প্রিন্ট এর তারিখ : ১৬ জুলাই ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৫ জুলাই ২০২৬
তুরস্কের ব্যর্থ অভ্যুত্থানের ১০ বছর: সেনাবাহিনী-বেসামরিক সম্পর্কে বড় পরিবর্তনা
বিশ্ব প্রতিবেদন, গণবার্তা: ||
২০১৬ সালের ১৫ জুলাই সন্ধ্যায় তুরস্কের সেনাবাহিনীর একটি অংশ প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানের নির্বাচিত সরকার উৎখাতের চেষ্টা চালায়। ট্যাংক ও যুদ্ধবিমান ব্যবহার করে চালানো এই অভ্যুত্থান প্রচেষ্টা কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ব্যর্থ হয়। দেশটির বড় শহরগুলোর রাস্তায় হাজার হাজার মানুষ নেমে আসেন এবং বিদ্রোহীদের প্রতিহত করেন। ওই ঘটনায় প্রায় ২৫০ জন নিহত ও ২ হাজার ২০০ জনের বেশি আহত হন।বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অভ্যুত্থান ব্যর্থ হওয়ার পেছনে তিনটি প্রধান কারণ ছিল—জনগণের প্রতিরোধ, অভ্যুত্থানের বিরোধিতা করা তুর্কি সশস্ত্র বাহিনীর কর্মকর্তাদের ভূমিকা এবং সেনাবাহিনীর নিজস্ব প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া।তুরস্কের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে সামরিক হস্তক্ষেপের প্রভাব ছিল। সেনাবাহিনী ১৯৬০ ও ১৯৮০ সালে সরকার উৎখাত করে। ১৯৭১ সালে একটি সামরিক স্মারকের মাধ্যমে সরকারকে চাপের মুখে ফেলে এবং ১৯৯৭ সালে আরেকটি নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য করে। তবে ২০১৬ সালের পর সামরিক বাহিনীতে বড় পরিবর্তন আসে।ব্যর্থ অভ্যুত্থানের পর সরকার সেনাবাহিনীর ওপর বেসামরিক নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করে। সামরিক একাডেমিগুলো বন্ধ করে ন্যাশনাল ডিফেন্স ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠা করা হয় এবং সেনাবাহিনীর কমান্ড কাঠামোতে পরিবর্তন আনা হয়। হাজার হাজার সেনা সদস্য, বিচারক, পুলিশ কর্মকর্তা ও শিক্ষককে বরখাস্ত বা গ্রেপ্তার করা হয়।অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল উনাল আতাবায় বলেন, এই পরিবর্তনের ফলে সেনাবাহিনী, রাষ্ট্র ও সমাজের সম্পর্কের ধরন মৌলিকভাবে বদলে গেছে। সেনাবাহিনী নিজেদের ভেতরের নজরদারি ব্যবস্থা শক্তিশালী করেছে, যাতে ভবিষ্যতে কোনো সংগঠিত গোষ্ঠী আবার রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে প্রভাব বিস্তার করতে না পারে।তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষক আলী চারকোগলুর মতে, শুধু সেনাবাহিনীকে নিয়ন্ত্রণে আনা দিয়েই তুরস্কের গণতান্ত্রিক উন্নয়ন নিশ্চিত হয় না। তিনি বলেন, সামরিক বাহিনীকে বেসামরিক কর্তৃত্বের অধীনে আনা সাফল্য হলেও যদি এর বিনিময়ে গণতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তা দুর্ভাগ্যজনক।সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিরোধী দলগুলো অভিযোগ করছে যে বিরোধী রাজনীতিবিদদের বিরুদ্ধে বিচারিক ব্যবস্থা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে সরকার এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, তদন্তগুলো স্বাধীনভাবে পরিচালিত হচ্ছে।২০০২ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকে একেপি প্রতিটি জাতীয় নির্বাচনে জয় পেয়েছে। অন্যদিকে মানবাধিকার সংগঠনগুলো ২০১৬ সালের অভ্যুত্থান-পরবর্তী জরুরি অবস্থার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সরকারের দাবি, রাষ্ট্রের ভেতরে থাকা গোপন নেটওয়ার্ক ধ্বংস করা এবং ভবিষ্যতে এমন হুমকি ঠেকানোর জন্য এসব পদক্ষেপ প্রয়োজন ছিল।
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা