প্রিন্ট এর তারিখ : ০৫ জুলাই ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৫ জুলাই ২০২৬
সরকারি অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর ছবি থ্রিডি বা বিশেষ আঙ্গিকে ব্যবহার নিষিদ্ধা
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
সরকারি কোনও অনুষ্ঠান উপলক্ষে তৈরি ব্যানার, ফেস্টুন ও বিলবোর্ডে প্রধানমন্ত্রীর ছবি থ্রিডি বা অন্য কোনও বিশেষ আঙ্গিকে ব্যবহার সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। রবিবার জারি করা এক পরিপত্রে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। পরিপত্রে বলা হয়েছে, সরকারি অনুষ্ঠানের ব্যানার, ফেস্টুন ও বিলবোর্ড তৈরির ক্ষেত্রে অনুষ্ঠানের বিষয়বস্তুকে প্রাধান্য দিয়ে প্রয়োজনীয় ও সামঞ্জস্যপূর্ণ তথ্য উপস্থাপন করতে হবে। নকশা এমনভাবে করতে হবে, যাতে অনুষ্ঠানের উদ্দেশ্য, বার্তা ও বিষয়বস্তু স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়। এতে আরও বলা হয়, বিষয়টি অতীব গুরুত্বপূর্ণ। এ নির্দেশনা অনতিবিলম্বে কার্যকর হবে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের উপপ্রধান তথ্য কর্মকর্তা মোল্লা আহমদ কুতুবুদ-দ্বীন জানান, পরিপত্রের বিষয়টি অবহিত করে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, সিনিয়র সচিব ও সব সচিবকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন সব দপ্তর ও সংস্থাকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। এ ছাড়া প্রধান তথ্য কর্মকর্তা, দেশের সব বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছেও পরিপত্রের অনুলিপি পাঠানো হয়েছে।এই নির্দেশনার ফলে সরকারি অনুষ্ঠানের প্রচার উপকরণগুলো আরও সংযত ও তথ্যভিত্তিক হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর ছবি ব্যবহারের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের বিকৃত বা অস্বাভাবিক উপস্থাপন না করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এতে প্রধানমন্ত্রীর ভাবমূর্তি সংরক্ষণের পাশাপাশি অনুষ্ঠানের মূল বার্তা স্পষ্টভাবে ফুটে উঠবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এই নির্দেশনা সরকারি অনুষ্ঠানের প্রচার কার্যক্রমে একটি নতুন মাত্রা যোগ করবে। আগে অনেক সময় ব্যানার বা বিলবোর্ডে প্রধানমন্ত্রীর ছবি নিয়ে বিভিন্ন ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হতো, যা কখনো কখনো বিতর্কের সৃষ্টি করত। এখন সেই সুযোগ আর থাকছে না। নির্দেশনা মোতাবেক, প্রচার উপকরণগুলো হবে আরও প্রাতিষ্ঠানিক ও নিরপেক্ষ। এতে সরকারি অনুষ্ঠানের মর্যাদা বাড়বে এবং জনগণের কাছে বার্তাটি স্পষ্টভাবে পৌঁছাবে। প্রধানমন্ত্রীর ছবি ব্যবহারে এত কঠোর নির্দেশনা কেন দেওয়া হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। তবে সরকার বলছে, এটি একটি আদর্শ প্রচার নীতি অনুসরণের অংশ। অনেক উন্নত দেশেই সরকারি প্রচার উপকরণে রাষ্ট্রপ্রধানের ছবি ব্যবহারের ক্ষেত্রে কঠোর নিয়ম রয়েছে। বাংলাদেশও সেই পথেই হাঁটছে। এতে সরকারি অনুষ্ঠানের প্রচারের মান বাড়বে এবং অপব্যবহার রোধ হবে। নির্দেশনাটি অবিলম্বে কার্যকর করতে বলা হয়েছে, তাই আগামী দিনের সরকারি অনুষ্ঠানগুলোর প্রচার উপকরণেই এই পরিবর্তন দেখা যাবে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ বলেছে, কেউ যদি এই নির্দেশনা অমান্য করে, তাহলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো শাস্তির বিধান পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়নি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নির্দেশনাটি অনুসরণ করলে সরকারি অনুষ্ঠানের প্রচার কার্যক্রম আরও শৃঙ্খলাবদ্ধ হবে এবং জনগণের কাছে ইতিবাচক বার্তা পৌঁছাবে। এতে সরকারি অর্থের অপচয় রোধ হবে এবং প্রচার উপকরণগুলো হবে আরও অর্থবহ। প্রধানমন্ত্রীর ছবি ব্যবহারের বিষয়টি এখন আর বিতর্কের কারণ হবে না। সবাই নির্দেশনা মেনে চললে সরকারি অনুষ্ঠানের প্রচার কার্যক্রম আরও সুসংহত হবে। এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট অনেকেই। তারা মনে করেন, এটি একটি সময়োপযোগী পদক্ষেপ। এখন দেখার বিষয়, এই নির্দেশনা কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা হয় এবং ভবিষ্যতে সরকারি অনুষ্ঠানের প্রচার উপকরণগুলো কেমন হয়। তবে আপাতত এই সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখা হচ্ছে। সরকারি অনুষ্ঠানের প্রচার কার্যক্রমে এই পরিবর্তন আগামী দিনে আরও স্পষ্ট হবে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এই উদ্যোগ সরকারি কাজকর্মে শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা বাড়াতে সহায়তা করবে বলে মনে করছেন অনেকে। এখন সবাই এই নির্দেশনা মেনে চলার জন্য প্রস্তুত। আশা করা যায়, ভবিষ্যতে সরকারি অনুষ্ঠানের প্রচার উপকরণগুলো আরও মানসম্মত হবে এবং জনগণের কাছে সঠিক বার্তা পৌঁছাবে। এই উদ্যোগ বাংলাদেশের সরকারি প্রচার কার্যক্রমে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। এখন সময় বলবে, এই উদ্যোগ কতটা সফল হয় এবং ভবিষ্যতে এর কী প্রভাব পড়ে। তবে আপাতত এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাচ্ছেন সংশ্লিষ্ট সবাই। তারা আশা করছেন, এই উদ্যোগ সরকারি অনুষ্ঠানের প্রচারের ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে। আগামী দিনগুলোতে এই নির্দেশনার বাস্তব প্রভাব দেখা যাবে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এই সিদ্ধান্ত সরকারি কাজকর্মে একটি নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এখন অপেক্ষা এই নির্দেশনার সঠিক বাস্তবায়নের। সংশ্লিষ্ট সবাই এ বিষয়ে সচেতন এবং তারা নির্দেশনা মেনে চলবেন বলে আশা করা যায়। এই উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয় এবং সময়োপযোগী। এটি সরকারি অনুষ্ঠানের প্রচার কার্যক্রমে একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে প্রত্যাশা করা যায়।
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা