ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ০৬ আগস্ট ২০২৬
ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ০৬ আগস্ট ২০২৬
গণবার্তা
সর্বশেষ

সাকিব আল হাসানের মাগুরার বাড়িতে পেট্রোল বোমা হামলা

বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক ও মাগুরা-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সাকিব আল হাসানের শহরের বাড়িতে পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ ও ভাঙচুরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বুধবার (৫ আগস্ট) রাত পৌনে ৯টার দিকে মাগুরা শহরের কেশবমোড় এলাকায় সাকিবের পৈতৃক নিবাসে এই ঘটনা ঘটে।দিল্লিতে শেখ হাসিনার সাংবাদিক সম্মেলনে ভার্চুয়ালি যোগ দেওয়ার পরপরই এই হামলার ঘটনা ঘটে বলে শ্রীলঙ্কা থেকে ফোনে ডয়চে ভেলেকে জানিয়েছেন সাকিব আল হাসান। তিনি বলেন, 'প্রেস কনফারেন্সের পরপরই মাগুরায় আমার বাসায় পেট্রোল বোমা মারা হয়েছে। আগুন ধরেছে। বিস্তারিত এখনও জানতে পারিনি। কিছু ককটেলও বোধহয় মেরেছে ওখানে।'স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অজ্ঞাত পরিচয় দুর্বৃত্তরা সাকিবের বাড়ির দক্ষিণ পাশের লোহার গেটের ওপরের অংশ লক্ষ্য করে বিস্ফোরকসদৃশ একটি বস্তু নিক্ষেপ করে। বিকট শব্দে বস্তুটি বিস্ফোরিত হলে এলাকায় আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। তবে এই ঘটনায় কোনো হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।খবর পেয়ে রাত সোয়া ৯টার দিকে মাগুরা সদর থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তারা পুরো বাড়ি ও আশপাশের এলাকা পরিদর্শন করে আলামত সংগ্রহের চেষ্টা করেন। তাৎক্ষণিকভাবে এই হামলার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।মাগুরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আল মামুন গণমাধ্যমকে জানান, ঘটনাটি পুলিশ গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে। বাড়ির গেটে যে বস্তুটি নিক্ষেপ করা হয়েছে, সেটি পেট্রোল বোমা কি না, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। বিশেষজ্ঞ ও তদন্ত কর্মকর্তাদের মতামতের ভিত্তিতে নিক্ষিপ্ত বস্তুর ধরন সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।পুলিশ আরও জানিয়েছে, কারা কী উদ্দেশ্যে এই ঘটনা ঘটিয়েছে তা উদঘাটনে এরই মধ্যে তদন্ত শুরু হয়েছে। এলাকাটিতে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।এদিন দিল্লিতে অনুষ্ঠিত ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলনে অনলাইনে উপস্থিত ছিলেন সাকিব আল হাসান। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে অনেক সংসদ সদস্যের বাড়িতে হামলার খবর পাওয়া গেলেও সাকিবের বাড়িতে এই প্রথম এই ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার অভিযোগ উঠল। পুলিশ জানিয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে হামলাকারীদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
১ ঘন্টা আগে

জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের উদ্বোধন, গ্যালারি ঘুরে দেখলেন প্রধানমন্ত্রী

রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বহুল প্রতীক্ষিত জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর আজ বুধবার (৫ আগস্ট) আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে। সকাল ৯টায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে জাদুঘরের ফলক উন্মোচনের মাধ্যমে এর উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।এর আগে, গতকাল সচিবালয়ে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য নিশ্চিত করেন সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী সকাল ৯টায় জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের ফলক উন্মোচন করে জাদুঘরটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। উদ্বোধন শেষে তিনি জাদুঘরের বিভিন্ন গ্যালারি ও প্রদর্শনী পরিদর্শন করবেন এবং সংরক্ষিত নিদর্শন, আলোকচিত্র, দলিলপত্র ও স্মারকসমূহ পরিদর্শনের মাধ্যমে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস সম্পর্কে অবহিত হবেন।উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বীরত্বগাথা ও আত্মত্যাগের স্মৃতিচারণ করে জুলাই যোদ্ধা এবং জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্যরা বক্তব্য প্রদান করেন। এছাড়া, অনুষ্ঠানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঘটনাপ্রবাহ, গণমানুষের অংশগ্রহণ এবং বিজয়ের ইতিহাসভিত্তিক একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।জাদুঘরটি বাংলাদেশের ফ্যাসিবাদ বিরোধী গণতান্ত্রিক সংগ্রামের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় মাইলফলক। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের গৌরবময় স্মৃতি সংরক্ষণ, সংগ্রামের প্রকৃত ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা এবং শহীদ ও জুলাই যোদ্ধাদের আত্মত্যাগের স্মারক হিসেবে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।উদ্বোধন শেষে প্রধানমন্ত্রী আমন্ত্রিত অতিথিদের সঙ্গে নিয়ে জাদুঘরের বিভিন্ন গ্যালারি ঘুরে দেখেন। পরিদর্শনকালে তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে কেন্দ্র করে সংরক্ষিত বিভিন্ন আলোকচিত্র, ঐতিহাসিক দলিল, স্মারক এবং ঘটনাপ্রবাহভিত্তিক প্রদর্শনী পর্যবেক্ষণ করেন। জাদুঘরের প্রতিটি গ্যালারিতে আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়, আত্মত্যাগ এবং গণঅভ্যুত্থানের নানা দিক তুলে ধরা হয়েছে।উদ্বোধনের দিনটি বিশেষ অতিথি ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের জন্য সংরক্ষিত রাখা হয়েছে। আগামীকাল বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) থেকে জাদুঘরটি সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করা হবে। জাদুঘরটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস ও চেতনা তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হয়ে থাকবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
৭ ঘন্টা আগে

৫ আগস্ট ২০২৪: আন্দোলনের চূড়ান্ত পরিণতি ও রাজপথের জয়

ছাত্র-জনতার ২৩ দিনের প্রচণ্ড আন্দোলনে পতন ঘটে আওয়ামী লীগ সরকারের। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়ে বোন শেখ রেহানাকে নিয়ে বঙ্গভবন থেকে সামরিক হেলিকপ্টারে দেশ ছাড়েন। ভারতের আগরতলা হয়ে দিল্লিতে পৌঁছান তিনি। এর মধ্য দিয়ে টানা সাড়ে ১৫ বছরের একনাগাড়ে ক্ষমতায় থাকার অবসান ঘটে তার।২০০৮ সালের ডিসেম্বরের নির্বাচনে জনগণের ব্যাপক সমর্থন নিয়ে ক্ষমতায় আসেন শেখ হাসিনা। কিন্তু এরপর তার পুরো শাসনকালে আর কোনো গ্রহণযোগ্য জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে দেননি তিনি। ভোটাধিকার ও বাকস্বাধীনতা হরণ, মানবাধিকার লঙ্ঘন, ব্যাপক দুর্নীতি ও অর্থ পাচার, স্বজনতোষী পুঁজিবাদ, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ধ্বংস, ব্যাংক লুটের সুযোগ দেওয়া এবং আয়বৈষম্য চরমে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার সরকারের বিরুদ্ধে। অবকাঠামো ও অর্থনৈতিক উন্নয়নকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করলেও শেষ সময়ে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমে যাওয়া, খেলাপি ঋণ বেড়ে যাওয়া ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি সরকারের সেই দাবিকেও প্রশ্নবিদ্ধ করে।কোটা আন্দোলন থেকে গণ-অভ্যুত্থানরাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করেন, সমাজের সব স্তরে ক্ষোভ জমে ছিল, শুধু বিস্ফোরণের উপলক্ষের অপেক্ষা ছিল। সেই উপলক্ষ তৈরি করে দেয় সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আন্দোলন। এর আগে ২০১৫ সালের ভ্যাটবিরোধী আন্দোলন এবং ২০১৮ সালের নিরাপদ সড়ক আন্দোলনেও এই ক্ষোভের আভাস দেখা গিয়েছিল।কোটা সংস্কার আন্দোলন টানা শুরু হয় ১ জুলাই। ১৪ জুলাই প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শেখ হাসিনার 'রাজাকার' সংক্রান্ত একটি বক্তব্য এবং শিক্ষার্থীদের দাবিকে আইন-আদালতের চক্করে ফেলার চেষ্টা পরিস্থিতিকে একেবারে বদলে দেয়। সেদিন রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলো থেকে হাজার হাজার শিক্ষার্থী বেরিয়ে আসেন। মুখে তাদের স্লোগান—'তুমি কে, আমি কে, রাজাকার, রাজাকার; কে বলেছে, কে বলেছে, স্বৈরাচার, স্বৈরাচার।' দীর্ঘ সাড়ে ১৫ বছরে এই প্রথম কেউ শেখ হাসিনার মুখোমুখি দাঁড়ানোর সাহস দেখালেন।নির্মম দমন ও প্রাণহানি১৫ জুলাই শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে ছাত্রলীগকে লেলিয়ে দেওয়া হয়। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সেদিন ঘোষণা দেন, 'রাজাকার' স্লোগানের জবাব ছাত্রলীগ দেবে। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যাপক হামলা চালানো হয়। ছাত্রছাত্রীদের ধরে ধরে মারধর করা হয়। শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়।১৭ জুলাই বিক্ষোভ সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদকে খুব কাছ থেকে পুলিশের গুলিতে হত্যা করা হয়। সেই ভিডিও দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে এবং বারুদে দেশলাইয়ের কাঠির মতো কাজ করে। এরপর দেশজুড়ে স্লোগান ওঠে—'বুকের ভেতর অনেক ঝড়, বুক পেতেছি, গুলি কর।'১৯ জুলাই কারফিউ জারি করে ওবায়দুল কাদের 'শুট অন সাইট' বা দেখামাত্র গুলির নির্দেশ দেওয়ার কথা জানান। এরপর যা হলো তা বাংলাদেশের ইতিহাসে নজিরবিহীন। বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ ও স্কুলের শিক্ষার্থীদের গুলি করে হত্যা করা হলো। ঘরের ভেতরে থাকা শিশু, ছাদে দাঁড়ানো কিশোরী, বারান্দায় থাকা মানুষও গুলিতে প্রাণ হারালেন। কয়েক দিনেই ২০০ জনের বেশি শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষকে হত্যা করা হলো। ক্ষোভে ফুঁসে উঠল পুরো দেশ। শিক্ষক, অভিভাবক, আইনজীবী, শিল্পী, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তারা একে একে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সমর্থন দিতে শুরু করলেন।শিক্ষার্থীদের ৯ দফা দাবি পূরণের বদলে সরকার বেছে নেয় পুরোনো পথ—নির্যাতন ও গণগ্রেপ্তার। কয়েক দিনে ১০ হাজারের বেশি মানুষকে ধরা হয়। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম, সারজিস আলম, হাসনাত আবদুল্লাহ, আসিফ মাহমুদ, আবু বাকের মজুমদার ও নুসরাত তাবাসসুমকে তুলে নিয়ে ডিবি কার্যালয়ে আটকে রাখা হয় এবং জোর করে আন্দোলন প্রত্যাহারের ভিডিও বার্তা দেওয়ানো হয়। কিন্তু এই কৌশল উল্টো ফল দেয়—ছাত্ররা জনসমক্ষে জানিয়ে দেন কীভাবে তাদের বাধ্য করা হয়েছিল।এক দফা ঘোষণা ও চূড়ান্ত পতনপ্রতিবাদ ও সমন্বয়কদের অনশনের মুখে তাদের ছেড়ে দেওয়া হলে ৩ আগস্ট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের জনসমুদ্রে ৯ দফা দাবিকে এক দফায় রূপান্তরিত করা হয়—সরকারকে পদত্যাগ করতেই হবে। সেনাবাহিনী জনগণের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে অস্বীকৃতি জানায়। পুলিশও আর গুলি চালাতে রাজি ছিল না।৪ আগস্ট শেখ হাসিনা শেষ চেষ্টা হিসেবে দলের রাজনৈতিক শক্তিকে রাজপথে নামান। আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা-কর্মীরা আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বিক্ষোভকারীদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন। সেদিনের সংঘর্ষে নিহত হন ১১৪ জন। তবে ছাত্র-জনতার প্রতিরোধের মুখে আওয়ামী লীগ রাজপথে বেশি সময় টিকতে পারেনি। একই দিন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকে 'মার্চ টু ঢাকা' বা ঢাকামুখী গণযাত্রার ডাক দেওয়া হয়।৫ আগস্ট: ঐতিহাসিক দিনসরকার ঘোষিত অনির্দিষ্টকালের কারফিউ, রাজধানীজুড়ে নজিরবিহীন নিরাপত্তা এবং আগের কয়েক দিনের প্রাণঘাতী সহিংসতার মধ্যেও ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজপথে নেমে আসেন হাজারো ছাত্র-জনতা। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঘোষিত 'মার্চ টু ঢাকা' কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে রাজধানী জনসমুদ্রে পরিণত হয়।৫ আগস্টের আগে কয়েক দিনজুড়ে দেশজুড়ে সহিংসতা, প্রাণহানি ও অনিশ্চয়তায় উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। সরকার অনির্দিষ্টকালের কারফিউ জারি করলেও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন শেখ হাসিনার পদত্যাগের এক দফা দাবিতে 'মার্চ টু ঢাকা' কর্মসূচির ঘোষণা দেয়। কারফিউ ও কঠোর নিরাপত্তা সত্ত্বেও সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণে সেই কর্মসূচি শেষ পর্যন্ত দেশের রাজনৈতিক গতিপথ বদলে দেয়।এর আগের দিন ৪ আগস্ট সন্ধ্যায় আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আসিফ মাহমুদ সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানান, পূর্বঘোষিত ৬ আগস্টের পরিবর্তে ৫ আগস্টই 'মার্চ টু ঢাকা' কর্মসূচি পালিত হবে। বিজ্ঞপ্তিতে দেশজুড়ে মানুষকে ঢাকায় এসে 'চূড়ান্ত লড়াইয়ে' অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।৫ আগস্ট ভোর থেকেই রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও মোড়ে মোড়ে সেনাবাহিনী, বিজিবি, র্যাব ও পুলিশের কড়া অবস্থান দেখা যায়। সকাল ১০টা পর্যন্ত রাজধানীর সড়ক প্রায় ফাঁকাই ছিল। তবে সকাল গড়াতেই পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে। ছোট ছোট দলে শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নামতে থাকেন। পরে তাদের সঙ্গে যোগ দেন শিক্ষক, শ্রমিক, চাকরিজীবী, অভিভাবক এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।বেলা ১১টার দিকে মোবাইল ও ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবা বন্ধ হয়ে গেলেও আন্দোলনকারীদের অগ্রযাত্রা থেমে থাকেনি। রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষের স্রোত শাহবাগের দিকে যেতে থাকে। ওভারব্রিজের কাছে সেনাবাহিনী মিছিলটি থামানোর চেষ্টা করলে সামনের সারির আন্দোলনকারীরা সেনাসদস্যদের হাতে ফুল তুলে দেন। ঘটনাটি মুহূর্তেই সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করে।বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আরও মানুষ শাহবাগে এসে যোগ দেন। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই শাহবাগ ও আশপাশের সড়ক জনসমুদ্রে পরিণত হয়। এ সময় সেনাপ্রধান জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন এমন খবর ছড়িয়ে পড়ে। এর কিছুক্ষণ পর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে চলে গেছেন এই খবর দ্রুত রাজধানীজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে।খবরটি প্রকাশ্যে আসার পর শাহবাগে শুরু হয় উচ্ছ্বাস। কেউ আনন্দে কাঁদেন, কেউ সিজদায় লুটিয়ে পড়েন, আবার কেউ একে অপরকে জড়িয়ে ধরেন। অনেককে সেনাসদস্যদের সঙ্গে করমর্দন ও আলিঙ্গন করতেও দেখা যায়। পরে ইন্টারনেট সেবা স্বাভাবিক হলে খবরটি দ্রুত সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। দিনভর কারফিউ, কড়া নিরাপত্তা, ইন্টারনেট বন্ধ এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর অবস্থানের মধ্যেও ৫ আগস্ট রাজধানীর রাজপথে যে গণজমায়েত সৃষ্টি হয়েছিল, তা বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে বিবেচিত হয়।
৯ ঘন্টা আগে
শেখ হাসিনার প্রেস কনফারেন্সে ভারতের ভূমিকায় তীব্র ক্ষোভ বাংলাদেশের

শেখ হাসিনার প্রেস কনফারেন্সে ভারতের ভূমিকায় তীব্র ক্ষোভ বাংলাদেশের

নয়া দিল্লিতে পলাতক দণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনার সাংবাদিকদের সঙ্গে সরাসরি প্রেস কনফারেন্সে অংশ নেওয়ার অনুমতি দেওয়ায় ভারতের প্রতি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অনুষ্ঠানটি আয়োজনের ফলে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক পুনর্গঠনের প্রচেষ্টায় সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রভাব সম্পর্কে ভারত সরকারকে আগেই উদ্বেগ জানানো হয়েছিল। এরপরও ভারতের মাটিতে এ আয়োজনের অনুমতি দেওয়ায় বাংলাদেশ গভীর দুঃখ ও ক্ষোভ প্রকাশ করছে।বুধবার (৫ আগস্ট) রাতে এক বিবৃতিতে সরকারের এই অবস্থান তুলে ধরেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বিবৃতিতে বলা হয়, এই ঘটনা বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি অবমাননাকর এবং দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের জন্য ক্ষতিকর।পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও জানায়, জুলাই বিপ্লবের দ্বিতীয় বার্ষিকী পালনের দিনে ভারতীয় ভূখণ্ডে শেখ হাসিনার এই গণমাধ্যমে অংশগ্রহণ বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি অবমাননা এবং জুলাই বিপ্লবের শহীদদের প্রতি গুরুতর অপমান।বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়, ২০২৪ সালের জুলাই–আগস্টে শিশুদেরসহ নিরীহ বেসামরিক নাগরিকদের হত্যাকাণ্ড নিয়ে জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠিত তথ্য অস্বীকার করা ইতিহাসের গতিপথ উল্টে দেওয়ার একটি ব্যর্থ চেষ্টা। শেখ হাসিনা ও তাঁর সহযোগীরা এ ধরনের অপচেষ্টা চালাচ্ছেন।পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, জুলাই বিপ্লবের চেতনাকে ধারণ করে দেশের জনগণ দৃঢ়ভাবে সংকল্পবদ্ধ যে বাংলাদেশ আর কখনও ফ্যাসিবাদের অন্ধকারে ফিরে যাবে না এবং কোনো রাষ্ট্রের অধীনস্থ রাষ্ট্রে পরিণত হবে না। একই সঙ্গে বিবৃতিতে বলা হয়, দণ্ডিত গণহত্যাকারী শেখ হাসিনা ও তার মাফিয়া রাজনৈতিক নেটওয়ার্কের বাংলাদেশের রাজনীতিতে আর কোনো স্থান নেই।বাংলাদেশ পুনর্ব্যক্ত করেছে যে, সার্বভৌম সমতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, একে অপরের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং জাতীয় মর্যাদার ভিত্তিতে ভারতের সঙ্গে গঠনমূলক, পারস্পরিক কল্যাণকর ও ভবিষ্যতমুখী সম্পর্ক বজায় রাখতে চায়।তবে বিবৃতিতে আক্ষেপ প্রকাশ করে বলা হয়, ২০১৩ সালে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে স্বাক্ষরিত প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় দণ্ডিত শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য ঢাকার একাধিক অনুরোধের বিষয়ে ভারত সরকার এখনও কোনো সাড়া দেয়নি। এর বিপরীতে তাকে গণমাধ্যমে প্রকাশ্যে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া বাংলাদেশের জনগণের অনুভূতিতে আঘাত হেনেছে এবং দুই দেশের সুসম্পর্ক বিকাশের জন্য ক্ষতিকর বলে মন্তব্য করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এই ঘটনার পর দুই দেশের সম্পর্কে নতুন করে টানাপোড়েনের সৃষ্টি হয়েছে এবং বাংলাদেশ সরকার কূটনৈতিক চ্যানেলে ভারতের কাছে এই ঘটনার ব্যাখ্যা চেয়েছে।
১ ঘন্টা আগে
শেখ হাসিনার প্রেস কনফারেন্সে ভারতের ভূমিকায় তীব্র ক্ষোভ বাংলাদেশের

শেখ হাসিনার প্রেস কনফারেন্সে ভারতের ভূমিকায় তীব্র ক্ষোভ বাংলাদেশের

নয়া দিল্লিতে পলাতক দণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনার সাংবাদিকদের সঙ্গে সরাসরি প্রেস কনফারেন্সে অংশ নেওয়ার অনুমতি দেওয়ায় ভারতের প্রতি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অনুষ্ঠানটি আয়োজনের ফলে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক পুনর্গঠনের প্রচেষ্টায় সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রভাব সম্পর্কে ভারত সরকারকে আগেই উদ্বেগ জানানো হয়েছিল। এরপরও ভারতের মাটিতে এ আয়োজনের অনুমতি দেওয়ায় বাংলাদেশ গভীর দুঃখ ও ক্ষোভ প্রকাশ করছে।বুধবার (৫ আগস্ট) রাতে এক বিবৃতিতে সরকারের এই অবস্থান তুলে ধরেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বিবৃতিতে বলা হয়, এই ঘটনা বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি অবমাননাকর এবং দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের জন্য ক্ষতিকর।পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও জানায়, জুলাই বিপ্লবের দ্বিতীয় বার্ষিকী পালনের দিনে ভারতীয় ভূখণ্ডে শেখ হাসিনার এই গণমাধ্যমে অংশগ্রহণ বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি অবমাননা এবং জুলাই বিপ্লবের শহীদদের প্রতি গুরুতর অপমান।বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়, ২০২৪ সালের জুলাই–আগস্টে শিশুদেরসহ নিরীহ বেসামরিক নাগরিকদের হত্যাকাণ্ড নিয়ে জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠিত তথ্য অস্বীকার করা ইতিহাসের গতিপথ উল্টে দেওয়ার একটি ব্যর্থ চেষ্টা। শেখ হাসিনা ও তাঁর সহযোগীরা এ ধরনের অপচেষ্টা চালাচ্ছেন।পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, জুলাই বিপ্লবের চেতনাকে ধারণ করে দেশের জনগণ দৃঢ়ভাবে সংকল্পবদ্ধ যে বাংলাদেশ আর কখনও ফ্যাসিবাদের অন্ধকারে ফিরে যাবে না এবং কোনো রাষ্ট্রের অধীনস্থ রাষ্ট্রে পরিণত হবে না। একই সঙ্গে বিবৃতিতে বলা হয়, দণ্ডিত গণহত্যাকারী শেখ হাসিনা ও তার মাফিয়া রাজনৈতিক নেটওয়ার্কের বাংলাদেশের রাজনীতিতে আর কোনো স্থান নেই।বাংলাদেশ পুনর্ব্যক্ত করেছে যে, সার্বভৌম সমতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, একে অপরের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং জাতীয় মর্যাদার ভিত্তিতে ভারতের সঙ্গে গঠনমূলক, পারস্পরিক কল্যাণকর ও ভবিষ্যতমুখী সম্পর্ক বজায় রাখতে চায়।তবে বিবৃতিতে আক্ষেপ প্রকাশ করে বলা হয়, ২০১৩ সালে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে স্বাক্ষরিত প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় দণ্ডিত শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য ঢাকার একাধিক অনুরোধের বিষয়ে ভারত সরকার এখনও কোনো সাড়া দেয়নি। এর বিপরীতে তাকে গণমাধ্যমে প্রকাশ্যে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া বাংলাদেশের জনগণের অনুভূতিতে আঘাত হেনেছে এবং দুই দেশের সুসম্পর্ক বিকাশের জন্য ক্ষতিকর বলে মন্তব্য করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এই ঘটনার পর দুই দেশের সম্পর্কে নতুন করে টানাপোড়েনের সৃষ্টি হয়েছে এবং বাংলাদেশ সরকার কূটনৈতিক চ্যানেলে ভারতের কাছে এই ঘটনার ব্যাখ্যা চেয়েছে।
১ ঘন্টা আগে
দুই বছর আগে স্বামী ছেড়ে প্রেমিকের সঙ্গে পালানো গৃহবধূর ট্রলি ব্যাগে মরদেহ

দুই বছর আগে স্বামী ছেড়ে প্রেমিকের সঙ্গে পালানো গৃহবধূর ট্রলি ব্যাগে মরদেহ

দুই বছর আগে স্বামীর সংসার ছেড়ে প্রেমিকের সঙ্গে পাড়ি জমিয়েছিলেন ভারতের বিহারের এক গৃহবধূ। দীর্ঘদিন নিখোঁজ থাকার পর অবশেষে দামান শহরে একটি ট্রলি ব্যাগের ভেতর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনার পর থেকে নিহতের বর্তমান সঙ্গী ও অভিযুক্ত প্রেমিক পলাতক রয়েছেন।নিহতের নাম ছোটি কুমারী। তার বাড়ি বিহারের নওয়াদা জেলায়। সম্প্রতি দামান পুলিশের কাছে একটি ট্রলি ব্যাগে অজ্ঞাত এক নারীর মরদেহ পড়ে থাকার খবর আসে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি উদ্ধার করে। প্রাথমিক তদন্তে নিহতের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর বিহারে অবস্থানরত তার পরিবারকে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়। বর্তমানে এই ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত প্রেমিক ঋষভ কুমারের সন্ধানে জোর তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ।পুলিশ ও নিহতের পরিবারের দেওয়া তথ্যমতে, বিবাহিত থাকা অবস্থাতেই ঋষভের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়ান ছোটি কুমারী। পরিবারের প্রবল আপত্তি থাকা সত্ত্বেও প্রায় দুই বছর আগে তিনি স্বামীকে ছেড়ে ঋষভের সঙ্গে পালিয়ে যান। সে সময় পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় একটি নিখোঁজ ও অপহরণের অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল। কিন্তু এরপর থেকে ওই গৃহবধূর আর কোনো সন্ধান পায়নি তার পরিবার।তদন্তে জানা যায়, বিহার ছাড়ার পর ছোটি কুমারী ও ঋষভ দামান শহরে চলে আসেন। সেখানে একটি বাড়ি ভাড়া নিয়ে তারা স্বামী-স্ত্রীর পরিচয়ে একসঙ্গে বসবাস শুরু করেন। দীর্ঘ দুই বছর পর ট্রলি ব্যাগে মরদেহ উদ্ধারের মধ্য দিয়ে পরিবারের দীর্ঘদিনের নিখোঁজ রহস্যের অবসান ঘটলেও, এই ঘটনা নতুন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।নিহতের পরিবারের অভিযোগ, ঋষভই তাকে নৃশংসভাবে খুন করে পালিয়েছেন। কী কারণে এবং কীভাবে ওই নারীকে হত্যা করে লাশ ব্যাগে ভরে ফেলে রাখা হলো, তা এখনো পুলিশের কাছে পরিষ্কার নয়। পলাতক ঋষভকে গ্রেপ্তারের পরই এই হত্যাকাণ্ডের আসল রহস্য উন্মোচিত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।দামান পুলিশ জানিয়েছে, হত্যায় অভিযুক্ত লিভ-ইন সঙ্গী রিষভ কুমার ঘটনার পর থেকেই পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালানো হচ্ছে এবং এই হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ ও স্থানীয়দের তথ্যের ভিত্তিতে অভিযুক্তের অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা করছে। নিহতের পরিবার দ্রুত ন্যায়বিচার পাওয়ার আশা প্রকাশ করেছে।
৫ ঘন্টা আগে
১৫ এপ্রিল ২০২৬, ১২:১১ এএম
আপনি কি মনে করেন বিএনপি জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর ও শব্দ বাস্তবায়ন করবে?

আপনি কি মনে করেন বিএনপি জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর ও শব্দ বাস্তবায়ন করবে?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ জন
এবার দেশের পোলট্রি মাংসে মিলল বিপদজনক মাত্রায় অ্যান্টিবায়োটিক

এবার দেশের পোলট্রি মাংসে মিলল বিপদজনক মাত্রায় অ্যান্টিবায়োটিক

বাংলাদেশ, ভারত ও ভিয়েতনামের পোলট্রি মুরগির মাংসের কিছু নমুনায় আন্তর্জাতিক নিরাপদ সীমার চেয়ে বেশি অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল অবশিষ্টাংশ (রেসিডিউ) পাওয়া গেছে বলে এক গবেষণায় উঠে এসেছে। গবেষকরা বলছেন, এ ধরনের অবশিষ্টাংশ জনস্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগের কারণ হতে পারে।যুক্তরাজ্যের লন্ডনভিত্তিক রয়েল ভেটেরিনারি কলেজের (আরভিসি) নেতৃত্বে পরিচালিত গবেষণার তথ্য প্রকাশ করেছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম পোলট্রি নিউজ। গবেষণায় দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কয়েকটি গবেষণা প্রতিষ্ঠানও অংশ নেয়।গবেষণায় বলা হয়েছে, অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স (এএমআর) বর্তমানে বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্যের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। মাংস উৎপাদনকারী প্রাণীর চিকিৎসায় অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল ওষুধের ব্যাপক ব্যবহার এ সমস্যার একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ। প্রাণীর শরীরে ওষুধ প্রয়োগের পর নির্ধারিত অপেক্ষার সময় অনুসরণ না করে জবাই করলে মাংসে ওষুধের অবশিষ্টাংশ থেকে যেতে পারে, যা মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।গবেষণার নেতৃত্ব দেন রয়েল ভেটেরিনারি কলেজের ভেটেরিনারি ক্লিনিক্যাল ফার্মাকোলজি ও অ্যানেস্থেসিয়ার অধ্যাপক লুডোভিক পেলিগ্যান্ড। এতে বাংলাদেশ, ভারত ও ভিয়েতনামের বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের গবেষকরাও অংশ নেন।গবেষণার অংশ হিসেবে ২০২১ ও ২০২২ সালে তিন দেশের মোট ৫৫৮টি মুরগির বুকের মাংসের নমুনা সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করা হয়। এসব নমুনা সিঙ্গাপুরের নানইয়াং টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটিতে পরীক্ষা করা হয়, যেখানে ৬৯ ধরনের ভেটেরিনারি অ্যান্টিমাইক্রোবিয়ালের উপস্থিতি ইউরোপীয় ইউনিয়নের মানদণ্ড অনুসারে যাচাই করা হয়।সংগৃহীত নমুনার একটি অংশ নেওয়া হয় খুচরা বিক্রয়কেন্দ্র থেকে এবং বাকি অংশ সংগ্রহ করা হয় বাজারজাতের জন্য প্রস্তুত পোলট্রি খামার থেকে।গবেষণায় দেখা যায়, কিছু নমুনায় অ্যান্টিমাইক্রোবিয়ালের মাত্রা আন্তর্জাতিক নিরাপদ সীমা অতিক্রম করেছে। বিক্রয়কেন্দ্র থেকে সংগ্রহ করা নমুনার ৩ দশমিক ৭ থেকে ৮ দশমিক ৬ শতাংশে নিরাপদ সীমার চেয়ে বেশি অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল পাওয়া যায়। তুলনামূলকভাবে, ২০২১-২২ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোতে এ হার ছিল মাত্র শূন্য দশমিক ০৫ থেকে শূন্য দশমিক ০৯ শতাংশ।গবেষকদের মতে, উন্নয়নশীল দেশগুলোর কিছু ক্ষেত্রে জবাইয়ের ঠিক আগ মুহূর্তেও প্রাণীর শরীরে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল প্রয়োগ করা হয়ে থাকতে পারে, যা মাংসে ওষুধের অবশিষ্টাংশ থাকার অন্যতম কারণ।অধ্যাপক লুডোভিক পেলিগ্যান্ড বলেন, 'এটি একটি যুগান্তকারী গবেষণা। এতদিন এশিয়ায় একই মানদণ্ডে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়ালের অবশিষ্টাংশ পরিমাপের এমন কোনো তথ্য ছিল না। আশা করছি, এই গবেষণার মাধ্যমে ভেটেরিনারিতে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়ালের অবশিষ্টাংশ নিয়ে সচেতনতা বাড়বে এবং স্থানীয় পর্যায়ে খাদ্য নিরাপত্তার উন্নতি হবে।''ওয়ান হেলথ পোলট্রি হাব'-এর মাধ্যমে গবেষণাটিতে অর্থায়ন করেছে ইউকে রিসার্চ অ্যান্ড ইনোভেশন (ইউকেআরআই) গ্লোবাল চ্যালেঞ্জেস রিসার্চ ফান্ড। এই গবেষণার ফলাফল খাদ্য নিরাপত্তা ও জনস্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে নীতিনির্ধারকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা হিসেবে কাজ করবে বলে আশা করছেন গবেষকরা।
৫ ঘন্টা আগে
নবম পে-স্কেল: আইএমএফের পরামর্শে আপাতত পেছাচ্ছে সরকার

নবম পে-স্কেল: আইএমএফের পরামর্শে আপাতত পেছাচ্ছে সরকার

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গে নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আগামী অক্টোবরে আলোচনা শেষ হওয়ার আগে সরকারি চাকরিজীবীদের নবম জাতীয় পে-স্কেল ঘোষণা করছে না সরকার। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত অনেকটাই নির্ভর করবে আইএমএফের সম্মতির ওপর।রাজস্ব ঘাটতি ও দুর্বল রাজস্ব আহরণের কথা উল্লেখ করে আইএমএফ সরকারকে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন অন্তত দুই বছর পিছিয়ে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে সরকারও বিষয়টি নিয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে।রোববার (২৬ জুলাই) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে রাজস্ব আদায়, সরকারি ব্যয়, প্রস্তাবিত পে-স্কেলের আর্থিক প্রভাব এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন। বৈঠকে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের সম্ভাব্য অতিরিক্ত ব্যয়ের বিষয়টি তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রী এ প্রস্তাব আরও বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনার নির্দেশ দেন এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানির মূল্য, গ্যাস সরবরাহ ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক ঝুঁকির বিষয়টি বিবেচনায় রাখতে বলেন।সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, আগামী ১২ থেকে ১৮ অক্টোবর ব্যাংককে বিশ্বব্যাংক-আইএমএফের বার্ষিক সভার ফাঁকে চূড়ান্ত আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। ওই আলোচনায় অনুন্নয়ন খাতের স্থায়ী ব্যয়, বিশেষ করে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বৃদ্ধির বিষয়ে আইএমএফ যে অবস্থান নেবে, সেটিই নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হবে।অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, চলতি মাসে বাংলাদেশ সফরকারী আইএমএফ প্রতিনিধিদলের সঙ্গে অর্থ বিভাগের বৈঠকে বেতন ও ভাতা বাজেটিং নিয়ে আলোচনা হয়। সেখানে আইএমএফ জানায়, বর্তমান রাজস্ব ভিত্তি সরকারি চাকরিজীবীদের বেতনে বড় ধরনের বৃদ্ধি বহন করার মতো শক্তিশালী নয়। পাশাপাশি ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে সরকারি ব্যয় বাড়লেও রাজস্ব প্রবৃদ্ধি সে তুলনায় পিছিয়ে রয়েছে। ফলে উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও সীমিত আর্থিক সক্ষমতার মধ্যে নতুন পে-স্কেল চালু করলে অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি হতে পারে।তবে সরকার নতুন পে-স্কেলের পরিকল্পনা থেকে সরে আসেনি। মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বাধীন ১০ সদস্যের উচ্চপর্যায়ের কমিটি জাতীয় বেতন কমিশন-২০২৫, বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পে কমিশন-২০২৫ এবং সশস্ত্র বাহিনী বেতন কমিটি-২০২৫-এর সুপারিশ পর্যালোচনা করে একটি সংশোধিত কাঠামো প্রস্তুত করেছে। প্রস্তাবটি অর্থ মন্ত্রণালয় এবং প্রধানমন্ত্রীর কাছে জমা দেওয়া হয়েছে।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানান, আর্থিক চাপ কমাতে সরকার ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন অথবা বিকল্প পদ্ধতির বিষয়টি বিবেচনা করছে। অক্টোবরে আইএমএফের বৈঠকের আগেই এ বিষয়ে কৌশল চূড়ান্ত হতে পারে।উল্লেখ্য, জাতীয় বেতন কমিশন-২০২৫ সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করেছে। পাশাপাশি বৈশাখী ভাতা ২০ শতাংশ থেকে ৫০ শতাংশে উন্নীত করা, যাতায়াত ভাতা সংশোধন এবং অন্যান্য ভাতা পুনর্বিন্যাসের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।কমিশনের হিসাব অনুযায়ী, এসব সুপারিশ বাস্তবায়নে বছরে অতিরিক্ত ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হবে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে এ উদ্দেশ্যে জনপ্রশাসন খাতে অতিরিক্ত ৫৪ হাজার ৫৭২ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকা সম্ভাব্য নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের জন্য সংরক্ষিত।অর্থনীতিবিদদের মতে, ২০১৫ সালের পর সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন পুনর্নির্ধারণ না হওয়ায় উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে তাদের ক্রয়ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। তবে তারা সতর্ক করে বলেছেন, রাজস্ব আহরণ শক্তিশালী না করে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন করলে সরকারকে আরও বেশি ঋণের ওপর নির্ভর করতে হতে পারে, যা বাজেট ঘাটতি ও সামগ্রিক অর্থনীতির ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করবে।
২৪ জুন ২০২৬
অর্থনীতির তিন সংকটে আইএমএফের উদ্বেগ, প্রবৃদ্ধি কমার শঙ্কা

অর্থনীতির তিন সংকটে আইএমএফের উদ্বেগ, প্রবৃদ্ধি কমার শঙ্কা

২৪ জুন ২০২৬
 প্রো ম্যাক্সের দাম ছাড়িয়ে যাবে ২ লাখ, আইফোন ১৮ নিয়ে যা জানলো বিশ্ব

প্রো ম্যাক্সের দাম ছাড়িয়ে যাবে ২ লাখ, আইফোন ১৮ নিয়ে যা জানলো বিশ্ব

এ বছর প্রযুক্তিপ্রেমীদের সব কৌতূহল কেবল একটি ফোনকে ঘিরে—অ্যাপলের ‘আইফোন ১৮’। এখনো উন্মোচনের প্রায় দুই মাস বাকি থাকলেও ফোনটির নকশা, শক্তিশালী চিপসেট, ক্যামেরায় বড় পরিবর্তন ও আকাশচুম্বী দাম নিয়ে ফাঁস থেমে নেই। ধারণা করা হচ্ছে, আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্সের দাম প্রায় দুই লাখ টাকা হতে পারে। চলুন জেনে নেওয়া যাক আইফোন ১৮ সিরিজের সম্ভাব্য ফিচার, দাম ও উন্মোচনের সময়সূচি সম্পর্কে বিস্তারিত।আকাশচুম্বী দামআইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্স হতে যাচ্ছে অ্যাপলের ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যয়বহুল স্মার্টফোন । চীনের টেক–বিষয়ক প্রতিষ্ঠান ‘স্মার্ট পিকাচু’ জানিয়েছে, চীনে এর প্রারম্ভিক মূল্য ১১ হাজার ইউয়ান থেকে শুরু হতে পারে, যা ডলারে প্রায় ১ হাজার ৬২৫ ডলার । বাংলাদেশি মুদ্রায় কর ও শুল্ক বাদে এর দাম পড়বে প্রায় ১ লাখ ৯৭ হাজার টাকার বেশি । প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, এই দাম বৃদ্ধির পেছনে প্রধান কারণ ২ ন্যানোমিটার প্রসেসর এবং ১২ জিবি র‍্যামের উচ্চ মূল্য ।টাটা গ্রুপের তথ্য ফাঁসএইবার অ্যাপলের কঠোর গোপনীয়তা প্রাচীরে বড় ফাটল ধরেছে। ভারতের টাটা ইলেকট্রনিকসের সার্ভারে ‘ওয়ার্ল্ড লিকস’ নামের হ্যাকার গ্রুপ হামলা চালিয়ে প্রায় ৬৩০ গিগাবাইট সংবেদনশীল তথ্য চুরি করে । ডার্ক ওয়েবে ছড়িয়ে পড়া এসব ফাইলের মধ্যে আইফোন ১৮ প্রোর আসল থ্রিডি নকশা, পার্টস সরবরাহকারীদের তালিকা এবং ড্রপ–টেস্টের ছবিও রয়েছে । ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থা ও অ্যাপল এই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে ।২ ন্যানোমিটারের প্রসেসরআইফোন ১৮ প্রো সিরিজের প্রধান আকর্ষণ হবে ‘এ২০ প্রো’ চিপসেট, যা তাইওয়ানের টিএসএমসি তৈরি করছে । এটি বিশ্বের প্রথম ২ ন্যানোমিটার প্রযুক্তিতে তৈরি চিপ । নতুন এই প্রযুক্তিতে বর্তমানের চেয়ে প্রায় ১৫ শতাংশ বেশি দ্রুত কাজ করতে পারবে এবং ব্যাটারি সাশ্রয় হবে ২৫-৩০ শতাংশ ।১২ জিবি র‍্যাম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাআইফোন ১৮ প্রো সিরিজে প্রথমবারের মতো ১২ জিবি র‍্যাম ব্যবহার করা হচ্ছে । এর পেছনে মূল কারণ হলো আইওএস ২৭-এর নতুন এআই ফিচার ‘অ্যাপল ইন্টেলিজেন্স’ এবং উন্নত ‘সিরি এআই’, যা ইন্টারনেট ছাড়াই ফোনের ভেতরে কাজ করবে ।ক্যামেরায় ডিএসএলআরের ছোঁয়াআইফোন ১৮ প্রো ও প্রো ম্যাক্সের প্রধান ৪৮ মেগাপিক্সেল ক্যামেরায় যুক্ত হচ্ছে ‘ভ্যারিয়েবল অ্যাপারচার’ । যান্ত্রিকভাবে লেন্সের মুখ ছোট-বড় করার সুবিধায় সিনেমার মতো উন্নত ভিডিও এবং প্রাকৃতিক ব্যাকগ্রাউন্ড ব্লার পাওয়া যাবে । আলট্রা-ওয়াইড ও ৫ গুণ জুমের টেলিফটো লেন্সকেও ৪৮ মেগাপিক্সেলে উন্নীত করা হচ্ছে ।ডায়নামিক আইল্যান্ডের সংকোচনডায়নামিক আইল্যান্ড প্রায় ৩৫ শতাংশ ছোট হয়ে যাচ্ছে । ফেস আইডির সেন্সর দুটোকে ডিসপ্লের নিচে নিয়ে যাওয়ায় এটি সম্ভব হচ্ছে । এছাড়া ‘গ্রেড ৫’ পলিশড টাইটানিয়ামের ব্যবহারে ফোন হবে হালকা ও স্ক্র্যাচ প্রতিরোধী, এবং নতুন রং যোগ হচ্ছে ‘স্যাটিন গোল্ড’ ও ‘ডিপ প্লাম’ ।কবে আসছে বাজারেফোর্বসের জ্যেষ্ঠ প্রযুক্তি লেখক ডেভিড ফেলানের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ৯ সেপ্টেম্বর অ্যাপলের ‘কি-নোট’ ইভেন্টে আইফোন ১৮ সিরিজ উন্মোচিত হবে । প্রি-অর্ডার শুরু হবে ১১ সেপ্টেম্বর এবং বিশ্বজুড়ে বিক্রি শুরু হবে ১৮ সেপ্টেম্বর ।
২৫ জুলাই ২০২৬
কোন ছবি নেই !
কোন ছবি নেই !
হজের বিমান টিকিটের দাম আরও ২৫ হাজার টাকা কমালো সরকার

হজের বিমান টিকিটের দাম আরও ২৫ হাজার টাকা কমালো সরকার

বাংলাদেশি হজযাত্রীদের ব্যয় কমাতে হজের বিমান টিকিটের মূল্য সরকার আরও ২৫ হাজার টাকা কমিয়েছে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। তিনি জানান, ২০২৬ সালের হজে বিমান টিকিটের নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা।বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জাতীয় হজ ও ওমরাহ ফেয়ার-২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এই ঘোষণা দেন তিনি। তিন দিনব্যাপী এই ফেয়ারের আয়োজন করেছে হজ এজেন্সিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব)।প্রতিমন্ত্রী বলেন, 'সবার আগে বাংলাদেশ' প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকার দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। এই যাত্রায় বাংলাদেশি হজযাত্রীদের জন্য যৌক্তিক খরচে ও হয়রানিমুক্ত পরিবেশে হজ প্যাকেজ নিশ্চিত করাকে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।তিনি বলেন, গত বছর আমরা প্রতি টিকিটে ১২ হাজার টাকা খরচ কমাতে সক্ষম হয়েছিলাম। এই বছর আমরা টিকিটপ্রতি খরচ আরও ২৫ হাজার টাকা কমিয়ে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকায় নামিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছি।এছাড়া বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সৌদি সরকারের কাছে বিমান টিকিটের ওপর আরোপিত সৌদি বিমানবন্দরের নির্মাণ কর কমানোর অনুরোধ জানানো হয়েছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। মিল্লাত বলেন, 'বাংলাদেশি হাজিদের আবাসন ব্যয় কমানোর লক্ষ্যে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার বিষয়েও সৌদি রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বিস্তর আলোচনা হয়েছে।'অনুষ্ঠানে ধর্মসচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ এনডিসি জানান, বাংলাদেশের হজযাত্রীদের মাত্র পাঁচ শতাংশ সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ পালন করেন, আর বাকি ৯৫ শতাংশ বেসরকারি হজ এজেন্সির মাধ্যমে সৌদি আরব যান। তিনি সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয় এমন কোনো কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকতে এজেন্সি মালিকদের প্রতি আহ্বান জানান।অনুষ্ঠানে রাজকীয় সৌদি দূতাবাসের উপ-মিশন প্রধান খালিদ সাঈদ আল হাদাল, হাবের নেতারা এবং হজপ্রত্যাশীরা উপস্থিত ছিলেন। হজ এজেন্সিগুলো বলেছে, টিকিটের দাম কমানোর পাশাপাশি সৌদি আরবে আবাসন ও পরিবহন খরচ কমাতে সরকারের আরও উদ্যোগ প্রয়োজন। তারা আশা করেন, এই দাম কমানো হজযাত্রীদের জন্য চূড়ান্ত প্যাকেজের খরচ কিছুটা হলেও কমাবে।
২৪ জুন ২০২৬
শেখ নূর কুতুব আলম: বাংলার আধ্যাত্মিক নেতৃত্বের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত

শেখ নূর কুতুব আলম: বাংলার আধ্যাত্মিক নেতৃত্বের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত

বাংলার মধ্যযুগীয় ইতিহাসে পান্ডুয়া ছিল জ্ঞান, সংস্কৃতি ও আধ্যাত্মিক সাধনার অন্যতম কেন্দ্র। এই শহরের খানকাগুলোতে যেমন ধর্মীয় শিক্ষা বিস্তার লাভ করত, তেমনি এখান থেকেই সমাজজীবনে নৈতিক নেতৃত্বও গড়ে উঠত। ১৩৫০ সালের কিছু আগে তৎকালীন বাংলার রাজধানী পান্ডুয়ায় তার জন্ম। তার প্রকৃত নাম নূরুদ্দীন নূরুল হক। ‘নূর কুতুবুল আলম’ তার উপাধি।তার পিতা ছিলেন বাংলার অন্যতম শ্রেষ্ঠ আলেম ও সুফি শায়খ আলাউল হক। বংশপরিচয়ও ছিল সম্মানজনক—তিনি লাহোরের প্রসিদ্ধ সাধক শেখ আসাদের পৌত্র। পিতার মতো তিনি ছিলেন চিশতিয়া তরিকার একজন বিশিষ্ট পীর। ইলিয়াস শাহী বংশের তৃতীয় সুলতান গিয়াস উদ্দিন আজম শাহ ছিলেন তার সহপাঠী ও বন্ধু। কিন্তু বংশগৌরবের চেয়েও বড় ছিল তার ব্যক্তিত্ব, জ্ঞান, দূরদর্শিতা এবং মানুষের জন্য আত্মনিবেদিত জীবন।ব্যক্তিগত জীবন ও আধ্যাত্মিক সাধনানূর কুতুব আলম তাঁর পিতার আমল থেকে সব ধরনের কায়িক শ্রমের অভ্যাস করতেন। দরগায় আগত ফকিরদের কাপড় ধোয়া, লাকড়ি ও পানি বহন, শীতকালে পীরের অজু করার জন্য সর্বদা পানি গরম রাখা, এমনকি খানকাহসংলগ্ন শৌচাগার পরিষ্কার করা প্রভৃতি কাজে তিনি নিজেকে নিয়োজিত রাখতেন।আজকের সময়ে নেতৃত্বকে আমরা প্রায়ই ক্ষমতা, প্রভাব কিংবা সামাজিক মর্যাদার সঙ্গে মিলিয়ে দেখি। অথচ নূর কুতুব আলমের জীবন আমাদের শেখায়, প্রকৃত নেতৃত্ব শুরু হয় সেবার মাধ্যমে। যে মানুষ নিজের হাতে মানুষের কষ্ট লাঘব করতে পারে, তিনিই প্রকৃত অর্থে মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিতে পারেন।রাজনৈতিক সংকটে নূর কুতুব আলমের ভূমিকানূর কুতুব আলমের জীবনের সবচেয়ে উজ্জ্বল অধ্যায় রচিত হয় এক ভয়াবহ রাজনৈতিক সংকটের সময়। ১৪১৫ খ্রিস্টাব্দে রাজা গণেশ নামক একজন হিন্দু শাসক ইলিয়াস শাহি বংশ উত্খাত করে ক্ষমতা গ্রহণ করেন। তিনি মুসলমানের ওপর নজিরবিহীন জুলুম-নির্যাতন শুরু করেন। এমনকি শায়খ ও আলেমদের ওপর অবর্ণনীয় অত্যাচার শুরু করেন।বিশেষ করে ধর্মীয় নেতৃত্ব, আলেম-ওলামা এবং সাধারণ মুসলমানদের ওপর নিপীড়নের অভিযোগ বিভিন্ন ঐতিহাসিক গ্রন্থে উল্লেখিত হয়েছে। বাংলার মুসলিম সমাজ গভীর অনিশ্চয়তা ও আতঙ্কের মধ্যে পড়ে।এই পরিস্থিতিতে শেখ নূর কুতুব আলম নীরব থাকেননি। তিনি উপলব্ধি করেছিলেন, কেবল খানকায় বসে ইবাদত করাই একজন আধ্যাত্মিক নেতার একমাত্র দায়িত্ব নয়; মানুষের জীবন, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সামাজিক নিরাপত্তা বিপন্ন হলে ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্যও এগিয়ে আসতে হয়। তার এই অবস্থান প্রমাণ করে, ইসলামী আধ্যাত্মিকতার প্রকৃত শিক্ষা সমাজবিমুখতা নয়; বরং মানুষের কল্যাণে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন।কূটনৈতিক পদক্ষেপ ও রাজা গণেশের সাথে সমঝোতাবাংলার মুসলমানদের রক্ষার জন্য তিনি এক গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। তিনি জৌনপুরের সুলতান ইবরাহিম শর্কিকে বাংলা আক্রমণ করে বাংলাকে গণেশের হাত থেকে রক্ষা করার অনুরোধ জানিয়ে চিঠি লেখেন। একই সঙ্গে তিনি প্রসিদ্ধ সুফি ব্যক্তিত্ব মীর সৈয়দ আশরাফ জাহাঙ্গীর সিমনানিকেও অনুরোধ করেন, যেন তিনিও ইবরাহিম শর্কিকে বাংলার মুসলমানদের সহায়তায় এগিয়ে আসতে উদ্বুদ্ধ করেন।সুলতান ইবরাহিম শর্কি এই অনুরোধ রক্ষা করে বাংলা আক্রমণের উদ্দেশ্যে পিরোজপুর এসে শিবির স্থাপন করেন। রাজা গণেশ এতে ভয় পেয়ে নূর কুতুব আলমের কাছে আত্মসমর্পণ করেন এবং তাঁকে ক্ষমা করে ইবরাহিম শর্কিকে জৌনপুরে ফিরে যেতে বলার অনুরোধ জানান।কিন্তু নূর কুতুব আলম এতে সম্মত হননি। তিনি জানিয়ে দেন, একজন মুসলিম শাসককে কোনো অমুসলিম শাসকের পক্ষ নিয়ে তিনি ফিরিয়ে দিতে পারেন না। বরং পূর্বশর্ত হিসেবে তিনি রাজা গণেশকে ইসলাম গ্রহণের আহ্বান জানান। গণেশ তাতে সম্মত হন, কিন্তু বিস্তারিত শুনে তাঁর রানি এতে বাধা দেন। গণেশ তখন তার ১২ বছরের ছেলে যদুকে নিয়ে শায়খের কাছে আসেন। যদুকে ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত করে 'জালালুদ্দীন' নাম দেওয়া হয় এবং গণেশ তার পক্ষে সিংহাসন ত্যাগ করেন।এই ঘটনার মধ্য দিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ এড়ানো সম্ভব হয় এবং বাংলার রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অন্তত সাময়িকভাবে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়।পরবর্তী পরিস্থিতি ও নূর কুতুব আলমের দূরদর্শিতাশায়খের মৃত্যুর পর গণেশ অবশ্য যদুকে হিন্দু ধর্মে পুনরায় দীক্ষিত করে নিজে সিংহাসনে অধিষ্ঠিত হন। কিন্তু রাজা গণেশের মৃত্যু হলে যদু জালালুদ্দীন মুহাম্মদ শাহ উপাধি গ্রহণ করে সিংহাসনে আরোহণ করেন এবং বাংলার মুসলিম শাসনব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়।এই ঘটনাপ্রবাহে নূর কুতুব আলমের দূরদর্শিতার প্রতিফলন স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তিনি হয়তো জানতেন, একটি সংকটময় সময়ে আপসের মধ্য দিয়েও দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার পথ তৈরি করা যায়।রচিত গ্রন্থসমূহ ও আধ্যাত্মিক উত্তরসূরিতিনি শুধু নিজের আধ্যাত্মিক সাধনায় সীমাবদ্ধ থাকেননি; পরবর্তী প্রজন্ম গড়ে তোলার প্রতিও ছিলেন সমান মনোযোগী। তাঁর রচিত গ্রন্থ সংখ্যা ১২১টি। সেগুলো তার প্রধান মুরিদ ও খলিফা হুসামুদ্দিন মানিকপুরী সম্পাদনা করেন। তন্মধ্যে বিখ্যাত দুটি গ্রন্থ হলো মুগিসুল ফুকারা ও আনিসুল গুরাবা।মুগিসুল ফুকারার একটি পাণ্ডুলিপি সংরক্ষিত আছে বিহারের ভাগলপুরের খলিফাবাগ একটি প্রাইভেট লাইব্রেরিতে। আরেকটি অসম্পূর্ণ কপি সংরক্ষিত আছে এশিয়াটিক সোসাইটি অব বেঙ্গল কলিকাতার লাইব্রেরিতে (সংগ্রহ নং- ৪৬৬)। সেখানে আনিসুল গুরাবা বইটির ২টি কপি সংরক্ষিত আছে (সংগ্রহ নং: ১২১২ ও ১২১৩)।তিনি তাঁর দুই পুত্র শেখ রাফকাতউদ্দীন এবং শেখ আনোয়ারকে আধ্যাত্মিক শিক্ষা দেন। সম্ভবত পিতার জীবদ্দশায় শেখ আনোয়ার রাজা গণেশের হাতে সোনারগাঁয়ে শহীদ হন। শেখ নূর কুতুব আলমের অন্য আর একজন প্রধান মুরিদ ছিলেন শেখ হুসামুদ্দীন মানিকপুরী।পত্র সংকলন ও ঐতিহাসিক দলিলনূর কুতুব আলমের ১৩টি পত্রের একটি গ্রন্থ সম্পাদনা করেন মুহাদ্দিস আব্দুল হক দেহলভী। যে গ্রন্থের নাম মাকতুবাত ই নূর কুতুবুল আলম। এটি দিল্লির ইন্ডিয়ান আর্কাইভে সংরক্ষিত আছে। এই পত্রগুলো থেকে সমসাময়িক রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়।সুলতানদের শ্রদ্ধা ও দরগাহের গুরুত্বশেখ নূর কুতুব আলমের প্রতি পরবর্তী সুলতানদের শ্রদ্ধাও ছিল অসাধারণ। তার দরগাহ সংলগ্ন সরাইখানা ও মাদরাসার ব্যয় নির্বাহের জন্য সুলতান আলাউদ্দীন হোসেন শাহ কয়েকটি গ্রাম দান করেন। দরবেশের মাজার জিয়ারতের জন্য সুলতান বছরে একবার রাজধানী শহর একডালা থেকে পান্ডুয়ায় আসতেন।শায়খ নূর কুতুব আলম পান্ডুয়ার পীর-আউলিয়ার মধ্যে শীর্ষ মর্যাদার অধিকারীদের অন্যতম। পিতা-পুত্র দুজনই পান্ডুয়ার বিখ্যাত শাশ হাজারি দরগায় শায়িত আছেন। পিতার মতো তিনি চিশতিয়া মতাদর্শের পীর ছিলেন। তাঁর অনুসারী শিষ্যকুল ও দরবেশরা কয়েক শতক ধরে বাংলায় মুসলিম সমাজজীবনে তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।ঐতিহাসিক দৃষ্টিতে শায়খ নূর কুতুব আলমের সর্বশ্রেষ্ঠ অবদান বাংলার মুসলিম শাসন রাজা গণেশের হাত থেকে রক্ষা করা।মৃত্যুশেখ নূর কুতুব আলম ৮১৮ হিজরি বা ১৪১৫ খ্রিস্টাব্দে (বাংলাপিডিয়া ও উইকিপিডিয়া মতে) ইন্তেকাল করেন। তবে প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, ১৪৪৭ সালের ৭ জানুয়ারি তার মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়। তার ইন্তেকালের সঙ্গে একটি সুন্দর ফারসি অভিব্যক্তি যুক্ত হয়েছে—"নূর বানূর-শুদ", অর্থাৎ "আলো আলোতে বিলীন হয়ে গেল।"এই বাক্যটি যেন তার সমগ্র জীবনেরই প্রতীক। তিনি এমন এক আলোকবর্তিকা ছিলেন, যিনি নিজের জন্য নয়, মানুষের পথ আলোকিত করার জন্য জীবন উৎসর্গ করেছিলেন।ইতিহাসে বহু রাজা এসেছেন, বহু সাম্রাজ্য গড়ে উঠেছে এবং বিলীন হয়েছে। কিন্তু যারা মানুষের হৃদয়ে নৈতিকতার আলো জ্বালিয়ে দেন, তাদের স্মৃতি যুগের পর যুগ অম্লান থাকে। শেখ নূর কুতুব আলম সেই বিরল ব্যক্তিত্বদের একজন, যার জীবন বাংলার ইতিহাসে আধ্যাত্মিক নেতৃত্ব, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং নৈতিক সাহসের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে আজও আমাদের সামনে দাঁড়িয়ে আছে।তথ্যসূত্র: উইকিপিডিয়া, বাংলাপিডিয়া, শায়েখ আব্দুল হক দেহলভী, আকবারুল উখিয়া ফি আসরারুল আবরার, সোস্যাল হিস্টোরি অফ দ্যা মুসলিম ইন ব্যাঙ্গাল।
ফিরোজ আল মামুন