গণবার্তা
সর্বশেষ

বন্ধের দুই দিন পর বড়পুকুরিয়া বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট চালু

দিনাজপুরের পার্বতীপুরে বড়পুকুরিয়া কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন প্রথম ইউনিটি দুই দিন বন্ধ থাকার পর আবার উৎপাদনে ফিরেছে। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) রাত ৮টায় কেন্দ্রটির প্রধান প্রকৌশলী মো. আবু বক্কর সিদ্দিক এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।তিনি জানান, পরীক্ষামূলকভাবে ইউনিটটি চালু করা সম্ভব হয়েছে। রাত ৮টা থেকে প্রথম ইউনিট থেকে ৫৫ থেকে ৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ শুরু করা হচ্ছে। এর জন্য দৈনিক ৭০০ টন কয়লার প্রয়োজন হবে।কেন্দ্রটির প্রথম ইউনিটে কয়লার সঙ্গে পাথর আসার কারণে গত ২২ এপ্রিল রাত ১০টায় এটি বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে ইউনিটি পুনরায় উৎপাদনে আসায় পার্বতীপুর উপজেলাসহ উত্তরাঞ্চলের ৮ জেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন বা লোডশেডিংয়ের সম্ভাবনা অনেকাংশে কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।উল্লেখ্য, বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির সরবরাহকৃত কয়লার ওপর নির্ভর করে এই বিদ্যুৎকেন্দ্রটি পরিচালিত হয়। কেন্দ্রটির দ্বিতীয় ইউনিট (১২৫ মেগাওয়াট) ২০২০ সালের নভেম্বর থেকে বন্ধ রয়েছে। ওই ইউনিট বন্ধ থাকা অবস্থায় ৬০-৬৫ মেগাওয়াট উৎপাদন হতো।মো. আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, প্রথম ইউনিট চালু হওয়ায় এ অঞ্চলে লোডশেডিংয়ের মাত্রা অনেকটা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
১২ ঘন্টা আগে

শুক্রবার সন্ধ্যায় পূর্বধলায় বিএনপির নেতা-কর্মীদের হামলার শিকার জামায়াতের এমপি মাছুম মোস্তফা

নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলায় জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মাছুম মোস্তফার গাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) সন্ধ্যায় উপজেলার আতকাপাড়া পেট্রোল পাম্প এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। হামলাকারীরা তাকে কিছুক্ষণ অবরুদ্ধ করে রাখে বলেও অভিযোগ উঠেছে।ঘটনার বিবরণসংসদ সদস্য মাছুম মোস্তফা মুঠোফোনে জানান, তিনি পাম্পে তেল নিতে গেলে হঠাৎ করে কয়েকজন এসে তার গাড়িতে হামলা চালায় এবং ভাঙচুর করে। পরে তারা তাকে ঘিরে ফেলে।উপজেলা জামায়াতের নেতাদের অভিযোগ, বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মী অতর্কিতভাবে এ হামলা চালায়। তারা প্রথমে গাড়ি ভাঙচুর এবং পরে সংসদ সদস্যের ওপরও আক্রমণের চেষ্টা করে। সংসদ সদস্য মাছুম মোস্তফা দাবি করেন, ‘প্রায় শতাধিক লোক নিয়ে উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ইসতিয়াক আহমেদ বাবুর নেতৃত্বে এ হামলা চালানো হয়। এ সময় আমার কর্মী-সমর্থকেরা এগিয়ে এলে তাদেরও মারধর করা হয়।’উদ্ধার ও পরবর্তী পরিস্থিতিপূর্বধলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) তাসনীন জাহান এবং ওসি দিদারুল ইসলাম এসে সংসদ সদস্যকে উদ্ধার করেন। জামায়াতের লোকজন তাকে পরে মসজিদে নিয়ে যায় এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার গাড়িতে করে পূর্বধলায় পৌঁছান মাছুম মোস্তফা।ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং এক ধরনের থমথমে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। তবে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা হামলার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন।পুলিশ ও প্রশাসনের বক্তব্যনেত্রকোনা পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, খবর পাওয়ার সাথে সাথে সংসদ সদস্যকে উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের আটকের চেষ্টা চলছে।পূর্বধলা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা তাসনিম জাহান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, তিনি তাৎক্ষণিক পুলিশ দিয়ে ওই সংসদ সদস্যকে উদ্ধার করে উপজেলা সদরে পৌঁছে দেন।পূর্বধলা উপজেলার বিএনপির আহ্বায়ক ও ধানের শীষের প্রার্থী আবু তাহের তালুকদার বলেন, ‘মাছুম মোস্তফার ওপর হামলার বিষয়টি আমি শুনেছি। তবে ঘটনাটি কারা করেছে, তা আমার জানা নেই।’জামায়াতের প্রতিক্রিয়াঘটনার নিন্দা জানিয়ে জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক মাওলানা ছাদেক আহমাদ হারিছ ও সেক্রেটারি মো. বদরুল আমিন এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, সংসদ সদস্য মাছুম মোস্তফা একটি মাদরাসার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন থেকে ফিরছিলেন। পথে পাম্পে গাড়ি রেখে তিনি মসজিদে নামাজ পড়তে গেলে তার গাড়িতে হামলা চালানো হয় এবং তাকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়।বিবৃতিতে তারা আরও বলেন, ‘সারাদেশে এখন একটি সংকট চলছে। এ সময় যারা এ হামলার ঘটনা ঘটিয়েছেন, তারা দেশের স্থিতিশীলতা চায় না। আমরা প্রশাসনের কাছে দাবি জানাচ্ছি, যারা এ ঘটনায় জড়িত, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করুন।’
১৩ ঘন্টা আগে

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও সেনাপ্রধানের ফোনালাপ

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার ও দেশটির সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন। শুক্রবার ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, ফোনালাপে তারা আঞ্চলিক পরিস্থিতি ও যুদ্ধবিরতি সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে আলোচনা করেছেন। পৃথক এক প্রতিবেদনে তাসনিম জানায়, ইরাকের আধা-স্বায়ত্তশাসিত কুর্দিস্তানের প্রেসিডেন্ট নেচিরভান বারজানির সঙ্গেও ফোনে কথা বলেছেন আরাঘচি। তারাও আঞ্চলিক নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন।ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পাকিস্তানি কর্মকর্তাদের এই ফোনালাপের কয়েক ঘণ্টা পরেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিতীয় দফার আলোচনায় অংশ নিতে আজ শুক্রবার গভীর রাতে একটি ইরানি প্রতিনিধিদল ইসলামাবাদে পৌঁছাবে বলে জানিয়েছে পাকিস্তানি সূত্র। সূত্রের বরাতে পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ডন জানিয়েছে, এবারের আলোচনার জন্য ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির নেতৃত্বে একটি ছোট প্রতিনিধি দল ইসলামাবাদে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে। অপরদিকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে একটি নিরাপত্তা দল ইতিমধ্যেই ইসলামাবাদে পৌঁছেছে।পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির মধ্যে ফোনালাপের পরই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতি এবং ইসলামাবাদে সম্ভাব্য দ্বিতীয় দফার আলোচনা নিয়ে ফোনালাপে মতবিনিময় করেছেন দুই মন্ত্রী। পোস্টে বলা হয়, উভয় পক্ষ আঞ্চলিক ঘটনাবলী, যুদ্ধবিরতি এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে ইসলামাবাদের চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টা নিয়ে মতবিনিময় করেছেন। ইসহাক দার তার পক্ষ থেকে যত দ্রুত সম্ভব আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার লক্ষ্যে অমীমাংসিত বিষয়গুলো নিরসনে দ্বিতীয় দফার সংলাপের গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছেন। ফোনালাপে ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ ব্যাপারে পাকিস্তানের ধারাবাহিক ও গঠনমূলক সহায়ক ভূমিকার প্রশংসা করেন। দুই নেতা ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রাখতে সম্মত হয়েছেন।অন্যদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা জানিয়েছে, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের সঙ্গে আলাদাভাবে টেলিফোনে কথা বলেছেন আরাঘচি। ডনের প্রতিবেদনে বলা হয়, গত কয়েকদিনে পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনতে তার কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদার করেছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এবং সেনাপ্রধান আসিম মুনির মার্কিন ও ইরানি নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছেন। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনার কারণে, বিশেষ করে ইরানের হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়া এবং দেশটির বন্দরগুলোতে মার্কিন অবরোধের কারণে, ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিতব্য প্রত্যাশিত দ্বিতীয় দফার আলোচনা বিলম্বিত হয়েছে।মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বিভাজন থাকার দাবি নাকচ করেছে তেহরান। গত কয়েক ঘণ্টা ধরে ইরানের সামরিক ও বেসামরিক প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায় থেকে দেওয়া বার্তায় ছিল জাতীয় ঐক্যের সুর। তারা স্পষ্ট বলছেন, ইসলামাবাদের আসন্ন শান্তি আলোচনায় যোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে পুরো দেশ একই অবস্থানে রয়েছে। বৃহস্পতিবার ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এক্সে লিখেছেন, ইরানে কোনো কট্টরপন্থি বা মধ্যপন্থি নেই। তারা সবাই ইরানি এবং বিপ্লবী। রাষ্ট্র ও জনগণের ইস্পাতকঠিন ঐক্য এবং সর্বোচ্চ নেতার প্রতি আনুগত্যের মাধ্যমে তারা আক্রমণকারীকে অনুতপ্ত হতে বাধ্য করবেন। তিনি লেখেন, এক স্রষ্টা, এক জাতি, এক নেতা, এক পথ; প্রাণের চেয়েও প্রিয় ইরানের জন্য বিজয় নিশ্চিত। এর আগে ওভাল অফিসে এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ইরান বর্তমানে চরম বিশৃঙ্খলার মধ্যে আছে এবং দেশটির নেতৃত্ব নিয়ে অনিশ্চয়তা কাজ করছে। মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই বিভাজন ও শাসন নীতির জবাবে ইরানের কূটনীতিক ও সামরিক কর্মকর্তারা অভিন্ন অবস্থান ব্যক্ত করেছেন। তেহরান থেকে পাওয়া খবরে জানা গেছে, দেশটির সব শাখা এখন সর্বোচ্চ নেতার অধীনে ঐক্যবদ্ধ।এর আগে বুধবার ট্রাম্প আশা প্রকাশ করেছিলেন, অব্যাহত অবিশ্বাস সত্ত্বেও ৩৬ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ইসলামাবাদে দ্বিতীয় দফা আলোচনা বসতে পারে। তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকাই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা পুনরায় শুরু করার বিষয়ে কোনো স্পষ্ট উত্তর দেননি। প্রসঙ্গত, টানা ৪০ দিন যুদ্ধের পর গত ৮ এপ্রিল ১৪ দিনের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। তারপর একটি স্থায়ী শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরের লক্ষ্যে গত ১১ এপ্রিল পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে বৈঠকে বসেন মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধিরা, যা ১৯৭৯ সালের পর মার্কিন ও ইরানি কর্মকর্তাদের মধ্যে প্রথম সরাসরি সাক্ষাৎ এবং ইরানের ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ের বৈঠক। তবে ২১ ঘণ্টা ধরে আলোচনার পরও কোনো সমাধান ছাড়াই শেষ হয় এবং উভয় দেশের প্রতিনিধিরা নিজ নিজ দেশে ফিরে যান। তবে এখনো যুদ্ধবিরতি বজায় আছে। সূত্র: আল-জাজিরা, ডন।
২০ ঘন্টা আগে
ইসলামাবাদে ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মুখোমুখি হচ্ছেন কুশনার-উইটকফ

ইসলামাবাদে ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মুখোমুখি হচ্ছেন কুশনার-উইটকফ

মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে এক জটিল মোড়ে এসে পড়েছে দুই সমান্তরাল প্রক্রিয়া। পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দ্বিতীয় দফা আলোচনার পথ তৈরি করতে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি পাকিস্তানে পৌঁছেছেন। অন্যদিকে, ইসরাইল ও লেবাননের মধ্যে সম্ভাব্য ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তির পথে প্রধান বাধা হিসেবে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর নাম উল্লেখ করেছেন ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।ইসলামাবাদে কূটনৈতিক তৎপরতাশুক্রবার (২৪ এপ্রিল) রাতে ইসলামাবাদে পৌঁছানোর পর ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিকে স্বাগত জানান পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার এবং সেনাপ্রধান আসিম মুনির। তার এই সফর ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনার পথ সুগম করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সফরকালে আরাগচি দেশটির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করবেন, যেখানে সাম্প্রতিক আঞ্চলিক পরিস্থিতি এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা নিয়ে আলোচনা হবে। এই সফর এমন সময়ে হলো, যখন পাকিস্তান তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সংলাপ পুনরুজ্জীবিত করতে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করেছে।এদিকে, হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকভ এবং উপদেষ্টা জ্যারেড কুশনার শনিবার পাকিস্তানে গিয়ে ইরানি প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করবেন। হোয়াইট হাউস প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভেট বলেন, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় এই সরাসরি আলোচনা হবে এবং ইসলামাবাদ গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা রাখছে।আলোচনায় জটিলতা ও জেডি ভ্যান্সের অনুপস্থিতিপ্রাথমিকভাবে আশা করা গেলেও এই আলোচনা কিছু জটিলতার মুখে পড়েছে। সিএনএনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসলামাবাদে ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির মুখোমুখি হচ্ছেন স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনার। তবে এই বৈঠকে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স অংশ নিচ্ছেন না।কারণ, ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এই আলোচনায় অংশ না নেওয়ায় ভ্যান্সের উপস্থিতির পরিকল্পনা বর্তমানে স্থগিত রাখা হয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তারা গালিবাফকে ইরানি প্রতিনিধি দলের প্রধান এবং জেডি ভ্যান্সের সমকক্ষ হিসেবে দেখছেন। তবে আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হলে ভ্যান্সকে পাকিস্তানে যাওয়ার জন্য স্ট্যান্ডবাই করে রাখা হয়েছে।এর আগে, গত ১১-১২ এপ্রিল ইসলামাবাদে প্রথম দফা সরাসরি আলোচনা অনুষ্ঠিত হলেও তা ভেস্তে যায়। জ্যারেড কুশনার এবং স্টিভ উইটকফ গত কয়েক মাস ধরে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে সম্ভাব্য চুক্তিতে পৌঁছাতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।ইসরাইল-লেবানন শান্তি প্রক্রিয়ায় হিজবুল্লাহ বাধাএসব ঘটনার মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যের অন্য একটি প্রান্তে শান্তি প্রক্রিয়া নতুন করে জটিল হয়েছে। ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সরাসরি অভিযোগ করেছেন, ইসরাইল ও লেবাননের মধ্যে ঐতিহাসিক শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা বাধাগ্রস্ত করছে হিজবুল্লাহ।এক ভিডিও বার্তায় নেতানিয়াহু দাবি করেন, একটি শান্তি প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে, কিন্তু হিজবুল্লাহ সুপরিকল্পিতভাবে তা নস্যাৎ করার চেষ্টা চালাচ্ছে। ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী এবং হিজবুল্লাহ একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলার প্রেক্ষাপটে তিনি এই মন্তব্য করেন।নেতানিয়াহু স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, যেকোনো ধরনের হুমকির বিরুদ্ধে ইসরাইলের পূর্ণ ব্যবস্থা নেওয়ার স্বাধীনতা রয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতি ও শুক্রবার (২৩-২৪ এপ্রিল) ইসরাইলি বাহিনী হিজবুল্লাহর ওপর হামলা চালিয়েছে বলে তিনি নিশ্চিত করেন। তিনি ইরানের ওপর কঠোর চাপ প্রয়োগ করার জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশংসাও করেন।
১২ ঘন্টা আগে
বন্ধের দুই দিন পর বড়পুকুরিয়া বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট চালু

বন্ধের দুই দিন পর বড়পুকুরিয়া বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট চালু

দিনাজপুরের পার্বতীপুরে বড়পুকুরিয়া কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন প্রথম ইউনিটি দুই দিন বন্ধ থাকার পর আবার উৎপাদনে ফিরেছে। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) রাত ৮টায় কেন্দ্রটির প্রধান প্রকৌশলী মো. আবু বক্কর সিদ্দিক এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।তিনি জানান, পরীক্ষামূলকভাবে ইউনিটটি চালু করা সম্ভব হয়েছে। রাত ৮টা থেকে প্রথম ইউনিট থেকে ৫৫ থেকে ৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ শুরু করা হচ্ছে। এর জন্য দৈনিক ৭০০ টন কয়লার প্রয়োজন হবে।কেন্দ্রটির প্রথম ইউনিটে কয়লার সঙ্গে পাথর আসার কারণে গত ২২ এপ্রিল রাত ১০টায় এটি বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে ইউনিটি পুনরায় উৎপাদনে আসায় পার্বতীপুর উপজেলাসহ উত্তরাঞ্চলের ৮ জেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন বা লোডশেডিংয়ের সম্ভাবনা অনেকাংশে কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।উল্লেখ্য, বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির সরবরাহকৃত কয়লার ওপর নির্ভর করে এই বিদ্যুৎকেন্দ্রটি পরিচালিত হয়। কেন্দ্রটির দ্বিতীয় ইউনিট (১২৫ মেগাওয়াট) ২০২০ সালের নভেম্বর থেকে বন্ধ রয়েছে। ওই ইউনিট বন্ধ থাকা অবস্থায় ৬০-৬৫ মেগাওয়াট উৎপাদন হতো।মো. আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, প্রথম ইউনিট চালু হওয়ায় এ অঞ্চলে লোডশেডিংয়ের মাত্রা অনেকটা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
১২ ঘন্টা আগে
ইসলামাবাদে ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মুখোমুখি হচ্ছেন কুশনার-উইটকফ

ইসলামাবাদে ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মুখোমুখি হচ্ছেন কুশনার-উইটকফ

মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে এক জটিল মোড়ে এসে পড়েছে দুই সমান্তরাল প্রক্রিয়া। পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দ্বিতীয় দফা আলোচনার পথ তৈরি করতে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি পাকিস্তানে পৌঁছেছেন। অন্যদিকে, ইসরাইল ও লেবাননের মধ্যে সম্ভাব্য ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তির পথে প্রধান বাধা হিসেবে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর নাম উল্লেখ করেছেন ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।ইসলামাবাদে কূটনৈতিক তৎপরতাশুক্রবার (২৪ এপ্রিল) রাতে ইসলামাবাদে পৌঁছানোর পর ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিকে স্বাগত জানান পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার এবং সেনাপ্রধান আসিম মুনির। তার এই সফর ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনার পথ সুগম করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সফরকালে আরাগচি দেশটির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করবেন, যেখানে সাম্প্রতিক আঞ্চলিক পরিস্থিতি এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা নিয়ে আলোচনা হবে। এই সফর এমন সময়ে হলো, যখন পাকিস্তান তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সংলাপ পুনরুজ্জীবিত করতে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করেছে।এদিকে, হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকভ এবং উপদেষ্টা জ্যারেড কুশনার শনিবার পাকিস্তানে গিয়ে ইরানি প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করবেন। হোয়াইট হাউস প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভেট বলেন, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় এই সরাসরি আলোচনা হবে এবং ইসলামাবাদ গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা রাখছে।আলোচনায় জটিলতা ও জেডি ভ্যান্সের অনুপস্থিতিপ্রাথমিকভাবে আশা করা গেলেও এই আলোচনা কিছু জটিলতার মুখে পড়েছে। সিএনএনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসলামাবাদে ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির মুখোমুখি হচ্ছেন স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনার। তবে এই বৈঠকে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স অংশ নিচ্ছেন না।কারণ, ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এই আলোচনায় অংশ না নেওয়ায় ভ্যান্সের উপস্থিতির পরিকল্পনা বর্তমানে স্থগিত রাখা হয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তারা গালিবাফকে ইরানি প্রতিনিধি দলের প্রধান এবং জেডি ভ্যান্সের সমকক্ষ হিসেবে দেখছেন। তবে আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হলে ভ্যান্সকে পাকিস্তানে যাওয়ার জন্য স্ট্যান্ডবাই করে রাখা হয়েছে।এর আগে, গত ১১-১২ এপ্রিল ইসলামাবাদে প্রথম দফা সরাসরি আলোচনা অনুষ্ঠিত হলেও তা ভেস্তে যায়। জ্যারেড কুশনার এবং স্টিভ উইটকফ গত কয়েক মাস ধরে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে সম্ভাব্য চুক্তিতে পৌঁছাতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।ইসরাইল-লেবানন শান্তি প্রক্রিয়ায় হিজবুল্লাহ বাধাএসব ঘটনার মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যের অন্য একটি প্রান্তে শান্তি প্রক্রিয়া নতুন করে জটিল হয়েছে। ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সরাসরি অভিযোগ করেছেন, ইসরাইল ও লেবাননের মধ্যে ঐতিহাসিক শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা বাধাগ্রস্ত করছে হিজবুল্লাহ।এক ভিডিও বার্তায় নেতানিয়াহু দাবি করেন, একটি শান্তি প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে, কিন্তু হিজবুল্লাহ সুপরিকল্পিতভাবে তা নস্যাৎ করার চেষ্টা চালাচ্ছে। ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী এবং হিজবুল্লাহ একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলার প্রেক্ষাপটে তিনি এই মন্তব্য করেন।নেতানিয়াহু স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, যেকোনো ধরনের হুমকির বিরুদ্ধে ইসরাইলের পূর্ণ ব্যবস্থা নেওয়ার স্বাধীনতা রয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতি ও শুক্রবার (২৩-২৪ এপ্রিল) ইসরাইলি বাহিনী হিজবুল্লাহর ওপর হামলা চালিয়েছে বলে তিনি নিশ্চিত করেন। তিনি ইরানের ওপর কঠোর চাপ প্রয়োগ করার জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশংসাও করেন।
১২ ঘন্টা আগে
১৫ এপ্রিল ২০২৬, ১২:১১ এএম
আপনি কি মনে করেন বিএনপি জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর ও শব্দ বাস্তবায়ন করবে?

আপনি কি মনে করেন বিএনপি জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর ও শব্দ বাস্তবায়ন করবে?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ জন
হামের উপসর্গে আরও পাঁচ শিশুর মৃত্যু, নতুন রোগী শনাক্ত ১২৯

হামের উপসর্গে আরও পাঁচ শিশুর মৃত্যু, নতুন রোগী শনাক্ত ১২৯

হাম পরিস্থিতি নিয়ে দেশে উদ্বেগ কাটছেই না। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে এই সময়ে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। বুধবার স্বাস্থ্য অধিদফতরের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত তথ্য তুলে ধরা হয়।স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১২৯ জনের দেহে হাম শনাক্ত হয়েছে। এতে ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত মোট নিশ্চিত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৯৩৪ জনে। এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে ১ হাজার ২২৯ জনের মধ্যে হামের উপসর্গ দেখা গেছে। এ নিয়ে মোট সন্দেহজনক রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৭ হাজার ১৬৪ জনে।স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৩৮ জন। আর হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৯০ জনে। একই সময়ের মধ্যে হাম সন্দেহে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১৭ হাজার ৯৯৮ জন এবং চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১৪ হাজার ৮৯২ জন।
২২ এপ্রিল ২০২৬
ছেঁড়া-ফাটা নোট বিনিময় না করলে ব্যাংকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা

ছেঁড়া-ফাটা নোট বিনিময় না করলে ব্যাংকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা

দেশজুড়ে ছেঁড়া-ফাটা, ত্রুটিপূর্ণ ও ময়লাযুক্ত নোটের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় এসব নোট গ্রহণ ও বিনিময় বাধ্যতামূলক করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। একই সঙ্গে নির্দেশনা অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। রোববার (১২ এপ্রিল) এ বিষয়ে একটি নির্দেশনা জারি করা হয়।নির্দেশনায় বলা হয়েছে, জনসাধারণের স্বাভাবিক নগদ লেনদেন নিশ্চিত করতে সব তফসিলি ব্যাংকের শাখায় নিয়ম অনুযায়ী ছেঁড়া-ফাটা ও ময়লাযুক্ত নোট গ্রহণ করতে হবে এবং এর বিপরীতে নতুন বা পুনঃপ্রচলনযোগ্য নোট সরবরাহ করতে হবে।কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, আগে থেকেই এ সংক্রান্ত নির্দেশনা থাকলেও বাজারে এখনো এ ধরনের নোটের আধিক্য রয়েছে, যা সাধারণ মানুষের লেনদেনে ভোগান্তি সৃষ্টি করছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় ‘ক্লিন নোট পলিসি’ বাস্তবায়নে ব্যাংকগুলোকে আরও সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।বিশেষ করে ৫, ১০, ২০ ও ৫০ টাকার মতো ছোট মূল্যমানের নোট নিয়মিতভাবে গ্রহণ এবং নির্ধারিত কাউন্টারের মাধ্যমে তা বিনিময়ের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। গ্রাহকদের এসব নোটের পরিবর্তে ব্যবহারযোগ্য বা নতুন নোট দিতে হবে।বাংলাদেশ ব্যাংক স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, কোনো ব্যাংক শাখা যদি এ সেবা দিতে অনীহা বা গাফিলতি দেখায়, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারার ক্ষমতাবলে জারি করা এ নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর হবে।
২৮ মার্চ ২০২৬
আমদানি বেড়ে কমেছে রপ্তানি, বাণিজ্য ঘাটতি ১৭ বিলিয়ন ডলার

আমদানি বেড়ে কমেছে রপ্তানি, বাণিজ্য ঘাটতি ১৭ বিলিয়ন ডলার

২৮ মার্চ ২০২৬
৫২ বছর পর চাঁদ ঘুরে এল মানুষ, সফল আর্টেমিস-২ মিশন

৫২ বছর পর চাঁদ ঘুরে এল মানুষ, সফল আর্টেমিস-২ মিশন

চাঁদের কক্ষপথ প্রদক্ষিণের ঐতিহাসিক অভিযান শেষে পৃথিবীতে ফিরলেন আর্টেমিস-২ মিশনের চার নভোচারী। শনিবার (১১ এপ্রিল) বাংলাদেশ সকাল ৬টা ৭ মিনিটে (যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলীয় সময় শুক্রবার রাত ৮টা ৭ মিনিট) তাদের বহনকারী ‘ওরিয়ন’ মহাকাশযানটি ক্যালিফোর্নিয়ার সান ডিয়েগো উপকূলে প্রশান্ত মহাসাগরে অবতরণ করে। এর মাধ্যমে ৫০ বছরেরও বেশি সময় পর প্রথমবার মানুষের চাঁদের চারপাশ ঘুরে আসার ঐতিহাসিক মিশন সম্পন্ন হলো।সমুদ্রে অবতরণের পর আর্টেমিস-২-এর কমান্ডার রিড ওয়াইজম্যান ওরিয়ন ক্যাপসুলের ভেতরে থাকা নভোচারীদের অবস্থা সম্পর্কে ইতিবাচক প্রতিবেদন দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘কী অসাধারণ এক যাত্রা ছিল। আমরা স্থিতিশীল আছি। চার নভোচারীই সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন।’নভোচারী উদ্ধার প্রক্রিয়া শুরুমার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার আর্টেমিস-২ ল্যান্ডিং অ্যান্ড রিকভারি ডিরেক্টর লিলিয়ানা ভিয়ারিয়াল বলেছেন, সমুদ্রে অবতরণের দুই ঘণ্টার মধ্যে নভোচারীদের ওরিয়ন ক্যাপসুল থেকে উদ্ধার করা হবে। এরপর তাঁদের মার্কিন নৌবাহিনীর উদ্ধারকারী জাহাজ ‘ইউএসএস জন পি মুরথা’র মেডিকেল বেতে পৌঁছে দেওয়া হবে।কিছু প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে নভোচারীদের প্রথমে ওরিয়ন ক্যাপসুলের সঙ্গে যুক্ত একটি ভেলায় আনা হবে, যাকে বলা হচ্ছে ‘ফ্রন্ট পোর্চ’। এরপর সেখান থেকে হেলিকপ্টারে করে তাদের নৌবাহিনীর জাহাজে নেওয়া হবে। নাসার ফ্লাইট কন্ট্রোলার জেফ রাডিগান জানিয়েছেন, সমুদ্র শান্ত থাকলে ক্যাপসুল থেকে উদ্ধার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট সময় লাগতে পারে।জাহাজে প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর বিমানে করে তাদের হিউস্টনের জনসন স্পেস সেন্টারে নেওয়া হবে।ইতিহাসের পাতায় আর্টেমিস-২এর মধ্য দিয়ে সফলভাবে সমাপ্ত হলো ১০ দিনের এই রোমাঞ্চকর চন্দ্রাভিযান। ১ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের রিড ওয়াইজম্যান, ক্রিস্টিনা কোচ, ভিক্টর গ্লোভার এবং কানাডার জেরেমি হ্যানসেনকে নিয়ে শুরু হয়েছিল এই মহাকাশযাত্রা।মিশনটি একাধিক নতুন ইতিহাস গড়েছে। চাঁদের দূরবর্তী অংশে অবস্থানের সময় পৃথিবী থেকে তাদের দূরত্ব ছিল ২ লাখ ৫২ হাজার ৭৫৭ মাইল। এটি ১৯৭০ সালের অ্যাপোলো-১৩ মিশনের রেকর্ড (২ লাখ ৪৮ হাজার ৬৫৫ মাইল) ভেঙে দিয়েছে।এ ছাড়া ভিক্টর গ্লোভার প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ, ক্রিস্টিনা কোচ প্রথম নারী এবং জেরেমি হ্যানসেন প্রথম অ-মার্কিন নাগরিক হিসেবে চাঁদের কক্ষপথ ভ্রমণের অনন্য ইতিহাস গড়েছেন। নভোচারীরা এই চন্দ্রাভিযানে চন্দ্রপৃষ্ঠে অন্তত ছয়টি উজ্জ্বল উল্কাপাতের ঝলক সরাসরি দেখেছেন।আর্টেমিস-২ অভিযানটি ছিল ২০২৮ সালের মধ্যে চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে মানুষের পদচিহ্ন ফেলার নাসার পরিকল্পনার একটি পরীক্ষামূলক ধাপ। নাসা প্লাস, অ্যামাজন প্রাইম, নেটফ্লিক্স ও অ্যাপল টিভিতে এই ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তন সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।সূত্র: এএফপি ও সিএনএন
১১ এপ্রিল ২০২৬
ষাট গম্বুজ মসজিদ

ষাট গম্বুজ মসজিদ

বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমের জেলা বাগেরহাট। সবুজ শ্যামলিমা আর নদী-খাল বেষ্টিত এই জনপদকে বিশ্বের দরবারে পরিচিতি এনে দিয়েছে একটি অনন্য স্থাপনা – ষাট গম্বুজ মসজিদ। ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী তিনটি স্থানের একটি এই মসজিদ মুসলিম স্থাপত্যের এক অপূর্ব নিদর্শন। যেখানে ইতিহাস, আধ্যাত্মিকতা আর নির্মাণকৌশলের মিলন ঘটেছে চুন-সুরকি আর পাথরের বাঁধনে।ইতিহাসের আঁধার আলো: কে, কবে, কেন?মসজিদটির গায়ে কোনো শিলালিপি নেই। তাই এটি কে নির্মাণ করেছিলেন বা কোন সময়ে নির্মিত হয়েছিল, তা নিয়ে সঠিক তথ্য পাওয়া যায় না। তবে স্থাপত্যশৈলী ঘেঁটে ইতিহাসবিদরা প্রায় নিশ্চিত – এ মসজিদ পীর খানজাহান আলী (রহ.)-এর হাতেই গড়ে উঠেছিল। ধারণা করা হয়, তিনি পঞ্চদশ শতাব্দীর মাঝামাঝি (আনুমানিক ১৪৪২-১৪৫৯ খ্রিস্টাব্দ, অনেকের মতে ১৫০০ শতাব্দীতে) এটি নির্মাণ করেন।সুলতান নাসিরউদ্দিন মাহমুদ শাহের আমলে খান-ই-জাহান সুন্দরবনের কোল ঘেঁষে ‘খলিফাতাবাদ’ রাজ্য গড়ে তোলেন। দরবার ও নামাজের জন্য তিনি একটি বিশাল হল নির্মাণের উদ্যোগ নেন, যা কালক্রমে ‘ষাট গম্বুজ মসজিদ’ নামে পরিচিতি পায়। জনশ্রুতি আছে, মসজিদের পাথর চট্টগ্রাম থেকে আনা হয়েছিল। আবার কেউ কেউ বলেন, ভারতের উড়িষ্যার রাজমহল থেকে অলৌকিক ক্ষমতাবলে জলপথে ভাসিয়ে আনা হয়েছিল। বাস্তবে পাথরগুলো রাজমহল থেকেই আনা – এ নিয়ে ঐতিহাসিকরা একমত।নামকরণের নানা কাহিনিমসজিদটির নাম নিয়েও আছে নানা মত।ষাট গম্বুজ কেন? সংস্কৃত ‘সাত’ ও ফারসি ‘ছাদ’ মিলে ‘ছাদ গম্বুজ’ থেকে কথ্যরূপে ‘ষাট গম্বুজ’ হয়েছে বলে এক মত।আবার অন্য মতে, মসজিদের ভেতরে ছয়টি সারিতে দশটি করে মোট ৬০টি পাথরের স্তম্ভ (খাম্বা) আছে। স্তম্ভের ওপর ছাদ নির্মিত, তাই ‘ষাট খাম্বা’ থেকে ‘ষাট গম্বুজ’।গম্বুজের প্রকৃত সংখ্যা: নাম ‘ষাট গম্বুজ’ হলেও আসলে এখানে গম্বুজ ৬০টি নয়। মূল ভবনে ১১টি সারিতে ৭৭টি গম্বুজ, চার কোণার মিনারের ওপর চারটি গম্বুজ – মোট ৮১টি গম্বুজ। ৭৭টির মধ্যে ৭৪টিই অর্ধগোলাকার, শুধু মাঝের সারির সাতটি দেখতে বাংলার চৌচালা ঘরের চালের মতো।তাই অনেক গবেষক মনে করেন, মসজিদটির আসল নাম হওয়া উচিত ছিল ‘ষাট স্তম্ভ মসজিদ’ – কারণ এখানে প্রধান আকর্ষণ সেই ৬০টি পাথরের স্তম্ভ।স্থাপত্যের অনন্য বুননষাট গম্বুজ মসজিদের স্থাপত্যশৈলীতে মিশেছে মধ্য এশিয়ার তুঘলক (তুরস্ক) ও জৌনপুরী ধারা, আবার রয়েছে স্থানীয় বাংলার ছোঁয়া।আকার ও পরিমাপবাইরের দিক: উত্তর-দক্ষিণে ১৬০ ফুট, পূর্ব-পশ্চিমে ১০৪ ফুট।ভেতরের দিক: উত্তর-দক্ষিণে ১৪৩ ফুট, পূর্ব-পশ্চিমে ৮৮ ফুট।দেয়ালের পুরুত্ব: প্রায় ৮.৫ ফুট। ইটের তৈরি এসব দেয়াল অসাধারণ মজবুত।দরজা ও জানালাপূর্ব দেয়ালে ১১টি খিলানযুক্ত দরজা – মাঝেরটি সবচেয়ে বড়।উত্তর ও দক্ষিণ দেয়ালে ৭টি করে মোট ১৪টি দরজা।এই অসংখ্য দরজা আলো ও বাতাস চলাচলের জন্য তৈরি, তবু ভেতরের দিকটা কিছুটা অন্ধকারাচ্ছন্ন – যা উপাসনার গাম্ভীর্য বাড়ায়।মিনার ও কোঠাচার কোণে চারটি গোলাকার মিনার। এদের চূড়ায় ছোট গম্বুজ। ছাদের কার্নিশের চেয়ে মিনারগুলো কিছুটা উঁচু। সামনের দিকের দুটি মিনারের ভেতর প্যাঁচানো সিঁড়ি – একসময় এখান থেকে আজান দেওয়া হতো।রওশন কোঠা: দক্ষিণ-পূর্ব কোণের বুরুজ – আলো-বাতাসে ভরা।আন্ধার কোঠা: উত্তর-পূর্ব কোণের বুরুজ – তুলনামূলক অন্ধকার।ভেতরের স্তম্ভ ও গম্বুজের জঙ্গলভেতরে ৬০টি পাথরের স্তম্ভ – উত্তর থেকে দক্ষিণে ছয় সারিতে, প্রতিসারিতে দশটি করে। প্রতিটি স্তম্ভ পাথর কেটে বানানো, তবে পাঁচটি স্তম্ভ পরে ইট দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। এই স্তম্ভের ওপর ভর করেই গম্বুজগুলো দাঁড়িয়ে। এক কথায়, এটি খিলান-স্তম্ভ-গম্বুজের এক বিস্ময়কর সমন্বয়।মিহরাব ও মিম্বারপশ্চিম দেয়ালে ১০টি মিহরাব। মাঝের মিহরাবটি সবচেয়ে বড় ও কারুকার্যপূর্ণ। এর দক্ষিণে ৫টি, উত্তরে ৪টি মিহরাব। উত্তরে যেখানে একটি মিহরাব থাকার কথা, সেখানে রয়েছে একটি ছোট দরজা – অনেকে মনে করেন, এটি খানজাহান আলীর দরবার হলের প্রবেশপথ ছিল। ইমামের বসার জন্য রয়েছে পাথরের মিম্বার।রডবিহীন নির্মাণসবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো – এই মসজিদে কোনো লোহার রড ব্যবহার করা হয়নি। শুধু চুন, সুরকি, কালো পাথর ও ছোট ইট দিয়ে তৈরি এই কাঠামো প্রায় ৬০০ বছর ধরে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে।ইউনেস্কোর স্বীকৃতি ও বর্তমান অবস্থা১৯৮৩ সালে (অনেক সূত্রে ১৯৮৫) ইউনেস্কো বাগেরহাট শহরটিকেই ‘ঐতিহাসিক মসজিদ শহর’ হিসেবে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের মর্যাদা দেয়। আর এই মর্যাদার কেন্দ্রবিন্দু হলো ষাট গম্বুজ মসজিদ।বর্তমানে মসজিদটি বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর ও ইউনেস্কোর যৌথ তত্ত্বাবধানে সংরক্ষিত। এখনো এখানে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামাতের সাথে আদায় করা হয়। একসঙ্গে মসজিদের ভেতরে প্রায় দুই হাজার মুসল্লি নামাজ পড়তে পারেন।ভ্রমণ তথ্য: কখন, কীভাবে, কত টাকা?প্রবেশ ফিদেশি পর্যটক: ৩০ টাকা (অনেক সূত্রে ২০ টাকাও উল্লেখ আছে – বর্তমানে ৩০ টাকাই বেশি প্রচলিত)মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষার্থী: ১০ টাকাসার্কভুক্ত দেশের নাগরিক: ২০০ টাকাঅন্যান্য বিদেশি: ৫০০ টাকাশিশু (০-১০ বছর) ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী: বিনামূল্যেঅনলাইন টিকেট: চাইলে myGOV ওয়েবসাইট থেকে কিউআর কোডযুক্ত টিকেট কেটে নিতে পারেন।খোলা ও বন্ধের সময়গ্রীষ্মকাল (গরমকাল): সকাল ১০টা – সন্ধ্যা ৬টাশীতকাল: সকাল ৯টা – বিকেল ৫টামধ্যাহ্ন বিরতি: দুপুর ১টা – ১টা ৩০ মিনিট (উভয় মৌসুমে)শুক্রবার বিশেষ বন্ধ: জুমার নামাজের জন্য দুপুর ১২টা ৩০ মিনিট – বিকেল ৩টা ৩০ মিনিটসাপ্তাহিক ছুটি: রোববার সারাদিন বন্ধ (সোমবার দুপুর ২টা থেকে খোলে)টিপস: নামাজের সময় (ফজর, যোহর, আসর, মাগরিব, এশা) স্থানীয় মুসল্লিরা প্রবেশ করতে পারেন বিনামূল্যে। তবে পর্যটকদের নির্ধারিত সময় ও টিকিট মেনে চলতে হবে।মসজিদ চত্বরে জাদুঘরপ্রধান ফটকের ডান পাশে বাগেরহাট জাদুঘর। এখানে খানজাহান আমলের প্রাচীন মুদ্রা, পোড়ামাটির ফলক, অসংখ্য প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন – এমনকি খানজাহানের দিঘির ঐতিহ্যবাহী ‘কালা পাহাড়’ ও ‘ধলা পাহাড়’ কুমিরের মমি সংরক্ষিত আছে।জাদুঘরের সময়: গ্রীষ্মে সকাল ১০টা – সন্ধ্যা ৬টা, শীতে সকাল ৯টা – বিকেল ৫টা।মধ্যাহ্ন বিরতি: দুপুর ১টা – দেড়টা।ছুটি: রোববার সারাদিন।একই টিকিটে জাদুঘর ও মসজিদ কমপ্লেক্স ঘুরতে পারবেন।যাতায়াত: ঢাকা থেকে বাগেরহাটবাসেঢাকার সায়দাবাদ ও গাবতলী বাস টার্মিনাল থেকে নিয়মিত বাস ছাড়ে। উল্লেখযোগ্য পরিবহন: মেঘনা, বনফুল, ফাল্গুনী, আরা, পর্যটক, বলেশ্বর, হামিম, দোলা, সোহাগ, শাকুরা, হানিফ, কমফোর্ট লাইন, ঈগল।ভাড়া: ৬৫০-৮০০ টাকা (প্রতি জন)।সময়: সকাল ৬টা-১০টা এবং সন্ধ্যা ৭টা-রাত ১০টা পর্যন্ত ছাড়ে।বাগেরহাট বাসস্ট্যান্ড নেমে রিকশা বা সিএনজি নিলে ৩০-৪০ টাকায় পৌঁছে যাবেন ষাট গম্বুজ মসজিদে (সুন্দরঘোনা গ্রাম, খুলনা-বাগেরহাট মহাসড়কের উত্তর পাশে)।ট্রেনেঢাকা থেকে সুন্দরবন এক্সপ্রেস খুলগামী ট্রেনে খুলনা যান। সেখান থেকে বাস বা সিএনজিতে বাগেরহাট (সময় লাগে ১-১.৫ ঘণ্টা)।কোথায় থাকবেন?বাগেরহাটে তেমন বিলাসবহুল হোটেল নেই, তবে মাঝারি মানের থাকার জায়গা আছে।রেল রোডে মমতাজ হোটেল – সুযোগ-সুবিধা কম, কিন্তু সেবা ভালো। খরচ তুলনামূলক বেশি।খান জাহান আলীর মাজারের সামনে হোটেল অভি – মেইন হাইওয়েতে অবস্থিত।কেন্দ্রীয় বাসস্টেশন সংলগ্ন হোটেল আল আমিন এবং কর্মকার পট্টিতে হোটেল মোহনা।খুলনা খুব কাছে বলে চাইলে খুলনা গিয়েও রাত কাটাতে পারেন।খাওয়ার ব্যবস্থাবাসস্ট্যান্ড ও দরগার আশপাশে কয়েকটি মোটামুটি মানের হোটেল আছে। তবে দাম ও মান সম্পর্কে আগে জেনে নেওয়া ভালো। স্থানীয় মাছ ও ভাত খেতে পারেন – বাগেরহাটের ইলিশ বেশ有名।দক্ষিণাঞ্চলের সর্ববৃহৎ ঈদের জামাতষাট গম্বুজ মসজিদ শুধু একটি পর্যটন কেন্দ্র নয় – এটি জীবন্ত একটি উপাসনালয়। প্রতি ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহায় এখানে দেশ-বিদেশের প্রায় অর্ধলাখ মুসল্লি জড়ো হন। এটি দক্ষিণাঞ্চলের সর্ববৃহৎ ঈদের জামাত। রমজান মাসে দুই হাফেজ খতম তারাবির নামাজ পড়ান এবং মুসল্লিদের জন্য ইফতারের ব্যবস্থা থাকে।আশপাশের দর্শনীয় স্থানমসজিদ ঘুরে সময় থাকলে আরও কয়েকটি স্থান দেখতে পারেন:বিবি বেগনির মসজিদ (৫০০ মিটার পেছনে) – ফুলের কারুকার্যময়।চুনাখোলা মসজিদ (বিবি বেগনির আরও ৫০০ মিটার পেছনে)।সিঙ্গাইর মসজিদ (মহাসড়কের পাশে)।নয় গম্বুজ মসজিদখান জাহান আলীর মাজারঘোড়া দিঘি ও রণবিজয়পুর দিঘিমোংলা বন্দর (চাইলে সুন্দরবন যাতায়াতের গেটওয়ে)।ভ্রমণে যা মেনে চলবেনহালকা ও আরামদায়ক পোশাক পরুন – সুতির কাপড় উত্তম।পর্যাপ্ত পানি, বিস্কুট, মুড়ি, চিড়া ইত্যাদি সঙ্গে রাখুন।মোবাইলের চার্জার ও পাওয়ার ব্যাংক নিতে ভুলবেন না।জ্বর, সর্দি, গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ ও স্যালাইন রাখুন।মসজিদে প্রবেশের আগে জুতা বাইরে রেখে পায়ে মোজা পরে প্রবেশ করুন।নামাজরত মুসল্লিদের বিরক্ত করবেন না। নির্ধারিত পর্যটক এলাকায় ঘুরুন।টিকিট কাটার পর জাদুঘর দেখতে ভুলবেন না – এটি একই ফিতে।শেষকথাষাট গম্বুজ মসজিদ শুধু পাথর-চুন-সুরকির গাঁথনি নয়; এটি বাংলার ইতিহাস, সংস্কৃতি ও মুসলিম স্থাপত্যের এক জীবন্ত দলিল। এখানে দাঁড়ালে সময় থমকে দাঁড়ায়। শুনতে পাবেন খানজাহানের আজানের প্রতিধ্বনি, দেখতে পাবেন অর্ধগোলাকার গম্বুজের সারি মেঘ ছুঁতে চায়।আপনিও একবার চলে আসুন বাগেরহাটে। ষাট গম্বুজের ছায়ায় দাঁড়ান। ইতিহাসের স্পর্শ নিন। আর এই অসাধারণ স্থাপত্যের সাক্ষী হয়ে ফিরে আসুন – নতুন এক অভিজ্ঞতা নিয়ে।
২৮ মার্চ ২০২৬
ষাট গম্বুজ মসজিদ

ষাট গম্বুজ মসজিদ

বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমের জেলা বাগেরহাট। সবুজ শ্যামলিমা আর নদী-খাল বেষ্টিত এই জনপদকে বিশ্বের দরবারে পরিচিতি এনে দিয়েছে একটি অনন্য স্থাপনা – ষাট গম্বুজ মসজিদ। ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী তিনটি স্থানের একটি এই মসজিদ মুসলিম স্থাপত্যের এক অপূর্ব নিদর্শন। যেখানে ইতিহাস, আধ্যাত্মিকতা আর নির্মাণকৌশলের মিলন ঘটেছে চুন-সুরকি আর পাথরের বাঁধনে।ইতিহাসের আঁধার আলো: কে, কবে, কেন?মসজিদটির গায়ে কোনো শিলালিপি নেই। তাই এটি কে নির্মাণ করেছিলেন বা কোন সময়ে নির্মিত হয়েছিল, তা নিয়ে সঠিক তথ্য পাওয়া যায় না। তবে স্থাপত্যশৈলী ঘেঁটে ইতিহাসবিদরা প্রায় নিশ্চিত – এ মসজিদ পীর খানজাহান আলী (রহ.)-এর হাতেই গড়ে উঠেছিল। ধারণা করা হয়, তিনি পঞ্চদশ শতাব্দীর মাঝামাঝি (আনুমানিক ১৪৪২-১৪৫৯ খ্রিস্টাব্দ, অনেকের মতে ১৫০০ শতাব্দীতে) এটি নির্মাণ করেন।সুলতান নাসিরউদ্দিন মাহমুদ শাহের আমলে খান-ই-জাহান সুন্দরবনের কোল ঘেঁষে ‘খলিফাতাবাদ’ রাজ্য গড়ে তোলেন। দরবার ও নামাজের জন্য তিনি একটি বিশাল হল নির্মাণের উদ্যোগ নেন, যা কালক্রমে ‘ষাট গম্বুজ মসজিদ’ নামে পরিচিতি পায়। জনশ্রুতি আছে, মসজিদের পাথর চট্টগ্রাম থেকে আনা হয়েছিল। আবার কেউ কেউ বলেন, ভারতের উড়িষ্যার রাজমহল থেকে অলৌকিক ক্ষমতাবলে জলপথে ভাসিয়ে আনা হয়েছিল। বাস্তবে পাথরগুলো রাজমহল থেকেই আনা – এ নিয়ে ঐতিহাসিকরা একমত।নামকরণের নানা কাহিনিমসজিদটির নাম নিয়েও আছে নানা মত।ষাট গম্বুজ কেন? সংস্কৃত ‘সাত’ ও ফারসি ‘ছাদ’ মিলে ‘ছাদ গম্বুজ’ থেকে কথ্যরূপে ‘ষাট গম্বুজ’ হয়েছে বলে এক মত।আবার অন্য মতে, মসজিদের ভেতরে ছয়টি সারিতে দশটি করে মোট ৬০টি পাথরের স্তম্ভ (খাম্বা) আছে। স্তম্ভের ওপর ছাদ নির্মিত, তাই ‘ষাট খাম্বা’ থেকে ‘ষাট গম্বুজ’।গম্বুজের প্রকৃত সংখ্যা: নাম ‘ষাট গম্বুজ’ হলেও আসলে এখানে গম্বুজ ৬০টি নয়। মূল ভবনে ১১টি সারিতে ৭৭টি গম্বুজ, চার কোণার মিনারের ওপর চারটি গম্বুজ – মোট ৮১টি গম্বুজ। ৭৭টির মধ্যে ৭৪টিই অর্ধগোলাকার, শুধু মাঝের সারির সাতটি দেখতে বাংলার চৌচালা ঘরের চালের মতো।তাই অনেক গবেষক মনে করেন, মসজিদটির আসল নাম হওয়া উচিত ছিল ‘ষাট স্তম্ভ মসজিদ’ – কারণ এখানে প্রধান আকর্ষণ সেই ৬০টি পাথরের স্তম্ভ।স্থাপত্যের অনন্য বুননষাট গম্বুজ মসজিদের স্থাপত্যশৈলীতে মিশেছে মধ্য এশিয়ার তুঘলক (তুরস্ক) ও জৌনপুরী ধারা, আবার রয়েছে স্থানীয় বাংলার ছোঁয়া।আকার ও পরিমাপবাইরের দিক: উত্তর-দক্ষিণে ১৬০ ফুট, পূর্ব-পশ্চিমে ১০৪ ফুট।ভেতরের দিক: উত্তর-দক্ষিণে ১৪৩ ফুট, পূর্ব-পশ্চিমে ৮৮ ফুট।দেয়ালের পুরুত্ব: প্রায় ৮.৫ ফুট। ইটের তৈরি এসব দেয়াল অসাধারণ মজবুত।দরজা ও জানালাপূর্ব দেয়ালে ১১টি খিলানযুক্ত দরজা – মাঝেরটি সবচেয়ে বড়।উত্তর ও দক্ষিণ দেয়ালে ৭টি করে মোট ১৪টি দরজা।এই অসংখ্য দরজা আলো ও বাতাস চলাচলের জন্য তৈরি, তবু ভেতরের দিকটা কিছুটা অন্ধকারাচ্ছন্ন – যা উপাসনার গাম্ভীর্য বাড়ায়।মিনার ও কোঠাচার কোণে চারটি গোলাকার মিনার। এদের চূড়ায় ছোট গম্বুজ। ছাদের কার্নিশের চেয়ে মিনারগুলো কিছুটা উঁচু। সামনের দিকের দুটি মিনারের ভেতর প্যাঁচানো সিঁড়ি – একসময় এখান থেকে আজান দেওয়া হতো।রওশন কোঠা: দক্ষিণ-পূর্ব কোণের বুরুজ – আলো-বাতাসে ভরা।আন্ধার কোঠা: উত্তর-পূর্ব কোণের বুরুজ – তুলনামূলক অন্ধকার।ভেতরের স্তম্ভ ও গম্বুজের জঙ্গলভেতরে ৬০টি পাথরের স্তম্ভ – উত্তর থেকে দক্ষিণে ছয় সারিতে, প্রতিসারিতে দশটি করে। প্রতিটি স্তম্ভ পাথর কেটে বানানো, তবে পাঁচটি স্তম্ভ পরে ইট দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। এই স্তম্ভের ওপর ভর করেই গম্বুজগুলো দাঁড়িয়ে। এক কথায়, এটি খিলান-স্তম্ভ-গম্বুজের এক বিস্ময়কর সমন্বয়।মিহরাব ও মিম্বারপশ্চিম দেয়ালে ১০টি মিহরাব। মাঝের মিহরাবটি সবচেয়ে বড় ও কারুকার্যপূর্ণ। এর দক্ষিণে ৫টি, উত্তরে ৪টি মিহরাব। উত্তরে যেখানে একটি মিহরাব থাকার কথা, সেখানে রয়েছে একটি ছোট দরজা – অনেকে মনে করেন, এটি খানজাহান আলীর দরবার হলের প্রবেশপথ ছিল। ইমামের বসার জন্য রয়েছে পাথরের মিম্বার।রডবিহীন নির্মাণসবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো – এই মসজিদে কোনো লোহার রড ব্যবহার করা হয়নি। শুধু চুন, সুরকি, কালো পাথর ও ছোট ইট দিয়ে তৈরি এই কাঠামো প্রায় ৬০০ বছর ধরে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে।ইউনেস্কোর স্বীকৃতি ও বর্তমান অবস্থা১৯৮৩ সালে (অনেক সূত্রে ১৯৮৫) ইউনেস্কো বাগেরহাট শহরটিকেই ‘ঐতিহাসিক মসজিদ শহর’ হিসেবে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের মর্যাদা দেয়। আর এই মর্যাদার কেন্দ্রবিন্দু হলো ষাট গম্বুজ মসজিদ।বর্তমানে মসজিদটি বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর ও ইউনেস্কোর যৌথ তত্ত্বাবধানে সংরক্ষিত। এখনো এখানে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামাতের সাথে আদায় করা হয়। একসঙ্গে মসজিদের ভেতরে প্রায় দুই হাজার মুসল্লি নামাজ পড়তে পারেন।ভ্রমণ তথ্য: কখন, কীভাবে, কত টাকা?প্রবেশ ফিদেশি পর্যটক: ৩০ টাকা (অনেক সূত্রে ২০ টাকাও উল্লেখ আছে – বর্তমানে ৩০ টাকাই বেশি প্রচলিত)মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষার্থী: ১০ টাকাসার্কভুক্ত দেশের নাগরিক: ২০০ টাকাঅন্যান্য বিদেশি: ৫০০ টাকাশিশু (০-১০ বছর) ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী: বিনামূল্যেঅনলাইন টিকেট: চাইলে myGOV ওয়েবসাইট থেকে কিউআর কোডযুক্ত টিকেট কেটে নিতে পারেন।খোলা ও বন্ধের সময়গ্রীষ্মকাল (গরমকাল): সকাল ১০টা – সন্ধ্যা ৬টাশীতকাল: সকাল ৯টা – বিকেল ৫টামধ্যাহ্ন বিরতি: দুপুর ১টা – ১টা ৩০ মিনিট (উভয় মৌসুমে)শুক্রবার বিশেষ বন্ধ: জুমার নামাজের জন্য দুপুর ১২টা ৩০ মিনিট – বিকেল ৩টা ৩০ মিনিটসাপ্তাহিক ছুটি: রোববার সারাদিন বন্ধ (সোমবার দুপুর ২টা থেকে খোলে)টিপস: নামাজের সময় (ফজর, যোহর, আসর, মাগরিব, এশা) স্থানীয় মুসল্লিরা প্রবেশ করতে পারেন বিনামূল্যে। তবে পর্যটকদের নির্ধারিত সময় ও টিকিট মেনে চলতে হবে।মসজিদ চত্বরে জাদুঘরপ্রধান ফটকের ডান পাশে বাগেরহাট জাদুঘর। এখানে খানজাহান আমলের প্রাচীন মুদ্রা, পোড়ামাটির ফলক, অসংখ্য প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন – এমনকি খানজাহানের দিঘির ঐতিহ্যবাহী ‘কালা পাহাড়’ ও ‘ধলা পাহাড়’ কুমিরের মমি সংরক্ষিত আছে।জাদুঘরের সময়: গ্রীষ্মে সকাল ১০টা – সন্ধ্যা ৬টা, শীতে সকাল ৯টা – বিকেল ৫টা।মধ্যাহ্ন বিরতি: দুপুর ১টা – দেড়টা।ছুটি: রোববার সারাদিন।একই টিকিটে জাদুঘর ও মসজিদ কমপ্লেক্স ঘুরতে পারবেন।যাতায়াত: ঢাকা থেকে বাগেরহাটবাসেঢাকার সায়দাবাদ ও গাবতলী বাস টার্মিনাল থেকে নিয়মিত বাস ছাড়ে। উল্লেখযোগ্য পরিবহন: মেঘনা, বনফুল, ফাল্গুনী, আরা, পর্যটক, বলেশ্বর, হামিম, দোলা, সোহাগ, শাকুরা, হানিফ, কমফোর্ট লাইন, ঈগল।ভাড়া: ৬৫০-৮০০ টাকা (প্রতি জন)।সময়: সকাল ৬টা-১০টা এবং সন্ধ্যা ৭টা-রাত ১০টা পর্যন্ত ছাড়ে।বাগেরহাট বাসস্ট্যান্ড নেমে রিকশা বা সিএনজি নিলে ৩০-৪০ টাকায় পৌঁছে যাবেন ষাট গম্বুজ মসজিদে (সুন্দরঘোনা গ্রাম, খুলনা-বাগেরহাট মহাসড়কের উত্তর পাশে)।ট্রেনেঢাকা থেকে সুন্দরবন এক্সপ্রেস খুলগামী ট্রেনে খুলনা যান। সেখান থেকে বাস বা সিএনজিতে বাগেরহাট (সময় লাগে ১-১.৫ ঘণ্টা)।কোথায় থাকবেন?বাগেরহাটে তেমন বিলাসবহুল হোটেল নেই, তবে মাঝারি মানের থাকার জায়গা আছে।রেল রোডে মমতাজ হোটেল – সুযোগ-সুবিধা কম, কিন্তু সেবা ভালো। খরচ তুলনামূলক বেশি।খান জাহান আলীর মাজারের সামনে হোটেল অভি – মেইন হাইওয়েতে অবস্থিত।কেন্দ্রীয় বাসস্টেশন সংলগ্ন হোটেল আল আমিন এবং কর্মকার পট্টিতে হোটেল মোহনা।খুলনা খুব কাছে বলে চাইলে খুলনা গিয়েও রাত কাটাতে পারেন।খাওয়ার ব্যবস্থাবাসস্ট্যান্ড ও দরগার আশপাশে কয়েকটি মোটামুটি মানের হোটেল আছে। তবে দাম ও মান সম্পর্কে আগে জেনে নেওয়া ভালো। স্থানীয় মাছ ও ভাত খেতে পারেন – বাগেরহাটের ইলিশ বেশ有名।দক্ষিণাঞ্চলের সর্ববৃহৎ ঈদের জামাতষাট গম্বুজ মসজিদ শুধু একটি পর্যটন কেন্দ্র নয় – এটি জীবন্ত একটি উপাসনালয়। প্রতি ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহায় এখানে দেশ-বিদেশের প্রায় অর্ধলাখ মুসল্লি জড়ো হন। এটি দক্ষিণাঞ্চলের সর্ববৃহৎ ঈদের জামাত। রমজান মাসে দুই হাফেজ খতম তারাবির নামাজ পড়ান এবং মুসল্লিদের জন্য ইফতারের ব্যবস্থা থাকে।আশপাশের দর্শনীয় স্থানমসজিদ ঘুরে সময় থাকলে আরও কয়েকটি স্থান দেখতে পারেন:বিবি বেগনির মসজিদ (৫০০ মিটার পেছনে) – ফুলের কারুকার্যময়।চুনাখোলা মসজিদ (বিবি বেগনির আরও ৫০০ মিটার পেছনে)।সিঙ্গাইর মসজিদ (মহাসড়কের পাশে)।নয় গম্বুজ মসজিদখান জাহান আলীর মাজারঘোড়া দিঘি ও রণবিজয়পুর দিঘিমোংলা বন্দর (চাইলে সুন্দরবন যাতায়াতের গেটওয়ে)।ভ্রমণে যা মেনে চলবেনহালকা ও আরামদায়ক পোশাক পরুন – সুতির কাপড় উত্তম।পর্যাপ্ত পানি, বিস্কুট, মুড়ি, চিড়া ইত্যাদি সঙ্গে রাখুন।মোবাইলের চার্জার ও পাওয়ার ব্যাংক নিতে ভুলবেন না।জ্বর, সর্দি, গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ ও স্যালাইন রাখুন।মসজিদে প্রবেশের আগে জুতা বাইরে রেখে পায়ে মোজা পরে প্রবেশ করুন।নামাজরত মুসল্লিদের বিরক্ত করবেন না। নির্ধারিত পর্যটক এলাকায় ঘুরুন।টিকিট কাটার পর জাদুঘর দেখতে ভুলবেন না – এটি একই ফিতে।শেষকথাষাট গম্বুজ মসজিদ শুধু পাথর-চুন-সুরকির গাঁথনি নয়; এটি বাংলার ইতিহাস, সংস্কৃতি ও মুসলিম স্থাপত্যের এক জীবন্ত দলিল। এখানে দাঁড়ালে সময় থমকে দাঁড়ায়। শুনতে পাবেন খানজাহানের আজানের প্রতিধ্বনি, দেখতে পাবেন অর্ধগোলাকার গম্বুজের সারি মেঘ ছুঁতে চায়।আপনিও একবার চলে আসুন বাগেরহাটে। ষাট গম্বুজের ছায়ায় দাঁড়ান। ইতিহাসের স্পর্শ নিন। আর এই অসাধারণ স্থাপত্যের সাক্ষী হয়ে ফিরে আসুন – নতুন এক অভিজ্ঞতা নিয়ে।
গণবার্তা ফিচার