প্রিন্ট এর তারিখ : ২৮ জুলাই ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৭ জুলাই ২০২৬
ভারতের উত্তর সীমান্তে চীনা ‘জে-২০’ স্টিলথ ফাইটার মোতায়েনা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ||
ভারতের উত্তর সীমান্তসংলগ্ন দুটি কৌশলগত বিমানঘাঁটিতে চীন তাদের পঞ্চম প্রজন্মের উন্নত ‘জে-২০ মাইটি ড্রাগন’ স্টিলথ যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক সংস্থা ‘ভ্যান্টর’-এর উপগ্রহ চিত্রে দেখা গেছে, চীনা উইঘুর অঞ্চলের হোতান ও তিব্বতের দামশুং বিমানঘাঁটিতে মোট ১১টি জে-২০ যুদ্ধবিমান সারিবদ্ধভাবে অবস্থান করছে। এর মধ্যে হোতান ঘাঁটিতে সাতটি এবং দামশুংয়ে চারটি স্টিলথ ফাইটার শনাক্ত করা হয়েছে।উপগ্রহ বিশ্লেষণ অনুযায়ী, হোতান ঘাঁটিটি লাদাখের লেহ শহর থেকে ৩৮৯ কিলোমিটার এবং ভারতের দৌলত বেগ ওল্ডি সামরিক ঘাঁটি থেকে ২৪৫ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে অবস্থিত। অন্যদিকে দামশুং ঘাঁটিটি অরুণাচল প্রদেশের তাওয়াং সীমান্ত থেকে মাত্র ৩৪৪ কিলোমিটার দূরে। সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় একযোগে এত বিপুলসংখ্যক জে-২০ বিমানের উপস্থিতি এই প্রথম প্রকাশিত হলো। সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি কেবল সাময়িক প্রদর্শনী নয়; বরং ভারতীয় সীমান্তের কাছাকাছি উচ্চতার ঘাঁটিগুলোতে স্টিলথ বিমানের নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনার অংশ।বর্তমানে চীনের এই অত্যাধুনিক স্টিলথ প্রযুক্তির বিপরীতে ভারতের বিমানবহরে সমকক্ষ কোনো পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান নেই। ভারত বর্তমানে চতুর্থ প্রজন্মের রাফায়েল এবং সুখোই-৩০ এমকেআই বিমানের ওপর নির্ভরশীল। দেশটির নিজস্ব তৈরি স্টিলথ বিমান ‘অ্যাডভান্সড মিডিয়াম কমব্যাট এয়ারক্রাফট’ (AMCA) উন্নয়ন পর্যায়ে থাকলেও তা বিমানবাহিনীতে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত হতে আরও অন্তত এক দশক সময় লাগবে।সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, চীনের বার্ষিক জে-২০ উৎপাদন ক্ষমতা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা আগামী কয়েক বছরে তাদের আকাশসীমায় বিশাল আধিপত্য এনে দিতে পারে। এই পরিস্থিতিতে ভারতের জন্য কাউন্টার-স্টিলথ সেন্সর, সমন্বিত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং দ্রুত আধুনিকীকরণের তাগিদ আরও জোরালো হয়ে উঠেছে। তবে সাম্প্রতিক এই স্যাটেলাইট তথ্যের বিষয়ে ভারতীয় বিমানবাহিনীর পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা