ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ১১ ডিসেম্বর ২০২৫
গণবার্তা
সর্বশেষ

ভোজ্যতেলের দাম বাড়ল, সোমবার থেকে কার্যকর

দেশের বাজারে আবারও বাড়ল ভোজ্যতেলের দাম। বোতলজাত ও খোলা সয়াবিন তেলের পাশাপাশি পাম তেলের দামও বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে ব্যবসায়ীদের সংগঠন বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন। নতুন দাম আগামীকাল সোমবার (৮ ডিসেম্বর) থেকে কার্যকর হবে।সংগঠনের আজ রোববার (৭ ডিসেম্বর) দেওয়া সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে—বোতলজাত সয়াবিন তেল: প্রতি লিটার ৬ টাকা বেড়ে ১৯৫ টাকা।খোলা সয়াবিন তেল: প্রতি লিটার ৭ টাকা বেড়ে ১৭৬ টাকা।পাঁচ লিটার সয়াবিন তেল: ৩৩ টাকা বেড়ে ৯৫৫ টাকা।খোলা পাম তেল: প্রতি লিটার ১৬৬ টাকা নির্ধারণ।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্যতেলের দাম বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে এ মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে।৪ ডিসেম্বর বাণিজ্য মন্ত্রণালয় আমদানিকারক ও বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বৈঠক করলেও তখন দাম পরিবর্তন নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। পরে আজ (রোববার) আবার বৈঠক ডাকা হয় এবং সেখানেই ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়।নতুন এ দাম কার্যকর হলে সাধারণ ভোক্তার নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয়ে চাপ বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
০৭ ডিসেম্বর ২০২৫

এনসিপি–এবি পার্ট–রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন মিলে নতুন রাজনৈতিক জোট ‘গণতান্ত্রিক সংস্কার জোট’

বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন জোটের আত্মপ্রকাশ ঘটেছে। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্ট) ও রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সমন্বয়ে ‘গণতান্ত্রিক সংস্কার জোট’ নামে নতুন রাজনৈতিক জোট গঠনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।রোববার (৭ ডিসেম্বর) বিকেলে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) মিলনায়তনে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।ঘোষণার সময় নাহিদ ইসলাম বলেন, জুলাইয়ের গণ–অভ্যুত্থানের পর দেশের পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন ও ‘পুরোনো রাজনীতির পুনরাবৃত্তি ঠেকানোর’ লক্ষ্য নিয়ে এই জোট গঠিত হয়েছে।তিনি বলেন, “গণতান্ত্রিক সংস্কার জোট শুধু নির্বাচনী জোট নয়—এটি একটি রাজনৈতিক জোট। জাতীয় মর্যাদা ও অর্থনৈতিক মুক্তির প্রশ্নকে সামনে রেখে আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়েছি।”নাহিদ ইসলাম আরও জানান, জোটটি আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা করছে এবং দেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা বজায় রাখতে কাজ করবে।সংবাদ সম্মেলনে এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু এবং রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সভাপতি হাসনাত কাইয়ুম উপস্থিত ছিলেন। তারা নতুন জোটকে দেশের প্রয়োজনীয় রাজনৈতিক সংস্কারের একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে দেখার কথা জানান।জুলাই মাসের গণ–অভ্যুত্থানের পর দেশে রাজনৈতিক পুনর্বিন্যাসের আলোচনা জোরদার হয়। এমন প্রেক্ষাপটে তিন রাজনৈতিক সংগঠন এক হয়ে নতুন জোটের ঘোষণা করলো।গণতান্ত্রিক সংস্কার জোটের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শিগগিরই শুরু হবে বলে জানা গেছে।
০৭ ডিসেম্বর ২০২৫

২০২৬ বিশ্বকাপের ড্র প্রকাশ: কোন গ্রুপে কারা খেলছে দেখুন

২০২২ বিশ্বকাপে সাড়া জাগানো মরক্কো এবারও এসেছে দারুণ ফর্মে। স্পেন–পর্তুগালের মতো জায়ান্টদের হারিয়ে কোয়ার্টার–সেমির গল্প যাঁরা লিখেছিল, সেই আফ্রিকান সিংহরা এবার পড়েছে পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের গ্রুপে। অন্যদিকে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা পেয়েছে তুলনামূলকভাবে সহজ গ্রুপ।শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসির কেনেডি সেন্টারে যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডার যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয় ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ড্র। ৪৮ দলের বিশাল এই আসরের গ্রুপ বিভাজন প্রকাশ হতেই ফুটবলপাগলদের কৌতূহল আরও বেড়ে গেছে।মেসির শেষ বিশ্বকাপ, আর্জেন্টিনার সহজ গ্রুপলিওনেল মেসির সম্ভাব্য শেষ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা পড়েছে জে গ্রুপে। তাদের সঙ্গী— অস্ট্রিয়া আলজেরিয়া জর্ডান কাগজে-কলমে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের জন্য গ্রুপটি বেশ অনুকূলই বলা যায়।ব্রাজিলের গ্রুপে মরক্কোব্রাজিলকে জায়গা দেওয়া হয়েছে সি গ্রুপে। সেখানে আছে— মরক্কো স্কটল্যান্ড হাইতি মরক্কো থাকায় লড়াই জমলেও গ্রুপটিকে অসম্ভব কঠিন বলা যাচ্ছে না।স্পেন পেল স্বস্তির নিঃশ্বাসস্পেন, সৌদি আরব ও উরুগুয়েকে নিয়ে এইচ গ্রুপ শুরুতে ‘মৃত্যুকূপে’র আভাস দিচ্ছিল। তবে শেষ মুহূর্তে কেপ ভার্দে আসায় চাপে কিছুটা কমে লা রোহাদের।গ্রুপ পর্ব থেকে ৩২ দল নকআউটেপ্রতিটি গ্রুপ থেকে প্রথম দুটি দল সরাসরি নকআউটে উঠবে। পাশাপাশি সেরা ৮টি তৃতীয় দলও যাবে শেষ ৩২-এর রাউন্ডে—যা গ্রুপ পর্বের লড়াইকে আরও উন্মুক্ত করেছে।এক নজরে ২০২৬ বিশ্বকাপের সব গ্রুপগ্রুপ এ:মেক্সিকো, দক্ষিণ কোরিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, ইউরোপিয়ান প্লে-অফ ডি (ডেনমার্ক/চেক প্রজাতন্ত্র/আয়ারল্যান্ড/উত্তর মেসিডোনিয়া)গ্রুপ বি:কানাডা, সুইজারল্যান্ড, কাতার, ইউরোপিয়ান প্লে-অফ এ (ইতালি/ওয়েলস/বসনিয়া-হার্জেগোভিনা/নর্দার্ন আয়ারল্যান্ড)গ্রুপ সি:ব্রাজিল, মরক্কো, স্কটল্যান্ড, হাইতিগ্রুপ ডি:যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, প্যারাগুয়ে, ইউরোপিয়ান প্লে-অফ সি (তুরস্ক/স্লোভাকিয়া/কসোভো/রোমানিয়া)গ্রুপ ই:জার্মানি, ইকুয়েডর, আইভরি কোস্ট, কুরাসাওগ্রুপ এফ:নেদারল্যান্ডস, জাপান, তিউনিসিয়া, ইউরোপিয়ান প্লে-অফ বি (ইউক্রেন/পোল্যান্ড/আলবেনিয়া/সুইডেন)গ্রুপ জি:বেলজিয়াম, ইরান, মিশর, নিউজিল্যান্ডগ্রুপ এইচ:স্পেন, উরুগুয়ে, সৌদি আরব, কেপ ভার্দেগ্রুপ আই:ফ্রান্স, সেনেগাল, নরওয়ে, আন্তঃমহাদেশীয় প্লে-অফ ১ (ইরাক/বলিভিয়া/সুরিনাম)গ্রুপ জে:আর্জেন্টিনা, অস্ট্রিয়া, আলজেরিয়া, জর্ডানগ্রুপ কে:পর্তুগাল, কলম্বিয়া, উজবেকিস্তান, আন্তঃমহাদেশীয় প্লে-অফ ২ (কঙ্গো ডিআর/জ্যামাইকা/নিউ ক্যালেডোনিয়া)গ্রুপ এল: ইংল্যান্ড, ক্রোয়েশিয়া, পানামা, ঘানা
০৬ ডিসেম্বর ২০২৫
ইউরোফাইটার টাইফুন যুদ্ধবিমান কিনছে বাংলাদেশ

ইউরোফাইটার টাইফুন যুদ্ধবিমান কিনছে বাংলাদেশ

বাংলাদেশ বিমান বাহিনীকে আধুনিক, শক্তিশালী ও যুগোপযোগী করতে ইতালি থেকে অত্যাধুনিক Eurofighter Typhoon যুদ্ধবিমান সংগ্রহের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ও ইতালির প্রতিরক্ষা ও মহাকাশ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান Leonardo S.p.A–এর মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ Letter of Intent (LOI) স্বাক্ষরিত হয়েছে।মঙ্গলবার ০৯ ডিসেম্বর ২০২৫, আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিমান বাহিনী সদর দপ্তরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সম্মানিত বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চীফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন, বিবিপি, ওএসপি, জিইউপি, এনএসডব্লিউসি, পিএসসি এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত ইতালির রাষ্ট্রদূত H.E. Antonio Alessandro–এর উপস্থিতিতে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ও Leonardo S.p.A Italy–এর মধ্যে LOI স্বাক্ষরিত হয়।অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার এবং ইতালির সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিগণ।আইএসপিআর জানায়, বাংলাদেশের আকাশ প্রতিরক্ষা আরও শক্তিশালী করতে এবং সামনের সারির যুদ্ধ প্রস্তুতি বাড়াতে বহুমুখী সক্ষমতাসম্পন্ন Multi-Role Combat Aircraft (MRCA) সংগ্রহের অংশ হিসেবে এই LOI স্বাক্ষর করা হয়েছে। LOI–এর আওতায় Leonardo S.p.A বাংলাদেশ বিমান বাহিনীকে Eurofighter Typhoon যুদ্ধবিমান সরবরাহ করবে।ইউরোফাইটার টাইফুন ডেল্টা উইং–বিশিষ্ট মাল্টিরোল যুদ্ধবিমান, যা যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ইতালি ও স্পেনের সমন্বিত কনসোর্টিয়ামে তৈরি। এটি আকাশ থেকে আকাশে যুদ্ধ, নির্ভুল স্থল আক্রমণ, উচ্চ গতির প্রতিরক্ষা প্রতিক্রিয়া এবং দীর্ঘ পাল্লার মিশন পরিচালনায় সক্ষম। বিশ্বের বহু দেশ যেমন জার্মানি, ইতালি, যুক্তরাজ্য, সৌদি আরব ও কাতার তাদের বিমান বাহিনীতে Eurofighter Typhoon ব্যবহার করছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বাংলাদেশ বিমান বাহিনীতে এই যুদ্ধবিমান যুক্ত হলে দেশের আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতায় এক যুগান্তকারী অগ্রগতি ঘটবে।
০৯ ডিসেম্বর ২০২৫
পাক-আফগান সীমান্তে ফের উত্তেজনা, মধ্যরাতে ব্যাপক গোলাগুলি

পাক-আফগান সীমান্তে ফের উত্তেজনা, মধ্যরাতে ব্যাপক গোলাগুলি

থামছেই না পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা। দুই দেশের ব্যর্থ শান্তি আলোচনা শেষে আবারও সীমান্তে শুরু হয়েছে গোলাগুলি। শনিবার (৬ ডিসেম্বর) মধ্যরাতে কান্দাহার-চামান সীমান্ত এলাকায় দুই দেশের সেনাদের মধ্যে তীব্র গুলি বিনিময়ের ঘটনা ঘটে।দুই পক্ষই গোলাগুলির বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।দুই দেশের ভিন্ন দাবিআফগান তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ জানান, পাকিস্তানি বাহিনী প্রথমে কান্দাহারের বোলদাক এলাকায় হামলা চালায়। অন্যদিকে পাকিস্তান বলছে, আফগান সীমান্তরক্ষীরা চামান এলাকায় ‘বিনা উস্কানিতে’ গুলি ছুড়েছে।পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্র মোশাররফ জাইদি এক বিবৃতিতে বলেন, “পাকিস্তান পুরোপুরি সতর্ক আছে। আমরা আমাদের ভৌগোলিক অখণ্ডতা এবং নাগরিকদের নিরাপত্তার ব্যাপারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”আলোচনা ব্যর্থ, প্রতিশ্রুতির পরও গোলাগুলিমাত্র দুই দিন আগে সৌদি আরবে শান্তি আলোচনায় বসেছিল ইসলামাবাদ ও কাবুল। তবে কোনো অগ্রগতি হয়নি। আলোচনার পর দুই দেশ যুদ্ধবিরতি বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দিলেও সীমান্তে ফের গোলাগুলি পরিস্থিতিকে উত্তপ্ত করে তুলেছে।সাম্প্রতিক হামলা নিয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগপাকিস্তান দাবি করছে, সাম্প্রতিক সময়ে দেশটিতে হওয়া কয়েকটি আত্মঘাতী ও সন্ত্রাসী হামলায় আফগান নাগরিকরা তালেবান সরকারের মদদে জড়িত। তবে আফগানিস্তান এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তারা বলছে, পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা পরিস্থিতির দায় তাদের ওপর চাপানো ঠিক নয়।পটভূমি২০২১ সালে মার্কিন ও পশ্চিমা বাহিনী প্রত্যাহারের পর আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখল করে তালেবান। এরপর থেকেই দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছে। গত অক্টোবরে দুই পক্ষের বড় ধরনের সংঘর্ষে কয়েকশ মানুষের প্রাণহানি ঘটে। সূত্র: রয়টার্স
০৬ ডিসেম্বর ২০২৫
প্রতিদিন গরম লেবু পানি: স্বাস্থ্যের জন্য সহজ এক সোনালী অভ্যাস

প্রতিদিন গরম লেবু পানি: স্বাস্থ্যের জন্য সহজ এক সোনালী অভ্যাস

সকালবেলার খালি পেটে এক গ্লাস গরম লেবু পানি খাওয়ার অভ্যাস বহু স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের কাছে সুপারিশযোগ্য। এটি শরীরকে সতেজ রাখার পাশাপাশি নানা রকম স্বাস্থ্য উপকারও দেয়।হজম শক্তি বৃদ্ধি করেগরম লেবু পানি হজম প্রক্রিয়াকে উদ্দীপিত করে। এতে থাকা প্রাকৃতিক অ্যাসিড খাবার দ্রুত ভেঙে হজমে সহায়তা করে। যারা কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা ভোগে, তাদের জন্য এটি কার্যকর।ডিটক্সিফিকেশন বা শরীরের টক্সিন দূর করেলেবুর মধ্যে থাকা ভিটামিন সি ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের টক্সিন দূর করতে সাহায্য করে। নিয়মিত গ্রহণে লিভারের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি পায় এবং শরীরের অভ্যন্তরীণ পরিচ্ছন্নতা বজায় থাকে।ত্বক ও চামড়ার উজ্জ্বলতাগরম লেবু পানি ত্বকের জন্য প্রাকৃতিক বুস্টার। এতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট চামড়ার ক্ষতিকর প্রভাব কমায়, দাগ–ছোপ দূর করতে সাহায্য করে এবং ত্বককে সতেজ রাখে।রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়ভিটামিন সি সমৃদ্ধ লেবু শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। সাধারণ সর্দি–কাশি বা ভাইরাসজনিত রোগের ঝুঁকি কমাতে এটি সহায়ক।ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়কগরম লেবু পানি মেটাবলিজম বা দেহের বিপাক প্রক্রিয়া বাড়াতে সাহায্য করে। অতিরিক্ত চর্বি দাহে সহায়ক হিসেবে এটি কাজ করতে পারে।হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্য রক্ষা করেলেবুতে থাকা পটাশিয়াম হৃদযন্ত্রকে শক্ত রাখে। রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ ও হার্টের স্বাভাবিক কাজকর্ম বজায় রাখতে সাহায্য করে।পরামর্শ: প্রতিদিন সকালবেলায় খালি পেটে এক গ্লাস গরম পানি সঙ্গে ১/২ চা চামচ লেবুর রস মেশিয়ে খাওয়া সবচেয়ে কার্যকর। গরম পানিতে লেবু দিতে হবে, কিন্তু ফুটন্ত পানি নয়, কারণ অতিরিক্ত গরমে ভিটামিন সি নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
২৯ নভেম্বর ২০২৫
২৯ নভেম্বর ২০২৫, ০৩:২১ পিএম
আপনি কি মনে করেন, সঠিক সময়ে ৫ ওয়াক্ত নামাজ আদায় মানুষের জীবনে প্রভাব ফেলে?

আপনি কি মনে করেন, সঠিক সময়ে ৫ ওয়াক্ত নামাজ আদায় মানুষের জীবনে প্রভাব ফেলে?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ জন
অভিনয় ছাড়ার ঘোষণা মৌ খানের, হালাল জীবনে ফিরতে চান

অভিনয় ছাড়ার ঘোষণা মৌ খানের, হালাল জীবনে ফিরতে চান

ঢালিউডের নায়িকা মৌ খান অভিনয়জগৎ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। নাটক, বিজ্ঞাপন ও সিনেমায় নিয়মিত কাজ করে জনপ্রিয়তা পাওয়া এ অভিনেত্রী জানিয়েছেন, হাতে থাকা চলমান কাজগুলো শেষ করেই পুরোপুরি বিদায় নেবেন তিনি।শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে মৌ খান লেখেন, দীর্ঘ অভিনয়জীবনে দর্শকদের ভালোবাসা, সমর্থন ও দোয়ায় তিনি সমৃদ্ধ হয়েছেন। তিনি বলেন, “আমার এই দীর্ঘ বছরের অভিনয়জীবনে আপনাদের অসীম ভালোবাসা, সমর্থন ও দোয়া আমি সবসময় গভীর কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ রাখব। আপনাদের কারণেই আজকের মৌ খান হয়েছি।”স্ট্যাটাসে তিনি আরও জানান, ব্যক্তিগতভাবে ভেবে-চিন্তে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। অভিনয় ছেড়ে ভবিষ্যতে হালাল পথে জীবনযাপন ও বৈধ ব্যবসার মাধ্যমে জীবিকা অর্জন করতে চান তিনি।মৌ খান লিখেছেন, “আমি আর আমার অভিনয় ক্যারিয়ারটি চালিয়ে যেতে চাই না। এটি সম্পূর্ণভাবেই আমার নিজস্ব ও ভেবে-চিন্তে নেওয়া সিদ্ধান্ত। জীবনের বাকি পথ আমি আল্লাহর আদেশ অনুযায়ী, নামাজ-কোরআন ও দ্বীনের আলোকে চলতে চাই। রাসুল (সা.)-এর সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরেই আমার পরবর্তী জীবন গড়ে তুলতে চাই।” অভিনয়জীবন থেকে বিদায়ের ঘোষণা মৌ খানের ভক্তদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে। অনেকে তার সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছেন, অনেকে আবার জনপ্রিয় এই মুখকে হারাতে চান না।
০৬ ডিসেম্বর ২০২৫
বিয়ের সম্পর্ক সুন্দর রাখার ১০টি বাস্তব ও পরীক্ষিত টিপস

বিয়ের সম্পর্ক সুন্দর রাখার ১০টি বাস্তব ও পরীক্ষিত টিপস

বিয়ে শুধু এক ছাদের নিচে থাকা নয়—এটি দুটি মানুষের অনুভূতি, দায়িত্ব, সম্মান এবং একসাথে বেড়ে ওঠার যাত্রা। সম্পর্ক যত্ন করলে যেমন সুন্দর থাকে, তেমনি অবহেলা করলে তা ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে যায়। তাই বিয়ের সম্পর্ককে শক্ত, মধুর ও দীর্ঘস্থায়ী করতে কিছু ছোট–ছোট কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ অভ্যাসই অনেক ভূমিকা রাখে।নিচে বিয়ের সম্পর্ক সুন্দর রাখার সেরা ১০টি টিপস দেওয়া হলো—১. প্রতিদিন সামান্য সময় হলেও দু’জনের কথা বলুনব্যস্ততার মাঝেও প্রতিদিন অন্তত ১০–১৫ মিনিট দু’জনের নিজের কথা, কাজ, অনুভূতি নিয়ে কথা বলুন। এতে আবেগের সংযোগ তৈরি হয়।২. ভালোবাসা প্রকাশ করুন—বলুন, দেখান, অনুভব করানমনে মনে ভালোবাসা থাকলেই হবে না। একটি “ধন্যবাদ”, “তোমাকে ভালোবাসি” বা ছোট সারপ্রাইজ সম্পর্ককে উষ্ণ রাখে।৩. সমস্যা হলে চিৎকার নয়—শান্তভাবে কথা বলুনবিতর্ক হতেই পারে, কিন্তু অপমান, রাগ, গালমন্দ সম্পর্ক নষ্ট করে। সমস্যাকে “আমরা বনাম সমস্যা” ভাবুন, “আমি বনাম তুমি” নয়।৪. একে অপরকে সম্মান দিনবিয়েতে সবচেয়ে জরুরি বিষয় সম্মান। সঙ্গীর মতামত, পছন্দ, পরিবার—সবকিছুকেই শ্রদ্ধা দিন।৫. একসাথে সময় কাটানসপ্তাহে একদিন হলেও হাঁটা, চা-কফি, সিনেমা বা ছোট কোনো ঘোরাঘুরি পরিকল্পনা করুন। একসাথে কাটানো সময় সম্পর্ককে নতুন শক্তি দেয়।৬. প্রশংসা করুন—ছোট কাজ হলেওতিনি খাবার বানালে, কোনো কাজ করলে, কিংবা শুধু হাসিখুশি থাকলে প্রশংসা করুন। প্রশংসা সম্পর্ককে সুন্দর করে, মন খুলে দেয়।৭. ব্যক্তিগত জায়গার সম্মান করুনস্বামী–স্ত্রী হলেও প্রত্যেকের নিজস্ব জায়গা ও সময় দরকার। অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ বা সন্দেহ দূরত্ব তৈরি করে।৮. ভুল হলে ক্ষমা চাইতে শিখুন“আমি ভুল করেছি” বলতে পারা সম্পর্ককে অনেক বড় বিপদ থেকে বাঁচায়। ক্ষমা চাওয়া দুর্বলতার নয়, পরিপক্বতার লক্ষণ।৯. পারিবারিক দায়িত্ব ভাগ করে নিনআর্থিক, ঘরের কাজ, শিশু—যা কিছু হোক, দায়িত্ব একা একজনের নয়। দু’জন মিলে করলে সম্পর্ক শক্ত হয়।১০. দোয়া ও আধ্যাত্মিক বন্ধন রাখুন বিশ্বাস, আল্লাহর ওপর নির্ভরতা (তাওয়াক্কুল) এবং একসাথে দোয়া করাও সম্পর্ককে শান্তি দেয়। যাদের জীবনে আধ্যাত্মিকতা থাকে, তাদের সম্পর্ক বেশি স্থায়ী হয়।
২৪ নভেম্বর ২০২৫
ভদ্রতার ছোট ছোট নিয়মেই বড়ো সৌন্দর্য

ভদ্রতার ছোট ছোট নিয়মেই বড়ো সৌন্দর্য

২৪ নভেম্বর ২০২৫
বিডিআর হত্যাকাণ্ডে বহিঃশক্তি ও আওয়ামী লীগের সম্পৃক্ততার দাবি জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশনের

বিডিআর হত্যাকাণ্ডে বহিঃশক্তি ও আওয়ামী লীগের সম্পৃক্ততার দাবি জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশনের

বিডিআর বিদ্রোহের নামে ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারির পিলখানা হত্যাযজ্ঞের ঘটনাকে ঘিরে গঠিত জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশন তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন সরকারের কাছে জমা দিয়েছে। মঙ্গলবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে এই প্রতিবেদন জমা দেন কমিশন সদস্যরা। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইংয়ের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, তদন্তে বহিঃশক্তির সম্পৃক্ততা এবং তৎকালীন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের বিভিন্ন নেতার অংশগ্রহণের শক্ত প্রমাণ পাওয়া গেছে—এমনটাই দাবি করেছে কমিশন।কমিশনের নেতৃত্ব ও সদস্যরাকমিশনের প্রধান ছিলেন মেজর জেনারেল (অব.) আ. ল. ম. ফজলুর রহমান। অন্য সদস্যদের মধ্যে ছিলেন– মেজর জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর কবির তালুকদার (অব.), ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. সাইদুর রহমান বীরপ্রতীক (অব.), মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ (অব. যুগ্ম সচিব), ড. এম. আকবর আলী (অব. ডিআইজি), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক মো. শরীফুল ইসলাম এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক মো. শাহনেওয়াজ খান চন্দন।“জাতি অন্ধকারে ছিল; সত্য উদ্ঘাটন জরুরি ছিল” — প্রধান উপদেষ্টাপ্রতিবেদন গ্রহণকালে প্রধান উপদেষ্টা বলেন—“বিডিআর হত্যাকাণ্ড নিয়ে জাতি দীর্ঘদিন ধরেই অন্ধকারে ছিল। আপনাদের কাজ ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলোর সমাধান দেবে।”তিনি আরও জানান, এই প্রতিবেদন বহু শিক্ষণীয় বিষয় উন্মোচন করেছে, যা ভবিষ্যতে রাষ্ট্রের জন্য মূল্যবান হবে।“১৬ বছর পর বহু আলামত নষ্ট—তবুও সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বে কাজ” — কমিশন প্রধানমেজর জেনারেল (অব.) ফজলুর রহমান বলেন—“ঘটনার এত বছর পর অনেক আলামত নষ্ট হয়ে গেছে, অনেক সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি দেশ ছেড়েছেন। তবুও আমরা দুই ধাপে সাক্ষ্য নিয়েছি; কারও বক্তব্য ৮ ঘণ্টার বেশি শুনেছি।”তিনি জানান, সামরিক–অসামরিক কর্মকর্তা, শহীদ পরিবারের সদস্য, বিডিআর/বিজিবি সদস্য, পুলিশ কর্মকর্তা, সাংবাদিকসহ মোট ২৬৭ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।বহিঃশক্তি ও রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার দাবিকমিশনের দাবি— বহিঃশক্তির সরাসরি সম্পৃক্ততা ছিল তৎকালীন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের বিভিন্ন নেতা পরিকল্পনায় অংশ নেন মেজর জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর কবির তালুকদার দাবি করেন—“ঘটনাটি পরিকল্পিত হত্যা। এর মূল সমন্বয়কের ভূমিকা পালন করেছেন তৎকালীন সংসদ সদস্য শেখ ফজলে নূর তাপস।”তিনি আরও অভিযোগ করেন— স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা জড়িতদের রক্ষায় ভূমিকা রাখেন তাদের একটি ২০–২৫ জনের মিছিল পিলখানায় প্রবেশ করে, পরে তা দুই শতাধিক হয়ে বের হয় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ ঘটনায় ‘গ্রিন সিগন্যাল’ দিয়েছেন—এমন দাবি প্রতিবেদনে উঠে এসেছে সেনাবাহিনী অ্যাকশন না নেওয়া নিয়ে প্রশ্নকমিশনের দাবি— ঘটনার সময় সেনাবাহিনী কেন অভিযান চালায়নি, তা তদন্তে উঠে এসেছে তৎকালীন সেনাপ্রধান জেনারেল মঈন প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে অবস্থান করায় সেনাসদরে ফিরে যাননি নৌ ও বিমানবাহিনী প্রধানও সেদিন সেখানে উপস্থিত ছিলেন জেনারেল মঈনের বক্তব্য উল্লেখ করে বলা হয়েছে— “আমি অ্যাকশন নিলে ভারত বাংলাদেশে ইন্টারভেন করত।”বিদেশি সংশ্লিষ্টতা নিয়ে দাবিকমিশন প্রধান বলেন—“ঘটনার সময় বাংলাদেশে আসা ৬৭ জন বিদেশির তথ্য পাওয়া যায়নি—এটি আমাদের সন্দেহকে আরও ঘনীভূত করেছে।”তার দাবি, বিদেশি প্রভাব ও অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক স্বার্থ একত্রে বিদ্রোহকে উসকে দেয়।তাপসসহ একাধিক রাজনৈতিক নেতার নাম তদন্ত প্রতিবেদনেদাবি অনুযায়ী, জড়িতদের তালিকায় রয়েছেন— শেখ ফজলে নূর তাপস শেখ সেলিম মির্জা আজম জাহাঙ্গীর কবির নানক সাহারা খাতুন জেনারেল তারেক সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল মঈন সাবেক ডিজিএফআই প্রধান জেনারেল আকবর কমিশন দাবি করেছে— তারা বিডিআর সদস্যদের অসন্তোষকে কাজে লাগিয়ে বিদ্রোহ ঘটায় এবং সবচেয়ে বেশি লাভবান হয় প্রতিবেশী দেশ ভারত।র‍্যাব–পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা সম্পর্কেও মন্তব্যতদন্তে উঠে এসেছে, পাঁচ নম্বর গেটে র‍্যাব সদস্যরা অবস্থান করলেও কোনো উদ্যোগ নেননি। কমিশনের বক্তব্য— এ ধরনের পরিস্থিতিতে হস্তক্ষেপে র‍্যাব বা পুলিশের আলাদা নির্দেশনার প্রয়োজন হয় না।দীর্ঘদিনের প্রস্তুতিকমিশনের দাবি— বিদ্রোহের পরিকল্পনা ২০০৮ সালের নির্বাচন পরবর্তী সময়ে শুরু হয়। তাপসসহ অনেকে মসজিদ, ট্রেনিং গ্রাউন্ড ও জুমার নামাজের পর বৈঠক করেছেন।সুপারিশপ্রতিবেদনে ভবিষ্যতে বাহিনীর মধ্যে আস্থা–অসন্তোষের ব্যবধান কমানো, গোয়েন্দা সক্ষমতা বৃদ্ধি, অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা জোরদারসহ একাধিক সুপারিশ রাখা হয়েছে।
০১ ডিসেম্বর ২০২৫
শেখ হাসিনা, সজীব ওয়াজেদ জয় ও সায়মা ওয়াজেদসহ ২২ জনের কারাদণ্ড

শেখ হাসিনা, সজীব ওয়াজেদ জয় ও সায়মা ওয়াজেদসহ ২২ জনের কারাদণ্ড

ঢাকা, ২৭ নভেম্বর ২০২৫ (বাসস): পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ক্ষমতার অপব্যবহার ও অনিয়মের অভিযোগে দায়ের করা দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তিনটি মামলায় ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলসহ ২২ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দিয়েছেন আদালত।বৃহস্পতিবার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫-এর বিচারক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন এ রায় ঘোষণা করেন।শেখ হাসিনার ২১ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডপৃথক তিন মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ৭ বছর করে মোট ২১ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিটি মামলায় ১ লাখ টাকা করে মোট ৩ লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে; অর্থদণ্ড অনাদায়ে অতিরিক্ত ১৮ মাস কারাভোগ করতে হবে।জয় ও পুতুলের দণ্ড সজীব ওয়াজেদ জয়: এক মামলায় ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড (অনাদায়ে ৬ মাস কারাভোগ)। সায়মা ওয়াজেদ পুতুল: এক মামলায় ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড (অনাদায়ে ৬ মাস কারাভোগ)। সরকারি কর্মকর্তা–কর্মচারীদের সাজামামলাগুলোতে আরও দণ্ডিত হয়েছেন মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব, অতিরিক্ত সচিব, রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান, সদস্য, পরিচালক, উপ-পরিচালকসহ মোট ১৯ কর্মকর্তা।সংক্ষিপ্তভাবে কয়েকজনের দণ্ড— সাবেক একান্ত সচিব-১ মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন: দুই মামলায় মোট ১২ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড সাবেক প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ: তিন মামলায় মোট ১৮ বছর সাবেক সচিব শহীদ উল্লাহ খন্দকার: তিন মামলায় মোট ১৮ বছর সাবেক অতিরিক্ত সচিব কাজী ওয়াছি উদ্দিন: তিন মামলায় মোট ১৮ বছর রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান আনিছুর রহমান মিঞা: তিন মামলায় মোট ১৫ বছর রাজউকের একাধিক সদস্য–পরিচালক: বিভিন্ন মেয়াদে ৩–৯ বছর এ ছাড়া অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম সরকারকে তিন মামলায় খালাস দেওয়া হয়েছে।মামলার পটভূমিপূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ১০ কাঠা সরকারি প্লট অনিয়মের মাধ্যমে বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগে দুদক ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে তিনটি মামলা দায়ের করে। তদন্ত শেষে ২০২৪ সালের মার্চে তিন মামলায় মোট ৪৭ জনকে আসামি করে তিনটি চার্জশিট আদালতে দাখিল করা হয়।তিন মামলায় মোট ৮০ জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দেন। গত ৩১ জুলাই আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করেন।রায় ঘোষণা ও পরবর্তী প্রক্রিয়া রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে আদালত আজ রায় দেন। রায়ের কপি সংগ্রহের পর আসামিপক্ষের আইনজীবীরা উচ্চ আদালতে আপিল করবেন বলে জানিয়েছেন।
২৪ নভেম্বর ২০২৫
অ্যামাজন–আলিবাবায় সরাসরি পণ্য বিক্রি করতে পারবেন বাংলাদেশের উদ্যোক্তারা

অ্যামাজন–আলিবাবায় সরাসরি পণ্য বিক্রি করতে পারবেন বাংলাদেশের উদ্যোক্তারা

বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের জন্য বৈশ্বিক ই–কমার্স বাজারে বড় সুযোগ উন্মুক্ত হলো। অনলাইনভিত্তিক রপ্তানি বাড়াতে বিজনেস-টু-বিজনেস-টু-কনজিউমার (বি২বি২সি) মডেলের মাধ্যমে পণ্য রপ্তানির অনুমতি দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর ফলে উদ্যোক্তারা এখন অ্যামাজন, আলিবাবা, ফ্লিপকার্টসহ আন্তর্জাতিকভাবে সুপরিচিত ই–কমার্স প্ল্যাটফর্মে সরাসরি পণ্য বিক্রি করতে পারবেন।আজ সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগ এ–সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে।কী বলা হয়েছে নতুন প্রজ্ঞাপনে?নতুন নিয়ম অনুযায়ী— দেশের যেকোনো রপ্তানিকারক এখন সুপরিচিত অনলাইন প্ল্যাটফর্ম, আন্তর্জাতিক মার্কেটপ্লেস, সাবসিডিয়ারি বা তৃতীয় পক্ষের ওয়্যারহাউসের মাধ্যমে পণ্য পাঠাতে পারবেন। বিদেশি কনসাইনি চূড়ান্ত ক্রেতা না হয়ে মধ্যস্থতাকারী হিসেবেও কাজ করতে পারবে। অনলাইন প্ল্যাটফর্ম বা আন্তর্জাতিক ওয়্যারহাউসে রেজিস্ট্রেশনের প্রমাণপত্র এডি ব্যাংকে জমা দিতে হবে। বি২বি২সি মডেলে স্বাভাবিক বিক্রয়চুক্তি না থাকায় প্রফর্মা ইনভয়েসের ভিত্তিতে ন্যায্যমূল্য ঘোষণা করা যাবে। ওয়্যারহাউজিং বা অন্যান্য সেবা প্রদানকারী কনসাইনির নামে শিপিং ডকুমেন্ট গ্রহণ করতে পারবে এডি ব্যাংক। রপ্তানি আয়ের ক্ষেত্রে নতুন সুবিধাবাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে— রপ্তানি আয় স্বাভাবিক ব্যাংকিং চ্যানেলের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পেমেন্ট সার্ভিস অপারেটর (যেমন PayPal, Payoneer ইত্যাদি) মাধ্যমে পাওয়া যাবে। অনলাইনভিত্তিক রপ্তানিতে একাধিক চালানের অর্থ একত্রে আসতে পারে। এ ক্ষেত্রে এডি ব্যাংক ফার্স্ট-ইন, ফার্স্ট-আউট (FIFO) নীতিতে রপ্তানি আয় সমন্বয় করবে। কীভাবে উপকৃত হবেন বাংলাদেশের উদ্যোক্তারা?নতুন প্রজ্ঞাপনের ফলে— আন্তর্জাতিক বাজারে সরাসরি বিক্রির সুযোগ তৈরি হলো। ব্র্যান্ডিং, মূল্য নির্ধারণ, প্রোডাক্ট ক্যাটালগ—এসব উদ্যোক্তারা নিজেরাই নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন। তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে রপ্তানির প্রয়োজন কমবে, লাভ বাড়বে। অ্যামাজন–আলিবাবা–ফ্লিপকার্টে নিজস্ব স্টোর খুলে রপ্তানির পথ সহজ হবে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের (এসএমই) জন্য বৈশ্বিক বাজারে প্রবেশের সুযোগ সৃষ্টি হবে। বিশেষজ্ঞদের মতামতখাত–সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের এ সিদ্ধান্তে— আন্তসীমান্ত ই–কমার্স আরও সহজ হবে, বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের উপস্থিতি বাড়বে, রপ্তানি বৈচিত্র্যকরণে বড় ভূমিকা রাখবে, আন্তর্জাতিক ডিজিটাল খুচরা বিক্রিতে বাংলাদেশি পণ্যের অংশগ্রহণ বাড়বে। তাদের মতে, সঠিক প্রস্তুতি, মানসম্মত পণ্য, আধুনিক লজিস্টিকস এবং সময়মতো ডেলিভারি নিশ্চিত করা গেলে বাংলাদেশ দ্রুতই অনলাইন রপ্তানির বড় খেলোয়াড় হতে পারে সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের এই নীতিগত সমর্থন বাংলাদেশের উদ্যোক্তা, বিশেষ করে এসএমই খাতের জন্য বড় সুযোগ তৈরি করেছে। সরাসরি আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে প্রবেশের মাধ্যমে দেশের ডিজিটাল রপ্তানি খাতে নতুন যুগের সূচনা হতে যাচ্ছে।
অর্থনীতি প্রতিবেদক