ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬
ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬
গণবার্তা
সর্বশেষ

সংস্কারের দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্যের কয়েক মাসব্যাপী কর্মসূচি

জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য সংস্কারের জন্য গণভোটের রায় বাস্তবায়নে কয়েক মাসব্যাপী কর্মসূচি দিয়েছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে ঢাকায় মহাসমাবেশ, বিভাগীয় শহরগুলোতে সমাবেশ।বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আযাদ, যিনি জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল।এর আগে বেলা ১১টায় জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ১১ দলীয় ঐক্যের চলমান আন্দোলনের কর্মসূচি নির্ধারণের লক্ষ্যে বৈঠকে বসে লিয়াজোঁ কমিটি।বিভাগীয় সমাবেশের সূচিবৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ‘গণভোটের রায় বাস্তবায়নে আগামী ১৬ মে রাজশাহীতে সমাবেশের মধ্য দিয়ে ১১ দলের বিভাগীয় সমাবেশ শুরু হবে।’তিনি পরবর্তী সমাবেশের সূচি ঘোষণা করে বলেন:১৩ জুন চট্টগ্রামে২০ জুন খুলনায়২৭ জুন ময়মনসিংহে১১ জুলাই রংপুরে১৮ জুলাই বরিশালে২৫ জুলাই সিলেটেএসব সমাবেশে সিটি করপোরেশন, বিভাগীয় শহর ও জেলাকে সম্পৃক্ত করা হবে বলে জানান তিনি। আসন্ন ঈদুল আজহার কারণে মে মাসে একটি মাত্র সমাবেশ রাখা হয়েছে। ঈদের পর জুন থেকে আবারও পুরোদমে আন্দোলন ও সমাবেশ শুরু হবে।অন্যান্য কর্মসূচিহামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ‘১১ দলের বৈঠকে বিভাগীয় সমাবেশের কর্মসূচির পাশাপাশি জেলা পর্যায়ে লিয়াজোঁ কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে।’এ ছাড়া রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে পেশাজীবী ও নাগরিক সমাজের সঙ্গে মতবিনিময়ের কর্মসূচি রাখা হয়েছে। সবশেষে আগামী অক্টোবরে রাজধানীতে মহাসমাবেশ করা হবে।গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে কয়েক মাসব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করলো জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য। রাজশাহী থেকে শুরু হয়ে বিভাগীয় শহরগুলোতে সমাবেশ শেষে অক্টোবরে ঢাকায় মহাসমাবেশের পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া জেলা পর্যায়ে লিয়াজোঁ কমিটি গঠন ও পেশাজীবী-নাগরিক সমাজের সঙ্গে মতবিনিময়ের কর্মসূচিও রয়েছে। এই কর্মসূচির মধ্য দিয়ে তারা কতটা জনসমর্থন পায়, সেদিকেই এখন তাকিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গন।
৩০ মিনিট আগে

ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ২৫ বিলিয়ন ডলার খরচ

ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছে, যার বেশিরভাগই খরচ হয়েছে অস্ত্রের পেছনে। বুধবার (২৯ এপ্রিল) কংগ্রেসের কমিটির কাছে পেন্টাগনের কম্পট্রোলার জুলস হার্স্ট এ তথ্য জানিয়েছেন।কমিটির ডেমোক্র্যাটিক র্যাংকিং সদস্য অ্যাডাম স্মিথ জানতে চান, ইরানের বিরুদ্ধে এই যুদ্ধে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের কত খরচ হয়েছে এবং আইনপ্রণেতারা পেন্টাগনের কাছ থেকে শিগগিরই খরচের একটি পূর্ণাঙ্গ হিসাব পেতে পারেন কিনা। শুনানিতে উপস্থিত পেন্টাগনের কম্পট্রোলার জুলস হার্স্ট বলেন, ‘প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলার’, যার বেশিরভাগ খরচই যুদ্ধাস্ত্রের জন্য।এর প্রতিক্রিয়ায় স্মিথ বলেন, ‘আমি খুশি যে আপনি এই প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন, কারণ আমরা অনেক দিন ধরে এটি জানতে চাইছিলাম এবং কেউ আমাদের সঠিক সংখ্যাটি জানায়নি।’পারমাণবিক হুমকি নিয়ে প্রশ্নতিনি তার পরের প্রশ্নটি যুদ্ধমন্ত্রী পিটার হেগসেথের দিকে ছুঁড়ে দেন। তিনি জানতে চান ইরানের পারমাণবিক হুমকি শেষ করার জন্য সরকারের পরিকল্পনা কী।জবাবে হেগসেথ পূর্ববর্তী প্রশাসনগুলোকে ‘খারাপ চুক্তি’ করার জন্য অভিযুক্ত করেন এবং ২০১৬ সালে বারাক ওবামার অধীনে স্বাক্ষরিত জয়েন্ট কম্প্রিহেনসিভ প্ল্যান অফ অ্যাকশন (জেসিপিওএ)-এর কথা উল্লেখ করেন।এর প্রতিক্রিয়ায় স্মিথ বলেন, ‘ওটা তো অতীত, ভবিষ্যৎ কী?’ তিনি প্রশ্ন তোলেন, এমন কোনো আসন্ন পারমাণবিক হুমকি ছিল কি না, যার জন্য ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ করা অপরিহার্য হয়ে পড়েছিল। জবাবে হেগসেথ বলেন, ইরান ‘তাদের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা ত্যাগ করেনি’, যে কারণে যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের সঙ্গে একযোগে পদক্ষেপ নিয়েছিল।ট্রাম্পের দাবি: ‘আমরা জয় পেয়েছি’গতকাল মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা বিজয়ী হয়েছি। এ যুদ্ধে ইতিমধ্যে আমাদের জয় এসে গেছে। আমরা তাদের নৌবাহিনীকে ধ্বংস করেছি… বিমানবাহিনী, অস্ত্রাগার এবং বিভিন্ন সেনা-স্থাপনায় হামলা করেছি…’ট্রাম্প আরও দাবি করেন, ‘নিউ ইয়র্ক টাইমস, এবিসি, সিবিসিসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম প্রচুর ভুয়া সংবাদ ছড়াচ্ছে; কিন্তু সত্য হলো—আমরা জয় পেয়েছি এবং এত দ্রুত বিজয় আসায় পিট (হেগসেথ) খানিকটা হতাশ হয়েছে।’তিনি জানান, ইরানের সঙ্গে আলোচনা চলছে। ‘এই মুহূর্তে আমরা (ইরানের সঙ্গে) আলোচনার মধ্যে আছি। আমি আপনাদের বলতে পারি যে তারা একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে চায়। অবশ্য তারা এখন যে অবস্থায় আছে—সেই অবস্থায় থাকলে কে-ই বা না চাইতো? দেখুন, তারা নৌবাহিনী হারিয়েছে, বিমানবাহিনী নেই, যোগাযোগব্যবস্থা ধ্বংস হয়েছে। এক কথায়, যা ছিল—সব ধ্বংস হয়েছে।’নিজ বক্তব্যে ট্রাম্প আরও দাবি করেন, ইরানে কার্যকরভাবে সরকারের পরিবর্তন হয়েছে এবং বর্তমানে যারা দেশটির নেতৃত্বে আছেন, তারা আগের নেতাদের থেকে ‘অনেকটা ভিন্ন’।ভ্যান্স-হেগসেথের মধ্যে মতপার্থক্যের ইঙ্গিতমার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য আটলান্টিকের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স আশঙ্কা করছেন, ইরান যুদ্ধ সম্পর্কে পেন্টাগন হয়তো প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে সঠিক তথ্য দিচ্ছে না। তিনি জানতে চেয়েছেন, ট্রাম্পের সামনে যুদ্ধের যে উজ্জ্বল চিত্র তুলে ধরা হচ্ছে, তা কি সত্যিই সঠিক, নাকি পেন্টাগন মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত কমে যাওয়ার বিষয়টি গোপন করছে।প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভ্যান্স পেন্টাগনের দেওয়া তথ্যের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর আশঙ্কা, অস্ত্রের ঘাটতি ভবিষ্যতে চীন, উত্তর কোরিয়া বা রাশিয়ার সঙ্গে সম্ভাব্য সংঘাতের ক্ষেত্রে বিপদ ডেকে আনতে পারে।যুদ্ধের বর্তমান চিত্রউল্লেখ্য, ইরানের পরমাণু প্রকল্প এবং ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ২১ দিন ধরে সংলাপ চলে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে। ২৭ ফেব্রুয়ারি কোনো প্রকার সমঝোতা চুক্তি ছাড়াই শেষ হয় সেই সংলাপ। তার পরের দিন ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। একই সময়ে ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ শুরু করে ইসরায়েলও।যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলায় ইতিমধ্যে নিহত হয়েছেন ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি, প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলী লারিজানি, আইআরজিসি-র শীর্ষ কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপৌরসহ বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা। এছাড়া ইরানে নিহত হয়েছেন দুই হাজারের বেশি মানুষ।এদিকে সমানতালে পাল্টা জবাব দিচ্ছে ইরান। ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলের ছয় দেশে অবস্থিত মার্কিন সেনাঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে দফায় দফায় ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করছে ইরান।গতকাল মঙ্গলবার নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, যুদ্ধ বন্ধের জন্য ইরানকে ১৫টি পয়েন্ট সম্বলিত একটি প্রস্তাব পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। পাকিস্তানের মাধ্যমে প্রস্তাবটি তেহরানে পৌঁছানো হয়েছে।যুক্তরাষ্ট্র ইরান যুদ্ধে আট সপ্তায় ২৫ বিলিয়ন ডলার খরচ করে ফেলেছে, যা অস্ত্রের পেছনে ব্যয় হয়েছে সবচেয়ে বেশি। ট্রাম্প প্রশাসন জয়ের দাবি করলেও দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট নিজেই পেন্টাগনের তথ্যের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন—এটি যুদ্ধের ভেতরেই একটি বড় রাজনৈতিক ঘটনা। ইরানের পাল্টা হামলা অব্যাহত থাকায় এই যুদ্ধ কখন থামে, সেটি এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। পাকিস্তানের মাধ্যমে ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের শান্তি প্রস্তাব পৌঁছানোর পরও আলোচনায় কোনো অগ্রগতির খবর এখনো পাওয়া যায়নি।
৯ ঘন্টা আগে

ভৈরব রেলস্টেশনে ট্রেনের নিচে পড়েও বেঁচে যাওয়া বাবা-ছেলের পরিচয় মিলেছে

 ভৈরব রেলওয়ে স্টেশনে ট্রেনের নিচে পড়ে গিয়ে বেঁচে যাওয়া বাবা-ছেলের পরিচয় মিলেছে। এক বছর বয়সী শিশুটি সৌরভ এবং তার বাবার নাম জহিরুল ইসলাম সোহান (৩২)। শিশুর মায়ের নাম সুমাইয়া আক্তার।কিশোরগঞ্জ জেলার কটিয়াদি উপজেলার লোহাজুড়ি ইউনিয়নের চরকাউনিয়া বাজার সংলগ্ন তাদের বাড়ি। বাবা জহিরুল ওমানপ্রবাসী। ঘটনার পর তিনি ৩০ এপ্রিল ভোরে ওমানের উদ্দেশ্যে দেশ ত্যাগ করেছেন।কীভাবে ঘটল দুর্ঘটনা?মঙ্গলবার দুপুরে স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে ভৈরব থেকে তিতাস কমিউটার ট্রেনে করে ঢাকা যাচ্ছিলেন জহিরুল। ট্রেনে ওঠার পর তার মনে পড়ে, প্রবাসে যাবেন অথচ ভুলবশত পাসপোর্ট সঙ্গে আনেননি। তখন তিনি পরিবার নিয়ে তড়িঘড়ি করে ট্রেন থেকে নামতে চান। হঠাৎ স্টেশন থেকে ট্রেনটি ছেড়ে দেয়।স্ত্রী সুমাইয়া আক্তার প্রথমে নামতে গিয়ে ট্রেনের হাতল ধরতে গেলে হাত ফসকে প্ল্যাটফর্মে পড়ে যান। পেছনে থাকা এক বছর বয়সী সৌরভ এ সময় ফাঁক দিয়ে পড়ে গিয়ে চলে যান ট্রেনের নিচে।ঘটনা দেখে ছেলেকে বাঁচাতে ট্রেনের নিচে নেমে পড়েন বাবা এবং ছেলেকে জাপটে ধরে রেললাইনের পাশে শুয়ে থাকেন। তখন ট্রেনটি চলতে থাকে। একে একে আটটি বগি চলে যাওয়ার পর সন্তানসহ বেঁচে যান বাবা।প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনাপ্রত্যক্ষদর্শী ফালু মিয়া বলেন, ‘আমি তিতাস কাউন্টারে কাজ করি। ট্রেনটি যখন ছেড়ে দেয়, তখন দেখতে পাই কেউ একজন ট্রেনের নিচে পড়ে গেছে। দৌড়ে গিয়ে দেখি একজন ব্যক্তি তার সন্তানকে জড়িয়ে ট্রেনের নিচে পড়ে রয়েছেন। ব্যক্তিটির স্ত্রীও ট্রেনের নিচে যাওয়ার উপক্রম হলে আমিসহ অন্যরা তাকে আটকে রাখি।’তিনি আরও বলেন, ‘এক অলৌকিক ঘটনার মধ্য দিয়ে শিশুটি ও তার বাবা বেঁচে গেলেন। আমরা স্টেশনে থাকা সবাই আল্লাহর কাছে লাখো শুকরিয়া জানাই। এমন ঘটনায় কেউ বেঁচে ফেরে না। আমি সারারাত ঘুমাতে পারিনি।’স্টেশনে থাকা দোকানি সোহেল মিয়া বলেন, ‘ঘটনাটি দেখে খুব আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলাম। রাখে আল্লাহ মারে কে—এটাই বুঝতে পেরেছি।’বাবার বর্ণনাভুক্তভোগী জহিরুল ইসলাম সোহান বুধবার রাতে বলেন, ‘এক মুহূর্তের জন্য মনে হয়েছিল আমরা বাবা-ছেলে হয়তো পৃথিবীর আলো আর দেখতে পাব না। একটার পর একটা বগি শরীরের ওপর দিয়ে গেল। ভাবতে পারিনি বেঁচে যাব। ঘটনার পর সারারাত নামাজ পড়ে আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করেছি। আল্লাহ আমাদের বাঁচিয়েছেন।’তিনি আরও জানান, ১০ বছর ধরে ওমানে প্রবাসে আছেন। দুই বছর আগে দেশে এসে বিয়ে করেন। গত বছর তাদের পুত্রসন্তান জন্ম নেয়। চলতি বছরের জানুয়ারিতে দেশে আসেন এবং চার মাস পর আবারও প্রবাসে যাত্রা করছেন। এজন্যই স্ত্রী ও ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে ঢাকায় যাওয়ার পথে এ ঘটনা ঘটে।স্টেশন কর্তৃপক্ষের বক্তব্যস্টেশন মাস্টার মো. ইউসুফ বলেন, ‘সিসি ক্যামেরার ফুটেজ থেকে যতটুকু জানা গেছে, ট্রেনটি ছাড়ার সময় দম্পতি সন্তানকে নিয়ে নামতে চাইছিলেন। যাত্রীদের সচেতনতার অভাব রয়েছে। বাবা-ছেলে বেঁচে যাওয়ায় আমরা অনেক খুশি হয়েছি।’ভৈরব রেলওয়ে থানার এসআই আফজাল হোসেন বলেন, ‘ট্রেনে যাতায়াত করতে হলে সচেতনতার সঙ্গে উঠানামা করতে হবে। ২৮ এপ্রিল দুটি ঘটনা ঘটে। স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে বাবা-ছেলে বেঁচে যান। অন্যদিকে উপজেলার কালিকাপ্রসাদ এলাকায় এক যুবক ট্রেনের ধাক্কায় গুরুতর আহত হয়ে পরে মারা যান।’তিনি জানান, নিহত যুবকের নাম শাহীন মিয়া (৩৪)। তিনি কুলিয়ারচর পৌর শহরের চারারবন এলাকার রমজান মিয়ার ছেলে। যাত্রীদের সচেতন করতে রেলওয়ে প্ল্যাটফর্মে পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে।আটটি বগি মাথার ওপর দিয়ে চলে গেলেও বেঁচে গেলেন বাবা ও সন্তান – সত্যিই অলৌকিক বলতে হয় এই ঘটনাকে। প্রবাসী বাবার শেষ মুহূর্তের ভুলেই ঘটে যায় এ দুর্ঘটনা। কিন্তু ভাগ্য ও আল্লাহর রহমতে মৃত্যু হয়নি কারও। ঘটনাটি ফের স্মরণ করিয়ে দিল, ভিড়ে ট্রেনে ওঠানামার সময় কত সতর্ক থাকা জরুরি। স্টেশন কর্তৃপক্ষ বলছে, যাত্রীদের সচেতনতার অভাবেই এ ধরনের ঘটনা ঘটছে। বাবা-ছেলের বেঁচে যাওয়া যেন আমাদের সবাইকে সতর্ক করে, এটাই প্রত্যাশা।
৯ ঘন্টা আগে
বিসিবির অ্যাডহক কমিটির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট

বিসিবির অ্যাডহক কমিটির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট

 বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) ১১ সদস্যের অ্যাডহক কমিটির বৈধতা প্রশ্নবিদ্ধ করে হাইকোর্টে রিট আবেদন দায়ের করা হয়েছে। বিসিবির এই অ্যাডহক কমিটিকে অবৈধ ঘোষণা করার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে এই আবেদনে।বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট গোলাম কিবরিয়াসহ মোট সাতজন আইনজীবী এ রিট দাখিল করেন।কী আছে রিট আবেদনেআইনজীবীরা এই রিট আবেদনের মাধ্যমে অ্যাডহক কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া ও বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তারা কমিটিটিকে অবৈধ ঘোষণা করার জন্য হাইকোর্টের নির্দেশনা চেয়েছেন।প্রেক্ষাপটএর আগে গত ৭ এপ্রিল আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বাধীন বিসিবির পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে তিন মাসের জন্য ১১ সদস্যের অ্যাডহক কমিটি গঠন করে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি)। এই অ্যাডহক কমিটির প্রধান করা হয় জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবালকে।অ্যাডহক কমিটির সদস্যরা১১ সদস্যের অ্যাডহক কমিটিতে আরও আছেন:রাশনা ইমামমির্জা ইয়াসির আব্বাসসৈয়দ ইব্রাহিম আহমেদইসরাফিল খসরুমিনহাজুল আবেদীনআতহার আলী খানতানজিল চৌধুরিসালমান ইস্পাহানিরফিকুল ইসলাম বাবুফাহিম সিনহাজাতীয় ক্রীড়া পরিষদের বক্তব্যজাতীয় ক্রীড়া পরিষদ জানায়, তাদের গঠিত তদন্ত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতেই এই অ্যাডহক কমিটি গঠন করা হয়েছে। নতুন কমিটি সাময়িকভাবে বিসিবির সার্বিক কার্যক্রম পরিচালনা করবে বলে জানানো হয়।তামিম ইকবালকে প্রধান করে বিসিবির অ্যাডহক কমিটি গঠনের মাত্র ২৩ দিনের মাথায় এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হলো। সাত আইনজীবী এই আবেদন করেছেন। কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া নিয়ে এই রিট নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত প্রশ্ন থেকেই যাবে। হাইকোর্ট এই বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেদিকেই এখন তাকিয়ে ক্রিকেট মহল।
১৬ মিনিট আগে
সংবিধান সংশোধন ও সংস্কার প্রক্রিয়া নিয়ে সংসদে সরকার-বিরোধী মতপার্থক্য

সংবিধান সংশোধন ও সংস্কার প্রক্রিয়া নিয়ে সংসদে সরকার-বিরোধী মতপার্থক্য

সংবিধান সংশোধন ও রাষ্ট্রীয় সংস্কারের প্রক্রিয়া ও পরিধি নিয়ে সংসদে সরকার ও বিরোধীদলের মধ্যে মতপার্থক্য দেখা দিয়েছে। বিশেষ কমিটি গঠন সংক্রান্ত আলোচনায় উভয় পক্ষ নিজেদের অবস্থান তুলে ধরলেও তাৎক্ষণিক কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।বুধবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে অ্যাডভোকেট মো. আসাদুজ্জামান সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটি গঠনের প্রস্তাব আনলে এ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। অধিবেশন সঞ্চালনা করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।আইনমন্ত্রী অধিবেশনে জানান, বাংলাদেশে আজ চায়ের দোকান পর্যন্ত সংবিধান নিয়ে আলোচনা হয়। সেই চর্চার অংশ হিসেবে ইতিমধ্যে তিনি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদে একটি বিশেষ কমিটি গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন। সংসদের রুল ২৬৬ অনুযায়ী এই কমিটির জন্য ১২ জন সদস্যের নাম চূড়ান্ত করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।আইনমন্ত্রী বলেন, ‘যেখানে বিএনপি আছে, যেখানে গণঅধিকার পরিষদ আছে, যেখানে গণসংহতি আছে, যেখানে বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি আছে এবং স্বতন্ত্র সদস্যদেরও রাখা হয়েছে ১২ জনের তালিকায়।’তিনি আরও জানান, বিরোধীদলের পক্ষ থেকে শতকরা হিসেবে প্রায় ২৬ শতাংশ আসন নিয়ে তারা পাঁচজন সদস্য প্রস্তাব করতে পারে। ‘১২ জনের মধ্যে বিএনপি সাতজন দিয়েছে, পাঁচজন অন্য দল থেকে দেওয়া হয়েছে। তাদের পক্ষ থেকে পাঁচজন দিলে এই কমিটি সংক্রান্ত বিষয় আগামীকাল উপস্থাপন করতে চাই। জুলাই সনদের আলোকে সংবিধান সংশোধনে আমরা এগিয়ে যেতে চাই।’ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, ‘ট্রেজারি বেঞ্চ থেকে ১২ জনের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। বিরোধীদল থেকে পাঁচজনের তালিকা চাচ্ছেন। এই ১৭ জন মিলে বিশেষ কমিটি গঠন করলে প্রক্রিয়া এগিয়ে যাবে।’বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, চিফ হুইপ তাঁর সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলেছেন। তিনি বলেন, ‘আমি তাকে বলেছি যে বিষয়টি আমাদের মধ্যে একটু আলোচনার বিষয় আছে। কারণ এখানে কনসেপচুয়াল ডিফারেন্স আছে আমাদের।’বিরোধীদলীয় নেতা আরও বলেন, ‘আমরা চেয়েছি রিফর্ম। আর এখানে হচ্ছে আপনার অ্যামেন্ডমেন্ট। এই জায়গাটায় আগেও আমাদের ডিফারেন্স ছিল। তাদের প্রস্তাব আমরা শুনলাম কিন্তু এখনই কিছু বলছি না। এটা আজই হয়ে যাবে এমনটি নয়।’আইনমন্ত্রী জবাবে বলেন, ‘স্পিকার সাহেব, আপনার মাধ্যমে বিরোধীদলীয় নেতাকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আমাদের এতে কোনো অসুবিধা নেই। আমরা অপেক্ষা করব। সংবিধান সংশোধনের পথে জুলাই সনদের আলোকে এগিয়ে যাব। এজন্য পরবর্তী সেশন পর্যন্ত অপেক্ষা করতেও আমাদের অসুবিধা হবে না।’ডেপুটি স্পিকার শেষে বলেন, বিরোধীদলীয় নেতা সংসদীয় সিদ্ধান্তে উপনীত হচ্ছে যে ট্রেজারি বেঞ্চ থেকে ১২ সদস্য প্রস্তুত আছে এবং বিরোধীদল থেকে পাঁচজনের নাম বা এ সংক্রান্ত বিষয় আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্তে আসবে। আর এজন্য ট্রেজারি বেঞ্চ প্রস্তুত রয়েছে।সরকার সংবিধান সংশোধনে দ্রুত এগোতে চাইলেও বিরোধীদলের ‘ধারণাগত পার্থক্যের’ কারণে তাৎক্ষণিক কোনো সমঝোতা হয়নি। বিরোধীদল ‘সংস্কার’ চাইছে, সরকার ‘সংশোধন’ বলছে – এই শব্দগত ও পরিধিগত বিভেদই বিলম্বের মূল কারণ বলে মনে করছেন সংসদ বিশ্লেষকরা। আগামী কয়েক দিনে আলোচনার মাধ্যমেই কমিটি গঠন সম্ভব হবে কি না, তা দেখার বিষয়।
২২ ঘন্টা আগে
দিল্লি হাইকোর্টের ভার্চ্যুয়াল শুনানিতে পর্নোগ্রাফি দেখাল অনুপ্রবেশকারী, তৃতীয় দফায় হ্যাকিং বার্তা

দিল্লি হাইকোর্টের ভার্চ্যুয়াল শুনানিতে পর্নোগ্রাফি দেখাল অনুপ্রবেশকারী, তৃতীয় দফায় হ্যাকিং বার্তা

ভারতের দিল্লি হাইকোর্টের ভার্চ্যুয়াল বা অনলাইন বিচারিক কার্যক্রমে নজিরবিহীন ঘটনা ঘটেছে। বুধবার দুপুরে আদালতের ভিডিও কনফারেন্সিং চলাকালে একজন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি যুক্ত হন। তিনি দফায় দফায় অশ্লীল ভিডিও বা পর্নোগ্রাফি প্রদর্শন করেন।দুপুর ১২টার কিছু পর প্রধান বিচারপতি ডি কে উপাধ্যায় ও বিচারপতি তেজস কারিয়ার এজলাসে অনলাইনে শুনানি চলছিল। শুনানিতে যুক্তরাষ্ট্রের ভিডিও কনফারেন্সিং প্ল্যাটফর্ম ‘সিংকো ওয়েবেক্স’ ব্যবহার করা হচ্ছিল।তিন দফায় অনুপ্রবেশএকপর্যায়ে অনলাইন শুনানিতে এক অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি (আইডি) যুক্ত হন। তিনি নিজের স্ক্রিন শেয়ার করেন এবং অশ্লীল দৃশ্য প্রদর্শন শুরু করেন। আদালত কর্তৃপক্ষ দ্রুত ওই আইডির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়।কিন্তু কয়েক মিনিট পর আবারও একই ঘটনা ঘটে। তৃতীয় দফায় অনুপ্রবেশকারী ব্যক্তি পর্নোগ্রাফি চালানোর পাশাপাশি একটি অডিও বার্তা বাজান। সেখানে তিনি দাবি করেন, ‘এটি যুক্তরাষ্ট্র থেকে হ্যাক করা হয়েছে...মিটিং এখনই বন্ধ করুন। আর কখনো চালু করবেন না। আপনারা হ্যাকড হয়েছেন।’আইনজীবীদের কড়া প্রতিক্রিয়াএ ঘটনায় ভারতের অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল (এএসজি) চেতন শর্মা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, কেবল একটি আদালতে নয়, দিল্লি হাইকোর্টের একাধিক এজলাসে পরিকল্পিত অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটেছে। এটি বিচার বিভাগের পবিত্রতা ও অখণ্ডতার ওপর সরাসরি আঘাত।এএসজি চেতন শর্মা তথ্যপ্রযুক্তি আইনের আলোকে সরকারের কাছে আবেদন জানিয়ে বলেন, ইন্টারনেট থেকে এ ঘটনার ধারণকৃত সব ভিডিও দ্রুত সরিয়ে ফেলার জন্য যেন ব্যবস্থা নেওয়া হয়।প্রধান বিচারপতির নির্দেশপ্রধান বিচারপতি ডি কে উপাধ্যায় আদালতকে জানান, প্রশাসনিকভাবে রেজিস্ট্রার জেনারেলকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আইন অনুযায়ী অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।মধ্যাহ্নভোজের বিরতির পর হাইকোর্টের কার্যক্রম আবার চালু হলে ভার্চ্যুয়াল শুনানির পদ্ধতিতে ব্যাপক পরিবর্তন আনা হয়। এখন থেকে আদালত কক্ষের ভিসি লিংক ‘লক’ করে দেওয়া হয়েছে। ফলে সেখানে মডারেটরের অনুমতি ছাড়া কেউ যুক্ত হতে পারবেন না।এ ছাড়া চ্যাটবক্সে কড়া নির্দেশনা দিয়ে বলা হয়েছে, অংশগ্রহণকারীকে অবশ্যই নিজের নাম এবং মামলার আইটেম নম্বর দেখাতে হবে। অন্যথায় তাঁকে বের করে দেওয়া হবে।পুলিশি তদন্ত ও পূর্বঘটনাদিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তারা এ ঘটনার তদন্ত শুরু করবে।আদালতের শুনানিতে এ ধরনের ঘটনা ভারতে এটাই প্রথম নয়। ২০২৩ সালে কর্ণাটক হাইকোর্টে একই কায়দায় ছয়টি এজলাসে পর্নোগ্রাফি চালানো হয়েছিল। এর ফলে কয়েক দিনের জন্য ভার্চ্যুয়াল শুনানি স্থগিত রাখা হয়েছিল।দিল্লি হাইকোর্টের বিধি অনুযায়ী, অনুমতি ছাড়া আদালতের কার্যক্রম রেকর্ড করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।দেশটির শীর্ষ আদালতের এজলাসে সাইবার হামলা স্বাভাবিক বিচার প্রক্রিয়ার জন্য বড় ধরনের হুমকি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। যদিও প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছে, তবে একাধিকবার একই ঘটনা ঘটায় নিরাপত্তাব্যবস্থার দুর্বলতা প্রশ্নের মুখে পড়েছে। আগে কর্ণাটক হাইকোর্টেও একই ঘটনা ঘটেছিল। তাই ভার্চ্যুয়াল কোর্টের জন্য আরও শক্তিশালী এনক্রিপশন ও প্রমাণীকরণ ব্যবস্থার দাবি জোরালো হচ্ছে। দিল্লি পুলিশ তদন্ত শুরু করলেও অনুপ্রবেশকারী যুক্তরাষ্ট্র থেকে হ্যাকিংয়ের দাবি করায় জটিলতা বাড়তে পারে। বিচার বিভাগের মর্যাদা রক্ষায় এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে আশা করছেন আইনজীবীরা।
৯ ঘন্টা আগে
১৫ এপ্রিল ২০২৬, ১২:১১ এএম
আপনি কি মনে করেন বিএনপি জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর ও শব্দ বাস্তবায়ন করবে?

আপনি কি মনে করেন বিএনপি জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর ও শব্দ বাস্তবায়ন করবে?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ জন
হামের উপসর্গে আরও পাঁচ শিশুর মৃত্যু, নতুন রোগী শনাক্ত ১২৯

হামের উপসর্গে আরও পাঁচ শিশুর মৃত্যু, নতুন রোগী শনাক্ত ১২৯

হাম পরিস্থিতি নিয়ে দেশে উদ্বেগ কাটছেই না। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে এই সময়ে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। বুধবার স্বাস্থ্য অধিদফতরের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত তথ্য তুলে ধরা হয়।স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১২৯ জনের দেহে হাম শনাক্ত হয়েছে। এতে ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত মোট নিশ্চিত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৯৩৪ জনে। এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে ১ হাজার ২২৯ জনের মধ্যে হামের উপসর্গ দেখা গেছে। এ নিয়ে মোট সন্দেহজনক রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৭ হাজার ১৬৪ জনে।স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৩৮ জন। আর হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৯০ জনে। একই সময়ের মধ্যে হাম সন্দেহে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১৭ হাজার ৯৯৮ জন এবং চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১৪ হাজার ৮৯২ জন।
২২ এপ্রিল ২০২৬
রূপপুর প্রকল্পের ব্যয়ের ৯০ শতাংশই রুশ ঋণ, ফেরত দিতে ২৮ বছরের সময় পাচ্ছে বাংলাদেশ

রূপপুর প্রকল্পের ব্যয়ের ৯০ শতাংশই রুশ ঋণ, ফেরত দিতে ২৮ বছরের সময় পাচ্ছে বাংলাদেশ

 রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ঘিরে বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে যেমন নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, তেমনি এর অর্থায়ন ও ব্যয় নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন। প্রায় এক লাখ চৌদ্দ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই মেগা প্রকল্পের ৯০ শতাংশ অর্থ ঋণ হিসেবে দিচ্ছে রাশিয়া, যা বাংলাদেশকে ২৮ বছরের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে।প্রকল্প বাস্তবায়নে আর্থিক, কারিগরি ও প্রযুক্তিগত সব ধরনের সহায়তাই দিচ্ছে রাশিয়া। শুরুতে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের উৎপাদন খরচ ছয় টাকা ধরা হলেও অভ্যন্তরীণ সূত্র বলছে, বর্তমানে তা প্রায় ১২ টাকায় পৌঁছাতে পারে।নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিপ্রকল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মেনে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। ব্যবহৃত তৃতীয় প্রজন্মের রিঅ্যাক্টর প্রযুক্তিতে রয়েছে স্বয়ংক্রিয় নিরাপত্তাব্যবস্থা। ব্যবহৃত জ্বালানি আন্তর্জাতিক তত্ত্বাবধানে রাশিয়ায় ফেরত পাঠানো হবে। প্রায় ৬০ বছর আয়ুষ্কালের এই বিদ্যুৎকেন্দ্র যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে আরও ৩০ বছর পর্যন্ত চালু রাখা সম্ভব।সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, রূপপুর প্রকল্প শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদনেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি দেশের প্রযুক্তিগত অগ্রগতি, দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।পরিবেশগত দিকবিশেষজ্ঞদের মতে, পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে কার্বন নিঃসরণ খুবই কম, যা জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় সহায়ক। পাশাপাশি কম জ্বালানিতে বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদনের কারণে কয়লা ও গ্যাসের ওপর নির্ভরতা কমাবে এই কেন্দ্র। বিশ্বজুড়ে বিতর্ক থাকলেও আধুনিক সময়ে পারমাণবিক শক্তিকে পরিচ্ছন্ন জ্বালানি হিসেবেই বিবেচনা করা হচ্ছে।জ্বালানি ও উৎপাদন প্রক্রিয়াজানা গেছে, পারমাণবিক জ্বালানি মূলত ইউরেনিয়াম থেকে তৈরি হয়। ইউরেনিয়াম অক্সাইড দিয়ে ছোট ট্যাবলেটের মতো জ্বালানি দানা বা পেলেট তৈরি করা হয়, যার ব্যাস সাধারণত ৮ থেকে ১৫ মিলিমিটার এবং দৈর্ঘ্য ১০ থেকে ১৫ মিলিমিটার। এসব পেলেট চার মিটার দীর্ঘ ধাতব নলের মধ্যে সাজিয়ে তৈরি করা হয় জ্বালানি রড। পরে নির্দিষ্ট কাঠামোয় একাধিক রড একত্র করে তৈরি হয় ফুয়েল অ্যাসেম্বলি বা জ্বালানি বান্ডেল।২০২৩ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর আকাশপথে রাশিয়া থেকে ঢাকায় আসে পারমাণবিক জ্বালানির প্রথম চালান। পরবর্তীতে আরও কয়েকটি চালান আসে এবং বিশেষ নিরাপত্তায় সড়কপথে অক্টোবরে রূপপুরে নেওয়া হয়। মোট ১৬৪টি জ্বালানি বান্ডেল দেশে আনা হয়েছে, যার প্রতিটিতে রয়েছে ৩১২টি করে জ্বালানি রড।বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য এসব জ্বালানি বান্ডেল চুল্লির কেন্দ্রে স্থাপন করা হচ্ছে। প্রথম ইউনিটে একসঙ্গে ১৬৩টি বান্ডেল ব্যবহার করা হবে। একবার জ্বালানি স্থাপন করলে প্রায় ১৮ মাস বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব। ব্যবহৃত জ্বালানি তেজস্ক্রিয় হওয়ায় তা বিশেষ ব্যবস্থায় রাশিয়ায় ফেরত পাঠানো হবে এবং আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার নজরদারিতে প্রতিটি বান্ডেলের হিসাব রাখা হবে।স্টার্টআপ প্রক্রিয়ারি-অ্যাক্টরের নকশা অনুযায়ী, ১৬৩টি ফুয়েল অ্যাসেম্বলি কোরে বসাতে সময় লাগবে প্রায় ৩০ দিন। এরপর শুরু হবে ফিজিক্যাল স্টার্টআপ, যেখানে নিউক্লিয়ার ফিশন রিঅ্যাকশন চালু করে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন করতে প্রায় ৩৪ দিন সময় লাগবে।পরবর্তী ধাপে ধীরে ধীরে রিঅ্যাক্টরের ক্ষমতা বাড়ানো হবে—৩ শতাংশ, ৫ শতাংশ, ১০ শতাংশ, ২০ শতাংশ এবং ৩০ শতাংশে উন্নীত করতে সময় লাগবে প্রায় ৪০ দিন। রিঅ্যাক্টরের ক্ষমতা ৩ শতাংশে পৌঁছালেই জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হবে। ধাপে ধাপে পূর্ণ সক্ষমতায় যেতে এবং সব পরীক্ষা শেষ করতে মোট সময় লাগবে প্রায় ১০ মাস।নির্মাণ চুক্তি অনুযায়ী, প্রথম তিন বছর রাশিয়াই জ্বালানি সরবরাহ করবে। এ সময়ে জ্বালানি আমদানি নিয়ে কোনো উদ্বেগ নেই। এরপর বাংলাদেশকে নিজ উদ্যোগে ইউরেনিয়াম আমদানি করতে হবে, তবে দুই বছর পরপর জ্বালানি পরিবর্তন করলেই কেন্দ্রটি সচল রাখা সম্ভব হবে।রূপপুর বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় মেগা প্রকল্প। শুরুতে উৎপাদন খরচ ছয় টাকা হলেও বর্তমানে তা দ্বিগুণ হতে পারে—যা বিদ্যুতের বাজারমূল্যকে প্রভাবিত করবে। আবার ঋণের বোঝা নিয়েও প্রশ্ন আছে। তবে কার্বননিরপেক্ষ বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে এটিকে ‘গেমচেঞ্জার’ বলছেন অনেকে। প্রকল্পটি এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। গ্রিডে বিদ্যুৎ দেওয়া শুরু হলে বাস্তব চিত্র স্পষ্ট হবে।
২৮ মার্চ ২০২৬
আইএমএফের পূর্বাভাস, চলতি বছর মাথাপিছু জিডিপিতে ভারতকে ছাড়িয়ে যেতে পারে বাংলাদেশ

আইএমএফের পূর্বাভাস, চলতি বছর মাথাপিছু জিডিপিতে ভারতকে ছাড়িয়ে যেতে পারে বাংলাদেশ

২৮ মার্চ ২০২৬
এআই নিয়ে আদালতে মাস্ক বনাম অল্টম্যান, এআইয়ের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে মামলা শুরু

এআই নিয়ে আদালতে মাস্ক বনাম অল্টম্যান, এআইয়ের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে মামলা শুরু

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে প্রভাব ফেলতে পারে এমন এক বহুল আলোচিত মামলার বিচারিক কার্যক্রম আজ মঙ্গলবার শুরু হয়েছে। চ্যাটজিপিটির নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ওপেনএআইয়ের বিবর্তন নিয়ে দুই বিলিয়নিয়ার ইলন মাস্ক ও স্যাম অল্টম্যান এখন আদালতের মুখোমুখি। অলাভজনক সংস্থা থেকে শত শত বিলিয়ন ডলারের মুনাফালোভী প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর নিয়ে তাদের এ আইনি লড়াই। সোমবার নয় জন জুরির সংক্ষিপ্ত তালিকা তৈরির পর আজ ক্যালিফোর্নিয়ার ওকল্যান্ডের ফেডারেল আদালতে মাস্কের করা দেওয়ানি মামলার প্রাথমিক শুনানি শুরু হয়েছে।মাস্কের অভিযোগ, ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যান এবং প্রেসিডেন্ট গ্রেগ ব্রকম্যান তার ও জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। মানবতার কল্যাণে কাজ করার মূল লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হয়ে তারা প্রতিষ্ঠানটিকে নিজেদের এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি ‘সম্পদ বানানোর যন্ত্রে’ পরিণত করেছেন। বিশ্বের শীর্ষ ধনী মাস্ক ওপেনএআই এবং এর অন্যতম বড় বিনিয়োগকারী মাইক্রোসফটের কাছে প্রায় ১৭ লাখ ৭০ হাজার কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন। তিনি চান এই অর্থ ওপেনএআইয়ের দাতব্য শাখায় জমা হোক। এছাড়া তিনি ওপেনএআইকে পুনরায় অলাভজনক সংস্থায় ফিরিয়ে নেওয়া এবং অল্টম্যান ও ব্রকম্যানকে তাদের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।টেসলা ও স্পেসএক্সের প্রতিষ্ঠাতা মাস্ক জানান, ওপেনএআইয়ের মূল লক্ষ্য বাস্তবায়নে তিনি প্রায় ৪৫ কোটি টাকা প্রারম্ভিক মূলধন দিয়েছিলেন। কিন্তু ২০১৮ সালে তিনি বোর্ড ছাড়ার পরপরই ২০১৯ সালে প্রতিষ্ঠানটি মুনাফাভিত্তিক ব্যবসায়িক মডেলে চলে যায়। অন্যদিকে ওপেনএআইয়ের দাবি, মাস্ক এই পরিবর্তনের কথা আগে থেকেই জানতেন এবং সমর্থন করেছিলেন। তাদের মতে, মাস্ক নিজে সিইও হতে ব্যর্থ হওয়ার পর এখন ঈর্ষান্বিত হয়ে নিজের এআই কোম্পানি এক্সএআইকে এগিয়ে নিতেই এই মামলা করেছেন।মার্কিন ডিস্ট্রিক্ট জজ ইভন গনজালেজ রজার্স জানিয়েছেন, তিনি আগামী ১২ মে’র মধ্যে জুরিদের সিদ্ধান্ত জানতে চান। এই মামলায় ইলন মাস্ক, স্যাম অল্টম্যান এবং মাইক্রোসফট প্রধান সত্য নাদেলা সাক্ষ্য দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, চলতি সপ্তাহেই কাঠগড়ায় দাঁড়াবেন মাস্ক।২০১৫ সালে গুগলকে টেক্কা দিতে এবং মানবতার কল্যাণে এআই তৈরির লক্ষ্যে মাস্ক ও অল্টম্যান ওপেনএআই প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। ব্রকম্যানের সাধারণ একটি অ্যাপার্টমেন্টের ল্যাব থেকে শুরু হওয়া সংস্থাটির বর্তমান বাজারমূল্য ৮৫০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। এই মামলা ওপেনএআইয়ের সম্ভাব্য শেয়ার বাজার বা আইপিও আসার পরিকল্পনাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে এবং এআই প্রযুক্তি নিয়ে সাধারণ মানুষের ভীতি আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।এদিকে ওপেনএআইয়ের প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যানথ্রোপিকসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলোও এখন বাজার ধরতে মরিয়া। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইপিওতে আসলে ওপেনএআইয়ের বাজারমূল্য ১ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। বর্তমানে ওপেনএআই নিজেদের কাঠামো সংস্কার করে একটি ‘পাবলিক বেনিফিট কর্পোরেশন’-এ রূপান্তর করেছে, যেখানে মূল অলাভজনক শাখার ২৬ শতাংশ অংশীদারিত্ব রয়েছে। এই আইনি লড়াই কেবল দুই ধনকুবেরের দ্বন্দ্ব নয়, বরং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নৈতিকতা ও বাণিজ্যিক ব্যবহারের ভবিষ্যৎ কোন পথে যাবে—তা নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখবে।সূত্র: রয়টার্স, এএফপি
২৮ এপ্রিল ২০২৬
নাগরিকত্বের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সন্তান জন্ম দেওয়া ভিসা শর্তের পরিপন্থি: মার্কিন দূতাবাস

নাগরিকত্বের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সন্তান জন্ম দেওয়া ভিসা শর্তের পরিপন্থি: মার্কিন দূতাবাস

ক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পাওয়ার উদ্দেশ্যে দেশটিতে গিয়ে সন্তান জন্ম দেওয়া এখন থেকে ভিসার শর্তের পরিপন্থি হিসেবে গণ্য হবে। এমন উদ্দেশ্যে কেউ ভিসা আবেদন করলে তা সরাসরি বাতিল করা হবে বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে মার্কিন দূতাবাস।বুধবার সকালে দূতাবাসের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বিশেষ সতর্কবার্তায় এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।কী বলছে দূতাবাসের সতর্কবার্তাদূতাবাসের পোস্টে উল্লেখ করা হয়, কোনো ব্যক্তি যদি মূলত সন্তানের মার্কিন নাগরিকত্ব নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের পরিকল্পনা করেন, তবে তা দেশটির বর্তমান ভিসা নীতিমালার পরিপন্থি।কনস্যুলার কর্মকর্তারা যদি সাক্ষাৎকার বা তদন্তের মাধ্যমে বুঝতে পারেন যে আবেদনকারীর মূল লক্ষ্য সন্তান জন্ম দিয়ে নাগরিকত্ব অর্জন, তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ট্যুরিস্ট ভিসা আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হবে।সতর্কবার্তায় আরও বলা হয়, এ ধরনের কার্যক্রম মার্কিন ভিসা নীতিমালার গুরুতর লঙ্ঘন। তাই আবেদনকারীদের শুধু প্রকৃত এবং সঠিক উদ্দেশ্য উল্লেখ করে আবেদন করার আহ্বান জানিয়েছে দূতাবাস।কঠোর সতর্কতাভিসা পাওয়ার জন্য ভুল তথ্য প্রদান বা ভিসার শর্ত ভঙ্গ করলে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের ক্ষেত্রে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা বা নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলেও সতর্কবার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে।অর্থাৎ, কেউ যদি এ উদ্দেশ্যে ভিসা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সন্তান জন্ম দেন এবং তা প্রমাণিত হয়, তাহলে পরবর্তীতে তার যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়া পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যেতে পারে।যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে জন্ম নিলে সন্তান স্বয়ংক্রিয়ভাবে সে দেশের নাগরিক হয় – এই সুযোগ কাজে লাগাতে অনেকেই আগে ট্যুরিস্ট ভিসায় গিয়ে সন্তান প্রসব করতেন। এখন থেকে সেই পথ কার্যকরীভাবে বন্ধ করে দিলো মার্কিন দূতাবাস। শুধু ভিসা বাতিল নয়, ভবিষ্যতেও যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞার হুঁশিয়ারি দেওয়ায় এই সিদ্ধান্তকে ‘চরম কঠোর’ বলছেন অভিবাসন বিশ্লেষকরা। ফলে আবেদনকারীদের এখন ভিসা আবেদনের আগে তিনবার ভাবতে হবে।
২৮ মার্চ ২০২৬
ষাট গম্বুজ মসজিদ

ষাট গম্বুজ মসজিদ

বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমের জেলা বাগেরহাট। সবুজ শ্যামলিমা আর নদী-খাল বেষ্টিত এই জনপদকে বিশ্বের দরবারে পরিচিতি এনে দিয়েছে একটি অনন্য স্থাপনা – ষাট গম্বুজ মসজিদ। ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী তিনটি স্থানের একটি এই মসজিদ মুসলিম স্থাপত্যের এক অপূর্ব নিদর্শন। যেখানে ইতিহাস, আধ্যাত্মিকতা আর নির্মাণকৌশলের মিলন ঘটেছে চুন-সুরকি আর পাথরের বাঁধনে।ইতিহাসের আঁধার আলো: কে, কবে, কেন?মসজিদটির গায়ে কোনো শিলালিপি নেই। তাই এটি কে নির্মাণ করেছিলেন বা কোন সময়ে নির্মিত হয়েছিল, তা নিয়ে সঠিক তথ্য পাওয়া যায় না। তবে স্থাপত্যশৈলী ঘেঁটে ইতিহাসবিদরা প্রায় নিশ্চিত – এ মসজিদ পীর খানজাহান আলী (রহ.)-এর হাতেই গড়ে উঠেছিল। ধারণা করা হয়, তিনি পঞ্চদশ শতাব্দীর মাঝামাঝি (আনুমানিক ১৪৪২-১৪৫৯ খ্রিস্টাব্দ, অনেকের মতে ১৫০০ শতাব্দীতে) এটি নির্মাণ করেন।সুলতান নাসিরউদ্দিন মাহমুদ শাহের আমলে খান-ই-জাহান সুন্দরবনের কোল ঘেঁষে ‘খলিফাতাবাদ’ রাজ্য গড়ে তোলেন। দরবার ও নামাজের জন্য তিনি একটি বিশাল হল নির্মাণের উদ্যোগ নেন, যা কালক্রমে ‘ষাট গম্বুজ মসজিদ’ নামে পরিচিতি পায়। জনশ্রুতি আছে, মসজিদের পাথর চট্টগ্রাম থেকে আনা হয়েছিল। আবার কেউ কেউ বলেন, ভারতের উড়িষ্যার রাজমহল থেকে অলৌকিক ক্ষমতাবলে জলপথে ভাসিয়ে আনা হয়েছিল। বাস্তবে পাথরগুলো রাজমহল থেকেই আনা – এ নিয়ে ঐতিহাসিকরা একমত।নামকরণের নানা কাহিনিমসজিদটির নাম নিয়েও আছে নানা মত।ষাট গম্বুজ কেন? সংস্কৃত ‘সাত’ ও ফারসি ‘ছাদ’ মিলে ‘ছাদ গম্বুজ’ থেকে কথ্যরূপে ‘ষাট গম্বুজ’ হয়েছে বলে এক মত।আবার অন্য মতে, মসজিদের ভেতরে ছয়টি সারিতে দশটি করে মোট ৬০টি পাথরের স্তম্ভ (খাম্বা) আছে। স্তম্ভের ওপর ছাদ নির্মিত, তাই ‘ষাট খাম্বা’ থেকে ‘ষাট গম্বুজ’।গম্বুজের প্রকৃত সংখ্যা: নাম ‘ষাট গম্বুজ’ হলেও আসলে এখানে গম্বুজ ৬০টি নয়। মূল ভবনে ১১টি সারিতে ৭৭টি গম্বুজ, চার কোণার মিনারের ওপর চারটি গম্বুজ – মোট ৮১টি গম্বুজ। ৭৭টির মধ্যে ৭৪টিই অর্ধগোলাকার, শুধু মাঝের সারির সাতটি দেখতে বাংলার চৌচালা ঘরের চালের মতো।তাই অনেক গবেষক মনে করেন, মসজিদটির আসল নাম হওয়া উচিত ছিল ‘ষাট স্তম্ভ মসজিদ’ – কারণ এখানে প্রধান আকর্ষণ সেই ৬০টি পাথরের স্তম্ভ।স্থাপত্যের অনন্য বুননষাট গম্বুজ মসজিদের স্থাপত্যশৈলীতে মিশেছে মধ্য এশিয়ার তুঘলক (তুরস্ক) ও জৌনপুরী ধারা, আবার রয়েছে স্থানীয় বাংলার ছোঁয়া।আকার ও পরিমাপবাইরের দিক: উত্তর-দক্ষিণে ১৬০ ফুট, পূর্ব-পশ্চিমে ১০৪ ফুট।ভেতরের দিক: উত্তর-দক্ষিণে ১৪৩ ফুট, পূর্ব-পশ্চিমে ৮৮ ফুট।দেয়ালের পুরুত্ব: প্রায় ৮.৫ ফুট। ইটের তৈরি এসব দেয়াল অসাধারণ মজবুত।দরজা ও জানালাপূর্ব দেয়ালে ১১টি খিলানযুক্ত দরজা – মাঝেরটি সবচেয়ে বড়।উত্তর ও দক্ষিণ দেয়ালে ৭টি করে মোট ১৪টি দরজা।এই অসংখ্য দরজা আলো ও বাতাস চলাচলের জন্য তৈরি, তবু ভেতরের দিকটা কিছুটা অন্ধকারাচ্ছন্ন – যা উপাসনার গাম্ভীর্য বাড়ায়।মিনার ও কোঠাচার কোণে চারটি গোলাকার মিনার। এদের চূড়ায় ছোট গম্বুজ। ছাদের কার্নিশের চেয়ে মিনারগুলো কিছুটা উঁচু। সামনের দিকের দুটি মিনারের ভেতর প্যাঁচানো সিঁড়ি – একসময় এখান থেকে আজান দেওয়া হতো।রওশন কোঠা: দক্ষিণ-পূর্ব কোণের বুরুজ – আলো-বাতাসে ভরা।আন্ধার কোঠা: উত্তর-পূর্ব কোণের বুরুজ – তুলনামূলক অন্ধকার।ভেতরের স্তম্ভ ও গম্বুজের জঙ্গলভেতরে ৬০টি পাথরের স্তম্ভ – উত্তর থেকে দক্ষিণে ছয় সারিতে, প্রতিসারিতে দশটি করে। প্রতিটি স্তম্ভ পাথর কেটে বানানো, তবে পাঁচটি স্তম্ভ পরে ইট দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। এই স্তম্ভের ওপর ভর করেই গম্বুজগুলো দাঁড়িয়ে। এক কথায়, এটি খিলান-স্তম্ভ-গম্বুজের এক বিস্ময়কর সমন্বয়।মিহরাব ও মিম্বারপশ্চিম দেয়ালে ১০টি মিহরাব। মাঝের মিহরাবটি সবচেয়ে বড় ও কারুকার্যপূর্ণ। এর দক্ষিণে ৫টি, উত্তরে ৪টি মিহরাব। উত্তরে যেখানে একটি মিহরাব থাকার কথা, সেখানে রয়েছে একটি ছোট দরজা – অনেকে মনে করেন, এটি খানজাহান আলীর দরবার হলের প্রবেশপথ ছিল। ইমামের বসার জন্য রয়েছে পাথরের মিম্বার।রডবিহীন নির্মাণসবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো – এই মসজিদে কোনো লোহার রড ব্যবহার করা হয়নি। শুধু চুন, সুরকি, কালো পাথর ও ছোট ইট দিয়ে তৈরি এই কাঠামো প্রায় ৬০০ বছর ধরে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে।ইউনেস্কোর স্বীকৃতি ও বর্তমান অবস্থা১৯৮৩ সালে (অনেক সূত্রে ১৯৮৫) ইউনেস্কো বাগেরহাট শহরটিকেই ‘ঐতিহাসিক মসজিদ শহর’ হিসেবে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের মর্যাদা দেয়। আর এই মর্যাদার কেন্দ্রবিন্দু হলো ষাট গম্বুজ মসজিদ।বর্তমানে মসজিদটি বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর ও ইউনেস্কোর যৌথ তত্ত্বাবধানে সংরক্ষিত। এখনো এখানে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামাতের সাথে আদায় করা হয়। একসঙ্গে মসজিদের ভেতরে প্রায় দুই হাজার মুসল্লি নামাজ পড়তে পারেন।ভ্রমণ তথ্য: কখন, কীভাবে, কত টাকা?প্রবেশ ফিদেশি পর্যটক: ৩০ টাকা (অনেক সূত্রে ২০ টাকাও উল্লেখ আছে – বর্তমানে ৩০ টাকাই বেশি প্রচলিত)মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষার্থী: ১০ টাকাসার্কভুক্ত দেশের নাগরিক: ২০০ টাকাঅন্যান্য বিদেশি: ৫০০ টাকাশিশু (০-১০ বছর) ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী: বিনামূল্যেঅনলাইন টিকেট: চাইলে myGOV ওয়েবসাইট থেকে কিউআর কোডযুক্ত টিকেট কেটে নিতে পারেন।খোলা ও বন্ধের সময়গ্রীষ্মকাল (গরমকাল): সকাল ১০টা – সন্ধ্যা ৬টাশীতকাল: সকাল ৯টা – বিকেল ৫টামধ্যাহ্ন বিরতি: দুপুর ১টা – ১টা ৩০ মিনিট (উভয় মৌসুমে)শুক্রবার বিশেষ বন্ধ: জুমার নামাজের জন্য দুপুর ১২টা ৩০ মিনিট – বিকেল ৩টা ৩০ মিনিটসাপ্তাহিক ছুটি: রোববার সারাদিন বন্ধ (সোমবার দুপুর ২টা থেকে খোলে)টিপস: নামাজের সময় (ফজর, যোহর, আসর, মাগরিব, এশা) স্থানীয় মুসল্লিরা প্রবেশ করতে পারেন বিনামূল্যে। তবে পর্যটকদের নির্ধারিত সময় ও টিকিট মেনে চলতে হবে।মসজিদ চত্বরে জাদুঘরপ্রধান ফটকের ডান পাশে বাগেরহাট জাদুঘর। এখানে খানজাহান আমলের প্রাচীন মুদ্রা, পোড়ামাটির ফলক, অসংখ্য প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন – এমনকি খানজাহানের দিঘির ঐতিহ্যবাহী ‘কালা পাহাড়’ ও ‘ধলা পাহাড়’ কুমিরের মমি সংরক্ষিত আছে।জাদুঘরের সময়: গ্রীষ্মে সকাল ১০টা – সন্ধ্যা ৬টা, শীতে সকাল ৯টা – বিকেল ৫টা।মধ্যাহ্ন বিরতি: দুপুর ১টা – দেড়টা।ছুটি: রোববার সারাদিন।একই টিকিটে জাদুঘর ও মসজিদ কমপ্লেক্স ঘুরতে পারবেন।যাতায়াত: ঢাকা থেকে বাগেরহাটবাসেঢাকার সায়দাবাদ ও গাবতলী বাস টার্মিনাল থেকে নিয়মিত বাস ছাড়ে। উল্লেখযোগ্য পরিবহন: মেঘনা, বনফুল, ফাল্গুনী, আরা, পর্যটক, বলেশ্বর, হামিম, দোলা, সোহাগ, শাকুরা, হানিফ, কমফোর্ট লাইন, ঈগল।ভাড়া: ৬৫০-৮০০ টাকা (প্রতি জন)।সময়: সকাল ৬টা-১০টা এবং সন্ধ্যা ৭টা-রাত ১০টা পর্যন্ত ছাড়ে।বাগেরহাট বাসস্ট্যান্ড নেমে রিকশা বা সিএনজি নিলে ৩০-৪০ টাকায় পৌঁছে যাবেন ষাট গম্বুজ মসজিদে (সুন্দরঘোনা গ্রাম, খুলনা-বাগেরহাট মহাসড়কের উত্তর পাশে)।ট্রেনেঢাকা থেকে সুন্দরবন এক্সপ্রেস খুলগামী ট্রেনে খুলনা যান। সেখান থেকে বাস বা সিএনজিতে বাগেরহাট (সময় লাগে ১-১.৫ ঘণ্টা)।কোথায় থাকবেন?বাগেরহাটে তেমন বিলাসবহুল হোটেল নেই, তবে মাঝারি মানের থাকার জায়গা আছে।রেল রোডে মমতাজ হোটেল – সুযোগ-সুবিধা কম, কিন্তু সেবা ভালো। খরচ তুলনামূলক বেশি।খান জাহান আলীর মাজারের সামনে হোটেল অভি – মেইন হাইওয়েতে অবস্থিত।কেন্দ্রীয় বাসস্টেশন সংলগ্ন হোটেল আল আমিন এবং কর্মকার পট্টিতে হোটেল মোহনা।খুলনা খুব কাছে বলে চাইলে খুলনা গিয়েও রাত কাটাতে পারেন।খাওয়ার ব্যবস্থাবাসস্ট্যান্ড ও দরগার আশপাশে কয়েকটি মোটামুটি মানের হোটেল আছে। তবে দাম ও মান সম্পর্কে আগে জেনে নেওয়া ভালো। স্থানীয় মাছ ও ভাত খেতে পারেন – বাগেরহাটের ইলিশ বেশ有名।দক্ষিণাঞ্চলের সর্ববৃহৎ ঈদের জামাতষাট গম্বুজ মসজিদ শুধু একটি পর্যটন কেন্দ্র নয় – এটি জীবন্ত একটি উপাসনালয়। প্রতি ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহায় এখানে দেশ-বিদেশের প্রায় অর্ধলাখ মুসল্লি জড়ো হন। এটি দক্ষিণাঞ্চলের সর্ববৃহৎ ঈদের জামাত। রমজান মাসে দুই হাফেজ খতম তারাবির নামাজ পড়ান এবং মুসল্লিদের জন্য ইফতারের ব্যবস্থা থাকে।আশপাশের দর্শনীয় স্থানমসজিদ ঘুরে সময় থাকলে আরও কয়েকটি স্থান দেখতে পারেন:বিবি বেগনির মসজিদ (৫০০ মিটার পেছনে) – ফুলের কারুকার্যময়।চুনাখোলা মসজিদ (বিবি বেগনির আরও ৫০০ মিটার পেছনে)।সিঙ্গাইর মসজিদ (মহাসড়কের পাশে)।নয় গম্বুজ মসজিদখান জাহান আলীর মাজারঘোড়া দিঘি ও রণবিজয়পুর দিঘিমোংলা বন্দর (চাইলে সুন্দরবন যাতায়াতের গেটওয়ে)।ভ্রমণে যা মেনে চলবেনহালকা ও আরামদায়ক পোশাক পরুন – সুতির কাপড় উত্তম।পর্যাপ্ত পানি, বিস্কুট, মুড়ি, চিড়া ইত্যাদি সঙ্গে রাখুন।মোবাইলের চার্জার ও পাওয়ার ব্যাংক নিতে ভুলবেন না।জ্বর, সর্দি, গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ ও স্যালাইন রাখুন।মসজিদে প্রবেশের আগে জুতা বাইরে রেখে পায়ে মোজা পরে প্রবেশ করুন।নামাজরত মুসল্লিদের বিরক্ত করবেন না। নির্ধারিত পর্যটক এলাকায় ঘুরুন।টিকিট কাটার পর জাদুঘর দেখতে ভুলবেন না – এটি একই ফিতে।শেষকথাষাট গম্বুজ মসজিদ শুধু পাথর-চুন-সুরকির গাঁথনি নয়; এটি বাংলার ইতিহাস, সংস্কৃতি ও মুসলিম স্থাপত্যের এক জীবন্ত দলিল। এখানে দাঁড়ালে সময় থমকে দাঁড়ায়। শুনতে পাবেন খানজাহানের আজানের প্রতিধ্বনি, দেখতে পাবেন অর্ধগোলাকার গম্বুজের সারি মেঘ ছুঁতে চায়।আপনিও একবার চলে আসুন বাগেরহাটে। ষাট গম্বুজের ছায়ায় দাঁড়ান। ইতিহাসের স্পর্শ নিন। আর এই অসাধারণ স্থাপত্যের সাক্ষী হয়ে ফিরে আসুন – নতুন এক অভিজ্ঞতা নিয়ে।
গণবার্তা ফিচার