প্রিন্ট এর তারিখ : ০২ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৭ আগস্ট ২০২৬
র্যাবের অবসান, আসছে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন’া
গণবার্তা প্রতিবেদনঃ ||
বিদ্যমান র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) বিলুপ্ত করে পুলিশের অধীনে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)’ নামে নতুন একটি বিশেষায়িত ইউনিট গঠনে আইনের খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ। সোমবার (১৭ আগস্ট) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভা বৈঠকে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) আইন, ২০২৬’-এর খসড়াটি অনুমোদন করা হয়।মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সবুজ সংকেত পাওয়ার পর আইনটির খসড়াটি এখন ভেটিংয়ের জন্য লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগে পাঠানো হয়েছে। ভেটিং প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর এই খসড়াটি বিল আকারে জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হবে। সংসদ অধিবেশনে আলোচনা ও ভোটাভুটির মাধ্যমে বিলটি পাস হলেই তা পূর্ণাঙ্গ আইনে পরিণত হবে।নতুন ইউনিটের কাঠামো ও বৈশিষ্ট্যপ্রস্তাবিত আইনের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো, র্যাব সম্পূর্ণ বিলুপ্ত করে সরাসরি পুলিশ বিভাগের অধীনে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)’ নামের নতুন এই বিশেষায়িত ইউনিট গঠন করা হবে। খসড়া আইনে র্যাবের সব কর্মী, ক্ষমতা, কর্তৃত্ব, সম্পদ, তহবিল, সম্পত্তি, হিসাব ও রেকর্ড এসআরবিতে স্থানান্তরের বিধান রাখা হয়েছে।অভিযোগ প্রতিকার কমিটি: সাধারণ নাগরিকদের যেকোনো অভিযোগ এবং ইউনিটের অভ্যন্তরীণ সদস্যদের ক্ষোভ নিষ্পত্তির জন্য একটি বহুপক্ষীয় অভিযোগ প্রতিকার কমিটি গঠনের প্রস্তাব রাখা হয়েছে।তদন্তের ক্ষমতা: প্রস্তাবিত খসড়া অনুযায়ী, অন্য যেকোনো আইনে যা-ই থাকুক না কেন, এই ইউনিটের ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তল্লাশি, আটক, জব্দ ও গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী সরাসরি তদন্তকারী কর্মকর্তার ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারবেন।আইনি প্রক্রিয়া ও জনমতইতোমধ্যে সাধারণ মানুষের মতামত নিতে প্রস্তাবিত এই আইনের খসড়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছিল। তবে ১০ দিনে মাত্র তিনজন নাগরিক তাঁদের মতামত দিয়েছেন বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম। আইনটি কার্যকর হলে র্যাবের বিদ্যমান বিধির ভিত্তিতে পরিচালিত বিভাগীয় কার্যক্রম নতুন নিয়ম প্রণয়ন না হওয়া পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।র্যাবের পটভূমি ও বিলুপ্তির প্রেক্ষাপট২০০৪ সালে তৎকালীন বিএনপি সরকারের আমলে পুলিশের বিশেষ বাহিনী হিসেবে র্যাব গঠিত হয়েছিল। সূচনা থেকেই এই বাহিনীর কার্যক্রম নিয়ে বিভিন্ন মহলে বিতর্ক ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ ওঠে। বিশেষ করে, কক্সবাজারের টেকনাফে একরামুল হক হত্যাকাণ্ডের ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্র র্যাব ও এর কর্মকর্তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।২০২৪ সালের ডিসেম্বরে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর গঠিত পুলিশ প্রশাসন সংস্কার কমিটির পক্ষ থেকেও আনুষ্ঠানিকভাবে র্যাব বিলুপ্তির জোরালো দাবি জানানো হয়েছিল। বর্তমান সরকারের এই পদক্ষেপের মাধ্যমে সেই প্রক্রিয়াই প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করতে যাচ্ছে।মন্ত্রিপরিষদ সূত্র জানিয়েছে, নতুন এই ইউনিট গঠনের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাঠামোতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে। জনগণের আস্থা অর্জন ও মানবাধিকার সুরক্ষায় আরও জবাবদিহিমূলক কাঠামো তৈরি করাই এই আইনের মূল লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা