প্রিন্ট এর তারিখ : ০৩ জুলাই ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০২ জুলাই ২০২৬
নারীসহ আপত্তিকর অবস্থায় আটক যুবদল নেতাকে বহিষ্কারা
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
নোয়াখালীর হাতিয়ায় নারীসহ আপত্তিকর অবস্থায় স্থানীয়দের হাতে আটক হয়েছে আশরাফ উদ্দিন নামে এক যুবদল নেতা। এ ঘটনায় তাকে দলীয় পদ ও প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জেলা যুবদলের দপ্তর সম্পাদক রাইসুল হায়দার বাবুর স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এর আগে গত শনিবার রাত ১০টার দিকে উপজেলার জাহাজমারা ইউনিয়নে একটি ঘর থেকে স্থানীয়রা তাকে নারীসহ আটক করে। বহিষ্কৃত আশরাফ উদ্দিন হাতিয়ার নিঝুমদ্বীপ ইউনিয়নের যুবদলের সভাপতি ছিলেন। সে একই ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইসমাইল মাঝির ছেলে।প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়ায় আশরাফ উদ্দিনকে নিঝুমদ্বীপ ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতির পদ ও প্রাথমিক সদস্যপদসহ দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। জেলা যুবদলের সভাপতি মঞ্জুরুল আজিম সুমন ও সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমিন খান এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছেন। একই সঙ্গে তার দলের কোনো পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া তার ব্যক্তিগত কর্মকাণ্ডের দায়ভার দল নেবে না বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।স্থানীয় সূত্র জানায়, শনিবার রাত পৌনে ১০টার দিকে আশরাফ উদ্দিন নোয়াখালী সদরে এক নারীকে নিয়ে জাহাজমারা ইউনিয়নের ল্যাংড়া তেমুনী এলাকার একটি ঘরে প্রবেশ করেন। বিষয়টি জানতে পেরে স্থানীয় লোকজন ওই ঘরে তাদের আটক করে। এ সময় উপস্থিত কয়েকজন ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিলে বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। পরে রাত ১১টার দিকে স্থানীয়ভাবে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কবির হোসেন বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। তবে পুলিশ পৌঁছানোর আগেই সংশ্লিষ্টরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। সেখানে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি এবং স্থানীয়রাও এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দিতে পারেননি।ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তারা বলেছেন, এই ধরনের অনৈতিক কাজ সমাজের জন্য লজ্জাজনক। যুবদল নেতার এ ধরনের কর্মকাণ্ডে দলটির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। দলটির পক্ষ থেকে দ্রুত এই সিদ্ধান্ত নেওয়ায় তারা কিছুটা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। তবে আরও কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন তারা। এদিকে আশরাফ উদ্দিনের বিরুদ্ধে থানায় কোনো অভিযোগ না থাকলেও তার ব্যক্তিগত ও সামাজিক কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পুলিশ জানিয়েছে, যদি কেউ আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করে, তাহলে তারা আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে। যুবদল নেতৃত্ব বলছে, তারা দলের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ভবিষ্যতে কেউ যাতে এ ধরনের কর্মকাণ্ডে লিপ্ত না হয়, সেদিকে তারা নজর দেবেন। এই ঘটনা রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচিত হয়েছে। বিরোধী দল এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্ষমতাসীন দলকে আক্রমণ করার সুযোগ খুঁজছে। তবে যুবদলের দ্রুত ব্যবস্থায় বিষয়টি কিছুটা প্রশমিত হয়েছে। সাধারণ মানুষ মনে করছেন, রাজনৈতিক নেতাদের উচিত জনগণের জন্য আদর্শ হওয়া। অন্যথায় জনগণের আস্থা হারাবে তারা। এই ঘটনা তাদের জন্য সতর্কবার্তা। আগামী দিনে এমন ঘটনা যাতে না ঘটে, সেজন্য সব রাজনৈতিক দলকে সতর্ক থাকতে হবে এবং সদস্যদের নৈতিক শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ করতে হবে। এছাড়া সামাজিক মূল্যবোধ রক্ষায় সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। নোয়াখালীর এই ঘটনা সবার জন্য শিক্ষণীয়। এখন সবাই অপেক্ষা করছে, এই ঘটনার পর যুবদল ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলি কী ধরনের সচেতনতামূলক পদক্ষেপ নেয়। আশা করা যায়, এই ঘটনা রাজনৈতিক অঙ্গনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে এবং নেতাকর্মীরা আরও দায়িত্বশীল আচরণ করবে।
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা