প্রিন্ট এর তারিখ : ০৪ জুলাই ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৩ জুলাই ২০২৬
ভারতের গভীর নজরে চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা ও উন্নয়ন সহযোগিতাা
বিশ্ব ডেস্ক ||
চীনের কাছে থেকে ২০টি ‘জে-১০সিই’ যুদ্ধবিমান ক্রয়ের বিষয়ে সম্ভাব্য আলোচনা, বেইজিংয়ের প্রস্তাবিত ‘চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক করিডোর’ ও তিস্তা প্রকল্প নিয়ে মন্তব্য করেছে ভারত সরকার। দিল্লির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা এসব বিষয়ের ওপর গভীর নজর রাখছে। শুক্রবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল তার সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে বলেছেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর যেকোনো ধরনের উন্নয়নমূলক বা কৌশলগত কর্মকাণ্ডের ওপর দিল্লি সবসময়ই গভীর নজর রাখে। এ ছাড়া এদিন তিস্তা নদী সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্প (টিআরসিএমআরপি) নিয়ে প্রশ্নের জবাবে জয়সওয়াল বলেছেন, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের উন্নয়ন সহযোগিতা পারস্পরিক বোঝাপড়া এবং নিয়মিত পরামর্শের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়। জয়সওয়াল বলেছেন, বাংলাদেশে ভারতের উন্নয়ন সহায়তা উভয় দেশের সম্মত একটি রোডম্যাপের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়, যা নিয়মিত পর্যালোচনা করা হয়। তিনি আরও বলেন, তিস্তা নদী প্রকল্প সম্পর্কে আমাদের অবস্থান ইতিমধ্যেই বাংলাদেশকে জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে ভবিষ্যতে যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় সংশ্লিষ্ট সব সাম্প্রতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় রাখা হবে।বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে তিস্তা এবং ভারত থেকে প্রবাহিত অন্যান্য আন্তঃসীমান্ত নদীর ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতার বিষয়ে সমঝোতার কয়েকদিন পরই দিল্লির এই মন্তব্য এলো। সম্প্রতি চীন সফর শেষে গত ২৯ জুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এক ঘোষণায় বলেন, দেশের উত্তরাঞ্চলের দীর্ঘদিনের পানির সংকট নিরসনে জাতীয় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ‘যেকোনো মূল্যে’ তিস্তা ব্যারেজ মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে। অন্যদিকে বৃহস্পতিবার ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেছেন, বাংলাদেশের তিস্তা প্রকল্পে বেইজিংয়ের সমর্থন অব্যাহত থাকবে। গতকাল তিনি আরও বলেন, তিস্তা প্রকল্পে চীন কাজ করবে। বাংলাদেশের অনুরোধে তিস্তা প্রকল্পে চীন কাজ করবে। তিস্তা প্রকল্পে চীনের অবস্থান অপরিবর্তিত রয়েছে।ভারতের এই মন্তব্যে ইঙ্গিত রয়েছে যে, তারা দক্ষিণ এশিয়ায় চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব নিয়ে উদ্বিগ্ন। বিশেষ করে বাংলাদেশ যদি চীনের কাছ থেকে যুদ্ধবিমান ক্রয় করে এবং চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক করিডোর বাস্তবায়িত হয়, তাহলে তা ভারতের কৌশলগত স্বার্থকে প্রভাবিত করতে পারে। তবে ভারতীয় মুখপাত্রের বক্তব্যে সরাসরি কোনো সমালোচনা না থাকলেও, তারা বিষয়গুলো পর্যবেক্ষণ করছে বলে জানিয়েছেন। অন্যদিকে, বাংলাদেশ ও চীন তাদের সম্পর্ক জোরদার করতে চায়। তারা বলেছে, এই সহযোগিতা বাংলাদেশের উন্নয়নের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিস্তা প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে উত্তরাঞ্চলের কৃষি ও অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক করিডোর হলে এই অঞ্চলের বাণিজ্য ও যোগাযোগ বাড়বে। আর যুদ্ধবিমান ক্রয় বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াবে। ভারতের উদ্বেগ সত্ত্বেও বাংলাদেশ ও চীন তাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে অগ্রসর হচ্ছে। আগামী দিনগুলোতে এই বিষয়গুলো নিয়ে আরও আলোচনা ও প্রতিক্রিয়া দেখা যেতে পারে। বিশেষ করে তিস্তা প্রকল্প নিয়ে ভারতের অবস্থান স্পষ্ট নয়, যা উদ্বেগের কারণ। তবে বাংলাদেশ বলেছে, তারা জাতীয় স্বার্থে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে। পরিস্থিতি কীভাবে পরিবর্তিত হয়, সেদিকে নজর দিচ্ছে সবাই। কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই বিষয়গুলোতে ভারত-চীন-বাংলাদেশ ত্রিপক্ষীয় সম্পর্কের নতুন মাত্রা তৈরি হতে পারে। বাংলাদেশ তার স্বার্থে চীনের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াচ্ছে, যা ভারতকে কিছুটা চিন্তিত করছে। কিন্তু বাংলাদেশের উন্নয়নের জন্য এটি প্রয়োজনীয়। এখন দেখার বিষয়, ভারত কীভাবে এই পরিস্থিতি সামাল দেয় এবং বাংলাদেশের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক কেমন হয়। আপাতত সবাই এই উন্নয়নের দিকে তাকিয়ে আছে।
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা