ঢাকা    শনিবার, ০৯ মে ২০২৬
ঢাকা    শনিবার, ০৯ মে ২০২৬
গণবার্তা
সর্বশেষ

কালীঘাটে নীরবতা, ব্রিগেডে উল্লাস: পাল্টে গেল পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক দৃশ্যপট

কলকাতার হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের গলিতে আজ এক অদ্ভুত নীরবতা। দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু ছিল এই গলি। মন্ত্রীদের দামি গাড়ি, পুলিশের সাইরেন আর কর্মীদের ভিড়ে গিজগিজ করা চত্বর এখন নিস্তব্ধ। পুরনো বাসিন্দারাও মনে করতে পারছেন না, শেষ কবে এভাবে শান্ত ছিল কালীঘাট।পালাবদলের প্রতিচ্ছবিআজ পঁচিশে বৈশাখ। কলকাতার আকাশে চড়া রোদ, আর বাতাসে পরিবর্তনের গন্ধ। ঠিক সেই সময়ে গঙ্গার ওপারে ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে লক্ষ মানুষের উল্লাসের মধ্যে দিয়ে রাজ্যের প্রথম বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন শুভেন্দু অধিকারী। আর কালীঘাটের বাড়িতে নিভৃতেই কাটালেন বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।মমতার দিনভোটের ফলাফলের পর থেকে প্রায় নীরব থাকা মমতা শনিবার এক্সে রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে পোস্ট দেন। তিনি লেখেন, “পঁচিশে বৈশাখের এই পুণ্য দিনে বিশ্ববন্দিত শ্রেষ্ঠ চিন্তাবিদ, কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের চরণে নিবেদন করি আমার অন্তহীন প্রণাম।”কালীঘাটের বাড়িতেই আয়োজন করা হয় রবীন্দ্রজয়ন্তীর অনুষ্ঠান। উপস্থিত ছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়সহ দলের নেতৃত্বস্থানীয় সদস্যরা। সঙ্গীত পরিবেশন করেন ইন্দ্রনীল সেন ও বাবুল সুপ্রিয়। বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর এটাই তৃণমূলনেত্রীর প্রথম আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি।প্রশাসনিক পরিবর্তন• মমতার বাড়ির সামনে থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে দীর্ঘদিনের সিজার্স ব্যারিকেড।• অতিরিক্ত পুলিশি পাহারা নেই, প্রতিবেশীদের জন্যও আর কোনো পরিচয়পত্র দেখানোর বাধ্যবাধকতা নেই।• কলকাতা পুলিশের অফিশিয়াল এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে মমতা ও অভিষেককে আনফলো করে নতুন নেতৃত্বকে ফলো করা হয়েছে।• বিধানসভায় পুরনো নামফলক সরিয়ে নতুন মুখ্যমন্ত্রীর জন্য প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।রাজনৈতিক তাৎপর্য৪ মে ঘোষিত বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি ২০৭ আসনে জয় পেয়ে প্রথমবারের মতো সরকার গঠন করেছে। এই পালাবদল শুধু প্রশাসনিক নয়, প্রতীকীভাবেও গুরুত্বপূর্ণ। কালীঘাটের নীরবতা যেন বাংলার রাজনীতির নতুন বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি।
১ ঘন্টা আগে

গাজীপুরে পাঁচজনকে হত্যা: একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ হচ্ছে

গাজীপুরের কাপাসিয়ায় এক মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডে স্ত্রী, তিন কন্যা ও শ্যালককে গলা কেটে হত্যা করেছেন ট্রাকচালক মো. ফোরকান মিয়া (৪০)। হত্যার পর তিনি এক আত্মীয়কে ফোন করে ঘটনাটি স্বীকার করেন।শুক্রবার (৮ মে) রাতে উপজেলার রাউৎকোনা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। শনিবার সকালে পুলিশ পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করে। নিহতরা হলেন—ফোরকানের স্ত্রী শারমিন খানম (৪০), তিন মেয়ে মিম (১৬), মারিয়া (৮) ও ফারিয়া (২), এবং শ্যালক রসুল (২২)।সরেজমিনে দেখা যায়, শারমিনকে জানালার গ্রিলে রশি দিয়ে পেঁচিয়ে হত্যার পর অন্য চারজনকে বিছানায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যা করা হয়েছে। প্রতিটি মরদেহের পাশে প্রিন্ট করা কিছু কাগজ পাওয়া যায়, যা প্রাথমিকভাবে মামলার নথিপত্র বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া বাড়ি থেকে মাদক সেবনের আলামতও উদ্ধার করেছে পুলিশ।নিহত শারমিনের স্বজনরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে যৌতুকের জন্য তাকে নির্যাতন করতেন ফোরকান। তাদের ধারণা, মাদকাসক্ত অবস্থায় তিনি এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন। প্রতিবেশীরাও জানান, দাম্পত্য জীবনে প্রায়ই কলহ হতো।গাজীপুরের পুলিশ সুপার মো. শরিফ উদ্দীন বলেন, “ঘাতক ফোরকান হত্যার পর ফোনে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন। এ বিষয়ে আইনগত পদক্ষেপ চলছে। রহস্য উদ্ঘাটনে একাধিক সংস্থা কাজ করছে।” বর্তমানে বাড়িটিতে সাধারণের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। ফরেনসিক দল আলামত সংগ্রহ করছে। এ ঘটনায় গাজীপুর জেলাজুড়ে শোক ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে
১ ঘন্টা আগে

বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস শেষ ৪১৩ রানে

মিরপুর টেস্টে দুর্দান্ত ব্যাটিং প্রদর্শনের পর ১১৭.১ ওভারে অলআউট হলো বাংলাদেশ। নাজমুল হোসেন শান্তের সেঞ্চুরি (১০১), মুমিনুল হকের ৯১ ও মুশফিকুর রহিমের ৭১ রানের ইনিংস দলকে বড় সংগ্রহ এনে দেয়। শেষ দিকে তাসকিন–নাহিদের জুটিতে দলীয় স্কোর চার শ ছাড়ায়।পাকিস্তানের বোলিং সাফল্য পেসার মোহাম্মদ আব্বাস ছিলেন সবচেয়ে সফল। তিনি ৫ উইকেট নেন ৯২ রানে। শাহিন আফ্রিদি পান ৩ উইকেট, হাসান আলী ও নোমান আলী নেন একটি করে উইকেট।পাকিস্তানের ইনিংস শুরু বাংলাদেশের ৪১৩ রানের জবাবে পাকিস্তান সতর্কভাবে এগোচ্ছে। ওপেনার ইমাম–উল–হক ও আজান আওয়াইস ৪ ওভারে ১৯ রান তুলেছেন। তাসকিন ও ইবাদত বল হাতে চাপ তৈরি করার চেষ্টা করছেন।বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে শীর্ষ অবদান:নাজমুল হোসেন শান্ত – ১০১মুমিনুল হক – ৯১মুশফিকুর রহিম – ৭১লিটন দাস – ৩৩তাসকিন আহমেদ – ২৮পাকিস্তানের বোলিং ফিগার:মোহাম্মদ আব্বাস – ৫/৯২শাহিন আফ্রিদি – ৩/১১৩হাসান আলী – ১/৭৫নোমান আলী – ১/৮০বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন প্রথম ইনিংসে চার শ রানের লক্ষ্য পূরণের। দল সেটি অর্জন করেছে, এখন দেখার বিষয় পাকিস্তান কীভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলে।
২ ঘন্টা আগে
তামিলনাড়ুতে সরকার গঠন স্থগিত, বিজয়ের শপথ আটকে গেল

তামিলনাড়ুতে সরকার গঠন স্থগিত, বিজয়ের শপথ আটকে গেল

ভারতের দক্ষিণের রাজ্য তামিলনাড়ুতে শুক্রবার দিনভর চলেছে তীব্র রাজনৈতিক নাটক। একদিকে জোট সমর্থনের ঘোষণা, অন্যদিকে শেষ মুহূর্তে সরে দাঁড়ানো দল—সব মিলিয়ে মুহূর্তের ব্যবধানে বদলে গেছে রাজনৈতিক সমীকরণ। এর ফলে অভিনেতা থেকে রাজনীতিবিদ হওয়ার দৌড়ে আবারও আটকে গেলেন বিজয়। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তার শপথ অনুষ্ঠান স্থগিত হয়ে গেছে।সংখ্যাগরিষ্ঠতার সংকট২৩৪ সদস্যের বিধানসভায় সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ১১৮ আসন। নির্বাচনে একক বৃহত্তম দল হিসেবে উঠে আসা তামিলাগা ভেট্রি কাজাগাম (টিভিকে) পেয়েছে ১০৮ আসন। কংগ্রেসের পাঁচটি ও বাম দলগুলোর চারটি আসন যোগ হলে সংখ্যা দাঁড়ায় ১১৭। তবে শেষ মুহূর্তে ভারতীয় ইউনিয়ন মুসলিম লীগ (আইইউএমএল) জোট থেকে সরে দাঁড়ানোয় সমীকরণ ভেঙে পড়ে। একই সঙ্গে আঞ্চলিক দল ভিসিকে-র অবস্থানও অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।রাজ্যপালের সিদ্ধান্তরাজ্যপাল রাজেন্দ্র বিশ্বনাথ আরলেকার জানিয়েছেন, টিভিকে এখনো স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করতে পারেনি। তাই সরকার গঠনের জন্য আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ দেওয়া হয়নি। এর ফলেই শনিবার বিজয়ের শপথ অনুষ্ঠান স্থগিত রাখা হয়েছে।জোট রাজনীতির জটিলতা• কংগ্রেস শর্তসাপেক্ষে সমর্থন দিতে রাজি ছিল, মন্ত্রিত্ব ভাগাভাগির দাবি রেখেছিল।• বাম দলগুলো বাইরে থেকে সমর্থন দেওয়ার কথা জানিয়েছে, তবে সরকারে অংশ নেবে না।• ভিসিকে আনুষ্ঠানিকভাবে সিদ্ধান্ত জানায়নি, তবে তাদের পক্ষ থেকে উপ-মুখ্যমন্ত্রী পদ ও একটি মন্ত্রিত্ব দাবি করা হয়েছে বলে জানা গেছে।বিশ্লেষণরাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পাঁচ দশকের দ্রাবিড় রাজনীতির প্রভাব ভেঙে টিভিকে একক বৃহত্তম দল হিসেবে উঠে এলেও জোট রাজনীতির বাস্তবতা এখন বিজয়ের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। শক্ত জনসমর্থন থাকলেও বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ না করতে পারলে সরকার গঠন অনিশ্চিতই থেকে যাবে।এখন সব চোখ রাজ্যপালের পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকে। কখন এবং কীভাবে নতুন করে সরকার গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হবে, সেই উত্তরই তামিলনাড়ুর রাজনীতির সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।
১ ঘন্টা আগে
ঈদুল আজহায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে টানা ১৬ থেকে ২১ দিন বন্ধ

ঈদুল আজহায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে টানা ১৬ থেকে ২১ দিন বন্ধ

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য সাত দিনের ছুটি নির্ধারণ করেছে সরকার। একই সঙ্গে শিক্ষাপঞ্জি অনুযায়ী স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় দীর্ঘ ছুটির সুযোগ পাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা।বৃহস্পতিবার (৭ মে) রাতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য সাত দিনের ছুটি নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে ছুটির সমন্বয়ের অংশ হিসেবে আগামী ২৩ মে (শনিবার) সাপ্তাহিক ছুটি বাতিল করা হয়েছে। এদিন সব সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীকে যথারীতি অফিসে উপস্থিত থাকতে হবে।সরকারি অফিসের ছুটির সূচিতে পরিবর্তন এলেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত ছুটির তালিকায় কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি।২০২৬ সালের শিক্ষাপঞ্জি অনুযায়ী, প্রাথমিক বিদ্যালয়, নিম্নমাধ্যমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে গ্রীষ্মকালীন অবকাশ এবং ঈদুল আজহার ছুটি শুরু হবে ২৪ মে থেকে, যা চলবে ৪ জুন পর্যন্ত। এর আগে ও পরে সাপ্তাহিক ছুটি যুক্ত হওয়ায় শিক্ষার্থীরা টানা ১৬ দিনের ছুটি উপভোগ করতে পারবে।কলেজ পর্যায়েও ঈদের মূল ছুটি ১২ দিনের হলেও সাপ্তাহিক বন্ধসহ মোট ছুটি দাঁড়াবে ১৬ দিন।অন্যদিকে মাদ্রাসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে গ্রীষ্মকালীন অবকাশ ও ঈদুল আজহার ছুটি শুরু হবে ২৪ মে থেকে এবং শেষ হবে ১১ জুন। এর সঙ্গে সাপ্তাহিক ছুটি যুক্ত হওয়ায় মাদ্রাসা শিক্ষার্থীরা টানা ২১ দিনের ছুটি পাবে।সরকারের এই ছুটির ব্যবস্থাপনায় একদিকে সরকারি কার্যক্রম সমন্বয় রাখা হবে, অন্যদিকে শিক্ষার্থীরা ঈদ ও গ্রীষ্মকালীন অবকাশে দীর্ঘ বিরতির সুযোগ পাবে।
০৮ মে ২০২৬
তামিলনাড়ুতে সরকার গঠন স্থগিত, বিজয়ের শপথ আটকে গেল

তামিলনাড়ুতে সরকার গঠন স্থগিত, বিজয়ের শপথ আটকে গেল

ভারতের দক্ষিণের রাজ্য তামিলনাড়ুতে শুক্রবার দিনভর চলেছে তীব্র রাজনৈতিক নাটক। একদিকে জোট সমর্থনের ঘোষণা, অন্যদিকে শেষ মুহূর্তে সরে দাঁড়ানো দল—সব মিলিয়ে মুহূর্তের ব্যবধানে বদলে গেছে রাজনৈতিক সমীকরণ। এর ফলে অভিনেতা থেকে রাজনীতিবিদ হওয়ার দৌড়ে আবারও আটকে গেলেন বিজয়। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তার শপথ অনুষ্ঠান স্থগিত হয়ে গেছে।সংখ্যাগরিষ্ঠতার সংকট২৩৪ সদস্যের বিধানসভায় সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ১১৮ আসন। নির্বাচনে একক বৃহত্তম দল হিসেবে উঠে আসা তামিলাগা ভেট্রি কাজাগাম (টিভিকে) পেয়েছে ১০৮ আসন। কংগ্রেসের পাঁচটি ও বাম দলগুলোর চারটি আসন যোগ হলে সংখ্যা দাঁড়ায় ১১৭। তবে শেষ মুহূর্তে ভারতীয় ইউনিয়ন মুসলিম লীগ (আইইউএমএল) জোট থেকে সরে দাঁড়ানোয় সমীকরণ ভেঙে পড়ে। একই সঙ্গে আঞ্চলিক দল ভিসিকে-র অবস্থানও অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।রাজ্যপালের সিদ্ধান্তরাজ্যপাল রাজেন্দ্র বিশ্বনাথ আরলেকার জানিয়েছেন, টিভিকে এখনো স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করতে পারেনি। তাই সরকার গঠনের জন্য আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ দেওয়া হয়নি। এর ফলেই শনিবার বিজয়ের শপথ অনুষ্ঠান স্থগিত রাখা হয়েছে।জোট রাজনীতির জটিলতা• কংগ্রেস শর্তসাপেক্ষে সমর্থন দিতে রাজি ছিল, মন্ত্রিত্ব ভাগাভাগির দাবি রেখেছিল।• বাম দলগুলো বাইরে থেকে সমর্থন দেওয়ার কথা জানিয়েছে, তবে সরকারে অংশ নেবে না।• ভিসিকে আনুষ্ঠানিকভাবে সিদ্ধান্ত জানায়নি, তবে তাদের পক্ষ থেকে উপ-মুখ্যমন্ত্রী পদ ও একটি মন্ত্রিত্ব দাবি করা হয়েছে বলে জানা গেছে।বিশ্লেষণরাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পাঁচ দশকের দ্রাবিড় রাজনীতির প্রভাব ভেঙে টিভিকে একক বৃহত্তম দল হিসেবে উঠে এলেও জোট রাজনীতির বাস্তবতা এখন বিজয়ের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। শক্ত জনসমর্থন থাকলেও বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ না করতে পারলে সরকার গঠন অনিশ্চিতই থেকে যাবে।এখন সব চোখ রাজ্যপালের পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকে। কখন এবং কীভাবে নতুন করে সরকার গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হবে, সেই উত্তরই তামিলনাড়ুর রাজনীতির সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।
১ ঘন্টা আগে
১৫ এপ্রিল ২০২৬, ১২:১১ এএম
আপনি কি মনে করেন বিএনপি জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর ও শব্দ বাস্তবায়ন করবে?

আপনি কি মনে করেন বিএনপি জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর ও শব্দ বাস্তবায়ন করবে?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ জন
বিশ্ব থ্যালাসেমিয়া দিবস ২০২৬: ‘একটি ছোট রক্ত পরীক্ষা বদলে দিতে পারে একটি শিশুর ভবিষ্যৎ’

বিশ্ব থ্যালাসেমিয়া দিবস ২০২৬: ‘একটি ছোট রক্ত পরীক্ষা বদলে দিতে পারে একটি শিশুর ভবিষ্যৎ’

একটি সাধারণ রক্ত পরীক্ষা দেখতে যতটা সহজ, তার প্রভাব ততটাই গভীর। কারণ এই ছোট পরীক্ষাই নির্ধারণ করে দিতে পারে একটি শিশুর ভবিষ্যৎ জীবন কতটা স্বাভাবিক হবে, নাকি শুরু থেকেই লড়তে হবে থ্যালাসেমিয়া নামক এক কঠিন বংশগত রোগের বিরুদ্ধে।অনেকেই জানেন না, তারা নিজেরাই এই রোগের বাহক হতে পারেন, আর সেই অজান্তেই নেওয়া সিদ্ধান্ত ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ঠেলে দিতে পারে দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা ও কষ্টের চক্রে। অথচ সময়মতো সচেতন হলে এই ঝুঁকি পুরোপুরি এড়ানো সম্ভব।বিশ্ব থ্যালাসেমিয়া দিবসপ্রতি বছর ৮ মে বিশ্বব্যাপী পালিত হয় বিশ্ব থ্যালাসেমিয়া দিবস। এই দিনটি কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং থ্যালাসেমিয়া নামক মারাত্মক বংশগত রক্তরোগ সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি, রোগ প্রতিরোধ এবং আক্রান্তদের প্রতি সহমর্মিতা প্রদর্শনের এক গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ।থ্যালাসেমিয়া এমন একটি জেনেটিক রোগ, যেখানে শরীর পর্যাপ্ত পরিমাণে সুস্থ হিমোগ্লোবিন তৈরি করতে পারে না। ফলে রোগীকে সারাজীবন নিয়মিত রক্ত সঞ্চালনের ওপর নির্ভরশীল থাকতে হয়, যা তাদের জীবনে শারীরিক, মানসিক ও আর্থিক চাপ সৃষ্টি করে।এ বছরের প্রতিপাদ্যএ বছরের প্রতিপাদ্য: ‘হিডেন নো মোর: ফাইন্ডিং দ্য আনডায়াগনোসড, সাপোর্টিং দ্য আনসিন’ (আর লুকিয়ে নয়: অজানা রোগীদের খুঁজে বের করা, অদেখা মানুষদের সহায়তা করা)।আমাদের সামনে একটি স্পষ্ট বার্তা তুলে ধরে: থ্যালাসেমিয়া প্রতিরোধ ও রোগীদের উন্নত জীবন নিশ্চিত করতে হলে সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগ অপরিহার্য। পরিবার, সমাজ, চিকিৎসক, নীতিনির্ধারক এবং গণমাধ্যম—সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।বাংলাদেশে থ্যালাসেমিয়ার প্রকোপবাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে থ্যালাসেমিয়ার প্রকোপ তুলনামূলকভাবে বেশি। এর প্রধান কারণ অজ্ঞতা ও সচেতনতার অভাব। অনেক ক্ষেত্রেই মানুষ জানেন না যে তারা থ্যালাসেমিয়ার বাহক কি না।অথচ দুইজন বাহকের মধ্যে বিয়ে হলে তাদের সন্তানের থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে ২৫ শতাংশ। তাই প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো বিয়ের আগে রক্ত পরীক্ষা করে ক্যারিয়ার শনাক্ত করা।একটি সাধারণ রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে খুব সহজেই জানা সম্ভব কেউ থ্যালাসেমিয়ার বাহক কিনা। এই তথ্যটি জানা থাকলে সচেতন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা যায় এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে এই কষ্টকর রোগ থেকে রক্ষা করা সম্ভব।কী করা জরুরিবিবাহ-পূর্ব রক্ত পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়ার সময় এখন এসেছে। স্কুল, কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে এই বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করে তরুণ প্রজন্মকে সচেতন করা অত্যন্ত জরুরি।থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত রোগীদের জীবন সহজ নয়। নিয়মিত রক্ত সঞ্চালন, আয়রন চেলেশন থেরাপি এবং বিভিন্ন জটিলতার মোকাবিলা তাদের নিত্যসঙ্গী। অনেক পরিবার এই দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে গিয়ে আর্থিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে।সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি সংস্থা, দাতব্য প্রতিষ্ঠান এবং সমাজের বিত্তবান ব্যক্তিদের এগিয়ে আসা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিরাপদ রক্ত সরবরাহ, আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থা এবং মানসিক সহায়তা নিশ্চিত করা রোগীদের জন্য অপরিহার্য।সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন জরুরিথ্যালাসেমিয়া রোগীদের প্রতি সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনও জরুরি। অনেক সময় তারা অবহেলা ও বৈষম্যের শিকার হন, যা তাদের মানসিকভাবে ভেঙে দেয়। আমাদের উচিত তাদের পাশে দাঁড়ানো, তাদের প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়া এবং তাদের স্বাভাবিক জীবনের অধিকার নিশ্চিত করা।চিকিৎসা বিজ্ঞানের অগ্রগতির ফলে বর্তমানে থ্যালাসেমিয়ার চিকিৎসায় নতুন নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, যেমন বোন ম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট। তবে এটি ব্যয়বহুল এবং সবার নাগালের মধ্যে নয়। তাই প্রতিরোধই এখানে সবচেয়ে কার্যকর এবং বাস্তবসম্মত পথ।থ্যালাসেমিয়া প্রতিরোধে সচেতনতার বিকল্প নেই। একটি সাধারণ রক্ত পরীক্ষাই পারে অনাগত শিশুর জীবনকে কষ্টমুক্ত রাখতে। অথচ অজ্ঞতার কারণেই বহু পরিবার এই রোগের কষ্ট বহন করতে বাধ্য হয়। বিয়ের আগে রক্ত পরীক্ষা ও ক্যারিয়ার শনাক্তকরণ নিশ্চিত করতে না পারলে থ্যালাসেমিয়া নির্মূল করা সম্ভব নয়। আজকের দিনে আমাদের প্রতিজ্ঞা করা উচিত, নিজে সচেতন হব, অন্যকে সচেতন করব। তবেই গড়ে তুলতে পারব থ্যালাসেমিয়ামুক্ত সুস্থ সমাজ।
০৮ মে ২০২৬
ট্রাম্পের ১০ শতাংশ বৈশ্বিক শুল্ক অবৈধ ঘোষণা করে বাণিজ্য আদালতের রায়

ট্রাম্পের ১০ শতাংশ বৈশ্বিক শুল্ক অবৈধ ঘোষণা করে বাণিজ্য আদালতের রায়

যুক্তরাষ্ট্রের একটি বাণিজ্য আদালত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপ করা ১০ শতাংশ বৈশ্বিক শুল্ককে অবৈধ ঘোষণা করেছে। বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের কোর্ট অব ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড এ রায় দেয়।ট্রাম্প প্রশাসন ফেব্রুয়ারিতে বিভিন্ন দেশ ও অঞ্চলের ওপর এই শুল্ক আরোপ করেছিল। এ জন্য তারা ট্রেড অ্যাক্টের সেকশন ১২২ ব্যবহার করে।প্রেক্ষাপটএর আগে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের ব্যাপক বৈশ্বিক শুল্ক নীতিকে বাতিল করে দেয়। আদালত বলেছিল, আন্তর্জাতিক জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইন (আইইইপিএ) ব্যবহার করে এত বড় পরিসরে শুল্ক আরোপ করার ক্ষেত্রে ট্রাম্প তার ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছেন।এরপর বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে ১০ শতাংশ শুল্ক চালু করা হয়।সেকশন ১২২-এর শর্ত ও বাদীদের যুক্তিসেকশন ১২২ অনুযায়ী, কোনো দেশের বড় ও গুরুতর ভারসাম্যহীন বাণিজ্য ঘাটতি মোকাবিলায় প্রেসিডেন্ট সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক ১৫০ দিনের জন্য আরোপ করতে পারেন।তবে মামলার বাদীরা যুক্তি দেন, ট্রাম্প এই ধারা ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করতে পারেননি।আদালতের সর্বশেষ এই রায় ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য নতুন ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এখন নজর রয়েছে, প্রশাসন এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবে কি না।ট্রাম্পের বৈশ্বিক শুল্ক নীতি বারবার আদালতের বাধার মুখে পড়ছে। সুপ্রিম কোর্টের পর এবার বাণিজ্য আদালতও ১০ শতাংশ শুল্ককে অবৈধ ঘোষণা করল। প্রশ্ন উঠছে, ট্রাম্প প্রশাসন কি এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবে, নাকি বিকল্প পথ খুঁজবে? যাই হোক, আমেরিকার বাণিজ্য নীতি নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ছে। এটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্যও বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
৩০ মার্চ ২০২৬
স্বপ্ন বুনে বিশ্বজয়: মঈনুলের ইসেভিও কীভাবে পৌঁছাল বিশ্বমঞ্চে

স্বপ্ন বুনে বিশ্বজয়: মঈনুলের ইসেভিও কীভাবে পৌঁছাল বিশ্বমঞ্চে

৩০ মার্চ ২০২৬
এআই নিয়ে আদালতে মাস্ক বনাম অল্টম্যান, এআইয়ের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে মামলা শুরু

এআই নিয়ে আদালতে মাস্ক বনাম অল্টম্যান, এআইয়ের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে মামলা শুরু

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে প্রভাব ফেলতে পারে এমন এক বহুল আলোচিত মামলার বিচারিক কার্যক্রম আজ মঙ্গলবার শুরু হয়েছে। চ্যাটজিপিটির নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ওপেনএআইয়ের বিবর্তন নিয়ে দুই বিলিয়নিয়ার ইলন মাস্ক ও স্যাম অল্টম্যান এখন আদালতের মুখোমুখি। অলাভজনক সংস্থা থেকে শত শত বিলিয়ন ডলারের মুনাফালোভী প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর নিয়ে তাদের এ আইনি লড়াই। সোমবার নয় জন জুরির সংক্ষিপ্ত তালিকা তৈরির পর আজ ক্যালিফোর্নিয়ার ওকল্যান্ডের ফেডারেল আদালতে মাস্কের করা দেওয়ানি মামলার প্রাথমিক শুনানি শুরু হয়েছে।মাস্কের অভিযোগ, ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যান এবং প্রেসিডেন্ট গ্রেগ ব্রকম্যান তার ও জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। মানবতার কল্যাণে কাজ করার মূল লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হয়ে তারা প্রতিষ্ঠানটিকে নিজেদের এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি ‘সম্পদ বানানোর যন্ত্রে’ পরিণত করেছেন। বিশ্বের শীর্ষ ধনী মাস্ক ওপেনএআই এবং এর অন্যতম বড় বিনিয়োগকারী মাইক্রোসফটের কাছে প্রায় ১৭ লাখ ৭০ হাজার কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন। তিনি চান এই অর্থ ওপেনএআইয়ের দাতব্য শাখায় জমা হোক। এছাড়া তিনি ওপেনএআইকে পুনরায় অলাভজনক সংস্থায় ফিরিয়ে নেওয়া এবং অল্টম্যান ও ব্রকম্যানকে তাদের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।টেসলা ও স্পেসএক্সের প্রতিষ্ঠাতা মাস্ক জানান, ওপেনএআইয়ের মূল লক্ষ্য বাস্তবায়নে তিনি প্রায় ৪৫ কোটি টাকা প্রারম্ভিক মূলধন দিয়েছিলেন। কিন্তু ২০১৮ সালে তিনি বোর্ড ছাড়ার পরপরই ২০১৯ সালে প্রতিষ্ঠানটি মুনাফাভিত্তিক ব্যবসায়িক মডেলে চলে যায়। অন্যদিকে ওপেনএআইয়ের দাবি, মাস্ক এই পরিবর্তনের কথা আগে থেকেই জানতেন এবং সমর্থন করেছিলেন। তাদের মতে, মাস্ক নিজে সিইও হতে ব্যর্থ হওয়ার পর এখন ঈর্ষান্বিত হয়ে নিজের এআই কোম্পানি এক্সএআইকে এগিয়ে নিতেই এই মামলা করেছেন।মার্কিন ডিস্ট্রিক্ট জজ ইভন গনজালেজ রজার্স জানিয়েছেন, তিনি আগামী ১২ মে’র মধ্যে জুরিদের সিদ্ধান্ত জানতে চান। এই মামলায় ইলন মাস্ক, স্যাম অল্টম্যান এবং মাইক্রোসফট প্রধান সত্য নাদেলা সাক্ষ্য দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, চলতি সপ্তাহেই কাঠগড়ায় দাঁড়াবেন মাস্ক।২০১৫ সালে গুগলকে টেক্কা দিতে এবং মানবতার কল্যাণে এআই তৈরির লক্ষ্যে মাস্ক ও অল্টম্যান ওপেনএআই প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। ব্রকম্যানের সাধারণ একটি অ্যাপার্টমেন্টের ল্যাব থেকে শুরু হওয়া সংস্থাটির বর্তমান বাজারমূল্য ৮৫০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। এই মামলা ওপেনএআইয়ের সম্ভাব্য শেয়ার বাজার বা আইপিও আসার পরিকল্পনাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে এবং এআই প্রযুক্তি নিয়ে সাধারণ মানুষের ভীতি আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।এদিকে ওপেনএআইয়ের প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যানথ্রোপিকসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলোও এখন বাজার ধরতে মরিয়া। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইপিওতে আসলে ওপেনএআইয়ের বাজারমূল্য ১ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। বর্তমানে ওপেনএআই নিজেদের কাঠামো সংস্কার করে একটি ‘পাবলিক বেনিফিট কর্পোরেশন’-এ রূপান্তর করেছে, যেখানে মূল অলাভজনক শাখার ২৬ শতাংশ অংশীদারিত্ব রয়েছে। এই আইনি লড়াই কেবল দুই ধনকুবেরের দ্বন্দ্ব নয়, বরং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নৈতিকতা ও বাণিজ্যিক ব্যবহারের ভবিষ্যৎ কোন পথে যাবে—তা নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখবে।সূত্র: রয়টার্স, এএফপি
২৮ এপ্রিল ২০২৬
নাগরিকত্বের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সন্তান জন্ম দেওয়া ভিসা শর্তের পরিপন্থি: মার্কিন দূতাবাস

নাগরিকত্বের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সন্তান জন্ম দেওয়া ভিসা শর্তের পরিপন্থি: মার্কিন দূতাবাস

ক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পাওয়ার উদ্দেশ্যে দেশটিতে গিয়ে সন্তান জন্ম দেওয়া এখন থেকে ভিসার শর্তের পরিপন্থি হিসেবে গণ্য হবে। এমন উদ্দেশ্যে কেউ ভিসা আবেদন করলে তা সরাসরি বাতিল করা হবে বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে মার্কিন দূতাবাস।বুধবার সকালে দূতাবাসের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বিশেষ সতর্কবার্তায় এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।কী বলছে দূতাবাসের সতর্কবার্তাদূতাবাসের পোস্টে উল্লেখ করা হয়, কোনো ব্যক্তি যদি মূলত সন্তানের মার্কিন নাগরিকত্ব নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের পরিকল্পনা করেন, তবে তা দেশটির বর্তমান ভিসা নীতিমালার পরিপন্থি।কনস্যুলার কর্মকর্তারা যদি সাক্ষাৎকার বা তদন্তের মাধ্যমে বুঝতে পারেন যে আবেদনকারীর মূল লক্ষ্য সন্তান জন্ম দিয়ে নাগরিকত্ব অর্জন, তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ট্যুরিস্ট ভিসা আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হবে।সতর্কবার্তায় আরও বলা হয়, এ ধরনের কার্যক্রম মার্কিন ভিসা নীতিমালার গুরুতর লঙ্ঘন। তাই আবেদনকারীদের শুধু প্রকৃত এবং সঠিক উদ্দেশ্য উল্লেখ করে আবেদন করার আহ্বান জানিয়েছে দূতাবাস।কঠোর সতর্কতাভিসা পাওয়ার জন্য ভুল তথ্য প্রদান বা ভিসার শর্ত ভঙ্গ করলে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের ক্ষেত্রে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা বা নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলেও সতর্কবার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে।অর্থাৎ, কেউ যদি এ উদ্দেশ্যে ভিসা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সন্তান জন্ম দেন এবং তা প্রমাণিত হয়, তাহলে পরবর্তীতে তার যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়া পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যেতে পারে।যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে জন্ম নিলে সন্তান স্বয়ংক্রিয়ভাবে সে দেশের নাগরিক হয় – এই সুযোগ কাজে লাগাতে অনেকেই আগে ট্যুরিস্ট ভিসায় গিয়ে সন্তান প্রসব করতেন। এখন থেকে সেই পথ কার্যকরীভাবে বন্ধ করে দিলো মার্কিন দূতাবাস। শুধু ভিসা বাতিল নয়, ভবিষ্যতেও যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞার হুঁশিয়ারি দেওয়ায় এই সিদ্ধান্তকে ‘চরম কঠোর’ বলছেন অভিবাসন বিশ্লেষকরা। ফলে আবেদনকারীদের এখন ভিসা আবেদনের আগে তিনবার ভাবতে হবে।
৩০ মার্চ ২০২৬
ষাট গম্বুজ মসজিদ

ষাট গম্বুজ মসজিদ

বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমের জেলা বাগেরহাট। সবুজ শ্যামলিমা আর নদী-খাল বেষ্টিত এই জনপদকে বিশ্বের দরবারে পরিচিতি এনে দিয়েছে একটি অনন্য স্থাপনা – ষাট গম্বুজ মসজিদ। ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী তিনটি স্থানের একটি এই মসজিদ মুসলিম স্থাপত্যের এক অপূর্ব নিদর্শন। যেখানে ইতিহাস, আধ্যাত্মিকতা আর নির্মাণকৌশলের মিলন ঘটেছে চুন-সুরকি আর পাথরের বাঁধনে।ইতিহাসের আঁধার আলো: কে, কবে, কেন?মসজিদটির গায়ে কোনো শিলালিপি নেই। তাই এটি কে নির্মাণ করেছিলেন বা কোন সময়ে নির্মিত হয়েছিল, তা নিয়ে সঠিক তথ্য পাওয়া যায় না। তবে স্থাপত্যশৈলী ঘেঁটে ইতিহাসবিদরা প্রায় নিশ্চিত – এ মসজিদ পীর খানজাহান আলী (রহ.)-এর হাতেই গড়ে উঠেছিল। ধারণা করা হয়, তিনি পঞ্চদশ শতাব্দীর মাঝামাঝি (আনুমানিক ১৪৪২-১৪৫৯ খ্রিস্টাব্দ, অনেকের মতে ১৫০০ শতাব্দীতে) এটি নির্মাণ করেন।সুলতান নাসিরউদ্দিন মাহমুদ শাহের আমলে খান-ই-জাহান সুন্দরবনের কোল ঘেঁষে ‘খলিফাতাবাদ’ রাজ্য গড়ে তোলেন। দরবার ও নামাজের জন্য তিনি একটি বিশাল হল নির্মাণের উদ্যোগ নেন, যা কালক্রমে ‘ষাট গম্বুজ মসজিদ’ নামে পরিচিতি পায়। জনশ্রুতি আছে, মসজিদের পাথর চট্টগ্রাম থেকে আনা হয়েছিল। আবার কেউ কেউ বলেন, ভারতের উড়িষ্যার রাজমহল থেকে অলৌকিক ক্ষমতাবলে জলপথে ভাসিয়ে আনা হয়েছিল। বাস্তবে পাথরগুলো রাজমহল থেকেই আনা – এ নিয়ে ঐতিহাসিকরা একমত।নামকরণের নানা কাহিনিমসজিদটির নাম নিয়েও আছে নানা মত।ষাট গম্বুজ কেন? সংস্কৃত ‘সাত’ ও ফারসি ‘ছাদ’ মিলে ‘ছাদ গম্বুজ’ থেকে কথ্যরূপে ‘ষাট গম্বুজ’ হয়েছে বলে এক মত।আবার অন্য মতে, মসজিদের ভেতরে ছয়টি সারিতে দশটি করে মোট ৬০টি পাথরের স্তম্ভ (খাম্বা) আছে। স্তম্ভের ওপর ছাদ নির্মিত, তাই ‘ষাট খাম্বা’ থেকে ‘ষাট গম্বুজ’।গম্বুজের প্রকৃত সংখ্যা: নাম ‘ষাট গম্বুজ’ হলেও আসলে এখানে গম্বুজ ৬০টি নয়। মূল ভবনে ১১টি সারিতে ৭৭টি গম্বুজ, চার কোণার মিনারের ওপর চারটি গম্বুজ – মোট ৮১টি গম্বুজ। ৭৭টির মধ্যে ৭৪টিই অর্ধগোলাকার, শুধু মাঝের সারির সাতটি দেখতে বাংলার চৌচালা ঘরের চালের মতো।তাই অনেক গবেষক মনে করেন, মসজিদটির আসল নাম হওয়া উচিত ছিল ‘ষাট স্তম্ভ মসজিদ’ – কারণ এখানে প্রধান আকর্ষণ সেই ৬০টি পাথরের স্তম্ভ।স্থাপত্যের অনন্য বুননষাট গম্বুজ মসজিদের স্থাপত্যশৈলীতে মিশেছে মধ্য এশিয়ার তুঘলক (তুরস্ক) ও জৌনপুরী ধারা, আবার রয়েছে স্থানীয় বাংলার ছোঁয়া।আকার ও পরিমাপবাইরের দিক: উত্তর-দক্ষিণে ১৬০ ফুট, পূর্ব-পশ্চিমে ১০৪ ফুট।ভেতরের দিক: উত্তর-দক্ষিণে ১৪৩ ফুট, পূর্ব-পশ্চিমে ৮৮ ফুট।দেয়ালের পুরুত্ব: প্রায় ৮.৫ ফুট। ইটের তৈরি এসব দেয়াল অসাধারণ মজবুত।দরজা ও জানালাপূর্ব দেয়ালে ১১টি খিলানযুক্ত দরজা – মাঝেরটি সবচেয়ে বড়।উত্তর ও দক্ষিণ দেয়ালে ৭টি করে মোট ১৪টি দরজা।এই অসংখ্য দরজা আলো ও বাতাস চলাচলের জন্য তৈরি, তবু ভেতরের দিকটা কিছুটা অন্ধকারাচ্ছন্ন – যা উপাসনার গাম্ভীর্য বাড়ায়।মিনার ও কোঠাচার কোণে চারটি গোলাকার মিনার। এদের চূড়ায় ছোট গম্বুজ। ছাদের কার্নিশের চেয়ে মিনারগুলো কিছুটা উঁচু। সামনের দিকের দুটি মিনারের ভেতর প্যাঁচানো সিঁড়ি – একসময় এখান থেকে আজান দেওয়া হতো।রওশন কোঠা: দক্ষিণ-পূর্ব কোণের বুরুজ – আলো-বাতাসে ভরা।আন্ধার কোঠা: উত্তর-পূর্ব কোণের বুরুজ – তুলনামূলক অন্ধকার।ভেতরের স্তম্ভ ও গম্বুজের জঙ্গলভেতরে ৬০টি পাথরের স্তম্ভ – উত্তর থেকে দক্ষিণে ছয় সারিতে, প্রতিসারিতে দশটি করে। প্রতিটি স্তম্ভ পাথর কেটে বানানো, তবে পাঁচটি স্তম্ভ পরে ইট দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। এই স্তম্ভের ওপর ভর করেই গম্বুজগুলো দাঁড়িয়ে। এক কথায়, এটি খিলান-স্তম্ভ-গম্বুজের এক বিস্ময়কর সমন্বয়।মিহরাব ও মিম্বারপশ্চিম দেয়ালে ১০টি মিহরাব। মাঝের মিহরাবটি সবচেয়ে বড় ও কারুকার্যপূর্ণ। এর দক্ষিণে ৫টি, উত্তরে ৪টি মিহরাব। উত্তরে যেখানে একটি মিহরাব থাকার কথা, সেখানে রয়েছে একটি ছোট দরজা – অনেকে মনে করেন, এটি খানজাহান আলীর দরবার হলের প্রবেশপথ ছিল। ইমামের বসার জন্য রয়েছে পাথরের মিম্বার।রডবিহীন নির্মাণসবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো – এই মসজিদে কোনো লোহার রড ব্যবহার করা হয়নি। শুধু চুন, সুরকি, কালো পাথর ও ছোট ইট দিয়ে তৈরি এই কাঠামো প্রায় ৬০০ বছর ধরে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে।ইউনেস্কোর স্বীকৃতি ও বর্তমান অবস্থা১৯৮৩ সালে (অনেক সূত্রে ১৯৮৫) ইউনেস্কো বাগেরহাট শহরটিকেই ‘ঐতিহাসিক মসজিদ শহর’ হিসেবে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের মর্যাদা দেয়। আর এই মর্যাদার কেন্দ্রবিন্দু হলো ষাট গম্বুজ মসজিদ।বর্তমানে মসজিদটি বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর ও ইউনেস্কোর যৌথ তত্ত্বাবধানে সংরক্ষিত। এখনো এখানে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামাতের সাথে আদায় করা হয়। একসঙ্গে মসজিদের ভেতরে প্রায় দুই হাজার মুসল্লি নামাজ পড়তে পারেন।ভ্রমণ তথ্য: কখন, কীভাবে, কত টাকা?প্রবেশ ফিদেশি পর্যটক: ৩০ টাকা (অনেক সূত্রে ২০ টাকাও উল্লেখ আছে – বর্তমানে ৩০ টাকাই বেশি প্রচলিত)মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষার্থী: ১০ টাকাসার্কভুক্ত দেশের নাগরিক: ২০০ টাকাঅন্যান্য বিদেশি: ৫০০ টাকাশিশু (০-১০ বছর) ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী: বিনামূল্যেঅনলাইন টিকেট: চাইলে myGOV ওয়েবসাইট থেকে কিউআর কোডযুক্ত টিকেট কেটে নিতে পারেন।খোলা ও বন্ধের সময়গ্রীষ্মকাল (গরমকাল): সকাল ১০টা – সন্ধ্যা ৬টাশীতকাল: সকাল ৯টা – বিকেল ৫টামধ্যাহ্ন বিরতি: দুপুর ১টা – ১টা ৩০ মিনিট (উভয় মৌসুমে)শুক্রবার বিশেষ বন্ধ: জুমার নামাজের জন্য দুপুর ১২টা ৩০ মিনিট – বিকেল ৩টা ৩০ মিনিটসাপ্তাহিক ছুটি: রোববার সারাদিন বন্ধ (সোমবার দুপুর ২টা থেকে খোলে)টিপস: নামাজের সময় (ফজর, যোহর, আসর, মাগরিব, এশা) স্থানীয় মুসল্লিরা প্রবেশ করতে পারেন বিনামূল্যে। তবে পর্যটকদের নির্ধারিত সময় ও টিকিট মেনে চলতে হবে।মসজিদ চত্বরে জাদুঘরপ্রধান ফটকের ডান পাশে বাগেরহাট জাদুঘর। এখানে খানজাহান আমলের প্রাচীন মুদ্রা, পোড়ামাটির ফলক, অসংখ্য প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন – এমনকি খানজাহানের দিঘির ঐতিহ্যবাহী ‘কালা পাহাড়’ ও ‘ধলা পাহাড়’ কুমিরের মমি সংরক্ষিত আছে।জাদুঘরের সময়: গ্রীষ্মে সকাল ১০টা – সন্ধ্যা ৬টা, শীতে সকাল ৯টা – বিকেল ৫টা।মধ্যাহ্ন বিরতি: দুপুর ১টা – দেড়টা।ছুটি: রোববার সারাদিন।একই টিকিটে জাদুঘর ও মসজিদ কমপ্লেক্স ঘুরতে পারবেন।যাতায়াত: ঢাকা থেকে বাগেরহাটবাসেঢাকার সায়দাবাদ ও গাবতলী বাস টার্মিনাল থেকে নিয়মিত বাস ছাড়ে। উল্লেখযোগ্য পরিবহন: মেঘনা, বনফুল, ফাল্গুনী, আরা, পর্যটক, বলেশ্বর, হামিম, দোলা, সোহাগ, শাকুরা, হানিফ, কমফোর্ট লাইন, ঈগল।ভাড়া: ৬৫০-৮০০ টাকা (প্রতি জন)।সময়: সকাল ৬টা-১০টা এবং সন্ধ্যা ৭টা-রাত ১০টা পর্যন্ত ছাড়ে।বাগেরহাট বাসস্ট্যান্ড নেমে রিকশা বা সিএনজি নিলে ৩০-৪০ টাকায় পৌঁছে যাবেন ষাট গম্বুজ মসজিদে (সুন্দরঘোনা গ্রাম, খুলনা-বাগেরহাট মহাসড়কের উত্তর পাশে)।ট্রেনেঢাকা থেকে সুন্দরবন এক্সপ্রেস খুলগামী ট্রেনে খুলনা যান। সেখান থেকে বাস বা সিএনজিতে বাগেরহাট (সময় লাগে ১-১.৫ ঘণ্টা)।কোথায় থাকবেন?বাগেরহাটে তেমন বিলাসবহুল হোটেল নেই, তবে মাঝারি মানের থাকার জায়গা আছে।রেল রোডে মমতাজ হোটেল – সুযোগ-সুবিধা কম, কিন্তু সেবা ভালো। খরচ তুলনামূলক বেশি।খান জাহান আলীর মাজারের সামনে হোটেল অভি – মেইন হাইওয়েতে অবস্থিত।কেন্দ্রীয় বাসস্টেশন সংলগ্ন হোটেল আল আমিন এবং কর্মকার পট্টিতে হোটেল মোহনা।খুলনা খুব কাছে বলে চাইলে খুলনা গিয়েও রাত কাটাতে পারেন।খাওয়ার ব্যবস্থাবাসস্ট্যান্ড ও দরগার আশপাশে কয়েকটি মোটামুটি মানের হোটেল আছে। তবে দাম ও মান সম্পর্কে আগে জেনে নেওয়া ভালো। স্থানীয় মাছ ও ভাত খেতে পারেন – বাগেরহাটের ইলিশ বেশ有名।দক্ষিণাঞ্চলের সর্ববৃহৎ ঈদের জামাতষাট গম্বুজ মসজিদ শুধু একটি পর্যটন কেন্দ্র নয় – এটি জীবন্ত একটি উপাসনালয়। প্রতি ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহায় এখানে দেশ-বিদেশের প্রায় অর্ধলাখ মুসল্লি জড়ো হন। এটি দক্ষিণাঞ্চলের সর্ববৃহৎ ঈদের জামাত। রমজান মাসে দুই হাফেজ খতম তারাবির নামাজ পড়ান এবং মুসল্লিদের জন্য ইফতারের ব্যবস্থা থাকে।আশপাশের দর্শনীয় স্থানমসজিদ ঘুরে সময় থাকলে আরও কয়েকটি স্থান দেখতে পারেন:বিবি বেগনির মসজিদ (৫০০ মিটার পেছনে) – ফুলের কারুকার্যময়।চুনাখোলা মসজিদ (বিবি বেগনির আরও ৫০০ মিটার পেছনে)।সিঙ্গাইর মসজিদ (মহাসড়কের পাশে)।নয় গম্বুজ মসজিদখান জাহান আলীর মাজারঘোড়া দিঘি ও রণবিজয়পুর দিঘিমোংলা বন্দর (চাইলে সুন্দরবন যাতায়াতের গেটওয়ে)।ভ্রমণে যা মেনে চলবেনহালকা ও আরামদায়ক পোশাক পরুন – সুতির কাপড় উত্তম।পর্যাপ্ত পানি, বিস্কুট, মুড়ি, চিড়া ইত্যাদি সঙ্গে রাখুন।মোবাইলের চার্জার ও পাওয়ার ব্যাংক নিতে ভুলবেন না।জ্বর, সর্দি, গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ ও স্যালাইন রাখুন।মসজিদে প্রবেশের আগে জুতা বাইরে রেখে পায়ে মোজা পরে প্রবেশ করুন।নামাজরত মুসল্লিদের বিরক্ত করবেন না। নির্ধারিত পর্যটক এলাকায় ঘুরুন।টিকিট কাটার পর জাদুঘর দেখতে ভুলবেন না – এটি একই ফিতে।শেষকথাষাট গম্বুজ মসজিদ শুধু পাথর-চুন-সুরকির গাঁথনি নয়; এটি বাংলার ইতিহাস, সংস্কৃতি ও মুসলিম স্থাপত্যের এক জীবন্ত দলিল। এখানে দাঁড়ালে সময় থমকে দাঁড়ায়। শুনতে পাবেন খানজাহানের আজানের প্রতিধ্বনি, দেখতে পাবেন অর্ধগোলাকার গম্বুজের সারি মেঘ ছুঁতে চায়।আপনিও একবার চলে আসুন বাগেরহাটে। ষাট গম্বুজের ছায়ায় দাঁড়ান। ইতিহাসের স্পর্শ নিন। আর এই অসাধারণ স্থাপত্যের সাক্ষী হয়ে ফিরে আসুন – নতুন এক অভিজ্ঞতা নিয়ে।
গণবার্তা ফিচার