গণবার্তা
সর্বশেষ

২০৪০ সালে ২ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ার লক্ষ্য জামায়াতের

বাংলাদেশকে আকারের দিক থেকে বিশ্বের ৩৫তম অর্থনীতি থেকে ২০তম স্থানে উন্নীত করার উচ্চাকাঙ্ক্ষী লক্ষ্য ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির ঘোষিত লক্ষ্য অনুযায়ী, ২০৪০ সালের মধ্যে দেশের অর্থনীতির আকার দাঁড়াবে ২ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং মাথাপিছু আয় হবে ১০ হাজার ডলার।এই লক্ষ্য অর্জনে প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি, স্মার্ট ম্যানুফ্যাকচারিং, আইসিটি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও আর্থিক খাতকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানিয়েছে দলটি। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর একটি পাঁচ তারকা হোটেলে আয়োজিত ‘জনতার ইশতেহার’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে জামায়াতের ৪১ দফা নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করা হয়।ইশতেহার উন্মোচন করেন দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান ও সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।‘চলো সবাই একসাথে গড়ি বাংলাদেশ’—স্লোগানে ইশতেহার‘একটি নিরাপদ ও মানবিক বাংলাদেশ’ গড়ার প্রত্যয়ে ঘোষিত এই ইশতেহারে রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য ২৬টি বিষয়কে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। ইশতেহারটি প্রণয়নে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন খাতের ২৫০ জনের বেশি বিশেষজ্ঞ, অর্থনীতিবিদ, শিক্ষাবিদ ও সাধারণ জনগণের মতামত অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়।অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, রাজনৈতিক দলের নেতা, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, শিক্ষক, অর্থনীতিবিদ, ব্যবসায়ী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।দলীয় সরকার নয়, ‘জনতার সরকার’ গড়ার অঙ্গীকারইশতেহার ঘোষণাকালে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন,“আমরা কোনো দলীয় সরকার গঠন করতে চাই না। আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চাই যা হবে জনতার, জনগণের।”তিনি বলেন, জামায়াত ক্ষমতায় এলে একটি জনবান্ধব, ব্যবসাবান্ধব, শান্তি ও শৃঙ্খলাবান্ধব রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা হবে।ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন,“আমরা বেকার ভাতা দিতে চাই না। এটা যুবকদের জন্য অপমান। আমরা তাদের হাতে কাজ তুলে দেব। যুবকরাই আগামী দিনের বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেবে।”তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, চা শ্রমিকের সন্তানও একদিন প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সুযোগ পাবে।২৬ অগ্রাধিকার খাতজামায়াতের ঘোষিত অগ্রাধিকারগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থে আপসহীন রাষ্ট্রবৈষম্যহীন ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক সমাজযুবকদের ক্ষমতায়ন ও রাষ্ট্র পরিচালনায় অগ্রাধিকারনারীদের জন্য নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ রাষ্ট্রমাদক, চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসমুক্ত বাংলাদেশদুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারপ্রযুক্তিনির্ভর স্মার্ট সমাজকৃষিতে প্রযুক্তি বিপ্লব২০৩০ সালের মধ্যে ভেজালমুক্ত খাদ্য নিরাপত্তাসমানুপাতিক (পিআর) পদ্ধতিতে নির্বাচনব্যাংক ও আর্থিক খাত সংস্কারকর্মসংস্থান ও শিল্পায়নস্বল্পমূল্যে আবাসনসর্বজনীন সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাসুশাসনের মাধ্যমে কল্যাণরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাঅর্থনৈতিক রূপরেখা: ‘মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর অর্থনীতি’ইশতেহারের তৃতীয় অধ্যায়ে অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়—জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশে উন্নীত করারাজস্ব আহরণ জিডিপির ১৪ শতাংশে নেওয়াসরকারি ব্যয় জিডিপির ২০ শতাংশে উন্নীত করাবাজেট ঘাটতি ৫ শতাংশের নিচে রাখাকরমুক্ত আয়সীমা বাড়িয়ে ৫ লাখ টাকা করাকরপোরেট ট্যাক্স ২০ শতাংশের নিচে নামানোবিনিয়োগ বন্ড মার্কেট চালুকেন্দ্রীয় ব্যাংকের পূর্ণ স্বায়ত্তশাসনখেলাপি ঋণ দ্রুত সহনীয় পর্যায়ে নামানোবিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনাশেয়ারবাজারে কারসাজি বন্ধশিল্প, এসএমই ও রেমিট্যান্সশিল্প খাতে বেসরকারি বিনিয়োগ উৎসাহিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে জামায়াত আমির বলেন,“শিল্পকে শিশুর মতো লালন-পালন করা হবে।”এসএমই খাতকে কর্মসংস্থানের প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। প্রবাসী কর্মীদের জন্য সামাজিক অন্তর্ভুক্তিমূলক তহবিল গঠনের ঘোষণাও দেওয়া হয়েছে।নারীদের অধিকার ও কর্মঘণ্টাইশতেহারে বলা হয়েছে—গ্রামীণ নারী উদ্যোক্তাদের প্রণোদনামাতৃত্বকালীন সময়ে সম্মতি সাপেক্ষে কর্মঘণ্টা ৫ ঘণ্টায় নামানোডে-কেয়ার সেন্টার স্থাপনখণ্ডকালীন চাকরির ব্যবস্থাউল্লেখযোগ্য সংখ্যক নারী মন্ত্রী নিয়োগডা. শফিকুর রহমান বলেন,“আমরা নারীদের চাকরি ছাড়াতে চাই না, বরং তাদের সম্মান দিতে চাই।”পররাষ্ট্রনীতি ও প্রতিরক্ষাইশতেহারে ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি, মুসলিম বিশ্বসহ প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক এবং রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানের অঙ্গীকার করা হয়েছে।প্রতিরক্ষা খাতে ‘ডিফেন্স ভিশন ২০৪০’, জাতীয় সামরিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং স্থানীয় অস্ত্র উৎপাদনের পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়েছে।জামায়াতের ইশতেহারে আটটি অধ্যায়ে ৪১টি খাত ও উপখাতে রাষ্ট্র সংস্কার ও উন্নয়নের বিস্তৃত রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছে। দলটির দাবি, সুশাসন, ইনসাফ ও অংশগ্রহণমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থার মাধ্যমে বাংলাদেশকে একটি সুখী, নিরাপদ ও সমৃদ্ধ কল্যাণরাষ্ট্রে রূপান্তর করা সম্ভব।
০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

ভোটারদের জন্য ৩৩৩ হেল্পলাইনে বিশেষ তথ্যসেবা চালু

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের সহযোগিতায় এটুআই-এর ন্যাশনাল হেল্পলাইন ৩৩৩-এর মাধ্যমে বিশেষ তথ্যসেবা চালু করা হয়েছে। দেশের যে কোনো মোবাইল অপারেটর থেকে টোল-ফ্রি এই নম্বরে কল করে ৯ প্রেস করলে সহজেই নির্বাচন সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্য ও সহায়তা পাবেন নাগরিকরা।বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এই সেবার আওতায় ভোটাররা ভোট দেওয়ার নিয়ম ও পদ্ধতি, ভোটকেন্দ্রের অবস্থান, জাতীয় পরিচয়পত্র সংক্রান্ত তথ্য, নির্বাচনকালীন আচরণবিধি, প্রবাসী ভোটারদের ভোট দেওয়ার নিয়ম, প্রতিবন্ধী, প্রবীণ ও নারী ভোটারদের জন্য বিশেষ সুবিধা, জরুরি নির্দেশনা ও প্রয়োজনীয় যোগাযোগ নম্বর সম্পর্কে জানতে পারবেন।এছাড়া, নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত Smart Election Management BD ও Postal Vote BD অ্যাপ ব্যবহারের পদ্ধতি সম্পর্কেও বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হচ্ছে।গত ১৬ জানুয়ারি থেকে পাইলট আকারে চালু হওয়া এই বিশেষ সেবার মাধ্যমে ইতিমধ্যে এক হাজার ৬৪৩ জন নাগরিক তথ্য ও সহায়তা গ্রহণ করেছেন। একইসঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সংক্রান্ত তথ্য গ্রহণ, সম্ভাব্য অস্থিরতা আগাম শনাক্তকরণ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত অবহিত করার একটি সহায়ক মাধ্যম হিসেবে ৩৩৩ এর ৯ নম্বর ব্যবহারের সম্ভাবনাও বিবেচনায় রয়েছে। তবে এটি সরাসরি পুলিশ কন্ট্রোল রুম হিসেবে কাজ করবে না, বরং একটি Information Intake, Early Warning & Forwarding System হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনা করবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী প্রাপ্ত তথ্য ৯৯৯ বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে।
০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

মহেড়া জমিদার বাড়ি: ইতিহাস, সৌন্দর্য আর স্মৃতির এক জীবন্ত দলিল

বাংলাদেশের স্থাপত্য ঐতিহ্যের ভাণ্ডারে মহেড়া জমিদার বাড়ি এক অনন্য নাম। টাঙ্গাইল জেলার মির্জাপুর উপজেলায় অবস্থিত এই জমিদার বাড়িটি শুধু ইট-পাথরের একটি স্থাপনা নয়, বরং শতবর্ষের ইতিহাস, জনকল্যাণ, নির্মম স্মৃতি ও অপরূপ প্রকৃতির এক সম্মিলিত সাক্ষ্য। সময়ের প্রবাহে বহু পরিবর্তনের মধ্য দিয়েও মহেড়া জমিদার বাড়ি আজও দাঁড়িয়ে আছে ইতিহাসের নীরব ভাষ্যকার হয়ে।ইতিহাসের শিকড়উনিশ শতকের শেষভাগে, ১৮৯০ দশকের আগেই মহেড়া জমিদার বাড়ির পত্তন ঘটে। কলকাতার ব্যবসায়ী কালীচরণ সাহা ও আনন্দ সাহা—এই দুই ভাই লবণ ও ডালের ব্যবসা করে বিপুল সম্পদের মালিক হন। ব্যবসায়িক সাফল্যের পর তারা টাঙ্গাইলের মহেড়া গ্রামে এসে প্রায় ১ হাজার ১৭৪ শতাংশ জমির ওপর এই সুবিশাল জমিদার বাড়ি নির্মাণ করেন।পরবর্তীতে ব্রিটিশ সরকার জমিদারি প্রথা চালু করলে সাহা পরিবারের উত্তরসূরিরা করটিয়ার ২৪ পরগনার জমিদারদের কাছ থেকে জমিদারির একটি অংশ ক্রয় করেন। তখন থেকেই মহেড়ায় আনুষ্ঠানিকভাবে জমিদারি শাসনের সূচনা হয়। কালীচরণ সাহা ও আনন্দ মোহন সাহার উত্তরাধিকারী রাজেন্দ্র রায় চৌধুরী পর্যায়ক্রমে জমিদারি পরিচালনা করেন।এই জমিদার পরিবার শুধু বিত্তশালীই ছিলেন না, ছিলেন প্রজাবৎসল ও জনহিতৈষী। বিদ্যালয়, মন্দির, রাস্তা, পানীয় জলের ব্যবস্থা, কূপ খনন—এলাকার সামগ্রিক উন্নয়নে তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।স্থাপত্য ও নকশামহেড়া জমিদার বাড়ির স্থাপত্যে ইউরোপীয় প্রভাব স্পষ্ট। ধারণা করা হয়, স্পেনের করডোভা নগরীর আদলে ভবনগুলো নির্মিত হয়েছিল। পুরো জমিদার বাড়ি প্রায় আট একর জায়গাজুড়ে বিস্তৃত।প্রবেশপথের সামনেই চোখে পড়ে বিশাল দীঘি ‘বিশাখা সাগর’। এর পাশেই দুটি সুরম্য গেট দিয়ে মূল চত্বরে প্রবেশ করতে হয়। ভেতরে রয়েছে তিনটি প্রধান ভবন ও একাধিক সহায়ক স্থাপনা—নায়েব ভবন, কাছারি ঘর, গোমস্তাদের ঘর, লজ ও মন্দির।চার প্রধান ভবনচৌধুরী লজপ্রবেশ করলেই দেখা যায় গোলাপি রঙের চৌধুরী লজ। রোমান স্থাপত্যরীতিতে নির্মিত এই দোতলা ভবনের পিলার ও ঢেউ খেলানো ছাদ আলাদা মাত্রা যোগ করেছে। সামনে বিস্তৃত বাগান ও সবুজ মাঠ ভবনটিকে আরও আকর্ষণীয় করেছে।মহারাজ লজবাইজেনটাইন ঘরানার এই ভবনের সামনে ছয়টি সুউচ্চ কলাম। বাঁকানো রেলিং ও ঝুলন্ত বারান্দা এর সৌন্দর্য বাড়িয়েছে। ১২ কক্ষবিশিষ্ট এই ভবনের পেছনে রয়েছে একটি টেনিস কোর্ট। বর্তমানে এটি নাটক ও চলচ্চিত্রের শুটিং স্পট হিসেবে ব্যবহৃত হয়।আনন্দ লজনীল-সাদা রঙের সংমিশ্রণে নির্মিত তিনতলা আনন্দ লজকে অনেকেই মহেড়া জমিদার বাড়ির সবচেয়ে আকর্ষণীয় ভবন বলেন। সামনে আটটি কলাম ও ঝুলন্ত বারান্দা রয়েছে। ভবনের সামনে হরিণ, বাঘ ও নানা পশু-পাখির ভাস্কর্যসহ একটি মনোরম বাগান রয়েছে।কালীচরণ লজ (রাণী ভবন)ইংরেজি ‘U’ আকৃতির এই ভবনটি ইংরেজ স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত। বিকেলের আলোয় ভেতর থেকে আলো-ছায়ার খেলায় ভবনটি অন্যরকম রূপ নেয়।প্রকৃতি ও পরিবেশজমিদার বাড়ির চারপাশ যেন এক জীবন্ত উদ্যান। বিশাখা সাগরের দক্ষিণ পাশে রয়েছে বিশাল আম্র কানন—ফজলি, ল্যাংড়া, গোপালভোগসহ নানা জাতের আমগাছ। বর্তমান পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারের প্রায় ৪৪ একর জমিজুড়ে ছড়িয়ে আছে আম, কাঁঠাল, নারিকেল, ছবেদা, জলপাইসহ নানা ফল ও ঔষধি গাছ।পাসরা পুকুর ও রানী পুকুর জমিদারদের ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য ছিল। ফুলে-ফলে, পাখির কলকাকলিতে মুখর এই পরিবেশ দর্শনার্থীদের এক ধরনের প্রশান্তি দেয়। শীতকালে এখানে প্রজাপতির মেলা বসে, যা ফটোগ্রাফারদের কাছে বিশেষ আকর্ষণ।মুক্তিযুদ্ধের রক্তাক্ত স্মৃতিএই সৌন্দর্যের আড়ালে লুকিয়ে আছে এক কলঙ্কিত অধ্যায়। ১৯৭১ সালের ১৪ মে পাকিস্তানি বাহিনী মহেড়া জমিদার বাড়িতে হামলা চালায়। চৌধুরী লজের মন্দিরের পেছনে জমিদার পরিবারের কুলবধূ যোগমায়া রায় চৌধুরীসহ পাঁচজন গ্রামবাসীকে গুলি করে হত্যা করা হয়। নিহতদের মধ্যে ছিলেন শিক্ষক বিমল কুমার সরকারসহ স্থানীয় কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তি।এই হত্যাযজ্ঞের পর জমিদার পরিবার শত বছরের স্মৃতি ও বিপুল সম্পদ ফেলে লৌহজং নদীপথে দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়। পরে মুক্তিযোদ্ধা বায়েজীদ সাহেবের নেতৃত্বে এখানে মুক্তিবাহিনীর ক্যাম্প স্থাপিত হয়।নতুন অধ্যায়: পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারস্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে পরিত্যক্ত জমিদার বাড়িটিকে পুলিশ ট্রেনিং স্কুল হিসেবে ব্যবহারের উদ্যোগ নেয় সরকার। তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মান্নানের নেতৃত্বে এই কার্যক্রম শুরু হয়। ১৯৯০ সালে এটি পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারে উন্নীত হয়। নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও নতুন স্থাপনা যুক্ত হওয়ায় ঐতিহ্যবাহী ভবনগুলোর সৌন্দর্য অক্ষুণ্ন থেকেছে, বরং আরও বিস্তৃত হয়েছে।ভ্রমণ গাইডঢাকা থেকে টাঙ্গাইলগামী বাসে নাটিয়াপাড়া বাসস্ট্যান্ডে নেমে সিএনজি বা বেবিট্যাক্সিতে মাত্র ৩–৪ কিলোমিটার পথ। মহাসড়কে পুলিশ ট্রেনিং সেন্টার, মহেড়া লেখা বড় সাইনবোর্ড রয়েছে।প্রবেশমূল্য মাত্র ২০ টাকা। পিকনিক ও শুটিংয়ের জন্য স্থান ভাড়া আলোচনা সাপেক্ষে। ক্যান্টিন সুবিধা আছে, আগাম অর্ডারে খাবারও পাওয়া যায়। রাতে থাকার জন্য এসি ও নন-এসি ডাকবাংলো রয়েছে। সকাল ও বিকেলে পুলিশ সদস্যদের প্রশিক্ষণ কসরত দেখাও এক ভিন্ন অভিজ্ঞতা।উপসংহারমহেড়া জমিদার বাড়ি কেবল একটি পর্যটন কেন্দ্র নয়—এটি ইতিহাস, সংস্কৃতি, প্রকৃতি ও আত্মত্যাগের এক জীবন্ত স্মারক। একদিকে অপরূপ সৌন্দর্য, অন্যদিকে মুক্তিযুদ্ধের বেদনাবিধুর স্মৃতি—সব মিলিয়ে মহেড়া জমিদার বাড়ি বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অনিবার্য নাম।
০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারে ৯ প্রতিশ্রুতি ও ৫১ দফা অঙ্গীকার

বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারে ৯ প্রতিশ্রুতি ও ৫১ দফা অঙ্গীকার

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) তাদের নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করেছে। রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে এ ইশতেহার প্রকাশ করেন। এটি তারেক রহমানের নেতৃত্বে দলের প্রথম ইশতেহার।ইশতেহারের মূল স্লোগান ছিল “করব কাজ, গড়ব দেশ” এবং “সবার আগে বাংলাদেশ”। এতে ৯টি প্রধান প্রতিশ্রুতি এবং মোট ৫১ দফা অঙ্গীকার তুলে ধরা হয়েছে। বিএনপি বলছে, এটি কেবল নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি নয়, বরং একটি নতুন সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় চুক্তির ঘোষণা।৯টি প্রধান প্রতিশ্রুতি ফ্যামিলি কার্ড: প্রান্তিক পরিবারকে মাসে ২৫০০ টাকা বা সমমূল্যের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য। কৃষক কার্ড: কৃষকের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে ভর্তুকি, সহজ ঋণ, কৃষি বীমা ও বাজারজাতকরণে রাষ্ট্রীয় সহায়তা। স্বাস্থ্য ব্যবস্থা: এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ, মা-শিশুর পূর্ণাঙ্গ সেবা, জেলা ও মহানগরে মানসম্মত চিকিৎসা। শিক্ষা সংস্কার: দক্ষতা ও মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষানীতি, প্রাথমিক শিক্ষায় সর্বাধিক গুরুত্ব, মিড-ডে মিল চালু। তরুণ কর্মসংস্থান: স্টার্টআপ সহায়তা, বৈশ্বিক ই-কমার্সে যুক্তকরণ, মেধাভিত্তিক সরকারি নিয়োগ। ক্রীড়া উন্নয়ন: জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ক্রীড়া অবকাঠামো ও প্রশিক্ষণ সম্প্রসারণ। পরিবেশ ও জলবায়ু: ২০ হাজার কিমি নদী-খাল খনন, ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ, আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা। ধর্মীয় সম্প্রীতি: সব ধর্মের উপাসনালয়ের নেতাদের সম্মানী ও কল্যাণ ব্যবস্থা। ডিজিটাল অর্থনীতি: পেপাল চালু, ই-কমার্স হাব স্থাপন, ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ পণ্যের রপ্তানি সম্প্রসারণ। ৫১ দফা অঙ্গীকারের মূল বিষয় দুর্নীতির বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা নীতি। বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা ও দ্রুত বিচার নিশ্চিতকরণ। সংসদে উচ্চকক্ষ প্রবর্তন ও বিরোধী দলীয় ডেপুটি স্পিকার। প্রশাসনে মেধাভিত্তিক নিয়োগ, দলীয়করণমুক্ত জনপ্রশাসন। বিশেষ ক্ষমতা আইন ১৯৭৪ বাতিল। গুম প্রতিরোধে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে আইন। স্বাধীন নির্বাচন কমিশন গঠন ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বহাল। প্রকল্পে রিয়েল টাইম অডিট ও পারফরম্যান্স অডিট। পাচারকৃত অর্থ ফেরত আনার উদ্যোগ। পুলিশকে জনবান্ধব ও সেবাবান্ধব করা, অনলাইন অভিযোগ ব্যবস্থা সম্প্রসারণ। রাজনৈতিক দর্শনবিএনপি বলছে, তাদের রাজনীতি প্রতিশোধ নয় বরং ন্যায় ও মানবিকতার ভিত্তিতে পরিচালিত হবে। জনগণের অধিকারকে কেন্দ্র করে রাষ্ট্র গঠন, অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন এবং জবাবদিহিমূলক প্রশাসন গড়ে তোলাই তাদের লক্ষ্য।ইশতেহারটি তিনটি মৌলিক ভিত্তির ওপর দাঁড়ানো— শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ১৯ দফা রাষ্ট্রদর্শন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ভিশন-২০৩০ তারেক রহমানের রাষ্ট্র মেরামতের ৩১ দফা বিশ্লেষণবিএনপির ইশতেহার মূলত সামাজিক সুরক্ষা, দুর্নীতি দমন ও সুশাসনকে কেন্দ্র করে সাজানো হয়েছে। নতুনত্ব হিসেবে এসেছে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড, যা সরাসরি অর্থনৈতিক সহায়তা নিশ্চিত করবে। একই সঙ্গে ডিজিটাল অর্থনীতি ও বৈশ্বিক সংযোগকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ইশতেহার তরুণ, কৃষক ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে আকৃষ্ট করার চেষ্টা। একই সঙ্গে দুর্নীতি দমন ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিএনপি তাদের শাসনব্যবস্থাকে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করার বার্তা দিয়েছে।সম্ভাব্য প্রভাব অর্থনীতি: ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড সরাসরি অর্থনৈতিক সহায়তা দেবে। সামাজিক সুরক্ষা: স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে নতুন কর্মসূচি সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নত করবে। রাজনীতি: উচ্চকক্ষ প্রবর্তন ও বিরোধী দলীয় ডেপুটি স্পিকার সংসদে ভারসাম্য আনতে পারে। আন্তর্জাতিক সংযোগ: পেপাল চালু ও ই-কমার্স হাব স্থাপন বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ বাড়াবে।
৭ ঘন্টা আগে
বাংলাদেশ-জাপান প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি হস্তান্তর চুক্তি স্বাক্ষর

বাংলাদেশ-জাপান প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি হস্তান্তর চুক্তি স্বাক্ষর

বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি হস্তান্তর সংক্রান্ত একটি ঐতিহাসিক দ্বিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা সেনানিবাসে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার লেফটেন্যান্ট জেনারেল এস এম কামরুল হাসান এবং জাপানের পক্ষে বাংলাদেশে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত সাইডা শিনিচি চুক্তিতে সই করেন।  আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতর (আইএসপিআর) জানায়, চুক্তি স্বাক্ষরের দিন থেকেই এটি কার্যকর হয়েছে। এর মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি হস্তান্তরের জন্য একটি আইনি কাঠামো তৈরি হলো। যৌথভাবে নির্ধারিত প্রকল্প বাস্তবায়নে—বিশেষ করে আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তায় অবদান রাখে এমন উদ্যোগে—এই সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি ব্যবহার করা যাবে। প্রতিটি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে অনুমোদন ও যাচাইয়ের প্রক্রিয়া নির্ধারণ করা হয়েছে এবং যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে মৌলিক নীতিমালাও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।  সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সাল থেকে উভয় পক্ষের ধারাবাহিক প্রচেষ্টার ফলেই এই চুক্তি সম্ভব হয়েছে। এটি দুই দেশের মধ্যে গভীর পারস্পরিক আস্থা, সমন্বিত দৃষ্টি ও সহযোগিতার প্রতিফলন। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের কার্যকর কূটনীতির ফলেই এ অর্জন সম্ভব হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।  চুক্তিটি বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা আধুনিকীকরণ প্রক্রিয়াকে আরও বেগবান করবে বলে আশা করা হচ্ছে। জাতিসঙ্ঘ সনদের নীতির সাথে সম্পূর্ণ সঙ্গতি রেখে সম্পাদিত এই চুক্তি আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। উন্নত প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম অধিগ্রহণের পাশাপাশি যৌথ গবেষণা ও উন্নয়নের জন্য একটি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো তৈরি হবে।  এ চুক্তির ফলে দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশ ও জাপানের কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও গভীর হবে, যা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও বৈশ্বিক নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। একইসাথে সামরিক বিশেষজ্ঞ বিনিময় বৃদ্ধি পাবে, যা বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে সহায়ক হবে।  এই চুক্তি শুধু প্রতিরক্ষা সহযোগিতাই নয়, বরং দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
জিনতানে নিজ বাসভবনে সশস্ত্র হামলায় নিহত গাদ্দাফির প্রভাবশালী পুত্র সাইফ আল-ইসলাম

জিনতানে নিজ বাসভবনে সশস্ত্র হামলায় নিহত গাদ্দাফির প্রভাবশালী পুত্র সাইফ আল-ইসলাম

লিবিয়ার সাবেক শাসক মুয়াম্মার গাদ্দাফির সবচেয়ে প্রভাবশালী পুত্র সাইফ আল-ইসলাম গাদ্দাফি সশস্ত্র হামলায় নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (স্থানীয় সময়) লিবিয়ার পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর জিনতানে তার নিজ বাসভবনে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে। তার আইনজীবী খালেদ আল-জাইদি এবং রাজনৈতিক উপদেষ্টা আবদুল্লাহ ওসমান সাইফ আল-ইসলামের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। খবর আল জাজিরার।প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার দুপুরে চারজন মুখোশধারী সশস্ত্র ব্যক্তি সাইফ আল-ইসলামের বাড়িতে প্রবেশ করে। হামলাকারীরা প্রথমে বাড়ির নিরাপত্তা ক্যামেরাগুলো অকেজো করে দেয় এবং পরে সরাসরি তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। ৫৩ বছর বয়সী সাইফ আল-ইসলাম হামলাকারীদের প্রতিরোধের চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত প্রাণে রক্ষা পাননি।লিবিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় জানিয়েছে, ফরেনসিক পরীক্ষায় সাইফ আল-ইসলামের শরীরে একাধিক গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে। ঘটনাটিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে দেশটির বিচার বিভাগ। হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য কারণ ও জড়িতদের শনাক্ত করতে জরুরি ও স্বচ্ছ তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।১৯৭২ সালে জন্ম নেওয়া সাইফ আল-ইসলাম গাদ্দাফি ছিলেন তার বাবার শাসনামলের অন্যতম মুখপাত্র ও রাজনৈতিক উত্তরসূরি হিসেবে পরিচিত। লন্ডনে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করা সাইফ একসময় পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে লিবিয়ার সম্পর্ক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তবে ২০১১ সালে লিবিয়ায় গণঅভ্যুত্থান শুরু হলে তিনি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেন এবং প্রকাশ্যে বাবার পক্ষে দাঁড়ান।গাদ্দাফি সরকারের পতনের পর সাইফ আল-ইসলাম জিনতানে আটক হন এবং দীর্ঘ সময় লোকচক্ষুর আড়ালে ছিলেন। পরবর্তীতে ২০২১ সালে লিবিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়ে তিনি আবারও রাজনৈতিক আলোচনায় ফিরে আসেন, যা দেশটির রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করে।উল্লেখ্য, মুয়াম্মার গাদ্দাফি ১৯৬৯ সাল থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত টানা ৪২ বছর লিবিয়া শাসন করেন। তার শাসনামল একদিকে উন্নয়ন ও আধুনিকায়নের জন্য পরিচিত হলেও অন্যদিকে একনায়কতন্ত্র ও রাজনৈতিক দমন-পীড়নের জন্য ব্যাপকভাবে সমালোচিত। ২০১১ সালে আরব বসন্তের প্রভাবে শুরু হওয়া ন্যাটো সমর্থিত বিদ্রোহের মুখে তিনি ক্ষমতাচ্যুত হন এবং ওই বছরের অক্টোবরে নিজ শহর সিরতে বিদ্রোহীদের হাতে নিহত হন।
০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
১৩ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:০৪ পিএম
আগামী নির্বাচনে আপনি হ্যা ভোট দিবেন নাকি না ভোট দিবেন?

আগামী নির্বাচনে আপনি হ্যা ভোট দিবেন নাকি না ভোট দিবেন?

  হ্যা ভোট
  না ভোট
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ জন
আজ বিশ্ব ক্যান্সার দিবস

আজ বিশ্ব ক্যান্সার দিবস

আজ ৪ ফেব্রুয়ারি, বিশ্ব ক্যান্সার দিবস। বিশ্বব্যাপী ক্যান্সারের বিরুদ্ধে সচেতনতা বৃদ্ধি, প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং চিকিৎসাসেবায় সমতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রতিবছর এই দিনটি নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে পালিত হয়। ২০২৬ সালের বিশ্ব ক্যান্সার দিবসের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে— ‘আসুন ক্যান্সার সেবায় বৈষম্য দূর করি’, যা বৈশ্বিক স্বাস্থ্যসেবায় বিদ্যমান অসমতার দিকটি বিশেষভাবে তুলে ধরে।ক্যান্সার: বৈশ্বিক স্বাস্থ্যঝুঁকিবিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)-এর তথ্যমতে, ২০১৮ সালে বিশ্বজুড়ে প্রায় ৯৬ লাখ মানুষ ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন। উন্নত চিকিৎসা থাকা সত্ত্বেও ক্যান্সার এখনো বিশ্বে মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ। বিশেষ করে উন্নয়নশীল ও স্বল্প আয়ের দেশগুলোতে প্রাথমিক শনাক্তকরণ ও চিকিৎসার অভাবে মৃত্যুহার তুলনামূলকভাবে বেশি।বিশ্ব ক্যান্সার দিবসের সূচনাবিশ্ব ক্যান্সার দিবসের যাত্রা শুরু হয় ২০০০ সালে ফ্রান্সের প্যারিসে, ক্যান্সারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সম্মেলনের মাধ্যমে। সেখানে ক্যান্সার প্রতিরোধ, গবেষণা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরবর্তীতে ২০০৮ সালে ইউনিয়ন ফর ইন্টারন্যাশনাল ক্যান্সার কন্ট্রোল (ইউআইসিসি) প্রথমবারের মতো এই দিনটিকে বিশ্বব্যাপী উদযাপনের উদ্যোগ নেয়।ইউআইসিসি ও বৈশ্বিক উদ্যোগইউআইসিসি (Union for International Cancer Control) বিশ্ব ক্যান্সার দিবস উদযাপনের প্রধান সংগঠক। সংস্থাটির সদর দপ্তর সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় অবস্থিত। বর্তমানে ইউআইসিসি’র কার্যক্রম ১৭০টিরও বেশি দেশে বিস্তৃত এবং প্রায় ২ হাজার সদস্য সংস্থা এর সঙ্গে যুক্ত। ক্যান্সারের প্রাথমিক শনাক্তকরণ, সাশ্রয়ী চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবায় সমতা নিশ্চিত করাই সংস্থাটির মূল লক্ষ্য।কেন ‘বৈষম্য দূর করা’ জরুরিবিশ্ব ক্যান্সার দিবসের এবারের প্রতিপাদ্য আমাদের মনে করিয়ে দেয়— ক্যান্সারের চিকিৎসা যেন কেবল ধনী বা উন্নত দেশের মানুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে। গ্রামাঞ্চল, দরিদ্র জনগোষ্ঠী, নারী ও প্রান্তিক জনগণের জন্য সহজলভ্য ও মানসম্মত ক্যান্সার সেবা নিশ্চিত করাই এই দিবসের মূল বার্তা।কীভাবে উদযাপিত হয় দিবসটিবিশ্ব ক্যান্সার দিবসে বিভিন্ন দেশে আয়োজন করা হয়—সচেতনতামূলক সেমিনার ও আলোচনা সভাবিনামূল্যে স্বাস্থ্য পরীক্ষাক্যান্সার স্ক্রিনিং ক্যাম্পশিক্ষামূলক কর্মশালাসামাজিক ও অনলাইন ক্যাম্পেইনএসব কার্যক্রমের মাধ্যমে ক্যান্সারের ঝুঁকি, উপসর্গ, প্রতিরোধ ও চিকিৎসা সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে জানানো হয়।ক্যান্সার প্রতিরোধে বিজ্ঞানসম্মত করণীয়বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক জীবনযাপন ও খাদ্যাভ্যাসের মাধ্যমে ৩০–৪০ শতাংশ ক্যান্সার প্রতিরোধ সম্ভব।???? কী খাবেনপ্রচুর শাকসবজি ও ফল (বিশেষত ব্রোকলি, বাঁধাকপি, গাজর, টমেটো)লাল ও হলুদ ফল (পেঁপে, আম, কমলা)আঁশযুক্ত খাবার (ওটস, লাল চাল, আটার রুটি)রসুন ও হলুদ (প্রাকৃতিক অ্যান্টি-ক্যান্সার উপাদান)পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ পানিমাছ ও উদ্ভিজ্জ প্রোটিন???? কী বর্জন করবেনধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য (সবচেয়ে বড় ঝুঁকি)অতিরিক্ত লাল মাংস ও প্রক্রিয়াজাত খাবারঅতিরিক্ত তেল ও ভাজাপোড়াচিনি ও সফট ড্রিংকসঅতিরিক্ত অ্যালকোহলজীবনধারায় পরিবর্তনই সবচেয়ে বড় প্রতিরোধনিয়মিত শরীরচর্চা (প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট)ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখাপর্যাপ্ত ঘুমমানসিক চাপ কমানো (ধ্যান, নামাজ, যোগব্যায়াম)নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষানারীদের জন্য স্তন ও জরায়ু ক্যান্সার স্ক্রিনিংপুরুষদের জন্য প্রোস্টেট ও ফুসফুস পরীক্ষাপ্রতীক নয়, প্রতিজ্ঞাবিশ্ব ক্যান্সার দিবস কেবল একটি দিবস নয়— এটি একটি বৈশ্বিক প্রতিজ্ঞা। ক্যান্সার প্রতিরোধ, সময়মতো শনাক্তকরণ এবং চিকিৎসাসেবায় সমতা নিশ্চিত করাই এই দিবসের মূল আহ্বান। ক্যান্সারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সরকার, চিকিৎসক, গবেষক ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগই পারে ভবিষ্যৎকে আরও নিরাপদ করতে।আজ বিশ্ব ক্যান্সার দিবসে আমাদের অঙ্গীকার— সচেতন হবো, প্রতিরোধ করবো এবং বৈষম্যহীন ক্যান্সার সেবার জন্য সোচ্চার থাকবো।
০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
গুণমান ও দামের কাছে পিছিয়ে ‘হালাল’ ব্র্যান্ডিং

গুণমান ও দামের কাছে পিছিয়ে ‘হালাল’ ব্র্যান্ডিং

বাংলাদেশে হালাল পণ্যের সম্ভাবনা বিপুল হলেও বাস্তব বাজারে এর প্রভাব এখনো সীমিত। বহুজাতিক থেকে শুরু করে দেশীয় বড় করপোরেটের বিভিন্ন উদ্যোগ সত্ত্বেও হালাল ব্র্যান্ডিং ভোক্তা আচরণে দৃশ্যমান পরিবর্তন আনতে পারেনি—এমনটাই বলছেন সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা।২০১৭ সালে হিজাব ব্যবহারকারী নারীদের লক্ষ্য করে ইউনিলিভার বাংলাদেশ বাজারে আনে সানসিল্ক হিজাব রিফ্রেশ শ্যাম্পু। দীর্ঘ সময় আবৃত মাথার চুলের বিশেষ যত্নের ধারণা সামনে রেখে পণ্যটি আনা হলেও সংশ্লিষ্টদের মতে, ইউনিলিভারের মোট শ্যাম্পু বিক্রিতে এ পণ্য উল্লেখযোগ্য অবদান রাখতে পারেনি। একইভাবে ‘অ্যারোমেটিক হালাল সাবান’সহ আরও কয়েকটি পণ্যও হালাল পরিচয় থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘমেয়াদে বাজারে টেকেনি।শুধু ‘হালাল’ লেখা যথেষ্ট নয়বিপণন বিশ্লেষকদের মতে, ভোক্তা আনুগত্য তৈরিতে হালাল সনদ এককভাবে কার্যকর নয়। পণ্যের গুণমান, দাম ও ব্যবহারের অভ্যাসই শেষ পর্যন্ত ক্রয় সিদ্ধান্তে বড় ভূমিকা রাখে। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ হওয়ায় ভোক্তাদের বড় অংশের মধ্যেই একটি সাধারণ ধারণা কাজ করে—দেশীয় পণ্য এমনিতেই হালাল।হালাল সনদপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের তালিকা বড় হলেও…ইসলামিক ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, হালাল সনদপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে কাজি অ্যান্ড কাজি টি এস্টেট, নেসলে বাংলাদেশ, ব্র্যাক চিকেন, এসিআই, স্কয়ার ফুড অ্যান্ড বেভারেজ, প্যারাগন, প্রাণ ডেইরি, আকিজ, ইস্পাহানি, বম্বে সুইটস, ইউনিলিভার বাংলাদেশসহ আরও অনেক বড় করপোরেট। তবে এসব প্রতিষ্ঠানের হালাল সনদপ্রাপ্ত পণ্যের বড় অংশই খাদ্যপণ্যকেন্দ্রিক।ইসলামিক ফাউন্ডেশনের হালনাগাদ তালিকায় দেখা যায়—ইউনিলিভার: নর স্যুপনেসলে: নুডলস ও সিরিয়ালকাজি অ্যান্ড কাজি: চাব্র্যাক: ফ্রেশ ও হিমায়িত চিকেনস্কয়ার: চানাচুর, হালিম মিক্সসহ বিভিন্ন খাদ্যপণ্যপ্রাণ ডেইরি: পরোটা, সমুচা, শিঙাড়াভোক্তা আচরণে সীমিত প্রভাবদেশের বড় করপোরেটগুলোর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, খাদ্যপণ্য ছাড়া নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্য, প্রসাধনী কিংবা সেবা খাতে হালাল সনদের প্রভাব এখনো স্পষ্ট নয়। ফলে খাদ্যনির্ভর কোম্পানি ছাড়া অন্যদের মোট টার্নওভারে হালাল সনদপ্রাপ্ত পণ্যের অংশ খুবই কম।প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের বিপণন পরিচালক কামরুজ্জামান কামাল বলেন,“আমাদের ব্যর্থতা হলো হালাল পণ্যের ধারণাকে আমরা ক্যাপিটালাইজ করতে পারিনি। মুসলিম দেশ হওয়ায় ভোক্তারা ধরে নেন সবই হালাল। ফলে আলাদা করে এর প্রয়োজনীয়তা তারা অনুভব করেন না।”রফতানি বাজারেও দুর্বল অবস্থানআন্তর্জাতিকভাবে হালাল পণ্যের বাজার দ্রুত বাড়লেও বাংলাদেশ সেখানে শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পারেনি। বিপণন সংশ্লিষ্টদের মতে, দেশের হালাল সনদপ্রদানকারী কর্তৃপক্ষের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির সীমাবদ্ধতা এবং নীতিগত দুর্বলতার কারণে রফতানি বাজারে প্রবেশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।হালাল সনদের ইতিহাস ও বর্তমান চিত্র২০০৭ সাল থেকে ইসলামিক ফাউন্ডেশন হালাল সনদ প্রদান শুরু করে। সর্বশেষ তথ্যে দেখা যায়—২৫৬টি প্রতিষ্ঠান হালাল সনদপ্রাপ্তপ্রায় ২ হাজার পণ্য সনদের আওতায়৭৬টি কোম্পানি ৪৬টি দেশে ৬০০টির বেশি পণ্য রফতানি করেছেবর্তমানে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পাশাপাশি বিএসটিআইও হালাল সনদ প্রদান করছে।বৈশ্বিক বাজার বিশাল, বাংলাদেশ পিছিয়েপ্রিসিডেন্স রিসার্চের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বৈশ্বিক হালাল খাদ্যপণ্যের বাজার ৩ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে, যা ২০৩৪ সালে বেড়ে ৯ দশমিক ৪৫ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে।দিনারস্ট্যান্ডার্ডের স্টেট অব গ্লোবাল ইসলামিক ইকোনমি রিপোর্ট ২০২৪-২৫ অনুযায়ী—বাংলাদেশে হালাল খাদ্যের সম্ভাব্য বাজার: ১৩৮.৫ বিলিয়ন ডলারহালাল পোশাক: ১৭.৫৭ বিলিয়ন ডলারহালাল প্রসাধনী: ৪.২৪ বিলিয়ন ডলার‘হালাল’ এখনো ব্র্যান্ড ভ্যালু হয়ে ওঠেনিএনবিইআর চেয়ারম্যান ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক সৈয়দ আহসানুল আলম বলেন,“বাংলাদেশে হালাল পণ্যের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হলো পণ্য পার্থক্যকরণ ও ইউনিক সেলিং প্রপোজিশনের অভাব। হালাল সনদ এখনো বিশ্বাসযোগ্য ব্র্যান্ড ভ্যালু তৈরি করতে পারেনি। অনেক ভোক্তা এটাকে কেবল মার্কেটিং কৌশল হিসেবে দেখেন।”সম্ভাবনা থাকলেও চ্যালেঞ্জ বড়বিশেষজ্ঞদের মতে, ভোক্তা সচেতনতা, প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি, আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা এবং কার্যকর বিপণন কৌশল ছাড়া বাংলাদেশে হালাল পণ্যের বাজার শক্ত ভিত্তি পাবে না। নীতিগত সংস্কার ও সমন্বিত প্রচারণা ছাড়া এই খাত তার সম্ভাবনার পুরোটা কাজে লাগাতে পারবে না।
২৫ নভেম্বর ২০২৫
স্বর্ণের দামে নতুন ইতিহাস, ভরি ছাড়াল আড়াই লাখ টাকা

স্বর্ণের দামে নতুন ইতিহাস, ভরি ছাড়াল আড়াই লাখ টাকা

২৫ নভেম্বর ২০২৫
বিদেশ থেকে রুপার বার আনার নিয়ম ও শুল্ক

বিদেশ থেকে রুপার বার আনার নিয়ম ও শুল্ক

সোনার বাজারে অস্থিরতাদেশে সোনার দাম এখন আকাশছোঁয়া। প্রতি ভরির দাম আড়াই লাখ টাকার কাছাকাছি পৌঁছেছে। ফলে সাধারণ মানুষের জন্য সোনার গয়না কেনা কঠিন হয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে অনেকেই বিদেশ থেকে ফেরার সময় আত্মীয়স্বজনের জন্য সোনা বা রুপার গয়না নিয়ে আসেন।নতুন ব্যাগেজ বিধিমালা ২০২৫জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) চলতি অর্থবছরে অপর্যটক যাত্রী ব্যাগেজ বিধিমালা ২০২৫ জারি করেছে। এতে বিদেশফেরত যাত্রীদের জন্য সোনা ও রুপা আনার ক্ষেত্রে নতুন সীমা ও শুল্ক নির্ধারণ করা হয়েছে।শুল্কমুক্ত সীমা সোনার অলংকার: সর্বোচ্চ ১০০ গ্রাম (প্রায় ৮ ভরি ১০ আনা), বছরে একবার রুপার অলংকার: সর্বোচ্চ ২০০ গ্রাম, বছরে একবার শুল্ক দিয়ে আনার সুযোগ সোনার বার: সর্বোচ্চ ১০ তোলা (১১৭ গ্রাম), শুল্ক প্রতি তোলায় ৫,০০০ টাকা রুপার বার: সর্বোচ্চ ২০ তোলা (২৩৪ গ্রাম), শুল্ক প্রতি তোলায় ৬ টাকা প্রক্রিয়া বিমানবন্দরে নামার পর যাত্রীদের ব্যাগেজ ঘোষণা ফরম পূরণ করতে হয়। শুল্ক দিতে হবে এমন পণ্যের বিস্তারিত উল্লেখ করতে হয়। শুল্কমুক্ত সীমার মধ্যে থাকলে ফরম পূরণের প্রয়োজন নেই; সরাসরি গ্রিন চ্যানেল দিয়ে বের হওয়া যায়। তুলনামূলক টেবিল ধরণ শুল্ক ছাড়া সীমা শুল্ক দিয়ে সীমা শুল্ক হার শর্তাবলী সোনার গয়না ১০০ গ্রাম প্রযোজ্য নয় শুল্কমুক্ত বছরে একবার রুপার গয়না ২০০ গ্রাম প্রযোজ্য নয় শুল্কমুক্ত বছরে একবার সোনার বার প্রযোজ্য নয় ১০ তোলা (১১৭ গ্রাম) প্রতি তোলা ৫,০০০ টাকা বছরে একবার রুপার বার প্রযোজ্য নয় ২০ তোলা (২৩৪ গ্রাম) প্রতি তোলা ৬ টাকা বছরে একবার উপসংহারবিদেশ থেকে ফেরার সময় সোনা ও রুপা আনার ক্ষেত্রে নতুন ব্যাগেজ বিধিমালা স্পষ্ট নিয়ম দিয়েছে। রুপার বার আনার ক্ষেত্রে প্রতি তোলায় ৬ টাকা শুল্ক সত্যিই কার্যকর আছে। তবে শর্ত হলো, বছরে একবারই এই সুবিধা নেওয়া যাবে। ফলে বিদেশফেরত যাত্রীদের এখন নিয়ম মেনে সোনা ও রুপা আনার সুযোগ রয়েছে, যা একদিকে রাজস্ব আদায় নিশ্চিত করছে, অন্যদিকে যাত্রীদের জন্য স্বচ্ছতা তৈরি করছে।
০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
মহেড়া জমিদার বাড়ি: ইতিহাস, সৌন্দর্য আর স্মৃতির এক জীবন্ত দলিল

মহেড়া জমিদার বাড়ি: ইতিহাস, সৌন্দর্য আর স্মৃতির এক জীবন্ত দলিল

বাংলাদেশের স্থাপত্য ঐতিহ্যের ভাণ্ডারে মহেড়া জমিদার বাড়ি এক অনন্য নাম। টাঙ্গাইল জেলার মির্জাপুর উপজেলায় অবস্থিত এই জমিদার বাড়িটি শুধু ইট-পাথরের একটি স্থাপনা নয়, বরং শতবর্ষের ইতিহাস, জনকল্যাণ, নির্মম স্মৃতি ও অপরূপ প্রকৃতির এক সম্মিলিত সাক্ষ্য। সময়ের প্রবাহে বহু পরিবর্তনের মধ্য দিয়েও মহেড়া জমিদার বাড়ি আজও দাঁড়িয়ে আছে ইতিহাসের নীরব ভাষ্যকার হয়ে।ইতিহাসের শিকড়উনিশ শতকের শেষভাগে, ১৮৯০ দশকের আগেই মহেড়া জমিদার বাড়ির পত্তন ঘটে। কলকাতার ব্যবসায়ী কালীচরণ সাহা ও আনন্দ সাহা—এই দুই ভাই লবণ ও ডালের ব্যবসা করে বিপুল সম্পদের মালিক হন। ব্যবসায়িক সাফল্যের পর তারা টাঙ্গাইলের মহেড়া গ্রামে এসে প্রায় ১ হাজার ১৭৪ শতাংশ জমির ওপর এই সুবিশাল জমিদার বাড়ি নির্মাণ করেন।পরবর্তীতে ব্রিটিশ সরকার জমিদারি প্রথা চালু করলে সাহা পরিবারের উত্তরসূরিরা করটিয়ার ২৪ পরগনার জমিদারদের কাছ থেকে জমিদারির একটি অংশ ক্রয় করেন। তখন থেকেই মহেড়ায় আনুষ্ঠানিকভাবে জমিদারি শাসনের সূচনা হয়। কালীচরণ সাহা ও আনন্দ মোহন সাহার উত্তরাধিকারী রাজেন্দ্র রায় চৌধুরী পর্যায়ক্রমে জমিদারি পরিচালনা করেন।এই জমিদার পরিবার শুধু বিত্তশালীই ছিলেন না, ছিলেন প্রজাবৎসল ও জনহিতৈষী। বিদ্যালয়, মন্দির, রাস্তা, পানীয় জলের ব্যবস্থা, কূপ খনন—এলাকার সামগ্রিক উন্নয়নে তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।স্থাপত্য ও নকশামহেড়া জমিদার বাড়ির স্থাপত্যে ইউরোপীয় প্রভাব স্পষ্ট। ধারণা করা হয়, স্পেনের করডোভা নগরীর আদলে ভবনগুলো নির্মিত হয়েছিল। পুরো জমিদার বাড়ি প্রায় আট একর জায়গাজুড়ে বিস্তৃত।প্রবেশপথের সামনেই চোখে পড়ে বিশাল দীঘি ‘বিশাখা সাগর’। এর পাশেই দুটি সুরম্য গেট দিয়ে মূল চত্বরে প্রবেশ করতে হয়। ভেতরে রয়েছে তিনটি প্রধান ভবন ও একাধিক সহায়ক স্থাপনা—নায়েব ভবন, কাছারি ঘর, গোমস্তাদের ঘর, লজ ও মন্দির।চার প্রধান ভবনচৌধুরী লজপ্রবেশ করলেই দেখা যায় গোলাপি রঙের চৌধুরী লজ। রোমান স্থাপত্যরীতিতে নির্মিত এই দোতলা ভবনের পিলার ও ঢেউ খেলানো ছাদ আলাদা মাত্রা যোগ করেছে। সামনে বিস্তৃত বাগান ও সবুজ মাঠ ভবনটিকে আরও আকর্ষণীয় করেছে।মহারাজ লজবাইজেনটাইন ঘরানার এই ভবনের সামনে ছয়টি সুউচ্চ কলাম। বাঁকানো রেলিং ও ঝুলন্ত বারান্দা এর সৌন্দর্য বাড়িয়েছে। ১২ কক্ষবিশিষ্ট এই ভবনের পেছনে রয়েছে একটি টেনিস কোর্ট। বর্তমানে এটি নাটক ও চলচ্চিত্রের শুটিং স্পট হিসেবে ব্যবহৃত হয়।আনন্দ লজনীল-সাদা রঙের সংমিশ্রণে নির্মিত তিনতলা আনন্দ লজকে অনেকেই মহেড়া জমিদার বাড়ির সবচেয়ে আকর্ষণীয় ভবন বলেন। সামনে আটটি কলাম ও ঝুলন্ত বারান্দা রয়েছে। ভবনের সামনে হরিণ, বাঘ ও নানা পশু-পাখির ভাস্কর্যসহ একটি মনোরম বাগান রয়েছে।কালীচরণ লজ (রাণী ভবন)ইংরেজি ‘U’ আকৃতির এই ভবনটি ইংরেজ স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত। বিকেলের আলোয় ভেতর থেকে আলো-ছায়ার খেলায় ভবনটি অন্যরকম রূপ নেয়।প্রকৃতি ও পরিবেশজমিদার বাড়ির চারপাশ যেন এক জীবন্ত উদ্যান। বিশাখা সাগরের দক্ষিণ পাশে রয়েছে বিশাল আম্র কানন—ফজলি, ল্যাংড়া, গোপালভোগসহ নানা জাতের আমগাছ। বর্তমান পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারের প্রায় ৪৪ একর জমিজুড়ে ছড়িয়ে আছে আম, কাঁঠাল, নারিকেল, ছবেদা, জলপাইসহ নানা ফল ও ঔষধি গাছ।পাসরা পুকুর ও রানী পুকুর জমিদারদের ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য ছিল। ফুলে-ফলে, পাখির কলকাকলিতে মুখর এই পরিবেশ দর্শনার্থীদের এক ধরনের প্রশান্তি দেয়। শীতকালে এখানে প্রজাপতির মেলা বসে, যা ফটোগ্রাফারদের কাছে বিশেষ আকর্ষণ।মুক্তিযুদ্ধের রক্তাক্ত স্মৃতিএই সৌন্দর্যের আড়ালে লুকিয়ে আছে এক কলঙ্কিত অধ্যায়। ১৯৭১ সালের ১৪ মে পাকিস্তানি বাহিনী মহেড়া জমিদার বাড়িতে হামলা চালায়। চৌধুরী লজের মন্দিরের পেছনে জমিদার পরিবারের কুলবধূ যোগমায়া রায় চৌধুরীসহ পাঁচজন গ্রামবাসীকে গুলি করে হত্যা করা হয়। নিহতদের মধ্যে ছিলেন শিক্ষক বিমল কুমার সরকারসহ স্থানীয় কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তি।এই হত্যাযজ্ঞের পর জমিদার পরিবার শত বছরের স্মৃতি ও বিপুল সম্পদ ফেলে লৌহজং নদীপথে দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়। পরে মুক্তিযোদ্ধা বায়েজীদ সাহেবের নেতৃত্বে এখানে মুক্তিবাহিনীর ক্যাম্প স্থাপিত হয়।নতুন অধ্যায়: পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারস্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে পরিত্যক্ত জমিদার বাড়িটিকে পুলিশ ট্রেনিং স্কুল হিসেবে ব্যবহারের উদ্যোগ নেয় সরকার। তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মান্নানের নেতৃত্বে এই কার্যক্রম শুরু হয়। ১৯৯০ সালে এটি পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারে উন্নীত হয়। নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও নতুন স্থাপনা যুক্ত হওয়ায় ঐতিহ্যবাহী ভবনগুলোর সৌন্দর্য অক্ষুণ্ন থেকেছে, বরং আরও বিস্তৃত হয়েছে।ভ্রমণ গাইডঢাকা থেকে টাঙ্গাইলগামী বাসে নাটিয়াপাড়া বাসস্ট্যান্ডে নেমে সিএনজি বা বেবিট্যাক্সিতে মাত্র ৩–৪ কিলোমিটার পথ। মহাসড়কে পুলিশ ট্রেনিং সেন্টার, মহেড়া লেখা বড় সাইনবোর্ড রয়েছে।প্রবেশমূল্য মাত্র ২০ টাকা। পিকনিক ও শুটিংয়ের জন্য স্থান ভাড়া আলোচনা সাপেক্ষে। ক্যান্টিন সুবিধা আছে, আগাম অর্ডারে খাবারও পাওয়া যায়। রাতে থাকার জন্য এসি ও নন-এসি ডাকবাংলো রয়েছে। সকাল ও বিকেলে পুলিশ সদস্যদের প্রশিক্ষণ কসরত দেখাও এক ভিন্ন অভিজ্ঞতা।উপসংহারমহেড়া জমিদার বাড়ি কেবল একটি পর্যটন কেন্দ্র নয়—এটি ইতিহাস, সংস্কৃতি, প্রকৃতি ও আত্মত্যাগের এক জীবন্ত স্মারক। একদিকে অপরূপ সৌন্দর্য, অন্যদিকে মুক্তিযুদ্ধের বেদনাবিধুর স্মৃতি—সব মিলিয়ে মহেড়া জমিদার বাড়ি বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অনিবার্য নাম।
২৫ নভেম্বর ২০২৫
অ্যামাজন–আলিবাবায় সরাসরি পণ্য বিক্রি করতে পারবেন বাংলাদেশের উদ্যোক্তারা

অ্যামাজন–আলিবাবায় সরাসরি পণ্য বিক্রি করতে পারবেন বাংলাদেশের উদ্যোক্তারা

বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের জন্য বৈশ্বিক ই–কমার্স বাজারে বড় সুযোগ উন্মুক্ত হলো। অনলাইনভিত্তিক রপ্তানি বাড়াতে বিজনেস-টু-বিজনেস-টু-কনজিউমার (বি২বি২সি) মডেলের মাধ্যমে পণ্য রপ্তানির অনুমতি দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর ফলে উদ্যোক্তারা এখন অ্যামাজন, আলিবাবা, ফ্লিপকার্টসহ আন্তর্জাতিকভাবে সুপরিচিত ই–কমার্স প্ল্যাটফর্মে সরাসরি পণ্য বিক্রি করতে পারবেন।আজ সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগ এ–সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে।কী বলা হয়েছে নতুন প্রজ্ঞাপনে?নতুন নিয়ম অনুযায়ী— দেশের যেকোনো রপ্তানিকারক এখন সুপরিচিত অনলাইন প্ল্যাটফর্ম, আন্তর্জাতিক মার্কেটপ্লেস, সাবসিডিয়ারি বা তৃতীয় পক্ষের ওয়্যারহাউসের মাধ্যমে পণ্য পাঠাতে পারবেন। বিদেশি কনসাইনি চূড়ান্ত ক্রেতা না হয়ে মধ্যস্থতাকারী হিসেবেও কাজ করতে পারবে। অনলাইন প্ল্যাটফর্ম বা আন্তর্জাতিক ওয়্যারহাউসে রেজিস্ট্রেশনের প্রমাণপত্র এডি ব্যাংকে জমা দিতে হবে। বি২বি২সি মডেলে স্বাভাবিক বিক্রয়চুক্তি না থাকায় প্রফর্মা ইনভয়েসের ভিত্তিতে ন্যায্যমূল্য ঘোষণা করা যাবে। ওয়্যারহাউজিং বা অন্যান্য সেবা প্রদানকারী কনসাইনির নামে শিপিং ডকুমেন্ট গ্রহণ করতে পারবে এডি ব্যাংক। রপ্তানি আয়ের ক্ষেত্রে নতুন সুবিধাবাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে— রপ্তানি আয় স্বাভাবিক ব্যাংকিং চ্যানেলের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পেমেন্ট সার্ভিস অপারেটর (যেমন PayPal, Payoneer ইত্যাদি) মাধ্যমে পাওয়া যাবে। অনলাইনভিত্তিক রপ্তানিতে একাধিক চালানের অর্থ একত্রে আসতে পারে। এ ক্ষেত্রে এডি ব্যাংক ফার্স্ট-ইন, ফার্স্ট-আউট (FIFO) নীতিতে রপ্তানি আয় সমন্বয় করবে। কীভাবে উপকৃত হবেন বাংলাদেশের উদ্যোক্তারা?নতুন প্রজ্ঞাপনের ফলে— আন্তর্জাতিক বাজারে সরাসরি বিক্রির সুযোগ তৈরি হলো। ব্র্যান্ডিং, মূল্য নির্ধারণ, প্রোডাক্ট ক্যাটালগ—এসব উদ্যোক্তারা নিজেরাই নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন। তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে রপ্তানির প্রয়োজন কমবে, লাভ বাড়বে। অ্যামাজন–আলিবাবা–ফ্লিপকার্টে নিজস্ব স্টোর খুলে রপ্তানির পথ সহজ হবে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের (এসএমই) জন্য বৈশ্বিক বাজারে প্রবেশের সুযোগ সৃষ্টি হবে। বিশেষজ্ঞদের মতামতখাত–সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের এ সিদ্ধান্তে— আন্তসীমান্ত ই–কমার্স আরও সহজ হবে, বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের উপস্থিতি বাড়বে, রপ্তানি বৈচিত্র্যকরণে বড় ভূমিকা রাখবে, আন্তর্জাতিক ডিজিটাল খুচরা বিক্রিতে বাংলাদেশি পণ্যের অংশগ্রহণ বাড়বে। তাদের মতে, সঠিক প্রস্তুতি, মানসম্মত পণ্য, আধুনিক লজিস্টিকস এবং সময়মতো ডেলিভারি নিশ্চিত করা গেলে বাংলাদেশ দ্রুতই অনলাইন রপ্তানির বড় খেলোয়াড় হতে পারে সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের এই নীতিগত সমর্থন বাংলাদেশের উদ্যোক্তা, বিশেষ করে এসএমই খাতের জন্য বড় সুযোগ তৈরি করেছে। সরাসরি আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে প্রবেশের মাধ্যমে দেশের ডিজিটাল রপ্তানি খাতে নতুন যুগের সূচনা হতে যাচ্ছে।
অর্থনীতি প্রতিবেদক