প্রিন্ট এর তারিখ : ০১ জুলাই ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০১ জুলাই ২০২৬
পটুয়াখালীতে পারিবারিক বিরোধের জেরে যুবক খুন, বাবা-চাচাতো ভাইদের বিরুদ্ধে অভিযোগা
নিউজ ডেস্ক ||
পটুয়াখালী সদর উপজেলায় রিপন কাজী (৩৫) নামে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে বাবা ও চাচাতো ভাইদের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার রাত ১১টায় সদর উপজেলার মহিষকাটা বাজারের উত্তর পাশে বাজারগোনা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত ও অভিযুক্তদের বাড়ি বরগুনার আমতলী উপজেলার গুলিশাখালী ইউনিয়নে বলে জানা গেছে। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী রাজিব কাজী জানান, মোটরসাইকেলে যাওয়ার সময় কয়েকজন পথরোধ করে রিপন কাজীর ওপর হামলা চালায়। প্রাণ বাঁচাতে পাশের একটি খালে ঝাঁপ দিলেও হামলা থেকে বাঁচতে পারেননি তিনি। এতে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে পটুয়াখালী সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।নিহতের পরিবার জানায়, জমিজমা ও পারিবারিক বিরোধের জেরে হত্যার উদ্দেশ্যে নিহতের বাবা ও চাচাতো ভাইয়েরা এ হামলা চালায়। হত্যাকাণ্ডে রিফাত কাজী, রাসেল কাজী, মনির কাজী, সোহাগ কাজী ও মিজানুর কাজী সরাসরি জড়িত। পটুয়াখালী সদর হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. রাকিবুল ইসলাম বলেন, ‘হাসপাতালে আনার আগেই রিপন কাজীর মৃত্যু হয়েছে। তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।’ পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘মরদেহ পটুয়াখালী সদর হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।’নিহতের ভাই রুবেল কাজী বলেন, ‘আমার ভাইকে তারা নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করেছে। আমরা ন্যায়বিচার চাই।’ এলাকাবাসী এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। তারা বলেন, পারিবারিক বিরোধ মিটিয়ে ফেলার জন্য এ ধরনের হত্যাকাণ্ড কোনোভাবেই কাম্য নয়। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পটুয়াখালী সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করলেও পুলিশ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কাজ করছে। পুলিশ জানিয়েছে, তারা অভিযুক্তদের খুঁজে বের করতে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালাচ্ছে। পারিবারিক বিরোধের কারণে এ ধরনের হত্যাকাণ্ড সমাজে বেড়েই চলছে। আইনজীবীরা বলছেন, পারিবারিক বিরোধ সমাধানে আইনি প্রক্রিয়া অবলম্বন করা উচিত, নিজের হাতে বিচার না। অন্যথায় এ ধরনের ঘটনা বাড়বে। পটুয়াখালীর এই হত্যাকাণ্ড আবারও পারিবারিক কলহের ভয়াবহ পরিণতি তুলে ধরল। সাধারণ মানুষ প্রশাসনের কাছে দোষীদের গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, তারা দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা করছে। নিহতের পরিবার সঠিক বিচার না পাওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সকলের দৃষ্টি এখন পুলিশের তদন্ত ও আদালতের রায়ের দিকে। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে এই মামলার অগ্রগতি জানা যাবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা