প্রিন্ট এর তারিখ : ০৩ জুলাই ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৩ জুলাই ২০২৬
ছিনতাইয়ের নাটক সাজিয়ে বিকাশের সাড়ে তিন লাখ টাকা আত্মসাৎ, গ্রেফতার ১া
নিউজ ডেস্ক ||
নাটোরে বিকাশ ডিস্ট্রিবিউশন হাউজের সাড়ে তিন লাখ টাকা আত্মসাতের পর ছিনতাইয়ের মিথ্যা নাটক সাজানোর অভিযোগে মো. স্বাধীন হোসেন (২২) নামে এক সেলস অফিসারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার স্বাধীন সদর উপজেলার দিঘাপতিয়া গ্রামের মৃত আলী হোসেনের ছেলে। পুলিশ জানায়, বুধবার বিভিন্ন এজেন্ট পয়েন্টে লেনদেনের জন্য তাকে নগদ দুই লাখ টাকা ও বিকাশ হিসাবের মাধ্যমে এক লাখ ৫০ হাজার টাকার ব্যালেন্স দেওয়া হয়। পরে স্বাধীন দাবি করেন সদর উপজেলার নারায়ণপাড়া এলাকায় অজ্ঞাত ব্যক্তিরা তার সঙ্গে থাকা টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়েছে। তবে তদন্তে ঘটনাস্থল ও বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণ করে পুলিশ জানতে পারে কোনো ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেনি। জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত স্বীকার করেন, জুয়া খেলায় টাকা হারিয়ে আত্মসাতের ঘটনা আড়াল করতে তিনি ছিনতাইয়ের মিথ্যা গল্প সাজিয়েছিলেন। এ ঘটনায় বিকাশ ডিস্ট্রিবিউশন হাউজের বিজনেস ম্যানেজারের দায়ের করা মামলায় বৃহস্পতিবার রাতে স্টেশন বাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।নাটোর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুনসুর আহমেদ বলেন, আত্মসাৎকৃত অর্থ উদ্ধারে এবং ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। তিনি আরও জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বাধীন তার অপরাধ স্বীকার করেছে এবং সে জানিয়েছে, জুয়ার আসরে টাকা হারিয়ে ফেলার পর কীভাবে হিসাবের ঘাটতি পূরণ করবে, তা ভেবে না পেয়ে ছিনতাইয়ের মিথ্যা ঘটনা সাজায়। পুলিশ জানিয়েছে, তারা আত্মসাৎকৃত টাকার কিছু অংশ উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে এবং বাকি টাকা উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। স্বাধীনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিকাশ কর্তৃপক্ষ এই ঘটনায় পুলিশের দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণে সন্তোষ প্রকাশ করেছে। তারা বলেছে, এ ধরনের ঘটনা যাতে আর না ঘটে সেজন্য তারা অভ্যন্তরীণ তদারকি জোরদার করবে। এদিকে, স্বাধীন হোসেনের এই কাণ্ডে স্থানীয় এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। অনেকে বলছেন, এ ধরনের প্রতারণা সাম্প্রতিক সময়ে বেড়ে চলেছে এবং এ বিষয়ে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। পুলিশ জনগণকে সচেতন থাকার পরামর্শ দিয়েছে এবং কোনো অস্বাভাবিক ঘটনা দেখলে দ্রুত পুলিশকে জানাতে বলেছে। আত্মসাৎ ও ছিনতাইয়ের মিথ্যা ঘটনা সাজানোর এই ঘটনা প্রমাণ করে যে, অর্থের লোভ মানুষকে কতদূর এগিয়ে নিতে পারে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এ ধরনের অপরাধীকে ছাড় দেবে না বলে জানিয়েছে। আগামী দিনগুলোতে এই মামলার অগ্রগতি ও আদালতের সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে থাকবেন সংশ্লিষ্টরা। পুলিশ জানিয়েছে, তারা যেকোনো ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান বজায় রাখবে এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনবে। নাটোরের এই ঘটনা সবার জন্য একটি শিক্ষা। যে কেউ আইন অমান্য করলে তার শাস্তি অবশ্যম্ভাবী, এই বার্তাই পুলিশ দিতে চায়। সমাজে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা