ঢাকা    মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
ঢাকা    মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
গণবার্তা
সর্বশেষ

এক ইউনিয়ন নিজের বংশীয় নামে আর দুই ছেলের নামে দুই ইউনিয়ন, সংসদে কাকতালীয় দাবি প্রতিমন্ত্রীর

 প্রশাসনিক পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে বগুড়ার শিবগঞ্জ ও নবগঠিত মোকামতলা উপজেলায় চারটি নতুন ইউনিয়ন গঠন করে গেজেট প্রকাশ করেছে সরকার। তবে নতুন ইউনিয়নগুলোর সীমানা বা জনসংখ্যার চেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে তাদের নাম। কারণ, স্থানীয়দের দাবি অনুযায়ী নতুন চারটি ইউনিয়নের মধ্যে একটি ইউনিয়নের নাম মিলে গেছে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের বংশীয় পরিচয়ের সঙ্গে, আর বাকি দুটি ইউনিয়নের নাম মিলে গেছে তার দুই ছেলের নামের সঙ্গে।এ বিষয়টি নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনার পর সোমবার (১৫ জুন) সংসদে ব্যাখ্যা দিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী নিজেই। জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদ এ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন সংসদে।সংসদে শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, “স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রীর এলাকার দুটি উপজেলায় কয়েকটি ইউনিয়ন হয়েছে। সেখানে ওনার পরিবার বা মীর বংশের নামে একটা ইউনিয়নের নাম করা হয়েছে। ওনার দুই সন্তানের নামে দিগন্ত ও সীমান্ত—এই দুই নামে দুইটা ইউনিয়নের নাম করা হয়েছে।”পরে সংসদে ২৭৪ বিধিতে ব্যক্তিগত কৈফিয়ত দেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি ব্যাখ্যা করেন, তার এলাকার সৈয়দপুর ও দেউলী ইউনিয়ন ভেঙে নতুন দুই ইউনিয়ন গঠন করা হয়েছে।প্রতিমন্ত্রী বলেন, “আমার নির্বাচনী এলাকা মোকামতলার দূরবর্তী দুইটি ইউনিয়ন সৈয়দপুর ও দেউলী। এই দুইটি ইউনিয়ন অনেক বড় ছিল। স্থানীয় প্রশাসন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং জেলা প্রশাসক যাচাই-বাছাই করে গণশুনানি করে সৈয়দপুর ইউনিয়নটি যেহেতু গাবতলী ও সোনাতলা সীমান্তে, সেই কারণে সীমান্তবর্তী হওয়ায় নতুন ইউনিয়নের নাম করেছে সীমান্ত ইউনিয়ন।”তিনি আরও বলেন, “আরেকটি ইউনিয়নের নাম ছিল দেউলী ইউনিয়ন। যেটি গাইবান্ধার একদম কাছে, অনেক দূরে হওয়ায় স্থানীয় প্রশাসন এবং জনগণের শুনানিতে সেই ইউনিয়নের নাম রাখা হয়েছে দিগন্ত ইউনিয়ন।”এ সময় তিনি দেশের বিভিন্ন জায়গায় ‘সীমান্ত’ ও ‘দিগন্ত’ নামে যে সব স্থান রয়েছে, সেগুলোর উদাহরণ টানেন। পরে জামায়াত এমপির উদ্দেশে মীর শাহে আলম বলেন, “এরকম সীমান্ত ও দিগন্ত নামকরণ বহু নাম বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় রয়েছে। উনি কেন এর সাথে আমার সন্তানদের নাম জড়ালেন?”স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, “মিরাক্যালি (অলৌকিকভাবে) আমার সন্তানদের নামের সাথে মিলে গেছে ঠিকই। আমার সন্তানের নাম হচ্ছে মীর সীমান্ত ও মীর দিগন্ত। আমার যদি ইনটেনশন থাকতো সন্তানের নামে ইউনিয়নের নামকরণ করার, তাহলে তো আমি প্রশাসনকে বলতাম ‘মীর সীমান্ত’ ও ‘মীর দিগন্ত’ রাখার। কিন্তু ইউনিয়নের নামের আগে তো ‘মীর’ নাই, মাননীয় স্পিকার।”সরকারি গেজেট অনুযায়ী, শিবগঞ্জ উপজেলায় নতুন করে গঠন করা হয়েছে মীরবাড়ি ইউনিয়ন। অন্যদিকে নতুন ঘোষণা করা মোকামতলা উপজেলায় গঠন করা হয়েছে সীমান্ত ও দিগন্ত নামে দুটি নতুন ইউনিয়ন। এছাড়া মোকামতলা উপজেলায় ময়দানহাট্টা ইউনিয়ন ভেঙে গঠিত হয়েছে স্বর্ণগ্রাম ইউনিয়ন।নতুন ইউনিয়নগুলোর আয়তন ও জনসংখ্যা নিচে উল্লেখ করা হলো:মীরবাড়ি ইউনিয়ন (শিবগঞ্জ): ১৫টি মৌজা, জনসংখ্যা ১৮ হাজার ৯২৪সীমান্ত ইউনিয়ন (মোকামতলা): সৈয়দপুর ইউনিয়নের ১১টি মৌজা, জনসংখ্যা ১৬ হাজার ২৬৭দিগন্ত ইউনিয়ন (মোকামতলা): দেউলী ইউনিয়নের ৮টি মৌজা, জনসংখ্যা ১৭ হাজার ৭৫৯স্বর্ণগ্রাম ইউনিয়ন (মোকামতলা): ময়দানহাট্টা ইউনিয়ন ভেঙে গঠিতস্থানীয়দের ভাষ্য, মীর শাহে আলমের পারিবারিক পরিচিতি ‘মীরবাড়ি’ নামে বহুল প্রচলিত। এখন সেটি প্রশাসনিক মানচিত্রে স্থায়ী রূপ পেল। শিবগঞ্জের কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, মীরবাড়ি নামটি এলাকার মানুষের কাছে একটি রাজনৈতিক পরিবারের পরিচিতি হিসেবে বেশি পরিচিত। সেটি এখন প্রশাসনিক মানচিত্রে স্থায়ী রূপ পেল।অন্যদিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে মোকামতলার বাসিন্দাদের কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, সীমান্ত ও দিগন্ত নামে এলাকায় আগে কোনো ইউনিয়ন, বড় জনপদ বা ঐতিহাসিক পরিচিতি ছিল না। তাহলে এই নাম দুটি কীভাবে এলো?প্রশাসন ও প্রতিমন্ত্রীর কার্যালয়ের ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রীর রাজনৈতিক প্রেস সেক্রেটারি আতিক রহমান জানান, স্থানীয়দের মতামত নিয়েই এই নামকরণ করা হয়েছে। সৈয়দপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মোত্তালেব এবং দেউলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম স্থানীয়দের সঙ্গে আলোচনা করেই নাম প্রস্তাব করেন।সৈয়দপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য শাহিন জানান, ইউনিয়নগুলোর নাম সাধারণ মানুষের মতামতের ভিত্তিতেই নেওয়া হয়েছে। সীমান্ত এলাকার কারণে ‘সীমান্ত’ এবং অনেক দূরের এলাকা হওয়ায় ‘দিগন্ত’ নাম প্রস্তাব করা হয়েছিল।প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের দুই ছেলের মধ্যে বড় ছেলে মীর শাকরুল আলম সীমান্ত লন্ডন থেকে এমবিএ পাস করার পর এক বছর আগে দেশে ফিরে বাবার সঙ্গে রাজনীতিতে যুক্ত হন এবং বাবার ব্যবসা দেখাশোনা করেন। আর ছোট ছেলে মীর শাকরুল আলম দিগন্ত লন্ডনে ব্যারিস্টারি পড়ছেন।প্রতিমন্ত্রীর বেতগাড়ীতে অবস্থিত গ্রামের বাড়ির নাম ‘মীর বাড়ি’। সেই নামানুসারেই মীরবাড়ি ইউনিয়নের নামকরণ করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন তার ঘনিষ্ঠজনরা।বগুড়ার জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান নতুন ইউনিয়ন গঠনের বিষয়টি নিশ্চিত করলেও নামকরণের পেছনের কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হননি। স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক রাজিয়া সুলতানাকেও বারবার ফোন করেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।শিবগঞ্জ ও মোকামতলা উপজেলায় এছাড়া পৌরসভার সীমানা সম্প্রসারণ ও নতুন পৌরসভা গঠনের প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে। মোকামতলায় পৌরসভার অনুমোদন মিললে উপজেলাটি আটটি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে পরিচালিত হবে।নামকরণের এই ‘অলৌকিক’ মিল নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা অব্যাহত থাকলেও প্রতিমন্ত্রী নিজের অবস্থানে অনড়। তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন—সত্যিই কি এটি কাকতালীয়, নাকি প্রভাব? সংসদের বাইরেও বিষয়টি এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমানভাবে আলোচিত।
১৬ ঘন্টা আগে

বেনজীরের সেসব অপকর্ম সবার আলোচনায়

ইন্টারপোলের রেড নোটিশের ভিত্তিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে গ্রেপ্তার হয়েছেন সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ। দুবাই পুলিশ ইন্টারপোলের সহযোগিতায় তাকে গ্রেপ্তার করে। রোববার (১৪ জুন) এ তথ্য নিশ্চিত করেন পুলিশ সদর দপ্তরের মুখপাত্র ও অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (এআইজি) শাহাদাত হোসেন।গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় ‘বেনজীরনামা’। ফেসবুক ওয়ালে ভাসতে থাকে সাবেক এই পুলিশ কর্তার দুর্নীতি, ক্রসফায়ার ও গুমের লোমহর্ষক কাহিনি। এর মধ্যে পরবর্তী করণীয় জানাতে গণমাধ্যমের সামনে আসে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।২০২৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তারের জন্য ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারির আদেশ দেন আদালত। ঢাকা মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক মো. জাকির হোসেন এ আদেশ দেন।পুলিশ সদর দপ্তর সূত্র জানায়, ইন্টারপোল জারিকৃত রেড নোটিশের ভিত্তিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে গ্রেপ্তারের অনুরোধ করা হয়। গত ১২ জুন সংযুক্ত আরব আমিরাতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ডিরেক্টরিয়েট জেনারেল অফ ফেডারেল ক্রিমিনাল পুলিশ (এনসিবি আবুধাবি) থেকে প্রেরিত ইমেইলের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারকে গ্রেপ্তারের তথ্য জানানো হয়।সরকারের এক সূত্র জানিয়েছে, এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে বেনজীরকে দেশে ফিরিয়ে আনা। আমিরাত কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারের ৩০ দিনের মধ্যে বাংলাদেশকে কূটনৈতিক মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক এক্সট্রাডিশন (প্রত্যর্পণ) আবেদন পাঠাতে হবে। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় মামলা, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা, তদন্ত প্রতিবেদন ও আইনি নথিপত্র প্রস্তুতের কাজ চলছে।দুদকের উপপরিচালক (জনসংযোগ) আকতারুল ইসলাম জানান, বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে বর্তমানে দুদকের ছয়টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এর মধ্যে ১৪ কোটি ৬২ লাখ টাকার জ্ঞাতায়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের মামলায় ইতোমধ্যে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে এবং সেই মামলার বিচার চলছে। বাকি পাঁচটি মামলার তদন্ত চলমান। এসব মামলায় তার বিরুদ্ধে প্রায় ৭৬ কোটি টাকার জ্ঞাতায়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে।২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর পৃথক চারটি মামলা করে দুদক। ৭৪ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপন করার অভিযোগে বেনজীর আহমেদ এবং তার স্ত্রী ও দুই মেয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়। পরবর্তীতে পাসপোর্ট জালিয়াতি ও আরেকটি মামলা করে দুদক।২০২৪ সালের এপ্রিলে বেনজীর ও তার পরিবারের সদস্যদের সম্পদের অনুসন্ধানে আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দেওয়া হয়। অনুসন্ধান শুরুর কিছুদিনের মধ্যেই পরিবার নিয়ে দেশ ছাড়েন তিনি।আদালতের আদেশে তার ও পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা শত শত বিঘা জমি, ফ্ল্যাট, ব্যাংক হিসাব, শেয়ার এবং অন্যান্য সম্পদ ক্রোক ও অবরুদ্ধ করা হয়েছে।৩০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র, ৩৩টি ব্যাংক হিসাব এবং ৩টি বিও হিসাব (শেয়ার ব্যবসার বেনিফিশিয়ারি ওনার্স অ্যাকাউন্ট) অবরুদ্ধের আদেশ।২০২৪ সালের ১২ জুন: বেনজীর আহমেদ, তার স্ত্রী ও সন্তানদের নামে থাকা ৮টি ফ্ল্যাট (ঢাকার বাড্ডা ও আদাবরে) এবং ২৫ একর ২৭ কাঠা জমি (নারায়ণগঞ্জ, বান্দরবান ও উত্তরায়) জব্দের আদেশ।দুই দফায়: গোপালগঞ্জ ও মাদারীপুরে ৬২১ বিঘা জমি, ১৯টি কোম্পানির শেয়ার, গুলশানে ৪টি ফ্ল্যাট ক্রোকের আদেশ।৩০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র, ৩৩টি ব্যাংক হিসাব এবং ৩টি বিও হিসাব (শেয়ার ব্যবসার বেনিফিশিয়ারি ওনার্স অ্যাকাউন্ট) অবরুদ্ধের আদেশ।বেনজীর আহমেদ র‌্যাবের মহাপরিচালক থাকাকালে বিচারবহির্ভূত হত্যা, গুম ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে দেশ-বিদেশে ব্যাপক সমালোচনা হয়। ২০২১ সালে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার তালিকায় তার নাম অন্তর্ভুক্ত হয়।দুদকের অনুসন্ধান শুরুর দুই সপ্তাহের মাথায় ২০২৪ সালের ৪ মে দেশ ছাড়েন বেনজীর আহমেদ। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, কয়েকজন পুলিশ সদস্যের সহায়তায় তিনি বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন।ফুটেজে দেখা যায়, শেষ নিরাপত্তা তল্লাশি চৌকিতে দায়িত্বরত আনসার সদস্যের শারীরিক তল্লাশি ছাড়াই তিনি চেকপয়েন্ট অতিক্রম করেন। অথচ সাধারণ যাত্রীদের ক্ষেত্রে এই তল্লাশি বাধ্যতামূলক। দেশ ছাড়ার আগে বিমানবন্দরে উপস্থিত কয়েকজন পুলিশ সদস্যের দিকে হাত নেড়ে বিদায় জানাতেও দেখা যায় তাকে।ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান যুগান্তরকে বলেন, “বেনজীর আহমেদের গ্রেফতারের মধ্য দিয়ে বেনজীরের ‘দম্ভ চূর্ণ হয়েছে’—এখনই বলা যাচ্ছে না। শেষ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। এটি একটি প্রাথমিক পদক্ষেপ মাত্র। গ্রেফতারই চূড়ান্ত কিছু নয়। তাকে দেশে ফিরিয়ে এনে আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জবাবদিহি আওতায় আনা গেলে তবেই বলা যাবে যে একটি পূর্ণাঙ্গ দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছে।”তিনি আরও বলেন, “তার গ্রেফতারের মধ্য দিয়ে যে বার্তার কথা বলা হচ্ছে, সেটি এখনো পুরোপুরি প্রতিষ্ঠিত হয়নি। বার্তাটি তখনই প্রতিষ্ঠিত হবে, যখন প্রভাব-প্রতিপত্তি, রাজনৈতিক সংযোগ কিংবা ক্ষমতার অবস্থান নির্বিশেষে একজন অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আইনের মুখোমুখি করা সম্ভব হবে এবং বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।”সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, এই গ্রেফতার প্রমাণ করেছে অপরাধী যত শক্তিশালীই হোক, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়। দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শীর্ষ পদে থাকা একজন সাবেক কর্মকর্তার বিদেশে গ্রেফতার এবং তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ এখন দেশের বিচার ও জবাবদিহির ইতিহাসে সবচেয়ে আলোচিত ঘটনাগুলোর একটিতে পরিণত হয়েছে।সংশ্লিষ্টরা জানান, গ্রেফতার হওয়া যতটা গুরুত্বপূর্ণ, তার চেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ এখন আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনা। কারণ প্রত্যর্পণের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক আইন, দ্বিপক্ষীয় সমন্বয় এবং আদালতসংশ্লিষ্ট নানা ধাপ রয়েছে। তবে সরকার এটিকে একটি বড় সাফল্য হিসাবে দেখছে।
১৯ ঘন্টা আগে

ভারতীয় ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনারকে তলব

প্রধানমন্ত্রীর পলিসি ও স্ট্র্যাটেজি বিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমানকে ভারতের দিল্লিতে প্রবেশে বাধা দেওয়ার ঘটনায় দেশটির ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার পাওয়ান কুমার বঢ়েকে তলব করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্র বলছে, ভারতীয় ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনারকে ডেকে নিয়ে বাংলাদেশ গভীর উদ্বেগ ও প্রতিবাদ জানাতে পারে। এই ঘটনাকে দ্বিপক্ষীয় কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে ‘অভূতপূর্ব’ ও ‘অত্যন্ত দুঃখজনক’ বলে মনে করছে ঢাকা।দিল্লিতে সোমবার শুরু হওয়া ইন্ডিয়ান ওশান রিম অ্যাসোসিয়েশনের (আইওআরএ) জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের দুই দিনের বৈঠকে অংশ নিতে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান রোববার সন্ধ্যায় ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। ওই বৈঠকে তার বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেওয়ার কথা ছিল।কূটনৈতিক চিঠি দিয়ে আগে জানানোর পরও রোববার সন্ধ্যায় ভারতের ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমানকে দিল্লিতে ঢুকতে বাধা দেয়। তাকে প্রায় দেড় ঘণ্টা বিমানবন্দরে আটকে রাখা হয়। পরে উচ্চ মহলের নির্দেশে অনুমতি দেওয়া হলেও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা দিল্লিতে না গিয়ে কলম্বো হয়ে ঢাকায় ফেরার সিদ্ধান্ত নেন।তিনি সোমবার দুপুরে ঢাকায় ফিরেছেন। বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধিত্ব করতে পারেননি তিনি। ঘটনার পর থেকেই কূটনৈতিক মহলে তীব্র অস্বস্তি তৈরি হয়েছে।এর আগে দিল্লির বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশনে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমানকে আটকে দেওয়ার ঘটনাকে ‘অনাকাঙ্ক্ষিত ও দুঃখজনক’ হিসাবে বর্ণনা করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান।তিনি বলেন, “এটি কূটনৈতিক শিষ্টাচারের পরিপন্থী। আগাম অবহিত করার পরও এ ধরনের ঘটনা ঘটানো মেনে নেওয়ার মতো নয়। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।”বিশ্লেষকরা বলছেন, একজন দেশের সরকারের সক্রিয় উপদেষ্টাকে বিমানবন্দরে এভাবে আটকানো কোনো প্রতিবেশী ও বন্ধুপ্রতীম দেশের আচরণ হতে পারে না। এর মাধ্যমে ভারত বাংলাদেশের প্রতি শ্রদ্ধাশীল আচরণ করে নি বলে মন্তব্য করেছেন তারা।ইতিমধ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ভারতীয় ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনারকে তলব করেছে। আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তার জবাব পাওয়া যাবে বলে ধারণা করছে কূটনৈতিক মহল। বাংলাদেশ আশা করছে, ভারত এই ঘটনার ব্যাখ্যা প্রদান করবে এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে।এ ঘটনার ফলে দুই দেশের মধ্যকার বাণিজ্য, ভিসা ও সীমান্তসহ অন্যান্য দ্বিপক্ষীয় ইস্যুতে প্রভাব পড়তে পারে বলেও মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।ঢাকার একটি শীর্ষ কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, ‘এটি একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এর মাধ্যমে হয়তো ভারত কিছু বার্তা দিতে চেয়েছে। তবে বাংলাদেশ এ ধরনের আচরণ বরদাস্ত করবে না।’ঘটনার পর বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজনে পরবর্তী কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও বিবেচনা করছে। এখন দেখার বিষয়, ভারতীয় ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনারের জবাব ও পরবর্তী কূটনৈতিক মিটমাটের মাধ্যমে এই ঘটনা কত দ্রুত সমাধান হয়। অন্যথায় দুই দেশের মধ্যকার সম্প্রতি বেড়ে ওঠা সম্পর্কের ক্ষেত্রে এটি একটি বড় ধরনের টানাপড়েনের সূচনা হতে পারে।
১৯ ঘন্টা আগে
সৌদির মদিনা বিশ্ববিদ্যালয় ২০২৬: ভর্তি যোগ্যতা, খরচ, স্কলারশিপ ও আবেদন পদ্ধতি

সৌদির মদিনা বিশ্ববিদ্যালয় ২০২৬: ভর্তি যোগ্যতা, খরচ, স্কলারশিপ ও আবেদন পদ্ধতি

পবিত্র মসজিদে নববীর শহর মদিনা। রাসুলুল্লাহ ﷺ–এর স্মৃতিবিজড়িত এই নগরীতে বসবাস করে উচ্চশিক্ষা অর্জনের স্বপ্ন দেখেন বিশ্বের লাখো মুসলিম তরুণ। বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের মধ্যেও ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব মদিনা (Islamic University of Madinah) নিয়ে আগ্রহ বছরের পর বছর ধরে বেড়েই চলেছে।সম্পূর্ণ অর্থায়িত স্কলারশিপ, মাসিক ভাতা, আবাসন সুবিধা, আন্তর্জাতিক পরিবেশ এবং ইসলামী জ্ঞানচর্চার অনন্য সুযোগ—সব মিলিয়ে এটি বিশ্বের অন্যতম আকর্ষণীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। তবে অনেকেই জানেন না, কীভাবে আবেদন করতে হবে, কী কী কাগজপত্র লাগবে, কত সময় লাগতে পারে কিংবা স্কলারশিপ পেলে পরবর্তী ধাপগুলো কী।এই বিশেষ ফিচারে বাংলাদেশ থেকে মদিনা বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার পুরো প্রক্রিয়া ধাপে ধাপে তুলে ধরা হলো। কেন মদিনা বিশ্ববিদ্যালয় এত জনপ্রিয়?১৯৬১ সালে সৌদি আরব সরকারের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয় ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব মদিনা। শুরুতে ইসলামী শিক্ষাকে কেন্দ্র করে কার্যক্রম পরিচালিত হলেও বর্তমানে এখানে প্রকৌশল, কম্পিউটার বিজ্ঞান এবং মৌলিক বিজ্ঞানসহ বিভিন্ন বিষয়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ রয়েছে।বিশ্ববিদ্যালয়টির বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো—সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়ন;আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী গ্রহণ;পবিত্র মদিনা নগরীতে অবস্থান;মাসিক ভাতা;বিনামূল্যে আবাসনের ব্যবস্থা;আরবি ভাষাভিত্তিক উচ্চশিক্ষা;ইসলামী পরিবেশে শিক্ষার সুযোগ। ধাপ–১: আপনি যোগ্য কি না যাচাই করুনআবেদন করার আগে প্রথমেই নিশ্চিত হতে হবে যে আপনি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাথমিক যোগ্যতার শর্ত পূরণ করছেন কি না। স্নাতক পর্যায়ে সাধারণ যোগ্যতাআবেদনকারীকে মুসলিম হতে হবে;পুরুষ শিক্ষার্থী হতে হবে;বয়স সাধারণত ১৭ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে হতে হবে;এইচএসসি, আলিম বা সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে;সর্বশেষ শিক্ষাগত সনদ পাঁচ বছরের বেশি পুরোনো হওয়া যাবে না;উত্তম চরিত্রের অধিকারী হতে হবে;শারীরিকভাবে সুস্থ থাকতে হবে। যাদের বাড়তি সুবিধা থাকতে পারেহাফেজে কোরআন;আরবি ভাষায় দক্ষ শিক্ষার্থী;ইসলামিক শিক্ষায় ভালো ফলাফলধারী;মাদ্রাসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী;দ্বীনি কার্যক্রমে সম্পৃক্ত শিক্ষার্থী।তবে সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের শিক্ষার্থীরাও আবেদন করতে পারবেন। ধাপ–২: কোন বিষয়ে পড়বেন তা ঠিক করুনঅনেক আবেদনকারী আবেদন করার আগ পর্যন্ত জানেন না, বিশ্ববিদ্যালয়টিতে আসলে কী কী বিষয়ে পড়ার সুযোগ রয়েছে।ইসলামী অনুষদশরিয়াহআকিদা ও দাওয়াহকোরআন ও ইসলামিক স্টাডিজহাদিস ও ইসলামিক স্টাডিজআরবি ভাষাআধুনিক অনুষদপ্রকৌশল অনুষদতড়িৎ প্রকৌশলযন্ত্র প্রকৌশলপুরকৌশলকম্পিউটার অনুষদকম্পিউটার বিজ্ঞানতথ্যপ্রযুক্তিইনফরমেশন সিস্টেমসবিজ্ঞান অনুষদপদার্থবিজ্ঞানরসায়নগণিত ধাপ–৩: প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করুনবাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের সবচেয়ে বেশি সময় লাগে এই ধাপে।আবশ্যিক কাগজপত্রবৈধ পাসপোর্ট;জন্ম নিবন্ধন;এসএসসি/দাখিল সনদ;এসএসসি/দাখিল নম্বরপত্র;এইচএসসি/আলিম সনদ;এইচএসসি/আলিম নম্বরপত্র;আচরণগত সনদ;পাসপোর্ট সাইজের ছবি।অতিরিক্ত কাগজপত্রহিফজ সনদ;আরবি ভাষা প্রশিক্ষণের সনদ;মেডিকেল ফিটনেস সনদ;ইসলামি ব্যক্তিত্বের সুপারিশপত্র;অতিরিক্ত কোর্সের সনদ। ধাপ–৪: কাগজপত্র সত্যায়ন ও অনুবাদঅনেক আবেদনকারী এই ধাপে ভুল করেন।সাধারণত যেসব কাগজপত্র বাংলায় থাকে, সেগুলো ইংরেজি বা আরবিতে অনুবাদ করতে হতে পারে।প্রয়োজন হতে পারে—নোটারি;শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক সত্যায়ন;শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক সত্যায়ন;পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃক সত্যায়ন।তবে প্রতি বছর নীতিমালায় কিছু পরিবর্তন আসতে পারে। তাই আবেদনপূর্ব নির্দেশিকা ভালোভাবে পড়ে নিতে হবে। ধাপ–৫: অনলাইন আবেদনবর্তমানে সৌদি সরকারের কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম Study in Saudi –এর মাধ্যমে আবেদন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।আবেদনের ধাপ—প্রথম ধাপঅ্যাকাউন্ট তৈরি করুন।দ্বিতীয় ধাপব্যক্তিগত তথ্য পূরণ করুন।তৃতীয় ধাপশিক্ষাগত তথ্য যুক্ত করুন।চতুর্থ ধাপপ্রয়োজনীয় নথি আপলোড করুন।পঞ্চম ধাপআবেদন পর্যালোচনা করুন।ষষ্ঠ ধাপচূড়ান্তভাবে আবেদন জমা দিন।মদিনা ইসলামী ইউনির্ভার্সিটির ক্যাম্পাস ধাপ–৬: অপেক্ষার সময়এটাই সবচেয়ে কঠিন ধাপ।আবেদন জমা দেওয়ার পর অনেকেই ভাবেন কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ফলাফল চলে আসবে। বাস্তবে তা নাও হতে পারে।সাবেক শিক্ষার্থীদের অভিজ্ঞতা অনুযায়ী—কারও ক্ষেত্রে ৬ মাস;কারও ক্ষেত্রে ১ বছর;আবার কারও ক্ষেত্রে ২–৩ বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।তাই ধৈর্য রাখা জরুরি। ধাপ–৭: ই-মেইল নিয়মিত পরীক্ষা করুননির্বাচিত প্রার্থীদের সাধারণত ই-মেইলের মাধ্যমে জানানো হয়।তাই—স্প্যাম ফোল্ডার পরীক্ষা করুন;নিয়মিত লগইন করুন;যোগাযোগের তথ্য হালনাগাদ রাখুন। ধাপ–৮: সাক্ষাৎকারের প্রস্তুতিসব আবেদনকারীর সাক্ষাৎকার নেওয়া না হলেও অনেক ক্ষেত্রে অনলাইন সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠিত হয়। যেসব বিষয়ে প্রশ্ন আসতে পারেব্যক্তিগত পরিচয়আপনার নাম কী?কোথা থেকে এসেছেন?কেন মদিনা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে চান?ইসলামী জ্ঞানইসলামের মৌলিক বিষয়;ঈমানের স্তম্ভ;নামাজের ফরজ;নবী-রাসুল সম্পর্কিত প্রশ্ন।আরবি ভাষাসাধারণ পরিচয় দেওয়া;সহজ প্রশ্নের উত্তর দেওয়া। ধাপ–৯: ভিসা প্রক্রিয়াচূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হওয়ার পর শুরু হয় ভিসা কার্যক্রম।সাধারণত বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়।এই ধাপে প্রয়োজন হতে পারে—মূল সনদপত্র;মেডিকেল পরীক্ষা;পুলিশ ক্লিয়ারেন্স;পাসপোর্ট জমা দেওয়া। ধাপ–১০: সৌদি আরবে যাত্রাভিসা সম্পন্ন হলে যাত্রার প্রস্তুতি নিতে হবে।সঙ্গে যা নেওয়া ভালোমূল কাগজপত্র;পাসপোর্টের কপি;প্রয়োজনীয় পোশাক;কিছু ব্যক্তিগত ওষুধ;প্রয়োজনীয় ইলেকট্রনিক ডিভাইস। স্কলারশিপে কী কী সুবিধা পাবেন?মদিনা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক স্কলারশিপ বিশ্বের অন্যতম আকর্ষণীয় শিক্ষা বৃত্তি হিসেবে পরিচিত।শিক্ষাগত সুবিধাসম্পূর্ণ টিউশন ফি মওকুফ;শিক্ষাসামগ্রী সহায়তা।আর্থিক সুবিধামাসিক ভাতা;মেধাবীদের জন্য অতিরিক্ত প্রণোদনা।আবাসন সুবিধাঅবিবাহিত শিক্ষার্থীদের জন্য আবাসন;আসবাবপত্রসহ থাকার ব্যবস্থা।স্বাস্থ্য সুবিধাবিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসা;প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা।ধর্মীয় সুবিধামসজিদে নববীতে যাতায়াতের সুযোগ;উমরাহ ভ্রমণের ব্যবস্থা। বাস্তবে কত খরচ লাগতে পারে?স্কলারশিপ পেলে মূল শিক্ষাব্যয় থাকে না।তবে বাংলাদেশ থেকে প্রাথমিক প্রস্তুতিতে খরচ হতে পারে—খাতআনুমানিক ব্যয়পাসপোর্ট৬–১২ হাজার টাকাঅনুবাদ ও নোটারি২–৫ হাজার টাকাসত্যায়ন১–৩ হাজার টাকামেডিকেল১–৩ হাজার টাকাঅন্যান্য২–৫ হাজার টাকাসব মিলিয়ে প্রায় ১০ থেকে ৩০ হাজার টাকা প্রয়োজন হতে পারে। বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের প্রধান চ্যালেঞ্জআরবি ভাষাপড়াশোনার মাধ্যম আরবি হওয়ায় ভাষাগত দক্ষতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।সাংস্কৃতিক পার্থক্যবিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার সক্ষমতা প্রয়োজন।সময় ব্যবস্থাপনাইবাদত, পড়াশোনা এবং ব্যক্তিগত জীবনের মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করতে হয়। সফল হতে যা করবেনআরবি শেখা শুরু করুনআবেদনের আগেই আরবিতে কথোপকথনের অনুশীলন করুন।কোরআনের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলুনহিফজ বা তিলাওয়াতের দক্ষতা আত্মবিশ্বাস বাড়ায়।নিয়মিত পড়াশোনা করুনবিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাব্যবস্থা অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক।শারীরিকভাবে প্রস্তুত থাকুননতুন পরিবেশে মানিয়ে নেওয়ার সক্ষমতা জরুরি। প্রতারণা থেকে সতর্ক থাকুনবিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো অনুমোদিত এজেন্ট নেই।তাই—"নিশ্চিত ভর্তি" দেওয়ার নামে অর্থ দাবি;ভুয়া অফার লেটার;অতিরিক্ত প্রসেসিং ফি দাবি—এসব বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।আবেদন অবশ্যই অফিসিয়াল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে করতে হবে। মদিনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অভিজ্ঞতা কী বলে?বাংলাদেশি সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের অভিজ্ঞতা অনুযায়ী—শুরুতে আরবি ভাষা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ;আন্তর্জাতিক পরিবেশ দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দেয়;আত্মনিয়ন্ত্রণ ও সময় ব্যবস্থাপনা খুব গুরুত্বপূর্ণ;ইসলামী জ্ঞানচর্চার পাশাপাশি আধুনিক শিক্ষার সুযোগ রয়েছে;মসজিদে নববীর নিকটবর্তী পরিবেশ শিক্ষার্থীদের আধ্যাত্মিক জীবনেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। যারা ২০২৬ সালে আবেদন করবেন, তাদের জন্য শেষ মুহূর্তের চেকলিস্ট✓ পাসপোর্ট তৈরি হয়েছে✓ এসএসসি ও এইচএসসি সনদ প্রস্তুত✓ নম্বরপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে✓ জন্ম নিবন্ধন হালনাগাদ✓ ছবি প্রস্তুত✓ প্রয়োজনীয় অনুবাদ সম্পন্ন✓ আরবি ভাষার প্রাথমিক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে✓ অফিসিয়াল ওয়েবসাইট নিয়মিত দেখা হচ্ছে শেষ কথামদিনা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া নিঃসন্দেহে সহজ নয়। প্রতি বছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে অসংখ্য শিক্ষার্থী আবেদন করেন। তবে সঠিক প্রস্তুতি, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, ধৈর্য এবং আন্তরিক প্রচেষ্টা থাকলে বাংলাদেশের একজন শিক্ষার্থীর পক্ষেও এই স্বপ্ন পূরণ করা সম্ভব।অনেক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ইতোমধ্যেই মদিনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে দেশে ফিরে ইসলামি শিক্ষা, গবেষণা, দাওয়াহ ও বিভিন্ন পেশাগত ক্ষেত্রে অবদান রাখছেন। নতুন প্রজন্মের জন্যও এটি হতে পারে জ্ঞানার্জন, আত্মগঠন এবং বিশ্বমানের শিক্ষার এক অনন্য দ্বার।২০২৬ সালের আবেদনকারীদের জন্য এখনই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো—তথ্য যাচাই করা, প্রয়োজনীয় নথি প্রস্তুত করা এবং সময়মতো আবেদন সম্পন্ন করা।পবিত্র মদিনার পথে যাত্রা হয়তো শুরু হবে একটি অনলাইন আবেদন দিয়েই; কিন্তু সেই যাত্রা বদলে দিতে পারে একজন শিক্ষার্থীর পুরো জীবন।
৬ ঘন্টা আগে
বেনজীরের সেসব অপকর্ম সবার আলোচনায়

বেনজীরের সেসব অপকর্ম সবার আলোচনায়

ইন্টারপোলের রেড নোটিশের ভিত্তিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে গ্রেপ্তার হয়েছেন সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ। দুবাই পুলিশ ইন্টারপোলের সহযোগিতায় তাকে গ্রেপ্তার করে। রোববার (১৪ জুন) এ তথ্য নিশ্চিত করেন পুলিশ সদর দপ্তরের মুখপাত্র ও অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (এআইজি) শাহাদাত হোসেন।গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় ‘বেনজীরনামা’। ফেসবুক ওয়ালে ভাসতে থাকে সাবেক এই পুলিশ কর্তার দুর্নীতি, ক্রসফায়ার ও গুমের লোমহর্ষক কাহিনি। এর মধ্যে পরবর্তী করণীয় জানাতে গণমাধ্যমের সামনে আসে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।২০২৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তারের জন্য ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারির আদেশ দেন আদালত। ঢাকা মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক মো. জাকির হোসেন এ আদেশ দেন।পুলিশ সদর দপ্তর সূত্র জানায়, ইন্টারপোল জারিকৃত রেড নোটিশের ভিত্তিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে গ্রেপ্তারের অনুরোধ করা হয়। গত ১২ জুন সংযুক্ত আরব আমিরাতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ডিরেক্টরিয়েট জেনারেল অফ ফেডারেল ক্রিমিনাল পুলিশ (এনসিবি আবুধাবি) থেকে প্রেরিত ইমেইলের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারকে গ্রেপ্তারের তথ্য জানানো হয়।সরকারের এক সূত্র জানিয়েছে, এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে বেনজীরকে দেশে ফিরিয়ে আনা। আমিরাত কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারের ৩০ দিনের মধ্যে বাংলাদেশকে কূটনৈতিক মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক এক্সট্রাডিশন (প্রত্যর্পণ) আবেদন পাঠাতে হবে। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় মামলা, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা, তদন্ত প্রতিবেদন ও আইনি নথিপত্র প্রস্তুতের কাজ চলছে।দুদকের উপপরিচালক (জনসংযোগ) আকতারুল ইসলাম জানান, বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে বর্তমানে দুদকের ছয়টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এর মধ্যে ১৪ কোটি ৬২ লাখ টাকার জ্ঞাতায়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের মামলায় ইতোমধ্যে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে এবং সেই মামলার বিচার চলছে। বাকি পাঁচটি মামলার তদন্ত চলমান। এসব মামলায় তার বিরুদ্ধে প্রায় ৭৬ কোটি টাকার জ্ঞাতায়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে।২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর পৃথক চারটি মামলা করে দুদক। ৭৪ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপন করার অভিযোগে বেনজীর আহমেদ এবং তার স্ত্রী ও দুই মেয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়। পরবর্তীতে পাসপোর্ট জালিয়াতি ও আরেকটি মামলা করে দুদক।২০২৪ সালের এপ্রিলে বেনজীর ও তার পরিবারের সদস্যদের সম্পদের অনুসন্ধানে আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দেওয়া হয়। অনুসন্ধান শুরুর কিছুদিনের মধ্যেই পরিবার নিয়ে দেশ ছাড়েন তিনি।আদালতের আদেশে তার ও পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা শত শত বিঘা জমি, ফ্ল্যাট, ব্যাংক হিসাব, শেয়ার এবং অন্যান্য সম্পদ ক্রোক ও অবরুদ্ধ করা হয়েছে।৩০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র, ৩৩টি ব্যাংক হিসাব এবং ৩টি বিও হিসাব (শেয়ার ব্যবসার বেনিফিশিয়ারি ওনার্স অ্যাকাউন্ট) অবরুদ্ধের আদেশ।২০২৪ সালের ১২ জুন: বেনজীর আহমেদ, তার স্ত্রী ও সন্তানদের নামে থাকা ৮টি ফ্ল্যাট (ঢাকার বাড্ডা ও আদাবরে) এবং ২৫ একর ২৭ কাঠা জমি (নারায়ণগঞ্জ, বান্দরবান ও উত্তরায়) জব্দের আদেশ।দুই দফায়: গোপালগঞ্জ ও মাদারীপুরে ৬২১ বিঘা জমি, ১৯টি কোম্পানির শেয়ার, গুলশানে ৪টি ফ্ল্যাট ক্রোকের আদেশ।৩০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র, ৩৩টি ব্যাংক হিসাব এবং ৩টি বিও হিসাব (শেয়ার ব্যবসার বেনিফিশিয়ারি ওনার্স অ্যাকাউন্ট) অবরুদ্ধের আদেশ।বেনজীর আহমেদ র‌্যাবের মহাপরিচালক থাকাকালে বিচারবহির্ভূত হত্যা, গুম ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে দেশ-বিদেশে ব্যাপক সমালোচনা হয়। ২০২১ সালে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার তালিকায় তার নাম অন্তর্ভুক্ত হয়।দুদকের অনুসন্ধান শুরুর দুই সপ্তাহের মাথায় ২০২৪ সালের ৪ মে দেশ ছাড়েন বেনজীর আহমেদ। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, কয়েকজন পুলিশ সদস্যের সহায়তায় তিনি বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন।ফুটেজে দেখা যায়, শেষ নিরাপত্তা তল্লাশি চৌকিতে দায়িত্বরত আনসার সদস্যের শারীরিক তল্লাশি ছাড়াই তিনি চেকপয়েন্ট অতিক্রম করেন। অথচ সাধারণ যাত্রীদের ক্ষেত্রে এই তল্লাশি বাধ্যতামূলক। দেশ ছাড়ার আগে বিমানবন্দরে উপস্থিত কয়েকজন পুলিশ সদস্যের দিকে হাত নেড়ে বিদায় জানাতেও দেখা যায় তাকে।ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান যুগান্তরকে বলেন, “বেনজীর আহমেদের গ্রেফতারের মধ্য দিয়ে বেনজীরের ‘দম্ভ চূর্ণ হয়েছে’—এখনই বলা যাচ্ছে না। শেষ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। এটি একটি প্রাথমিক পদক্ষেপ মাত্র। গ্রেফতারই চূড়ান্ত কিছু নয়। তাকে দেশে ফিরিয়ে এনে আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জবাবদিহি আওতায় আনা গেলে তবেই বলা যাবে যে একটি পূর্ণাঙ্গ দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছে।”তিনি আরও বলেন, “তার গ্রেফতারের মধ্য দিয়ে যে বার্তার কথা বলা হচ্ছে, সেটি এখনো পুরোপুরি প্রতিষ্ঠিত হয়নি। বার্তাটি তখনই প্রতিষ্ঠিত হবে, যখন প্রভাব-প্রতিপত্তি, রাজনৈতিক সংযোগ কিংবা ক্ষমতার অবস্থান নির্বিশেষে একজন অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আইনের মুখোমুখি করা সম্ভব হবে এবং বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।”সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, এই গ্রেফতার প্রমাণ করেছে অপরাধী যত শক্তিশালীই হোক, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়। দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শীর্ষ পদে থাকা একজন সাবেক কর্মকর্তার বিদেশে গ্রেফতার এবং তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ এখন দেশের বিচার ও জবাবদিহির ইতিহাসে সবচেয়ে আলোচিত ঘটনাগুলোর একটিতে পরিণত হয়েছে।সংশ্লিষ্টরা জানান, গ্রেফতার হওয়া যতটা গুরুত্বপূর্ণ, তার চেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ এখন আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনা। কারণ প্রত্যর্পণের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক আইন, দ্বিপক্ষীয় সমন্বয় এবং আদালতসংশ্লিষ্ট নানা ধাপ রয়েছে। তবে সরকার এটিকে একটি বড় সাফল্য হিসাবে দেখছে।
১৯ ঘন্টা আগে
যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তির ১৪ দফায় যা যা থাকছে

যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তির ১৪ দফায় যা যা থাকছে

যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তিচুক্তির ঘোষণা এসেছে। প্রস্তাবিত সমঝোতা স্মারকে ১৪টি বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো লেবাননসহ সব ফ্রন্টে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি, ইরানের বিরুদ্ধে আরোপিত মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহার এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করা। চুক্তিতে সম্ভাব্য শর্তগুলো প্রকাশ করেছে ইরানের আধা সরকারি সংবাদ সংস্থা মেহের নিউজ। তবে প্রকাশিত এসব তথ্য এখনো ওয়াশিংটন বা তেহরানের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।এর আগে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে চুক্তিতে পৌঁছানোর বিষয়টি নিশ্চিত করে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার ঘোষণা দেন। তিনি জানান, প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ওপর থাকা বাধা সরিয়ে নেওয়া হবে এবং বৈশ্বিক তেল সরবরাহ স্বাভাবিক করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।১৪ দফা চুক্তির খসড়ায় যা থাকছেমেহের নিউজের প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রস্তাবিত সমঝোতা স্মারকে নিচের ১৪টি বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে:১. লেবাননসহ সব ফ্রন্টে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি। এটি চুক্তির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দফা বলে মনে করা হচ্ছে। লেবাননের হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েলের মধ্যে গত কয়েক মাস ধরে সীমান্তে সংঘর্ষ চলছিল। এই দফার মাধ্যমে ইরান সমর্থিত সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধের আশ্বাস দিচ্ছে।২. ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার মার্কিন প্রতিশ্রুতি। তেহরান দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছিল, যুক্তরাষ্ট্র তাদের গার্ডিয়ান কাউন্সিল ও পরমাণু কর্মসূচিতে নাক গলাচ্ছে। এই দফা ইরানের অভ্যন্তরীণ সার্বভৌমত্বের ব্যাপারে ওয়াশিংটনের প্রতিশ্রুতি বহন করছে।৩. ৩০ দিনের মধ্যে ইরানের বন্দরগুলো ঘিরে থাকা মার্কিন নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার। চুক্তি স্বাক্ষরের ৩০ দিনের মধ্যে অবরোধ উঠে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এটি ইরানের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ, কারণ অবরোধের কারণে তাদের তেল রপ্তানি প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।৪. ইরান থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী প্রত্যাহার। সিরিয়া ও ইরাকের মার্কিন ঘাঁটি থেকে সেনা প্রত্যাহারের বিষয়টিও এতে থাকতে পারে। ইরান দীর্ঘদিন ধরেই এই দাবি জানিয়ে আসছিল।৫. ইরানের ব্যবস্থাপনায় ৩০ দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ। চুক্তি অনুযায়ী ইরান নিজ দায়িত্বে ও ব্যবস্থাপনায় এটি চালুর দায়িত্ব পাবে। প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ২ কোটি ব্যারেল তেল পরিবহন হয়।৬. ইরানের তেল ও জ্বালানি পণ্যের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার। এটি ইরানের অর্থনীতির জন্য সবচেয়ে স্বস্তির খবর। তেল রপ্তানি স্বাভাবিক হলে তাদের বৈদেশিক মুদ্রা আবারও চাঙ্গা হবে।৭. নিষেধাজ্ঞার আওতায় জব্দ করা ইরানের তহবিল ছাড়ের প্রক্রিয়া শুরু। দক্ষিণ কোরিয়া, ইরাকসহ বিভিন্ন দেশে ইরানের প্রায় ২৪ বিলিয়ন ডলার আটকে আছে। এই দফা অনুযায়ী ধাপে ধাপে সেই অর্থ ছাড় করা হবে।৮. ইরানের পুনর্গঠনে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের অন্তত ৩০০ বিলিয়ন ডলারের সহায়তা পরিকল্পনা। এটি চুক্তির সবচেয়ে বড় ও চমকপ্রদ দফা। যুদ্ধবিধ্বস্ত ইরানের অর্থনীতি পুনর্গঠনে এই বিশাল অঙ্কের সহায়তার কথা বলা হয়েছে।৯. পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার বিষয়ে ইরানের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত। ইরান আবারও ঘোষণা দেবে যে তারা কখনো পারমাণবিক বোমা বানাবে না। তবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকার তাদের থাকবে।১০. মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সামরিক শক্তি বৃদ্ধি না করার প্রতিশ্রুতি। দুই পক্ষই সম্মত হবে যে তারা অঞ্চলে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন বা নতুন সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে না।১১. ইরানের বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ না করার অঙ্গীকার। এটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ইরান চায় একবার নিষেধাজ্ঞা উঠে গেলে ভবিষ্যতে আবার যেন নতুন করে কোনো নিষেধাজ্ঞা না আসে।১২. আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমনে পারস্পরিক সহযোগিতা। ইয়েমেন, সিরিয়া, ইরাক ও লেবাননের স্থিতিশীলতা নিয়ে দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।১৩. চূড়ান্ত চুক্তির আগে নিষেধাজ্ঞা ও অবরোধ প্রত্যাহারে অগ্রগতি নিশ্চিত করা। চূড়ান্ত স্বাক্ষরের আগেই কিছু নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার অগ্রগতি দেখাতে হবে যুক্তরাষ্ট্রকে।১৪. চূড়ান্ত সমঝোতাকে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবের মাধ্যমে অনুমোদন দেওয়া। চুক্তিটি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও বৈধতা দেওয়ার জন্য জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদন নেওয়া হবে। এতে ভেটো ক্ষমতাধর দেশগুলো (রাশিয়া, চীন) সায় দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।বার্তা সংস্থা মেহেরের খবরে বলা হয়েছে, নিষেধাজ্ঞার আওতায় জব্দ করা ইরানের তহবিলের একটি বড় অংশ মুক্ত, ইরানের তেলের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং মার্কিন নৌ অবরোধ তুলে নেওয়ার পরেই চূড়ান্ত সমঝোতা নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হবে। অর্থাৎ আগে কিছু শর্ত বাস্তবায়িত হবে, তারপর পুরো চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে।প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরবর্তী সময়ে যে চূড়ান্ত চুক্তি হবে, সেটি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের একটি প্রস্তাবের মাধ্যমে অনুমোদিত হবে। এতে চুক্তির আন্তর্জাতিক বৈধতা নিশ্চিত হবে এবং ভবিষ্যতে নতুন মার্কিন প্রশাসন চাইলেও একতরফাভাবে এটি বাতিল করতে পারবে না।এদিকে, এই চুক্তির ঘোষণার পর থেকেই বিশ্ববাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ৪ দশমিক ৫ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেল ৮৩ ডলারের নিচে নেমেছে। এশিয়ার শেয়ারবাজারগুলোতে ৫ শতাংশের মতো উত্থান হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হরমুজ প্রণালি খুলে গেলে তেলের ঘাটতি কমে যাবে এবং জ্বালানি স্বাভাবিক সরবরাহ শুরু হবে। তাতে বিশ্ব অর্থনীতি নতুন করে শক্তি পাবে।আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের কথা রয়েছে। তবে চুক্তির পূর্ণাঙ্গ নথি এখনো প্রকাশ করা হয়নি। ফলে মেহর নিউজে প্রকাশিত শর্তগুলোই আপাতত সম্ভাব্য সমঝোতার ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর ও দুই পক্ষের চূড়ান্ত অনুমোদনের পরই চুক্তির প্রকৃত কাঠামো ও বাস্তবায়ন পদ্ধতি স্পষ্ট হবে।পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ এই চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘চার মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ শেষে এই শান্তিচুক্তি পুরো অঞ্চলের জন্য স্বস্তি বয়ে আনবে।’ কাতার, তুরস্ক ও সৌদি আরবও চুক্তির প্রশংসা করেছে। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, ‘এটি কূটনীতির বড় জয়।’যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ‘আমি ইতিহাস গড়েছি। কেউ ভাবেনি যে আমি এটা পারব। কিন্তু আমি পেরেছি। এখন মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফিরবে।’অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, ‘এটি ইরানি জনগণের ধৈর্য ও প্রতিরোধের বড় অর্জন। যুক্তরাষ্ট্র বুঝতে পেরেছে যে অবরোধ ও হুমকি দিয়ে ইরানকে নতজানু করা যায় না।’তবে এখনও অনেক জটিলতা বাকি। চুক্তির শর্তগুলো বাস্তবায়নে কতটা সফল হবে দুই পক্ষ, তা দেখার বিষয়। বিশেষ করে, ইরানের তেল রপ্তানি ও হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিয়ে নানা জটিলতা রয়েছে। তারপরও আপাতদৃষ্টিতে মনে হচ্ছে, বহু বছরের টানাপড়েনের অবসান ঘটিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি ঐতিহাসিক চুক্তির দিকে এগোচ্ছে।
১৫ জুন ২০২৬
১৫ এপ্রিল ২০২৬, ১২:১১ এএম
আপনি কি মনে করেন বিএনপি জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর ও শব্দ বাস্তবায়ন করবে?

আপনি কি মনে করেন বিএনপি জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর ও শব্দ বাস্তবায়ন করবে?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ জন
পায়ের বুড়ো আঙুলের ‘হাড়’ বাড়ার সমস্যা: কী করবেন, কখন দেখাবেন ডাক্তার

পায়ের বুড়ো আঙুলের ‘হাড়’ বাড়ার সমস্যা: কী করবেন, কখন দেখাবেন ডাক্তার

বিশ্বের প্রাপ্তবয়স্ক নারী-পুরুষের প্রায় ১৯ শতাংশ ভোগেন এই জটিলতায়, সমাধান কিন্তু শল্যচিকিৎসা নয় একমাত্র পথস্বাস্থ্য ডেস্ক: পায়ের বুড়ো আঙুলের গোড়ায় হাড় বের হয়ে আসা বা মাংসপিণ্ডের মতো ফুলে ওঠাকে সাধারণ ভাষায় ‘বুনিয়ন’ বলা হয়। চিকিৎসা বিজ্ঞানের পরিভাষায় যাকে বলে হ্যালাক্স ভালগাস (Hallux Valgus)। এটি শুধু দেখতে খারাপ নয়, দীর্ঘমেয়াদে হাঁটতে কষ্ট, জুতো পরতে অসুবিধা এবং পায়ের অন্যান্য অংশে ব্যথাও ডেকে আনে।গবেষণা বলছে, বিশ্বের প্রাপ্তবয়স্ক জনসংখ্যার প্রায় ১৯ শতাংশ (প্রায় পাঁচজনে একজন) এই সমস্যায় ভোগেন। নারীদের মধ্যে এই হার আরও বেশি—প্রায় ২৪ শতাংশ। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সমস্যা প্রকট হয়।কী কারণে এই সমস্যা হয়?এটি মূলত ত্রিমাত্রিক বিকৃতি। পায়ের বুড়ো আঙুল ধীরে ধীরে বাইরের দিকে বেঁকে যায়, আর প্রথম মেটাটারসাল হাড়টি ভেতরের দিকে ঠেলে বেরিয়ে আসে। এর ফলে একটি হাড়ের মত ‘গাঁট’ তৈরি হয়, যা জুতোর সঙ্গে ঘষে লাল হয়ে যায় এবং ব্যথা করে।কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে—জিনগত কারণ (পারিবারিক ইতিহাস)সরু ও টিপটো জুতো (হাই হিল) দীর্ঘদিন পরাপায়ের গঠনগত সমস্যা (চ্যাপটা পা)লিগামেন্টের নমনীয়তালক্ষণগুলো কী কী?সবচেয়ে সাধারণ লক্ষণ হলো বুড়ো আঙুলের গোড়ায় ব্যথা ও ফোলাভাব। এছাড়াও থাকতে পারে—জুতো পরলে ঘর্ষণে জ্বালাপোড়া ও লালচে ভাবদ্বিতীয় বা তৃতীয় আঙুলের নিচে কর্ন (ক্যালাস) পড়া ও ব্যথাবুড়ো আঙুলটি ধীরে ধীরে অন্য আঙুলের ওপর চলে আসাপায়ের খিলানে চাপ অনুভব করাচিকিৎসা কী? একেবারেই কি অস্ত্রোপচার করতে হবে?একদমই না। চিকিৎসকদের মতে, বেশিরভাগ রোগীর ক্ষেত্রেই অস্ত্রোপচার ছাড়াই সমস্যা নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। প্রথম ধাপে কিছু ‘যান্ত্রিক’ পরিবর্তন করলেই ব্যথা অনেকটা কমে যায়।প্রাথমিক করণীয় (কনজারভেটিভ চিকিৎসা):১. জুতো বদলান: চওড়া ও নরম তলার জুতো ব্যবহার করুন। সামনের অংশ যেন যথেষ্ট উঁচু ও চওড়া হয়, যাতে বুড়ো আঙুলের ‘হাড়ের’ ওপর চাপ না পড়ে। টিপটো জুতা ও হাই হিল পরিহার করুন।২. প্যাড ও স্পেসার ব্যবহার: সিলিকনের নরম প্যাড ‘বুনিয়ন’-এর ওপর ঘর্ষণ কমায়। আর পায়ের প্রথম ও দ্বিতীয় আঙুলের মাঝে স্পেসার (সিলিকনের পাতলা ফাঁকা) ব্যবহার করলে চাপ কমে এবং আঙুল ধীরে ধীরে সোজা হতে সহায়তা করে।৩. ইনসোল (পায়ের পাতার কাঠামো): খিলানের নিচে চাপ বণ্টনকারী ইনসোল ব্যবহার করলে বুড়ো আঙুলের ওপর বাড়তি চাপ পড়ে না।৪. ব্যায়াম: পায়ের ছোট ছোট মাংসপেশি মজবুত করার ব্যায়াম (যেমন- পায়ের আঙুল ছড়ানো, তোয়ালে জড়ো করা, পায়ের খিলান বসানো) ব্যথা কমাতে ও পায়ের গঠন ঠিক রাখতে সাহায্য করে।৫. ওজন ও চলাফেরার ধরণ নিয়ন্ত্রণ: অতিরিক্ত ওজন এবং দীর্ঘক্ষণ শক্ত মেঝেতে দাঁড়িয়ে থাকা এ সমস্যা বাড়ায়।কখন অস্ত্রোপচারের কথা ভাববেন?চিকিৎসকরা বলেন, যদি উপরের উপায়গুলো সঠিকভাবে ব্যবহার করেও ৩-৬ মাস পর ব্যথা না কমে, হাঁটাচলা ও দৈনন্দিন কাজে ব্যাঘাত ঘটে, এবং আঙুলের বিকৃতি বাড়তেই থাকে, তবেই অস্ত্রোপচারের কথা ভাবা উচিত।আধুনিক চিকিৎসায় ন্যূনতম আক্রমণাত্মক কৌশলে (MIS) ছোট ছিদ্র করে খুব দ্রুত সেরে ওঠা যায়। তবে অস্ত্রোপচার সব সময় শেষ কথা নয়। এটি করানোর আগে একাধিকবার বিশেষজ্ঞের মতামত নেওয়া জরুরি।বিশেষজ্ঞের পরামর্শএই প্রতিবেদনের জন্য পরামর্শ প্রদানকারী অর্থোপেডিক সার্জনেরা জানিয়েছেন, “আমরা সাধারণত রোগীকে বুঝিয়ে বলি, এক্স-রেতে কোণ যতই বাড়ুক না কেন, রোগী যতক্ষণ ব্যথাহীনভাবে হাঁটতে পারেন, ততক্ষণ অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন নেই। শুধু জুতোর ধরণ বদলে ফেললেই অর্ধেক রোগীর সমস্যার সমাধান হয়ে যায়।”প্রসঙ্গত, সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, প্রবীণ এবং ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে ‘বুনিয়ন’ সমস্যাটি নজরদারিতে রাখা জরুরি, কারণ সামান্য ঘর্ষণে আলসার হতে পারে। সেক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শে বিশেষ জুতা ও ইনসোল ব্যবহার করতে হবে।সতর্কীকরণ: কোনো অবস্থাতেই ‘বুনিয়ন’ গলানোর জন্য আয়োডিন, এ্যাসপিরিন বা ভেষজ উপাদানের তৈরি মলম ব্যবহার করবেন না। এতে ত্বকে পোড়া, অ্যালার্জি বা সংক্রমণ হতে পারে। জুতো পরিবর্তন, ইনসোল ও ব্যায়ামই এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে নিরাপদ ও কার্যকর উপায়।
৩ ঘন্টা আগে
ব্যবসা শুরু করতে সাত দিনে লাইসেন্স, ৪৮ ঘণ্টায় কোম্পানি নিবন্ধন

ব্যবসা শুরু করতে সাত দিনে লাইসেন্স, ৪৮ ঘণ্টায় কোম্পানি নিবন্ধন

বেসরকারি ও বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে এবং ব্যবসা শুরু করার প্রক্রিয়া সহজ করতে লাইসেন্সিং ব্যবস্থা ব্যাপকভাবে সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এতে সংশ্লিষ্ট সব ব্যবসায়ী সেবা সর্বোচ্চ সাত দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করার কথা জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপনকালে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ কথা বলেন।২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতায় বেসরকারি ও বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং ব্যবসা শুরু সহজীকরণ উদ্যোগের অংশ হিসাবে তিনি এ সব কথা বলেন।পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল সিঙ্গেল উইন্ড সেবাঅর্থমন্ত্রী বলেন, বেসরকারি ও বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং ব্যবসা শুরু সহজ করতে লাইসেন্সিং প্রক্রিয়া যৌক্তিকীকরণ করা হবে এবং পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল সিঙ্গেল উইন্ড অনুমোদন ব্যবস্থা চালু করা হবে। এ ব্যবস্থায় আবেদন দাখিল, যাচাই, অনুমোদন, লাইসেন্স, ছাড়পত্র, অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ এবং সংশ্লিষ্ট সেবা একই অনলাইন প্ল্যাটফর্মে সম্পন্ন হবে।পূর্ণাঙ্গ আবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় সেবাসমূহ সর্বোচ্চ সাত দিনের মধ্যে নিষ্পত্তির ব্যবস্থা করা হবে। প্রতিটি অনুমোদন ও লাইসেন্স সেবার জন্য নির্ধারিত সেবা স্তর চুক্তি নির্ধারণ করা হবে।স্বয়ংক্রিয় অনুমোদনের ব্যবস্থানির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট সংস্থা মতামত, না-দাবি, অনাপত্তি বা ছাড়পত্র না দিলে প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে সম্মতি আছে ধরে নিয়ে স্বয়ংক্রিয় অনুমোদন পদ্ধতিতে আবেদন নিষ্পত্তি করা হবে। একই সঙ্গে সেবা প্রদানে মনিটরিং, জবাবদিহি ও কমপ্লায়েন্স নিয়ন্ত্রণ জোরদার করা হবে।ছোট ও নতুন ব্যবসার জন্য অনলাইনভিত্তিক প্রাথমিক অনুমোদন ব্যবস্থা বিবেচনা করা হবে, যাতে উদ্যোক্তারা দ্রুত কার্যক্রম শুরু করতে পারেন এবং ছয় থেকে বারো মাসের মধ্যে প্রয়োজনীয় লাইসেন্স ও প্রতিপালন সম্পন্ন করতে পারেন।৪৮ ঘণ্টায় কোম্পানি নিবন্ধনকোম্পানির নামের ছাড়পত্র নিবন্ধন আবেদন, ফি পরিশোধ ও সনদ প্রদান অনলাইনে সম্পন্ন করে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কোম্পানি নিবন্ধনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমানে এই প্রক্রিয়ায় সপ্তাহ খানেক সময় লেগে যায়।বিদেশি কর্মী ও বিনিয়োগকারীদের জন্য সুবিধাবিদেশি বিশেষজ্ঞ ও দক্ষ জনবলের ওয়ার্ক পারমিট সাত দিনের মধ্যে এবং বিনিয়োগকারী ও প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ভিসা ১০ দিনের মধ্যে দেওয়ার জন্য প্রক্রিয়া সহজ করা হবে।যোগ্য বিনিয়োগকারী ও গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির জন্য পাঁচ বছর মেয়াদি মাল্টিপল এন্ট্রি বিনিয়োগকারী ভিসা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।বিনিয়োগকারীদের জন্য সহায়তা কাঠামোবড় ও কৌশলগত বিদেশি বিনিয়োগ প্রকল্পে অনুমোদন ও বাস্তবায়ন সমন্বয় করতে বিডিএর পাশাপাশি বেজা, বেপজা ও বিসিকেও সহায়তা কর্মকর্তা, সহায়তা দল বা প্রকল্পভিত্তিক কেস ম্যানেজার নিয়োগ করা হবে।বিনিয়োগকারীর প্রশ্ন, অভিযোগ ও সমস্যা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য সার্বক্ষণিক হেল্প ডেস্ক এবং অভিযোগ নিষ্পত্তি ব্যবস্থা চালু করা হবে। খুদে বার্তা, ই-মেইল, হেল্প নম্বর ও অনলাইন ব্যবস্থায় আবেদনের অগ্রগতি জানানো হবে।আন্তর্জাতিক চুক্তি জোরদারবিনিয়োগকারীর আইনি সুরক্ষা ও আন্তর্জাতিক আস্থা বাড়াতে দ্বিপাক্ষিক বিনিয়োগ চুক্তি সম্প্রসারণ এবং দ্বৈত কর পরিহার চুক্তি হালনাগাদ ও কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা হবে। বিদ্যমান চুক্তিসমূহের কার্যকারিতা ও বাস্তবায়ন অগ্রগতি নিয়মিতভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে।স্থানীয় পর্যায়েও ডিজিটালাইজেশনস্থানীয় পর্যায়ের ব্যবসায়িক অনুমোদন সহজ করতে সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভার ট্রেড লাইসেন্স সেবা ধাপে ধাপে বিনিয়োগসেবা ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করা হবে। আবেদন, ফি পরিশোধ, নবায়ন, লাইসেন্স প্রদান ও অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ অনলাইনে করা হবে, যাতে স্থানীয় অফিসে বারবার যাওয়া ও নবায়নজনিত বিলম্ব কমে।প্লাগ অ্যান্ড প্লে সুবিধা প্যাকেজনির্ধারিত শিল্পাঞ্চল ও অর্থনৈতিক অঞ্চলে প্লাগ অ্যান্ড প্লে শিল্প-সুবিধা প্যাকেজ চালু করা হবে। এর আওতায় জমি, অবকাঠামো, বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি, সড়ক সংযোগ ও প্রাথমিক অনুমোদন আগেই সমন্বিতভাবে প্রস্তুত রাখা হবে, যাতে উদ্যোক্তারা দ্রুত কারখানা স্থাপন ও উৎপাদন শুরু করতে পারেন।দ্রুত নিরাপত্তা ছাড়পত্রবিদেশি কর্মীর নিরাপত্তা ছাড়পত্রের আবেদন ও যাচাই প্রক্রিয়াও পৃথকভাবে অনলাইনভিত্তিক ও নির্ধারিত সময়সীমার আওতায় আনা হবে, যাতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা যাচাই বজায় রেখেই অপ্রয়োজনীয় বিলম্ব কমে। অর্থমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, এই সংস্কার উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশে বিনিয়োগের পরিবেশ উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হবে এবং ব্যবসা শুরু করতে উদ্যোক্তাদের আর দীর্ঘদিন অপেক্ষা করতে হবে না।
২২ এপ্রিল ২০২৬
বাজেটে ১০ হাজার টাকা ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্মানীর প্রস্তাব

বাজেটে ১০ হাজার টাকা ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্মানীর প্রস্তাব

২২ এপ্রিল ২০২৬
লাইকা ক্যামেরা ও এআই প্রযুক্তির নতুন ফ্ল্যাগশিপ শাওমি ১৭টি উন্মোচন

লাইকা ক্যামেরা ও এআই প্রযুক্তির নতুন ফ্ল্যাগশিপ শাওমি ১৭টি উন্মোচন

দেশের বাজারে নতুন ফ্ল্যাগশিপ স্মার্টফোন ‘শাওমি ১৭টি’ উন্মোচন করেছে প্রযুক্তিপণ্য নির্মাতা শাওমি। লাইকা ইমেজিং প্রযুক্তিসমৃদ্ধ ট্রিপল ক্যামেরা, শক্তিশালী ব্যাটারি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) বিভিন্ন ফিচার নিয়ে আসা হয়েছে নতুন এই ডিভাইসটি।মঙ্গলবার রাজধানীতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ‘দ্য মোমেন্ট বিয়ন্ড সাইট’ প্রতিপাদ্যে স্মার্টফোনটি উন্মোচন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রযুক্তি সাংবাদিক, টেক রিভিউয়ার, আলোকচিত্রী এবং শাওমির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।ক্যামেরা সিস্টেমে কি বিশেষত্ব আছে?নতুন এই স্মার্টফোনের অন্যতম আকর্ষণ লাইকা-পাওয়ারড ট্রিপল ক্যামেরা সিস্টেম। এতে রয়েছে—৫০ মেগাপিক্সেলের প্রধান ক্যামেরা (লাইকা সামিলুক্স অপটিক্যাল লেন্সযুক্ত)৫০ মেগাপিক্সেলের লাইকা ৫এক্স টেলিফটো ক্যামেরা (১২০ গুণ পর্যন্ত এআই আল্ট্রা জুম সমর্থিত)লাইভ মোমেন্ট ও স্টেজ মোড সুবিধা (সৃজনশীল ছবি ও ভিডিও ধারণের জন্য)ডিসপ্লে ও ব্যাটারিডিভাইসটিতে ৬ দশমিক ৫৯ ইঞ্চির ১.৫কে অ্যামোলেড ডিসপ্লে ব্যবহার করা হয়েছে। এটি ১২০ হার্টজ পর্যন্ত রিফ্রেশ রেট সমর্থন করে। ৩ হাজার ৫০০ নিটস পিক ব্রাইটনেসের কারণে উজ্জ্বল আলোতেও পর্দার কনটেন্ট স্পষ্ট দেখা যাবে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।চোখের সুরক্ষার জন্য এতে টিইউভি রাইনল্যান্ড সনদপ্রাপ্ত আই কমফোর্ট প্রযুক্তি রয়েছে।ফোনটিতে ৬ হাজার ৫০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার ঘণ্টার সিলিকন-কার্বন ব্যাটারি ব্যবহার করা হয়েছে। শাওমির দাবি, একবার পূর্ণ চার্জে এটি প্রায় দেড় দিনের বেশি সময় ব্যাকআপ দিতে সক্ষম। পাশাপাশি আইপি৬৮ রেটিংয়ের ডাস্ট ও ওয়াটার রেজিস্ট্যান্স সুবিধাও রয়েছে।পারফরম্যান্স ও এআই সুবিধাপারফরম্যান্সের জন্য স্মার্টফোনটিতে—মিডিয়াটেক ডাইমেনসিটি ৮৫০০-আল্ট্রা প্রসেসরশাওমি হাইপারওএস ব্যবহার করা হয়েছেএ ছাড়া শাওমি হাইপারএআই, গুগল জেমিনি ইন্টিগ্রেশন এবং ‘সার্কেল টু সার্চ’-এর মতো এআই সুবিধাও যুক্ত করা হয়েছে।দাম ও বিক্রির তারিখশাওমি ১৭টি স্মার্টফোনটি ১২ জিবি র‍্যাম ও ২৫৬ জিবি স্টোরেজ সংস্করণে পাওয়া যাবে। দাম রাখা হয়েছে ৭৯ হাজার ৯৯৯ টাকা।যে সব কালারে পাওয়া যাচ্ছে —ভায়োলেটওপাল হোয়াইটব্ল্যাকআগামী ১১ জুন থেকে দেশের সব অনুমোদিত শাওমি স্টোরে এটি বিক্রি শুরু হবে।শাওমি বাংলাদেশের কান্ট্রি জেনারেল ম্যানেজার জিয়াউদ্দিন চৌধুরী বলেন, দেশের বাজারে শাওমির এই ফ্ল্যাগশিপ ডিভাইস আনতে পেরে তারা আনন্দিত। ব্যবহারকারীদের জন্য বিশ্বমানের ফটোগ্রাফি প্রযুক্তি এবং প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।টেক বিশ্লেষকদের মতে, লাইকা ক্যামেরা ও শক্তিশালী ব্যাটারি এই ফোনটিকে বাজারের অন্যান্য ফ্ল্যাগশিপের কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বী করে তুলবে। তবে ৮০ হাজার টাকার ঘরে বাংলাদেশি বাজারে এটি কতটা সাড়া পায়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
১৪ জুন ২০২৬
নাগরিকত্বের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সন্তান জন্ম দেওয়া ভিসা শর্তের পরিপন্থি: মার্কিন দূতাবাস

নাগরিকত্বের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সন্তান জন্ম দেওয়া ভিসা শর্তের পরিপন্থি: মার্কিন দূতাবাস

ক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পাওয়ার উদ্দেশ্যে দেশটিতে গিয়ে সন্তান জন্ম দেওয়া এখন থেকে ভিসার শর্তের পরিপন্থি হিসেবে গণ্য হবে। এমন উদ্দেশ্যে কেউ ভিসা আবেদন করলে তা সরাসরি বাতিল করা হবে বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে মার্কিন দূতাবাস।বুধবার সকালে দূতাবাসের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বিশেষ সতর্কবার্তায় এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।কী বলছে দূতাবাসের সতর্কবার্তাদূতাবাসের পোস্টে উল্লেখ করা হয়, কোনো ব্যক্তি যদি মূলত সন্তানের মার্কিন নাগরিকত্ব নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের পরিকল্পনা করেন, তবে তা দেশটির বর্তমান ভিসা নীতিমালার পরিপন্থি।কনস্যুলার কর্মকর্তারা যদি সাক্ষাৎকার বা তদন্তের মাধ্যমে বুঝতে পারেন যে আবেদনকারীর মূল লক্ষ্য সন্তান জন্ম দিয়ে নাগরিকত্ব অর্জন, তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ট্যুরিস্ট ভিসা আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হবে।সতর্কবার্তায় আরও বলা হয়, এ ধরনের কার্যক্রম মার্কিন ভিসা নীতিমালার গুরুতর লঙ্ঘন। তাই আবেদনকারীদের শুধু প্রকৃত এবং সঠিক উদ্দেশ্য উল্লেখ করে আবেদন করার আহ্বান জানিয়েছে দূতাবাস।কঠোর সতর্কতাভিসা পাওয়ার জন্য ভুল তথ্য প্রদান বা ভিসার শর্ত ভঙ্গ করলে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের ক্ষেত্রে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা বা নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলেও সতর্কবার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে।অর্থাৎ, কেউ যদি এ উদ্দেশ্যে ভিসা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সন্তান জন্ম দেন এবং তা প্রমাণিত হয়, তাহলে পরবর্তীতে তার যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়া পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যেতে পারে।যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে জন্ম নিলে সন্তান স্বয়ংক্রিয়ভাবে সে দেশের নাগরিক হয় – এই সুযোগ কাজে লাগাতে অনেকেই আগে ট্যুরিস্ট ভিসায় গিয়ে সন্তান প্রসব করতেন। এখন থেকে সেই পথ কার্যকরীভাবে বন্ধ করে দিলো মার্কিন দূতাবাস। শুধু ভিসা বাতিল নয়, ভবিষ্যতেও যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞার হুঁশিয়ারি দেওয়ায় এই সিদ্ধান্তকে ‘চরম কঠোর’ বলছেন অভিবাসন বিশ্লেষকরা। ফলে আবেদনকারীদের এখন ভিসা আবেদনের আগে তিনবার ভাবতে হবে।
২২ এপ্রিল ২০২৬
ইংরেজ আদালতে সিংহনাদ আর আপসহীন সংগ্রাম: শায়খুল ইসলাম হুসাইন আহমদ মাদানির গল্প

ইংরেজ আদালতে সিংহনাদ আর আপসহীন সংগ্রাম: শায়খুল ইসলাম হুসাইন আহমদ মাদানির গল্প

ভূমিকা: সেই দিনটির কথাভারত স্বাধীন হওয়ার অনেক আগের কথা। এক সিংহপুরুষ দাঁড়িয়ে আছেন ইংরেজ আদালতে। নাম তাঁর সৈয়দ হুসাইন আহমদ মাদানি। মামলা চলছে তাঁর বিরুদ্ধে। আদালত চত্বরে অসংখ্য লোক। সবাইকে থ করে দিয়ে ওই ব্যক্তির কণ্ঠ থেকে বেরিয়ে এল সিংহনাদ—"ইংরেজের সৈন্য বাহিনীতে যোগ দেওয়া মুসলমানদের জন্য হারাম।" জোর দিয়ে তিনি তিনবার এই বাক্য ঘোষণা করলেন।পাশে দাঁড়িয়ে থাকা আরেকজন মাওলানা হাত জোড় করে বললেন, "মহাশয়, আপনার উক্তি উঠিয়ে নিন, আপনি কী বললেন?" কিন্তু মাদানির কথা তো ধনুক থেকে বেরোনো তীরের মতো। যা বলেছেন, তা তো হবেই। কোনো অবস্থায় নড়চড় হবে না।ইংরেজ অফিসাররা প্রচণ্ড রেগে ওঠে। প্রধান অফিসার বললেন, "হোসাইন আহমদ, তুমি কি জানো, এই ঔদ্ধত্যের শাস্তি কী হতে পারে?" মাদানি জবাব দিলেন, "তোমরাই ঠিক করে নাও।" অফিসার বললেন, "এই অপরাধের কমসে কম শাস্তি মৃত্যুদণ্ড।"মাদানি নিজের কাঁধে থাকা সাদা চাদর দেখিয়ে বললেন, "হোসাইন আহমদ মাদানি যখন দেওবন্দ থেকে রওয়ানা হয়েছে, তখন মৃত্যু পরবর্তী শেষকৃত্যের জন্য কাফন নিয়েই বেরিয়েছে। হোসাইন এসব ধমকিতে ভয় করে না। আমি যা বলেছি, আবার বলছি—তোমাদের সেনায় যোগ দেওয়া আমাদের জন্য হারাম।"ইতিহাসের সেই ঘটনা আজও আমাদের মনে করিয়ে দেয়—স্বাধীনতা এমনিতেই আসেনি। এর পেছনে আছে রক্ত, ঘাম আর অসীম সাহস। সেই বীরদের একজন হলেন হুসাইন আহমদ মাদানি। যাঁকে পরবর্তীকালে ‘শায়খুল ইসলাম’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়।প্রারম্ভিক জীবন ও বংশহুসাইন আহমদ মাদানি ১৮৭৯ সালের ৬ অক্টোবর (১২৯৬ হিজরির ১৯ শাওয়াল) ভারতের উত্তরপ্রদেশের উন্নাও জেলার বাঙ্গারমৌ মৌজায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম সৈয়দ হাবিবুল্লাহ এবং মাতার নাম নুরুন্নিসা। বংশগতভাবে পিতা ও মাতা উভয়ের দিক থেকেই তিনি ছিলেন নবী মুহাম্মদ (স.)-এর বংশধর। হোসাইন ইবনে আলী ছিলেন তাঁর ৩৩তম পূর্বপুরুষ।ছোটবেলায় মায়ের কাছে কুরআনের প্রথম পাঁচ পারা পড়েন। পরে পিতার কাছে ধর্মীয় ও সাধারণ শিক্ষা লাভ করেন। কিন্তু স্কুলের পড়াশোনা তাঁর পছন্দ ছিল না। তাই ১৮৯২ সালে তাকে দারুল উলুম দেওবন্দে ভর্তি করে দেওয়া হয়।দেওবন্দে শিক্ষাজীবনদেওবন্দে ভর্তির সময় প্রধান অধ্যাপক ছিলেন মাহমুদ হাসান দেওবন্দি। তিনিই মাদানির শিক্ষার মূল ভিত্তি গড়ে দেন। মাদানি সাড়ে ছয় বছরে ১৭টি বিষয়ের ৬৭টি কিতাব অধ্যয়ন করেন। এর মধ্যে ২৪টি কিতাব এককভাবে দেওবন্দির কাছে পড়েন।শিক্ষাজীবনে তিনি যুক্তিবিদ্যা ও দর্শনের প্রতি বেশি আগ্রহী ছিলেন। পরে হাদিস ও আরবি সাহিত্যের প্রতি অনুরাগী হন। ১৮৯৮ সালে তাঁর প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা সমাপ্ত হয়। তখন তাঁর বয়স ছিল মাত্র ১৯ বছর।মদিনা গমন ও মসজিদে নববীতে শিক্ষকতাশিক্ষা শেষে পিতামাতার সঙ্গে তিনি মদিনা চলে যান। সেখানে গিয়ে মসজিদে নববীতে বিনা বেতনে শিক্ষকতা শুরু করেন। জীবিকা নির্বাহের জন্য ছোট একটি দোকানও খোলেন। কিন্তু বেশি দিন টিকল না। পরে খেজুরের ব্যবসা ও গ্রন্থ নকলের কাজ করেন।মদিনায় তাঁর খ্যাতি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। তিনি ‘শায়খুল হারাম’ নামে পরিচিত হন। মসজিদে নববীতে তাঁর ক্লাসে উপস্থিত থাকতেন মদিনার ওলামা, কাজী, মুফতি এমনকি সরকারি কর্মকর্তারাও। তিনি মালিকি ও শাফিঈ ফিকহের কিতাবগুলোও আয়ত্ত করেন, কারণ মদিনায় এগুলোর প্রচলন ছিল।তাসাউফ ও আধ্যাত্মিকতা১৮৯৮ সালে রশিদ আহমদ গাঙ্গুহির কাছে তিনি বায়আত গ্রহণ করেন। গাঙ্গুহির নির্দেশে পরবর্তীতে ইমদাদুল্লাহ মুহাজিরে মক্কির কাছে তাসাউফের শিক্ষা নেন। মাত্র ২২ বছর বয়সে গাঙ্গুহি তাকে খেলাফত দান করেন।মাদানি চারটি তরিকার ইজাযতপ্রাপ্ত ছিলেন। তিনি চিশতিয়া, নকশবন্দিয়া, কাদেরিয়া ও সোহরাওয়ার্দিয়া তরিকায় দীক্ষা দিতেন। তাঁর কাছে লক্ষাধিক মুরিদ ছিল, যার মধ্যে ১৬৭ জনকে তিনি নিজের খলিফা মনোনীত করেছিলেন।তাসাউফ সম্পর্কে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি ছিল স্পষ্ট—তিনি শিরক ও বিদআতের ঘোর বিরোধী ছিলেন। আহমদ রেজা খান যখন আরব দেশে গিয়ে বিদআতের সমর্থনে ফতোয়া সংগ্রহ করতে চান, মাদানি তাকে মদিনা থেকে বহিষ্কারের ব্যবস্থা করেন।প্রথম কারাবরণ ও মাল্টা নির্বাসন১৯১৫ সালে মাহমুদ হাসান দেওবন্দি মদিনায় এলে মাদানি তাঁর সংস্পর্শে আসেন এবং স্বাধীনতা আন্দোলনে যোগ দেন। ১৯১৬ সালে মক্কার বিদ্রোহী গভর্নর শরিফ হুসাইনের নির্দেশে মাদানি ও দেওবন্দিকে গ্রেফতার করে মাল্টায় নির্বাসিত করা হয়। মাদানি স্বেচ্ছায় দেওবন্দির সঙ্গে কারাবরণ করেন।মাল্টায় প্রায় ৪ বছর বন্দি থাকার সময় তিনি কুরআন হেফজ সম্পন্ন করেন। এখানে তিনি তুর্কি ভাষাও আয়ত্ত করেন। জেলের ভেতর অন্ধকার প্রকোষ্ঠে থাকলেও তিনি ইসলামি বিধান নিয়ে আপস করেননি। জেল কর্তৃপক্ষকে বাধ্য করে মুসলিম কয়েদিদের জন্য আলাদা খাবারের ব্যবস্থা করতে হয়েছিল।ভারতে প্রত্যাবর্তন ও রাজনীতিতে সক্রিয় অংশগ্রহণ১৯২০ সালে মুক্তি পেয়ে তিনি ভারতে ফিরে আসেন। মদিনায় ফিরে যাওয়ার ইচ্ছা থাকলেও মাহমুদ হাসান দেওবন্দি তাকে ভারতে থাকার পরামর্শ দেন। দেওবন্দির মৃত্যুর পর তিনি ‘জানাশীনে শায়খুল হিন্দ’ উপাধি লাভ করেন।তিনি কংগ্রেস ও খেলাফত আন্দোলনে যোগ দেন। ১৯২১ সালে করাচিতে অনুষ্ঠিত খেলাফত সম্মেলনে তিনি ইংরেজ সেনাবাহিনীতে চাকরি করা হারাম ঘোষণা করেন। এই ফতোয়া মুদ্রিত হয়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করলে তাকে ২ বছরের জন্য কারাদণ্ড দেওয়া হয়।সিলেটে আগমন ও শিক্ষা বিস্তার১৯২৩ সালে মুক্তি পেয়ে তিনি সিলেটে আসেন। এখানকার ইসলামি শিক্ষাব্যবস্থার মানোন্নয়নে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। স্থানীয়দের অনুরোধে তিনি তিন বছর সিলেটে অবস্থান করেন এবং সিহাহ সিত্তাহর পাঠদান শুরু করেন।সিলেটেই তিনি তাসাউফের বেশিরভাগ কাজ সম্পাদন করেন। প্রতি রমজানে সিলেটে এসে ইতিকাফ করতেন। তাঁর উদ্যোগে সিলেট ও আসাম অঞ্চলে অসংখ্য মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠিত হয়। আজও সে অঞ্চলে তাঁর অবদান স্মরণীয় হয়ে আছে।দেওবন্দে সদরুল মুদাররিস১৯২৮ সালে তিনি দারুল উলুম দেওবন্দের প্রধান অধ্যাপক (সদরুল মুদাররিস) পদে যোগ দেন। এখানে ৩১ বছর তিনি হাদিসের অধ্যাপনা করেন। তাঁর অধ্যাপনায় দারুল উলুমের খ্যাতি বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে। আফ্রিকা ও ইউরোপ থেকেও ছাত্ররা আসতেন।তিনি পাঠ্যক্রম সংস্কার করেন। তাফসিরের কিতাব, ইতিহাস, ভূগোল, রাষ্ট্রদর্শন এবং এমনকি ইংরেজি ভাষার অধ্যয়ন চালু করেন। শরীরচর্চার জন্যও বিভাগ খোলেন। ছাত্রদের কেরাআত শিক্ষার দিকেও বিশেষ গুরুত্ব দেন।ইকবাল-মাদানি বিতর্ক১৯৩৮ সালে এক ভাষণে মাদানি বলেন, বর্তমানে জাতীয়তা নির্ধারিত হয় ভূখণ্ডের ভিত্তিতে, ধর্মের ভিত্তিতে নয়। সংবাদপত্রে এটি বিকৃতভাবে ছাপা হলে কবি মুহাম্মদ ইকবাল মাদানিকে বিদ্রুপ করে একটি কবিতা লেখেন। এ নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়। মৃত্যুর আগে ইকবাল মাদানির কাছে ক্ষমা চেয়ে পাঠিয়েছিলেন বলে জানা যায়।ভারত বিভক্তি ও মাদানির ভূমিকামাদানি দ্বিজাতি তত্ত্ব ও ভারত বিভক্তির বিরোধী ছিলেন। তিনি ‘সম্মিলিত জাতীয়তাবাদ’ ও ‘মাদানি ফর্মুলা’ উপস্থাপন করেন, যেখানে সুবাগুলোর স্বায়ত্তশাসন ও সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তার কথা বলা হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ভারত বিভক্ত হয়।বিভক্তির পর তিনি ভারতে থাকা মুসলমানদের অভিভাবকের দায়িত্ব নেন। তাদের ধৈর্য ধারণের উপদেশ দেন এবং সরকারের কাছে তাদের অধিকার আদায়ে কাজ করেন। তিনি দখল হওয়া মসজিদ, মাদ্রাসা ও সম্পত্তি উদ্ধারের চেষ্টা করেন।রচনাবলি ও সাহিত্যকর্মমাদানি একজন লেখক হিসেবেও সমাদৃত। তাঁর রচনার মধ্যে রয়েছে:নকশে হায়াত (আত্মজীবনী)মুত্তাহিদায়ে কাওমিয়াত আওর ইসলাম (সম্মিলিত জাতীয়তাবাদ ও ইসলাম)আশ শিহাবুস সাকিব (বেরলভি মতবাদের সমালোচনা)এছাড়া তাঁর অসংখ্য চিঠি ও বক্তৃতা ‘মাকতুবাতে শায়খুল ইসলাম’ নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়েছে।শেষ জীবন ও মৃত্যু১৯৫৫ সালে তিনি শেষ হজ সম্পন্ন করেন। ১৯৫৭ সালের ৫ ডিসেম্বর দারুল উলুম দেওবন্দে তিনি ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮১ বছর। ভারত সরকার রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তার জানাজা সম্পন্ন করে। প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরুও এতে অংশ নেন।তাকে মাজারে কাসেমিতে মাহমুদ হাসান দেওবন্দির পাশে সমাহিত করা হয়।সম্মাননা ও উত্তরাধিকার১৯৫৪ সালে ভারত সরকার তাকে পদ্মভূষণ পুরস্কারে ভূষিত করে। ২০১২ সালে ভারতীয় ডাক বিভাগ তার সম্মানে একটি স্মারক ডাকটিকিট প্রকাশ করে। সিলেটে তার স্মৃতি বিজড়িত স্থানে নির্মিত হয়েছে ‘মাদানি চত্বর’। দেওবন্দে তার নামে সড়ক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে।উপসংহারহুসাইন আহমদ মাদানি শুধু একজন ইসলামি পণ্ডিত ছিলেন না; তিনি ছিলেন একাধারে স্বাধীনতা সংগ্রামী, শিক্ষাবিদ, সুফি, লেখক ও অকুতোভয় নেতা। ইংরেজ আদালতে কাফন কাঁধে নিয়ে তিনি দেখিয়ে গেছেন— সত্যের পথে কথা বলার জন্য মৃত্যুও বড় বাধা নয়। আজকের প্রজন্ম যদি ইতিহাসের লুক্কায়িত পাতা থেকে তাঁদের বীরত্বের গল্প জানে, তাহলে সেই রক্ত শিরায় শিরায় বইবে আর দেশমাতৃকার প্রতি ভালোবাসা আরও গভীর হবে।
ফিরোজ আল মামুন