প্রিন্ট এর তারিখ : ১৮ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৭ জুন ২০২৬
জনগণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে, বিএনপি আগামী ৫ বছর দেশ পরিচালনা করবে: প্রধানমন্ত্রীমৌলভীবাজারে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান; ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান।া
||
জনগণই দেশের ভাগ্য নির্ধারণ করেছে এবং তাদের রায়ের ভিত্তিতেই বিএনপি আগামী ৫ বছর দেশ পরিচালনা করবে বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, দেশের মানুষ বিএনপিকে ম্যান্ডেট দিয়েছে এবং সরকার জনগণকে দেওয়া প্রতিটি প্রতিশ্রুতি পূরণে নিরলসভাবে কাজ করে যাবে। একই সঙ্গে জনগণের এই রায়ের বিরুদ্ধে যারা অবস্থান নিচ্ছে এবং সরকারকে সময় না দেওয়ার কথা বলছে, তাদের বিরুদ্ধে দেশবাসীকে সতর্ক ও সজাগ থাকার আহ্বান জানান তিনি।বুধবার (১৭ জুন) বিকেলে মৌলভীবাজারে এক জনাকীর্ণ অনুষ্ঠানে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সজাগ থাকার আহ্বানপ্রধানমন্ত্রী তার বক্তৃতায় বিরোধী শক্তির সমালোচনা করে বলেন, "দেশের মানুষ এখন কাজ চায়, শান্তি চায় এবং ভালোভাবে বেঁচে থাকতে চায়। এর মধ্যে আর কোনো আঁকাবাঁকা হিসাব নেই, সোজা হিসাব। তাহলে যারা জনগণের রায়ের বিরুদ্ধে কথা বলে, যারা বলে বিএনপিকে সময় দেওয়া যাবে না—তাদের বিরুদ্ধে কী করা উচিত? তাদের ব্যাপারে আমাদের সকলকে চোখ-কান খোলা রাখতে হবে।" বর্তমান সরকার সম্পূর্ণভাবে জনগণ ও দেশের কল্যাণে নিয়োজিত রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।অতীতের 'আন্দোলন-আন্দোলন খেলা'র সমালোচনাতিনি অতীতে বিএনপির বিরুদ্ধে হওয়া বিভিন্ন রাজনৈতিক চক্রান্তের কথা স্মরণ করে বলেন, "আমরা অতীতে দেখেছি, বিএনপিকে এক মুহূর্ত শান্তিতে থাকতে দেওয়া যাবে না বলে ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। যারা বিভিন্ন সময়ে একত্রিত হয়ে গণতন্ত্র এবং মানুষের ভোটের অধিকারের বিরুদ্ধে 'আন্দোলন-আন্দোলন খেলা' ও চক্রান্ত করেছিল, তারাই আজ আবার নতুন করে বলছে সরকারকে সময় দেওয়া যাবে না।" প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করেন যে, যারা সরকারের সময়সীমা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে, তারা মূলত নিজেদের ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করতে জনগণের আকাঙ্ক্ষার বিরুদ্ধে কথা বলছে।জনগণই বিএনপির শক্তির উৎসপ্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উল্লেখ করেন যে, বিএনপির রাজনীতির মূল চালিকাশক্তি হলো এ দেশের সাধারণ মানুষ। তিনি বলেন, "আমাদের শক্তির উৎস জনগণ। এই জনগণই গত ১২ তারিখের নির্বাচনে আমাদের ওপর আস্থা রেখে সরকার গঠনে সরাসরি সহায়তা করেছে। জনগণের অভূতপূর্ব সমর্থন পাশে ছিল বলেই গত এক যুগের দীর্ঘ ও ধারাবাহিক আন্দোলনের পথ বেয়ে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ঐতিহাসিক সফলতা এসেছে।"নির্বাচনী মেনিফেস্টো এখন জনগণের মেনিফেস্টোসরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও রূপরেখা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "নির্বাচনের আগে আমরা দেশের মানুষের কাছে যে মেনিফেস্টো ও প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, নির্বাচনের ফলাফলই প্রমাণ করেছে সেটি শুধু বিএনপির একক কোনো মেনিফেস্টো ছিল না। বরং নির্বাচনের পর থেকে তা বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের মেনিফেস্টোতে পরিণত হয়েছে। তাই আমাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি এখন আর শুধু দলের প্রতিশ্রুতি নয়, এটি দেশের আপামর জনগণের প্রতিশ্রুতি।" সরকার এই প্রতিশ্রুতি অক্ষরে অক্ষরে পালন করবে বলে তিনি দেশবাসীকে আশ্বস্ত করেন।অনুষ্ঠানে স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, দলীয় নেতাকর্মী এবং বিশাল সংখ্যক সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী প্রতীকীভাবে বেশ কয়েকজন সুবিধাভোগীর হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দিয়ে এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন।
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা