ঢাকা    রোববার, ২৬ জুলাই ২০২৬
ঢাকা    রোববার, ২৬ জুলাই ২০২৬
গণবার্তা
সর্বশেষ

অস্ত্র কেড়ে নিয়ে দুই দখলদার ইসরায়েলি সেনাকে হত্যা করলো এক বীর ফিলিস্তিনি

ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিমতীরের 'তেল' গ্রামে দখলদার ইসরায়েলের অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের গুলিতে চার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনার পরপরই এক ফিলিস্তিনি বীর দখলদার ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের কাছ থেকে অস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে দুই সেনাকে হত্যা করে।এই সংঘাতের পর শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাতভর সমগ্র পশ্চিমতীরজুড়ে ব্যাপক তাণ্ডব ও অভিযান চালিয়েছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। অভিযানের নামে বিভিন্ন এলাকা থেকে ৭০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনিকে আটক করা হয়েছে। এছাড়া জিজ্ঞাসাবাদের অজুহাতে আরও কয়েকশ সাধারণ মানুষকে চরম হেনস্তা করা হয়েছে বলে জানা গেছে।ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর দাবি, তারা যাদের আটক করেছে তারা সবাই আন্তর্জাতিকভাবে কিংবা স্থানীয়ভাবে 'ওয়ান্টেড' ছিল এবং ফিলিস্তিনভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসসহ অন্যান্য স্বাধীনতাকামী সংগঠনের সঙ্গে তাদের প্রত্যক্ষ সংযোগ রয়েছে। সেনাবাহিনী আরও নিশ্চিত করেছে যে, তেল গ্রামে অবৈধ সেটেলারদের রক্তক্ষয়ী ঘটনার পর সেখান থেকেই ১১ জন ফিলিস্তিনিকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং প্রায় ৮০ জনের বেশি মানুষকে ধরে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।অন্যদিকে, পশ্চিমতীরের জেনিন এলাকায় প্রায় ৩০০টিরও বেশি স্থান বা সাইটে একযোগে অভিযান চালায় ইসরায়েলি সেনাসদস্যরা। সেখান থেকেও বেশ কয়েকজন ফিলিস্তিনিকে আটক করা হয়েছে। ইসরায়েলি বাহিনীর দাবি, আটককৃতরা বিস্ফোরক দ্রব্য দিয়ে হামলা চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিল। তবে এই দাবির সপক্ষে কোনো বাস্তব প্রমাণ বা তথ্য প্রকাশ করতে পারেনি দখলদার বাহিনী।ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে ইসরায়েলের এই সহিংসতা বন্ধে হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে। জাতিসংঘও পশ্চিমতীরে সহিংসতা বৃদ্ধির বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং উভয় পক্ষকে সংযত থাকার আহ্বান জানিয়েছে।সূত্র: দ্য টাইমস অব ইসরায়েল
৩ ঘন্টা আগে

শাহজালাল বিমানবন্দরে আবারও আগুন, ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিস

ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ৮ নম্বর গেটসংলগ্ন (কার্গো ভিলেজের পাশে) এলাকায় ফের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। তবে আগুনের তীব্রতা বাড়ার আগেই বিমানবন্দরে থাকা ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।শনিবার (২৫ জুলাই) রাত ৯টা ২০ মিনিটের দিকে বিমানবন্দরের ৮ নম্বর গেটসংলগ্ন কার্গো এলাকায় এই আগুনের সূত্রপাত হয়।ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের কর্তব্যরত কর্মকর্তা রাশেদ বিন খালেদ বলেন, 'রাত সাড়ে ৯টার দিকে আগুনের সূত্রপাত হয়। বিমানবন্দরে থাকা ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আগুনের ধোঁয়া দেখতে পেয়ে দ্রুত সেখানে গিয়ে আগুন নিভিয়ে ফেলে। বড় কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। ঘটনাস্থলে দুটি ইউনিট গিয়ে আগুনের কোনো অস্তিত্ব পায়নি। তবে কার্গো ভিলেজের পাশে একটি ময়লার স্তুপে ধোঁয়া দেখা যায়। সেখানে দুটি ইউনিট কাজ করছে।'তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে জানা যায়নি এই ধোঁয়ার সৃষ্টি কীভাবে হয়েছে। তাদের টিমের কাজ শেষ হলে ও প্রতিবেদন পেলে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।এর আগে, গত বছর ১৮ অক্টোবর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে আমদানি করা বিপুল পরিমাণ মালামাল পুড়ে যায়। এ ছাড়া চলতি বছরের ৫ জুন বিমানবন্দরের ৯ নম্বর গেটসংলগ্ন কুরিয়ার শেডেও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। সে সময় বিমানবন্দরের নিজস্ব ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের একাধিক ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে।বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অগ্নিকাণ্ডের সঠিক কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক গোলযোগ কিংবা ময়লার স্তুপে আগুন জ্বলার ঘটনা থাকতে পারে। তবে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই বলে জানিয়েছে বিমানবন্দর প্রশাসন।
৩ ঘন্টা আগে

১৮ জনের মধ্যে ১২ রাষ্ট্রপতিই মেয়াদ শেষ করতে পারেননি

শারীরিক অসুস্থতার কারণ দর্শিয়ে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির পদ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সরে দাঁড়িয়েছেন মো. সাহাবুদ্দিন। শুক্রবার (২৪ জুলাই) জাতীয় সংসদের স্পিকারের নিকট নিজের পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার মাধ্যমে পদটির দাপ্তরিক সমাপ্তি টানেন তিনি। দায়িত্ব থেকে বিদায় নেওয়ার পাশাপাশি দেশের প্রায় সাড়ে পাঁচ দশকের সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি সম্পূর্ণ ব্যতিক্রমী ও অনন্য নজির স্থাপন করে গেছেন সাবেক এই রাষ্ট্রপ্রধান।বাংলাদেশের ইতিহাসে তিনিই একমাত্র রাষ্ট্রপতি, যিনি নিজের একটিমাত্র নির্দিষ্ট মেয়াদকালের মধ্যেই মোট তিনজন পৃথক সরকারপ্রধানের অধীনে রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০২৩ সালে ক্ষমতায় আসীন হওয়ার পর তিনি প্রথমে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের সাথে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সময়ও রাষ্ট্রপ্রধানের পদে বহাল ছিলেন। এবং সর্বশেষ সরকার গঠনের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের আমলেও রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব সামলেছেন তিনি।মো. সাহাবুদ্দিনের এই আকস্মিক পদত্যাগের ঘটনার পর দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে একটি প্রশ্ন জোরালো হয়ে উঠেছে—বাংলাদেশের ইতিহাসে এ পর্যন্ত কতজন রাষ্ট্রপতি তাদের নির্ধারিত পূর্ণ মেয়াদ শেষ করতে পারেননি?বাংলাদেশের স্বাধীনতা-পরবর্তী রাজনৈতিক ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, সামরিক অভ্যুত্থান, রাজনৈতিক চরম অস্থিরতা, রাষ্ট্রপ্রধান হত্যাকাণ্ড, তীব্র গণআন্দোলন এবং সাংবিধানিক সংকটের ধারাবাহিকতায় রাষ্ট্রপতির পদটি বহুবার চরম অনিশ্চয়তার সম্মুখীন হয়েছে। স্বাধীন বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ, ভারপ্রাপ্ত কিংবা অস্থায়ী দায়িত্বপ্রাপ্ত মিলিয়ে সর্বমোট ১৮ জন ব্যক্তি রাষ্ট্রপতির আসন অলঙ্কৃত করেছেন। তবে অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, তাদের মধ্যে ১২ জনই তাদের নির্ধারিত মেয়াদের পূর্ণ সময়সীমা শেষ করতে সক্ষম হননি। সর্বশেষ মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করায় অসম্পূর্ণ মেয়াদের এই দীর্ঘ তালিকায় নতুন একটি নাম অন্তর্ভুক্ত হলো।১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে দূরদর্শী রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে রাষ্ট্রপ্রধান ঘোষণা করা হলেও, তিনি তৎকালীন পাকিস্তানে কারাবন্দি থাকায় ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেছিলেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম। স্বাধীনতার পর রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করা আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ব্যক্তিত্ব বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী ১৯৭৩ সালে পদত্যাগ করেন। পরবর্তীতে দায়িত্ব গ্রহণ করা মোহাম্মদউল্লাহর মেয়াদকাল বাকশাল প্রবর্তনের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে সমাপ্তি ঘটে।১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সপরিবারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হলে দেশের রাজনীতি এক কলঙ্কজনক অধ্যায়ে প্রবেশ করে। এরপর ক্ষমতায় বসা খন্দকার মোশতাক আহমেদ মাত্র ৮১ দিনের মাথায় ক্ষমতাচ্যুত হন। তার পরবর্তীতে আসা বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমও দেশের তৎকালীন সামরিক বাস্তবতার মুখে পড়ে ১৯৭৭ সালে পদত্যাগে বাধ্য হন। এরপর রাষ্ট্রপতি পদ সামলানো জেনারেল জিয়াউর রহমান ১৯৮১ সালে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে এক নৃশংস সামরিক অভ্যুত্থানে প্রাণ হারান।জিয়াউর রহমানের আকস্মিক প্রয়াণের পর নির্বাচনে জয়ী হয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়া আবদুস সাত্তার ১৯৮২ সালে তৎকালীন সেনাপ্রধান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের সামরিক অভ্যুত্থানে গদি হারান। পরবর্তীতে এরশাদের মনোনীত রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আহসানউদ্দিন চৌধুরীও নিজের পূর্ণ মেয়াদ শেষ করতে সমর্থ হননি। এরপর এরশাদ নিজেই রাষ্ট্রপতির চেয়ার দখল করলেও ১৯৯০ সালের তীব্র ও ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের মুখে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন।৯০-এর গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে দেশ পুনরায় সংসদীয় গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরে এলে অধিকাংশ রাষ্ট্রপতিই তাঁদের মেয়াদ সফলভাবে পূর্ণ করতে পেরেছেন। তবে এই সময়েও কয়েকটি ব্যতিক্রমী ঘটনা ঘটেছে। ২০০১ সালে রাষ্ট্রপতির পদে আসীন হওয়া চিকিৎসক ও রাজনীতিবিদ এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী দলীয় কোন্দল ও রাজ রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতায় মাত্র সাত মাসের মাথায় পদত্যাগ করেন। অন্যদিকে ২০০৯ সালে দায়িত্ব নেওয়া প্রবীণ রাজনীতিবিদ জিল্লুর রহমান রাষ্ট্রপতি থাকাকালীন অবস্থায় ২০১৩ সালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করায় তাঁর মেয়াদ অসম্পূর্ণ থেকে যায়। উল্লেখ্য, রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহমেদের নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হলেও পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি দায়িত্ব পালন করে গিয়েছিলেন।সর্বশেষ ২০২৩ সালে বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন মো. সাহাবুদ্দিন। সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী তাঁর এই মেয়াদের মেয়াদকাল ২০২৮ সাল পর্যন্ত বহাল থাকার কথা ছিল। তবে পরিবর্তিত দেশের রাজনৈতিক চালচিত্র ও ব্যক্তিগত শারীরিক অসুস্থতার কারণ তুলে ধরে তিনি আগাম পদত্যাগ করলেন। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের সাংবিধানিক ইতিহাসে পূর্ণ মেয়াদ শেষ করতে না পারা বারো নম্বর রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে যুক্ত হলো মো. সাহাবুদ্দিনের নাম।
২০ ঘন্টা আগে
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ নবনিযুক্ত নৌবাহিনী প্রধানের

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ নবনিযুক্ত নৌবাহিনী প্রধানের

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন নবনিযুক্ত বাংলাদেশ নৌবাহিনী প্রধান ভাইস অ্যাডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম। শনিবার (২৫ জুলাই) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।সাক্ষাৎকালে দেশের সামুদ্রিক নিরাপত্তা, নৌবাহিনীর পেশাগত সক্ষমতা বৃদ্ধি, আধুনিকায়ন এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বাংলাদেশ নৌবাহিনী প্রধান ভাইস অ্যাডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম।প্রধানমন্ত্রী নৌবাহিনীর পেশাদারিত্ব ও দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে তিনি নবনিযুক্ত নৌবাহিনী প্রধানের সফল দায়িত্ব পালন কামনা করেন। এই সময় নৌবাহিনী প্রধান প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।সাক্ষাৎ শেষে নৌবাহিনী প্রধান প্রধানমন্ত্রীর কাছে নৌবাহিনীর আধুনিকায়ন ও সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোরদারে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা গ্রহণ করেন। প্রধানমন্ত্রী নৌবাহিনীকে ডিজিটালাইজেশন ও প্রযুক্তিনির্ভর বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
৩ ঘন্টা আগে
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ নবনিযুক্ত নৌবাহিনী প্রধানের

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ নবনিযুক্ত নৌবাহিনী প্রধানের

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন নবনিযুক্ত বাংলাদেশ নৌবাহিনী প্রধান ভাইস অ্যাডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম। শনিবার (২৫ জুলাই) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।সাক্ষাৎকালে দেশের সামুদ্রিক নিরাপত্তা, নৌবাহিনীর পেশাগত সক্ষমতা বৃদ্ধি, আধুনিকায়ন এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বাংলাদেশ নৌবাহিনী প্রধান ভাইস অ্যাডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম।প্রধানমন্ত্রী নৌবাহিনীর পেশাদারিত্ব ও দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে তিনি নবনিযুক্ত নৌবাহিনী প্রধানের সফল দায়িত্ব পালন কামনা করেন। এই সময় নৌবাহিনী প্রধান প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।সাক্ষাৎ শেষে নৌবাহিনী প্রধান প্রধানমন্ত্রীর কাছে নৌবাহিনীর আধুনিকায়ন ও সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোরদারে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা গ্রহণ করেন। প্রধানমন্ত্রী নৌবাহিনীকে ডিজিটালাইজেশন ও প্রযুক্তিনির্ভর বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
৩ ঘন্টা আগে
‘এই সরকারকে সরানোর সময় এসেছে’, বললেন রাহুল গান্ধী

‘এই সরকারকে সরানোর সময় এসেছে’, বললেন রাহুল গান্ধী

নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসকে কেন্দ্র করে চলমান আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারকে কড়া বার্তা দিয়েছেন লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। তিনি বলেছেন, এটি শুধু একটি শিক্ষার্থী আন্দোলন নয়, বরং কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতি শিক্ষার্থী ও বিরোধী দলের পক্ষ থেকে দেওয়া একটি স্পষ্ট সতর্কবার্তা। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর এক প্রতিবেদনে রাহুল গান্ধীর বক্তব্য তুলে ধরা হয়।রাহুল বলেন, 'আমরা একটি গুরুতর অর্থনৈতিক সংকটের মুখোমুখি। সরকারকে বুঝতে হবে, যা ঘটেছে তা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; এটি একটি গভীর সমস্যার বহিঃপ্রকাশ।' তিনি আরও বলেন, 'আপনারা যেভাবে ভারত পরিচালনা করছেন, সেভাবে আর দেশ চালানো যাবে না। শিক্ষার্থী ও বিরোধী দলের পক্ষ থেকে এটি সরকারের প্রতি একটি স্পষ্ট সতর্কবার্তা।'কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর রাহুল গান্ধী সরকারের বিরুদ্ধে আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। তিনি বলেছেন, এবার এই সরকারকে সরানোর সময় এসেছে। হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানা গেছে। শনিবার (২৫ জুলাই) এক্সে দেওয়া এক পোস্টে রাহুল গান্ধী বলেন, ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানোর পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। একই সঙ্গে তিনি দেশজুড়ে আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়েছেন।তিনি আরও বলেন, 'এখনও দুটি দাবি পূরণ হয়নি। শিক্ষার্থী ও দেশের ভবিষ্যৎকে সম্মান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ক্ষমা চাওয়া এবং শিক্ষার্থীদের ওপর সহিংসতার জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া। সমাজের অন্যান্য অংশ—কৃষক, শ্রমিক ও দরিদ্র মানুষ, যাদের এই সরকার দমন করেছে—তাদের এখন সংবিধানসম্মতভাবে সাহস নিয়ে নিজেদের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষার সময়। এই সরকারকে সরানোর সময় এসেছে। ভয় পাবেন না।'কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা শিক্ষার্থী আন্দোলনের মুখে শনিবার পদত্যাগ করেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। প্রশ্নফাঁস ও বিভিন্ন পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এই আন্দোলনে তার পদত্যাগ অন্যতম প্রধান দাবি ছিল। পদত্যাগপত্রে প্রধান জানান, দেশের ঐক্য অটুট রাখা, শিক্ষার্থীদের আইনি জটিলতা থেকে দূরে রাখা এবং তাদের পড়াশোনা ও ভবিষ্যতের স্বার্থ বিবেচনা করেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।এর আগে শুক্রবার আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়া ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিনিধিরা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা ও জিতেন্দ্র সিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকের পর সংগঠনটি জানায়, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে সরকার একদিন সময় চেয়েছে। পদত্যাগের পর যন্তর-মন্তরের সমাবেশে সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, 'তিনি আমাদের "তেলাপোকা" না বললে এই আন্দোলনের জন্মই হতো না।'প্রসঙ্গত, গত মে মাসে এক শুনানিতে প্রধান বিচারপতির একটি মন্তব্যকে ঘিরেই 'ককরোচ জনতা পার্টি' নামের এই আন্দোলনের সূত্রপাত হয়। পরে প্রধান বিচারপতি ব্যাখ্যা দেন, মন্তব্যটি বেকার তরুণদের উদ্দেশে নয়, ভুয়া আইন ডিগ্রিধারীদের প্রসঙ্গে করা হয়েছিল। কিন্তু ততদিনে মন্তব্যটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয় এবং আন্দোলনের প্রতীকে পরিণত হয়।
৩ ঘন্টা আগে
১৫ এপ্রিল ২০২৬, ১২:১১ এএম
আপনি কি মনে করেন বিএনপি জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর ও শব্দ বাস্তবায়ন করবে?

আপনি কি মনে করেন বিএনপি জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর ও শব্দ বাস্তবায়ন করবে?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ জন
ফার্মের মুরগি কতটা স্বাস্থ্যকর?

ফার্মের মুরগি কতটা স্বাস্থ্যকর?

ফার্মের মুরগি বা ব্রয়লার মুরগি নিয়ে মানুষের মধ্যে নানা ধরনের সংশয় থাকলেও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি নিজে ক্ষতিকর নয়। বরং নিরাপদ উৎপাদন, সঠিক সংরক্ষণ ও স্বাস্থ্যসম্মতভাবে রান্না করা হলে ব্রয়লার মুরগি উচ্চমানের প্রোটিন ও প্রয়োজনীয় পুষ্টির অন্যতম উৎস হতে পারে।বাংলাদেশের অধিকাংশ পরিবারের প্রোটিনের চাহিদা পূরণে সবচেয়ে সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী খাবারের একটি হলো ব্রয়লার মুরগি। তবে দীর্ঘদিন ধরেই এটি খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর কি না—এ নিয়ে নানা আলোচনা রয়েছে।এ বিষয়ে চিকিৎসক ডা. সাহানাজ বলেন, ব্রয়লার মুরগি নিজে কোনোভাবেই ক্ষতিকর নয়। এতে উচ্চমানের প্রোটিনের পাশাপাশি ভিটামিন বি-১২, ভিটামিন বি-৬, নিয়াসিন (ভিটামিন বি-৩), ফসফরাস, সেলেনিয়াম ও জিংকের মতো গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান রয়েছে।তার ভাষ্য, ব্রয়লার মুরগি নিরাপদ কি না, তা নির্ভর করে কীভাবে এটি পালন করা হয়েছে, অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের নিয়ম মানা হয়েছে কি না এবং জবাই ও সংরক্ষণের সময় স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করা হয়েছে কি না—এসব বিষয়ের ওপর।অ্যান্টিবায়োটিক প্রসঙ্গে ডা. সাহানাজ জানান, কিছু খামারে রোগ প্রতিরোধ বা চিকিৎসার জন্য অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করা হয়। তবে নির্ধারিত নিয়ম না মেনে অতিরিক্ত অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার কিংবা জবাইয়ের আগে প্রয়োজনীয় বিরতি না মানলে মাংসে ওষুধের অবশিষ্টাংশ থেকে যেতে পারে। এতে দীর্ঘমেয়াদে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স বা অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী জীবাণুর ঝুঁকি বাড়তে পারে।ব্রয়লার মুরগিকে দ্রুত বড় করতে হরমোন ব্যবহার করা হয়—এমন ধারণা নিয়েও কথা বলেন তিনি। তার মতে, এ দাবির পক্ষে শক্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। আধুনিক ব্রয়লার মুরগির দ্রুত বৃদ্ধি মূলত উন্নত জাত, সুষম খাদ্য এবং উন্নত খামার ব্যবস্থাপনার ফল।তিনি আরও বলেন, খামারে স্বাস্থ্যবিধি না মানা হলে কিংবা জবাই ও সংরক্ষণের সময় অসতর্কতা থাকলে সালমোনেলা ও ক্যাম্পিলোব্যাক্টারের মতো ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া মাংসে থাকতে পারে। তাই ব্রয়লার মুরগির মাংস অবশ্যই ভালোভাবে সিদ্ধ বা রান্না করে খাওয়া উচিত।ডা. সাহানাজের মতে, চামড়াবিহীন ব্রয়লার মুরগির মাংস পরিমিত পরিমাণে নিয়মিত খাওয়া স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অংশ হতে পারে। তিনি বলেন, দেশি ও ব্রয়লার—উভয় ধরনের মুরগিই ভালো প্রোটিনের উৎস। দেশি মুরগির স্বাদ ও গঠন ভিন্ন হলেও পুষ্টিগুণের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য নেই। মূল বিষয় হলো নিরাপদ উৎপাদন, ভালো মান এবং স্বাস্থ্যসম্মত রান্না।স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা ব্রয়লার মুরগি কেনা ও খাওয়ার ক্ষেত্রে কয়েকটি পরামর্শ দিয়েছেন:বিশ্বস্ত দোকান বা অনুমোদিত খামার থেকে মুরগি কেনাদুর্গন্ধযুক্ত বা অস্বাভাবিক রঙের মাংস এড়িয়ে চলাকাঁচা ও রান্না করা মাংস আলাদা রাখামাংস সম্পূর্ণ সিদ্ধ করে খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলাবিশেষজ্ঞদের মতে, সচেতনতা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললেই ব্রয়লার মুরগি নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করা সম্ভব।
১৫ জুলাই ২০২৬
সাফল্যের এক যুগ: ২০ দেশে উড়তে চায় ইউএস-বাংলা

সাফল্যের এক যুগ: ২০ দেশে উড়তে চায় ইউএস-বাংলা

২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে ২০টি দেশের ৩০টি গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালনার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে দেশের বেসরকারি বিমান সংস্থা ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স। একই সময়ে সংস্থাটির বহরে যুক্ত হবে ২১টি নতুন বিমান।রোববার (১৯ জুলাই) সন্ধ্যায় কক্সবাজারের একটি হোটেলে আয়োজিত 'মিট দ্য প্রেস' অনুষ্ঠানে এসব তথ্য জানান ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন। এ সময় জনসংযোগ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক কামরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।ইউএস-বাংলার পক্ষ থেকে জানানো হয়, ২০১৪ সালে যশোর রুটে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট পরিচালনার মাধ্যমে যাত্রা শুরু করেছিল ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স। সীমিত পরিসর থেকে শুরু করে আজ আমরা দেশের অন্যতম বৃহৎ বেসরকারি বিমান পরিবহন সংস্থায় পরিণত হয়েছি। এই অর্জনের পেছনে রয়েছে যাত্রীদের আস্থা, সরকারের নীতিগত সহায়তা, নিয়ন্ত্রক সংস্থার সহযোগিতা, ব্যবসায়িক অংশীদারদের সমর্থন এবং সর্বোপরি আমাদের চার হাজারেরও বেশি কর্মকর্তা-কর্মচারীর নিরলস পরিশ্রম।বর্তমানে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের বহরে রয়েছে ২৫টি আধুনিক উড়োজাহাজ। এর মধ্যে রয়েছে ৩টি এয়ারবাস এ৩৩০-৩০০, ৯টি বোয়িং ৭৩৭-৮০০ এবং এটিআর ৭২-৬০০ উড়োজাহাজ। এই বহর নিয়ে আমরা দেশের ৬টি অভ্যন্তরীণ গন্তব্য এবং ১০টি দেশের ১৪টি আন্তর্জাতিক গন্তব্যে নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনা করছি। প্রতিদিন দেশ-বিদেশ মিলিয়ে প্রায় ১০০টি ফ্লাইট পরিচালনার মাধ্যমে হাজার হাজার যাত্রীকে নিরাপদ, নির্ভরযোগ্য ও সময়নিষ্ঠ সেবা প্রদান করছি।আমাদের বিশ্বাস, একটি এয়ারলাইন্সের প্রকৃত শক্তি শুধু তার বহরের আকারে নয়; বরং নিরাপত্তা, সেবার মান, পরিচালন দক্ষতা এবং যাত্রীসন্তুষ্টির ওপর নির্ভর করে। সেই লক্ষ্য থেকেই ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স বাংলাদেশের প্রথম বেসরকারি এয়ারলাইন্স হিসেবে আইএটিএ এবং আইওএসএ-এর আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন করেছে। এই স্বীকৃতি আমাদের পরিচালন সক্ষমতা, নিরাপত্তা সংস্কৃতি এবং আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখার প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন।স্বাধীনতার পর ইউএস-বাংলা-ই প্রথম কোনো দেশীয় বিমান সংস্থা যা চীনের কোনো গন্তব্যে বা ভারতের চেন্নাই কিংবা মালদ্বীপের রাজধানী মালেতে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনা করছে। যাত্রীসেবায় উৎকর্ষ অর্জনের লক্ষ্যে আমরা ধারাবাহিকভাবে নতুন মানদণ্ড স্থাপন করছি। আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে ১৫ মিনিটের মধ্যে লাগেজ ডেলিভারির প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন তারই একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ।আগামী দিনের পরিকল্পনা আরও বিস্তৃত ও সুদূরপ্রসারী। ২০২৭ সালের মধ্যে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের বহরে যুক্ত হবে ২১টি সম্পূর্ণ নতুন বোয়িং উড়োজাহাজ—এর মধ্যে ১৫টি বোয়িং ৭৩৭-৮ এবং ৬টি বোয়িং ৭৩৭-৮০০এনজি। এটি বাংলাদেশের বেসরকারি বিমান পরিবহন খাতে অন্যতম বৃহৎ বহর সম্প্রসারণ কর্মসূচি। নতুন প্রজন্মের এই উড়োজাহাজগুলো জ্বালানি সাশ্রয়ী, পরিবেশবান্ধব, প্রযুক্তিনির্ভর এবং উন্নত যাত্রীসেবা নিশ্চিত করতে সক্ষম হবে।বহর সম্প্রসারণের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক রুট নেটওয়ার্কও বিস্তৃত করা হচ্ছে। আমাদের পরিকল্পনায় রয়েছে কুয়েত, বাহরাইন, মদিনা, দাম্মাম, কাঠমান্ডু, কলম্বো, হংকং, মালয়েশিয়ার জোহর বাহরু এবং পেনাং-এ নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনা। এর মাধ্যমে বাংলাদেশকে বৈশ্বিক বাণিজ্য, পর্যটন ও যোগাযোগ ব্যবস্থার সঙ্গে আরও কার্যকরভাবে সংযুক্ত করার লক্ষ্য বাস্তবায়িত হবে।বর্তমানে ইউএস-বাংলা এবং রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থা আন্তর্জাতিক রুটের মার্কেট শেয়ারের ২৫ শতাংশ পাচ্ছে আর বিদেশি এয়ারলাইন্সগুলো নিয়ে যাচ্ছে প্রায় ৭৫ শতাংশ, যা দেশের অর্থনীতিকে স্বাবলম্বী হওয়ার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। দেশের আকাশ পরিবহনে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক রুটের প্রায় শতাধিক ফ্লাইট প্রতিদিন পরিচালনা করছে, যা দেশের এভিয়েশনের অগ্রগতিকেই তুলে ধরছে।আমাদের অঙ্গীকার—নিরাপত্তায় আপসহীন থেকে, আন্তর্জাতিক মানের সেবা নিশ্চিত করে এবং প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক এয়ারলাইন্স হিসেবে ইউএস-বাংলাকে আগামী দিনের বৈশ্বিক আকাশপথে বাংলাদেশের অন্যতম শক্তিশালী ব্র্যান্ডে পরিণত করা।
১০ জুন ২০২৬
মুজিববর্ষ উদযাপনে ৯৮২ কোটি টাকা ব্যয়: অর্থমন্ত্রী

মুজিববর্ষ উদযাপনে ৯৮২ কোটি টাকা ব্যয়: অর্থমন্ত্রী

১০ জুন ২০২৬
জাপানি আবিষ্কার

জাপানি আবিষ্কার

আইসক্রিম বা কোল্ড ড্রিংকস ফ্রিজে রেখে ঠান্ডা করার কথা তো সবাই জানে, কিন্তু প্রচণ্ড রোদের হাত থেকে বাঁচতে মানুষকেই ফ্রিজে ঢুকিয়ে চাঙ্গা করার এমন আজব কায়দা আগে কখনো শুনেছেন? বিশ্ব জুড়ে যখন একের পর এক দাবদাহের রেকর্ড ভাঙছে, তখন চরম তাপের বিরুদ্ধে একপ্রকার যুদ্ধ ঘোষণা করে বসেছে উদীয়মান সূর্যের দেশ। সাধারণ এসির হাওয়ায় যখন আর স্বস্তি মিলছে না, ঠিক তখনই জাপানের প্রখ্যাত রেফ্রিজারেশন সংস্থা ‘এসডিআরএস’ সামনে এনেছে তাদের বিশেষ পিলে চমকানো আবিষ্কার ‘ডো হিয়েমন বক্স’। লোকে বলছে, ‘হিউম্যান রেফ্রিজারেটর’।রহস্যটা লুকিয়ে রয়েছে এর ভেতরের ক্যারিশমায়। বুথের ভেতরের তাপমাত্রা থার্মোমিটারে সবসময় ঝুলতে থাকে ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। ভেতরের একটি আরামদায়ক চেয়ারে গিয়ে বসামাত্রই শুরু হয় আসল খেলা। শরীরের যেসব অংশ দ্রুত তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, যেমন মাথা, ঘাড়, কাঁধ আর পিঠ, ঠিক সেদিক লক্ষ্য করে ধেয়ে আসে ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কনকনে ঠান্ডা হাওয়া। গবেষকদের মতে, প্রখর রোদে পুড়ে আসার পর মাত্র ৫ মিনিট এই ফ্রিজে বসলেই দেহের ভেতরের তাপ এক ধাক্কায় নেমে আসে স্বাভাবিক মাত্রায়।কারখানার শ্রমিক, নির্মাণকর্মী কিংবা সারা দিন রোদে ঘুরে কাজ করা মানুষের হিটস্ট্রোক এবং সানস্ট্রোকের মতো মারাত্মক শারীরিক ঝুঁকি থেকে বাঁচাতেই এই বুথের জন্ম। গবেষণায় দেখা যায়, ১০ মিনিট ভেতরে কাটালে হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি মুহূর্তের মধ্যেই উধাও হয়ে যায়।মজার ও বিস্ময়ের বিষয় হলো, সাধারণ এসির তুলনায় এটি প্রায় অর্ধেক বিদ্যুৎ খরচ করে এবং সুরক্ষার খাতিরে ২০ মিনিট পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যায়। ইতিমধ্যেই জাপানের গুন্মা প্রিফেকচারের মায়েবাশি সিটি হলসহ বিভিন্ন পাবলিক প্লেসে সাধারণ মানুষের জন্য বিনা মূল্যে বসেছে এই গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার। এর দাম বাংলাদেশি মুদ্রায় ১১ লাখ টাকার বেশি।জাপানের এই উদ্ভাবন ইতিমধ্যেই বিশ্বের অন্যান্য দেশের দৃষ্টি কেড়েছে। তীব্র গরমে মানুষের জীবন বাঁচাতে এই ‘হিউম্যান রেফ্রিজারেটর’ ভবিষ্যতে আরও ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
২৩ জুলাই ২০২৬
কোন ছবি নেই !
কোন ছবি নেই !
ই-পাসপোর্টে জুলাই শহীদদের ছবি যুক্ত হচ্ছে

ই-পাসপোর্টে জুলাই শহীদদের ছবি যুক্ত হচ্ছে

বাংলাদেশের সাধারণ ই-পাসপোর্টের নকশায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনছে সরকার। ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের স্মৃতিকে ধরে রাখতে পাসপোর্টের পাতায় জলছাপ (ওয়াটারমার্ক) হিসেবে যুক্ত করা হচ্ছে শহীদ আবু সাঈদ, মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধ এবং মোহাম্মদ ওয়াসিমের ছবি।রোববার (১৯ জুলাই) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বহিরাগমন-৪ শাখা থেকে জারিকৃত এক প্রজ্ঞাপনে নতুন এই নকশার চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ই-পাসপোর্টের বিদ্যমান বুকলেটের নকশা ও জলছাপ পুনর্বিন্যাস করা হচ্ছে। নতুন অনুমোদিত নকশায় পাসপোর্টের ৩১ ও ৩২ নম্বর পৃষ্ঠায় জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক সেই উত্তাল মুহূর্তটি ঠাঁই পাবে। তরুণদের আত্মত্যাগের সেই স্মৃতিকে আন্তর্জাতিক এই ভ্রমণ নথিতে স্থায়ী রূপ দিতেই শহীদ আবু সাঈদ, মুগ্ধ ও ওয়াসিমের ছবি জলছাপ হিসেবে ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।পাসপোর্টের নতুন এই বিন্যাসে জুলাই অভ্যুত্থানের পাশাপাশি বাংলাদেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের নানা অনুষঙ্গও যুক্ত করা হয়েছে। বিভিন্ন পৃষ্ঠায় জলছাপ হিসেবে দেখা যাবে জাতীয় স্মৃতিসৌধ, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, জাতীয় সংসদ ভবন এবং সুপ্রিম কোর্টের ছবি। এ ছাড়া লালবাগ দুর্গ, কান্তজিউ মন্দির, পানামনগর ও কার্জন হলের মতো গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক স্থাপনাও ঠাঁই পেয়েছে নতুন নকশায়।দেশের প্রাকৃতিক ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে ঝাউবনসহ কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত, সুন্দরবন, টাঙ্গুয়ার হাওর ও নীলগিরির ছবি যুক্ত করা হয়েছে। জাতীয় ফুল, মাছ, পাখি ও ফলের পাশাপাশি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের বিখ্যাত চিত্রকর্ম 'সংগ্রাম'-কে।প্রজ্ঞাপনে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, পাসপোর্টের ডাটা পেজে আগের নিয়মই বহাল থাকছে। অর্থাৎ, এটি ইসরায়েল ব্যতীত বিশ্বের সব দেশের ভ্রমণের জন্য বৈধ থাকবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই সিদ্ধান্ত দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনা প্রদান করেছে।২০২৪ সালের জুলাই মাসে বাংলাদেশে সংগঠিত ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে আবু সাঈদ, মুগ্ধ ও ওয়াসিমসহ বহু মানুষ প্রাণ হারান। আন্দোলনের সেই গৌরবময় ইতিহাসকে পরবর্তী প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে এবং জাতীয় নথিতে তাদের অবদানকে স্বীকৃতি দিতেই এই উদ্যোগ নিয়েছে বর্তমান সরকার। এটি বাংলাদেশের পাসপোর্টের ইতিহাসে একটি অনন্য ও আবেগঘন পরিবর্তন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
১০ জুন ২০২৬
শেখ নূর কুতুব আলম: বাংলার আধ্যাত্মিক নেতৃত্বের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত

শেখ নূর কুতুব আলম: বাংলার আধ্যাত্মিক নেতৃত্বের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত

বাংলার মধ্যযুগীয় ইতিহাসে পান্ডুয়া ছিল জ্ঞান, সংস্কৃতি ও আধ্যাত্মিক সাধনার অন্যতম কেন্দ্র। এই শহরের খানকাগুলোতে যেমন ধর্মীয় শিক্ষা বিস্তার লাভ করত, তেমনি এখান থেকেই সমাজজীবনে নৈতিক নেতৃত্বও গড়ে উঠত। ১৩৫০ সালের কিছু আগে তৎকালীন বাংলার রাজধানী পান্ডুয়ায় তার জন্ম। তার প্রকৃত নাম নূরুদ্দীন নূরুল হক। ‘নূর কুতুবুল আলম’ তার উপাধি।তার পিতা ছিলেন বাংলার অন্যতম শ্রেষ্ঠ আলেম ও সুফি শায়খ আলাউল হক। বংশপরিচয়ও ছিল সম্মানজনক—তিনি লাহোরের প্রসিদ্ধ সাধক শেখ আসাদের পৌত্র। পিতার মতো তিনি ছিলেন চিশতিয়া তরিকার একজন বিশিষ্ট পীর। ইলিয়াস শাহী বংশের তৃতীয় সুলতান গিয়াস উদ্দিন আজম শাহ ছিলেন তার সহপাঠী ও বন্ধু। কিন্তু বংশগৌরবের চেয়েও বড় ছিল তার ব্যক্তিত্ব, জ্ঞান, দূরদর্শিতা এবং মানুষের জন্য আত্মনিবেদিত জীবন।ব্যক্তিগত জীবন ও আধ্যাত্মিক সাধনানূর কুতুব আলম তাঁর পিতার আমল থেকে সব ধরনের কায়িক শ্রমের অভ্যাস করতেন। দরগায় আগত ফকিরদের কাপড় ধোয়া, লাকড়ি ও পানি বহন, শীতকালে পীরের অজু করার জন্য সর্বদা পানি গরম রাখা, এমনকি খানকাহসংলগ্ন শৌচাগার পরিষ্কার করা প্রভৃতি কাজে তিনি নিজেকে নিয়োজিত রাখতেন।আজকের সময়ে নেতৃত্বকে আমরা প্রায়ই ক্ষমতা, প্রভাব কিংবা সামাজিক মর্যাদার সঙ্গে মিলিয়ে দেখি। অথচ নূর কুতুব আলমের জীবন আমাদের শেখায়, প্রকৃত নেতৃত্ব শুরু হয় সেবার মাধ্যমে। যে মানুষ নিজের হাতে মানুষের কষ্ট লাঘব করতে পারে, তিনিই প্রকৃত অর্থে মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিতে পারেন।রাজনৈতিক সংকটে নূর কুতুব আলমের ভূমিকানূর কুতুব আলমের জীবনের সবচেয়ে উজ্জ্বল অধ্যায় রচিত হয় এক ভয়াবহ রাজনৈতিক সংকটের সময়। ১৪১৫ খ্রিস্টাব্দে রাজা গণেশ নামক একজন হিন্দু শাসক ইলিয়াস শাহি বংশ উত্খাত করে ক্ষমতা গ্রহণ করেন। তিনি মুসলমানের ওপর নজিরবিহীন জুলুম-নির্যাতন শুরু করেন। এমনকি শায়খ ও আলেমদের ওপর অবর্ণনীয় অত্যাচার শুরু করেন।বিশেষ করে ধর্মীয় নেতৃত্ব, আলেম-ওলামা এবং সাধারণ মুসলমানদের ওপর নিপীড়নের অভিযোগ বিভিন্ন ঐতিহাসিক গ্রন্থে উল্লেখিত হয়েছে। বাংলার মুসলিম সমাজ গভীর অনিশ্চয়তা ও আতঙ্কের মধ্যে পড়ে।এই পরিস্থিতিতে শেখ নূর কুতুব আলম নীরব থাকেননি। তিনি উপলব্ধি করেছিলেন, কেবল খানকায় বসে ইবাদত করাই একজন আধ্যাত্মিক নেতার একমাত্র দায়িত্ব নয়; মানুষের জীবন, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সামাজিক নিরাপত্তা বিপন্ন হলে ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্যও এগিয়ে আসতে হয়। তার এই অবস্থান প্রমাণ করে, ইসলামী আধ্যাত্মিকতার প্রকৃত শিক্ষা সমাজবিমুখতা নয়; বরং মানুষের কল্যাণে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন।কূটনৈতিক পদক্ষেপ ও রাজা গণেশের সাথে সমঝোতাবাংলার মুসলমানদের রক্ষার জন্য তিনি এক গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। তিনি জৌনপুরের সুলতান ইবরাহিম শর্কিকে বাংলা আক্রমণ করে বাংলাকে গণেশের হাত থেকে রক্ষা করার অনুরোধ জানিয়ে চিঠি লেখেন। একই সঙ্গে তিনি প্রসিদ্ধ সুফি ব্যক্তিত্ব মীর সৈয়দ আশরাফ জাহাঙ্গীর সিমনানিকেও অনুরোধ করেন, যেন তিনিও ইবরাহিম শর্কিকে বাংলার মুসলমানদের সহায়তায় এগিয়ে আসতে উদ্বুদ্ধ করেন।সুলতান ইবরাহিম শর্কি এই অনুরোধ রক্ষা করে বাংলা আক্রমণের উদ্দেশ্যে পিরোজপুর এসে শিবির স্থাপন করেন। রাজা গণেশ এতে ভয় পেয়ে নূর কুতুব আলমের কাছে আত্মসমর্পণ করেন এবং তাঁকে ক্ষমা করে ইবরাহিম শর্কিকে জৌনপুরে ফিরে যেতে বলার অনুরোধ জানান।কিন্তু নূর কুতুব আলম এতে সম্মত হননি। তিনি জানিয়ে দেন, একজন মুসলিম শাসককে কোনো অমুসলিম শাসকের পক্ষ নিয়ে তিনি ফিরিয়ে দিতে পারেন না। বরং পূর্বশর্ত হিসেবে তিনি রাজা গণেশকে ইসলাম গ্রহণের আহ্বান জানান। গণেশ তাতে সম্মত হন, কিন্তু বিস্তারিত শুনে তাঁর রানি এতে বাধা দেন। গণেশ তখন তার ১২ বছরের ছেলে যদুকে নিয়ে শায়খের কাছে আসেন। যদুকে ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত করে 'জালালুদ্দীন' নাম দেওয়া হয় এবং গণেশ তার পক্ষে সিংহাসন ত্যাগ করেন।এই ঘটনার মধ্য দিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ এড়ানো সম্ভব হয় এবং বাংলার রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অন্তত সাময়িকভাবে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়।পরবর্তী পরিস্থিতি ও নূর কুতুব আলমের দূরদর্শিতাশায়খের মৃত্যুর পর গণেশ অবশ্য যদুকে হিন্দু ধর্মে পুনরায় দীক্ষিত করে নিজে সিংহাসনে অধিষ্ঠিত হন। কিন্তু রাজা গণেশের মৃত্যু হলে যদু জালালুদ্দীন মুহাম্মদ শাহ উপাধি গ্রহণ করে সিংহাসনে আরোহণ করেন এবং বাংলার মুসলিম শাসনব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়।এই ঘটনাপ্রবাহে নূর কুতুব আলমের দূরদর্শিতার প্রতিফলন স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তিনি হয়তো জানতেন, একটি সংকটময় সময়ে আপসের মধ্য দিয়েও দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার পথ তৈরি করা যায়।রচিত গ্রন্থসমূহ ও আধ্যাত্মিক উত্তরসূরিতিনি শুধু নিজের আধ্যাত্মিক সাধনায় সীমাবদ্ধ থাকেননি; পরবর্তী প্রজন্ম গড়ে তোলার প্রতিও ছিলেন সমান মনোযোগী। তাঁর রচিত গ্রন্থ সংখ্যা ১২১টি। সেগুলো তার প্রধান মুরিদ ও খলিফা হুসামুদ্দিন মানিকপুরী সম্পাদনা করেন। তন্মধ্যে বিখ্যাত দুটি গ্রন্থ হলো মুগিসুল ফুকারা ও আনিসুল গুরাবা।মুগিসুল ফুকারার একটি পাণ্ডুলিপি সংরক্ষিত আছে বিহারের ভাগলপুরের খলিফাবাগ একটি প্রাইভেট লাইব্রেরিতে। আরেকটি অসম্পূর্ণ কপি সংরক্ষিত আছে এশিয়াটিক সোসাইটি অব বেঙ্গল কলিকাতার লাইব্রেরিতে (সংগ্রহ নং- ৪৬৬)। সেখানে আনিসুল গুরাবা বইটির ২টি কপি সংরক্ষিত আছে (সংগ্রহ নং: ১২১২ ও ১২১৩)।তিনি তাঁর দুই পুত্র শেখ রাফকাতউদ্দীন এবং শেখ আনোয়ারকে আধ্যাত্মিক শিক্ষা দেন। সম্ভবত পিতার জীবদ্দশায় শেখ আনোয়ার রাজা গণেশের হাতে সোনারগাঁয়ে শহীদ হন। শেখ নূর কুতুব আলমের অন্য আর একজন প্রধান মুরিদ ছিলেন শেখ হুসামুদ্দীন মানিকপুরী।পত্র সংকলন ও ঐতিহাসিক দলিলনূর কুতুব আলমের ১৩টি পত্রের একটি গ্রন্থ সম্পাদনা করেন মুহাদ্দিস আব্দুল হক দেহলভী। যে গ্রন্থের নাম মাকতুবাত ই নূর কুতুবুল আলম। এটি দিল্লির ইন্ডিয়ান আর্কাইভে সংরক্ষিত আছে। এই পত্রগুলো থেকে সমসাময়িক রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়।সুলতানদের শ্রদ্ধা ও দরগাহের গুরুত্বশেখ নূর কুতুব আলমের প্রতি পরবর্তী সুলতানদের শ্রদ্ধাও ছিল অসাধারণ। তার দরগাহ সংলগ্ন সরাইখানা ও মাদরাসার ব্যয় নির্বাহের জন্য সুলতান আলাউদ্দীন হোসেন শাহ কয়েকটি গ্রাম দান করেন। দরবেশের মাজার জিয়ারতের জন্য সুলতান বছরে একবার রাজধানী শহর একডালা থেকে পান্ডুয়ায় আসতেন।শায়খ নূর কুতুব আলম পান্ডুয়ার পীর-আউলিয়ার মধ্যে শীর্ষ মর্যাদার অধিকারীদের অন্যতম। পিতা-পুত্র দুজনই পান্ডুয়ার বিখ্যাত শাশ হাজারি দরগায় শায়িত আছেন। পিতার মতো তিনি চিশতিয়া মতাদর্শের পীর ছিলেন। তাঁর অনুসারী শিষ্যকুল ও দরবেশরা কয়েক শতক ধরে বাংলায় মুসলিম সমাজজীবনে তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।ঐতিহাসিক দৃষ্টিতে শায়খ নূর কুতুব আলমের সর্বশ্রেষ্ঠ অবদান বাংলার মুসলিম শাসন রাজা গণেশের হাত থেকে রক্ষা করা।মৃত্যুশেখ নূর কুতুব আলম ৮১৮ হিজরি বা ১৪১৫ খ্রিস্টাব্দে (বাংলাপিডিয়া ও উইকিপিডিয়া মতে) ইন্তেকাল করেন। তবে প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, ১৪৪৭ সালের ৭ জানুয়ারি তার মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়। তার ইন্তেকালের সঙ্গে একটি সুন্দর ফারসি অভিব্যক্তি যুক্ত হয়েছে—"নূর বানূর-শুদ", অর্থাৎ "আলো আলোতে বিলীন হয়ে গেল।"এই বাক্যটি যেন তার সমগ্র জীবনেরই প্রতীক। তিনি এমন এক আলোকবর্তিকা ছিলেন, যিনি নিজের জন্য নয়, মানুষের পথ আলোকিত করার জন্য জীবন উৎসর্গ করেছিলেন।ইতিহাসে বহু রাজা এসেছেন, বহু সাম্রাজ্য গড়ে উঠেছে এবং বিলীন হয়েছে। কিন্তু যারা মানুষের হৃদয়ে নৈতিকতার আলো জ্বালিয়ে দেন, তাদের স্মৃতি যুগের পর যুগ অম্লান থাকে। শেখ নূর কুতুব আলম সেই বিরল ব্যক্তিত্বদের একজন, যার জীবন বাংলার ইতিহাসে আধ্যাত্মিক নেতৃত্ব, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং নৈতিক সাহসের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে আজও আমাদের সামনে দাঁড়িয়ে আছে।তথ্যসূত্র: উইকিপিডিয়া, বাংলাপিডিয়া, শায়েখ আব্দুল হক দেহলভী, আকবারুল উখিয়া ফি আসরারুল আবরার, সোস্যাল হিস্টোরি অফ দ্যা মুসলিম ইন ব্যাঙ্গাল।
ফিরোজ আল মামুন