ঢাকা    রোববার, ০৭ জুন ২০২৬
ঢাকা    রোববার, ০৭ জুন ২০২৬
গণবার্তা
সর্বশেষ

জ্ঞান ও মেধাভিত্তিক রাষ্ট্র গড়তে চায় সরকার, শিক্ষকদের এগিয়ে আসার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

বর্তমান সরকার একটি জ্ঞান ও মেধাভিত্তিক রাষ্ট্র এবং সমাজ গড়তে চায়। সমাজ পরিবর্তনের অগ্রদূত ও রোল মডেল হিসেবে শিক্ষকদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, দেশের ছাত্র ও যুবশক্তিকে প্রযুক্তিতে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করতে পারলে সমৃদ্ধ ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ বিশ্বের রোল মডেল হবে।রোববার (৭ জুন) সকালে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় আয়োজিত ‘কর্মমুখী ও টেকনিক্যাল শিক্ষা বিষয়ে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ’ কার্যক্রমের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষার ওপর গুরুত্বপ্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশে সনদনির্ভর শিক্ষার পরিবর্তে দক্ষতাভিত্তিক, প্রযুক্তিনির্ভর এবং বাস্তব ও কর্মমুখী শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, জ্ঞান ও মেধাভিত্তিক সমাজ গঠনের মূল ভিত্তি হলো এমন একটি পরিবেশ তৈরি করা, যেখানে শিক্ষা, গবেষণা, মেধা, যোগ্যতা এবং সৃজনশীলতা সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাবে।চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের এই যুগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও অটোমেশনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রচলিত শিক্ষা কারিকুলামকে আধুনিক ও সময়োপযোগী করার কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।ভাষা শিক্ষার গুরুত্বপ্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রযুক্তিগত জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি দেশের আবহমানকালের ধর্মীয় ও সামাজিক নৈতিক মূল্যবোধে নিজেদের সমৃদ্ধ করতে হবে। বাংলা এবং ইংরেজির পাশাপাশি তৃতীয় আরেকটি ভাষা শিখতে পারলে দেশ-বিদেশে কোথাও চাকরির অভাব হবে না। জনগণের কাছে দায়বদ্ধ এই সরকার একটি জ্ঞান ও মেধাভিত্তিক রাষ্ট্র এবং সমাজ গড়তে চায়।ইতিহাস থেকে শিক্ষাএকটি জ্ঞানভিত্তিক রাষ্ট্র ও সমাজ গড়ে তোলার ওপর জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের স্বাধীনতা এবং মুক্তিযুদ্ধ অর্জন থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত ইতিহাসের প্রতিটি বাঁকে যেসব সাহসী মানুষ গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা রক্ষায় আত্মত্যাগ করেছেন, তাঁদের অবদানকে সম্মান জানাতে আমাদের শিক্ষাদীক্ষায়, জ্ঞানে-বিজ্ঞানে ও প্রযুক্তিতে নিজেদের প্রস্তুত করতে হবে। অন্যথায় বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা কষ্টকর হবে।’জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকার প্রশংসাউচ্চশিক্ষা বিস্তারে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অবদানের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সারা দেশে ২ হাজারের বেশি অধিভুক্ত কলেজে বর্তমানে ৪০ লাখের বেশি শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছেন। উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থাপনার সংকট নিরসন এবং সবার জন্য শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা খালেদা জিয়া ১৯৯২ সালে এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। দেশের আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর উচ্চশিক্ষা বিস্তারে প্রতিষ্ঠানটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।’প্রধানমন্ত্রী শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান জানান, তারা যেন সমাজ পরিবর্তনের অগ্রদূত ও রোল মডেল হিসেবে সামনে এগিয়ে আসেন এবং তরুণ প্রজন্মকে প্রযুক্তিতে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তরিত করার কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
৪ ঘন্টা আগে

পল্লবীতে শিশু রামিসা হত্যা মামলার রায়: আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তারের মৃত্যুদণ্ড

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে মাত্র আট বছর বয়সী শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর অত্যন্ত নির্মমভাবে গলা কেটে ও খণ্ড-বিখণ্ড করে হত্যার আলোচিত মামলার চূড়ান্ত রায় আজ ঘোষণা করা হয়েছে। রোববার (৭ জুন) ঢাকার মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন এই ঐতিহাসিক রায়ে আসামি সোহেল রানা এবং স্বপ্না আক্তারকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন।ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় এই রায় ঘোষণা করা হলো, যা দেশের বিচার বিভাগের ইতিহাসে একটি নজিরবিহীন ও দ্রুততম আইনি মাইলফলক।রায়ের বিবরণনারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(২) ধারায় আসামিদের সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। দণ্ডের পাশাপাশি আসামি সোহেল রানাকে ৫ লাখ টাকা এবং স্বপ্না আক্তারকে ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। অর্থদণ্ড ভিকটিম রামিসার আইনগত উত্তরাধিকার পাবে। ক্ষতিপূরণ না দিলে আসামিদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে ভুক্তভোগীর উত্তরাধিকারীকে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।ঘটনার বিবরণগত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা ঘর থেকে বের হয়। এ সময় তাকে কৌশলে নিজেদের বাসায় ডেকে নেন স্বপ্না। ওই দিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসাকে স্কুলে যাওয়ার জন্য খোঁজাখুঁজি করতে থাকেন তার মা। একপর্যায়ে সোহেলের দরজার সামনে মেয়ের জুতা দেখতে পান তিনি। ডাকাডাকির পর কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে রামিসার বাবা-মা এবং অন্যান্য ফ্ল্যাটের লোকজন দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে সোহেলের শয়নকক্ষের মেঝেতে রামিসার মস্তকবিহীন মরদেহ এবং একটি বড় বালতির মধ্যে মাথা দেখতে পান।ময়নাতদন্ত রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়, শিশুটির মুখে নখের আঁচড়, দুই ঠোঁট কাটা, নাক ভাঙা এবং বুকের বাঁ পাশে তীব্র আঘাতের চিহ্ন ছিল। ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে মাথা বিচ্ছিন্ন করার কারণেই রামিসার তাৎক্ষণিক মৃত্যু হয়। ফরেনসিক ও ডিএনএ টেস্টে মৃত্যুর পূর্বে তাকে ধর্ষণের অকাট্য আলামত মিলেছে।দ্রুততম বিচার প্রক্রিয়াঘটনার পরদিন ২০ মে ভোরে শিশুটির বাবা পল্লবী থানায় মামলা করেন। একই দিন সোহেল রানা আদালতে জবানবন্দি দিয়ে শিশুটিকে ধর্ষণ ও হত্যার দায় স্বীকার করেন।২৪ মে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ১ জুন ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে মামলার আনুষ্ঠিত বিচার শুরু হয়। পরদিন ২ জুন সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। রামিসার বাবা-মা, বোন ও স্বজনসহ মোট ১৮ জন সাক্ষ্য দেন। ৩ জুন আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থন এবং ৪ জুন যুক্তিতর্ক শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। সব কার্যক্রম শেষে আজ রায় ঘোষণা করা হয়।আইনজীবীদের প্রতিক্রিয়ারাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু বলেন, ‘এই মামলার রায় চার কার্যদিবসে সম্পন্ন হয়েছে। সেই পরিপ্রেক্ষিতে এই রায় একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে এ ধরনের অপরাধ দমনের ক্ষেত্রে। আমরা প্রসিকিউশন পক্ষ সন্তুষ্ট।’আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমুল্লাহ বলেন, ‘অপরাধীরা তাদের অপরাধের বিচার পেয়েছে। আমি সন্তুষ্ট। সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন। ন্যায়বিচার পেয়েছি।’রায় ঘিরে নিরাপত্তারায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে আদালত প্রাঙ্গণে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে স্বপ্না আক্তারকে আদালতে আনা হয়। পরে সকাল ৮টা ৫০ মিনিটে কারাগার থেকে প্রিজনভ্যানে করে আনা হয় সোহেল রানাকে। বেলা ১০টা ৪৫ মিনিটে মাথায় হেলমেট ও বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট পরিয়ে কড়া নিরাপত্তায় সোহেলকে এজলাসে তোলা হয়। এ সময় কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে তাকে দোয়া পড়তে দেখা যায়। তাঁর পাশে দাঁড়িয়ে স্বপ্না আক্তারকে কাঁদতে দেখা যায়।নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বর্ণনাআদালতে রামিসার সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুতকারী কর্মকর্তা এসআই মো. ইকবাল হোসেনের বিবরণ পুরো এজলাসকে স্তব্ধ করে দেয়। তিনি কান্নাভেজা কণ্ঠে জানান, ঘটনাস্থল থেকে একটি জর্জেটের ওড়না উদ্ধার করা হয়, যা দিয়ে শিশুটির মুখ শক্ত করে বেঁধে নির্যাতন চালানো হয়েছিল। আসামিদের শয়নকক্ষের দরজার সামনে খাটের নিচে মাথা বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রামিসার দেহ পড়ে ছিল এবং এক কোণায় রক্তমাখা পানির বালতির ভেতর থেকে তার কাটা মাথা উদ্ধার করা হয়। লাশ চিরতরে গুম করার উদ্দেশ্যে নরপশুরা শিশুটির হাত-পা আলাদা করার পাশাপাশি ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার যৌনাঙ্গও ক্ষতবিক্ষত করে।তদন্ত কর্মকর্তা জানান, ঘটনার পর রামিসার মা বারবার দরজা খুলতে আকুতি জানালেও খুনি দম্পতি দরজা খোলেনি। কারণ, তারা তখন ভেতরে শিশুটিকে উপর্যুপরি আঘাত করে লাশ গুম ও মাথা কাটার পৈশাচিক কাজে লিপ্ত ছিল। এমনকি গ্রেপ্তারের আগ মুহূর্তে তারা রক্তাক্ত ঘরের সব আলামত ও আস্তরণ পানি দিয়ে ধুয়ে নষ্ট করার চেষ্টা চালিয়েছিল।এই রায়ের মাধ্যমে ন্যায়বিচার পেল ছোট্ট রামিসা। দেশের বিচার ব্যবস্থার এই দ্রুত ও নজিরবিহীন পদক্ষেপ অপরাধ দমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।
৪ ঘন্টা আগে

পল্লবীতে শিশু রামিসা হত্যা মামলার রায় পড়া শুরু

রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও হত্যার মামলার রায় পড়া শুরু করেছেন আদালত।রোববার সকাল ১১টায় ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন এজলাসে এসে রায় পড়া শুরু করেন।আদালতে আসামিদের উপস্থিতিসকাল ৮টা ৩০ মিনিটে আসামি স্বপ্না আক্তারকে কাশিমপুর কারাগার থেকে প্রিজন ভ্যানে করে আদালতের হাজতখানায় আনা হয়।সকাল ৮টা ৫০ মিনিটে প্রধান আসামি সোহেল রানাকে কেরাণীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে হাজতখানায় রাখা হয়।মামলার অগ্রগতিগত বৃহস্পতিবার রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে আদালত আজকের দিন রায় ঘোষণার জন্য ধার্য করেন।রাষ্ট্রপক্ষ আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছে।আসামিপক্ষ সোহেল রানার জন্য যাবজ্জীবন এবং স্বপ্না আক্তারের জন্য লঘুদণ্ডের আবেদন করেছে।ঘটনার বিবরণগত ১৯ মে পল্লবীর একটি ফ্ল্যাট থেকে রামিসার খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তদন্তে জানা যায়, আসামি সোহেল রানা শিশুটিকে ফ্ল্যাটে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণের পর হত্যা করেন। পরে মরদেহ গোপন করতে মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয়। ঘটনার পর সোহেল পালিয়ে গেলেও নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার স্ত্রী স্বপ্নাকে ঘটনাস্থল থেকেই আটক করে পুলিশ। মাত্র ১৯ দিনের মাথায় এই বহুল আলোচিত মামলার রায় ঘোষণা হতে যাচ্ছে। আদালত প্রাঙ্গণে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং দেশবাসী রায়ের দিকে নজর রাখছে।
১১ ঘন্টা আগে
বিশ্বকাপ ফুটবল সম্প্রচারস্বত্ব কিনছে সরকার, খরচ কমল ২৫ কোটি টাকা

বিশ্বকাপ ফুটবল সম্প্রচারস্বত্ব কিনছে সরকার, খরচ কমল ২৫ কোটি টাকা

ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা থেকে এবারের বিশ্বকাপ ফুটবল ম্যাচ দেখানোর সম্প্রচারস্বত্ব কিনছে সরকার। ফিফা থেকে কোনো দরপত্র ছাড়া অর্থাৎ সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে (ডিপিএম) বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) জন্য এ স্বত্ব কেনা হচ্ছে। এতে মোট খরচ হচ্ছে ৭২ কোটি ৭০ লাখ টাকা। আগেরবারের চেয়ে এবার খরচ কমল ২৫ কোটি টাকা।আজ রোববার (৭ জুন) জাতীয় সংসদের মন্ত্রিসভা কক্ষে অর্থনৈতিক বিষয়–সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে প্রথমে বিষয়টির নীতিগত অনুমোদন হয়। এরপর সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে ফিফা থেকে সরাসরি সম্প্রচারস্বত্ব কেনার প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। উভয় বৈঠকেই সভাপতিত্ব করেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।সম্প্রচারস্বত্বের ব্যয়বৈঠক শেষে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপস্থাপন করা এ প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে বলে অর্থ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়। বিটিভিতে বিশ্বকাপের সব খেলা দেখানোর জন্য সব ধরনের স্বত্ব কেনা হচ্ছে ৩৮ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলারে। প্রতি ডলার ১২২ টাকা ৭৭ পয়সা দরে হিসাব করে বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ ঠিক করেছে ৪৭ কোটি ২৬ লাখ ৮৫ হাজার টাকা। মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট), করসহ এতে মোট খরচ হবে ৭২ কোটি ৭০ লাখ টাকা।আগেরবারের চেয়ে খরচ কমআগের বারের অর্থাৎ ২০২২ সালের বিশ্বকাপ ফুটবলের সম্প্রচারস্বত্ব কিনতে বিটিভি অনেক জটিল প্রক্রিয়া অনুসরণ করেছিল। সেবার এ স্বত্ব কেনা হয়েছিল ৯৮ কোটি টাকায়। এবার ২৫ কোটি টাকা কম খরচে স্বত্ব কেনা সম্ভব হয়েছে।১১ জুন শুরু হচ্ছে বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে জমজমাট এই আসর। এটি বিশ্বকাপের ২৩তম আসর, যা ২০২৬ সালের ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত চলবে। উত্তর আমেরিকার কানাডা, মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্র—এ তিন দেশের ১৬টি শহরে যৌথভাবে এ আয়োজন করা হচ্ছে।এতে কোনো ধরনের কেবল নেটওয়ার্ক বা স্যাটেলাইট সংযোগ ছাড়াই বিটিভিতে এবারের বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা দেখা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
২ ঘন্টা আগে
বিশ্বকাপ ফুটবল সম্প্রচারস্বত্ব কিনছে সরকার, খরচ কমল ২৫ কোটি টাকা

বিশ্বকাপ ফুটবল সম্প্রচারস্বত্ব কিনছে সরকার, খরচ কমল ২৫ কোটি টাকা

ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা থেকে এবারের বিশ্বকাপ ফুটবল ম্যাচ দেখানোর সম্প্রচারস্বত্ব কিনছে সরকার। ফিফা থেকে কোনো দরপত্র ছাড়া অর্থাৎ সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে (ডিপিএম) বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) জন্য এ স্বত্ব কেনা হচ্ছে। এতে মোট খরচ হচ্ছে ৭২ কোটি ৭০ লাখ টাকা। আগেরবারের চেয়ে এবার খরচ কমল ২৫ কোটি টাকা।আজ রোববার (৭ জুন) জাতীয় সংসদের মন্ত্রিসভা কক্ষে অর্থনৈতিক বিষয়–সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে প্রথমে বিষয়টির নীতিগত অনুমোদন হয়। এরপর সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে ফিফা থেকে সরাসরি সম্প্রচারস্বত্ব কেনার প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। উভয় বৈঠকেই সভাপতিত্ব করেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।সম্প্রচারস্বত্বের ব্যয়বৈঠক শেষে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপস্থাপন করা এ প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে বলে অর্থ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়। বিটিভিতে বিশ্বকাপের সব খেলা দেখানোর জন্য সব ধরনের স্বত্ব কেনা হচ্ছে ৩৮ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলারে। প্রতি ডলার ১২২ টাকা ৭৭ পয়সা দরে হিসাব করে বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ ঠিক করেছে ৪৭ কোটি ২৬ লাখ ৮৫ হাজার টাকা। মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট), করসহ এতে মোট খরচ হবে ৭২ কোটি ৭০ লাখ টাকা।আগেরবারের চেয়ে খরচ কমআগের বারের অর্থাৎ ২০২২ সালের বিশ্বকাপ ফুটবলের সম্প্রচারস্বত্ব কিনতে বিটিভি অনেক জটিল প্রক্রিয়া অনুসরণ করেছিল। সেবার এ স্বত্ব কেনা হয়েছিল ৯৮ কোটি টাকায়। এবার ২৫ কোটি টাকা কম খরচে স্বত্ব কেনা সম্ভব হয়েছে।১১ জুন শুরু হচ্ছে বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে জমজমাট এই আসর। এটি বিশ্বকাপের ২৩তম আসর, যা ২০২৬ সালের ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত চলবে। উত্তর আমেরিকার কানাডা, মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্র—এ তিন দেশের ১৬টি শহরে যৌথভাবে এ আয়োজন করা হচ্ছে।এতে কোনো ধরনের কেবল নেটওয়ার্ক বা স্যাটেলাইট সংযোগ ছাড়াই বিটিভিতে এবারের বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা দেখা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
২ ঘন্টা আগে
লেবাননে হিজবুল্লাহর হামলায় দুই ইসরায়েলি সেনা নিহত

লেবাননে হিজবুল্লাহর হামলায় দুই ইসরায়েলি সেনা নিহত

লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর হামলায় দুই ইসরায়েলি সেনা নিহত হয়েছেন। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, পৃথক দুটি ঘটনায় তাদের মৃত্যু হয়েছে।নিহত সেনাদের পরিচয়ক্যাপ্টেন শাহার গামলা (২৩): ইগোজ ইউনিটের কমান্ডো ব্রিগেডে কর্মরত ছিলেন। গত বৃহস্পতিবার হিজবুল্লাহর ড্রোন হামলায় গুরুতর আহত হওয়ার পর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার সকালে তার মৃত্যু হয়।সার্জেন্ট ওহাদ ইয়ারি (২১): গিভাতি ব্রিগেডের সাকেদ ব্যাটালিয়নের সদস্য ছিলেন। শুক্রবার পৃথক এক ঘটনায় দুর্ঘটনাবশত সংঘটিত গোলাগুলিতে প্রাণ হারান।আইডিএফ জানিয়েছে, লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও সীমান্ত এলাকায় হামলা-পাল্টা হামলা অব্যাহত রয়েছে। শনিবারই হিজবুল্লাহর ১৫০টির বেশি স্থাপনা ও অবকাঠামো লক্ষ্য করে ইসরায়েলি বাহিনী হামলা চালিয়েছে।সার্জেন্ট ওহাদ ইয়ারির মৃত্যুর ঘটনায় কীভাবে দুর্ঘটনাবশত গোলাগুলি সংঘটিত হলো, তা তদন্ত করছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী।এই ঘটনাটি আবারও প্রমাণ করছে, যুদ্ধবিরতি থাকা সত্ত্বেও লেবানন-ইসরায়েল সীমান্তে উত্তেজনা কমছে না।সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল
১২ ঘন্টা আগে
১৫ এপ্রিল ২০২৬, ১২:১১ এএম
আপনি কি মনে করেন বিএনপি জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর ও শব্দ বাস্তবায়ন করবে?

আপনি কি মনে করেন বিএনপি জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর ও শব্দ বাস্তবায়ন করবে?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ জন
২৪ ঘণ্টায় হাম ও উপসর্গে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু, দেড় মাসে নিহত ৪৩৯

২৪ ঘণ্টায় হাম ও উপসর্গে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু, দেড় মাসে নিহত ৪৩৯

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় (বুধবার সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা) হাম ও হামের উপসর্গে নিয়ে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে হামের উপসর্গে এবং ১ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হামে। একই সময়ে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ৫১৮ জন।বৃহস্পতিবার (১৪ মে) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত দেড় মাসে সারা দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৪৩৯ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে পরীক্ষায় নিশ্চিত হামে মারা গেছে ৭০ জন এবং উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ৩৬৯ জন।একই সময়ে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়েছে (পরীক্ষায় প্রমাণিত) ৭ হাজার ৩০৫ জন। আর হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে এসেছে ৫৪ হাজার ৪১৯ জন।ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানিস্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত ও মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে ঢাকা বিভাগে। বিভাগটিতে হাম ও উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ১৯২ জন এবং আক্রান্ত হয়েছে ২৯ হাজার ৪৮১ জন।নিবিড় পর্যবেক্ষণে সরকারহামের প্রকোপ নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বিভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। ইতিমধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করা হয়েছে। অভিভাবকদের সন্তানের জ্বর, সর্দি ও র্যাশ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক রোগ। সময়মতো টিকা নিলে এই রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব। অভিভাবকদের সন্তানের টিকার কার্ড পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় টিকা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
১৪ মে ২০২৬
ব্যাংকের সিদ্ধান্ত রাস্তার আন্দোলন দিয়ে হবে না: বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র

ব্যাংকের সিদ্ধান্ত রাস্তার আন্দোলন দিয়ে হবে না: বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেছেন, ব্যাংকের কোনো সিদ্ধান্তই রাস্তার কোনো আন্দোলনের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে না। যে কোনো ইস্যুতে যে কোনো সংক্ষুব্ধ ব্যক্তির বিক্ষোভ প্রদর্শন বা মত প্রকাশের অধিকার রয়েছে। আইনি প্রক্রিয়ায় ব্যবস্থা নেওয়ারও এখতিয়ার আছে। আন্দোলনে নয়, আইন মেনেই সিদ্ধান্ত হবে।গতকাল সোমবার (১ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংকে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। আরিফ হোসেন খান জানান, যে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিক্ষোভ প্রদর্শন ও মত প্রকাশের অধিকার রয়েছে। পাশাপাশি আইনি প্রক্রিয়ায় প্রতিকার চাওয়ার সুযোগও আছে। তবে বাংলাদেশ ব্যাংক কোনো আবেগ, চাপ বা আন্দোলনের ভিত্তিতে নয়, বরং প্রতিষ্ঠানের স্বার্থ ও আইনগত বিধান অনুসারেই সিদ্ধান্ত নেবে।তিনি বলেন, ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী কোনো ঋণখেলাপি ব্যক্তি ব্যাংকের পরিচালক হতে পারেন না। ফার্স্ট সিকিউরিটি ব্যাংকে একজন ব্যক্তির তিন কোটি টাকার খেলাপি ঋণ থাকার বিষয়ে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শনে উঠে আসা বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আইন অনুযায়ী খেলাপি অবস্থায় কারও পরিচালক পদে থাকার সুযোগ নেই এবং নিয়োগের আগে এসব বিষয় যাচাই করা বাধ্যতামূলক।ইসলামী ব্যাংকের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে মুখপাত্র বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন তথ্য ও সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলার আশঙ্কায় ব্যাংকের বোর্ড সভা সরাসরি না করে ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে (জুমে) আয়োজনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। ভবনের বাইরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হলেও ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার বিষয়টি বাংলাদেশ ব্যাংক গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের অবস্থান অত্যন্ত স্পষ্ট—কেন্দ্রীয় ব্যাংক কিংবা কোনো বাণিজ্যিক ব্যাংকে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বরদাস্ত করা হবে না। ব্যাংক কর্মকর্তারা দায়িত্ব পালনের সময় কোনো রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়লে তা সরাসরি গভর্নরকে জানাতে বলা হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে প্রয়োজন হলে গভর্নর নিজেই বিষয়টি মোকাবিলা করবেন।আরিফ হোসেন খান বলেন, কোনো ব্যাংককে নির্দিষ্ট কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতিষ্ঠান হিসেবে চিহ্নিত করা সঠিক নয়। কোনো ব্যাংক যদি একটি বিশেষ রাজনৈতিক পরিচয়ের ওপর নির্ভরশীল হয়ে ওঠে, তাহলে তা ব্যাংকটির স্থায়িত্ব ও টেকসই পরিচালনার জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বিভিন্ন বিক্ষোভ ও কর্মকাণ্ডের প্রেক্ষাপটে কেন্দ্রীয় ব্যাংক পর্যালোচনা করছে কোনো ব্যাংক বিশেষ কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের সংকটে পরিণত হচ্ছে কি না।বাংলাদেশ ব্যাংকের মতে, কোনো ব্যাংকই কোনো রাজনৈতিক দলের হতে পারে না এবং রাজনৈতিক পরিচয় একটি ব্যাংকের অস্তিত্বের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে।
০৬ এপ্রিল ২০২৬
বিশ্ব ব্র্যান্ডের অর্ডার ফেরাতে গার্মেন্টস জোন করার পরিকল্পনা

বিশ্ব ব্র্যান্ডের অর্ডার ফেরাতে গার্মেন্টস জোন করার পরিকল্পনা

০৬ এপ্রিল ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের আকাশে উল্কা বিস্ফোরণে সৃষ্টি হয় ‘সনিক বুম’

যুক্তরাষ্ট্রের আকাশে উল্কা বিস্ফোরণে সৃষ্টি হয় ‘সনিক বুম’

যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের আকাশে প্রকাণ্ড একটি উল্কাখণ্ড বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের পর প্রায় ৩০০ টন টিএনটি বিস্ফোরকের সমপরিমাণ প্রচণ্ড শক্তি উৎপন্ন করে সশব্দে বিস্ফোরিত হয়েছে। মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা এবং অন্যান্য বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণ সংস্থা এই বিরল মহাকাশীয় ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছে।আনুমানিক ৩ মিটার চওড়া এই মহাজাগতিক পাথরটি অত্যন্ত উচ্চ গতিতে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করার পর বাতাসের তীব্র ঘর্ষণে জ্বলে ওঠে এবং একটি বিশাল আলোর ঝলকানি সৃষ্টি করে বিস্ফোরিত হয়। এই বিস্ফোরণের ফলে সৃষ্ট প্রচণ্ড শব্দ বা ‘সনিক বুম’ পুরো অঞ্চল জুড়ে প্রতিধ্বনিত হয়।কী ঘটেছিলশনিবার (৩০ মে) মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস জানিয়েছে, স্থানীয় সময় দুপুর ২টা ০৬ মিনিটে নিউ ইংল্যান্ড এবং ম্যাসাচুসেটসের উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও নিউ হ্যাম্পশায়ারের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের আকাশে এই তীব্র আলোর ঝলকানি ও বিস্ফোরণটি ঘটে। বিশেষ করে বোস্টন শহরের বাসিন্দারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই বিস্ফোরণের অসংখ্য বিবরণ প্রকাশ করেছেন।অনেক প্রত্যক্ষদর্শী দাবি করেছেন, বিস্ফোরণের শব্দ এতটাই শক্তিশালী ছিল যে সেটির কম্পনে তাদের ঘরবাড়ি পর্যন্ত কেঁপে উঠেছিল।নাসার তথ্যমহাকাশ সংস্থার ডেপুটি নিউজ চিফ জেনিফার ডুরেন ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেন, এই উল্কাটি বর্তমানে সক্রিয় থাকা কোনো সাধারণ উল্কাবৃষ্টির অংশ ছিল না, বরং এটি সম্পূর্ণ একটি প্রাকৃতিক বস্তু ছিল। তিনি স্পষ্ট করেন যে এটি মানবসৃষ্ট কোনো মহাকাশ বর্জ্য বা কৃত্রিম উপগ্রহের ধ্বংসাবশেষ ছিল না।নাসার তথ্য অনুযায়ী, মহাকাশ শিলাটি যখন ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৪০ মাইল (৬৪ কিলোমিটার) উচ্চতায় বিস্ফোরিত হয়, তখন সেটির গতি ছিল ঘণ্টায় প্রায় ৭৫ হাজার মাইল বা ১ লাখ ২০ হাজার কিলোমিটারেরও বেশি। বায়ুমণ্ডলে এই আকস্মিক ভেঙে যাওয়ার সময় যে বিপুল পরিমাণ শক্তি নির্গত হয়েছিল তা প্রায় ৩০০ টন টিএনটি-র সমান, যা মূলত এই ভয়াবহ শব্দের সৃষ্টি করেছে।বিজ্ঞানীদের বিশ্লেষণআমেরিকান মেটিওর সোসাইটির ফায়ারবল প্রোগ্রাম মনিটর রবার্ট লুনসফোর্ড মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন-কে জানিয়েছেন, দেলাওয়ার থেকে মন্ট্রিয়ল পর্যন্ত বিস্তৃত অঞ্চলের বাসিন্দাদের কাছ থেকে তারা এই দ্বি-স্তরের বিস্ফোরণের শব্দের ডজন খানেক সুনির্দিষ্ট প্রতিবেদন পেয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে এটি স্বাভাবিক উল্কার চেয়ে আকারে বেশ বড় ছিল।পাথরটির গতিপথ ও গতিবেগ বিশ্লেষণ করে এটি নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, এর বেশিরভাগ অংশই মাটিতে পড়ার আগে সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। যদি কোনো অংশ অবশিষ্ট থেকে থাকে তবে তা সোজা আটলান্টিক মহাসাগরে পতিত হয়েছে।স্যাটেলাইটে ধারণ করা হয়েছেনোয়া-এর অত্যাধুনিক ‘গোয়েস-১৯’ স্যাটেলাইটও এই অদ্ভুত আলোর ঝলকানি নিখুঁতভাবে ক্যামেরাবন্দী করেছে, যা কোনো বজ্রঝড়ের আলো ছিল না। মহাকাশ বিজ্ঞানী ও আবহাওয়াবিদ নিক স্টুয়ার্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ লিখেছেন, বোস্টনের আকাশে অনাকাঙ্ক্ষিত এই আলোর ঘনত্ব বিশ্লেষণ করে এটি নিশ্চিত হওয়া গেছে যে এটি একটি অতি শক্তিশালী বোলিড বা উল্কার পুনঃপ্রবেশের ঘটনা ছিল।মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা আরও স্পষ্ট করেছে, সাধারণত ভূগর্ভের একটি নির্দিষ্ট স্থানে ঘটা ভূমিকম্পের চেয়ে এই আকাশীয় সনিক বুমের ঘটনাটি সম্পূর্ণ ভিন্ন, কারণ এটি বায়ুমণ্ডলের একটি সরল রৈখিক পথ ধরে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে।নাসা স্পেস অ্যালার্টের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, নিউ ইংল্যান্ডের বিস্তীর্ণ এলাকার অসংখ্য মানুষ এই বিরল মহাজাগতিক আলোর ঝলকানি ও তীব্র বিস্ফোরণের প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে সাক্ষী হয়েছেন।সূত্র: এনডিটিভি, সিএনএন
০২ জুন ২০২৬
নাগরিকত্বের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সন্তান জন্ম দেওয়া ভিসা শর্তের পরিপন্থি: মার্কিন দূতাবাস

নাগরিকত্বের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সন্তান জন্ম দেওয়া ভিসা শর্তের পরিপন্থি: মার্কিন দূতাবাস

ক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পাওয়ার উদ্দেশ্যে দেশটিতে গিয়ে সন্তান জন্ম দেওয়া এখন থেকে ভিসার শর্তের পরিপন্থি হিসেবে গণ্য হবে। এমন উদ্দেশ্যে কেউ ভিসা আবেদন করলে তা সরাসরি বাতিল করা হবে বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে মার্কিন দূতাবাস।বুধবার সকালে দূতাবাসের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বিশেষ সতর্কবার্তায় এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।কী বলছে দূতাবাসের সতর্কবার্তাদূতাবাসের পোস্টে উল্লেখ করা হয়, কোনো ব্যক্তি যদি মূলত সন্তানের মার্কিন নাগরিকত্ব নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের পরিকল্পনা করেন, তবে তা দেশটির বর্তমান ভিসা নীতিমালার পরিপন্থি।কনস্যুলার কর্মকর্তারা যদি সাক্ষাৎকার বা তদন্তের মাধ্যমে বুঝতে পারেন যে আবেদনকারীর মূল লক্ষ্য সন্তান জন্ম দিয়ে নাগরিকত্ব অর্জন, তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ট্যুরিস্ট ভিসা আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হবে।সতর্কবার্তায় আরও বলা হয়, এ ধরনের কার্যক্রম মার্কিন ভিসা নীতিমালার গুরুতর লঙ্ঘন। তাই আবেদনকারীদের শুধু প্রকৃত এবং সঠিক উদ্দেশ্য উল্লেখ করে আবেদন করার আহ্বান জানিয়েছে দূতাবাস।কঠোর সতর্কতাভিসা পাওয়ার জন্য ভুল তথ্য প্রদান বা ভিসার শর্ত ভঙ্গ করলে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের ক্ষেত্রে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা বা নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলেও সতর্কবার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে।অর্থাৎ, কেউ যদি এ উদ্দেশ্যে ভিসা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সন্তান জন্ম দেন এবং তা প্রমাণিত হয়, তাহলে পরবর্তীতে তার যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়া পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যেতে পারে।যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে জন্ম নিলে সন্তান স্বয়ংক্রিয়ভাবে সে দেশের নাগরিক হয় – এই সুযোগ কাজে লাগাতে অনেকেই আগে ট্যুরিস্ট ভিসায় গিয়ে সন্তান প্রসব করতেন। এখন থেকে সেই পথ কার্যকরীভাবে বন্ধ করে দিলো মার্কিন দূতাবাস। শুধু ভিসা বাতিল নয়, ভবিষ্যতেও যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞার হুঁশিয়ারি দেওয়ায় এই সিদ্ধান্তকে ‘চরম কঠোর’ বলছেন অভিবাসন বিশ্লেষকরা। ফলে আবেদনকারীদের এখন ভিসা আবেদনের আগে তিনবার ভাবতে হবে।
০৬ এপ্রিল ২০২৬
ষাট গম্বুজ মসজিদ

ষাট গম্বুজ মসজিদ

বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমের জেলা বাগেরহাট। সবুজ শ্যামলিমা আর নদী-খাল বেষ্টিত এই জনপদকে বিশ্বের দরবারে পরিচিতি এনে দিয়েছে একটি অনন্য স্থাপনা – ষাট গম্বুজ মসজিদ। ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী তিনটি স্থানের একটি এই মসজিদ মুসলিম স্থাপত্যের এক অপূর্ব নিদর্শন। যেখানে ইতিহাস, আধ্যাত্মিকতা আর নির্মাণকৌশলের মিলন ঘটেছে চুন-সুরকি আর পাথরের বাঁধনে।ইতিহাসের আঁধার আলো: কে, কবে, কেন?মসজিদটির গায়ে কোনো শিলালিপি নেই। তাই এটি কে নির্মাণ করেছিলেন বা কোন সময়ে নির্মিত হয়েছিল, তা নিয়ে সঠিক তথ্য পাওয়া যায় না। তবে স্থাপত্যশৈলী ঘেঁটে ইতিহাসবিদরা প্রায় নিশ্চিত – এ মসজিদ পীর খানজাহান আলী (রহ.)-এর হাতেই গড়ে উঠেছিল। ধারণা করা হয়, তিনি পঞ্চদশ শতাব্দীর মাঝামাঝি (আনুমানিক ১৪৪২-১৪৫৯ খ্রিস্টাব্দ, অনেকের মতে ১৫০০ শতাব্দীতে) এটি নির্মাণ করেন।সুলতান নাসিরউদ্দিন মাহমুদ শাহের আমলে খান-ই-জাহান সুন্দরবনের কোল ঘেঁষে ‘খলিফাতাবাদ’ রাজ্য গড়ে তোলেন। দরবার ও নামাজের জন্য তিনি একটি বিশাল হল নির্মাণের উদ্যোগ নেন, যা কালক্রমে ‘ষাট গম্বুজ মসজিদ’ নামে পরিচিতি পায়। জনশ্রুতি আছে, মসজিদের পাথর চট্টগ্রাম থেকে আনা হয়েছিল। আবার কেউ কেউ বলেন, ভারতের উড়িষ্যার রাজমহল থেকে অলৌকিক ক্ষমতাবলে জলপথে ভাসিয়ে আনা হয়েছিল। বাস্তবে পাথরগুলো রাজমহল থেকেই আনা – এ নিয়ে ঐতিহাসিকরা একমত।নামকরণের নানা কাহিনিমসজিদটির নাম নিয়েও আছে নানা মত।ষাট গম্বুজ কেন? সংস্কৃত ‘সাত’ ও ফারসি ‘ছাদ’ মিলে ‘ছাদ গম্বুজ’ থেকে কথ্যরূপে ‘ষাট গম্বুজ’ হয়েছে বলে এক মত।আবার অন্য মতে, মসজিদের ভেতরে ছয়টি সারিতে দশটি করে মোট ৬০টি পাথরের স্তম্ভ (খাম্বা) আছে। স্তম্ভের ওপর ছাদ নির্মিত, তাই ‘ষাট খাম্বা’ থেকে ‘ষাট গম্বুজ’।গম্বুজের প্রকৃত সংখ্যা: নাম ‘ষাট গম্বুজ’ হলেও আসলে এখানে গম্বুজ ৬০টি নয়। মূল ভবনে ১১টি সারিতে ৭৭টি গম্বুজ, চার কোণার মিনারের ওপর চারটি গম্বুজ – মোট ৮১টি গম্বুজ। ৭৭টির মধ্যে ৭৪টিই অর্ধগোলাকার, শুধু মাঝের সারির সাতটি দেখতে বাংলার চৌচালা ঘরের চালের মতো।তাই অনেক গবেষক মনে করেন, মসজিদটির আসল নাম হওয়া উচিত ছিল ‘ষাট স্তম্ভ মসজিদ’ – কারণ এখানে প্রধান আকর্ষণ সেই ৬০টি পাথরের স্তম্ভ।স্থাপত্যের অনন্য বুননষাট গম্বুজ মসজিদের স্থাপত্যশৈলীতে মিশেছে মধ্য এশিয়ার তুঘলক (তুরস্ক) ও জৌনপুরী ধারা, আবার রয়েছে স্থানীয় বাংলার ছোঁয়া।আকার ও পরিমাপবাইরের দিক: উত্তর-দক্ষিণে ১৬০ ফুট, পূর্ব-পশ্চিমে ১০৪ ফুট।ভেতরের দিক: উত্তর-দক্ষিণে ১৪৩ ফুট, পূর্ব-পশ্চিমে ৮৮ ফুট।দেয়ালের পুরুত্ব: প্রায় ৮.৫ ফুট। ইটের তৈরি এসব দেয়াল অসাধারণ মজবুত।দরজা ও জানালাপূর্ব দেয়ালে ১১টি খিলানযুক্ত দরজা – মাঝেরটি সবচেয়ে বড়।উত্তর ও দক্ষিণ দেয়ালে ৭টি করে মোট ১৪টি দরজা।এই অসংখ্য দরজা আলো ও বাতাস চলাচলের জন্য তৈরি, তবু ভেতরের দিকটা কিছুটা অন্ধকারাচ্ছন্ন – যা উপাসনার গাম্ভীর্য বাড়ায়।মিনার ও কোঠাচার কোণে চারটি গোলাকার মিনার। এদের চূড়ায় ছোট গম্বুজ। ছাদের কার্নিশের চেয়ে মিনারগুলো কিছুটা উঁচু। সামনের দিকের দুটি মিনারের ভেতর প্যাঁচানো সিঁড়ি – একসময় এখান থেকে আজান দেওয়া হতো।রওশন কোঠা: দক্ষিণ-পূর্ব কোণের বুরুজ – আলো-বাতাসে ভরা।আন্ধার কোঠা: উত্তর-পূর্ব কোণের বুরুজ – তুলনামূলক অন্ধকার।ভেতরের স্তম্ভ ও গম্বুজের জঙ্গলভেতরে ৬০টি পাথরের স্তম্ভ – উত্তর থেকে দক্ষিণে ছয় সারিতে, প্রতিসারিতে দশটি করে। প্রতিটি স্তম্ভ পাথর কেটে বানানো, তবে পাঁচটি স্তম্ভ পরে ইট দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। এই স্তম্ভের ওপর ভর করেই গম্বুজগুলো দাঁড়িয়ে। এক কথায়, এটি খিলান-স্তম্ভ-গম্বুজের এক বিস্ময়কর সমন্বয়।মিহরাব ও মিম্বারপশ্চিম দেয়ালে ১০টি মিহরাব। মাঝের মিহরাবটি সবচেয়ে বড় ও কারুকার্যপূর্ণ। এর দক্ষিণে ৫টি, উত্তরে ৪টি মিহরাব। উত্তরে যেখানে একটি মিহরাব থাকার কথা, সেখানে রয়েছে একটি ছোট দরজা – অনেকে মনে করেন, এটি খানজাহান আলীর দরবার হলের প্রবেশপথ ছিল। ইমামের বসার জন্য রয়েছে পাথরের মিম্বার।রডবিহীন নির্মাণসবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো – এই মসজিদে কোনো লোহার রড ব্যবহার করা হয়নি। শুধু চুন, সুরকি, কালো পাথর ও ছোট ইট দিয়ে তৈরি এই কাঠামো প্রায় ৬০০ বছর ধরে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে।ইউনেস্কোর স্বীকৃতি ও বর্তমান অবস্থা১৯৮৩ সালে (অনেক সূত্রে ১৯৮৫) ইউনেস্কো বাগেরহাট শহরটিকেই ‘ঐতিহাসিক মসজিদ শহর’ হিসেবে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের মর্যাদা দেয়। আর এই মর্যাদার কেন্দ্রবিন্দু হলো ষাট গম্বুজ মসজিদ।বর্তমানে মসজিদটি বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর ও ইউনেস্কোর যৌথ তত্ত্বাবধানে সংরক্ষিত। এখনো এখানে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামাতের সাথে আদায় করা হয়। একসঙ্গে মসজিদের ভেতরে প্রায় দুই হাজার মুসল্লি নামাজ পড়তে পারেন।ভ্রমণ তথ্য: কখন, কীভাবে, কত টাকা?প্রবেশ ফিদেশি পর্যটক: ৩০ টাকা (অনেক সূত্রে ২০ টাকাও উল্লেখ আছে – বর্তমানে ৩০ টাকাই বেশি প্রচলিত)মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষার্থী: ১০ টাকাসার্কভুক্ত দেশের নাগরিক: ২০০ টাকাঅন্যান্য বিদেশি: ৫০০ টাকাশিশু (০-১০ বছর) ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী: বিনামূল্যেঅনলাইন টিকেট: চাইলে myGOV ওয়েবসাইট থেকে কিউআর কোডযুক্ত টিকেট কেটে নিতে পারেন।খোলা ও বন্ধের সময়গ্রীষ্মকাল (গরমকাল): সকাল ১০টা – সন্ধ্যা ৬টাশীতকাল: সকাল ৯টা – বিকেল ৫টামধ্যাহ্ন বিরতি: দুপুর ১টা – ১টা ৩০ মিনিট (উভয় মৌসুমে)শুক্রবার বিশেষ বন্ধ: জুমার নামাজের জন্য দুপুর ১২টা ৩০ মিনিট – বিকেল ৩টা ৩০ মিনিটসাপ্তাহিক ছুটি: রোববার সারাদিন বন্ধ (সোমবার দুপুর ২টা থেকে খোলে)টিপস: নামাজের সময় (ফজর, যোহর, আসর, মাগরিব, এশা) স্থানীয় মুসল্লিরা প্রবেশ করতে পারেন বিনামূল্যে। তবে পর্যটকদের নির্ধারিত সময় ও টিকিট মেনে চলতে হবে।মসজিদ চত্বরে জাদুঘরপ্রধান ফটকের ডান পাশে বাগেরহাট জাদুঘর। এখানে খানজাহান আমলের প্রাচীন মুদ্রা, পোড়ামাটির ফলক, অসংখ্য প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন – এমনকি খানজাহানের দিঘির ঐতিহ্যবাহী ‘কালা পাহাড়’ ও ‘ধলা পাহাড়’ কুমিরের মমি সংরক্ষিত আছে।জাদুঘরের সময়: গ্রীষ্মে সকাল ১০টা – সন্ধ্যা ৬টা, শীতে সকাল ৯টা – বিকেল ৫টা।মধ্যাহ্ন বিরতি: দুপুর ১টা – দেড়টা।ছুটি: রোববার সারাদিন।একই টিকিটে জাদুঘর ও মসজিদ কমপ্লেক্স ঘুরতে পারবেন।যাতায়াত: ঢাকা থেকে বাগেরহাটবাসেঢাকার সায়দাবাদ ও গাবতলী বাস টার্মিনাল থেকে নিয়মিত বাস ছাড়ে। উল্লেখযোগ্য পরিবহন: মেঘনা, বনফুল, ফাল্গুনী, আরা, পর্যটক, বলেশ্বর, হামিম, দোলা, সোহাগ, শাকুরা, হানিফ, কমফোর্ট লাইন, ঈগল।ভাড়া: ৬৫০-৮০০ টাকা (প্রতি জন)।সময়: সকাল ৬টা-১০টা এবং সন্ধ্যা ৭টা-রাত ১০টা পর্যন্ত ছাড়ে।বাগেরহাট বাসস্ট্যান্ড নেমে রিকশা বা সিএনজি নিলে ৩০-৪০ টাকায় পৌঁছে যাবেন ষাট গম্বুজ মসজিদে (সুন্দরঘোনা গ্রাম, খুলনা-বাগেরহাট মহাসড়কের উত্তর পাশে)।ট্রেনেঢাকা থেকে সুন্দরবন এক্সপ্রেস খুলগামী ট্রেনে খুলনা যান। সেখান থেকে বাস বা সিএনজিতে বাগেরহাট (সময় লাগে ১-১.৫ ঘণ্টা)।কোথায় থাকবেন?বাগেরহাটে তেমন বিলাসবহুল হোটেল নেই, তবে মাঝারি মানের থাকার জায়গা আছে।রেল রোডে মমতাজ হোটেল – সুযোগ-সুবিধা কম, কিন্তু সেবা ভালো। খরচ তুলনামূলক বেশি।খান জাহান আলীর মাজারের সামনে হোটেল অভি – মেইন হাইওয়েতে অবস্থিত।কেন্দ্রীয় বাসস্টেশন সংলগ্ন হোটেল আল আমিন এবং কর্মকার পট্টিতে হোটেল মোহনা।খুলনা খুব কাছে বলে চাইলে খুলনা গিয়েও রাত কাটাতে পারেন।খাওয়ার ব্যবস্থাবাসস্ট্যান্ড ও দরগার আশপাশে কয়েকটি মোটামুটি মানের হোটেল আছে। তবে দাম ও মান সম্পর্কে আগে জেনে নেওয়া ভালো। স্থানীয় মাছ ও ভাত খেতে পারেন – বাগেরহাটের ইলিশ বেশ有名।দক্ষিণাঞ্চলের সর্ববৃহৎ ঈদের জামাতষাট গম্বুজ মসজিদ শুধু একটি পর্যটন কেন্দ্র নয় – এটি জীবন্ত একটি উপাসনালয়। প্রতি ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহায় এখানে দেশ-বিদেশের প্রায় অর্ধলাখ মুসল্লি জড়ো হন। এটি দক্ষিণাঞ্চলের সর্ববৃহৎ ঈদের জামাত। রমজান মাসে দুই হাফেজ খতম তারাবির নামাজ পড়ান এবং মুসল্লিদের জন্য ইফতারের ব্যবস্থা থাকে।আশপাশের দর্শনীয় স্থানমসজিদ ঘুরে সময় থাকলে আরও কয়েকটি স্থান দেখতে পারেন:বিবি বেগনির মসজিদ (৫০০ মিটার পেছনে) – ফুলের কারুকার্যময়।চুনাখোলা মসজিদ (বিবি বেগনির আরও ৫০০ মিটার পেছনে)।সিঙ্গাইর মসজিদ (মহাসড়কের পাশে)।নয় গম্বুজ মসজিদখান জাহান আলীর মাজারঘোড়া দিঘি ও রণবিজয়পুর দিঘিমোংলা বন্দর (চাইলে সুন্দরবন যাতায়াতের গেটওয়ে)।ভ্রমণে যা মেনে চলবেনহালকা ও আরামদায়ক পোশাক পরুন – সুতির কাপড় উত্তম।পর্যাপ্ত পানি, বিস্কুট, মুড়ি, চিড়া ইত্যাদি সঙ্গে রাখুন।মোবাইলের চার্জার ও পাওয়ার ব্যাংক নিতে ভুলবেন না।জ্বর, সর্দি, গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ ও স্যালাইন রাখুন।মসজিদে প্রবেশের আগে জুতা বাইরে রেখে পায়ে মোজা পরে প্রবেশ করুন।নামাজরত মুসল্লিদের বিরক্ত করবেন না। নির্ধারিত পর্যটক এলাকায় ঘুরুন।টিকিট কাটার পর জাদুঘর দেখতে ভুলবেন না – এটি একই ফিতে।শেষকথাষাট গম্বুজ মসজিদ শুধু পাথর-চুন-সুরকির গাঁথনি নয়; এটি বাংলার ইতিহাস, সংস্কৃতি ও মুসলিম স্থাপত্যের এক জীবন্ত দলিল। এখানে দাঁড়ালে সময় থমকে দাঁড়ায়। শুনতে পাবেন খানজাহানের আজানের প্রতিধ্বনি, দেখতে পাবেন অর্ধগোলাকার গম্বুজের সারি মেঘ ছুঁতে চায়।আপনিও একবার চলে আসুন বাগেরহাটে। ষাট গম্বুজের ছায়ায় দাঁড়ান। ইতিহাসের স্পর্শ নিন। আর এই অসাধারণ স্থাপত্যের সাক্ষী হয়ে ফিরে আসুন – নতুন এক অভিজ্ঞতা নিয়ে।
গণবার্তা ফিচার