প্রিন্ট এর তারিখ : ০৫ নভেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৫ নভেম্বর ২০২৬
ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির দেশ গড়তে সরকার কাজ করছে: প্রধানমন্ত্রীা
গণবার্তা প্রতিবেদনঃ ||
মোংলা (বাগেরহাট): প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ট্রিলিয়ন অর্থনীতির দেশ গড়ার লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বর্তমান সরকার কাজ করছে।বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) মোংলা বন্দরে জেটির ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন শেষে দেওয়া বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।তিনি বলেন, বর্তমান সরকার আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতিতে রূপান্তর করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য বিনিয়োগ, শিল্পায়ন, রফতানি বহুমুখীকরণ, জ্বালানি ও খাদ্যনিরাপত্তা এবং দক্ষ মানবসম্পদকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক ব্যবস্থায় জ্বালানি ও খাদ্য সরবরাহ চেইন কার্যকর রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মোংলা বন্দর জ্বালানি, খাদ্য, কাঁচামাল আমদানি এবং দেশীয় পণ্য রফতানিতে দেশের একটি পরিপূরক হিসেবে জাতীয় অর্থনীতিতে নিরাপত্তা আরও সমৃদ্ধ করবে।এর আগে সকালে মোংলায় পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে ইনভেস্ট বাংলাদেশ ও চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান চায়না রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন করপোরেশনের (সিআরসিসি) মধ্যে অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত সহযোগিতাবিষয়ক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।এ উপলক্ষে সিআরসিসির চেয়ারম্যান দাই হেগেনের নেতৃত্বে আসা উচ্চপর্যায়ের চীনা প্রতিনিধিদলের সঙ্গে মতবিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী।এদিকে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী ৩০তম ইউএস ট্রেড শো'র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম) বলেছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণ যে নির্বাচনী ইশতেহারের পক্ষে রায় দিয়েছে, তার আলোকেই ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের শক্তিশালী অর্থনীতি হিসেবে গড়ে তোলা হবে।তিনি বলেন, এই লক্ষ্য অর্জনে সরকার ভোগনির্ভর অর্থনীতির পরিবর্তে টেকসই বিনিয়োগভিত্তিক অর্থনৈতিক কাঠামো গড়ে তুলতে চায়। বাংলাদেশের বৈদেশিক বাণিজ্যিক স্বার্থ ও সুবিধা সুসংহত করতে অর্থনৈতিক কূটনীতি আরও জোরদার করা হচ্ছে, যার মাধ্যমে বৈশ্বিক অঙ্গনে দেশের জন্য নতুন নতুন বাণিজ্য ও বিনিয়োগের বাজার উন্মুক্ত হবে।অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, দেশে মার্কিন ব্যবসায়ী ও কোম্পানিগুলোর স্বাচ্ছন্দ্যময় উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালনায় বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করছে সরকার। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ভবিষ্যতে ঢাকা ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় ও সম্প্রসারিত হবে।অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি (গেস্ট অব অনার) হিসেবে অংশ নেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন। তিনি উল্লেখ করেন, শ্রমিকদের সার্বিক অধিকার সুরক্ষা এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী শ্রম আইন বাস্তবায়ন জোরদার করা গেলে বাংলাদেশে মার্কিনসহ অন্যান্য বিদেশি বিনিয়োগ প্রবাহ উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে সম্ভাব্য পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি বাংলাদেশের বিপুল অর্থনৈতিক সম্ভাবনা বিকাশে নতুন দিগন্তের উন্মোচন ঘটাবে।উল্লেখ্য, আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচ্যাম) এবং ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাসের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ বাণিজ্য প্রদর্শনী চলবে আগামী ৭ নভেম্বর পর্যন্ত।
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা