প্রিন্ট এর তারিখ : ০২ জুলাই ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০২ জুলাই ২০২৬
জুলাই স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধন ৫ আগস্ট, উন্মুক্ত হবে দর্শনার্থীদের জন্যা
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
ছাত্র আন্দোলনের স্মৃতি সংরক্ষণে নির্মিত ‘জুলাই স্মৃতি জাদুঘর’ আগামী ৫ আগস্ট উদ্বোধন করা হবে। উদ্বোধনের পর এটি সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। বুধবার সচিবালয়ে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬ পালন এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত সভায় এই সিদ্ধান্ত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী।জাদুঘরটিতে জুলাই আন্দোলনের বিভিন্ন আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, দুর্লভ দলিল, সংবাদপত্রের সংরক্ষিত প্রতিবেদন, আন্দোলনে ব্যবহৃত বিভিন্ন সামগ্রী, শহীদ ও আহতদের ব্যক্তিগত স্মারক, পোশাক, ব্যানার, প্ল্যাকার্ডসহ নানা নিদর্শন স্থান পেয়েছে। এছাড়া মাল্টিমিডিয়া ও ডিজিটাল ডিসপ্লের মাধ্যমে আন্দোলনের ধারাবাহিক ঘটনাপ্রবাহ, গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিজ্ঞতাও তুলে ধরা হবে। গবেষক ও দর্শনার্থীদের জন্য সংরক্ষণ করা হয়েছে তথ্যভিত্তিক আর্কাইভও। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জাদুঘরটি শুধু স্মৃতিচারণের স্থান নয়, বরং জুলাই আন্দোলনের ইতিহাস, ত্যাগ ও সংগ্রাম নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে।বৈঠক শেষে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের মহাপরিচালক তানজিম ওয়াহাব বলেন, “উদ্বোধন সামনে রেখে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট বাস্তবায়নকারী সংস্থাগুলো শেষ মুহূর্তের কাজ এগিয়ে নিচ্ছে। প্রদর্শনীর উপকরণ সংযোজন, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, দর্শনার্থী ব্যবস্থাপনা এবং ডিজিটাল কনটেন্ট স্থাপনের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে।” প্রসঙ্গত, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ও একাধিকবার উদ্বোধনের ঘোষণা দেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত খোলা হয়নি জুলাই স্মৃতি জাদুঘর। তবে এবার নির্দিষ্ট সময়সীমা নিয়ে কাজ চলছে এবং ৫ আগস্টের মধ্যে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।জাদুঘরটি উদ্বোধনের পর দর্শনার্থীদের জন্য সপ্তাহের নির্দিষ্ট দিন ও সময়ে খোলা থাকবে। স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ শিক্ষামূলক সফরেরও ব্যবস্থা রাখা হবে। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, জাদুঘরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জুলাই আন্দোলনের শহীদদের পরিবারের সদস্য, আহত ও আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী নেতা-কর্মীদের বিশেষ আমন্ত্রণ জানানো হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন বলে জানা গেছে। জুলাই স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের স্মৃতি সংরক্ষণের কাজ শুরু হলো। নতুন প্রজন্ম এই জাদুঘর ঘুরে দেখে আন্দোলনের ত্যাগ ও সংগ্রাম সম্পর্কে জানতে পারবে। এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন সাধারণ মানুষ ও সংস্কৃতিকর্মীরা। তারা বলেছেন, জুলাই আন্দোলনের চেতনা ও মূল্যবোধকে ধরে রাখতে এই জাদুঘর ভূমিকা রাখবে। আগামী ৫ আগস্টের অপেক্ষা এখন সবার।
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা