ই বেশি। তিউনিসিয়ার গোলকিপার শামাখ হাত দিয়ে বল বাড়িয়ে দেন স্খিরির দিকে। কাছেই থাকা ইয়োকেরেস ক্ষিপ্রতার সঙ্গে বল কেড়ে নিয়ে পাশে থাকা ইয়োকেরেসকে দেন। আর্সেনাল ফরোয়ার্ড ইয়োকেরেস কোনাকুনি শটে জালে বল জড়াতে কোনো কষ্টই পাননি।
এরপর আক্রমণের ধার আরও বাড়ায় সুইডেন। তিউনিসিয়ার রক্ষণভাগ একের পর এক আক্রমণ সামলাতে হিমশিম খেতে থাকে। ৮৫তম মিনিটে আরও এক গোলের দেখা পায় সুইডেন।
মাঠে নামার মাত্র ১৮ সেকেন্ড পর প্রথম বল ছুঁয়েই গোল করেন মাতিয়াস স্বানবেরি। যদিও প্রথমে সহকারি রেফারি অফসাইড দিয়েছিলেন। কিন্তু সুইডিশরা দাবি করতে থাকেন, গোলটি বৈধ। তাদের যুক্তি ছিল, ইয়োকেরেসের ফ্লিকের পর খেলা নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করে এবং সে সময় স্বানবেরি অনসাইড অবস্থানে ছিলেন।
সিদ্ধান্ত নিতে দীর্ঘ সময় নেয় ভিএআর। রেফারিও প্রথমে ভিএআর থেকে আসা বার্তা ঠিকভাবে শুনতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত তিনি সিদ্ধান্ত জানান, কিন্তু শুরুতে সুইডিশ খেলোয়াড়রা তা ঠিকমতো বুঝতেই পারেননি। মাঠে তৈরি হয় খানিকটা হাস্যকর পরিস্থিতি। কয়েক সেকেন্ড বিভ্রান্তির পর অবশেষে গোলের স্বীকৃতি পেয়ে উদযাপন শুরু করেন স্বানবেরি।
তখনো গোলের ক্ষুধা মেটেনি সুইডেনের। অতিরিক্ত সময়ের ষষ্ঠ মিনিটে তিউনিসিয়ার জালে পঞ্চমবার বল পাঠায় তারা। শুরুটা করেছিলেন ইয়াসিন আয়ারি, শেষটাও করলেন তিনিই। এই গোলের পরই খেলা শেষের বাঁশি বাজান রেফারি।
সুইডেনের বিশ্বকাপ ইতিহাসে সবচেয়ে বড় জয়টি এসেছিল ১৯৩৮ সালে, যখন কিউবাকে ৮-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছিল তারা। আজকের ৫-১ গোলের জয় তাদের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলের ব্যবধানে জয়। এফ গ্রুপের অপর ম্যাচে মুখোমুখি হবে পর্তুগাল ও দক্ষিণ কোরিয়া।
ম্যাচ শেষে সুইডিশ কোচ বলেন, ‘প্রথম ম্যাচে এভাবে জয় পাওয়া দারুণ আত্মবিশ্বাস দেবে। খেলোয়াড়রা নির্ধারিত পরিকল্পনা মেনেই খেলেছে। দারুণ এক সূচনা হলো আমাদের।’
তিউনিসিয়ার কোচ অবশ্য হতাশা প্রকাশ করে বলেন, ‘আমরা ম্যাচের শুরুতেই গোল হজম করেছি। দ্বিতীয়ার্ধে ব্যবধান বাড়ার পর ম্যাচ থেকে পুরোপুরি ছিটকে যাই। প্রতিপক্ষ সুইডেন দারুণ খেলেছে।’
সুইডেন এখন গ্রুপের শীর্ষে ৩ পয়েন্ট নিয়ে। তিউনিসিয়া পয়েন্ট টেবিলের তলানিতে। পরবর্তী ম্যাচে সুইডেন খেলবে পর্তুগালের বিপক্ষে, আর তিউনিসিয়া মুখোমুখি হবে দক্ষিণ কোরিয়ার।
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা