ঢাকা    মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা    মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
গণবার্তা
সর্বশেষ

সরকার অনুমোদন দিলে প্রয়োজনে ক্রসফায়ার করবে পুলিশ: আইজিপি

ঢাকা: সরকার অনুমোদন দিলে প্রয়োজনে ক্রসফায়ার করতেও পুলিশ পিছপা হবে না বলে মন্তব্য করেছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির।সোমবার রাজধানীর চকবাজারে ‘কমিউনিটি ইসলামিক ব্যাংক সিস্টেম’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।তিনি বলেন, “সুখে-শান্তিতে বসবাস করতে হলে পুলিশের প্রয়োজন রয়েছে। স্বাধীনতা আছে বলে যা ইচ্ছা, তা করা যাবে না।”আইন নিজের হাতে তুলে না নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে আইজিপি বলেন, “কথায় কথায় পুলিশের ওপর দায় চাপানোও ঠিক নয়।”এদিকে, পাড়া-মহল্লায় মাদকের বিস্তার এবং মাদক কারবারের সাথে পতিত আওয়ামী লীগের পাশাপাশি পুলিশের কিছু সদস্যের সম্পৃক্ততার অভিযোগও তুলে ধরেন তিনি।আইজিপি জানান, “গত দুই মাসে ২৭ পুলিশ সদস্যকে বরখাস্ত করা হয়েছে।”
২৬ অক্টোবর ২০২৬

ভারতের পার্লামেন্টের কাছে স্বরাষ্ট্র ও অর্থ মন্ত্রণালয় ভবন নর্থ ব্লকে ভয়াবহ আগুন

নয়াদিল্লি: নয়াদিল্লির পার্লামেন্ট ভবনের কাছে অবস্থিত সরকারের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভবন নর্থ ব্লকের ছাদে মেরামতের কাজ করার সময় আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে দিল্লি ফায়ার সার্ভিস দ্রুত ফায়ার সার্ভিসের ছয়টি ইউনিট পাঠায় এবং আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।সোমবার (২৬ অক্টোবর) এনডিটিভি ও টাইমস নাউয়ের প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রের বরাতে জানা গেছে, সকাল ১১টা ১০ মিনিটে ভবনটি থেকে ঘন ধোঁয়া বের হতে দেখে ফায়ার সার্ভিসে খবর দেওয়া হয়। পরবর্তীতে জানা যায় ভবনের ভেতরে ভেতরের অংশ ভেঙে ফেলা এবং ছাদে এসি বয়লারে ঝালাইয়ের কাজ চলার সময় শর্ট সার্কিট থেকে এই অগ্নিকাণ্ড ঘটে। এই ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।আগুন লাগার বিষয়ে ফায়ার সার্ভিস বিভাগের এক কর্মকর্তা বিবৃতিতে জানান, “নর্থ ব্লকের ছাদে বসানো একটি এসি বয়লারে আগুন লাগে। ঝালাইয়ের কাজ চলার সময় একটি এসি বয়লারে আকস্মিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লাগে বলে জানা গেছে। আগুন ইতিমধ্যেই নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে।”শিবসেনা নেতা ও রাজ্যসভার সংসদ সদস্য মিলিন্দ দেওরা ঘটনার দিন সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ লিখেছেন, “সংসদের দিকে যাওয়ার সময়ে নর্থ ব্লকের পেছন থেকে ঘন ধোঁয়া উঠতে লক্ষ্য করি।” তিনি এক্স-এ দেওয়া ওই বার্তায় ভবনটিতে অবস্থানরত সবার নিরাপত্তা এবং জরুরি সেবাদানকারী দলের দ্রুত উপস্থিতির আশা প্রকাশ করেন।নর্থ ব্লক ভারতের সেন্ট্রাল ভিস্টা প্রশাসনিক এলাকার কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত যেখানে স্বরাষ্ট্র ও অর্থ মন্ত্রণালয়সহ বেশ কয়েকটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রীয় কার্যালয় রয়েছে।
২৬ অক্টোবর ২০২৬

জাপানের প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে টোকিও পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

টোকিও: জাপানের প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে চার দিনের সরকারি সফরে জাপানের টোকিও পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকালে পৌঁছান তিনি। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ফেসবুক পেজ থেকে এ তথ্য জানা গেছে।এর আগে রোববার (২৫ অক্টোবর) দিবাগত রাত ১২টা ১০ মিনিটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি বিশেষ ফ্লাইটে ঢাকা ত্যাগ করেন প্রধানমন্ত্রী। ২৬ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত জাপানে অবস্থান করবেন তিনি।জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ।
২৬ অক্টোবর ২০২৬
বাণিজ্য, অবকাঠামো ও গভীর সমুদ্র বন্দরে অংশীদারিত্ব জোরদারের প্রতিশ্রুতি

বাণিজ্য, অবকাঠামো ও গভীর সমুদ্র বন্দরে অংশীদারিত্ব জোরদারের প্রতিশ্রুতি

টোকিও: বাণিজ্য, অবকাঠামো, গভীর সমুদ্র বন্দর এবং বৈদেশিক বিনিয়োগ খাতে জাপান এবং বাংলাদেশের অংশীদারিত্বকে আরও জোরদার করতে দৃঢ় প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। একই সঙ্গে কিছু সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করা হয়েছে। মঙ্গলবার টোকিওতে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক শেষে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এই দৃঢ় প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করা হয়।এর আগে জাপানের স্থানীয় সময় সকাল ১১টা ৪৫ মিনিটে দেশটির প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ বৈঠক শুরু হয়। তার আগে, জাপানের স্থানীয় সময় সকাল ১১টা ৩০ মিনিটে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পৌঁছালে তারেক রহমানকে স্বাগত জানান দেশটির প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। এ সময় তারেক রহমানকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। গার্ড অব অনার শেষে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী শীর্ষ বৈঠকে যোগ দেন।প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশি জনগণের হৃদয়ে জাপান একটি বিশেষ স্থান দখল করে আছে। আমাদের বন্ধুত্ব পারস্পরিক শ্রদ্ধা, বিশ্বাস এবং শান্তি, সমৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতার একটি অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির ওপর প্রতিষ্ঠিত। একটি শান্তিপ্রিয় জাতি হিসেবে, জাপান ১৯৭১ সালে আমাদের স্বাধীনতার পর বাংলাদেশকে স্বীকৃতিদানকারী অন্যতম প্রথম দেশ।তিনি বলেন, গত পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে, জাপান আমাদের অন্যতম মূল্যবান উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক অগ্রগতি এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখে চলেছে। আমরা এই স্থায়ী বন্ধুত্বকে গভীরভাবে উপলব্ধি করি।তিনি আরও বলেন, আজকের বৈঠকে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি এবং আমি দ্বিপক্ষীয়, আঞ্চলিক এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা করেছি। আমাদের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের বিষয়টি পুনর্ব্যক্ত করে, আমরা শক্তি (এনার্জি), আইসিটি, বাণিজ্য এবং অবকাঠামো, গভীর সমুদ্র বন্দর এবং বৈদেশিক বিনিয়োগ খাতে আমাদের অংশীদারিত্বকে আরও জোরদার করার জন্য আমাদের দৃঢ় প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছি।বাংলাদেশের সরকারপ্রধান বলেন, এই সফরের সময় আমরা আমাদের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করতে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নিয়েছি এবং মূল ক্ষেত্রগুলোতে বেশ কিছু সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই করেছি। যৌথ বিবৃতিতে আমাদের আলোচনা থেকে প্রাপ্ত ফলাফল এবং অগ্রাধিকারগুলো তুলে ধরা হয়েছে। বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যকার অংশীদারিত্ব কয়েক দশকের বন্ধুত্বের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। আজ আমাদের এই সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে।তিনি আরও বলেন, আমি জাপানি বিনিয়োগকারী, ব্যবসায়ী এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাংলাদেশের অফার করা সুযোগগুলো অন্বেষণ করতে এবং আমাদের প্রবৃদ্ধির পরবর্তী ধাপের অংশীদার হওয়ার জন্য আন্তরিকভাবে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। আমরা আমাদের জাপানি অংশীদারদের সাথে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যাতে উৎপাদনশীল বিনিয়োগ, প্রযুক্তি স্থানান্তর, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অন্যান্য উপকারী ব্যবসায়িক সুযোগ উন্মুক্ত করা যায়।তারেক রহমান বলেন, আমরা আমাদের উভয় দেশের জন্য একটি আরও স্থিতিস্থাপক এবং সমৃদ্ধশালী ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে পারি। আমাদের উচ্চাশা স্পষ্ট—আমাদের দুই দেশের মধ্যকার এই বন্ধুত্বের সম্পর্ককে অর্থনৈতিক সুযোগ এবং অংশীদারিত্বের একটি শক্তিশালী ইঞ্জিনে রূপান্তর করা। আসুন, আমরা এমন একটি অংশীদারিত্ব গড়ে তুলি যা আজ আমাদের জনগণের সেবা করে এবং আগামী প্রজন্মের জন্য একটি দীর্ঘস্থায়ী উত্তরাধিকার তৈরি করে।ওদিকে বাংলাদেশ ও জাপানের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও উচ্চস্তরে উন্নীত করার লক্ষ্যে এই দেশ দুটির শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতাকে আরও জোরদার করার যৌথ ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। বৈঠকে দুই দেশের সম্পর্ককে ‘কৌশলগত অংশীদারত্ব’ স্তরে উন্নীত করার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সানায়ে তাকাইচি বলেন, গত ৫০ বছরে দুই দেশের সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হয়েছে। জাপান বাংলাদেশের বিশ্বস্ত ও দীর্ঘমেয়াদী অংশীদার উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে জাপান সবসময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। জাপানের প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করে বলেন, ‘কৌশলগত অংশীদারত্ব’ স্তরে উন্নীত হওয়ায় বাংলাদেশ ও জাপানের সম্পর্কের নতুন এক দিগন্ত উন্মোচিত হবে।
৬ ঘন্টা আগে
বাণিজ্য, অবকাঠামো ও গভীর সমুদ্র বন্দরে অংশীদারিত্ব জোরদারের প্রতিশ্রুতি

বাণিজ্য, অবকাঠামো ও গভীর সমুদ্র বন্দরে অংশীদারিত্ব জোরদারের প্রতিশ্রুতি

টোকিও: বাণিজ্য, অবকাঠামো, গভীর সমুদ্র বন্দর এবং বৈদেশিক বিনিয়োগ খাতে জাপান এবং বাংলাদেশের অংশীদারিত্বকে আরও জোরদার করতে দৃঢ় প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। একই সঙ্গে কিছু সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করা হয়েছে। মঙ্গলবার টোকিওতে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক শেষে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এই দৃঢ় প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করা হয়।এর আগে জাপানের স্থানীয় সময় সকাল ১১টা ৪৫ মিনিটে দেশটির প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ বৈঠক শুরু হয়। তার আগে, জাপানের স্থানীয় সময় সকাল ১১টা ৩০ মিনিটে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পৌঁছালে তারেক রহমানকে স্বাগত জানান দেশটির প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। এ সময় তারেক রহমানকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। গার্ড অব অনার শেষে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী শীর্ষ বৈঠকে যোগ দেন।প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশি জনগণের হৃদয়ে জাপান একটি বিশেষ স্থান দখল করে আছে। আমাদের বন্ধুত্ব পারস্পরিক শ্রদ্ধা, বিশ্বাস এবং শান্তি, সমৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতার একটি অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির ওপর প্রতিষ্ঠিত। একটি শান্তিপ্রিয় জাতি হিসেবে, জাপান ১৯৭১ সালে আমাদের স্বাধীনতার পর বাংলাদেশকে স্বীকৃতিদানকারী অন্যতম প্রথম দেশ।তিনি বলেন, গত পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে, জাপান আমাদের অন্যতম মূল্যবান উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক অগ্রগতি এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখে চলেছে। আমরা এই স্থায়ী বন্ধুত্বকে গভীরভাবে উপলব্ধি করি।তিনি আরও বলেন, আজকের বৈঠকে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি এবং আমি দ্বিপক্ষীয়, আঞ্চলিক এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা করেছি। আমাদের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের বিষয়টি পুনর্ব্যক্ত করে, আমরা শক্তি (এনার্জি), আইসিটি, বাণিজ্য এবং অবকাঠামো, গভীর সমুদ্র বন্দর এবং বৈদেশিক বিনিয়োগ খাতে আমাদের অংশীদারিত্বকে আরও জোরদার করার জন্য আমাদের দৃঢ় প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছি।বাংলাদেশের সরকারপ্রধান বলেন, এই সফরের সময় আমরা আমাদের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করতে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নিয়েছি এবং মূল ক্ষেত্রগুলোতে বেশ কিছু সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই করেছি। যৌথ বিবৃতিতে আমাদের আলোচনা থেকে প্রাপ্ত ফলাফল এবং অগ্রাধিকারগুলো তুলে ধরা হয়েছে। বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যকার অংশীদারিত্ব কয়েক দশকের বন্ধুত্বের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। আজ আমাদের এই সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে।তিনি আরও বলেন, আমি জাপানি বিনিয়োগকারী, ব্যবসায়ী এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাংলাদেশের অফার করা সুযোগগুলো অন্বেষণ করতে এবং আমাদের প্রবৃদ্ধির পরবর্তী ধাপের অংশীদার হওয়ার জন্য আন্তরিকভাবে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। আমরা আমাদের জাপানি অংশীদারদের সাথে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যাতে উৎপাদনশীল বিনিয়োগ, প্রযুক্তি স্থানান্তর, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অন্যান্য উপকারী ব্যবসায়িক সুযোগ উন্মুক্ত করা যায়।তারেক রহমান বলেন, আমরা আমাদের উভয় দেশের জন্য একটি আরও স্থিতিস্থাপক এবং সমৃদ্ধশালী ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে পারি। আমাদের উচ্চাশা স্পষ্ট—আমাদের দুই দেশের মধ্যকার এই বন্ধুত্বের সম্পর্ককে অর্থনৈতিক সুযোগ এবং অংশীদারিত্বের একটি শক্তিশালী ইঞ্জিনে রূপান্তর করা। আসুন, আমরা এমন একটি অংশীদারিত্ব গড়ে তুলি যা আজ আমাদের জনগণের সেবা করে এবং আগামী প্রজন্মের জন্য একটি দীর্ঘস্থায়ী উত্তরাধিকার তৈরি করে।ওদিকে বাংলাদেশ ও জাপানের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও উচ্চস্তরে উন্নীত করার লক্ষ্যে এই দেশ দুটির শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতাকে আরও জোরদার করার যৌথ ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। বৈঠকে দুই দেশের সম্পর্ককে ‘কৌশলগত অংশীদারত্ব’ স্তরে উন্নীত করার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সানায়ে তাকাইচি বলেন, গত ৫০ বছরে দুই দেশের সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হয়েছে। জাপান বাংলাদেশের বিশ্বস্ত ও দীর্ঘমেয়াদী অংশীদার উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে জাপান সবসময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। জাপানের প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করে বলেন, ‘কৌশলগত অংশীদারত্ব’ স্তরে উন্নীত হওয়ায় বাংলাদেশ ও জাপানের সম্পর্কের নতুন এক দিগন্ত উন্মোচিত হবে।
৬ ঘন্টা আগে
মঞ্চে ইসরায়েলি পতাকা পদদলিত করে ‘মুক্ত হোক ফিলিস্তিন’ স্লোগান কলম্বিয়ান র‍্যাপারের

মঞ্চে ইসরায়েলি পতাকা পদদলিত করে ‘মুক্ত হোক ফিলিস্তিন’ স্লোগান কলম্বিয়ান র‍্যাপারের

বোগোটা: কনসার্টের মঞ্চে এক দর্শকের বাড়িয়ে দেওয়া ইসরায়েলের পতাকা হাত থেকে কেড়ে নিয়ে ছুড়ে ফেলে পা দিয়ে মাড়ানোর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছেন এক নারী সংগীতশিল্পী। ফিলিস্তিনের ওপর চলমান আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সংহতি প্রকাশ করে এমন সাহসী ও তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখানোয় নেটিজেনদের প্রশংসায় ভাসছেন তিনি।আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, ওই শিল্পীর নাম চেলো হপ। তিনি লাতিন আমেরিকার দেশ কলম্বিয়ার একজন জনপ্রিয় নারী র‍্যাপার।জর্ডানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম রয়া নিউজ ও ভারতের দ্য ফ্রি প্রেস জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ অক্টোবর কলম্বিয়ার রাজধানী বোগোটার সিমন বলিভার মেট্রোপলিটন পার্কে আয়োজিত ‘হিপ হপ আল পারকে’ সংগীত উৎসবে পারফর্ম করছিলেন চেলো হপ। মঞ্চে গান পরিবেশনের একপর্যায়ে দর্শকসারি থেকে এক ব্যক্তি মঞ্চে উঠে তার দিকে ইসরায়েলের একটি জাতীয় পতাকা এগিয়ে দেন।পতাকাটি দেখতে পেয়েই ক্ষুব্ধ হন চেলো। তিনি কালক্ষেপণ না করে দর্শকের হাত থেকে পতাকাটি ছিনিয়ে নিয়ে সজোরে মাটিতে ছুড়ে ফেলেন এবং পা দিয়ে মাড়াতে শুরু করেন। এরপর পা দিয়ে লাথি মেরে পতাকাটি মঞ্চের একপাশে সরিয়ে দেন। একই সঙ্গে মাইক্রোফোনে তিনি স্প্যানিশ ভাষায় ‘পালেস্তিনা লিব্রে’ (মুক্ত হোক ফিলিস্তিন) বলে স্লোগান দেন।চেলো হপ মূলত রাজনৈতিক সচেতনতামূলক, প্রতিরোধ আন্দোলন ও অধিকার আদায়ের গণমুখী গানের জন্য আন্তর্জাতিকভাবে সুপরিচিত। ঘটনার দিন ওই মঞ্চেই তিনি তার বিখ্যাত ‘অ্যানাতোমিয়া’ গানটি পরিবেশন করছিলেন, যার কথায় উঠে এসেছে শোষিতের লড়াই ও প্রতিরোধের নানা দিক।ঘটনার ভিডিও ক্লিপটি সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার পর বিশ্বজুড়ে ফিলিস্তিনপন্থি নেটিজেনরা গায়িকার এই পদক্ষেপকে ‘ন্যায়সংগত ঘৃণা প্রকাশ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তবে মঞ্চে জাতীয় পতাকা অবমাননার এ ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা প্রকাশ করেছে কলম্বিয়ায় নিযুক্ত ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত।
৬ ঘন্টা আগে
১৫ এপ্রিল ২০২৬, ১২:১১ এএম
আপনি কি মনে করেন বিএনপি জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর ও শব্দ বাস্তবায়ন করবে?

আপনি কি মনে করেন বিএনপি জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর ও শব্দ বাস্তবায়ন করবে?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ ৩ জন
ভারত-বাংলাদেশ যৌথ আয়ুর্বেদ গবেষণা কেন্দ্র গড়ার প্রস্তাব ভারতীয় হাইকমিশনারের

ভারত-বাংলাদেশ যৌথ আয়ুর্বেদ গবেষণা কেন্দ্র গড়ার প্রস্তাব ভারতীয় হাইকমিশনারের

ঢাকা: আয়ুর্বেদিক চিকিৎসার একাডেমিক ও পেশাগত জ্ঞান বিনিময়ের জন্য ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে যৌথ গবেষণা কেন্দ্র গড়ে তোলার প্রস্তাব দিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। বুধবার ঢাকায় ইন্দিরা গান্ধী সাংস্কৃতিক কেন্দ্র (আইজিসিসি) আয়োজিত একাদশ আয়ুর্বেদ দিবস পালন অনুষ্ঠানে তিনি এ প্রস্তাব দেন। বৃহস্পতিবার ভারতীয় হাইকমিশনের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বক্তৃতায় সামগ্রিক সুস্থতা ও প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবার প্রসারে চিরায়ত জ্ঞান ব্যবস্থার স্থায়ী প্রাসঙ্গিকতার কথা তুলে ধরেন হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। ভারত-বাংলাদেশ যৌথ আয়ুর্বেদ গবেষণা কেন্দ্র গড়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ আরও বেশি একাডেমিক ও পেশাদার জ্ঞান বিনিময়ের পথ তৈরি করতে পারে। যার ফলশ্রুতিতে ভারত ও বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে থাকা দীর্ঘমেয়াদি বন্ধন আরও জোরদার হবে।অনুষ্ঠানে আইজিসিসি পরিচালক অ্যান মেরি জর্জ আয়ুর্বেদ দিবসের এ বছরের প্রতিপাদ্য ‘সুস্থ আগামীর জন্য আয়ুর্বেদ’ এর ওপর আলোকপাত করেন। আয়ুর্বেদ, যোগ ও প্রাকৃতিক চিকিৎসা (ন্যাচারোপ্যাথি), ইউনানি, সিদ্ধ এবং হোমিওপ্যাথি পদ্ধতির প্রসারে ভারতের আয়ুষ মন্ত্রণালয়ের ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন তিনি।অনুষ্ঠানে অতিথিদের মধ্যে ছিলেন সরকারি আয়ুর্বেদিক ও ইউনানি কলেজের অধ্যক্ষ রশিদুজ্জামান খান, প্রাচী (পিআরএসিএইচআই) সদস্যদের প্রতিনিধি ড. মুখলেসুর রহমান, নূর-মজিদ আয়ুর্বেদিক কলেজের অধ্যক্ষ ড. মোহাম্মদ মামুন মিয়া এবং নারায়ণগঞ্জ আর্টস কলেজের অধ্যক্ষ শামসুল আলম আজাদ।একাডেমিক সেশনে নূর-মজিদ আয়ুর্বেদিক কলেজের সহকারী অধ্যাপক ড. জাকির হোসেন, হামদর্দ বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়ুর্বেদ চিকিৎসা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. বাবুল আক্তার এবং নূর-মজিদ আয়ুর্বেদিক কলেজের অধ্যক্ষ ড. মোহাম্মদ মামুন মিয়া একটি কর্মশালা পরিচালনা করেন।অনুষ্ঠানে ছিল সাংস্কৃতিক পরিবেশনাও। বাংলাদেশি শিল্পী শাহিন সোবহানা সুরভীর তৈরি পশমের ‘গণপতি ট্যাপেস্ট্রির’ প্রতীকী উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে সাংস্কৃতিক আয়োজনের সূচনা হয়। এ পর্বে সংগীত পরিবেশন করেন প্রখ্যাত শাস্ত্রীয় ও বাংলা খেয়ালশিল্পী রঞ্জন চন্দ্র সরকার। পরিবেশনা শেষে শিল্পীকে সম্মাননা প্রদান এবং অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে সনদ বিতরণের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয়।
২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
নতুন বেতনকাঠামোয় পে ফিক্সেশন শুরু সোমবার, শেষ করতে হবে ২০ অক্টোবরের মধ্যে

নতুন বেতনকাঠামোয় পে ফিক্সেশন শুরু সোমবার, শেষ করতে হবে ২০ অক্টোবরের মধ্যে

ঢাকা: নতুন জাতীয় বেতনকাঠামো অনুযায়ী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন নির্ধারণের (পে ফিক্সেশন) কাজ শুরু হচ্ছে আগামীকাল সোমবার (৫ অক্টোবর)। আইবাস প্লাস প্লাসের পে ফিক্সেশন মডিউলে অনলাইনে এ কাজ করতে হবে।অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ ২০ অক্টোবরের মধ্যে সব সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর পে ফিক্সেশন শেষ করার নির্দেশ দিয়েছে। তবে অনলাইনে শুধু কয়েকটি তথ্য পূরণ করলেই হবে না; আগের বেতন নির্ধারণ, পদোন্নতি, বদলি, সময় স্কেল, সিলেকশন গ্রেড ও উচ্চতর গ্রেডসহ চাকরির বিভিন্ন তথ্যও সঠিকভাবে দিতে হবে।কারণ পে ফিক্সেশনে কোনো তথ্য ভুল বা অসম্পূর্ণ থাকলে নতুন মূল বেতন নির্ধারণে জটিলতা তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে বকেয়া বা এরিয়ার পাওনার হিসাবেও প্রভাব পড়তে পারে।আইবাস প্লাস প্লাসে পে ফিক্সেশন করার আগে চাকরিজীবীদের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নম্বর, জন্মতারিখ, বর্তমান পদবি ও গ্রেড, চাকরিতে যোগদানের তারিখ এবং ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে থাকা মূল বেতনের তথ্য প্রস্তুত রাখতে হবে।এর পাশাপাশি আগের বেতন নির্ধারণের তথ্য, পদোন্নতি, বদলি, সময় স্কেল, সিলেকশন গ্রেড বা উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার তথ্য এবং এসবের পক্ষে থাকা অফিস আদেশ ও প্রয়োজনীয় নথি হাতের কাছে রাখতে হবে। আইবাস প্লাস প্লাসে নিবন্ধিত মোবাইল নম্বরও সচল থাকতে হবে।ভুল তথ্য দিলে যা হতে পারেপে ফিক্সেশনের সময় কোনো তথ্য ভুল বা অসম্পূর্ণ দিলে বেতন নির্ধারণে জটিলতা তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে নাম, এনআইডি নম্বর, জন্মতারিখ, পদবি, গ্রেড ও মূল বেতনের তথ্যে ভুল থাকলে তা সংশোধনের প্রয়োজন হতে পারে।পদোন্নতি, বদলি, সময় স্কেল, সিলেকশন গ্রেড বা উচ্চতর গ্রেডের তথ্য বাদ পড়লেও নতুন বেতন নির্ধারণের হিসাবে সমস্যা হতে পারে। তাই এসবের পক্ষে থাকা অফিস আদেশ ও নথি আগে থেকেই প্রস্তুত রাখা জরুরি।শুধু অনলাইনে তথ্য পূরণ করলেই পে ফিক্সেশন শেষ হবে না। সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ কার্যালয় অনলাইনে দেওয়া তথ্য ও চাকরির নথি যাচাই করবে। তথ্যের সঙ্গে নথির অসংগতি পাওয়া গেলে সংশোধন করতে হতে পারে। তথ্য দিতে কোনো সমস্যা হলে সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার সহায়তা নেওয়া যাবে।তথ্য দেওয়ার পরও থাকবে যাচাইঅনলাইনে তথ্য পূরণ করে আবেদন জমা দিলেই পে ফিক্সেশন শেষ হবে না। সংশ্লিষ্ট বেতন ও হিসাব পরিশোধ কর্মকর্তার কার্যালয় চাকরির নথির সঙ্গে অনলাইনে দেওয়া তথ্য মিলিয়ে দেখবে। তথ্য সঠিক থাকলে চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হবে।অনুমোদনের পর আইবাস প্লাস প্লাস থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে একটি বিশেষ যাচাই নম্বর তৈরি হবে। এরপর চাকরির নথিতে যাচাই নম্বর ও নতুন নির্ধারিত বেতন লিপিবদ্ধ করা হবে।অক্টোবরের বেতনের সঙ্গে মিলতে পারে বকেয়াপে ফিক্সেশন শেষ হওয়ার পর নতুন মূল বেতনের ভিত্তিতে অক্টোবর মাসের বেতন বিল তৈরি করা হবে। একই সঙ্গে নতুন ও পুরোনো বেতনের পার্থক্য হিসাব করে প্রায় তিন মাসের বকেয়া বা এরিয়ার নির্ধারণ করা হবে।তবে কে কত টাকা বকেয়া পাবেন, তা সবার ক্ষেত্রে এক হবে না। গ্রেড, ৩০ জুন ২০২৬ তারিখের মূল বেতন, নতুন কাঠামোয় নির্ধারিত বেতন এবং বেতন কার্যকর হওয়ার তারিখসহ বিভিন্ন বিষয়ের ওপর বকেয়ার পরিমাণ নির্ভর করবে।এ কারণে পে ফিক্সেশনের সময় বর্তমান বেতনের পাশাপাশি চাকরির আগের ইতিহাস ও সংশ্লিষ্ট সব নথির তথ্য সঠিকভাবে দেওয়া সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
১৭ ঘন্টা আগে
যেসব কর্মচারীরা নতুন বেতনস্কেলের সুবিধা পাবেন না

যেসব কর্মচারীরা নতুন বেতনস্কেলের সুবিধা পাবেন না

১৭ ঘন্টা আগে
৬৫ বছরের পরিচ্ছন্নতাকর্মীর এআই দিয়ে ২৯ বছরের ডাক্তার সেজে প্রতারণা

৬৫ বছরের পরিচ্ছন্নতাকর্মীর এআই দিয়ে ২৯ বছরের ডাক্তার সেজে প্রতারণা

সাংহাই: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে এক ব্যবসায়ীর সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে ৬৫ বছর বয়সী এক চীনা নারীর বিরুদ্ধে। জানা যায়, এআই ব্যবহার করে তৈরি ভিডিও এবং ছবি দিয়ে এক ব্যবসায়ীর কাছে নিজেকে ২৯ বছর বয়সী ডাক্তার হিসেবে উপস্থাপন করেন ওই নারী। আদতে তিনি একজন হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতাকর্মী। এভাবে পাঁচ মাসে প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার ইউয়ান হাতিয়ে নেন তিনি।পুলিশ জানিয়েছে, ৬৫ বছর বয়সী ওই নারীর নাম ইউ শিউঝেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভুয়া পরিচয় তৈরি করেছিলেন। এরপর ফেস চেঞ্জিং ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে নিজেকে সাংহাইয়ের একটি বড় হাসপাতালের চিকিৎসক হিসেবে উপস্থাপন করতেন।প্রায় পাঁচ বছর ধরে ইউ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় ৭ হাজার এআই নির্মিত ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করেন। তার ফলোয়ার সংখ্যা প্রায় ১০ হাজার।সাংহাইভিত্তিক একজন নির্মাণ ঠিকাদার লিউ হুই ২০২১ সালে তার ভুয়া অ্যাকাউন্টটি দেখতে পান। ইউ তাকে জানান যে, হাসপাতালে তার পদমর্যাদার কারণে তিনি বড় নির্মাণকাজের চুক্তি পাইয়ে দিতে সাহায্য করতে পারবেন।ব্যবসায়িক সুবিধা পাওয়ার আশায় লিউ ইউয়ের সঙ্গে অনলাইনে যোগাযোগ বাড়াতে থাকেন। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তবে লিউ বারবার দেখা করা বা ভিডিও কলে কথা বলার অনুরোধ করলেও ইউ প্রতিবারই ভিন্ন ভিন্ন অজুহাতে তা প্রত্যাখ্যান করতেন।পরে ইউ আরও একটি ভুয়া পরিচয় তৈরি করেন। এবার তিনি নিজেকে লিউয়ের কথিত প্রেমিকার মা হিসেবে পরিচয় দেন। তিনি লিউকে জানান যে, তার মা এই সম্পর্কের বিরোধিতা করছেন। এরপর ভুয়া মা সেজে তিনি লিউয়ের কাছে তিন লাখ ইউয়ান বিয়ের যৌতুক দেওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় এলাকায় একটি বাড়ি কেনার দাবি করেন।লিউ তার কথা বিশ্বাস করে পাঁচ মাসে মোট ১ লাখ ৭০ হাজার ইউয়ান তাকে পাঠান। কিন্তু কোনো ব্যবসায়িক চুক্তি না আসায় তিনি পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন। তদন্তের সময় পুলিশ ইউকে শনাক্ত করে জানতে পারে যে তিনি আসলে ৬৫ বছর বয়সী একজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী। পুলিশ আরও জানতে পারে, এর আগে তিনি একটি প্রতারণার মামলাতেও জড়িত ছিলেন।পুলিশ জানিয়েছে, ইউয়ের আসল মা কয়েক বছর আগেই মারা গেছেন। প্রতারণার মাধ্যমে পাওয়া অর্থ তিনি কসমেটিক সার্জারি, দামি ত্বকের যত্নের পণ্য এবং নতুন পোশাক কেনার পেছনে খরচ করেন। পরে পুলিশ ইউয়ের ভিডিওগুলো পরীক্ষা করে দেখতে পায়, ভিডিওগুলোর মধ্যে ছোট একটি সতর্কবার্তা দেওয়া ছিল। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছিল যে, ভিডিওগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে।পুলিশ যখন লিউকে ওই সতর্কবার্তাটি দেখায়, তখন তিনি জানান যে আধুনিক এআই প্রযুক্তি সম্পর্কে তিনি খুব বেশি জানতেন না। ফলে ভিডিওতে থাকা সতর্কবার্তাটি তার নজরে পড়েনি।
২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কোন ছবি নেই !
কোন ছবি নেই !
ভঙ্গুর এভিয়েশন খাত পেয়েছে বর্তমান সরকার: বিমানমন্ত্রী

ভঙ্গুর এভিয়েশন খাত পেয়েছে বর্তমান সরকার: বিমানমন্ত্রী

বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর একটি ভঙ্গুর ও বিশৃঙ্খল এভিয়েশন খাত পেয়েছে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। তিনি বলেন, ‘অতীতে এভিয়েশন খাতে যাত্রী হয়রানির তিক্ত অভিজ্ঞতা ছিল, এসব সমাধানই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।’শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর কুর্মিটোলার ইউনাইটেড কনভেনশন সেন্টারে দৈনিক বণিক বার্তার ‘বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে বিশ্বমানের এভিয়েশন’ শীর্ষক পলিসি কনক্লেভে এসব কথা বলেন তিনি।মন্ত্রী জানান, বিমানবন্দরের সেবার মানোন্নয়ন ও যাত্রী ভোগান্তি কমাতে বডি ক্যামেরা ব্যবহারের মতো প্রযুক্তিগত সংস্কার আনা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘বিমানবন্দরে যাত্রীদের লাগেজ পেতে একসময় দেড় থেকে দুই ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হতো। আমি পরিদর্শনে গিয়ে নির্দেশনা দিয়েছি—যাত্রীরা নামার সঙ্গে সঙ্গেই কার্গোর দরজাও খুলতে হবে, যাতে ২০ মিনিটের মধ্যে সব লাগেজ বেল্টে চলে আসে। খোঁজ নিয়ে দেখেছি, এখন ৪০ মিনিটের বেশি সময় লাগছে না।’রশিদুজ্জামান আরও জানান, আগের সরকার জাপানি কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে প্রকল্প বাতিল করে ২ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি করেছিল। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বর্তমান সরকার জাপানের সঙ্গে পাঁচবার বৈঠক করে সেই প্রকল্প পুনর্বহাল করেছে। ভবিষ্যতে কক্সবাজারে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর চালু এবং পিপিপি মডেলের মাধ্যমে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ বৃদ্ধির পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী নভেম্বরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ‘বাজেট এয়ারক্রাফট’ বা সাশ্রয়ী উড়োজাহাজ কেনা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হবে বলেও তিনি জানান।বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেন, ‘গত ১৫-১৬ বছরে দেশে গণতন্ত্র না থাকায় এভিয়েশন খাতে কোনো উপযুক্ত নীতি-পরিবেশ তৈরি হয়নি। তবে সরকার আগামী পাঁচ বছরে এ খাতে দৃশ্যমান পরিবর্তনের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে।’তিনি বলেন, বাংলাদেশকে আঞ্চলিক এভিয়েশন হাব হিসেবে গড়ে তুলতে অবকাঠামোর আধুনিকায়ন ও জাতীয় এয়ারলাইনকে শক্তিশালী করতে হবে।শাহজালাল বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী জানান, চলতি বছরের ডিসেম্বরে এর ‘সফট ওপেনিং’ এবং আগামী বছরের মার্চ-এপ্রিলের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম শুরুর পরিকল্পনা রয়েছে। টার্মিনালটি চালু হলে বছরে ১ কোটি ২০ লাখ যাত্রী পরিবহনের সক্ষমতা তৈরি হবে।তিনি বলেন, ‘আগের সরকারের তুলনায় এবার আমরা এমন একটি “উইন-উইন” চুক্তি স্বাক্ষর করতে যাচ্ছি, যেখানে বাংলাদেশের রাজস্বের অংশ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।’কনক্লেভে ‘বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে বিশ্বমানের এভিয়েশন’ বিষয়ে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বেবিচকের সাবেক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) মাহমুদ হোসেন। এ ছাড়া উন্মুক্ত আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন বেবিচকের সদস্য এয়ার কমডোর মো. নূর-ই-আলম, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের এমডি মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মামুন, টাস গ্রুপের চেয়ারম্যান কে. এম. মুজিবুল হক এবং ঢাকা ব্যাংক পিএলসির চেয়ারম্যান আব্দুল হাই সরকার।দৈনিক বণিক বার্তার সম্পাদক ও প্রকাশক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন। এভিয়েশন খাতের সম্ভাবনা, চ্যালেঞ্জ ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের রূপরেখা নিয়ে দেশি-বিদেশি চার শতাধিক প্রতিনিধি এতে অংশ নেন।
১৭ ঘন্টা আগে
শেখ নূর কুতুব আলম: বাংলার আধ্যাত্মিক নেতৃত্বের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত

শেখ নূর কুতুব আলম: বাংলার আধ্যাত্মিক নেতৃত্বের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত

বাংলার মধ্যযুগীয় ইতিহাসে পান্ডুয়া ছিল জ্ঞান, সংস্কৃতি ও আধ্যাত্মিক সাধনার অন্যতম কেন্দ্র। এই শহরের খানকাগুলোতে যেমন ধর্মীয় শিক্ষা বিস্তার লাভ করত, তেমনি এখান থেকেই সমাজজীবনে নৈতিক নেতৃত্বও গড়ে উঠত। ১৩৫০ সালের কিছু আগে তৎকালীন বাংলার রাজধানী পান্ডুয়ায় তার জন্ম। তার প্রকৃত নাম নূরুদ্দীন নূরুল হক। ‘নূর কুতুবুল আলম’ তার উপাধি।তার পিতা ছিলেন বাংলার অন্যতম শ্রেষ্ঠ আলেম ও সুফি শায়খ আলাউল হক। বংশপরিচয়ও ছিল সম্মানজনক—তিনি লাহোরের প্রসিদ্ধ সাধক শেখ আসাদের পৌত্র। পিতার মতো তিনি ছিলেন চিশতিয়া তরিকার একজন বিশিষ্ট পীর। ইলিয়াস শাহী বংশের তৃতীয় সুলতান গিয়াস উদ্দিন আজম শাহ ছিলেন তার সহপাঠী ও বন্ধু। কিন্তু বংশগৌরবের চেয়েও বড় ছিল তার ব্যক্তিত্ব, জ্ঞান, দূরদর্শিতা এবং মানুষের জন্য আত্মনিবেদিত জীবন।ব্যক্তিগত জীবন ও আধ্যাত্মিক সাধনানূর কুতুব আলম তাঁর পিতার আমল থেকে সব ধরনের কায়িক শ্রমের অভ্যাস করতেন। দরগায় আগত ফকিরদের কাপড় ধোয়া, লাকড়ি ও পানি বহন, শীতকালে পীরের অজু করার জন্য সর্বদা পানি গরম রাখা, এমনকি খানকাহসংলগ্ন শৌচাগার পরিষ্কার করা প্রভৃতি কাজে তিনি নিজেকে নিয়োজিত রাখতেন।আজকের সময়ে নেতৃত্বকে আমরা প্রায়ই ক্ষমতা, প্রভাব কিংবা সামাজিক মর্যাদার সঙ্গে মিলিয়ে দেখি। অথচ নূর কুতুব আলমের জীবন আমাদের শেখায়, প্রকৃত নেতৃত্ব শুরু হয় সেবার মাধ্যমে। যে মানুষ নিজের হাতে মানুষের কষ্ট লাঘব করতে পারে, তিনিই প্রকৃত অর্থে মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিতে পারেন।রাজনৈতিক সংকটে নূর কুতুব আলমের ভূমিকানূর কুতুব আলমের জীবনের সবচেয়ে উজ্জ্বল অধ্যায় রচিত হয় এক ভয়াবহ রাজনৈতিক সংকটের সময়। ১৪১৫ খ্রিস্টাব্দে রাজা গণেশ নামক একজন হিন্দু শাসক ইলিয়াস শাহি বংশ উত্খাত করে ক্ষমতা গ্রহণ করেন। তিনি মুসলমানের ওপর নজিরবিহীন জুলুম-নির্যাতন শুরু করেন। এমনকি শায়খ ও আলেমদের ওপর অবর্ণনীয় অত্যাচার শুরু করেন।বিশেষ করে ধর্মীয় নেতৃত্ব, আলেম-ওলামা এবং সাধারণ মুসলমানদের ওপর নিপীড়নের অভিযোগ বিভিন্ন ঐতিহাসিক গ্রন্থে উল্লেখিত হয়েছে। বাংলার মুসলিম সমাজ গভীর অনিশ্চয়তা ও আতঙ্কের মধ্যে পড়ে।এই পরিস্থিতিতে শেখ নূর কুতুব আলম নীরব থাকেননি। তিনি উপলব্ধি করেছিলেন, কেবল খানকায় বসে ইবাদত করাই একজন আধ্যাত্মিক নেতার একমাত্র দায়িত্ব নয়; মানুষের জীবন, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সামাজিক নিরাপত্তা বিপন্ন হলে ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্যও এগিয়ে আসতে হয়। তার এই অবস্থান প্রমাণ করে, ইসলামী আধ্যাত্মিকতার প্রকৃত শিক্ষা সমাজবিমুখতা নয়; বরং মানুষের কল্যাণে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন।কূটনৈতিক পদক্ষেপ ও রাজা গণেশের সাথে সমঝোতাবাংলার মুসলমানদের রক্ষার জন্য তিনি এক গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। তিনি জৌনপুরের সুলতান ইবরাহিম শর্কিকে বাংলা আক্রমণ করে বাংলাকে গণেশের হাত থেকে রক্ষা করার অনুরোধ জানিয়ে চিঠি লেখেন। একই সঙ্গে তিনি প্রসিদ্ধ সুফি ব্যক্তিত্ব মীর সৈয়দ আশরাফ জাহাঙ্গীর সিমনানিকেও অনুরোধ করেন, যেন তিনিও ইবরাহিম শর্কিকে বাংলার মুসলমানদের সহায়তায় এগিয়ে আসতে উদ্বুদ্ধ করেন।সুলতান ইবরাহিম শর্কি এই অনুরোধ রক্ষা করে বাংলা আক্রমণের উদ্দেশ্যে পিরোজপুর এসে শিবির স্থাপন করেন। রাজা গণেশ এতে ভয় পেয়ে নূর কুতুব আলমের কাছে আত্মসমর্পণ করেন এবং তাঁকে ক্ষমা করে ইবরাহিম শর্কিকে জৌনপুরে ফিরে যেতে বলার অনুরোধ জানান।কিন্তু নূর কুতুব আলম এতে সম্মত হননি। তিনি জানিয়ে দেন, একজন মুসলিম শাসককে কোনো অমুসলিম শাসকের পক্ষ নিয়ে তিনি ফিরিয়ে দিতে পারেন না। বরং পূর্বশর্ত হিসেবে তিনি রাজা গণেশকে ইসলাম গ্রহণের আহ্বান জানান। গণেশ তাতে সম্মত হন, কিন্তু বিস্তারিত শুনে তাঁর রানি এতে বাধা দেন। গণেশ তখন তার ১২ বছরের ছেলে যদুকে নিয়ে শায়খের কাছে আসেন। যদুকে ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত করে 'জালালুদ্দীন' নাম দেওয়া হয় এবং গণেশ তার পক্ষে সিংহাসন ত্যাগ করেন।এই ঘটনার মধ্য দিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ এড়ানো সম্ভব হয় এবং বাংলার রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অন্তত সাময়িকভাবে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়।পরবর্তী পরিস্থিতি ও নূর কুতুব আলমের দূরদর্শিতাশায়খের মৃত্যুর পর গণেশ অবশ্য যদুকে হিন্দু ধর্মে পুনরায় দীক্ষিত করে নিজে সিংহাসনে অধিষ্ঠিত হন। কিন্তু রাজা গণেশের মৃত্যু হলে যদু জালালুদ্দীন মুহাম্মদ শাহ উপাধি গ্রহণ করে সিংহাসনে আরোহণ করেন এবং বাংলার মুসলিম শাসনব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়।এই ঘটনাপ্রবাহে নূর কুতুব আলমের দূরদর্শিতার প্রতিফলন স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তিনি হয়তো জানতেন, একটি সংকটময় সময়ে আপসের মধ্য দিয়েও দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার পথ তৈরি করা যায়।রচিত গ্রন্থসমূহ ও আধ্যাত্মিক উত্তরসূরিতিনি শুধু নিজের আধ্যাত্মিক সাধনায় সীমাবদ্ধ থাকেননি; পরবর্তী প্রজন্ম গড়ে তোলার প্রতিও ছিলেন সমান মনোযোগী। তাঁর রচিত গ্রন্থ সংখ্যা ১২১টি। সেগুলো তার প্রধান মুরিদ ও খলিফা হুসামুদ্দিন মানিকপুরী সম্পাদনা করেন। তন্মধ্যে বিখ্যাত দুটি গ্রন্থ হলো মুগিসুল ফুকারা ও আনিসুল গুরাবা।মুগিসুল ফুকারার একটি পাণ্ডুলিপি সংরক্ষিত আছে বিহারের ভাগলপুরের খলিফাবাগ একটি প্রাইভেট লাইব্রেরিতে। আরেকটি অসম্পূর্ণ কপি সংরক্ষিত আছে এশিয়াটিক সোসাইটি অব বেঙ্গল কলিকাতার লাইব্রেরিতে (সংগ্রহ নং- ৪৬৬)। সেখানে আনিসুল গুরাবা বইটির ২টি কপি সংরক্ষিত আছে (সংগ্রহ নং: ১২১২ ও ১২১৩)।তিনি তাঁর দুই পুত্র শেখ রাফকাতউদ্দীন এবং শেখ আনোয়ারকে আধ্যাত্মিক শিক্ষা দেন। সম্ভবত পিতার জীবদ্দশায় শেখ আনোয়ার রাজা গণেশের হাতে সোনারগাঁয়ে শহীদ হন। শেখ নূর কুতুব আলমের অন্য আর একজন প্রধান মুরিদ ছিলেন শেখ হুসামুদ্দীন মানিকপুরী।পত্র সংকলন ও ঐতিহাসিক দলিলনূর কুতুব আলমের ১৩টি পত্রের একটি গ্রন্থ সম্পাদনা করেন মুহাদ্দিস আব্দুল হক দেহলভী। যে গ্রন্থের নাম মাকতুবাত ই নূর কুতুবুল আলম। এটি দিল্লির ইন্ডিয়ান আর্কাইভে সংরক্ষিত আছে। এই পত্রগুলো থেকে সমসাময়িক রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়।সুলতানদের শ্রদ্ধা ও দরগাহের গুরুত্বশেখ নূর কুতুব আলমের প্রতি পরবর্তী সুলতানদের শ্রদ্ধাও ছিল অসাধারণ। তার দরগাহ সংলগ্ন সরাইখানা ও মাদরাসার ব্যয় নির্বাহের জন্য সুলতান আলাউদ্দীন হোসেন শাহ কয়েকটি গ্রাম দান করেন। দরবেশের মাজার জিয়ারতের জন্য সুলতান বছরে একবার রাজধানী শহর একডালা থেকে পান্ডুয়ায় আসতেন।শায়খ নূর কুতুব আলম পান্ডুয়ার পীর-আউলিয়ার মধ্যে শীর্ষ মর্যাদার অধিকারীদের অন্যতম। পিতা-পুত্র দুজনই পান্ডুয়ার বিখ্যাত শাশ হাজারি দরগায় শায়িত আছেন। পিতার মতো তিনি চিশতিয়া মতাদর্শের পীর ছিলেন। তাঁর অনুসারী শিষ্যকুল ও দরবেশরা কয়েক শতক ধরে বাংলায় মুসলিম সমাজজীবনে তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।ঐতিহাসিক দৃষ্টিতে শায়খ নূর কুতুব আলমের সর্বশ্রেষ্ঠ অবদান বাংলার মুসলিম শাসন রাজা গণেশের হাত থেকে রক্ষা করা।মৃত্যুশেখ নূর কুতুব আলম ৮১৮ হিজরি বা ১৪১৫ খ্রিস্টাব্দে (বাংলাপিডিয়া ও উইকিপিডিয়া মতে) ইন্তেকাল করেন। তবে প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, ১৪৪৭ সালের ৭ জানুয়ারি তার মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়। তার ইন্তেকালের সঙ্গে একটি সুন্দর ফারসি অভিব্যক্তি যুক্ত হয়েছে—"নূর বানূর-শুদ", অর্থাৎ "আলো আলোতে বিলীন হয়ে গেল।"এই বাক্যটি যেন তার সমগ্র জীবনেরই প্রতীক। তিনি এমন এক আলোকবর্তিকা ছিলেন, যিনি নিজের জন্য নয়, মানুষের পথ আলোকিত করার জন্য জীবন উৎসর্গ করেছিলেন।ইতিহাসে বহু রাজা এসেছেন, বহু সাম্রাজ্য গড়ে উঠেছে এবং বিলীন হয়েছে। কিন্তু যারা মানুষের হৃদয়ে নৈতিকতার আলো জ্বালিয়ে দেন, তাদের স্মৃতি যুগের পর যুগ অম্লান থাকে। শেখ নূর কুতুব আলম সেই বিরল ব্যক্তিত্বদের একজন, যার জীবন বাংলার ইতিহাসে আধ্যাত্মিক নেতৃত্ব, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং নৈতিক সাহসের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে আজও আমাদের সামনে দাঁড়িয়ে আছে।তথ্যসূত্র: উইকিপিডিয়া, বাংলাপিডিয়া, শায়েখ আব্দুল হক দেহলভী, আকবারুল উখিয়া ফি আসরারুল আবরার, সোস্যাল হিস্টোরি অফ দ্যা মুসলিম ইন ব্যাঙ্গাল।
ফিরোজ আল মামুন