ঢাকা    বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬
ঢাকা    বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬
গণবার্তা
সর্বশেষ

ফ্রান্স জাতীয় দলের নতুন কোচ জিনেদিন জিদান

ফ্রান্স জাতীয় দলের নতুন কোচ হিসেবে জিনেদিন জিদানের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়েছে। ফ্রান্স ফুটবল ফেডারেশন জানিয়েছে, ২০৩০ সাল পর্যন্ত দলটির দায়িত্বে থাকবেন বিশ্বকাপজয়ী এই সাবেক তারকা ফুটবলার। এর আগে দিদিয়ের দেশমের বিদায়ের পর জিদানকে পরবর্তী কোচ হিসেবে আভাস দিয়েছিল দেশটির গণমাধ্যম।১৯৯৮ সালে ফ্রান্সের হয়ে খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপ জিতেছিলেন জিদান। এরপর রিয়াল মাদ্রিদের দায়িত্বে টানা তিনটি চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতেছেন কোচ হিসেবে। ২০২১ সালে দ্বিতীয় মেয়াদে রিয়ালের দায়িত্ব ছাড়ার পর ডাগআউটের বাইরে ছিলেন। এবার দায়িত্ব নিচ্ছেন ফ্রান্স জাতীয় দলের, ২০২৬ বিশ্বকাপে যারা স্পেনের কাছে হেরে বিদায় নিয়েছে সেমিফাইনাল থেকে।দায়িত্ব নেওয়ার পর ৫৪ বছর বয়সী জিদান বলেছেন, ফ্রান্স জাতীয় দলের কোচের দায়িত্ব নেওয়া তার জন্য যেমন বড় সম্মানের, তেমনি এটি একটি বড় দায়িত্বও। তিনি ফ্রান্স ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি, নির্বাহী কমিটি ও সংশ্লিষ্টদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে জানান, জাতীয় দলকে নিয়ে তার রয়েছে বড় ধরনের উচ্চাকাঙ্ক্ষা। জিদান বলেছেন, রিয়ালের দায়িত্ব ছাড়ার পর কোচ হিসেবে আরও বেশ কিছু প্রস্তাব পাওয়ার পরও সেগুলো ফিরিয়ে দিয়েছেন।২৫ সেপ্টেম্বর নেশন্স লিগে তুরস্কের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হতে পারে জিদানের ফ্রান্স অধ্যায়। জিদানের অধীনে ফ্রান্স দল আগামী বছরগুলোর বড় আসরগুলোর জন্য নতুন কৌশল ও পরিকল্পনা নিয়ে প্রস্তুতি নেবে। ফ্রান্সের সমর্থকরা জিদানের নেতৃত্বে নতুন স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন। ফুটবল বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, জিদানের অভিজ্ঞতা ও দার্শনিক দৃষ্টিভঙ্গি ফ্রান্স দলকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে।
১০ ঘন্টা আগে

বঙ্গভবনে প্রবেশ করে আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু করলেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ

দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো বঙ্গভবনে প্রবেশ করেছেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকাল ১১টার দিকে তিনি বঙ্গভবনে পৌঁছে আনুষ্ঠানিক দাপ্তরিক কার্যক্রম শুরু করেন।বঙ্গভবনে পৌঁছালে পুলিশের একটি অশ্বারোহী দল তাকে স্বাগত জানায়। পরে প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট (পিজিআর) রাষ্ট্রীয় প্রটোকল অনুযায়ী তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করে। গার্ড অব অনার গ্রহণ শেষে তিনি নিজের কার্যালয়ে যান এবং বঙ্গভবনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরিচিত হন। এই সময় রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব ও জনবিভাগ সচিব বঙ্গভবনের বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পর্কে তাকে অবহিত করেন।এরপর ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি বঙ্গভবনের বিভিন্ন স্থাপনা ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকা পরিদর্শন করেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই হাফিজ উদ্দিন আহমদের প্রথম আনুষ্ঠানিক কর্মদিবস। বঙ্গভবনে দাপ্তরিক কার্যক্রম শুরুর মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে তার আনুষ্ঠানিক কর্মযাত্রার সূচনা হলো।এর আগে গত ২৪ জুলাই রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করলে সংবিধান অনুযায়ী জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর গত রোববার সকালে তিনি সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। এই সময় তিনি স্মৃতিসৌধের পরিদর্শন বইয়ে মন্তব্য লিখে স্বাক্ষর করেন। অনুষ্ঠানে সশস্ত্র বাহিনীর প্রধানসহ ঊর্ধ্বতন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।পরে রাজধানীতে ফিরে তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। হাফিজ উদ্দিন আহমদ ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের বীর বিক্রম খেতাবপ্রাপ্ত একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং বর্তমানে তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন।
১১ ঘন্টা আগে

নবম পে-স্কেল: আইএমএফের পরামর্শে আপাতত পেছাচ্ছে সরকার

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গে নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আগামী অক্টোবরে আলোচনা শেষ হওয়ার আগে সরকারি চাকরিজীবীদের নবম জাতীয় পে-স্কেল ঘোষণা করছে না সরকার। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত অনেকটাই নির্ভর করবে আইএমএফের সম্মতির ওপর।রাজস্ব ঘাটতি ও দুর্বল রাজস্ব আহরণের কথা উল্লেখ করে আইএমএফ সরকারকে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন অন্তত দুই বছর পিছিয়ে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে সরকারও বিষয়টি নিয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে।রোববার (২৬ জুলাই) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে রাজস্ব আদায়, সরকারি ব্যয়, প্রস্তাবিত পে-স্কেলের আর্থিক প্রভাব এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন। বৈঠকে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের সম্ভাব্য অতিরিক্ত ব্যয়ের বিষয়টি তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রী এ প্রস্তাব আরও বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনার নির্দেশ দেন এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানির মূল্য, গ্যাস সরবরাহ ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক ঝুঁকির বিষয়টি বিবেচনায় রাখতে বলেন।সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, আগামী ১২ থেকে ১৮ অক্টোবর ব্যাংককে বিশ্বব্যাংক-আইএমএফের বার্ষিক সভার ফাঁকে চূড়ান্ত আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। ওই আলোচনায় অনুন্নয়ন খাতের স্থায়ী ব্যয়, বিশেষ করে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বৃদ্ধির বিষয়ে আইএমএফ যে অবস্থান নেবে, সেটিই নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হবে।অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, চলতি মাসে বাংলাদেশ সফরকারী আইএমএফ প্রতিনিধিদলের সঙ্গে অর্থ বিভাগের বৈঠকে বেতন ও ভাতা বাজেটিং নিয়ে আলোচনা হয়। সেখানে আইএমএফ জানায়, বর্তমান রাজস্ব ভিত্তি সরকারি চাকরিজীবীদের বেতনে বড় ধরনের বৃদ্ধি বহন করার মতো শক্তিশালী নয়। পাশাপাশি ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে সরকারি ব্যয় বাড়লেও রাজস্ব প্রবৃদ্ধি সে তুলনায় পিছিয়ে রয়েছে। ফলে উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও সীমিত আর্থিক সক্ষমতার মধ্যে নতুন পে-স্কেল চালু করলে অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি হতে পারে।তবে সরকার নতুন পে-স্কেলের পরিকল্পনা থেকে সরে আসেনি। মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বাধীন ১০ সদস্যের উচ্চপর্যায়ের কমিটি জাতীয় বেতন কমিশন-২০২৫, বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পে কমিশন-২০২৫ এবং সশস্ত্র বাহিনী বেতন কমিটি-২০২৫-এর সুপারিশ পর্যালোচনা করে একটি সংশোধিত কাঠামো প্রস্তুত করেছে। প্রস্তাবটি অর্থ মন্ত্রণালয় এবং প্রধানমন্ত্রীর কাছে জমা দেওয়া হয়েছে।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানান, আর্থিক চাপ কমাতে সরকার ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন অথবা বিকল্প পদ্ধতির বিষয়টি বিবেচনা করছে। অক্টোবরে আইএমএফের বৈঠকের আগেই এ বিষয়ে কৌশল চূড়ান্ত হতে পারে।উল্লেখ্য, জাতীয় বেতন কমিশন-২০২৫ সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করেছে। পাশাপাশি বৈশাখী ভাতা ২০ শতাংশ থেকে ৫০ শতাংশে উন্নীত করা, যাতায়াত ভাতা সংশোধন এবং অন্যান্য ভাতা পুনর্বিন্যাসের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।কমিশনের হিসাব অনুযায়ী, এসব সুপারিশ বাস্তবায়নে বছরে অতিরিক্ত ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হবে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে এ উদ্দেশ্যে জনপ্রশাসন খাতে অতিরিক্ত ৫৪ হাজার ৫৭২ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকা সম্ভাব্য নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের জন্য সংরক্ষিত।অর্থনীতিবিদদের মতে, ২০১৫ সালের পর সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন পুনর্নির্ধারণ না হওয়ায় উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে তাদের ক্রয়ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। তবে তারা সতর্ক করে বলেছেন, রাজস্ব আহরণ শক্তিশালী না করে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন করলে সরকারকে আরও বেশি ঋণের ওপর নির্ভর করতে হতে পারে, যা বাজেট ঘাটতি ও সামগ্রিক অর্থনীতির ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করবে।
১১ ঘন্টা আগে
টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক: তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠনের নির্দেশ হাইকোর্টের

টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক: তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠনের নির্দেশ হাইকোর্টের

বাংলাদেশের বাজারে ৩৪টি টুথপেস্টের মধ্যে ২৬টিতে ‘ক্ষতিকর’ মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়ার ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। এই কমিটিকে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী ও বিচারপতি মো. জিয়াউল হকের হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হাইকোর্টে রিটকারী আইনজীবী মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন।এর আগে গত রোববার দেশের বাজারে বিক্রি হওয়া ১৯ ব্র্যান্ডের ৩৪টি টুথপেস্ট নিয়ে গবেষণা প্রতিবেদন তুলে ধরা হয়। ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত দেশব্যাপী একটি সমন্বিত গবেষণা পরিচালনা করে এই সংস্থা। এই গবেষণায় বলা হয়, গবেষণায় পরীক্ষা করা ৩৪টি টুথপেস্টের মধ্যে ২৬টিতে মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে। বাকি ৮টিতে কোনো মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া যায়নি।পরে এ নিয়ে বিষয়টি নিয়ে তদন্তের দাবি জানিয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মামুন। পরে মঙ্গলবার আদালত শুনানি শেষে ২৬টি টুথপেস্টে ‘ক্ষতিকর’ মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়ার ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনের নির্দেশ দেয়।রিটকারী আইনজীবী মামুন বলেন, 'শুধু ২৬টি না, বাজারে যতগুলো টুথপেস্ট আছে সবগুলো নিয়ে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। এই কমিটিতে সরকারি প্রতিষ্ঠান বিএসটিআই, সায়েন্স ল্যাবরেটরি ও বুয়েটের একজন প্রতিনিধিকে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।'আদালতের এই নির্দেশনার পর ভোক্তা অধিকার সংগঠনগুলো স্বস্তি প্রকাশ করেছে। তারা বলেছেন, দীর্ঘদিন ধরে টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও এবার তা তদন্তের আওতায় এলো। কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। সূত্র: বিবিসি বাংলা
১০ ঘন্টা আগে
বিজিবির অভিযানে দুই মাসে ২৫টি পুশইন চেষ্টা প্রতিহত

বিজিবির অভিযানে দুই মাসে ২৫টি পুশইন চেষ্টা প্রতিহত

সরাইল রিজিয়নের প্রায় ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার সীমান্তে গত দুই মাসে অন্তত ২৫টি পুশইন বা অনুপ্রবেশের চেষ্টা প্রতিহত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। সর্বশেষ কুমিল্লার সালদা নদী সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করা চারজনকে ফেরত পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে বাহিনীটি।মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকালে কুমিল্লা ১০ ও ৬০ বিজিবি ব্যাটালিয়নের জব্দ করা মাদকদ্রব্য ধ্বংস অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বিজিবির উত্তর-পূর্ব রিজিয়নের রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম চৌধুরী এ তথ্য জানান।ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম চৌধুরী জানান, ভারত থেকে পুশইন বা অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সাধারণ মানুষ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা প্রয়োজন। তিনি জানান, গত তিন বছরে কুমিল্লা ১০ ও ৬০ বিজিবি ব্যাটালিয়ন ২০ হাজার ২০০টি অভিযান পরিচালনা করে প্রায় ৫২ কোটি টাকা মূল্যের মাদকদ্রব্য জব্দ করেছে। এই সব অভিযানে মাদকসহ ৫২৬ জনকে আটক করা হয়েছে এবং আড়াই শতাধিক আসামি এখনও পলাতক।অনুষ্ঠানে কুমিল্লা ১০ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মীর আলী এজাজ জানান, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত কুমিল্লা ১০ ব্যাটালিয়ন এবং ২০২২ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত সুলতানপুর ৬০ ব্যাটালিয়নের অভিযানে মোট ৫১ কোটি ৮৩ লাখ ৮৪ হাজার ১২৫ টাকা মূল্যের মাদকদ্রব্য উদ্ধার ও জব্দ করা হয়েছে।উদ্ধার করা মাদকের মধ্যে রয়েছে ৩৪ হাজার ২৩৫ বোতল ভারতীয় ফেনসিডিল, ৩৪ হাজার ১৭২ বোতল স্কাফ সিরাপ, ১৮ হাজার ৪৯ বোতল বিয়ার, ৮৪ হাজার ৯৫৮ বোতল হুইস্কি, ২৩ হাজার ৯৮১ কেজি গাঁজা, ৩ লাখ ১০ হাজার ৫৯৮টি ইয়াবা এবং ২৪ দশমিক ৫ লিটার খোলা মদ। এছাড়া বিভিন্ন ধরনের ট্যাবলেট, ইনজেকশন, সিরাপ, হার্বাল ওষুধ, সিগারেট, জর্দা ও বিড়িও উদ্ধার করা হয়েছে।বিজিবি জানায়, কুমিল্লা ১০ ব্যাটালিয়নের আওতাধীন ৯৬ দশমিক ১০ কিলোমিটার এবং সুলতানপুর ৬০ ব্যাটালিয়নের আওতাধীন ৭৯ দশমিক ১০ কিলোমিটার সীমান্ত দিয়ে এসব মাদক দেশে প্রবেশের চেষ্টা করা হয়। বিজিবির একক অভিযান ও বিভিন্ন টাস্কফোর্সের মাধ্যমে এই সব মাদক জব্দ করা হয়েছে। জনসচেতনতা তৈরির অংশ হিসেবে উদ্ধার করা মাদক প্রকাশ্যে ধ্বংস করা হয়।কুমিল্লা জেলা প্রশাসক রোজী আক্তার বলেন, সীমান্ত রক্ষার পাশাপাশি মাদকবিরোধী অভিযানে বিজিবি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তিনি সংশ্লিষ্ট সব বাহিনী ও প্রশাসনের সমন্বিত প্রচেষ্টায় সীমান্ত দিয়ে মাদক চোরাচালান বন্ধে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।রিজিয়ন কমান্ডার সাইফুল ইসলাম বলেন, মাদক ধ্বংসের এই আয়োজন প্রতীকী। পুরো উত্তর-পূর্ব রিজিয়নে উদ্ধার হওয়া মাদকের পরিমাণ আরও বেশি। তিনি মাদকের সরবরাহ চেইন ভেঙে দিতে জনসাধারণের সহযোগিতা কামনা করেন।
১০ ঘন্টা আগে
বিক্ষোভকারীদের সুরক্ষার আশ্বাস পেয়ে আন্দোলন স্থগিত সিজেপির

বিক্ষোভকারীদের সুরক্ষার আশ্বাস পেয়ে আন্দোলন স্থগিত সিজেপির

বিক্ষোভকারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার আশ্বাস পাওয়ার দাবি করে আপাতত নতুন আন্দোলনের হুমকি থেকে সরে এসেছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। মধ্যরাতে সরকারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের পর দলটি বলেছে, কোনও বিক্ষোভকারীকে একা ছাড়া হবে না। আমরা সবাই একসঙ্গে আছি।এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোমবার (২৭ জুলাই) রাত ১টা নাগাদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (আগের টুইটার)-এ সিজেপির মুখ্য মুখপাত্র সৌরভ দাস জানান, সরকার বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহার, আটককৃতদের মুক্তি এবং কেন্দ্রীয় সরকার ও অন্যান্য বিজেপি/এনডিএ-শাসিত রাজ্যগুলির বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে অনুরূপ সুরক্ষা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।তিনি বলেন, 'আমাদের সংবাদ সম্মেলনের কয়েক ঘণ্টা পর সরকারি প্রতিনিধিরা আমাদের সঙ্গে দেখা করেন। বৈঠকটি দুই-তিন ঘণ্টা ধরে চলে। তারা বিহার ও আসামের বিজ্ঞপ্তির অনুলিপি আমাদের দেখান, যেখানে এফআইআর প্রত্যাহার, ভবিষ্যতে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়া এবং সকল আটক ও গ্রেপ্তারকৃতদের মুক্তির নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে'।তার দাবি, সরকার কেন্দ্রীয় সরকার এবং অন্যান্য বিজেপি/এনডিএ-শাসিত রাজ্যগুলির পক্ষ থেকে অনুরূপ গ্যারান্টি বিজ্ঞপ্তি জারি করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে। তিনি আরও বলেন, 'আশা করি, সম্মত ভাষাটিই ব্যবহার করা হবে। কোনো বিক্ষোভকারীকে একা ছেড়ে দেওয়া হবে না। আমরা সবাই একসঙ্গেই আছি।'বৈঠকের পর প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, সরকারের দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন নিয়ে সিজেপির উদ্বেগের কথা তারা বৈঠকে তুলে ধরেছেন। তার ভাষ্য, এর জবাবে সরকারের প্রতিনিধিরা বিহারের স্বরাষ্ট্র বিভাগের সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দেখান, যেখানে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে সব এফআইআর প্রত্যাহার এবং ভবিষ্যতে তাদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা না নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।দাস জানান, অন্যান্য রাজ্য থেকেও একই ধরনের বিজ্ঞপ্তি জারি নিশ্চিত করার বিষয়টি বৈঠকে গুরুত্ব পায়, যাতে বিক্ষোভকারীরা আইনি জটিলতায় না পড়েন। তিনি দাবি করেন, সরকার আশ্বাস দিয়েছে যে বিভিন্ন রাজ্যে তাদের উদ্বেগের বিষয়গুলো সমাধানে মঙ্গলবারের মধ্যে প্রয়োজনীয় বিজ্ঞপ্তি জারি করা হবে এবং ভবিষ্যতে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। এছাড়া আন্দোলনে অংশ নেওয়া কোনও বিক্ষোভকারীর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা না হয়, তা নিশ্চিত করতে দলটি কাজ চালিয়ে যাবে বলেও জানান দাস।এর কয়েক ঘণ্টা আগেই সিজেপি বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে চলমান পুলিশি পদক্ষেপের অভিযোগ তুলে নতুন করে আন্দোলনে ফেরার হুঁশিয়ারি দিয়েছিল। সরকারের সঙ্গে বৈঠক শেষে সিজেপি জানিয়েছে, তারা সরকারের প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণ করবে এবং প্রয়োজনে আবারও মাঠে নামবে। এই আশ্বাসের পর আপাতত দিল্লির যন্তর-মন্তরে শান্তি ফিরেছে, তবে আন্দোলনকারীরা সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে নজর রাখছেন।
১০ ঘন্টা আগে
১৫ এপ্রিল ২০২৬, ১২:১১ এএম
আপনি কি মনে করেন বিএনপি জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর ও শব্দ বাস্তবায়ন করবে?

আপনি কি মনে করেন বিএনপি জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর ও শব্দ বাস্তবায়ন করবে?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ জন
 দাঁতের যত্নে বিষ? টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের খোঁজ

দাঁতের যত্নে বিষ? টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের খোঁজ

দেশে বিক্রি হওয়া প্রতি চারটি টুথপেস্টের মধ্যে তিনটিতেই মিলেছে মাইক্রোপ্লাস্টিক। এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের (এসডো) বৈজ্ঞানিক গবেষণায় ৩৪টি টুথপেস্টের মধ্যে ২৬টিতে (৭৬.৫%) মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত হয়েছে। প্রতি ১০০ গ্রাম টুথপেস্টে ২০ থেকে ৩২০টি পর্যন্ত মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা মিলেছে। মাইক্রোপ্লাস্টিক দূষণ বর্তমানে বিশ্বব্যাপী পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের বড় উদ্বেগের বিষয়। উদ্বেগের বিষয় হলো, শিশুদের জন্য বিক্রি হওয়া ৬টি টুথপেস্টের মধ্যে ৪টিতেই (৬৬.৭%) মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে।রোববার রাজধানীর লালমাটিয়ায় এসডোর প্রধান কার্যালয়ে এই গবেষণা প্রতিবেদন তুলে ধরা হয়। বাংলাদেশে টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক নিয়ে আগে কোনো বৈজ্ঞানিক গবেষণা, নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা বা নিয়মিত নজরদারি ছিল না। এই গুরুত্বপূর্ণ ঘাটতি বিবেচনায় নিয়ে এসডো ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত দেশব্যাপী একটি সমন্বিত গবেষণা পরিচালনা করে। গবেষণায় ভোক্তা জরিপ, ল্যাবরেটরি পরীক্ষা এবং নিয়ন্ত্রক ও বৈজ্ঞানিক বিশেষজ্ঞদের সাক্ষাৎকার অন্তর্ভুক্ত ছিল, যেন বাস্তব পরিস্থিতি ও নীতিগত চ্যালেঞ্জ একসঙ্গে মূল্যায়ন করা যায়।মাইক্রোপ্লাস্টিক দূষণ বর্তমানে বিশ্বব্যাপী পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের বড় উদ্বেগের বিষয়। যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ, দক্ষিণ কোরিয়াসহ বিভিন্ন দেশে বৈজ্ঞানিক গবেষণায় টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি প্রমাণিত হয়েছে। তবে বাংলাদেশে এ ধরনের বৈজ্ঞানিক মূল্যায়ন এই প্রথম, যা ভবিষ্যতে নিরাপদ টুথপেস্ট নিশ্চিত করতে মানদণ্ড নির্ধারণ, নজরদারি ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং কার্যকর নীতিমালা প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।গবেষণায় পরীক্ষা করা ৩৪টি টুথপেস্টের মধ্যে ২৬টিতে (৭৬.৫%) মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে। বাকি ৮টিতে (২৩.৫%) কোনো মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া যায়নি। প্রতি ১০০ গ্রাম টুথপেস্টে ২০ থেকে ৩২০টি পর্যন্ত মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা শনাক্ত হয়েছে। পরীক্ষা করা টুথপেস্টগুলো বাংলাদেশ, ভারত, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামে উৎপাদিত। চারটি দেশের উৎপাদিত টুথপেস্টেই মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে।গবেষণায় শুধু টুথপেস্টেই নয়, ভোক্তাদের সচেতনতাতেও বড় ঘাটতি উঠে এসেছে। জরিপে অংশ নেওয়া প্রায় সবাই নিয়মিত টুথপেস্ট ব্যবহার করলেও ৪১ দশমিক ৯ শতাংশ মানুষ জানতেনই না যে টুথপেস্টের মতো মুখের পরিচর্যার পণ্যেও মাইক্রোপ্লাস্টিক থাকতে পারে। মাত্র ২৬ দশমিক ৯ শতাংশ উত্তরদাতা এই বিষয়ে সচেতন বলে জানিয়েছেন।এসডো স্পষ্ট করেছে যে, এই গবেষণার উদ্দেশ্য কোনো নির্দিষ্ট ব্র্যান্ড বা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানকে দায়ী করা নয়। বরং বাংলাদেশে টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক নিয়ে কোনো জাতীয় মানদণ্ড, গ্রহণযোগ্য সীমা, পরীক্ষার নির্দেশিকা বা লেবেলে তথ্য প্রকাশের বাধ্যবাধকতা না থাকায় বর্তমান পরিস্থিতি বৈজ্ঞানিকভাবে তুলে ধরাই ছিল এই গবেষণার মূল লক্ষ্য।এসডোর চেয়ারপারসন সৈয়দ মার্গুব মোর্শেদ বলেন, 'ভালো নীতিমালা গড়ে ওঠে নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক তথ্যের ভিত্তিতে। বাংলাদেশে টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক নিয়ে এটিই প্রথম বৈজ্ঞানিক গবেষণা, যা ভবিষ্যতে মানদণ্ড প্রণয়ন, কার্যকর নিয়ন্ত্রণ এবং ভোক্তা ও পরিবেশ সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।'এসডোর মহাসচিব ও সিনিয়র টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজার ড. শাহরিয়ার হোসেন বলেন, 'টুথপেস্ট আমাদের প্রতিদিনের ব্যবহারের একটি পণ্য। অথচ গবেষণায় দেখা গেছে, এতে মাইক্রোপ্লাস্টিক থাকতে পারে—এই বিষয়টি সম্পর্কে অধিকাংশ মানুষই জানেন না। তাই আরও গবেষণার পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধি, পণ্যের লেবেলে উপাদানের স্পষ্ট তথ্য উল্লেখ এবং কার্যকর নিয়ন্ত্রক তদারকি এখন অত্যন্ত জরুরি।'বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউট (বিএসটিআই)-এর উপ-পরিচালক মো. মনজুরুল করিম বলেন, 'টুথপেস্ট তৈরির স্ট্যান্ডার্ড ও প্রয়োজনীয়তার ওপর ভিত্তি করে অনুমোদিত ৪০টি উপাদানের একটি তালিকা তৈরি করা হয়েছে। তবে এই তালিকায় এখনো মাইক্রোপ্লাস্টিক অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। আমরা এই বিষয়টি আমলে নিচ্ছি এবং দ্রুতই এসআরও সংশোধন করে তালিকায় মাইক্রোপ্লাস্টিকের মানদণ্ড বা সর্বোচ্চ সহনশীল মাত্রা যুক্ত করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবো।'পরিবেশ অধিদপ্তরের ইন্সপেক্টর মাহমুদা তামান্না খান বলেন, 'আজ যে বিষয়টি উন্মোচিত করেছি, তার ওপর ভিত্তি করে কাজ করতে আমরা অত্যন্ত আগ্রহী এবং বিএসটিআইকে সব ধরনের সহায়তা দিতে প্রস্তুত।'সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা, নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, প্রস্তুতকারক এবং ভোক্তা অধিকার সংগঠনগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে এসডো, যেন তারা একসঙ্গে কাজ করে পারসোনাল কেয়ার পণ্যে মাইক্রোপ্লাস্টিকের জন্য বিজ্ঞানভিত্তিক জাতীয় মানদণ্ড তৈরি করতে পারে। একই সঙ্গে সংস্থাটি নিয়মিত বাজার তদারকি, পরীক্ষাগারের সক্ষমতা বৃদ্ধি, পণ্যের লেবেলে উপাদানের স্বচ্ছ তথ্য নিশ্চিত করা এবং দৈনন্দিন ব্যবহারের পণ্য থেকে মানবদেহে মাইক্রোপ্লাস্টিক প্রবেশের ঝুঁকি নিয়ে আরও গবেষণা করার সুপারিশ করেছে।
২৬ জুলাই ২০২৬
নবম পে-স্কেল: আইএমএফের পরামর্শে আপাতত পেছাচ্ছে সরকার

নবম পে-স্কেল: আইএমএফের পরামর্শে আপাতত পেছাচ্ছে সরকার

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গে নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আগামী অক্টোবরে আলোচনা শেষ হওয়ার আগে সরকারি চাকরিজীবীদের নবম জাতীয় পে-স্কেল ঘোষণা করছে না সরকার। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত অনেকটাই নির্ভর করবে আইএমএফের সম্মতির ওপর।রাজস্ব ঘাটতি ও দুর্বল রাজস্ব আহরণের কথা উল্লেখ করে আইএমএফ সরকারকে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন অন্তত দুই বছর পিছিয়ে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে সরকারও বিষয়টি নিয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে।রোববার (২৬ জুলাই) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে রাজস্ব আদায়, সরকারি ব্যয়, প্রস্তাবিত পে-স্কেলের আর্থিক প্রভাব এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন। বৈঠকে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের সম্ভাব্য অতিরিক্ত ব্যয়ের বিষয়টি তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রী এ প্রস্তাব আরও বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনার নির্দেশ দেন এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানির মূল্য, গ্যাস সরবরাহ ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক ঝুঁকির বিষয়টি বিবেচনায় রাখতে বলেন।সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, আগামী ১২ থেকে ১৮ অক্টোবর ব্যাংককে বিশ্বব্যাংক-আইএমএফের বার্ষিক সভার ফাঁকে চূড়ান্ত আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। ওই আলোচনায় অনুন্নয়ন খাতের স্থায়ী ব্যয়, বিশেষ করে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বৃদ্ধির বিষয়ে আইএমএফ যে অবস্থান নেবে, সেটিই নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হবে।অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, চলতি মাসে বাংলাদেশ সফরকারী আইএমএফ প্রতিনিধিদলের সঙ্গে অর্থ বিভাগের বৈঠকে বেতন ও ভাতা বাজেটিং নিয়ে আলোচনা হয়। সেখানে আইএমএফ জানায়, বর্তমান রাজস্ব ভিত্তি সরকারি চাকরিজীবীদের বেতনে বড় ধরনের বৃদ্ধি বহন করার মতো শক্তিশালী নয়। পাশাপাশি ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে সরকারি ব্যয় বাড়লেও রাজস্ব প্রবৃদ্ধি সে তুলনায় পিছিয়ে রয়েছে। ফলে উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও সীমিত আর্থিক সক্ষমতার মধ্যে নতুন পে-স্কেল চালু করলে অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি হতে পারে।তবে সরকার নতুন পে-স্কেলের পরিকল্পনা থেকে সরে আসেনি। মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বাধীন ১০ সদস্যের উচ্চপর্যায়ের কমিটি জাতীয় বেতন কমিশন-২০২৫, বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পে কমিশন-২০২৫ এবং সশস্ত্র বাহিনী বেতন কমিটি-২০২৫-এর সুপারিশ পর্যালোচনা করে একটি সংশোধিত কাঠামো প্রস্তুত করেছে। প্রস্তাবটি অর্থ মন্ত্রণালয় এবং প্রধানমন্ত্রীর কাছে জমা দেওয়া হয়েছে।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানান, আর্থিক চাপ কমাতে সরকার ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন অথবা বিকল্প পদ্ধতির বিষয়টি বিবেচনা করছে। অক্টোবরে আইএমএফের বৈঠকের আগেই এ বিষয়ে কৌশল চূড়ান্ত হতে পারে।উল্লেখ্য, জাতীয় বেতন কমিশন-২০২৫ সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করেছে। পাশাপাশি বৈশাখী ভাতা ২০ শতাংশ থেকে ৫০ শতাংশে উন্নীত করা, যাতায়াত ভাতা সংশোধন এবং অন্যান্য ভাতা পুনর্বিন্যাসের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।কমিশনের হিসাব অনুযায়ী, এসব সুপারিশ বাস্তবায়নে বছরে অতিরিক্ত ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হবে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে এ উদ্দেশ্যে জনপ্রশাসন খাতে অতিরিক্ত ৫৪ হাজার ৫৭২ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকা সম্ভাব্য নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের জন্য সংরক্ষিত।অর্থনীতিবিদদের মতে, ২০১৫ সালের পর সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন পুনর্নির্ধারণ না হওয়ায় উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে তাদের ক্রয়ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। তবে তারা সতর্ক করে বলেছেন, রাজস্ব আহরণ শক্তিশালী না করে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন করলে সরকারকে আরও বেশি ঋণের ওপর নির্ভর করতে হতে পারে, যা বাজেট ঘাটতি ও সামগ্রিক অর্থনীতির ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করবে।
১৬ জুন ২০২৬
অর্থনীতির তিন সংকটে আইএমএফের উদ্বেগ, প্রবৃদ্ধি কমার শঙ্কা

অর্থনীতির তিন সংকটে আইএমএফের উদ্বেগ, প্রবৃদ্ধি কমার শঙ্কা

১৬ জুন ২০২৬
 প্রো ম্যাক্সের দাম ছাড়িয়ে যাবে ২ লাখ, আইফোন ১৮ নিয়ে যা জানলো বিশ্ব

প্রো ম্যাক্সের দাম ছাড়িয়ে যাবে ২ লাখ, আইফোন ১৮ নিয়ে যা জানলো বিশ্ব

এ বছর প্রযুক্তিপ্রেমীদের সব কৌতূহল কেবল একটি ফোনকে ঘিরে—অ্যাপলের ‘আইফোন ১৮’। এখনো উন্মোচনের প্রায় দুই মাস বাকি থাকলেও ফোনটির নকশা, শক্তিশালী চিপসেট, ক্যামেরায় বড় পরিবর্তন ও আকাশচুম্বী দাম নিয়ে ফাঁস থেমে নেই। ধারণা করা হচ্ছে, আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্সের দাম প্রায় দুই লাখ টাকা হতে পারে। চলুন জেনে নেওয়া যাক আইফোন ১৮ সিরিজের সম্ভাব্য ফিচার, দাম ও উন্মোচনের সময়সূচি সম্পর্কে বিস্তারিত।আকাশচুম্বী দামআইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্স হতে যাচ্ছে অ্যাপলের ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যয়বহুল স্মার্টফোন । চীনের টেক–বিষয়ক প্রতিষ্ঠান ‘স্মার্ট পিকাচু’ জানিয়েছে, চীনে এর প্রারম্ভিক মূল্য ১১ হাজার ইউয়ান থেকে শুরু হতে পারে, যা ডলারে প্রায় ১ হাজার ৬২৫ ডলার । বাংলাদেশি মুদ্রায় কর ও শুল্ক বাদে এর দাম পড়বে প্রায় ১ লাখ ৯৭ হাজার টাকার বেশি । প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, এই দাম বৃদ্ধির পেছনে প্রধান কারণ ২ ন্যানোমিটার প্রসেসর এবং ১২ জিবি র‍্যামের উচ্চ মূল্য ।টাটা গ্রুপের তথ্য ফাঁসএইবার অ্যাপলের কঠোর গোপনীয়তা প্রাচীরে বড় ফাটল ধরেছে। ভারতের টাটা ইলেকট্রনিকসের সার্ভারে ‘ওয়ার্ল্ড লিকস’ নামের হ্যাকার গ্রুপ হামলা চালিয়ে প্রায় ৬৩০ গিগাবাইট সংবেদনশীল তথ্য চুরি করে । ডার্ক ওয়েবে ছড়িয়ে পড়া এসব ফাইলের মধ্যে আইফোন ১৮ প্রোর আসল থ্রিডি নকশা, পার্টস সরবরাহকারীদের তালিকা এবং ড্রপ–টেস্টের ছবিও রয়েছে । ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থা ও অ্যাপল এই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে ।২ ন্যানোমিটারের প্রসেসরআইফোন ১৮ প্রো সিরিজের প্রধান আকর্ষণ হবে ‘এ২০ প্রো’ চিপসেট, যা তাইওয়ানের টিএসএমসি তৈরি করছে । এটি বিশ্বের প্রথম ২ ন্যানোমিটার প্রযুক্তিতে তৈরি চিপ । নতুন এই প্রযুক্তিতে বর্তমানের চেয়ে প্রায় ১৫ শতাংশ বেশি দ্রুত কাজ করতে পারবে এবং ব্যাটারি সাশ্রয় হবে ২৫-৩০ শতাংশ ।১২ জিবি র‍্যাম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাআইফোন ১৮ প্রো সিরিজে প্রথমবারের মতো ১২ জিবি র‍্যাম ব্যবহার করা হচ্ছে । এর পেছনে মূল কারণ হলো আইওএস ২৭-এর নতুন এআই ফিচার ‘অ্যাপল ইন্টেলিজেন্স’ এবং উন্নত ‘সিরি এআই’, যা ইন্টারনেট ছাড়াই ফোনের ভেতরে কাজ করবে ।ক্যামেরায় ডিএসএলআরের ছোঁয়াআইফোন ১৮ প্রো ও প্রো ম্যাক্সের প্রধান ৪৮ মেগাপিক্সেল ক্যামেরায় যুক্ত হচ্ছে ‘ভ্যারিয়েবল অ্যাপারচার’ । যান্ত্রিকভাবে লেন্সের মুখ ছোট-বড় করার সুবিধায় সিনেমার মতো উন্নত ভিডিও এবং প্রাকৃতিক ব্যাকগ্রাউন্ড ব্লার পাওয়া যাবে । আলট্রা-ওয়াইড ও ৫ গুণ জুমের টেলিফটো লেন্সকেও ৪৮ মেগাপিক্সেলে উন্নীত করা হচ্ছে ।ডায়নামিক আইল্যান্ডের সংকোচনডায়নামিক আইল্যান্ড প্রায় ৩৫ শতাংশ ছোট হয়ে যাচ্ছে । ফেস আইডির সেন্সর দুটোকে ডিসপ্লের নিচে নিয়ে যাওয়ায় এটি সম্ভব হচ্ছে । এছাড়া ‘গ্রেড ৫’ পলিশড টাইটানিয়ামের ব্যবহারে ফোন হবে হালকা ও স্ক্র্যাচ প্রতিরোধী, এবং নতুন রং যোগ হচ্ছে ‘স্যাটিন গোল্ড’ ও ‘ডিপ প্লাম’ ।কবে আসছে বাজারেফোর্বসের জ্যেষ্ঠ প্রযুক্তি লেখক ডেভিড ফেলানের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ৯ সেপ্টেম্বর অ্যাপলের ‘কি-নোট’ ইভেন্টে আইফোন ১৮ সিরিজ উন্মোচিত হবে । প্রি-অর্ডার শুরু হবে ১১ সেপ্টেম্বর এবং বিশ্বজুড়ে বিক্রি শুরু হবে ১৮ সেপ্টেম্বর ।
২৫ জুলাই ২০২৬
কোন ছবি নেই !
কোন ছবি নেই !
ই-পাসপোর্টে জুলাই শহীদদের ছবি যুক্ত হচ্ছে

ই-পাসপোর্টে জুলাই শহীদদের ছবি যুক্ত হচ্ছে

বাংলাদেশের সাধারণ ই-পাসপোর্টের নকশায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনছে সরকার। ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের স্মৃতিকে ধরে রাখতে পাসপোর্টের পাতায় জলছাপ (ওয়াটারমার্ক) হিসেবে যুক্ত করা হচ্ছে শহীদ আবু সাঈদ, মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধ এবং মোহাম্মদ ওয়াসিমের ছবি।রোববার (১৯ জুলাই) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বহিরাগমন-৪ শাখা থেকে জারিকৃত এক প্রজ্ঞাপনে নতুন এই নকশার চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ই-পাসপোর্টের বিদ্যমান বুকলেটের নকশা ও জলছাপ পুনর্বিন্যাস করা হচ্ছে। নতুন অনুমোদিত নকশায় পাসপোর্টের ৩১ ও ৩২ নম্বর পৃষ্ঠায় জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক সেই উত্তাল মুহূর্তটি ঠাঁই পাবে। তরুণদের আত্মত্যাগের সেই স্মৃতিকে আন্তর্জাতিক এই ভ্রমণ নথিতে স্থায়ী রূপ দিতেই শহীদ আবু সাঈদ, মুগ্ধ ও ওয়াসিমের ছবি জলছাপ হিসেবে ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।পাসপোর্টের নতুন এই বিন্যাসে জুলাই অভ্যুত্থানের পাশাপাশি বাংলাদেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের নানা অনুষঙ্গও যুক্ত করা হয়েছে। বিভিন্ন পৃষ্ঠায় জলছাপ হিসেবে দেখা যাবে জাতীয় স্মৃতিসৌধ, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, জাতীয় সংসদ ভবন এবং সুপ্রিম কোর্টের ছবি। এ ছাড়া লালবাগ দুর্গ, কান্তজিউ মন্দির, পানামনগর ও কার্জন হলের মতো গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক স্থাপনাও ঠাঁই পেয়েছে নতুন নকশায়।দেশের প্রাকৃতিক ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে ঝাউবনসহ কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত, সুন্দরবন, টাঙ্গুয়ার হাওর ও নীলগিরির ছবি যুক্ত করা হয়েছে। জাতীয় ফুল, মাছ, পাখি ও ফলের পাশাপাশি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের বিখ্যাত চিত্রকর্ম 'সংগ্রাম'-কে।প্রজ্ঞাপনে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, পাসপোর্টের ডাটা পেজে আগের নিয়মই বহাল থাকছে। অর্থাৎ, এটি ইসরায়েল ব্যতীত বিশ্বের সব দেশের ভ্রমণের জন্য বৈধ থাকবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই সিদ্ধান্ত দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনা প্রদান করেছে।২০২৪ সালের জুলাই মাসে বাংলাদেশে সংগঠিত ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে আবু সাঈদ, মুগ্ধ ও ওয়াসিমসহ বহু মানুষ প্রাণ হারান। আন্দোলনের সেই গৌরবময় ইতিহাসকে পরবর্তী প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে এবং জাতীয় নথিতে তাদের অবদানকে স্বীকৃতি দিতেই এই উদ্যোগ নিয়েছে বর্তমান সরকার। এটি বাংলাদেশের পাসপোর্টের ইতিহাসে একটি অনন্য ও আবেগঘন পরিবর্তন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
১৬ জুন ২০২৬
শেখ নূর কুতুব আলম: বাংলার আধ্যাত্মিক নেতৃত্বের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত

শেখ নূর কুতুব আলম: বাংলার আধ্যাত্মিক নেতৃত্বের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত

বাংলার মধ্যযুগীয় ইতিহাসে পান্ডুয়া ছিল জ্ঞান, সংস্কৃতি ও আধ্যাত্মিক সাধনার অন্যতম কেন্দ্র। এই শহরের খানকাগুলোতে যেমন ধর্মীয় শিক্ষা বিস্তার লাভ করত, তেমনি এখান থেকেই সমাজজীবনে নৈতিক নেতৃত্বও গড়ে উঠত। ১৩৫০ সালের কিছু আগে তৎকালীন বাংলার রাজধানী পান্ডুয়ায় তার জন্ম। তার প্রকৃত নাম নূরুদ্দীন নূরুল হক। ‘নূর কুতুবুল আলম’ তার উপাধি।তার পিতা ছিলেন বাংলার অন্যতম শ্রেষ্ঠ আলেম ও সুফি শায়খ আলাউল হক। বংশপরিচয়ও ছিল সম্মানজনক—তিনি লাহোরের প্রসিদ্ধ সাধক শেখ আসাদের পৌত্র। পিতার মতো তিনি ছিলেন চিশতিয়া তরিকার একজন বিশিষ্ট পীর। ইলিয়াস শাহী বংশের তৃতীয় সুলতান গিয়াস উদ্দিন আজম শাহ ছিলেন তার সহপাঠী ও বন্ধু। কিন্তু বংশগৌরবের চেয়েও বড় ছিল তার ব্যক্তিত্ব, জ্ঞান, দূরদর্শিতা এবং মানুষের জন্য আত্মনিবেদিত জীবন।ব্যক্তিগত জীবন ও আধ্যাত্মিক সাধনানূর কুতুব আলম তাঁর পিতার আমল থেকে সব ধরনের কায়িক শ্রমের অভ্যাস করতেন। দরগায় আগত ফকিরদের কাপড় ধোয়া, লাকড়ি ও পানি বহন, শীতকালে পীরের অজু করার জন্য সর্বদা পানি গরম রাখা, এমনকি খানকাহসংলগ্ন শৌচাগার পরিষ্কার করা প্রভৃতি কাজে তিনি নিজেকে নিয়োজিত রাখতেন।আজকের সময়ে নেতৃত্বকে আমরা প্রায়ই ক্ষমতা, প্রভাব কিংবা সামাজিক মর্যাদার সঙ্গে মিলিয়ে দেখি। অথচ নূর কুতুব আলমের জীবন আমাদের শেখায়, প্রকৃত নেতৃত্ব শুরু হয় সেবার মাধ্যমে। যে মানুষ নিজের হাতে মানুষের কষ্ট লাঘব করতে পারে, তিনিই প্রকৃত অর্থে মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিতে পারেন।রাজনৈতিক সংকটে নূর কুতুব আলমের ভূমিকানূর কুতুব আলমের জীবনের সবচেয়ে উজ্জ্বল অধ্যায় রচিত হয় এক ভয়াবহ রাজনৈতিক সংকটের সময়। ১৪১৫ খ্রিস্টাব্দে রাজা গণেশ নামক একজন হিন্দু শাসক ইলিয়াস শাহি বংশ উত্খাত করে ক্ষমতা গ্রহণ করেন। তিনি মুসলমানের ওপর নজিরবিহীন জুলুম-নির্যাতন শুরু করেন। এমনকি শায়খ ও আলেমদের ওপর অবর্ণনীয় অত্যাচার শুরু করেন।বিশেষ করে ধর্মীয় নেতৃত্ব, আলেম-ওলামা এবং সাধারণ মুসলমানদের ওপর নিপীড়নের অভিযোগ বিভিন্ন ঐতিহাসিক গ্রন্থে উল্লেখিত হয়েছে। বাংলার মুসলিম সমাজ গভীর অনিশ্চয়তা ও আতঙ্কের মধ্যে পড়ে।এই পরিস্থিতিতে শেখ নূর কুতুব আলম নীরব থাকেননি। তিনি উপলব্ধি করেছিলেন, কেবল খানকায় বসে ইবাদত করাই একজন আধ্যাত্মিক নেতার একমাত্র দায়িত্ব নয়; মানুষের জীবন, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সামাজিক নিরাপত্তা বিপন্ন হলে ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্যও এগিয়ে আসতে হয়। তার এই অবস্থান প্রমাণ করে, ইসলামী আধ্যাত্মিকতার প্রকৃত শিক্ষা সমাজবিমুখতা নয়; বরং মানুষের কল্যাণে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন।কূটনৈতিক পদক্ষেপ ও রাজা গণেশের সাথে সমঝোতাবাংলার মুসলমানদের রক্ষার জন্য তিনি এক গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। তিনি জৌনপুরের সুলতান ইবরাহিম শর্কিকে বাংলা আক্রমণ করে বাংলাকে গণেশের হাত থেকে রক্ষা করার অনুরোধ জানিয়ে চিঠি লেখেন। একই সঙ্গে তিনি প্রসিদ্ধ সুফি ব্যক্তিত্ব মীর সৈয়দ আশরাফ জাহাঙ্গীর সিমনানিকেও অনুরোধ করেন, যেন তিনিও ইবরাহিম শর্কিকে বাংলার মুসলমানদের সহায়তায় এগিয়ে আসতে উদ্বুদ্ধ করেন।সুলতান ইবরাহিম শর্কি এই অনুরোধ রক্ষা করে বাংলা আক্রমণের উদ্দেশ্যে পিরোজপুর এসে শিবির স্থাপন করেন। রাজা গণেশ এতে ভয় পেয়ে নূর কুতুব আলমের কাছে আত্মসমর্পণ করেন এবং তাঁকে ক্ষমা করে ইবরাহিম শর্কিকে জৌনপুরে ফিরে যেতে বলার অনুরোধ জানান।কিন্তু নূর কুতুব আলম এতে সম্মত হননি। তিনি জানিয়ে দেন, একজন মুসলিম শাসককে কোনো অমুসলিম শাসকের পক্ষ নিয়ে তিনি ফিরিয়ে দিতে পারেন না। বরং পূর্বশর্ত হিসেবে তিনি রাজা গণেশকে ইসলাম গ্রহণের আহ্বান জানান। গণেশ তাতে সম্মত হন, কিন্তু বিস্তারিত শুনে তাঁর রানি এতে বাধা দেন। গণেশ তখন তার ১২ বছরের ছেলে যদুকে নিয়ে শায়খের কাছে আসেন। যদুকে ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত করে 'জালালুদ্দীন' নাম দেওয়া হয় এবং গণেশ তার পক্ষে সিংহাসন ত্যাগ করেন।এই ঘটনার মধ্য দিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ এড়ানো সম্ভব হয় এবং বাংলার রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অন্তত সাময়িকভাবে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়।পরবর্তী পরিস্থিতি ও নূর কুতুব আলমের দূরদর্শিতাশায়খের মৃত্যুর পর গণেশ অবশ্য যদুকে হিন্দু ধর্মে পুনরায় দীক্ষিত করে নিজে সিংহাসনে অধিষ্ঠিত হন। কিন্তু রাজা গণেশের মৃত্যু হলে যদু জালালুদ্দীন মুহাম্মদ শাহ উপাধি গ্রহণ করে সিংহাসনে আরোহণ করেন এবং বাংলার মুসলিম শাসনব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়।এই ঘটনাপ্রবাহে নূর কুতুব আলমের দূরদর্শিতার প্রতিফলন স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তিনি হয়তো জানতেন, একটি সংকটময় সময়ে আপসের মধ্য দিয়েও দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার পথ তৈরি করা যায়।রচিত গ্রন্থসমূহ ও আধ্যাত্মিক উত্তরসূরিতিনি শুধু নিজের আধ্যাত্মিক সাধনায় সীমাবদ্ধ থাকেননি; পরবর্তী প্রজন্ম গড়ে তোলার প্রতিও ছিলেন সমান মনোযোগী। তাঁর রচিত গ্রন্থ সংখ্যা ১২১টি। সেগুলো তার প্রধান মুরিদ ও খলিফা হুসামুদ্দিন মানিকপুরী সম্পাদনা করেন। তন্মধ্যে বিখ্যাত দুটি গ্রন্থ হলো মুগিসুল ফুকারা ও আনিসুল গুরাবা।মুগিসুল ফুকারার একটি পাণ্ডুলিপি সংরক্ষিত আছে বিহারের ভাগলপুরের খলিফাবাগ একটি প্রাইভেট লাইব্রেরিতে। আরেকটি অসম্পূর্ণ কপি সংরক্ষিত আছে এশিয়াটিক সোসাইটি অব বেঙ্গল কলিকাতার লাইব্রেরিতে (সংগ্রহ নং- ৪৬৬)। সেখানে আনিসুল গুরাবা বইটির ২টি কপি সংরক্ষিত আছে (সংগ্রহ নং: ১২১২ ও ১২১৩)।তিনি তাঁর দুই পুত্র শেখ রাফকাতউদ্দীন এবং শেখ আনোয়ারকে আধ্যাত্মিক শিক্ষা দেন। সম্ভবত পিতার জীবদ্দশায় শেখ আনোয়ার রাজা গণেশের হাতে সোনারগাঁয়ে শহীদ হন। শেখ নূর কুতুব আলমের অন্য আর একজন প্রধান মুরিদ ছিলেন শেখ হুসামুদ্দীন মানিকপুরী।পত্র সংকলন ও ঐতিহাসিক দলিলনূর কুতুব আলমের ১৩টি পত্রের একটি গ্রন্থ সম্পাদনা করেন মুহাদ্দিস আব্দুল হক দেহলভী। যে গ্রন্থের নাম মাকতুবাত ই নূর কুতুবুল আলম। এটি দিল্লির ইন্ডিয়ান আর্কাইভে সংরক্ষিত আছে। এই পত্রগুলো থেকে সমসাময়িক রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়।সুলতানদের শ্রদ্ধা ও দরগাহের গুরুত্বশেখ নূর কুতুব আলমের প্রতি পরবর্তী সুলতানদের শ্রদ্ধাও ছিল অসাধারণ। তার দরগাহ সংলগ্ন সরাইখানা ও মাদরাসার ব্যয় নির্বাহের জন্য সুলতান আলাউদ্দীন হোসেন শাহ কয়েকটি গ্রাম দান করেন। দরবেশের মাজার জিয়ারতের জন্য সুলতান বছরে একবার রাজধানী শহর একডালা থেকে পান্ডুয়ায় আসতেন।শায়খ নূর কুতুব আলম পান্ডুয়ার পীর-আউলিয়ার মধ্যে শীর্ষ মর্যাদার অধিকারীদের অন্যতম। পিতা-পুত্র দুজনই পান্ডুয়ার বিখ্যাত শাশ হাজারি দরগায় শায়িত আছেন। পিতার মতো তিনি চিশতিয়া মতাদর্শের পীর ছিলেন। তাঁর অনুসারী শিষ্যকুল ও দরবেশরা কয়েক শতক ধরে বাংলায় মুসলিম সমাজজীবনে তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।ঐতিহাসিক দৃষ্টিতে শায়খ নূর কুতুব আলমের সর্বশ্রেষ্ঠ অবদান বাংলার মুসলিম শাসন রাজা গণেশের হাত থেকে রক্ষা করা।মৃত্যুশেখ নূর কুতুব আলম ৮১৮ হিজরি বা ১৪১৫ খ্রিস্টাব্দে (বাংলাপিডিয়া ও উইকিপিডিয়া মতে) ইন্তেকাল করেন। তবে প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, ১৪৪৭ সালের ৭ জানুয়ারি তার মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়। তার ইন্তেকালের সঙ্গে একটি সুন্দর ফারসি অভিব্যক্তি যুক্ত হয়েছে—"নূর বানূর-শুদ", অর্থাৎ "আলো আলোতে বিলীন হয়ে গেল।"এই বাক্যটি যেন তার সমগ্র জীবনেরই প্রতীক। তিনি এমন এক আলোকবর্তিকা ছিলেন, যিনি নিজের জন্য নয়, মানুষের পথ আলোকিত করার জন্য জীবন উৎসর্গ করেছিলেন।ইতিহাসে বহু রাজা এসেছেন, বহু সাম্রাজ্য গড়ে উঠেছে এবং বিলীন হয়েছে। কিন্তু যারা মানুষের হৃদয়ে নৈতিকতার আলো জ্বালিয়ে দেন, তাদের স্মৃতি যুগের পর যুগ অম্লান থাকে। শেখ নূর কুতুব আলম সেই বিরল ব্যক্তিত্বদের একজন, যার জীবন বাংলার ইতিহাসে আধ্যাত্মিক নেতৃত্ব, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং নৈতিক সাহসের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে আজও আমাদের সামনে দাঁড়িয়ে আছে।তথ্যসূত্র: উইকিপিডিয়া, বাংলাপিডিয়া, শায়েখ আব্দুল হক দেহলভী, আকবারুল উখিয়া ফি আসরারুল আবরার, সোস্যাল হিস্টোরি অফ দ্যা মুসলিম ইন ব্যাঙ্গাল।
ফিরোজ আল মামুন