প্রিন্ট এর তারিখ : ০৫ জুলাই ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৫ জুলাই ২০২৬
ইরানের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করল হামাস, খামেনির জানাজায় প্রতিনিধি দলা
বিশ্ব ডেস্ক ||
যুদ্ধক্ষেত্র ও আলোচনার টেবিলে ‘বড় ধরনের জয়ের’ জন্য ইরানকে অভিনন্দন এবং এই অর্জনকে গোটা ‘রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট’ বা প্রতিরোধ অক্ষ এবং সমগ্র মুসলিম উম্মাহর বিজয় বলে আখ্যায়িত করেছেন হামাসের লিডারশিপ কাউন্সিলের প্রধান মুহাম্মদ দারবিশ। ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজায় অংশ নিতে মুহাম্মদ দারবিশের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল ইরানের রাজধানী তেহরান সফর করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধে আয়াতুল্লাহ খামেনি, তার পরিবারের সদস্য এবং জ্যেষ্ঠ রাজনৈতিক ও সামরিক কর্মকর্তাদের শাহাদাতে ইরানের নেতা, সরকার ও জনগণের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে হামাসের এই প্রতিনিধিদল। ফিলিস্তিনের পবিত্র মুক্তিসংগ্রামের প্রতি সমর্থন এবং দখলদারি ও ইসরাইলি অপরাধের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনিদের বৈধ প্রতিরোধের পক্ষে নিহত সর্বোচ্চ নেতার ‘নীতিগত ও সাহসী অবস্থানের’ ভূয়সী প্রশংসা করেন মুহাম্মদ দারবিশ।এছাড়া, হামাস প্রতিনিধিদলটি গাজায় ফিলিস্তিনিদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া ‘চরম অমানবিক পরিস্থিতি’ এবং পশ্চিম তীরে ইসরাইলের অব্যাহত অপরাধযজ্ঞ সম্পর্কে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিকে অবহিত করে। ফিলিস্তিনিদের ওপর চালানো গণহত্যার মুখে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর নীরবতা ও নিষ্ক্রিয়তাকে ‘বিপর্যয়কর’ বলে বর্ণনা করে তারা। একই সঙ্গে দখলদারদের অপরাধযজ্ঞ বন্ধ করতে এবং ইসরাইল সরকারকে বিচারের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর জোর দেয় প্রতিনিধিদলটি। অন্যদিকে জানাজায় অংশ নেওয়ার জন্য ফিলিস্তিনের প্রতিরোধ গোষ্ঠীগুলোকে ধন্যবাদ জানান ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার আদায় এবং আল-কুদসকে (জেরুজালেম) রাজধানী করে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত তাদের প্রতি ইরানের অব্যাহত সমর্থনের নীতিগত অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।হামাস ও ইরানের মধ্যে এই সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। ইরান হামাসকে অর্থনৈতিক, সামরিক ও কূটনৈতিক সহায়তা দিয়ে আসছে। এই সম্পর্কের মূল ভিত্তি হলো ইসরায়েল বিরোধী অবস্থান। হামাস ইরানের কাছ থেকে অস্ত্র, প্রশিক্ষণ ও তহবিল পেয়ে থাকে। অন্যদিকে, ইরান ফিলিস্তিন সংগ্রামকে তার নিজস্ব রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্টের অংশ হিসেবে দেখে। এই সম্পর্ক ইরানের আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারের অংশ। খামেনির মৃত্যুতে হামাসের এই সমবেদনা জানানো ও ইরানের প্রতি সমর্থন প্রকাশ তাদের সম্পর্কের গভীরতা প্রমাণ করে। ইরানও ফিলিস্তিন ইস্যুতে তার অবস্থান থেকে সরে আসেনি। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ফিলিস্তিনিদের পক্ষে কণ্ঠ দেওয়া ইরানের কৌশলগত অংশ। এই পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র এই সম্পর্ককে তাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখে। কিন্তু ইরান ও হামাস তাদের এই অবস্থানে অনড়। তারা ইসরায়েলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেছে। গাজা ও পশ্চিম তীরের পরিস্থিতি দিন দিন খারাপ হচ্ছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নীরবতা ফিলিস্তিনিদের জন্য হুমকি। হামাস ও ইরান এই নীরবতার বিরুদ্ধে সোচ্চার। তারা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফিলিস্তিনিদের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত ইরান তাদের পাশে থাকবে। এই অঙ্গীকার হামাস ও অন্যান্য প্রতিরোধ গোষ্ঠীকে শক্তি যুগায়। তারা ইসরায়েলের সঙ্গে লড়াই চালিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত হয়। এই সম্পর্ক আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করে। কিন্তু ইরান ও হামাস তাদের লক্ষ্য থেকে পিছপা হবে না। তারা তাদের আদর্শ ও স্বার্থ রক্ষায় লড়াই চালিয়ে যাবে। এই লড়াইয়ের মূল কেন্দ্র হলো ফিলিস্তিন। ফিলিস্তিনিদের স্বাধীনতা অর্জনের এই সংগ্রাম দীর্ঘদিনের। ইরান ও হামাস এই সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তাদের এই ভূমিকা আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিসরে গুরুত্বপূর্ণ। আগামী দিনগুলোতে এই সম্পর্ক আরও জোরদার হতে পারে। এতে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনা তৈরি হতে পারে। তবে ফিলিস্তিনিদের প্রতি সমর্থন তাদের মূল লক্ষ্য। এই লক্ষ্য অর্জনে তারা সব বাধা অতিক্রম করবে। তাদের এই অঙ্গীকার ফিলিস্তিনিদের জন্য আশার আলো। তারা বিশ্বাস করে, ইরানের সহায়তায় তারা তাদের অধিকার আদায় করতে পারবে। এই বিশ্বাস তাদের লড়াই চালিয়ে যেতে শক্তি যোগায়। খামেনির মৃত্যুতে হামাসের এই সমবেদনা তাদের সম্পর্কের একটি নতুন অধ্যায়। এই অধ্যায় ইরান ও ফিলিস্তিনের মধ্যে সম্পর্ককে আরও গভীর করবে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের এই সম্পর্ক পর্যবেক্ষণ করা উচিত। কারণ, এটি মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ইরান ও হামাসের এই সম্পর্ক শুধু সামরিক সহায়তার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটি একটি আদর্শিক সম্পর্ক, যা ফিলিস্তিনিদের স্বাধীনতার স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করতে সহায়তা করছে। এই সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী হবে বলে ধারণা করা যায়। ইরান ও হামাসের এই সম্পর্ক আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্য পরিবর্তন করতে পারে। তাই এই সম্পর্কের দিকে সবার নজর থাকা উচিত। এটা মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা ও শান্তির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু ইরান ও হামাস তাদের অবস্থানে অটল। তারা ফিলিস্তিনিদের স্বাধীনতার জন্য লড়াই চালিয়ে যাবে। এই লড়াই তারা শেষ পর্যন্ত চালিয়ে যাবে বলে তারা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। তাদের এই প্রতিজ্ঞা তাদের শক্তির উৎস। তারা এ শক্তি দিয়ে সব বাধা অতিক্রম করবে। ফিলিস্তিনিদের স্বাধীনতার স্বপ্ন বাস্তবায়নে তারা সফল হবে বলে তারা আশাবাদী। এই আশাবাদ তাদের লড়াই চালিয়ে যেতে সাহায্য করে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফিলিস্তিনিদের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেছেন, ফিলিস্তিনিদের স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত ইরান তাদের পাশে থাকবে। এই অঙ্গীকার ফিলিস্তিনিদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তারা ইরানের এই সমর্থনকে তাদের শক্তি হিসেবে দেখে। ইরানের এই সমর্থন ফিলিস্তিনিদের মনোবল বাড়ায়। তারা ইরানের সহায়তায় ইসরায়েলের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যেতে পারে। এই লড়াই ফিলিস্তিনিদের স্বাধীনতার জন্য অত্যন্ত জরুরি। ইরান ও হামাস এই লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। তাদের এই অংশীদারিত্ব ফিলিস্তিনিদের স্বাধীনতার পথ সুগম করবে। এই পথ সুগম করতে তারা সব ধরনের সহায়তা দিতে প্রস্তুত। তাদের এই প্রস্তুতি ফিলিস্তিনিদের জন্য আশীর্বাদ। তারা এই সহায়তায় ফিলিস্তিনিদের স্বাধীনতা অর্জন করবে বলে তারা বিশ্বাস করে। এই বিশ্বাস তাদের লড়াই চালিয়ে যেতে শক্তি যোগায়। তারা এই লড়াই চালিয়ে ফিলিস্তিনিদের স্বাধীনতা অর্জন করবে বলে তারা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। তাদের এই প্রতিজ্ঞা ফিলিস্তিনিদের জন্য একটি শক্তিশালী বার্তা। এই বার্তা ফিলিস্তিনিদের আশা জাগায়। তারা ইরানের সহায়তায় তাদের স্বাধীনতা অর্জন করবে বলে তারা আশা করে। এই আশা তাদের লড়াই চালিয়ে যেতে সাহায্য করে। ইরান ও হামাসের এই সম্পর্ক ফিলিস্তিনিদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সম্পর্ক তাদের স্বাধীনতার পথ সুগম করবে। এই পথ সুগম করতে তারা সব ধরনের সহায়তা দিতে প্রস্তুত। তাদের এই প্রস্তুতি ফিলিস্তিনিদের জন্য আশীর্বাদ। তারা এই সহায়তায় ফিলিস্তিনিদের স্বাধীনতা অর্জন করবে বলে তারা বিশ্বাস করে। এই বিশ্বাস তাদের লড়াই চালিয়ে যেতে শক্তি যোগায়। তারা এই লড়াই চালিয়ে ফিলিস্তিনিদের স্বাধীনতা অর্জন করবে বলে তারা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। তাদের এই প্রতিজ্ঞা ফিলিস্তিনিদের জন্য একটি শক্তিশালী বার্তা। এই বার্তা ফিলিস্তিনিদের আশা জাগায়। তারা ইরানের সহায়তায় তাদের স্বাধীনতা অর্জন করবে বলে তারা আশা করে। এই আশা তাদের লড়াই চালিয়ে যেতে সাহায্য করে।
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা