প্রিন্ট এর তারিখ : ২৭ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৭ জুন ২০২৬
নিউইয়র্কের প্রথম মুসলিম মেয়রের আশুরা বার্তা: ন্যায়বিচারের লড়াইয়ে উদ্বুদ্ধ করলেনা
বিশ্ব ডেস্ক ||
পবিত্র আশুরা উপলক্ষে ন্যায়বিচারের জন্য লড়াইয়ের আহ্বান জানিয়েছেন নিউ ইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি। শুক্রবার ত্যাগের মহিমা ও শাহাদাতের দিনে ধর্মীয় ঐতিহ্য এবং ন্যায়বিচারের প্রতি সম্মিলিত অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন তিনি। সংবাদমাধ্যম নিউ আরব নিউজের এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়। প্রতিবেদনে বলা হয়, শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্সে’ দেওয়া এক পোস্টে মামদানি লেখেন, ‘আশুরা হলো স্মরণ, আত্মত্যাগ এবং আত্মোপলব্ধির সময়।’ পোস্টে আজ মহররমের ১০ম দিনে আমরা ইমাম হোসেনের সত্য ও মর্যাদার প্রতি অবিচল অঙ্গীকারের কথা স্মরণ করছি জানিয়ে মেয়র লেখেন, ‘এটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, ন্যায়বিচারের জন্য লড়াই সবসময়ই সার্থক।’ আসুন আমরা এ আদর্শগুলোকে ধারণ করি এবং প্রত্যেকে নিউ ইয়র্কবাসীর জন্য আরও ন্যায়পরায়ণ একটি শহর গড়ে তোলার কাজ অব্যাহত রাখি বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, মূলত আশুরা ৬৮০ খ্রিস্টাব্দে কারবালার যুদ্ধে মহানবীর (সা.) দৌহিত্র ইমাম হোসেনের শাহাদাতকে স্মরণ করিয়ে দেয়। উমাইয়া খলিফা ইয়াজিদের আনুগত্য করতে অস্বীকার করায় ইমাম হোসেন, তাঁর পরিবার ও সঙ্গীদের শহীদ করা হয়। এ ঘটনাটি ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে রয়েছে।চলতি বছরের শুরুতে নিউ ইয়র্ক সিটির ইতিহাসের প্রথম মুসলিম মেয়র হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন জোহরান মামদানি। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই নিউ ইয়র্ক সিটির বিভিন্ন ধর্ম ও সংস্কৃতির মানুষের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে আসছেন মামদানি। এর আগে, রমজানে ডজনখানেক ইফতার মাহফিলে যোগ দিয়েছিলেন এবং শহরের পাঁচটি এলাকায় বিভিন্ন নামাজে অংশ নিয়েছিলেন তিনি। সবশেষ তিনি ব্রুকলিনেও তারাবির নামাজে অংশ নিয়েছিলেন। নিউ ইয়র্কের এ মেয়র ব্রঙ্কসের ম্যাকম্বস ড্যাম পার্কে ঈদুল আজহার নামাজে অংশ নিয়েছিলেন। এ সময় তাকে ইংলিশ ফুটবল ক্লাব আর্সেনালের আদলে তৈরি একটি পাঞ্জাবি পরতে দেখা যায়।জোহরান মামদানি কেবল আমেরিকার রাজনীতিতে নয়, বরং সমগ্র বিশ্বে মুসলিম নেতৃত্বের একটি উজ্জ্বল উদাহরণ হয়ে উঠেছেন। তার এই আশুরার বার্তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে এবং বহু মানুষ তা স্বাগত জানিয়েছেন। নিউ ইয়র্কের মুসলিম কমিউনিটি তার এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেছেন, এটি ধর্মীয় ঐতিহ্য ও মূল্যবোধকে সম্মান জানানোর একটি উদাহরণ। মেয়র মামদানি তার পোস্টে আরও বলেন, ‘ইমাম হোসেনের ত্যাগ আমাদের শেখায় যে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো এবং সত্যের পথে থাকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ। এটি শুধু মুসলিমদের জন্যই নয়, বরং মানবতার জন্যই একটি শিক্ষা।’ তিনি নিউ ইয়র্কবাসীদের প্রতি আহ্বান জানান, তারা যেন বৈচিত্র্যকে আলিঙ্গন করে এবং সব ধর্ম, বর্ণ ও জাতির মানুষের জন্য একটি নিরাপদ ও ন্যায়সংগত শহর গড়ে তোলে। মেয়রের এই বার্তা রাজনৈতিক মহলেও আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। অনেকেই মনে করছেন, এটি একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক বিবৃতি, যা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে। অন্যদিকে কেউ কেউ বলছেন, এটি ধর্মীয় অনুভূতিকে রাজনীতির সঙ্গে মিশ্রিত করার চেষ্টা। তবে মেয়রের কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, এটি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রকাশ এবং তিনি সব সম্প্রদায়ের মানুষকেই সমানভাবে মূল্যায়ন করেন। নিউ ইয়র্ক সিটির ইতিহাসে এই প্রথম কোনো মেয়র এত স্পষ্টভাবে ধর্মীয় ঐতিহ্য ও ন্যায়বিচারের বার্তা দিলেন। এটি আগামী দিনে নিউ ইয়র্কের সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা।
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা