প্রিন্ট এর তারিখ : ১৫ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৫ জুন ২০২৬
ভালোবাসার টানে দুবাই থেকে ছুটে এসে ২০ বছরের সুবর্ণাকে বিয়ে করলেন পঞ্চাশোর্ধ্ব সোলেমানা
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
ভালোবাসার টানে সংযুক্ত আরব আমিরাত (দুবাই) থেকে বাংলাদেশে ছুটে এসেছেন পঞ্চাশোর্ধ্ব এক প্রবাসী নাগরিক। আর সেই ভালোবাসার পূর্ণতা দিতেই তিনি বসেছেন বিয়ের পিঁড়িতে। সোমবার (১৫ জুন) দুবাইয়ের নাগরিক সোলেমান (বয়স পঞ্চাশোর্ধ্ব) এবং বাংলাদেশি তরুণী সুবর্ণার (২০) বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে।শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার মূলনা ইউনিয়নের সাবেক লাউখোলা এলাকায় এই বিয়ের আয়োজন করা হয়। বিয়ে উপলক্ষে সোলেমানের নিজ খরচে প্রায় দেড় হাজার আত্মীয়-স্বজনের জন্য ভোজের আয়োজন করে সুবর্ণার পরিবার। ভিন্ন দেশের দুই মানুষের এই ভালোবাসার পরিণতি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জাজিরা উপজেলার ফারুক খানের মেয়ে সুবর্ণা দুই বছর আগে কাজের সুবাদে আবুধাবি যান। সেখানে একটি পার্কে ঘুরতে গিয়ে তার পরিচয় হয় স্থানীয় বাসিন্দা সোলেমানের সঙ্গে। ধীরে ধীরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।পরে সুবর্ণা দেশে ফিরে আসেন। এরপর তিন দিন আগে বাংলাদেশে আসেন সোলেমান। দুই পরিবারের সম্মতিতেই বিয়ের আয়োজন করা হয়। রোববার (১৩ জুন) রাতে জমকালো গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানের পর সোমবার বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।সুবর্ণার নানি ফুলজান বিবি বলেন, “নাতনি দুবাই গিয়েছিল। সেখানে তার সঙ্গে পরিচয় হয়। পরে সে বাংলাদেশে এসে নাতনিকে বিয়ে করেছে। আমরা অনেক খুশি।”কনে সুবর্ণা বলেন, “দুবাই থাকাকালীন তার সঙ্গে পরিচয় হয়। এরপর থেকেই সে আমাকে ভালোবাসে। সেই ভালোবাসা থেকেই বিয়ে করতে দুবাই থেকে এসেছে। নিজের ইচ্ছেতেই তাকে বিয়ে করেছি।” তবে এ ব্যাপারে কোনো কথা বলতে রাজি হননি দুবাই থেকে আসা নাগরিক সোলেমান। এমনকি মেয়ের বাবা-মাও এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি।অনেকে নবদম্পতির সুখী দাম্পত্য জীবন কামনা করলেও কেউ কেউ বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।স্থানীয় বাসিন্দা বরকত মোল্লা বলেন, “দুবাই থেকে প্রেমের টানে জাজিরার মেয়েকে বিয়ে করতে এসেছে। মাঝেমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখি, বিদেশি ছেলে বাংলাদেশে প্রেমের টানে আসে এবং বিয়ে করে। কিন্তু সেই বিয়ে কতদিন টিকে থাকে, তা জানা যায় না। হুটহাট করে এভাবে বিয়ে না দিয়ে যাচাই-বাছাই করে বিয়ে দেওয়া জরুরি। এগুলো প্রতারণার ফাঁদও হতে পারে।”জাজিরা থানার ওসি সালেহ আহমেদ বলেন, “এ ধরনের কোনো খবর আমরা পাইনি। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে জানা যাবে।”ভিন্ন দেশ, ভিন্ন সংস্কৃতি ও বয়সের বড় ব্যবধান নিয়ে এই বিয়ে কতদিন টিকে থাকে—সেটাই এখন দেখার বিষয়। ইতিমধ্যে এলাকায় কেউ কেউ এ বিয়েকে ‘প্রেমের অনন্য উদাহরণ’ আবার কেউ কেউ ‘দুঃসাহসিক পদক্ষেপ’ বলে মন্তব্য করছেন।
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা