প্রিন্ট এর তারিখ : ১৫ জুলাই ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৫ জুলাই ২০২৬
এমসি কলেজ ধর্ষণ মামলায় সাইফুরের মৃত্যুদণ্ড, তিনজনের যাবজ্জীবনা
গণবার্তা প্রতিবেদনঃ ||
সিলেটের এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে ঘুরতে যাওয়া দম্পতিকে আটকে স্বামীর সামনেই স্ত্রীকে ধর্ষণের মামলার রায়ে ছাত্রলীগ নেতা সাইফুর রহমানকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই ঘটনায় অপর তিন ছাত্রলীগ নেতা—শাহ মাহবুবুর রহমান রনি, তারেকুল ইসলাম রনি ও অর্জুন লস্করকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।মঙ্গলবার দুপুরে সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক স্বপন কুমার সরকার জনাকীর্ণ আদালতে এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। মামলার রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী। তবে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা এ রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করবেন বলে জানিয়েছেন।ঘটনাটি ২০২০ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায়। ওইদিন বিকালে এমসি কলেজ ক্যাম্পাসে ঘুরতে গিয়েছিলেন দক্ষিণ সুরমার এক নবদম্পতি। সন্ধ্যায় ছাত্রাবাসে নিয়ে স্বামীকে আটকে রেখে স্ত্রীকে ধর্ষণ করা হয়। জানাজানি হওয়ার পর দেশজুড়ে আলোচিত হয় এ ঘটনা। ক্ষোভ বাড়ে সিলেটে। আসামিদের গ্রেপ্তার দাবিতে চলে আন্দোলন। ঘটনার পর র্যাব ও পুলিশের একাধিক টিম আসামি গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে এবং একে একে ৮ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।আসামিরা হলেন—সাইফুর রহমান, শাহ মাহবুবুর রহমান ওরফে রনি, তারেকুল ইসলাম ওরফে তারেক, অর্জুন লস্কর, আইনুদ্দিন ওরফে আইনুল, মিসবাউল ইসলাম রাজন, রবিউল ইসলাম ও মাহফুজুর রহমান। ঘটনার পরদিন ধর্ষিতার স্বামী বাদী হয়ে শাহপরান থানায় ছয়জনের নাম উল্লেখ করে এবং দুইজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলা করেন। পরবর্তীতে আসামিরা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। ডিএনএ পরীক্ষায় ৮ জনের মধ্যে ৬ জনের ডিএনএ মিল পাওয়া যায়।২০২০ সালের ৩ ডিসেম্বর তদন্ত শেষে আদালতে ৮ জনকেই অভিযুক্ত করে চার্জশিট দাখিল করেন তদন্ত কর্মকর্তা ইন্দ্রনীল ভট্টাচার্য। চার্জশিটে সাইফুর, রনি, তারেক, অর্জুন, আইনুদ্দিন ও রাজনকে দলবেঁধে ধর্ষণের জন্য এবং রবিউল ও মাহফুজুরকে ধর্ষণে সহায়তার জন্য অভিযুক্ত করা হয়। পরে কলেজ কর্তৃপক্ষ ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় এসব আসামিকে বহিষ্কার ও ছাত্রত্ব বাতিল করে।বিচার প্রক্রিয়ায় ২৪ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন, যার মধ্যে রয়েছেন ওই গৃহবধূ, তার স্বামী, ম্যাজিস্ট্রেট, তদন্ত কর্মকর্তা, কলেজের অধ্যাপক ও ফরেনসিক চিকিৎসক। গত বুধবার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আদালত রায়ের তারিখ নির্ধারণ করে।রায়ের পর আসামিপক্ষের আইনজীবী শাহ মোশাহিদ আলী বলেন, ‘এই মামলায় ভিকটিমও আসামিদের শনাক্ত করেনি। অপরাধ প্রমাণ না হওয়া সত্ত্বেও শাস্তি দেওয়া হয়েছে। আমরা উচ্চ আদালতে যাব।’ অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আবুল হোসেন বলেন, ‘এই রায়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা হয়েছে।’
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা