গণবার্তা – সর্বশেষ বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক সংবাদ, বিশ্লেষণ ও রিয়েল টাইম আপডেট
সর্বশেষ

গণতন্ত্রের নতুন অধ্যায়ের সূচনা, সংসদকে সব সমস্যার সমাধানকেন্দ্র করতে চান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

জাতীয় সংসদকে তিনি সকল যুক্তি, তর্ক এবং জাতীয় সমস্যা সমাধানের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করতে চান বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) সকালে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয়। অধিবেশনের শুরুতে তিনি ভাষণ দেন।প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে বলেন, ফ্যাসিবাদের নির্মমতার শিকার অসংখ্য মানুষের কান্না ও হাজারো প্রাণের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে আবারো জনগণের ভোটে জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক একটি সত্যিকারের জনপ্রতিনিধিত্বশীল জাতীয় সংসদের যাত্রা শুরু হচ্ছে।তিনি বলেন, বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের রাজনীতির এই ঐতিহাসিক মুহূর্তে তিনি মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করছেন, যার অশেষ রহমতে একটি ন্যায়ভিত্তিক, গণতান্ত্রিক ও মানবিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নতুন যাত্রা শুরু করা সম্ভব হয়েছে।শহীদদের স্মরণ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধ থেকে শুরু করে ২০২৪ সালে দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার সংগ্রাম পর্যন্ত গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে যারা শহীদ হয়েছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের যাত্রালগ্নে তিনি তাদের কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করেন।এসব আন্দোলন-সংগ্রামে যেসব মায়েরা সন্তান হারিয়েছেন, যেসব সন্তান তাদের প্রিয়জন হারিয়েছেন, যেসব পরিবার স্বজন হারিয়েছে এবং যেসব আহত মানুষ স্বাভাবিক জীবন হারিয়েছেন, তাদের অবদান তিনি কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করেন।তিনি আরো বলেন, নির্যাতন, নিপীড়ন, রাজনৈতিক হয়রানি কিংবা মিথ্যা মামলার শিকার হয়ে যারা সর্বস্ব হারিয়েছেন, দেশের ছাত্র-জনতা, কৃষক, শ্রমিক, শিক্ষক, কবি, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, আইনজীবী, কামার-কুমার, জেলে-তাঁতি, গাড়িচালক, ব্যবসায়ী, সরকারি-বেসরকারি চাকরিজীবী, গৃহিণীসহ দেশের সর্বস্তরের মানুষ যারা গুম, খুন, হত্যা, নির্যাতন, নিপীড়ন এবং মিথ্যা হামলা-মামলার শিকার হয়েছেন কিংবা জীবন্ত মানুষ কবরস্থানের মতো বর্বর বন্দিশালা ‘আয়নাঘর’-এর মতো পরিস্থিতির মধ্যেও যাদের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষাকে রুখে দেয়া যায়নি, তাদের সাহসী ভূমিকায় দেশে পুনরায় গণতন্ত্র ফিরে এসেছে।প্রধানমন্ত্রী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের এই যাত্রালগ্নে দেশের স্বাধীনতাপ্রিয় গণতান্ত্রিক বীর ছাত্র-জনতাকে অভিনন্দন জানান।বেগম খালেদা জিয়া ও জিয়াউর রহমানকে স্মরণভাষণে তিনি বলেন, দেশনেত্রী মরহুমা খালেদা জিয়া জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় দেশে সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এবং সেটিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছিলেন। কিন্তু পরে সেই গণতন্ত্রকে প্রহসনে পরিণত করে জাতীয় সংসদকে হাস্যরসের খোরাকে পরিণত এবং দেশে তাবেদারি শাসন-শোষণ কায়েম করা হয়।তিনি বলেন, দেশের সংসদীয় গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য বেগম খালেদা জিয়া জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত লড়াই করেছেন এবং জীবনে কখনো স্বৈরাচার কিংবা ফ্যাসিবাদের সাথে আপস করেননি। আজ থেকে দেশে আবারও সেই কাঙ্ক্ষিত সংসদীয় গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু হয়েছে।তিনি বলেন, সংসদীয় রাজনীতির প্রতিষ্ঠাতা বেগম খালেদা জিয়া দেশ ও জনগণের এই সাফল্যের মুহূর্তটি দেখে যেতে পারেননি।জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশ ও জনগণের স্বার্থে আপসহীন নেতৃত্বের অধিকারী, স্মরণীয় ও অনুকরণীয় রাজনীতিবিদ মরহুমা খালেদা জিয়াকে গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন।তিনি বলেন, দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা, স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বলেছিলেন, ‘জনগণই যদি রাজনৈতিক দল হয়, তাহলে আমি সেই দলেই আছি’। অর্থাৎ ব্যক্তি বা দলের স্বার্থ নয়, জনগণের স্বার্থই সবচেয়ে বড়- এটাই বিএনপির রাজনীতি।সকলের সমর্থন কামনাপ্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি প্রথমবারের মতো বিএনপি থেকে জাতীয় সংসদ সদস্য এবং সংসদীয় দলের নেতা নির্বাচিত হয়েছেন। জাতীয় সংসদে দলের প্রতিনিধিত্ব করলেও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি দেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন এবং দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দেশের জনগণের প্রতিনিধিত্ব করছেন।তিনি বলেন, তার রাজনীতি দেশ ও জনগণের স্বার্থ রক্ষার রাজনীতি। বিএনপির রাজনীতি জনগণের জীবনমান উন্নয়ন এবং স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার রাজনীতি। প্রতিটি পরিবারকে স্বনির্ভর করাই তাদের রাজনীতির লক্ষ্য।প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি পরিবারকে স্বনির্ভর করার মাধ্যমেই বিএনপি একটি স্বনির্ভর, সমৃদ্ধ, নিরাপদ ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে চায়। এই লক্ষ্য অর্জনে তিনি গণতান্ত্রিক জনগণের সমর্থন ও সহযোগিতা কামনা এবং জাতীয় সংসদের সকল দলের নির্বাচিত সদস্যদের সমর্থন প্রত্যাশা করেন।তিনি বলেন, দল বা মত কিংবা কর্মসূচি ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু তাবেদারমুক্ত, ফ্যাসিবাদমুক্ত, স্বাধীন, সার্বভৌম, নিরাপদ ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে কোনো বিরোধ থাকতে পারে না।বিশেষ পরিস্থিতিতে অধিবেশন শুরুপ্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতীয় সংসদকে জাতীয় কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু না করে বিতাড়িত ফ্যাসিস্ট সরকার সংসদকে অকার্যকর করে ফেলেছিল।তিনি বলেন, নতুন সংসদের যাত্রা শুরু করার সময় সংসদের সাবেক স্পিকার কিংবা ডেপুটি স্পিকার উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও পতিত ও পরাজিত সরকারের জনবিরোধী কর্মকাণ্ডের কারণে সৃষ্ট জনরোষের ফলে তাদের খুঁজে পাওয়া যায়নি। তাদের কেউ কারাগারে, কেউ নিখোঁজ কিংবা কেউ পলাতক রয়েছে।তিনি বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী ও তাবেদারি শাসন-শোষণের পর জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে এক বিশেষ পরিস্থিতিতে জাতীয় সংসদের কার্যক্রম শুরু হচ্ছে।এমন পরিস্থিতিতে সংবিধান ও সংসদের কার্যপ্রণালী বিধির বিধান অনুসরণ করে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে সভাপতিত্ব করার জন্য তিনি প্রবীণ রাজনীতিবিদ ও পাঁচবারের নির্বাচিত জাতীয় সংসদ সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নাম প্রস্তাব করেন।তিনি বলেন, সংসদীয় রীতিনীতির ইতিহাসে এ ধরনের পরিস্থিতি নজিরবিহীন নয়। ১৯৭৩ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমান ওই সংসদের সদস্য মাওলানা আব্দুর রশিদ তর্কবাগীশের নাম প্রস্তাব করেছিলেন এবং তার সভাপতিত্বে বাংলাদেশের প্রথম সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয়েছিল।
১২ ঘন্টা আগে

ত্রয়োদশ সংসদের যাত্রা শুরু: স্পিকার হাফিজ উদ্দিন, ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল নির্বাচিত

মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের স্পিকার এবং ব্যারিস্টার কায়সার কামাল ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বেলা ১১টায় শুরু হওয়া প্রথম অধিবেশনে তাদের নামের প্রস্তাব কণ্ঠভোটে অনুমোদিত হয়। এর মধ্য দিয়ে পাঁচ আগস্ট পরবর্তী রাজনৈতিক বাস্তবতায় গঠিত নতুন সংসদের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হলো।দ্বাদশ সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী পদত্যাগ করার পর থেকে এবং ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু গ্রেপ্তার হওয়ায় সংসদে স্পিকারের আসন শূন্য ছিল। এই পরিস্থিতিতে প্রথম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন সংসদের জ্যেষ্ঠ সদস্য ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন।নির্বাচন প্রক্রিয়াঅধিবেশনের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের পর বক্তব্য দেন সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি সভাপতিত্বের জন্য খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নাম প্রস্তাব করেন। প্রস্তাবটি সমর্থন করেন বিরোধী দলীয় উপনেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের।এরপর স্পিকার পদের জন্য একমাত্র মনোনয়ন হিসেবে মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের নাম প্রস্তাব করেন বরগুনা-২ আসনের সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম। প্রস্তাবটি সমর্থন করেন খুলনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য রকিবুল ইসলাম। পরে কণ্ঠভোটে প্রস্তাবটি সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদিত হয়।একইভাবে ডেপুটি স্পিকার পদে ব্যারিস্টার কায়সার কামালের নাম প্রস্তাব করেন নাটোর-২ আসনের সংসদ সদস্য রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু। এতে সমর্থন জানান লক্ষ্মীপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য এবিএম আশরাফউদ্দীন নিজাম। কণ্ঠভোটে তিনিও নির্বাচিত হন।রাষ্ট্রপতির কাছে শপথপরে জাতীয় সংসদ ভবনে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন নবনির্বাচিত স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারকে শপথ পড়ান। এ সময় নতুন মন্ত্রী হিসেবে টাঙ্গাইল-৮ আসনের সংসদ সদস্য আহমেদ আযম খানকেও শপথ পড়ানো হয়।স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হওয়ায় হাফিজ উদ্দিন আহমদ মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী এবং কায়সার কামাল ভূমি প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেন।স্পিকারের বক্তব্যজোহরের নামাজের জন্য ২০ মিনিটের বিরতির পর নতুন স্পিকারের সভাপতিত্বে সংসদের কার্যক্রম শুরু হয়। বক্তব্যে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন,“সবার আগে বাংলাদেশ—এই হোক আমাদের মূলমন্ত্র।”তিনি জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান এবং সরকার ও বিরোধী দল উভয় পক্ষকে জাতীয় স্বার্থে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর বক্তব্যে বলেন,“দেশের মানুষ এই সংসদের দিকে প্রত্যাশা নিয়ে তাকিয়ে আছে।”তিনি স্পিকারকে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দেন।বিরোধী দলের বক্তব্যবিরোধী দলের নেতা ও জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান স্পিকারকে উদ্দেশ করে বলেন,“আপনি একজন লড়াকু মুক্তিযোদ্ধা, আপনি পারবেন। উই ওয়ান্ট জাস্টিস।”তিনি স্পিকারের কাছে সরকার ও বিরোধী দল আলাদা না হয়ে সবার জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।শোকপ্রস্তাব নিয়ে আলোচনাপরে সংসদে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং, ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি, পোপ ফ্রান্সিস, সাবেক রাষ্ট্রপতি বদরুদ্দোজা চৌধুরী ও মতিয়া চৌধুরীসহ ৩১ জন সাবেক সংসদ সদস্যের প্রতি শোকপ্রস্তাব আনা হয়।এ সময় বিরোধীদলীয় উপনেতা জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের শোকপ্রস্তাবকে ‘একপেশে’ আখ্যা দিয়ে মতিউর রহমান নিজামী, দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী, মুহাম্মদ কামারুজ্জামান ও শরিফ ওসমান হাদিসহ কয়েকজন নেতার নাম অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান।অপরদিকে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম শরিফ ওসমান বিন হাদি, আবরার ফাহাদ ও ফেলানী খাতুনের নাম শোকপ্রস্তাবে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি তোলেন।
১৩ ঘন্টা আগে

ডেমু বদলে কমিউটার, আসছে ঢাকা-পাবনা ও ঢাকা-খুলনা রুটে নতুন দুই আন্তনগর ট্রেন

ঢাকা-পাবনা ও ঢাকা-খুলনা রুটে দুটি নতুন আন্তনগর ট্রেন চালু করার উদ্যোগ নিয়েছে রেলপথ মন্ত্রণালয়। পাশাপাশি, অকেজো ডেমু ট্রেনকে স্বল্প দূরত্বের কমিউটার ট্রেনে রূপান্তর এবং জনপ্রিয় রুটে বেসরকারি ট্রেন চালুর পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা ও ক্ষমতাসীন দলের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে এই কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।এ বিষয়ে বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের লক্ষ্যে আজ বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) রেলপথ মন্ত্রণালয়ে একটি সভা অনুষ্ঠিত হবে। রেলপথ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সরকার দায়িত্ব গ্রহণের ১৮০ দিনের মধ্যে নির্বাচনী ইশতেহারের বাস্তবায়নযোগ্য অংশগুলোর কার্যক্রম দৃশ্যমান করতে চায়।প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনায় ঢাকা-পাবনা-ঢাকা ও ঢাকা-খুলনা-ঢাকা রুটে দুটি নতুন আন্তনগর ট্রেন সার্ভিস চালুর কথা বলা হয়েছে। রেলওয়ে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভারত থেকে আনা ২০০টি কোচের প্রথম চালান আগামী মে-জুন মাসে এসে পৌঁছাবে। নতুন এই কোচগুলো আসার পরই সম্ভবত নতুন ট্রেন সার্ভিস দুটি চালু করা হবে।পরিকল্পনায় সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো রেলওয়ের অকেজো ও অব্যবহৃত ডেমু ট্রেনগুলোর পুনর্ব্যবহার। সেগুলোকে স্বল্প দূরত্বের যাত্রীবাহী কমিউটার ট্রেনে রূপান্তর করতে আগ্রহী বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরীক্ষামূলকভাবে প্রতিটি আগ্রহী প্রতিষ্ঠানকে একটি করে ডেমু ট্রেন সংস্কারের দায়িত্ব দেওয়া হবে। এর মধ্যে সেরা কাজ করা প্রতিষ্ঠানটি বাকি ডেমু ট্রেনগুলো সংস্কারের কাজ পাবে।এছাড়া, জনপ্রিয় রুটে বেসরকারি অংশীদারদের সেবা দেওয়ার সুযোগ তৈরি করতে বলা হয়েছে। পরীক্ষামূলকভাবে ঢাকা-কক্সবাজার রুটে বেসরকারি ট্রেন চালুর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।সভার আলোচ্য সূচিতে আরও রয়েছে:ঢাকা-চট্টগ্রাম রেল করিডরে যাত্রার সময় ৪ ঘণ্টায় নামিয়ে আনা।** টঙ্গী-আখাউড়া ও লাকসাম-চট্টগ্রাম সেকশনের ২২৭ কিলোমিটার আগামী চার বছরের মধ্যে ডুয়েলগেজ লাইনে রূপান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।সৈয়দপুর রেলওয়ে ওয়ার্কশপ ও কেন্দ্রীয় লোকোমোটিভ ওয়ার্কশপের (সিএলডব্লিউ) আধুনিকায়ন এবং নতুন ইউনিট স্থাপন।  রেলের নিজস্ব জমিতে ইঞ্জিন ও বগি উৎপাদনের নতুন কারখানা স্থাপনে বিদেশি বিনিয়োগ ও বেসরকারি অংশীদারত্ব উৎসাহিত করা।ঢাকা শহরের যানজট কমাতে ঢাকা-টঙ্গী সেকশনের গুরুত্বপূর্ণ লেভেল ক্রসিংয়ে আন্ডারপাস/ওভারপাস নির্মাণ।   শিক্ষার্থী, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধীদের জন্য ভাড়া ছাড়ের বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে।রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ফাহিমুল ইসলাম আজকের পত্রিকাকে বলেন, _‘রেলের উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী বেশ কিছু দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। সেগুলো কীভাবে বাস্তবায়ন করতে পারি, তা নিয়ে আমরা কাজ শুরু করেছি। ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনায় এসব দিকনির্দেশনার বাইরেও আরও কিছু যুক্ত হতে পারে।’বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক মো. হাদিউজ্জামান উদ্যোগগুলোকে স্বাগত জানিয়ে সতর্ক করেছেন। তিনি বলেন, _‘রেল উন্নয়নের উদ্যোগগুলো প্রয়োজনীয়। তবে বাস্তবায়নের আগে রেলের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা ও দক্ষ জনবলের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে। ইঞ্জিন-কোচের সংকটের পাশাপাশি প্রযুক্তি বোঝার মতো মানবসম্পদও দরকার। ডেমু ট্রেন পুনরায় চালুর মতো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সেটি টেকসই ও ব্যয়সাশ্রয়ী হবে কি না তা যাচাই করা জরুরি।’_ তিনি রেল পরিচালনায় অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞদের নিয়ে উদ্যোগগুলো পর্যালোচনার পরামর্শ দেন।
১৪ ঘন্টা আগে
ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে সকল দলের প্রতি আহ্বান

ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে সকল দলের প্রতি আহ্বান

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে সকল রাজনৈতিক দলকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন মো. সাহাবুদ্দিন। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনে দেওয়া ভাষণে তিনি জাতীয় অগ্রগতি ও উন্নয়নে সরকার ও বিরোধী দলের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।রাষ্ট্রপতি বলেন,“জাতীয় অগ্রগতি ও উন্নয়নের জন্য সরকারি ও বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যরা জাতির কাছে দায়বদ্ধ। ব্যক্তির চেয়ে দল বড়, দলের চেয়ে দেশ বড়—এই বিশ্বাসে উদ্বুদ্ধ হয়ে সবাই মিলেমিশে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ বাংলাদেশ গড়া সম্ভব হবে, ইনশাআল্লাহ।”ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশের নতুন যাত্রাভাষণে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনকে দেশের গণতন্ত্রের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেন রাষ্ট্রপতি।তিনি বলেন, কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে একপর্যায়ে এটি ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়। দেশের ছাত্র-জনতা, কৃষক-শ্রমিক, শিক্ষক, সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবী ও প্রবাসীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সম্মিলিত আন্দোলনের ফলে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তৎকালীন সরকারের পতন ঘটে।রাষ্ট্রপতির ভাষায়, হাজারো মানুষের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে তাবেদার ও ফ্যাসিবাদমুক্ত নতুন গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের যাত্রা শুরু হয়েছে।তিনি জানান, ওই গণঅভ্যুত্থানে সহস্রাধিক মানুষ শহীদ হয়েছেন এবং নারী-পুরুষ-শিশুসহ অন্তত ৩০ হাজার মানুষ আহত বা পঙ্গু হয়েছেন।স্মরণ ও শ্রদ্ধাভাষণের শুরুতে রাষ্ট্রপতি মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের স্মরণ করেন। পাশাপাশি তিনি স্বাধীনতার ঘোষক শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া-কে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার আমলে মেয়েদের জন্য বিনামূল্যে শিক্ষা চালু করা হয়েছিল। সেই উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় বর্তমানে দেশে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত মেয়েদের অবৈতনিক শিক্ষা এবং স্নাতক (পাস) স্তর পর্যন্ত উপবৃত্তি কর্মসূচি চালু রয়েছে।আইনশৃঙ্খলা ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতারাষ্ট্রপতি বলেন, নবগঠিত সরকারের সামনে দারিদ্র্য বিমোচন, দুর্নীতি দমন এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ বড় চ্যালেঞ্জ। তবে রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকলে এসব বাধা অতিক্রম করা সম্ভব।চরমপন্থা ও উগ্রবাদের বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতার নীতি অনুসরণের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, আইনগত ব্যবস্থা ছাড়াও সামাজিক ও প্রতিরোধমূলক কৌশলের মাধ্যমে এসব হুমকি মোকাবিলা করা হবে।বিচার বিভাগের কার্যকর স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, মামলার জট কমানো, বিচারপ্রার্থীদের হয়রানি দূর করা, বিচারিক পরিষেবা আধুনিকীকরণ এবং বিচার বিভাগীয় কমিশন প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।অর্থনীতি ও উন্নয়নবিশ্ব অর্থনীতির অস্থিরতার মধ্যেও দেশের সামষ্টিক অর্থনীতি তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল রয়েছে বলে জানান রাষ্ট্রপতি।তিনি বলেন, ২০২৪–২৫ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ৩.৪৯ শতাংশ, আর মাথাপিছু জাতীয় আয় পৌঁছেছে ২ হাজার ৭৬৯ মার্কিন ডলারে।অর্থনীতির কয়েকটি সূচক তুলে ধরে তিনি জানান—পাট ও পাটজাত পণ্যের রপ্তানি: ৪৭০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারমোট রপ্তানি: ৮.৬০% বেড়ে ৪৮.৩০ বিলিয়ন ডলাররেমিট্যান্স প্রবাহ: ২৬.৮৩% বেড়ে ৩০.৩২ বিলিয়ন ডলার১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ: ৩৪.৭৮ বিলিয়ন ডলারমুদ্রাস্ফীতি: ২০২৫ সালের জানুয়ারির ৯.৯৪% থেকে ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে ৮.৫৮%ব্যাংকিং খাত ও পুঁজিবাজার সংস্কারব্যাংকিং খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও জনআস্থা ফিরিয়ে আনতে একটি অর্থনৈতিক সংস্কার কমিশন গঠনের কথা জানান রাষ্ট্রপতি।তিনি বলেন, ব্যাংকিং খাতে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ করা, খেলাপি ঋণের সমস্যা সমাধান এবং দায়ীদের আইনের আওতায় আনা হবে।এ ছাড়া পুঁজিবাজারে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে পুঁজিবাজার সংস্কার কমিশন এবং গত ১৫ বছরের অনিয়ম তদন্তে একটি বিশেষ তদন্ত কমিশন গঠনের কথাও ঘোষণা করেন তিনি।পররাষ্ট্রনীতিরাষ্ট্রপতি বলেন, নতুন বাস্তবতায় সরকারের পররাষ্ট্রনীতির মূল দর্শন হবে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’।দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক ও অভিবাসন কূটনীতিতে জোর দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।নির্বাচন ও সংসদের যাত্রানির্বাচনে অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দল, নির্বাচন কমিশন, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ধন্যবাদ জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, একটি শান্তিপূর্ণ, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে এই সংসদের যাত্রা শুরু হয়েছে।তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ এবং ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালসহ সকল সংসদ সদস্যকে অভিনন্দন জানান।
৭ ঘন্টা আগে
ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে সকল দলের প্রতি আহ্বান

ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে সকল দলের প্রতি আহ্বান

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে সকল রাজনৈতিক দলকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন মো. সাহাবুদ্দিন। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনে দেওয়া ভাষণে তিনি জাতীয় অগ্রগতি ও উন্নয়নে সরকার ও বিরোধী দলের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।রাষ্ট্রপতি বলেন,“জাতীয় অগ্রগতি ও উন্নয়নের জন্য সরকারি ও বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যরা জাতির কাছে দায়বদ্ধ। ব্যক্তির চেয়ে দল বড়, দলের চেয়ে দেশ বড়—এই বিশ্বাসে উদ্বুদ্ধ হয়ে সবাই মিলেমিশে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ বাংলাদেশ গড়া সম্ভব হবে, ইনশাআল্লাহ।”ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশের নতুন যাত্রাভাষণে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনকে দেশের গণতন্ত্রের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেন রাষ্ট্রপতি।তিনি বলেন, কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে একপর্যায়ে এটি ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়। দেশের ছাত্র-জনতা, কৃষক-শ্রমিক, শিক্ষক, সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবী ও প্রবাসীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সম্মিলিত আন্দোলনের ফলে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তৎকালীন সরকারের পতন ঘটে।রাষ্ট্রপতির ভাষায়, হাজারো মানুষের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে তাবেদার ও ফ্যাসিবাদমুক্ত নতুন গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের যাত্রা শুরু হয়েছে।তিনি জানান, ওই গণঅভ্যুত্থানে সহস্রাধিক মানুষ শহীদ হয়েছেন এবং নারী-পুরুষ-শিশুসহ অন্তত ৩০ হাজার মানুষ আহত বা পঙ্গু হয়েছেন।স্মরণ ও শ্রদ্ধাভাষণের শুরুতে রাষ্ট্রপতি মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের স্মরণ করেন। পাশাপাশি তিনি স্বাধীনতার ঘোষক শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া-কে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার আমলে মেয়েদের জন্য বিনামূল্যে শিক্ষা চালু করা হয়েছিল। সেই উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় বর্তমানে দেশে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত মেয়েদের অবৈতনিক শিক্ষা এবং স্নাতক (পাস) স্তর পর্যন্ত উপবৃত্তি কর্মসূচি চালু রয়েছে।আইনশৃঙ্খলা ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতারাষ্ট্রপতি বলেন, নবগঠিত সরকারের সামনে দারিদ্র্য বিমোচন, দুর্নীতি দমন এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ বড় চ্যালেঞ্জ। তবে রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকলে এসব বাধা অতিক্রম করা সম্ভব।চরমপন্থা ও উগ্রবাদের বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতার নীতি অনুসরণের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, আইনগত ব্যবস্থা ছাড়াও সামাজিক ও প্রতিরোধমূলক কৌশলের মাধ্যমে এসব হুমকি মোকাবিলা করা হবে।বিচার বিভাগের কার্যকর স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, মামলার জট কমানো, বিচারপ্রার্থীদের হয়রানি দূর করা, বিচারিক পরিষেবা আধুনিকীকরণ এবং বিচার বিভাগীয় কমিশন প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।অর্থনীতি ও উন্নয়নবিশ্ব অর্থনীতির অস্থিরতার মধ্যেও দেশের সামষ্টিক অর্থনীতি তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল রয়েছে বলে জানান রাষ্ট্রপতি।তিনি বলেন, ২০২৪–২৫ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ৩.৪৯ শতাংশ, আর মাথাপিছু জাতীয় আয় পৌঁছেছে ২ হাজার ৭৬৯ মার্কিন ডলারে।অর্থনীতির কয়েকটি সূচক তুলে ধরে তিনি জানান—পাট ও পাটজাত পণ্যের রপ্তানি: ৪৭০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারমোট রপ্তানি: ৮.৬০% বেড়ে ৪৮.৩০ বিলিয়ন ডলাররেমিট্যান্স প্রবাহ: ২৬.৮৩% বেড়ে ৩০.৩২ বিলিয়ন ডলার১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ: ৩৪.৭৮ বিলিয়ন ডলারমুদ্রাস্ফীতি: ২০২৫ সালের জানুয়ারির ৯.৯৪% থেকে ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে ৮.৫৮%ব্যাংকিং খাত ও পুঁজিবাজার সংস্কারব্যাংকিং খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও জনআস্থা ফিরিয়ে আনতে একটি অর্থনৈতিক সংস্কার কমিশন গঠনের কথা জানান রাষ্ট্রপতি।তিনি বলেন, ব্যাংকিং খাতে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ করা, খেলাপি ঋণের সমস্যা সমাধান এবং দায়ীদের আইনের আওতায় আনা হবে।এ ছাড়া পুঁজিবাজারে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে পুঁজিবাজার সংস্কার কমিশন এবং গত ১৫ বছরের অনিয়ম তদন্তে একটি বিশেষ তদন্ত কমিশন গঠনের কথাও ঘোষণা করেন তিনি।পররাষ্ট্রনীতিরাষ্ট্রপতি বলেন, নতুন বাস্তবতায় সরকারের পররাষ্ট্রনীতির মূল দর্শন হবে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’।দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক ও অভিবাসন কূটনীতিতে জোর দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।নির্বাচন ও সংসদের যাত্রানির্বাচনে অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দল, নির্বাচন কমিশন, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ধন্যবাদ জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, একটি শান্তিপূর্ণ, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে এই সংসদের যাত্রা শুরু হয়েছে।তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ এবং ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালসহ সকল সংসদ সদস্যকে অভিনন্দন জানান।
৭ ঘন্টা আগে
ইরান রণকৌশল বদলাচ্ছে, ট্রাম্পের ‘জয়ের’ দাবির বিপরীতে মার্কিন উদ্বেগ

ইরান রণকৌশল বদলাচ্ছে, ট্রাম্পের ‘জয়ের’ দাবির বিপরীতে মার্কিন উদ্বেগ

ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন ইরান যুদ্ধে জয়ী হচ্ছে বলে দাবি করলেও মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলছেন ভিন্ন কথা। তাঁরা বলছেন, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার মুখে ইরানি সামরিক বাহিনী তাদের রণকৌশল পরিবর্তন করছে এবং অপ্রচলিত পদ্ধতিতে পাল্টা আঘাত হানছে।১১ দিন আগে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইরান এ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ বিমান প্রতিরক্ষা ও রাডার ব্যবস্থাগুলোকে নিশানা বানিয়েছে বলে সামরিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন।ইরানের বদলে যাওয়া কৌশলতিনজন মার্কিন কর্মকর্তা জানান, ইরান সম্ভবত বুঝতে পেরেছে, তারা সরাসরি শক্তিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সমান হতে পারবে না। তবে এই ব্যাপক হামলার মুখেও টিকে থাকতে পারলেই তেহরান একে নিজেদের ‘বিজয়’ হিসেবে দাবি করতে পারবে।কর্মকর্তারা আরও বলেন, ইরান এখন যুক্তরাষ্ট্রের দুর্বল জায়গাগুলোতে আঘাত করছে। বিশেষ করে সেই ইন্টারসেপ্টর ও বিমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থাগুলোতে, যা এ অঞ্চলে মার্কিন সেনা ও সম্পদ রক্ষায় ব্যবহার হয়ে থাকে।মার্কিন সেনারা অবস্থান করছেন এমন সব হোটেলে হামলা চালিয়েছে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো। ইরাকের ইরবিলে একটি বিলাসবহুল হোটেলে ড্রোন হামলা চালিয়ে তারা প্রমাণ করেছে, পেন্টাগন তার সেনাদের কোথায় রাখছে, সে খবর তেহরানের কাছে আছে।কাতার-কুয়েতে রাডার ও যোগাযোগ ব্যবস্থা ধ্বংসআগে ইরান সাধারণত হামলার আগে সতর্কবার্তা দিত বা কেবল সম্মান রক্ষার জন্য নামমাত্র হামলা চালাত। তবে এবার তেমনটি ঘটছে না। সম্প্রতি তারা কাতারের আল-উদেইদ ঘাঁটির একটি অত্যাধুনিক আগাম হামলার সতর্কবার্তার রাডার ব্যবস্থায় বড় ধরনের ক্ষতি করেছে। এ ছাড়া কুয়েতের ঘাঁটি আরিফজান ও আলী আল সালেম বিমান ঘাঁটির যোগাযোগ পরিকাঠামোতেও হামলা চালানো হয়েছে।এর আগে ইরান তাদের সব ড্রোন হামলা ইসরায়েলের দিকে চালাত। কিন্তু এবার তারা কাতার, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, ইরাক ও বাহরাইনে থাকা মার্কিন মিত্র ও সম্পদ লক্ষ্য করে হাজার হাজার সস্তা ড্রোন ছুড়ছে।মার্কিন গোলাবারুদ মজুদ নিয়ে শঙ্কাগত বছরের জুনে ১২ দিনের সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের ভান্ডারে বড় ধরনের টান পড়েছিল। একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেই সময় যুক্তরাষ্ট্র তাদের মোট ‘থাড’ ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের ২০ থেকে ৫০ শতাংশ ব্যবহার করে ফেলেছিল।জনস হপকিনস ইউনিভার্সিটির ইরান–বিশেষজ্ঞ ভ্যালি আর নাসর বলেন, ‘এটি খুবই আশ্চর্যের বিষয়, ইরান কত দ্রুত আগের যুদ্ধের শিক্ষা কাজে লাগাচ্ছে। তারা বুঝে গেছে, তাদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বা ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের সীমাবদ্ধতা কোথায়।’ আর নাসর মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের মজুত কমিয়ে দেওয়ার পর ইরান হয়তো আরও উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালাতে পারে।মার্কিন কর্মকর্তাদের মূল্যায়নজয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন স্বীকার করেন, ইরান তাদের কৌশল বদলাচ্ছে। তবে নিরাপত্তার খাতিরে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ গতকাল মঙ্গলবার স্বীকার করেন, প্রতিবেশীদের ওপর ইরানের এমন ভয়াবহ প্রতিক্রিয়া তাঁরা প্রত্যাশা করেননি। তবে তিনি একে ইরানের ‘হতাশার বহিঃপ্রকাশ’ এবং ‘বড় ভুল’ বলে বর্ণনা করেছেন।জেনারেল কেইন দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা হামলার কারণে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ৯০ শতাংশ এবং ড্রোন হামলা ৮৩ শতাংশ কমেছে।তবে পেন্টাগনের ভেতরে এখনো উদ্বেগ রয়েছে, ইরানের সব ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র সম্পর্কে তাদের কাছে পরিষ্কার ধারণা নেই। ইরান হয়তো তাদের উন্নত ও হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রগুলো বড় কোনো লক্ষ্যের জন্য জমিয়ে রেখেছে।হতাহতের সংখ্যাপেন্টাগনের তথ্যমতে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ৭ জন মার্কিন সেনা নিহত এবং ১৪০ জন আহত হয়েছেন। আহত ব্যক্তিদের মধ্যে ১০৮ জন আবার কর্মস্থলে ফিরেছেন। অন্যদিকে ইরান সরকারের দাবি অনুযায়ী, তাদের দেশে প্রায় ১ হাজার ৩০০ মানুষ নিহত হয়েছেন, যাঁদের প্রায় সবাই বেসামরিক নাগরিক। মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ইরানের পাল্টা হামলায় নিহত হয়েছেন অন্তত ৩০ জন।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুদ্ধের শুরুতেই সর্বোচ্চ নেতা নিহত হলেও ইরান ভেঙে পড়েনি। তারা এমনভাবে কাজ করছে, যা দেখে মনে হয় না যে তাদের নেতৃত্ব পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে।
১১ মার্চ ২০২৬
৯ মার্চ ২০২৬, ১১:৩৬ পিএম
বন্দি বিনিময় চুক্তিতে হাদি হত্যার আসামিদের ভারত থেকে ফিরিয়ে আনা হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের এই বক্তব্যের সঙ্গে আপনি কি একমত?

বন্দি বিনিময় চুক্তিতে হাদি হত্যার আসামিদের ভারত থেকে ফিরিয়ে আনা হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের এই বক্তব্যের সঙ্গে আপনি কি একমত?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ জন
সরকার ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেবে, ৮০ হাজারই নারী: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

সরকার ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেবে, ৮০ হাজারই নারী: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাকে আরও জনবান্ধব ও সার্বজনীন করতে সরকার ১ লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা করছে। এই বিশাল নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ৮০ হাজার পদে নারী স্বাস্থ্যকর্মীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এম এ মুহিত।আজ শনিবার দুপুরে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি) আয়োজিত 'বাংলাদেশ সর্বজনীন স্বাস্থ্যের পথে' শীর্ষক এক সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ তথ্য জানান।প্রতিমন্ত্রী বলেন, "তৃণমূল পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে ১ লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে। যাদের একটি বড় অংশ হবে নারী। আমরা নারী স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছি, কারণ তারা পরিবার ও সমাজে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেন।"এ সময় তিনি দেশে 'ই-হেলথ কার্ড' চালুর কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে এবং এর বাস্তবায়ন কাঠামো গঠনের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন। দুর্নীতির অস্তিত্ব স্বীকারস্বাস্থ্যখাতে দুর্নীতির অস্তিত্ব স্বীকার করে নিয়ে ডা. এম এ মুহিত বলেন, "দুর্নীতি নিয়ে আমাদের গভীরভাবে ভাবতে হবে এবং প্রতিকারে কাজ করতে হবে। সঠিক তদারকি না থাকলে যেকোনো ভালো পরিকল্পনাও দুর্নীতির কবলে পড়ে হারিয়ে যেতে পারে। তাই স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং পরিকল্পনাগুলো সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য শক্তিশালী তদারকি ব্যবস্থা বা পাইপলাইনিং গড়ে তোলা জরুরি।"হাসপাতালগুলোতে রোগীদের ভোগান্তির প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরও বলেন, "দালালদের দৌরাত্ম্য এবং চিকিৎসকদের কর্মস্থলে নিয়মিত উপস্থিত না থাকার কারণে সাধারণ মানুষ সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। সরকার এসব সমস্যা সমাধানে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।" বিশেষজ্ঞদের মতামতঅনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন স্বাস্থ্যখাতের বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। তারা বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। বক্তারা নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নারী স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণের ওপর জোর দেওয়ার পরামর্শ দেন।বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, তৃণমূল পর্যায়ে এত বিপুল সংখ্যক স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হলে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আসবে এবং সাধারণ মানুষ সহজেই চিকিৎসাসেবা পাবে।যা থাকছে নতুন নিয়োগেসরকারের এই উদ্যোগের আওতায়— মোট নিয়োগ: ১ লাখনারী স্বাস্থ্যকর্মী: ৮০ হাজার (অগ্রাধিকার ভিত্তিতে)পুরুষ স্বাস্থ্যকর্মী: ২০ হাজারকর্মস্থল: তৃণমূল পর্যায়ের স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও হাসপাতালউদ্দেশ্য: প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা জনবান্ধব ও সার্বজনীন করা
০৭ মার্চ ২০২৬
ঈদুল ফিতরে এটিএম বুথে পর্যাপ্ত নগদ অর্থ রাখার নির্দেশ বাংলাদেশ ব্যাংকের

ঈদুল ফিতরে এটিএম বুথে পর্যাপ্ত নগদ অর্থ রাখার নির্দেশ বাংলাদেশ ব্যাংকের

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দেশের সব ব্যাংকের এটিএম বুথে পর্যাপ্ত নগদ অর্থ রাখার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। একই সঙ্গে ডিজিটাল লেনদেন ব্যবস্থা সচল রাখতে পয়েন্ট অব সেল (পিওএস), ই-পেমেন্ট গেটওয়ে, মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসসহ সব ধরনের সেবায় নিরবচ্ছিন্ন কার্যক্রম নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।সোমবার (৯ মার্চ) বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস ডিপার্টমেন্ট এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। প্রজ্ঞাপনে দেশের সব তফসিলি ব্যাংক, মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) ও পেমেন্ট সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহীদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়।এটিএম বুথে কী নির্দেশনাপ্রজ্ঞাপনে ব্যাংকগুলোকে নিম্নলিখিত নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে—এটিএম বুথগুলো সার্বক্ষণিক চালু রাখতে হবেকারিগরি ত্রুটি হলে দ্রুত সমাধান করতে হবেবুথে নিরাপত্তা জোরদার করতে পাহারাদারদের সতর্ক অবস্থানে রাখতে হবেগ্রাহকের চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত নগদ অর্থ সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবেডিজিটাল লেনদেন ব্যবস্থা সচল রাখার নির্দেশনাগ্রাহকদের সুবিধার্থে পিওএস সেবাও নিরবচ্ছিন্ন রাখতে হবে। জালিয়াতি প্রতিরোধে মার্চেন্ট ও গ্রাহকদের সচেতন করার জন্যও ব্যাংকগুলোকে উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছে।এছাড়া ই-পেমেন্ট গেটওয়ের ক্ষেত্রে কার্ডভিত্তিক ‘কার্ড নট প্রেজেন্ট’ ও অ্যাকাউন্টভিত্তিক লেনদেনে ‘টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন’ ব্যবস্থা চালু রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসবিকাশ, রকেট, নগদের মতো মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস প্রদানকারী ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিরবচ্ছিন্ন লেনদেন নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে যে কোনো অঙ্কের লেনদেনের তথ্য এসএমএসের মাধ্যমে গ্রাহককে জানাতে হবে বলেও নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে।ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শহরে আসা মানুষ এবং ছুটিতে বাড়ি ফেরা মানুষের মধ্যে নগদ লেনদেনের চাহিদা বেড়ে যায়। এই চাহিদা মেটাতে এবং ডিজিটাল লেনদেন ব্যবস্থা সচল রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংকের এই নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।
০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বিদেশফেরত যাত্রীদের জন্য ব্যাগেজ সুবিধা: শুল্ক পরিশোধে টিভি, ফ্রিজ, এসিসহ ১১ পণ্য আনার সুযোগ

বিদেশফেরত যাত্রীদের জন্য ব্যাগেজ সুবিধা: শুল্ক পরিশোধে টিভি, ফ্রিজ, এসিসহ ১১ পণ্য আনার সুযোগ

০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
অ্যানথ্রপিকের বিরুদ্ধে ‘জাতীয় নিরাপত্তা ঝুঁকি’ অভিযোগ, ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা এআই কোম্পানির

অ্যানথ্রপিকের বিরুদ্ধে ‘জাতীয় নিরাপত্তা ঝুঁকি’ অভিযোগ, ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা এআই কোম্পানির

 মার্কিন এআই কোম্পানি অ্যানথ্রপিক ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে। সোমবার (১০ মার্চ) সান ফ্রান্সিসকোর ফেডারেল আদালতে দায়ের করা ৪৮ পৃষ্ঠার মামলায় কোম্পানিটি দাবি করেছে, তাদেরকে ‘জাতীয় নিরাপত্তা সরবরাহ ঝুঁকি’ হিসেবে চিহ্নিত করার মাধ্যমে সরকার প্রতিশোধ নিয়েছে।অ্যানথ্রপিকের ক্লড এআই মডেল বর্তমানে পেন্টাগনের সবচেয়ে বহুল ব্যবহৃত ফ্রন্টিয়ার এআই মডেল এবং এটি যুদ্ধ দপ্তরের শ্রেণিবদ্ধ সিস্টেমে পরিচালিত একমাত্র মডেল।বিরোধের সূত্রপাতবিরোধের শুরু হয় যখন অ্যানথ্রপিক পেন্টাগন প্রধান পিট হেগসেথকে ক্ষুব্ধ করে তাদের প্রযুক্তি ব্যাপক নজরদারি বা সম্পূর্ণ স্বায়ত্তশাসিত অস্ত্র ব্যবস্থায় ব্যবহার না করার শর্তে জোর দেয়ায়।এরপর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রতিটি ফেডারেল সংস্থাকে অ্যানথ্রপিকের প্রযুক্তির সব ব্যবহার বন্ধ করার নির্দেশ দেন। কয়েক ঘণ্টা পর হেগসেথ অ্যানথ্রপিককে ‘জাতীয় নিরাপত্তার জন্য সরবরাহ ঝুঁকি’ হিসেবে চিহ্নিত করেন এবং নির্দেশ দেন, কোনো সামরিক ঠিকাদার, সরবরাহকারী বা অংশীদার ‘অ্যানথ্রপিকের সঙ্গে কোনো বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে না’। তবে পেন্টাগনের জন্য ছয় মাসের পরিবর্তনকালীন সময়ের ব্যবস্থা রাখা হয়।এই বিরোধটি সংঘটিত হয় ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক হামলার কয়েক দিন আগে।মামলায় অ্যানথ্রপিকের বক্তব্যমামলায় অ্যানথ্রপিক বলেছে, কোম্পানিটি এই বিশ্বাসে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল যে তাদের এআই ‘এমনভাবে ব্যবহার করা হবে যা মানবতার জন্য ইতিবাচক ফলাফল সর্বোচ্চ করে’ এবং এটি ‘সবচেয়ে নিরাপদ ও সবচেয়ে দায়িত্বশীল’ হওয়া উচিত।মামলায় বলা হয়, “অ্যানথ্রপিক এই মামলা এনেছে কারণ ফেডারেল সরকার সেই নীতি প্রকাশের জন্য এর বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নিয়েছে।”অ্যানথ্রপিক প্রথম মার্কিন কোম্পানি যাকে প্রকাশ্যে এমন একটি পদবী দিয়ে শাস্তি দেওয়া হয়েছে, যা সাধারণত চীনা প্রযুক্তি জায়ান্ট হুয়াওয়ের মতো বিদেশি প্রতিপক্ষ দেশের প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য সংরক্ষিত। এই পদবী পেলে প্রতিরক্ষা সরবরাহকারী ও ঠিকাদারদের পেন্টাগনের সঙ্গে তাদের কাজে অ্যানথ্রপিকের মডেল ব্যবহার করে না বলে প্রত্যয়ন করতে হয়।মামলায় বলা হয়েছে, “এই মামলার পরিণাম বিশাল। সরকার বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল বেসরকারি কোম্পানিগুলোর একটি দ্বারা সৃষ্ট অর্থনৈতিক মূল্য ধ্বংস করতে চাইছে।”আইনি যুক্তিমামলায় অ্যানথ্রপিক যুক্তি দেখিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপ প্রথম সংশোধনী লঙ্ঘন করে এআই নিরাপত্তা নীতিতে সুরক্ষিত বক্তৃতার জন্য কোম্পানিকে শাস্তি দিয়ে। এটি পেন্টাগনের আইনগত ক্ষমতা অতিক্রম করে এবং পঞ্চম সংশোধনীর অধীনে তাদের যথাযথ প্রক্রিয়া থেকে বঞ্চিত করে।অভিযোগে বলা হয়েছে, “সংবিধান সরকারকে তার বিশাল ক্ষমতা ব্যবহার করে একটি কোম্পানিকে তার সুরক্ষিত বক্তৃতার জন্য শাস্তি দেওয়ার অনুমতি দেয় না।”কোম্পানিটি পদবী কার্যকর থেকে স্থায়ীভাবে নিষেধাজ্ঞা চাচ্ছে।ওপেনএআইয়ের ম্যানেজারের পদত্যাগএদিকে ওপেনএআইয়ের রোবোটিক্স বিভাগের হার্ডওয়্যার টিমের ম্যানেজার কেটলিন কালিনোভস্কি শনিবার জানিয়েছেন, সরকারের সঙ্গে যুদ্ধ ও অভ্যন্তরীণ নজরদারির জন্য তাদের প্রযুক্তি মোতায়েনের চুক্তির কারণে তিনি পদত্যাগ করেছেন।চ্যাটজিপিটির নির্মাতা কোম্পানি গত মাসে পেন্টাগনের সঙ্গে একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি সুরক্ষিত করে, কয়েক ঘণ্টা পরই প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যানথ্রপিক তার প্রযুক্তির শর্তহীন সামরিক ব্যবহারে রাজি হতে অস্বীকার করে।কালিনোভস্কি এক্স-এ পোস্ট করেছেন, তিনি “রোবোটিক্স টিম এবং আমরা একসঙ্গে তৈরি কাজের” যত্ন নেন। তবে “বিচারিক তত্ত্বাবধান ছাড়া আমেরিকানদের নজরদারি এবং মানবিক অনুমোদন ছাড়া প্রাণঘাতী স্বায়ত্তশাসন হল এমন সীমারেখা যা আরও বিবেচনার দাবি রাখে।”তিনি বলেন, “এটি ব্যক্তি সম্পর্কে নয়, নীতি সম্পর্কে ছিল।” তিনি আরও বলেন, ওপেনএআইয়ের পেন্টাগন চুক্তি ঘোষণার তাড়াহুড়ো নিয়ে তার আপত্তি ছিল। “এটি প্রথম এবং সর্বাগ্রে একটি শাসন সংক্রান্ত উদ্বেগ। এই চুক্তি বা ঘোষণার জন্য তাড়াহুড়ো করা উচিত নয়।”কালিনোভস্কি আগে মেটায় কাজ করেছেন, তাদের অগমেন্টেড রিয়েলিটি গ্লাস তৈরি করেছেন।
১১ মার্চ ২০২৬
ডেমু বদলে কমিউটার, আসছে ঢাকা-পাবনা ও ঢাকা-খুলনা রুটে নতুন দুই আন্তনগর ট্রেন

ডেমু বদলে কমিউটার, আসছে ঢাকা-পাবনা ও ঢাকা-খুলনা রুটে নতুন দুই আন্তনগর ট্রেন

ঢাকা-পাবনা ও ঢাকা-খুলনা রুটে দুটি নতুন আন্তনগর ট্রেন চালু করার উদ্যোগ নিয়েছে রেলপথ মন্ত্রণালয়। পাশাপাশি, অকেজো ডেমু ট্রেনকে স্বল্প দূরত্বের কমিউটার ট্রেনে রূপান্তর এবং জনপ্রিয় রুটে বেসরকারি ট্রেন চালুর পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা ও ক্ষমতাসীন দলের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে এই কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।এ বিষয়ে বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের লক্ষ্যে আজ বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) রেলপথ মন্ত্রণালয়ে একটি সভা অনুষ্ঠিত হবে। রেলপথ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সরকার দায়িত্ব গ্রহণের ১৮০ দিনের মধ্যে নির্বাচনী ইশতেহারের বাস্তবায়নযোগ্য অংশগুলোর কার্যক্রম দৃশ্যমান করতে চায়।প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনায় ঢাকা-পাবনা-ঢাকা ও ঢাকা-খুলনা-ঢাকা রুটে দুটি নতুন আন্তনগর ট্রেন সার্ভিস চালুর কথা বলা হয়েছে। রেলওয়ে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভারত থেকে আনা ২০০টি কোচের প্রথম চালান আগামী মে-জুন মাসে এসে পৌঁছাবে। নতুন এই কোচগুলো আসার পরই সম্ভবত নতুন ট্রেন সার্ভিস দুটি চালু করা হবে।পরিকল্পনায় সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো রেলওয়ের অকেজো ও অব্যবহৃত ডেমু ট্রেনগুলোর পুনর্ব্যবহার। সেগুলোকে স্বল্প দূরত্বের যাত্রীবাহী কমিউটার ট্রেনে রূপান্তর করতে আগ্রহী বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরীক্ষামূলকভাবে প্রতিটি আগ্রহী প্রতিষ্ঠানকে একটি করে ডেমু ট্রেন সংস্কারের দায়িত্ব দেওয়া হবে। এর মধ্যে সেরা কাজ করা প্রতিষ্ঠানটি বাকি ডেমু ট্রেনগুলো সংস্কারের কাজ পাবে।এছাড়া, জনপ্রিয় রুটে বেসরকারি অংশীদারদের সেবা দেওয়ার সুযোগ তৈরি করতে বলা হয়েছে। পরীক্ষামূলকভাবে ঢাকা-কক্সবাজার রুটে বেসরকারি ট্রেন চালুর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।সভার আলোচ্য সূচিতে আরও রয়েছে:ঢাকা-চট্টগ্রাম রেল করিডরে যাত্রার সময় ৪ ঘণ্টায় নামিয়ে আনা।** টঙ্গী-আখাউড়া ও লাকসাম-চট্টগ্রাম সেকশনের ২২৭ কিলোমিটার আগামী চার বছরের মধ্যে ডুয়েলগেজ লাইনে রূপান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।সৈয়দপুর রেলওয়ে ওয়ার্কশপ ও কেন্দ্রীয় লোকোমোটিভ ওয়ার্কশপের (সিএলডব্লিউ) আধুনিকায়ন এবং নতুন ইউনিট স্থাপন।  রেলের নিজস্ব জমিতে ইঞ্জিন ও বগি উৎপাদনের নতুন কারখানা স্থাপনে বিদেশি বিনিয়োগ ও বেসরকারি অংশীদারত্ব উৎসাহিত করা।ঢাকা শহরের যানজট কমাতে ঢাকা-টঙ্গী সেকশনের গুরুত্বপূর্ণ লেভেল ক্রসিংয়ে আন্ডারপাস/ওভারপাস নির্মাণ।   শিক্ষার্থী, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধীদের জন্য ভাড়া ছাড়ের বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে।রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ফাহিমুল ইসলাম আজকের পত্রিকাকে বলেন, _‘রেলের উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী বেশ কিছু দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। সেগুলো কীভাবে বাস্তবায়ন করতে পারি, তা নিয়ে আমরা কাজ শুরু করেছি। ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনায় এসব দিকনির্দেশনার বাইরেও আরও কিছু যুক্ত হতে পারে।’বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক মো. হাদিউজ্জামান উদ্যোগগুলোকে স্বাগত জানিয়ে সতর্ক করেছেন। তিনি বলেন, _‘রেল উন্নয়নের উদ্যোগগুলো প্রয়োজনীয়। তবে বাস্তবায়নের আগে রেলের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা ও দক্ষ জনবলের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে। ইঞ্জিন-কোচের সংকটের পাশাপাশি প্রযুক্তি বোঝার মতো মানবসম্পদও দরকার। ডেমু ট্রেন পুনরায় চালুর মতো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সেটি টেকসই ও ব্যয়সাশ্রয়ী হবে কি না তা যাচাই করা জরুরি।’_ তিনি রেল পরিচালনায় অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞদের নিয়ে উদ্যোগগুলো পর্যালোচনার পরামর্শ দেন।
০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
হযরত ওসমান (রাঃ) এর দান আজও বহমান

হযরত ওসমান (রাঃ) এর দান আজও বহমান

মহানবী (সাঃ) নবুওয়াত প্রাপ্তির ১৩তম বছর। মুসলমানরা মাত্র মক্কা ছেড়ে মদিনায় এসেছেন। অচেনা পরিবেশে দেখা দেয় সুপেয় পানির তীব্র সংকট।মদিনায় ‘বিরে রুমা’ বা রুমার কূপ নামে ইহুদিদের একটি কূপ ছিল। ইহুদিরা এ সুযোগে কূপের পানি মুসলমানদের কাছে চড়া দামে বিক্রি করতে শুরু করলেন। সাহাবারা রাসূলকে (স) এ বিষয়ে অবগত করলে তিনি বললেন—“তোমাদের মধ্যে কে আছ যে, এই কূপ মুসলমানদের জন্য ক্রয় করে দেবে। মুসলমানদের এই কূপ যে খরিদ করে দেবে, আল্লাহ তাকে জান্নাতে ঝর্ণা দান করবেন।”রাসূলের (স) কথায় হজরত ওসমান (র) ইহুদির কাছে এই কূপ ক্রয়ের ইচ্ছা প্রকাশ করলেন। ইহুদি তার প্রস্তাব ফিরিয়ে দিলে তিনি বললেন, পুরো কূপ বিক্রি না করলে অর্ধেক বিক্রি করুন। এতে একদিন কূপের মালিক হবেন তিনি আর আরেক দিন ইহুদি। ওসমান (র) অর্ধেক কূপ ক্রয় করে বিনামূল্যে পানি বিতরণ করতে লাগলেন। লোকজন ওসমানের (র) ক্রয় করা নির্ধারিত দিনে পানি সংগ্রহ করত এবং পরের দিনের জন্যও পর্যাপ্ত পরিমাণে মজুত করে রাখত।ইহুদির দিনে কেউ পানি সংগ্রহ করতে যেত না। ফলে তার পানির ব্যবসা মন্দা হয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত সে নিজেই পুরো কূপ বিক্রির জন্য ওসমানের (র) কাছে প্রস্তাব পেশ করে। ওসমান (র) ৩৫ হাজার রৌপ্য মুদ্রায় কূপটি কিনে মুসলমানদের জন্য ওয়াকফ করে দেন।এক ধনী লোক দ্বিগুণ দামে কূপটি কিনতে চাইলে তিনি বলেন—“আমার চাহিদা এর চেয়ে আরও অনেক বেশি।” লোকটি মূল্য বাড়াতে থাকলে ওসমান (র) বলেন—“আমার আল্লাহ আমাকে প্রতি নেকিতে ১০ গুণ বাড়িয়ে দেওয়ার কথা বলেছেন।”হজরত ওসমানের (র) শাসনামলে এই কূপের চারপাশে খেজুর বাগান তৈরি হয়। সময়ের চাকা ঘুরে বহু উত্থান-পতনের পর সৌদি রাজপরিবার ক্ষমতায় আসার সময়ে বাগানে খেজুরগাছের সংখ্যা দাঁড়ায় ১৫৫০টিতে। সরকার বাগানের চারদিকে দেয়াল তৈরি করে দেয়। এই ভূসম্পত্তি ওসমানের (র) নামে দলিল করে দেয় এবং তার নামে একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা হয়।বিস্ময়কর হলেও সত্য যে, সৌদি আরবে এখনো তৃতীয় খলিফা হজরত ওসমানের (র) নামে দলিল করা প্রপার্টি রয়েছে। রয়েছে ব্যাংক অ্যাকাউন্টও। আরও মজার বিষয় হলো— মাস ফুরালে এখনো তার নামেই আসে গ্যাস ও বিদ্যুতের বিল।সৌদির কৃষি মন্ত্রণালয় এই বাগানের খেজুর বিক্রি করে অর্জিত অর্থ ওসমানের (র) অ্যাকাউন্টে জমা রাখে। সঞ্চিত অর্থ দিয়ে মদিনায় একটি বড় প্রপার্টি ক্রয় করা হয়। সেখানে নির্মিত হয় “হোটেল ওসমান বিন আফফান” নামে একটি আবাসিক হোটেল।হোটেলটির নির্মাণকাজ ২০১৪-১৫ সালে সমাপ্ত হয় এবং বর্তমানে এটি চালু রয়েছে। হোটেলের নেমপ্লেটে লেখা আছে—“মালিক সাইয়্যিদুনা উসমান (র)।” যেহেতু তার ওয়াকফকৃত সম্পত্তি থেকে অর্জিত অর্থে এটি নির্মিত, তাই মালিক হিসেবে তার নামই উল্লেখ করা হয়েছে।এই হোটেল থেকে প্রতি বছর প্রায় ৫০ মিলিয়ন রিয়াল আয় হবে বলে আশা করছে সৌদি সরকার। হোটেলের আয়ও ওসমানের (র) অন্য সম্পদের মতো একভাগ এতিম-মিসকিনদের দান করা হয় এবং আরেক ভাগ তার নামে পরিচালিত অ্যাকাউন্টে জমা রাখা হয়। অর্থের অর্ধেক অসহায়-দুস্থদের মানবতার সেবায় ব্যয় করা হয়, আর অর্ধেক হজরত ওসমানের (র) ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হয়। সুবহান আল্লাহ। হজরত ওসমান (র) এর দান আল্লাহ এমনভাবে গ্রহণ করেছেন যে, কেয়ামত পর্যন্ত তা চালু থাকবে। তার আখেরাতের অ্যাকাউন্টে তো সওয়াব জমা হচ্ছেই, দুনিয়ার অ্যাকাউন্টের ব্যালেন্সও ফুরাবার নয়।
অনলাইন ডেস্ক