ঢাকা    রোববার, ১৪ জুন ২০২৬
ঢাকা    রোববার, ১৪ জুন ২০২৬
গণবার্তা
সর্বশেষ

দুবাইয়ে গ্রেপ্তার বেনজীরকে দ্রুত দেশে আনা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

দুর্নীতি মামলায় অভিযুক্ত সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে সংযুক্ত আরব আমিরাত পুলিশ কর্তৃক গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে সংসদে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ। তিনি আরও জানান, অতি দ্রুতই তাকে বাংলাদেশে নিয়ে আসা হবে।রবিবার (১৪ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় এবং প্রথম বাজেট অধিবেশনের ষষ্ঠ দিনে তিনি এসব তথ্য দেন। বিকাল ৩টায় শুরু হওয়া অধিবেশনে সভাপতিত্ব করছেন ডেপুটি স্পিকার ব্যাস্টিয়ার কায়সার কামাল।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদে বলেন, “পুলিশের সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ দুবাই পুলিশ কর্তৃক গ্রেপ্তার প্রসঙ্গে আমি মহান জাতীয় সংসদকে অবহিত করছি যে, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর দুর্নীতি মামলায় অভিযুক্ত তাকে গ্রেপ্তারের জন্য ইন্টারপোলের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করতে নিযুক্ত পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) ঢাকা কর্তৃক ইন্টারপোলে আবেদন করা হয়।”তিনি জানান, গত ১১ এপ্রিল ২০২৫ এ আবেদনটি পাঠানো হয়েছিল। এরপর ইন্টারপোল বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে রেড নোটিস জারি করে। উক্ত নোটিসের মাধ্যমে ইন্টারপোল কর্তৃক সংযুক্ত আরব আমিরাতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে গ্রেপ্তারের অনুরোধ করা হয়।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদকে জানান, গত ১২ জুন সংযুক্ত আরব আমিরাতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ডিরেক্টরিয়েট জেনারেল অফ ফেডারেল ক্রিমিনাল পুলিশ (এনসিবি আবুধাবি) থেকে প্রেরিত একটি ইমেইলের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারকে জানানো হয়েছে যে, দুর্নীতি মামলায় অভিযুক্ত বেনজীর আহমেদকে সংযুক্ত আরব আমিরাত পুলিশ কর্তৃক গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি বর্তমানে সেখানে আটক আছেন।এনসিবি আবুধাবি আরও জানিয়েছে, ইউএই ফেডারেল ল নাম্বার ৩৯ অফ ২০২৬ অনুযায়ী গ্রেপ্তারের তারিখ পাওয়ার জন্য ৩০ দিনের মধ্যে কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক এক্সট্রাডিশন রিকোয়েস্ট (প্রত্যর্পণ অনুরোধ) প্রেরণ করতে হবে।উল্লেখ্য, বেনজীর আহমদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪২০, ৪৬৭, ৪০৮, ৪৭১ এবং ০১৯ সেকশন ও ১৯৭৪ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনে এবং বাংলাদেশ পাসপোর্ট অর্ডার ১৯৭৩-এর ১১ ধারায় মামলা বিচারাধীন রয়েছে।এনসিবি ঢাকা ইন্টারপোল চ্যানেলের মাধ্যমে রেড নোটিস প্রকাশ, আন্তর্জাতিক সমন্বয়, বিদেশি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ এবং গ্রেপ্তার পরবর্তী ফলোআপ কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে। দুদক কর্তৃক প্রত্যর্পণের জন্য প্রয়োজনীয় মামলা, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ও তদন্ত সংক্রান্ত দলিলাদি প্রস্তুত করা হয়েছে।স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃক ট্রেডিশন প্রপোজাল প্রস্তুত ও অনুমোদন এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ইউএই কর্তৃপক্ষের কাছে কূটনৈতিক চ্যানেলে আনুষ্ঠানিক এক্সট্রাডিশন রিকোয়েস্ট প্রেরণ করা হবে বলে সংসদে জানানো হয়।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দাবি, “আবুধাবির সঙ্গে সমন্বয় পূর্বক অতি দ্রুতই তাকে বাংলাদেশে নিয়ে আসা হবে। এটি বাংলাদেশ পুলিশের একটি ঐতিহাসিক সাফল্য। এর মাধ্যমে আমরা বিচারহীনতা সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে আসতে সক্ষম হব ইনশাআল্লাহ।”তিনি আরও বলেন, “আমরা জাতিকে আশ্বস্ত করতে চাই যে অপরাধী যত শক্তিশালী হোক না কেন, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়। এটি দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং বাংলাদেশের ইতিহাসে মাইলফলক হয়ে থাকবে।”এদিকে বেনজীর আহমেদের গ্রেপ্তারের খবরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকে এটিকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতির বাস্তবায়ন হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ কেউ আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যেন বিচার প্রক্রিয়া যেন দীর্ঘসূত্রী না হয়।দেশে ফিরিয়ে আনতে এখন আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে সরকার। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে বেনজীরকে বাংলাদেশে হাজির করা সম্ভব হবে বলে ধারণা করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।
৪ ঘন্টা আগে

কুপার কনলির ক্যারিয়ার সেরা সেঞ্চুরিতে অস্ট্রেলিয়াকে হোয়াইটওয়াসের স্বপ্ন ফিকে হয়ে আসছে

তৃতীয় ও শেষ ওডিআইয়ে বাংলাদেশের দেয়া ২৭৪ রানের পুঁজি তাড়া করতে নেমে শক্ত অবস্থানে অস্ট্রেলিয়া। ৩৫.৫ ওভার শেষে তাদের সংগ্রহ ৫ উইকেটে ২০২ রান। জয়ের জন্য এখন লাগবে ৭৩ রান, হাতে আছে ৫ উইকেট ও ১৪ ওভার (৮৪ বল)।ম্যাচের আসল নায়ক কুপার কনলি। এই তরুণ ব্যাটার এখন পর্যন্ত অপরাজিত আছেন ১১২ রানে। তিনি ১০৬ বল খেলে ১১টি চার ও ৩টি ছয় মেরেছেন। এটি তার ওডিআই ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি।অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসে এ পর্যন্ত উইকেটের পতন হয়েছে এভাবে—জশ ইংলিস ২১ রানে (শরিফুলের শিকার)ম্যাট রেনশ ০ রানে (শরিফুলের দ্বিতীয় শিকার)অ্যালেক্স কেরি ৮ রানে (তাসকিনের শিকার)মার্নাস লাবুশানে ২৯ রানে (শরিফুলের তৃতীয় শিকার)ক্যামেরন গ্রিন ২৭ রানে (মাহেদীর বোলিংয়ে কট অ্যান্ড বোল্ড)বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে শরিফুল ইসলাম ৩টি উইকেট নিয়েছেন। তাসকিন ও মাহেদী পেয়েছেন একটি করে উইকেট।লিটন দাস ইনজুরি কাটিয়ে ব্যাটিংয়ে ফিরেছেন। তবে উইকেটকিপিংয়ে ছিলেন নুরুল হাসান সোহান। লিটন অপরাজিত ৫৮ রান করে ব্যাটিংয়ে ফেরেন। তৌহিদ হৃদয় ৮৩ ও মোসাদ্দেক হোসেন ৫৬ রান করেন। সৌম্য সরকার (২), তানজিদ হাসান (১৯) ও নাজমুল হোসেন শান্ত (২৪) ব্যর্থ হলেও শেষ দিকে মাহেদী হাসান ৩ রানে আউট হন।বাংলাদেশের সংগ্রহ ২৭৪/৫ নির্ধারিত ৫০ ওভারে। লিটন-হৃদয়-মোসাদ্দেকের ব্যাটিংয়ে দলটি লড়াকু পুঁজি পায়।অস্ট্রেলিয়ার জয় এখন সময়ের ব্যাপার বলে ধারণা করছেন ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা। তবে নিয়মিত উইকেট পেলে ম্যাচ ঘুরিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা আছে টাইগার বোলিং লাইনে। কনলিকে আউট করাই এখন বাংলাদেশের প্রধান লক্ষ্য। তাকে ফেরাতে পারলেই চাপ সৃষ্টি করা সম্ভব।বর্তমান রানরেট ৫.৬৩, প্রয়োজনীয় রানরেট ৫.১৫। কনলি শেষ পর্যন্ত খেললে অস্ট্রেলিয়া সহজেই জয় ছিনিয়ে নিতে পারবে বলে মনে হচ্ছে।মিরপুরের শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে দর্শকেরা এখনো আশায় বুক বেঁধেছেন। কনলির উইকেট পেলেই যে কোনো কিছু হতে পারে, এই ভাবনাই টাইগার সমর্থকদের শেষ ভরসা।
৪ ঘন্টা আগে

যুক্তরাষ্ট্রে এফ/এ-১৮ হর্নেট যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যে একটি মার্কিন সামরিক যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয় বনাঞ্চলে আগুন লাগার খবর পাওয়া গেছে। শনিবার (১৩ জুন) এই দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে সংবাদ প্রকাশ করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনার আগে যুদ্ধবিমানের পাইলট সফলভাবে ইজেক্ট (বিমান থেকে বেরিয়ে) করতে সক্ষম হন। তিনি সামান্য আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।ক্যালিফোর্নিয়ার মেরিন কোর এয়ার স্টেশন মিরামার ঘাঁটিতে মোতায়েন থাকা এফ/এ-১৮ হর্নেট যুদ্ধবিমানটি নিয়মিত প্রশিক্ষণ মিশনে অংশ নেওয়ার সময় দুর্ঘটনার শিকার হয়।বিমানটি ওয়াশিংটনের রিমরক লেকের কাছে বিধ্বস্ত হয়। এর ফলে বনাঞ্চলে জরুরি অগ্নিনির্বাপণ অভিযান শুরু করা হয়েছে।মার্কিন সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে এখনো বিধ্বস্তের কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তবে তদন্ত চলছে বলে নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ।প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, প্রচণ্ড বিস্ফোরণের শব্দে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই বিমানটির ধ্বংসাবশেষে আগুন ধরে যায় এবং তা ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের বনাঞ্চলে।পাইলটকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশিত বলে জানা গেছে। এফ/এ-১৮ হর্নেট যুক্তরাষ্ট্রের বহুল ব্যবহৃত যুদ্ধবিমান। এটি সাধারণত বিমানবাহী রণতরী থেকে উড্ডয়ন করে এবং আকাশযুদ্ধ ও স্থল লক্ষ্যবস্তু ধ্বংসে সক্ষম।স্থানীয় ফায়ার সার্ভিস ও বনরক্ষী বাহিনী আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। এখন পর্যন্ত কোনো বাড়িঘরে বা জনবসতিতে ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।ঘটনাটি তদন্ত করছে মার্কিন নৌবাহিনী ও মেরিন কর্পসের যৌথ টিম। সংশ্লিষ্ট এলাকায় সাময়িকভাবে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে।
৪ ঘন্টা আগে
টাইগারের হোয়াইটওয়াশের স্বপ্ন ভেঙ্গে শেষ ওভারে অসিদের নাটকীয় জয়

টাইগারের হোয়াইটওয়াশের স্বপ্ন ভেঙ্গে শেষ ওভারে অসিদের নাটকীয় জয়

শ্বাসরুদ্ধকর লড়াইয়ের পরও হেরে গেল বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। অস্ট্রেলিয়ার মতো ছয়বারের বিশ্বকাপজয়ী দলকে প্রথমবার ওয়ানডে সিরিজে হোয়াইটওয়াশ করার সুযোগ পেয়েও তা হাতছাড়া করল টাইগাররা। শেষ পর্যন্ত ৩ বল হাতে রেখে ১ উইকেটের জয়ে হোয়াইটওয়াশের লজ্জা এড়ায় অস্ট্রেলিয়া।মিরপুরের শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে রোববার (১৪ জুন) অনুষ্ঠিত তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে প্রথমে ব্যাট করে ৫ উইকেটে ২৭৪ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ। জবাবে ব্যাট করতে নেমে ৪৯.৩ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় অস্ট্রেলিয়া।প্রথম ও দ্বিতীয় ওয়ানডেতে জিতে আগেই সিরিজ জয়ের ইতিহাস গড়েছে বাংলাদেশ। ওয়ানডে ক্রিকেটে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজ জয়ের নজির গড়ে টাইগাররা। কিন্তু হোয়াইটওয়াশের স্বপ্ন অপূর্ণই রইল।বাংলাদেশের ইনিংস: লিটন-হৃদয়-মোসাদ্দেকের ব্যাটে লড়াকু পুঁজিটস জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ইনিংসের প্রথম ওভারেই উইকেট হারায় বাংলাদেশ। আগের ম্যাচে ৪২ রান করা সৌম্য সরকার আজ ফেরেন মাত্র ২ রানে।অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর সঙ্গে ৫১ রানের জুটি গড়ে সাজঘরে ফেরেন আরেক ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম। তিনি ২০ বলে ২টি চার ও ১টি ছয়ে ১৯ রান করেন। ৫০ বল খেলে মাত্র ২৪ রান (৩টি চার) করে ফেরেন অধিনায়ক শান্ত।৬১ রানে ৩ উইকেট পতনের পর দলের হাল ধরেন লিটন কুমার দাস ও তাওহীদ হৃদয়। চতুর্থ উইকেটে তারা ১০৯ বলে ৯২ রানের জুটি গড়েন। দলীয় ১৫৩ রানে রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে মাঠ ছাড়েন লিটন। তিনি ৭৮ বলে ৪টি চার ও ২টি ছয়ে ৫৮ রান করেন। পরে ফিরে এসেও ব্যাটিংয়ে নামেননি তিনি।লিটন বিদায়ের পর মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতকে সঙ্গে নিয়ে ৮১ বলে ৯০ রানের জুটি গড়েন হৃদয়। দলীয় ২৪৬ রানে চতুর্থ ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হন হৃদয়। তার আগে ৮৮ বলে ৮টি বাউন্ডারির সাহায্যে করেন ৮৩ রান।শেষদিকে মোসাদ্দেক ঝড়ো ব্যাটিং করেন। তিনি ৫১ বলে ৫টি চার ও ১টি ছয়ে অপরাজিত ৫৬ রান করেন। মাহেদী হাসান ৯ বলে ৩ রান করেন। ৫০ ওভার শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২৭৪ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে।অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস: কনোলির একক অভিযান, শেষ পর্যন্ত ১ উইকেটের নাটকীয় জয়টার্গেট তাড়া করতে নেমে উড়ন্ত সূচনা করে অস্ট্রেলিয়া। তাসকিন ও মোস্তাফিজকে চড়াও হয়ে প্রথম চার ওভারেই ৩৮ রান তুলে নেয় সফরকারীরা। উদ্বোধনী জুটিতে ৪০ রান সংগ্রহের পর মাত্র ৩ বলের ব্যবধানে ২ উইকেট হারায় তারা।শরিফুল ইসলামের বলে ক্যাচ তুলে দিয়ে ফেরেন অধিনায়ক জশ ইংলিস। তিনি ১২ বলে ৪টি চারে ২১ রান করেন। ওয়ান ডাউনে ব্যাটিংয়ে নেমে দ্বিতীয় বলেই বোল্ড হয়ে ফেরেন ম্যাট রেনশ (০)।এরপর সৌম্য সরকারের অসাধারণ ক্যাচে ফেরেন অ্যালেক্স কেরি। তিনি ১৬ বলে ১টি চারে ৮ রান করেন। ৭০ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে অস্ট্রেলিয়া।চতুর্থ উইকেটে ওপেনার কুপার কনোলির সঙ্গে ৭৭ বলে ৬৪ রানের জুটি গড়েন মার্নাস লাবুশেন। দলীয় ১৩৪ রানে লাবুশেন ফেরেন। তিনি ৪৫ বলে ১টি চারে ২৯ রান করেন।পঞ্চম উইকেটে ক্যামেরন গ্রিনের সঙ্গে ৬৮ রানের জুটি গড়েন কনোলি। গ্রিন ৩৫ বলে ১টি চার ও ১টি ছয়ে ২৭ রান করে মাহেদী হাসানের শিকার হন।এরপর অলিভার পিককে সঙ্গে নিয়ে আরও ৬৪ রানের জুটি গড়েন কনোলি। পিক ২৭ রানের কার্যকর ইনিংস খেলেন।এক পর্যায়ে ৫ উইকেটে অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ ছিল ২৬৬ রান। জয়ের জন্য ৩০ বলে দরকার ছিল মাত্র ৯ রান। হাতে ছিল ৫ উইকেট। খেলার এমন অবস্থায় মনে হয়েছিল হেসে খেলেই জয় পাবে অস্ট্রেলিয়া।কিন্তু এরপর মাত্র ৫ রানে ৪ উইকেট শিকার করে অস্ট্রেলিয়ার মতো শক্তিশালী দলকে রীতিমতো কোণঠাসা করে ফেলে বাংলাদেশ। নাটক শুরু হয় এখান থেকেই।শরিফুলের ক্যারিয়ারসেরা বোলিং, ক্যাচ মিসের আক্ষেপ৪৬তম ওভারে দুর্দান্ত বোলিং করেন শরিফুল। মাত্র ১ রান খরচ করে তুলে নেন ২ উইকেট। ৪৭তম ওভারে মোস্তাফিজ খরচ করেন মাত্র ৩ রান। ৪৮তম ওভারে কোনো রান খরচ করেননি শরিফুল।জয়ের জন্য ১২ বলে অস্ট্রেলিয়ার দরকার ছিল ৫ রান। বাংলাদেশের দরকার ছিল ২ উইকেট। ৪৯তম ওভারে ২ রান খরচ করলেও অস্ট্রেলিয়ার সেট ব্যাটসম্যান কুপার কনোলিকে আউট করে দলকে জয়ের স্বপ্ন দেখান মোস্তাফিজ। কনোলি ১৩৪ বলে ১৩টি চার ও ৬টি ছক্কায় সর্বোচ্চ ১৪৯ রান করে আউট হন।শেষ ওভারে জয়ের জন্য অস্ট্রেলিয়ার প্রয়োজন ছিল ৩ রান। বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল ১ উইকেট। শেষ ওভারের প্রথম বলে ১ রান খরচ করেন তাসকিন। দ্বিতীয় বলে রান নিতে পারেনি অসিরা। তৃতীয় বলে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে দলের জয় নিশ্চিত করেন অ্যাডাম জাম্পা।তবে ম্যাচের গতিপথ বদলে যেতে পারত কয়েকটি ক্যাচ ধরা পড়লে। তানভীর কনলির ক্যাচ মিস করেন। মোস্তাফিজকে পুল করতে গিয়ে ক্যাচ তুলে দিয়েছিলেন ডোয়ারশুইস, ডাইভ দিয়েও এই পেসার ধরতে পারেননি ক্যাচটা। এরপর শরিফুলের ওভারে আবারো ক্যাচ ওঠে গালিতে, কিন্তু এবারো জাম্পার ক্যাচটা ধরতে পারেননি তামিম। সেই মিস ক্যাচের মাশুল গুনতে হয় টাইগারদের।শরিফুলের রেকর্ড, অস্ট্রেলিয়ার ঐতিহাসিক এড়ানোবাংলাদেশের হয়ে শরিফুল ইসলাম একাই নেন ৬ উইকেট। তিনি ১০ ওভারে ৪৮ রান দিয়ে ৬ উইকেট শিকার করেন। এটি তার ওডিআই ক্যারিয়ারের সেরা বোলিং। এছাড়া তাসকিন আহমেদ, মোস্তাফিজুর রহমান ও মাহেদী হাসান একটি করে উইকেট শিকার করেন।অস্ট্রেলিয়ার হয়ে কুপার কনোলি ১৪৯ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন। মার্নাস লাবুশেন ২৯, ক্যামেরন গ্রিন ২৭, অলিভার পিক ২৭ ও জশ ইংলিস ২১ রান করেন। অ্যাডাম জাম্পা অপরাজিত ছিলেন ৪ রানে।এই জয়ে সিরিজে ২-১ ব্যবধানে জয় পায় অস্ট্রেলিয়া, তবে সিরিজ জিতেছে বাংলাদেশ। প্রথম দুই ম্যাচ জিতে টাইগাররা নিশ্চিত করেছিল ইতিহাস। কিন্তু হোয়াইটওয়াশ করতে ব্যর্থ হওয়ায় স্বাদটা কিছুটা মধুর হয়ে থাকল।ম্যাচ শেষে টাইগার সমর্থকেরা শরিফুলের অসাধারণ বোলিং ও শেষ ওভারের রোমাঞ্চের পরও হতাশ। মিস ক্যাচ আর শেষ মুহূর্তের ব্যর্থতায় স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে তাদের। ক্রিকেটবিশ্ব আজ দেখল রুদ্ধশ্বাস এক ম্যাচ, যেখানে শেষ বাঁশি পর্যন্ত কে জিতবে বোঝা যায়নি
১৭ মিনিট আগে
 দুবাইয়ে গ্রেপ্তার বেনজীরকে দ্রুত দেশে আনা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

দুবাইয়ে গ্রেপ্তার বেনজীরকে দ্রুত দেশে আনা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

দুর্নীতি মামলায় অভিযুক্ত সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে সংযুক্ত আরব আমিরাত পুলিশ কর্তৃক গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে সংসদে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ। তিনি আরও জানান, অতি দ্রুতই তাকে বাংলাদেশে নিয়ে আসা হবে।রবিবার (১৪ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় এবং প্রথম বাজেট অধিবেশনের ষষ্ঠ দিনে তিনি এসব তথ্য দেন। বিকাল ৩টায় শুরু হওয়া অধিবেশনে সভাপতিত্ব করছেন ডেপুটি স্পিকার ব্যাস্টিয়ার কায়সার কামাল।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদে বলেন, “পুলিশের সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ দুবাই পুলিশ কর্তৃক গ্রেপ্তার প্রসঙ্গে আমি মহান জাতীয় সংসদকে অবহিত করছি যে, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর দুর্নীতি মামলায় অভিযুক্ত তাকে গ্রেপ্তারের জন্য ইন্টারপোলের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করতে নিযুক্ত পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) ঢাকা কর্তৃক ইন্টারপোলে আবেদন করা হয়।”তিনি জানান, গত ১১ এপ্রিল ২০২৫ এ আবেদনটি পাঠানো হয়েছিল। এরপর ইন্টারপোল বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে রেড নোটিস জারি করে। উক্ত নোটিসের মাধ্যমে ইন্টারপোল কর্তৃক সংযুক্ত আরব আমিরাতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে গ্রেপ্তারের অনুরোধ করা হয়।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদকে জানান, গত ১২ জুন সংযুক্ত আরব আমিরাতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ডিরেক্টরিয়েট জেনারেল অফ ফেডারেল ক্রিমিনাল পুলিশ (এনসিবি আবুধাবি) থেকে প্রেরিত একটি ইমেইলের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারকে জানানো হয়েছে যে, দুর্নীতি মামলায় অভিযুক্ত বেনজীর আহমেদকে সংযুক্ত আরব আমিরাত পুলিশ কর্তৃক গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি বর্তমানে সেখানে আটক আছেন।এনসিবি আবুধাবি আরও জানিয়েছে, ইউএই ফেডারেল ল নাম্বার ৩৯ অফ ২০২৬ অনুযায়ী গ্রেপ্তারের তারিখ পাওয়ার জন্য ৩০ দিনের মধ্যে কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক এক্সট্রাডিশন রিকোয়েস্ট (প্রত্যর্পণ অনুরোধ) প্রেরণ করতে হবে।উল্লেখ্য, বেনজীর আহমদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪২০, ৪৬৭, ৪০৮, ৪৭১ এবং ০১৯ সেকশন ও ১৯৭৪ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনে এবং বাংলাদেশ পাসপোর্ট অর্ডার ১৯৭৩-এর ১১ ধারায় মামলা বিচারাধীন রয়েছে।এনসিবি ঢাকা ইন্টারপোল চ্যানেলের মাধ্যমে রেড নোটিস প্রকাশ, আন্তর্জাতিক সমন্বয়, বিদেশি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ এবং গ্রেপ্তার পরবর্তী ফলোআপ কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে। দুদক কর্তৃক প্রত্যর্পণের জন্য প্রয়োজনীয় মামলা, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ও তদন্ত সংক্রান্ত দলিলাদি প্রস্তুত করা হয়েছে।স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃক ট্রেডিশন প্রপোজাল প্রস্তুত ও অনুমোদন এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ইউএই কর্তৃপক্ষের কাছে কূটনৈতিক চ্যানেলে আনুষ্ঠানিক এক্সট্রাডিশন রিকোয়েস্ট প্রেরণ করা হবে বলে সংসদে জানানো হয়।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দাবি, “আবুধাবির সঙ্গে সমন্বয় পূর্বক অতি দ্রুতই তাকে বাংলাদেশে নিয়ে আসা হবে। এটি বাংলাদেশ পুলিশের একটি ঐতিহাসিক সাফল্য। এর মাধ্যমে আমরা বিচারহীনতা সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে আসতে সক্ষম হব ইনশাআল্লাহ।”তিনি আরও বলেন, “আমরা জাতিকে আশ্বস্ত করতে চাই যে অপরাধী যত শক্তিশালী হোক না কেন, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়। এটি দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং বাংলাদেশের ইতিহাসে মাইলফলক হয়ে থাকবে।”এদিকে বেনজীর আহমেদের গ্রেপ্তারের খবরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকে এটিকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতির বাস্তবায়ন হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ কেউ আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যেন বিচার প্রক্রিয়া যেন দীর্ঘসূত্রী না হয়।দেশে ফিরিয়ে আনতে এখন আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে সরকার। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে বেনজীরকে বাংলাদেশে হাজির করা সম্ভব হবে বলে ধারণা করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।
৪ ঘন্টা আগে
যুক্তরাষ্ট্রে এফ/এ-১৮ হর্নেট যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত

যুক্তরাষ্ট্রে এফ/এ-১৮ হর্নেট যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যে একটি মার্কিন সামরিক যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয় বনাঞ্চলে আগুন লাগার খবর পাওয়া গেছে। শনিবার (১৩ জুন) এই দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে সংবাদ প্রকাশ করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনার আগে যুদ্ধবিমানের পাইলট সফলভাবে ইজেক্ট (বিমান থেকে বেরিয়ে) করতে সক্ষম হন। তিনি সামান্য আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।ক্যালিফোর্নিয়ার মেরিন কোর এয়ার স্টেশন মিরামার ঘাঁটিতে মোতায়েন থাকা এফ/এ-১৮ হর্নেট যুদ্ধবিমানটি নিয়মিত প্রশিক্ষণ মিশনে অংশ নেওয়ার সময় দুর্ঘটনার শিকার হয়।বিমানটি ওয়াশিংটনের রিমরক লেকের কাছে বিধ্বস্ত হয়। এর ফলে বনাঞ্চলে জরুরি অগ্নিনির্বাপণ অভিযান শুরু করা হয়েছে।মার্কিন সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে এখনো বিধ্বস্তের কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তবে তদন্ত চলছে বলে নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ।প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, প্রচণ্ড বিস্ফোরণের শব্দে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই বিমানটির ধ্বংসাবশেষে আগুন ধরে যায় এবং তা ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের বনাঞ্চলে।পাইলটকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশিত বলে জানা গেছে। এফ/এ-১৮ হর্নেট যুক্তরাষ্ট্রের বহুল ব্যবহৃত যুদ্ধবিমান। এটি সাধারণত বিমানবাহী রণতরী থেকে উড্ডয়ন করে এবং আকাশযুদ্ধ ও স্থল লক্ষ্যবস্তু ধ্বংসে সক্ষম।স্থানীয় ফায়ার সার্ভিস ও বনরক্ষী বাহিনী আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। এখন পর্যন্ত কোনো বাড়িঘরে বা জনবসতিতে ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।ঘটনাটি তদন্ত করছে মার্কিন নৌবাহিনী ও মেরিন কর্পসের যৌথ টিম। সংশ্লিষ্ট এলাকায় সাময়িকভাবে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে।
৪ ঘন্টা আগে
১৫ এপ্রিল ২০২৬, ১২:১১ এএম
আপনি কি মনে করেন বিএনপি জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর ও শব্দ বাস্তবায়ন করবে?

আপনি কি মনে করেন বিএনপি জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর ও শব্দ বাস্তবায়ন করবে?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ জন
ডিজিটাল বিশ্বের বন্দি চোখ: স্ক্রিনের নীরব বিপদ ও সমাধান

ডিজিটাল বিশ্বের বন্দি চোখ: স্ক্রিনের নীরব বিপদ ও সমাধান

আজকের পৃথিবী যেন একটি স্ক্রিনের ভেতর বন্দি। ঘুম থেকে ওঠার পর প্রথমেই মোবাইল, সারাদিন অনলাইন ক্লাস বা কাজ, আর দিনের শেষে বিনোদন সবই যেন স্ক্রিনে সীমাবদ্ধ। প্রযুক্তি আমাদের জীবনকে সহজ করেছে ঠিকই, কিন্তু এর অতি ব্যবহারের ফলে যে নীরব ক্ষতি হচ্ছে, তা আমরা অনেকেই গুরুত্ব দিচ্ছি না।বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘ সময় ধরে মোবাইল বা কম্পিউটারের দিকে তাকিয়ে থাকলে ‘ডিজিটাল আই স্ট্রেইন’ বা কম্পিউটার ভিশন সিনড্রোম দেখা দেয়। এর লক্ষণ হিসেবে চোখে জ্বালাপোড়া, শুষ্কতা, ঝাপসা দেখা, এমনকি মাথাব্যথাও হতে পারে। সমস্যাটি এতটাই সাধারণ হয়ে উঠেছে যে অনেকেই এটিকে আর অসুখ বলে মনে করেন না, বরং দৈনন্দিন জীবনের অংশ হিসেবে মেনে নিচ্ছেন।কেন চোখের ক্ষতি হয়স্ক্রিন ব্যবহারের সময় আমরা স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক কম চোখের পলক ফেলি। ফলে চোখে প্রাকৃতিক আর্দ্রতা কমে যায় এবং ড্রাই আই সমস্যা তৈরি হয়। স্বাভাবিক অবস্থায় আমরা প্রতি মিনিটে ১৫ থেকে ২০ বার চোখের পলক ফেলি, কিন্তু স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকলে তা কমে দাঁড়ায় মাত্র ৫ থেকে ৭ বার।এর পাশাপাশি স্ক্রিন থেকে নির্গত নীল আলো চোখের ক্লান্তি বাড়ায় এবং ঘুমের স্বাভাবিক ছন্দকে ব্যাহত করে। বিশেষ করে রাত জেগে মোবাইল ব্যবহারের অভ্যাস তরুণ প্রজন্মের জন্য দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিকর হয়ে উঠছে। নীল আলো মেলাটোনিন হরমোনের উৎপাদনে বাধা দেয়, ফলে রাতে ঘুম আসতে দেরি হয় এবং ঘুমের মানও খারাপ হয়।শিক্ষার্থীদের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশিশিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। পড়াশোনা, অনলাইন ক্লাস, সামাজিক যোগাযোগ সবকিছুতেই স্ক্রিনের ব্যবহার বেড়েছে। ফলে চোখের বিশ্রাম নেওয়ার সুযোগ কমে গেছে। অনেক শিক্ষার্থী ইতিমধ্যে চোখের সমস্যায় ভুগছে, যা ভবিষ্যতে আরও জটিল রূপ নিতে পারে।করোনা মহামারির পর থেকে অনলাইন শিক্ষার প্রসারের ফলে শিশু-কিশোরদের গড় স্ক্রিন টাইম কয়েকগুণ বেড়েছে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই সমস্যা আরও গুরুতর আকার ধারণ করতে পারে বলে সতর্ক করেছেন চক্ষু বিশেষজ্ঞরা।চোখ বাঁচাতে সহজ অভ্যাসএই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে সচেতনতার বিকল্প নেই। খুব সহজ কিছু অভ্যাস আমাদের চোখকে রক্ষা করতে পারে—২০-২০-২০ নিয়ম: প্রতি ২০ মিনিট পর ২০ সেকেন্ডের জন্য ২০ ফুট দূরে তাকিয়ে থাকুনপরিবেশের আলো ও স্ক্রিনের উজ্জ্বলতা সমান করে নিনঅপ্রয়োজনীয় স্ক্রিন টাইম কমানোর চেষ্টা করুননিয়মিত চোখের যত্ন নিন এবং প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিনস্ক্রিন দেখার সময় চোখের পলক ফেলার অভ্যাস করুনপ্রযুক্তিগত সমাধান আর অভ্যাস的改变বর্তমানে অনেক স্মার্টফোনে ‘আই কম্ফোর্ট’ বা ‘ব্লু লাইট ফিল্টার’ অপশন যুক্ত করা হয়েছে, যা স্ক্রিন থেকে নির্গত ক্ষতিকর নীল আলো কিছুটা কমাতে সাহায্য করে। তবে এটিকে সম্পূর্ণ সমাধান হিসেবে দেখা উচিত নয়। দীর্ঘ সময় স্ক্রিন ব্যবহারের অভ্যাস পরিবর্তন না করলে এই ধরনের ফিচার একা চোখের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পারে না।অনেক কম্পিউটার ও ল্যাপটপে ‘নাইট লাইট’ বা ‘নাইট শিফট’ মোডও থাকে, যা সন্ধ্যার পর স্ক্রিনের আলোকে উষ্ণ আভায় পরিবর্তন করে। এই ফিচারগুলো ব্যবহার করলে চোখের ওপর চাপ কিছুটা কমতে পারে।কখন ডাক্তার দেখাবেনযদি নিচের কোনো সমস্যা দীর্ঘদিন ধরে থাকে, তাহলে দেরি না করে চক্ষু বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি—চোখে ঘন ঘন জ্বালাপোড়া বা ব্যথাঝাপসা দেখা বা ডাবল ভিশনমাথাব্যথা বিশেষ করে সামনের অংশেচোখ শুকিয়ে যাওয়া বা বেশি পানি পড়ারাতে গাড়ি চালাতে বা অন্ধকারে দেখতে কষ্ট হওয়াপ্রযুক্তি আমাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে গেছে, এটা অস্বীকার করার উপায় নেই। তবে প্রযুক্তির ব্যবহার যেন আমাদের স্বাস্থ্যের ক্ষতি না করে, সেদিকে খেয়াল রাখা সবচেয়ে বেশি জরুরি। অন্যথায় এই নীরব বিপদ একসময় বড় সমস্যায় পরিণত হবে, যার প্রভাব পড়বে পুরো প্রজন্মের ওপর।একটু সচেতনতা আর দৈনন্দিন অভ্যাসে কিছু ছোট পরিবর্তন এনে আমরা আমাদের চোখকে স্ক্রিনের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা করতে পারি। প্রযুক্তি ব্যবহার করবেন, কিন্তু প্রযুক্তিকে আপনার নিয়ন্ত্রণ করতে দেবেন না।
১০ জুন ২০২৬
ব্যবসা শুরু করতে সাত দিনে লাইসেন্স, ৪৮ ঘণ্টায় কোম্পানি নিবন্ধন

ব্যবসা শুরু করতে সাত দিনে লাইসেন্স, ৪৮ ঘণ্টায় কোম্পানি নিবন্ধন

বেসরকারি ও বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে এবং ব্যবসা শুরু করার প্রক্রিয়া সহজ করতে লাইসেন্সিং ব্যবস্থা ব্যাপকভাবে সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এতে সংশ্লিষ্ট সব ব্যবসায়ী সেবা সর্বোচ্চ সাত দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করার কথা জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপনকালে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ কথা বলেন।২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতায় বেসরকারি ও বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং ব্যবসা শুরু সহজীকরণ উদ্যোগের অংশ হিসাবে তিনি এ সব কথা বলেন।পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল সিঙ্গেল উইন্ড সেবাঅর্থমন্ত্রী বলেন, বেসরকারি ও বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং ব্যবসা শুরু সহজ করতে লাইসেন্সিং প্রক্রিয়া যৌক্তিকীকরণ করা হবে এবং পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল সিঙ্গেল উইন্ড অনুমোদন ব্যবস্থা চালু করা হবে। এ ব্যবস্থায় আবেদন দাখিল, যাচাই, অনুমোদন, লাইসেন্স, ছাড়পত্র, অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ এবং সংশ্লিষ্ট সেবা একই অনলাইন প্ল্যাটফর্মে সম্পন্ন হবে।পূর্ণাঙ্গ আবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় সেবাসমূহ সর্বোচ্চ সাত দিনের মধ্যে নিষ্পত্তির ব্যবস্থা করা হবে। প্রতিটি অনুমোদন ও লাইসেন্স সেবার জন্য নির্ধারিত সেবা স্তর চুক্তি নির্ধারণ করা হবে।স্বয়ংক্রিয় অনুমোদনের ব্যবস্থানির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট সংস্থা মতামত, না-দাবি, অনাপত্তি বা ছাড়পত্র না দিলে প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে সম্মতি আছে ধরে নিয়ে স্বয়ংক্রিয় অনুমোদন পদ্ধতিতে আবেদন নিষ্পত্তি করা হবে। একই সঙ্গে সেবা প্রদানে মনিটরিং, জবাবদিহি ও কমপ্লায়েন্স নিয়ন্ত্রণ জোরদার করা হবে।ছোট ও নতুন ব্যবসার জন্য অনলাইনভিত্তিক প্রাথমিক অনুমোদন ব্যবস্থা বিবেচনা করা হবে, যাতে উদ্যোক্তারা দ্রুত কার্যক্রম শুরু করতে পারেন এবং ছয় থেকে বারো মাসের মধ্যে প্রয়োজনীয় লাইসেন্স ও প্রতিপালন সম্পন্ন করতে পারেন।৪৮ ঘণ্টায় কোম্পানি নিবন্ধনকোম্পানির নামের ছাড়পত্র নিবন্ধন আবেদন, ফি পরিশোধ ও সনদ প্রদান অনলাইনে সম্পন্ন করে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কোম্পানি নিবন্ধনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমানে এই প্রক্রিয়ায় সপ্তাহ খানেক সময় লেগে যায়।বিদেশি কর্মী ও বিনিয়োগকারীদের জন্য সুবিধাবিদেশি বিশেষজ্ঞ ও দক্ষ জনবলের ওয়ার্ক পারমিট সাত দিনের মধ্যে এবং বিনিয়োগকারী ও প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ভিসা ১০ দিনের মধ্যে দেওয়ার জন্য প্রক্রিয়া সহজ করা হবে।যোগ্য বিনিয়োগকারী ও গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির জন্য পাঁচ বছর মেয়াদি মাল্টিপল এন্ট্রি বিনিয়োগকারী ভিসা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।বিনিয়োগকারীদের জন্য সহায়তা কাঠামোবড় ও কৌশলগত বিদেশি বিনিয়োগ প্রকল্পে অনুমোদন ও বাস্তবায়ন সমন্বয় করতে বিডিএর পাশাপাশি বেজা, বেপজা ও বিসিকেও সহায়তা কর্মকর্তা, সহায়তা দল বা প্রকল্পভিত্তিক কেস ম্যানেজার নিয়োগ করা হবে।বিনিয়োগকারীর প্রশ্ন, অভিযোগ ও সমস্যা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য সার্বক্ষণিক হেল্প ডেস্ক এবং অভিযোগ নিষ্পত্তি ব্যবস্থা চালু করা হবে। খুদে বার্তা, ই-মেইল, হেল্প নম্বর ও অনলাইন ব্যবস্থায় আবেদনের অগ্রগতি জানানো হবে।আন্তর্জাতিক চুক্তি জোরদারবিনিয়োগকারীর আইনি সুরক্ষা ও আন্তর্জাতিক আস্থা বাড়াতে দ্বিপাক্ষিক বিনিয়োগ চুক্তি সম্প্রসারণ এবং দ্বৈত কর পরিহার চুক্তি হালনাগাদ ও কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা হবে। বিদ্যমান চুক্তিসমূহের কার্যকারিতা ও বাস্তবায়ন অগ্রগতি নিয়মিতভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে।স্থানীয় পর্যায়েও ডিজিটালাইজেশনস্থানীয় পর্যায়ের ব্যবসায়িক অনুমোদন সহজ করতে সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভার ট্রেড লাইসেন্স সেবা ধাপে ধাপে বিনিয়োগসেবা ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করা হবে। আবেদন, ফি পরিশোধ, নবায়ন, লাইসেন্স প্রদান ও অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ অনলাইনে করা হবে, যাতে স্থানীয় অফিসে বারবার যাওয়া ও নবায়নজনিত বিলম্ব কমে।প্লাগ অ্যান্ড প্লে সুবিধা প্যাকেজনির্ধারিত শিল্পাঞ্চল ও অর্থনৈতিক অঞ্চলে প্লাগ অ্যান্ড প্লে শিল্প-সুবিধা প্যাকেজ চালু করা হবে। এর আওতায় জমি, অবকাঠামো, বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি, সড়ক সংযোগ ও প্রাথমিক অনুমোদন আগেই সমন্বিতভাবে প্রস্তুত রাখা হবে, যাতে উদ্যোক্তারা দ্রুত কারখানা স্থাপন ও উৎপাদন শুরু করতে পারেন।দ্রুত নিরাপত্তা ছাড়পত্রবিদেশি কর্মীর নিরাপত্তা ছাড়পত্রের আবেদন ও যাচাই প্রক্রিয়াও পৃথকভাবে অনলাইনভিত্তিক ও নির্ধারিত সময়সীমার আওতায় আনা হবে, যাতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা যাচাই বজায় রেখেই অপ্রয়োজনীয় বিলম্ব কমে। অর্থমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, এই সংস্কার উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশে বিনিয়োগের পরিবেশ উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হবে এবং ব্যবসা শুরু করতে উদ্যোক্তাদের আর দীর্ঘদিন অপেক্ষা করতে হবে না।
০৭ এপ্রিল ২০২৬
বাজেটে ১০ হাজার টাকা ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্মানীর প্রস্তাব

বাজেটে ১০ হাজার টাকা ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্মানীর প্রস্তাব

০৭ এপ্রিল ২০২৬
লাইকা ক্যামেরা ও এআই প্রযুক্তির নতুন ফ্ল্যাগশিপ শাওমি ১৭টি উন্মোচন

লাইকা ক্যামেরা ও এআই প্রযুক্তির নতুন ফ্ল্যাগশিপ শাওমি ১৭টি উন্মোচন

দেশের বাজারে নতুন ফ্ল্যাগশিপ স্মার্টফোন ‘শাওমি ১৭টি’ উন্মোচন করেছে প্রযুক্তিপণ্য নির্মাতা শাওমি। লাইকা ইমেজিং প্রযুক্তিসমৃদ্ধ ট্রিপল ক্যামেরা, শক্তিশালী ব্যাটারি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) বিভিন্ন ফিচার নিয়ে আসা হয়েছে নতুন এই ডিভাইসটি।মঙ্গলবার রাজধানীতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ‘দ্য মোমেন্ট বিয়ন্ড সাইট’ প্রতিপাদ্যে স্মার্টফোনটি উন্মোচন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রযুক্তি সাংবাদিক, টেক রিভিউয়ার, আলোকচিত্রী এবং শাওমির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।ক্যামেরা সিস্টেমে কি বিশেষত্ব আছে?নতুন এই স্মার্টফোনের অন্যতম আকর্ষণ লাইকা-পাওয়ারড ট্রিপল ক্যামেরা সিস্টেম। এতে রয়েছে—৫০ মেগাপিক্সেলের প্রধান ক্যামেরা (লাইকা সামিলুক্স অপটিক্যাল লেন্সযুক্ত)৫০ মেগাপিক্সেলের লাইকা ৫এক্স টেলিফটো ক্যামেরা (১২০ গুণ পর্যন্ত এআই আল্ট্রা জুম সমর্থিত)লাইভ মোমেন্ট ও স্টেজ মোড সুবিধা (সৃজনশীল ছবি ও ভিডিও ধারণের জন্য)ডিসপ্লে ও ব্যাটারিডিভাইসটিতে ৬ দশমিক ৫৯ ইঞ্চির ১.৫কে অ্যামোলেড ডিসপ্লে ব্যবহার করা হয়েছে। এটি ১২০ হার্টজ পর্যন্ত রিফ্রেশ রেট সমর্থন করে। ৩ হাজার ৫০০ নিটস পিক ব্রাইটনেসের কারণে উজ্জ্বল আলোতেও পর্দার কনটেন্ট স্পষ্ট দেখা যাবে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।চোখের সুরক্ষার জন্য এতে টিইউভি রাইনল্যান্ড সনদপ্রাপ্ত আই কমফোর্ট প্রযুক্তি রয়েছে।ফোনটিতে ৬ হাজার ৫০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার ঘণ্টার সিলিকন-কার্বন ব্যাটারি ব্যবহার করা হয়েছে। শাওমির দাবি, একবার পূর্ণ চার্জে এটি প্রায় দেড় দিনের বেশি সময় ব্যাকআপ দিতে সক্ষম। পাশাপাশি আইপি৬৮ রেটিংয়ের ডাস্ট ও ওয়াটার রেজিস্ট্যান্স সুবিধাও রয়েছে।পারফরম্যান্স ও এআই সুবিধাপারফরম্যান্সের জন্য স্মার্টফোনটিতে—মিডিয়াটেক ডাইমেনসিটি ৮৫০০-আল্ট্রা প্রসেসরশাওমি হাইপারওএস ব্যবহার করা হয়েছেএ ছাড়া শাওমি হাইপারএআই, গুগল জেমিনি ইন্টিগ্রেশন এবং ‘সার্কেল টু সার্চ’-এর মতো এআই সুবিধাও যুক্ত করা হয়েছে।দাম ও বিক্রির তারিখশাওমি ১৭টি স্মার্টফোনটি ১২ জিবি র‍্যাম ও ২৫৬ জিবি স্টোরেজ সংস্করণে পাওয়া যাবে। দাম রাখা হয়েছে ৭৯ হাজার ৯৯৯ টাকা।যে সব কালারে পাওয়া যাচ্ছে —ভায়োলেটওপাল হোয়াইটব্ল্যাকআগামী ১১ জুন থেকে দেশের সব অনুমোদিত শাওমি স্টোরে এটি বিক্রি শুরু হবে।শাওমি বাংলাদেশের কান্ট্রি জেনারেল ম্যানেজার জিয়াউদ্দিন চৌধুরী বলেন, দেশের বাজারে শাওমির এই ফ্ল্যাগশিপ ডিভাইস আনতে পেরে তারা আনন্দিত। ব্যবহারকারীদের জন্য বিশ্বমানের ফটোগ্রাফি প্রযুক্তি এবং প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।টেক বিশ্লেষকদের মতে, লাইকা ক্যামেরা ও শক্তিশালী ব্যাটারি এই ফোনটিকে বাজারের অন্যান্য ফ্ল্যাগশিপের কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বী করে তুলবে। তবে ৮০ হাজার টাকার ঘরে বাংলাদেশি বাজারে এটি কতটা সাড়া পায়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
২২ ঘন্টা আগে
নাগরিকত্বের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সন্তান জন্ম দেওয়া ভিসা শর্তের পরিপন্থি: মার্কিন দূতাবাস

নাগরিকত্বের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সন্তান জন্ম দেওয়া ভিসা শর্তের পরিপন্থি: মার্কিন দূতাবাস

ক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পাওয়ার উদ্দেশ্যে দেশটিতে গিয়ে সন্তান জন্ম দেওয়া এখন থেকে ভিসার শর্তের পরিপন্থি হিসেবে গণ্য হবে। এমন উদ্দেশ্যে কেউ ভিসা আবেদন করলে তা সরাসরি বাতিল করা হবে বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে মার্কিন দূতাবাস।বুধবার সকালে দূতাবাসের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বিশেষ সতর্কবার্তায় এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।কী বলছে দূতাবাসের সতর্কবার্তাদূতাবাসের পোস্টে উল্লেখ করা হয়, কোনো ব্যক্তি যদি মূলত সন্তানের মার্কিন নাগরিকত্ব নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের পরিকল্পনা করেন, তবে তা দেশটির বর্তমান ভিসা নীতিমালার পরিপন্থি।কনস্যুলার কর্মকর্তারা যদি সাক্ষাৎকার বা তদন্তের মাধ্যমে বুঝতে পারেন যে আবেদনকারীর মূল লক্ষ্য সন্তান জন্ম দিয়ে নাগরিকত্ব অর্জন, তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ট্যুরিস্ট ভিসা আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হবে।সতর্কবার্তায় আরও বলা হয়, এ ধরনের কার্যক্রম মার্কিন ভিসা নীতিমালার গুরুতর লঙ্ঘন। তাই আবেদনকারীদের শুধু প্রকৃত এবং সঠিক উদ্দেশ্য উল্লেখ করে আবেদন করার আহ্বান জানিয়েছে দূতাবাস।কঠোর সতর্কতাভিসা পাওয়ার জন্য ভুল তথ্য প্রদান বা ভিসার শর্ত ভঙ্গ করলে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের ক্ষেত্রে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা বা নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলেও সতর্কবার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে।অর্থাৎ, কেউ যদি এ উদ্দেশ্যে ভিসা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সন্তান জন্ম দেন এবং তা প্রমাণিত হয়, তাহলে পরবর্তীতে তার যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়া পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যেতে পারে।যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে জন্ম নিলে সন্তান স্বয়ংক্রিয়ভাবে সে দেশের নাগরিক হয় – এই সুযোগ কাজে লাগাতে অনেকেই আগে ট্যুরিস্ট ভিসায় গিয়ে সন্তান প্রসব করতেন। এখন থেকে সেই পথ কার্যকরীভাবে বন্ধ করে দিলো মার্কিন দূতাবাস। শুধু ভিসা বাতিল নয়, ভবিষ্যতেও যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞার হুঁশিয়ারি দেওয়ায় এই সিদ্ধান্তকে ‘চরম কঠোর’ বলছেন অভিবাসন বিশ্লেষকরা। ফলে আবেদনকারীদের এখন ভিসা আবেদনের আগে তিনবার ভাবতে হবে।
০৭ এপ্রিল ২০২৬
ইংরেজ আদালতে সিংহনাদ আর আপসহীন সংগ্রাম: শায়খুল ইসলাম হুসাইন আহমদ মাদানির গল্প

ইংরেজ আদালতে সিংহনাদ আর আপসহীন সংগ্রাম: শায়খুল ইসলাম হুসাইন আহমদ মাদানির গল্প

ভূমিকা: সেই দিনটির কথাভারত স্বাধীন হওয়ার অনেক আগের কথা। এক সিংহপুরুষ দাঁড়িয়ে আছেন ইংরেজ আদালতে। নাম তাঁর সৈয়দ হুসাইন আহমদ মাদানি। মামলা চলছে তাঁর বিরুদ্ধে। আদালত চত্বরে অসংখ্য লোক। সবাইকে থ করে দিয়ে ওই ব্যক্তির কণ্ঠ থেকে বেরিয়ে এল সিংহনাদ—"ইংরেজের সৈন্য বাহিনীতে যোগ দেওয়া মুসলমানদের জন্য হারাম।" জোর দিয়ে তিনি তিনবার এই বাক্য ঘোষণা করলেন।পাশে দাঁড়িয়ে থাকা আরেকজন মাওলানা হাত জোড় করে বললেন, "মহাশয়, আপনার উক্তি উঠিয়ে নিন, আপনি কী বললেন?" কিন্তু মাদানির কথা তো ধনুক থেকে বেরোনো তীরের মতো। যা বলেছেন, তা তো হবেই। কোনো অবস্থায় নড়চড় হবে না।ইংরেজ অফিসাররা প্রচণ্ড রেগে ওঠে। প্রধান অফিসার বললেন, "হোসাইন আহমদ, তুমি কি জানো, এই ঔদ্ধত্যের শাস্তি কী হতে পারে?" মাদানি জবাব দিলেন, "তোমরাই ঠিক করে নাও।" অফিসার বললেন, "এই অপরাধের কমসে কম শাস্তি মৃত্যুদণ্ড।"মাদানি নিজের কাঁধে থাকা সাদা চাদর দেখিয়ে বললেন, "হোসাইন আহমদ মাদানি যখন দেওবন্দ থেকে রওয়ানা হয়েছে, তখন মৃত্যু পরবর্তী শেষকৃত্যের জন্য কাফন নিয়েই বেরিয়েছে। হোসাইন এসব ধমকিতে ভয় করে না। আমি যা বলেছি, আবার বলছি—তোমাদের সেনায় যোগ দেওয়া আমাদের জন্য হারাম।"ইতিহাসের সেই ঘটনা আজও আমাদের মনে করিয়ে দেয়—স্বাধীনতা এমনিতেই আসেনি। এর পেছনে আছে রক্ত, ঘাম আর অসীম সাহস। সেই বীরদের একজন হলেন হুসাইন আহমদ মাদানি। যাঁকে পরবর্তীকালে ‘শায়খুল ইসলাম’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়।প্রারম্ভিক জীবন ও বংশহুসাইন আহমদ মাদানি ১৮৭৯ সালের ৬ অক্টোবর (১২৯৬ হিজরির ১৯ শাওয়াল) ভারতের উত্তরপ্রদেশের উন্নাও জেলার বাঙ্গারমৌ মৌজায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম সৈয়দ হাবিবুল্লাহ এবং মাতার নাম নুরুন্নিসা। বংশগতভাবে পিতা ও মাতা উভয়ের দিক থেকেই তিনি ছিলেন নবী মুহাম্মদ (স.)-এর বংশধর। হোসাইন ইবনে আলী ছিলেন তাঁর ৩৩তম পূর্বপুরুষ।ছোটবেলায় মায়ের কাছে কুরআনের প্রথম পাঁচ পারা পড়েন। পরে পিতার কাছে ধর্মীয় ও সাধারণ শিক্ষা লাভ করেন। কিন্তু স্কুলের পড়াশোনা তাঁর পছন্দ ছিল না। তাই ১৮৯২ সালে তাকে দারুল উলুম দেওবন্দে ভর্তি করে দেওয়া হয়।দেওবন্দে শিক্ষাজীবনদেওবন্দে ভর্তির সময় প্রধান অধ্যাপক ছিলেন মাহমুদ হাসান দেওবন্দি। তিনিই মাদানির শিক্ষার মূল ভিত্তি গড়ে দেন। মাদানি সাড়ে ছয় বছরে ১৭টি বিষয়ের ৬৭টি কিতাব অধ্যয়ন করেন। এর মধ্যে ২৪টি কিতাব এককভাবে দেওবন্দির কাছে পড়েন।শিক্ষাজীবনে তিনি যুক্তিবিদ্যা ও দর্শনের প্রতি বেশি আগ্রহী ছিলেন। পরে হাদিস ও আরবি সাহিত্যের প্রতি অনুরাগী হন। ১৮৯৮ সালে তাঁর প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা সমাপ্ত হয়। তখন তাঁর বয়স ছিল মাত্র ১৯ বছর।মদিনা গমন ও মসজিদে নববীতে শিক্ষকতাশিক্ষা শেষে পিতামাতার সঙ্গে তিনি মদিনা চলে যান। সেখানে গিয়ে মসজিদে নববীতে বিনা বেতনে শিক্ষকতা শুরু করেন। জীবিকা নির্বাহের জন্য ছোট একটি দোকানও খোলেন। কিন্তু বেশি দিন টিকল না। পরে খেজুরের ব্যবসা ও গ্রন্থ নকলের কাজ করেন।মদিনায় তাঁর খ্যাতি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। তিনি ‘শায়খুল হারাম’ নামে পরিচিত হন। মসজিদে নববীতে তাঁর ক্লাসে উপস্থিত থাকতেন মদিনার ওলামা, কাজী, মুফতি এমনকি সরকারি কর্মকর্তারাও। তিনি মালিকি ও শাফিঈ ফিকহের কিতাবগুলোও আয়ত্ত করেন, কারণ মদিনায় এগুলোর প্রচলন ছিল।তাসাউফ ও আধ্যাত্মিকতা১৮৯৮ সালে রশিদ আহমদ গাঙ্গুহির কাছে তিনি বায়আত গ্রহণ করেন। গাঙ্গুহির নির্দেশে পরবর্তীতে ইমদাদুল্লাহ মুহাজিরে মক্কির কাছে তাসাউফের শিক্ষা নেন। মাত্র ২২ বছর বয়সে গাঙ্গুহি তাকে খেলাফত দান করেন।মাদানি চারটি তরিকার ইজাযতপ্রাপ্ত ছিলেন। তিনি চিশতিয়া, নকশবন্দিয়া, কাদেরিয়া ও সোহরাওয়ার্দিয়া তরিকায় দীক্ষা দিতেন। তাঁর কাছে লক্ষাধিক মুরিদ ছিল, যার মধ্যে ১৬৭ জনকে তিনি নিজের খলিফা মনোনীত করেছিলেন।তাসাউফ সম্পর্কে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি ছিল স্পষ্ট—তিনি শিরক ও বিদআতের ঘোর বিরোধী ছিলেন। আহমদ রেজা খান যখন আরব দেশে গিয়ে বিদআতের সমর্থনে ফতোয়া সংগ্রহ করতে চান, মাদানি তাকে মদিনা থেকে বহিষ্কারের ব্যবস্থা করেন।প্রথম কারাবরণ ও মাল্টা নির্বাসন১৯১৫ সালে মাহমুদ হাসান দেওবন্দি মদিনায় এলে মাদানি তাঁর সংস্পর্শে আসেন এবং স্বাধীনতা আন্দোলনে যোগ দেন। ১৯১৬ সালে মক্কার বিদ্রোহী গভর্নর শরিফ হুসাইনের নির্দেশে মাদানি ও দেওবন্দিকে গ্রেফতার করে মাল্টায় নির্বাসিত করা হয়। মাদানি স্বেচ্ছায় দেওবন্দির সঙ্গে কারাবরণ করেন।মাল্টায় প্রায় ৪ বছর বন্দি থাকার সময় তিনি কুরআন হেফজ সম্পন্ন করেন। এখানে তিনি তুর্কি ভাষাও আয়ত্ত করেন। জেলের ভেতর অন্ধকার প্রকোষ্ঠে থাকলেও তিনি ইসলামি বিধান নিয়ে আপস করেননি। জেল কর্তৃপক্ষকে বাধ্য করে মুসলিম কয়েদিদের জন্য আলাদা খাবারের ব্যবস্থা করতে হয়েছিল।ভারতে প্রত্যাবর্তন ও রাজনীতিতে সক্রিয় অংশগ্রহণ১৯২০ সালে মুক্তি পেয়ে তিনি ভারতে ফিরে আসেন। মদিনায় ফিরে যাওয়ার ইচ্ছা থাকলেও মাহমুদ হাসান দেওবন্দি তাকে ভারতে থাকার পরামর্শ দেন। দেওবন্দির মৃত্যুর পর তিনি ‘জানাশীনে শায়খুল হিন্দ’ উপাধি লাভ করেন।তিনি কংগ্রেস ও খেলাফত আন্দোলনে যোগ দেন। ১৯২১ সালে করাচিতে অনুষ্ঠিত খেলাফত সম্মেলনে তিনি ইংরেজ সেনাবাহিনীতে চাকরি করা হারাম ঘোষণা করেন। এই ফতোয়া মুদ্রিত হয়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করলে তাকে ২ বছরের জন্য কারাদণ্ড দেওয়া হয়।সিলেটে আগমন ও শিক্ষা বিস্তার১৯২৩ সালে মুক্তি পেয়ে তিনি সিলেটে আসেন। এখানকার ইসলামি শিক্ষাব্যবস্থার মানোন্নয়নে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। স্থানীয়দের অনুরোধে তিনি তিন বছর সিলেটে অবস্থান করেন এবং সিহাহ সিত্তাহর পাঠদান শুরু করেন।সিলেটেই তিনি তাসাউফের বেশিরভাগ কাজ সম্পাদন করেন। প্রতি রমজানে সিলেটে এসে ইতিকাফ করতেন। তাঁর উদ্যোগে সিলেট ও আসাম অঞ্চলে অসংখ্য মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠিত হয়। আজও সে অঞ্চলে তাঁর অবদান স্মরণীয় হয়ে আছে।দেওবন্দে সদরুল মুদাররিস১৯২৮ সালে তিনি দারুল উলুম দেওবন্দের প্রধান অধ্যাপক (সদরুল মুদাররিস) পদে যোগ দেন। এখানে ৩১ বছর তিনি হাদিসের অধ্যাপনা করেন। তাঁর অধ্যাপনায় দারুল উলুমের খ্যাতি বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে। আফ্রিকা ও ইউরোপ থেকেও ছাত্ররা আসতেন।তিনি পাঠ্যক্রম সংস্কার করেন। তাফসিরের কিতাব, ইতিহাস, ভূগোল, রাষ্ট্রদর্শন এবং এমনকি ইংরেজি ভাষার অধ্যয়ন চালু করেন। শরীরচর্চার জন্যও বিভাগ খোলেন। ছাত্রদের কেরাআত শিক্ষার দিকেও বিশেষ গুরুত্ব দেন।ইকবাল-মাদানি বিতর্ক১৯৩৮ সালে এক ভাষণে মাদানি বলেন, বর্তমানে জাতীয়তা নির্ধারিত হয় ভূখণ্ডের ভিত্তিতে, ধর্মের ভিত্তিতে নয়। সংবাদপত্রে এটি বিকৃতভাবে ছাপা হলে কবি মুহাম্মদ ইকবাল মাদানিকে বিদ্রুপ করে একটি কবিতা লেখেন। এ নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়। মৃত্যুর আগে ইকবাল মাদানির কাছে ক্ষমা চেয়ে পাঠিয়েছিলেন বলে জানা যায়।ভারত বিভক্তি ও মাদানির ভূমিকামাদানি দ্বিজাতি তত্ত্ব ও ভারত বিভক্তির বিরোধী ছিলেন। তিনি ‘সম্মিলিত জাতীয়তাবাদ’ ও ‘মাদানি ফর্মুলা’ উপস্থাপন করেন, যেখানে সুবাগুলোর স্বায়ত্তশাসন ও সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তার কথা বলা হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ভারত বিভক্ত হয়।বিভক্তির পর তিনি ভারতে থাকা মুসলমানদের অভিভাবকের দায়িত্ব নেন। তাদের ধৈর্য ধারণের উপদেশ দেন এবং সরকারের কাছে তাদের অধিকার আদায়ে কাজ করেন। তিনি দখল হওয়া মসজিদ, মাদ্রাসা ও সম্পত্তি উদ্ধারের চেষ্টা করেন।রচনাবলি ও সাহিত্যকর্মমাদানি একজন লেখক হিসেবেও সমাদৃত। তাঁর রচনার মধ্যে রয়েছে:নকশে হায়াত (আত্মজীবনী)মুত্তাহিদায়ে কাওমিয়াত আওর ইসলাম (সম্মিলিত জাতীয়তাবাদ ও ইসলাম)আশ শিহাবুস সাকিব (বেরলভি মতবাদের সমালোচনা)এছাড়া তাঁর অসংখ্য চিঠি ও বক্তৃতা ‘মাকতুবাতে শায়খুল ইসলাম’ নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়েছে।শেষ জীবন ও মৃত্যু১৯৫৫ সালে তিনি শেষ হজ সম্পন্ন করেন। ১৯৫৭ সালের ৫ ডিসেম্বর দারুল উলুম দেওবন্দে তিনি ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮১ বছর। ভারত সরকার রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তার জানাজা সম্পন্ন করে। প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরুও এতে অংশ নেন।তাকে মাজারে কাসেমিতে মাহমুদ হাসান দেওবন্দির পাশে সমাহিত করা হয়।সম্মাননা ও উত্তরাধিকার১৯৫৪ সালে ভারত সরকার তাকে পদ্মভূষণ পুরস্কারে ভূষিত করে। ২০১২ সালে ভারতীয় ডাক বিভাগ তার সম্মানে একটি স্মারক ডাকটিকিট প্রকাশ করে। সিলেটে তার স্মৃতি বিজড়িত স্থানে নির্মিত হয়েছে ‘মাদানি চত্বর’। দেওবন্দে তার নামে সড়ক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে।উপসংহারহুসাইন আহমদ মাদানি শুধু একজন ইসলামি পণ্ডিত ছিলেন না; তিনি ছিলেন একাধারে স্বাধীনতা সংগ্রামী, শিক্ষাবিদ, সুফি, লেখক ও অকুতোভয় নেতা। ইংরেজ আদালতে কাফন কাঁধে নিয়ে তিনি দেখিয়ে গেছেন— সত্যের পথে কথা বলার জন্য মৃত্যুও বড় বাধা নয়। আজকের প্রজন্ম যদি ইতিহাসের লুক্কায়িত পাতা থেকে তাঁদের বীরত্বের গল্প জানে, তাহলে সেই রক্ত শিরায় শিরায় বইবে আর দেশমাতৃকার প্রতি ভালোবাসা আরও গভীর হবে।
ফিরোজ আল মামুন