প্রিন্ট এর তারিখ : ০৬ জুলাই ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৬ জুলাই ২০২৬
নতুন বেতন স্কেল একবারেই বাস্তবায়নের পথে সরকার, দুই ধাপের পরিকল্পনা বাদ যাচ্ছো
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য প্রতীক্ষিত নতুন বেতন স্কেল নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে সরকার। বিদ্যমান পরিকল্পনা অনুযায়ী, নতুন এই বেতন কাঠামো দুই ধাপে কার্যকর না করে বরং একবারে বা এককালীন বাস্তবায়নের জোরালো সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। অর্থ বিভাগ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। শুরুতে নতুন পে-স্কেল দুই ধাপে কার্যকর করার বিষয়টি সরকারের পরিকল্পনায় থাকলেও বর্তমানে সেই চিন্তা থেকে সরে আসার কারণগুলো হলো প্রযুক্তিগত জটিলতা, প্রশাসনিক ব্যয় বৃদ্ধি এবং চাকরিজীবীদের মধ্যে সম্ভাব্য অসন্তোষ। আইবাস প্ল্যাটফর্মে দুই ধাপে বেতন সমন্বয় করা জটিল হওয়ায় এককালীন বাস্তবায়নের দিকেই বেশি ঝুঁকছে প্রশাসন।সোমবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির সভাপতিত্বে নতুন বেতন কাঠামো পর্যালোচনার জন্য একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এই বৈঠকে নবম জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশগুলোর আর্থিক প্রভাব, বাস্তবায়নের সময়সূচি এবং বিভিন্ন ক্যাডার ও শ্রেণির চাকরিজীবীদের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার কৌশল নিয়ে আলোচনা হবে। তবে কমিশনের মূল সুপারিশের তুলনায় বেতন বৃদ্ধির হার কিছুটা কম হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আজকের এই বৈঠকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকলেও মূল বেতন ১ জুলাই থেকে কার্যকরের একটি লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে আলোচনা হতে পারে। এছাড়া বিভিন্ন ধরনের ভাতা নতুন কাঠামোর আওতায় পূর্ণাঙ্গভাবে যুক্ত করার বিষয়টি ২০২৭-২৮ অর্থবছর পর্যন্ত গড়াতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। যদিও চূড়ান্ত কোনো ঘোষণা এখনো আসেনি, তবুও সরকারি চাকরিজীবীরা নতুন এই বেতন কাঠামো নিয়ে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন। পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে সরকার দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতার ওপরই বেশি জোর দিচ্ছে।এককালীন বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হলে প্রায় ২৫ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও পেনশনভোগী এর আওতায় আসবেন। নতুন পে-স্কেলের খসড়ায় সর্বনিম্ন গ্রেডের মূল বেতন বর্তমান ৮,২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ গ্রেডের বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে। তবে অর্থ বিভাগ সূত্র জানিয়েছে, চূড়ান্ত কাঠামোতে এই হার কিছুটা কমতে পারে। সরকারের কাছে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নে বার্ষিক অতিরিক্ত ব্যয় হতে পারে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা। এই বিপুল অর্থের যোগান দিতে রাজস্ব আহরণ বাড়ানো এবং অপ্রয়োজনীয় খাতে ব্যয় কমানোর পরিকল্পনা রয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের বৈঠকে এসব বিষয়েও আলোচনা হবে। চাকরিজীবী সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরে নতুন পে-স্কেলের দাবি জানিয়ে আসছিল। তারা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তবে তারা এককালীন বাস্তবায়নের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার আগ পর্যন্ত পুরোপুরি আশ্বস্ত হতে পারছেন না। সংগঠনগুলোর নেতারা জানিয়েছেন, তারা সরকারের ইতিবাচক মনোভাব দেখে আশাবাদী, কিন্তু চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশের পরই তারা সন্তুষ্ট হবেন। নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া দীর্ঘদিন চললেও এবার তা দ্রুত এগোচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সরকারি কর্মকর্তারা আশা করছেন, আগামী মাসের মধ্যেই এই বিষয়ে একটি স্পষ্ট ঘোষণা আসতে পারে। প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হলে সরকারি চাকরিজীবীদের জীবনযাত্রার মান উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হবে এবং তারা আরও মনোযোগ দিয়ে কাজ করতে পারবেন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এটি একটি দূরদর্শী সিদ্ধান্ত, যা দীর্ঘমেয়াদে দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। বর্তমান উচ্চ মূল্যস্ফীতির সময়ে কর্মচারীদের এই বাড়তি আর্থিক সুবিধা তাদের পারিবারিক ব্যয় মেটাতে সহায়তা করবে। সরকারের এই উদ্যোগকে সময়োপযোগী ও জনমুখী বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। তারা বলেছেন, এটি শুধু কর্মচারীদের নয়, পুরো অর্থনীতিতে ভোক্তা চাহিদা বাড়াতে ভূমিকা রাখবে। নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের পুরো প্রক্রিয়া শেষ হতে কিছুটা সময় লাগলেও, মূল বেতন ও ভাতার বিষয়টি দ্রুত কার্যকর করার পরামর্শ দিয়েছেন তারা। কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল। এখন সবাই অপেক্ষা করছে আজকের বৈঠকের ফলাফলের দিকে। সরকার কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়। তবে আপাতত সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে আশার সঞ্চার হয়েছে। তারা বিশ্বাস করেন, সরকার তাদের কথা শুনবে এবং দ্রুত নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন করবে। এই প্রত্যাশা নিয়ে তারা অপেক্ষায় আছেন। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে এই বিষয়ে আরও স্পষ্টতা আসবে বলে আশা করা যায়।
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা