প্রিন্ট এর তারিখ : ২৯ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৮ জুন ২০২৬
রাজধানীতে পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারা
নিউজ ডেস্ক ||
রাজধানীর সবুজবাগ থানার দক্ষিণগাঁও এলাকার একটি বাসা থেকে নিলুফার ইয়াসমিন (৩০) নামে এক নারীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিলুফার ইয়াসমিনের স্বামী পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) পদে কর্মরত আছেন। রোববার সকালের দিকে তার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, রোববার ভোর সাড়ে ৪টা থেকে সকাল ৬টার মধ্যে কোনো একসময় তিনি নিজের কক্ষে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেন। হতাশাগ্রস্ত হয়ে তিনি আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন বলে ধারণা পুলিশের। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় মরদেহ উদ্ধার করে।সবুজবাগ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ফাতেমা আক্তার বলেন, শনিবার দিনগত রাতে খবর পেয়ে দক্ষিণগাঁওয়ের শাহীবাগ মসজিদ এলাকার একটি বাসা থেকে নিলুফারের মরদেহ উদ্ধার করি। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। তিনি আরও জানান, গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) উপ-পরিদর্শক (এসআই) আনোয়ার হোসেনের স্ত্রী নিলুফার ইয়াসমিন। নিহতের স্বামী ঘটনার সময় গাজীপুরে কর্মস্থলে ছিলেন। প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হলেও ময়নাতদন্তের পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে বলে জানিয়েছেন পুলিশ কর্মকর্তারা। নিলুফারের পারিবারিক সূত্র জানায়, তিনি মানসিকভাবে হতাশাগ্রস্ত ছিলেন। তবে কী কারণে তিনি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তা এখনো নিশ্চিত নয়। পুলিশ জানিয়েছে, তারা ঘটনার রহস্য উদঘাটনে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। নিহতের স্বামী আনোয়ার হোসেন ঘটনার পর থেকেই শোকস্তব্ধ। তিনি বলেন, ‘আমি বুঝতে পারছি না কেন তিনি এ কাজ করলেন। তার সঙ্গে আমার কোনো মনোমালিন্য ছিল না।’ প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, নিলুফার খুবই শান্তশিষ্ট ও সহজ-সরল স্বভাবের মানুষ ছিলেন। তারা এই ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন। ইতিমধ্যে স্বামী আনোয়ার হোসেনের পরিবার ও আত্মীয়স্বজনরা ঘটনাস্থলে এসেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, তারা নিহতের পরিবারের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার কারণ খোঁজার চেষ্টা করছে। এ ধরনের ঘটনা যাতে আর না ঘটে, সেজন্য মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দাম্পত্য কলহ, পারিবারিক অস্থিরতা, মানসিক চাপ ও হতাশা এমন মর্মান্তিক ঘটনার জন্য দায়ী হতে পারে। তাই পরিবারের সদস্যদের উচিত একে অপরের মানসিক অবস্থা বুঝতে চেষ্টা করা এবং প্রয়োজনে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের সাহায্য নেওয়া। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। পরবর্তীতে ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী দাফন সম্পন্ন করা হবে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ বলছে, তারা তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেবে। নিলুফারের মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। অনেকেই তার অকাল মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিয়েছেন। রাজধানীতে আত্মহত্যার ঘটনা বাড়ছে বলে সম্প্রতি বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা মোকাবিলায় আরও বেশি কাউন্সেলিং সেন্টার স্থাপন ও সচেতনতা বৃদ্ধি করা জরুরি। এই মর্মান্তিক ঘটনা আবারও সেই বিষয়টি সামনে এনেছে। আগামী দিনে যাতে এমন ঘটনা না ঘটে, সেজন্য সমাজের সব স্তরের মানুষকে সচেতন হতে হবে। পুলিশ জানিয়েছে, তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করবে এবং কোনো অসামঞ্জস্য পেলে যথাযথ ব্যবস্থা নেবে। নিহতের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিত্ব।
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা