প্রিন্ট এর তারিখ : ২৯ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
নগদ লিমিটেডের সাবেক এমডিসহ ৭৮৬ কোটি টাকার শেয়ার ফ্রিজা
অর্থনীতি প্রতিবেদন ||
থার্ড ওয়েভ টেকনোলজিস লিমিটেডের (পরিবর্তিত নাম নগদ লিমিটেড) সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক তানভীর আহমেদ মিশুকসহ অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে থাকা ৭৮৬ কোটি ৩৯ হাজার ২৮৪ টাকার শেয়ার ফ্রিজ (অবরুদ্ধ) করার আদেশ দিয়েছেন আদালত।রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুদকের আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকার মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. শাহজাহান কবির এ আদেশ দেন।দুদকের পক্ষে সংস্থাটির সহকারী পরিচালক ও অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহজাহান মিরাজ এই আবেদন করেন।আবেদনে বলা হয়, অননুমোদিত ডিস্ট্রিবিউটরের মাধ্যমে সরকারি অর্থ বের করে নেওয়া, বৈধ চ্যানেলে বৈদেশিক মুদ্রা না এনে অনাবাসী বিনিয়োগকারীদের অনুকূলে শেয়ার হস্তান্তর, জিরো কুপন বন্ডের অর্থ দিয়ে বিদেশি ঋণ পরিশোধ, বিদেশে অর্থ পাচার এবং জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে তানভীর আহমেদ মিশুকসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান চলছে।দুদকের অনুসন্ধানে প্রাথমিকভাবে দেখা যায়, ২০২১ সালের ১ এপ্রিল থেকে ২০২৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ‘নগদ’-এর মাধ্যমে বিতরণ করা সরকারি ভাতার অব্যবহৃত অর্থ সফটওয়্যার জালিয়াতির মাধ্যমে ২৪ হাজার ১৫৯টি ভুয়া উদ্যোক্তার ওয়ালেটে স্থানান্তর করা হয়। পরে তা ৬৪৮টি ভুয়া ডিএসও এবং ৩৪টি অননুমোদিত ডিস্ট্রিবিউটরের ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে সরিয়ে নেওয়া হয়।দুদক বলেছে, এ প্রক্রিয়ায় প্রাথমিকভাবে ১ হাজার ৭০৬ কোটি ৩৮ লাখ ৫৪ হাজার ২২৯ টাকা আত্মসাতের প্রমাণ পাওয়া গেছে। আত্মসাৎ করা অর্থ বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে লেয়ারিংয়ের মাধ্যমে থার্ড ওয়েভ টেকনোলজিস লিমিটেডের ১৬ কোটি ৮৪ লাখ ৩৪ হাজার ১২৭টি শেয়ার কেনায় ব্যবহার করা হয়েছে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।দুদকের আবেদনে আরও বলা হয়, অভিযোগ সংশ্লিষ্টরা শেয়ারগুলো বিক্রি বা স্থানান্তরের চেষ্টা করছেন। এসব শেয়ার বিক্রি করে অর্থ বিদেশে পাচারের আশঙ্কা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিদেশি প্রতিষ্ঠান ও নাগরিকরা শেয়ার কেনার জন্য বিদেশ থেকে বৈধভাবে অর্থ এনেছেন এমন তথ্যও অনুসন্ধানে পাওয়া যায়নি। এ অবস্থায় অনুসন্ধান শেষ হওয়ার আগে শেয়ারগুলো হস্তান্তর, স্থানান্তর বা বিক্রি হয়ে গেলে রাষ্ট্রের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কায় মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন এবং দুদক বিধিমালা অনুযায়ী শেয়ারগুলো অবরুদ্ধ করা একান্ত প্রয়োজন।আদালত দুদকের আবেদন আমলে নিয়ে শেয়ারগুলো ফ্রিজের আদেশ দেন। এর ফলে অনুসন্ধান শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই শেয়ার বিক্রি, হস্তান্তর বা স্থানান্তর করা যাবে না। দুদক সূত্র জানিয়েছে, এই মামলায় আরও কিছু ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের বিরুদ্ধেও অনুসন্ধান চলছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা