ঢাকা    শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬
ঢাকা    শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬
গণবার্তা
সর্বশেষ

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে বাজেট বেড়ে ১২ হাজার কোটি টাকা, সর্বোচ্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে

দেশের ৫৮টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ১২ হাজার ১ কোটি ৮২ লাখ টাকা বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক মামুন আহমেদের সভাপতিত্বে ১৭৮তম পূর্ণকমিশন সভায় এ বাজেট অনুমোদন করা হয়।সভায় একই সঙ্গে ইউজিসির নিজস্ব ব্যয়ের জন্য ২৯৮ কোটি ৫৮ লাখ টাকা বরাদ্দ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও ইউজিসির মোট বরাদ্দ দাঁড়িয়েছে ১২ হাজার ৩০০ কোটি ৪ লাখ টাকা।সভায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেট এবং ২০২৬-২৭ অর্থবছরের মূল বাজেটের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন ইউজিসির অর্থ ও হিসাব বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্য অধ্যাপক মোহাম্মদ আইয়ুব ইসলাম।পরিচালন ও উন্নয়ন ব্যয় বরাদ্দপাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মোট বাজেটের মধ্যে—পরিচালন ব্যয়: ৭ হাজার ৪২৮ কোটি ৪৩ লাখ টাকাউন্নয়ন ব্যয় (৪৩টি প্রকল্পের অনুকূলে): ৪ হাজার ৫৭৩ কোটি ৩৯ লাখ টাকা২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৫৭টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুকূলে সংশোধিত বাজেটে বরাদ্দের পরিমাণ ছিল ১০ হাজার ৮০২ কোটি ২১ লাখ টাকা। সে হিসাবে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বরাদ্দ বেড়েছে ১ হাজার ৪৯৭ কোটি ৮৩ লাখ টাকা।সর্বোচ্চ বাজেট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে২০২৬-২৭ অর্থবছরে সর্বোচ্চ রাজস্ব বাজেট পেয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, যার পরিমাণ ৯৪৯ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। অন্যান্য বড় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও বাজেট বৃদ্ধির প্রবণতা দেখা গেছে।গবেষণা ও বৈদেশিক স্কলারশিপে ২৩৮ কোটি টাকাউচ্চশিক্ষায় গবেষণা ও বৈশ্বিক উচ্চশিক্ষার জন্য স্কলারশিপ খাতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ইউজিসির মূল বাজেটে ২৩৮ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।২০২৫-২৬ অর্থবছরের মূল বাজেটে গবেষণা ও বৈদেশিক স্কলারশিপ খাতে মোট ২২৯ কোটি টাকা বরাদ্দ ছিল। তার মধ্যে—বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বাজেটে: ১৯৪ কোটি টাকাইউজিসির বাজেটে: ৩৫ কোটি টাকাআগামী অর্থবছরে এ খাতে মোট বরাদ্দ ৯ কোটি টাকা বেড়েছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ইউজিসির জন্য বরাদ্দকৃত মোট বাজেটের প্রায় ৮০ শতাংশ গবেষণা ও বৈদেশিক স্কলারশিপ খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে।গবেষণা খাত একীভূত করার সিদ্ধান্ত২০২৬ সালের ৪ এপ্রিল অনুষ্ঠিত মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের মধ্যমেয়াদি বাজেট কাঠামো (২০২৬-২৭ থেকে ২০২৮-২৯) বিষয়ক ত্রিপক্ষীয় সভায় গবেষণা খাতে দ্বৈততা পরিহারের লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয় এবং ইউজিসির গবেষণা খাত একীভূত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গবেষণা খাতের ২০০ কোটি টাকা কমিশনের বাজেটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ফলে ইউজিসির গবেষণা খাতে বরাদ্দ দাঁড়িয়েছে ২২৬ কোটি টাকা। এর সঙ্গে বৈদেশিক স্কলারশিপ খাতে ১২ কোটি টাকা যোগ হয়ে মোট বরাদ্দ হয়েছে ২৩৮ কোটি টাকা।ইউজিসি চেয়ারম্যান যা বললেনবিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত একটি নীতিমালা প্রণয়নের মাধ্যমে গবেষণা খাতের এ বরাদ্দ আরও কার্যকরভাবে ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক মামুন আহমেদ।তিনি বলেন, “গবেষণার অর্থ কেন্দ্রীয়ভাবে বরাদ্দ করা হলেও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গবেষণা কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হবে না। গবেষণার সম্ভাব্য প্রভাব, গুণগত মান এবং প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় অর্থ আরও কার্যকরভাবে বণ্টনের সুযোগ সৃষ্টি হবে।”বাজেটে শিক্ষার্থীদের জন্য সুফল কতটুকু?সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেট বেড়েছে ঠিকই, কিন্তু শিক্ষার্থীদের প্রকৃত সুবিধা নির্ভর করবে এই অর্থ কতটা কার্যকরভাবে ব্যয় হচ্ছে তার ওপর। গবেষণা খাত একীভূত করার ফলে প্রশাসনিক জটিলতা কমবে বলে আশা করা হলেও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর স্বায়ত্তশাসন ও গবেষণার গুণগত মান বজায় রাখার বিষয়টি বিবেচনায় রাখতে হবে।ইউজিসি সূত্র জানিয়েছে, বাজেট বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণে তারা কঠোর নজরদারি করবে। সময়মতো প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যর্থ ও বাজেটের অপব্যবহারের ঘটনা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।
২ ঘন্টা আগে

বাজেটের লক্ষ্য বাস্তবসম্মত নয়, সুশাসন সংস্কার ছাড়া সুফল মিলবে না: সিপিডি

প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে মন্থর প্রবৃদ্ধি ও বড় লক্ষ্যমাত্রা পূরণে বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নেওয়ার তাগিদ দিয়েছে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। সংস্থাটির মতে, বাজেট বাস্তবায়নের জন্য যে বেজলাইন (ভিত্তি) ধরা হয়েছে, তা বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়।শুক্রবার রাজধানীর হোটেল লেকশোরে ‘জাতীয় বাজেট ২০২৬–২৭: সিপিডির পর্যালোচনা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন সিপিডির গবেষক ও সম্মাননীয় ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান।দুর্বল ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে বাজেটের লক্ষ্যমাত্রাসংবাদ সম্মেলনে ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘সরকার ২০২৫-২৬ অর্থবছরের যে ভিত্তি ধরে প্রবৃদ্ধি, বিনিয়োগ ও ঋণপ্রবাহের প্রাক্কলন করেছে, তা অত্যন্ত দুর্বল। চলতি অর্থবছরের চতুর্থ কোয়ার্টারে অর্থনীতিতে হঠাৎ করে এক জাদুকরী ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটবে—এমন একটি অবাস্তব অনুমান করে এই বাজেট সাজানো হয়েছে।’তিনি পরিসংখ্যান তুলে ধরে জানান, গত ১০ মাসে দেশের রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ছিল ঋণাত্মক—মাইনাস ১ দশমিক ২৮ শতাংশ, অথচ বাজেটে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে ৮ দশমিক ৭ শতাংশ। মূল্যস্ফীতি বর্তমানে সাড়ে ৯ শতাংশের ওপরে থাকলেও লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৫ শতাংশের নিচে। একইভাবে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হলে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ প্রকৃত প্রবৃদ্ধি প্রয়োজন, যা বর্তমান কর প্রশাসনের সক্ষমতায় অসম্ভব।বড়দের কর ছাড়, ছোটদের ওপর চাপবাজেটে করজাল বাড়াতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি বা এসএমই উদ্যোক্তাদের ওপর টিআইএন ও বিআইএন বাধ্যতামূলক করার সমালোচনা করেন সাংবাদিকেরা। জবাবে সিপিডির গবেষকেরা বলেন, বড় বড় শিল্পগোষ্ঠীকে প্রণোদনা দেওয়া হলেও প্রান্তিক ও রিটেইল ব্যবসায়ীদের ট্রেড লাইসেন্স ও ব্যাংক হিসাব খোলার ক্ষেত্রে কঠোর নিয়ম আরোপ করা হয়েছে।যেখানে দেশের ৪৫ শতাংশ মানুষ এখনও ব্যাংকিং সেবার বাইরে, সেখানে এ ধরনের কড়াকড়ি প্রান্তিক ব্যবসায়ীদের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করবে। বিশেষ করে উচ্চ সুদের হারের এই সময়ে কর ফাঁকি রোধের নামে ছোট ব্যবসায়ীদের টার্গেট করায় তারা চাপের মুখে পড়বে।তবে বাজেটে এসএমই খাতের জন্য বন্ড সুবিধা ও ব্যাংক গ্যারান্টির মতো কিছু ইতিবাচক প্রস্তাব রয়েছে উল্লেখ করে সিপিডি জানায়, এগুলোর সুবিধা পেতে হলে বাস্তবায়ন পর্যায়ে বিশেষ নজর দিতে হবে।চাকরি ছাঁটাইয়ের হিড়িক ও কর্মসংস্থানের অনিশ্চয়তাদেশে প্রতি বছর ২০ থেকে ২২ লাখ নতুন তরুণ শ্রমবাজারে প্রবেশ করলেও বিনিয়োগের স্থবিরতায় নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হচ্ছে না। উপরন্তু তৈরি পোশাক বা আরএমজি খাতসহ বিভিন্ন বড় শিল্পে হাজার হাজার কর্মী ছাঁটাইয়ের খবর আসছে। এ প্রসঙ্গে সিপিডির সিনিয়র সহযোগী গবেষক তামিম আহমেদ বলেন, ‘ডোমেস্টিক ইনভেস্টমেন্ট এবং এফডিআই গত দুই বছর ধরে কমতির দিকে।’সিপিডি প্রস্তাব করে, বৈশ্বিক মন্দা বা অভ্যন্তরীণ সংকটে কোনো কোম্পানি দেউলিয়া হলে শ্রমিকদের বকেয়া মজুরি সুরক্ষায় একটি ‘ওয়েজ সিকিউরিটি ইন্সুরেন্স’ চালু করা প্রয়োজন ছিল, যার প্রতিফলন বাজেটে দেখা যায়নি। এ ছাড়া যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে বড় অঙ্কের বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হলেও পরবর্তী সময়ে সংশোধিত বাজেটে তা নাটকীয়ভাবে কমিয়ে ফেলার পুরনো প্রবণতা এবারও লক্ষ করা গেছে।রাজস্ব ঘাটতি ও ঋণের ফাঁদড. মোস্তাফিজুর রহমান সতর্ক করে বলেন, বাজেটের ব্যয় পরিকল্পনা অনুযায়ী যদি রাজস্ব আদায় না হয়, তবে সরকারকে ব্যাংক ও বৈদেশিক ঋণের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হতে হবে। ইতিমধ্যেই সুদ পরিশোধের জন্য ১ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখতে হচ্ছে। নতুন করে অতিরিক্ত ঋণ নিলে সুদ পরিশোধের চাপ আরও বৃদ্ধি পাবে এবং সামষ্টিক অর্থনীতি বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়বে।তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ‘সুবিধাবাদী কর কাঠামো ও রাজস্ব খাতের ব্যাপক সংস্কার না হলে এই বাজেট ঘাটতি পরবর্তী প্রজন্মের জন্য এক অভিশাপ হয়ে দাঁড়াবে।’প্রয়োজন প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার ও সুশাসনসংবাদ সম্মেলনে সিপিডি স্পষ্ট ভাষায় জানায়, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়ালেও তা খরচের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর নেই। উদাহরণস্বরূপ, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় তাদের জন্য বরাদ্দকৃত বাজেটও পুরোপুরি খরচ করতে পারে না।ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘কাঠামোগত দিক থেকে বাজেটের শুল্ক ও রাজস্ব নীতিমালা ভালো হলেও, সুশাসন এবং প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার ছাড়া এর সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাবে না। এডিপি বাস্তবায়নকে সাশ্রয়ী, সময়োপযোগী এবং সুশাসনের আওতায় আনতে হবে। অন্যথায় এই বাজেট কেবলই একটি কাগুজে দলিলে পরিণত হবে।’সিপিডি সরকারকে কয়েকটি সুপারিশ দিয়েছে:রাজস্ব আহরণে স্বল্প ও মাঝারি মেয়াদি বাস্তবসম্মত লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণকর ফাঁকি রোধে বিআইএন ও টিআইএন বাধ্যতামূলক না এনে প্রণোদনাভিত্তিক কর জমা দেওয়ার ব্যবস্থা করাশ্রমিক বকেয়া মজুরি সুরক্ষায় ‘ওয়েজ সিকিউরিটি ইন্সুরেন্স’ চালু করাস্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে বাজেট বাস্তবায়নের সক্ষমতা বৃদ্ধিএডিপি বাস্তবায়নে সুশাসন ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাসিপিডি মনে করে, সরকার যদি দ্রুত এসব সংস্কার না করে, তবে এই বিশাল অঙ্কের বাজেট প্রকৃত অর্থনৈতিক মুক্তি না এনে বরং দেশকে ঋণের ফাঁদে আরও জড়াবে। এর ফলে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে এবং সাধারণ মানুষ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
২ ঘন্টা আগে

বাংলাদেশে এসেই দুই দেশের ‘এক হয়ে যাওয়ার’ প্রস্তাব নতুন ভারতীয় হাইকমিশনারের

বাংলাদেশে নবনিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী বলেছেন, ভারতের ১৪০ কোটি জনসংখ্যা আর বাংলাদেশের ২০ কোটি—এই দুই মিললে দাঁড়ায় ১৬০ কোটি। তার মতে, দুই গণতান্ত্রিক দেশের শক্তি এক হলে তা বিশ্বশক্তিতে পরিণত হবে এবং আন্তর্জাতিকভাবে এক বিশাল জনশক্তিতে রূপ নেবে। এজন্য দুই দেশের সহযোগিতা থাকা দরকার।শুক্রবার দুপুর সাড়ে ১১টার পর বেনাপোল-পেট্রাপোল স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশের সময় গণমাধ্যমকর্মীদের মুখোমুখি হয়ে এসব কথা বলেন তিনি।‘একটা শক্তি হলে হবে না, দুই দেশ মিলে যে শক্তি হবে সেটাই আসল’বাংলাদেশের মাটিতে পা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই হাইকমিশনার প্রশাসনিক কোনো কথার বদলে সরাসরি ‘এক হওয়ার’ প্রস্তাবনা দিয়ে বসেন। তিনি বলেন, “একটা শক্তি হলে হবে না। দুই দেশ মিলে যে শক্তি হবে, ওইটা আসল শক্তি। ওই শক্তিটা যেন পুরো পৃথিবী দেখে।”তিনি আরও বলেন, ভারত ও বাংলাদেশের যে প্রতিভা আছে, তাদের নিয়ে আগামী প্রজন্মের জন্য খেলাধুলা, স্বাস্থ্য, টেকনোলজি—সবকিছু নিয়ে কাজ করবেন তিনি। দুই দেশের প্রতিভা ও সম্পদ কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য যৌথভাবে কাজ করার আগ্রহ জানান নবনিযুক্ত এই কূটনীতিক।‘অভিন্ন আকাশ-বাতাস ভাগাভাগি করে দুই দেশ’বেনাপোল স্থলবন্দরে আগমনের পর সাংবাদিকরা সীমান্তে ‘পুশইন’ ইস্যু ও ভ্রমণ-বাণিজ্যে আরোপিত বিধিনিষেধ প্রত্যাহার প্রসঙ্গে প্রশ্ন করলে দিনেশ ত্রিবেদী বলেন, ভারত ও বাংলাদেশ অভিন্ন আকাশ-বাতাস ভাগাভাগি করে। দুই দেশের জন্য যা কল্যাণকর, ভবিষ্যতে সে ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে।সরাসরি পুশইন বা চলমান বিধিনিষেধ প্রত্যাহারের বিষয়ে তিনি তেমন কিছু বলেননি। তবে ‘উভয় দেশের স্বার্থে কাজ করা’ হবে বলে দর্শকদের আশ্বস্ত করেন।নোম্যান্সল্যান্ডে স্বাগতমবাংলাদেশে আসার সময় নোম্যান্সল্যান্ডে তাকে স্বাগত জানান স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ভারতীয় হাইকমিশন ও বেনাপোল স্থলবন্দরের প্রতিনিধিরা। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী মৃণাল ত্রিবেদী।বেনাপোল স্থলপথে তার আগমনে উপস্থিত ছিলেন বেনাপোল পোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), ইমিগ্রেশন কর্মকর্তা, বিজিবি ও বিএসএফের সদস্যবৃন্দ। করোনা-পরবর্তী সময়ে স্থলপথে সরাসরি কূটনীতিকের যাতায়াত বাড়ায় এটিকে ইতিবাচক অঙ্গীকার হিসেবেও দেখছেন পর্যবেক্ষকরা।ইতিহাসে প্রথম ‘রাজনীতিবিদ’ হাইকমিশনারগত এপ্রিল মাসে ভারত সরকার সাবেক কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী ও বিজেপি নেতা দিনেশ ত্রিবেদীকে বাংলাদেশে হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেয়। দুই দেশের ৫৫ বছরের কূটনৈতিক ইতিহাসে এই প্রথম কোনো রাজনীতিবিদকে বাংলাদেশে ভারতের হাইকমিশনার করা হলো।তিনি প্রণয় ভার্মার স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন। প্রণয় ভার্মা বর্তমানে ব্রাসেলসে ভারতের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।বাংলাদেশে আসার আগে যা বলেছিলেন হাইকমিশনারদিনেশ ত্রিবেদী যাত্রার শুরুতে পেট্রাপোল স্থলবন্দরে গণমাধ্যমকে বলেন, “আমি খুবই আনন্দিত এবং উচ্ছ্বসিত। বাংলাদেশে আমি পূর্বে অনেকবার এসেছি, কিন্তু এখন দায়িত্ব নিয়ে আসছি। গত ৭ বছর ধরে আমি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলাম। আবার নতুন করে কূটনৈতিক জগতে কাজ করতে পেরে ভালো লাগছে।”বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে দিনেশ ত্রিবেদীকে ‘অ্যাগ্রিমেন্ট অন দ্য অ্যাসাইনমেন্ট’ (অ্যাগ্রিমো) দিয়েছে। আনুষ্ঠানিকভাবে তিনি ডিসেম্বর থেকে ঢাকায় হাইকমিশনার হিসেবে যোগ দিতে পারেন। তবে নিজ দেশের সরকারি কাজ শেষে শুক্রবার (১২ জুন) সকালে তিনি সপরিবারে স্থলপথে ঢাকায় আসেন।কূটনৈতিক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়ানতুন হাইকমিশনারের প্রথম বক্তৃতা কূটনৈতিক মহলে আলোড়ন ফেলেছে। ‘এক হওয়া’ ও ‘১৬০ কোটি জনশক্তি’ প্রসঙ্গে কেউ কেউ বলছেন, এটি দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক সহযোগিতার কথা বলছে। আবার কেউ কেউ মনে করছেন, বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও স্বকীয়তা সংকুচিত করার ইঙ্গিত দেয় এই বক্তব্য।তবে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে এখনো এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।দিনেশ ত্রিবেদী সাংবাদিকদের শেষে বলেন, “আমি আশাবাদী। দুই দেশের মধ্যকার সব বাধা দূর হবে। শুধু বাণিজ্য সীমান্ত নয়, মানুষের হৃদয়ের সীমান্তও খুলে যাবে।” আগামী দিনগুলোতে তিনি ঢাকায় এসে রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন দফতরে পরিচয়পত্র জমা দেবেন এবং আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।
৩ ঘন্টা আগে
নয়াদিল্লিতে যৌথ সংবাদ সম্মেলন ছাড়াই শেষ হলো বিএসএফ-বিজিবি বৈঠক

নয়াদিল্লিতে যৌথ সংবাদ সম্মেলন ছাড়াই শেষ হলো বিএসএফ-বিজিবি বৈঠক

নয়াদিল্লিতে যৌথ সংবাদ সম্মেলন ছাড়াই শেষ হলো বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর শীর্ষ পর্যায়ে চার দিনের বৈঠক। সেখানে সীমান্তের সাম্প্রতিক উত্তেজনাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে ভারতীয় সংবাদ সংস্থা পিটিআই জানিয়েছে।দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের ইতিহাসে এই প্রথম এমন ঘটনা ঘটল। গত সোমবার বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবির প্রধান মেজর জেনারেল মহম্মদ আশরাফুজ্জামানের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধি দল নয়াদিল্লিতে পৌঁছে বিএসএফের ডিজি প্রবীণ কুমারসহ অন্যান্য কর্তাদের সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনা করেন। মঙ্গলবার দিল্লির লোদী রোডে বিএসএফের সদর দফতরে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছিল ভারত-বাংলাদেশ ৫৭তম সীমান্ত শীর্ষবৈঠক।যৌথ বিবৃতি থাকছে, সংবাদ সম্মেলন নেইকিন্তু নজিরবিহীন ভাবে শীর্ষবৈঠক শেষে যৌথ আলোচনার নথিতে স্বাক্ষরের পর দুই বাহিনীর ডিজি প্রথা মেনে যৌথ সাংবাদিক সম্মেলন করেননি। শুধু কী কী বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে সে সম্পর্কে একটি প্রেস বিবৃতি দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা না দিয়েই সাংবাদিক সম্মেলন বাতিল করা হয়।বিশ্লেষকরা বলছেন, সীমান্ত হত্যা ও পুশইনের মতো সংবেদনশীল বিষয়ে দুই পক্ষের মধ্যে ঐক্যমত্য না হওয়ার কারণেই হয়তো প্রচলিত এই রীতি ভাঙতে হয়েছে।সীমান্ত উত্তেজনা ও পুশইন ইস্যুচলতি বছরের গোড়ার দিকে বাংলাদেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর ঢাকায় বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর এবং পশ্চিমবঙ্গে নতুন বিজেপি সরকার নির্বাচিত হওয়ার পর এটিই ছিল দুই প্রতিবেশী দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর প্রথম বৈঠক।বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ গত রোববার ঢাকায় সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন যে বিএসএফের ‘পুশইন’ এবং সীমান্তে গুলি চালানোর ঘটনাগুলো তারা বৈঠকে উত্থাপন করবেন। বাংলাদেশি প্রতিনিধি দল সীমান্তে প্রাণহানি ও ভারতীয় বাহিনীর আগ্রাসী আচরণের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বলে সূত্র জানায়।অন্যদিকে, ভারতীয় পক্ষ সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশি নাগরিকদের অনুপ্রবেশ (তাদের ভাষায়) বন্ধে কঠোর হওয়ার বার্তা দিয়েছে বলে জানা গেছে।পশ্চিমবঙ্গের ভূমিকাভারত-বাংলাদেশের মোট ৪,০৯৬ কিলোমিটার দীর্ঘ আন্তর্জাতিক সীমান্তের অর্ধেকেরও বেশি (২,২১৬ কিলোমিটার) পশ্চিমবঙ্গে অবস্থিত। সীমান্তের প্রায় ৮৬০ কিলোমিটার অংশ এখনও কাঁটাতারের বেড়াবিহীন রয়েছে, যার মধ্যে ১৭৪.৫১ কিলোমিটার এমন এলাকা রয়েছে যেখানে বেড়া নির্মাণ সম্ভব নয়।পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সরকার ইতিমধ্যেই ঘোষণা করেছে যে তারা অবৈধ বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে। তাদের ভাষায়—অনুপ্রবেশকারী ব্যক্তিদের ‘ডিটেক্ট, ডিলিট অ্যান্ড ডিপোর্ট’ বা শনাক্ত, তালিকা থেকে বাদ এবং বহিষ্কারের পর্যায়ক্রমিক থ্রিডি অ্যাকশনের মুখোমুখি হতে হবে।এই বক্তব্য নিয়ে বাংলাদেশে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, “আমাদের কোনো নাগরিক অবৈধভাবে সীমান্ত পার হচ্ছে—এমন কোনো প্রমাণ এখনো তারা পায়নি। পুশইনের চেষ্টা ও গুলি চালানো বন্ধ করাই দুই দেশের স্বার্থে।”আলোচনার ইতিহাসপ্রসঙ্গত, দুই দেশের মধ্যে ডিজি-স্তরের সীমান্ত বৈঠক ১৯৭৫ থেকে ১৯৯২ সাল পর্যন্ত প্রতি বছর অনুষ্ঠিত হতো। তবে ১৯৯৩ সালে এটিকে বছরে দু’বার আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। যেখানে উভয়পক্ষ পর্যায়ক্রমে নয়াদিল্লি ও ঢাকায় বৈঠকে অংশ নেয়।বিএসএফ-বিজিবি সর্বশেষ বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০২৫ সালের আগস্টে ঢাকায়। তখন বাংলাদেশে মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ক্ষমতায় ছিল।সাংবাদিক সম্মেলন না হওয়ার তাৎপর্যএবারের বৈঠকে যৌথ সংবাদ সম্মেলন না হওয়াকে অনেকে ‘কূটনৈতিক শীতলতা’ হিসেবে দেখছেন। সূত্র জানিয়েছে, ‘পুশইন’ ও সীমান্ত হত্যার ঘটনায় বাংলাদেশের তীব্র অবস্থানের কারণে ভারতীয় পক্ষ চাপ অনুভব করেছে। পশ্চিমবঙ্গের নতুন সরকারের কঠোর বক্তব্যও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে নতুন টানাপড়েন সৃষ্টি করেছে।ভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে আরও জানা গেছে, উভয়পক্ষ সীমান্ত অপরাধ, চোরাচালান, মাদক পাচার ও মানবপাচারসহ বেশ কয়েকটি বিষয়ে আলোচনা করেছে। তবে ‘যৌথ বিবৃতিতে’ কী থাকছে, সেদিকে তাকিয়ে রয়েছে উভয় দেশের কূটনীতিক মহল।এখন পর্যন্ত ভারতীয় বিএসএফ বা বাংলাদেশের বিজিবি কেউই আনুষ্ঠানিক কোনো প্রেস বিবৃতি দেয়নি। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে যৌথ বিবৃতি প্রকাশিত হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। সেখানে কোনো সমঝোতা হয়েছে কিনা, নাকি আলোচনা অনিশ্চিত অবস্থায় শেষ হয়েছে—তা পরিষ্কার হবে।
২ মিনিট আগে
নয়াদিল্লিতে যৌথ সংবাদ সম্মেলন ছাড়াই শেষ হলো বিএসএফ-বিজিবি বৈঠক

নয়াদিল্লিতে যৌথ সংবাদ সম্মেলন ছাড়াই শেষ হলো বিএসএফ-বিজিবি বৈঠক

নয়াদিল্লিতে যৌথ সংবাদ সম্মেলন ছাড়াই শেষ হলো বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর শীর্ষ পর্যায়ে চার দিনের বৈঠক। সেখানে সীমান্তের সাম্প্রতিক উত্তেজনাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে ভারতীয় সংবাদ সংস্থা পিটিআই জানিয়েছে।দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের ইতিহাসে এই প্রথম এমন ঘটনা ঘটল। গত সোমবার বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবির প্রধান মেজর জেনারেল মহম্মদ আশরাফুজ্জামানের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধি দল নয়াদিল্লিতে পৌঁছে বিএসএফের ডিজি প্রবীণ কুমারসহ অন্যান্য কর্তাদের সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনা করেন। মঙ্গলবার দিল্লির লোদী রোডে বিএসএফের সদর দফতরে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছিল ভারত-বাংলাদেশ ৫৭তম সীমান্ত শীর্ষবৈঠক।যৌথ বিবৃতি থাকছে, সংবাদ সম্মেলন নেইকিন্তু নজিরবিহীন ভাবে শীর্ষবৈঠক শেষে যৌথ আলোচনার নথিতে স্বাক্ষরের পর দুই বাহিনীর ডিজি প্রথা মেনে যৌথ সাংবাদিক সম্মেলন করেননি। শুধু কী কী বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে সে সম্পর্কে একটি প্রেস বিবৃতি দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা না দিয়েই সাংবাদিক সম্মেলন বাতিল করা হয়।বিশ্লেষকরা বলছেন, সীমান্ত হত্যা ও পুশইনের মতো সংবেদনশীল বিষয়ে দুই পক্ষের মধ্যে ঐক্যমত্য না হওয়ার কারণেই হয়তো প্রচলিত এই রীতি ভাঙতে হয়েছে।সীমান্ত উত্তেজনা ও পুশইন ইস্যুচলতি বছরের গোড়ার দিকে বাংলাদেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর ঢাকায় বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর এবং পশ্চিমবঙ্গে নতুন বিজেপি সরকার নির্বাচিত হওয়ার পর এটিই ছিল দুই প্রতিবেশী দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর প্রথম বৈঠক।বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ গত রোববার ঢাকায় সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন যে বিএসএফের ‘পুশইন’ এবং সীমান্তে গুলি চালানোর ঘটনাগুলো তারা বৈঠকে উত্থাপন করবেন। বাংলাদেশি প্রতিনিধি দল সীমান্তে প্রাণহানি ও ভারতীয় বাহিনীর আগ্রাসী আচরণের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বলে সূত্র জানায়।অন্যদিকে, ভারতীয় পক্ষ সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশি নাগরিকদের অনুপ্রবেশ (তাদের ভাষায়) বন্ধে কঠোর হওয়ার বার্তা দিয়েছে বলে জানা গেছে।পশ্চিমবঙ্গের ভূমিকাভারত-বাংলাদেশের মোট ৪,০৯৬ কিলোমিটার দীর্ঘ আন্তর্জাতিক সীমান্তের অর্ধেকেরও বেশি (২,২১৬ কিলোমিটার) পশ্চিমবঙ্গে অবস্থিত। সীমান্তের প্রায় ৮৬০ কিলোমিটার অংশ এখনও কাঁটাতারের বেড়াবিহীন রয়েছে, যার মধ্যে ১৭৪.৫১ কিলোমিটার এমন এলাকা রয়েছে যেখানে বেড়া নির্মাণ সম্ভব নয়।পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সরকার ইতিমধ্যেই ঘোষণা করেছে যে তারা অবৈধ বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে। তাদের ভাষায়—অনুপ্রবেশকারী ব্যক্তিদের ‘ডিটেক্ট, ডিলিট অ্যান্ড ডিপোর্ট’ বা শনাক্ত, তালিকা থেকে বাদ এবং বহিষ্কারের পর্যায়ক্রমিক থ্রিডি অ্যাকশনের মুখোমুখি হতে হবে।এই বক্তব্য নিয়ে বাংলাদেশে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, “আমাদের কোনো নাগরিক অবৈধভাবে সীমান্ত পার হচ্ছে—এমন কোনো প্রমাণ এখনো তারা পায়নি। পুশইনের চেষ্টা ও গুলি চালানো বন্ধ করাই দুই দেশের স্বার্থে।”আলোচনার ইতিহাসপ্রসঙ্গত, দুই দেশের মধ্যে ডিজি-স্তরের সীমান্ত বৈঠক ১৯৭৫ থেকে ১৯৯২ সাল পর্যন্ত প্রতি বছর অনুষ্ঠিত হতো। তবে ১৯৯৩ সালে এটিকে বছরে দু’বার আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। যেখানে উভয়পক্ষ পর্যায়ক্রমে নয়াদিল্লি ও ঢাকায় বৈঠকে অংশ নেয়।বিএসএফ-বিজিবি সর্বশেষ বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০২৫ সালের আগস্টে ঢাকায়। তখন বাংলাদেশে মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ক্ষমতায় ছিল।সাংবাদিক সম্মেলন না হওয়ার তাৎপর্যএবারের বৈঠকে যৌথ সংবাদ সম্মেলন না হওয়াকে অনেকে ‘কূটনৈতিক শীতলতা’ হিসেবে দেখছেন। সূত্র জানিয়েছে, ‘পুশইন’ ও সীমান্ত হত্যার ঘটনায় বাংলাদেশের তীব্র অবস্থানের কারণে ভারতীয় পক্ষ চাপ অনুভব করেছে। পশ্চিমবঙ্গের নতুন সরকারের কঠোর বক্তব্যও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে নতুন টানাপড়েন সৃষ্টি করেছে।ভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে আরও জানা গেছে, উভয়পক্ষ সীমান্ত অপরাধ, চোরাচালান, মাদক পাচার ও মানবপাচারসহ বেশ কয়েকটি বিষয়ে আলোচনা করেছে। তবে ‘যৌথ বিবৃতিতে’ কী থাকছে, সেদিকে তাকিয়ে রয়েছে উভয় দেশের কূটনীতিক মহল।এখন পর্যন্ত ভারতীয় বিএসএফ বা বাংলাদেশের বিজিবি কেউই আনুষ্ঠানিক কোনো প্রেস বিবৃতি দেয়নি। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে যৌথ বিবৃতি প্রকাশিত হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। সেখানে কোনো সমঝোতা হয়েছে কিনা, নাকি আলোচনা অনিশ্চিত অবস্থায় শেষ হয়েছে—তা পরিষ্কার হবে।
২ মিনিট আগে
পশ্চিমবঙ্গে ভরাডুবির পর তৃণমূলে নতুন সংকট, এনডিএতে যাওয়ার আগ্রহ ১৯ সাংসদের

পশ্চিমবঙ্গে ভরাডুবির পর তৃণমূলে নতুন সংকট, এনডিএতে যাওয়ার আগ্রহ ১৯ সাংসদের

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর নতুন সংকটে পড়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলীয় প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে অন্তত ১৯ জন সাংসদ এনডিএ জোটের সঙ্গে থাকার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন বলে দাবি করেছে ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।শুক্রবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এনডিটিভি জানিয়েছে, তাদের হাতে আসা একটি চিঠিতে তৃণমূল কংগ্রেসের ১৯ জন সাংসদের স্বাক্ষর রয়েছে। চিঠিতে তারা নিজেদের দল থেকে আলাদা হওয়ার ইচ্ছা এবং বিজেপি নেতৃত্বাধীন জাতীয় গণতান্ত্রিক জোটের (এনডিএ) সঙ্গে থাকার আগ্রহের কথা জানিয়েছেন।কারা আছেন চিঠিতেস্বাক্ষরকারীদের মধ্যে তৃণমূলের পরিচিত মুখ কাকলি ঘোষ দস্তিদার, শতাব্দী রায়, সায়নী ঘোষ ও ইউসুফ পাঠানের নাম রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। দলীয় সূত্রের বরাত দিয়ে এনডিটিভি জানিয়েছে, শিগগিরই আরও একজন প্রভাবশালী নেতা বিদ্রোহী শিবিরে যোগ দিতে পারেন।প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৮ মে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে পাঠানো চিঠিতে বিদ্রোহী সাংসদরা তৃণমূল থেকে পৃথক অবস্থান নেওয়ার কথা জানান। এর দুই দিন পর তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে স্পিকারের কাছে আরেকটি চিঠি পাঠিয়ে কাকলি ঘোষ দস্তিদারের পরিবর্তে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে দলের প্রধান হুইপ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার অনুরোধ করা হয়।আগেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন বিদ্রোহীরাএর আগে কাকলি ঘোষ দস্তিদার নিজেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, তৃণমূলের একটি অংশ দল ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তিনি তখন নাম প্রকাশ না করলেও সংসদে আলাদা বসার ব্যবস্থা চাওয়া এবং বিজেপির প্রতি সমর্থনের বিষয়টি উল্লেখ করেছিলেন। তার সেই ইঙ্গিত বাস্তব রূপ নিতে চলেছে বলে ধারণা করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।তিন সাংসদ ইতোমধ্যে পদত্যাগ করেছেনএদিকে দলটির তিনজন সাংসদ ইতোমধ্যে পদত্যাগ করেছেন। বৃহস্পতিবার রাজ্যসভার সদস্যপদ ছাড়েন প্রকাশ বারাইক। এর আগে ১০ জুন পদত্যাগ করেন সুশ্মিতা দেব এবং ৮ জুন পদ ছাড়েন সুখেন্দু রায়। তবে তারা বিদ্রোহী সাংসদদের চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন কিনা, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।বর্তমানে লোকসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের ২৮ জন সাংসদ রয়েছেন। ভারতের দলত্যাগবিরোধী আইন অনুযায়ী, আলাদা গোষ্ঠী হিসেবে স্বীকৃতি পেতে কমপক্ষে ১৯ জন সাংসদের সমর্থন প্রয়োজন। বিদ্রোহী শিবিরের দাবি, তাদের কাছে সেই সংখ্যাটি রয়েছে।মমতা ঘনিষ্ঠ নেতার পাল্টা অভিযোগঅন্যদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ নেতা কীর্তি আজাদ অভিযোগ করেছেন, বিজেপির চাপ ও প্রলোভনের মাধ্যমে কয়েকজন সাংসদের কাছ থেকে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে। বিজেপির কথিত ‘অপারেশন লোটাস’-এর সমালোচনা করে তিনি বলেন, “যারা দল ছাড়তে চান তারা যেতে পারেন, কিন্তু তারা প্রকৃত তৃণমূলের প্রতিনিধিত্ব করবেন না।”অভ্যন্তরীণ অসন্তোষের কারণ কী?দলটির অভ্যন্তরীণ অসন্তোষের পেছনে নেতৃত্বের ধরন, দুর্নীতির অভিযোগ এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে অতিরিক্ত ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত হওয়ার বিষয়গুলোকে দায়ী করা হচ্ছে। চারবারের সাংসদ শতাব্দী রায় অভিযোগ করেছেন, দলের সাধারণ নেতাকর্মীদের মতামতের কোনো মূল্যায়ন করা হতো না এবং সীমিত কয়েকজন নেতারই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে যাওয়ার সুযোগ ছিল।পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের ভরাডুবির পর দলের নেতৃত্বের প্রতি অনাস্থা ক্রমশ বাড়ছে। নির্বাচনে পরাজয়কে ঘিরে হতাশা এবং বিজেপির উত্থানের মধ্যে দলত্যাগের এ ঘটনা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য বড় ধাক্কা হতে চলেছে।কাঁটা হচ্ছে ‘অপারেশন লোটাস’ভারতের রাজনীতিতে ‘অপারেশন লোটাস’ শব্দটি বিজেপির দলত্যাগ করানোর কৌশল বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদরা এনডিএ জোটে যোগ দিলে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক সমীকরণ পুরোদমে বদলে যেতে পারে। ফলে লোকসভায় বিজেপির শক্তি আরও বাড়বে এবং তৃণমূল গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি আসন হারাবে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা।এখন দেখার বিষয়, বিদ্রোহী সাংসদদের এই দাবি সত্যি হয় কিনা এবং বিধানসভা নির্বাচনের ফল কত দ্রুত তৃণমূলের ভাঙন ত্বরান্বিত করে। উত্তরপ্রদেশের মতো পশ্চিমবঙ্গেও যদি একই দৃশ্যের পুনরাবৃত্তি ঘটে, তাহলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য চ্যালেঞ্জ আরও বাড়বে।
২ ঘন্টা আগে
১৫ এপ্রিল ২০২৬, ১২:১১ এএম
আপনি কি মনে করেন বিএনপি জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর ও শব্দ বাস্তবায়ন করবে?

আপনি কি মনে করেন বিএনপি জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর ও শব্দ বাস্তবায়ন করবে?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ জন
ডিজিটাল বিশ্বের বন্দি চোখ: স্ক্রিনের নীরব বিপদ ও সমাধান

ডিজিটাল বিশ্বের বন্দি চোখ: স্ক্রিনের নীরব বিপদ ও সমাধান

আজকের পৃথিবী যেন একটি স্ক্রিনের ভেতর বন্দি। ঘুম থেকে ওঠার পর প্রথমেই মোবাইল, সারাদিন অনলাইন ক্লাস বা কাজ, আর দিনের শেষে বিনোদন সবই যেন স্ক্রিনে সীমাবদ্ধ। প্রযুক্তি আমাদের জীবনকে সহজ করেছে ঠিকই, কিন্তু এর অতি ব্যবহারের ফলে যে নীরব ক্ষতি হচ্ছে, তা আমরা অনেকেই গুরুত্ব দিচ্ছি না।বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘ সময় ধরে মোবাইল বা কম্পিউটারের দিকে তাকিয়ে থাকলে ‘ডিজিটাল আই স্ট্রেইন’ বা কম্পিউটার ভিশন সিনড্রোম দেখা দেয়। এর লক্ষণ হিসেবে চোখে জ্বালাপোড়া, শুষ্কতা, ঝাপসা দেখা, এমনকি মাথাব্যথাও হতে পারে। সমস্যাটি এতটাই সাধারণ হয়ে উঠেছে যে অনেকেই এটিকে আর অসুখ বলে মনে করেন না, বরং দৈনন্দিন জীবনের অংশ হিসেবে মেনে নিচ্ছেন।কেন চোখের ক্ষতি হয়স্ক্রিন ব্যবহারের সময় আমরা স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক কম চোখের পলক ফেলি। ফলে চোখে প্রাকৃতিক আর্দ্রতা কমে যায় এবং ড্রাই আই সমস্যা তৈরি হয়। স্বাভাবিক অবস্থায় আমরা প্রতি মিনিটে ১৫ থেকে ২০ বার চোখের পলক ফেলি, কিন্তু স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকলে তা কমে দাঁড়ায় মাত্র ৫ থেকে ৭ বার।এর পাশাপাশি স্ক্রিন থেকে নির্গত নীল আলো চোখের ক্লান্তি বাড়ায় এবং ঘুমের স্বাভাবিক ছন্দকে ব্যাহত করে। বিশেষ করে রাত জেগে মোবাইল ব্যবহারের অভ্যাস তরুণ প্রজন্মের জন্য দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিকর হয়ে উঠছে। নীল আলো মেলাটোনিন হরমোনের উৎপাদনে বাধা দেয়, ফলে রাতে ঘুম আসতে দেরি হয় এবং ঘুমের মানও খারাপ হয়।শিক্ষার্থীদের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশিশিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। পড়াশোনা, অনলাইন ক্লাস, সামাজিক যোগাযোগ সবকিছুতেই স্ক্রিনের ব্যবহার বেড়েছে। ফলে চোখের বিশ্রাম নেওয়ার সুযোগ কমে গেছে। অনেক শিক্ষার্থী ইতিমধ্যে চোখের সমস্যায় ভুগছে, যা ভবিষ্যতে আরও জটিল রূপ নিতে পারে।করোনা মহামারির পর থেকে অনলাইন শিক্ষার প্রসারের ফলে শিশু-কিশোরদের গড় স্ক্রিন টাইম কয়েকগুণ বেড়েছে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই সমস্যা আরও গুরুতর আকার ধারণ করতে পারে বলে সতর্ক করেছেন চক্ষু বিশেষজ্ঞরা।চোখ বাঁচাতে সহজ অভ্যাসএই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে সচেতনতার বিকল্প নেই। খুব সহজ কিছু অভ্যাস আমাদের চোখকে রক্ষা করতে পারে—২০-২০-২০ নিয়ম: প্রতি ২০ মিনিট পর ২০ সেকেন্ডের জন্য ২০ ফুট দূরে তাকিয়ে থাকুনপরিবেশের আলো ও স্ক্রিনের উজ্জ্বলতা সমান করে নিনঅপ্রয়োজনীয় স্ক্রিন টাইম কমানোর চেষ্টা করুননিয়মিত চোখের যত্ন নিন এবং প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিনস্ক্রিন দেখার সময় চোখের পলক ফেলার অভ্যাস করুনপ্রযুক্তিগত সমাধান আর অভ্যাস的改变বর্তমানে অনেক স্মার্টফোনে ‘আই কম্ফোর্ট’ বা ‘ব্লু লাইট ফিল্টার’ অপশন যুক্ত করা হয়েছে, যা স্ক্রিন থেকে নির্গত ক্ষতিকর নীল আলো কিছুটা কমাতে সাহায্য করে। তবে এটিকে সম্পূর্ণ সমাধান হিসেবে দেখা উচিত নয়। দীর্ঘ সময় স্ক্রিন ব্যবহারের অভ্যাস পরিবর্তন না করলে এই ধরনের ফিচার একা চোখের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পারে না।অনেক কম্পিউটার ও ল্যাপটপে ‘নাইট লাইট’ বা ‘নাইট শিফট’ মোডও থাকে, যা সন্ধ্যার পর স্ক্রিনের আলোকে উষ্ণ আভায় পরিবর্তন করে। এই ফিচারগুলো ব্যবহার করলে চোখের ওপর চাপ কিছুটা কমতে পারে।কখন ডাক্তার দেখাবেনযদি নিচের কোনো সমস্যা দীর্ঘদিন ধরে থাকে, তাহলে দেরি না করে চক্ষু বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি—চোখে ঘন ঘন জ্বালাপোড়া বা ব্যথাঝাপসা দেখা বা ডাবল ভিশনমাথাব্যথা বিশেষ করে সামনের অংশেচোখ শুকিয়ে যাওয়া বা বেশি পানি পড়ারাতে গাড়ি চালাতে বা অন্ধকারে দেখতে কষ্ট হওয়াপ্রযুক্তি আমাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে গেছে, এটা অস্বীকার করার উপায় নেই। তবে প্রযুক্তির ব্যবহার যেন আমাদের স্বাস্থ্যের ক্ষতি না করে, সেদিকে খেয়াল রাখা সবচেয়ে বেশি জরুরি। অন্যথায় এই নীরব বিপদ একসময় বড় সমস্যায় পরিণত হবে, যার প্রভাব পড়বে পুরো প্রজন্মের ওপর।একটু সচেতনতা আর দৈনন্দিন অভ্যাসে কিছু ছোট পরিবর্তন এনে আমরা আমাদের চোখকে স্ক্রিনের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা করতে পারি। প্রযুক্তি ব্যবহার করবেন, কিন্তু প্রযুক্তিকে আপনার নিয়ন্ত্রণ করতে দেবেন না।
১০ জুন ২০২৬
ব্যবসা শুরু করতে সাত দিনে লাইসেন্স, ৪৮ ঘণ্টায় কোম্পানি নিবন্ধন

ব্যবসা শুরু করতে সাত দিনে লাইসেন্স, ৪৮ ঘণ্টায় কোম্পানি নিবন্ধন

বেসরকারি ও বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে এবং ব্যবসা শুরু করার প্রক্রিয়া সহজ করতে লাইসেন্সিং ব্যবস্থা ব্যাপকভাবে সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এতে সংশ্লিষ্ট সব ব্যবসায়ী সেবা সর্বোচ্চ সাত দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করার কথা জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপনকালে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ কথা বলেন।২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতায় বেসরকারি ও বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং ব্যবসা শুরু সহজীকরণ উদ্যোগের অংশ হিসাবে তিনি এ সব কথা বলেন।পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল সিঙ্গেল উইন্ড সেবাঅর্থমন্ত্রী বলেন, বেসরকারি ও বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং ব্যবসা শুরু সহজ করতে লাইসেন্সিং প্রক্রিয়া যৌক্তিকীকরণ করা হবে এবং পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল সিঙ্গেল উইন্ড অনুমোদন ব্যবস্থা চালু করা হবে। এ ব্যবস্থায় আবেদন দাখিল, যাচাই, অনুমোদন, লাইসেন্স, ছাড়পত্র, অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ এবং সংশ্লিষ্ট সেবা একই অনলাইন প্ল্যাটফর্মে সম্পন্ন হবে।পূর্ণাঙ্গ আবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় সেবাসমূহ সর্বোচ্চ সাত দিনের মধ্যে নিষ্পত্তির ব্যবস্থা করা হবে। প্রতিটি অনুমোদন ও লাইসেন্স সেবার জন্য নির্ধারিত সেবা স্তর চুক্তি নির্ধারণ করা হবে।স্বয়ংক্রিয় অনুমোদনের ব্যবস্থানির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট সংস্থা মতামত, না-দাবি, অনাপত্তি বা ছাড়পত্র না দিলে প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে সম্মতি আছে ধরে নিয়ে স্বয়ংক্রিয় অনুমোদন পদ্ধতিতে আবেদন নিষ্পত্তি করা হবে। একই সঙ্গে সেবা প্রদানে মনিটরিং, জবাবদিহি ও কমপ্লায়েন্স নিয়ন্ত্রণ জোরদার করা হবে।ছোট ও নতুন ব্যবসার জন্য অনলাইনভিত্তিক প্রাথমিক অনুমোদন ব্যবস্থা বিবেচনা করা হবে, যাতে উদ্যোক্তারা দ্রুত কার্যক্রম শুরু করতে পারেন এবং ছয় থেকে বারো মাসের মধ্যে প্রয়োজনীয় লাইসেন্স ও প্রতিপালন সম্পন্ন করতে পারেন।৪৮ ঘণ্টায় কোম্পানি নিবন্ধনকোম্পানির নামের ছাড়পত্র নিবন্ধন আবেদন, ফি পরিশোধ ও সনদ প্রদান অনলাইনে সম্পন্ন করে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কোম্পানি নিবন্ধনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমানে এই প্রক্রিয়ায় সপ্তাহ খানেক সময় লেগে যায়।বিদেশি কর্মী ও বিনিয়োগকারীদের জন্য সুবিধাবিদেশি বিশেষজ্ঞ ও দক্ষ জনবলের ওয়ার্ক পারমিট সাত দিনের মধ্যে এবং বিনিয়োগকারী ও প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ভিসা ১০ দিনের মধ্যে দেওয়ার জন্য প্রক্রিয়া সহজ করা হবে।যোগ্য বিনিয়োগকারী ও গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির জন্য পাঁচ বছর মেয়াদি মাল্টিপল এন্ট্রি বিনিয়োগকারী ভিসা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।বিনিয়োগকারীদের জন্য সহায়তা কাঠামোবড় ও কৌশলগত বিদেশি বিনিয়োগ প্রকল্পে অনুমোদন ও বাস্তবায়ন সমন্বয় করতে বিডিএর পাশাপাশি বেজা, বেপজা ও বিসিকেও সহায়তা কর্মকর্তা, সহায়তা দল বা প্রকল্পভিত্তিক কেস ম্যানেজার নিয়োগ করা হবে।বিনিয়োগকারীর প্রশ্ন, অভিযোগ ও সমস্যা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য সার্বক্ষণিক হেল্প ডেস্ক এবং অভিযোগ নিষ্পত্তি ব্যবস্থা চালু করা হবে। খুদে বার্তা, ই-মেইল, হেল্প নম্বর ও অনলাইন ব্যবস্থায় আবেদনের অগ্রগতি জানানো হবে।আন্তর্জাতিক চুক্তি জোরদারবিনিয়োগকারীর আইনি সুরক্ষা ও আন্তর্জাতিক আস্থা বাড়াতে দ্বিপাক্ষিক বিনিয়োগ চুক্তি সম্প্রসারণ এবং দ্বৈত কর পরিহার চুক্তি হালনাগাদ ও কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা হবে। বিদ্যমান চুক্তিসমূহের কার্যকারিতা ও বাস্তবায়ন অগ্রগতি নিয়মিতভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে।স্থানীয় পর্যায়েও ডিজিটালাইজেশনস্থানীয় পর্যায়ের ব্যবসায়িক অনুমোদন সহজ করতে সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভার ট্রেড লাইসেন্স সেবা ধাপে ধাপে বিনিয়োগসেবা ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করা হবে। আবেদন, ফি পরিশোধ, নবায়ন, লাইসেন্স প্রদান ও অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ অনলাইনে করা হবে, যাতে স্থানীয় অফিসে বারবার যাওয়া ও নবায়নজনিত বিলম্ব কমে।প্লাগ অ্যান্ড প্লে সুবিধা প্যাকেজনির্ধারিত শিল্পাঞ্চল ও অর্থনৈতিক অঞ্চলে প্লাগ অ্যান্ড প্লে শিল্প-সুবিধা প্যাকেজ চালু করা হবে। এর আওতায় জমি, অবকাঠামো, বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি, সড়ক সংযোগ ও প্রাথমিক অনুমোদন আগেই সমন্বিতভাবে প্রস্তুত রাখা হবে, যাতে উদ্যোক্তারা দ্রুত কারখানা স্থাপন ও উৎপাদন শুরু করতে পারেন।দ্রুত নিরাপত্তা ছাড়পত্রবিদেশি কর্মীর নিরাপত্তা ছাড়পত্রের আবেদন ও যাচাই প্রক্রিয়াও পৃথকভাবে অনলাইনভিত্তিক ও নির্ধারিত সময়সীমার আওতায় আনা হবে, যাতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা যাচাই বজায় রেখেই অপ্রয়োজনীয় বিলম্ব কমে। অর্থমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, এই সংস্কার উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশে বিনিয়োগের পরিবেশ উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হবে এবং ব্যবসা শুরু করতে উদ্যোক্তাদের আর দীর্ঘদিন অপেক্ষা করতে হবে না।
০৭ এপ্রিল ২০২৬
বাজেটে ১০ হাজার টাকা ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্মানীর প্রস্তাব

বাজেটে ১০ হাজার টাকা ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্মানীর প্রস্তাব

০৭ এপ্রিল ২০২৬
বাংলাদেশে জনপ্রিয় হচ্ছে হুন্দাই সান্তাফে

বাংলাদেশে জনপ্রিয় হচ্ছে হুন্দাই সান্তাফে

বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান হুন্দাই তাদের আধুনিক ও উচ্চমানের এসইউভি সান্তাফে দিয়ে বিশ্বজুড়ে সাড়া ফেলেছে। শক্তিশালী নকশা, উন্নত প্রযুক্তি এবং আরামদায়ক চালনার অভিজ্ঞতার কারণে গাড়িটি ধীরে ধীরে বাংলাদেশেও জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।নজরকাড়া নকশাসান্তাফের বাহ্যিক নকশা প্রথম দেখাতেই দৃষ্টি আকর্ষণ করে। বড় গ্রিল, আধুনিক এলইডি বাতি এবং আভিজাত্যপূর্ণ কাঠামো গাড়িটিকে শক্তিশালী উপস্থিতি দেয়। ২০২১ সালে পঞ্চম প্রজন্মে আসার পর এর নকশা আরও সাহসী ও আলাদা হয়েছে, যা বিশ্বব্যাপী প্রশংসা পেয়েছে।প্রশস্ত ও আরামদায়ক কেবিনগাড়িটির ভেতরে রয়েছে প্রশস্ত আসন, উন্নত মানের উপকরণ, বড় তথ্য-বিনোদন পর্দা এবং স্মার্ট নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা। সাত আসনের ব্যবস্থা থাকায় বড় পরিবারের জন্য এটি আদর্শ। দীর্ঘ ভ্রমণে যাত্রীদের ক্লান্তি কম হয়, যা একে পারিবারিক ব্যবহারের জন্য বিশেষভাবে উপযোগী করে।কার্যক্ষমতা ও জ্বালানি সাশ্রয়সান্তাফে বাজারভেদে পেট্রোল, ডিজেল ও হাইব্রিড ইঞ্জিনে পাওয়া যায়। মসৃণ স্বয়ংক্রিয় গিয়ার ও উন্নত কম্পন-নিরোধক ব্যবস্থা চালনাকে স্থিতিশীল করে। হাইব্রিড সংস্করণ থাকায় এটি তুলনামূলকভাবে জ্বালানি সাশ্রয়ী।উন্নত নিরাপত্তা সুবিধাগাড়িটিতে রয়েছে একাধিক এয়ারব্যাগ, এবিএস ব্রেক, বৈদ্যুতিক স্থিতিশীলতা নিয়ন্ত্রণ, লেন ধরে রাখার সহায়তা ও ব্লাইন্ড স্পট মনিটরিং। এছাড়া সামনে ও পেছনে পার্কিং ক্যামেরা থাকায় শহরে গাড়ি রাখার সময় বাড়তি সুবিধা পাওয়া যায়।প্রযুক্তি ও প্রিমিয়াম অনুভূতিসান্তাফে স্মার্টফোন কানেক্টিভিটি, ওয়্যারলেস চার্জিংসহ আধুনিক প্রযুক্তি সমৃদ্ধ। অনেক ক্ষেত্রে এটি বিলাসবহুল এসইউভির কাছাকাছি সুবিধা দেয়।ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতাব্যবসায়ী সামির জানান, সান্তাফে তার দৈনন্দিন জীবন ও দীর্ঘ ভ্রমণে আস্থা ও আরাম দিয়েছে। আধুনিক ডিজাইন ও ফিচার তার ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক ইমেজকে আরও শক্তিশালী করেছে।বাংলাদেশে ফেয়ার টেকনোলজির উদ্যোগফেয়ার টেকনোলজি লিমিটেড ইতোমধ্যে স্থানীয় প্ল্যান্টে হুন্দাই গাড়ি সংযোজন শুরু করেছে। ভবিষ্যতে আরও মডেল সংযোজনের পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে দাম কমে এবং সাধারণ মানুষের জন্য সহজলভ্য হয়। প্রতিষ্ঠানটি অরিজিনাল পণ্য, সঠিক কাগজপত্র ও নির্ভরযোগ্য সার্ভিসিং সুবিধা দিয়ে গ্রাহকের আস্থা অর্জন করছে।উপসংহারসব মিলিয়ে, হুন্দাই সান্তাফে হলো একটি পূর্ণাঙ্গ আধুনিক এসইউভি—যেখানে নকশা, আরাম, প্রযুক্তি ও নিরাপত্তা একসঙ্গে মিলেছে। বাংলাদেশে এখনো সীমিত পরিসরে থাকলেও এর চাহিদা ও গ্রহণযোগ্যতা দ্রুত বাড়ছে।
০৯ জুন ২০২৬
নাগরিকত্বের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সন্তান জন্ম দেওয়া ভিসা শর্তের পরিপন্থি: মার্কিন দূতাবাস

নাগরিকত্বের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সন্তান জন্ম দেওয়া ভিসা শর্তের পরিপন্থি: মার্কিন দূতাবাস

ক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পাওয়ার উদ্দেশ্যে দেশটিতে গিয়ে সন্তান জন্ম দেওয়া এখন থেকে ভিসার শর্তের পরিপন্থি হিসেবে গণ্য হবে। এমন উদ্দেশ্যে কেউ ভিসা আবেদন করলে তা সরাসরি বাতিল করা হবে বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে মার্কিন দূতাবাস।বুধবার সকালে দূতাবাসের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বিশেষ সতর্কবার্তায় এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।কী বলছে দূতাবাসের সতর্কবার্তাদূতাবাসের পোস্টে উল্লেখ করা হয়, কোনো ব্যক্তি যদি মূলত সন্তানের মার্কিন নাগরিকত্ব নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের পরিকল্পনা করেন, তবে তা দেশটির বর্তমান ভিসা নীতিমালার পরিপন্থি।কনস্যুলার কর্মকর্তারা যদি সাক্ষাৎকার বা তদন্তের মাধ্যমে বুঝতে পারেন যে আবেদনকারীর মূল লক্ষ্য সন্তান জন্ম দিয়ে নাগরিকত্ব অর্জন, তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ট্যুরিস্ট ভিসা আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হবে।সতর্কবার্তায় আরও বলা হয়, এ ধরনের কার্যক্রম মার্কিন ভিসা নীতিমালার গুরুতর লঙ্ঘন। তাই আবেদনকারীদের শুধু প্রকৃত এবং সঠিক উদ্দেশ্য উল্লেখ করে আবেদন করার আহ্বান জানিয়েছে দূতাবাস।কঠোর সতর্কতাভিসা পাওয়ার জন্য ভুল তথ্য প্রদান বা ভিসার শর্ত ভঙ্গ করলে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের ক্ষেত্রে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা বা নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলেও সতর্কবার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে।অর্থাৎ, কেউ যদি এ উদ্দেশ্যে ভিসা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সন্তান জন্ম দেন এবং তা প্রমাণিত হয়, তাহলে পরবর্তীতে তার যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়া পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যেতে পারে।যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে জন্ম নিলে সন্তান স্বয়ংক্রিয়ভাবে সে দেশের নাগরিক হয় – এই সুযোগ কাজে লাগাতে অনেকেই আগে ট্যুরিস্ট ভিসায় গিয়ে সন্তান প্রসব করতেন। এখন থেকে সেই পথ কার্যকরীভাবে বন্ধ করে দিলো মার্কিন দূতাবাস। শুধু ভিসা বাতিল নয়, ভবিষ্যতেও যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞার হুঁশিয়ারি দেওয়ায় এই সিদ্ধান্তকে ‘চরম কঠোর’ বলছেন অভিবাসন বিশ্লেষকরা। ফলে আবেদনকারীদের এখন ভিসা আবেদনের আগে তিনবার ভাবতে হবে।
০৭ এপ্রিল ২০২৬
ইংরেজ আদালতে সিংহনাদ আর আপসহীন সংগ্রাম: শায়খুল ইসলাম হুসাইন আহমদ মাদানির গল্প

ইংরেজ আদালতে সিংহনাদ আর আপসহীন সংগ্রাম: শায়খুল ইসলাম হুসাইন আহমদ মাদানির গল্প

ভূমিকা: সেই দিনটির কথাভারত স্বাধীন হওয়ার অনেক আগের কথা। এক সিংহপুরুষ দাঁড়িয়ে আছেন ইংরেজ আদালতে। নাম তাঁর সৈয়দ হুসাইন আহমদ মাদানি। মামলা চলছে তাঁর বিরুদ্ধে। আদালত চত্বরে অসংখ্য লোক। সবাইকে থ করে দিয়ে ওই ব্যক্তির কণ্ঠ থেকে বেরিয়ে এল সিংহনাদ—"ইংরেজের সৈন্য বাহিনীতে যোগ দেওয়া মুসলমানদের জন্য হারাম।" জোর দিয়ে তিনি তিনবার এই বাক্য ঘোষণা করলেন।পাশে দাঁড়িয়ে থাকা আরেকজন মাওলানা হাত জোড় করে বললেন, "মহাশয়, আপনার উক্তি উঠিয়ে নিন, আপনি কী বললেন?" কিন্তু মাদানির কথা তো ধনুক থেকে বেরোনো তীরের মতো। যা বলেছেন, তা তো হবেই। কোনো অবস্থায় নড়চড় হবে না।ইংরেজ অফিসাররা প্রচণ্ড রেগে ওঠে। প্রধান অফিসার বললেন, "হোসাইন আহমদ, তুমি কি জানো, এই ঔদ্ধত্যের শাস্তি কী হতে পারে?" মাদানি জবাব দিলেন, "তোমরাই ঠিক করে নাও।" অফিসার বললেন, "এই অপরাধের কমসে কম শাস্তি মৃত্যুদণ্ড।"মাদানি নিজের কাঁধে থাকা সাদা চাদর দেখিয়ে বললেন, "হোসাইন আহমদ মাদানি যখন দেওবন্দ থেকে রওয়ানা হয়েছে, তখন মৃত্যু পরবর্তী শেষকৃত্যের জন্য কাফন নিয়েই বেরিয়েছে। হোসাইন এসব ধমকিতে ভয় করে না। আমি যা বলেছি, আবার বলছি—তোমাদের সেনায় যোগ দেওয়া আমাদের জন্য হারাম।"ইতিহাসের সেই ঘটনা আজও আমাদের মনে করিয়ে দেয়—স্বাধীনতা এমনিতেই আসেনি। এর পেছনে আছে রক্ত, ঘাম আর অসীম সাহস। সেই বীরদের একজন হলেন হুসাইন আহমদ মাদানি। যাঁকে পরবর্তীকালে ‘শায়খুল ইসলাম’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়।প্রারম্ভিক জীবন ও বংশহুসাইন আহমদ মাদানি ১৮৭৯ সালের ৬ অক্টোবর (১২৯৬ হিজরির ১৯ শাওয়াল) ভারতের উত্তরপ্রদেশের উন্নাও জেলার বাঙ্গারমৌ মৌজায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম সৈয়দ হাবিবুল্লাহ এবং মাতার নাম নুরুন্নিসা। বংশগতভাবে পিতা ও মাতা উভয়ের দিক থেকেই তিনি ছিলেন নবী মুহাম্মদ (স.)-এর বংশধর। হোসাইন ইবনে আলী ছিলেন তাঁর ৩৩তম পূর্বপুরুষ।ছোটবেলায় মায়ের কাছে কুরআনের প্রথম পাঁচ পারা পড়েন। পরে পিতার কাছে ধর্মীয় ও সাধারণ শিক্ষা লাভ করেন। কিন্তু স্কুলের পড়াশোনা তাঁর পছন্দ ছিল না। তাই ১৮৯২ সালে তাকে দারুল উলুম দেওবন্দে ভর্তি করে দেওয়া হয়।দেওবন্দে শিক্ষাজীবনদেওবন্দে ভর্তির সময় প্রধান অধ্যাপক ছিলেন মাহমুদ হাসান দেওবন্দি। তিনিই মাদানির শিক্ষার মূল ভিত্তি গড়ে দেন। মাদানি সাড়ে ছয় বছরে ১৭টি বিষয়ের ৬৭টি কিতাব অধ্যয়ন করেন। এর মধ্যে ২৪টি কিতাব এককভাবে দেওবন্দির কাছে পড়েন।শিক্ষাজীবনে তিনি যুক্তিবিদ্যা ও দর্শনের প্রতি বেশি আগ্রহী ছিলেন। পরে হাদিস ও আরবি সাহিত্যের প্রতি অনুরাগী হন। ১৮৯৮ সালে তাঁর প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা সমাপ্ত হয়। তখন তাঁর বয়স ছিল মাত্র ১৯ বছর।মদিনা গমন ও মসজিদে নববীতে শিক্ষকতাশিক্ষা শেষে পিতামাতার সঙ্গে তিনি মদিনা চলে যান। সেখানে গিয়ে মসজিদে নববীতে বিনা বেতনে শিক্ষকতা শুরু করেন। জীবিকা নির্বাহের জন্য ছোট একটি দোকানও খোলেন। কিন্তু বেশি দিন টিকল না। পরে খেজুরের ব্যবসা ও গ্রন্থ নকলের কাজ করেন।মদিনায় তাঁর খ্যাতি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। তিনি ‘শায়খুল হারাম’ নামে পরিচিত হন। মসজিদে নববীতে তাঁর ক্লাসে উপস্থিত থাকতেন মদিনার ওলামা, কাজী, মুফতি এমনকি সরকারি কর্মকর্তারাও। তিনি মালিকি ও শাফিঈ ফিকহের কিতাবগুলোও আয়ত্ত করেন, কারণ মদিনায় এগুলোর প্রচলন ছিল।তাসাউফ ও আধ্যাত্মিকতা১৮৯৮ সালে রশিদ আহমদ গাঙ্গুহির কাছে তিনি বায়আত গ্রহণ করেন। গাঙ্গুহির নির্দেশে পরবর্তীতে ইমদাদুল্লাহ মুহাজিরে মক্কির কাছে তাসাউফের শিক্ষা নেন। মাত্র ২২ বছর বয়সে গাঙ্গুহি তাকে খেলাফত দান করেন।মাদানি চারটি তরিকার ইজাযতপ্রাপ্ত ছিলেন। তিনি চিশতিয়া, নকশবন্দিয়া, কাদেরিয়া ও সোহরাওয়ার্দিয়া তরিকায় দীক্ষা দিতেন। তাঁর কাছে লক্ষাধিক মুরিদ ছিল, যার মধ্যে ১৬৭ জনকে তিনি নিজের খলিফা মনোনীত করেছিলেন।তাসাউফ সম্পর্কে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি ছিল স্পষ্ট—তিনি শিরক ও বিদআতের ঘোর বিরোধী ছিলেন। আহমদ রেজা খান যখন আরব দেশে গিয়ে বিদআতের সমর্থনে ফতোয়া সংগ্রহ করতে চান, মাদানি তাকে মদিনা থেকে বহিষ্কারের ব্যবস্থা করেন।প্রথম কারাবরণ ও মাল্টা নির্বাসন১৯১৫ সালে মাহমুদ হাসান দেওবন্দি মদিনায় এলে মাদানি তাঁর সংস্পর্শে আসেন এবং স্বাধীনতা আন্দোলনে যোগ দেন। ১৯১৬ সালে মক্কার বিদ্রোহী গভর্নর শরিফ হুসাইনের নির্দেশে মাদানি ও দেওবন্দিকে গ্রেফতার করে মাল্টায় নির্বাসিত করা হয়। মাদানি স্বেচ্ছায় দেওবন্দির সঙ্গে কারাবরণ করেন।মাল্টায় প্রায় ৪ বছর বন্দি থাকার সময় তিনি কুরআন হেফজ সম্পন্ন করেন। এখানে তিনি তুর্কি ভাষাও আয়ত্ত করেন। জেলের ভেতর অন্ধকার প্রকোষ্ঠে থাকলেও তিনি ইসলামি বিধান নিয়ে আপস করেননি। জেল কর্তৃপক্ষকে বাধ্য করে মুসলিম কয়েদিদের জন্য আলাদা খাবারের ব্যবস্থা করতে হয়েছিল।ভারতে প্রত্যাবর্তন ও রাজনীতিতে সক্রিয় অংশগ্রহণ১৯২০ সালে মুক্তি পেয়ে তিনি ভারতে ফিরে আসেন। মদিনায় ফিরে যাওয়ার ইচ্ছা থাকলেও মাহমুদ হাসান দেওবন্দি তাকে ভারতে থাকার পরামর্শ দেন। দেওবন্দির মৃত্যুর পর তিনি ‘জানাশীনে শায়খুল হিন্দ’ উপাধি লাভ করেন।তিনি কংগ্রেস ও খেলাফত আন্দোলনে যোগ দেন। ১৯২১ সালে করাচিতে অনুষ্ঠিত খেলাফত সম্মেলনে তিনি ইংরেজ সেনাবাহিনীতে চাকরি করা হারাম ঘোষণা করেন। এই ফতোয়া মুদ্রিত হয়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করলে তাকে ২ বছরের জন্য কারাদণ্ড দেওয়া হয়।সিলেটে আগমন ও শিক্ষা বিস্তার১৯২৩ সালে মুক্তি পেয়ে তিনি সিলেটে আসেন। এখানকার ইসলামি শিক্ষাব্যবস্থার মানোন্নয়নে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। স্থানীয়দের অনুরোধে তিনি তিন বছর সিলেটে অবস্থান করেন এবং সিহাহ সিত্তাহর পাঠদান শুরু করেন।সিলেটেই তিনি তাসাউফের বেশিরভাগ কাজ সম্পাদন করেন। প্রতি রমজানে সিলেটে এসে ইতিকাফ করতেন। তাঁর উদ্যোগে সিলেট ও আসাম অঞ্চলে অসংখ্য মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠিত হয়। আজও সে অঞ্চলে তাঁর অবদান স্মরণীয় হয়ে আছে।দেওবন্দে সদরুল মুদাররিস১৯২৮ সালে তিনি দারুল উলুম দেওবন্দের প্রধান অধ্যাপক (সদরুল মুদাররিস) পদে যোগ দেন। এখানে ৩১ বছর তিনি হাদিসের অধ্যাপনা করেন। তাঁর অধ্যাপনায় দারুল উলুমের খ্যাতি বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে। আফ্রিকা ও ইউরোপ থেকেও ছাত্ররা আসতেন।তিনি পাঠ্যক্রম সংস্কার করেন। তাফসিরের কিতাব, ইতিহাস, ভূগোল, রাষ্ট্রদর্শন এবং এমনকি ইংরেজি ভাষার অধ্যয়ন চালু করেন। শরীরচর্চার জন্যও বিভাগ খোলেন। ছাত্রদের কেরাআত শিক্ষার দিকেও বিশেষ গুরুত্ব দেন।ইকবাল-মাদানি বিতর্ক১৯৩৮ সালে এক ভাষণে মাদানি বলেন, বর্তমানে জাতীয়তা নির্ধারিত হয় ভূখণ্ডের ভিত্তিতে, ধর্মের ভিত্তিতে নয়। সংবাদপত্রে এটি বিকৃতভাবে ছাপা হলে কবি মুহাম্মদ ইকবাল মাদানিকে বিদ্রুপ করে একটি কবিতা লেখেন। এ নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়। মৃত্যুর আগে ইকবাল মাদানির কাছে ক্ষমা চেয়ে পাঠিয়েছিলেন বলে জানা যায়।ভারত বিভক্তি ও মাদানির ভূমিকামাদানি দ্বিজাতি তত্ত্ব ও ভারত বিভক্তির বিরোধী ছিলেন। তিনি ‘সম্মিলিত জাতীয়তাবাদ’ ও ‘মাদানি ফর্মুলা’ উপস্থাপন করেন, যেখানে সুবাগুলোর স্বায়ত্তশাসন ও সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তার কথা বলা হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ভারত বিভক্ত হয়।বিভক্তির পর তিনি ভারতে থাকা মুসলমানদের অভিভাবকের দায়িত্ব নেন। তাদের ধৈর্য ধারণের উপদেশ দেন এবং সরকারের কাছে তাদের অধিকার আদায়ে কাজ করেন। তিনি দখল হওয়া মসজিদ, মাদ্রাসা ও সম্পত্তি উদ্ধারের চেষ্টা করেন।রচনাবলি ও সাহিত্যকর্মমাদানি একজন লেখক হিসেবেও সমাদৃত। তাঁর রচনার মধ্যে রয়েছে:নকশে হায়াত (আত্মজীবনী)মুত্তাহিদায়ে কাওমিয়াত আওর ইসলাম (সম্মিলিত জাতীয়তাবাদ ও ইসলাম)আশ শিহাবুস সাকিব (বেরলভি মতবাদের সমালোচনা)এছাড়া তাঁর অসংখ্য চিঠি ও বক্তৃতা ‘মাকতুবাতে শায়খুল ইসলাম’ নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়েছে।শেষ জীবন ও মৃত্যু১৯৫৫ সালে তিনি শেষ হজ সম্পন্ন করেন। ১৯৫৭ সালের ৫ ডিসেম্বর দারুল উলুম দেওবন্দে তিনি ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮১ বছর। ভারত সরকার রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তার জানাজা সম্পন্ন করে। প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরুও এতে অংশ নেন।তাকে মাজারে কাসেমিতে মাহমুদ হাসান দেওবন্দির পাশে সমাহিত করা হয়।সম্মাননা ও উত্তরাধিকার১৯৫৪ সালে ভারত সরকার তাকে পদ্মভূষণ পুরস্কারে ভূষিত করে। ২০১২ সালে ভারতীয় ডাক বিভাগ তার সম্মানে একটি স্মারক ডাকটিকিট প্রকাশ করে। সিলেটে তার স্মৃতি বিজড়িত স্থানে নির্মিত হয়েছে ‘মাদানি চত্বর’। দেওবন্দে তার নামে সড়ক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে।উপসংহারহুসাইন আহমদ মাদানি শুধু একজন ইসলামি পণ্ডিত ছিলেন না; তিনি ছিলেন একাধারে স্বাধীনতা সংগ্রামী, শিক্ষাবিদ, সুফি, লেখক ও অকুতোভয় নেতা। ইংরেজ আদালতে কাফন কাঁধে নিয়ে তিনি দেখিয়ে গেছেন— সত্যের পথে কথা বলার জন্য মৃত্যুও বড় বাধা নয়। আজকের প্রজন্ম যদি ইতিহাসের লুক্কায়িত পাতা থেকে তাঁদের বীরত্বের গল্প জানে, তাহলে সেই রক্ত শিরায় শিরায় বইবে আর দেশমাতৃকার প্রতি ভালোবাসা আরও গভীর হবে।
ফিরোজ আল মামুন