ঢাকা    বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
ঢাকা    বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
গণবার্তা
সর্বশেষ

ইরানের বিরুদ্ধে পুনরায় হামলা নয়, দীর্ঘমেয়াদী নৌ-অবরোধের পরিকল্পনা ট্রাম্পের

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক হামলা পুনরায় শুরু করার পরিবর্তে দেশটির ওপর দীর্ঘমেয়াদী নৌ-অবরোধ বজায় রাখার পরিকল্পনা করছেন। দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ট্রাম্প ইতিমধ্যে তার ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের এই দীর্ঘস্থায়ী অবরোধের প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এই কৌশলের মূল লক্ষ্য হলো ইরানের বন্দরগুলোতে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করে দেশটির অর্থনীতি এবং তেল রপ্তানির ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করা। ওয়াশিংটন মনে করছে, যুদ্ধের চেয়ে এই অর্থনৈতিক ও নৌ-অবরোধ তেহরানকে আলোচনায় বসতে বাধ্য করবে।প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, তেহরানের ওপর আরোপিত শর্তগুলো থেকে সরে আসতে ট্রাম্প এখনো নারাজ। বিশেষ করে ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি অন্তত ২০ বছরের জন্য স্থগিত রাখার যে দাবি যুক্তরাষ্ট্র করেছে, তা থেকে পিছু হটার কোনো ইঙ্গিত দেননি তিনি। ট্রাম্পের নীতিনির্ধারকদের মতে, সামরিক অভিযানের চেয়ে এই মুহূর্তে অবরোধ বজায় রাখা অনেক কম ঝুঁকিপূর্ণ এবং এটি দীর্ঘ মেয়াদে ইরানের জ্বালানি খাতের মেরুদণ্ড ভেঙে দিতে সক্ষম হবে। মূলত ইরানের পক্ষ থেকে কোনো বড় ধরনের ছাড় না পাওয়া পর্যন্ত এই নৌ-অবরোধ তুলে না নেওয়ার সিদ্ধান্তে অটল রয়েছে হোয়াইট হাউস।অন্যদিকে ইরানের কর্মকর্তারা মধ্যস্থতাকারীদের জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের এসব কঠিন শর্তের বিপরীতে একটি সংশোধিত প্রস্তাব জমা দেওয়ার আগে তাদের উচ্চপর্যায়ের নেতৃত্বের সঙ্গে আরও বিস্তারিত আলোচনার জন্য সময়ের প্রয়োজন। তেহরান বর্তমানে পাকিস্তানের মাধ্যমে শান্তি আলোচনার প্রস্তাব দিলেও ওয়াশিংটনের দীর্ঘমেয়াদী অবরোধের পরিকল্পনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, ট্রাম্পের এই অনমনীয় অবস্থান এটাই ইঙ্গিত দেয় যে তিনি ইরানের সঙ্গে কোনো তাড়াহুড়ো করে চুক্তিতে পৌঁছাতে আগ্রহী নন, বরং পূর্ণাঙ্গ নিয়ন্ত্রণ আরোপই তার প্রধান লক্ষ্য।সামগ্রিকভাবে ট্রাম্পের এই দীর্ঘমেয়াদী অবরোধের পরিকল্পনা মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি বাজার এবং বিশ্ব বাণিজ্যের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। যেহেতু হরমুজ প্রণালি ও পার্শ্ববর্তী সমুদ্রপথগুলো দিয়ে বিশ্বের তেলের একটি বড় অংশ পরিবাহিত হয়, তাই এই অবরোধ দীর্ঘায়িত হলে তেলের দামের অস্থিরতা বজায় থাকবে। বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসন সামরিক শক্তি ব্যবহারের বদলে এখন অর্থনৈতিক যুদ্ধের মাধ্যমে ইরানকে কোণঠাসা করার চূড়ান্ত কৌশল গ্রহণ করেছে। এখন দেখার বিষয় হলো, ইরানের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং তাদের সংশোধিত প্রস্তাব এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মোড় কতটা ঘোরাতে পারে।সূত্র: মিডল ইস্ট আই, দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল
৪ ঘন্টা আগে

বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সাফল্য: পাচার হওয়া ৪৪ কোটি টাকার ডিজিটাল মুদ্রা ফেরত

পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) সাইবার পুলিশ সেন্টার (সিপিসি) বিদেশে পাচার হওয়া বিপুল পরিমাণ ক্রিপ্টোকারেন্সি ফিরিয়ে এনে দেশের ইতিহাসে এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। চলতি বছর ৩০ মার্চ এমটিএফই (মেটাভার্স ফরেন এক্সচেঞ্জ গ্রুপ) নামে অনলাইনভিত্তিক প্রতারণামূলক বিনিয়োগ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে পাচার হওয়া প্রায় ৪৪ কোটিরও বেশি টাকার সমমূল্যের ডিজিটাল মুদ্রা (ক্রিপ্টোকারেন্সি) দেশে ফেরত আনা হয়। সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে মঙ্গলবার এ তথ্য জানানো হয়েছে।এতে বলা হয়, এই অভূতপূর্ব সাফল্য দেশীয় পর্যায়ে ব্যাপক প্রশংসা অর্জনের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও প্রশংসিত হয়েছে। ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস তাদের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এ সাফল্যের খবর প্রকাশ করে একে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান অংশীদারিত্বের ইতিবাচক ফলাফল হিসেবে উল্লেখ করেছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সিক্রেট সার্ভিসও তাদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে বিষয়টি তুলে ধরে সিআইডির সঙ্গে দীর্ঘদিনের যৌথ প্রশিক্ষণ ও সহযোগিতার ফল হিসেবে এই অর্জনকে স্বীকৃতি দিয়েছে।এ বিষয়ে সিপিসির ডিআইজি মো. আবুল বাশার তালুকদার বলেন, তাদের কর্মকর্তাদের নিরলস প্রচেষ্টা এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সহযোগিতার ফলে এই প্রথম বিদেশে পাচার হওয়া ক্রিপ্টোকারেন্সি উদ্ধার সম্ভব হয়েছে। এটি সাইবার অপরাধ দমনে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান দক্ষতা ও সক্ষমতার একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে এ সাফল্যের খবর প্রকাশের পর দেশ-বিদেশে যে ইতিবাচক সাড়া ও প্রশংসা পাওয়া যাচ্ছে, তা তাদের জন্য বড় অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করছে এবং ভবিষ্যতে আরও দৃঢ়ভাবে দায়িত্ব পালনে উৎসাহ জোগাচ্ছে।উল্লেখ্য, এমটিএফই একটি ভুয়া ক্রিপ্টোকারেন্সি ও ফরেক্স ট্রেডিং প্ল্যাটফর্ম, যেখানে ব্যবহারকারীদের কৃত্রিম লাভের তথ্য দেখিয়ে বিনিয়োগে প্রলুব্ধ করা হতো। ২০২৩ সালের মাঝামাঝি সময়ে প্ল্যাটফর্মটি হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায় এবং বিনিয়োগকারীদের অর্থ বিভিন্ন ক্রিপ্টো ওয়ালেটে পাচার করা হয়। সিআইডির তদন্তের এক পর্যায়ে প্রায় ৩.৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সমমূল্যের ইউএসডিটি আন্তর্জাতিক ক্রিপ্টোকারেন্সি এক্সচেঞ্জে শনাক্ত করা হয়। উন্নত ব্লকচেইন বিশ্লেষণ এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে এই অর্থ জব্দ করা সম্ভব হয়। পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশনায় এবং যুক্তরাজ্যভিত্তিক একটি সম্পদ পুনরুদ্ধার প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় এ অর্থ বৈধ মুদ্রায় রূপান্তর করে সোনালী ব্যাংকের সরকারি হিসাবে জমা করা হয়েছে।এই সাফল্যের মাধ্যমে সিআইডি আবারও তাদের পেশাদারিত্ব, প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং সততার প্রমাণ দিয়েছে। পাশাপাশি এটি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আস্থা আরও সুদৃঢ় করেছে। বর্তমানে মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছে সিআইডির সিপিসি ইউনিট। অপরাধের পূর্ণাঙ্গ তথ্য উদঘাটন ও অন্যান্য আইনানুগ প্রক্রিয়ার স্বার্থে সিআইডির তদন্ত ও অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে। সম্ভাব্য দ্রুততম সময়ে প্রতারণার শিকার ভুক্তভোগীদের শনাক্ত করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে এবং আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী তাদের মধ্যে অর্থ ফেরত প্রদানের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
১৬ ঘন্টা আগে

যারা ইসলাম ধ্বংস করতে চেয়েছিল, তাদের বিচার করতে হবে: সংসদে হুইপ

জাতীয় সংসদের হুইপ এম. রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু বলেছেন, যারা মতিউর রহমান নিজামীকে জঙ্গি বানিয়েছিল, যারা দেলোয়ার হোসেন সাঈদীকে জঙ্গি বানিয়েছিল, এসব সাংবাদিকদের অবশ্যই জবাবদিহি হওয়া দরকার। মঙ্গলবার বিকালে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ২৩তম দিনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় এসব কথা বলেন তিনি।নাটোর-২ আসন থেকে নির্বাচিত এই সংসদ সদস্য আরও বলেন, সাংবাদিকদের নামে যারা ইতোপূর্বে তাদের চরিত্র হনন করেছেন, তিনি স্পিকারের কাছে অনুরোধ জানান, যারা ওয়ান ইলেভেনের নায়ক ছিল, যারা ওয়ান ইলেভেন নিয়ে এসেছিল, যারা বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব নষ্ট করতে চেয়েছিল, বিনষ্ট করতে চেয়েছিল, যারা ইসলামকে ধ্বংস করতে চেয়েছিল, এসব সাংবাদিকের বিচার হতে হবে।তিনি আরও বলেন, যারা আমাকে জঙ্গি বানিয়েছিল, যারা ব্যারিস্টার আমিনুল হককে জঙ্গি বানিয়েছিল, যারা মতিউর রহমান নিজামীকে জঙ্গি বানিয়েছিল, যারা দেলোয়ার হোসেন সাঈদীকে জঙ্গি বানিয়েছিল, এসব সাংবাদিকদের অবশ্যই জবাবদিহি দরকার।জাতীয় সংসদের এই হুইপ বলেন, তারা রাজনীতি করেন দেশের জন্য, তার সন্তানরা আজ ভয়ে রাজনীতি করতে সাহস করে না। যে ভীতির রাজনীতি আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনা দিয়ে গেছে, তাদের সন্তানদের সেই ভয়টা আজ কাটানোর সুযোগ হয়েছে। যাদের আত্মত্যাগ, যাদের রক্তের বিনিময়ে গণতন্ত্র তারা অর্জন করেছেন— তিনি বিশ্বাস করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং বিরোধী দলের নেতা শফিকুর রহমান যেটা শুরু করেছেন, সকল ষড়যন্ত্র ও চক্রান্ত প্রতিহত করে ফ্যাসিস্টরা যেন আগামী দিনে এই ষড়যন্ত্রের কারণে সুযোগ না পায়, সেটাই তারা চান।
১৭ ঘন্টা আগে
প্রবল বর্ষণে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তিন মাস সহায়তা দেবে সরকার

প্রবল বর্ষণে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তিন মাস সহায়তা দেবে সরকার

প্রবল বর্ষণে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কৃষকদের টানা তিন মাস সরকারি সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ২৪তম দিনে সংসদ সদস্য কলিম উদ্দিন আহমেদের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে এ ঘোষণা দেন তিনি।প্রধানমন্ত্রী জানান, ময়মনসিংহ, কিশোরগঞ্জ ও সুনামগঞ্জের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে দাঁড়াতে প্রশাসনকে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত কোনো কৃষক যেন সরকারি সহায়তা থেকে বঞ্চিত না হন, সেদিকে কঠোর নজরদারি রাখছে সরকার।তিনি বলেন, ‘তিনদিন আগে আবহাওয়ার পূর্বাভাস পাওয়ার পরপরই স্থানীয় প্রশাসনকে আগাম সতর্কতা ও প্রস্তুতি গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছিলাম। বৃষ্টির কারণে যেসব কৃষকের ফসল নষ্ট হয়েছে, তাদের সঠিকভাবে চিহ্নিত করে আগামী তিন মাস প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’বুধবার সকালে সংসদ অধিবেশনে যোগ দেওয়ার আগেই তিনি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রীর সঙ্গে এ সংকট মোকাবিলায় করণীয় নির্ধারণে কথা বলেছেন বলে জানান সংসদ নেতা।মাঠ প্রশাসনের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি করে আগামী তিন মাস নিরবচ্ছিন্নভাবে সরকারি সহযোগিতা পৌঁছে দেওয়ার কথা জানান প্রধানমন্ত্রী। বিশেষ করে ময়মনসিংহসহ তিন নির্দিষ্ট জেলার ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে দ্রুত সময়ের মধ্যে ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম জোরদার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বন্যাপ্রবণ এলাকাগুলোয় হঠাৎ বর্ষণে বোরো মৌসুমের ধানসহ বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলে কৃষি মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সঠিক তালিকা ও ক্ষতির পরিমাণ নির্ণয়ে ইতিমধ্যে মাঠ পর্যায়ে জরিপ শুরু হয়েছে।দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী প্রথম পর্যায়ে চাল, ডাল, লবণ ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী বিতরণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তিন মাসের এ সহায়তার আওতায় প্রতিটি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে কী পরিমাণ সহায়তা দেওয়া হবে, তা আগামী কয়েক দিনের মধ্যে চূড়ান্ত করে জানানো হবে।বিরোধী দলীয় সাংসদরা অবশ্য প্রশ্ন তুলেছেন, গত বছর বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত অনেক কৃষক এখনও চাষাবাদে ফিরতে পারেননি। তাদের কথা কি সরকার বিবেচনা করছে? এক চৌম্বক জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, পূর্ববর্তী ক্ষতিগ্রস্তদের বিষয়টিও নজরে রয়েছে। নতুন করে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশাপাশি আগের ক্ষতিগ্রস্তদেরও তালিকা হালনাগাদ করে সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।এদিকে ময়মনসিংহ, কিশোরগঞ্জ ও সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসনকে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় দ্রুত ত্রাণ পৌঁছানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডকেও নদ-নদীর পানি নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে, যাতে আগামী দিনে আকস্মিক বন্যার প্রকোপ কমে।
৩৫ মিনিট আগে
প্রবল বর্ষণে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তিন মাস সহায়তা দেবে সরকার

প্রবল বর্ষণে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তিন মাস সহায়তা দেবে সরকার

প্রবল বর্ষণে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কৃষকদের টানা তিন মাস সরকারি সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ২৪তম দিনে সংসদ সদস্য কলিম উদ্দিন আহমেদের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে এ ঘোষণা দেন তিনি।প্রধানমন্ত্রী জানান, ময়মনসিংহ, কিশোরগঞ্জ ও সুনামগঞ্জের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে দাঁড়াতে প্রশাসনকে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত কোনো কৃষক যেন সরকারি সহায়তা থেকে বঞ্চিত না হন, সেদিকে কঠোর নজরদারি রাখছে সরকার।তিনি বলেন, ‘তিনদিন আগে আবহাওয়ার পূর্বাভাস পাওয়ার পরপরই স্থানীয় প্রশাসনকে আগাম সতর্কতা ও প্রস্তুতি গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছিলাম। বৃষ্টির কারণে যেসব কৃষকের ফসল নষ্ট হয়েছে, তাদের সঠিকভাবে চিহ্নিত করে আগামী তিন মাস প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’বুধবার সকালে সংসদ অধিবেশনে যোগ দেওয়ার আগেই তিনি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রীর সঙ্গে এ সংকট মোকাবিলায় করণীয় নির্ধারণে কথা বলেছেন বলে জানান সংসদ নেতা।মাঠ প্রশাসনের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি করে আগামী তিন মাস নিরবচ্ছিন্নভাবে সরকারি সহযোগিতা পৌঁছে দেওয়ার কথা জানান প্রধানমন্ত্রী। বিশেষ করে ময়মনসিংহসহ তিন নির্দিষ্ট জেলার ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে দ্রুত সময়ের মধ্যে ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম জোরদার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বন্যাপ্রবণ এলাকাগুলোয় হঠাৎ বর্ষণে বোরো মৌসুমের ধানসহ বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলে কৃষি মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সঠিক তালিকা ও ক্ষতির পরিমাণ নির্ণয়ে ইতিমধ্যে মাঠ পর্যায়ে জরিপ শুরু হয়েছে।দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী প্রথম পর্যায়ে চাল, ডাল, লবণ ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী বিতরণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তিন মাসের এ সহায়তার আওতায় প্রতিটি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে কী পরিমাণ সহায়তা দেওয়া হবে, তা আগামী কয়েক দিনের মধ্যে চূড়ান্ত করে জানানো হবে।বিরোধী দলীয় সাংসদরা অবশ্য প্রশ্ন তুলেছেন, গত বছর বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত অনেক কৃষক এখনও চাষাবাদে ফিরতে পারেননি। তাদের কথা কি সরকার বিবেচনা করছে? এক চৌম্বক জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, পূর্ববর্তী ক্ষতিগ্রস্তদের বিষয়টিও নজরে রয়েছে। নতুন করে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশাপাশি আগের ক্ষতিগ্রস্তদেরও তালিকা হালনাগাদ করে সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।এদিকে ময়মনসিংহ, কিশোরগঞ্জ ও সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসনকে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় দ্রুত ত্রাণ পৌঁছানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডকেও নদ-নদীর পানি নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে, যাতে আগামী দিনে আকস্মিক বন্যার প্রকোপ কমে।
৩৫ মিনিট আগে
দ্বিতীয় দফার ভোটে পশ্চিমবঙ্গ উত্তাল, সংঘর্ষ-ইভিএম বিতর্ক

দ্বিতীয় দফার ভোটে পশ্চিমবঙ্গ উত্তাল, সংঘর্ষ-ইভিএম বিতর্ক

কলকাতা, ২৯ এপ্রিল: পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফায় পূর্ব বর্ধমান, হাওড়া, হুগলি, কলকাতা, উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও নদিয়া—এই সাত জেলায় ভোটগ্রহণ চলছে। কেন্দ্রীয় বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তার মধ্যেও সকাল থেকেই বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে সংঘর্ষ, ইভিএম বিভ্রাট ও মারধরের খবর পাওয়া গেছে। সবার নজর এখন ভবানীপুরে, যেখানে মুখোমুখি লড়াই তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারীর।সকাল থেকেই হালকা বৃষ্টি উপেক্ষা করে ভোটকেন্দ্রগুলোতে লম্বা লাইন দেখা গেছে। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, সকাল ১১টা পর্যন্ত গড় ভোট পড়েছে ৪০ দশমিক ১৩ শতাংশ। সর্বোচ্চ ভোট পড়েছে গলসিতে—৪৭ দশমিক ৮৬ শতাংশ। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মন্তেশ্বরে ৪৬ দশমিক ৮৩ শতাংশ। সবচেয়ে কম ভোট মহেশতলায় ৩৩ দশমিক ৫ শতাংশ। ভবানীপুরে ভোটের হার ৩৭ দশমিক ২৭ শতাংশ এবং ভাঙড়ে ৩৪ দশমিক ২৮ শতাংশ।ভোটগ্রহণ শুরুর পরই সামাজিক মাধ্যমে ‘রেকর্ড সংখ্যক ভোটদানের’ আবেদন জানান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সবার অংশগ্রহণের আহ্বান জানান। রাজ্যের মহিলা ও যুব সম্প্রদায়কে বিশেষ আবেদন করেন মোদি। কেন্দ্রীয় স্বরামন্ত্রী অমিত শাহও রেকর্ড ভোটদানের আবেদন করে লেখেন, ‘আপনার একটি ভোট বাংলার গৌরবকে পুনরায় ফিরিয়ে আনার সঙ্গে সঙ্গে মহিলাদের সুরক্ষাকে নিশ্চিত করবে।’তবে ভোটের মাঠ উত্তাল রাখছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সকাল থেকে তিনি ভবানীপুর কেন্দ্রের একের পর এক বুথ ঘুরে দেখছেন পরিস্থিতি। এ সময় ভবানীপুরে উপস্থিত ছিলেন বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারিও। মমতা নির্বাচন কমিশনের পুলিশ পর্যবেক্ষকদের বিরুদ্ধে তীব্র অভিযোগ তুলেছেন। তিনি বলেন, ‘এরা বাইরে থেকে আনা হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীদের টার্গেট করে আক্রমণ চালাচ্ছে। কোনো কাজ করছে না, শুধু ভোটারদের ভয় দেখাচ্ছে, সন্ত্রাস ছড়াচ্ছে। বিজেপির তালে নাচছেন পুলিশ পর্যবেক্ষকরা।’মমতা আরও বলেন, ‘সারারাত আমি জেগে থেকে সব খবর নিয়েছি। মনে রাখতে হবে, আমি কিন্তু এখনও চেয়ারে আছি।’অন্যদিকে শুভেন্দু অধিকারী মমতার অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘এসব হতাশার বহিঃপ্রকাশ। নির্বাচন কমিশন বাংলার ভোটের পরিবেশ বদলে দিয়েছে। সকাল থেকে একাধিক বুথে ঘুরলাম। ভোটারদের মধ্যে প্রচণ্ড উৎসাহ দেখছি। সকলে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিচ্ছেন।’ইভিএম বিতর্ক ও সহিংসতার ঘটনাদ্বিতীয় দফার ভোটে সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের। সেখানে বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পান্ডা অভিযোগ করেছেন, ইভিএম মেশিনে বিজেপির প্রতীকের ওপর টেপ সাঁটিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে নির্বাচন কমিশন অভিযোগ খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেয় এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে বিস্তারিত প্রতিবেদন চায়।এ ছাড়া একাধিক জায়গায় সংঘর্ষ ও হামলার খবর পাওয়া গেছে:চাপড়া (নদিয়া): বিজেপি এজেন্ট মোশারফ মীর মারধরের শিকার হয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, এক ডজনের বেশি তৃণমূল কর্মী বন্দুক ও রড দিয়ে তাকে আঘাত করেছে। স্থানীয় একটি হাসপাতালে তাঁকে ভর্তি করা হয়েছে। বিজেপি প্রার্থী সৈকত সরকার জানিয়েছেন, এ ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে তৃণমূল এই হামলার দায় অস্বীকার করেছে। এক ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা ঘটনার তদন্তের কথা জানান।বাসন্তী (দক্ষিণ ২৪ পরগনা): বিজেপি প্রার্থী বিকাশ সর্দার বুথ পরিদর্শনে গেলে তাঁর ওপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ। হামলাকারীরা তাঁর গাড়ি ভাঙচুর করে এবং নিরাপত্তারক্ষীর আগ্নেয়াস্ত্র কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা চালায়।এন্টালি: বিজেপি প্রার্থী প্রিয়াঙ্কা টিবরেওয়ালের প্রতিনিধিকে একটি ভোটকেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া হয়। এ নিয়ে তিনি ভোটকর্মী ও নিরাপত্তা কর্মীদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন।চাপড়া, শান্তিপুর ও ভাঙড়: সকালেই এসব এলাকায় সহিংসতা ও ভাঙচুরের খবর পাওয়া গেছে। সংবাদ সংস্থাগুলো এসব ঘটনার বিবরণ দিয়েছে।দ্বিতীয় দফার সাত জেলার মধ্যে গত নির্বাচনে চারটিতে বিজেপির কোনো আসন ছিল না। এবার সেই জেলাগুলোতে নিজেদের অবস্থান মজবুত করতে মরিয়া হয়ে লড়ছে বিজেপি। আর তৃণমূল ফেরাতে চায় আগের ধাক্কা। বিশেষ করে ভবানীপুর কেন্দ্রের ফলাফলের দিকে সবার চোখ। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেখানে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন সেখানে তাঁর হার মানে হবে দলের জন্য বড় ধাক্কা। অন্যদিকে শুভেন্দু অধিকারীর জয় তাঁকে বাংলায় বিজেপির মুখ হিসেবে আরও মজবুত করবে।নির্বাচন কমিশন সূত্র জানিয়েছে, বিকেল পর্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে ভোট চালাতে অধিকতর নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। যেসব কেন্দ্রে সংঘর্ষ ও ইভিএম বিতর্কের ঘটনা ঘটেছে, সেগুলোতে বাড়তি পর্যবেক্ষক মোতায়েন করা হয়েছে।
৪৯ মিনিট আগে
১৫ এপ্রিল ২০২৬, ১২:১১ এএম
আপনি কি মনে করেন বিএনপি জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর ও শব্দ বাস্তবায়ন করবে?

আপনি কি মনে করেন বিএনপি জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর ও শব্দ বাস্তবায়ন করবে?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ জন
হামের উপসর্গে আরও পাঁচ শিশুর মৃত্যু, নতুন রোগী শনাক্ত ১২৯

হামের উপসর্গে আরও পাঁচ শিশুর মৃত্যু, নতুন রোগী শনাক্ত ১২৯

হাম পরিস্থিতি নিয়ে দেশে উদ্বেগ কাটছেই না। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে এই সময়ে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। বুধবার স্বাস্থ্য অধিদফতরের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত তথ্য তুলে ধরা হয়।স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১২৯ জনের দেহে হাম শনাক্ত হয়েছে। এতে ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত মোট নিশ্চিত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৯৩৪ জনে। এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে ১ হাজার ২২৯ জনের মধ্যে হামের উপসর্গ দেখা গেছে। এ নিয়ে মোট সন্দেহজনক রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৭ হাজার ১৬৪ জনে।স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৩৮ জন। আর হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৯০ জনে। একই সময়ের মধ্যে হাম সন্দেহে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১৭ হাজার ৯৯৮ জন এবং চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১৪ হাজার ৮৯২ জন।
২২ এপ্রিল ২০২৬
স্বপ্ন বুনে বিশ্বজয়: মঈনুলের ইসেভিও কীভাবে পৌঁছাল বিশ্বমঞ্চে

স্বপ্ন বুনে বিশ্বজয়: মঈনুলের ইসেভিও কীভাবে পৌঁছাল বিশ্বমঞ্চে

লন্ডনে আইন পড়ছিলেন। কিন্তু মন টেকেনি সেই পথে। বরং অচেনা এক পথে পা বাড়ালেন মো. মঈনুল ইসলাম। স্বপ্ন দেখলেন বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার। আর সেই স্বপ্ন থেকেই জন্ম নেয় ‘ইসেভিওর লিমিটেড’—একটি আমাজন ক্রিয়েটিভ এজেন্সি, যা আজ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করছে।২০১৪ সালের কথা। তখন বাংলাদেশে বসে বিশ্বের বৃহত্তম ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম আমাজনের জন্য কাজ করার ধারণাটি ছিল প্রায় অকল্পনীয়। ইউটিউবে টিউটোরিয়াল ছিল না, গোছানো গাইডলাইন ছিল না। মঈনুল নিজেও আইনের ছাত্র। কিন্তু তার আগ্রহ ছিল ডিজিটাল বিপণনে। তাই শুরু করলেন একেবারে গোড়া থেকে। হাতে কোনো পুঁজি ছিল না, ছিল না বড় ক্লায়েন্ট। ছিল কেবল অদম্য জেদ।মঈনুল বলছেন, ‘আমি কোনো কোর্স করি নি। আমার ক্লায়েন্টরাই ছিল আমার শিক্ষক। তারা ছোট ছোট কাজ দিতেন, আর সেগুলো করতে গিয়েই আমাজন এফবিএর কৌশল শিখেছি। সেই হাতে-কলমে শেখাটাই আজ আমার সবচেয়ে বড় শক্তি।’তিনি দ্রুত বুঝতে পারেন, আমাজনে শুধু ভালো পণ্য হলেই হয় না। সেটির উপস্থাপনাও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। অনেক ভালো পণ্য খারাপ ছবির কারণে বিক্রি হচ্ছে না। আবার সাধারণ পণ্যও চমৎকার উপস্থাপনায় সেরা বিক্রেতার তালিকায় জায়গা করে নিচ্ছে। এই শূন্যতা পূরণ করতেই তিনি গড়ে তোলেন ‘ইসেভিওর লিমিটেড’।প্রতিষ্ঠানটির মূল কাজ হলো বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে আমাজনের জন্য প্রোডাক্টের লিস্টিং ইমেজ, প্যাকেজিং ডিজাইন ও স্টোরফ্রন্ট তৈরি করা। যার সরাসরি প্রভাব পড়ে বিক্রির হার বা কনভার্সন রেটে। মঈনুলের প্রতিষ্ঠানটি এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৩০০টির বেশি প্রজেক্ট সফলভাবে সম্পন্ন করেছে।একসময় যে প্রতিষ্ঠানটি হাতেগোনা কয়েকটি ছোট কাজ দিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল, আজ তা অ্যাঙ্কর ও অ্যামক্রেস্টের মতো বিশ্বখ্যাত ব্র্যান্ডের বিশ্বস্ত সহযোগী। মঈনুলের নেতৃত্বে ইসেভিওর লিমিটেড বর্তমানে ১৭০টির বেশি আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের সঙ্গে কাজ করছে। ইউকে ও বাংলাদেশের দুটি দেশে তাদের কার্যালয় রয়েছে।মঈনুল বলেন, ‘আমি প্রমাণ করতে চেয়েছিলাম, বাংলাদেশি প্রতিভা বিশ্বমানের কাজ উপহার দিতে সক্ষম।’ সেই প্রমাণ আজ ইসেভিওর সফলতা।ভবিষ্যতে তিনি আরও দুটি বড় উদ্যোগ হাতে নিয়েছেন। একটি হলো ‘গ্লোবাল আমাজন ভিজুয়াল বেঞ্চমার্ক রিপোর্ট ২০২৬’, যেখানে আমাজনের ভিজুয়াল স্ট্র্যাটেজির সর্বশেষ প্রবণতা নিয়ে গবেষণা তুলে ধরা হবে। অন্যটি ‘ইসেভিওর ক্রিয়েটিভ একাডেমি’, যা নতুন প্রজন্মের ক্রিয়েটিভদের দক্ষ করে গড়ে তোলার জন্য কাজ করবে।মঈনুলের গল্পটি শুধু একজন উদ্যোক্তার নয়; এটি একটি স্বপ্নের বাস্তব রূপ। আইনের ছাত্র যে কীভাবে নিজের ভিন্ন পথ বেছে নিয়ে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে পারেন বিশ্বমঞ্চে, তারই উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত ইসেভিওর লিমিটেড।
২৮ মার্চ ২০২৬
ছেঁড়া-ফাটা নোট বিনিময় না করলে ব্যাংকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা

ছেঁড়া-ফাটা নোট বিনিময় না করলে ব্যাংকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা

২৮ মার্চ ২০২৬
এআই নিয়ে আদালতে মাস্ক বনাম অল্টম্যান, এআইয়ের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে মামলা শুরু

এআই নিয়ে আদালতে মাস্ক বনাম অল্টম্যান, এআইয়ের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে মামলা শুরু

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে প্রভাব ফেলতে পারে এমন এক বহুল আলোচিত মামলার বিচারিক কার্যক্রম আজ মঙ্গলবার শুরু হয়েছে। চ্যাটজিপিটির নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ওপেনএআইয়ের বিবর্তন নিয়ে দুই বিলিয়নিয়ার ইলন মাস্ক ও স্যাম অল্টম্যান এখন আদালতের মুখোমুখি। অলাভজনক সংস্থা থেকে শত শত বিলিয়ন ডলারের মুনাফালোভী প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর নিয়ে তাদের এ আইনি লড়াই। সোমবার নয় জন জুরির সংক্ষিপ্ত তালিকা তৈরির পর আজ ক্যালিফোর্নিয়ার ওকল্যান্ডের ফেডারেল আদালতে মাস্কের করা দেওয়ানি মামলার প্রাথমিক শুনানি শুরু হয়েছে।মাস্কের অভিযোগ, ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যান এবং প্রেসিডেন্ট গ্রেগ ব্রকম্যান তার ও জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। মানবতার কল্যাণে কাজ করার মূল লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হয়ে তারা প্রতিষ্ঠানটিকে নিজেদের এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি ‘সম্পদ বানানোর যন্ত্রে’ পরিণত করেছেন। বিশ্বের শীর্ষ ধনী মাস্ক ওপেনএআই এবং এর অন্যতম বড় বিনিয়োগকারী মাইক্রোসফটের কাছে প্রায় ১৭ লাখ ৭০ হাজার কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন। তিনি চান এই অর্থ ওপেনএআইয়ের দাতব্য শাখায় জমা হোক। এছাড়া তিনি ওপেনএআইকে পুনরায় অলাভজনক সংস্থায় ফিরিয়ে নেওয়া এবং অল্টম্যান ও ব্রকম্যানকে তাদের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।টেসলা ও স্পেসএক্সের প্রতিষ্ঠাতা মাস্ক জানান, ওপেনএআইয়ের মূল লক্ষ্য বাস্তবায়নে তিনি প্রায় ৪৫ কোটি টাকা প্রারম্ভিক মূলধন দিয়েছিলেন। কিন্তু ২০১৮ সালে তিনি বোর্ড ছাড়ার পরপরই ২০১৯ সালে প্রতিষ্ঠানটি মুনাফাভিত্তিক ব্যবসায়িক মডেলে চলে যায়। অন্যদিকে ওপেনএআইয়ের দাবি, মাস্ক এই পরিবর্তনের কথা আগে থেকেই জানতেন এবং সমর্থন করেছিলেন। তাদের মতে, মাস্ক নিজে সিইও হতে ব্যর্থ হওয়ার পর এখন ঈর্ষান্বিত হয়ে নিজের এআই কোম্পানি এক্সএআইকে এগিয়ে নিতেই এই মামলা করেছেন।মার্কিন ডিস্ট্রিক্ট জজ ইভন গনজালেজ রজার্স জানিয়েছেন, তিনি আগামী ১২ মে’র মধ্যে জুরিদের সিদ্ধান্ত জানতে চান। এই মামলায় ইলন মাস্ক, স্যাম অল্টম্যান এবং মাইক্রোসফট প্রধান সত্য নাদেলা সাক্ষ্য দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, চলতি সপ্তাহেই কাঠগড়ায় দাঁড়াবেন মাস্ক।২০১৫ সালে গুগলকে টেক্কা দিতে এবং মানবতার কল্যাণে এআই তৈরির লক্ষ্যে মাস্ক ও অল্টম্যান ওপেনএআই প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। ব্রকম্যানের সাধারণ একটি অ্যাপার্টমেন্টের ল্যাব থেকে শুরু হওয়া সংস্থাটির বর্তমান বাজারমূল্য ৮৫০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। এই মামলা ওপেনএআইয়ের সম্ভাব্য শেয়ার বাজার বা আইপিও আসার পরিকল্পনাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে এবং এআই প্রযুক্তি নিয়ে সাধারণ মানুষের ভীতি আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।এদিকে ওপেনএআইয়ের প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যানথ্রোপিকসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলোও এখন বাজার ধরতে মরিয়া। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইপিওতে আসলে ওপেনএআইয়ের বাজারমূল্য ১ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। বর্তমানে ওপেনএআই নিজেদের কাঠামো সংস্কার করে একটি ‘পাবলিক বেনিফিট কর্পোরেশন’-এ রূপান্তর করেছে, যেখানে মূল অলাভজনক শাখার ২৬ শতাংশ অংশীদারিত্ব রয়েছে। এই আইনি লড়াই কেবল দুই ধনকুবেরের দ্বন্দ্ব নয়, বরং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নৈতিকতা ও বাণিজ্যিক ব্যবহারের ভবিষ্যৎ কোন পথে যাবে—তা নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখবে।সূত্র: রয়টার্স, এএফপি
১৮ ঘন্টা আগে
ষাট গম্বুজ মসজিদ

ষাট গম্বুজ মসজিদ

বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমের জেলা বাগেরহাট। সবুজ শ্যামলিমা আর নদী-খাল বেষ্টিত এই জনপদকে বিশ্বের দরবারে পরিচিতি এনে দিয়েছে একটি অনন্য স্থাপনা – ষাট গম্বুজ মসজিদ। ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী তিনটি স্থানের একটি এই মসজিদ মুসলিম স্থাপত্যের এক অপূর্ব নিদর্শন। যেখানে ইতিহাস, আধ্যাত্মিকতা আর নির্মাণকৌশলের মিলন ঘটেছে চুন-সুরকি আর পাথরের বাঁধনে।ইতিহাসের আঁধার আলো: কে, কবে, কেন?মসজিদটির গায়ে কোনো শিলালিপি নেই। তাই এটি কে নির্মাণ করেছিলেন বা কোন সময়ে নির্মিত হয়েছিল, তা নিয়ে সঠিক তথ্য পাওয়া যায় না। তবে স্থাপত্যশৈলী ঘেঁটে ইতিহাসবিদরা প্রায় নিশ্চিত – এ মসজিদ পীর খানজাহান আলী (রহ.)-এর হাতেই গড়ে উঠেছিল। ধারণা করা হয়, তিনি পঞ্চদশ শতাব্দীর মাঝামাঝি (আনুমানিক ১৪৪২-১৪৫৯ খ্রিস্টাব্দ, অনেকের মতে ১৫০০ শতাব্দীতে) এটি নির্মাণ করেন।সুলতান নাসিরউদ্দিন মাহমুদ শাহের আমলে খান-ই-জাহান সুন্দরবনের কোল ঘেঁষে ‘খলিফাতাবাদ’ রাজ্য গড়ে তোলেন। দরবার ও নামাজের জন্য তিনি একটি বিশাল হল নির্মাণের উদ্যোগ নেন, যা কালক্রমে ‘ষাট গম্বুজ মসজিদ’ নামে পরিচিতি পায়। জনশ্রুতি আছে, মসজিদের পাথর চট্টগ্রাম থেকে আনা হয়েছিল। আবার কেউ কেউ বলেন, ভারতের উড়িষ্যার রাজমহল থেকে অলৌকিক ক্ষমতাবলে জলপথে ভাসিয়ে আনা হয়েছিল। বাস্তবে পাথরগুলো রাজমহল থেকেই আনা – এ নিয়ে ঐতিহাসিকরা একমত।নামকরণের নানা কাহিনিমসজিদটির নাম নিয়েও আছে নানা মত।ষাট গম্বুজ কেন? সংস্কৃত ‘সাত’ ও ফারসি ‘ছাদ’ মিলে ‘ছাদ গম্বুজ’ থেকে কথ্যরূপে ‘ষাট গম্বুজ’ হয়েছে বলে এক মত।আবার অন্য মতে, মসজিদের ভেতরে ছয়টি সারিতে দশটি করে মোট ৬০টি পাথরের স্তম্ভ (খাম্বা) আছে। স্তম্ভের ওপর ছাদ নির্মিত, তাই ‘ষাট খাম্বা’ থেকে ‘ষাট গম্বুজ’।গম্বুজের প্রকৃত সংখ্যা: নাম ‘ষাট গম্বুজ’ হলেও আসলে এখানে গম্বুজ ৬০টি নয়। মূল ভবনে ১১টি সারিতে ৭৭টি গম্বুজ, চার কোণার মিনারের ওপর চারটি গম্বুজ – মোট ৮১টি গম্বুজ। ৭৭টির মধ্যে ৭৪টিই অর্ধগোলাকার, শুধু মাঝের সারির সাতটি দেখতে বাংলার চৌচালা ঘরের চালের মতো।তাই অনেক গবেষক মনে করেন, মসজিদটির আসল নাম হওয়া উচিত ছিল ‘ষাট স্তম্ভ মসজিদ’ – কারণ এখানে প্রধান আকর্ষণ সেই ৬০টি পাথরের স্তম্ভ।স্থাপত্যের অনন্য বুননষাট গম্বুজ মসজিদের স্থাপত্যশৈলীতে মিশেছে মধ্য এশিয়ার তুঘলক (তুরস্ক) ও জৌনপুরী ধারা, আবার রয়েছে স্থানীয় বাংলার ছোঁয়া।আকার ও পরিমাপবাইরের দিক: উত্তর-দক্ষিণে ১৬০ ফুট, পূর্ব-পশ্চিমে ১০৪ ফুট।ভেতরের দিক: উত্তর-দক্ষিণে ১৪৩ ফুট, পূর্ব-পশ্চিমে ৮৮ ফুট।দেয়ালের পুরুত্ব: প্রায় ৮.৫ ফুট। ইটের তৈরি এসব দেয়াল অসাধারণ মজবুত।দরজা ও জানালাপূর্ব দেয়ালে ১১টি খিলানযুক্ত দরজা – মাঝেরটি সবচেয়ে বড়।উত্তর ও দক্ষিণ দেয়ালে ৭টি করে মোট ১৪টি দরজা।এই অসংখ্য দরজা আলো ও বাতাস চলাচলের জন্য তৈরি, তবু ভেতরের দিকটা কিছুটা অন্ধকারাচ্ছন্ন – যা উপাসনার গাম্ভীর্য বাড়ায়।মিনার ও কোঠাচার কোণে চারটি গোলাকার মিনার। এদের চূড়ায় ছোট গম্বুজ। ছাদের কার্নিশের চেয়ে মিনারগুলো কিছুটা উঁচু। সামনের দিকের দুটি মিনারের ভেতর প্যাঁচানো সিঁড়ি – একসময় এখান থেকে আজান দেওয়া হতো।রওশন কোঠা: দক্ষিণ-পূর্ব কোণের বুরুজ – আলো-বাতাসে ভরা।আন্ধার কোঠা: উত্তর-পূর্ব কোণের বুরুজ – তুলনামূলক অন্ধকার।ভেতরের স্তম্ভ ও গম্বুজের জঙ্গলভেতরে ৬০টি পাথরের স্তম্ভ – উত্তর থেকে দক্ষিণে ছয় সারিতে, প্রতিসারিতে দশটি করে। প্রতিটি স্তম্ভ পাথর কেটে বানানো, তবে পাঁচটি স্তম্ভ পরে ইট দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। এই স্তম্ভের ওপর ভর করেই গম্বুজগুলো দাঁড়িয়ে। এক কথায়, এটি খিলান-স্তম্ভ-গম্বুজের এক বিস্ময়কর সমন্বয়।মিহরাব ও মিম্বারপশ্চিম দেয়ালে ১০টি মিহরাব। মাঝের মিহরাবটি সবচেয়ে বড় ও কারুকার্যপূর্ণ। এর দক্ষিণে ৫টি, উত্তরে ৪টি মিহরাব। উত্তরে যেখানে একটি মিহরাব থাকার কথা, সেখানে রয়েছে একটি ছোট দরজা – অনেকে মনে করেন, এটি খানজাহান আলীর দরবার হলের প্রবেশপথ ছিল। ইমামের বসার জন্য রয়েছে পাথরের মিম্বার।রডবিহীন নির্মাণসবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো – এই মসজিদে কোনো লোহার রড ব্যবহার করা হয়নি। শুধু চুন, সুরকি, কালো পাথর ও ছোট ইট দিয়ে তৈরি এই কাঠামো প্রায় ৬০০ বছর ধরে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে।ইউনেস্কোর স্বীকৃতি ও বর্তমান অবস্থা১৯৮৩ সালে (অনেক সূত্রে ১৯৮৫) ইউনেস্কো বাগেরহাট শহরটিকেই ‘ঐতিহাসিক মসজিদ শহর’ হিসেবে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের মর্যাদা দেয়। আর এই মর্যাদার কেন্দ্রবিন্দু হলো ষাট গম্বুজ মসজিদ।বর্তমানে মসজিদটি বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর ও ইউনেস্কোর যৌথ তত্ত্বাবধানে সংরক্ষিত। এখনো এখানে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামাতের সাথে আদায় করা হয়। একসঙ্গে মসজিদের ভেতরে প্রায় দুই হাজার মুসল্লি নামাজ পড়তে পারেন।ভ্রমণ তথ্য: কখন, কীভাবে, কত টাকা?প্রবেশ ফিদেশি পর্যটক: ৩০ টাকা (অনেক সূত্রে ২০ টাকাও উল্লেখ আছে – বর্তমানে ৩০ টাকাই বেশি প্রচলিত)মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষার্থী: ১০ টাকাসার্কভুক্ত দেশের নাগরিক: ২০০ টাকাঅন্যান্য বিদেশি: ৫০০ টাকাশিশু (০-১০ বছর) ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী: বিনামূল্যেঅনলাইন টিকেট: চাইলে myGOV ওয়েবসাইট থেকে কিউআর কোডযুক্ত টিকেট কেটে নিতে পারেন।খোলা ও বন্ধের সময়গ্রীষ্মকাল (গরমকাল): সকাল ১০টা – সন্ধ্যা ৬টাশীতকাল: সকাল ৯টা – বিকেল ৫টামধ্যাহ্ন বিরতি: দুপুর ১টা – ১টা ৩০ মিনিট (উভয় মৌসুমে)শুক্রবার বিশেষ বন্ধ: জুমার নামাজের জন্য দুপুর ১২টা ৩০ মিনিট – বিকেল ৩টা ৩০ মিনিটসাপ্তাহিক ছুটি: রোববার সারাদিন বন্ধ (সোমবার দুপুর ২টা থেকে খোলে)টিপস: নামাজের সময় (ফজর, যোহর, আসর, মাগরিব, এশা) স্থানীয় মুসল্লিরা প্রবেশ করতে পারেন বিনামূল্যে। তবে পর্যটকদের নির্ধারিত সময় ও টিকিট মেনে চলতে হবে।মসজিদ চত্বরে জাদুঘরপ্রধান ফটকের ডান পাশে বাগেরহাট জাদুঘর। এখানে খানজাহান আমলের প্রাচীন মুদ্রা, পোড়ামাটির ফলক, অসংখ্য প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন – এমনকি খানজাহানের দিঘির ঐতিহ্যবাহী ‘কালা পাহাড়’ ও ‘ধলা পাহাড়’ কুমিরের মমি সংরক্ষিত আছে।জাদুঘরের সময়: গ্রীষ্মে সকাল ১০টা – সন্ধ্যা ৬টা, শীতে সকাল ৯টা – বিকেল ৫টা।মধ্যাহ্ন বিরতি: দুপুর ১টা – দেড়টা।ছুটি: রোববার সারাদিন।একই টিকিটে জাদুঘর ও মসজিদ কমপ্লেক্স ঘুরতে পারবেন।যাতায়াত: ঢাকা থেকে বাগেরহাটবাসেঢাকার সায়দাবাদ ও গাবতলী বাস টার্মিনাল থেকে নিয়মিত বাস ছাড়ে। উল্লেখযোগ্য পরিবহন: মেঘনা, বনফুল, ফাল্গুনী, আরা, পর্যটক, বলেশ্বর, হামিম, দোলা, সোহাগ, শাকুরা, হানিফ, কমফোর্ট লাইন, ঈগল।ভাড়া: ৬৫০-৮০০ টাকা (প্রতি জন)।সময়: সকাল ৬টা-১০টা এবং সন্ধ্যা ৭টা-রাত ১০টা পর্যন্ত ছাড়ে।বাগেরহাট বাসস্ট্যান্ড নেমে রিকশা বা সিএনজি নিলে ৩০-৪০ টাকায় পৌঁছে যাবেন ষাট গম্বুজ মসজিদে (সুন্দরঘোনা গ্রাম, খুলনা-বাগেরহাট মহাসড়কের উত্তর পাশে)।ট্রেনেঢাকা থেকে সুন্দরবন এক্সপ্রেস খুলগামী ট্রেনে খুলনা যান। সেখান থেকে বাস বা সিএনজিতে বাগেরহাট (সময় লাগে ১-১.৫ ঘণ্টা)।কোথায় থাকবেন?বাগেরহাটে তেমন বিলাসবহুল হোটেল নেই, তবে মাঝারি মানের থাকার জায়গা আছে।রেল রোডে মমতাজ হোটেল – সুযোগ-সুবিধা কম, কিন্তু সেবা ভালো। খরচ তুলনামূলক বেশি।খান জাহান আলীর মাজারের সামনে হোটেল অভি – মেইন হাইওয়েতে অবস্থিত।কেন্দ্রীয় বাসস্টেশন সংলগ্ন হোটেল আল আমিন এবং কর্মকার পট্টিতে হোটেল মোহনা।খুলনা খুব কাছে বলে চাইলে খুলনা গিয়েও রাত কাটাতে পারেন।খাওয়ার ব্যবস্থাবাসস্ট্যান্ড ও দরগার আশপাশে কয়েকটি মোটামুটি মানের হোটেল আছে। তবে দাম ও মান সম্পর্কে আগে জেনে নেওয়া ভালো। স্থানীয় মাছ ও ভাত খেতে পারেন – বাগেরহাটের ইলিশ বেশ有名।দক্ষিণাঞ্চলের সর্ববৃহৎ ঈদের জামাতষাট গম্বুজ মসজিদ শুধু একটি পর্যটন কেন্দ্র নয় – এটি জীবন্ত একটি উপাসনালয়। প্রতি ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহায় এখানে দেশ-বিদেশের প্রায় অর্ধলাখ মুসল্লি জড়ো হন। এটি দক্ষিণাঞ্চলের সর্ববৃহৎ ঈদের জামাত। রমজান মাসে দুই হাফেজ খতম তারাবির নামাজ পড়ান এবং মুসল্লিদের জন্য ইফতারের ব্যবস্থা থাকে।আশপাশের দর্শনীয় স্থানমসজিদ ঘুরে সময় থাকলে আরও কয়েকটি স্থান দেখতে পারেন:বিবি বেগনির মসজিদ (৫০০ মিটার পেছনে) – ফুলের কারুকার্যময়।চুনাখোলা মসজিদ (বিবি বেগনির আরও ৫০০ মিটার পেছনে)।সিঙ্গাইর মসজিদ (মহাসড়কের পাশে)।নয় গম্বুজ মসজিদখান জাহান আলীর মাজারঘোড়া দিঘি ও রণবিজয়পুর দিঘিমোংলা বন্দর (চাইলে সুন্দরবন যাতায়াতের গেটওয়ে)।ভ্রমণে যা মেনে চলবেনহালকা ও আরামদায়ক পোশাক পরুন – সুতির কাপড় উত্তম।পর্যাপ্ত পানি, বিস্কুট, মুড়ি, চিড়া ইত্যাদি সঙ্গে রাখুন।মোবাইলের চার্জার ও পাওয়ার ব্যাংক নিতে ভুলবেন না।জ্বর, সর্দি, গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ ও স্যালাইন রাখুন।মসজিদে প্রবেশের আগে জুতা বাইরে রেখে পায়ে মোজা পরে প্রবেশ করুন।নামাজরত মুসল্লিদের বিরক্ত করবেন না। নির্ধারিত পর্যটক এলাকায় ঘুরুন।টিকিট কাটার পর জাদুঘর দেখতে ভুলবেন না – এটি একই ফিতে।শেষকথাষাট গম্বুজ মসজিদ শুধু পাথর-চুন-সুরকির গাঁথনি নয়; এটি বাংলার ইতিহাস, সংস্কৃতি ও মুসলিম স্থাপত্যের এক জীবন্ত দলিল। এখানে দাঁড়ালে সময় থমকে দাঁড়ায়। শুনতে পাবেন খানজাহানের আজানের প্রতিধ্বনি, দেখতে পাবেন অর্ধগোলাকার গম্বুজের সারি মেঘ ছুঁতে চায়।আপনিও একবার চলে আসুন বাগেরহাটে। ষাট গম্বুজের ছায়ায় দাঁড়ান। ইতিহাসের স্পর্শ নিন। আর এই অসাধারণ স্থাপত্যের সাক্ষী হয়ে ফিরে আসুন – নতুন এক অভিজ্ঞতা নিয়ে।
২৮ মার্চ ২০২৬
ষাট গম্বুজ মসজিদ

ষাট গম্বুজ মসজিদ

বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমের জেলা বাগেরহাট। সবুজ শ্যামলিমা আর নদী-খাল বেষ্টিত এই জনপদকে বিশ্বের দরবারে পরিচিতি এনে দিয়েছে একটি অনন্য স্থাপনা – ষাট গম্বুজ মসজিদ। ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী তিনটি স্থানের একটি এই মসজিদ মুসলিম স্থাপত্যের এক অপূর্ব নিদর্শন। যেখানে ইতিহাস, আধ্যাত্মিকতা আর নির্মাণকৌশলের মিলন ঘটেছে চুন-সুরকি আর পাথরের বাঁধনে।ইতিহাসের আঁধার আলো: কে, কবে, কেন?মসজিদটির গায়ে কোনো শিলালিপি নেই। তাই এটি কে নির্মাণ করেছিলেন বা কোন সময়ে নির্মিত হয়েছিল, তা নিয়ে সঠিক তথ্য পাওয়া যায় না। তবে স্থাপত্যশৈলী ঘেঁটে ইতিহাসবিদরা প্রায় নিশ্চিত – এ মসজিদ পীর খানজাহান আলী (রহ.)-এর হাতেই গড়ে উঠেছিল। ধারণা করা হয়, তিনি পঞ্চদশ শতাব্দীর মাঝামাঝি (আনুমানিক ১৪৪২-১৪৫৯ খ্রিস্টাব্দ, অনেকের মতে ১৫০০ শতাব্দীতে) এটি নির্মাণ করেন।সুলতান নাসিরউদ্দিন মাহমুদ শাহের আমলে খান-ই-জাহান সুন্দরবনের কোল ঘেঁষে ‘খলিফাতাবাদ’ রাজ্য গড়ে তোলেন। দরবার ও নামাজের জন্য তিনি একটি বিশাল হল নির্মাণের উদ্যোগ নেন, যা কালক্রমে ‘ষাট গম্বুজ মসজিদ’ নামে পরিচিতি পায়। জনশ্রুতি আছে, মসজিদের পাথর চট্টগ্রাম থেকে আনা হয়েছিল। আবার কেউ কেউ বলেন, ভারতের উড়িষ্যার রাজমহল থেকে অলৌকিক ক্ষমতাবলে জলপথে ভাসিয়ে আনা হয়েছিল। বাস্তবে পাথরগুলো রাজমহল থেকেই আনা – এ নিয়ে ঐতিহাসিকরা একমত।নামকরণের নানা কাহিনিমসজিদটির নাম নিয়েও আছে নানা মত।ষাট গম্বুজ কেন? সংস্কৃত ‘সাত’ ও ফারসি ‘ছাদ’ মিলে ‘ছাদ গম্বুজ’ থেকে কথ্যরূপে ‘ষাট গম্বুজ’ হয়েছে বলে এক মত।আবার অন্য মতে, মসজিদের ভেতরে ছয়টি সারিতে দশটি করে মোট ৬০টি পাথরের স্তম্ভ (খাম্বা) আছে। স্তম্ভের ওপর ছাদ নির্মিত, তাই ‘ষাট খাম্বা’ থেকে ‘ষাট গম্বুজ’।গম্বুজের প্রকৃত সংখ্যা: নাম ‘ষাট গম্বুজ’ হলেও আসলে এখানে গম্বুজ ৬০টি নয়। মূল ভবনে ১১টি সারিতে ৭৭টি গম্বুজ, চার কোণার মিনারের ওপর চারটি গম্বুজ – মোট ৮১টি গম্বুজ। ৭৭টির মধ্যে ৭৪টিই অর্ধগোলাকার, শুধু মাঝের সারির সাতটি দেখতে বাংলার চৌচালা ঘরের চালের মতো।তাই অনেক গবেষক মনে করেন, মসজিদটির আসল নাম হওয়া উচিত ছিল ‘ষাট স্তম্ভ মসজিদ’ – কারণ এখানে প্রধান আকর্ষণ সেই ৬০টি পাথরের স্তম্ভ।স্থাপত্যের অনন্য বুননষাট গম্বুজ মসজিদের স্থাপত্যশৈলীতে মিশেছে মধ্য এশিয়ার তুঘলক (তুরস্ক) ও জৌনপুরী ধারা, আবার রয়েছে স্থানীয় বাংলার ছোঁয়া।আকার ও পরিমাপবাইরের দিক: উত্তর-দক্ষিণে ১৬০ ফুট, পূর্ব-পশ্চিমে ১০৪ ফুট।ভেতরের দিক: উত্তর-দক্ষিণে ১৪৩ ফুট, পূর্ব-পশ্চিমে ৮৮ ফুট।দেয়ালের পুরুত্ব: প্রায় ৮.৫ ফুট। ইটের তৈরি এসব দেয়াল অসাধারণ মজবুত।দরজা ও জানালাপূর্ব দেয়ালে ১১টি খিলানযুক্ত দরজা – মাঝেরটি সবচেয়ে বড়।উত্তর ও দক্ষিণ দেয়ালে ৭টি করে মোট ১৪টি দরজা।এই অসংখ্য দরজা আলো ও বাতাস চলাচলের জন্য তৈরি, তবু ভেতরের দিকটা কিছুটা অন্ধকারাচ্ছন্ন – যা উপাসনার গাম্ভীর্য বাড়ায়।মিনার ও কোঠাচার কোণে চারটি গোলাকার মিনার। এদের চূড়ায় ছোট গম্বুজ। ছাদের কার্নিশের চেয়ে মিনারগুলো কিছুটা উঁচু। সামনের দিকের দুটি মিনারের ভেতর প্যাঁচানো সিঁড়ি – একসময় এখান থেকে আজান দেওয়া হতো।রওশন কোঠা: দক্ষিণ-পূর্ব কোণের বুরুজ – আলো-বাতাসে ভরা।আন্ধার কোঠা: উত্তর-পূর্ব কোণের বুরুজ – তুলনামূলক অন্ধকার।ভেতরের স্তম্ভ ও গম্বুজের জঙ্গলভেতরে ৬০টি পাথরের স্তম্ভ – উত্তর থেকে দক্ষিণে ছয় সারিতে, প্রতিসারিতে দশটি করে। প্রতিটি স্তম্ভ পাথর কেটে বানানো, তবে পাঁচটি স্তম্ভ পরে ইট দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। এই স্তম্ভের ওপর ভর করেই গম্বুজগুলো দাঁড়িয়ে। এক কথায়, এটি খিলান-স্তম্ভ-গম্বুজের এক বিস্ময়কর সমন্বয়।মিহরাব ও মিম্বারপশ্চিম দেয়ালে ১০টি মিহরাব। মাঝের মিহরাবটি সবচেয়ে বড় ও কারুকার্যপূর্ণ। এর দক্ষিণে ৫টি, উত্তরে ৪টি মিহরাব। উত্তরে যেখানে একটি মিহরাব থাকার কথা, সেখানে রয়েছে একটি ছোট দরজা – অনেকে মনে করেন, এটি খানজাহান আলীর দরবার হলের প্রবেশপথ ছিল। ইমামের বসার জন্য রয়েছে পাথরের মিম্বার।রডবিহীন নির্মাণসবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো – এই মসজিদে কোনো লোহার রড ব্যবহার করা হয়নি। শুধু চুন, সুরকি, কালো পাথর ও ছোট ইট দিয়ে তৈরি এই কাঠামো প্রায় ৬০০ বছর ধরে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে।ইউনেস্কোর স্বীকৃতি ও বর্তমান অবস্থা১৯৮৩ সালে (অনেক সূত্রে ১৯৮৫) ইউনেস্কো বাগেরহাট শহরটিকেই ‘ঐতিহাসিক মসজিদ শহর’ হিসেবে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের মর্যাদা দেয়। আর এই মর্যাদার কেন্দ্রবিন্দু হলো ষাট গম্বুজ মসজিদ।বর্তমানে মসজিদটি বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর ও ইউনেস্কোর যৌথ তত্ত্বাবধানে সংরক্ষিত। এখনো এখানে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামাতের সাথে আদায় করা হয়। একসঙ্গে মসজিদের ভেতরে প্রায় দুই হাজার মুসল্লি নামাজ পড়তে পারেন।ভ্রমণ তথ্য: কখন, কীভাবে, কত টাকা?প্রবেশ ফিদেশি পর্যটক: ৩০ টাকা (অনেক সূত্রে ২০ টাকাও উল্লেখ আছে – বর্তমানে ৩০ টাকাই বেশি প্রচলিত)মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষার্থী: ১০ টাকাসার্কভুক্ত দেশের নাগরিক: ২০০ টাকাঅন্যান্য বিদেশি: ৫০০ টাকাশিশু (০-১০ বছর) ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী: বিনামূল্যেঅনলাইন টিকেট: চাইলে myGOV ওয়েবসাইট থেকে কিউআর কোডযুক্ত টিকেট কেটে নিতে পারেন।খোলা ও বন্ধের সময়গ্রীষ্মকাল (গরমকাল): সকাল ১০টা – সন্ধ্যা ৬টাশীতকাল: সকাল ৯টা – বিকেল ৫টামধ্যাহ্ন বিরতি: দুপুর ১টা – ১টা ৩০ মিনিট (উভয় মৌসুমে)শুক্রবার বিশেষ বন্ধ: জুমার নামাজের জন্য দুপুর ১২টা ৩০ মিনিট – বিকেল ৩টা ৩০ মিনিটসাপ্তাহিক ছুটি: রোববার সারাদিন বন্ধ (সোমবার দুপুর ২টা থেকে খোলে)টিপস: নামাজের সময় (ফজর, যোহর, আসর, মাগরিব, এশা) স্থানীয় মুসল্লিরা প্রবেশ করতে পারেন বিনামূল্যে। তবে পর্যটকদের নির্ধারিত সময় ও টিকিট মেনে চলতে হবে।মসজিদ চত্বরে জাদুঘরপ্রধান ফটকের ডান পাশে বাগেরহাট জাদুঘর। এখানে খানজাহান আমলের প্রাচীন মুদ্রা, পোড়ামাটির ফলক, অসংখ্য প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন – এমনকি খানজাহানের দিঘির ঐতিহ্যবাহী ‘কালা পাহাড়’ ও ‘ধলা পাহাড়’ কুমিরের মমি সংরক্ষিত আছে।জাদুঘরের সময়: গ্রীষ্মে সকাল ১০টা – সন্ধ্যা ৬টা, শীতে সকাল ৯টা – বিকেল ৫টা।মধ্যাহ্ন বিরতি: দুপুর ১টা – দেড়টা।ছুটি: রোববার সারাদিন।একই টিকিটে জাদুঘর ও মসজিদ কমপ্লেক্স ঘুরতে পারবেন।যাতায়াত: ঢাকা থেকে বাগেরহাটবাসেঢাকার সায়দাবাদ ও গাবতলী বাস টার্মিনাল থেকে নিয়মিত বাস ছাড়ে। উল্লেখযোগ্য পরিবহন: মেঘনা, বনফুল, ফাল্গুনী, আরা, পর্যটক, বলেশ্বর, হামিম, দোলা, সোহাগ, শাকুরা, হানিফ, কমফোর্ট লাইন, ঈগল।ভাড়া: ৬৫০-৮০০ টাকা (প্রতি জন)।সময়: সকাল ৬টা-১০টা এবং সন্ধ্যা ৭টা-রাত ১০টা পর্যন্ত ছাড়ে।বাগেরহাট বাসস্ট্যান্ড নেমে রিকশা বা সিএনজি নিলে ৩০-৪০ টাকায় পৌঁছে যাবেন ষাট গম্বুজ মসজিদে (সুন্দরঘোনা গ্রাম, খুলনা-বাগেরহাট মহাসড়কের উত্তর পাশে)।ট্রেনেঢাকা থেকে সুন্দরবন এক্সপ্রেস খুলগামী ট্রেনে খুলনা যান। সেখান থেকে বাস বা সিএনজিতে বাগেরহাট (সময় লাগে ১-১.৫ ঘণ্টা)।কোথায় থাকবেন?বাগেরহাটে তেমন বিলাসবহুল হোটেল নেই, তবে মাঝারি মানের থাকার জায়গা আছে।রেল রোডে মমতাজ হোটেল – সুযোগ-সুবিধা কম, কিন্তু সেবা ভালো। খরচ তুলনামূলক বেশি।খান জাহান আলীর মাজারের সামনে হোটেল অভি – মেইন হাইওয়েতে অবস্থিত।কেন্দ্রীয় বাসস্টেশন সংলগ্ন হোটেল আল আমিন এবং কর্মকার পট্টিতে হোটেল মোহনা।খুলনা খুব কাছে বলে চাইলে খুলনা গিয়েও রাত কাটাতে পারেন।খাওয়ার ব্যবস্থাবাসস্ট্যান্ড ও দরগার আশপাশে কয়েকটি মোটামুটি মানের হোটেল আছে। তবে দাম ও মান সম্পর্কে আগে জেনে নেওয়া ভালো। স্থানীয় মাছ ও ভাত খেতে পারেন – বাগেরহাটের ইলিশ বেশ有名।দক্ষিণাঞ্চলের সর্ববৃহৎ ঈদের জামাতষাট গম্বুজ মসজিদ শুধু একটি পর্যটন কেন্দ্র নয় – এটি জীবন্ত একটি উপাসনালয়। প্রতি ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহায় এখানে দেশ-বিদেশের প্রায় অর্ধলাখ মুসল্লি জড়ো হন। এটি দক্ষিণাঞ্চলের সর্ববৃহৎ ঈদের জামাত। রমজান মাসে দুই হাফেজ খতম তারাবির নামাজ পড়ান এবং মুসল্লিদের জন্য ইফতারের ব্যবস্থা থাকে।আশপাশের দর্শনীয় স্থানমসজিদ ঘুরে সময় থাকলে আরও কয়েকটি স্থান দেখতে পারেন:বিবি বেগনির মসজিদ (৫০০ মিটার পেছনে) – ফুলের কারুকার্যময়।চুনাখোলা মসজিদ (বিবি বেগনির আরও ৫০০ মিটার পেছনে)।সিঙ্গাইর মসজিদ (মহাসড়কের পাশে)।নয় গম্বুজ মসজিদখান জাহান আলীর মাজারঘোড়া দিঘি ও রণবিজয়পুর দিঘিমোংলা বন্দর (চাইলে সুন্দরবন যাতায়াতের গেটওয়ে)।ভ্রমণে যা মেনে চলবেনহালকা ও আরামদায়ক পোশাক পরুন – সুতির কাপড় উত্তম।পর্যাপ্ত পানি, বিস্কুট, মুড়ি, চিড়া ইত্যাদি সঙ্গে রাখুন।মোবাইলের চার্জার ও পাওয়ার ব্যাংক নিতে ভুলবেন না।জ্বর, সর্দি, গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ ও স্যালাইন রাখুন।মসজিদে প্রবেশের আগে জুতা বাইরে রেখে পায়ে মোজা পরে প্রবেশ করুন।নামাজরত মুসল্লিদের বিরক্ত করবেন না। নির্ধারিত পর্যটক এলাকায় ঘুরুন।টিকিট কাটার পর জাদুঘর দেখতে ভুলবেন না – এটি একই ফিতে।শেষকথাষাট গম্বুজ মসজিদ শুধু পাথর-চুন-সুরকির গাঁথনি নয়; এটি বাংলার ইতিহাস, সংস্কৃতি ও মুসলিম স্থাপত্যের এক জীবন্ত দলিল। এখানে দাঁড়ালে সময় থমকে দাঁড়ায়। শুনতে পাবেন খানজাহানের আজানের প্রতিধ্বনি, দেখতে পাবেন অর্ধগোলাকার গম্বুজের সারি মেঘ ছুঁতে চায়।আপনিও একবার চলে আসুন বাগেরহাটে। ষাট গম্বুজের ছায়ায় দাঁড়ান। ইতিহাসের স্পর্শ নিন। আর এই অসাধারণ স্থাপত্যের সাক্ষী হয়ে ফিরে আসুন – নতুন এক অভিজ্ঞতা নিয়ে।
গণবার্তা ফিচার