প্রিন্ট এর তারিখ : ১০ জুলাই ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১০ জুলাই ২০২৬
পাহাড়ধসে প্রাণহানি রোধে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের পুনর্বাসনের ঘোষণাা
নিউজ ডেস্ক ||
পাহাড় ধসে প্রাণহানি রোধে পাহাড়ের পাদদেশ ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী পরিবারগুলোকে নিরাপদ স্থানে পুনর্বাসন করে সরকারিভাবে বাড়ি নির্মাণ করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু।বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ২২তম কার্যদিবসে স্পিকার ড. হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে ৩০০ বিধিতে দেওয়া বিবৃতিতে তিনি এ ঘোষণা দেন।মন্ত্রী বলেন, 'সাম্প্রতিক টানা বর্ষণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের বিভিন্ন এলাকায় পাহাড় ধসে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে চট্টগ্রামে ৫ জন, কক্সবাজারে ১৯ জন, রাঙামাটিতে একজন এবং বান্দরবানে ৫ জন নিহত হয়েছেন।'তিনি জানান, দুর্গত এলাকায় চট্টগ্রামে ৪১টি, কক্সবাজারে ৬৪০টি, রাঙামাটিতে ২১টি, খাগড়াছড়িতে ১৩৫টি এবং বান্দরবানে ২২০টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে আশ্রয় নেওয়া মানুষের জন্য নিরাপদ খাবার, সুপেয় পানি, স্যানিটেশন ও শিশু খাদ্যের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে মাইকিংসহ সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।ত্রাণমন্ত্রী বলেন, 'গত ৭ জুলাই প্রথম দফায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি জেলায় ১০ লাখ টাকা জিআর নগদ সহায়তা এবং ২০০ টন করে চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে পরিস্থিতি বিবেচনায় চট্টগ্রামে আরও ২৫ লাখ টাকা, কক্সবাজারে ২০ লাখ টাকা এবং রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে ১০ লাখ টাকা করে অতিরিক্ত বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে চট্টগ্রামে ৩০০ টন, কক্সবাজারে ২৫০ টন এবং রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে ২০০ টন করে অতিরিক্ত চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।'তিনি আরও জানান, প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকেও প্রতিটি ক্ষতিগ্রস্ত জেলার জন্য ২০ লাখ টাকা করে বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় মন্ত্রণালয়ের সচিব দুর্গত এলাকায় অবস্থান করছেন এবং জেলা ও উপজেলা প্রশাসন সার্বক্ষণিক ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করছে।আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, 'প্রতি বছর একই ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী মানুষকে নিরাপদ স্থানে স্থানান্তর করা জরুরি। সরকারের খাস জমি ও আবাসন মন্ত্রণালয়ের উপযুক্ত জমিতে তাদের পুনর্বাসন করে বাড়ি নির্মাণ করে দেওয়া হবে।' এ কাজে স্থানীয় সংসদ সদস্যদের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।মন্ত্রী বলেন, 'সম্মিলিত উদ্যোগে কাজ করলে ভবিষ্যতে পাহাড় ধসে আর কোনো প্রাণহানি ঘটবে না বলে সরকার আশাবাদী।' তিনি জানান, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে পাহাড়ি এলাকায় গাছপালা সংরক্ষণ ও ভূমি ব্যবহারের ওপরও নজর দেওয়া হচ্ছে।
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা