প্রিন্ট এর তারিখ : ১৮ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
জামালপুরে গৃহবধূকে দলবদ্ধ ধর্ষণ মামলায় তিনজনের মৃত্যুদণ্ডা
গণবার্তা প্রতিবেদনঃ ||
এক গৃহবধূকে অপহরণ ও সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলায় তিন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড ও যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে দুই লাখ টাকা করে অর্থদণ্ডও প্রদান করা হয়।সোমবার (৩১ আগস্ট) দুপুরে জামালপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক মুহাম্মদ আব্দুর রহিম এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামিরা সবাই আদালতে উপস্থিত ছিলেন।মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন, জামালপুর সদর উপজেলার রশিদপুর ভাটিপাড়া এলাকার মৃত রুহুল আমিনের ছেলে মো. ছাত্তার আলী (৪০), কয়ড়ার পাড় এলাকার মৃত শামছুল হকের ছেলে মো. আব্দুল মালেক (৪২) এবং একই এলাকার মৃত নায়েব আলীর ছেলে মো. আনু (৩০)। একই ঘটনার অপহরণ মামলায় আসামিদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং দুই লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৯ অক্টোবর রাতে জামালপুর সদর উপজেলার রশিদপুর ভাটিপাড়া এলাকায় নিজ বাড়িতে একা ছিলেন ওই নারী। ঐ গৃহবধূর বাড়ি গিয়ে সাবেক ইউপি সদস্য ছাত্তার আলী ও তার সহযোগী আব্দুল মালেক এবং আনোয়ার হোসেন মদ্যপ অবস্থায় চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করেন।এ সময় চিৎকার শুনে ওই গৃহবধূ ঘর থেকে বের হলে তারা গৃহবধূর মুখে গামছা পেঁচিয়ে বাড়ির পাশে একটি ঝোপে নিয়ে যান। পরে তারা তিনজন মিলে ওই গৃহবধূকে দলবদ্ধ ধর্ষণ করেন।ওই গৃহবধূর স্বামী ঢাকায় চাকরি করতেন। পরে বিষয়টি কাউকে জানালে হত্যার হুমকি দিয়ে আসামিরা ঘটনাস্থল থেকে চলে যান।পরদিন ভুক্তভোগী স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সাক্ষীদের বিষয়টি জানান। এ সময় তাদের পরামর্শে তিনি থানায় মামলা করেন। মামলার তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করলে দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে আদালত তিন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড ও যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। একই সঙ্গে প্রত্যেককে দুই লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড করা হয়।রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ফজলুল হক বলেন, মামলায় রাষ্ট্রপক্ষ আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণে প্রয়োজনীয় সাক্ষ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করেছে। আদালত সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে ধর্ষণের দায়ে তিন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে এবং অপহরণের দায়ে তাদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন। একই সঙ্গে প্রত্যেককে দুই লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।রায় ঘোষণার পর আসামিদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এই রায়কে নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ে একটি বড় অর্জন হিসেবে দেখছেন আইনজীবী ও মানবাধিকারকর্মীরা। তারা আশা করছেন, ভবিষ্যতে নারী নির্যাতনের ঘটনায় এমন কঠোর শাস্তি আরও বাড়বে। ভুক্তভোগী ও তার পরিবার রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন এবং দ্রুত রায় কার্যকরের দাবি জানিয়েছেন।
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা