ঢাকা    বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬
ঢাকা    বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬
গণবার্তা
সর্বশেষ

নতুন ইউনিফর্মে মাঠে নামল পুলিশ, গাঢ় নীল-হালকা জলপাই শার্ট ও খাকি প্যান্ট

গাঢ় নীল ও হালকা জলপাই রঙের শার্ট এবং খাকি রঙের প্যান্টে ফিরেছে পুলিশের পোশাক। বুধবার নতুন পোশাক পরে দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে পুলিশ সদস্যদের। নতুন পোশাক পরা একাধিক পুলিশ সদস্য জানান, নতুন পোশাকে ভালো লাগছে। আগের যে পোশাক ছিল সেটি বাংলাদেশ পুলিশের সঙ্গে মানানসই ছিল না। বুধবার রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) পরিচালিত পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে নবনির্মিত ‘বরকাউ পুলিশ ক্যাম্প’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরকে গাঢ় নীল শার্টে এবং ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদকে হালকা জলপাই রঙের শার্টে দেখা যায়। তবে উভয়ের প্যান্টের রঙ ছিল এক 'খাকি'।এ বিষয়ে ডিএমপি মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদী জাগো নিউজকে বলেন, আজকে থেকে নতুন পোশাক পরছে পুলিশ সদস্যরা। তবে সব সদস্যকে এখনও দেওয়া হয়নি। পর্যায়ক্রমে সব সদস্য এই পোশাক পাবেন। যারা নতুন ইউনিফর্ম পেয়েছেন তারা এরই মধ্যে নতুন ইউনিফর্মে দায়িত্ব পালন করতে শুরু করেছেন। গত মাসের ১৮ জুন পোশাকের রঙ পরিবর্তন করে প্রজ্ঞাপন জারি করে পুলিশ সদর দপ্তর। নতুন প্রজ্ঞাপনে পুলিশের শার্ট ও প্যান্টের পাশাপাশি জার্সি, কার্ডিগান, পুলওভার, জ্যাকেট, নারীদের পোশাক, মাথার আবরণ এবং পূর্ণহাতা পোশাকের রং–সংক্রান্ত বিধানেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। আগের বিধানে পুলিশের শার্টের রং ছিল আয়রন বা লোহা-ধূসর, আর প্যান্টের রং ছিল কফি শেল বা কফি-বাদামি ধূসর।প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, আগে লোহা-ধূসর রঙের শার্টের ওপর লোহা-ধূসর রঙের ফুলহাতা জার্সি, কার্ডিগান বা পুলওভার ব্যবহারের কথা ছিল। নতুন বিধানে সেটির পরিবর্তে নীল রঙের শার্টের ওপর গাঢ় নীল রঙের ফুলহাতা জার্সি, কার্ডিগান বা পুলওভার যুক্ত করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, জেলা পুলিশ এবং এপিবিএন, এসপিবিএন, এসবি, সিআইডি ও র্যাব ছাড়া অন্যান্য ইউনিটের ক্ষেত্রে ট্রাউজার হবে খাকি রঙের টিসি টুইল কাপড়ের। শার্ট হবে গাঢ় নীল রঙের টিসি প্লেইন ফেব্রিক কাপড়ের। শার্টের সামনে চারটি পকেট থাকবে। সামনের অংশে সমদূরত্বে সাতটি বোতাম থাকবে। প্রজ্ঞাপনে নারী পুলিশের পোশাকের বিষয়েও বিস্তারিত বলা হয়। নারী পুলিশ চাইলে শাড়ি পরতে পারবেন। জেলা পুলিশ ও অন্যান্য ইউনিটের ক্ষেত্রে গাঢ় নীল শাড়ির সঙ্গে গাঢ় নীল ব্লাউজ পরা যাবে। মহানগর পুলিশের ক্ষেত্রে গাঢ় নীল শাড়ির সঙ্গে হালকা জলপাই রঙের ব্লাউজের কথা বলা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, নারী পুলিশ সদস্যরা চাইলে মাথার আবরণ ব্যবহার করতে পারবেন। ট্রাফিক ইউনিটে কর্মরত নারী পুলিশ সদস্যরাও সারা বছর পূর্ণহাতা শার্ট বা ব্লাউজ পরতে পারবেন। গর্ভাবস্থায় সংশ্লিষ্ট ইউনিটপ্রধানের পূর্বানুমোদন নিয়ে নারী পুলিশ সদস্য সাধারণ পোশাক পরতে পারবেন। প্রজ্ঞাপনে মৌসুম অনুযায়ী শার্টের ধরনও নির্ধারণ করা হয়েছে। গ্রীষ্মকালে শার্ট হবে অর্ধহাতা। শীতকালে শার্ট হবে পূর্ণহাতা। মাথার আবরণের ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, সেটি অনুমোদিত গাঢ় নীল রঙের হবে।জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর পুলিশে সংস্কারের দাবি ওঠে। কেউ কেউ পুলিশের পোশাক পরিবর্তনের দাবিও করেন। এমন পরিপ্রেক্ষিতে গত বছর ২০ জানুয়ারি আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির সভায় পুলিশের পোশাক পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত হয়। পুলিশের সব সদস্যের জন্য নির্ধারিত হয় আয়রন (লোহা) রঙের পোশাক। গত বছরের ২৫ নভেম্বর নতুন পোশাকে মাঠে নামে পুলিশ। যদিও সেই পোশাক নিয়ে মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের মধ্যেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। অনেক পুলিশ সদস্য পোশাক পরিবর্তনের বিষয়টি মেনে নিতে পারেননি। তারাও পোশাকের রং নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তারা বলেন, এই রঙের পোশাক দেখতে ভালো লাগছে না। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রল হওয়ায় তারা অস্বস্তি বোধ করেন।নতুন ইউনিফর্মে পুলিশের চেহারা অনেকটাই বদলে গেছে। গাঢ় নীল রঙের শার্ট ও খাকি প্যান্ট দেখতে অনেকটাই পেশাদার ও আধুনিক মনে হচ্ছে। পুলিশ সদস্যরাও নতুন পোশাকে উৎসাহী। তারা বলছেন, এই পোশাক পরতে ভালো লাগছে এবং এটি তাদের কাজের প্রতি আরও আত্মবিশ্বাস বাড়াচ্ছে। সাধারণ মানুষও এই পরিবর্তনকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন। তারা বলছেন, নতুন পোশাকে পুলিশকে আরও দৃষ্টিনন্দন ও পেশাদার মনে হচ্ছে। পুলিশ প্রশাসন বলছে, নতুন ইউনিফর্ম পুলিশের ভাবমূর্তি উন্নত করতে এবং জনগণের মধ্যে আস্থা তৈরি করতে সহায়ক হবে। পর্যায়ক্রমে সব পুলিশ সদস্যকে নতুন ইউনিফর্ম দেওয়া হবে। ইতোমধ্যে, অনেক পুলিশ সদস্য নতুন ইউনিফর্ম পরে দায়িত্ব পালন শুরু করেছেন এবং বাকিরাও খুব শীঘ্রই পাবেন। নতুন ইউনিফর্মের মাধ্যমে পুলিশের একটি নতুন অধ্যায় শুরু হলো। এখন দেখার বিষয়, এই পরিবর্তন পুলিশের কার্যক্ষমতা ও জনগণের মধ্যে আস্থা তৈরি করতে কতটা সহায়ক হয়।
৯ ঘন্টা আগে

গাজায় ইসরায়েলি হামলায় ২৪ ঘণ্টায় আরও ৮ নিহত, মৃতের সংখ্যা ৭৩ হাজার ছাড়াল

গাজায় ইসরায়েলি হামলায় গত ২৪ ঘণ্টায় আরও আট ফিলিস্তিনি নিহত ও ২৬ জন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এর ফলে ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া হামলায় প্রাণহানির সংখ্যা ৭৩ হাজার ছাড়িয়েছে। একই সময়ে মোট আহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৫১৪ জনে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২০২৫ সালের যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরের পর থেকে এ পর্যন্ত ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে গাজায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৫৩ জন। একই সময়ে আহত হয়েছেন ৩ হাজার ৪০৬ জন। এছাড়া গাজার প্রায় ৯০ শতাংশ বেসামরিক অবকাঠামো সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে ধ্বংস হয়ে গেছে। জাতিসংঘ জানিয়েছে, যুদ্ধবিধ্বস্ত এই অঞ্চল পুনর্গঠনে প্রায় ৭০ বিলিয়ন বা ৭ হাজার কোটি মার্কিন ডলারের প্রয়োজন।গাজায় হামলায় নিহতের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে, যুদ্ধবিরতি চুক্তির পরও হামলা অব্যাহত রয়েছে। ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি স্বাক্ষরের পর থেকে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৫৩ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যা যুদ্ধবিরতি চুক্তির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। আন্তর্জাতিক মহল এই পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন। জাতিসংঘ ও অন্যান্য মানবাধিকার সংস্থা ইসরায়েলকে হামলা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে, কিন্তু ইসরায়েল তাদের অবস্থানে অনড়। তারা বলছে, হামাসের হুমকি শেষ না হওয়া পর্যন্ত তারা হামলা চালিয়ে যাবে। অন্যদিকে, হামাস বলছে, তারা যুদ্ধবিরতি চুক্তি মেনেছে, কিন্তু ইসরায়েল তা লঙ্ঘন করছে। গাজার বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় সেখানকার মানুষ চরম মানবিক সংকটে পড়েছে। খাবার, পানি ও ওষুধের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। জাতিসংঘ জানিয়েছে, গাজার পুনর্গঠনে ৭০ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন, কিন্তু তা কখনো সম্ভব হবে কিনা তা স্পষ্ট নয়। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এখন গাজায় যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়ন ও মানবিক সহায়তা বাড়ানোর দিকে নজর দিচ্ছে। কিন্তু ইসরায়েলের সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে না। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে মামলা করার কথা বিবেচনা করছে। তারা বলছে, ইসরায়েল যুদ্ধাপরাধ করছে এবং এর জন্য তাদের জবাবদিহি করতে হবে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের সমর্থনে এগিয়ে এসেছে। তারা বলেছে, ইসরায়েলের আত্মরক্ষার অধিকার রয়েছে। এই অবস্থায় গাজায় মানবিক বিপর্যয় আরও গভীর হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। অন্যথায় গাজায় আরও প্রাণহানি ঘটবে। ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। তারা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে জরুরি সহায়তার আবেদন জানিয়েছে। ইতিমধ্যে কিছু মানবাধিকার সংস্থা গাজায় ত্রাণ সামগ্রী পাঠানোর চেষ্টা করছে, কিন্তু ইসরায়েলের অবরোধের কারণে তা পর্যাপ্ত নয়। গাজার মানুষ এখন চরম দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। তারা শান্তি ও নিরাপত্তা ফিরে পাওয়ার জন্য প্রার্থনা করছে। তবে বাস্তবতা হলো, গাজার ভবিষ্যৎ এখনও অনিশ্চিত। যুদ্ধ শেষ হতে আরও সময় লাগতে পারে। আপাতত গাজার মানুষ প্রতিদিনের টিকে থাকার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। তারা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিচ্ছে। কিন্তু সেই সাহায্য আসছে খুব ধীরে। আগামী দিনগুলোতে গাজার পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে বলে ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, এই সংকট মোকাবিলায় সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। অন্যথায় গাজার মানুষ আরও বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
৯ ঘন্টা আগে

হোলি আর্টিজান হামলার এক দশক: রক্তাক্ত সেই ট্র্যাজেডির স্মরণ

ঠিক ১০ বছর আগে, ২০১৬ সালের ১ জুলাই। রাজধানীর অভিজাত এলাকা গুলশানের হোলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলায় স্তব্ধ হয়ে যায় পুরো দেশ। ভয়াবহ ওই হামলায় ১৭ বিদেশি নাগরিক, ৩ বাংলাদেশি এবং ঘটনাস্থলে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে নিহত হন দুই পুলিশ কর্মকর্তা। পরদিন সকালে সেনাবাহিনীর ‘অপারেশন থান্ডারবোল্ট’-এ পাঁচ হামলাকারী নিহতের পাশাপাশি উদ্ধার করা হয় ১৩ জিম্মিকে। দেশের ইতিহাসে অন্যতম ভয়াবহ ওই জঙ্গি হামলার এক দশক পূর্তিতে আজ স্মরণ করা হচ্ছে সেই রক্তাক্ত ট্র্যাজেডি।২০১৬ সালের ১ জুলাই রাজধানীর গুলশানের কূটনৈতিক এলাকায় সন্ধ্যার আমেজ ছিল অন্য সব ছুটির দিনের মতোই। তবে সেই শান্ত সন্ধ্যা মুহূর্তেই রূপ নেয় বিভীষিকায়। রাত প্রায় পৌনে ৯টার দিকে গুলশান-২ নম্বরের ৭৯ নম্বর সড়কে হোলি আর্টিজান বেকারিতে ঢুকে পড়ে সশস্ত্র পাঁচ জঙ্গি। এলোপাতাড়ি গুলি চালিয়ে দেশি-বিদেশি অতিথিদের জিম্মি করে তারা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ। তারা জিম্মিদের উদ্ধারের চেষ্টা চালালে, জঙ্গিরা গুলি ছোড়ার পাশাপাশি গ্রেনেড ও হাতবোমা নিক্ষেপ করে। এতে গোয়েন্দা পুলিশের সহকারী কমিশনার রবিউল ইসলাম ও বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) সালাহউদ্দিন খান গুরুতর আহত হন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুজনেরই মৃত্যু হয়। আহত হন আরও কয়েকজন পুলিশ সদস্য। রাতের মধ্যেই পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে পুলিশ, র্যাব, বিজিবি ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হোলি আর্টিজানের ভেতর থেকে গুলির শব্দ ও বিস্ফোরণের আওয়াজ শোনা যেতে থাকে। পরিস্থিতির ভয়াবহতায় ঘটনাস্থলে সেনাবাহিনীর কমান্ডো দল মোতায়েন করা হয়। রাতেই আন্তর্জাতিক জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস) সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যম আমাক নিউজে এই হামলার দায় স্বীকার করে বিবৃতি দেয়, আইএস। তবে শুরু থেকেই দেশীয় জঙ্গি সংগঠন নব্য-জেএমবি এই হামলা চালিয়েছে বলে জানায় বাংলাদেশ সরকার। ২ জুলাই সকাল ৭টা ৪০ মিনিটের দিকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে জিম্মি উদ্ধারে শুরু হয় ‘অপারেশন থান্ডারবোল্ট’। প্রায় ১৩ মিনিটের ওই অভিযানে পাঁচ হামলাকারী নিহত হয়। জীবিত উদ্ধার করা হয় ১৩ জিম্মিকে। অভিযান শেষে প্রকাশ পায় ভয়াবহ হত্যাযজ্ঞের চিত্র। জঙ্গিরা রাতেই ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও গুলি করে ২০ জন জিম্মিকে হত্যা করে। তাঁদের মধ্যে ১৭ জন ছিলেন বিদেশি নাগরিক- ৯ জন ইতালীয়, সাতজন জাপানি এবং একজন ভারতীয়। নিহত তিন বাংলাদেশি হলেন ফারাজ আইয়াজ হোসেন, ইশরাত আখন্দ ও অবিন্তা কবীর। দুই পুলিশ কর্মকর্তাসহ হামলায় মোট ২২ জন প্রাণ হারান।হোলি আর্টিজান জঙ্গি হামলার ঘটনায় ২০১৬ সালের ২ জুলাই গুলশান থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করেন উপপরিদর্শক (এসআই) রিপন কুমার দাস। মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পায় পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট। প্রায় দুই বছরের তদন্ত শেষে ২০১৮ সালের ২৩ জুলাই সিটিটিসির পরিদর্শক হুমায়ুন কবির আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ২০১৯ সালের ২৭ নভেম্বর ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনাল হামলার পরিকল্পনা, অর্থায়ন, প্রশিক্ষণ, অস্ত্র সংগ্রহ ও অন্যান্য সহায়তায় জড়িত থাকার দায়ে নব্য জেএমবির সাত সদস্যকে মৃত্যুদণ্ড দেন। পরে ওই রায়ের বিরুদ্ধে আসামিদের করা আপিল ও ডেথ রেফারেন্সের শুনানি শেষে ২০২৩ সালের ৩০ অক্টোবর বিচারিক আদালতের রায় সংশোধন করেন হাইকোর্ট। বিচারপতি সহিদুল করিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের বেঞ্চ সাত আসামির মৃত্যুদণ্ড বাতিল করে তাঁদের আমৃত্যু কারাদণ্ড দেন। আমৃত্যু কারাদণ্ডের সাজা পাওয়া সাতজন হলেন রাকিবুল হাসান ওরফে রিগ্যান, মো. জাহাঙ্গীর হোসেন ওরফে রাজীব গান্ধী, আসলাম হোসেন ওরফে র্যাশ, হাদিসুর রহমান, আবদুস সবুর খান ওরফে সোহেল মাহফুজ, মামুনুর রশীদ ওরফে রিপন এবং শরিফুল ইসলাম ওরফে খালেদ।সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ২২৯ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায়ে হাইকোর্ট বলেন, ‘সাত আসামি ঘটনাস্থলে উপস্থিত না থাকলেও হামলার ষড়যন্ত্র ও বাস্তবায়নে সহায়তা করেছেন, যা সাক্ষ্য-প্রমাণে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে।’ তবে হাইকোর্টের মতে, বিচারিক আদালতের দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায়টি আইনের সংশ্লিষ্ট ধারা বিবেচনায় সংশোধনযোগ্য ছিল। তাই সাত আসামির মৃত্যুদণ্ড বাতিল করে তাঁদের আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এক দশক পেরিয়ে গেলেও বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ জঙ্গি হামলাগুলোর অন্যতম হিসেবে এখনও দাগ কেটে আছে হোলি আর্টিজান ট্র্যাজেডি। এ ঘটনায় করা মামলার বিচারিক কার্যক্রম শেষ হয়েছে। দণ্ডিত সাত আসামির সবাই কারাগারে আমৃত্যু কারাদণ্ডের সাজা ভোগ করছে। ঢাকার বুক থেকে হারিয়ে গেছে হোলি আর্টিজান বেকারির অস্তিত্বও। তবু ২০১৬ সালের ১ জুলাইয়ের সেই রক্তাক্ত রাত দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা, জঙ্গিবাদ মোকাবিলা এবং সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইয়ের ইতিহাসে স্থায়ী এক বেদনাদায়ক অধ্যায় হয়ে রয়েছে। হামলার এক দশক পূর্তিতে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেছে। নিহতদের পরিবারের সদস্যরা এই দিনটি অত্যন্ত বেদনার সঙ্গে স্মরণ করেছেন। তারা বলেছেন, এই ট্র্যাজেডি যেন কখনো ভুলে না যায় এবং এ ধরনের ঘটনা যেন আর কখনো না ঘটে, সেজন্য সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। সরকারও জঙ্গিবাদ দমনে কঠোর অবস্থান বজায় রেখেছে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে। তবে এই ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
৯ ঘন্টা আগে
নতুন থানা ও উপজেলা গঠনের অনুমোদন, বাড়ছে প্রশাসনিক ইউনিট

নতুন থানা ও উপজেলা গঠনের অনুমোদন, বাড়ছে প্রশাসনিক ইউনিট

চট্টগ্রামে একটি নতুন থানা ও একটি উপজেলা এবং কুমিল্লা ও ময়মনসিংহে আরও দুটি নতুন উপজেলা গঠনের অনুমোদন দিয়েছে সরকার। মঙ্গলবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস-সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং এ তথ্য জানিয়েছে। বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার ছয়টি ইউনিয়ন নিয়ে ফটিকছড়ি উত্তর নামে নতুন উপজেলা গঠন করা হবে। কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলাকে বিভক্ত করে গঠন করা হবে বাঙ্গরা উপজেলা। আর ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার পাগলা থানার আটটি ইউনিয়ন নিয়ে হবে দক্ষিণ গফরগাঁও উপজেলা। নতুন তিন উপজেলা যুক্ত হওয়ায় দেশে উপজেলার সংখ্যা বেড়ে হবে ৪৯৮টি। আর নতুন থানা যুক্ত হওয়ায় থানার সংখ্যা দাঁড়াবে ৬৪০টিতে। এছাড়া রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) পূর্বাঞ্চল নতুন শহর প্রকল্পের আওতাধীন নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর জেলার অংশগুলোকে ঢাকা জেলার অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং সূত্রে জানা গেছে।বৈঠকে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, সড়ক যোগাযোগমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, গৃহায়ণমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবিএম আবদুস সাত্তার উপস্থিত ছিলেন।এই প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসের ফলে স্থানীয় জনগণ প্রশাসনিক সেবা আরও দ্রুত ও সহজে পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। নতুন উপজেলা ও থানা গঠনের ফলে এলাকার উন্নয়ন কার্যক্রমও দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাবে। বিশেষ করে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা গঠনের ফলে এলাকার জনগণের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হবে। কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলা বিভক্ত করে বাঙ্গরা উপজেলা গঠনের ফলে ওই এলাকায় প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে। ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার দক্ষিণ অংশে নতুন উপজেলা গঠনের ফলে এলাকার উন্নয়ন ও সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। রাজউকের পূর্বাঞ্চল নতুন শহর প্রকল্পের আওতায় নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর জেলার কিছু অংশ ঢাকা জেলার অন্তর্ভুক্ত করায় নগর উন্নয়ন পরিকল্পনা আরও কার্যকর হবে। এই সিদ্ধান্তের ফলে এলাকার অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও সুশাসন নিশ্চিত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। নতুন প্রশাসনিক ইউনিটগুলোতে দ্রুত জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হবে। সরকার আশা করছে, এই উদ্যোগ জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিতে সহায়তা করবে এবং দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করবে। এলাকাবাসী এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে নতুন উপজেলা ও থানাগুলোর কার্যক্রম শুরু হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
৬ ঘন্টা আগে
নতুন থানা ও উপজেলা গঠনের অনুমোদন, বাড়ছে প্রশাসনিক ইউনিট

নতুন থানা ও উপজেলা গঠনের অনুমোদন, বাড়ছে প্রশাসনিক ইউনিট

চট্টগ্রামে একটি নতুন থানা ও একটি উপজেলা এবং কুমিল্লা ও ময়মনসিংহে আরও দুটি নতুন উপজেলা গঠনের অনুমোদন দিয়েছে সরকার। মঙ্গলবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস-সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং এ তথ্য জানিয়েছে। বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার ছয়টি ইউনিয়ন নিয়ে ফটিকছড়ি উত্তর নামে নতুন উপজেলা গঠন করা হবে। কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলাকে বিভক্ত করে গঠন করা হবে বাঙ্গরা উপজেলা। আর ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার পাগলা থানার আটটি ইউনিয়ন নিয়ে হবে দক্ষিণ গফরগাঁও উপজেলা। নতুন তিন উপজেলা যুক্ত হওয়ায় দেশে উপজেলার সংখ্যা বেড়ে হবে ৪৯৮টি। আর নতুন থানা যুক্ত হওয়ায় থানার সংখ্যা দাঁড়াবে ৬৪০টিতে। এছাড়া রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) পূর্বাঞ্চল নতুন শহর প্রকল্পের আওতাধীন নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর জেলার অংশগুলোকে ঢাকা জেলার অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং সূত্রে জানা গেছে।বৈঠকে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, সড়ক যোগাযোগমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, গৃহায়ণমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবিএম আবদুস সাত্তার উপস্থিত ছিলেন।এই প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসের ফলে স্থানীয় জনগণ প্রশাসনিক সেবা আরও দ্রুত ও সহজে পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। নতুন উপজেলা ও থানা গঠনের ফলে এলাকার উন্নয়ন কার্যক্রমও দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাবে। বিশেষ করে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা গঠনের ফলে এলাকার জনগণের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হবে। কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলা বিভক্ত করে বাঙ্গরা উপজেলা গঠনের ফলে ওই এলাকায় প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে। ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার দক্ষিণ অংশে নতুন উপজেলা গঠনের ফলে এলাকার উন্নয়ন ও সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। রাজউকের পূর্বাঞ্চল নতুন শহর প্রকল্পের আওতায় নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর জেলার কিছু অংশ ঢাকা জেলার অন্তর্ভুক্ত করায় নগর উন্নয়ন পরিকল্পনা আরও কার্যকর হবে। এই সিদ্ধান্তের ফলে এলাকার অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও সুশাসন নিশ্চিত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। নতুন প্রশাসনিক ইউনিটগুলোতে দ্রুত জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হবে। সরকার আশা করছে, এই উদ্যোগ জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিতে সহায়তা করবে এবং দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করবে। এলাকাবাসী এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে নতুন উপজেলা ও থানাগুলোর কার্যক্রম শুরু হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
৬ ঘন্টা আগে
গাজায় ইসরায়েলি হামলায় ২৪ ঘণ্টায় আরও ৮ নিহত, মৃতের সংখ্যা ৭৩ হাজার ছাড়াল

গাজায় ইসরায়েলি হামলায় ২৪ ঘণ্টায় আরও ৮ নিহত, মৃতের সংখ্যা ৭৩ হাজার ছাড়াল

গাজায় ইসরায়েলি হামলায় গত ২৪ ঘণ্টায় আরও আট ফিলিস্তিনি নিহত ও ২৬ জন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এর ফলে ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া হামলায় প্রাণহানির সংখ্যা ৭৩ হাজার ছাড়িয়েছে। একই সময়ে মোট আহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৫১৪ জনে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২০২৫ সালের যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরের পর থেকে এ পর্যন্ত ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে গাজায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৫৩ জন। একই সময়ে আহত হয়েছেন ৩ হাজার ৪০৬ জন। এছাড়া গাজার প্রায় ৯০ শতাংশ বেসামরিক অবকাঠামো সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে ধ্বংস হয়ে গেছে। জাতিসংঘ জানিয়েছে, যুদ্ধবিধ্বস্ত এই অঞ্চল পুনর্গঠনে প্রায় ৭০ বিলিয়ন বা ৭ হাজার কোটি মার্কিন ডলারের প্রয়োজন।গাজায় হামলায় নিহতের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে, যুদ্ধবিরতি চুক্তির পরও হামলা অব্যাহত রয়েছে। ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি স্বাক্ষরের পর থেকে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৫৩ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যা যুদ্ধবিরতি চুক্তির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। আন্তর্জাতিক মহল এই পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন। জাতিসংঘ ও অন্যান্য মানবাধিকার সংস্থা ইসরায়েলকে হামলা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে, কিন্তু ইসরায়েল তাদের অবস্থানে অনড়। তারা বলছে, হামাসের হুমকি শেষ না হওয়া পর্যন্ত তারা হামলা চালিয়ে যাবে। অন্যদিকে, হামাস বলছে, তারা যুদ্ধবিরতি চুক্তি মেনেছে, কিন্তু ইসরায়েল তা লঙ্ঘন করছে। গাজার বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় সেখানকার মানুষ চরম মানবিক সংকটে পড়েছে। খাবার, পানি ও ওষুধের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। জাতিসংঘ জানিয়েছে, গাজার পুনর্গঠনে ৭০ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন, কিন্তু তা কখনো সম্ভব হবে কিনা তা স্পষ্ট নয়। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এখন গাজায় যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়ন ও মানবিক সহায়তা বাড়ানোর দিকে নজর দিচ্ছে। কিন্তু ইসরায়েলের সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে না। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে মামলা করার কথা বিবেচনা করছে। তারা বলছে, ইসরায়েল যুদ্ধাপরাধ করছে এবং এর জন্য তাদের জবাবদিহি করতে হবে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের সমর্থনে এগিয়ে এসেছে। তারা বলেছে, ইসরায়েলের আত্মরক্ষার অধিকার রয়েছে। এই অবস্থায় গাজায় মানবিক বিপর্যয় আরও গভীর হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। অন্যথায় গাজায় আরও প্রাণহানি ঘটবে। ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। তারা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে জরুরি সহায়তার আবেদন জানিয়েছে। ইতিমধ্যে কিছু মানবাধিকার সংস্থা গাজায় ত্রাণ সামগ্রী পাঠানোর চেষ্টা করছে, কিন্তু ইসরায়েলের অবরোধের কারণে তা পর্যাপ্ত নয়। গাজার মানুষ এখন চরম দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। তারা শান্তি ও নিরাপত্তা ফিরে পাওয়ার জন্য প্রার্থনা করছে। তবে বাস্তবতা হলো, গাজার ভবিষ্যৎ এখনও অনিশ্চিত। যুদ্ধ শেষ হতে আরও সময় লাগতে পারে। আপাতত গাজার মানুষ প্রতিদিনের টিকে থাকার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। তারা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিচ্ছে। কিন্তু সেই সাহায্য আসছে খুব ধীরে। আগামী দিনগুলোতে গাজার পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে বলে ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, এই সংকট মোকাবিলায় সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। অন্যথায় গাজার মানুষ আরও বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
৯ ঘন্টা আগে
১৫ এপ্রিল ২০২৬, ১২:১১ এএম
আপনি কি মনে করেন বিএনপি জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর ও শব্দ বাস্তবায়ন করবে?

আপনি কি মনে করেন বিএনপি জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর ও শব্দ বাস্তবায়ন করবে?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ জন
১৪ মাস পর দেশজুড়ে শুরু হচ্ছে ভিটামিন এ ক্যাম্পেইন, ২ কোটি ৩৫ লাখ শিশু পাবে ক্যাপসুল

১৪ মাস পর দেশজুড়ে শুরু হচ্ছে ভিটামিন এ ক্যাম্পেইন, ২ কোটি ৩৫ লাখ শিশু পাবে ক্যাপসুল

প্রায় ১৪ মাস পর দেশব্যাপী ভিটামিন এ ক্যাপসুল ক্যাম্পেইন শুরু হতে যাচ্ছে। অন্ধত্ব প্রতিরোধসহ শিশুদের পুষ্টিহীনতা দূরীকরণের লক্ষ্যে আয়োজিত এই বিশেষ ক্যাম্পেইন ২৮ জুন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলবে। এদিন ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী ২ কোটি ৩৫ লাখের বেশি শিশুকে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। তবে ১২টি জেলার ৫৮টি উপজেলার ২৯০টি ইউনিয়নের ৭১৪টি ওয়ার্ডের দুর্গম অঞ্চলে ক্যাম্পেইন-পরবর্তী চার দিন ‘চাইল্ড টু চাইল্ড সার্চিং’ কার্যক্রম চালানো হবে। জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক মোহাম্মদ ইউনুস আলী বাসসকে এ তথ্য জানিয়েছেন।ক্যাম্পেইন বাস্তবায়নের দায়িত্বে আছে জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, এবারের ক্যাম্পেইনে ২ কোটি ৩৫ লাখ ১৪ হাজার ৯৭২টি শিশুকে অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬ মাস থেকে ১১ মাস বয়সী শিশুদের সংখ্যা (যাদের নীল রঙের ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে) ২৮ লাখ ৩৮ হাজার ৭৯৪ জন। ১২ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের সংখ্যা (যাদের লাল রঙের ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে) ২ কোটি ৫ লাখ ৭৬ হাজার ১৭৮ জন। এ বিষয়ে জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক মোহাম্মদ ইউনুস আলী বলেন, ২৮ জুন দেশব্যাপী ভিটামিন এ ক্যাপসুল ক্যাম্পেইন আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। বাস্তবায়নের জন্য ইতিমধ্যে ১ লাখ ২০ হাজার কেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে। এগুলো ইপিআইয়ের নিয়মিত কেন্দ্র। এ ছাড়া আরও ৫০০টি মোবাইলকেন্দ্র (লঞ্চঘাট, ফেরিঘাট, রেলস্টেশন, বাসস্টেশন ইত্যাদি) স্থাপন করা হয়েছে। ভিটামিন এ ক্যাপসুল ইতিমধ্যে হাতে এসে পৌঁছেছে বলে জানান মোহাম্মদ ইউনুস আলী। তিনি বলেন, ‘ক্যাম্পেইন বাস্তবায়নের জন্য আমরা সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিচ্ছি। আশা করছি, ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের অভিভাবকেরা কাছাকাছি কেন্দ্রগুলোয় গিয়ে তাঁদের সন্তানদের ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানোর ব্যবস্থা করবেন।’স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে, ২৮ জুন সকালে রাজধানীর শাহবাগের আবু সাঈদ কনভেশন সেন্টারে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন ভিটামিন এ ক্যাপসুল ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করবেন। অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত, প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক উপদেষ্টা এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার উপস্থিত থাকবেন। এ ছাড়া জেলা-উপজেলা পর্যায়ে স্থানীয় সংসদ সদস্যরা স্থানীয় প্রশাসনকে সঙ্গে নিয়ে ভিটামিন এ ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করবেন। মাঠকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকদের মাধ্যমে মাঠপর্যায়ে ক্যাম্পেইন বাস্তবায়ন করা হবে। জেলা-উপজেলা পর্যায়ে সিভিল সার্জন এবং উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তারা (নিজেদের টিমের মাধ্যমে) স্থানীয় পর্যায়ে মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে কর্মকর্তাদের মাঠপর্যায়ে তদারকির কাজ সম্পন্ন করতে মন্ত্রণালয় নির্দেশ দিয়েছে।জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিয়ম অনুসারে বছরে দুবার ভিটামিন এ ক্যাপসুলের ক্যাম্পেইন হওয়ার কথা। তবে ক্যাপসুলসংকটে গত বছরের মার্চ মাসের পর থেকে তা আর হয়নি। দীর্ঘ ১৪ মাস পর ২৮ জুন এই ক্যাম্পেইন হচ্ছে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, ‘দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা ভিটামিন এ ক্যাপসুল ক্যাম্পেইন আমরা আবার হাতে নিয়েছি। ক্যাম্পেইনটি সফল করতে সবাইকে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানাচ্ছি।’ ক্যাম্পেইনের দিন পরিবারের ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী সব শিশুকে কাছের কেন্দ্রে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টার মধ্যে নিয়ে গিয়ে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো নিশ্চিত করতে অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের প্রচারপত্রে বলা হয়েছে, ভিটামিন এ শিশুর জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, ভিটামিন এ শুধু অপুষ্টিজনিত অন্ধত্ব থেকে শিশুদের রক্ষা করে না; বরং তা রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ায়। দীর্ঘমেয়াদি ডায়রিয়া থেকে শিশুকে সুরক্ষা দেয়। শিশুর মৃত্যুঝুঁকি কমায়। শিশুদের অন্ধত্ব ও পুষ্টিহীনতা দূর করতে বাংলাদেশে ১৯৭৩ সাল থেকে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো শুরু হয়। তখন এটি ‘জাতীয় রাতকানা রোগপ্রতিরোধ কার্যক্রম’ নামে পরিচিত ছিল। ১৯৯৫ সালে কার্যক্রমটি আরও শক্তিশালী করতে জাতীয় টিকাদান দিবসের সঙ্গে ভিটামিন এ কর্মসূচি যুক্ত করা হয়। ২০০৩ সাল থেকে এর নাম দেওয়া হয় ‘জাতীয় ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইন’। ২০১১ সালে এটি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জাতীয় পুষ্টিসেবা (এনএনএস) কার্যক্রমের আওতাভুক্ত করা হয়। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘ ১৪ মাস বিরতির পর এই ক্যাম্পেইন শিশুদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অভিভাবকদের উদ্দেশে তারা বলেছেন, নির্ধারিত দিনে শিশুদের ক্যাপসুল খাওয়ানোর জন্য কেন্দ্রে নিয়ে যেতে হবে। কেন্দ্রে যেসব শিশুর উপস্থিতি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না, তাদের জন্য ‘চাইল্ড টু চাইল্ড সার্চিং’ কার্যক্রমের মাধ্যমে ক্যাপসুল পৌঁছে দেওয়া হবে। এই কর্মসূচি সফল করতে মাঠ পর্যায়ে স্বাস্থ্য কর্মীদের পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবকরাও কাজ করবেন বলে জানিয়েছে জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠান।
২৪ জুন ২০২৬
বুধবার বন্ধ থাকবে ব্যাংক ও শেয়ারবাজার

বুধবার বন্ধ থাকবে ব্যাংক ও শেয়ারবাজার

অর্ধবার্ষিক হিসাব-নিকাশ সম্পন্ন করার জন্য বুধবার (১ জুলাই) সারা দেশে পালিত হবে ব্যাংক হলিডে। এ উপলক্ষে সব ধরনের ব্যাংকিং লেনদেন বন্ধ থাকবে। পাশাপাশি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) শেয়ার লেনদেন বন্ধ থাকবে। তবে গ্রাহকসেবা বন্ধ থাকলেও বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সব তফসিলি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় এবং প্রয়োজনীয় গুরুত্বপূর্ণ শাখা খোলা থাকবে। এসব কার্যালয়ে অর্ধবার্ষিক আর্থিক হিসাব-নিকাশ ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালিত হবে।প্রতি বছরের ১ জুলাই ব্যাংকগুলো ছয় মাসের আর্থিক হিসাব চূড়ান্ত করে অর্ধবার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদন প্রস্তুত করে। এ কারণে দিনটিকে ব্যাংক হলিডে হিসেবে পালন করা হয়। ব্যাংক বন্ধ থাকায় শেয়ারবাজারেও লেনদেন হবে না। কারণ, পুঁজিবাজারের অধিকাংশ আর্থিক লেনদেন ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। উল্লেখ্য, প্রতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর বার্ষিক হিসাব-নিকাশ ও আর্থিক প্রতিবেদন প্রস্তুতের জন্যও ব্যাংক হলিডে পালন করা হয়।ব্যাংক হলিডে উপলক্ষে সাধারণ গ্রাহকদের জন্য কোনো লেনদেন না থাকলেও ব্যাংকগুলোর অভ্যন্তরীণ কার্যক্রম চলবে। প্রধান কার্যালয় ও গুরুত্বপূর্ণ শাখাগুলো খোলা থাকায় আর্থিক প্রতিবেদন তৈরির কাজ সম্পন্ন করা হবে। ব্যাংক কর্মকর্তারা এদিন তাদের দৈনন্দিন কাজের পাশাপাশি অর্ধবার্ষিক প্রতিবেদন প্রস্তুত করতে ব্যস্ত থাকবেন। এদিন কোনো চেক ক্লিয়ারিং বা অন্যান্য লেনদেন হবে না। তবে এটিএম বুথ ও অনলাইন ব্যাংকিং সেবা চালু থাকতে পারে, যা গ্রাহকদের জরুরি প্রয়োজনে সহায়তা করবে। তবে অধিকাংশ ব্যাংক তাদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ও মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে আগেই গ্রাহকদের এ বিষয়ে জানিয়ে দিয়েছে। আগামী ২ জুলাই থেকে স্বাভাবিক ব্যাংকিং কার্যক্রম শুরু হবে। শেয়ারবাজারও ২ জুলাই থেকে খোলা থাকবে। বিনিয়োগকারীদের এ বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পুঁজিবাজারে বুধবার কোনো লেনদেন না থাকায় বিনিয়োগকারীদের জন্য এটি একটি বিরতি হিসেবে কাজ করবে। আগামী কার্যদিবসে বাজার খোলার পর স্বাভাবিক লেনদেন শুরু হবে। ব্যাংক হলিডে উপলক্ষে গ্রাহকদের প্রয়োজনীয় লেনদেন আগেই সম্পন্ন করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। কারণ, এদিন কোনো আর্থিক লেনদেন সম্ভব হবে না। তবে জরুরি প্রয়োজনে এটিএম ও অনলাইন সেবা ব্যবহার করা যেতে পারে। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা যাতে গ্রাহকদের কোনো অসুবিধা না হয়, সেজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে। আগামীকাল থেকে সবকিছু স্বাভাবিক থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। গ্রাহকরা নিজেদের আর্থিক লেনদেন পরিকল্পনা করে নিলে ভালো হবে। এ ধরনের ব্যাংক হলিডে প্রতি বছর দুবার হয়, যা আর্থিক খাতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই দিনগুলোতে ব্যাংকগুলো তাদের হিসাব-নিকাশ ঠিক করে এবং আর্থিক প্রতিবেদন তৈরি করে। এতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়ে। আগামী বছরের জন্য এ প্রতিবেদনগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে কাজ করে। তাই ব্যাংক হলিডে পালন করা অত্যন্ত জরুরি। বুধবার ব্যাংক ও শেয়ারবাজার বন্ধ থাকায় সাধারণ মানুষ ও বিনিয়োগকারীদের এ বিষয়ে সচেতন থাকা উচিত।
০৮ মে ২০২৬
পেপ্যালসহ বৈশ্বিক পেমেন্ট প্ল্যাটফর্ম আসছে বাংলাদেশে: অর্থমন্ত্রী

পেপ্যালসহ বৈশ্বিক পেমেন্ট প্ল্যাটফর্ম আসছে বাংলাদেশে: অর্থমন্ত্রী

০৮ মে ২০২৬
নতুন নকিয়া ১১০ পাওয়ার: এক চার্জে ১৫ দিন, দাম ২৮৯৯ টাকা

নতুন নকিয়া ১১০ পাওয়ার: এক চার্জে ১৫ দিন, দাম ২৮৯৯ টাকা

নকিয়ার চিরচেনা ফিচার ফোনের ঐতিহ্যকে আধুনিক রূপে ফিরিয়ে এনে বাংলাদেশে উৎপাদিত নতুন ‘নকিয়া ১১০ পাওয়ার’ উন্মোচন করা হয়েছে। ফোনটি একবার চার্জে ১৫ দিন চলবে, দাম ২ হাজার ৮৯৯ টাকা। মুঠোফোনের ইতিহাসে সবচেয়ে জনপ্রিয় ও সর্বাধিক বিক্রিত মডেলগুলোর একটি নকিয়া ১১০। সেই পরিচিত ফোনটিই এবার নতুন রূপে ফিরেছে বাংলাদেশের বাজারে। দীর্ঘস্থায়ী ব্যাটারি, বড় পর্দা ও পরিচিত নকশার সমন্বয়ে উন্মোচন করা হয়েছে নতুন নকিয়া ১১০ পাওয়ার।সম্প্রতি রাজধানীর গুলশান শুটিং ক্লাবে আয়োজিত দিনব্যাপী বিক্রয় প্রতিনিধি সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে ফোনটি উন্মোচন করা হয়। এর আয়োজন করে বাংলাদেশে নকিয়া ফোনের একমাত্র উৎপাদনকারী ও পরিবেশক প্রতিষ্ঠান সেলেক্সট্রা লিমিটেড। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এইচএমডি বাংলাদেশের বিজনেস ম্যানেজার কাজী আল আমিন, সেলেক্সট্রার ব্যবস্থাপনা পরিচালক রিয়াজুল ইসলাম, হেড অব সেলস মামুন খান, চিফ বিজনেস অফিসার মোহাম্মদ আসিফ আলমগীর প্রমুখ। অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, দেশে উৎপাদিত এই নতুন মডেলটি নকিয়ার ঐতিহ্যকে ধরে রেখে আধুনিক ব্যবহারকারীদের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তৈরি করা হয়েছে। নতুন নকিয়া ১১০ পাওয়ারের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ এর শক্তিশালী ১৭৫০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার ব্যাটারি। নির্মাতাদের দাবি, একবার পূর্ণ চার্জে ফোনটি টানা ১৫ দিন পর্যন্ত সচল থাকতে পারবে। ফলে নিয়মিত চার্জ দেওয়ার ঝামেলা ছাড়াই দীর্ঘ সময় ব্যবহার করা যাবে ফোনটি।ফিচার ফোন হলেও এতে রয়েছে দুই ইঞ্চি পর্দা, যা আগের অনেক মডেলের তুলনায় বড় ও ব্যবহারবান্ধব। ফোনটির পেছনে থাকা ক্যামেরার সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে এলইডি ফ্ল্যাশ, যা অল্প আলো বা অন্ধকার পরিবেশেও ছবি তুলতে সহায়তা করবে। নকিয়ার পুরোনো ব্যবহারকারীদের জন্য সুখবর হলো নতুন এই ফোনেও রাখা হয়েছে একসময়ের জনপ্রিয় স্নেক গেম। ফলে প্রযুক্তির আধুনিকতার পাশাপাশি নস্টালজিয়ার ছোঁয়াও মিলবে ডিভাইসটিতে। নকিয়া ১১০ পাওয়ার বাজারে আনা হয়েছে নীল, ধূসর ও বেগুনি—এই তিন রঙে।প্রসঙ্গত, নকিয়ার আসল ফোন দেখে কিনতে জানিয়েছেন নির্মাতারা। আপনার কেনা ফোনটি আসল কি না, তা যাচাই করতে মুঠোফোনের আইএমইআই নম্বর লিখে ‘KYD <স্পেস> ১৫ সংখ্যার আইএমইআই নম্বর’ টাইপ করে ১৬০০২ নম্বরে এসএমএস পাঠাতে হবে। ফিরতি এসএমএস ডিভাইসটির বৈধ বা নকলের তথ্য পাওয়া যাবে। নকিয়া ১১০ পাওয়ারকে বাংলাদেশের বাজারে ফিচার ফোনের মধ্যে অন্যতম সেরা বিকল্প হিসেবে দেখা হচ্ছে। এটির দাম ২ হাজার ৮৯৯ টাকা হওয়ায় এটি সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রয়েছে। বিশেষ করে যারা শুধু কল, এসএমএস এবং কিছু মৌলিক কাজের জন্য ফোন ব্যবহার করেন, তাদের জন্য এটি একটি চমৎকার পছন্দ। এর শক্তিশালী ব্যাটারি, বড় পর্দা, স্নেক গেমের নস্টালজিয়া এবং এলইডি ফ্ল্যাশ সহ ক্যামেরা ফোনটিকে আকর্ষণীয় করে তুলেছে। সেলেক্সট্রা লিমিটেড জানিয়েছে, তারা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এই ফোনের বিক্রি বাড়াতে কাজ করছে। তারা গ্রাহকদের সন্তুষ্টি এবং আফটার-সেলস সার্ভিস নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। নকিয়া ১১০ পাওয়ার উন্মোচনের পর থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফোনটির ব্যাপক আলোচনা হচ্ছে। অনেকে তাদের পুরোনো দিনের কথা স্মরণ করে এই ফোন কেনার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। আগামী কয়েক সপ্তাহে ফোনটির বিক্রি ভালো হতে পারে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা। নকিয়া বাংলাদেশে তাদের ফিচার ফোনের বাজার ধরে রাখতে আরও নতুন মডেল আনতে পারে বলে গুঞ্জন রয়েছে। ফোনটির বিষয়ে বিস্তারিত জানতে গ্রাহকরা সেলেক্সট্রার অফিসিয়াল ওয়েবসাইট বা নিকটস্থ মোবাইল ফোনের দোকানে যোগাযোগ করতে পারেন। নকিয়ার এই নতুন যাত্রা বাংলাদেশের মোবাইল বাজারে একটি ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
২৯ জুন ২০২৬
কোন ছবি নেই !
কোন ছবি নেই !
নাগরিকত্বের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সন্তান জন্ম দেওয়া ভিসা শর্তের পরিপন্থি: মার্কিন দূতাবাস

নাগরিকত্বের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সন্তান জন্ম দেওয়া ভিসা শর্তের পরিপন্থি: মার্কিন দূতাবাস

ক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পাওয়ার উদ্দেশ্যে দেশটিতে গিয়ে সন্তান জন্ম দেওয়া এখন থেকে ভিসার শর্তের পরিপন্থি হিসেবে গণ্য হবে। এমন উদ্দেশ্যে কেউ ভিসা আবেদন করলে তা সরাসরি বাতিল করা হবে বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে মার্কিন দূতাবাস।বুধবার সকালে দূতাবাসের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বিশেষ সতর্কবার্তায় এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।কী বলছে দূতাবাসের সতর্কবার্তাদূতাবাসের পোস্টে উল্লেখ করা হয়, কোনো ব্যক্তি যদি মূলত সন্তানের মার্কিন নাগরিকত্ব নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের পরিকল্পনা করেন, তবে তা দেশটির বর্তমান ভিসা নীতিমালার পরিপন্থি।কনস্যুলার কর্মকর্তারা যদি সাক্ষাৎকার বা তদন্তের মাধ্যমে বুঝতে পারেন যে আবেদনকারীর মূল লক্ষ্য সন্তান জন্ম দিয়ে নাগরিকত্ব অর্জন, তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ট্যুরিস্ট ভিসা আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হবে।সতর্কবার্তায় আরও বলা হয়, এ ধরনের কার্যক্রম মার্কিন ভিসা নীতিমালার গুরুতর লঙ্ঘন। তাই আবেদনকারীদের শুধু প্রকৃত এবং সঠিক উদ্দেশ্য উল্লেখ করে আবেদন করার আহ্বান জানিয়েছে দূতাবাস।কঠোর সতর্কতাভিসা পাওয়ার জন্য ভুল তথ্য প্রদান বা ভিসার শর্ত ভঙ্গ করলে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের ক্ষেত্রে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা বা নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলেও সতর্কবার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে।অর্থাৎ, কেউ যদি এ উদ্দেশ্যে ভিসা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সন্তান জন্ম দেন এবং তা প্রমাণিত হয়, তাহলে পরবর্তীতে তার যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়া পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যেতে পারে।যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে জন্ম নিলে সন্তান স্বয়ংক্রিয়ভাবে সে দেশের নাগরিক হয় – এই সুযোগ কাজে লাগাতে অনেকেই আগে ট্যুরিস্ট ভিসায় গিয়ে সন্তান প্রসব করতেন। এখন থেকে সেই পথ কার্যকরীভাবে বন্ধ করে দিলো মার্কিন দূতাবাস। শুধু ভিসা বাতিল নয়, ভবিষ্যতেও যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞার হুঁশিয়ারি দেওয়ায় এই সিদ্ধান্তকে ‘চরম কঠোর’ বলছেন অভিবাসন বিশ্লেষকরা। ফলে আবেদনকারীদের এখন ভিসা আবেদনের আগে তিনবার ভাবতে হবে।
০৮ মে ২০২৬
হাদিসশাস্ত্রের মহান ইমাম: ইমাম মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল আল-বুখারি (রহ.)

হাদিসশাস্ত্রের মহান ইমাম: ইমাম মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল আল-বুখারি (রহ.)

যে নামের সঙ্গে জড়িয়ে আছে রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর বাণীর নিরাপদ সংরক্ষণইসলামের ইতিহাসে এমন কিছু মনীষীর আবির্ভাব ঘটেছে, যাঁদের অবদান কোনো নির্দিষ্ট যুগ, ভূখণ্ড কিংবা জাতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তাঁদের কর্ম মানবসভ্যতার ইতিহাসে স্থায়ী প্রভাব রেখে গেছে। সেই বিরল ব্যক্তিত্বদের অন্যতম হলেন ইমাম আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল আল-বুখারি (রহ.)—যাঁর নাম উচ্চারিত হলেই মনে ভেসে ওঠে 'সহিহ বুখারি', হাদিসশাস্ত্রের সর্বাধিক নির্ভরযোগ্য সংকলন।আজ পৃথিবীর যে প্রান্তেই মুসলমান বসবাস করুক না কেন, কুরআনুল কারিমের পর যে গ্রন্থটি সবচেয়ে বেশি সম্মান, গ্রহণযোগ্যতা ও নির্ভরযোগ্যতার মর্যাদা লাভ করেছে, সেটি হলো সহিহ আল-বুখারি। এটি শুধু একটি হাদিসগ্রন্থ নয়; বরং রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর জীবন, বাণী, কর্ম ও সুন্নাহকে বিশুদ্ধভাবে সংরক্ষণের এক অসাধারণ বৈজ্ঞানিক প্রচেষ্টা।কিন্তু এই বিস্ময়কর কীর্তির পেছনে ছিল এক শিশুর অশ্রুসিক্ত শৈশব, একজন মায়ের অবিচল ঈমান, সীমাহীন ত্যাগ, হাজার হাজার মাইল দীর্ঘ সফর, অক্লান্ত গবেষণা এবং সত্যের প্রতি আপসহীন নিষ্ঠা।বুখারা—জ্ঞান ও সভ্যতার এক উজ্জ্বল নগরীবর্তমান উজবেকিস্তানের অন্তর্গত প্রাচীন নগরী বুখারা একসময় ছিল মুসলিম বিশ্বের অন্যতম প্রধান জ্ঞানকেন্দ্র। মধ্য এশিয়ার এই শহরটি ছিল সিল্ক রোডের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র। এখানে যেমন বণিকদের আনাগোনা ছিল, তেমনি ছিল কুরআন, হাদিস, ফিকহ, ভাষাতত্ত্ব, দর্শন ও চিকিৎসাবিজ্ঞানের খ্যাতিমান পণ্ডিতদের সমাবেশ।অষ্টম ও নবম শতাব্দীতে বুখারা শুধু রাজনৈতিকভাবেই নয়, জ্ঞানচর্চার ক্ষেত্রেও খ্যাতির শীর্ষে অবস্থান করছিল। দূর-দূরান্ত থেকে ছাত্ররা এখানে আসতেন ইসলামী জ্ঞান অর্জনের জন্য।এই জ্ঞানময় পরিবেশেই জন্ম নেন সেই মহান ব্যক্তিত্ব, যিনি পরবর্তীকালে মানবজাতির অন্যতম শ্রেষ্ঠ গবেষক হিসেবে ইতিহাসে অমর হয়ে থাকবেন।জন্ম ও বংশপরিচয়ইমাম বুখারির পূর্ণ নাম—আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল ইবনে ইবরাহিম ইবনে আল-মুগিরাহ ইবনে বারদিযবাহ আল-জুফি আল-বুখারি (রহ.)।তিনি ১৩ শাওয়াল, ১৯৪ হিজরি (৮১০ খ্রিস্টাব্দ) বুখারা নগরীতে জন্মগ্রহণ করেন।তাঁর পরিবার মূলত পারস্য বংশোদ্ভূত ছিল। তাঁর প্রপিতামহ আল-মুগিরাহ ইসলামের সুশীতল ছায়ায় আশ্রয় গ্রহণ করেন এবং জুফি গোত্রের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করেন। সেই সূত্রেই তাঁদের বংশের সঙ্গে "আল-জুফি" উপাধি যুক্ত হয়।যদিও বংশগতভাবে তিনি আরব ছিলেন না, কিন্তু ইসলামী জ্ঞান, চরিত্র, গবেষণা ও অবদানের কারণে তিনি মুসলিম বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ইমাম হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেন।এক ধার্মিক পিতার উত্তরাধিকারইমাম বুখারির পিতা ইসমাইল ইবনে ইবরাহিম ছিলেন একজন সম্মানিত মুহাদ্দিস ও অত্যন্ত পরহেজগার ব্যক্তি।তিনি বিখ্যাত মুহাদ্দিস ইমাম মালিক ইবনে আনাস (রহ.), হাম্মাদ ইবনে যায়েদ (রহ.) প্রমুখ আলেমের নিকট হাদিস অধ্যয়ন করেছিলেন।তাঁর সম্পর্কে জীবনীকাররা উল্লেখ করেছেন, মৃত্যুর আগে তিনি বলেছিলেন—"আমার সম্পদের মধ্যে এমন একটি দিরহামও নেই, যা হারাম উপার্জন থেকে এসেছে কিংবা যার মধ্যে সন্দেহ রয়েছে।"এই বক্তব্য শুধু তাঁর ব্যক্তিগত সততার পরিচয় দেয় না; বরং বোঝায়, ইমাম বুখারির জীবনের ভিত্তি নির্মিত হয়েছিল হালাল রিজিক, তাকওয়া ও সততার ওপর।দুঃখজনকভাবে ইমাম বুখারি খুব অল্প বয়সেই তাঁর পিতাকে হারান। ফলে তাঁর লালন-পালনের সম্পূর্ণ দায়িত্ব এসে পড়ে তাঁর মায়ের ওপর।একজন মায়ের দোয়া বদলে দিয়েছিল ইতিহাসইমাম বুখারির শৈশবের সবচেয়ে হৃদয়স্পর্শী ঘটনাগুলোর একটি হলো তাঁর দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলা।শৈশবে এক দুরারোগ্য ব্যাধির কারণে তিনি সম্পূর্ণ অন্ধ হয়ে যান। চিকিৎসকরা আশাহত হয়ে পড়েন। পরিবারের লোকজনও প্রায় আশা ছেড়ে দেন।কিন্তু একজন মানুষ আশা হারাননি।তিনি ছিলেন তাঁর মা।দিনের পর দিন, রাতের পর রাত তিনি আল্লাহর দরবারে কেঁদে কেঁদে দোয়া করতে থাকেন।ইতিহাসবিদদের একটি প্রসিদ্ধ বর্ণনায় এসেছে, এক রাতে তিনি স্বপ্নে আল্লাহর নবী ইবরাহিম (আ.)-কে দেখেন। তিনি বলেন—"তোমার অধিক দোয়া ও কান্নার কারণে আল্লাহ তোমার সন্তানের দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দিয়েছেন।"পরদিন ঘুম থেকে উঠে তিনি বিস্ময়ের সঙ্গে দেখলেন—ছেলের চোখে আবার আলো ফিরে এসেছে।ঐতিহাসিক মন্তব্যএই ঘটনাটি প্রাচীন জীবনীগ্রন্থে উল্লেখিত একটি প্রসিদ্ধ ঐতিহ্যগত বর্ণনা। ইতিহাসবিদরা এটি উদ্ধৃত করলেও এর সনদ হাদিসের মানদণ্ডে সহিহ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত নয়। তবে মুসলিম ঐতিহাসিক সাহিত্যে ঘটনাটি ব্যাপকভাবে বর্ণিত হয়েছে এবং একজন মায়ের দোয়ার শক্তির অনন্য উদাহরণ হিসেবে আলোচিত।দৃষ্টি ফিরে পাওয়ার পর শুরু হয় আরেক অলৌকিক যাত্রাচোখের আলো ফিরে পাওয়ার পর যেন তাঁর মেধারও নতুন দ্বার উন্মুক্ত হয়ে গেল।অন্য শিশুরা যখন খেলাধুলায় ব্যস্ত থাকত, তখন ছোট্ট মুহাম্মদের সবচেয়ে প্রিয় কাজ ছিল আলেমদের দরসে বসা।তিনি মনোযোগ দিয়ে শুনতেন।বারবার শুনতেন।একবার শুনলেই মনে গেঁথে যেত।তাঁর স্মৃতিশক্তি এতটাই প্রখর ছিল যে, শৈশবেই শিক্ষকরা তাঁর অসাধারণ মেধায় বিস্মিত হয়ে পড়েন।মাত্র দশ বছর বয়সে শুরু হাদিস সংশোধনইমাম বুখারির জীবনীকারদের বর্ণনা অনুযায়ী, মাত্র দশ বছর বয়সেই তিনি হাদিস অধ্যয়নে এমন দক্ষতা অর্জন করেন যে, কোনো শিক্ষক হাদিস বর্ণনার সময় ভুল করলে তিনি বিনয়ের সঙ্গে তা সংশোধন করে দিতেন।প্রথম দিকে শিক্ষকরা তাঁর আপত্তি গ্রহণ করতেন না।কিন্তু যখন মূল গ্রন্থ বের করে মিলিয়ে দেখা হতো, তখন দেখা যেত—ছোট্ট মুহাম্মদই সঠিক ছিলেন।এই ঘটনাগুলো খুব দ্রুত পুরো বুখারায় ছড়িয়ে পড়ে।এগারো বছর বয়সে বিস্ময়কর ঘটনাএকদিন তাঁর শিক্ষক একটি সনদ (ইসনাদ) পাঠ করছিলেন।তিনি ভুলবশত একজন রাবির নাম অন্যজনের সঙ্গে পরিবর্তন করে ফেলেন।ইমাম বুখারি বিনয়ের সঙ্গে বলেন—"হে উস্তাদ, এখানে সম্ভবত নামটি ভিন্ন হবে।"শিক্ষক প্রথমে বিষয়টি গুরুত্ব দেননি।কিন্তু পরে মূল কপি বের করে দেখেন, কিশোর ছাত্রটির বক্তব্যই সঠিক।সেদিন থেকেই আলেমরা বুঝতে পারেন—এই শিশুর স্মৃতি ও বিশ্লেষণক্ষমতা সাধারণ মানুষের মতো নয়।কৈশোরেই সম্পূর্ণ হাদিসবিদমাত্র ষোলো বছর বয়সে তিনি হাদিসশাস্ত্রের বহু গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ অধ্যয়ন শেষ করেন।এর মধ্যে ছিল—আবদুল্লাহ ইবনে মুবারক (রহ.)-এর সংকলনওয়াকী ইবনে জাররাহ (রহ.)-এর রেওয়ায়েততৎকালীন বহু মুহাদ্দিসের মৌলিক হাদিসগ্রন্থএই সময়েই তাঁর মা ও ভাই আহমদের সঙ্গে তিনি হজ পালনের উদ্দেশ্যে মক্কায় যান।হজ শেষে তাঁর মা ও ভাই বুখারায় ফিরে এলেও মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল থেকে যান।কারণ তাঁর সামনে তখন আরেকটি স্বপ্ন।রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর প্রতিটি সহিহ হাদিস খুঁজে বের করা।সংগ্রহ করা।যাচাই করা।সংরক্ষণ করা।তিনি তখনও জানতেন না—এই স্বপ্নই একদিন তাঁকে ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ মুহাদ্দিসে পরিণত করবে।জ্ঞানার্জনের দীর্ঘ সফর, বিস্ময়কর স্মৃতিশক্তি ও বিশ্বসেরা মুহাদ্দিসে পরিণত হওয়ার গল্পমাত্র ষোলো বছর বয়সে হজ পালন শেষে ইমাম বুখারি (রহ.) একটি যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নেন। তাঁর মা ও বড় ভাই আহমদ বুখারায় ফিরে গেলেও তিনি মক্কায় থেকে যান। কারণ তাঁর হৃদয়ে তখন একটি মাত্র স্বপ্ন—রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর সহিহ হাদিসগুলোকে পৃথিবীর জন্য সংরক্ষণ করা।এই সিদ্ধান্তই তাঁর পুরো জীবনকে বদলে দেয়।মক্কা ও মদিনায় ইলমের নতুন অধ্যায়হজের পর ইমাম বুখারি (রহ.) দীর্ঘ সময় মক্কায় অবস্থান করেন। তিনি মসজিদুল হারামে বসে হাদিস, ফিকহ, আরবি ভাষা ও রিজালশাস্ত্র অধ্যয়ন করতে থাকেন। পরে তিনি মদিনায় চলে যান। রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর রওজা মোবারকের সান্নিধ্যে কাটানো সময় তাঁর জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে ওঠে।ঐতিহাসিক সূত্রে উল্লেখ রয়েছে, মদিনায় অবস্থানকালে রাতের নির্জনে, অনেক সময় চাঁদের আলোয় কিংবা মসজিদে নববীর নিকট বসেই তিনি তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ ‘আত-তারীখুল কাবীর’-এর রচনা শুরু করেন। তখন তাঁর বয়স মাত্র আঠারো বছর।এই গ্রন্থটি পরবর্তীকালে রাবিদের জীবনীসংক্রান্ত (ইলমুর রিজাল) অন্যতম মৌলিক গ্রন্থ হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে।ইলমের জন্য চল্লিশ বছরের অবিশ্রান্ত সফরইমাম বুখারি (রহ.) বিশ্বাস করতেন—ইলম ঘরে বসে অর্জন করা যায় না; এর জন্য ত্যাগ, ধৈর্য ও দীর্ঘ সফর প্রয়োজন।তিনি জীবনের প্রায় চার দশক ধরে মুসলিম বিশ্বের প্রধান প্রধান জ্ঞানকেন্দ্র সফর করেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য—মক্কামদিনাবসরাকুফাবাগদাদওয়াসিতমিশরদামেস্কহিমসনিশাপুরমারভবালখরায়সমরখন্দসহ বহু নগরী।জীবনীকারদের মতে, তিনি কিছু শহরে একাধিকবার সফর করেছিলেন। উদাহরণস্বরূপ, বসরায় তিনি চারবার, বাগদাদে বহুবার এবং কুফায়ও একাধিকবার গিয়েছিলেন, যাতে কোনো নির্ভরযোগ্য মুহাদ্দিসের কাছ থেকে হাদিস গ্রহণ বাদ না পড়ে।এক হাজারেরও বেশি শায়খের নিকট শিক্ষাইমাম বুখারি (রহ.) নিজেই বলেছেন—"আমি এক হাজারেরও বেশি শায়খের নিকট থেকে হাদিস লিখেছি।"প্রত্যেক শায়খের কাছ থেকে তিনি শুধু হাদিস শুনেই সন্তুষ্ট হতেন না। তিনি তাদের ব্যক্তিগত চরিত্র, তাকওয়া, স্মৃতিশক্তি এবং নির্ভরযোগ্যতা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করতেন।তাঁর শিক্ষকদের মধ্যে ছিলেন—ইমাম আলী ইবনে আল-মাদিনী (রহ.)ইসহাক ইবনে রাহওয়াইহ (রহ.)ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন (রহ.)আহমদ ইবনে হাম্বল (রহ.)মাক্কী ইবনে ইবরাহিম (রহ.)আবদুল্লাহ ইবনে যুবাইর আল-হুমায়দী (রহ.)কুতাইবা ইবনে সাঈদ (রহ.)-সহ বহু প্রখ্যাত মুহাদ্দিস।বিশেষত ইমাম আলী ইবনে আল-মাদিনী (রহ.)-কে তিনি নিজের অন্যতম শ্রেষ্ঠ শিক্ষক হিসেবে উল্লেখ করেছেন।অসাধারণ স্মৃতিশক্তির বিস্ময়কর দৃষ্টান্তইমাম বুখারির (রহ.) স্মৃতিশক্তি নিয়ে মুসলিম বিশ্বের ইতিহাসে অসংখ্য ঘটনা সংরক্ষিত রয়েছে।তিনি একবার বলেছিলেন—"আমার এক লাখ সহিহ হাদিস এবং দুই লাখ অ-সহিহ হাদিস মুখস্থ রয়েছে।"এটি কেবল হাদিসের মূল বক্তব্য নয়; বরং প্রতিটি হাদিসের পূর্ণ সনদ, বর্ণনাকারীদের নাম, তাদের শিক্ষক, ছাত্র এবং বর্ণনার পার্থক্যসহ মুখস্থ থাকার ইঙ্গিত বহন করে।ছাত্রজীবনের ১৫ হাজার হাদিসের ঘটনাশিক্ষাজীবনের একটি ঘটনা তাঁর অসাধারণ স্মৃতিশক্তির প্রমাণ হিসেবে যুগে যুগে আলোচিত হয়েছে।সহপাঠীরা প্রতিদিন শিক্ষকদের বক্তব্য লিখে রাখতেন। কিন্তু ইমাম বুখারি (রহ.) শুধু মনোযোগ দিয়ে শুনতেন, কিছুই লিখতেন না।একদিন সহপাঠীরা প্রশ্ন করলেন—"তুমি কিছুই লেখ না। তাহলে এতদিন এখানে এসে কী শিখলে?"তিনি শান্তভাবে বললেন—"তোমাদের লিখে রাখা খাতাগুলো নিয়ে এসো।"তারা প্রায় ১৬ দিনের নোট নিয়ে এলো, যাতে ১৫ হাজারেরও বেশি হাদিস লেখা ছিল।ইমাম বুখারি (রহ.) খাতা না দেখেই একের পর এক সব হাদিস মুখস্থ শুনিয়ে দিলেন। শুধু তাই নয়, কোথায় কোথায় ভুল লেখা হয়েছে তাও সংশোধন করে দিলেন।সহপাঠীরা বিস্মিত হয়ে নিজেদের নোট তাঁর মুখস্থ পাঠ থেকে সংশোধন করতে লাগলেন।বাগদাদের ১০০ হাদিস পরীক্ষার ঐতিহাসিক ঘটনাইমাম বুখারির জীবনের সবচেয়ে বিখ্যাত ঘটনাগুলোর একটি ঘটেছিল বাগদাদে।তাঁর অসাধারণ খ্যাতির কথা শুনে বাগদাদের একদল মুহাদ্দিস তাঁর স্মৃতিশক্তি পরীক্ষা করার সিদ্ধান্ত নেন।তারা ১০০টি হাদিস নির্বাচন করেন।প্রতিটি হাদিসের সনদ (ইসনাদ) অন্য হাদিসের সঙ্গে ইচ্ছাকৃতভাবে অদলবদল করে দেওয়া হয়।এরপর দশজন আলেমকে দশটি করে ভুল সনদযুক্ত হাদিস মুখস্থ করিয়ে জনসম্মুখে ইমাম বুখারির সামনে উপস্থাপন করা হয়।প্রথম ব্যক্তি একটি হাদিস পড়ে শোনালে ইমাম বুখারি (রহ.) বললেন—"আমি এভাবে জানি না।"একই উত্তর দিলেন দ্বিতীয়, তৃতীয়—এভাবে একশোটি হাদিসের ক্ষেত্রেই।অনেক সাধারণ মানুষ ভাবলেন, হয়তো তিনি উত্তর জানেন না।কিন্তু সবশেষে তিনি প্রথম ব্যক্তি থেকে শুরু করে একে একে সব ১০০টি হাদিস পুনরায় পাঠ করেন।প্রথমে ভুল সনদটি উল্লেখ করেন, তারপর সঙ্গে সঙ্গে সঠিক সনদ ও সঠিক হাদিস বলে দেন।এভাবে একশোটির একটিতেও তিনি ভুল করেননি।সভায় উপস্থিত সকল মুহাদ্দিস তাঁর অসাধারণ হিফজ, স্মৃতিশক্তি ও গবেষণার সামনে অভিভূত হয়ে যান।এই ঘটনার পর তাঁর খ্যাতি সমগ্র মুসলিম বিশ্বে আরও ছড়িয়ে পড়ে।'আমীরুল মুমিনীন ফিল হাদিস' উপাধিতাঁর সমসাময়িক অনেক মহান আলেম তাঁকে "আমীরুল মুমিনীন ফিল হাদিস"—অর্থাৎ হাদিসশাস্ত্রের মুমিনদের নেতা—উপাধিতে ভূষিত করেন।এটি ছিল হাদিসশাস্ত্রে সর্বোচ্চ সম্মানজনক উপাধিগুলোর একটি।প্রখ্যাত মুহাদ্দিস ইসহাক ইবনে রাহওয়াইহ (রহ.) একদিন তাঁর ছাত্রদের বলেছিলেন—"ইশ! যদি এমন একজন মানুষ থাকতেন, যিনি রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর শুধু সহিহ হাদিসগুলো একত্রিত করে একটি গ্রন্থ সংকলন করতেন।"এই কথাটি তরুণ ইমাম বুখারির হৃদয়ে গভীরভাবে দাগ কাটে।পরে তিনি নিজেই বলেছেন—"শায়খ ইসহাকের এই কথাই আমাকে সহিহ হাদিস সংকলনের কাজে উদ্বুদ্ধ করেছিল।"এই একটি বাক্যই ইতিহাসের গতিপথ বদলে দেয়। কারণ এর ফলশ্রুতিতেই রচিত হয় বিশ্বের সর্বাধিক নির্ভরযোগ্য হাদিসগ্রন্থ সহিহ আল-বুখারি।এক নতুন যুগের সূচনাতখনও কেউ কল্পনা করতে পারেনি—এই তরুণ মুহাদ্দিস এমন একটি গ্রন্থ রচনা করবেন, যা এক হাজার বছরেরও বেশি সময় ধরে মুসলিম বিশ্বের সর্বোচ্চ গ্রহণযোগ্যতা লাভ করবে।তাঁর সামনে তখন অপেক্ষা করছিল আরও কঠিন পরীক্ষা—ছয় লাখ হাদিসের মধ্য থেকে সহিহ হাদিস নির্বাচন, বর্ণনাকারীদের যাচাই, বছরের পর বছর গবেষণা এবং মানব ইতিহাসের অন্যতম শ্রেষ্ঠ জ্ঞানভান্ডার সংকলনের বিশাল দায়িত্ব।এই অধ্যায়ই তাঁকে চিরদিনের জন্য ইতিহাসে অমর করে রাখবে।‘সহিহ বুখারি’ সংকলনের ইতিহাস, বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি ও বিশ্বসভ্যতার এক অনন্য জ্ঞানভান্ডারের জন্মপৃথিবীর ইতিহাসে বহু গ্রন্থ রচিত হয়েছে। কোনোটি দর্শনের, কোনোটি বিজ্ঞানের, কোনোটি আইন বা সাহিত্যের। কিন্তু এমন একটি গ্রন্থ, যার প্রতিটি বাক্য লেখার আগে একজন গবেষক বছরের পর বছর ভ্রমণ করেছেন, হাজারো মানুষের চরিত্র যাচাই করেছেন, অসংখ্য বর্ণনা তুলনা করেছেন এবং সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে সত্য-মিথ্যা পৃথক করেছেন—এমন উদাহরণ ইতিহাসে খুব কমই রয়েছে।ইমাম মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল আল-বুখারি (রহ.)-এর ‘আল-জামি‘ আস-সহিহ’, যা আজ ‘সহিহ বুখারি’ নামে সমগ্র মুসলিম বিশ্বের কাছে পরিচিত, ঠিক এমনই এক বিস্ময়কর গবেষণার ফসল।একটি বাক্য, যা ইতিহাস বদলে দিয়েছিলইমাম বুখারি (রহ.)-এর শ্রদ্ধেয় শিক্ষক ইসহাক ইবনে রাহওয়াইহ (রহ.) একদিন তাঁর ছাত্রদের উদ্দেশে বলেছিলেন—"যদি এমন কেউ থাকত, যে রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর কেবল বিশুদ্ধ (সহিহ) হাদিসগুলো একত্র করে একটি সংকলন তৈরি করত!"এই কথাটি তরুণ ইমাম বুখারির হৃদয়ে গভীরভাবে দাগ কাটে। পরে তিনি নিজেই বলেন, এই আহ্বানই তাঁকে এমন একটি গ্রন্থ রচনায় উদ্বুদ্ধ করেছিল, যেখানে কেবল সর্বোচ্চ মানদণ্ডে যাচাইকৃত হাদিস স্থান পাবে।আরেকটি প্রসিদ্ধ বর্ণনায় এসেছে, তিনি স্বপ্নে দেখেন—তিনি রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর সামনে দাঁড়িয়ে একটি পাখা দিয়ে তাঁকে রক্ষা করছেন। স্বপ্নের ব্যাখ্যাকারীরা বলেন, তিনি মিথ্যা বর্ণনা থেকে রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর হাদিসকে রক্ষা করবেন। এই স্বপ্নও তাঁর মনোবল আরও দৃঢ় করে। (এটি জীবনীগ্রন্থে বর্ণিত একটি ঐতিহ্যগত ঘটনা; সহিহ হাদিস নয়।)ছয় লাখ হাদিস—কিন্তু সব নয়অনেকেই মনে করেন, ইমাম বুখারি (রহ.) ছয় লাখ হাদিস সংগ্রহ করেছিলেন। এখানে একটি বিষয় স্পষ্ট করা জরুরি।জীবনীকারদের ভাষ্যমতে, তিনি প্রায় ছয় লাখ রেওয়ায়েত (বর্ণনা) অধ্যয়ন করেছিলেন। এর মধ্যে একই হাদিসের বহু ভিন্ন সনদ ও বর্ণনা অন্তর্ভুক্ত ছিল। অর্থাৎ এটি ছয় লাখ সম্পূর্ণ ভিন্ন বক্তব্য নয়, বরং বিভিন্ন সূত্রে প্রচলিত হাদিসের বিপুল ভাণ্ডার।এই বিশাল সংগ্রহ থেকে তিনি কঠোর যাচাই-বাছাই করে তাঁর গ্রন্থে স্থান দেন মাত্র ৭,২৭৫টি রেওয়ায়েত (পুনরাবৃত্তিসহ)। পুনরাবৃত্তি বাদ দিলে সংখ্যা প্রায় ২,৬০০-এর কিছু বেশি।এই পরিসংখ্যানই তাঁর গবেষণার গভীরতা ও সতর্কতার পরিচয় বহন করে।হাদিস গ্রহণে ছিল কঠোর বৈজ্ঞানিক নীতিমালাইমাম বুখারির (রহ.) আগে অনেক মুহাদ্দিস হাদিস সংকলন করেছেন। কিন্তু তিনি যাচাইয়ের ক্ষেত্রে এমন কঠোর মানদণ্ড গ্রহণ করেন, যা তাঁকে অন্যদের থেকে স্বতন্ত্র মর্যাদা দেয়।তিনি সাধারণভাবে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো নিশ্চিত না হলে কোনো হাদিস গ্রহণ করতেন না—১. সনদ (ইসনাদ) অবিচ্ছিন্ন হতে হবেপ্রত্যেক বর্ণনাকারী তাঁর পূর্ববর্তী বর্ণনাকারীর কাছ থেকে সরাসরি হাদিস শুনেছেন—এ বিষয়ে শক্ত প্রমাণ থাকতে হবে।শুধু একই যুগে জীবিত থাকাই যথেষ্ট নয়; তাঁদের সাক্ষাৎ বা সাক্ষাতের বাস্তব সম্ভাবনাও প্রতিষ্ঠিত হতে হবে।২. প্রত্যেক রাবি হতে হবে ন্যায়পরায়ণহাদিস বর্ণনাকারীকে হতে হবে—সৎদ্বীনদারতাকওয়াবানবড় গুনাহ থেকে বিরতচরিত্রবান৩. স্মৃতিশক্তি হতে হবে অসাধারণরাবির মুখস্থশক্তি দুর্বল হলে অথবা বয়সের কারণে স্মৃতি নষ্ট হয়ে গেলে তাঁর বর্ণনা গ্রহণে অত্যন্ত সতর্কতা অবলম্বন করা হতো।৪. গোপন ত্রুটি (ইল্লত) মুক্ত হতে হবেকখনো কখনো একটি হাদিস বাহ্যিকভাবে সহিহ মনে হলেও গভীর গবেষণায় সূক্ষ্ম ত্রুটি ধরা পড়ত। ইমাম বুখারি (রহ.) এই ধরনের গোপন ত্রুটি শনাক্ত করার ক্ষেত্রে ছিলেন অসাধারণ পারদর্শী।৫. অন্য নির্ভরযোগ্য বর্ণনার বিরোধী হওয়া যাবে নাযদি কোনো বর্ণনা অধিক নির্ভরযোগ্য রাবিদের বর্ণনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতো, তবে তিনি তা গ্রহণ করতেন না।রাবিদের জীবন নিয়ে বিস্ময়কর গবেষণাইমাম বুখারি (রহ.) শুধু হাদিস শুনেই সন্তুষ্ট থাকতেন না। তিনি বর্ণনাকারীদের ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কেও গভীর অনুসন্ধান করতেন।একজন রাবির সম্পর্কে জানার জন্য তিনি কখনো শত শত কিলোমিটার পথ অতিক্রম করেছেন।ঐতিহাসিক সূত্রে একটি ঘটনা বর্ণিত হয়েছে—এক ব্যক্তি ঘোড়াকে খালি থলি দেখিয়ে কাছে ডাকছিলেন, যেন থলিতে খাবার আছে। ঘোড়া কাছে এলে কিছুই পেল না।ইমাম বুখারি (রহ.) এ দৃশ্য দেখে বলেন, যে ব্যক্তি একটি প্রাণীকেও প্রতারণা করতে পারে, তার কাছ থেকে আমি রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর হাদিস গ্রহণ করব না।যদিও এই ঘটনার বিভিন্ন বর্ণনা রয়েছে, তবুও এটি তাঁর সতর্কতার প্রতীক হিসেবে জীবনীগ্রন্থে সুপরিচিত।সহিহ বুখারি রচনায় ষোলো বছরের সাধনাইমাম বুখারি (রহ.) প্রায় ষোলো বছর ধরে সহিহ বুখারি সংকলনের কাজ করেন।তিনি বিভিন্ন শহরে অবস্থান করে হাদিস যাচাই করেন, সনদ মিলিয়ে দেখেন, রাবিদের জীবন অনুসন্ধান করেন এবং প্রতিটি অধ্যায় সুচিন্তিতভাবে সাজান।এই দীর্ঘ সময়ে তিনি অসংখ্য আলেমের সঙ্গে আলোচনা করেছেন এবং প্রাপ্ত তথ্য বারবার যাচাই করেছেন।প্রতিটি হাদিস লেখার আগে ইবাদতজীবনীকারদের মধ্যে প্রসিদ্ধ একটি বর্ণনায় এসেছে—ইমাম বুখারি (রহ.) সহিহ বুখারিতে কোনো হাদিস অন্তর্ভুক্ত করার আগে অজু করতেন, দুই রাকাত নফল সালাত আদায় করতেন এবং আল্লাহর কাছে ইস্তিখারা ও দোয়া করতেন।এ বিষয়টি হাদিসের অংশ নয়; বরং জীবনীগ্রন্থে উল্লেখিত একটি ঐতিহ্যগত বর্ণনা। তবে এটি তাঁর গভীর খোদাভীতি ও দায়িত্ববোধের পরিচয় বহন করে।সহিহ বুখারির অনন্য বৈশিষ্ট্যসহিহ বুখারি শুধু হাদিসের সংকলন নয়; এটি একাধারে—হাদিসগ্রন্থফিকহের উৎসআকিদার দলিলনৈতিক শিক্ষার ভাণ্ডারইসলামী সভ্যতার গবেষণাগ্রন্থএর অধ্যায়গুলো এমনভাবে সাজানো হয়েছে, যাতে একটি অধ্যায়ের শিরোনাম থেকেই অনেক সময় ইমাম বুখারির ফিকহি মতামত বোঝা যায়।এই বিশেষ পদ্ধতিকে আলেমরা "ফিকহুল বুখারি ফি তারাজিমিহি" নামে উল্লেখ করেছেন—অর্থাৎ, অধ্যায়ের শিরোনামেই ইমাম বুখারির ফিকহ ফুটে ওঠে।কেন এত পুনরাবৃত্তি?অনেক পাঠকের প্রশ্ন—সহিহ বুখারিতে একই হাদিস বারবার কেন এসেছে?এর উত্তর হলো, ইমাম বুখারি (রহ.) একই হাদিসকে বিভিন্ন অধ্যায়ে ভিন্ন ভিন্ন ফিকহি শিক্ষা প্রমাণের জন্য ব্যবহার করেছেন।একটি হাদিস থেকে যদি পাঁচটি ভিন্ন মাসআলার দলিল পাওয়া যায়, তবে তিনি প্রয়োজন অনুযায়ী সেটিকে বিভিন্ন অধ্যায়ে উল্লেখ করেছেন।এটি তাঁর সংকলনশৈলীর একটি বৈজ্ঞানিক বৈশিষ্ট্য।সমসাময়িক আলেমদের মূল্যায়নইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল (রহ.), আলী ইবনে আল-মাদিনী (রহ.), ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন (রহ.) এবং ইসহাক ইবনে রাহওয়াইহ (রহ.)-এর মতো শ্রেষ্ঠ মুহাদ্দিসরা তাঁর মেধা ও গবেষণার উচ্চ প্রশংসা করেছেন।বিশেষভাবে ইমাম মুসলিম (রহ.), যিনি পরবর্তীতে সহিহ মুসলিম সংকলন করেন, তিনি ইমাম বুখারিকে গভীর শ্রদ্ধা করতেন। ঐতিহাসিক সূত্রে বর্ণিত আছে, তিনি একবার ইমাম বুখারির কপালে চুম্বন করে বলেন—"হে উস্তাদদের উস্তাদ! আমাকে অনুমতি দিন, আমি আপনার পা চুম্বন করি।"এই উক্তির সনদ নিয়ে গবেষকদের মধ্যে আলোচনা থাকলেও এটি তাঁদের পারস্পরিক শ্রদ্ধার একটি প্রসিদ্ধ ঐতিহাসিক বর্ণনা হিসেবে উল্লেখিত।বিশ্বের সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য হাদিসগ্রন্থমুসলিম উম্মাহর সংখ্যাগরিষ্ঠ মুহাদ্দিস, ফকিহ ও আলেমের ঐকমত্য হলো—আল্লাহর কিতাব আল-কুরআনের পর সবচেয়ে বিশুদ্ধ গ্রন্থ হলো ‘সহিহ আল-বুখারি’।এই মর্যাদা কোনো আবেগের কারণে নয়; বরং শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে হাদিসবিশারদদের নিরবচ্ছিন্ন গবেষণা, সমালোচনা ও পর্যালোচনার মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।জনপ্রিয়তার মূল্য, নির্বাসনের বেদনা, শেষ জীবন ও চিরন্তন উত্তরাধিকার"জ্ঞানকে আমি কখনো শাসকের দরজায় নিয়ে যাব না; যে ইলম চায়, সে ইলমের মজলিসে আসবে।"— ইমাম মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল আল-বুখারি (রহ.)যেখানে যেতেন, সেখানেই ভিড় জমাতো জ্ঞানপিপাসুরাসহিহ বুখারির সংকলন শেষ হওয়ার আগেই ইমাম বুখারি (রহ.)-এর খ্যাতি সমগ্র মুসলিম বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছিল। তাঁর দরসে অংশ নেওয়ার জন্য মক্কা, মদিনা, বসরা, কুফা, বাগদাদ, নিশাপুর, মারভ ও সমরখন্দসহ বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ছাত্ররা ছুটে আসতেন।ইতিহাসবিদদের বর্ণনায় জানা যায়, তাঁর কোনো কোনো হাদিসের মজলিসে কয়েক হাজার শিক্ষার্থী উপস্থিত থাকতেন। তাঁদের মধ্যে অনেকে সরাসরি তাঁর কাছ থেকে হাদিস লিখতেন, আবার কেউ কেউ প্রথম সারির ছাত্রদের কাছ থেকে শুনে লিপিবদ্ধ করতেন।প্রখ্যাত মুহাদ্দিস ইমাম মুসলিম (রহ.), ইমাম তিরমিজি (রহ.), ইমাম নাসায়ি (রহ.)-সহ অসংখ্য আলেম তাঁর জ্ঞান, গবেষণা ও হাদিস বিশ্লেষণ থেকে উপকৃত হয়েছেন। যদিও ইমাম নাসায়ি (রহ.)-এর সঙ্গে প্রত্যক্ষ সাক্ষাৎ নিয়ে গবেষকদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে, তবে তাঁর প্রজন্ম ইমাম বুখারির গবেষণার দ্বারা গভীরভাবে প্রভাবিত হয়েছিল।নিশাপুরে অভূতপূর্ব অভ্যর্থনাহিজরি তৃতীয় শতাব্দীতে নিশাপুর ছিল ইসলামী জ্ঞানচর্চার অন্যতম প্রাণকেন্দ্র। ইমাম বুখারি (রহ.) যখন সেখানে পৌঁছান, তখন পুরো শহরে উৎসবের আবহ তৈরি হয়।ঐতিহাসিক সূত্রে বর্ণিত আছে, হাজার হাজার মানুষ শহরের বাইরে গিয়ে তাঁকে অভ্যর্থনা জানায়। অনেক আলেম তাঁর আগমনকে ইসলামী জ্ঞানচর্চার জন্য এক মহাসৌভাগ্য বলে আখ্যায়িত করেন।অল্পদিনের মধ্যেই তাঁর দরসে মানুষের ঢল নামে। জ্ঞান, স্মৃতিশক্তি ও হাদিস বিশ্লেষণের অসাধারণ দক্ষতা তাঁকে নিশাপুরের সবচেয়ে জনপ্রিয় মুহাদ্দিসে পরিণত করে।'লাফয বিল-কুরআন' বিতর্ক: একটি ভুল বোঝাবুঝির ইতিহাসইমাম বুখারির জীবনের সবচেয়ে আলোচিত ঘটনাগুলোর একটি ছিল তথাকথিত 'লাফয বিল-কুরআন' বিতর্ক।তিনি ব্যাখ্যা করেছিলেন—মানুষের কণ্ঠস্বর, উচ্চারণ ও কর্ম সৃষ্ট; কিন্তু আল্লাহর কালাম—আল-কুরআন—অসৃষ্ট (গায়রে মাখলুক)।এই সূক্ষ্ম বিষয়টি অনেকেই সঠিকভাবে বুঝতে পারেননি, আবার কেউ কেউ ইচ্ছাকৃতভাবেও ভুলভাবে প্রচার করেন।নিশাপুরের প্রখ্যাত আলেম মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া আয-যুহলি (রহ.)-এর সঙ্গে এই বিষয়কে কেন্দ্র করে মতভেদ সৃষ্টি হয়। ঐতিহাসিক সূত্রে দেখা যায়, এই মতভেদ শুধু আকিদাগত আলোচনার ফল ছিল না; বরং তৎকালীন সামাজিক, রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত প্রভাবও এতে ভূমিকা রেখেছিল।পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, আয-যুহলি ঘোষণা দেন—যারা ইমাম বুখারির কাছে যাবে, তারা তাঁর মজলিসে উপস্থিত হতে পারবে না।এই ঘটনায় অনেক ছাত্র ভীত হয়ে সরে গেলেও কিছু বিশ্বস্ত ছাত্র শেষ পর্যন্ত তাঁর সঙ্গ ত্যাগ করেননি। তাঁদের অন্যতম ছিলেন ইমাম মুসলিম (রহ.)। ইতিহাসে উল্লেখ আছে, তিনি প্রকাশ্যেই তাঁর শিক্ষক ইমাম বুখারির প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেন।বুখারায় প্রত্যাবর্তন এবং নতুন পরীক্ষানিশাপুর ত্যাগ করে ইমাম বুখারি (রহ.) নিজ জন্মভূমি বুখারায় ফিরে আসেন। কিন্তু সেখানেও তাঁর জন্য অপেক্ষা করছিল আরেক কঠিন পরীক্ষা।বুখারার গভর্নর খালিদ ইবনে আহমদ আয-যুহলি (কিছু ঐতিহাসিক সূত্রে নামের সামান্য ভিন্নতা পাওয়া যায়) তাঁর কাছে অনুরোধ পাঠান যে, তিনি যেন রাজপ্রাসাদে এসে গভর্নর ও তাঁর সন্তানদের ব্যক্তিগতভাবে সহিহ বুখারি ও অন্যান্য হাদিস পাঠ করান।ইলমের মর্যাদায় আপসহীন এক ইমামইমাম বুখারি (রহ.) গভর্নরের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি বলেন—"আমি জ্ঞানকে অপমান করতে পারি না। ইলমকে মানুষের ঘরে ঘরে নিয়ে বেড়ানো আমার কাজ নয়। যে ইলম চায়, সে সাধারণ মানুষের মতো মজলিসে এসে বসবে।"আরও একটি বর্ণনায় তাঁর বক্তব্য এভাবে এসেছে—"আমি ইলমকে সুলতানদের দরজায় নিয়ে যাব না। যদি আপনার সন্তানদের ইলমের প্রয়োজন হয়, তারা অন্য সবার মতো মজলিসে আসুক।"এই বক্তব্য ইসলামী জ্ঞানচর্চার ইতিহাসে স্বাধীন আলেমদের মর্যাদার এক অনন্য দলিল হয়ে আছে।নির্বাসনের বেদনাময় অধ্যায়গভর্নর তাঁর এই অবস্থান ভালোভাবে নেননি। পরিণতিতে ইমাম বুখারিকে বুখারা ত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়।নিজ জন্মভূমি, প্রিয় শহর, ছাত্র, বন্ধু—সবকিছু ছেড়ে তাঁকে চলে যেতে হয় সমরখন্দের নিকটবর্তী ছোট্ট গ্রাম খরতঙ্ক-এ।জীবনের শেষ অধ্যায়টি তিনি সেখানেই কাটিয়েছেন।শেষ রাতের দোয়ানির্বাসিত জীবনে শারীরিক ক্লান্তি, মানসিক বেদনা এবং দীর্ঘ সফরের পরিশ্রম তাঁর শরীরকে দুর্বল করে দেয়।জীবনীকারদের বর্ণনায় এসেছে, এক রাতে তাহাজ্জুদের সালাত শেষে তিনি অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে আল্লাহর কাছে দোয়া করেন—"হে আল্লাহ! এই বিশাল পৃথিবী আজ আমার জন্য সংকীর্ণ হয়ে গেছে। আপনি আমাকে আপনার সান্নিধ্যে নিয়ে নিন।"অল্প কিছুদিনের মধ্যেই তাঁর সেই দোয়া কবুল হয়।ইন্তিকাল২৫৬ হিজরির ৩০ রমজান (অনেক সূত্রে ঈদুল ফিতরের রাত) তিনি ইন্তিকাল করেন। তাঁর বয়স হয়েছিল প্রায় ৬২ বছর।তাঁর মৃত্যুর সংবাদ দ্রুত সমগ্র মুসলিম বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। অসংখ্য আলেম, ছাত্র ও সাধারণ মানুষ গভীর শোক প্রকাশ করেন।দাফন ও ঐতিহ্যগত বর্ণনাখরতঙ্ক গ্রামেই তাঁকে দাফন করা হয়।প্রাচীন জীবনীগ্রন্থে কয়েকটি ঘটনা বর্ণিত হয়েছে, যেমন—তাঁর কবর থেকে দীর্ঘ সময় সুগন্ধ ছড়িয়ে পড়া।অনেক মানুষ সেই সুগন্ধ অনুভব করেছেন বলে বর্ণনা করা।তাঁর বিরোধীদের কেউ কেউ পরে অনুতপ্ত হওয়ার কথা উল্লেখ করা।তবে গবেষণাগত সততার স্বার্থে উল্লেখ করা প্রয়োজন, এসব ঘটনা ঐতিহাসিক জীবনীগ্রন্থে বর্ণিত ঐতিহ্যগত বিবরণ। এগুলো সহিহ হাদিস নয় এবং সবগুলোর সনদ সমান শক্তিশালী নয়। তাই এগুলোকে অলৌকিক ঘটনা হিসেবে নিশ্চিতভাবে প্রতিষ্ঠিত না করে ঐতিহাসিক বর্ণনা হিসেবেই দেখা অধিক সতর্কতার পরিচায়ক।সহিহ বুখারি: এক হাজার বছরেরও বেশি সময়ের আস্থার প্রতীকইমাম বুখারি (রহ.) শুধু একটি গ্রন্থ রচনা করেননি; তিনি হাদিস যাচাইয়ের এমন এক বৈজ্ঞানিক মানদণ্ড প্রতিষ্ঠা করেছেন, যা আজও ইসলামী গবেষণার অন্যতম ভিত্তি।তাঁর গ্রন্থের ওপর শত শত ব্যাখ্যাগ্রন্থ রচিত হয়েছে। এর মধ্যে সর্বাধিক প্রসিদ্ধ—ফাতহুল বারি — হাফিজ ইবনে হাজার আল-আসকালানি (রহ.)উমদাতুল কারি — বদরুদ্দীন আইনি (রহ.)ইরশাদুস সারি — কাস্তাল্লানি (রহ.)আজ বিশ্বের অসংখ্য বিশ্ববিদ্যালয়, মাদরাসা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানে সহিহ বুখারি পাঠ্য হিসেবে অধ্যয়ন করা হয়।ইমাম বুখারির অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থঅনেকেই মনে করেন, তিনি শুধু সহিহ বুখারিই লিখেছেন। বাস্তবে তিনি ছিলেন অত্যন্ত বহুমুখী গবেষক। তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে—আত-তারীখুল কাবীরআত-তারীখুল আওসাতআত-তারীখুস সাগীরআল-আদাবুল মুফরাদখালকু আফ'আলিল ইবাদজুযউ রাফইল ইয়াদাইনআত-তাফসীরুল কাবীর (অসম্পূর্ণ)আদ-দু'আফাউস সাগীরএসব গ্রন্থ প্রমাণ করে, তিনি কেবল একজন মুহাদ্দিসই নন; বরং ইতিহাসবিদ, জীবনীকার, আকিদা-বিশারদ এবং গবেষণাপদ্ধতিরও এক অগ্রদূত ছিলেন।আজকের মুসলিম সমাজের জন্য শিক্ষাইমাম বুখারি (রহ.)-এর জীবন আমাদের শেখায়—সত্যের জন্য জনপ্রিয়তা বিসর্জন দেওয়া যায়।জ্ঞান কখনো ক্ষমতার কাছে নতজানু হয় না।গবেষণায় সততা আপসহীন হতে হবে।একজন মায়ের দোয়া সন্তানের ভাগ্য বদলে দিতে পারে।খ্যাতি নয়, আল্লাহর সন্তুষ্টিই একজন আলেমের প্রকৃত লক্ষ্য।উপসংহারসম্রাটদের প্রাসাদ ধ্বংস হয়েছে, সাম্রাজ্য বিলীন হয়েছে, কিন্তু একজন মুহাদ্দিসের কলমে সংরক্ষিত রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর বাণী আজও কোটি কোটি মানুষের ঈমান, ইবাদত ও জীবন পরিচালনার পথপ্রদর্শক।ইমাম মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল আল-বুখারি (রহ.)-এর জীবন আমাদের মনে করিয়ে দেয়—মানুষের প্রকৃত মর্যাদা সম্পদে নয়, ক্ষমতায় নয়; বরং সত্যের প্রতি নিষ্ঠা, জ্ঞানের প্রতি ভালোবাসা এবং আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলার সন্তুষ্টির জন্য নিবেদিত জীবনে।যতদিন পৃথিবীতে রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর সুন্নাহ অধ্যয়ন করা হবে, যতদিন সহিহ বুখারির পৃষ্ঠা উল্টে মানুষ সত্যের সন্ধান করবে, ততদিন ইতিহাসের আকাশে ইমাম বুখারি (রহ.)-এর নাম এক উজ্জ্বল নক্ষত্রের মতো জ্বলজ্বল করতে থাকবে।তথ্যসূত্র (নির্বাচিত):সিয়ার আ'লাম আন-নুবালা — ইমাম শামসুদ্দীন আয-যাহাবিহাদিউস সারি ও ফাতহুল বারি — হাফিজ ইবনে হাজার আল-আসকালানিতারীখ বাগদাদ — আল-খতীব আল-বাগদাদিতাযকিরাতুল হুফফায — ইমাম আয-যাহাবিআত-তারীখুল কাবীর — ইমাম আল-বুখারিমুকাদ্দিমা — ইবন খালদুন
ফিরোজ আল মামুন