প্রিন্ট এর তারিখ : ২৯ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৯ জুন ২০২৬
লেবানন-ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি চুক্তি নিয়ে গৃহযুদ্ধের শঙ্কাা
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
দখলদার ইসরায়েলের সঙ্গে আলাদাভাবে যুদ্ধবিরতির চুক্তি করেছে লেবাননের সরকার। তবে এ চুক্তির কারণে লেবাননে গৃহযুদ্ধ বাধতে পারে বলে সতর্কতা দিয়েছেন দেশটির আইনপ্রণেতা হাসান ফাদাল্লাহ। হাসান ফাদাল্লাহ সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ সংশ্লিষ্ট আইনপ্রণেতা। তিনি লেবানন সরকার ও ইসরায়েলের চুক্তির তীব্র নিন্দাও জানিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় গত সপ্তাহে চুক্তিটি হওয়ার পরপরই হিজবুল্লাহ এটি প্রত্যাখ্যান করে। সশস্ত্র গোষ্ঠীটি বলেছে, তাদের বিশ্বাস এ যুদ্ধবিরতি চুক্তি কখনো কার্যকরই হবে না। গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে ১৪ দফার চুক্তিটি হয়। এতে হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধ এবং হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করার কথা বলা হয়েছে। যার অর্থ লেবাননের সেনাবাহিনী হিজবুল্লাহকে অস্ত্র সমর্পণে বাধ্য করার চেষ্টা করবে।লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ অউন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে এক ফোনকলে বলেছেন, চুক্তি কার্যকরে লেবানন তার দায়িত্ব পালন করবে। এরপরই হিজবুল্লাহ সংশ্লিষ্ট আইনপ্রণেতা গৃহযুদ্ধের সতর্কতা দিয়েছেন। এর আগে গতকাল শনিবার হিজবুল্লাহ প্রধান নাঈম কাসেম এক বিবৃতিতে বলেন, লেবানন ও ইসরায়েলি সরকারের মধ্যে হওয়া চুক্তিকে তারা বাতিল ও অকার্যকর হিসেবে গণ্য করবেন। এছাড়া ইসরায়েলের সঙ্গে চুক্তিকে লেবাননের ভৌগলিক অখণ্ডতার আত্মসমর্পণ হিসেবেও অভিহিত করেন তিনি।হিজবুল্লাহর এই অবস্থানের ফলে লেবাননের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নতুন করে সংকট তৈরি হয়েছে। দেশটির বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও গোষ্ঠী এই চুক্তি নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন মত পোষণ করছে। কেউ কেউ চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছেন, আবার কেউ কেউ এর তীব্র সমালোচনা করেছেন। বিশ্লেষকরা বলছেন, হিজবুল্লাহ যদি তাদের অস্ত্র সমর্পণে রাজি না হয়, তাহলে লেবাননে আবারও গৃহযুদ্ধ শুরু হতে পারে। লেবাননে ইতিমধ্যে অর্থনৈতিক সংকট ও রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা বিরাজ করছে। এই চুক্তি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন। জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র লেবাননের সব পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে। তারা চুক্তি বাস্তবায়নে লেবানন সরকারের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। কিন্তু হিজবুল্লাহ তাদের অবস্থানে অনড়। তারা বলেছে, তারা ইসরায়েলের বিরুদ্ধে তাদের প্রতিরোধ অব্যাহত রাখবে। লেবাননের সেনাবাহিনী হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করতে পারবে কিনা, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। হিজবুল্লাহ লেবাননের সবচেয়ে শক্তিশালী সশস্ত্র গোষ্ঠী এবং তাদের বিরাট সমর্থক রয়েছে। তাই তাদের নিরস্ত্রীকরণ সহজ হবে না। এই পরিস্থিতিতে লেবাননে গৃহযুদ্ধের আশঙ্কা ক্রমশ বাস্তব রূপ নিচ্ছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এখন লেবাননকে নিয়ে উদ্বিগ্ন। তারা চায় যাতে লেবাননে কোনো সহিংসতা না ছড়ায় এবং দেশটির স্থিতিশীলতা বজায় থাকে। তবে হিজবুল্লাহ ও লেবানন সরকারের মধ্যে এই দ্বন্দ্ব দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে বলে ধারণা করছেন অনেকেই। লেবাননের জনগণ এই পরিস্থিতি নিয়ে আতঙ্কিত। তারা চায় যাতে তাদের দেশ আবারও যুদ্ধের ময়দানে পরিণত না হয়। এমতাবস্থায় সবাই উদ্বিগ্ন দৃষ্টিতে লেবাননের দিকে তাকিয়ে আছে। আগামী কয়েকদিন এই পরিস্থিতির দিকনির্দেশনা নির্ধারণ করবে।
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা