প্রিন্ট এর তারিখ : ৩০ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৯ জুন ২০২৬
পরকীয়ার জেরে স্বামীকে খুন করে মাটিতে পুঁতে রাখার অভিযোগ, স্ত্রী আটকা
নিউজ ডেস্ক ||
বরিশালের মুলাদীতে স্ত্রীর পরকীয়া প্রেমের জেরে এক কৃষককে খুন করে ঘরের পাশে মাটিতে পুঁতে রাখার অভিযোগ উঠেছে। সোমবার বেলা দেড়টার দিকে উপজেলার চরমালিয়া গ্রামে নিহতের নিজ বাড়ির রান্নাঘর সংলগ্ন এলাকা থেকে মাটি খুঁড়ে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত কৃষকের নাম হারুন হাওলাদার (৫৯)। তিনি চরমালিয়া গ্রামের মৃত অছিমদ্দিন হাওলাদারের ছেলে।ঘটনার পর জড়িত থাকার অভিযোগে নিহতের স্ত্রী সেলিনা বেগমকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশ জানিয়েছে, পরকীয়ায় বাধা দেওয়ায় স্বামীকে হত্যার পর মরদেহ লুকিয়ে রেখে নিখোঁজের নাটক সাজিয়েছিলেন ওই নারী। গত শুক্রবার রাতে হঠাৎ নিখোঁজ হন তিনি। এরপর থেকেই তার স্ত্রী সেলিনা বেগম দাবি করে আসছিলেন যে, গভীর রাতে অজ্ঞাতপরিচয় কিছু লোক হারুন হাওলাদারের হাত ও চোখ বেঁধে বাড়ি থেকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে গেছে এবং একটি ট্রলারে করে পালিয়ে গেছে। এই সাজানো ঘটনাকে সত্য প্রমাণ করতে সেলিনা বেগম তার ছেলে জাফর হাওলাদারকে দিয়ে গত শনিবার রাতে মুলাদী থানায় একটি অপহরণ মামলা দায়ের করান। নিজের সাজানো ওই অপহরণ মামলায় সেলিনা বেগম নিজেই প্রধান সাক্ষী হয়েছিলেন।পুলিশ সূত্র থেকে জানা গেছে, গত শনিবার ভোরে সফিপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য হেলাল ব্যাপারী মোবাইল ফোনের মাধ্যমে হারুন হাওলাদারের নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি প্রশাসনকে জানান। খবর পেয়ে ওই দিন সকালেই মুলাদী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) তারেক আমান বান্নাসহ থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে। স্থানীয় সফিপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য হেলাল ব্যাপারী এই বিষয়ে জানান, শনিবার ভোরে সেলিনা বেগম নিজেই তার স্বামীকে অপহরণ করা হয়েছে বলে চারদিকে শোরগোল তোলেন। জনপ্রতিনিধি হিসেবে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করেন। তবে প্রথম থেকেই সেলিনা বেগমের কথাবার্তা ও আচরণে স্থানীয় বাসিন্দাদের মনে তীব্র সন্দেহ দানা বাঁধতে শুরু করে। বিশেষ করে, শুক্রবার রাতে তিনি ঘরের মেঝে হঠাৎ নতুন কাদামাটি দিয়ে লেপে দিয়েছিলেন, যা সবার নজরে আসে। একজন নিরীহ কৃষক এভাবে নিখোঁজ হওয়ায় সোমবার সকালে প্রতিবেশীরা সম্মিলিতভাবে বাড়ির আশপাশে খোঁজখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে হারুনের রান্নাঘরের পাশে নতুন খনন করা মাটি ও সেখানে মানুষের আঙুল সদৃশ কিছু দেখতে পেয়ে তারা পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ এসে মাটি খুঁড়ে নিখোঁজ কৃষকের মরদেহটি উদ্ধার করে।পুলিশ জানিয়েছে, সেলিনা বেগমের বিরুদ্ধে হত্যা ও অপহরণ মামলায় মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। তার কাছ থেকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছে পুলিশ। তিনি তার অপরাধ স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার। পুলিশ আরও জানিয়েছে, ঘটনার সাথে জড়িত থাকতে পারে এমন আরও কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। নিহতের পরিবারের সদস্যরা এই ঘটনায় শোকাহত এবং তারা সেলিনা বেগমের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন। এলাকাবাসী এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানিয়েছেন এবং দ্রুত বিচারের দাবি জানিয়েছেন। তারা বলেছেন, হারুন হাওলাদার অত্যন্ত শান্তশিষ্ট ও নিরীহ কৃষক ছিলেন। তাকে এভাবে হত্যা করা অত্যন্ত নৃশংস। পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। ইতিমধ্যে সেলিনা বেগমকে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। পুলিশ আশা করছে, দ্রুত এই মামলার রহস্য উদঘাটন করতে পারবে এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে। এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করে যে, পারিবারিক কলহ ও সম্পর্কের জটিলতা কখনও কখনও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। সমাজের সব স্তরের মানুষকে এই ধরনের ঘটনা রোধে সচেতন হতে হবে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও তৎপর হতে হবে।
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা