ঢাকা    বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬
ঢাকা    বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬
গণবার্তা
সর্বশেষ

রাজধানীর ১২০ মোড়ে সেমি-অটোমেটিক সিগন্যাল বসছে

রাজধানীর ১২০টি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে আগামী ছয় মাসের মধ্যে সেমি-অটোমেটিক ট্রাফিক সিগন্যাল ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা নিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। ইতোমধ্যে ১২টি পয়েন্টে এই ব্যবস্থা চালু রয়েছে। আগামী মাসখানেকের মধ্যে এই সংখ্যা ৬০ ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করছে ট্রাফিক বিভাগ।একই সঙ্গে যানজট কমাতে গত প্রায় এক বছরে নগরীর ৭৫টি পয়েন্টে সড়ক ডাইভারশন ও প্রকৌশলগত পরিবর্তন আনা হয়েছে। ভবিষ্যতে গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম (জিপিএস) ভিত্তিক ট্রাফিক নজরদারিসহ প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে রাজধানীর ট্রাফিক ব্যবস্থা আরও আধুনিক করার পরিকল্পনা রয়েছে ডিএমপির।ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) আনিছুর রহমান সম্প্রতি রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, বর্তমানে ডিএমপি ট্রাফিকে প্রায় ৪ হাজার ১০০ সদস্য কর্মরত রয়েছেন। তবে ছুটি, প্রশিক্ষণ ও অসুস্থতার কারণে প্রায় ৩ হাজার ৬০০ থেকে ৩ হাজার ৭০০ সদস্য রাজধানীর ৬৬৮টি ট্রাফিক পয়েন্টে দায়িত্ব পালন করেন। এর মধ্যে প্রায় ২৫টি পয়েন্টে দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করতে হয়। এসব পয়েন্টে তিন পালায় ডিউটি চলে। বাকি অধিকাংশ পয়েন্টে দুই পালায় দায়িত্ব পালন করা হয়।আনিছুর রহমান বলেন, সীমিত জনবল দিয়েও রাজধানীর যানজট কমাতে গত প্রায় এক বছরে ৭৫টি পয়েন্টে ডাইভারশন ও বিভিন্ন ধরনের মডিফিকেশন করা হয়েছে। কোথাও ডাইভারশন দেওয়া হয়েছে, কোথাও সড়কের চলাচল ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। এসব পরিবর্তনের পর এখন পর্যন্ত কোথাও বড় ধরনের যানজট বা নতুন কোনো জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে এমন কোনো প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি। বরং মাঠপর্যায়ে যানজট কমার ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে।তিনি বলেন, রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের পশ্চিম প্রান্তে আসাদ গেটের ওপাশে চার রাস্তার মোড়ে আগে প্রায়ই যানজট লেগে থাকত এবং সেখানে ট্রাফিক সদস্য মোতায়েন করতে হতো। পরে ওই মোড়ে সরাসরি চলাচল বন্ধ করে বাম দিকে ঘুরে অল্প দূরে ইউটার্ন নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এতে বাম লেন সব সময় সচল থাকছে এবং যানবাহনের চাকা আর থেমে থাকছে না। ওই জংশন পরিচালনায় ৮ জন পর্যন্ত সদস্য কমানো সম্ভব হয়েছে।অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার বলেন, একই ধরনের ডাইভারশন ও মডিফিকেশন মোহাম্মদপুরের বসিলা, বনানীর কাকলী, মিরপুরের ইসিবি চত্বর ও কালশী ফ্লাইওভারের নিচেও করা হয়েছে। তার মতে, রাজধানী ঢাকা একটি অত্যন্ত জনবহুল মেগাসিটি। এখানে শুধু ট্রাফিক সদস্যের সংখ্যা বাড়িয়ে সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। সড়কের নকশা বিশ্লেষণ করে বৈজ্ঞানিকভাবে ডাইভারশন ও মডিফিকেশন করা গেলে সেটিই সবচেয়ে কার্যকর হয়। এ কারণে ৭৫টি স্থানে পরিবর্তন আনা হয়েছে। সামনে আরও কিছু পরিকল্পনা রয়েছে। সেগুলো বাস্তবায়ন করা গেলে বর্তমান জনবল দিয়েও আরও ভালো সেবা দেওয়া সম্ভব হবে বলে মনে করেন তিনি।তিনি বলেন, কোথায় কখন যানজট বেশি হয়, সে বিষয়ে ট্রাফিক বিভাগের অভিজ্ঞতা রয়েছে। কোথাও পিক আওয়ার, কোথাও অফ-পিক আওয়ার। সে অনুযায়ী সদস্য মোতায়েন করা হয়। তবে শুধু ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে দীর্ঘদিন ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা পরিচালনা করা সম্ভব নয়। এই ব্যবস্থার সঙ্গে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিকে যুক্ত করতে হবে। সেটিই হবে দীর্ঘমেয়াদি টেকসই সমাধান।আনিছুর রহমান বলেন, রাজধানীতে পর্যায়ক্রমে সেমি-অটোমেটিক ট্রাফিক সিগন্যাল ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে। বর্তমানে ১২টি পয়েন্টে এই ব্যবস্থা রয়েছে। আগামী মাসখানেকের মধ্যে তা ৬০টি পয়েন্ট অতিক্রম করবে। এরপর আগামী ছয় মাসে রাজধানীর প্রধান ১২০টি পয়েন্টকে এই ব্যবস্থার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।তিনি আরও বলেন, বর্তমান সিগন্যালগুলো ম্যানুয়ালি নিয়ন্ত্রণ করা যায়। প্রয়োজন অনুযায়ী সিগন্যালের সময় পরিবর্তন করা সম্ভব। তবে উন্নত দেশগুলোতে একটি অ্যালগরিদমের মাধ্যমে পুরো সিস্টেম পরিচালিত হয়। একটি সিগন্যাল আরেকটি সিগন্যালের সঙ্গে সংযুক্ত থাকে। কোনো নির্দিষ্ট সময়ে কতটি যানবাহন এসেছে, তার ভিত্তিতে ৪০, ৬০, ৮০ সেকেন্ড বা কতক্ষণ সিগন্যাল চালু থাকবে, তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে নির্ধারিত হয় এবং পাশের জংশনের সঙ্গেও সমন্বয় করা হয়।বর্তমানে সেমি-অটোমেটিক ব্যবস্থা চালুর কারণ ব্যাখ্যা করে আনিছুর রহমান বলেন, উন্নত দেশগুলোর সড়ক অত্যন্ত বৈজ্ঞানিকভাবে পরিকল্পিত ও প্রকৌশলগতভাবে নির্মিত। কোথায় কীভাবে মোড় হবে, কত ডিগ্রি কোণে বাঁক থাকবে, কোথায় উঁচু বা নিচু হবে—সবই পরিকল্পনা অনুযায়ী করা হয়। বাংলাদেশের সড়কব্যবস্থা শুরু থেকেই সে ধরনের পরিকল্পনায় গড়ে ওঠেনি। তাই উন্নত দেশের মডেল পুরোপুরি এখানে প্রয়োগ করা সম্ভব নয়।বর্তমান ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে আনিছুর রহমান বলেন, গত দুই মাসে নগরবাসীর কাছ থেকে প্রত্যাশার চেয়েও বেশি সহযোগিতা পাওয়া গেছে। মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ট্রাফিক আইন মেনে চলছেন, সিগন্যাল অনুসরণ করছেন এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখছেন। এর ফলে আগের তুলনায় দীর্ঘ সময় যানজটে আটকে থাকার ঘটনা অনেকাংশে কমেছে।তবে তিনি বলেন, ঢাকার সব সমস্যা শেষ হয়ে যায়নি। ভারী বৃষ্টিপাত হলেই এখনো সড়ক অচল হয়ে যায়। আবার সড়ক অবরোধ করে মিছিল, মিটিং ও বিক্ষোভও যান চলাচলে বড় ধরনের প্রভাব ফেলে। তাই ঢাকার যানজটকে বিচ্ছিন্নভাবে দেখার কোনো সুযোগ নেই। তেজগাঁওয়ের সমস্যা মতিঝিলকে, আবার মিরপুরের সমস্যা ওয়ারীকেও প্রভাবিত করে।ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার বলেন, ভারী বৃষ্টিপাতের সময়ও অনেক ক্ষেত্রে অটোমেটিক সিস্টেম কার্যকরভাবে পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়ে। তখন ম্যানুয়ালি সিগন্যাল নিয়ন্ত্রণ করতে হয়। তবে ভবিষ্যতে পুরোপুরি অটোমেটিক ব্যবস্থায় যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে প্রস্তুতি চলছে। তবে এর বাস্তবায়ন রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারণ ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত উন্নয়নের ওপর নির্ভর করবে বলেও জানান তিনি।যানজট নিরসনে শুধু ট্রাফিক পুলিশের উদ্যোগ যথেষ্ট নয় উল্লেখ করে আনিছুর রহমান বলেন, সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থা এবং সড়ক ব্যবহারকারী প্রত্যেক মানুষেরই দায়িত্ব রয়েছে। ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে দেশের বড় সমস্যা বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয়ের অভাব। অনেক সময় প্রয়োজনীয় সমন্বয় ছাড়াই রাতারাতি রাস্তা কেটে উন্নয়নকাজ শুরু করা হয়। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো অনেক ক্ষেত্রে ট্রাফিক বিভাগের সঙ্গে আগাম যোগাযোগও করে না।তিনি বলেন, অনেক সময় সকালে দেখা যায়, রাতের বেলায় রাস্তা কেটে রাখা হলেও দিনের বেলায় সেখানে কোনো কাজই হচ্ছে না। এতে যান চলাচলে বড় ধরনের সমস্যা সৃষ্টি হয়। আবার বিভিন্ন সংস্থা কাজ করতে গিয়ে অনেক সময় ট্রাফিক সিগন্যালের কেবল কেটে ফেলায় পুরো সিগন্যাল ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। উন্নয়ন কাজের পাশাপাশি কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করাও জরুরি।
৮ ঘন্টা আগে

পুরুষ নির্যাতন প্রতিরোধে আইন প্রণয়নের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন অথবা যৌতুক আইনের অপব্যবহারের মাধ্যমে অযথা হয়রানি থেকে পুরুষদের সুরক্ষায় 'পুরুষ নির্যাতন দমন ও প্রতিরোধ আইন' নামে নতুন একটি আইন প্রণয়নে নিষ্ক্রিয়তা ও ব্যর্থতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট হয়েছে।মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিচারপতি রাজিক-আল-জলিল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চের কার্যতালিকায় শুনানির জন্য রিটটি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।রিটটি গত মে মাসে দায়ের করেন বাটারফ্লাই হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী কাজী ইলিয়াসুর রহমান এবং সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য মো. খলিলুর রহমান।আইনজীবী কাজী ইলিয়াসুর রহমান বলেন, 'মূলত আমরা পুরুষ নির্যাতন প্রতিরোধ আইন চাই। কারণ, নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে সুনির্দিষ্ট আইন আছে। অথচ এই ক্ষেত্রে পুরুষদের প্রতিকারের জন্য আইন নেই। সংবিধানে সমঅধিকারের কথা বলা আছে। সে ক্ষেত্রে পুরুষ নির্যাতন প্রতিরোধে আইন না থাকায় তারা (পুরুষ) বঞ্চিত ও নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। তাই একটি ব্যালেন্স (ভারসাম্যমূলক) আইন প্রণয়ন চাচ্ছি। পুরুষদের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট আইন না থাকায় নির্যাতিত পুরুষেরা বিচার ও প্রতিকার পাচ্ছে না।'রিটে বলা হয়েছে, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ও যৌতুক আইনের অপব্যবহারের মাধ্যমে পুরুষদের অযথা হয়রানি থেকে সুরক্ষা দিতে রাষ্ট্রের নিষ্ক্রিয়তা ও ব্যর্থতা কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না—সে বিষয়ে রুল জারির আবেদন করা হয়েছে। এ ছাড়া, 'পুরুষ নির্যাতন দমন ও প্রতিরোধ আইন' নামে একটি নতুন আইন প্রণয়নের নির্দেশনা কেন দেওয়া হবে না, সে বিষয়েও রুল চাওয়া হয়েছে।রিটে আরও আবেদন করা হয়েছে, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পুরুষদের অপ্রয়োজনীয় হয়রানি থেকে সুরক্ষা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হোক।এ মামলায় মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব, আইনসচিব এবং আইন কমিশনের চেয়ারম্যানকে বিবাদী করা হয়েছে।উল্লেখ্য, এটি একটি রিট আবেদন। হাইকোর্ট এখনো এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা নির্দেশ দেননি। আদালতের পরবর্তী আদেশের ওপর বিষয়টির অগ্রগতি নির্ভর করবে।
৯ ঘন্টা আগে

২১ জুলাই: মাইলস্টোন ট্রাজেডির এক বছর

আজ রাজধানীর উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার মর্মান্তিক ঘটনার এক বছর পূর্ণ হলো। গত বছরের এই দিনে সংঘটিত দুর্ঘটনায় বিমানটির পাইলটসহ মোট ৩৬ জন প্রাণ হারান। তাদের মধ্যে ২৮ জন শিক্ষার্থী, তিনজন শিক্ষক, তিনজন অভিভাবক, একজন কর্মচারী ও পাইলট ছিলেন।গত বছরের ২১ জুলাই দুপুরে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পর যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে স্কুল ভবনের ওপর আছড়ে পড়ে। ঘটনার পরপরই ফায়ার সার্ভিস, সেনাবাহিনী, পুলিশ ও বিমান বাহিনীর সদস্যরা উদ্ধার অভিযান শুরু করে। স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী ও রেড ক্রিসেন্টের সদস্যরাও আহতদের উদ্ধার ও রক্ত সংগ্রহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।ঘটনার দিন থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা হয়। গুরুতর দগ্ধ ও আহতদের দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে স্থানান্তর করা হয়।তৎকালীন অন্তবর্তীকালীন সরকার একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে, যা গত বছরের ৫ নভেম্বর প্রতিবেদন জমা দেয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, স্কুল ভবনটি রাজউকের অনুমোদিত বাংলাদেশ জাতীয় বিল্ডিং কোডের আওতায় নির্মিত হয়নি এবং ভবনে পর্যাপ্ত সিঁড়ি না থাকায় হতাহতের সংখ্যা বাড়ে।এক বছর পেরিয়েও ট্রাজেডির প্রভাব কাটেনি। নিহতদের স্বজন, সহপাঠী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা সেই দিনের বিভীষিকা এখনো ভুলতে পারেননি। আহত কয়েকজন এখনও চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের মধ্য দিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার চেষ্টা করছেন।মাইলস্টোন স্কুল কর্তৃপক্ষ আজ নিহতদের স্মরণে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেছে। ট্রাজেডির এক বছর আমাদের মনে করিয়ে দেয়, দুর্যোগ-পরবর্তী সময়ে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা ও দীর্ঘমেয়াদি সহায়তার কোনো বিকল্প নেই।
১০ ঘন্টা আগে
মোদির বাসভবনের সামনে রণক্ষেত্র, আটক প্রিয়াঙ্কা-অখিলেশ, রক্তাক্ত রাহুল গান্ধী

মোদির বাসভবনের সামনে রণক্ষেত্র, আটক প্রিয়াঙ্কা-অখিলেশ, রক্তাক্ত রাহুল গান্ধী

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের সামনে বিক্ষোভরত অবস্থায় আটক করা হয়েছে দেশটির প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসের নেতা রাহুল গান্ধীকে। এরপর জোরপূর্বক তাকে সেখান থেকে বাসে করে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। দলীয় সূত্রে জানা যায়, লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী মোদির বাসভবনের সামনে রাতভর বিক্ষোভ চালিয়ে যেতে চেয়েছিলেন। কিন্তু স্থানীয় সময় সন্ধ্যা প্রায় ৬টা ৪০ মিনিটে পুলিশ বিক্ষোভস্থল খালি করে দেয়।প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাহুল গান্ধী রাস্তার ওপর বসে অবস্থান করছিলেন। সেই সময় তাকে ঘিরে ফেলেন অন্তত ১০ জন পুলিশ সদস্য। তিনি সরে যেতে অস্বীকৃতি জানালে পরে তাকে জোর করে একটি বাসে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। সেই সময় রাহুলের নাকে রক্ত দেখা গেছে। তবে কীভাবে তিনি রক্তাক্ত হলেন, সে সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি।দেশটির একাধিক সংবাদমাধ্যমে বলা হয়েছে, পুলিশের হাতে আটক হওয়ার পর রাহুল গান্ধীকে একটি বাসের ভেতরে দেখা গেছে। আটকের পর রাহুল মিডিয়াকে বলেন, ভারতে এখনই গণতন্ত্র ঘটছে।এদিন রাহুল গান্ধী ছাড়াও মোদির বাসভবনের সামনে থেকে প্রিয়াঙ্কা গান্ধী এবং সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদবসহ একাধিক বিরোধী নেতাকে আটক করে দিল্লি পুলিশ। পরবর্তীতে তাদেরকেও সেখান থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়।এর আগে গতকাল সোমবার দেশটির 'ককরোচ জনতা পার্টি' (সিজেপি) বা 'তেলাপোকা' আন্দোলন সংসদ অভিমুখে বিক্ষোভ করে। শিক্ষার্থীদের পক্ষে রাহুলের আহ্বান বিক্ষোভ থেকে সরিয়ে নেওয়ার আগে রাহুল গান্ধী সমর্থকদের মোদির বাসভবনের সামনে ধর্নায় যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা মানে প্রতিটি ভারতীয় পরিবারের ওপর হামলা। প্রধানমন্ত্রী মোদি মনে করেন, কোনো জবাবদিহি বা পরিণতি ছাড়াই তিনি পার পেয়ে যাবেন। এবার তা হবে না। যারা মনে করেন ভারতের শিক্ষার্থীরা ন্যায়বিচার পাওয়ার যোগ্য, তারা প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে আমাদের ধর্নায় যোগ দিন। শিক্ষার্থীদের কণ্ঠস্বর উপেক্ষা করা যাবে না।এই ঘটনার পর দিল্লি পুলিশের তৎপরতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিরোধী দলগুলো অভিযোগ করেছে, পুলিশ নির্বিচারে বলপ্রয়োগ করেছে। অন্যদিকে, সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। রাহুল গান্ধী ও অন্যান্য নেতাদের আটকের ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
২ ঘন্টা আগে
বিমানবন্দরে গিয়ে জানলেন তার নিজের পাসপোর্টে আরেক নারী ইতালিতে

বিমানবন্দরে গিয়ে জানলেন তার নিজের পাসপোর্টে আরেক নারী ইতালিতে

ভিসা জালিয়াতির মাধ্যমে প্রকৃত পাসপোর্টধারীর পরিবর্তে অন্য এক নারীকে ইতালিতে পাঠানোর অভিযোগে একটি মানব পাচার চক্রের সাত সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। চক্রটির বিরুদ্ধে ইতালিতে নেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে বিপুল অর্থ আত্মসাৎ এবং জালিয়াতির মাধ্যমে মানব পাচারের অভিযোগ রয়েছে।মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সিআইডির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সোমবার রাজধানীর গুলশান-১ এলাকায় অভিযান চালিয়ে চক্রটির সাত সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী এক নারীর অভিযোগের ভিত্তিতে গুলশান থানায় মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।গ্রেপ্তাররা হলেন—বেলায়েত হোসেন (৪০), নাজমুল হাসান (১৯), মেহেদী হাসান (৩৭), সোলাইমান সুমন (৩২), ফজলে রাব্বী (২৭), তৌহিদুর রহমান (২৪) ও কাওসার হোসেন (৪২)। অভিযানে তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন ব্যক্তির নামে থাকা ৫৬টি পাসপোর্ট, সরকারি-বেসরকারি ও বিদেশি প্রতিষ্ঠানের নামে ব্যবহৃত ১৫৩টি সিল, তিনটি সিপিইউ, একটি ল্যাপটপ, একটি এম্বোস সিল এবং আড়াই লাখ টাকা জব্দ করা হয়েছে।মামলার এজাহার অনুযায়ী, ভুক্তভোগী নারীর স্বামী দীর্ঘদিন ধরে ইতালিতে বসবাস করেন। স্বামীর কাছে সন্তানদের নিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে তিনি ইতালির দূতাবাসে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও পাসপোর্ট জমা দেন। পরে পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হওয়ায় নবায়নের প্রয়োজন হলে তার পরিচয় হয় নাজমুল হাসানের সঙ্গে। নাজমুল দ্রুত পাসপোর্ট নবায়ন ও ইতালির ভিসা করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তাকে গুলশানের একটি ট্রাভেল এজেন্সিতে নিয়ে যান। সেখানে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান বেলায়েত হোসেনের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। অভিযুক্তরা ভিসা করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভুক্তভোগীর সঙ্গে আর্থিক চুক্তি করেন।ভিসা হওয়ার পর টাকা না পাওয়ায় তারা পাসপোর্ট নিজেদের কাছে রেখে দেন। পরে পাসপোর্ট ফেরত পেতে ভুক্তভোগী চলতি বছরের ১৯ এপ্রিল ও ১১ মে দুই দফায় মোট ৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা তাদের ব্যাংক হিসাবে জমা দেন। টাকা পাওয়ার পর পাসপোর্ট ফেরত দেওয়া হয়। ভুক্তভোগীর স্বামী পরিবারের জন্য বিমানের টিকিট কাটার পর নির্ধারিত দিনে তিনি সন্তানদের নিয়ে ঢাকার বিমানবন্দরে যান। ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ সেখানে জানান, তার পাসপোর্টে থাকা ইতালির ভিসা ব্যবহার করে ২৪ এপ্রিলই অন্য এক নারী ইতালিতে প্রবেশ করেছেন। এরপর ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের পরামর্শে তিনি সিআইডির মানব পাচার শাখায় অভিযোগ করেন।সিআইডির প্রাথমিক তদন্তে ভিসা জালিয়াতি ও মানব পাচারের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। তদন্তকারীদের ভাষ্য, চক্রটি বিদেশে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে পাসপোর্ট নিজেদের হেফাজতে রাখত এবং জালিয়াতির মাধ্যমে প্রকৃত পাসপোর্টধারীর পরিবর্তে অন্য ব্যক্তিকে বিদেশে পাঠাত। তদন্তে আরও জানা যায়, চক্রটির মূল হোতা হিসেবে অভিযুক্ত বেলায়েত হোসেন ২০১৬ সাল থেকে একই কৌশলে প্রায় ৩০ জনকে ইতালিতে পাঠানোর সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে প্রাথমিক তথ্য মিলেছে। একই ধরনের অপরাধের অভিযোগে ২০২৪ সালে বিমানবন্দর থানায় দায়ের হওয়া একটি মামলায়ও তিনি বর্তমানে জামিনে রয়েছেন।সিআইডি জানিয়েছে, জব্দ করা পাসপোর্ট, সিল, কম্পিউটারসহ অন্যান্য আলামতের ফরেনসিক পরীক্ষা চলছে। পাশাপাশি চক্রটির দেশি-বিদেশি সহযোগী এবং সম্ভাব্য আরও ভুক্তভোগীদের শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
২ ঘন্টা আগে
ইরানের সঙ্গে নতুন যুদ্ধে জড়াতে চায় না ইসরায়েল: অর্থমন্ত্রী বেজালেল

ইরানের সঙ্গে নতুন যুদ্ধে জড়াতে চায় না ইসরায়েল: অর্থমন্ত্রী বেজালেল

ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে নতুন করে জড়ানোর কোনো আগ্রহ নেই বলে জানিয়েছেন ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থী অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচ। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।স্মোটরিচ বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সীমিত পরিসরে যে সংঘাত চলছে, সেটিই ইসরায়েলের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত। এই সংঘাতে নিজেদের সরাসরি সম্পৃক্ত করার কোনো ইচ্ছা তাদের নেই। তিনি আরও বলেন, 'বর্তমান পরিস্থিতি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সীমিত পরিসরে সংঘাত চলছে, সেটিই আমাদের জন্য সবচেয়ে ভালো। আমরা এতে নিজেদের জড়াতে চাই না।'গত কয়েক সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা ও পাল্টাপাল্টি হামলা বাড়লেও ইসরায়েল এই সংঘাতে তুলনামূলকভাবে দূরে রয়েছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এপ্রিলের যুদ্ধবিরতির পর কূটনৈতিক আলোচনা চলাকালে ওয়াশিংটন তেল আবিবকে সংঘাত থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়েছিল।এদিকে, গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা হলেও তা বেশিদিন টেকেনি। সমঝোতা ভেঙে যাওয়ার পর হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে আবারও পাল্টাপাল্টি হামলা শুরু হয়, যা মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা বাড়িয়েছে। ইসরায়েলের এই অবস্থান ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য সরাসরি সংঘাত এড়াতে মার্কিন প্রশাসনের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
১ ঘন্টা আগে
১৫ এপ্রিল ২০২৬, ১২:১১ এএম
আপনি কি মনে করেন বিএনপি জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর ও শব্দ বাস্তবায়ন করবে?

আপনি কি মনে করেন বিএনপি জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর ও শব্দ বাস্তবায়ন করবে?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ জন
ফার্মের মুরগি কতটা স্বাস্থ্যকর?

ফার্মের মুরগি কতটা স্বাস্থ্যকর?

ফার্মের মুরগি বা ব্রয়লার মুরগি নিয়ে মানুষের মধ্যে নানা ধরনের সংশয় থাকলেও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি নিজে ক্ষতিকর নয়। বরং নিরাপদ উৎপাদন, সঠিক সংরক্ষণ ও স্বাস্থ্যসম্মতভাবে রান্না করা হলে ব্রয়লার মুরগি উচ্চমানের প্রোটিন ও প্রয়োজনীয় পুষ্টির অন্যতম উৎস হতে পারে।বাংলাদেশের অধিকাংশ পরিবারের প্রোটিনের চাহিদা পূরণে সবচেয়ে সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী খাবারের একটি হলো ব্রয়লার মুরগি। তবে দীর্ঘদিন ধরেই এটি খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর কি না—এ নিয়ে নানা আলোচনা রয়েছে।এ বিষয়ে চিকিৎসক ডা. সাহানাজ বলেন, ব্রয়লার মুরগি নিজে কোনোভাবেই ক্ষতিকর নয়। এতে উচ্চমানের প্রোটিনের পাশাপাশি ভিটামিন বি-১২, ভিটামিন বি-৬, নিয়াসিন (ভিটামিন বি-৩), ফসফরাস, সেলেনিয়াম ও জিংকের মতো গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান রয়েছে।তার ভাষ্য, ব্রয়লার মুরগি নিরাপদ কি না, তা নির্ভর করে কীভাবে এটি পালন করা হয়েছে, অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের নিয়ম মানা হয়েছে কি না এবং জবাই ও সংরক্ষণের সময় স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করা হয়েছে কি না—এসব বিষয়ের ওপর।অ্যান্টিবায়োটিক প্রসঙ্গে ডা. সাহানাজ জানান, কিছু খামারে রোগ প্রতিরোধ বা চিকিৎসার জন্য অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করা হয়। তবে নির্ধারিত নিয়ম না মেনে অতিরিক্ত অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার কিংবা জবাইয়ের আগে প্রয়োজনীয় বিরতি না মানলে মাংসে ওষুধের অবশিষ্টাংশ থেকে যেতে পারে। এতে দীর্ঘমেয়াদে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স বা অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী জীবাণুর ঝুঁকি বাড়তে পারে।ব্রয়লার মুরগিকে দ্রুত বড় করতে হরমোন ব্যবহার করা হয়—এমন ধারণা নিয়েও কথা বলেন তিনি। তার মতে, এ দাবির পক্ষে শক্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। আধুনিক ব্রয়লার মুরগির দ্রুত বৃদ্ধি মূলত উন্নত জাত, সুষম খাদ্য এবং উন্নত খামার ব্যবস্থাপনার ফল।তিনি আরও বলেন, খামারে স্বাস্থ্যবিধি না মানা হলে কিংবা জবাই ও সংরক্ষণের সময় অসতর্কতা থাকলে সালমোনেলা ও ক্যাম্পিলোব্যাক্টারের মতো ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া মাংসে থাকতে পারে। তাই ব্রয়লার মুরগির মাংস অবশ্যই ভালোভাবে সিদ্ধ বা রান্না করে খাওয়া উচিত।ডা. সাহানাজের মতে, চামড়াবিহীন ব্রয়লার মুরগির মাংস পরিমিত পরিমাণে নিয়মিত খাওয়া স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অংশ হতে পারে। তিনি বলেন, দেশি ও ব্রয়লার—উভয় ধরনের মুরগিই ভালো প্রোটিনের উৎস। দেশি মুরগির স্বাদ ও গঠন ভিন্ন হলেও পুষ্টিগুণের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য নেই। মূল বিষয় হলো নিরাপদ উৎপাদন, ভালো মান এবং স্বাস্থ্যসম্মত রান্না।স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা ব্রয়লার মুরগি কেনা ও খাওয়ার ক্ষেত্রে কয়েকটি পরামর্শ দিয়েছেন:বিশ্বস্ত দোকান বা অনুমোদিত খামার থেকে মুরগি কেনাদুর্গন্ধযুক্ত বা অস্বাভাবিক রঙের মাংস এড়িয়ে চলাকাঁচা ও রান্না করা মাংস আলাদা রাখামাংস সম্পূর্ণ সিদ্ধ করে খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলাবিশেষজ্ঞদের মতে, সচেতনতা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললেই ব্রয়লার মুরগি নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করা সম্ভব।
১৫ জুলাই ২০২৬
অর্থনীতির তিন সংকটে আইএমএফের উদ্বেগ, প্রবৃদ্ধি কমার শঙ্কা

অর্থনীতির তিন সংকটে আইএমএফের উদ্বেগ, প্রবৃদ্ধি কমার শঙ্কা

বাংলাদেশ সরকারের অনুরোধে নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা শুরু করেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, রাজস্ব ঘাটতি, ব্যাংক খাতের দুর্বলতা ও উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে দেশের অর্থনীতি উল্লেখযোগ্য চাপে রয়েছে। আইএমএফের মিশন প্রধান আইভো ক্রজনারের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল ১২ থেকে ১৬ জুলাই ঢাকা সফর শেষে বৃহস্পতিবার প্রকাশিত বিবৃতিতে এসব তথ্য জানায়।সফর শেষে আইভো ক্রজনার বলেন, 'বাংলাদেশ এখনও উল্লেখযোগ্য রাজস্ব, আর্থিক খাত ও মূল্যস্ফীতিজনিত চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ এসব চ্যালেঞ্জকে আরও তীব্র করেছে'। বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানি ও অন্যান্য পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্নের কারণে দেশে আবারও মূল্যস্ফীতির চাপ বেড়েছে। একই সঙ্গে ভর্তুকি ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় সরকারের আগেই সীমিত রাজস্ব সক্ষমতার ওপর আরও চাপ তৈরি হয়েছে।আইএমএফ জানিয়েছে, উচ্চ আমদানি ব্যয় এবং বৈশ্বিক জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধির কারণে বৈদেশিক খাতেও চাপ তৈরি হয়েছে। যদিও প্রবাসী আয়ের প্রবৃদ্ধি শক্তিশালী রয়েছে, তারপরও ভারসাম্য রক্ষায় চাপ অব্যাহত রয়েছে। সংস্থাটি আরও মন্তব্য করেছে যে ব্যাংকিং খাতের চাপও এখনও উদ্বেগজনক।প্রবৃদ্ধি কমার শঙ্কাবাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিয়ে আইএমএফের পূর্বাভাস উদ্বেগের ইঙ্গিত দিয়েছে। সংস্থাটির কর্মীদের প্রক্ষেপণ অনুযায়ী, প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়ন না হলে ২০২৭ অর্থবছরে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমে ৩ দশমিক ৫ শতাংশে নেমে আসতে পারে। আর রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি, আর্থিক সক্ষমতা সৃষ্টি এবং ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা দূর করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে মধ্যমেয়াদে প্রবৃদ্ধি আরও কমে ৩ শতাংশের নিচে নেমে যেতে পারে।আইএমএফের মতে, ব্যাংকিং খাতের চাপ, রাজস্ব চ্যালেঞ্জ এবং বৈদেশিক খাতের ঝুঁকি একে অপরকে আরও তীব্র করতে পারে। নতুন সম্ভাব্য আইএমএফ কর্মসূচির পরিধি, অর্থায়নের আকার এবং এর সঙ্গে যুক্ত সংস্কার কার্যক্রম নিয়ে আগামী কয়েক মাসে আলোচনা অব্যাহত থাকবে।
১০ জুন ২০২৬
চলতি অর্থবছরের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ সম্ভব: অর্থমন্ত্রী

চলতি অর্থবছরের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ সম্ভব: অর্থমন্ত্রী

১০ জুন ২০২৬
ফেসবুক-মেসেঞ্জার অচল, ওয়েব ভার্সনে বিপত্তি

ফেসবুক-মেসেঞ্জার অচল, ওয়েব ভার্সনে বিপত্তি

হঠাৎ করেই জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক ও মেসেঞ্জার ব্যবহারে সমস্যায় পড়েছেন বিশ্বজুড়ে অনেক ব্যবহারকারী। রোববার (১৯ জুলাই) দুপুর ১টা ৪০-এর পর থেকে ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে গিয়ে অচল অবস্থার মুখোমুখি হচ্ছেন অনেকে । মোবাইল অ্যাপে সমস্যা না থাকলেও ওয়েব ভার্সনে বার্তা পাঠানো, নিউজফিড দেখার ক্ষেত্রে দেখা দিয়েছে সমস্যা ।ওয়েব ভার্সনে প্রবেশের চেষ্টা করলে অনেককে 'অ্যাকাউন্ট সাময়িকভাবে অনুপলব্ধ' বা 'আপনি যে লিংকে ক্লিক করেছেন সেটি হয়তো ভাঙা বা পৃষ্ঠাটি সরিয়ে ফেলা হয়েছে'—এ ধরনের বার্তা দেখতে হচ্ছে । মেসেঞ্জারের ক্ষেত্রেও একই অবস্থা; পাঠানো বার্তা যাচ্ছে না বা দীর্ঘ সময় ধরে 'সেন্ডিং' দেখাচ্ছে । তবে ইনস্টাগ্রাম, থ্রেডস, হোয়াটসঅ্যাপের মতো মেটার অন্যান্য প্ল্যাটফর্মে তেমন কোনো সমস্যা লক্ষ্য করা যায়নি ।ব্যবহারকারীদের অভিযোগের ওপর নজর রাখা ডাউনডিটেক্টরের তথ্য অনুযায়ী, রোববার বিকেলে কয়েক মিনিটের মধ্যেই ৩ হাজারের বেশি ব্যবহারকারী সমস্যার কথা জানিয়েছেন । এ সমস্যা শুধু বাংলাদেশ বা ভারত নয়, বিশ্বব্যাপী দেখা যাচ্ছে ।ব্যবসায়িক কার্যক্রমে প্রভাববিশেষজ্ঞদের মতে, এই সমস্যার প্রভাব শুধু বিনোদন বা ব্যক্তিগত যোগাযোগের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। বর্তমানে অনেক ছোট ব্যবসা, অনলাইন উদ্যোক্তা, সংবাদমাধ্যম ও ফ্রিল্যান্সাররা ফেসবুকের ওপর নির্ভরশীল। ফলে কয়েক ঘণ্টার সমস্যাও তাদের কাজের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।মেটা অবশ্য এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে এই সমস্যার কারণ বা সমাধানের বিষয়ে কিছু জানায়নি । তবে জানা গেছে, গত এপ্রিল থেকে মেসেঞ্জারের স্ট্যান্ডঅ্যালোন ওয়েবসাইটটি ধাপে ধাপে বন্ধ করে ফেসবুকের সঙ্গে একীভূত করার প্রক্রিয়া চলছে । এই পরিবর্তনের কারণেই সাময়িক সমস্যা তৈরি হতে পারে বলে ধারণা করছেন প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা।
১৯ জুলাই ২০২৬
কোন ছবি নেই !
কোন ছবি নেই !
ই-পাসপোর্টে জুলাই শহীদদের ছবি যুক্ত হচ্ছে

ই-পাসপোর্টে জুলাই শহীদদের ছবি যুক্ত হচ্ছে

বাংলাদেশের সাধারণ ই-পাসপোর্টের নকশায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনছে সরকার। ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের স্মৃতিকে ধরে রাখতে পাসপোর্টের পাতায় জলছাপ (ওয়াটারমার্ক) হিসেবে যুক্ত করা হচ্ছে শহীদ আবু সাঈদ, মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধ এবং মোহাম্মদ ওয়াসিমের ছবি।রোববার (১৯ জুলাই) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বহিরাগমন-৪ শাখা থেকে জারিকৃত এক প্রজ্ঞাপনে নতুন এই নকশার চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ই-পাসপোর্টের বিদ্যমান বুকলেটের নকশা ও জলছাপ পুনর্বিন্যাস করা হচ্ছে। নতুন অনুমোদিত নকশায় পাসপোর্টের ৩১ ও ৩২ নম্বর পৃষ্ঠায় জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক সেই উত্তাল মুহূর্তটি ঠাঁই পাবে। তরুণদের আত্মত্যাগের সেই স্মৃতিকে আন্তর্জাতিক এই ভ্রমণ নথিতে স্থায়ী রূপ দিতেই শহীদ আবু সাঈদ, মুগ্ধ ও ওয়াসিমের ছবি জলছাপ হিসেবে ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।পাসপোর্টের নতুন এই বিন্যাসে জুলাই অভ্যুত্থানের পাশাপাশি বাংলাদেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের নানা অনুষঙ্গও যুক্ত করা হয়েছে। বিভিন্ন পৃষ্ঠায় জলছাপ হিসেবে দেখা যাবে জাতীয় স্মৃতিসৌধ, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, জাতীয় সংসদ ভবন এবং সুপ্রিম কোর্টের ছবি। এ ছাড়া লালবাগ দুর্গ, কান্তজিউ মন্দির, পানামনগর ও কার্জন হলের মতো গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক স্থাপনাও ঠাঁই পেয়েছে নতুন নকশায়।দেশের প্রাকৃতিক ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে ঝাউবনসহ কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত, সুন্দরবন, টাঙ্গুয়ার হাওর ও নীলগিরির ছবি যুক্ত করা হয়েছে। জাতীয় ফুল, মাছ, পাখি ও ফলের পাশাপাশি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের বিখ্যাত চিত্রকর্ম 'সংগ্রাম'-কে।প্রজ্ঞাপনে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, পাসপোর্টের ডাটা পেজে আগের নিয়মই বহাল থাকছে। অর্থাৎ, এটি ইসরায়েল ব্যতীত বিশ্বের সব দেশের ভ্রমণের জন্য বৈধ থাকবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই সিদ্ধান্ত দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনা প্রদান করেছে।২০২৪ সালের জুলাই মাসে বাংলাদেশে সংগঠিত ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে আবু সাঈদ, মুগ্ধ ও ওয়াসিমসহ বহু মানুষ প্রাণ হারান। আন্দোলনের সেই গৌরবময় ইতিহাসকে পরবর্তী প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে এবং জাতীয় নথিতে তাদের অবদানকে স্বীকৃতি দিতেই এই উদ্যোগ নিয়েছে বর্তমান সরকার। এটি বাংলাদেশের পাসপোর্টের ইতিহাসে একটি অনন্য ও আবেগঘন পরিবর্তন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
১০ জুন ২০২৬
শেখ নূর কুতুব আলম: বাংলার আধ্যাত্মিক নেতৃত্বের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত

শেখ নূর কুতুব আলম: বাংলার আধ্যাত্মিক নেতৃত্বের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত

বাংলার মধ্যযুগীয় ইতিহাসে পান্ডুয়া ছিল জ্ঞান, সংস্কৃতি ও আধ্যাত্মিক সাধনার অন্যতম কেন্দ্র। এই শহরের খানকাগুলোতে যেমন ধর্মীয় শিক্ষা বিস্তার লাভ করত, তেমনি এখান থেকেই সমাজজীবনে নৈতিক নেতৃত্বও গড়ে উঠত। ১৩৫০ সালের কিছু আগে তৎকালীন বাংলার রাজধানী পান্ডুয়ায় তার জন্ম। তার প্রকৃত নাম নূরুদ্দীন নূরুল হক। ‘নূর কুতুবুল আলম’ তার উপাধি।তার পিতা ছিলেন বাংলার অন্যতম শ্রেষ্ঠ আলেম ও সুফি শায়খ আলাউল হক। বংশপরিচয়ও ছিল সম্মানজনক—তিনি লাহোরের প্রসিদ্ধ সাধক শেখ আসাদের পৌত্র। পিতার মতো তিনি ছিলেন চিশতিয়া তরিকার একজন বিশিষ্ট পীর। ইলিয়াস শাহী বংশের তৃতীয় সুলতান গিয়াস উদ্দিন আজম শাহ ছিলেন তার সহপাঠী ও বন্ধু। কিন্তু বংশগৌরবের চেয়েও বড় ছিল তার ব্যক্তিত্ব, জ্ঞান, দূরদর্শিতা এবং মানুষের জন্য আত্মনিবেদিত জীবন।ব্যক্তিগত জীবন ও আধ্যাত্মিক সাধনানূর কুতুব আলম তাঁর পিতার আমল থেকে সব ধরনের কায়িক শ্রমের অভ্যাস করতেন। দরগায় আগত ফকিরদের কাপড় ধোয়া, লাকড়ি ও পানি বহন, শীতকালে পীরের অজু করার জন্য সর্বদা পানি গরম রাখা, এমনকি খানকাহসংলগ্ন শৌচাগার পরিষ্কার করা প্রভৃতি কাজে তিনি নিজেকে নিয়োজিত রাখতেন।আজকের সময়ে নেতৃত্বকে আমরা প্রায়ই ক্ষমতা, প্রভাব কিংবা সামাজিক মর্যাদার সঙ্গে মিলিয়ে দেখি। অথচ নূর কুতুব আলমের জীবন আমাদের শেখায়, প্রকৃত নেতৃত্ব শুরু হয় সেবার মাধ্যমে। যে মানুষ নিজের হাতে মানুষের কষ্ট লাঘব করতে পারে, তিনিই প্রকৃত অর্থে মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিতে পারেন।রাজনৈতিক সংকটে নূর কুতুব আলমের ভূমিকানূর কুতুব আলমের জীবনের সবচেয়ে উজ্জ্বল অধ্যায় রচিত হয় এক ভয়াবহ রাজনৈতিক সংকটের সময়। ১৪১৫ খ্রিস্টাব্দে রাজা গণেশ নামক একজন হিন্দু শাসক ইলিয়াস শাহি বংশ উত্খাত করে ক্ষমতা গ্রহণ করেন। তিনি মুসলমানের ওপর নজিরবিহীন জুলুম-নির্যাতন শুরু করেন। এমনকি শায়খ ও আলেমদের ওপর অবর্ণনীয় অত্যাচার শুরু করেন।বিশেষ করে ধর্মীয় নেতৃত্ব, আলেম-ওলামা এবং সাধারণ মুসলমানদের ওপর নিপীড়নের অভিযোগ বিভিন্ন ঐতিহাসিক গ্রন্থে উল্লেখিত হয়েছে। বাংলার মুসলিম সমাজ গভীর অনিশ্চয়তা ও আতঙ্কের মধ্যে পড়ে।এই পরিস্থিতিতে শেখ নূর কুতুব আলম নীরব থাকেননি। তিনি উপলব্ধি করেছিলেন, কেবল খানকায় বসে ইবাদত করাই একজন আধ্যাত্মিক নেতার একমাত্র দায়িত্ব নয়; মানুষের জীবন, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সামাজিক নিরাপত্তা বিপন্ন হলে ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্যও এগিয়ে আসতে হয়। তার এই অবস্থান প্রমাণ করে, ইসলামী আধ্যাত্মিকতার প্রকৃত শিক্ষা সমাজবিমুখতা নয়; বরং মানুষের কল্যাণে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন।কূটনৈতিক পদক্ষেপ ও রাজা গণেশের সাথে সমঝোতাবাংলার মুসলমানদের রক্ষার জন্য তিনি এক গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। তিনি জৌনপুরের সুলতান ইবরাহিম শর্কিকে বাংলা আক্রমণ করে বাংলাকে গণেশের হাত থেকে রক্ষা করার অনুরোধ জানিয়ে চিঠি লেখেন। একই সঙ্গে তিনি প্রসিদ্ধ সুফি ব্যক্তিত্ব মীর সৈয়দ আশরাফ জাহাঙ্গীর সিমনানিকেও অনুরোধ করেন, যেন তিনিও ইবরাহিম শর্কিকে বাংলার মুসলমানদের সহায়তায় এগিয়ে আসতে উদ্বুদ্ধ করেন।সুলতান ইবরাহিম শর্কি এই অনুরোধ রক্ষা করে বাংলা আক্রমণের উদ্দেশ্যে পিরোজপুর এসে শিবির স্থাপন করেন। রাজা গণেশ এতে ভয় পেয়ে নূর কুতুব আলমের কাছে আত্মসমর্পণ করেন এবং তাঁকে ক্ষমা করে ইবরাহিম শর্কিকে জৌনপুরে ফিরে যেতে বলার অনুরোধ জানান।কিন্তু নূর কুতুব আলম এতে সম্মত হননি। তিনি জানিয়ে দেন, একজন মুসলিম শাসককে কোনো অমুসলিম শাসকের পক্ষ নিয়ে তিনি ফিরিয়ে দিতে পারেন না। বরং পূর্বশর্ত হিসেবে তিনি রাজা গণেশকে ইসলাম গ্রহণের আহ্বান জানান। গণেশ তাতে সম্মত হন, কিন্তু বিস্তারিত শুনে তাঁর রানি এতে বাধা দেন। গণেশ তখন তার ১২ বছরের ছেলে যদুকে নিয়ে শায়খের কাছে আসেন। যদুকে ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত করে 'জালালুদ্দীন' নাম দেওয়া হয় এবং গণেশ তার পক্ষে সিংহাসন ত্যাগ করেন।এই ঘটনার মধ্য দিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ এড়ানো সম্ভব হয় এবং বাংলার রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অন্তত সাময়িকভাবে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়।পরবর্তী পরিস্থিতি ও নূর কুতুব আলমের দূরদর্শিতাশায়খের মৃত্যুর পর গণেশ অবশ্য যদুকে হিন্দু ধর্মে পুনরায় দীক্ষিত করে নিজে সিংহাসনে অধিষ্ঠিত হন। কিন্তু রাজা গণেশের মৃত্যু হলে যদু জালালুদ্দীন মুহাম্মদ শাহ উপাধি গ্রহণ করে সিংহাসনে আরোহণ করেন এবং বাংলার মুসলিম শাসনব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়।এই ঘটনাপ্রবাহে নূর কুতুব আলমের দূরদর্শিতার প্রতিফলন স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তিনি হয়তো জানতেন, একটি সংকটময় সময়ে আপসের মধ্য দিয়েও দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার পথ তৈরি করা যায়।রচিত গ্রন্থসমূহ ও আধ্যাত্মিক উত্তরসূরিতিনি শুধু নিজের আধ্যাত্মিক সাধনায় সীমাবদ্ধ থাকেননি; পরবর্তী প্রজন্ম গড়ে তোলার প্রতিও ছিলেন সমান মনোযোগী। তাঁর রচিত গ্রন্থ সংখ্যা ১২১টি। সেগুলো তার প্রধান মুরিদ ও খলিফা হুসামুদ্দিন মানিকপুরী সম্পাদনা করেন। তন্মধ্যে বিখ্যাত দুটি গ্রন্থ হলো মুগিসুল ফুকারা ও আনিসুল গুরাবা।মুগিসুল ফুকারার একটি পাণ্ডুলিপি সংরক্ষিত আছে বিহারের ভাগলপুরের খলিফাবাগ একটি প্রাইভেট লাইব্রেরিতে। আরেকটি অসম্পূর্ণ কপি সংরক্ষিত আছে এশিয়াটিক সোসাইটি অব বেঙ্গল কলিকাতার লাইব্রেরিতে (সংগ্রহ নং- ৪৬৬)। সেখানে আনিসুল গুরাবা বইটির ২টি কপি সংরক্ষিত আছে (সংগ্রহ নং: ১২১২ ও ১২১৩)।তিনি তাঁর দুই পুত্র শেখ রাফকাতউদ্দীন এবং শেখ আনোয়ারকে আধ্যাত্মিক শিক্ষা দেন। সম্ভবত পিতার জীবদ্দশায় শেখ আনোয়ার রাজা গণেশের হাতে সোনারগাঁয়ে শহীদ হন। শেখ নূর কুতুব আলমের অন্য আর একজন প্রধান মুরিদ ছিলেন শেখ হুসামুদ্দীন মানিকপুরী।পত্র সংকলন ও ঐতিহাসিক দলিলনূর কুতুব আলমের ১৩টি পত্রের একটি গ্রন্থ সম্পাদনা করেন মুহাদ্দিস আব্দুল হক দেহলভী। যে গ্রন্থের নাম মাকতুবাত ই নূর কুতুবুল আলম। এটি দিল্লির ইন্ডিয়ান আর্কাইভে সংরক্ষিত আছে। এই পত্রগুলো থেকে সমসাময়িক রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়।সুলতানদের শ্রদ্ধা ও দরগাহের গুরুত্বশেখ নূর কুতুব আলমের প্রতি পরবর্তী সুলতানদের শ্রদ্ধাও ছিল অসাধারণ। তার দরগাহ সংলগ্ন সরাইখানা ও মাদরাসার ব্যয় নির্বাহের জন্য সুলতান আলাউদ্দীন হোসেন শাহ কয়েকটি গ্রাম দান করেন। দরবেশের মাজার জিয়ারতের জন্য সুলতান বছরে একবার রাজধানী শহর একডালা থেকে পান্ডুয়ায় আসতেন।শায়খ নূর কুতুব আলম পান্ডুয়ার পীর-আউলিয়ার মধ্যে শীর্ষ মর্যাদার অধিকারীদের অন্যতম। পিতা-পুত্র দুজনই পান্ডুয়ার বিখ্যাত শাশ হাজারি দরগায় শায়িত আছেন। পিতার মতো তিনি চিশতিয়া মতাদর্শের পীর ছিলেন। তাঁর অনুসারী শিষ্যকুল ও দরবেশরা কয়েক শতক ধরে বাংলায় মুসলিম সমাজজীবনে তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।ঐতিহাসিক দৃষ্টিতে শায়খ নূর কুতুব আলমের সর্বশ্রেষ্ঠ অবদান বাংলার মুসলিম শাসন রাজা গণেশের হাত থেকে রক্ষা করা।মৃত্যুশেখ নূর কুতুব আলম ৮১৮ হিজরি বা ১৪১৫ খ্রিস্টাব্দে (বাংলাপিডিয়া ও উইকিপিডিয়া মতে) ইন্তেকাল করেন। তবে প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, ১৪৪৭ সালের ৭ জানুয়ারি তার মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়। তার ইন্তেকালের সঙ্গে একটি সুন্দর ফারসি অভিব্যক্তি যুক্ত হয়েছে—"নূর বানূর-শুদ", অর্থাৎ "আলো আলোতে বিলীন হয়ে গেল।"এই বাক্যটি যেন তার সমগ্র জীবনেরই প্রতীক। তিনি এমন এক আলোকবর্তিকা ছিলেন, যিনি নিজের জন্য নয়, মানুষের পথ আলোকিত করার জন্য জীবন উৎসর্গ করেছিলেন।ইতিহাসে বহু রাজা এসেছেন, বহু সাম্রাজ্য গড়ে উঠেছে এবং বিলীন হয়েছে। কিন্তু যারা মানুষের হৃদয়ে নৈতিকতার আলো জ্বালিয়ে দেন, তাদের স্মৃতি যুগের পর যুগ অম্লান থাকে। শেখ নূর কুতুব আলম সেই বিরল ব্যক্তিত্বদের একজন, যার জীবন বাংলার ইতিহাসে আধ্যাত্মিক নেতৃত্ব, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং নৈতিক সাহসের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে আজও আমাদের সামনে দাঁড়িয়ে আছে।তথ্যসূত্র: উইকিপিডিয়া, বাংলাপিডিয়া, শায়েখ আব্দুল হক দেহলভী, আকবারুল উখিয়া ফি আসরারুল আবরার, সোস্যাল হিস্টোরি অফ দ্যা মুসলিম ইন ব্যাঙ্গাল।
ফিরোজ আল মামুন