প্রিন্ট এর তারিখ : ২৮ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৭ জুন ২০২৬
পশ্চিমবঙ্গে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি ও ‘লাভ জিহাদ’ বিরোধী আইনের ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীরা
বিশ্ব ডেস্ক ||
পশ্চিমবঙ্গের জাতীয় নিরাপত্তা জোরদার এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষায় অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (ইউসিসি) চালুর ঘোষণা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। একই সঙ্গে রাজ্যে ‘লাভ জিহাদ’ ও জোরপূর্বক ধর্মান্তরকরণের বিরুদ্ধে কঠোর আইন আনা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। শুক্রবার কলকাতার রবীন্দ্র সদনে ‘বন্দে মাতরম’ গানের সার্ধশতবার্ষিকী উদযাপন অনুষ্ঠানে তিনি এই ঘোষণা করেন। শুভেন্দু বলেন, রাজ্যে অবৈধ অনুপ্রবেশের কারণে জনসংখ্যার ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে, যা সামাজিক কাঠামো ও দেশের নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি রামকৃষ্ণ পরমহংস, চৈতন্য মহাপ্রভু, ডা. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের পবিত্র ভূমিতে কোনো দেশবিরোধী তৎপরতা বরদাস্ত করা হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেন। তিনি আরও বলেন, সরকার সীমান্ত এলাকায় অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় জমি ব্যবস্থা করেছে। অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে ফেরত পাঠানোর জন্য সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে হোল্ডিং সেন্টার তৈরি করা হয়েছে। যারা অবৈধভাবে ঢুকে দেশের সংস্কৃতি ও নিরাপত্তা নষ্ট করছে, তাদের ফেরত পাঠানো হবে। তবে সিএএ আইনের আওতায় ধর্মীয় নির্যাতনের শিকার হয়ে আসা হিন্দুরা শরণার্থী হিসেবে নাগরিকত্ব পাবেন। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ‘এক দেশ, এক বিধান, এক প্রধান, এক নিশান’ স্লোগানে তার সরকার পুরোপুরি বিশ্বাসী বলেও উল্লেখ করেন শুভেন্দু।অনুষ্ঠানে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে তাঁকে দূরদর্শী সাহিত্যিক, সাংবাদিক ও প্রশাসক হিসেবে বর্ণনা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘বন্দে মাতরম’ গানটি দেশের জন্য সঞ্জীবনী মন্ত্র, যা দেশপ্রেম ও জাতীয় ঐক্যের প্রতীক। এবারই প্রথম রাজ্য সরকারের উদ্যোগে নৈহাটির কাঁঠালপাড়ায় বঙ্কিমচন্দ্রের পৈতৃক ভিটায় এবং কলকাতায় তাঁর বাসভবনে রাষ্ট্রীয়ভাবে জন্মবার্ষিকী পালনের কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। আগের তৃণমূল সরকারের আমলে বঙ্কিমচন্দ্রের কলকাতার বাসভবনে তালা ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি।মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর এই ঘোষণা রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। অভিন্ন দেওয়ানি বিধি চালুর বিষয়টি কেন্দ্রীয় সরকারের দীর্ঘদিনের এজেন্ডা হলেও পশ্চিমবঙ্গে প্রথমবার কোনো মুখ্যমন্ত্রী এত স্পষ্টভাবে এর পক্ষে অবস্থান নিলেন। ‘লাভ জিহাদ’ বিরোধী আইনের ঘোষণাও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। পশ্চিমবঙ্গের বিরোধী দলগুলো এই ঘোষণাকে ‘সংখ্যালঘু বিদ্বেষী’ বলে সমালোচনা করেছে। তারা বলেছেন, এটি ধর্মীয় সম্প্রীতি নষ্ট করবে। অন্যদিকে, বিজেপি নেতৃত্ব এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং বলেছেন, এটি রাজ্যের নিরাপত্তা ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষায় যুগান্তকারী পদক্ষেপ। রাজ্যের মুসলিম সংগঠনগুলো লাভ জিহাদ আইনের বিরোধিতা করেছে। তারা বলেছে, এটি একটি কল্পিত সমস্যা এবং এ ধরনের আইন মুসলিম নারী ও পুরুষদের ব্যক্তিগত স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করবে। অন্যদিকে, হিন্দু সংগঠনগুলো এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। তারা দাবি করেছে, রাজ্যে জোরপূর্বক ধর্মান্তর বন্ধ করতে এমন আইন জরুরি ছিল। সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে হোল্ডিং সেন্টার তৈরির উদ্যোগও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলেছে, এটি আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করতে পারে এবং শরণার্থীদের অধিকার হরণ করতে পারে। মুখ্যমন্ত্রী অবশ্য স্পষ্ট করেছেন যে সিএএ আইনের আওতায় আসা হিন্দু শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দেওয়া হবে। এই ঘোষণার মাধ্যমে শুভেন্দু অধিকারী তাঁর সরকারের জাতীয়তাবাদী অবস্থান আরও স্পষ্ট করেছেন। রাজ্যে বিজেপি সরকারের এই পদক্ষেপ আগামী দিনে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে সংখ্যালঘু ও হিন্দু ভোট ব্যাংকের ওপর এর প্রভাব পর্যবেক্ষণ করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। পশ্চিমবঙ্গের মানুষ এখন এই আইনগুলো বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া এবং এর প্রভাব দেখতে আগ্রহী।
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা