প্রিন্ট এর তারিখ : ১৮ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৭ অক্টোবর ২০২৬
সাত বছর পর ত্রিদেশীয় সিরিজে বাংলাদেশ, আজ জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে মাঠে নামছে টাইগাররাা
গণবার্তা প্রতিবেদনঃ ||
আবুধাবি: আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশ দলের একমাত্র ট্রফিটা এসেছিল ত্রিদেশীয় সিরিজ থেকেই। নিজেদের দীর্ঘ ইতিহাসে এখন পর্যন্ত সেই একবারই চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল টাইগাররা। ২০১৯ সালে আয়ারল্যান্ডে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে জিতেছিল শিরোপা।এরপর কেটে গেছে সাত বছরের বেশি সময়। এই সময়ে বিশ্বকাপ, এশিয়া কাপ, চ্যাম্পিয়নস ট্রফির মতো বড় আসরে খেলেছে দল; কিন্তু তিন দলের ওয়ানডে সিরিজে আর দেখা যায়নি। সেই সাথে দেখা মেলেনি শিরোপারও।আজ শনিবার শেষ হচ্ছে সেই অপেক্ষা। আবুধাবিতে ফের ত্রিদেশীয় সিরিজে মাঠে নামছে বাংলাদেশ। জিম্বাবুয়ে ও আফগানিস্তানকে নিয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলবে টাইগাররা। আর এই সিরিজ দিয়েই শুরু হচ্ছে লিটন দাসের ওয়ানডে অধিনায়কত্ব অধ্যায়।বাংলাদেশ এই সিরিজে কিছুটা ফেভারিট হলেও সাম্প্রতিক ওয়ানডে সময়টা খুব একটা স্বস্তির নয়। শুরুতেই সামনে সেই জিম্বাবুয়ে, যাদের বিপক্ষে গত জুলাইয়ে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ হেরেছিল বাংলাদেশ।আবার আরেক প্রতিপক্ষ আফগানিস্তানের বিপক্ষেও সাম্প্রতিক স্মৃতি সুখকর নয়। এই আরব আমিরাতেই গত বছরের অক্টোবরে আফগানদের কাছে ৩-০ ব্যবধানে ওয়ানডে সিরিজে ধবলধোলাই হয় মেহেদী মিরাজের দল।তাই সাত বছর পর ত্রিদেশীয় সিরিজে ফেরার আনন্দের সাথে পুরোনো হারের জবাব দেওয়ার তাগিদও থাকছে। তবে এই সিরিজে শুধু জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে জয়ই যথেষ্ট নয়। তিন দলের লড়াইয়ে প্রতিটি ম্যাচের ফলই গুরুত্বপূর্ণ।একটি হারই ফাইনালে ওঠার সমীকরণে এনে দিতে পারে রানরেটের জটিল হিসাব। বিষয়টি ভালোভাবেই জানেন বাংলাদেশের নতুন ওয়ানডে অধিনায়ক লিটন দাস। তার মতে, সাধারণ দ্বিপক্ষীয় সিরিজের চেয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজে চাপটা বেশি।লিটন বলেন, “ত্রিদেশীয় সিরিজ খেললে একটা বাড়তি চাপ থাকে। তিনটা দলের জন্য একইরকম চাপ থাকবে যে ফাইনালে উঠতে হবে। আপনি যখন সাধারণ সিরিজ খেলেন, তখন অতটা চাপ থাকে না; কারণ আপনি জানেন প্রথম ম্যাচ হেরে গেলেও ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ থাকে। কিন্তু এখানে হেরে গেলেই রানরেটের জটিল হিসাব চলে আসে।”এদিকে এই সিরিজ দিয়েই পূর্ণ মেয়াদে ওয়ানডে অধিনায়ক হিসেবে নতুন অধ্যায় শুরু হচ্ছে লিটনের। মেহেদী মিরাজের কাছ থেকে নেতৃত্ব পাওয়ার পর বড় কোনো ওয়ানডে আসরের আগে এটাই তার প্রথম পরীক্ষা। যদিও নিজের দল নিয়ে যথেষ্ট আশাবাদী এই উইকেটকিপার-ব্যাটার।লিটন বলেন, “আপনি যদি দেখেন এই দলটা অনেক ভালো ভালো সিরিজ খেলেছে। বিশেষ করে ঘরের মাঠে অনেক ভালো খেলেছে। আমার কাছে মনে হয় এই দলটাতে অনেক প্রতিভাবান খেলোয়াড় আছে আর সাথে আমরা যারা সিনিয়র আছি—যদি সেরা ক্রিকেটটা খেলতে পারি তাহলে সবকিছু সম্ভব।”বাংলাদেশের জন্য স্বস্তির জায়গা হতে পারে দলে অভিজ্ঞতার উপস্থিতি। লিটনের সাথে ব্যাটিংয়ে আছেন নাজমুল হোসেন শান্ত, তাওহিদ হৃদয়, তানজিদ হাসান, সৌম্য সরকাররা। বোলিং আক্রমণে তাসকিন আহমেদ, মোস্তাফিজুর রহমানদের ওপর থাকবে বড় দায়িত্ব।চোটের কারণে নেই নাহিদ রানা। আর দলে থাকা আলিস আল ইসলাম পেতে পারেন ওয়ানডেতে নিজেকে মেলে ধরার সুযোগ। আর অলরাউন্ডার ভূমিকায় মেহেদী মিরাজ হতে পারেন দলের চালিকাশক্তি।উল্লেখ্য, আবুধাবিতে আজ বিকেল সাড়ে ৫টায় শুরু হবে বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়ে ম্যাচ। এটি দিয়েই পর্দা উঠবে ত্রিদেশীয় সিরিজের।
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা