গণবার্তা
সর্বশেষ

রূপপুরের প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোডিংয়ের লাইসেন্স দিল নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ

পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোডিংয়ের জন্য সব পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে লাইসেন্স দিয়েছে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ। এর ফলে চলতি এপ্রিলের শেষদিকে প্রথম ইউনিটে ইউরেনিয়াম জ্বালানি লোডিংয়ের উদ্বোধন হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) রাতে সংবাদমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (বিএইচআরএ) প্রকল্প পরিচালক ড. মাহবুবুর রহমান। তিনি জানান, লাইসেন্স অনুমোদনের দায়িত্বে থাকা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে সব বাধা কেটে গেছে। এখন সরকার উদ্বোধনের তারিখ নির্ধারণ করলেই জ্বালানি লোডিংয়ের কাজ শুরু হবে।বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান জানান, প্রথমে ৭ এপ্রিল উদ্বোধনের পরিকল্পনা থাকলেও কিছু জটিল ইস্যু সামনে আসে। সেগুলো সমাধানে সময় নেওয়া হয়। সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আপসহীন অবস্থানে থেকে সব সমস্যার সমাধান করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি অনুকূলে থাকায় সব পক্ষের সম্মতিক্রমে লাইসেন্স প্রদান করা হয়েছে।নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের (এনপিসিবিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. জাহেদুল হাসান জানান, গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতিমূলক কাজ ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। অগ্নিনিরাপত্তা সংক্রান্ত অনাপত্তিপত্রও পাওয়া গেছে। নিরাপত্তা ও সুরক্ষায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে জ্বালানি লোডিংয়ের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে ধাপে ধাপে রূপপুরে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা সম্ভব হবে।
৮ ঘন্টা আগে

আধুনিক ক্রীড়া কমপ্লেক্সের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন সেনাপ্রধান

সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান আর্মি স্পোর্টস কমপ্লেক্সের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।গত বুধবার বাংলাদেশ আর্মি স্টেডিয়ামের পাশে এই ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ‘সবার জন্য ক্রীড়া’ শীর্ষক অন্তর্ভুক্তিমূলক ও দূরদর্শী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেশের ক্রীড়া উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখতে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় এই কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হচ্ছে।প্রস্তাবিত এই ক্রীড়া কমপ্লেক্সে থাকছে আন্তর্জাতিক মানের দুটি ইনডোর স্টেডিয়াম, একটি স্পোর্টস একাডেমি, অত্যাধুনিক জিমনেশিয়াম ও স্পোর্টস সায়েন্স সুবিধা। এখানে ফিজিওলজি, বায়োমেকানিক্স, নিউট্রিশন ও স্পোর্টস মেডিসিন সংক্রান্ত বিশেষায়িত বিভাগ স্থাপন করা হবে।ফলে দেশের বিভিন্ন স্তরের খেলোয়াড়রা আধুনিক প্রশিক্ষণ ও গবেষণাভিত্তিক সুবিধা পাবেন। সেনাবাহিনীর এই উদ্যোগ দেশের ক্রীড়াঙ্গনে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সেনাবাহিনী ও জাতীয় দলের খেলোয়াড় এবং অন্যান্য আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।
৮ ঘন্টা আগে

সৌদি আরবের কঠোর হুঁশিয়ারি: অবৈধ হজ করলে ১০ বছর নিষেধাজ্ঞা, সর্বোচ্চ ১ লাখ রিয়াল জরিমানা

আসন্ন ২০২৬ সালের হজ মৌসুমকে সামনে রেখে অবৈধভাবে হজ পালন এবং এতে সহায়তাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিয়েছে সৌদি আরব। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হজের নিয়ম লঙ্ঘন করলে সর্বোচ্চ ১ লাখ সৌদি রিয়াল পর্যন্ত জরিমানা এবং দীর্ঘমেয়াদী নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে হবে অপরাধীদের। খবর দ্য ইকোনমিক টাইমসের।কর্তৃপক্ষের নির্দেশনামতে, এই কঠোর বিধান আগামী শনিবার (১৮ এপ্রিল) থেকে কার্যকর হবে এবং জুনের মাঝামাঝি পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। অনুমতিবিহীন ব্যক্তিদের মক্কা ও সন্নিহিত পবিত্র স্থানগুলোতে প্রবেশ রোধ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য।নতুন নিয়ম অনুযায়ী অপরাধের ধরণ ও তীব্রতা অনুযায়ী শাস্তি নির্ধারণ করা হয়েছে।অবৈধ প্রবেশের শাস্তি: বৈধ হজ পারমিট বা নির্ধারিত ভিজিট ভিসা ছাড়া কেউ মক্কায় প্রবেশ করতে চাইলে তাকে ২০ হাজার সৌদি রিয়াল জরিমানা গুনতে হবে।সহায়তাকারীদের জন্য শাস্তি: যেসব ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান অননুমোদিত হজযাত্রীদের ভিসা, পরিবহন বা থাকার ব্যবস্থা করে সহায়তা করবেন, তাদের সর্বোচ্চ ১ লাখ রিয়াল পর্যন্ত জরিমানা করা হতে পারে। অভিযুক্তের সংখ্যা বেশি হলে জরিমানার পরিমাণ আরও বাড়ানোর সুযোগ রাখা হয়েছে।যানবাহন বাজেয়াপ্ত: আদালতের নির্দেশে অপরাধে ব্যবহৃত যানবাহন জব্দ করা যাবে।সৌদি কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট জানিয়েছে, যারা অনুমতি ছাড়া মক্কায় ঢোকবেন বা ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অবস্থান করবেন, তাদের দ্রুত দেশে ফেরত পাঠানো হবে। পাশাপাশি এসব ব্যক্তিকে আগামী ১০ বছরের জন্য সৌদি আরবে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না।প্রতি বছর বিশ্বের লাখ লাখ মুসল্লির সমাগম ঘটে পবিত্র হজে। তাদের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সৌদি সরকার এই কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। কর্তৃপক্ষ সবাইকে হজের নিয়মকানুন ও আইনি বাধ্যবাধকতা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে। কোনো অনিয়ম চোখে পড়লে তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট বিভাগকে জানানোর অনুরোধও করা হয়েছে।
৯ ঘন্টা আগে
স্বাধীনতা পুরস্কার-২০২৬: ১৫ ব্যক্তি ও ৫ প্রতিষ্ঠান পেলেন দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা

স্বাধীনতা পুরস্কার-২০২৬: ১৫ ব্যক্তি ও ৫ প্রতিষ্ঠান পেলেন দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা

জাতীয় পর্যায়ে গৌরবোজ্জ্বল ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ দেশের ১৫ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও পাঁচটি প্রতিষ্ঠানকে ‘স্বাধীনতা পুরস্কার-২০২৬’ পদক প্রদান করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বিকেল ৪টায় রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে এই পদক বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।খালেদা জিয়ার পুরস্কার গ্রহণ করেন নাতনি জাইমাঅনুষ্ঠানের শুরুতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মরণোত্তর পুরস্কার গ্রহণ করেন তার নাতনি ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে তিনি ‘দাদু’র এই সম্মাননা তুলে নেন। স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও নারী শিক্ষাসহ দেশ গঠনে সার্বিক অবদানের জন্য তাকে এই পদক দেওয়া হয়।মরণোত্তর পুরস্কারপ্রাপ্ত অন্যরাখালেদা জিয়াসহ মরণোত্তর সম্মাননা পেয়েছেন আরও সাতজন। তারা হলেন—মুক্তিযুদ্ধে মেজর মোহাম্মদ আবদুল জলিল, সাহিত্যে ড. আশরাফ সিদ্দিকী, সমাজসেবায় ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী ও মাহেরীন চৌধুরী, সংস্কৃতিতে বশির আহমেদ এবং জনপ্রশাসনে কাজী ফজলুর রহমান।মেজর জলিলের পক্ষে তার কণ্যা ব্যারিস্টার সারা জলিল, ড. আশরাফ সিদ্দিকীর পক্ষে মেয়ে ড. তাসনিম আরিফা সিদ্দিকী, জাফরুল্লাহ চৌধুরীর পক্ষে ছেলে বারীশ হাসান চৌধুরী, মাহেরীন চৌধুরীর পক্ষে স্বামী মনসুর হেলাল, বশির আহমেদের পক্ষে হুমায়ারা বশির এবং কাজী ফজলুর রহমানের পক্ষে কন্যা তাবাসুম শাহনাজ প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে পুরস্কার গ্রহণ করেন।যাঁরা নিজে পুরস্কার নিয়েছেনবিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে অধ্যাপক ড. জহুরুল করিম, সংস্কৃতিতে একেএম হানিফ (হানিফ সংকেত), ক্রীড়ায় জোবেরা রহমান (লিনু), সমাজসেবায় সাইদুল হক, গবেষণা ও প্রশিক্ষণে মোহাম্মদ আবদুল বাকী, অধ্যাপক ড. এম এ রহিম, অধ্যাপক সুকোমল বড়ুয়া এবং পরিবেশ সংরক্ষণে আবদুল মুকিত মজুমদার (মুকিত মজুমদার বাবু) প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে স্বাধীনতা পুরস্কার গ্রহণ করেন।অধ্যাপক জহুরুল করিমের পক্ষে তার পুত্র হারুনুর রশীদ ওই সম্মাননা নেন।পুরস্কৃত পাঁচ প্রতিষ্ঠানএ বছর স্বাধীনতা পুরস্কার পাওয়া পাঁচটি প্রতিষ্ঠান হলো—মুক্তিযুদ্ধে ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ, চিকিৎসায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, পল্লী উন্নয়নে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ), জনসেবায় এসওএস শিশু পল্লী ও গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র।প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষ থেকে যথাক্রমে অধ্যক্ষ লে. কর্নেল আদনান কবির, পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান, চেয়ারম্যান জাকির আহমেদ খান, ন্যাশনাল ডাইরেক্টর ড. এনামুল হক এবং সিনিয়র প্যারামেডিক বিউটি রানী সাহা প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে পদক গ্রহণ করেন।পুরস্কারের বিবরণ ও উপস্থিতিস্বাধীনতা পুরস্কার দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা। ১৯৭৭ সাল থেকে প্রতি বছর ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে এই পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে। প্রত্যেক পুরস্কারপ্রাপ্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে ৫০ গ্রাম ওজনের ১৮ ক্যারেটের একটি স্বর্ণপদক, পদকের একটি রেপ্লিকা, ৩ লাখ টাকা ও সম্মাননাপত্র দেওয়া হয়।অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী জুবাইদা রহমান ও খালেদা জিয়ার বোন সেলিমা ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমান, মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্য, বিচারপতি, তিন বাহিনী প্রধান ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি।
৭ ঘন্টা আগে
স্বাধীনতা পুরস্কার-২০২৬: ১৫ ব্যক্তি ও ৫ প্রতিষ্ঠান পেলেন দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা

স্বাধীনতা পুরস্কার-২০২৬: ১৫ ব্যক্তি ও ৫ প্রতিষ্ঠান পেলেন দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা

জাতীয় পর্যায়ে গৌরবোজ্জ্বল ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ দেশের ১৫ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও পাঁচটি প্রতিষ্ঠানকে ‘স্বাধীনতা পুরস্কার-২০২৬’ পদক প্রদান করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বিকেল ৪টায় রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে এই পদক বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।খালেদা জিয়ার পুরস্কার গ্রহণ করেন নাতনি জাইমাঅনুষ্ঠানের শুরুতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মরণোত্তর পুরস্কার গ্রহণ করেন তার নাতনি ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে তিনি ‘দাদু’র এই সম্মাননা তুলে নেন। স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও নারী শিক্ষাসহ দেশ গঠনে সার্বিক অবদানের জন্য তাকে এই পদক দেওয়া হয়।মরণোত্তর পুরস্কারপ্রাপ্ত অন্যরাখালেদা জিয়াসহ মরণোত্তর সম্মাননা পেয়েছেন আরও সাতজন। তারা হলেন—মুক্তিযুদ্ধে মেজর মোহাম্মদ আবদুল জলিল, সাহিত্যে ড. আশরাফ সিদ্দিকী, সমাজসেবায় ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী ও মাহেরীন চৌধুরী, সংস্কৃতিতে বশির আহমেদ এবং জনপ্রশাসনে কাজী ফজলুর রহমান।মেজর জলিলের পক্ষে তার কণ্যা ব্যারিস্টার সারা জলিল, ড. আশরাফ সিদ্দিকীর পক্ষে মেয়ে ড. তাসনিম আরিফা সিদ্দিকী, জাফরুল্লাহ চৌধুরীর পক্ষে ছেলে বারীশ হাসান চৌধুরী, মাহেরীন চৌধুরীর পক্ষে স্বামী মনসুর হেলাল, বশির আহমেদের পক্ষে হুমায়ারা বশির এবং কাজী ফজলুর রহমানের পক্ষে কন্যা তাবাসুম শাহনাজ প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে পুরস্কার গ্রহণ করেন।যাঁরা নিজে পুরস্কার নিয়েছেনবিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে অধ্যাপক ড. জহুরুল করিম, সংস্কৃতিতে একেএম হানিফ (হানিফ সংকেত), ক্রীড়ায় জোবেরা রহমান (লিনু), সমাজসেবায় সাইদুল হক, গবেষণা ও প্রশিক্ষণে মোহাম্মদ আবদুল বাকী, অধ্যাপক ড. এম এ রহিম, অধ্যাপক সুকোমল বড়ুয়া এবং পরিবেশ সংরক্ষণে আবদুল মুকিত মজুমদার (মুকিত মজুমদার বাবু) প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে স্বাধীনতা পুরস্কার গ্রহণ করেন।অধ্যাপক জহুরুল করিমের পক্ষে তার পুত্র হারুনুর রশীদ ওই সম্মাননা নেন।পুরস্কৃত পাঁচ প্রতিষ্ঠানএ বছর স্বাধীনতা পুরস্কার পাওয়া পাঁচটি প্রতিষ্ঠান হলো—মুক্তিযুদ্ধে ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ, চিকিৎসায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, পল্লী উন্নয়নে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ), জনসেবায় এসওএস শিশু পল্লী ও গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র।প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষ থেকে যথাক্রমে অধ্যক্ষ লে. কর্নেল আদনান কবির, পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান, চেয়ারম্যান জাকির আহমেদ খান, ন্যাশনাল ডাইরেক্টর ড. এনামুল হক এবং সিনিয়র প্যারামেডিক বিউটি রানী সাহা প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে পদক গ্রহণ করেন।পুরস্কারের বিবরণ ও উপস্থিতিস্বাধীনতা পুরস্কার দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা। ১৯৭৭ সাল থেকে প্রতি বছর ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে এই পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে। প্রত্যেক পুরস্কারপ্রাপ্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে ৫০ গ্রাম ওজনের ১৮ ক্যারেটের একটি স্বর্ণপদক, পদকের একটি রেপ্লিকা, ৩ লাখ টাকা ও সম্মাননাপত্র দেওয়া হয়।অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী জুবাইদা রহমান ও খালেদা জিয়ার বোন সেলিমা ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমান, মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্য, বিচারপতি, তিন বাহিনী প্রধান ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি।
৭ ঘন্টা আগে
সৌদি আরবের কঠোর হুঁশিয়ারি: অবৈধ হজ করলে ১০ বছর নিষেধাজ্ঞা, সর্বোচ্চ ১ লাখ রিয়াল জরিমানা

সৌদি আরবের কঠোর হুঁশিয়ারি: অবৈধ হজ করলে ১০ বছর নিষেধাজ্ঞা, সর্বোচ্চ ১ লাখ রিয়াল জরিমানা

আসন্ন ২০২৬ সালের হজ মৌসুমকে সামনে রেখে অবৈধভাবে হজ পালন এবং এতে সহায়তাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিয়েছে সৌদি আরব। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হজের নিয়ম লঙ্ঘন করলে সর্বোচ্চ ১ লাখ সৌদি রিয়াল পর্যন্ত জরিমানা এবং দীর্ঘমেয়াদী নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে হবে অপরাধীদের। খবর দ্য ইকোনমিক টাইমসের।কর্তৃপক্ষের নির্দেশনামতে, এই কঠোর বিধান আগামী শনিবার (১৮ এপ্রিল) থেকে কার্যকর হবে এবং জুনের মাঝামাঝি পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। অনুমতিবিহীন ব্যক্তিদের মক্কা ও সন্নিহিত পবিত্র স্থানগুলোতে প্রবেশ রোধ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য।নতুন নিয়ম অনুযায়ী অপরাধের ধরণ ও তীব্রতা অনুযায়ী শাস্তি নির্ধারণ করা হয়েছে।অবৈধ প্রবেশের শাস্তি: বৈধ হজ পারমিট বা নির্ধারিত ভিজিট ভিসা ছাড়া কেউ মক্কায় প্রবেশ করতে চাইলে তাকে ২০ হাজার সৌদি রিয়াল জরিমানা গুনতে হবে।সহায়তাকারীদের জন্য শাস্তি: যেসব ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান অননুমোদিত হজযাত্রীদের ভিসা, পরিবহন বা থাকার ব্যবস্থা করে সহায়তা করবেন, তাদের সর্বোচ্চ ১ লাখ রিয়াল পর্যন্ত জরিমানা করা হতে পারে। অভিযুক্তের সংখ্যা বেশি হলে জরিমানার পরিমাণ আরও বাড়ানোর সুযোগ রাখা হয়েছে।যানবাহন বাজেয়াপ্ত: আদালতের নির্দেশে অপরাধে ব্যবহৃত যানবাহন জব্দ করা যাবে।সৌদি কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট জানিয়েছে, যারা অনুমতি ছাড়া মক্কায় ঢোকবেন বা ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অবস্থান করবেন, তাদের দ্রুত দেশে ফেরত পাঠানো হবে। পাশাপাশি এসব ব্যক্তিকে আগামী ১০ বছরের জন্য সৌদি আরবে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না।প্রতি বছর বিশ্বের লাখ লাখ মুসল্লির সমাগম ঘটে পবিত্র হজে। তাদের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সৌদি সরকার এই কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। কর্তৃপক্ষ সবাইকে হজের নিয়মকানুন ও আইনি বাধ্যবাধকতা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে। কোনো অনিয়ম চোখে পড়লে তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট বিভাগকে জানানোর অনুরোধও করা হয়েছে।
৯ ঘন্টা আগে
১৫ এপ্রিল ২০২৬, ১২:১১ এএম
আপনি কি মনে করেন বিএনপি জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর ও শব্দ বাস্তবায়ন করবে?

আপনি কি মনে করেন বিএনপি জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর ও শব্দ বাস্তবায়ন করবে?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ জন
২৬ দিনে হাম ও উপসর্গ নিয়ে ১৬৬ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত হাজার ছাড়িয়েছে

২৬ দিনে হাম ও উপসর্গ নিয়ে ১৬৬ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত হাজার ছাড়িয়েছে

দেশে হামের প্রকোপ ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত মাত্র ২৬ দিনে হাম নিশ্চিত এবং এর উপসর্গ নিয়ে মোট ১৬৬ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে আক্রান্ত হয়েছে ২ হাজার ২৪১ জন শিশু। বুধবার (৮ এপ্রিল) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে ৬ জন এবং নিশ্চিত আক্রান্ত হয়ে ১ জনসহ মোট ৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।নিশ্চিত ও সন্দেহজনক আক্রান্তের সংখ্যাতথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত ১৫ মার্চ থেকে বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) পর্যন্ত সারাদেশে নিশ্চিত হামে ২৩ জন এবং সন্দেহজনক লক্ষণে আরও ১৪৩ জন শিশু প্রাণ হারিয়েছে। এছাড়া এই সময়ে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়েছে ২ হাজার ২৪১ জন এবং সন্দেহজনক আক্রান্তের সংখ্যা ১২ হাজার ৩২০ জন।পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যার দিক থেকে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে ঢাকা বিভাগ। এর পরেই রয়েছে রাজশাহী বিভাগ। গত ২৪ ঘণ্টায় শুধুমাত্র ঢাকা বিভাগেই ১৫০ শিশু নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়েছে এবং সন্দেহজনক লক্ষণ নিয়ে আরও ৫০৪ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জরুরি নির্দেশনাপরিস্থিতির অবনতি বিবেচনায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সব অভিভাবককে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে। জ্বর, সর্দি, কাশি ও শরীরে র্যাশ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া শিশুদের হামের টিকা দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। টিকাবিহীন কোনো শিশু থাকলে দ্রুত টিকা নিশ্চিত করতে হবে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক রোগ। আক্রান্ত শিশুর সংস্পর্শে এলে তাড়াতাড়ি ছড়িয়ে পড়ে। তাই সচেতনতা ও দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া জরুরি। অভিভাবকদের সন্তানের কোনো অস্বাভাবিক লক্ষণ দেখা দিলে ঘরোয়া চিকিৎসায় না থেকে দ্রুত ডাক্তারের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
০৯ এপ্রিল ২০২৬
ছেঁড়া-ফাটা নোট বিনিময় না করলে ব্যাংকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা

ছেঁড়া-ফাটা নোট বিনিময় না করলে ব্যাংকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা

দেশজুড়ে ছেঁড়া-ফাটা, ত্রুটিপূর্ণ ও ময়লাযুক্ত নোটের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় এসব নোট গ্রহণ ও বিনিময় বাধ্যতামূলক করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। একই সঙ্গে নির্দেশনা অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। রোববার (১২ এপ্রিল) এ বিষয়ে একটি নির্দেশনা জারি করা হয়।নির্দেশনায় বলা হয়েছে, জনসাধারণের স্বাভাবিক নগদ লেনদেন নিশ্চিত করতে সব তফসিলি ব্যাংকের শাখায় নিয়ম অনুযায়ী ছেঁড়া-ফাটা ও ময়লাযুক্ত নোট গ্রহণ করতে হবে এবং এর বিপরীতে নতুন বা পুনঃপ্রচলনযোগ্য নোট সরবরাহ করতে হবে।কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, আগে থেকেই এ সংক্রান্ত নির্দেশনা থাকলেও বাজারে এখনো এ ধরনের নোটের আধিক্য রয়েছে, যা সাধারণ মানুষের লেনদেনে ভোগান্তি সৃষ্টি করছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় ‘ক্লিন নোট পলিসি’ বাস্তবায়নে ব্যাংকগুলোকে আরও সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।বিশেষ করে ৫, ১০, ২০ ও ৫০ টাকার মতো ছোট মূল্যমানের নোট নিয়মিতভাবে গ্রহণ এবং নির্ধারিত কাউন্টারের মাধ্যমে তা বিনিময়ের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। গ্রাহকদের এসব নোটের পরিবর্তে ব্যবহারযোগ্য বা নতুন নোট দিতে হবে।বাংলাদেশ ব্যাংক স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, কোনো ব্যাংক শাখা যদি এ সেবা দিতে অনীহা বা গাফিলতি দেখায়, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারার ক্ষমতাবলে জারি করা এ নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর হবে।
১৫ মার্চ ২০২৬
আমদানি বেড়ে কমেছে রপ্তানি, বাণিজ্য ঘাটতি ১৭ বিলিয়ন ডলার

আমদানি বেড়ে কমেছে রপ্তানি, বাণিজ্য ঘাটতি ১৭ বিলিয়ন ডলার

১৫ মার্চ ২০২৬
৫২ বছর পর চাঁদ ঘুরে এল মানুষ, সফল আর্টেমিস-২ মিশন

৫২ বছর পর চাঁদ ঘুরে এল মানুষ, সফল আর্টেমিস-২ মিশন

চাঁদের কক্ষপথ প্রদক্ষিণের ঐতিহাসিক অভিযান শেষে পৃথিবীতে ফিরলেন আর্টেমিস-২ মিশনের চার নভোচারী। শনিবার (১১ এপ্রিল) বাংলাদেশ সকাল ৬টা ৭ মিনিটে (যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলীয় সময় শুক্রবার রাত ৮টা ৭ মিনিট) তাদের বহনকারী ‘ওরিয়ন’ মহাকাশযানটি ক্যালিফোর্নিয়ার সান ডিয়েগো উপকূলে প্রশান্ত মহাসাগরে অবতরণ করে। এর মাধ্যমে ৫০ বছরেরও বেশি সময় পর প্রথমবার মানুষের চাঁদের চারপাশ ঘুরে আসার ঐতিহাসিক মিশন সম্পন্ন হলো।সমুদ্রে অবতরণের পর আর্টেমিস-২-এর কমান্ডার রিড ওয়াইজম্যান ওরিয়ন ক্যাপসুলের ভেতরে থাকা নভোচারীদের অবস্থা সম্পর্কে ইতিবাচক প্রতিবেদন দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘কী অসাধারণ এক যাত্রা ছিল। আমরা স্থিতিশীল আছি। চার নভোচারীই সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন।’নভোচারী উদ্ধার প্রক্রিয়া শুরুমার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার আর্টেমিস-২ ল্যান্ডিং অ্যান্ড রিকভারি ডিরেক্টর লিলিয়ানা ভিয়ারিয়াল বলেছেন, সমুদ্রে অবতরণের দুই ঘণ্টার মধ্যে নভোচারীদের ওরিয়ন ক্যাপসুল থেকে উদ্ধার করা হবে। এরপর তাঁদের মার্কিন নৌবাহিনীর উদ্ধারকারী জাহাজ ‘ইউএসএস জন পি মুরথা’র মেডিকেল বেতে পৌঁছে দেওয়া হবে।কিছু প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে নভোচারীদের প্রথমে ওরিয়ন ক্যাপসুলের সঙ্গে যুক্ত একটি ভেলায় আনা হবে, যাকে বলা হচ্ছে ‘ফ্রন্ট পোর্চ’। এরপর সেখান থেকে হেলিকপ্টারে করে তাদের নৌবাহিনীর জাহাজে নেওয়া হবে। নাসার ফ্লাইট কন্ট্রোলার জেফ রাডিগান জানিয়েছেন, সমুদ্র শান্ত থাকলে ক্যাপসুল থেকে উদ্ধার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট সময় লাগতে পারে।জাহাজে প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর বিমানে করে তাদের হিউস্টনের জনসন স্পেস সেন্টারে নেওয়া হবে।ইতিহাসের পাতায় আর্টেমিস-২এর মধ্য দিয়ে সফলভাবে সমাপ্ত হলো ১০ দিনের এই রোমাঞ্চকর চন্দ্রাভিযান। ১ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের রিড ওয়াইজম্যান, ক্রিস্টিনা কোচ, ভিক্টর গ্লোভার এবং কানাডার জেরেমি হ্যানসেনকে নিয়ে শুরু হয়েছিল এই মহাকাশযাত্রা।মিশনটি একাধিক নতুন ইতিহাস গড়েছে। চাঁদের দূরবর্তী অংশে অবস্থানের সময় পৃথিবী থেকে তাদের দূরত্ব ছিল ২ লাখ ৫২ হাজার ৭৫৭ মাইল। এটি ১৯৭০ সালের অ্যাপোলো-১৩ মিশনের রেকর্ড (২ লাখ ৪৮ হাজার ৬৫৫ মাইল) ভেঙে দিয়েছে।এ ছাড়া ভিক্টর গ্লোভার প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ, ক্রিস্টিনা কোচ প্রথম নারী এবং জেরেমি হ্যানসেন প্রথম অ-মার্কিন নাগরিক হিসেবে চাঁদের কক্ষপথ ভ্রমণের অনন্য ইতিহাস গড়েছেন। নভোচারীরা এই চন্দ্রাভিযানে চন্দ্রপৃষ্ঠে অন্তত ছয়টি উজ্জ্বল উল্কাপাতের ঝলক সরাসরি দেখেছেন।আর্টেমিস-২ অভিযানটি ছিল ২০২৮ সালের মধ্যে চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে মানুষের পদচিহ্ন ফেলার নাসার পরিকল্পনার একটি পরীক্ষামূলক ধাপ। নাসা প্লাস, অ্যামাজন প্রাইম, নেটফ্লিক্স ও অ্যাপল টিভিতে এই ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তন সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।সূত্র: এএফপি ও সিএনএন
১১ এপ্রিল ২০২৬
ষাট গম্বুজ মসজিদ

ষাট গম্বুজ মসজিদ

বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমের জেলা বাগেরহাট। সবুজ শ্যামলিমা আর নদী-খাল বেষ্টিত এই জনপদকে বিশ্বের দরবারে পরিচিতি এনে দিয়েছে একটি অনন্য স্থাপনা – ষাট গম্বুজ মসজিদ। ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী তিনটি স্থানের একটি এই মসজিদ মুসলিম স্থাপত্যের এক অপূর্ব নিদর্শন। যেখানে ইতিহাস, আধ্যাত্মিকতা আর নির্মাণকৌশলের মিলন ঘটেছে চুন-সুরকি আর পাথরের বাঁধনে।ইতিহাসের আঁধার আলো: কে, কবে, কেন?মসজিদটির গায়ে কোনো শিলালিপি নেই। তাই এটি কে নির্মাণ করেছিলেন বা কোন সময়ে নির্মিত হয়েছিল, তা নিয়ে সঠিক তথ্য পাওয়া যায় না। তবে স্থাপত্যশৈলী ঘেঁটে ইতিহাসবিদরা প্রায় নিশ্চিত – এ মসজিদ পীর খানজাহান আলী (রহ.)-এর হাতেই গড়ে উঠেছিল। ধারণা করা হয়, তিনি পঞ্চদশ শতাব্দীর মাঝামাঝি (আনুমানিক ১৪৪২-১৪৫৯ খ্রিস্টাব্দ, অনেকের মতে ১৫০০ শতাব্দীতে) এটি নির্মাণ করেন।সুলতান নাসিরউদ্দিন মাহমুদ শাহের আমলে খান-ই-জাহান সুন্দরবনের কোল ঘেঁষে ‘খলিফাতাবাদ’ রাজ্য গড়ে তোলেন। দরবার ও নামাজের জন্য তিনি একটি বিশাল হল নির্মাণের উদ্যোগ নেন, যা কালক্রমে ‘ষাট গম্বুজ মসজিদ’ নামে পরিচিতি পায়। জনশ্রুতি আছে, মসজিদের পাথর চট্টগ্রাম থেকে আনা হয়েছিল। আবার কেউ কেউ বলেন, ভারতের উড়িষ্যার রাজমহল থেকে অলৌকিক ক্ষমতাবলে জলপথে ভাসিয়ে আনা হয়েছিল। বাস্তবে পাথরগুলো রাজমহল থেকেই আনা – এ নিয়ে ঐতিহাসিকরা একমত।নামকরণের নানা কাহিনিমসজিদটির নাম নিয়েও আছে নানা মত।ষাট গম্বুজ কেন? সংস্কৃত ‘সাত’ ও ফারসি ‘ছাদ’ মিলে ‘ছাদ গম্বুজ’ থেকে কথ্যরূপে ‘ষাট গম্বুজ’ হয়েছে বলে এক মত।আবার অন্য মতে, মসজিদের ভেতরে ছয়টি সারিতে দশটি করে মোট ৬০টি পাথরের স্তম্ভ (খাম্বা) আছে। স্তম্ভের ওপর ছাদ নির্মিত, তাই ‘ষাট খাম্বা’ থেকে ‘ষাট গম্বুজ’।গম্বুজের প্রকৃত সংখ্যা: নাম ‘ষাট গম্বুজ’ হলেও আসলে এখানে গম্বুজ ৬০টি নয়। মূল ভবনে ১১টি সারিতে ৭৭টি গম্বুজ, চার কোণার মিনারের ওপর চারটি গম্বুজ – মোট ৮১টি গম্বুজ। ৭৭টির মধ্যে ৭৪টিই অর্ধগোলাকার, শুধু মাঝের সারির সাতটি দেখতে বাংলার চৌচালা ঘরের চালের মতো।তাই অনেক গবেষক মনে করেন, মসজিদটির আসল নাম হওয়া উচিত ছিল ‘ষাট স্তম্ভ মসজিদ’ – কারণ এখানে প্রধান আকর্ষণ সেই ৬০টি পাথরের স্তম্ভ।স্থাপত্যের অনন্য বুননষাট গম্বুজ মসজিদের স্থাপত্যশৈলীতে মিশেছে মধ্য এশিয়ার তুঘলক (তুরস্ক) ও জৌনপুরী ধারা, আবার রয়েছে স্থানীয় বাংলার ছোঁয়া।আকার ও পরিমাপবাইরের দিক: উত্তর-দক্ষিণে ১৬০ ফুট, পূর্ব-পশ্চিমে ১০৪ ফুট।ভেতরের দিক: উত্তর-দক্ষিণে ১৪৩ ফুট, পূর্ব-পশ্চিমে ৮৮ ফুট।দেয়ালের পুরুত্ব: প্রায় ৮.৫ ফুট। ইটের তৈরি এসব দেয়াল অসাধারণ মজবুত।দরজা ও জানালাপূর্ব দেয়ালে ১১টি খিলানযুক্ত দরজা – মাঝেরটি সবচেয়ে বড়।উত্তর ও দক্ষিণ দেয়ালে ৭টি করে মোট ১৪টি দরজা।এই অসংখ্য দরজা আলো ও বাতাস চলাচলের জন্য তৈরি, তবু ভেতরের দিকটা কিছুটা অন্ধকারাচ্ছন্ন – যা উপাসনার গাম্ভীর্য বাড়ায়।মিনার ও কোঠাচার কোণে চারটি গোলাকার মিনার। এদের চূড়ায় ছোট গম্বুজ। ছাদের কার্নিশের চেয়ে মিনারগুলো কিছুটা উঁচু। সামনের দিকের দুটি মিনারের ভেতর প্যাঁচানো সিঁড়ি – একসময় এখান থেকে আজান দেওয়া হতো।রওশন কোঠা: দক্ষিণ-পূর্ব কোণের বুরুজ – আলো-বাতাসে ভরা।আন্ধার কোঠা: উত্তর-পূর্ব কোণের বুরুজ – তুলনামূলক অন্ধকার।ভেতরের স্তম্ভ ও গম্বুজের জঙ্গলভেতরে ৬০টি পাথরের স্তম্ভ – উত্তর থেকে দক্ষিণে ছয় সারিতে, প্রতিসারিতে দশটি করে। প্রতিটি স্তম্ভ পাথর কেটে বানানো, তবে পাঁচটি স্তম্ভ পরে ইট দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। এই স্তম্ভের ওপর ভর করেই গম্বুজগুলো দাঁড়িয়ে। এক কথায়, এটি খিলান-স্তম্ভ-গম্বুজের এক বিস্ময়কর সমন্বয়।মিহরাব ও মিম্বারপশ্চিম দেয়ালে ১০টি মিহরাব। মাঝের মিহরাবটি সবচেয়ে বড় ও কারুকার্যপূর্ণ। এর দক্ষিণে ৫টি, উত্তরে ৪টি মিহরাব। উত্তরে যেখানে একটি মিহরাব থাকার কথা, সেখানে রয়েছে একটি ছোট দরজা – অনেকে মনে করেন, এটি খানজাহান আলীর দরবার হলের প্রবেশপথ ছিল। ইমামের বসার জন্য রয়েছে পাথরের মিম্বার।রডবিহীন নির্মাণসবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো – এই মসজিদে কোনো লোহার রড ব্যবহার করা হয়নি। শুধু চুন, সুরকি, কালো পাথর ও ছোট ইট দিয়ে তৈরি এই কাঠামো প্রায় ৬০০ বছর ধরে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে।ইউনেস্কোর স্বীকৃতি ও বর্তমান অবস্থা১৯৮৩ সালে (অনেক সূত্রে ১৯৮৫) ইউনেস্কো বাগেরহাট শহরটিকেই ‘ঐতিহাসিক মসজিদ শহর’ হিসেবে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের মর্যাদা দেয়। আর এই মর্যাদার কেন্দ্রবিন্দু হলো ষাট গম্বুজ মসজিদ।বর্তমানে মসজিদটি বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর ও ইউনেস্কোর যৌথ তত্ত্বাবধানে সংরক্ষিত। এখনো এখানে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামাতের সাথে আদায় করা হয়। একসঙ্গে মসজিদের ভেতরে প্রায় দুই হাজার মুসল্লি নামাজ পড়তে পারেন।ভ্রমণ তথ্য: কখন, কীভাবে, কত টাকা?প্রবেশ ফিদেশি পর্যটক: ৩০ টাকা (অনেক সূত্রে ২০ টাকাও উল্লেখ আছে – বর্তমানে ৩০ টাকাই বেশি প্রচলিত)মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষার্থী: ১০ টাকাসার্কভুক্ত দেশের নাগরিক: ২০০ টাকাঅন্যান্য বিদেশি: ৫০০ টাকাশিশু (০-১০ বছর) ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী: বিনামূল্যেঅনলাইন টিকেট: চাইলে myGOV ওয়েবসাইট থেকে কিউআর কোডযুক্ত টিকেট কেটে নিতে পারেন।খোলা ও বন্ধের সময়গ্রীষ্মকাল (গরমকাল): সকাল ১০টা – সন্ধ্যা ৬টাশীতকাল: সকাল ৯টা – বিকেল ৫টামধ্যাহ্ন বিরতি: দুপুর ১টা – ১টা ৩০ মিনিট (উভয় মৌসুমে)শুক্রবার বিশেষ বন্ধ: জুমার নামাজের জন্য দুপুর ১২টা ৩০ মিনিট – বিকেল ৩টা ৩০ মিনিটসাপ্তাহিক ছুটি: রোববার সারাদিন বন্ধ (সোমবার দুপুর ২টা থেকে খোলে)টিপস: নামাজের সময় (ফজর, যোহর, আসর, মাগরিব, এশা) স্থানীয় মুসল্লিরা প্রবেশ করতে পারেন বিনামূল্যে। তবে পর্যটকদের নির্ধারিত সময় ও টিকিট মেনে চলতে হবে।মসজিদ চত্বরে জাদুঘরপ্রধান ফটকের ডান পাশে বাগেরহাট জাদুঘর। এখানে খানজাহান আমলের প্রাচীন মুদ্রা, পোড়ামাটির ফলক, অসংখ্য প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন – এমনকি খানজাহানের দিঘির ঐতিহ্যবাহী ‘কালা পাহাড়’ ও ‘ধলা পাহাড়’ কুমিরের মমি সংরক্ষিত আছে।জাদুঘরের সময়: গ্রীষ্মে সকাল ১০টা – সন্ধ্যা ৬টা, শীতে সকাল ৯টা – বিকেল ৫টা।মধ্যাহ্ন বিরতি: দুপুর ১টা – দেড়টা।ছুটি: রোববার সারাদিন।একই টিকিটে জাদুঘর ও মসজিদ কমপ্লেক্স ঘুরতে পারবেন।যাতায়াত: ঢাকা থেকে বাগেরহাটবাসেঢাকার সায়দাবাদ ও গাবতলী বাস টার্মিনাল থেকে নিয়মিত বাস ছাড়ে। উল্লেখযোগ্য পরিবহন: মেঘনা, বনফুল, ফাল্গুনী, আরা, পর্যটক, বলেশ্বর, হামিম, দোলা, সোহাগ, শাকুরা, হানিফ, কমফোর্ট লাইন, ঈগল।ভাড়া: ৬৫০-৮০০ টাকা (প্রতি জন)।সময়: সকাল ৬টা-১০টা এবং সন্ধ্যা ৭টা-রাত ১০টা পর্যন্ত ছাড়ে।বাগেরহাট বাসস্ট্যান্ড নেমে রিকশা বা সিএনজি নিলে ৩০-৪০ টাকায় পৌঁছে যাবেন ষাট গম্বুজ মসজিদে (সুন্দরঘোনা গ্রাম, খুলনা-বাগেরহাট মহাসড়কের উত্তর পাশে)।ট্রেনেঢাকা থেকে সুন্দরবন এক্সপ্রেস খুলগামী ট্রেনে খুলনা যান। সেখান থেকে বাস বা সিএনজিতে বাগেরহাট (সময় লাগে ১-১.৫ ঘণ্টা)।কোথায় থাকবেন?বাগেরহাটে তেমন বিলাসবহুল হোটেল নেই, তবে মাঝারি মানের থাকার জায়গা আছে।রেল রোডে মমতাজ হোটেল – সুযোগ-সুবিধা কম, কিন্তু সেবা ভালো। খরচ তুলনামূলক বেশি।খান জাহান আলীর মাজারের সামনে হোটেল অভি – মেইন হাইওয়েতে অবস্থিত।কেন্দ্রীয় বাসস্টেশন সংলগ্ন হোটেল আল আমিন এবং কর্মকার পট্টিতে হোটেল মোহনা।খুলনা খুব কাছে বলে চাইলে খুলনা গিয়েও রাত কাটাতে পারেন।খাওয়ার ব্যবস্থাবাসস্ট্যান্ড ও দরগার আশপাশে কয়েকটি মোটামুটি মানের হোটেল আছে। তবে দাম ও মান সম্পর্কে আগে জেনে নেওয়া ভালো। স্থানীয় মাছ ও ভাত খেতে পারেন – বাগেরহাটের ইলিশ বেশ有名।দক্ষিণাঞ্চলের সর্ববৃহৎ ঈদের জামাতষাট গম্বুজ মসজিদ শুধু একটি পর্যটন কেন্দ্র নয় – এটি জীবন্ত একটি উপাসনালয়। প্রতি ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহায় এখানে দেশ-বিদেশের প্রায় অর্ধলাখ মুসল্লি জড়ো হন। এটি দক্ষিণাঞ্চলের সর্ববৃহৎ ঈদের জামাত। রমজান মাসে দুই হাফেজ খতম তারাবির নামাজ পড়ান এবং মুসল্লিদের জন্য ইফতারের ব্যবস্থা থাকে।আশপাশের দর্শনীয় স্থানমসজিদ ঘুরে সময় থাকলে আরও কয়েকটি স্থান দেখতে পারেন:বিবি বেগনির মসজিদ (৫০০ মিটার পেছনে) – ফুলের কারুকার্যময়।চুনাখোলা মসজিদ (বিবি বেগনির আরও ৫০০ মিটার পেছনে)।সিঙ্গাইর মসজিদ (মহাসড়কের পাশে)।নয় গম্বুজ মসজিদখান জাহান আলীর মাজারঘোড়া দিঘি ও রণবিজয়পুর দিঘিমোংলা বন্দর (চাইলে সুন্দরবন যাতায়াতের গেটওয়ে)।ভ্রমণে যা মেনে চলবেনহালকা ও আরামদায়ক পোশাক পরুন – সুতির কাপড় উত্তম।পর্যাপ্ত পানি, বিস্কুট, মুড়ি, চিড়া ইত্যাদি সঙ্গে রাখুন।মোবাইলের চার্জার ও পাওয়ার ব্যাংক নিতে ভুলবেন না।জ্বর, সর্দি, গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ ও স্যালাইন রাখুন।মসজিদে প্রবেশের আগে জুতা বাইরে রেখে পায়ে মোজা পরে প্রবেশ করুন।নামাজরত মুসল্লিদের বিরক্ত করবেন না। নির্ধারিত পর্যটক এলাকায় ঘুরুন।টিকিট কাটার পর জাদুঘর দেখতে ভুলবেন না – এটি একই ফিতে।শেষকথাষাট গম্বুজ মসজিদ শুধু পাথর-চুন-সুরকির গাঁথনি নয়; এটি বাংলার ইতিহাস, সংস্কৃতি ও মুসলিম স্থাপত্যের এক জীবন্ত দলিল। এখানে দাঁড়ালে সময় থমকে দাঁড়ায়। শুনতে পাবেন খানজাহানের আজানের প্রতিধ্বনি, দেখতে পাবেন অর্ধগোলাকার গম্বুজের সারি মেঘ ছুঁতে চায়।আপনিও একবার চলে আসুন বাগেরহাটে। ষাট গম্বুজের ছায়ায় দাঁড়ান। ইতিহাসের স্পর্শ নিন। আর এই অসাধারণ স্থাপত্যের সাক্ষী হয়ে ফিরে আসুন – নতুন এক অভিজ্ঞতা নিয়ে।
১৫ মার্চ ২০২৬
ষাট গম্বুজ মসজিদ

ষাট গম্বুজ মসজিদ

বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমের জেলা বাগেরহাট। সবুজ শ্যামলিমা আর নদী-খাল বেষ্টিত এই জনপদকে বিশ্বের দরবারে পরিচিতি এনে দিয়েছে একটি অনন্য স্থাপনা – ষাট গম্বুজ মসজিদ। ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী তিনটি স্থানের একটি এই মসজিদ মুসলিম স্থাপত্যের এক অপূর্ব নিদর্শন। যেখানে ইতিহাস, আধ্যাত্মিকতা আর নির্মাণকৌশলের মিলন ঘটেছে চুন-সুরকি আর পাথরের বাঁধনে।ইতিহাসের আঁধার আলো: কে, কবে, কেন?মসজিদটির গায়ে কোনো শিলালিপি নেই। তাই এটি কে নির্মাণ করেছিলেন বা কোন সময়ে নির্মিত হয়েছিল, তা নিয়ে সঠিক তথ্য পাওয়া যায় না। তবে স্থাপত্যশৈলী ঘেঁটে ইতিহাসবিদরা প্রায় নিশ্চিত – এ মসজিদ পীর খানজাহান আলী (রহ.)-এর হাতেই গড়ে উঠেছিল। ধারণা করা হয়, তিনি পঞ্চদশ শতাব্দীর মাঝামাঝি (আনুমানিক ১৪৪২-১৪৫৯ খ্রিস্টাব্দ, অনেকের মতে ১৫০০ শতাব্দীতে) এটি নির্মাণ করেন।সুলতান নাসিরউদ্দিন মাহমুদ শাহের আমলে খান-ই-জাহান সুন্দরবনের কোল ঘেঁষে ‘খলিফাতাবাদ’ রাজ্য গড়ে তোলেন। দরবার ও নামাজের জন্য তিনি একটি বিশাল হল নির্মাণের উদ্যোগ নেন, যা কালক্রমে ‘ষাট গম্বুজ মসজিদ’ নামে পরিচিতি পায়। জনশ্রুতি আছে, মসজিদের পাথর চট্টগ্রাম থেকে আনা হয়েছিল। আবার কেউ কেউ বলেন, ভারতের উড়িষ্যার রাজমহল থেকে অলৌকিক ক্ষমতাবলে জলপথে ভাসিয়ে আনা হয়েছিল। বাস্তবে পাথরগুলো রাজমহল থেকেই আনা – এ নিয়ে ঐতিহাসিকরা একমত।নামকরণের নানা কাহিনিমসজিদটির নাম নিয়েও আছে নানা মত।ষাট গম্বুজ কেন? সংস্কৃত ‘সাত’ ও ফারসি ‘ছাদ’ মিলে ‘ছাদ গম্বুজ’ থেকে কথ্যরূপে ‘ষাট গম্বুজ’ হয়েছে বলে এক মত।আবার অন্য মতে, মসজিদের ভেতরে ছয়টি সারিতে দশটি করে মোট ৬০টি পাথরের স্তম্ভ (খাম্বা) আছে। স্তম্ভের ওপর ছাদ নির্মিত, তাই ‘ষাট খাম্বা’ থেকে ‘ষাট গম্বুজ’।গম্বুজের প্রকৃত সংখ্যা: নাম ‘ষাট গম্বুজ’ হলেও আসলে এখানে গম্বুজ ৬০টি নয়। মূল ভবনে ১১টি সারিতে ৭৭টি গম্বুজ, চার কোণার মিনারের ওপর চারটি গম্বুজ – মোট ৮১টি গম্বুজ। ৭৭টির মধ্যে ৭৪টিই অর্ধগোলাকার, শুধু মাঝের সারির সাতটি দেখতে বাংলার চৌচালা ঘরের চালের মতো।তাই অনেক গবেষক মনে করেন, মসজিদটির আসল নাম হওয়া উচিত ছিল ‘ষাট স্তম্ভ মসজিদ’ – কারণ এখানে প্রধান আকর্ষণ সেই ৬০টি পাথরের স্তম্ভ।স্থাপত্যের অনন্য বুননষাট গম্বুজ মসজিদের স্থাপত্যশৈলীতে মিশেছে মধ্য এশিয়ার তুঘলক (তুরস্ক) ও জৌনপুরী ধারা, আবার রয়েছে স্থানীয় বাংলার ছোঁয়া।আকার ও পরিমাপবাইরের দিক: উত্তর-দক্ষিণে ১৬০ ফুট, পূর্ব-পশ্চিমে ১০৪ ফুট।ভেতরের দিক: উত্তর-দক্ষিণে ১৪৩ ফুট, পূর্ব-পশ্চিমে ৮৮ ফুট।দেয়ালের পুরুত্ব: প্রায় ৮.৫ ফুট। ইটের তৈরি এসব দেয়াল অসাধারণ মজবুত।দরজা ও জানালাপূর্ব দেয়ালে ১১টি খিলানযুক্ত দরজা – মাঝেরটি সবচেয়ে বড়।উত্তর ও দক্ষিণ দেয়ালে ৭টি করে মোট ১৪টি দরজা।এই অসংখ্য দরজা আলো ও বাতাস চলাচলের জন্য তৈরি, তবু ভেতরের দিকটা কিছুটা অন্ধকারাচ্ছন্ন – যা উপাসনার গাম্ভীর্য বাড়ায়।মিনার ও কোঠাচার কোণে চারটি গোলাকার মিনার। এদের চূড়ায় ছোট গম্বুজ। ছাদের কার্নিশের চেয়ে মিনারগুলো কিছুটা উঁচু। সামনের দিকের দুটি মিনারের ভেতর প্যাঁচানো সিঁড়ি – একসময় এখান থেকে আজান দেওয়া হতো।রওশন কোঠা: দক্ষিণ-পূর্ব কোণের বুরুজ – আলো-বাতাসে ভরা।আন্ধার কোঠা: উত্তর-পূর্ব কোণের বুরুজ – তুলনামূলক অন্ধকার।ভেতরের স্তম্ভ ও গম্বুজের জঙ্গলভেতরে ৬০টি পাথরের স্তম্ভ – উত্তর থেকে দক্ষিণে ছয় সারিতে, প্রতিসারিতে দশটি করে। প্রতিটি স্তম্ভ পাথর কেটে বানানো, তবে পাঁচটি স্তম্ভ পরে ইট দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। এই স্তম্ভের ওপর ভর করেই গম্বুজগুলো দাঁড়িয়ে। এক কথায়, এটি খিলান-স্তম্ভ-গম্বুজের এক বিস্ময়কর সমন্বয়।মিহরাব ও মিম্বারপশ্চিম দেয়ালে ১০টি মিহরাব। মাঝের মিহরাবটি সবচেয়ে বড় ও কারুকার্যপূর্ণ। এর দক্ষিণে ৫টি, উত্তরে ৪টি মিহরাব। উত্তরে যেখানে একটি মিহরাব থাকার কথা, সেখানে রয়েছে একটি ছোট দরজা – অনেকে মনে করেন, এটি খানজাহান আলীর দরবার হলের প্রবেশপথ ছিল। ইমামের বসার জন্য রয়েছে পাথরের মিম্বার।রডবিহীন নির্মাণসবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো – এই মসজিদে কোনো লোহার রড ব্যবহার করা হয়নি। শুধু চুন, সুরকি, কালো পাথর ও ছোট ইট দিয়ে তৈরি এই কাঠামো প্রায় ৬০০ বছর ধরে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে।ইউনেস্কোর স্বীকৃতি ও বর্তমান অবস্থা১৯৮৩ সালে (অনেক সূত্রে ১৯৮৫) ইউনেস্কো বাগেরহাট শহরটিকেই ‘ঐতিহাসিক মসজিদ শহর’ হিসেবে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের মর্যাদা দেয়। আর এই মর্যাদার কেন্দ্রবিন্দু হলো ষাট গম্বুজ মসজিদ।বর্তমানে মসজিদটি বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর ও ইউনেস্কোর যৌথ তত্ত্বাবধানে সংরক্ষিত। এখনো এখানে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামাতের সাথে আদায় করা হয়। একসঙ্গে মসজিদের ভেতরে প্রায় দুই হাজার মুসল্লি নামাজ পড়তে পারেন।ভ্রমণ তথ্য: কখন, কীভাবে, কত টাকা?প্রবেশ ফিদেশি পর্যটক: ৩০ টাকা (অনেক সূত্রে ২০ টাকাও উল্লেখ আছে – বর্তমানে ৩০ টাকাই বেশি প্রচলিত)মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষার্থী: ১০ টাকাসার্কভুক্ত দেশের নাগরিক: ২০০ টাকাঅন্যান্য বিদেশি: ৫০০ টাকাশিশু (০-১০ বছর) ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী: বিনামূল্যেঅনলাইন টিকেট: চাইলে myGOV ওয়েবসাইট থেকে কিউআর কোডযুক্ত টিকেট কেটে নিতে পারেন।খোলা ও বন্ধের সময়গ্রীষ্মকাল (গরমকাল): সকাল ১০টা – সন্ধ্যা ৬টাশীতকাল: সকাল ৯টা – বিকেল ৫টামধ্যাহ্ন বিরতি: দুপুর ১টা – ১টা ৩০ মিনিট (উভয় মৌসুমে)শুক্রবার বিশেষ বন্ধ: জুমার নামাজের জন্য দুপুর ১২টা ৩০ মিনিট – বিকেল ৩টা ৩০ মিনিটসাপ্তাহিক ছুটি: রোববার সারাদিন বন্ধ (সোমবার দুপুর ২টা থেকে খোলে)টিপস: নামাজের সময় (ফজর, যোহর, আসর, মাগরিব, এশা) স্থানীয় মুসল্লিরা প্রবেশ করতে পারেন বিনামূল্যে। তবে পর্যটকদের নির্ধারিত সময় ও টিকিট মেনে চলতে হবে।মসজিদ চত্বরে জাদুঘরপ্রধান ফটকের ডান পাশে বাগেরহাট জাদুঘর। এখানে খানজাহান আমলের প্রাচীন মুদ্রা, পোড়ামাটির ফলক, অসংখ্য প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন – এমনকি খানজাহানের দিঘির ঐতিহ্যবাহী ‘কালা পাহাড়’ ও ‘ধলা পাহাড়’ কুমিরের মমি সংরক্ষিত আছে।জাদুঘরের সময়: গ্রীষ্মে সকাল ১০টা – সন্ধ্যা ৬টা, শীতে সকাল ৯টা – বিকেল ৫টা।মধ্যাহ্ন বিরতি: দুপুর ১টা – দেড়টা।ছুটি: রোববার সারাদিন।একই টিকিটে জাদুঘর ও মসজিদ কমপ্লেক্স ঘুরতে পারবেন।যাতায়াত: ঢাকা থেকে বাগেরহাটবাসেঢাকার সায়দাবাদ ও গাবতলী বাস টার্মিনাল থেকে নিয়মিত বাস ছাড়ে। উল্লেখযোগ্য পরিবহন: মেঘনা, বনফুল, ফাল্গুনী, আরা, পর্যটক, বলেশ্বর, হামিম, দোলা, সোহাগ, শাকুরা, হানিফ, কমফোর্ট লাইন, ঈগল।ভাড়া: ৬৫০-৮০০ টাকা (প্রতি জন)।সময়: সকাল ৬টা-১০টা এবং সন্ধ্যা ৭টা-রাত ১০টা পর্যন্ত ছাড়ে।বাগেরহাট বাসস্ট্যান্ড নেমে রিকশা বা সিএনজি নিলে ৩০-৪০ টাকায় পৌঁছে যাবেন ষাট গম্বুজ মসজিদে (সুন্দরঘোনা গ্রাম, খুলনা-বাগেরহাট মহাসড়কের উত্তর পাশে)।ট্রেনেঢাকা থেকে সুন্দরবন এক্সপ্রেস খুলগামী ট্রেনে খুলনা যান। সেখান থেকে বাস বা সিএনজিতে বাগেরহাট (সময় লাগে ১-১.৫ ঘণ্টা)।কোথায় থাকবেন?বাগেরহাটে তেমন বিলাসবহুল হোটেল নেই, তবে মাঝারি মানের থাকার জায়গা আছে।রেল রোডে মমতাজ হোটেল – সুযোগ-সুবিধা কম, কিন্তু সেবা ভালো। খরচ তুলনামূলক বেশি।খান জাহান আলীর মাজারের সামনে হোটেল অভি – মেইন হাইওয়েতে অবস্থিত।কেন্দ্রীয় বাসস্টেশন সংলগ্ন হোটেল আল আমিন এবং কর্মকার পট্টিতে হোটেল মোহনা।খুলনা খুব কাছে বলে চাইলে খুলনা গিয়েও রাত কাটাতে পারেন।খাওয়ার ব্যবস্থাবাসস্ট্যান্ড ও দরগার আশপাশে কয়েকটি মোটামুটি মানের হোটেল আছে। তবে দাম ও মান সম্পর্কে আগে জেনে নেওয়া ভালো। স্থানীয় মাছ ও ভাত খেতে পারেন – বাগেরহাটের ইলিশ বেশ有名।দক্ষিণাঞ্চলের সর্ববৃহৎ ঈদের জামাতষাট গম্বুজ মসজিদ শুধু একটি পর্যটন কেন্দ্র নয় – এটি জীবন্ত একটি উপাসনালয়। প্রতি ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহায় এখানে দেশ-বিদেশের প্রায় অর্ধলাখ মুসল্লি জড়ো হন। এটি দক্ষিণাঞ্চলের সর্ববৃহৎ ঈদের জামাত। রমজান মাসে দুই হাফেজ খতম তারাবির নামাজ পড়ান এবং মুসল্লিদের জন্য ইফতারের ব্যবস্থা থাকে।আশপাশের দর্শনীয় স্থানমসজিদ ঘুরে সময় থাকলে আরও কয়েকটি স্থান দেখতে পারেন:বিবি বেগনির মসজিদ (৫০০ মিটার পেছনে) – ফুলের কারুকার্যময়।চুনাখোলা মসজিদ (বিবি বেগনির আরও ৫০০ মিটার পেছনে)।সিঙ্গাইর মসজিদ (মহাসড়কের পাশে)।নয় গম্বুজ মসজিদখান জাহান আলীর মাজারঘোড়া দিঘি ও রণবিজয়পুর দিঘিমোংলা বন্দর (চাইলে সুন্দরবন যাতায়াতের গেটওয়ে)।ভ্রমণে যা মেনে চলবেনহালকা ও আরামদায়ক পোশাক পরুন – সুতির কাপড় উত্তম।পর্যাপ্ত পানি, বিস্কুট, মুড়ি, চিড়া ইত্যাদি সঙ্গে রাখুন।মোবাইলের চার্জার ও পাওয়ার ব্যাংক নিতে ভুলবেন না।জ্বর, সর্দি, গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ ও স্যালাইন রাখুন।মসজিদে প্রবেশের আগে জুতা বাইরে রেখে পায়ে মোজা পরে প্রবেশ করুন।নামাজরত মুসল্লিদের বিরক্ত করবেন না। নির্ধারিত পর্যটক এলাকায় ঘুরুন।টিকিট কাটার পর জাদুঘর দেখতে ভুলবেন না – এটি একই ফিতে।শেষকথাষাট গম্বুজ মসজিদ শুধু পাথর-চুন-সুরকির গাঁথনি নয়; এটি বাংলার ইতিহাস, সংস্কৃতি ও মুসলিম স্থাপত্যের এক জীবন্ত দলিল। এখানে দাঁড়ালে সময় থমকে দাঁড়ায়। শুনতে পাবেন খানজাহানের আজানের প্রতিধ্বনি, দেখতে পাবেন অর্ধগোলাকার গম্বুজের সারি মেঘ ছুঁতে চায়।আপনিও একবার চলে আসুন বাগেরহাটে। ষাট গম্বুজের ছায়ায় দাঁড়ান। ইতিহাসের স্পর্শ নিন। আর এই অসাধারণ স্থাপত্যের সাক্ষী হয়ে ফিরে আসুন – নতুন এক অভিজ্ঞতা নিয়ে।
গণবার্তা ফিচার