গণবার্তা
সর্বশেষ

জামালপুরে বসতঘরে গাছ ভেঙে মা ও দুই মেয়ের মৃত্যু

জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলায় বৈশাখী ঝড়ের তাণ্ডবে বসতবাড়ির ওপর গাছ ভেঙে পড়ে মা ও দুই মেয়ের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। গভীর রাতে ঘুমন্ত অবস্থায় এ দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান তারা। সোমবার ভোররাত সাড়ে তিনটার দিকে উপজেলার নয়ানগর ইউনিয়নের দাগী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। সকালে বিষয়টি নিশ্চিয়েছেন মেলান্দহ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিন্নাতুল আরা।নিহতরা হলেন দাগী এলাকার মৃত গনি মণ্ডলের স্ত্রী খুকি বেগম ও তার দুই মেয়ে ফরিদা আক্তার ও ফতে আক্তার। স্থানীয় বাসিন্দা ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, রোববার দিবাগত রাতে নিজ বসতঘরের একই বিছানায় ঘুমিয়ে ছিলেন মা ও দুই মেয়ে। ভোর রাতের দিকে হঠাৎ বৈশাখী ঝড় শুরু হয়। একপর্যায়ে ঘরের পাশের একটি বড় মেহগনি গাছ উপড়ে টিনের ঘরের ওপর ভেঙে পড়ে। এতে ঘরের ভেতরে ঘুমিয়ে থাকা তিনজনই গাছের নিচে চাপা পড়েন। ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়।রাতের অন্ধকার ও ঝড়ো আবহাওয়ার কারণে তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধারকাজ সম্ভব হয়নি। পরে সকালে স্থানীয় লোকজনের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ শুরু করেন এবং গাছের নিচ থেকে মরদেহ উদ্ধার করেন। এই মর্মান্তিক ঘটনায় দাগী এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একসঙ্গে মা ও দুই মেয়ের মৃত্যুতে স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা। মেলান্দহ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিন্নাতুল আরা জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঘটনাস্থলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। নিহতদের পরিবারকে সহায়তার বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া হবে।
৪ ঘন্টা আগে

যুদ্ধের স্থায়ী সমাধানে পাকিস্তানকে ‘কার্যকর কাঠামো’ দিল ইরান

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ স্থায়ীভাবে শেষ করার লক্ষ্যে মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানকে একটি কার্যকর কাঠামো দিয়েছে ইরান। এই কাঠামোর মাধ্যমে যুদ্ধের স্থায়ী সমাধান এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার পথ তুলে ধরা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। তবে এ বিষয়ে কোনো বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি তিনি। আরাঘচি পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারী ভূমিকার প্রশংসা করে বলেন, দেশটি সংলাপ ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। একই সঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক সদিচ্ছা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।এই কাঠামোর মধ্যে কোন বিষয়গুলো থাকতে পারে তা নিয়ে স্পষ্ট বার্তা না দিলেও তাসনিম নিউজ এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, এই আলোচনা পারমাণবিক ইস্যুর সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। তাসনিমের তথ্যমতে, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ছাড়াও পাকিস্তান যেহেতু মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে তাই যুদ্ধের অবসান নিয়ে ইরানের শর্তগুলো তুলে ধরতেই ইসলামাবাদে গেছেন আরাঘচি।এই শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে হরমুজ প্রণালিতে নতুন আইনি কাঠামো আরোপ, যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ গ্রহণ, ভবিষ্যতে ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক আগ্রাসন না হওয়ার নিশ্চয়তা এবং ইরানের ওপর আরোপিত নৌ অবরোধ প্রত্যাহার। এদিকে রুশ বার্তা সংস্থা তাস প্রকাশিত সংবাদের তথ্য অনুযায়ী, আলোচনার জন্য একটি নির্দিষ্ট সীমারেখা দিয়েছেন রাশিয়ায় নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত কাজেম জালালি। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যে কোনো আলোচনা অবশ্যই দীর্ঘস্থায়ী শান্তির দিকে নিয়ে যেতে হবে। একই সঙ্গে এই আলোচনায় তেহরানের বৈধ অধিকার স্বীকৃতি, যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ এবং পুনরায় হামলা না করার নিশ্চয়তা থাকতে হবে।
১৮ ঘন্টা আগে

ইরানের হামলা মোকাবিলায় সংযুক্ত আরব আমিরাতে আয়রন ডোম পাঠিয়েছিল ইসরাইল

ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরুর প্রথমদিকে ইসরাইল সংযুক্ত আরব আমিরাতে আয়রন ডোম ব্যাটারি পাঠিয়েছে। সেই সঙ্গে এটি চালানোর জন্য দেশটিতে সেনাও পাঠায় ইসরাইল। ইসরাইলি ও মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে এই তথ্য জানিয়েছে অ্যাক্সিওস। যুদ্ধের সময় তেহরান আরব আমিরাতের ওপর ব্যাপক হামলা চালায়। দেশটি অন্তত ৫৫০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং দুই হাজার ২০০টির বেশি ড্রোন দিয়ে আরব আমিরাতে হামলা চালায়। আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের ছোড়া বেশিরভাগ ক্ষেপণাস্ত্র আরব আমিরাত প্রতিহত করলেও কিছু ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন দেশটির সামরিক ও বেসামরিক অবকাঠামোতে আঘাত হানে। এ বিষয়ে মিত্র দেশগুলোর কাছ থেকে সহযোগিতা চায় আমিরাত। আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে টেলিফোনে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু কথা বলার পরেই দেশটিতে সেনা ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম পাঠায় তেল আবিব। ইসরাইলি কর্মকর্তা অ্যাক্সিওসকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।ইসরাইলি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ইরানের ছোড়া কয়েক ডজন ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করা হয় বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। আমিরাত ও ইসরাইলি কর্মকর্তারা জানান, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে দুই দেশ ঘনিষ্ঠভাবে সামরিক ও রাজনৈতিক সমন্বয় বজায় রেখেছে।
১৮ ঘন্টা আগে
নারায়ণগঞ্জ ৭ খুন: ১২ বছরেও কার্যকর হয়নি রায়, অপেক্ষায় স্বজনরা

নারায়ণগঞ্জ ৭ খুন: ১২ বছরেও কার্যকর হয়নি রায়, অপেক্ষায় স্বজনরা

বাংলাদেশের বিচারিক ইতিহাসের সবচেয়ে আলোচিত ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডগুলোর একটি নারায়ণগঞ্জের সাত খুন। ২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল সংঘটিত এই ঘটনায় ১২ বছর পার হলেও এখনো কার্যকর হয়নি মামলার চূড়ান্ত রায়। নিম্ন আদালত ও উচ্চ আদালতে বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ হলেও দেশের সর্বোচ্চ আদালতে আপিল নিষ্পত্তি না হওয়ায় বিচার সম্পন্ন হওয়ার অপেক্ষায় আছেন নিহতদের পরিবার ও স্বজনরা।যেভাবে ঘটেছিল হত্যাকাণ্ড২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ আদালতে হাজিরা দিয়ে ফেরার পথে ফতুল্লার লামাপাড়া এলাকা থেকে অপহৃত হন তৎকালীন প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম, আইনজীবী চন্দন সরকারসহ সাতজন।অপহৃত অন্যরা ছিলেন নজরুল ইসলামের সহযোগী তাজুল ইসলাম, সিরাজুল ইসলাম লিটন, মনিরুজ্জামান স্বপন, গাড়িচালক জাহাঙ্গীর আলম ও ইব্রাহিম।ঘটনার তিন দিন পর ৩০ এপ্রিল শীতলক্ষ্যা নদী থেকে ছয়জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরদিন উদ্ধার হয় আরও একটি মরদেহ। নিহতদের হাত-পা বাঁধা ছিল এবং মরদেহের সঙ্গে ইটভর্তি বস্তা বাঁধা ছিল। নির্মম এ হত্যাকাণ্ড দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন তোলে।তদন্তে উঠে আসে র‌্যাবের সম্পৃক্ততাঘটনার পর স্থানীয়দের বর্ণনা ও তদন্তে উঠে আসে, অপহরণের সময় র‌্যাব-১১ এর সদস্যরা ঘটনাস্থলে ছিল। পরে তদন্তে নিশ্চিত হয়, র‌্যাবের কয়েকজন কর্মকর্তা এই অপহরণ ও হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত ছিলেন।ঘটনার পর র‌্যাব-১১ এর তৎকালীন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল তারেক সাঈদ, মেজর আরিফ হোসেন ও লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মাসুদ রানাকে নিজ নিজ বাহিনীতে ফেরত নেওয়া হয়। পরে আদালতের নির্দেশে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।স্বীকারোক্তিতে বেরিয়ে আসে হত্যার পরিকল্পনামামলার তদন্তে বড় অগ্রগতি আসে যখন তারেক সাঈদ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। সেখানে তিনি জানান, নজরুল ইসলামকে লক্ষ্য করেই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছিল। পরে ঘটনাটি গোপন রাখতে অপহৃত সাতজনকে হত্যা করে মরদেহ নদীতে ফেলে দেওয়া হয়।কিন্তু মরদেহ ভেসে ওঠার পর পুরো ঘটনা প্রকাশ্যে আসে।নিম্ন আদালতের রায়২০১৭ সালের ১৬ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালত মামলার রায়ে সাবেক কাউন্সিলর নূর হোসেনসহ ২৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেন। পাশাপাশি আরও ৯ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।রায়ে বলা হয়, পরিকল্পিতভাবে অপহরণ ও হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে এবং এতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হয়েছে।উচ্চ আদালতের রায়পরবর্তীতে মামলাটি উচ্চ আদালতে গেলে ২০১৮ সালের ২২ আগস্ট ১৫ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়। অন্য ১১ জনের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।এরপর আসামিপক্ষ দেশের সর্বোচ্চ আদালতে আপিল করে।আট বছর ধরে আটকে আছে আপিলউচ্চ আদালতের রায়ের পর প্রায় আট বছর ধরে মামলাটি আপিল শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে। এখনো চূড়ান্ত শুনানি শুরু না হওয়ায় রায় কার্যকর করা সম্ভব হয়নি।আইনজীবীদের ভাষ্য, আপিল নিষ্পত্তি হলেই মামলার বিচারিক প্রক্রিয়ার শেষ ধাপ শুরু হবে।স্বজনদের দীর্ঘ অপেক্ষানিহতদের পরিবার বলছে, এক যুগ ধরে বিচার প্রক্রিয়ার অপেক্ষা তাদের মানসিকভাবে ভেঙে দিয়েছে।নিহত জাহাঙ্গীর আলমের স্ত্রী জানান, স্বামী নিহত হওয়ার সময় তিনি অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। স্বামীর মৃত্যুর এক মাস পর তার মেয়ের জন্ম হয়। এখন মেয়েটির বয়স ১২ বছর, কিন্তু সে কখনো বাবাকে দেখেনি।নিহত তাজুল ইসলামের বাবা বলেন, বিচার দেখে যেতে পারব কি না, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।নজরুল ইসলামের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বিউটি বলেন, আদালতের রায় হওয়ার পরও তা কার্যকর না হওয়ায় তারা এখনো আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন।বাদীপক্ষের অভিযোগবাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, মামলাটি পরিচালনার সময় তাকে ও তার পরিবারকে একাধিকবার হুমকির মুখে পড়তে হয়েছে।তার দাবি, মামলার বিচার বিলম্বিত হওয়ায় স্বজনরা ন্যায়বিচারের পূর্ণ স্বস্তি পাচ্ছেন না।রাষ্ট্রপক্ষের আশ্বাসরাষ্ট্রপক্ষ জানিয়েছে, আইনি প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করার চেষ্টা চলছে। আসামিপক্ষের প্রয়োজনীয় নথি জমা হলেই শুনানি শুরু হতে পারে।এখনো জীবন্ত ক্ষতনারায়ণগঞ্জের সাত খুনের ঘটনা শুধু একটি হত্যাকাণ্ড নয়, এটি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার ও বিচার বিলম্বের একটি বড় উদাহরণ হিসেবে আলোচিত।এক যুগ পেরিয়ে গেলেও নিহতদের পরিবার এখনো অপেক্ষা করছে—কবে কার্যকর হবে রায়, কবে মিলবে চূড়ান্ত বিচার।আইনজীবী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, আলোচিত মামলাগুলোর বিচার দ্রুত সম্পন্ন না হলে অপরাধীদের মধ্যে দায়মুক্তির সংস্কৃতি আরও শক্তিশালী হবে। নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যার পানি হয়তো সেই সাতজনের হত্যার স্মৃতি আজও বয়ে নিয়ে চলেছে, আর তাদের স্বজনরা এখনো অপেক্ষা করছেন ন্যায়বিচারের শেষ অধ্যায়ের।
২ ঘন্টা আগে
বাংলার বাঘ শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের ৬৪তম প্রয়াণী দিবস আজ

বাংলার বাঘ শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের ৬৪তম প্রয়াণী দিবস আজ

বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে এক অনন্য উচ্চতার নাম আবুল কাশেম ফজলুল হক। ‘শেরেবাংলা’ বা ‘বাংলার বাঘ’ উপাধিতে পরিচিত এই নেতা শুধু রাজনীতিবিদই ছিলেন না, বরং বাঙালি জনগণের অধিকার আদায়ের এক দৃঢ় কণ্ঠস্বর ছিলেন। তাঁর জীবনজুড়ে ছিল সংগ্রাম, নেতৃত্ব এবং জনকল্যাণে অবিচল নিষ্ঠা। ১৯৬২ সালের ২৭ এপ্রিল তিনি মৃত্যুবরণ করেন। আজ তাঁর ৬৪তম প্রয়াণী দিবসে জানাই গভীর শ্রদ্ধা।১৮৭৩ সালের অক্টোবরে বরিশালের ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার সাতুরিয়া গ্রামে জন্ম নেওয়া ফজলুল হক শৈশব থেকেই মেধার স্বাক্ষর রাখেন। প্রাথমিক শিক্ষায় আরবি, ফার্সি ও বাংলায় পারদর্শিতা অর্জনের পর তিনি বরিশাল জিলা স্কুল থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হন। প্রেসিডেন্সি কলেজ ও কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের পর কলকাতা হাইকোর্টে আইন পেশায় প্রবেশ করেন। পরে সরকারি চাকরিতে যোগ দিলেও মতবিরোধের কারণে তা ছেড়ে আবার আইন পেশায় ফিরে আসেন। তাঁর প্রকৃত পরিচয় গড়ে ওঠে রাজনীতিতে, যেখানে তিনি সাধারণ মানুষের প্রতিনিধি হয়ে ওঠেন।বিংশ শতাব্দীর শুরুতে তাঁর রাজনৈতিক উত্থান ঘটে। তিনি নিখিল ভারত মুসলিম লীগ ও ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস উভয় দলেই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। ১৯১৬ সালের ঐতিহাসিক লক্ষ্ণৌ চুক্তি প্রণয়নে তাঁর ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য। কৃষক ও সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ে তিনি ১৯২৭ সালে গঠন করেন কৃষক প্রজা পার্টি। ১৯৩৫ সালে তিনি কলকাতা মিউনিসিপ্যাল করপোরেশনের প্রথম মুসলিম মেয়র নির্বাচিত হন। ১৯৩৭ সালের নির্বাচনে জয়লাভের পর তিনি অবিভক্ত বাংলার প্রথম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে কৃষকবান্ধব নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে তিনি ‘বিনা ক্ষতিপূরণে জমিদারি প্রথা উচ্ছেদ’, ‘চাষী খাতক আইন’, ‘দোকান কর্মচারী আইন’ ও ‘পাট অধ্যাদেশ’ জারি করেন এবং ঢাকা, রাজশাহী ও খুলনায় কৃষি ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করেন।১৯৪০ সালে লাহোরে অনুষ্ঠিত মুসলিম লীগের অধিবেশনে তিনি ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাব বা পাকিস্তান প্রস্তাব উত্থাপন করেন, যা উপমহাদেশের রাজনৈতিক গতিপথ বদলে দেয়। দেশভাগের পর তিনি ঢাকায় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যান। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে সমর্থন দেন। ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্টের নেতৃত্ব দিয়ে পূর্ব বাংলার নির্বাচনে জয়লাভ করে মুখ্যমন্ত্রী হন। যুক্তফ্রন্ট সরকারের ২১ দফার মধ্যে তিনি বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার সুপারিশ, একুশে ফেব্রুয়ারিকে শহীদ দিবস ঘোষণা, পহেলা বৈশাখকে ছুটির দিন করা এবং বর্ধমান হাউসকে বাংলা একাডেমিতে রূপান্তরের সিদ্ধান্ত নেন। পরবর্তীতে পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।শিল্প সাহিত্যের পৃষ্ঠপোষকতা ও সক্রিয় সম্পৃক্ততাও ছিল তাঁর জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তিনি ‘বালক’ ও ‘ভারত সুহৃদ’ পত্রিকা প্রকাশ করেন। বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত ‘নবযুগ’ পত্রিকা প্রকাশে তিনি আর্থিক ও নৈতিক সহায়তা দেন। ব্রিটিশ সরকার যখন নবযুগ বন্ধ করে দিতে চায়, তখন তিনি নজরুলকে আরও গরম লেখার নির্দেশ দেন। তাঁর রচিত গ্রন্থের নাম ‘বেঙ্গল টুডে’।১৯৬২ সালের ২৭ এপ্রিল সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ঢাকায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। জানাজা শেষে তাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় সমাহিত করা হয়, যেখানে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও খাজা নাজিমুদ্দিনের কবর রয়েছে। এই তিন নেতার সমাধিস্থল ‘তিন নেতার মাজার’ নামে পরিচিত।শেরেবাংলা ফজলুল হকের অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ পাকিস্তান সরকার তাকে ‘হেলাল-ই-পাকিস্তান’ খেতাবে ভূষিত করে। বাংলাদেশে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, শেরেবাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়াম, শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ ও শেরেবাংলা প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়সহ একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও জনগুরুত্বপূর্ণ ভবনের নামকরণ তাঁর নামে করা হয়েছে। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েট ও কুয়েটসহ দেশের অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ আবাসিক হল তাঁর নামে নামকরণ করা হয়েছে। ঢাকার জাতীয় সংসদ ভবন যে এলাকায় অবস্থিত, তার নাম শেরেবাংলা নগর। বাঙালির অধিকার, কৃষকের স্বার্থ এবং গণমানুষের রাজনীতির যে দৃষ্টান্ত তিনি রেখে গেছেন, তা আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। শেরেবাংলা ফজলুল হকের জীবন ও আদর্শ বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক উজ্জ্বল অধ্যায় হয়ে রয়েছে।
১ ঘন্টা আগে
যুদ্ধের স্থায়ী সমাধানে পাকিস্তানকে ‘কার্যকর কাঠামো’ দিল ইরান

যুদ্ধের স্থায়ী সমাধানে পাকিস্তানকে ‘কার্যকর কাঠামো’ দিল ইরান

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ স্থায়ীভাবে শেষ করার লক্ষ্যে মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানকে একটি কার্যকর কাঠামো দিয়েছে ইরান। এই কাঠামোর মাধ্যমে যুদ্ধের স্থায়ী সমাধান এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার পথ তুলে ধরা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। তবে এ বিষয়ে কোনো বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি তিনি। আরাঘচি পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারী ভূমিকার প্রশংসা করে বলেন, দেশটি সংলাপ ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। একই সঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক সদিচ্ছা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।এই কাঠামোর মধ্যে কোন বিষয়গুলো থাকতে পারে তা নিয়ে স্পষ্ট বার্তা না দিলেও তাসনিম নিউজ এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, এই আলোচনা পারমাণবিক ইস্যুর সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। তাসনিমের তথ্যমতে, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ছাড়াও পাকিস্তান যেহেতু মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে তাই যুদ্ধের অবসান নিয়ে ইরানের শর্তগুলো তুলে ধরতেই ইসলামাবাদে গেছেন আরাঘচি।এই শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে হরমুজ প্রণালিতে নতুন আইনি কাঠামো আরোপ, যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ গ্রহণ, ভবিষ্যতে ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক আগ্রাসন না হওয়ার নিশ্চয়তা এবং ইরানের ওপর আরোপিত নৌ অবরোধ প্রত্যাহার। এদিকে রুশ বার্তা সংস্থা তাস প্রকাশিত সংবাদের তথ্য অনুযায়ী, আলোচনার জন্য একটি নির্দিষ্ট সীমারেখা দিয়েছেন রাশিয়ায় নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত কাজেম জালালি। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যে কোনো আলোচনা অবশ্যই দীর্ঘস্থায়ী শান্তির দিকে নিয়ে যেতে হবে। একই সঙ্গে এই আলোচনায় তেহরানের বৈধ অধিকার স্বীকৃতি, যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ এবং পুনরায় হামলা না করার নিশ্চয়তা থাকতে হবে।
১৮ ঘন্টা আগে
১৫ এপ্রিল ২০২৬, ১২:১১ এএম
আপনি কি মনে করেন বিএনপি জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর ও শব্দ বাস্তবায়ন করবে?

আপনি কি মনে করেন বিএনপি জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর ও শব্দ বাস্তবায়ন করবে?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ জন
হামের উপসর্গে আরও পাঁচ শিশুর মৃত্যু, নতুন রোগী শনাক্ত ১২৯

হামের উপসর্গে আরও পাঁচ শিশুর মৃত্যু, নতুন রোগী শনাক্ত ১২৯

হাম পরিস্থিতি নিয়ে দেশে উদ্বেগ কাটছেই না। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে এই সময়ে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। বুধবার স্বাস্থ্য অধিদফতরের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত তথ্য তুলে ধরা হয়।স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১২৯ জনের দেহে হাম শনাক্ত হয়েছে। এতে ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত মোট নিশ্চিত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৯৩৪ জনে। এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে ১ হাজার ২২৯ জনের মধ্যে হামের উপসর্গ দেখা গেছে। এ নিয়ে মোট সন্দেহজনক রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৭ হাজার ১৬৪ জনে।স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৩৮ জন। আর হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৯০ জনে। একই সময়ের মধ্যে হাম সন্দেহে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১৭ হাজার ৯৯৮ জন এবং চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১৪ হাজার ৮৯২ জন।
২২ এপ্রিল ২০২৬
আইএমএফের পূর্বাভাস, চলতি বছর মাথাপিছু জিডিপিতে ভারতকে ছাড়িয়ে যেতে পারে বাংলাদেশ

আইএমএফের পূর্বাভাস, চলতি বছর মাথাপিছু জিডিপিতে ভারতকে ছাড়িয়ে যেতে পারে বাংলাদেশ

চলতি বছর বর্তমান মূল্যে মাথাপিছু মোট দেশজ উৎপাদনের হিসেবে ভারতকে ছাড়িয়ে যেতে পারে বাংলাদেশ। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের সর্বশেষ প্রকাশিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক প্রতিবেদনে এমন পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০২৬ সালে বাংলাদেশের মাথাপিছু জিডিপি বেড়ে হবে ২ হাজার ৯১১ ডলার, যেখানে ভারতের ক্ষেত্রে তা হবে ২ হাজার ৮১২ ডলার। অংকের বিচারে এই পার্থক্য সামান্য হলেও এর প্রতীকী তাৎপর্য অনেক বেশি।আয়তনের দিক থেকে ভারতের অর্থনীতি বাংলাদেশের তুলনায় অনেক বড়। ২০২৫ সালের হিসাব অনুযায়ী, ভারতের ৩ হাজার ৯১৬ বিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি বাংলাদেশের ৪৫৮ বিলিয়ন ডলারের চেয়ে প্রায় আট গুণ বড়। কিন্তু মাথাপিছু আয়ের সূচকে ছোট প্রতিবেশী দেশটি ভারতের সঙ্গে সমানে সমান পাল্লা দিচ্ছে। বিশ্বব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ কৌশিক বসু এই ঘটনাকে বিস্ময়কর বলে অভিহিত করেছেন। ভারতীয় বিশ্লেষকদের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে, এটি কি বাংলাদেশের প্রকৃত অর্থনৈতিক অগ্রগতি নাকি শুধু হিসাবের কারসাজি।অর্থনীতিবিদদের মতে, এই পার্থক্যের পেছনে মূল কারণ মুদ্রার বিনিময় হার। আইএমএফের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, বর্তমান ডলারের হিসাবে ২০১৮ সাল থেকে পরবর্তী সাত বছর মাথাপিছু আয়ের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ভারতের চেয়ে এগিয়ে ছিল। তবে ২০২৫ সালে বাংলাদেশি টাকার মানে বড় ধরনের অবমূল্যায়নের ফলে ভারত ফের এগিয়ে যায়। অবশ্য এ ধরনের ঘটনা এবারই প্রথম নয়। ১৯৮৯ থেকে ২০০২ সালের মধ্যবর্তী সময়েও মাথাপিছু জিডিপিতে বাংলাদেশ ভারতের চেয়ে এগিয়ে ছিল। এরপর টানা প্রায় ১৫ বছর ভারত চালকের আসনে থাকলেও ২০১৮ সালে দেশটি বাংলাদেশের নিচে নেমে যায়। পরবর্তী সময়ে ডলারের বিপরীতে রুপির অবমূল্যায়ন এই তুলনামূলক সমীকরণকে আবারও ভারতের পক্ষে নিয়ে আসে।সাম্প্রতিক প্রাক্কলন অনুযায়ী, ২০২৬ সালে বাংলাদেশ মাথাপিছু আয়ে প্রায় ১০০ ডলারের ব্যবধানে ভারতের চেয়ে এগিয়ে যাবে। তবে আইএমএফ আশা করছে যে, ২০২৭ সালে ভারত আবারও শীর্ষস্থান ফিরে পাবে এবং অন্তত ২০৩১ সাল পর্যন্ত সেই অবস্থান ধরে রাখবে। এই সূচকটি কেন এত অস্থির বা পরিবর্তনশীল, তা বুঝতে গাণিতিক বিষয়টি বিবেচনা করা প্রয়োজন। প্রচলিত বিনিময় হারের ভিত্তিতে প্রতিটি দেশের উৎপাদনকে মার্কিন ডলারে রূপান্তর করে বর্তমান ডলার মূল্যে মাথাপিছু জিডিপি গণনা করা হয়। যখন কোনো মুদ্রার মান কমে যায়, যেমন সাম্প্রতিক বছরগুলোতে টাকা এবং রুপি উভয়ের ক্ষেত্রেই ঘটেছে, তখন অর্থনীতির উৎপাদনশীলতা যেমনই হোক না কেন, ডলারের মাপে উৎপাদনের মূল্য কমে আসে।২০২৬ সালে এই দুই রেখার একে অপরকে অতিক্রম করা একটি বাস্তব সত্যকেই তুলে ধরে যে বিনিময় হারের গতিপ্রকৃতি এই দুই অর্থনীতির ডলার আয়কে একে অপরের খুব কাছাকাছি নিয়ে এসেছে। তবে এটি এককভাবে নিশ্চিত করে না যে কোন দেশের মানুষ বেশি ভালো আছে। দ্বিতীয় আরেকটি পরিমাপ চিত্রটিকে বেশ জটিল করে তোলে। আইএমএফ ক্রয়ক্ষমতার সমতাভিত্তিক মাথাপিছু জিডিপিও প্রকাশ করে। এখানে বিনিময় হারের প্রভাব বাদ দেওয়া হয় ও প্রতিটি দেশের মুদ্রা নিজ দেশে আসলে কী পরিমাণ পণ্য বা সেবা কিনতে পারে, তার ভিত্তিতে একটি সাধারণ আন্তর্জাতিক ডলারে রূপান্তর করা হয়। এই পদ্ধতিতে দেখা যায় ভারত সব সময়ই বাংলাদেশের চেয়ে অনেকটা এগিয়ে। ২০২৫ সালে ভারতের পিপিপি-ভিত্তিক মাথাপিছু আয় ১১ হাজার ৭৮৯ ডলার, যা বাংলাদেশের ১০ হাজার ২৭১ ডলারের চেয়ে ১৫ শতাংশ বেশি। আইএমএফ বলছে, ২০৩১ সাল নাগাদ এই ব্যবধান বেড়ে ২৪ শতাংশ হতে পারে। অর্থাৎ পিপিপি অনুযায়ী তখন ভারতের মাথাপিছু আয় হবে ১৮ হাজার ৪৮৫ ডলার এবং বাংলাদেশের হবে ১৪ হাজার ৮৫৭ ডলার।
২৮ মার্চ ২০২৬
ব্যাংক রেজোলিউশন বিল পাস: পুরোনো শেয়ারধারীদের মালিকানায় ফেরার সুযোগ

ব্যাংক রেজোলিউশন বিল পাস: পুরোনো শেয়ারধারীদের মালিকানায় ফেরার সুযোগ

২৮ মার্চ ২০২৬
টেবিল টেনিসে বিশ্বখ্যাত খেলোয়াড়দের হারালো সনির তৈরি রোবট ‘এইস’

টেবিল টেনিসে বিশ্বখ্যাত খেলোয়াড়দের হারালো সনির তৈরি রোবট ‘এইস’

হাফ ম্যারাথন এবং বক্সিংয়ের পর এবার টেবিল টেনিসের ময়দানে যাত্রা শুরু করল জাপানের বহুজাতিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান সনির তৈরি রোবট। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও রোবোটিক্সের এক অভাবনীয় সাফল্যে টোকিওতে এইস নামের একটি স্বায়ত্তশাসিত পিং-পং রোবট বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় খেলোয়াড়দের মুখোমুখি হয়েছে এবং বেশ কয়েকটি ম্যাচে তাদের পরাজিত করে রীতিমতো তাক লাগিয়ে দিয়েছে। জাপানি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান সনির এআই রিসার্চ ডিভিশন এই রোবটটি তৈরি করেছে।প্রতিবেদন অনুযায়ী, এইস বিশ্বের প্রথম এমন একটি যন্ত্র যা কোনো প্রতিযোগিতামূলক শারীরিক খেলায় বিশেষজ্ঞ পর্যায়ে পারফর্ম করতে সক্ষম। শীর্ষস্থানীয় টেবিল টেনিস খেলোয়াড়দের বিরুদ্ধে পাঁচটি ম্যাচের মধ্যে তিনটিতেই জয়লাভ করেছে সনির তৈরি এই রোবটটি। এটির প্রজেক্ট লিডার জানিয়েছেন, রোবটটির এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে তিনটি মূল শক্তি। বলের গতিবিধি নিমেষের মধ্যে বুঝতে পারা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে খেলার কৌশল নির্ধারণ এবং মানুষের মতোই নিখুঁতভাবে শট দেওয়ার সক্ষমতা।বিশেষজ্ঞদের মতে, টেবিল টেনিসের এই সাফল্য কেবল একটি খেলার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এটি ভবিষ্যতে বিভিন্ন ক্ষেত্রে আরও উন্নত এবং সংবেদনশীল রোবোটিক সিস্টেম ব্যবহারের পথ প্রশস্ত করবে। যেখানে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং শারীরিক নিখুঁত কাজের প্রয়োজন, সেখানে এই প্রযুক্তি বিপ্লব ঘটাতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মত দিয়েছেন। সূত্র: সামা টিভি।
২২ ঘন্টা আগে
ষাট গম্বুজ মসজিদ

ষাট গম্বুজ মসজিদ

বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমের জেলা বাগেরহাট। সবুজ শ্যামলিমা আর নদী-খাল বেষ্টিত এই জনপদকে বিশ্বের দরবারে পরিচিতি এনে দিয়েছে একটি অনন্য স্থাপনা – ষাট গম্বুজ মসজিদ। ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী তিনটি স্থানের একটি এই মসজিদ মুসলিম স্থাপত্যের এক অপূর্ব নিদর্শন। যেখানে ইতিহাস, আধ্যাত্মিকতা আর নির্মাণকৌশলের মিলন ঘটেছে চুন-সুরকি আর পাথরের বাঁধনে।ইতিহাসের আঁধার আলো: কে, কবে, কেন?মসজিদটির গায়ে কোনো শিলালিপি নেই। তাই এটি কে নির্মাণ করেছিলেন বা কোন সময়ে নির্মিত হয়েছিল, তা নিয়ে সঠিক তথ্য পাওয়া যায় না। তবে স্থাপত্যশৈলী ঘেঁটে ইতিহাসবিদরা প্রায় নিশ্চিত – এ মসজিদ পীর খানজাহান আলী (রহ.)-এর হাতেই গড়ে উঠেছিল। ধারণা করা হয়, তিনি পঞ্চদশ শতাব্দীর মাঝামাঝি (আনুমানিক ১৪৪২-১৪৫৯ খ্রিস্টাব্দ, অনেকের মতে ১৫০০ শতাব্দীতে) এটি নির্মাণ করেন।সুলতান নাসিরউদ্দিন মাহমুদ শাহের আমলে খান-ই-জাহান সুন্দরবনের কোল ঘেঁষে ‘খলিফাতাবাদ’ রাজ্য গড়ে তোলেন। দরবার ও নামাজের জন্য তিনি একটি বিশাল হল নির্মাণের উদ্যোগ নেন, যা কালক্রমে ‘ষাট গম্বুজ মসজিদ’ নামে পরিচিতি পায়। জনশ্রুতি আছে, মসজিদের পাথর চট্টগ্রাম থেকে আনা হয়েছিল। আবার কেউ কেউ বলেন, ভারতের উড়িষ্যার রাজমহল থেকে অলৌকিক ক্ষমতাবলে জলপথে ভাসিয়ে আনা হয়েছিল। বাস্তবে পাথরগুলো রাজমহল থেকেই আনা – এ নিয়ে ঐতিহাসিকরা একমত।নামকরণের নানা কাহিনিমসজিদটির নাম নিয়েও আছে নানা মত।ষাট গম্বুজ কেন? সংস্কৃত ‘সাত’ ও ফারসি ‘ছাদ’ মিলে ‘ছাদ গম্বুজ’ থেকে কথ্যরূপে ‘ষাট গম্বুজ’ হয়েছে বলে এক মত।আবার অন্য মতে, মসজিদের ভেতরে ছয়টি সারিতে দশটি করে মোট ৬০টি পাথরের স্তম্ভ (খাম্বা) আছে। স্তম্ভের ওপর ছাদ নির্মিত, তাই ‘ষাট খাম্বা’ থেকে ‘ষাট গম্বুজ’।গম্বুজের প্রকৃত সংখ্যা: নাম ‘ষাট গম্বুজ’ হলেও আসলে এখানে গম্বুজ ৬০টি নয়। মূল ভবনে ১১টি সারিতে ৭৭টি গম্বুজ, চার কোণার মিনারের ওপর চারটি গম্বুজ – মোট ৮১টি গম্বুজ। ৭৭টির মধ্যে ৭৪টিই অর্ধগোলাকার, শুধু মাঝের সারির সাতটি দেখতে বাংলার চৌচালা ঘরের চালের মতো।তাই অনেক গবেষক মনে করেন, মসজিদটির আসল নাম হওয়া উচিত ছিল ‘ষাট স্তম্ভ মসজিদ’ – কারণ এখানে প্রধান আকর্ষণ সেই ৬০টি পাথরের স্তম্ভ।স্থাপত্যের অনন্য বুননষাট গম্বুজ মসজিদের স্থাপত্যশৈলীতে মিশেছে মধ্য এশিয়ার তুঘলক (তুরস্ক) ও জৌনপুরী ধারা, আবার রয়েছে স্থানীয় বাংলার ছোঁয়া।আকার ও পরিমাপবাইরের দিক: উত্তর-দক্ষিণে ১৬০ ফুট, পূর্ব-পশ্চিমে ১০৪ ফুট।ভেতরের দিক: উত্তর-দক্ষিণে ১৪৩ ফুট, পূর্ব-পশ্চিমে ৮৮ ফুট।দেয়ালের পুরুত্ব: প্রায় ৮.৫ ফুট। ইটের তৈরি এসব দেয়াল অসাধারণ মজবুত।দরজা ও জানালাপূর্ব দেয়ালে ১১টি খিলানযুক্ত দরজা – মাঝেরটি সবচেয়ে বড়।উত্তর ও দক্ষিণ দেয়ালে ৭টি করে মোট ১৪টি দরজা।এই অসংখ্য দরজা আলো ও বাতাস চলাচলের জন্য তৈরি, তবু ভেতরের দিকটা কিছুটা অন্ধকারাচ্ছন্ন – যা উপাসনার গাম্ভীর্য বাড়ায়।মিনার ও কোঠাচার কোণে চারটি গোলাকার মিনার। এদের চূড়ায় ছোট গম্বুজ। ছাদের কার্নিশের চেয়ে মিনারগুলো কিছুটা উঁচু। সামনের দিকের দুটি মিনারের ভেতর প্যাঁচানো সিঁড়ি – একসময় এখান থেকে আজান দেওয়া হতো।রওশন কোঠা: দক্ষিণ-পূর্ব কোণের বুরুজ – আলো-বাতাসে ভরা।আন্ধার কোঠা: উত্তর-পূর্ব কোণের বুরুজ – তুলনামূলক অন্ধকার।ভেতরের স্তম্ভ ও গম্বুজের জঙ্গলভেতরে ৬০টি পাথরের স্তম্ভ – উত্তর থেকে দক্ষিণে ছয় সারিতে, প্রতিসারিতে দশটি করে। প্রতিটি স্তম্ভ পাথর কেটে বানানো, তবে পাঁচটি স্তম্ভ পরে ইট দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। এই স্তম্ভের ওপর ভর করেই গম্বুজগুলো দাঁড়িয়ে। এক কথায়, এটি খিলান-স্তম্ভ-গম্বুজের এক বিস্ময়কর সমন্বয়।মিহরাব ও মিম্বারপশ্চিম দেয়ালে ১০টি মিহরাব। মাঝের মিহরাবটি সবচেয়ে বড় ও কারুকার্যপূর্ণ। এর দক্ষিণে ৫টি, উত্তরে ৪টি মিহরাব। উত্তরে যেখানে একটি মিহরাব থাকার কথা, সেখানে রয়েছে একটি ছোট দরজা – অনেকে মনে করেন, এটি খানজাহান আলীর দরবার হলের প্রবেশপথ ছিল। ইমামের বসার জন্য রয়েছে পাথরের মিম্বার।রডবিহীন নির্মাণসবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো – এই মসজিদে কোনো লোহার রড ব্যবহার করা হয়নি। শুধু চুন, সুরকি, কালো পাথর ও ছোট ইট দিয়ে তৈরি এই কাঠামো প্রায় ৬০০ বছর ধরে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে।ইউনেস্কোর স্বীকৃতি ও বর্তমান অবস্থা১৯৮৩ সালে (অনেক সূত্রে ১৯৮৫) ইউনেস্কো বাগেরহাট শহরটিকেই ‘ঐতিহাসিক মসজিদ শহর’ হিসেবে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের মর্যাদা দেয়। আর এই মর্যাদার কেন্দ্রবিন্দু হলো ষাট গম্বুজ মসজিদ।বর্তমানে মসজিদটি বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর ও ইউনেস্কোর যৌথ তত্ত্বাবধানে সংরক্ষিত। এখনো এখানে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামাতের সাথে আদায় করা হয়। একসঙ্গে মসজিদের ভেতরে প্রায় দুই হাজার মুসল্লি নামাজ পড়তে পারেন।ভ্রমণ তথ্য: কখন, কীভাবে, কত টাকা?প্রবেশ ফিদেশি পর্যটক: ৩০ টাকা (অনেক সূত্রে ২০ টাকাও উল্লেখ আছে – বর্তমানে ৩০ টাকাই বেশি প্রচলিত)মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষার্থী: ১০ টাকাসার্কভুক্ত দেশের নাগরিক: ২০০ টাকাঅন্যান্য বিদেশি: ৫০০ টাকাশিশু (০-১০ বছর) ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী: বিনামূল্যেঅনলাইন টিকেট: চাইলে myGOV ওয়েবসাইট থেকে কিউআর কোডযুক্ত টিকেট কেটে নিতে পারেন।খোলা ও বন্ধের সময়গ্রীষ্মকাল (গরমকাল): সকাল ১০টা – সন্ধ্যা ৬টাশীতকাল: সকাল ৯টা – বিকেল ৫টামধ্যাহ্ন বিরতি: দুপুর ১টা – ১টা ৩০ মিনিট (উভয় মৌসুমে)শুক্রবার বিশেষ বন্ধ: জুমার নামাজের জন্য দুপুর ১২টা ৩০ মিনিট – বিকেল ৩টা ৩০ মিনিটসাপ্তাহিক ছুটি: রোববার সারাদিন বন্ধ (সোমবার দুপুর ২টা থেকে খোলে)টিপস: নামাজের সময় (ফজর, যোহর, আসর, মাগরিব, এশা) স্থানীয় মুসল্লিরা প্রবেশ করতে পারেন বিনামূল্যে। তবে পর্যটকদের নির্ধারিত সময় ও টিকিট মেনে চলতে হবে।মসজিদ চত্বরে জাদুঘরপ্রধান ফটকের ডান পাশে বাগেরহাট জাদুঘর। এখানে খানজাহান আমলের প্রাচীন মুদ্রা, পোড়ামাটির ফলক, অসংখ্য প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন – এমনকি খানজাহানের দিঘির ঐতিহ্যবাহী ‘কালা পাহাড়’ ও ‘ধলা পাহাড়’ কুমিরের মমি সংরক্ষিত আছে।জাদুঘরের সময়: গ্রীষ্মে সকাল ১০টা – সন্ধ্যা ৬টা, শীতে সকাল ৯টা – বিকেল ৫টা।মধ্যাহ্ন বিরতি: দুপুর ১টা – দেড়টা।ছুটি: রোববার সারাদিন।একই টিকিটে জাদুঘর ও মসজিদ কমপ্লেক্স ঘুরতে পারবেন।যাতায়াত: ঢাকা থেকে বাগেরহাটবাসেঢাকার সায়দাবাদ ও গাবতলী বাস টার্মিনাল থেকে নিয়মিত বাস ছাড়ে। উল্লেখযোগ্য পরিবহন: মেঘনা, বনফুল, ফাল্গুনী, আরা, পর্যটক, বলেশ্বর, হামিম, দোলা, সোহাগ, শাকুরা, হানিফ, কমফোর্ট লাইন, ঈগল।ভাড়া: ৬৫০-৮০০ টাকা (প্রতি জন)।সময়: সকাল ৬টা-১০টা এবং সন্ধ্যা ৭টা-রাত ১০টা পর্যন্ত ছাড়ে।বাগেরহাট বাসস্ট্যান্ড নেমে রিকশা বা সিএনজি নিলে ৩০-৪০ টাকায় পৌঁছে যাবেন ষাট গম্বুজ মসজিদে (সুন্দরঘোনা গ্রাম, খুলনা-বাগেরহাট মহাসড়কের উত্তর পাশে)।ট্রেনেঢাকা থেকে সুন্দরবন এক্সপ্রেস খুলগামী ট্রেনে খুলনা যান। সেখান থেকে বাস বা সিএনজিতে বাগেরহাট (সময় লাগে ১-১.৫ ঘণ্টা)।কোথায় থাকবেন?বাগেরহাটে তেমন বিলাসবহুল হোটেল নেই, তবে মাঝারি মানের থাকার জায়গা আছে।রেল রোডে মমতাজ হোটেল – সুযোগ-সুবিধা কম, কিন্তু সেবা ভালো। খরচ তুলনামূলক বেশি।খান জাহান আলীর মাজারের সামনে হোটেল অভি – মেইন হাইওয়েতে অবস্থিত।কেন্দ্রীয় বাসস্টেশন সংলগ্ন হোটেল আল আমিন এবং কর্মকার পট্টিতে হোটেল মোহনা।খুলনা খুব কাছে বলে চাইলে খুলনা গিয়েও রাত কাটাতে পারেন।খাওয়ার ব্যবস্থাবাসস্ট্যান্ড ও দরগার আশপাশে কয়েকটি মোটামুটি মানের হোটেল আছে। তবে দাম ও মান সম্পর্কে আগে জেনে নেওয়া ভালো। স্থানীয় মাছ ও ভাত খেতে পারেন – বাগেরহাটের ইলিশ বেশ有名।দক্ষিণাঞ্চলের সর্ববৃহৎ ঈদের জামাতষাট গম্বুজ মসজিদ শুধু একটি পর্যটন কেন্দ্র নয় – এটি জীবন্ত একটি উপাসনালয়। প্রতি ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহায় এখানে দেশ-বিদেশের প্রায় অর্ধলাখ মুসল্লি জড়ো হন। এটি দক্ষিণাঞ্চলের সর্ববৃহৎ ঈদের জামাত। রমজান মাসে দুই হাফেজ খতম তারাবির নামাজ পড়ান এবং মুসল্লিদের জন্য ইফতারের ব্যবস্থা থাকে।আশপাশের দর্শনীয় স্থানমসজিদ ঘুরে সময় থাকলে আরও কয়েকটি স্থান দেখতে পারেন:বিবি বেগনির মসজিদ (৫০০ মিটার পেছনে) – ফুলের কারুকার্যময়।চুনাখোলা মসজিদ (বিবি বেগনির আরও ৫০০ মিটার পেছনে)।সিঙ্গাইর মসজিদ (মহাসড়কের পাশে)।নয় গম্বুজ মসজিদখান জাহান আলীর মাজারঘোড়া দিঘি ও রণবিজয়পুর দিঘিমোংলা বন্দর (চাইলে সুন্দরবন যাতায়াতের গেটওয়ে)।ভ্রমণে যা মেনে চলবেনহালকা ও আরামদায়ক পোশাক পরুন – সুতির কাপড় উত্তম।পর্যাপ্ত পানি, বিস্কুট, মুড়ি, চিড়া ইত্যাদি সঙ্গে রাখুন।মোবাইলের চার্জার ও পাওয়ার ব্যাংক নিতে ভুলবেন না।জ্বর, সর্দি, গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ ও স্যালাইন রাখুন।মসজিদে প্রবেশের আগে জুতা বাইরে রেখে পায়ে মোজা পরে প্রবেশ করুন।নামাজরত মুসল্লিদের বিরক্ত করবেন না। নির্ধারিত পর্যটক এলাকায় ঘুরুন।টিকিট কাটার পর জাদুঘর দেখতে ভুলবেন না – এটি একই ফিতে।শেষকথাষাট গম্বুজ মসজিদ শুধু পাথর-চুন-সুরকির গাঁথনি নয়; এটি বাংলার ইতিহাস, সংস্কৃতি ও মুসলিম স্থাপত্যের এক জীবন্ত দলিল। এখানে দাঁড়ালে সময় থমকে দাঁড়ায়। শুনতে পাবেন খানজাহানের আজানের প্রতিধ্বনি, দেখতে পাবেন অর্ধগোলাকার গম্বুজের সারি মেঘ ছুঁতে চায়।আপনিও একবার চলে আসুন বাগেরহাটে। ষাট গম্বুজের ছায়ায় দাঁড়ান। ইতিহাসের স্পর্শ নিন। আর এই অসাধারণ স্থাপত্যের সাক্ষী হয়ে ফিরে আসুন – নতুন এক অভিজ্ঞতা নিয়ে।
২৮ মার্চ ২০২৬
ষাট গম্বুজ মসজিদ

ষাট গম্বুজ মসজিদ

বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমের জেলা বাগেরহাট। সবুজ শ্যামলিমা আর নদী-খাল বেষ্টিত এই জনপদকে বিশ্বের দরবারে পরিচিতি এনে দিয়েছে একটি অনন্য স্থাপনা – ষাট গম্বুজ মসজিদ। ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী তিনটি স্থানের একটি এই মসজিদ মুসলিম স্থাপত্যের এক অপূর্ব নিদর্শন। যেখানে ইতিহাস, আধ্যাত্মিকতা আর নির্মাণকৌশলের মিলন ঘটেছে চুন-সুরকি আর পাথরের বাঁধনে।ইতিহাসের আঁধার আলো: কে, কবে, কেন?মসজিদটির গায়ে কোনো শিলালিপি নেই। তাই এটি কে নির্মাণ করেছিলেন বা কোন সময়ে নির্মিত হয়েছিল, তা নিয়ে সঠিক তথ্য পাওয়া যায় না। তবে স্থাপত্যশৈলী ঘেঁটে ইতিহাসবিদরা প্রায় নিশ্চিত – এ মসজিদ পীর খানজাহান আলী (রহ.)-এর হাতেই গড়ে উঠেছিল। ধারণা করা হয়, তিনি পঞ্চদশ শতাব্দীর মাঝামাঝি (আনুমানিক ১৪৪২-১৪৫৯ খ্রিস্টাব্দ, অনেকের মতে ১৫০০ শতাব্দীতে) এটি নির্মাণ করেন।সুলতান নাসিরউদ্দিন মাহমুদ শাহের আমলে খান-ই-জাহান সুন্দরবনের কোল ঘেঁষে ‘খলিফাতাবাদ’ রাজ্য গড়ে তোলেন। দরবার ও নামাজের জন্য তিনি একটি বিশাল হল নির্মাণের উদ্যোগ নেন, যা কালক্রমে ‘ষাট গম্বুজ মসজিদ’ নামে পরিচিতি পায়। জনশ্রুতি আছে, মসজিদের পাথর চট্টগ্রাম থেকে আনা হয়েছিল। আবার কেউ কেউ বলেন, ভারতের উড়িষ্যার রাজমহল থেকে অলৌকিক ক্ষমতাবলে জলপথে ভাসিয়ে আনা হয়েছিল। বাস্তবে পাথরগুলো রাজমহল থেকেই আনা – এ নিয়ে ঐতিহাসিকরা একমত।নামকরণের নানা কাহিনিমসজিদটির নাম নিয়েও আছে নানা মত।ষাট গম্বুজ কেন? সংস্কৃত ‘সাত’ ও ফারসি ‘ছাদ’ মিলে ‘ছাদ গম্বুজ’ থেকে কথ্যরূপে ‘ষাট গম্বুজ’ হয়েছে বলে এক মত।আবার অন্য মতে, মসজিদের ভেতরে ছয়টি সারিতে দশটি করে মোট ৬০টি পাথরের স্তম্ভ (খাম্বা) আছে। স্তম্ভের ওপর ছাদ নির্মিত, তাই ‘ষাট খাম্বা’ থেকে ‘ষাট গম্বুজ’।গম্বুজের প্রকৃত সংখ্যা: নাম ‘ষাট গম্বুজ’ হলেও আসলে এখানে গম্বুজ ৬০টি নয়। মূল ভবনে ১১টি সারিতে ৭৭টি গম্বুজ, চার কোণার মিনারের ওপর চারটি গম্বুজ – মোট ৮১টি গম্বুজ। ৭৭টির মধ্যে ৭৪টিই অর্ধগোলাকার, শুধু মাঝের সারির সাতটি দেখতে বাংলার চৌচালা ঘরের চালের মতো।তাই অনেক গবেষক মনে করেন, মসজিদটির আসল নাম হওয়া উচিত ছিল ‘ষাট স্তম্ভ মসজিদ’ – কারণ এখানে প্রধান আকর্ষণ সেই ৬০টি পাথরের স্তম্ভ।স্থাপত্যের অনন্য বুননষাট গম্বুজ মসজিদের স্থাপত্যশৈলীতে মিশেছে মধ্য এশিয়ার তুঘলক (তুরস্ক) ও জৌনপুরী ধারা, আবার রয়েছে স্থানীয় বাংলার ছোঁয়া।আকার ও পরিমাপবাইরের দিক: উত্তর-দক্ষিণে ১৬০ ফুট, পূর্ব-পশ্চিমে ১০৪ ফুট।ভেতরের দিক: উত্তর-দক্ষিণে ১৪৩ ফুট, পূর্ব-পশ্চিমে ৮৮ ফুট।দেয়ালের পুরুত্ব: প্রায় ৮.৫ ফুট। ইটের তৈরি এসব দেয়াল অসাধারণ মজবুত।দরজা ও জানালাপূর্ব দেয়ালে ১১টি খিলানযুক্ত দরজা – মাঝেরটি সবচেয়ে বড়।উত্তর ও দক্ষিণ দেয়ালে ৭টি করে মোট ১৪টি দরজা।এই অসংখ্য দরজা আলো ও বাতাস চলাচলের জন্য তৈরি, তবু ভেতরের দিকটা কিছুটা অন্ধকারাচ্ছন্ন – যা উপাসনার গাম্ভীর্য বাড়ায়।মিনার ও কোঠাচার কোণে চারটি গোলাকার মিনার। এদের চূড়ায় ছোট গম্বুজ। ছাদের কার্নিশের চেয়ে মিনারগুলো কিছুটা উঁচু। সামনের দিকের দুটি মিনারের ভেতর প্যাঁচানো সিঁড়ি – একসময় এখান থেকে আজান দেওয়া হতো।রওশন কোঠা: দক্ষিণ-পূর্ব কোণের বুরুজ – আলো-বাতাসে ভরা।আন্ধার কোঠা: উত্তর-পূর্ব কোণের বুরুজ – তুলনামূলক অন্ধকার।ভেতরের স্তম্ভ ও গম্বুজের জঙ্গলভেতরে ৬০টি পাথরের স্তম্ভ – উত্তর থেকে দক্ষিণে ছয় সারিতে, প্রতিসারিতে দশটি করে। প্রতিটি স্তম্ভ পাথর কেটে বানানো, তবে পাঁচটি স্তম্ভ পরে ইট দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। এই স্তম্ভের ওপর ভর করেই গম্বুজগুলো দাঁড়িয়ে। এক কথায়, এটি খিলান-স্তম্ভ-গম্বুজের এক বিস্ময়কর সমন্বয়।মিহরাব ও মিম্বারপশ্চিম দেয়ালে ১০টি মিহরাব। মাঝের মিহরাবটি সবচেয়ে বড় ও কারুকার্যপূর্ণ। এর দক্ষিণে ৫টি, উত্তরে ৪টি মিহরাব। উত্তরে যেখানে একটি মিহরাব থাকার কথা, সেখানে রয়েছে একটি ছোট দরজা – অনেকে মনে করেন, এটি খানজাহান আলীর দরবার হলের প্রবেশপথ ছিল। ইমামের বসার জন্য রয়েছে পাথরের মিম্বার।রডবিহীন নির্মাণসবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো – এই মসজিদে কোনো লোহার রড ব্যবহার করা হয়নি। শুধু চুন, সুরকি, কালো পাথর ও ছোট ইট দিয়ে তৈরি এই কাঠামো প্রায় ৬০০ বছর ধরে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে।ইউনেস্কোর স্বীকৃতি ও বর্তমান অবস্থা১৯৮৩ সালে (অনেক সূত্রে ১৯৮৫) ইউনেস্কো বাগেরহাট শহরটিকেই ‘ঐতিহাসিক মসজিদ শহর’ হিসেবে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের মর্যাদা দেয়। আর এই মর্যাদার কেন্দ্রবিন্দু হলো ষাট গম্বুজ মসজিদ।বর্তমানে মসজিদটি বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর ও ইউনেস্কোর যৌথ তত্ত্বাবধানে সংরক্ষিত। এখনো এখানে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামাতের সাথে আদায় করা হয়। একসঙ্গে মসজিদের ভেতরে প্রায় দুই হাজার মুসল্লি নামাজ পড়তে পারেন।ভ্রমণ তথ্য: কখন, কীভাবে, কত টাকা?প্রবেশ ফিদেশি পর্যটক: ৩০ টাকা (অনেক সূত্রে ২০ টাকাও উল্লেখ আছে – বর্তমানে ৩০ টাকাই বেশি প্রচলিত)মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষার্থী: ১০ টাকাসার্কভুক্ত দেশের নাগরিক: ২০০ টাকাঅন্যান্য বিদেশি: ৫০০ টাকাশিশু (০-১০ বছর) ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী: বিনামূল্যেঅনলাইন টিকেট: চাইলে myGOV ওয়েবসাইট থেকে কিউআর কোডযুক্ত টিকেট কেটে নিতে পারেন।খোলা ও বন্ধের সময়গ্রীষ্মকাল (গরমকাল): সকাল ১০টা – সন্ধ্যা ৬টাশীতকাল: সকাল ৯টা – বিকেল ৫টামধ্যাহ্ন বিরতি: দুপুর ১টা – ১টা ৩০ মিনিট (উভয় মৌসুমে)শুক্রবার বিশেষ বন্ধ: জুমার নামাজের জন্য দুপুর ১২টা ৩০ মিনিট – বিকেল ৩টা ৩০ মিনিটসাপ্তাহিক ছুটি: রোববার সারাদিন বন্ধ (সোমবার দুপুর ২টা থেকে খোলে)টিপস: নামাজের সময় (ফজর, যোহর, আসর, মাগরিব, এশা) স্থানীয় মুসল্লিরা প্রবেশ করতে পারেন বিনামূল্যে। তবে পর্যটকদের নির্ধারিত সময় ও টিকিট মেনে চলতে হবে।মসজিদ চত্বরে জাদুঘরপ্রধান ফটকের ডান পাশে বাগেরহাট জাদুঘর। এখানে খানজাহান আমলের প্রাচীন মুদ্রা, পোড়ামাটির ফলক, অসংখ্য প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন – এমনকি খানজাহানের দিঘির ঐতিহ্যবাহী ‘কালা পাহাড়’ ও ‘ধলা পাহাড়’ কুমিরের মমি সংরক্ষিত আছে।জাদুঘরের সময়: গ্রীষ্মে সকাল ১০টা – সন্ধ্যা ৬টা, শীতে সকাল ৯টা – বিকেল ৫টা।মধ্যাহ্ন বিরতি: দুপুর ১টা – দেড়টা।ছুটি: রোববার সারাদিন।একই টিকিটে জাদুঘর ও মসজিদ কমপ্লেক্স ঘুরতে পারবেন।যাতায়াত: ঢাকা থেকে বাগেরহাটবাসেঢাকার সায়দাবাদ ও গাবতলী বাস টার্মিনাল থেকে নিয়মিত বাস ছাড়ে। উল্লেখযোগ্য পরিবহন: মেঘনা, বনফুল, ফাল্গুনী, আরা, পর্যটক, বলেশ্বর, হামিম, দোলা, সোহাগ, শাকুরা, হানিফ, কমফোর্ট লাইন, ঈগল।ভাড়া: ৬৫০-৮০০ টাকা (প্রতি জন)।সময়: সকাল ৬টা-১০টা এবং সন্ধ্যা ৭টা-রাত ১০টা পর্যন্ত ছাড়ে।বাগেরহাট বাসস্ট্যান্ড নেমে রিকশা বা সিএনজি নিলে ৩০-৪০ টাকায় পৌঁছে যাবেন ষাট গম্বুজ মসজিদে (সুন্দরঘোনা গ্রাম, খুলনা-বাগেরহাট মহাসড়কের উত্তর পাশে)।ট্রেনেঢাকা থেকে সুন্দরবন এক্সপ্রেস খুলগামী ট্রেনে খুলনা যান। সেখান থেকে বাস বা সিএনজিতে বাগেরহাট (সময় লাগে ১-১.৫ ঘণ্টা)।কোথায় থাকবেন?বাগেরহাটে তেমন বিলাসবহুল হোটেল নেই, তবে মাঝারি মানের থাকার জায়গা আছে।রেল রোডে মমতাজ হোটেল – সুযোগ-সুবিধা কম, কিন্তু সেবা ভালো। খরচ তুলনামূলক বেশি।খান জাহান আলীর মাজারের সামনে হোটেল অভি – মেইন হাইওয়েতে অবস্থিত।কেন্দ্রীয় বাসস্টেশন সংলগ্ন হোটেল আল আমিন এবং কর্মকার পট্টিতে হোটেল মোহনা।খুলনা খুব কাছে বলে চাইলে খুলনা গিয়েও রাত কাটাতে পারেন।খাওয়ার ব্যবস্থাবাসস্ট্যান্ড ও দরগার আশপাশে কয়েকটি মোটামুটি মানের হোটেল আছে। তবে দাম ও মান সম্পর্কে আগে জেনে নেওয়া ভালো। স্থানীয় মাছ ও ভাত খেতে পারেন – বাগেরহাটের ইলিশ বেশ有名।দক্ষিণাঞ্চলের সর্ববৃহৎ ঈদের জামাতষাট গম্বুজ মসজিদ শুধু একটি পর্যটন কেন্দ্র নয় – এটি জীবন্ত একটি উপাসনালয়। প্রতি ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহায় এখানে দেশ-বিদেশের প্রায় অর্ধলাখ মুসল্লি জড়ো হন। এটি দক্ষিণাঞ্চলের সর্ববৃহৎ ঈদের জামাত। রমজান মাসে দুই হাফেজ খতম তারাবির নামাজ পড়ান এবং মুসল্লিদের জন্য ইফতারের ব্যবস্থা থাকে।আশপাশের দর্শনীয় স্থানমসজিদ ঘুরে সময় থাকলে আরও কয়েকটি স্থান দেখতে পারেন:বিবি বেগনির মসজিদ (৫০০ মিটার পেছনে) – ফুলের কারুকার্যময়।চুনাখোলা মসজিদ (বিবি বেগনির আরও ৫০০ মিটার পেছনে)।সিঙ্গাইর মসজিদ (মহাসড়কের পাশে)।নয় গম্বুজ মসজিদখান জাহান আলীর মাজারঘোড়া দিঘি ও রণবিজয়পুর দিঘিমোংলা বন্দর (চাইলে সুন্দরবন যাতায়াতের গেটওয়ে)।ভ্রমণে যা মেনে চলবেনহালকা ও আরামদায়ক পোশাক পরুন – সুতির কাপড় উত্তম।পর্যাপ্ত পানি, বিস্কুট, মুড়ি, চিড়া ইত্যাদি সঙ্গে রাখুন।মোবাইলের চার্জার ও পাওয়ার ব্যাংক নিতে ভুলবেন না।জ্বর, সর্দি, গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ ও স্যালাইন রাখুন।মসজিদে প্রবেশের আগে জুতা বাইরে রেখে পায়ে মোজা পরে প্রবেশ করুন।নামাজরত মুসল্লিদের বিরক্ত করবেন না। নির্ধারিত পর্যটক এলাকায় ঘুরুন।টিকিট কাটার পর জাদুঘর দেখতে ভুলবেন না – এটি একই ফিতে।শেষকথাষাট গম্বুজ মসজিদ শুধু পাথর-চুন-সুরকির গাঁথনি নয়; এটি বাংলার ইতিহাস, সংস্কৃতি ও মুসলিম স্থাপত্যের এক জীবন্ত দলিল। এখানে দাঁড়ালে সময় থমকে দাঁড়ায়। শুনতে পাবেন খানজাহানের আজানের প্রতিধ্বনি, দেখতে পাবেন অর্ধগোলাকার গম্বুজের সারি মেঘ ছুঁতে চায়।আপনিও একবার চলে আসুন বাগেরহাটে। ষাট গম্বুজের ছায়ায় দাঁড়ান। ইতিহাসের স্পর্শ নিন। আর এই অসাধারণ স্থাপত্যের সাক্ষী হয়ে ফিরে আসুন – নতুন এক অভিজ্ঞতা নিয়ে।
গণবার্তা ফিচার