প্রিন্ট এর তারিখ : ৩০ জুলাই ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ৩০ জুলাই ২০২৬
চীন থেকে প্রেমের টানে ছুটে এসে নেত্রকোনায় বিয়ে করলেন ওয়্যাং সুলিনা
গণবার্তা প্রতিবেদনঃ ||
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পরিচয়ের সূত্র ধরে প্রেমের টানে সুদূর চীন থেকে ছুটে এসে নেত্রকোনার এক তরুণীকে বিয়ে করেছেন ওয়্যাং সুলিন (৩০) নামের এক যুবক। ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে মুসলিম রীতিতেই নাজমিন আক্তার লিজা (২০) নামের ওই তরুণীর সঙ্গে তাঁর বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। ধর্মান্তরিত হওয়ার পর ওই চীনা যুবকের নতুন নাম রাখা হয়েছে মো. নুর উদ্দিন।কনে নাজমিন আক্তার লিজা নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ পৌর শহরের দৌলতপুর এলাকায় বসবাসকারী ফার্নিচার ব্যবসায়ী মো. নাজিম উদ্দিনের মেয়ে। তিনি মোহনগঞ্জ সরকারি কলেজে স্নাতক (সম্মান) দ্বিতীয় বর্ষে অধ্যয়নরত। তাঁদের আদি নিবাস সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার ভাটগাঁও গ্রামে। অন্যদিকে, বর ওয়্যাং সুলিন চীনের লুবেই প্রদেশের লুরাং শহরের বাসিন্দা। নিজ দেশে ভাইয়ের সঙ্গে মিলে তিনি একটি রেস্তোরাঁ পরিচালনা করেন।পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই মাস আগে ফেসবুকের মাধ্যমে লিজা ও সুলিনের পরিচয় হয়, যা একপর্যায়ে প্রেমের সম্পর্কে রূপ নেয়। পরে দুজনেই বিয়ের সিদ্ধান্তে উপনীত হন। এতে উভয় পরিবার সম্মতি দিলে গত ১৮ জুলাই চীন থেকে বাংলাদেশে আসেন সুলিন। ঢাকা বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানিয়ে মোহনগঞ্জে নিয়ে যান লিজার স্বজনেরা। এরপর ২১ জুলাই ওই যুবক ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন এবং আইনি প্রক্রিয়ায় (অ্যাফিডেভিট) তাঁদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। আগামী ৩১ জুলাই (শুক্রবার) কনের পরিবারের পক্ষ থেকে ধুমধাম করে বিবাহোত্তর আনুষ্ঠানিকতার আয়োজন করা হয়েছে।সম্প্রতি বিদেশি পাত্রের মাধ্যমে কিছু প্রতারণার ঘটনা সংবাদমাধ্যমে উঠে আসায় কনের পরিবার শুরু থেকেই বেশ সতর্ক ছিল। এই বিষয়ে লিজার বাবা মো. নাজিম উদ্দিন জানান, ছেলের পরিবার ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি তাঁরা চীনা দূতাবাসে গিয়েও সার্বিক খোঁজখবর নিয়েছেন। সব তথ্য সঠিক পাওয়ার পর আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে পরামর্শ করে বিয়ের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। স্থানীয় সংসদ সদস্য লুৎফুজ্জামান বাবরকেও বিষয়টি অবহিত করে নবদম্পতিকে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করানো হয়েছে। আনুষ্ঠানিকতা শেষে ভিসা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করে লিজাকে চীনে নিয়ে যাবেন তাঁর স্বামী।এদিকে, চীনা জামাইকে ঘিরে মোহনগঞ্জের দৌলতপুর এলাকায় এখন উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। বিদেশি যুবককে একনজর দেখতে এবং তাঁর সঙ্গে ছবি তুলতে কনের বাড়িতে প্রতিনিয়ত ভিড় জমাচ্ছেন স্থানীয়রা। হাফিজুর রহমান নামের এক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, আন্তর্জাতিক প্রতারক চক্রের খবর পড়ে শুরুতে কিছুটা শঙ্কা থাকলেও কনের পরিবার যথাযথভাবে খোঁজখবর নিয়ে বিয়ে দেওয়ায় এখন আর কোনো সন্দেহ নেই। এলাকার মানুষ নবদম্পতির সুখী জীবনের জন্য শুভকামনা জানাচ্ছেন।
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা