ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬
ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬
গণবার্তা
সর্বশেষ

নবম পে-স্কেল ‘চূড়ান্ত হচ্ছে’ বৃহস্পতিবার

আগামী অর্থবছরের শুরুতে আগামী ১ জুলাই থেকেই নবম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়ন হবে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বৃহস্পতিবার (২১ মে) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বাধীন পুনর্গঠিত কমিটি আবার বৈঠক ডেকেছে। কমিটির সুপারিশ চূড়ান্তের পর তা দ্রুত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হবে বলে অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে।বেতন কাঠামোর চূড়ান্ত রূপপে-কমিশনের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো জানিয়েছে, পূর্ণাঙ্গ সুপারিশ অনুযায়ী একবারে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন করতে গেলে সরকারের অতিরিক্ত ৪৩ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হতো। তবে বর্তমানে চাকুরিজীবীরা যে ১০ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা পাচ্ছেন, তা নতুন বেতন কাঠামোর সঙ্গে সমন্বয় করে দেওয়ায় সরকারের অতিরিক্ত ব্যয়ের চাপ কমে ৩৭ হাজার কোটি টাকায় নেমে এসেছে। এই হিসাব মাথায় রেখেই আসন্ন বাজেটে প্রয়োজনীয় বরাদ্দের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। আসন্ন জাতীয় বাজেটে ৩০ হাজার কোটি টাকার বেশি বরাদ্দ রাখার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।ধাপে ধাপে বাস্তবায়নসরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী জুলাই মাস থেকে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নতুন নির্ধারিত মূল বেতনের অর্ধেক বা ৫০ শতাংশ পাবেন এবং পরবর্তী অর্থবছরে বাকি ৫০ শতাংশ কার্যকর করা হবে। আর এর পরের অর্থাৎ ২০২৮-২০২৯ অর্থবছরে নতুন কাঠামোর সঙ্গে আনুষঙ্গিক সব ভাতা ও বাড়তি আর্থিক সুবিধাগুলো যুক্ত হবে।সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন বেতনের প্রস্তাবনতুন পে স্কেলে সরকারি চাকরির বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রাখার সুপারিশ করা হয়েছে। এতে সর্বনিম্ন গ্রেডের মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে সর্বোচ্চ গ্রেডের মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ রয়েছে।নিম্ন ও মধ্যম স্তরে বেশি বৃদ্ধিসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, নবম পে স্কেলে নিম্ন ও মধ্যম স্তরের কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির হার তুলনামূলক বেশি রাখার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। কারণ নিম্ন আয়ের কর্মচারীদের ওপর মূল্যস্ফীতির চাপ সবচেয়ে বেশি পড়ছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন গ্রেডের মধ্যে বিদ্যমান বৈষম্য কিছুটা কমিয়ে আনার প্রস্তাবও রাখা হতে পারে।কাদের অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছেনবম পে স্কেলের আওতায় প্রশাসন ক্যাডারের পাশাপাশি শিক্ষক, পুলিশ, স্বাস্থ্যকর্মী, মাঠ প্রশাসন, বিচার বিভাগীয় কর্মচারীসহ সব সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অন্তর্ভুক্ত থাকবেন। এছাড়া স্বায়ত্তশাসিত ও আধা-স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের ক্ষেত্রেও সমন্বিত নির্দেশনা থাকতে পারে।পেনশনভোগীদের জন্য বড় সুপারিশপেনশনভোগীদের সুবিধা বাড়ানোর বিষয়েও সুপারিশ করা হয়েছে। সাবেক সচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বাধীন বেতন কমিশন পেনশনের হার শতভাগ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে। সুপারিশ অনুযায়ী, মাসে ২০ হাজার টাকার কম পেনশন পান এমন ব্যক্তিদের পেনশন প্রায় ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। যাদের মাসিক পেনশন ২০ থেকে ৪০ হাজার টাকার মধ্যে, তাদের ক্ষেত্রে প্রায় ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির প্রস্তাব রয়েছে। আর ৪০ হাজার টাকার বেশি পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে প্রায় ৫৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে।নবম পে-স্কেল চূড়ান্তকরণের বৈঠক বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সর্বনিম্ন বেতন ২০ হাজার ও সর্বোচ্চ ১ লাখ ৬০ হাজার টাকার সুপারিশ বাস্তবায়িত হলে সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া পড়বে। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যম স্তরের কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির হার বেশি রাখার প্রস্তাব স্বস্তি দিতে পারে। অন্যদিকে পেনশনভোগীদের জন্য শতভাগ পর্যন্ত পেনশন বৃদ্ধির সুপারিশ আরও বড় খবর। এখন দেখার বিষয়, বৃহস্পতিবারের বৈঠকে চূড়ান্ত সুপারিশে কতটুকু সমন্বয় হয় এবং আগামী বাজেটে এজন্য কত বরাদ্দ রাখা হয়। জুলাই থেকে বাস্তবায়ন শুরু হলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জীবনমানের উন্নয়নে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
১২ ঘন্টা আগে

‘আনসার বাহিনী শুধু নিরাপত্তা নয়, প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষ জনশক্তি তৈরিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে’— প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, আনসার বাহিনী শুধু দেশের নিরাপত্তা রক্ষাতেই নয়, প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষ জনশক্তি তৈরি ও দেশে-বিদেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। ভবিষ্যতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কর্মসংস্থান সম্প্রসারণের পাশাপাশি দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতেও বাহিনীটি বিশেষ ভূমিকা পালন করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। আজ বুধবার সকাল ১০টায় গাজীপুরের সফিপুরে বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি একাডেমি মিলনায়তনে ৪৬তম জাতীয় সমাবেশ-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত ব্যুৎথান মহড়া প্রদর্শনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।নিরাপত্তা ও দুর্যোগে আনসারের ভূমিকাপ্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিশ্চিতে আনসার বাহিনীর সদস্যরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। গ্রামাঞ্চল থেকে শহর, বন্দর এলাকা থেকে পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম অঞ্চল সবখানেই বাহিনীর সদস্যরা নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করছেন। দেশে অস্থিতিশীলতা ও অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে শান্তি ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে আনসার সদস্যরা গ্রাম ও শহরে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করেছেন। দুর্যোগকালেও মানুষের পাশে থেকে সেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করেছে বাহিনীটি। এসব অবদানের কারণে আনসার বাহিনী আজ একটি সুশৃঙ্খল ও স্বতন্ত্র বাহিনী হিসেবে মর্যাদা অর্জন করেছে।প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষ জনশক্তি তৈরিতিনি আরো বলেন, নিরাপত্তা রক্ষার পাশাপাশি আনসার বাহিনী প্রযুক্তিনির্ভর নানা কার্যক্রম ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে এগিয়ে এসেছে। বর্তমানে বাহিনীর ১৩ হাজারের বেশি ফ্রিল্যান্সার ও ফিল্ড ভিডিপি সদস্য বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মধ্যে আস্থা ও সম্প্রীতি জোরদারে কাজ করছেন। একইভাবে নগর এলাকার টিডিপি সদস্যরা শহরের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।কর্মসংস্থান সম্প্রসারণের উদ্যোগপ্রধানমন্ত্রী বলেন, সঞ্জীবন প্রকল্প, বিভিন্ন ওয়েবসাইট ও আনসার ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের মাধ্যমে বাহিনীটি দক্ষ জনশক্তি তৈরি এবং বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণে কাজ করছে। বিপুল সংখ্যক কর্মকর্তা-কর্মচারির অভিজ্ঞতা, সুস্পষ্ট ভিশন ও পরিকল্পনা ভবিষ্যতে দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।কুচকাওয়াজ ও মহড়া পরিদর্শনএর আগে, সকাল ৯টায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আনসার ভিডিপি একাডেমির ইয়াদ আলী প্যারেড গ্রাউন্ডে পৌঁছান। সেখানে তিনি আনসার সদস্যদের মৌলিক প্রশিক্ষণ ও কুচকাওয়াজ পরিদর্শন করেন। পরে মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে বক্তব্য রাখেন এবং দেশের বিভিন্ন জেলায় কর্মরত আনসার সদস্যদের সমস্যার খোঁজখবর নেন।৪৬তম জাতীয় সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বক্তব্য আনসার বাহিনীর বহুমুখী ভূমিকার স্বীকৃতি। শুধু নিরাপত্তা নয়, প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষ জনশক্তি গঠনে বাহিনীটি দেশের উন্নয়ন পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। সঞ্জীবন প্রকল্প ও ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের মাধ্যমে ফ্রিল্যান্সার ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির যে উদ্যোগ প্রশংসিত হয়েছে, তা আগামী দিনে আরও বেগবান হবে বলে আশা করা যায়। প্রধানমন্ত্রীর প্রত্যক্ষ উপস্থিতি ও সদস্যদের সমস্যা শোনার আগ্রহ বাহিনীর মনোবল আরও বাড়িয়েছে।
১৩ ঘন্টা আগে

সিলেট টেস্টে পাকিস্তানকে ৭৮ রানে হারিয়ে দেশের মাটিতে প্রথমবার ২-০ সিরিজ জয়

সিলেট টেস্টে ইতিহাস গড়েছে বাংলাদেশ। পাকিস্তানকে ৭৮ রানে হারিয়ে প্রথমবারের মতো দুই ম্যাচের সিরিজে ক্লিন সুইপ (২-০) করেছে টাইগাররা। বুধবার (২০ মে) পঞ্চম দিনের খেলা শেষে পাকিস্তান দ্বিতীয় ইনিংসে ৩৫৮ রানে অলআউট হলে বাংলাদেশ জয় পায়। জয়ের জন্য পাকিস্তানের লক্ষ্য ছিল ৪৩৭ রান।ম্যাচের শেষ দিনপঞ্চম দিন সকালে বাংলাদেশের দরকার ছিল ৩ উইকেট। পাকিস্তানের প্রয়োজন ছিল ১২১ রান। মোহাম্মদ রিজওয়ান (৯৪) ও সাজিদ খান (২৮) প্রতিরোধ গড়ে তুললেও বিরতির পরই ভাঙে তাদের জুটি। তাইজুল ইসলাম প্রথমে সাজিদকে ক্যাচ আউট করেন, পরে শর্ফুল ইসলাম রিজওয়ানকে ফেরান। শেষ দুই উইকেট দ্রুত পতন ঘটলে বাংলাদেশ জয় ছিনিয়ে নেয়।তাইজুলের দাপটবাংলাদেশের পক্ষে তাইজুল ইসলাম দ্বিতীয় ইনিংসে ৬ উইকেট (৩৪.২ ওভারে ১২০ রান) নেন। এটি তার টেস্ট ক্যারিয়ারের ১৮তম পাঁচ উইকেট প্রাপ্তি। শর্ফুল ইসলাম ও নাহিদ রানা একটি করে উইকেট নেন।লিটন দাস ম্যাচ সেরালিটন দাস প্রথম ইনিংসে ১২৬ ও দ্বিতীয় ইনিংসে ৬৯ রান করেন। টেলএন্ডারদের সঙ্গে ব্যাটিং করে তিনি দলকে বড় সংগ্রহ এনে দেন। তার অসামান্য পারফরম্যান্সের জন্যই তিনি ম্যাচ সেরা নির্বাচিত হন।মুশফিকুর রহমান সিরিজ সেরাদুটি টেস্ট মিলে মুশফিকুর রহমান ২৫৩ রান করেন। প্রথম টেস্টে ১২৬ ও এই টেস্টে ১৩৭ রান করে তিনি সিরিজ সেরার পুরস্কার জিতে নেন। এটিও তার টেস্ট ক্যারিয়ারের ১৪তম শতক, যা বাংলাদেশের কোনো ব্যাটসম্যানের মধ্যে সর্বোচ্চ।পাকিস্তানের ব্যাটিংপাকিস্তানের পক্ষে চতুর্থ ইনিংসে মোহাম্মদ রিজওয়ান ৯৪ রানে অপরাজিত থাকলেও শেষ পর্যন্ত আর বড় করতে পারেননি। সাজিদ খান ২৮, সালমান আলি আঘা ৭১ ও শান মাসুদ ৭১ রান করেন। কিন্তু বাংলাদেশি বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে আর কেউ টিকতে পারেননি।অভিষেক ও রেকর্ডএই টেস্টে তানজিদ হাসানের টেস্ট অভিষেক হয়। মুশফিকুর রহমান এখন বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ (১৪) টেস্ট সেঞ্চুরির মালিক। বাংলাদেশ এটি তাদের ঘরের মাঠে পাকিস্তানের বিপক্ষে সবচেয়ে বড় জয় (রানের ব্যবধানে)।সিলেট টেস্টের এই জয় বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটে একটি মাইলফলক। বিশেষ করে প্রথম ইনিংসে ১১৬ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে প্রায় বিপর্যয়ের মুখেও লিটন দাসের ব্যাটিং ও টেলএন্ডারদের লড়াই দলকে ম্যাচে ফিরিয়ে আনে। পাকিস্তান চতুর্থ ইনিংসে লড়াই করলেও তাইজুলের অফ-স্পিনে কুঁড়ে যায় তাদের স্বপ্ন। নিয়মিত অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর পরিকল্পিত বোলিং পরিবর্তন ও দৃঢ় নেতৃত্বও এই জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। বাংলাদেশ এখন সামনের কঠিন সিরিজের জন্য প্রস্তুতি শুরু করবে।
১৫ ঘন্টা আগে
পশ্চিমবঙ্গে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ) কার্যকরের ঘোষণা শুভেন্দুর

পশ্চিমবঙ্গে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ) কার্যকরের ঘোষণা শুভেন্দুর

পশ্চিমবঙ্গে বিতর্কিত নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ) কার্যকর করার ঘোষণা দিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার বিকেলে নবান্নে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। একই সঙ্গে সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারে রাজ্যের ২৭ কিলোমিটার জমি সীমান্ত সুরক্ষা বাহিনী (বিএসএফ)-এর হাতে তুলে দেওয়ার কথাও ঘোষণা করেন তিনি।‘ডিটেক্ট, ডিলিট অ্যান্ড ডিপোর্ট’ নীতিসংবাদ সম্মেলনে শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, যারা সিএএ-এর আওতায় পড়বেন না, তাদের অবৈধ অনুপ্রবেশকারী হিসেবে গণ্য করা হবে এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তার ভাষায়, এদের গ্রেপ্তার করে বিএসএফ-এর হাতে হস্তান্তর করা হবে এবং পরবর্তীতে প্রত্যাবাসনের প্রক্রিয়া শুরু হবে। তিনি বলেন, ‘ডিটেক্ট, ডিলিট এবং ডিপোর্ট’—এই নীতির ভিত্তিতেই অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।বিএসএফ-কে জমি হস্তান্তরনবান্নে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বিএসএফ কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। এ সময় সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারে রাজ্যের ২৭ কিলোমিটার জমি আনুষ্ঠানিকভাবে বাহিনীর হাতে হস্তান্তর করা হয় বলে জানানো হয়। কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুযায়ী সীমান্ত থানাগুলোতে নতুন ব্যবস্থা কার্যকর করা হয়েছে এবং রাজ্য পুলিশকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।সিএএ-এর পটভূমিসিএএ নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের অবস্থান অনুযায়ী, বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান থেকে ধর্মীয় নিপীড়নের শিকার হয়ে আগত নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের (হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পার্সি, খ্রিস্টান) মানুষদের নাগরিকত্বের সুযোগ দেওয়া হয়। তবে এর বাস্তবায়ন ও প্রয়োগ নিয়ে শুরু থেকেই বিভিন্ন রাজ্যে রাজনৈতিক বিরোধিতা চলে আসছে।রাজনৈতিক বিতর্কএই ঘোষণা ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিরোধীরা দীর্ঘদিন ধরেই সিএএ কার্যকরের বিরোধিতা করে আসছে। পূর্ববর্তী প্রশাসন এই আইন বাস্তবায়ন না করার অবস্থান নিয়েছিল বলে রাজনৈতিক সূত্রে জানা যায়।পরিস্থিতির ভবিষ্যৎনতুন এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়বে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নাকি রাজনৈতিক অবস্থান—এই প্রশ্নকে ঘিরেই এখন রাজ্যের পরিস্থিতি নতুন মোড় নিয়েছে।শুভেন্দু অধিকারীর এই ঘোষণা পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। একদিকে সিএএ বাস্তবায়ন ও বিএসএফ-কে জমি হস্তান্তর কেন্দ্রের নির্দেশনার প্রতিফলন, অন্যদিকে ‘ডিটেক্ট, ডিলিট অ্যান্ড ডিপোর্ট’ নীতি অভিবাসন ইস্যুকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। বিরোধীদের তীব্র প্রতিক্রিয়া ও সীমান্তবর্তী অঞ্চলে এর প্রভাব এখন দেখার বিষয়। আইন বাস্তবায়নে প্রশাসনিক সক্ষমতা ও সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা— দুটোই চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।
৬ ঘন্টা আগে
নবম পে-স্কেল ‘চূড়ান্ত হচ্ছে’ বৃহস্পতিবার

নবম পে-স্কেল ‘চূড়ান্ত হচ্ছে’ বৃহস্পতিবার

আগামী অর্থবছরের শুরুতে আগামী ১ জুলাই থেকেই নবম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়ন হবে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বৃহস্পতিবার (২১ মে) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বাধীন পুনর্গঠিত কমিটি আবার বৈঠক ডেকেছে। কমিটির সুপারিশ চূড়ান্তের পর তা দ্রুত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হবে বলে অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে।বেতন কাঠামোর চূড়ান্ত রূপপে-কমিশনের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো জানিয়েছে, পূর্ণাঙ্গ সুপারিশ অনুযায়ী একবারে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন করতে গেলে সরকারের অতিরিক্ত ৪৩ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হতো। তবে বর্তমানে চাকুরিজীবীরা যে ১০ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা পাচ্ছেন, তা নতুন বেতন কাঠামোর সঙ্গে সমন্বয় করে দেওয়ায় সরকারের অতিরিক্ত ব্যয়ের চাপ কমে ৩৭ হাজার কোটি টাকায় নেমে এসেছে। এই হিসাব মাথায় রেখেই আসন্ন বাজেটে প্রয়োজনীয় বরাদ্দের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। আসন্ন জাতীয় বাজেটে ৩০ হাজার কোটি টাকার বেশি বরাদ্দ রাখার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।ধাপে ধাপে বাস্তবায়নসরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী জুলাই মাস থেকে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নতুন নির্ধারিত মূল বেতনের অর্ধেক বা ৫০ শতাংশ পাবেন এবং পরবর্তী অর্থবছরে বাকি ৫০ শতাংশ কার্যকর করা হবে। আর এর পরের অর্থাৎ ২০২৮-২০২৯ অর্থবছরে নতুন কাঠামোর সঙ্গে আনুষঙ্গিক সব ভাতা ও বাড়তি আর্থিক সুবিধাগুলো যুক্ত হবে।সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন বেতনের প্রস্তাবনতুন পে স্কেলে সরকারি চাকরির বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রাখার সুপারিশ করা হয়েছে। এতে সর্বনিম্ন গ্রেডের মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে সর্বোচ্চ গ্রেডের মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ রয়েছে।নিম্ন ও মধ্যম স্তরে বেশি বৃদ্ধিসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, নবম পে স্কেলে নিম্ন ও মধ্যম স্তরের কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির হার তুলনামূলক বেশি রাখার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। কারণ নিম্ন আয়ের কর্মচারীদের ওপর মূল্যস্ফীতির চাপ সবচেয়ে বেশি পড়ছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন গ্রেডের মধ্যে বিদ্যমান বৈষম্য কিছুটা কমিয়ে আনার প্রস্তাবও রাখা হতে পারে।কাদের অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছেনবম পে স্কেলের আওতায় প্রশাসন ক্যাডারের পাশাপাশি শিক্ষক, পুলিশ, স্বাস্থ্যকর্মী, মাঠ প্রশাসন, বিচার বিভাগীয় কর্মচারীসহ সব সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অন্তর্ভুক্ত থাকবেন। এছাড়া স্বায়ত্তশাসিত ও আধা-স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের ক্ষেত্রেও সমন্বিত নির্দেশনা থাকতে পারে।পেনশনভোগীদের জন্য বড় সুপারিশপেনশনভোগীদের সুবিধা বাড়ানোর বিষয়েও সুপারিশ করা হয়েছে। সাবেক সচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বাধীন বেতন কমিশন পেনশনের হার শতভাগ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে। সুপারিশ অনুযায়ী, মাসে ২০ হাজার টাকার কম পেনশন পান এমন ব্যক্তিদের পেনশন প্রায় ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। যাদের মাসিক পেনশন ২০ থেকে ৪০ হাজার টাকার মধ্যে, তাদের ক্ষেত্রে প্রায় ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির প্রস্তাব রয়েছে। আর ৪০ হাজার টাকার বেশি পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে প্রায় ৫৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে।নবম পে-স্কেল চূড়ান্তকরণের বৈঠক বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সর্বনিম্ন বেতন ২০ হাজার ও সর্বোচ্চ ১ লাখ ৬০ হাজার টাকার সুপারিশ বাস্তবায়িত হলে সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া পড়বে। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যম স্তরের কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির হার বেশি রাখার প্রস্তাব স্বস্তি দিতে পারে। অন্যদিকে পেনশনভোগীদের জন্য শতভাগ পর্যন্ত পেনশন বৃদ্ধির সুপারিশ আরও বড় খবর। এখন দেখার বিষয়, বৃহস্পতিবারের বৈঠকে চূড়ান্ত সুপারিশে কতটুকু সমন্বয় হয় এবং আগামী বাজেটে এজন্য কত বরাদ্দ রাখা হয়। জুলাই থেকে বাস্তবায়ন শুরু হলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জীবনমানের উন্নয়নে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
১২ ঘন্টা আগে
পশ্চিমবঙ্গে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ) কার্যকরের ঘোষণা শুভেন্দুর

পশ্চিমবঙ্গে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ) কার্যকরের ঘোষণা শুভেন্দুর

পশ্চিমবঙ্গে বিতর্কিত নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ) কার্যকর করার ঘোষণা দিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার বিকেলে নবান্নে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। একই সঙ্গে সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারে রাজ্যের ২৭ কিলোমিটার জমি সীমান্ত সুরক্ষা বাহিনী (বিএসএফ)-এর হাতে তুলে দেওয়ার কথাও ঘোষণা করেন তিনি।‘ডিটেক্ট, ডিলিট অ্যান্ড ডিপোর্ট’ নীতিসংবাদ সম্মেলনে শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, যারা সিএএ-এর আওতায় পড়বেন না, তাদের অবৈধ অনুপ্রবেশকারী হিসেবে গণ্য করা হবে এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তার ভাষায়, এদের গ্রেপ্তার করে বিএসএফ-এর হাতে হস্তান্তর করা হবে এবং পরবর্তীতে প্রত্যাবাসনের প্রক্রিয়া শুরু হবে। তিনি বলেন, ‘ডিটেক্ট, ডিলিট এবং ডিপোর্ট’—এই নীতির ভিত্তিতেই অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।বিএসএফ-কে জমি হস্তান্তরনবান্নে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বিএসএফ কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। এ সময় সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারে রাজ্যের ২৭ কিলোমিটার জমি আনুষ্ঠানিকভাবে বাহিনীর হাতে হস্তান্তর করা হয় বলে জানানো হয়। কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুযায়ী সীমান্ত থানাগুলোতে নতুন ব্যবস্থা কার্যকর করা হয়েছে এবং রাজ্য পুলিশকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।সিএএ-এর পটভূমিসিএএ নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের অবস্থান অনুযায়ী, বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান থেকে ধর্মীয় নিপীড়নের শিকার হয়ে আগত নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের (হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পার্সি, খ্রিস্টান) মানুষদের নাগরিকত্বের সুযোগ দেওয়া হয়। তবে এর বাস্তবায়ন ও প্রয়োগ নিয়ে শুরু থেকেই বিভিন্ন রাজ্যে রাজনৈতিক বিরোধিতা চলে আসছে।রাজনৈতিক বিতর্কএই ঘোষণা ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিরোধীরা দীর্ঘদিন ধরেই সিএএ কার্যকরের বিরোধিতা করে আসছে। পূর্ববর্তী প্রশাসন এই আইন বাস্তবায়ন না করার অবস্থান নিয়েছিল বলে রাজনৈতিক সূত্রে জানা যায়।পরিস্থিতির ভবিষ্যৎনতুন এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়বে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নাকি রাজনৈতিক অবস্থান—এই প্রশ্নকে ঘিরেই এখন রাজ্যের পরিস্থিতি নতুন মোড় নিয়েছে।শুভেন্দু অধিকারীর এই ঘোষণা পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। একদিকে সিএএ বাস্তবায়ন ও বিএসএফ-কে জমি হস্তান্তর কেন্দ্রের নির্দেশনার প্রতিফলন, অন্যদিকে ‘ডিটেক্ট, ডিলিট অ্যান্ড ডিপোর্ট’ নীতি অভিবাসন ইস্যুকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। বিরোধীদের তীব্র প্রতিক্রিয়া ও সীমান্তবর্তী অঞ্চলে এর প্রভাব এখন দেখার বিষয়। আইন বাস্তবায়নে প্রশাসনিক সক্ষমতা ও সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা— দুটোই চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।
৬ ঘন্টা আগে
১৫ এপ্রিল ২০২৬, ১২:১১ এএম
আপনি কি মনে করেন বিএনপি জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর ও শব্দ বাস্তবায়ন করবে?

আপনি কি মনে করেন বিএনপি জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর ও শব্দ বাস্তবায়ন করবে?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ জন
২৪ ঘণ্টায় হাম ও উপসর্গে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু, দেড় মাসে নিহত ৪৩৯

২৪ ঘণ্টায় হাম ও উপসর্গে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু, দেড় মাসে নিহত ৪৩৯

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় (বুধবার সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা) হাম ও হামের উপসর্গে নিয়ে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে হামের উপসর্গে এবং ১ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হামে। একই সময়ে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ৫১৮ জন।বৃহস্পতিবার (১৪ মে) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত দেড় মাসে সারা দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৪৩৯ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে পরীক্ষায় নিশ্চিত হামে মারা গেছে ৭০ জন এবং উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ৩৬৯ জন।একই সময়ে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়েছে (পরীক্ষায় প্রমাণিত) ৭ হাজার ৩০৫ জন। আর হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে এসেছে ৫৪ হাজার ৪১৯ জন।ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানিস্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত ও মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে ঢাকা বিভাগে। বিভাগটিতে হাম ও উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ১৯২ জন এবং আক্রান্ত হয়েছে ২৯ হাজার ৪৮১ জন।নিবিড় পর্যবেক্ষণে সরকারহামের প্রকোপ নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বিভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। ইতিমধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করা হয়েছে। অভিভাবকদের সন্তানের জ্বর, সর্দি ও র্যাশ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক রোগ। সময়মতো টিকা নিলে এই রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব। অভিভাবকদের সন্তানের টিকার কার্ড পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় টিকা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
১৪ মে ২০২৬
নবম জাতীয় পে স্কেলের সম্ভাব্য বেতন গ্রেডের খসড়া প্রকাশ

নবম জাতীয় পে স্কেলের সম্ভাব্য বেতন গ্রেডের খসড়া প্রকাশ

সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে ২০২৬ সালে নতুন জাতীয় বেতন কাঠামো বা নবম পে স্কেল ঘোষণার বিষয়ে জোরালো আলোচনা শুরু হয়েছে। স্বাধীনতার পর ১৯৭৩ সালে প্রথম বেতন স্কেল কার্যকর হওয়ার পর থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত দেশে মোট আটবার নতুন বেতন কাঠামো প্রণয়ন করা হয়েছে। সাধারণত প্রতি পাঁচ বছর অন্তর নতুন পে স্কেল দেওয়ার রীতি থাকলেও বিশ্বজুড়ে মহামারি পরিস্থিতি এবং সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক চাপের কারণে এই প্রক্রিয়া বেশ কয়েক বছর পিছিয়ে যায়। তবে চলতি বছরের শুরু থেকেই সচিবালয়সহ সরকারি প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে নতুন বেতন কাঠামো নিয়ে নতুন করে আশা জাগ্রত হয়েছে।সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, প্রস্তাবিত নবম জাতীয় বেতন কাঠামো নিয়ে সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা চলছে। এ লক্ষ্যে গঠিত ১০ সদস্যের একটি বিশেষ উচ্চপর্যায়ের কমিটি বিভিন্ন সুপারিশ ও আর্থিক দিক বিশ্লেষণ করে চূড়ান্ত মতামত তৈরির কাজ করছে। বিশেষ করে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং মুদ্রাস্ফীতির সঙ্গে সংগতি রেখে সরকারি কর্মচারীদের জীবনমান উন্নয়নের বিষয়টি এই কমিটিতে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। কমিটি দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাদের সুপারিশমালা পেশ করবে বলে জানা গেছে।প্রস্তাবিত এই নবম পে স্কেলের একটি সম্ভাব্য খসড়া নিয়ে বর্তমানে সরকারি মহলে ব্যাপক কৌতূহল ও আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। যদিও এটি একটি প্রাথমিক প্রস্তাব মাত্র, তবুও এতে ১ নম্বর গ্রেডের বেতন নির্ধারিত ধরা হয়েছে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা। একইভাবে ১০ নম্বর গ্রেডের বেতন ৩২ হাজার থেকে ৭৭ হাজার ৩০০ টাকা এবং সর্বনিম্ন ২০ নম্বর গ্রেডের বেতন ২০ হাজার থেকে ৪৮ হাজার ৪০০ টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে বলে গুঞ্জন রয়েছে। নবম গ্রেডের কর্মকর্তাদের বেতন ৪৫ হাজার ১০০ টাকা থেকে ১ লাখ ৮ হাজার ৮০০ টাকার মধ্যে রাখার প্রস্তাবনাও এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।প্রস্তাবিত বেতন স্কেলের খসড়াগ্রেড ও বেতন স্কেল (টাকা):০১: ১,৬০,০০০ (নির্ধারিত)০২: ১,৩২,০০০ – ১,৫৩,০০০০৩: ১,১৩,০০০ – ১,৪৮,৮০০০৪: ১,০০,০০০ – ১,৪২,৪০০০৫: ৮৬,০০০ – ১,৩৯,৭০০০৬: ৭১,০০০ – ১,৩৪,০০০০৭: ৫৮,০০০ – ১,২৬,৮০০০৮: ৪৭,২০০ – ১,১৩,৭০০০৯: ৪৫,১০০ – ১,০৮,৮০০১০: ৩২,০০০ – ৭৭,৩০০১১: ২৫,০০০ – ৬০,৫০০১২: ২৪,৩০০ – ৫৮,৭০০১৩: ২৪,০০০ – ৫৮,০০০১৪: ২৩,৫০০ – ৫৬,৮০০১৫: ২২,৮০০ – ৫৫,২০০১৬: ২১,৯০০ – ৫২,৯০০১৭: ২১,৪০০ – ৫১,৯০০১৮: ২১,০০০ – ৫০,৯০০১৯: ২০,৫০০ – ৪৯,৬০০২০: ২০,০০০ – ৪৮,৪০০উল্লেখ্য, এই তালিকাটি বর্তমানে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আলোচনার একটি অংশ মাত্র এবং এটি চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নয়। সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন বা গেজেট প্রকাশিত হওয়ার পরেই এই বেতন কাঠামো চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে। তবে বর্তমান অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে সরকারি কর্মচারীদের জন্য এই নতুন পে স্কেল বাস্তবায়ন করা সরকারের জন্য যেমন চ্যালেঞ্জিং, তেমনি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য এটি একটি বড় স্বস্তির সংবাদ হিসেবে দেখা দিচ্ছে। 
০৬ এপ্রিল ২০২৬
ট্রাম্পের ১০ শতাংশ বৈশ্বিক শুল্ক অবৈধ ঘোষণা করে বাণিজ্য আদালতের রায়

ট্রাম্পের ১০ শতাংশ বৈশ্বিক শুল্ক অবৈধ ঘোষণা করে বাণিজ্য আদালতের রায়

০৬ এপ্রিল ২০২৬
এআই নিয়ে আদালতে মাস্ক বনাম অল্টম্যান, এআইয়ের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে মামলা শুরু

এআই নিয়ে আদালতে মাস্ক বনাম অল্টম্যান, এআইয়ের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে মামলা শুরু

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে প্রভাব ফেলতে পারে এমন এক বহুল আলোচিত মামলার বিচারিক কার্যক্রম আজ মঙ্গলবার শুরু হয়েছে। চ্যাটজিপিটির নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ওপেনএআইয়ের বিবর্তন নিয়ে দুই বিলিয়নিয়ার ইলন মাস্ক ও স্যাম অল্টম্যান এখন আদালতের মুখোমুখি। অলাভজনক সংস্থা থেকে শত শত বিলিয়ন ডলারের মুনাফালোভী প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর নিয়ে তাদের এ আইনি লড়াই। সোমবার নয় জন জুরির সংক্ষিপ্ত তালিকা তৈরির পর আজ ক্যালিফোর্নিয়ার ওকল্যান্ডের ফেডারেল আদালতে মাস্কের করা দেওয়ানি মামলার প্রাথমিক শুনানি শুরু হয়েছে।মাস্কের অভিযোগ, ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যান এবং প্রেসিডেন্ট গ্রেগ ব্রকম্যান তার ও জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। মানবতার কল্যাণে কাজ করার মূল লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হয়ে তারা প্রতিষ্ঠানটিকে নিজেদের এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি ‘সম্পদ বানানোর যন্ত্রে’ পরিণত করেছেন। বিশ্বের শীর্ষ ধনী মাস্ক ওপেনএআই এবং এর অন্যতম বড় বিনিয়োগকারী মাইক্রোসফটের কাছে প্রায় ১৭ লাখ ৭০ হাজার কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন। তিনি চান এই অর্থ ওপেনএআইয়ের দাতব্য শাখায় জমা হোক। এছাড়া তিনি ওপেনএআইকে পুনরায় অলাভজনক সংস্থায় ফিরিয়ে নেওয়া এবং অল্টম্যান ও ব্রকম্যানকে তাদের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।টেসলা ও স্পেসএক্সের প্রতিষ্ঠাতা মাস্ক জানান, ওপেনএআইয়ের মূল লক্ষ্য বাস্তবায়নে তিনি প্রায় ৪৫ কোটি টাকা প্রারম্ভিক মূলধন দিয়েছিলেন। কিন্তু ২০১৮ সালে তিনি বোর্ড ছাড়ার পরপরই ২০১৯ সালে প্রতিষ্ঠানটি মুনাফাভিত্তিক ব্যবসায়িক মডেলে চলে যায়। অন্যদিকে ওপেনএআইয়ের দাবি, মাস্ক এই পরিবর্তনের কথা আগে থেকেই জানতেন এবং সমর্থন করেছিলেন। তাদের মতে, মাস্ক নিজে সিইও হতে ব্যর্থ হওয়ার পর এখন ঈর্ষান্বিত হয়ে নিজের এআই কোম্পানি এক্সএআইকে এগিয়ে নিতেই এই মামলা করেছেন।মার্কিন ডিস্ট্রিক্ট জজ ইভন গনজালেজ রজার্স জানিয়েছেন, তিনি আগামী ১২ মে’র মধ্যে জুরিদের সিদ্ধান্ত জানতে চান। এই মামলায় ইলন মাস্ক, স্যাম অল্টম্যান এবং মাইক্রোসফট প্রধান সত্য নাদেলা সাক্ষ্য দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, চলতি সপ্তাহেই কাঠগড়ায় দাঁড়াবেন মাস্ক।২০১৫ সালে গুগলকে টেক্কা দিতে এবং মানবতার কল্যাণে এআই তৈরির লক্ষ্যে মাস্ক ও অল্টম্যান ওপেনএআই প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। ব্রকম্যানের সাধারণ একটি অ্যাপার্টমেন্টের ল্যাব থেকে শুরু হওয়া সংস্থাটির বর্তমান বাজারমূল্য ৮৫০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। এই মামলা ওপেনএআইয়ের সম্ভাব্য শেয়ার বাজার বা আইপিও আসার পরিকল্পনাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে এবং এআই প্রযুক্তি নিয়ে সাধারণ মানুষের ভীতি আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।এদিকে ওপেনএআইয়ের প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যানথ্রোপিকসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলোও এখন বাজার ধরতে মরিয়া। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইপিওতে আসলে ওপেনএআইয়ের বাজারমূল্য ১ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। বর্তমানে ওপেনএআই নিজেদের কাঠামো সংস্কার করে একটি ‘পাবলিক বেনিফিট কর্পোরেশন’-এ রূপান্তর করেছে, যেখানে মূল অলাভজনক শাখার ২৬ শতাংশ অংশীদারিত্ব রয়েছে। এই আইনি লড়াই কেবল দুই ধনকুবেরের দ্বন্দ্ব নয়, বরং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নৈতিকতা ও বাণিজ্যিক ব্যবহারের ভবিষ্যৎ কোন পথে যাবে—তা নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখবে।সূত্র: রয়টার্স, এএফপি
২৮ এপ্রিল ২০২৬
নাগরিকত্বের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সন্তান জন্ম দেওয়া ভিসা শর্তের পরিপন্থি: মার্কিন দূতাবাস

নাগরিকত্বের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সন্তান জন্ম দেওয়া ভিসা শর্তের পরিপন্থি: মার্কিন দূতাবাস

ক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পাওয়ার উদ্দেশ্যে দেশটিতে গিয়ে সন্তান জন্ম দেওয়া এখন থেকে ভিসার শর্তের পরিপন্থি হিসেবে গণ্য হবে। এমন উদ্দেশ্যে কেউ ভিসা আবেদন করলে তা সরাসরি বাতিল করা হবে বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে মার্কিন দূতাবাস।বুধবার সকালে দূতাবাসের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বিশেষ সতর্কবার্তায় এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।কী বলছে দূতাবাসের সতর্কবার্তাদূতাবাসের পোস্টে উল্লেখ করা হয়, কোনো ব্যক্তি যদি মূলত সন্তানের মার্কিন নাগরিকত্ব নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের পরিকল্পনা করেন, তবে তা দেশটির বর্তমান ভিসা নীতিমালার পরিপন্থি।কনস্যুলার কর্মকর্তারা যদি সাক্ষাৎকার বা তদন্তের মাধ্যমে বুঝতে পারেন যে আবেদনকারীর মূল লক্ষ্য সন্তান জন্ম দিয়ে নাগরিকত্ব অর্জন, তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ট্যুরিস্ট ভিসা আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হবে।সতর্কবার্তায় আরও বলা হয়, এ ধরনের কার্যক্রম মার্কিন ভিসা নীতিমালার গুরুতর লঙ্ঘন। তাই আবেদনকারীদের শুধু প্রকৃত এবং সঠিক উদ্দেশ্য উল্লেখ করে আবেদন করার আহ্বান জানিয়েছে দূতাবাস।কঠোর সতর্কতাভিসা পাওয়ার জন্য ভুল তথ্য প্রদান বা ভিসার শর্ত ভঙ্গ করলে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের ক্ষেত্রে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা বা নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলেও সতর্কবার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে।অর্থাৎ, কেউ যদি এ উদ্দেশ্যে ভিসা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সন্তান জন্ম দেন এবং তা প্রমাণিত হয়, তাহলে পরবর্তীতে তার যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়া পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যেতে পারে।যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে জন্ম নিলে সন্তান স্বয়ংক্রিয়ভাবে সে দেশের নাগরিক হয় – এই সুযোগ কাজে লাগাতে অনেকেই আগে ট্যুরিস্ট ভিসায় গিয়ে সন্তান প্রসব করতেন। এখন থেকে সেই পথ কার্যকরীভাবে বন্ধ করে দিলো মার্কিন দূতাবাস। শুধু ভিসা বাতিল নয়, ভবিষ্যতেও যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞার হুঁশিয়ারি দেওয়ায় এই সিদ্ধান্তকে ‘চরম কঠোর’ বলছেন অভিবাসন বিশ্লেষকরা। ফলে আবেদনকারীদের এখন ভিসা আবেদনের আগে তিনবার ভাবতে হবে।
০৬ এপ্রিল ২০২৬
ষাট গম্বুজ মসজিদ

ষাট গম্বুজ মসজিদ

বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমের জেলা বাগেরহাট। সবুজ শ্যামলিমা আর নদী-খাল বেষ্টিত এই জনপদকে বিশ্বের দরবারে পরিচিতি এনে দিয়েছে একটি অনন্য স্থাপনা – ষাট গম্বুজ মসজিদ। ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী তিনটি স্থানের একটি এই মসজিদ মুসলিম স্থাপত্যের এক অপূর্ব নিদর্শন। যেখানে ইতিহাস, আধ্যাত্মিকতা আর নির্মাণকৌশলের মিলন ঘটেছে চুন-সুরকি আর পাথরের বাঁধনে।ইতিহাসের আঁধার আলো: কে, কবে, কেন?মসজিদটির গায়ে কোনো শিলালিপি নেই। তাই এটি কে নির্মাণ করেছিলেন বা কোন সময়ে নির্মিত হয়েছিল, তা নিয়ে সঠিক তথ্য পাওয়া যায় না। তবে স্থাপত্যশৈলী ঘেঁটে ইতিহাসবিদরা প্রায় নিশ্চিত – এ মসজিদ পীর খানজাহান আলী (রহ.)-এর হাতেই গড়ে উঠেছিল। ধারণা করা হয়, তিনি পঞ্চদশ শতাব্দীর মাঝামাঝি (আনুমানিক ১৪৪২-১৪৫৯ খ্রিস্টাব্দ, অনেকের মতে ১৫০০ শতাব্দীতে) এটি নির্মাণ করেন।সুলতান নাসিরউদ্দিন মাহমুদ শাহের আমলে খান-ই-জাহান সুন্দরবনের কোল ঘেঁষে ‘খলিফাতাবাদ’ রাজ্য গড়ে তোলেন। দরবার ও নামাজের জন্য তিনি একটি বিশাল হল নির্মাণের উদ্যোগ নেন, যা কালক্রমে ‘ষাট গম্বুজ মসজিদ’ নামে পরিচিতি পায়। জনশ্রুতি আছে, মসজিদের পাথর চট্টগ্রাম থেকে আনা হয়েছিল। আবার কেউ কেউ বলেন, ভারতের উড়িষ্যার রাজমহল থেকে অলৌকিক ক্ষমতাবলে জলপথে ভাসিয়ে আনা হয়েছিল। বাস্তবে পাথরগুলো রাজমহল থেকেই আনা – এ নিয়ে ঐতিহাসিকরা একমত।নামকরণের নানা কাহিনিমসজিদটির নাম নিয়েও আছে নানা মত।ষাট গম্বুজ কেন? সংস্কৃত ‘সাত’ ও ফারসি ‘ছাদ’ মিলে ‘ছাদ গম্বুজ’ থেকে কথ্যরূপে ‘ষাট গম্বুজ’ হয়েছে বলে এক মত।আবার অন্য মতে, মসজিদের ভেতরে ছয়টি সারিতে দশটি করে মোট ৬০টি পাথরের স্তম্ভ (খাম্বা) আছে। স্তম্ভের ওপর ছাদ নির্মিত, তাই ‘ষাট খাম্বা’ থেকে ‘ষাট গম্বুজ’।গম্বুজের প্রকৃত সংখ্যা: নাম ‘ষাট গম্বুজ’ হলেও আসলে এখানে গম্বুজ ৬০টি নয়। মূল ভবনে ১১টি সারিতে ৭৭টি গম্বুজ, চার কোণার মিনারের ওপর চারটি গম্বুজ – মোট ৮১টি গম্বুজ। ৭৭টির মধ্যে ৭৪টিই অর্ধগোলাকার, শুধু মাঝের সারির সাতটি দেখতে বাংলার চৌচালা ঘরের চালের মতো।তাই অনেক গবেষক মনে করেন, মসজিদটির আসল নাম হওয়া উচিত ছিল ‘ষাট স্তম্ভ মসজিদ’ – কারণ এখানে প্রধান আকর্ষণ সেই ৬০টি পাথরের স্তম্ভ।স্থাপত্যের অনন্য বুননষাট গম্বুজ মসজিদের স্থাপত্যশৈলীতে মিশেছে মধ্য এশিয়ার তুঘলক (তুরস্ক) ও জৌনপুরী ধারা, আবার রয়েছে স্থানীয় বাংলার ছোঁয়া।আকার ও পরিমাপবাইরের দিক: উত্তর-দক্ষিণে ১৬০ ফুট, পূর্ব-পশ্চিমে ১০৪ ফুট।ভেতরের দিক: উত্তর-দক্ষিণে ১৪৩ ফুট, পূর্ব-পশ্চিমে ৮৮ ফুট।দেয়ালের পুরুত্ব: প্রায় ৮.৫ ফুট। ইটের তৈরি এসব দেয়াল অসাধারণ মজবুত।দরজা ও জানালাপূর্ব দেয়ালে ১১টি খিলানযুক্ত দরজা – মাঝেরটি সবচেয়ে বড়।উত্তর ও দক্ষিণ দেয়ালে ৭টি করে মোট ১৪টি দরজা।এই অসংখ্য দরজা আলো ও বাতাস চলাচলের জন্য তৈরি, তবু ভেতরের দিকটা কিছুটা অন্ধকারাচ্ছন্ন – যা উপাসনার গাম্ভীর্য বাড়ায়।মিনার ও কোঠাচার কোণে চারটি গোলাকার মিনার। এদের চূড়ায় ছোট গম্বুজ। ছাদের কার্নিশের চেয়ে মিনারগুলো কিছুটা উঁচু। সামনের দিকের দুটি মিনারের ভেতর প্যাঁচানো সিঁড়ি – একসময় এখান থেকে আজান দেওয়া হতো।রওশন কোঠা: দক্ষিণ-পূর্ব কোণের বুরুজ – আলো-বাতাসে ভরা।আন্ধার কোঠা: উত্তর-পূর্ব কোণের বুরুজ – তুলনামূলক অন্ধকার।ভেতরের স্তম্ভ ও গম্বুজের জঙ্গলভেতরে ৬০টি পাথরের স্তম্ভ – উত্তর থেকে দক্ষিণে ছয় সারিতে, প্রতিসারিতে দশটি করে। প্রতিটি স্তম্ভ পাথর কেটে বানানো, তবে পাঁচটি স্তম্ভ পরে ইট দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। এই স্তম্ভের ওপর ভর করেই গম্বুজগুলো দাঁড়িয়ে। এক কথায়, এটি খিলান-স্তম্ভ-গম্বুজের এক বিস্ময়কর সমন্বয়।মিহরাব ও মিম্বারপশ্চিম দেয়ালে ১০টি মিহরাব। মাঝের মিহরাবটি সবচেয়ে বড় ও কারুকার্যপূর্ণ। এর দক্ষিণে ৫টি, উত্তরে ৪টি মিহরাব। উত্তরে যেখানে একটি মিহরাব থাকার কথা, সেখানে রয়েছে একটি ছোট দরজা – অনেকে মনে করেন, এটি খানজাহান আলীর দরবার হলের প্রবেশপথ ছিল। ইমামের বসার জন্য রয়েছে পাথরের মিম্বার।রডবিহীন নির্মাণসবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো – এই মসজিদে কোনো লোহার রড ব্যবহার করা হয়নি। শুধু চুন, সুরকি, কালো পাথর ও ছোট ইট দিয়ে তৈরি এই কাঠামো প্রায় ৬০০ বছর ধরে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে।ইউনেস্কোর স্বীকৃতি ও বর্তমান অবস্থা১৯৮৩ সালে (অনেক সূত্রে ১৯৮৫) ইউনেস্কো বাগেরহাট শহরটিকেই ‘ঐতিহাসিক মসজিদ শহর’ হিসেবে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের মর্যাদা দেয়। আর এই মর্যাদার কেন্দ্রবিন্দু হলো ষাট গম্বুজ মসজিদ।বর্তমানে মসজিদটি বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর ও ইউনেস্কোর যৌথ তত্ত্বাবধানে সংরক্ষিত। এখনো এখানে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামাতের সাথে আদায় করা হয়। একসঙ্গে মসজিদের ভেতরে প্রায় দুই হাজার মুসল্লি নামাজ পড়তে পারেন।ভ্রমণ তথ্য: কখন, কীভাবে, কত টাকা?প্রবেশ ফিদেশি পর্যটক: ৩০ টাকা (অনেক সূত্রে ২০ টাকাও উল্লেখ আছে – বর্তমানে ৩০ টাকাই বেশি প্রচলিত)মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষার্থী: ১০ টাকাসার্কভুক্ত দেশের নাগরিক: ২০০ টাকাঅন্যান্য বিদেশি: ৫০০ টাকাশিশু (০-১০ বছর) ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী: বিনামূল্যেঅনলাইন টিকেট: চাইলে myGOV ওয়েবসাইট থেকে কিউআর কোডযুক্ত টিকেট কেটে নিতে পারেন।খোলা ও বন্ধের সময়গ্রীষ্মকাল (গরমকাল): সকাল ১০টা – সন্ধ্যা ৬টাশীতকাল: সকাল ৯টা – বিকেল ৫টামধ্যাহ্ন বিরতি: দুপুর ১টা – ১টা ৩০ মিনিট (উভয় মৌসুমে)শুক্রবার বিশেষ বন্ধ: জুমার নামাজের জন্য দুপুর ১২টা ৩০ মিনিট – বিকেল ৩টা ৩০ মিনিটসাপ্তাহিক ছুটি: রোববার সারাদিন বন্ধ (সোমবার দুপুর ২টা থেকে খোলে)টিপস: নামাজের সময় (ফজর, যোহর, আসর, মাগরিব, এশা) স্থানীয় মুসল্লিরা প্রবেশ করতে পারেন বিনামূল্যে। তবে পর্যটকদের নির্ধারিত সময় ও টিকিট মেনে চলতে হবে।মসজিদ চত্বরে জাদুঘরপ্রধান ফটকের ডান পাশে বাগেরহাট জাদুঘর। এখানে খানজাহান আমলের প্রাচীন মুদ্রা, পোড়ামাটির ফলক, অসংখ্য প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন – এমনকি খানজাহানের দিঘির ঐতিহ্যবাহী ‘কালা পাহাড়’ ও ‘ধলা পাহাড়’ কুমিরের মমি সংরক্ষিত আছে।জাদুঘরের সময়: গ্রীষ্মে সকাল ১০টা – সন্ধ্যা ৬টা, শীতে সকাল ৯টা – বিকেল ৫টা।মধ্যাহ্ন বিরতি: দুপুর ১টা – দেড়টা।ছুটি: রোববার সারাদিন।একই টিকিটে জাদুঘর ও মসজিদ কমপ্লেক্স ঘুরতে পারবেন।যাতায়াত: ঢাকা থেকে বাগেরহাটবাসেঢাকার সায়দাবাদ ও গাবতলী বাস টার্মিনাল থেকে নিয়মিত বাস ছাড়ে। উল্লেখযোগ্য পরিবহন: মেঘনা, বনফুল, ফাল্গুনী, আরা, পর্যটক, বলেশ্বর, হামিম, দোলা, সোহাগ, শাকুরা, হানিফ, কমফোর্ট লাইন, ঈগল।ভাড়া: ৬৫০-৮০০ টাকা (প্রতি জন)।সময়: সকাল ৬টা-১০টা এবং সন্ধ্যা ৭টা-রাত ১০টা পর্যন্ত ছাড়ে।বাগেরহাট বাসস্ট্যান্ড নেমে রিকশা বা সিএনজি নিলে ৩০-৪০ টাকায় পৌঁছে যাবেন ষাট গম্বুজ মসজিদে (সুন্দরঘোনা গ্রাম, খুলনা-বাগেরহাট মহাসড়কের উত্তর পাশে)।ট্রেনেঢাকা থেকে সুন্দরবন এক্সপ্রেস খুলগামী ট্রেনে খুলনা যান। সেখান থেকে বাস বা সিএনজিতে বাগেরহাট (সময় লাগে ১-১.৫ ঘণ্টা)।কোথায় থাকবেন?বাগেরহাটে তেমন বিলাসবহুল হোটেল নেই, তবে মাঝারি মানের থাকার জায়গা আছে।রেল রোডে মমতাজ হোটেল – সুযোগ-সুবিধা কম, কিন্তু সেবা ভালো। খরচ তুলনামূলক বেশি।খান জাহান আলীর মাজারের সামনে হোটেল অভি – মেইন হাইওয়েতে অবস্থিত।কেন্দ্রীয় বাসস্টেশন সংলগ্ন হোটেল আল আমিন এবং কর্মকার পট্টিতে হোটেল মোহনা।খুলনা খুব কাছে বলে চাইলে খুলনা গিয়েও রাত কাটাতে পারেন।খাওয়ার ব্যবস্থাবাসস্ট্যান্ড ও দরগার আশপাশে কয়েকটি মোটামুটি মানের হোটেল আছে। তবে দাম ও মান সম্পর্কে আগে জেনে নেওয়া ভালো। স্থানীয় মাছ ও ভাত খেতে পারেন – বাগেরহাটের ইলিশ বেশ有名।দক্ষিণাঞ্চলের সর্ববৃহৎ ঈদের জামাতষাট গম্বুজ মসজিদ শুধু একটি পর্যটন কেন্দ্র নয় – এটি জীবন্ত একটি উপাসনালয়। প্রতি ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহায় এখানে দেশ-বিদেশের প্রায় অর্ধলাখ মুসল্লি জড়ো হন। এটি দক্ষিণাঞ্চলের সর্ববৃহৎ ঈদের জামাত। রমজান মাসে দুই হাফেজ খতম তারাবির নামাজ পড়ান এবং মুসল্লিদের জন্য ইফতারের ব্যবস্থা থাকে।আশপাশের দর্শনীয় স্থানমসজিদ ঘুরে সময় থাকলে আরও কয়েকটি স্থান দেখতে পারেন:বিবি বেগনির মসজিদ (৫০০ মিটার পেছনে) – ফুলের কারুকার্যময়।চুনাখোলা মসজিদ (বিবি বেগনির আরও ৫০০ মিটার পেছনে)।সিঙ্গাইর মসজিদ (মহাসড়কের পাশে)।নয় গম্বুজ মসজিদখান জাহান আলীর মাজারঘোড়া দিঘি ও রণবিজয়পুর দিঘিমোংলা বন্দর (চাইলে সুন্দরবন যাতায়াতের গেটওয়ে)।ভ্রমণে যা মেনে চলবেনহালকা ও আরামদায়ক পোশাক পরুন – সুতির কাপড় উত্তম।পর্যাপ্ত পানি, বিস্কুট, মুড়ি, চিড়া ইত্যাদি সঙ্গে রাখুন।মোবাইলের চার্জার ও পাওয়ার ব্যাংক নিতে ভুলবেন না।জ্বর, সর্দি, গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ ও স্যালাইন রাখুন।মসজিদে প্রবেশের আগে জুতা বাইরে রেখে পায়ে মোজা পরে প্রবেশ করুন।নামাজরত মুসল্লিদের বিরক্ত করবেন না। নির্ধারিত পর্যটক এলাকায় ঘুরুন।টিকিট কাটার পর জাদুঘর দেখতে ভুলবেন না – এটি একই ফিতে।শেষকথাষাট গম্বুজ মসজিদ শুধু পাথর-চুন-সুরকির গাঁথনি নয়; এটি বাংলার ইতিহাস, সংস্কৃতি ও মুসলিম স্থাপত্যের এক জীবন্ত দলিল। এখানে দাঁড়ালে সময় থমকে দাঁড়ায়। শুনতে পাবেন খানজাহানের আজানের প্রতিধ্বনি, দেখতে পাবেন অর্ধগোলাকার গম্বুজের সারি মেঘ ছুঁতে চায়।আপনিও একবার চলে আসুন বাগেরহাটে। ষাট গম্বুজের ছায়ায় দাঁড়ান। ইতিহাসের স্পর্শ নিন। আর এই অসাধারণ স্থাপত্যের সাক্ষী হয়ে ফিরে আসুন – নতুন এক অভিজ্ঞতা নিয়ে।
গণবার্তা ফিচার