প্রিন্ট এর তারিখ : ০৬ জুলাই ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৬ জুলাই ২০২৬
নরমাল ডেলিভারির জন্য লেবার রুম বাধ্যতামূলক, নির্দেশনা না মানলে হাসপাতাল বন্ধ: স্বাস্থ্যমন্ত্রীা
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
দেশের সব বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতালকে নরমাল ডেলিভারির জন্য বাধ্যতামূলকভাবে লেবার রুম স্থাপনের নির্দেশ দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। সোমবার রাজধানীতে বাংলাদেশ মিডওয়াইফারি সোসাইটি আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এ নির্দেশ দেন। এ সময় নরমাল ডেলিভারির জন্য মিডওয়াইফারি নিয়োগ বাধ্যতামূলক করা হবে বলেও নির্দেশনা দেন তিনি। সেই সঙ্গে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এ নির্দেশনা বাস্তবায়ন না হলে সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল বন্ধ করা হবে বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।মন্ত্রী বলেন, দেশের প্রতিটি প্রসূতি মায়ের নিরাপদ মাতৃত্ব নিশ্চিত করতে সব বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতালে মানসম্মত লেবার রুম থাকা অত্যন্ত জরুরি। এ বিষয়ে কোনো ধরনের গাফিলতি বা অবহেলা বরদাশত করা হবে না। বর্তমানে অনেক বেসরকারি হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের ব্যবস্থা থাকলেও নরমাল ডেলিভারির জন্য পর্যাপ্ত লেবার রুম নেই, যা মা ও শিশুর স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। তিনি আরও বলেন, স্বাভাবিক প্রসবের সুযোগ বাড়াতে এবং অপ্রয়োজনীয় সিজারিয়ান অপারেশন কমাতে এই পদক্ষেপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন। তিনি জানান, গত দুই মাস ধরে উপজেলাপর্যায়ে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে কাজ চলছে। পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি মশার লার্ভা নিয়ন্ত্রণে আগামী সাত দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় ট্যাবলেট সরবরাহ করা হবে। তিনি জানান, ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসায় হাসপাতালে পর্যাপ্ত শয্যা ও মোবাইল সেবার ব্যবস্থা করা হয়েছে। কিছুদিন স্যালাইনের ঘাটতি থাকলেও এখন পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে। মন্ত্রী বলেন, জ্বর কমে গেলেও চিকিৎসক সন্তুষ্ট না হওয়া পর্যন্ত কোনো রোগীকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হবে না। বিশেষ করে প্লাজমা লিকেজের সম্ভাবনা আছে কি না, সে বিষয়ে চিকিৎসকদের কঠোর নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।স্বাস্থ্যমন্ত্রীর এই নির্দেশনার পর দেশের বেসরকারি হাসপাতালগুলোকে দ্রুত লেবার রুম ও মিডওয়াইফারি নিয়োগের ব্যবস্থা করতে হবে। এই সিদ্ধান্ত নারী ও শিশুর স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, সঠিক বাস্তবায়ন ও মনিটরিংয়ের মাধ্যমে অপ্রয়োজনীয় সিজারিয়ান অপারেশন কমিয়ে স্বাভাবিক প্রসবের হার বাড়ানো সম্ভব হবে। অন্যদিকে, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকারের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন সাধারণ মানুষ। তারা আশা করছেন, এসব পদক্ষেপ ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা নির্দেশনা বাস্তবায়নে কঠোর মনিটরিং করবে এবং কোনো হাসপাতাল বিধি লঙ্ঘন করলে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এই নির্দেশনা কার্যকর করার লক্ষ্যে কাজ শুরু হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণাকে সময়োপযোগী ও জনকল্যাণমূলক সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছেন অনেকে। তারা আশা করেন, এই উদ্যোগ দেশের স্বাস্থ্যসেবার মান আরও উন্নত করবে।
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা