প্রিন্ট এর তারিখ : ২২ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২২ জুন ২০২৬
সংসদে জামায়াতের রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি বিএনপি এমপিরা
নিউজ ডেস্ক ||
জাতীয় সংসদে বাজেট আলোচনার সময় জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতি নিষিদ্ধ করার দাবি তুলেছেন ঝালকাঠী-১ আসনের বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম জামাল। সোমবার সংসদে নিজের বক্তব্যে তিনি ১৯৭১ সালে জামায়াতের ভূমিকার প্রসঙ্গ টেনে এই দাবি জানান। রফিকুল ইসলাম জামাল বলেন, ১৯৭১ সালে যে দলটি এদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল, তাদের বাংলাদেশের রাজনীতি করার কোনো অধিকার নেই। তিনি ফ্যাসিস্টদের মতো জামায়াতের রাজনীতিও নিষিদ্ধ করার জন্য সরকারের প্রতি জোরালো দাবি জানান।বক্তব্যে তিনি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে জামায়াতের নির্বাচনী প্রচারণার কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, নামের সাথে ‘ইসলাম’ থাকলেই তা প্রকৃত ইসলাম হয় না। নির্বাচনের সময় এই দলের প্রার্থীরা বিতর্কিত বক্তব্য দিয়েছেন। ঝালকাঠী-১ আসনের জামায়াত প্রার্থী ফয়জুল হকের বিতর্কিত মন্তব্যের কথা উল্লেখ করে রফিকুল ইসলাম জামাল বলেন, তারা ভোটের বিনিময়ে মানুষকে বেহেশতের নিশ্চয়তা দেওয়ার মতো অগ্রহণযোগ্য কাজ করেছে, যা ধর্মের নামে রাজনীতিকে বিতর্কিত করেছে।একই দিনে বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে কুষ্টিয়া-১ আসনের সংসদ সদস্য রেজা আহমেদ ধর্মীয় উপাসনালয়ে রাজনীতি বন্ধের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, মসজিদ আল্লাহর ঘর, সেখানে নামাজ ও কোরআন পড়ার পরিবেশ থাকতে হবে। কোনো রাজনৈতিক দল সেখানে কোনোভাবেই সভা-সমাবেশ বা রাজনীতির চর্চা করতে পারবে না। তিনি আরও বলেন, অন্য সব রাজনৈতিক দল যদি মাঠে বা খোলা জায়গায় কর্মীসভা করতে পারে, তবে জামায়াত কেন মসজিদে রাজনীতি করবে? তিনি মসজিদে বা মাদ্রাসায় রাজনৈতিক মিটিং নিষিদ্ধ করতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতি আইন প্রণয়নের অনুরোধ জানান। রেজা আহমেদের এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে তিনি অন্যান্য সংসদ সদস্যদের সমর্থন আশা করেন।বিএনপি এমপির এই বক্তব্যের জবাবে জামায়াতের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে জামায়াতের সংসদ সদস্যরা সংসদে উপস্থিত ছিলেন এবং বিষয়টি তারা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, সংসদে জামায়াতের রাজনীতি নিষিদ্ধের এ দাবি বিরোধী জোটের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করতে পারে। অন্যদিকে বিএনপি ও জামায়াত ঐতিহ্যগতভাবে জোটবদ্ধ থাকলেও সম্প্রতি দুই দলের সম্পর্কে টানাপড়েন চলছে। এই মন্তব্যের পর জামায়াত নেতারা কী প্রতিক্রিয়া জানান, সেদিকে তাকিয়ে আছেন সংশ্লিষ্টরা। স্পিকার বিষয়টি শান্তিপূর্ণভাবে সমাধানের চেষ্টা করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। সংসদীয় শিষ্টাচার ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এই বক্তব্য সংসদের কার্যবিবরণীতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। আগামী দিনগুলোতে এই দাবি আরও বিতর্কের জন্ম দিতে পারে, বিশেষ করে আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে। জামায়াত তাদের অবস্থান স্পষ্ট করতে পারে এবং বিএনপি এমপির এই বক্তব্যের সমালোচনা করতে পারে। তবে আইনি ও রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে এ বিষয়ে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়, তা দেখার বিষয়।
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা