ঢাকা    শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬
ঢাকা    শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬
গণবার্তা

রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন আগামীকাল শুক্রবার পদত্যাগ করতে পারেন

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পতনের পর থেকেই রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদে থাকা-না থাকা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চললেও দীর্ঘদিন তিনি দায়িত্বে ছিলেন। সংবিধান অনুযায়ী তার কাছেই শপথ নেয় ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার এবং পরবর্তী নির্বাচনের পর বিএনপিও তার কাছেই শপথ নিয়ে সরকার গঠন করে।গত দুই বছরে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠন রাষ্ট্রপতির অপসারণের দাবি জানালেও বিএনপি তাতে সমর্থন দেয়নি। বরং তাকে দায়িত্বে রাখার পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল দলটি। কিন্তু চলতি মাসের শুরুতে পরিস্থিতি বদলে যায়। বিএনপি সরকার রাষ্ট্রপতিকে মৌখিকভাবে পদত্যাগের অনুরোধ জানায় এবং তিনি কিছুটা সময় চান।বঙ্গভবনের একাধিক কর্মকর্তার বরাতে জানা গেছে, শুক্রবার তিনি অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করছেন। কর্মকর্তাদের ভাষ্য, শুক্রবার দুপুর নাগাদ পদত্যাগপত্র জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে পাঠাতে পারেন। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন শারীরিকভাবে অসুস্থ। সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) করা সিটি স্ক্যান ও এমআরআই পরীক্ষায় তার স্নায়ুবিষয়ক জটিলতা ধরা পড়েছে। এ কারণে পদত্যাগের পর স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তার।এদিকে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে আরও দাবি করা হয়েছে, চলতি বছরের ৯ মে রাষ্ট্রপতি লন্ডনে যান এবং ১৮ মে দেশে ফেরেন। ওই সফরের সময় তিনি শেখ হাসিনার সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো বিষয়টি জানতে পারার পরই তাকে পদত্যাগের বার্তা দেওয়া হয় বলেও খবরে দাবি করা হয়েছে।সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব পালন করতে অপারগ হলে বা পদত্যাগ করতে চাইলে জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন এবং ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সাংবিধানিক বিধান রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, পদত্যাগের পর নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া শিগগির শুরু হবে।
৮ ঘন্টা আগে

রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের জোর গুঞ্জন, উত্তরসূরি নিয়েও জোর চর্চা

রাজধানীর রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন আলোচনার শীর্ষে রয়েছে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের ভবিষ্যৎ। জোরালো গুঞ্জন উঠেছে, তিনি খুব শিগগিরই নিজের পদ থেকে সরে দাঁড়াতে পারেন। যদিও এখন পর্যন্ত বঙ্গভবন বা সরকারি পর্যায় থেকে এ বিষয়ে কোনো নিশ্চয়তা দেওয়া হয়নি, তবু শীর্ষ পর্যায়ের কিছু সূত্র বলছে, তাঁর অসুস্থতাকে এ ক্ষেত্রে যুক্তি হিসেবে সামনে আনা হতে পারে।এমন পরিস্থিতিতে কার হাতে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ এই পদটির দায়িত্ব তুলে দেওয়া হবে, সেটিও ভাবতে শুরু করেছে ক্ষমতাসীন দল। একাধিক সচিব পদমর্যাদার ব্যক্তির নাম আলোচনায় উঠে এসেছে। তবে প্রাথমিকভাবে কয়েকজন বিএনপি নেতার নামও আলোচনায় ছিল, যা নিয়ে দলীয়ভাবে এখনও কোনো খোলাসা করা হয়নি।রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন যখনই পদত্যাগ করবেন, তখন তার জায়গায় নতুন কাউকে বসানো হবে। বিএনপি চাইবে নিজেদের পছন্দের একজনকে সেখানে দেখতে। কারণ, সামনের জাতীয় নির্বাচন নতুন রাষ্ট্রপতির আমলেই হবে। তাই এই পদটি নিয়ে দল ও সরকারের মনোযোগ অনেকটাই স্বাভাবিক।রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিএনপি ক্ষমতায় এসে এখনই রাষ্ট্রপতি পদে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে চায়। ২০২৩ সালে আওয়ামী লীগের আমলে সাহাবুদ্দিন রাষ্ট্রপতি হন। সে সময় তিনি দুদকের কমিশনার ও ইসলামী ব্যাংকের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, যা নিয়ে সমালোচনাও ছিল।২০২৪ সালের অভ্যুত্থানের পর সাহাবুদ্দিন দায়িত্বে রয়েছেন। কিন্তু বর্তমানে সরকার ও রাষ্ট্রপতির রাজনৈতিক মতাদর্শের পার্থক্য স্পষ্ট। ফলে পদত্যাগের গুঞ্জনকে অনেকেই দলীয় স্বার্থের সঙ্গেই যুক্ত করছেন।সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি চাইলে স্পিকারের কাছে চিঠি দিয়ে পদ ছাড়তে পারেন। আর তার পদ শূন্য হলে স্পিকার নিজেই সাময়িকভাবে সেই দায়িত্ব পালন করেন। এরপর ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হয়, যা সংসদ সদস্যদের ভোটেই হয়ে থাকে।বঙ্গভবনের ভেতর থেকেও ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, রাষ্ট্রপতি তাঁর ঘনিষ্ঠ কর্মীদের বঙ্গভবন ছাড়ার কথা জানিয়েছেন। পদত্যাগের পর তিনি চিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে পারেন বলেও শোনা যাচ্ছে।তবে এই পুরো বিষয়টি নিয়ে এখন পর্যন্ত কেউই মুখ খোলেননি। বিএনপির কয়েকজন নেতা বলেছেন, তাঁরা এ বিষয়ে কিছু জানেন না। তবে রাজনৈতিক অঙ্গনে এটি এখন আলোচনার অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু।
৯ ঘন্টা আগে

বাবার জানাজা শেষে রাতে এটিএম বুথে ডিউটি, সকালে পরীক্ষা—ইকনের পাশে মন্ত্রী

বিকেলে বাবার দাফন সম্পন্ন করে রাতে কৃষি ব্যাংকের এটিএম বুথে দায়িত্ব পালন এবং পরদিন সকালে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া বাগেরহাটের শিক্ষার্থী ইকনের পড়ালেখার দায়িত্ব নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম ড. এহছানুল হক মিলন। পাশাপাশি পরীক্ষাকালীন সময়ে তাকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ারও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।বুধবার (২২ জুলাই) রাতে শিক্ষামন্ত্রীর ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) ফারহান ইশতিয়াক ফোন করে ইকনকে মন্ত্রীর এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। ফারহান ইশতিয়াক জানান, এইচএসসি পরীক্ষা চলাকালে যেন ইকনকে চাকরিতে ডিউটি করতে না হয়, সে জন্য শিক্ষামন্ত্রী আগামী দুই দিনের মধ্যে তাকে আর্থিক সহায়তা পাঠানোর নির্দেশনা দিয়েছেন। এছাড়া পরীক্ষা শেষ হলে তার উচ্চশিক্ষাসহ ভবিষ্যৎ পড়ালেখার বিষয়ে সার্বিক সহযোগিতা করার আশ্বাসও দিয়েছেন মন্ত্রী।মঙ্গলবার রাতে একটি গণমাধ্যমে ইকনের সংগ্রামী জীবনের খবর প্রকাশের পর তা দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। জানা যায়, মঙ্গলবার সকালে ইকনের বাবা ইসরাফিল দাড়িয়া হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং পরে দুপুরে মারা যান। ৪৬ বছর বয়সী ইসরাফিল মোটরসাইকেল চালিয়ে পরিবারের জীবিকা নির্বাহ করতেন।ইকনের পারিবারিক অবস্থাও অত্যন্ত নাজুক। তাদের আদি বাড়ি গোপালগঞ্জে হলেও ইকনের দাদা বাগেরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডে গাড়িচালক হিসেবে কর্মরত থাকায় পরিবারটি বাগেরহাটে বসবাস শুরু করে। অবসরের পর দাদা গোপালগঞ্জে ফিরে গেলেও ইসরাফিল বাগেরহাটেই থেকে যান। বর্তমানে ইকন তার মা ও মানসিক ভারসাম্যহীন এক ভাইকে নিয়ে মাসে ৪ হাজার টাকা ভাড়ার একটি বাসায় বসবাস করেন।বাবার মৃত্যুজনিত শোকের মধ্যেও সংসারের দায় কাঁধে নিয়ে ইকন সেদিন রাতেই কৃষি ব্যাংকের একটি এটিএম বুথে ডিউটি পালন করেন। দায়িত্বের ফাঁকে বুথের ভেতরেই বই নিয়ে পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে দেখা যায় তাকে। সেখানেই তার সঙ্গে কথা বলে পুরো ঘটনার কথা জানতে পারেন কালবেলার জেলা প্রতিনিধি। পরদিন সকালে তিনি এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন।ইকনের এই সংগ্রামের গল্প প্রকাশের পর বিভিন্ন মহলে ব্যাপক সাড়া পড়ে। এরই ধারাবাহিকতায় তার পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিলেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম ড. এহছানুল হক মিলন।
১১ ঘন্টা আগে
দায়িত্বভার গ্রহণ করলেন নতুন নৌবাহিনী প্রধান

দায়িত্বভার গ্রহণ করলেন নতুন নৌবাহিনী প্রধান

পদোন্নতি পেয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ নৌবাহিনী প্রধানের দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন ভাইস অ্যাডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বিকেলে নৌবাহিনী সদর দপ্তরে দায়িত্বভার গ্রহণের আনুষ্ঠানিকতার অংশ হিসেবে নবনিযুক্ত নৌবাহিনী প্রধান ভাইস অ্যাডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম নৌবাহিনী প্রধানের কার্যালয়ে কমান্ড গ্রহণ বইতে স্বাক্ষর করেন। এর মধ্য দিয়ে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর কমান্ড গ্রহণ করেন। এ সময় নৌবাহিনী সদর দপ্তরের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসারসহ নৌবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এ তথ্য জানায়। এর আগে ঢাকা সেনানিবাসস্থ সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং বিদায়ী নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান নবনিযুক্ত নৌবাহিনী প্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীমকে ভাইস অ্যাডমিরাল র‌্যাংক ব্যাজ পরিয়ে দেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নবনিযুক্ত নৌবাহিনী প্রধানকে অভিনন্দন জানান। নবনিযুক্ত নৌবাহিনী প্রধান বাংলাদেশ নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করে নৌবাহিনীকে আরও আধুনিক, সক্ষম ও সময়োপযোগী বাহিনী হিসেবে এগিয়ে নিতে তার মূল্যবান পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা কামনা করেন।নবনিযুক্ত নৌবাহিনী প্রধান ভাইস অ্যাডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম সরকারের প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা শিল্পে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ নীতির আলোকে নৌবাহিনীর নিজস্ব সক্ষমতায় শিপইয়ার্ড ও ডকইয়ার্ডের মাধ্যমে দেশীয় প্রযুক্তির বিকাশ এবং গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রমের আধুনিকায়নে নৌবাহিনীকে আরও শক্তিশালী ও প্রযুক্তিনির্ভর বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর। এ সময় সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা, বিমান বাহিনী প্রধান, সেনাবাহিনীর কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার এবং ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।নতুন নৌবাহিনী প্রধান ভাইস অ্যাডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম ১৯৮৭ সালের ১ জানুয়ারি বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে যোগদান করেন এবং ১৯৮৯ সালে এক্সিকিউটিভ শাখায় কমিশন লাভ করেন। তিনি রয়্যাল মালয়েশিয়ান নৌবাহিনীতে বিশেষ কৃতিত্বের সঙ্গে প্রাথমিক প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেন। দেশ-বিদেশে উচ্চতর শিক্ষা ও সামরিক প্রশিক্ষণ গ্রহণের পাশাপাশি তিনি মেরিটাইম গভর্ন্যান্স বিষয়ে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।প্রায় চার দশকের বর্ণাঢ্য কর্মজীবনে তিনি বাংলাদেশ নৌবাহিনীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কমান্ড, স্টাফ ও প্রশিক্ষণমূলক দায়িত্ব অত্যন্ত দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে পালন করেন। তিনি কমান্ডার চট্টগ্রাম নৌ অঞ্চল, কমান্ডার ঢাকা নৌ অঞ্চল, কমান্ডার সাবমেরিন এবং কমান্ড্যান্ট বাংলাদেশ নেভাল একাডেমিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া, নৌ সদর দপ্তরে পরিচালক নৌ অপারেশনস ও পরিচালক নৌ পরিকল্পনা হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বিভিন্ন যুদ্ধজাহাজ ও নৌ ঘাঁটির অধিনায়কত্ব করেন।ভাইস অ্যাডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম লেবানন ও গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। সর্বশেষ তিনি ওমানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে বাংলাদেশ ও ওমানের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়ন এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। প্রায় ৪০ বছরের বর্ণাঢ্য কর্মজীবনে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি নৌবাহিনী পদক (এনবিপি), নৌ-পারদর্শিতা পদক (এনপিপি), জাতীয় শুদ্ধাচার পুরস্কারসহ বিভিন্ন সম্মাননা ও পদকে ভূষিত হয়েছেন। সামুদ্রিক নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা ও সামরিক কৌশল বিষয়ে তার একাধিক গবেষণাধর্মী প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি অসাধারণ পেশাদারিত্ব, দক্ষতা ও সামরিক সক্ষমতার স্বাক্ষর রেখেছেন।
১ ঘন্টা আগে
টিআইবির প্রতিবেদনের সঙ্গে বাস্তবতার মিল নেই: ডিএমপি কমিশনার

টিআইবির প্রতিবেদনের সঙ্গে বাস্তবতার মিল নেই: ডিএমপি কমিশনার

রাজধানীতে অপরাধ বৃদ্ধি নিয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) প্রকাশিত প্রতিবেদনের সঙ্গে পুলিশের পরিসংখ্যানের মিল নেই বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দুপুরে শাহবাগ থানা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই মন্তব্য করেন।রাজধানীতে চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি ও সন্ত্রাস বেড়েছে—টিআইবির এমন প্রতিবেদনের বিষয়ে জানতে চাইলে ডিএমপি কমিশনার বলেন, 'আমি যোগদানের পর দুই মাস অতিবাহিত হয়েছে। এই সময়ের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখেছি, টিআইবির প্রতিবেদনের সঙ্গে আমাদের বাস্তব তথ্য ও পরিসংখ্যানের মিল নেই।'তিনি বলেন, 'ছিনতাই প্রতিরোধে পোশাকধারী পুলিশের পাশাপাশি ডিবি ও সিটিটিসির সদস্যদের ২৪ ঘণ্টা মাঠে রাখা হয়েছে। ডিউটির বাইরেও সম্ভাব্য ছিনতাইপ্রবণ এলাকাগুলোতে বিশেষ নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। গত দুই মাসে অসংখ্য ছিনতাইকারী গ্রেপ্তার হয়েছে। ছুরি, চাপাতিসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। ফলে রাজধানীতে ছিনতাই অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে। আমাদের লক্ষ্য এটিকে শূন্যের পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া।'ডিএমপি কমিশনার বলেন, 'রাজধানীতে চাঁদাবাজ ও অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযান চলছে। ইতোমধ্যে অনেক অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে এবং অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ডিএমপির সব ইউনিট আন্তরিকতার সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কাজ করছে। কোথাও আইনশৃঙ্খলার অবনতির তথ্য পেলে গণমাধ্যম আমাদের জানালে আমরা তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেব।'শাহবাগ থানাসহ ডিএমপির বিভিন্ন থানার ব্যারাকের বেহাল দশা প্রসঙ্গে ডিএমপি কমিশনার বলেন, 'বার্ষিক পরিদর্শনের অংশ হিসেবে আজ শাহবাগ থানা পরিদর্শন করেছি। পরিদর্শনে বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা চোখে পড়েছে। শাহবাগ থানা অনেক পুরোনো। এই থানার জন্য মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তক্রমে ৩৩ শতাংশ জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সেখানে ইতোমধ্যে মাটি পরীক্ষা (সয়েল টেস্ট) সম্পন্ন হয়েছে। আমরা আশা করছি, নতুন ভবনে স্থানান্তর করা হলে ফোর্স ও কর্মকর্তাদের আবাসন সংক্রান্ত সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে। আপাতত সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেই সদস্যদের সর্বোচ্চ সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা করছি।'কাজের পরিবেশ ও মানসিক চাপের কারণে পুলিশ সদস্যদের আত্মহত্যার ঘটনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'কনস্টেবলসহ থানায় কর্মরত সদস্যদের কল্যাণের বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সম্প্রতি ডেমরা পুলিশ লাইন্সের এক কনস্টেবল আত্মহত্যা করেছেন। তদন্তে দেখা গেছে, পারিবারিক সমস্যার কারণেই তিনি এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। আমরা সদস্যদের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক যেকোনো সমস্যা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে শেয়ার করতে উৎসাহিত করছি। ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারের কাউন্সেলরদের মাধ্যমে কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা রয়েছে। প্রয়োজন হলে দেশের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের কাছেও পাঠানো হবে।'শাহবাগ থানার চারপাশে দীর্ঘদিন ধরে জব্দ করা শত শত গাড়ি পড়ে থেকে নষ্ট হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে কমিশনার বলেন, 'আগে সেখানে আরো বেশি গাড়ি ছিল। এরই মধ্যে বেশ কিছু গাড়ি অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ডিএমপির নিজস্ব কোনো ডাম্পিং স্টেশন নেই। এজন্য সিটি করপোরেশনের সঙ্গে আলোচনা করে নতুন ডাম্পিংয়ের জায়গা পাওয়ার চেষ্টা চলছে। বর্তমানে যেসব ডাম্পিং সুবিধা রয়েছে, সেগুলোও ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত। এখানে থাকা অনেক গাড়িই আদালতের আলামত, আবার কিছু ফিটনেসবিহীন যানবাহন। এগুলো পাহারা দিয়ে সংরক্ষণ করা আমাদের দায়িত্ব, যাতে কোনো যন্ত্রাংশ চুরি বা ক্ষতি না হয়। আদালতের আলামতসহ অন্যান্য জব্দ যানবাহন আইন ও বিধি অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।'প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী ফিটনেসবিহীন যানবাহন জব্দের বিষয়ে তিনি বলেন, 'এজন্য বিআরটিএর একটি আলাদা ডাম্পিং স্টেশন রয়েছে। আমরা যেসব ফিটনেসবিহীন গাড়ি জব্দ করছি, সেগুলো সেখানে পাঠানো হচ্ছে। স্ক্র্যাপ নীতিমালা এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এটি কার্যকর হলে ডাম্পিংয়ে থাকা ফিটনেসবিহীন যানবাহন নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় অল্প সময়ের মধ্যেই টেন্ডারের মাধ্যমে স্ক্র্যাপ হিসেবে অপসারণ করা সম্ভব হবে।'পরিদর্শনকালে ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার (ক্রাইম) ফারুক হোসেন, রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) শেখ জাহিদুল ইসলামসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
১ ঘন্টা আগে
দায়িত্বভার গ্রহণ করলেন নতুন নৌবাহিনী প্রধান

দায়িত্বভার গ্রহণ করলেন নতুন নৌবাহিনী প্রধান

পদোন্নতি পেয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ নৌবাহিনী প্রধানের দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন ভাইস অ্যাডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বিকেলে নৌবাহিনী সদর দপ্তরে দায়িত্বভার গ্রহণের আনুষ্ঠানিকতার অংশ হিসেবে নবনিযুক্ত নৌবাহিনী প্রধান ভাইস অ্যাডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম নৌবাহিনী প্রধানের কার্যালয়ে কমান্ড গ্রহণ বইতে স্বাক্ষর করেন। এর মধ্য দিয়ে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর কমান্ড গ্রহণ করেন। এ সময় নৌবাহিনী সদর দপ্তরের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসারসহ নৌবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এ তথ্য জানায়। এর আগে ঢাকা সেনানিবাসস্থ সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং বিদায়ী নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান নবনিযুক্ত নৌবাহিনী প্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীমকে ভাইস অ্যাডমিরাল র‌্যাংক ব্যাজ পরিয়ে দেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নবনিযুক্ত নৌবাহিনী প্রধানকে অভিনন্দন জানান। নবনিযুক্ত নৌবাহিনী প্রধান বাংলাদেশ নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করে নৌবাহিনীকে আরও আধুনিক, সক্ষম ও সময়োপযোগী বাহিনী হিসেবে এগিয়ে নিতে তার মূল্যবান পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা কামনা করেন।নবনিযুক্ত নৌবাহিনী প্রধান ভাইস অ্যাডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম সরকারের প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা শিল্পে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ নীতির আলোকে নৌবাহিনীর নিজস্ব সক্ষমতায় শিপইয়ার্ড ও ডকইয়ার্ডের মাধ্যমে দেশীয় প্রযুক্তির বিকাশ এবং গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রমের আধুনিকায়নে নৌবাহিনীকে আরও শক্তিশালী ও প্রযুক্তিনির্ভর বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর। এ সময় সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা, বিমান বাহিনী প্রধান, সেনাবাহিনীর কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার এবং ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।নতুন নৌবাহিনী প্রধান ভাইস অ্যাডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম ১৯৮৭ সালের ১ জানুয়ারি বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে যোগদান করেন এবং ১৯৮৯ সালে এক্সিকিউটিভ শাখায় কমিশন লাভ করেন। তিনি রয়্যাল মালয়েশিয়ান নৌবাহিনীতে বিশেষ কৃতিত্বের সঙ্গে প্রাথমিক প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেন। দেশ-বিদেশে উচ্চতর শিক্ষা ও সামরিক প্রশিক্ষণ গ্রহণের পাশাপাশি তিনি মেরিটাইম গভর্ন্যান্স বিষয়ে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।প্রায় চার দশকের বর্ণাঢ্য কর্মজীবনে তিনি বাংলাদেশ নৌবাহিনীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কমান্ড, স্টাফ ও প্রশিক্ষণমূলক দায়িত্ব অত্যন্ত দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে পালন করেন। তিনি কমান্ডার চট্টগ্রাম নৌ অঞ্চল, কমান্ডার ঢাকা নৌ অঞ্চল, কমান্ডার সাবমেরিন এবং কমান্ড্যান্ট বাংলাদেশ নেভাল একাডেমিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া, নৌ সদর দপ্তরে পরিচালক নৌ অপারেশনস ও পরিচালক নৌ পরিকল্পনা হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বিভিন্ন যুদ্ধজাহাজ ও নৌ ঘাঁটির অধিনায়কত্ব করেন।ভাইস অ্যাডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম লেবানন ও গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। সর্বশেষ তিনি ওমানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে বাংলাদেশ ও ওমানের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়ন এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। প্রায় ৪০ বছরের বর্ণাঢ্য কর্মজীবনে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি নৌবাহিনী পদক (এনবিপি), নৌ-পারদর্শিতা পদক (এনপিপি), জাতীয় শুদ্ধাচার পুরস্কারসহ বিভিন্ন সম্মাননা ও পদকে ভূষিত হয়েছেন। সামুদ্রিক নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা ও সামরিক কৌশল বিষয়ে তার একাধিক গবেষণাধর্মী প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি অসাধারণ পেশাদারিত্ব, দক্ষতা ও সামরিক সক্ষমতার স্বাক্ষর রেখেছেন।
১ ঘন্টা আগে
১৫ এপ্রিল ২০২৬, ১২:১১ এএম
আপনি কি মনে করেন বিএনপি জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর ও শব্দ বাস্তবায়ন করবে?

আপনি কি মনে করেন বিএনপি জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর ও শব্দ বাস্তবায়ন করবে?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ জন
ফার্মের মুরগি কতটা স্বাস্থ্যকর?

ফার্মের মুরগি কতটা স্বাস্থ্যকর?

ফার্মের মুরগি বা ব্রয়লার মুরগি নিয়ে মানুষের মধ্যে নানা ধরনের সংশয় থাকলেও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি নিজে ক্ষতিকর নয়। বরং নিরাপদ উৎপাদন, সঠিক সংরক্ষণ ও স্বাস্থ্যসম্মতভাবে রান্না করা হলে ব্রয়লার মুরগি উচ্চমানের প্রোটিন ও প্রয়োজনীয় পুষ্টির অন্যতম উৎস হতে পারে।বাংলাদেশের অধিকাংশ পরিবারের প্রোটিনের চাহিদা পূরণে সবচেয়ে সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী খাবারের একটি হলো ব্রয়লার মুরগি। তবে দীর্ঘদিন ধরেই এটি খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর কি না—এ নিয়ে নানা আলোচনা রয়েছে।এ বিষয়ে চিকিৎসক ডা. সাহানাজ বলেন, ব্রয়লার মুরগি নিজে কোনোভাবেই ক্ষতিকর নয়। এতে উচ্চমানের প্রোটিনের পাশাপাশি ভিটামিন বি-১২, ভিটামিন বি-৬, নিয়াসিন (ভিটামিন বি-৩), ফসফরাস, সেলেনিয়াম ও জিংকের মতো গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান রয়েছে।তার ভাষ্য, ব্রয়লার মুরগি নিরাপদ কি না, তা নির্ভর করে কীভাবে এটি পালন করা হয়েছে, অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের নিয়ম মানা হয়েছে কি না এবং জবাই ও সংরক্ষণের সময় স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করা হয়েছে কি না—এসব বিষয়ের ওপর।অ্যান্টিবায়োটিক প্রসঙ্গে ডা. সাহানাজ জানান, কিছু খামারে রোগ প্রতিরোধ বা চিকিৎসার জন্য অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করা হয়। তবে নির্ধারিত নিয়ম না মেনে অতিরিক্ত অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার কিংবা জবাইয়ের আগে প্রয়োজনীয় বিরতি না মানলে মাংসে ওষুধের অবশিষ্টাংশ থেকে যেতে পারে। এতে দীর্ঘমেয়াদে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স বা অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী জীবাণুর ঝুঁকি বাড়তে পারে।ব্রয়লার মুরগিকে দ্রুত বড় করতে হরমোন ব্যবহার করা হয়—এমন ধারণা নিয়েও কথা বলেন তিনি। তার মতে, এ দাবির পক্ষে শক্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। আধুনিক ব্রয়লার মুরগির দ্রুত বৃদ্ধি মূলত উন্নত জাত, সুষম খাদ্য এবং উন্নত খামার ব্যবস্থাপনার ফল।তিনি আরও বলেন, খামারে স্বাস্থ্যবিধি না মানা হলে কিংবা জবাই ও সংরক্ষণের সময় অসতর্কতা থাকলে সালমোনেলা ও ক্যাম্পিলোব্যাক্টারের মতো ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া মাংসে থাকতে পারে। তাই ব্রয়লার মুরগির মাংস অবশ্যই ভালোভাবে সিদ্ধ বা রান্না করে খাওয়া উচিত।ডা. সাহানাজের মতে, চামড়াবিহীন ব্রয়লার মুরগির মাংস পরিমিত পরিমাণে নিয়মিত খাওয়া স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অংশ হতে পারে। তিনি বলেন, দেশি ও ব্রয়লার—উভয় ধরনের মুরগিই ভালো প্রোটিনের উৎস। দেশি মুরগির স্বাদ ও গঠন ভিন্ন হলেও পুষ্টিগুণের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য নেই। মূল বিষয় হলো নিরাপদ উৎপাদন, ভালো মান এবং স্বাস্থ্যসম্মত রান্না।স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা ব্রয়লার মুরগি কেনা ও খাওয়ার ক্ষেত্রে কয়েকটি পরামর্শ দিয়েছেন:বিশ্বস্ত দোকান বা অনুমোদিত খামার থেকে মুরগি কেনাদুর্গন্ধযুক্ত বা অস্বাভাবিক রঙের মাংস এড়িয়ে চলাকাঁচা ও রান্না করা মাংস আলাদা রাখামাংস সম্পূর্ণ সিদ্ধ করে খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলাবিশেষজ্ঞদের মতে, সচেতনতা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললেই ব্রয়লার মুরগি নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করা সম্ভব।
১৫ জুলাই ২০২৬
বাংলাদেশ ব্যাংকে বসেই জুয়া ও ক্রিপ্টো লেনদেনের অভিযোগ

বাংলাদেশ ব্যাংকে বসেই জুয়া ও ক্রিপ্টো লেনদেনের অভিযোগ

অনলাইন জুয়া, ক্রিপ্টোকারেন্সির অবৈধ লেনদেন এবং বিভিন্ন অনিয়মে জড়িত থাকার অভিযোগে বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী পরিচালক মো. রকিবুল হাসান খান রকিকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। গত ১৯ জুলাই এক অফিস আদেশের মাধ্যমে তাকে বরখাস্ত করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। ডিবি পুলিশের একটি দল তাকে গ্রেপ্তারে প্রধান কার্যালয়ে অভিযান চালালে তিনি পালিয়ে যান বলে জানা গেছে।বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সাইবার অপরাধ ও জুয়াসহ গুরুতর সব অভিযোগ পাওয়া গেছে। নিয়মানুযায়ী কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পুলিশ মামলা করলে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে বরখাস্ত রাখার বিধান রয়েছে। সেই বিধির আলোকেই এই প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বরখাস্ত থাকা অবস্থায় তিনি নিয়ম অনুযায়ী খোরপোশ ভাতা পাবেন।গোয়েন্দা পুলিশ ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, রকিবুল হাসান রকি একাধিক ব্যাংকে বেশ কিছু হিসাব পরিচালনা করতেন। এসব হিসাবের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থের লেনদেন হয়েছে। তদন্তে দেখা গেছে, ওই অর্থের একটি বড় অংশ অবৈধ জুয়া ও নিষিদ্ধ ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবসার সঙ্গে সম্পর্কিত।সম্প্রতি ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি দল রকিবুলকে গ্রেপ্তারের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের কার্যালয়ে অভিযান পরিচালনা করে। তবে পুলিশের উপস্থিতির আগেই সংবাদ পেয়ে তিনি কৌশলে কার্যালয় থেকে সটকে পড়েন। বর্তমানে তিনি পলাতক রয়েছেন এবং পুলিশ তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রেখেছে। ডিবির একজন শীর্ষ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত চলছে।অফিসে রকিবুলের আচরণ সম্পর্কে তার সহকর্মীরা জানান, তিনি অত্যন্ত চাপা স্বভাবের ছিলেন। সহকর্মীদের সঙ্গে মেলামেশা বা কথাবার্তা খুব একটা বলতেন না এবং সবসময় নিজের মতো করে কাজ করতে পছন্দ করতেন। তার এমন নেতিবাচক কর্মকাণ্ডের সংবাদে ব্যাংকের ভেতরে ও বাইরে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।এ বিষয়ে মো. রকিবুল হাসান খান রকির ব্যক্তিগত কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বিষয়টি নিয়ে অধিকতর তদন্তের মাধ্যমে এই অবৈধ চক্রের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
১০ জুন ২০২৬
জাল নোট রাখলেও সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ডের বিধান আনছে সরকার

জাল নোট রাখলেও সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ডের বিধান আনছে সরকার

১০ জুন ২০২৬
জাপানি আবিষ্কার

জাপানি আবিষ্কার

আইসক্রিম বা কোল্ড ড্রিংকস ফ্রিজে রেখে ঠান্ডা করার কথা তো সবাই জানে, কিন্তু প্রচণ্ড রোদের হাত থেকে বাঁচতে মানুষকেই ফ্রিজে ঢুকিয়ে চাঙ্গা করার এমন আজব কায়দা আগে কখনো শুনেছেন? বিশ্ব জুড়ে যখন একের পর এক দাবদাহের রেকর্ড ভাঙছে, তখন চরম তাপের বিরুদ্ধে একপ্রকার যুদ্ধ ঘোষণা করে বসেছে উদীয়মান সূর্যের দেশ। সাধারণ এসির হাওয়ায় যখন আর স্বস্তি মিলছে না, ঠিক তখনই জাপানের প্রখ্যাত রেফ্রিজারেশন সংস্থা ‘এসডিআরএস’ সামনে এনেছে তাদের বিশেষ পিলে চমকানো আবিষ্কার ‘ডো হিয়েমন বক্স’। লোকে বলছে, ‘হিউম্যান রেফ্রিজারেটর’।রহস্যটা লুকিয়ে রয়েছে এর ভেতরের ক্যারিশমায়। বুথের ভেতরের তাপমাত্রা থার্মোমিটারে সবসময় ঝুলতে থাকে ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। ভেতরের একটি আরামদায়ক চেয়ারে গিয়ে বসামাত্রই শুরু হয় আসল খেলা। শরীরের যেসব অংশ দ্রুত তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, যেমন মাথা, ঘাড়, কাঁধ আর পিঠ, ঠিক সেদিক লক্ষ্য করে ধেয়ে আসে ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কনকনে ঠান্ডা হাওয়া। গবেষকদের মতে, প্রখর রোদে পুড়ে আসার পর মাত্র ৫ মিনিট এই ফ্রিজে বসলেই দেহের ভেতরের তাপ এক ধাক্কায় নেমে আসে স্বাভাবিক মাত্রায়।কারখানার শ্রমিক, নির্মাণকর্মী কিংবা সারা দিন রোদে ঘুরে কাজ করা মানুষের হিটস্ট্রোক এবং সানস্ট্রোকের মতো মারাত্মক শারীরিক ঝুঁকি থেকে বাঁচাতেই এই বুথের জন্ম। গবেষণায় দেখা যায়, ১০ মিনিট ভেতরে কাটালে হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি মুহূর্তের মধ্যেই উধাও হয়ে যায়।মজার ও বিস্ময়ের বিষয় হলো, সাধারণ এসির তুলনায় এটি প্রায় অর্ধেক বিদ্যুৎ খরচ করে এবং সুরক্ষার খাতিরে ২০ মিনিট পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যায়। ইতিমধ্যেই জাপানের গুন্মা প্রিফেকচারের মায়েবাশি সিটি হলসহ বিভিন্ন পাবলিক প্লেসে সাধারণ মানুষের জন্য বিনা মূল্যে বসেছে এই গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার। এর দাম বাংলাদেশি মুদ্রায় ১১ লাখ টাকার বেশি।জাপানের এই উদ্ভাবন ইতিমধ্যেই বিশ্বের অন্যান্য দেশের দৃষ্টি কেড়েছে। তীব্র গরমে মানুষের জীবন বাঁচাতে এই ‘হিউম্যান রেফ্রিজারেটর’ ভবিষ্যতে আরও ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
১১ ঘন্টা আগে
কোন ছবি নেই !
কোন ছবি নেই !
ই-পাসপোর্টে জুলাই শহীদদের ছবি যুক্ত হচ্ছে

ই-পাসপোর্টে জুলাই শহীদদের ছবি যুক্ত হচ্ছে

বাংলাদেশের সাধারণ ই-পাসপোর্টের নকশায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনছে সরকার। ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের স্মৃতিকে ধরে রাখতে পাসপোর্টের পাতায় জলছাপ (ওয়াটারমার্ক) হিসেবে যুক্ত করা হচ্ছে শহীদ আবু সাঈদ, মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধ এবং মোহাম্মদ ওয়াসিমের ছবি।রোববার (১৯ জুলাই) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বহিরাগমন-৪ শাখা থেকে জারিকৃত এক প্রজ্ঞাপনে নতুন এই নকশার চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ই-পাসপোর্টের বিদ্যমান বুকলেটের নকশা ও জলছাপ পুনর্বিন্যাস করা হচ্ছে। নতুন অনুমোদিত নকশায় পাসপোর্টের ৩১ ও ৩২ নম্বর পৃষ্ঠায় জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক সেই উত্তাল মুহূর্তটি ঠাঁই পাবে। তরুণদের আত্মত্যাগের সেই স্মৃতিকে আন্তর্জাতিক এই ভ্রমণ নথিতে স্থায়ী রূপ দিতেই শহীদ আবু সাঈদ, মুগ্ধ ও ওয়াসিমের ছবি জলছাপ হিসেবে ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।পাসপোর্টের নতুন এই বিন্যাসে জুলাই অভ্যুত্থানের পাশাপাশি বাংলাদেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের নানা অনুষঙ্গও যুক্ত করা হয়েছে। বিভিন্ন পৃষ্ঠায় জলছাপ হিসেবে দেখা যাবে জাতীয় স্মৃতিসৌধ, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, জাতীয় সংসদ ভবন এবং সুপ্রিম কোর্টের ছবি। এ ছাড়া লালবাগ দুর্গ, কান্তজিউ মন্দির, পানামনগর ও কার্জন হলের মতো গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক স্থাপনাও ঠাঁই পেয়েছে নতুন নকশায়।দেশের প্রাকৃতিক ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে ঝাউবনসহ কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত, সুন্দরবন, টাঙ্গুয়ার হাওর ও নীলগিরির ছবি যুক্ত করা হয়েছে। জাতীয় ফুল, মাছ, পাখি ও ফলের পাশাপাশি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের বিখ্যাত চিত্রকর্ম 'সংগ্রাম'-কে।প্রজ্ঞাপনে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, পাসপোর্টের ডাটা পেজে আগের নিয়মই বহাল থাকছে। অর্থাৎ, এটি ইসরায়েল ব্যতীত বিশ্বের সব দেশের ভ্রমণের জন্য বৈধ থাকবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই সিদ্ধান্ত দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনা প্রদান করেছে।২০২৪ সালের জুলাই মাসে বাংলাদেশে সংগঠিত ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে আবু সাঈদ, মুগ্ধ ও ওয়াসিমসহ বহু মানুষ প্রাণ হারান। আন্দোলনের সেই গৌরবময় ইতিহাসকে পরবর্তী প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে এবং জাতীয় নথিতে তাদের অবদানকে স্বীকৃতি দিতেই এই উদ্যোগ নিয়েছে বর্তমান সরকার। এটি বাংলাদেশের পাসপোর্টের ইতিহাসে একটি অনন্য ও আবেগঘন পরিবর্তন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
১০ জুন ২০২৬
শেখ নূর কুতুব আলম: বাংলার আধ্যাত্মিক নেতৃত্বের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত

শেখ নূর কুতুব আলম: বাংলার আধ্যাত্মিক নেতৃত্বের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত

বাংলার মধ্যযুগীয় ইতিহাসে পান্ডুয়া ছিল জ্ঞান, সংস্কৃতি ও আধ্যাত্মিক সাধনার অন্যতম কেন্দ্র। এই শহরের খানকাগুলোতে যেমন ধর্মীয় শিক্ষা বিস্তার লাভ করত, তেমনি এখান থেকেই সমাজজীবনে নৈতিক নেতৃত্বও গড়ে উঠত। ১৩৫০ সালের কিছু আগে তৎকালীন বাংলার রাজধানী পান্ডুয়ায় তার জন্ম। তার প্রকৃত নাম নূরুদ্দীন নূরুল হক। ‘নূর কুতুবুল আলম’ তার উপাধি।তার পিতা ছিলেন বাংলার অন্যতম শ্রেষ্ঠ আলেম ও সুফি শায়খ আলাউল হক। বংশপরিচয়ও ছিল সম্মানজনক—তিনি লাহোরের প্রসিদ্ধ সাধক শেখ আসাদের পৌত্র। পিতার মতো তিনি ছিলেন চিশতিয়া তরিকার একজন বিশিষ্ট পীর। ইলিয়াস শাহী বংশের তৃতীয় সুলতান গিয়াস উদ্দিন আজম শাহ ছিলেন তার সহপাঠী ও বন্ধু। কিন্তু বংশগৌরবের চেয়েও বড় ছিল তার ব্যক্তিত্ব, জ্ঞান, দূরদর্শিতা এবং মানুষের জন্য আত্মনিবেদিত জীবন।ব্যক্তিগত জীবন ও আধ্যাত্মিক সাধনানূর কুতুব আলম তাঁর পিতার আমল থেকে সব ধরনের কায়িক শ্রমের অভ্যাস করতেন। দরগায় আগত ফকিরদের কাপড় ধোয়া, লাকড়ি ও পানি বহন, শীতকালে পীরের অজু করার জন্য সর্বদা পানি গরম রাখা, এমনকি খানকাহসংলগ্ন শৌচাগার পরিষ্কার করা প্রভৃতি কাজে তিনি নিজেকে নিয়োজিত রাখতেন।আজকের সময়ে নেতৃত্বকে আমরা প্রায়ই ক্ষমতা, প্রভাব কিংবা সামাজিক মর্যাদার সঙ্গে মিলিয়ে দেখি। অথচ নূর কুতুব আলমের জীবন আমাদের শেখায়, প্রকৃত নেতৃত্ব শুরু হয় সেবার মাধ্যমে। যে মানুষ নিজের হাতে মানুষের কষ্ট লাঘব করতে পারে, তিনিই প্রকৃত অর্থে মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিতে পারেন।রাজনৈতিক সংকটে নূর কুতুব আলমের ভূমিকানূর কুতুব আলমের জীবনের সবচেয়ে উজ্জ্বল অধ্যায় রচিত হয় এক ভয়াবহ রাজনৈতিক সংকটের সময়। ১৪১৫ খ্রিস্টাব্দে রাজা গণেশ নামক একজন হিন্দু শাসক ইলিয়াস শাহি বংশ উত্খাত করে ক্ষমতা গ্রহণ করেন। তিনি মুসলমানের ওপর নজিরবিহীন জুলুম-নির্যাতন শুরু করেন। এমনকি শায়খ ও আলেমদের ওপর অবর্ণনীয় অত্যাচার শুরু করেন।বিশেষ করে ধর্মীয় নেতৃত্ব, আলেম-ওলামা এবং সাধারণ মুসলমানদের ওপর নিপীড়নের অভিযোগ বিভিন্ন ঐতিহাসিক গ্রন্থে উল্লেখিত হয়েছে। বাংলার মুসলিম সমাজ গভীর অনিশ্চয়তা ও আতঙ্কের মধ্যে পড়ে।এই পরিস্থিতিতে শেখ নূর কুতুব আলম নীরব থাকেননি। তিনি উপলব্ধি করেছিলেন, কেবল খানকায় বসে ইবাদত করাই একজন আধ্যাত্মিক নেতার একমাত্র দায়িত্ব নয়; মানুষের জীবন, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সামাজিক নিরাপত্তা বিপন্ন হলে ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্যও এগিয়ে আসতে হয়। তার এই অবস্থান প্রমাণ করে, ইসলামী আধ্যাত্মিকতার প্রকৃত শিক্ষা সমাজবিমুখতা নয়; বরং মানুষের কল্যাণে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন।কূটনৈতিক পদক্ষেপ ও রাজা গণেশের সাথে সমঝোতাবাংলার মুসলমানদের রক্ষার জন্য তিনি এক গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। তিনি জৌনপুরের সুলতান ইবরাহিম শর্কিকে বাংলা আক্রমণ করে বাংলাকে গণেশের হাত থেকে রক্ষা করার অনুরোধ জানিয়ে চিঠি লেখেন। একই সঙ্গে তিনি প্রসিদ্ধ সুফি ব্যক্তিত্ব মীর সৈয়দ আশরাফ জাহাঙ্গীর সিমনানিকেও অনুরোধ করেন, যেন তিনিও ইবরাহিম শর্কিকে বাংলার মুসলমানদের সহায়তায় এগিয়ে আসতে উদ্বুদ্ধ করেন।সুলতান ইবরাহিম শর্কি এই অনুরোধ রক্ষা করে বাংলা আক্রমণের উদ্দেশ্যে পিরোজপুর এসে শিবির স্থাপন করেন। রাজা গণেশ এতে ভয় পেয়ে নূর কুতুব আলমের কাছে আত্মসমর্পণ করেন এবং তাঁকে ক্ষমা করে ইবরাহিম শর্কিকে জৌনপুরে ফিরে যেতে বলার অনুরোধ জানান।কিন্তু নূর কুতুব আলম এতে সম্মত হননি। তিনি জানিয়ে দেন, একজন মুসলিম শাসককে কোনো অমুসলিম শাসকের পক্ষ নিয়ে তিনি ফিরিয়ে দিতে পারেন না। বরং পূর্বশর্ত হিসেবে তিনি রাজা গণেশকে ইসলাম গ্রহণের আহ্বান জানান। গণেশ তাতে সম্মত হন, কিন্তু বিস্তারিত শুনে তাঁর রানি এতে বাধা দেন। গণেশ তখন তার ১২ বছরের ছেলে যদুকে নিয়ে শায়খের কাছে আসেন। যদুকে ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত করে 'জালালুদ্দীন' নাম দেওয়া হয় এবং গণেশ তার পক্ষে সিংহাসন ত্যাগ করেন।এই ঘটনার মধ্য দিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ এড়ানো সম্ভব হয় এবং বাংলার রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অন্তত সাময়িকভাবে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়।পরবর্তী পরিস্থিতি ও নূর কুতুব আলমের দূরদর্শিতাশায়খের মৃত্যুর পর গণেশ অবশ্য যদুকে হিন্দু ধর্মে পুনরায় দীক্ষিত করে নিজে সিংহাসনে অধিষ্ঠিত হন। কিন্তু রাজা গণেশের মৃত্যু হলে যদু জালালুদ্দীন মুহাম্মদ শাহ উপাধি গ্রহণ করে সিংহাসনে আরোহণ করেন এবং বাংলার মুসলিম শাসনব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়।এই ঘটনাপ্রবাহে নূর কুতুব আলমের দূরদর্শিতার প্রতিফলন স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তিনি হয়তো জানতেন, একটি সংকটময় সময়ে আপসের মধ্য দিয়েও দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার পথ তৈরি করা যায়।রচিত গ্রন্থসমূহ ও আধ্যাত্মিক উত্তরসূরিতিনি শুধু নিজের আধ্যাত্মিক সাধনায় সীমাবদ্ধ থাকেননি; পরবর্তী প্রজন্ম গড়ে তোলার প্রতিও ছিলেন সমান মনোযোগী। তাঁর রচিত গ্রন্থ সংখ্যা ১২১টি। সেগুলো তার প্রধান মুরিদ ও খলিফা হুসামুদ্দিন মানিকপুরী সম্পাদনা করেন। তন্মধ্যে বিখ্যাত দুটি গ্রন্থ হলো মুগিসুল ফুকারা ও আনিসুল গুরাবা।মুগিসুল ফুকারার একটি পাণ্ডুলিপি সংরক্ষিত আছে বিহারের ভাগলপুরের খলিফাবাগ একটি প্রাইভেট লাইব্রেরিতে। আরেকটি অসম্পূর্ণ কপি সংরক্ষিত আছে এশিয়াটিক সোসাইটি অব বেঙ্গল কলিকাতার লাইব্রেরিতে (সংগ্রহ নং- ৪৬৬)। সেখানে আনিসুল গুরাবা বইটির ২টি কপি সংরক্ষিত আছে (সংগ্রহ নং: ১২১২ ও ১২১৩)।তিনি তাঁর দুই পুত্র শেখ রাফকাতউদ্দীন এবং শেখ আনোয়ারকে আধ্যাত্মিক শিক্ষা দেন। সম্ভবত পিতার জীবদ্দশায় শেখ আনোয়ার রাজা গণেশের হাতে সোনারগাঁয়ে শহীদ হন। শেখ নূর কুতুব আলমের অন্য আর একজন প্রধান মুরিদ ছিলেন শেখ হুসামুদ্দীন মানিকপুরী।পত্র সংকলন ও ঐতিহাসিক দলিলনূর কুতুব আলমের ১৩টি পত্রের একটি গ্রন্থ সম্পাদনা করেন মুহাদ্দিস আব্দুল হক দেহলভী। যে গ্রন্থের নাম মাকতুবাত ই নূর কুতুবুল আলম। এটি দিল্লির ইন্ডিয়ান আর্কাইভে সংরক্ষিত আছে। এই পত্রগুলো থেকে সমসাময়িক রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়।সুলতানদের শ্রদ্ধা ও দরগাহের গুরুত্বশেখ নূর কুতুব আলমের প্রতি পরবর্তী সুলতানদের শ্রদ্ধাও ছিল অসাধারণ। তার দরগাহ সংলগ্ন সরাইখানা ও মাদরাসার ব্যয় নির্বাহের জন্য সুলতান আলাউদ্দীন হোসেন শাহ কয়েকটি গ্রাম দান করেন। দরবেশের মাজার জিয়ারতের জন্য সুলতান বছরে একবার রাজধানী শহর একডালা থেকে পান্ডুয়ায় আসতেন।শায়খ নূর কুতুব আলম পান্ডুয়ার পীর-আউলিয়ার মধ্যে শীর্ষ মর্যাদার অধিকারীদের অন্যতম। পিতা-পুত্র দুজনই পান্ডুয়ার বিখ্যাত শাশ হাজারি দরগায় শায়িত আছেন। পিতার মতো তিনি চিশতিয়া মতাদর্শের পীর ছিলেন। তাঁর অনুসারী শিষ্যকুল ও দরবেশরা কয়েক শতক ধরে বাংলায় মুসলিম সমাজজীবনে তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।ঐতিহাসিক দৃষ্টিতে শায়খ নূর কুতুব আলমের সর্বশ্রেষ্ঠ অবদান বাংলার মুসলিম শাসন রাজা গণেশের হাত থেকে রক্ষা করা।মৃত্যুশেখ নূর কুতুব আলম ৮১৮ হিজরি বা ১৪১৫ খ্রিস্টাব্দে (বাংলাপিডিয়া ও উইকিপিডিয়া মতে) ইন্তেকাল করেন। তবে প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, ১৪৪৭ সালের ৭ জানুয়ারি তার মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়। তার ইন্তেকালের সঙ্গে একটি সুন্দর ফারসি অভিব্যক্তি যুক্ত হয়েছে—"নূর বানূর-শুদ", অর্থাৎ "আলো আলোতে বিলীন হয়ে গেল।"এই বাক্যটি যেন তার সমগ্র জীবনেরই প্রতীক। তিনি এমন এক আলোকবর্তিকা ছিলেন, যিনি নিজের জন্য নয়, মানুষের পথ আলোকিত করার জন্য জীবন উৎসর্গ করেছিলেন।ইতিহাসে বহু রাজা এসেছেন, বহু সাম্রাজ্য গড়ে উঠেছে এবং বিলীন হয়েছে। কিন্তু যারা মানুষের হৃদয়ে নৈতিকতার আলো জ্বালিয়ে দেন, তাদের স্মৃতি যুগের পর যুগ অম্লান থাকে। শেখ নূর কুতুব আলম সেই বিরল ব্যক্তিত্বদের একজন, যার জীবন বাংলার ইতিহাসে আধ্যাত্মিক নেতৃত্ব, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং নৈতিক সাহসের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে আজও আমাদের সামনে দাঁড়িয়ে আছে।তথ্যসূত্র: উইকিপিডিয়া, বাংলাপিডিয়া, শায়েখ আব্দুল হক দেহলভী, আকবারুল উখিয়া ফি আসরারুল আবরার, সোস্যাল হিস্টোরি অফ দ্যা মুসলিম ইন ব্যাঙ্গাল।
ফিরোজ আল মামুন