ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬
ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬
গণবার্তা
সর্বশেষ

শেষ হতে যাচ্ছে ইরান যুদ্ধ, চূড়ান্ত পর্যায়ে সমঝোতা

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কয়েক মাস ধরে চলা ভয়াবহ যুদ্ধের অবসান ঘটতে যাচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে একটি সমঝোতা চুক্তির বিষয়ে তারা শেষ ধাপে পৌঁছেছেন। তিনি আশা করছেন, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই এটি চূড়ান্ত হতে পারে। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানও যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক পথে হাঁটতে ইরানের প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন, তবে দেশটির জনগণের অধিকার রক্ষায় কোনো আপস নয় বলে স্পষ্ট করে দিয়েছেন।ওয়াশিংটন ও তেহরানের পক্ষ থেকে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে, যুদ্ধবিরতির ভিত্তি তৈরি করতে দুই পক্ষ মাত্র এক পৃষ্ঠার একটি সমঝোতা স্মারকে সইয়ের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। হোয়াইট হাউস মনে করছে, এই দলিলটি ভবিষ্যতে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার একটি রূপরেখা হিসেবে কাজ করবে। খসড়া স্মারকে ইরান তার ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি সাময়িকভাবে স্থগিত রাখতে সম্মত হবে বলে জানা গেছে। বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র ধাপে ধাপে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করবে, আটকে থাকা ইরানি সম্পদ ছেড়ে দেবে এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ওপর আরোপিত সব ধরনের বিধিনিষেধ তুলে নিতে রাজি হয়েছে।ট্রাম্প নিজেও বিষয়টিকে ‘সতর্ক আশাবাদ’ হিসেবে দেখছেন। তিনি বলেছেন, ইরানের সামরিক সক্ষমতা অনেকটা হ্রাস পেয়েছে এবং তারা এখন আত্মসমর্পণের সাদা পতাকা ওড়ানোর কাছাকাছি চলে এসেছে। তবে তিনি সতর্ক করে দিয়েছেন, ইরান যদি প্রস্তাবিত চুক্তি মেনে নিতে ব্যর্থ হয়, তবে আগের চেয়ে ভয়াবহ ও তীব্র বোমা হামলা শুরু হবে। এ প্রসঙ্গে ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির মুখপাত্র ইবরাহিম রেজায়ি বলেছেন, মার্কিন প্রস্তাব প্রায় একতরফা দাবির তালিকা। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ইরান চাপের মুখে নতি স্বীকার করবে না।যুক্তরাষ্ট্রের এই উদ্যোগের পেছনে কাজ করছে পাকিস্তান। দেশটির এক সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, যুদ্ধ বন্ধের প্রক্রিয়া এখন খুব কাছাকাছি চলে এসেছে এবং খুব দ্রুতই এর সমাপ্তি টানা যাবে। তবে ইরানের জনমনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি গভীর অবিশ্বাস রয়ে গেছে। ইরানের প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান ফরাসি প্রেসিডেন্ট মাখোঁর সঙ্গে ফোনালাপে অভিযোগ করেন, দ্বিপক্ষীয় আলোচনা চলাকালেই যুক্তরাষ্ট্র ইরানে দুবার হামলা চালিয়েছে, যা পেছন থেকে ছুরি মারার মতো।এই কূটনৈতিক অগ্রগতির মধ্যেই হরমুজ প্রণালির কাছে এখনো প্রায় ১৬০০টি জাহাজ আটকে আছে। মাস দুয়েকের বেশি সময় ধরে এই জলপথ ছাড়ার সুযোগের অপেক্ষায় থাকতে গিয়ে জাহাজ চলাচল পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যয়বহুল ও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে। ট্রাম্প হরমুজে আটকে পড়া জাহাজগুলোর নিরাপত্তা দিয়ে প্রণালি পার করতে সহায়তা করতে ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ নামে একটি অভিযান শুরু করেছিলেন। অবশ্য এ অভিযান মাত্র ৪৮ ঘণ্টা স্থায়ী হয়েছিল এবং এর আওতায় মাত্র দুটি জাহাজ হরমুজ পার হয়েছে। ট্রাম্প অবশ্য ঘোষণা দিয়েছেন, শান্তি চুক্তির কথা মাথায় রেখে প্রজেক্ট ফ্রিডম স্থগিত থাকবে, কিন্তু ইরানের ওপর নৌ-অবরোধ পুরোপুরি বহাল থাকবে।চুক্তির অন্যতম বড় বাধা ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ রাখার সময়সীমা নিয়ে। যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘমেয়াদি সীমাবদ্ধতা চাইছে, অন্যদিকে ইরান তুলনামূলক স্বল্পমেয়াদি প্রস্তাব দিয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, শেষ পর্যন্ত এই সময় দশ বছরের বেশি হতে পারে। পাশাপাশি, ইরানের উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দেশের বাইরে সরিয়ে নেওয়ার সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা চলছে, যা দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম দাবি।এদিকে ইসরায়েল এই সম্ভাব্য চুক্তি মেনে নিতে নারাজ। ইসরায়েলি পাবলিক ব্রডকাস্টিং করপোরেশন জানিয়েছে, তেল আবিব ইরানের সঙ্গে যেকোনো আলোচনাকে শুধু সময়ের অপচয় বলে মনে করে। ইরানের মূল ভূখণ্ডে আবারও হামলা চালানোর জন্য তারা যুক্তরাষ্ট্রকে বার্তা দিয়েছে। জানা গেছে, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কর্মকর্তারা ইরানের বেশিরভাগ অপরিশোধিত তেল শোধনাগার ও সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে হামলার একটি নতুন তালিকা তৈরি করেছেন।উভয় দেশ যখন কূটনৈতিক সমাধানের দ্বারপ্রান্তে, তখন বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম টানা দ্বিতীয় দিনের মতো কমেছে। শান্তি প্রতিষ্ঠিত হলে হরমুজের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক হবে বলে বিনিয়োগকারীরা আশা করছেন। অন্যদিকে চীন ও রাশিয়ার মতো দেশগুলোও ইরানকে কূটনৈতিক সমর্থন দিতে এগিয়ে এসেছে। বেইজিংয়ে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে বৈঠকে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন ও ‘অবৈধ’ বলে আখ্যায়িত করেছেন। আরাগচি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, ইরান শুধু একটি ‘ন্যায্য ও পূর্ণাঙ্গ’ চুক্তিই গ্রহণ করবে।বর্তমানে সবকিছু নির্ভর করছে তেহরানের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর। আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের দাবির জবাব দিতে হচ্ছে ইরানকে। ট্রাম্প এরই মধ্যে আভাস দিয়েছেন, সব ঠিক থাকলে এক সপ্তাহের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষর হতে পারে। কিন্তু ইরানের জনগণ ও নীতিনির্ধারকরা যুক্তরাষ্ট্রের ওপর কতটা আস্থা রাখবেন, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
১৯ মিনিট আগে

২০২৮ সালের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে ৮০৯ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ যোগ করবে সরকার

দেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে বড় পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। ২০২৮ সালের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে অতিরিক্ত ৮০৯ দশমিক ৫ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ যুক্ত করার লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে। বর্তমানে দেশে এক হাজার ৪৫১ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে, যা মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতার প্রায় পাঁচ দশমিক শূন্য এক শতাংশ।বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রেজাউল করিম জানিয়েছেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহার বাড়ানো, কার্বন নিঃসরণ কমানো ও জ্বালানি নিরাপত্তা শক্তিশালী করতেই এই পরিকল্পনা। এরই মধ্যে ১৩টি সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের আওতায় ৫৭২ দশমিক ৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রায় পাঁচ মেগাওয়াট সক্ষমতার নতুন রুফটপ সোলার প্যানেল বসানো হয়েছে, যা চলতি বছরের সেপ্টেম্বরের মধ্যে চালু হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।বিপিডিবির তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে এক হাজার ১৭৪ মেগাওয়াট সক্ষমতার ২৬টি নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণাধীন। এর মধ্যে ছয়টি সরকারি উদ্যোগে বাস্তবায়ন হচ্ছে। আর বেসরকারি খাতে ২০টি প্রকল্পে এক হাজার ৬২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের কাজ চলছে। ২০২৬ সালের মে পর্যন্ত দেশে গ্রিডভিত্তিক মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা দাঁড়িয়েছে ২৮ হাজার ৯১৯ মেগাওয়াটে। ব্যবহার ও অফ-গ্রিড বিদ্যুৎ মিলিয়ে মোট সক্ষমতা ৩২ হাজার ৩৩২ মেগাওয়াট।বর্তমানে দেশে এক হাজার ৪৫০ দশমিক ৬৭ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। এর মধ্যে এক হাজার ৭৩ দশমিক পাঁচ মেগাওয়াট জাতীয় গ্রিডে যুক্ত এবং ৩৭৭ দশমিক ১৭ মেগাওয়াট অফ-গ্রিড পর্যায়ে। নবায়নযোগ্য জ্বালানির অন্য উৎসগুলোর মধ্যে ২৩০ মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎ, ৬২ মেগাওয়াট বায়ু, শূন্য দশমিক ৬৯ মেগাওয়াট বায়োগ্যাস ও শূন্য দশমিক চার মেগাওয়াট বায়োমাস বিদ্যুৎ আছে। স্রেডার হিসাবে মোট নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ সক্ষমতা এক হাজার ৭৪৩ দশমিক ৭৬ মেগাওয়াট।দেশে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ছে। গত শনিবার প্রকৃত উৎপাদন ছিল ১০ হাজার ৭৫৫ মেগাওয়াট। ২০২৪ সালের এপ্রিলে উৎপাদন ছিল ১৬ হাজার ৪৭৭ মেগাওয়াট। চলতি গ্রীষ্মে সর্বোচ্চ চাহিদা ১৮ থেকে সাড়ে ১৮ হাজার মেগাওয়াট হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।জামালপুরের মাদারগঞ্জে আরপিসিএল ১০০ মেগাওয়াটের সৌর পার্ক নির্মাণ করছে, যা ২০২৬ সালের ডিসেম্বরে চালু হবে। এ ছাড়া বেসরকারি খাত থেকে আরও ১৩২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়ার সম্ভাবনা আছে।বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, রাজধানীতে বিদ্যুতের লোড কমাতে প্রতিটি বাসায় সোলার প্যানেল বসানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। জুন মাসের মধ্যে সরকারি আদেশ জারির মাধ্যমে এ বিষয়ে নতুন নীতিমালা হবে। তিনি আরও বলেন, নেতৃত্বের অভাবে দেশে বড় আকারে সোলার ব্যবস্থায় যাওয়া সম্ভব হয়নি। বর্তমান সরকার সোলার ও বায়ু বিদ্যুৎকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। ২৭ এপ্রিল মন্ত্রী জানিয়েছিলেন, আগামী পাঁচ বছরে ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন করতে চায় সরকার।সরকারের লক্ষ্য, ২০৩০ সালের মধ্যে মোট বিদ্যুতের ২০ শতাংশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে উৎপাদন করা। এই লক্ষ্য জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা-৭ (এসডিজি-৭)-এর সঙ্গেও মিলে যায়।
১ ঘন্টা আগে

বিদ্যুতের দাম বাড়াতে প্রস্তাব, প্রতি ইউনিটে বাড়তে পারে ১ টাকা ৫০ পয়সা

সরকারি সংস্থাগুলো বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগ প্রস্তাবটিতে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) পাইকারি পর্যায়ে ১৭ থেকে সর্বোচ্চ ২১ শতাংশ দাম বাড়ানোর কথা বলেছে। এতে প্রতি ইউনিটের দাম ১ টাকা ২০ পয়সা থেকে ১ টাকা ৫০ পয়সা পর্যন্ত বাড়তে পারে। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) প্রস্তাব আমলে নিয়ে কারিগরি কমিটি গঠন করেছে। আগামী ২০ ও ২১ মে গণশুনানি হতে পারে।বর্তমানে দেশে খুচরা পর্যায়ে বিদ্যুতের গড় মূল্য প্রতি ইউনিটে ৮ টাকা ৯৫ পয়সা। তবে গ্রাহকভেদে দামে পার্থক্য আছে। পিডিবি পাইকারি ও খুচরা উভয় পর্যায়েই দাম ১৭ থেকে ২১ শতাংশ বাড়াতে চায়। তবে কম বিদ্যুৎ ব্যবহার করা নিম্ন আয়ের ‘লাইফলাইন’ গ্রাহকদের জন্য দাম অপরিবর্তিত রাখার প্রস্তাব রয়েছে। ‘লাইফলাইন’ গ্রাহক বলতে যাঁরা মাসে ৭৫ ইউনিটের কম বিদ্যুৎ ব্যবহার করেন, তাঁদের বোঝানো হয়েছে।বিইআরসির সদস্য ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ শাহিদ সারওয়ার জানান, নিয়ম অনুযায়ী সংস্থাগুলো তাদের প্রস্তাব দিচ্ছে। অধিকাংশ সংস্থা ইতিমধ্যে তাদের প্রস্তাব বিইআরসিতে জমা দিয়েছে। সূত্র জানায়, দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনে লোকসান কমানোর জন্যই পাইকারি দাম বাড়াতে চায় পিডিবি। প্রস্তাব কারিগরি কমিটি পর্যালোচনা করছে। ঈদুল আজহার আগে দাম বাড়ানোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হওয়ার সম্ভাবনা কম বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।বিইআরসির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ বলেন, পাইকারি দাম বাড়লে খুচরা পর্যায়েও আনুপাতিক দাম বাড়ে। তাই প্রস্তাব আমলে নিয়ে কারিগরি কমিটি করা হয়েছে। উল্লেখ্য, সর্বশেষ ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছিল। তখন খুচরা পর্যায়ে আট দশমিক পাঁচ শতাংশ ও পাইকারি পর্যায়ে পাঁচ শতাংশ দাম বাড়ানো হয়। পিডিবির নতুন প্রস্তাবে দাম ১৭ থেকে ২১ শতাংশ বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে।পিডিবির হিসেব অনুযায়ী, প্রতি ইউনিটে ৫০ পয়সা দাম বাড়ালে সরকারের ভর্তুকি সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকা কমবে। ১ টাকা বাড়ালে ভর্তুকি কমবে প্রায় সাড়ে ১০ হাজার কোটি টাকা। আর ১ টাকা ২০ পয়সা বাড়ালে ভর্তুকি কমতে পারে প্রায় সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকা। বর্তমানে দেশে ৩৭ শতাংশ গ্রাহক ৭৫ ইউনিটের বেশি বিদ্যুৎ ব্যবহার করেন। বাকি ৬৩ শতাংশ লাইফলাইন গ্রাহক। বেশি বিদ্যুৎ ব্যবহারকারীদের ওপর বাড়তি দামের চাপ পড়বে বলে জানিয়েছে পিডিবি।মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দাম বেড়ে দ্বিগুণের বেশি হয়েছে। ফলে দেশে বিদ্যুৎ খাতে খরচ বেড়েছে। গত ১৮ এপ্রিল জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়। আগে গত ৯ এপ্রিল পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম সমন্বয়ের জন্য অর্থমন্ত্রীকে আহ্বায়ক করে উচ্চপর্যায়ের মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করা হয়। এর আগে আওয়ামী লীগ সরকারের দেড় দশকে পাইকারি পর্যায়ে ১২ বার ও খুচরা পর্যায়ে ১৪ বার দাম বাড়ানো হয়। পরে অন্তর্বর্তী সরকার এসে দাম না বাড়িয়ে খরচ কমানোর সিদ্ধান্ত নেয়।কনজ্যুমারস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. এম শামসুল আলম বলেন, ঘাটতি দেখিয়ে দাম বাড়ানোর অজুহাত পুরনো। মূল্যবৃদ্ধি কোনো সমাধান নয়। এতে মানুষের কষ্ট আরও বাড়বে। খরচ কমিয়ে ভর্তুকি কমানোর উপায় বের করার পরামর্শ দেন তিনি।
১৪ ঘন্টা আগে
বগুড়ায় হচ্ছে উত্তরাঞ্চলের প্রথম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, ফ্লাইং একাডেমি ও বিমানঘাঁটি

বগুড়ায় হচ্ছে উত্তরাঞ্চলের প্রথম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, ফ্লাইং একাডেমি ও বিমানঘাঁটি

বগুড়া, ৭ মে: বগুড়ায় আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দর চালু করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। একই সঙ্গে দক্ষ পাইলট তৈরির জন্য এখানে একটি ফ্লাইং একাডেমি ও একটি পূর্ণাঙ্গ আধুনিক বিমানঘাঁটি স্থাপন করা হবে।বৃহস্পতিবার দুপুরে বগুড়া বিমানবন্দর এলাকা পরিদর্শন শেষে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বাণিজ্যিক বিমানসেবা চালুর সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে একটি প্রতিনিধিদলের সদস্যরা এ কথা জানান।প্রতিনিধিদলে নেতৃত্ব দেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাত, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এবং বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান।মন্ত্রীরা যা বললেনআফরোজা খানম সাংবাদিকদের বলেন, ‘কিছুদিন আগে প্রধানমন্ত্রী বগুড়া সফরের সময় ঘোষণা দিয়েছেন, বগুড়ায় আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর চালু হবে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশেই আজ এখানে আসা। বগুড়াবাসী অনেক ভাগ্যবান, বগুড়ায় হচ্ছে উত্তরাঞ্চলের প্রথম আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দর।’তিনি আরও জানান, আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পাশাপাশি বগুড়ায় হবে ফ্লাইং একাডেমি। ‘আমাদের অনেক দক্ষ পাইলট দরকার। আমরা উপযুক্ত প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ পাইলট তৈরি করব। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী, আমরা যেন দ্রুত বগুড়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণের কাজ শেষ করতে পারি, সেই দোয়া করবেন।’প্রতিমন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, আমরা খুবই তাড়াতাড়ি বগুড়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর চালু করতে চাই। আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পাশাপাশি এখানে আধুনিক বিমানঘাঁটি ও ফ্লাইং একাডেমি চালু হবে।’বিমানঘাঁটি ও রানওয়ে সম্প্রসারণপ্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠের জনসভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘোষণা দিয়েছেন, কার্গো সুবিধাসহ বগুড়ায় আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দ্রুত সময়ের মধ্যে চালু হবে। এ ঘোষণার পর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে অনুশাসন জারি করা হয়।বর্তমানে বগুড়ায় যে বিমানবন্দর আছে, সেই জায়গায় বিমানবাহিনী ট্রেনিং স্কুল হিসেবে ব্যবহার করছে। বিমানবাহিনীর প্রধান ইতিমধ্যে সেখানে উত্তরাঞ্চলের প্রথম অত্যাধুনিক বিমানঘাঁটি স্থাপনের ঘোষণা দিয়েছেন।মীর শাহে আলম জানান, বগুড়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর চালুর জন্য নতুন করে ১০ হাজার ৫০০ ফুট রানওয়ে প্রয়োজন। এই রানওয়ে সম্প্রসারণের জন্য আজ সিদ্ধান্ত হয়েছে।অর্থনৈতিক সম্ভাবনাএখানে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর চালু হলে যাত্রীসেবার পাশাপাশি কার্গো বিমানে এ এলাকার কৃষকের উৎপাদিত কৃষিপণ্য এবং বগুড়া অঞ্চলের কৃষি যন্ত্রাংশ ও হালকা প্রকৌশল শিল্পপণ্য বিদেশে রপ্তানি করা সহজ হবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, কার্গো সুবিধা, প্রশিক্ষণ একাডেমি ও আন্তর্জাতিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠিত হলে বগুড়াসহ সমগ্র উত্তরাঞ্চলের অর্থনীতি, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানে ব্যাপক পরিবর্তন আসবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।এ সময় বগুড়া-৬ আসনের সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাদশা ও বগুড়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোশারফ হোসেন উপস্থিত ছিলেন।বগুড়ায় উত্তরাঞ্চলের প্রথম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, ফ্লাইং একাডেমি ও বিমানঘাঁটি স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পর দ্রুত সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ শুরু হয়েছে। বর্তমান রানওয়ে ১০ হাজার ৫০০ ফুটে উন্নীত করতে হবে। প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে শুধু যাত্রীসেবাই নয়, কৃষিপণ্য ও শিল্পপণ্য রপ্তানি সহজ হবে। এতে কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগের নতুন দিগন্ত খুলবে উত্তরাঞ্চলে। তবে কবে নাগাদ কাজ শুরু হয় এবং কবে শেষ হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
৪ মিনিট আগে
২০২৮ সালের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে ৮০৯ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ যোগ করবে সরকার

২০২৮ সালের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে ৮০৯ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ যোগ করবে সরকার

দেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে বড় পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। ২০২৮ সালের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে অতিরিক্ত ৮০৯ দশমিক ৫ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ যুক্ত করার লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে। বর্তমানে দেশে এক হাজার ৪৫১ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে, যা মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতার প্রায় পাঁচ দশমিক শূন্য এক শতাংশ।বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রেজাউল করিম জানিয়েছেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহার বাড়ানো, কার্বন নিঃসরণ কমানো ও জ্বালানি নিরাপত্তা শক্তিশালী করতেই এই পরিকল্পনা। এরই মধ্যে ১৩টি সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের আওতায় ৫৭২ দশমিক ৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রায় পাঁচ মেগাওয়াট সক্ষমতার নতুন রুফটপ সোলার প্যানেল বসানো হয়েছে, যা চলতি বছরের সেপ্টেম্বরের মধ্যে চালু হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।বিপিডিবির তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে এক হাজার ১৭৪ মেগাওয়াট সক্ষমতার ২৬টি নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণাধীন। এর মধ্যে ছয়টি সরকারি উদ্যোগে বাস্তবায়ন হচ্ছে। আর বেসরকারি খাতে ২০টি প্রকল্পে এক হাজার ৬২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের কাজ চলছে। ২০২৬ সালের মে পর্যন্ত দেশে গ্রিডভিত্তিক মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা দাঁড়িয়েছে ২৮ হাজার ৯১৯ মেগাওয়াটে। ব্যবহার ও অফ-গ্রিড বিদ্যুৎ মিলিয়ে মোট সক্ষমতা ৩২ হাজার ৩৩২ মেগাওয়াট।বর্তমানে দেশে এক হাজার ৪৫০ দশমিক ৬৭ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। এর মধ্যে এক হাজার ৭৩ দশমিক পাঁচ মেগাওয়াট জাতীয় গ্রিডে যুক্ত এবং ৩৭৭ দশমিক ১৭ মেগাওয়াট অফ-গ্রিড পর্যায়ে। নবায়নযোগ্য জ্বালানির অন্য উৎসগুলোর মধ্যে ২৩০ মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎ, ৬২ মেগাওয়াট বায়ু, শূন্য দশমিক ৬৯ মেগাওয়াট বায়োগ্যাস ও শূন্য দশমিক চার মেগাওয়াট বায়োমাস বিদ্যুৎ আছে। স্রেডার হিসাবে মোট নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ সক্ষমতা এক হাজার ৭৪৩ দশমিক ৭৬ মেগাওয়াট।দেশে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ছে। গত শনিবার প্রকৃত উৎপাদন ছিল ১০ হাজার ৭৫৫ মেগাওয়াট। ২০২৪ সালের এপ্রিলে উৎপাদন ছিল ১৬ হাজার ৪৭৭ মেগাওয়াট। চলতি গ্রীষ্মে সর্বোচ্চ চাহিদা ১৮ থেকে সাড়ে ১৮ হাজার মেগাওয়াট হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।জামালপুরের মাদারগঞ্জে আরপিসিএল ১০০ মেগাওয়াটের সৌর পার্ক নির্মাণ করছে, যা ২০২৬ সালের ডিসেম্বরে চালু হবে। এ ছাড়া বেসরকারি খাত থেকে আরও ১৩২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়ার সম্ভাবনা আছে।বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, রাজধানীতে বিদ্যুতের লোড কমাতে প্রতিটি বাসায় সোলার প্যানেল বসানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। জুন মাসের মধ্যে সরকারি আদেশ জারির মাধ্যমে এ বিষয়ে নতুন নীতিমালা হবে। তিনি আরও বলেন, নেতৃত্বের অভাবে দেশে বড় আকারে সোলার ব্যবস্থায় যাওয়া সম্ভব হয়নি। বর্তমান সরকার সোলার ও বায়ু বিদ্যুৎকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। ২৭ এপ্রিল মন্ত্রী জানিয়েছিলেন, আগামী পাঁচ বছরে ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন করতে চায় সরকার।সরকারের লক্ষ্য, ২০৩০ সালের মধ্যে মোট বিদ্যুতের ২০ শতাংশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে উৎপাদন করা। এই লক্ষ্য জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা-৭ (এসডিজি-৭)-এর সঙ্গেও মিলে যায়।
১ ঘন্টা আগে
 শেষ হতে যাচ্ছে ইরান যুদ্ধ, চূড়ান্ত পর্যায়ে সমঝোতা

শেষ হতে যাচ্ছে ইরান যুদ্ধ, চূড়ান্ত পর্যায়ে সমঝোতা

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কয়েক মাস ধরে চলা ভয়াবহ যুদ্ধের অবসান ঘটতে যাচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে একটি সমঝোতা চুক্তির বিষয়ে তারা শেষ ধাপে পৌঁছেছেন। তিনি আশা করছেন, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই এটি চূড়ান্ত হতে পারে। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানও যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক পথে হাঁটতে ইরানের প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন, তবে দেশটির জনগণের অধিকার রক্ষায় কোনো আপস নয় বলে স্পষ্ট করে দিয়েছেন।ওয়াশিংটন ও তেহরানের পক্ষ থেকে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে, যুদ্ধবিরতির ভিত্তি তৈরি করতে দুই পক্ষ মাত্র এক পৃষ্ঠার একটি সমঝোতা স্মারকে সইয়ের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। হোয়াইট হাউস মনে করছে, এই দলিলটি ভবিষ্যতে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার একটি রূপরেখা হিসেবে কাজ করবে। খসড়া স্মারকে ইরান তার ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি সাময়িকভাবে স্থগিত রাখতে সম্মত হবে বলে জানা গেছে। বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র ধাপে ধাপে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করবে, আটকে থাকা ইরানি সম্পদ ছেড়ে দেবে এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ওপর আরোপিত সব ধরনের বিধিনিষেধ তুলে নিতে রাজি হয়েছে।ট্রাম্প নিজেও বিষয়টিকে ‘সতর্ক আশাবাদ’ হিসেবে দেখছেন। তিনি বলেছেন, ইরানের সামরিক সক্ষমতা অনেকটা হ্রাস পেয়েছে এবং তারা এখন আত্মসমর্পণের সাদা পতাকা ওড়ানোর কাছাকাছি চলে এসেছে। তবে তিনি সতর্ক করে দিয়েছেন, ইরান যদি প্রস্তাবিত চুক্তি মেনে নিতে ব্যর্থ হয়, তবে আগের চেয়ে ভয়াবহ ও তীব্র বোমা হামলা শুরু হবে। এ প্রসঙ্গে ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির মুখপাত্র ইবরাহিম রেজায়ি বলেছেন, মার্কিন প্রস্তাব প্রায় একতরফা দাবির তালিকা। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ইরান চাপের মুখে নতি স্বীকার করবে না।যুক্তরাষ্ট্রের এই উদ্যোগের পেছনে কাজ করছে পাকিস্তান। দেশটির এক সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, যুদ্ধ বন্ধের প্রক্রিয়া এখন খুব কাছাকাছি চলে এসেছে এবং খুব দ্রুতই এর সমাপ্তি টানা যাবে। তবে ইরানের জনমনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি গভীর অবিশ্বাস রয়ে গেছে। ইরানের প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান ফরাসি প্রেসিডেন্ট মাখোঁর সঙ্গে ফোনালাপে অভিযোগ করেন, দ্বিপক্ষীয় আলোচনা চলাকালেই যুক্তরাষ্ট্র ইরানে দুবার হামলা চালিয়েছে, যা পেছন থেকে ছুরি মারার মতো।এই কূটনৈতিক অগ্রগতির মধ্যেই হরমুজ প্রণালির কাছে এখনো প্রায় ১৬০০টি জাহাজ আটকে আছে। মাস দুয়েকের বেশি সময় ধরে এই জলপথ ছাড়ার সুযোগের অপেক্ষায় থাকতে গিয়ে জাহাজ চলাচল পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যয়বহুল ও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে। ট্রাম্প হরমুজে আটকে পড়া জাহাজগুলোর নিরাপত্তা দিয়ে প্রণালি পার করতে সহায়তা করতে ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ নামে একটি অভিযান শুরু করেছিলেন। অবশ্য এ অভিযান মাত্র ৪৮ ঘণ্টা স্থায়ী হয়েছিল এবং এর আওতায় মাত্র দুটি জাহাজ হরমুজ পার হয়েছে। ট্রাম্প অবশ্য ঘোষণা দিয়েছেন, শান্তি চুক্তির কথা মাথায় রেখে প্রজেক্ট ফ্রিডম স্থগিত থাকবে, কিন্তু ইরানের ওপর নৌ-অবরোধ পুরোপুরি বহাল থাকবে।চুক্তির অন্যতম বড় বাধা ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ রাখার সময়সীমা নিয়ে। যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘমেয়াদি সীমাবদ্ধতা চাইছে, অন্যদিকে ইরান তুলনামূলক স্বল্পমেয়াদি প্রস্তাব দিয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, শেষ পর্যন্ত এই সময় দশ বছরের বেশি হতে পারে। পাশাপাশি, ইরানের উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দেশের বাইরে সরিয়ে নেওয়ার সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা চলছে, যা দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম দাবি।এদিকে ইসরায়েল এই সম্ভাব্য চুক্তি মেনে নিতে নারাজ। ইসরায়েলি পাবলিক ব্রডকাস্টিং করপোরেশন জানিয়েছে, তেল আবিব ইরানের সঙ্গে যেকোনো আলোচনাকে শুধু সময়ের অপচয় বলে মনে করে। ইরানের মূল ভূখণ্ডে আবারও হামলা চালানোর জন্য তারা যুক্তরাষ্ট্রকে বার্তা দিয়েছে। জানা গেছে, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কর্মকর্তারা ইরানের বেশিরভাগ অপরিশোধিত তেল শোধনাগার ও সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে হামলার একটি নতুন তালিকা তৈরি করেছেন।উভয় দেশ যখন কূটনৈতিক সমাধানের দ্বারপ্রান্তে, তখন বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম টানা দ্বিতীয় দিনের মতো কমেছে। শান্তি প্রতিষ্ঠিত হলে হরমুজের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক হবে বলে বিনিয়োগকারীরা আশা করছেন। অন্যদিকে চীন ও রাশিয়ার মতো দেশগুলোও ইরানকে কূটনৈতিক সমর্থন দিতে এগিয়ে এসেছে। বেইজিংয়ে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে বৈঠকে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন ও ‘অবৈধ’ বলে আখ্যায়িত করেছেন। আরাগচি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, ইরান শুধু একটি ‘ন্যায্য ও পূর্ণাঙ্গ’ চুক্তিই গ্রহণ করবে।বর্তমানে সবকিছু নির্ভর করছে তেহরানের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর। আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের দাবির জবাব দিতে হচ্ছে ইরানকে। ট্রাম্প এরই মধ্যে আভাস দিয়েছেন, সব ঠিক থাকলে এক সপ্তাহের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষর হতে পারে। কিন্তু ইরানের জনগণ ও নীতিনির্ধারকরা যুক্তরাষ্ট্রের ওপর কতটা আস্থা রাখবেন, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
১৯ মিনিট আগে
১৫ এপ্রিল ২০২৬, ১২:১১ এএম
আপনি কি মনে করেন বিএনপি জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর ও শব্দ বাস্তবায়ন করবে?

আপনি কি মনে করেন বিএনপি জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর ও শব্দ বাস্তবায়ন করবে?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ জন
হামের উপসর্গে আরও পাঁচ শিশুর মৃত্যু, নতুন রোগী শনাক্ত ১২৯

হামের উপসর্গে আরও পাঁচ শিশুর মৃত্যু, নতুন রোগী শনাক্ত ১২৯

হাম পরিস্থিতি নিয়ে দেশে উদ্বেগ কাটছেই না। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে এই সময়ে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। বুধবার স্বাস্থ্য অধিদফতরের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত তথ্য তুলে ধরা হয়।স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১২৯ জনের দেহে হাম শনাক্ত হয়েছে। এতে ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত মোট নিশ্চিত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৯৩৪ জনে। এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে ১ হাজার ২২৯ জনের মধ্যে হামের উপসর্গ দেখা গেছে। এ নিয়ে মোট সন্দেহজনক রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৭ হাজার ১৬৪ জনে।স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৩৮ জন। আর হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৯০ জনে। একই সময়ের মধ্যে হাম সন্দেহে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১৭ হাজার ৯৯৮ জন এবং চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১৪ হাজার ৮৯২ জন।
২২ এপ্রিল ২০২৬
রূপপুর প্রকল্পের ব্যয়ের ৯০ শতাংশই রুশ ঋণ, ফেরত দিতে ২৮ বছরের সময় পাচ্ছে বাংলাদেশ

রূপপুর প্রকল্পের ব্যয়ের ৯০ শতাংশই রুশ ঋণ, ফেরত দিতে ২৮ বছরের সময় পাচ্ছে বাংলাদেশ

 রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ঘিরে বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে যেমন নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, তেমনি এর অর্থায়ন ও ব্যয় নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন। প্রায় এক লাখ চৌদ্দ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই মেগা প্রকল্পের ৯০ শতাংশ অর্থ ঋণ হিসেবে দিচ্ছে রাশিয়া, যা বাংলাদেশকে ২৮ বছরের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে।প্রকল্প বাস্তবায়নে আর্থিক, কারিগরি ও প্রযুক্তিগত সব ধরনের সহায়তাই দিচ্ছে রাশিয়া। শুরুতে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের উৎপাদন খরচ ছয় টাকা ধরা হলেও অভ্যন্তরীণ সূত্র বলছে, বর্তমানে তা প্রায় ১২ টাকায় পৌঁছাতে পারে।নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিপ্রকল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মেনে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। ব্যবহৃত তৃতীয় প্রজন্মের রিঅ্যাক্টর প্রযুক্তিতে রয়েছে স্বয়ংক্রিয় নিরাপত্তাব্যবস্থা। ব্যবহৃত জ্বালানি আন্তর্জাতিক তত্ত্বাবধানে রাশিয়ায় ফেরত পাঠানো হবে। প্রায় ৬০ বছর আয়ুষ্কালের এই বিদ্যুৎকেন্দ্র যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে আরও ৩০ বছর পর্যন্ত চালু রাখা সম্ভব।সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, রূপপুর প্রকল্প শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদনেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি দেশের প্রযুক্তিগত অগ্রগতি, দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।পরিবেশগত দিকবিশেষজ্ঞদের মতে, পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে কার্বন নিঃসরণ খুবই কম, যা জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় সহায়ক। পাশাপাশি কম জ্বালানিতে বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদনের কারণে কয়লা ও গ্যাসের ওপর নির্ভরতা কমাবে এই কেন্দ্র। বিশ্বজুড়ে বিতর্ক থাকলেও আধুনিক সময়ে পারমাণবিক শক্তিকে পরিচ্ছন্ন জ্বালানি হিসেবেই বিবেচনা করা হচ্ছে।জ্বালানি ও উৎপাদন প্রক্রিয়াজানা গেছে, পারমাণবিক জ্বালানি মূলত ইউরেনিয়াম থেকে তৈরি হয়। ইউরেনিয়াম অক্সাইড দিয়ে ছোট ট্যাবলেটের মতো জ্বালানি দানা বা পেলেট তৈরি করা হয়, যার ব্যাস সাধারণত ৮ থেকে ১৫ মিলিমিটার এবং দৈর্ঘ্য ১০ থেকে ১৫ মিলিমিটার। এসব পেলেট চার মিটার দীর্ঘ ধাতব নলের মধ্যে সাজিয়ে তৈরি করা হয় জ্বালানি রড। পরে নির্দিষ্ট কাঠামোয় একাধিক রড একত্র করে তৈরি হয় ফুয়েল অ্যাসেম্বলি বা জ্বালানি বান্ডেল।২০২৩ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর আকাশপথে রাশিয়া থেকে ঢাকায় আসে পারমাণবিক জ্বালানির প্রথম চালান। পরবর্তীতে আরও কয়েকটি চালান আসে এবং বিশেষ নিরাপত্তায় সড়কপথে অক্টোবরে রূপপুরে নেওয়া হয়। মোট ১৬৪টি জ্বালানি বান্ডেল দেশে আনা হয়েছে, যার প্রতিটিতে রয়েছে ৩১২টি করে জ্বালানি রড।বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য এসব জ্বালানি বান্ডেল চুল্লির কেন্দ্রে স্থাপন করা হচ্ছে। প্রথম ইউনিটে একসঙ্গে ১৬৩টি বান্ডেল ব্যবহার করা হবে। একবার জ্বালানি স্থাপন করলে প্রায় ১৮ মাস বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব। ব্যবহৃত জ্বালানি তেজস্ক্রিয় হওয়ায় তা বিশেষ ব্যবস্থায় রাশিয়ায় ফেরত পাঠানো হবে এবং আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার নজরদারিতে প্রতিটি বান্ডেলের হিসাব রাখা হবে।স্টার্টআপ প্রক্রিয়ারি-অ্যাক্টরের নকশা অনুযায়ী, ১৬৩টি ফুয়েল অ্যাসেম্বলি কোরে বসাতে সময় লাগবে প্রায় ৩০ দিন। এরপর শুরু হবে ফিজিক্যাল স্টার্টআপ, যেখানে নিউক্লিয়ার ফিশন রিঅ্যাকশন চালু করে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন করতে প্রায় ৩৪ দিন সময় লাগবে।পরবর্তী ধাপে ধীরে ধীরে রিঅ্যাক্টরের ক্ষমতা বাড়ানো হবে—৩ শতাংশ, ৫ শতাংশ, ১০ শতাংশ, ২০ শতাংশ এবং ৩০ শতাংশে উন্নীত করতে সময় লাগবে প্রায় ৪০ দিন। রিঅ্যাক্টরের ক্ষমতা ৩ শতাংশে পৌঁছালেই জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হবে। ধাপে ধাপে পূর্ণ সক্ষমতায় যেতে এবং সব পরীক্ষা শেষ করতে মোট সময় লাগবে প্রায় ১০ মাস।নির্মাণ চুক্তি অনুযায়ী, প্রথম তিন বছর রাশিয়াই জ্বালানি সরবরাহ করবে। এ সময়ে জ্বালানি আমদানি নিয়ে কোনো উদ্বেগ নেই। এরপর বাংলাদেশকে নিজ উদ্যোগে ইউরেনিয়াম আমদানি করতে হবে, তবে দুই বছর পরপর জ্বালানি পরিবর্তন করলেই কেন্দ্রটি সচল রাখা সম্ভব হবে।রূপপুর বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় মেগা প্রকল্প। শুরুতে উৎপাদন খরচ ছয় টাকা হলেও বর্তমানে তা দ্বিগুণ হতে পারে—যা বিদ্যুতের বাজারমূল্যকে প্রভাবিত করবে। আবার ঋণের বোঝা নিয়েও প্রশ্ন আছে। তবে কার্বননিরপেক্ষ বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে এটিকে ‘গেমচেঞ্জার’ বলছেন অনেকে। প্রকল্পটি এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। গ্রিডে বিদ্যুৎ দেওয়া শুরু হলে বাস্তব চিত্র স্পষ্ট হবে।
২৮ মার্চ ২০২৬
আইএমএফের পূর্বাভাস, চলতি বছর মাথাপিছু জিডিপিতে ভারতকে ছাড়িয়ে যেতে পারে বাংলাদেশ

আইএমএফের পূর্বাভাস, চলতি বছর মাথাপিছু জিডিপিতে ভারতকে ছাড়িয়ে যেতে পারে বাংলাদেশ

২৮ মার্চ ২০২৬
এআই নিয়ে আদালতে মাস্ক বনাম অল্টম্যান, এআইয়ের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে মামলা শুরু

এআই নিয়ে আদালতে মাস্ক বনাম অল্টম্যান, এআইয়ের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে মামলা শুরু

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে প্রভাব ফেলতে পারে এমন এক বহুল আলোচিত মামলার বিচারিক কার্যক্রম আজ মঙ্গলবার শুরু হয়েছে। চ্যাটজিপিটির নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ওপেনএআইয়ের বিবর্তন নিয়ে দুই বিলিয়নিয়ার ইলন মাস্ক ও স্যাম অল্টম্যান এখন আদালতের মুখোমুখি। অলাভজনক সংস্থা থেকে শত শত বিলিয়ন ডলারের মুনাফালোভী প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর নিয়ে তাদের এ আইনি লড়াই। সোমবার নয় জন জুরির সংক্ষিপ্ত তালিকা তৈরির পর আজ ক্যালিফোর্নিয়ার ওকল্যান্ডের ফেডারেল আদালতে মাস্কের করা দেওয়ানি মামলার প্রাথমিক শুনানি শুরু হয়েছে।মাস্কের অভিযোগ, ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যান এবং প্রেসিডেন্ট গ্রেগ ব্রকম্যান তার ও জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। মানবতার কল্যাণে কাজ করার মূল লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হয়ে তারা প্রতিষ্ঠানটিকে নিজেদের এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি ‘সম্পদ বানানোর যন্ত্রে’ পরিণত করেছেন। বিশ্বের শীর্ষ ধনী মাস্ক ওপেনএআই এবং এর অন্যতম বড় বিনিয়োগকারী মাইক্রোসফটের কাছে প্রায় ১৭ লাখ ৭০ হাজার কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন। তিনি চান এই অর্থ ওপেনএআইয়ের দাতব্য শাখায় জমা হোক। এছাড়া তিনি ওপেনএআইকে পুনরায় অলাভজনক সংস্থায় ফিরিয়ে নেওয়া এবং অল্টম্যান ও ব্রকম্যানকে তাদের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।টেসলা ও স্পেসএক্সের প্রতিষ্ঠাতা মাস্ক জানান, ওপেনএআইয়ের মূল লক্ষ্য বাস্তবায়নে তিনি প্রায় ৪৫ কোটি টাকা প্রারম্ভিক মূলধন দিয়েছিলেন। কিন্তু ২০১৮ সালে তিনি বোর্ড ছাড়ার পরপরই ২০১৯ সালে প্রতিষ্ঠানটি মুনাফাভিত্তিক ব্যবসায়িক মডেলে চলে যায়। অন্যদিকে ওপেনএআইয়ের দাবি, মাস্ক এই পরিবর্তনের কথা আগে থেকেই জানতেন এবং সমর্থন করেছিলেন। তাদের মতে, মাস্ক নিজে সিইও হতে ব্যর্থ হওয়ার পর এখন ঈর্ষান্বিত হয়ে নিজের এআই কোম্পানি এক্সএআইকে এগিয়ে নিতেই এই মামলা করেছেন।মার্কিন ডিস্ট্রিক্ট জজ ইভন গনজালেজ রজার্স জানিয়েছেন, তিনি আগামী ১২ মে’র মধ্যে জুরিদের সিদ্ধান্ত জানতে চান। এই মামলায় ইলন মাস্ক, স্যাম অল্টম্যান এবং মাইক্রোসফট প্রধান সত্য নাদেলা সাক্ষ্য দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, চলতি সপ্তাহেই কাঠগড়ায় দাঁড়াবেন মাস্ক।২০১৫ সালে গুগলকে টেক্কা দিতে এবং মানবতার কল্যাণে এআই তৈরির লক্ষ্যে মাস্ক ও অল্টম্যান ওপেনএআই প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। ব্রকম্যানের সাধারণ একটি অ্যাপার্টমেন্টের ল্যাব থেকে শুরু হওয়া সংস্থাটির বর্তমান বাজারমূল্য ৮৫০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। এই মামলা ওপেনএআইয়ের সম্ভাব্য শেয়ার বাজার বা আইপিও আসার পরিকল্পনাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে এবং এআই প্রযুক্তি নিয়ে সাধারণ মানুষের ভীতি আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।এদিকে ওপেনএআইয়ের প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যানথ্রোপিকসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলোও এখন বাজার ধরতে মরিয়া। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইপিওতে আসলে ওপেনএআইয়ের বাজারমূল্য ১ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। বর্তমানে ওপেনএআই নিজেদের কাঠামো সংস্কার করে একটি ‘পাবলিক বেনিফিট কর্পোরেশন’-এ রূপান্তর করেছে, যেখানে মূল অলাভজনক শাখার ২৬ শতাংশ অংশীদারিত্ব রয়েছে। এই আইনি লড়াই কেবল দুই ধনকুবেরের দ্বন্দ্ব নয়, বরং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নৈতিকতা ও বাণিজ্যিক ব্যবহারের ভবিষ্যৎ কোন পথে যাবে—তা নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখবে।সূত্র: রয়টার্স, এএফপি
২৮ এপ্রিল ২০২৬
নাগরিকত্বের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সন্তান জন্ম দেওয়া ভিসা শর্তের পরিপন্থি: মার্কিন দূতাবাস

নাগরিকত্বের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সন্তান জন্ম দেওয়া ভিসা শর্তের পরিপন্থি: মার্কিন দূতাবাস

ক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পাওয়ার উদ্দেশ্যে দেশটিতে গিয়ে সন্তান জন্ম দেওয়া এখন থেকে ভিসার শর্তের পরিপন্থি হিসেবে গণ্য হবে। এমন উদ্দেশ্যে কেউ ভিসা আবেদন করলে তা সরাসরি বাতিল করা হবে বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে মার্কিন দূতাবাস।বুধবার সকালে দূতাবাসের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বিশেষ সতর্কবার্তায় এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।কী বলছে দূতাবাসের সতর্কবার্তাদূতাবাসের পোস্টে উল্লেখ করা হয়, কোনো ব্যক্তি যদি মূলত সন্তানের মার্কিন নাগরিকত্ব নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের পরিকল্পনা করেন, তবে তা দেশটির বর্তমান ভিসা নীতিমালার পরিপন্থি।কনস্যুলার কর্মকর্তারা যদি সাক্ষাৎকার বা তদন্তের মাধ্যমে বুঝতে পারেন যে আবেদনকারীর মূল লক্ষ্য সন্তান জন্ম দিয়ে নাগরিকত্ব অর্জন, তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ট্যুরিস্ট ভিসা আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হবে।সতর্কবার্তায় আরও বলা হয়, এ ধরনের কার্যক্রম মার্কিন ভিসা নীতিমালার গুরুতর লঙ্ঘন। তাই আবেদনকারীদের শুধু প্রকৃত এবং সঠিক উদ্দেশ্য উল্লেখ করে আবেদন করার আহ্বান জানিয়েছে দূতাবাস।কঠোর সতর্কতাভিসা পাওয়ার জন্য ভুল তথ্য প্রদান বা ভিসার শর্ত ভঙ্গ করলে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের ক্ষেত্রে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা বা নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলেও সতর্কবার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে।অর্থাৎ, কেউ যদি এ উদ্দেশ্যে ভিসা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সন্তান জন্ম দেন এবং তা প্রমাণিত হয়, তাহলে পরবর্তীতে তার যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়া পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যেতে পারে।যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে জন্ম নিলে সন্তান স্বয়ংক্রিয়ভাবে সে দেশের নাগরিক হয় – এই সুযোগ কাজে লাগাতে অনেকেই আগে ট্যুরিস্ট ভিসায় গিয়ে সন্তান প্রসব করতেন। এখন থেকে সেই পথ কার্যকরীভাবে বন্ধ করে দিলো মার্কিন দূতাবাস। শুধু ভিসা বাতিল নয়, ভবিষ্যতেও যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞার হুঁশিয়ারি দেওয়ায় এই সিদ্ধান্তকে ‘চরম কঠোর’ বলছেন অভিবাসন বিশ্লেষকরা। ফলে আবেদনকারীদের এখন ভিসা আবেদনের আগে তিনবার ভাবতে হবে।
২৮ মার্চ ২০২৬
ষাট গম্বুজ মসজিদ

ষাট গম্বুজ মসজিদ

বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমের জেলা বাগেরহাট। সবুজ শ্যামলিমা আর নদী-খাল বেষ্টিত এই জনপদকে বিশ্বের দরবারে পরিচিতি এনে দিয়েছে একটি অনন্য স্থাপনা – ষাট গম্বুজ মসজিদ। ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী তিনটি স্থানের একটি এই মসজিদ মুসলিম স্থাপত্যের এক অপূর্ব নিদর্শন। যেখানে ইতিহাস, আধ্যাত্মিকতা আর নির্মাণকৌশলের মিলন ঘটেছে চুন-সুরকি আর পাথরের বাঁধনে।ইতিহাসের আঁধার আলো: কে, কবে, কেন?মসজিদটির গায়ে কোনো শিলালিপি নেই। তাই এটি কে নির্মাণ করেছিলেন বা কোন সময়ে নির্মিত হয়েছিল, তা নিয়ে সঠিক তথ্য পাওয়া যায় না। তবে স্থাপত্যশৈলী ঘেঁটে ইতিহাসবিদরা প্রায় নিশ্চিত – এ মসজিদ পীর খানজাহান আলী (রহ.)-এর হাতেই গড়ে উঠেছিল। ধারণা করা হয়, তিনি পঞ্চদশ শতাব্দীর মাঝামাঝি (আনুমানিক ১৪৪২-১৪৫৯ খ্রিস্টাব্দ, অনেকের মতে ১৫০০ শতাব্দীতে) এটি নির্মাণ করেন।সুলতান নাসিরউদ্দিন মাহমুদ শাহের আমলে খান-ই-জাহান সুন্দরবনের কোল ঘেঁষে ‘খলিফাতাবাদ’ রাজ্য গড়ে তোলেন। দরবার ও নামাজের জন্য তিনি একটি বিশাল হল নির্মাণের উদ্যোগ নেন, যা কালক্রমে ‘ষাট গম্বুজ মসজিদ’ নামে পরিচিতি পায়। জনশ্রুতি আছে, মসজিদের পাথর চট্টগ্রাম থেকে আনা হয়েছিল। আবার কেউ কেউ বলেন, ভারতের উড়িষ্যার রাজমহল থেকে অলৌকিক ক্ষমতাবলে জলপথে ভাসিয়ে আনা হয়েছিল। বাস্তবে পাথরগুলো রাজমহল থেকেই আনা – এ নিয়ে ঐতিহাসিকরা একমত।নামকরণের নানা কাহিনিমসজিদটির নাম নিয়েও আছে নানা মত।ষাট গম্বুজ কেন? সংস্কৃত ‘সাত’ ও ফারসি ‘ছাদ’ মিলে ‘ছাদ গম্বুজ’ থেকে কথ্যরূপে ‘ষাট গম্বুজ’ হয়েছে বলে এক মত।আবার অন্য মতে, মসজিদের ভেতরে ছয়টি সারিতে দশটি করে মোট ৬০টি পাথরের স্তম্ভ (খাম্বা) আছে। স্তম্ভের ওপর ছাদ নির্মিত, তাই ‘ষাট খাম্বা’ থেকে ‘ষাট গম্বুজ’।গম্বুজের প্রকৃত সংখ্যা: নাম ‘ষাট গম্বুজ’ হলেও আসলে এখানে গম্বুজ ৬০টি নয়। মূল ভবনে ১১টি সারিতে ৭৭টি গম্বুজ, চার কোণার মিনারের ওপর চারটি গম্বুজ – মোট ৮১টি গম্বুজ। ৭৭টির মধ্যে ৭৪টিই অর্ধগোলাকার, শুধু মাঝের সারির সাতটি দেখতে বাংলার চৌচালা ঘরের চালের মতো।তাই অনেক গবেষক মনে করেন, মসজিদটির আসল নাম হওয়া উচিত ছিল ‘ষাট স্তম্ভ মসজিদ’ – কারণ এখানে প্রধান আকর্ষণ সেই ৬০টি পাথরের স্তম্ভ।স্থাপত্যের অনন্য বুননষাট গম্বুজ মসজিদের স্থাপত্যশৈলীতে মিশেছে মধ্য এশিয়ার তুঘলক (তুরস্ক) ও জৌনপুরী ধারা, আবার রয়েছে স্থানীয় বাংলার ছোঁয়া।আকার ও পরিমাপবাইরের দিক: উত্তর-দক্ষিণে ১৬০ ফুট, পূর্ব-পশ্চিমে ১০৪ ফুট।ভেতরের দিক: উত্তর-দক্ষিণে ১৪৩ ফুট, পূর্ব-পশ্চিমে ৮৮ ফুট।দেয়ালের পুরুত্ব: প্রায় ৮.৫ ফুট। ইটের তৈরি এসব দেয়াল অসাধারণ মজবুত।দরজা ও জানালাপূর্ব দেয়ালে ১১টি খিলানযুক্ত দরজা – মাঝেরটি সবচেয়ে বড়।উত্তর ও দক্ষিণ দেয়ালে ৭টি করে মোট ১৪টি দরজা।এই অসংখ্য দরজা আলো ও বাতাস চলাচলের জন্য তৈরি, তবু ভেতরের দিকটা কিছুটা অন্ধকারাচ্ছন্ন – যা উপাসনার গাম্ভীর্য বাড়ায়।মিনার ও কোঠাচার কোণে চারটি গোলাকার মিনার। এদের চূড়ায় ছোট গম্বুজ। ছাদের কার্নিশের চেয়ে মিনারগুলো কিছুটা উঁচু। সামনের দিকের দুটি মিনারের ভেতর প্যাঁচানো সিঁড়ি – একসময় এখান থেকে আজান দেওয়া হতো।রওশন কোঠা: দক্ষিণ-পূর্ব কোণের বুরুজ – আলো-বাতাসে ভরা।আন্ধার কোঠা: উত্তর-পূর্ব কোণের বুরুজ – তুলনামূলক অন্ধকার।ভেতরের স্তম্ভ ও গম্বুজের জঙ্গলভেতরে ৬০টি পাথরের স্তম্ভ – উত্তর থেকে দক্ষিণে ছয় সারিতে, প্রতিসারিতে দশটি করে। প্রতিটি স্তম্ভ পাথর কেটে বানানো, তবে পাঁচটি স্তম্ভ পরে ইট দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। এই স্তম্ভের ওপর ভর করেই গম্বুজগুলো দাঁড়িয়ে। এক কথায়, এটি খিলান-স্তম্ভ-গম্বুজের এক বিস্ময়কর সমন্বয়।মিহরাব ও মিম্বারপশ্চিম দেয়ালে ১০টি মিহরাব। মাঝের মিহরাবটি সবচেয়ে বড় ও কারুকার্যপূর্ণ। এর দক্ষিণে ৫টি, উত্তরে ৪টি মিহরাব। উত্তরে যেখানে একটি মিহরাব থাকার কথা, সেখানে রয়েছে একটি ছোট দরজা – অনেকে মনে করেন, এটি খানজাহান আলীর দরবার হলের প্রবেশপথ ছিল। ইমামের বসার জন্য রয়েছে পাথরের মিম্বার।রডবিহীন নির্মাণসবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো – এই মসজিদে কোনো লোহার রড ব্যবহার করা হয়নি। শুধু চুন, সুরকি, কালো পাথর ও ছোট ইট দিয়ে তৈরি এই কাঠামো প্রায় ৬০০ বছর ধরে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে।ইউনেস্কোর স্বীকৃতি ও বর্তমান অবস্থা১৯৮৩ সালে (অনেক সূত্রে ১৯৮৫) ইউনেস্কো বাগেরহাট শহরটিকেই ‘ঐতিহাসিক মসজিদ শহর’ হিসেবে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের মর্যাদা দেয়। আর এই মর্যাদার কেন্দ্রবিন্দু হলো ষাট গম্বুজ মসজিদ।বর্তমানে মসজিদটি বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর ও ইউনেস্কোর যৌথ তত্ত্বাবধানে সংরক্ষিত। এখনো এখানে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামাতের সাথে আদায় করা হয়। একসঙ্গে মসজিদের ভেতরে প্রায় দুই হাজার মুসল্লি নামাজ পড়তে পারেন।ভ্রমণ তথ্য: কখন, কীভাবে, কত টাকা?প্রবেশ ফিদেশি পর্যটক: ৩০ টাকা (অনেক সূত্রে ২০ টাকাও উল্লেখ আছে – বর্তমানে ৩০ টাকাই বেশি প্রচলিত)মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষার্থী: ১০ টাকাসার্কভুক্ত দেশের নাগরিক: ২০০ টাকাঅন্যান্য বিদেশি: ৫০০ টাকাশিশু (০-১০ বছর) ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী: বিনামূল্যেঅনলাইন টিকেট: চাইলে myGOV ওয়েবসাইট থেকে কিউআর কোডযুক্ত টিকেট কেটে নিতে পারেন।খোলা ও বন্ধের সময়গ্রীষ্মকাল (গরমকাল): সকাল ১০টা – সন্ধ্যা ৬টাশীতকাল: সকাল ৯টা – বিকেল ৫টামধ্যাহ্ন বিরতি: দুপুর ১টা – ১টা ৩০ মিনিট (উভয় মৌসুমে)শুক্রবার বিশেষ বন্ধ: জুমার নামাজের জন্য দুপুর ১২টা ৩০ মিনিট – বিকেল ৩টা ৩০ মিনিটসাপ্তাহিক ছুটি: রোববার সারাদিন বন্ধ (সোমবার দুপুর ২টা থেকে খোলে)টিপস: নামাজের সময় (ফজর, যোহর, আসর, মাগরিব, এশা) স্থানীয় মুসল্লিরা প্রবেশ করতে পারেন বিনামূল্যে। তবে পর্যটকদের নির্ধারিত সময় ও টিকিট মেনে চলতে হবে।মসজিদ চত্বরে জাদুঘরপ্রধান ফটকের ডান পাশে বাগেরহাট জাদুঘর। এখানে খানজাহান আমলের প্রাচীন মুদ্রা, পোড়ামাটির ফলক, অসংখ্য প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন – এমনকি খানজাহানের দিঘির ঐতিহ্যবাহী ‘কালা পাহাড়’ ও ‘ধলা পাহাড়’ কুমিরের মমি সংরক্ষিত আছে।জাদুঘরের সময়: গ্রীষ্মে সকাল ১০টা – সন্ধ্যা ৬টা, শীতে সকাল ৯টা – বিকেল ৫টা।মধ্যাহ্ন বিরতি: দুপুর ১টা – দেড়টা।ছুটি: রোববার সারাদিন।একই টিকিটে জাদুঘর ও মসজিদ কমপ্লেক্স ঘুরতে পারবেন।যাতায়াত: ঢাকা থেকে বাগেরহাটবাসেঢাকার সায়দাবাদ ও গাবতলী বাস টার্মিনাল থেকে নিয়মিত বাস ছাড়ে। উল্লেখযোগ্য পরিবহন: মেঘনা, বনফুল, ফাল্গুনী, আরা, পর্যটক, বলেশ্বর, হামিম, দোলা, সোহাগ, শাকুরা, হানিফ, কমফোর্ট লাইন, ঈগল।ভাড়া: ৬৫০-৮০০ টাকা (প্রতি জন)।সময়: সকাল ৬টা-১০টা এবং সন্ধ্যা ৭টা-রাত ১০টা পর্যন্ত ছাড়ে।বাগেরহাট বাসস্ট্যান্ড নেমে রিকশা বা সিএনজি নিলে ৩০-৪০ টাকায় পৌঁছে যাবেন ষাট গম্বুজ মসজিদে (সুন্দরঘোনা গ্রাম, খুলনা-বাগেরহাট মহাসড়কের উত্তর পাশে)।ট্রেনেঢাকা থেকে সুন্দরবন এক্সপ্রেস খুলগামী ট্রেনে খুলনা যান। সেখান থেকে বাস বা সিএনজিতে বাগেরহাট (সময় লাগে ১-১.৫ ঘণ্টা)।কোথায় থাকবেন?বাগেরহাটে তেমন বিলাসবহুল হোটেল নেই, তবে মাঝারি মানের থাকার জায়গা আছে।রেল রোডে মমতাজ হোটেল – সুযোগ-সুবিধা কম, কিন্তু সেবা ভালো। খরচ তুলনামূলক বেশি।খান জাহান আলীর মাজারের সামনে হোটেল অভি – মেইন হাইওয়েতে অবস্থিত।কেন্দ্রীয় বাসস্টেশন সংলগ্ন হোটেল আল আমিন এবং কর্মকার পট্টিতে হোটেল মোহনা।খুলনা খুব কাছে বলে চাইলে খুলনা গিয়েও রাত কাটাতে পারেন।খাওয়ার ব্যবস্থাবাসস্ট্যান্ড ও দরগার আশপাশে কয়েকটি মোটামুটি মানের হোটেল আছে। তবে দাম ও মান সম্পর্কে আগে জেনে নেওয়া ভালো। স্থানীয় মাছ ও ভাত খেতে পারেন – বাগেরহাটের ইলিশ বেশ有名।দক্ষিণাঞ্চলের সর্ববৃহৎ ঈদের জামাতষাট গম্বুজ মসজিদ শুধু একটি পর্যটন কেন্দ্র নয় – এটি জীবন্ত একটি উপাসনালয়। প্রতি ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহায় এখানে দেশ-বিদেশের প্রায় অর্ধলাখ মুসল্লি জড়ো হন। এটি দক্ষিণাঞ্চলের সর্ববৃহৎ ঈদের জামাত। রমজান মাসে দুই হাফেজ খতম তারাবির নামাজ পড়ান এবং মুসল্লিদের জন্য ইফতারের ব্যবস্থা থাকে।আশপাশের দর্শনীয় স্থানমসজিদ ঘুরে সময় থাকলে আরও কয়েকটি স্থান দেখতে পারেন:বিবি বেগনির মসজিদ (৫০০ মিটার পেছনে) – ফুলের কারুকার্যময়।চুনাখোলা মসজিদ (বিবি বেগনির আরও ৫০০ মিটার পেছনে)।সিঙ্গাইর মসজিদ (মহাসড়কের পাশে)।নয় গম্বুজ মসজিদখান জাহান আলীর মাজারঘোড়া দিঘি ও রণবিজয়পুর দিঘিমোংলা বন্দর (চাইলে সুন্দরবন যাতায়াতের গেটওয়ে)।ভ্রমণে যা মেনে চলবেনহালকা ও আরামদায়ক পোশাক পরুন – সুতির কাপড় উত্তম।পর্যাপ্ত পানি, বিস্কুট, মুড়ি, চিড়া ইত্যাদি সঙ্গে রাখুন।মোবাইলের চার্জার ও পাওয়ার ব্যাংক নিতে ভুলবেন না।জ্বর, সর্দি, গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ ও স্যালাইন রাখুন।মসজিদে প্রবেশের আগে জুতা বাইরে রেখে পায়ে মোজা পরে প্রবেশ করুন।নামাজরত মুসল্লিদের বিরক্ত করবেন না। নির্ধারিত পর্যটক এলাকায় ঘুরুন।টিকিট কাটার পর জাদুঘর দেখতে ভুলবেন না – এটি একই ফিতে।শেষকথাষাট গম্বুজ মসজিদ শুধু পাথর-চুন-সুরকির গাঁথনি নয়; এটি বাংলার ইতিহাস, সংস্কৃতি ও মুসলিম স্থাপত্যের এক জীবন্ত দলিল। এখানে দাঁড়ালে সময় থমকে দাঁড়ায়। শুনতে পাবেন খানজাহানের আজানের প্রতিধ্বনি, দেখতে পাবেন অর্ধগোলাকার গম্বুজের সারি মেঘ ছুঁতে চায়।আপনিও একবার চলে আসুন বাগেরহাটে। ষাট গম্বুজের ছায়ায় দাঁড়ান। ইতিহাসের স্পর্শ নিন। আর এই অসাধারণ স্থাপত্যের সাক্ষী হয়ে ফিরে আসুন – নতুন এক অভিজ্ঞতা নিয়ে।
গণবার্তা ফিচার