ঢাকা    শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা    শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬
গণবার্তা
সর্বশেষ

খাগড়াছড়ির ভারত সীমান্তে ৫ বস্তায় মিলল পিস্তল, গুলি, মদ ও গাঁজা

খাগড়াছড়ি: খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা সীমান্তবর্তী এলাকায় অভিযান চালিয়ে একটি বিদেশি পিস্তল, পাঁচটি গুলি, ভারতীয় মদ, গাঁজা ও সিগারেট জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। তবে এ ঘটনায় কাউকে আটক করা যায়নি।শুক্রবার (২ অক্টোবর) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিজিবি ৩২ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. শাহারিয়ার রাজীব।এর আগে এদিন ভোরে মনোরমের টিলা টিওবি থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার পশ্চিমে জানমারাটিলা ডাউন এলাকা থেকে এসব মালামাল জব্দ করা হয়।এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিজিবি জানায়, বৃহস্পতিবার রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানমারাটিলা ডাউন এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় পাচারকারীরা টহলদলের উপস্থিতি টের পেয়ে মালামাল ফেলে পাহাড়ের গহীন জঙ্গলের দিকে পালিয়ে যায়।পরে শুক্রবার ভোরে ওই এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় পাঁচটি বস্তা উদ্ধার করা হয়। বস্তাগুলোয় একটি বিদেশি পিস্তল ও ম্যাগাজিন, পাঁচটি গুলি, বিভিন্ন ধরনের ভারতীয় মদ ৩১ বোতল, ৪ দশমিক ৩ কেজি গাঁজা এবং ভারতীয় মনো সিগারেট ৪৭ কার্টন পাওয়া যায়।বিজিবির ভাষ্য অনুযায়ী, জব্দ করা এসব মালামালের আনুমানিক মূল্য ২ লাখ ৬১ হাজার ২৫০ টাকা।বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ৩২ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. শাহারিয়ার রাজীবের নির্দেশনায় সহকারী পরিচালক মো. জাকিরুল ইসলামের নেতৃত্বে ব্যাটালিয়ন সদর থেকে একটি বিশেষ টহল দল এ অভিযান পরিচালনা করে।জব্দ করা মালামালের বিষয়ে পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলেও জানিয়েছে বিজিবি।
৪ ঘন্টা আগে

দুর্গাপূজায় সরকারি ছুটি বাড়ল, মোট পাঁচ দিন; শিক্ষার্থীদের টানা ১০ দিন

ঢাকা: হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা আসছে। এ উপলক্ষে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য ছুটি বাড়িয়েছে সরকার। আগামী ২২ অক্টোবর নির্বাহী আদেশে ছুটি ঘোষণা করায় এবারের দুর্গাপূজায় মোট পাঁচ দিনের ছুটি পাচ্ছে দেশের মানুষ।পাশাপাশি দুর্গাপূজা উপলক্ষে টানা ১০ দিনের ছুটি পাচ্ছে শিক্ষার্থীরা।শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একাডেমিক ক্যালেন্ডার ও মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের পৃথক বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ভেদে ছুটির মেয়াদে ভিন্নতা রয়েছে:মাধ্যমিক ও নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়: শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী সরকারি ছুটি ১৮ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত ৫ দিন। তবে এর আগে-পরে শুক্র ও শনিবার (১৬-১৭ অক্টোবর এবং ২৩-২৪ অক্টোবর) থাকায় এবং ২৫ অক্টোবর (রোববার) লক্ষ্মীপূজার ছুটি যুক্ত হলে মোট ১০ দিনের ছুটির (১৬ থেকে ২৫ অক্টোবর) সুবর্ণ সুযোগ পাচ্ছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।কলেজ ও উচ্চমাধ্যমিক স্তর: মাউশির কলেজ শাখার বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী ১৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত মোট ১০ দিনের ছুটি নির্ধারিত রয়েছে। তবে আগে-পরের দুটি সাপ্তাহিক ছুটি (১৬-১৭ ও ৩০-৩১ অক্টোবর) হিসাব করলে কলেজগুলোতে ছুটির ব্যাপ্তি দাঁড়াবে ১৬ দিন।মাদ্রাসার ছুটি: মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের তালিকা অনুযায়ী ইবতেদায়ি ও এমপিওভুক্ত মাদ্রাসায় আগামী ২০ অক্টোবর থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত মোট ৩ দিন ছুটি থাকবে।বিশ্ববিদ্যালয়সমূহ: বিশ্ববিদ্যালয়গুলো স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান হওয়ায় নিজস্ব একাডেমিক ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ছুটির সময়সূচি নির্ধারণ করবে।যারা পাবেন টানা ৭ দিনের ছুটি২২ অক্টোবরের নির্বাহী আদেশের ছুটির পাশাপাশি সনাতন ধর্মাবলম্বী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য থাকছে অতিরিক্ত ছুটির সুযোগ:ঐচ্ছিক ছুটি: ১৮ অক্টোবর (রোববার) মহাসপ্তমী ও ১৯ অক্টোবর (সোমবার) মহাষ্টমী উপলক্ষে তারা অতিরিক্ত ২ দিন ঐচ্ছিক ছুটি নিতে পারবেন।টানা ৭ দিন: ১৮ থেকে ২২ অক্টোবর সরকারি ও ঐচ্ছিক ছুটির পর ২৩ ও ২৪ অক্টোবর (শুক্রবার ও শনিবার) সাপ্তাহিক ছুটি যুক্ত হলে মোট টানা ৭ দিনের ছুটি (১৮ থেকে ২৪ অক্টোবর) উপভোগ করতে পারবেন সনাতন ধর্মাবলম্বী কর্মচারীরা।ছুটি পাবেন না যারা—আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও জরুরি সেবাদুর্গাপূজার নির্ধারিত সরকারি ছুটির দিনগুলোতে দেশের সব ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে। তবে গ্রাহকদের সুবিধার্থে এটিএম, অনলাইন ব্যাংকিং ও এটিএম সেবা সচল থাকবে।অন্যদিকে হাসপাতাল, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি সরবরাহ ও গণমাধ্যমের মতো জরুরি সেবার সঙ্গে যুক্ত কর্মীরা এই সাধারণ ছুটির আওতায় থাকবেন না; জনস্বার্থে তাদের দায়িত্ব পালন করতে হবে।
৫ ঘন্টা আগে

নূহের নৌকার সন্ধানে তুরস্কে নতুন বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান শুরু

আঙ্কারা: তুরস্কের পূর্বাঞ্চলীয় আগরি প্রদেশের দোগুবায়াজিত এলাকায় ধর্মীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘নূহের নৌকা’র সন্ধানে নতুন করে বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান শুরু হয়েছে। ‘দুরুপিনার ফরমেশন’ নামে পরিচিত নৌকার আকৃতির ভূতাত্ত্বিক গঠনটিকে ঘিরে কয়েক দশকের রহস্যের মধ্যে এবার ভূগর্ভস্থ কাঠামো শনাক্ত করতে রাডার স্ক্যান, মাটির নমুনা সংগ্রহ ও কোর ড্রিলিংয়ের মতো পদ্ধতি ব্যবহার করছেন গবেষকেরা।তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আনাদোলু ও দেশটির সংবাদমাধ্যম ডেইলি সাবাহর প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।গবেষণায় তুরস্কের সিভাস জুমহুরিয়েত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. জানকার আতিলার নেতৃত্বে একটি দল কাজ করছে। তাদের সঙ্গে রয়েছেন মার্কিন গবেষক অ্যান্ড্রু জোন্স। এ অনুসন্ধানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত তিনটি তথ্যচিত্র নির্মাতা দলও এলাকায় কাজ করছে। এর মধ্যে আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত অভিযাত্রী ও টেলিভিশন উপস্থাপক বিয়ার গ্রিলসের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি দলও রয়েছে।গবেষকেরা প্রথমে দুরুপিনার ফরমেশনের বিভিন্ন পয়েন্টের জিপিএস অবস্থান নির্ধারণ করেন। এরপর ওই এলাকার দ্বিমাত্রিক ও ত্রিমাত্রিক মানচিত্র এবং অরথোফটো ম্যাপ তৈরি করা হয়। পরে ভূগর্ভস্থ কাঠামো শনাক্ত করতে বিশেষায়িত রাডার দিয়ে জরিপ চালানো হয়।অধ্যাপক জানকার আতিলার ভাষ্য, রাডার জরিপে ভূগর্ভে কয়েকটি ফাঁপা বা শূন্যস্থান শনাক্ত হয়েছে। এর কিছু সম্ভাব্য করিডর বা কক্ষের মতো দেখতে। এসব জায়গাকে কেন্দ্র করে এখন ড্রিলিং ও মাটির নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে।মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘নোয়া’স আর্ক স্ক্যানস’ নামের অভিযানে গবেষকেরা একটি সম্ভাব্য করিডরের সন্ধান পেয়েছেন, যার দৈর্ঘ্য ২৫০ ফুটের বেশি হতে পারে। পরবর্তী ধাপে সরু কোর ড্রিল করে ভূগর্ভস্থ এসব স্থানে ‘গোফার’ নামের একটি বিশেষ রোবট পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে। রোবটটি উচ্চ রেজ্যুলেশনের ভিডিও ধারণের পাশাপাশি মাটির নমুনা সংগ্রহ করতে পারবে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।তবে এসব ভূগর্ভস্থ কাঠামো যে নূহের নৌকার অংশ, তার কোনো প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি। আনাদোলুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গবেষণায় এখন পর্যন্ত নৌকার আকৃতির ওই ভূতাত্ত্বিক গঠনের মধ্যে নূহের নৌকার ভগ্নাবশেষ থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়নি।মাটির রাসায়নিক বৈশিষ্ট্যেও পার্থক্যচলমান গবেষণার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো মাটির রাসায়নিক বিশ্লেষণ। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজের প্রতিবেদনে গবেষক অ্যান্ড্রু জোন্সের বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, দুরুপিনার ফরমেশনের ভেতরের ও বাইরের মাটির মধ্যে জৈব পদার্থের পরিমাণ ও রাসায়নিক বৈশিষ্ট্যে পার্থক্য পাওয়া গেছে।জোন্সের দাবি, ফরমেশনের ভেতরের মাটিতে বাইরের তুলনায় প্রায় তিন গুণ বেশি জৈব পদার্থ পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে ভেতরের মাটিতে পটাশিয়ামের পরিমাণ ৩৮ শতাংশ বেশি এবং পিএইচ মাত্রায় প্রায় আট গুণ পার্থক্য পাওয়া গেছে বলেও তিনি জানান।গবেষকের ব্যাখ্যা, দীর্ঘ সময় ধরে কোনো বদ্ধ পরিবেশে জৈব পদার্থের ক্ষয় হলে মাটির রাসায়নিক বৈশিষ্ট্যে এ ধরনের পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। তবে এসব তথ্যকে নূহের নৌকার অস্তিত্বের চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়নি। আরও পরীক্ষা ও নমুনা বিশ্লেষণের প্রয়োজন রয়েছে বলে গবেষকেরা জানিয়েছেন।১৯৫৯ সালে শনাক্ত হয় দুরুপিনার ফরমেশনদুরুপিনার ফরমেশনটি তুরস্কের দোগুবায়াজিত জেলার তেলচেক গ্রামের কাছে এবং আরারাত পর্বতের কাছাকাছি অবস্থিত। ১৯৫৯ সালে তুরস্কের সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন ও মানচিত্রবিদ ইলহান দুরুপিনার আকাশ থেকে তোলা ছবি বিশ্লেষণের সময় অস্বাভাবিক আকৃতির এই ভূতাত্ত্বিক গঠন শনাক্ত করেন।এরপর থেকেই জায়গাটি নূহের নৌকার সম্ভাব্য অবস্থান হিসেবে আলোচনায় আসে। স্থানীয় পর্যায়ে বিভিন্ন সময়ে জরিপ, খনন ও অন্যান্য অনুসন্ধান চালানো হলেও নূহের নৌকার অস্তিত্বের পক্ষে কোনো প্রত্নতাত্ত্বিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি।বিজ্ঞানীদের একটি অংশ দীর্ঘদিন ধরে দুরুপিনার ফরমেশনকে প্রাকৃতিক ভূতাত্ত্বিক কাঠামো হিসেবে বিবেচনা করে আসছেন। ১৯৯৬ সালে প্রকাশিত একটি গবেষণাপত্রেও এটিকে নূহের নৌকার অংশ নয়, বরং প্রাকৃতিক ভূতাত্ত্বিক গঠন হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছিল বলে নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।আধুনিক ভূতাত্ত্বিকদের একটি অংশের মতে, চুনাপাথর ও আগ্নেয় কাদামাটির সমন্বয়ে গঠিত এই কাঠামো ক্ষয়প্রক্রিয়ার কারণে নৌকার মতো আকৃতি পেয়েছে।এর আগে মার্কিন উদ্ধারকারী বিশেষজ্ঞ ডেভিড ফ্যাসোল্ডও গ্রাউন্ড-পেনিট্রেটিং রাডার ব্যবহার করে এলাকাটি পরীক্ষা করেছিলেন। একসময় তিনি এটিকে প্রাচীন জাহাজের জীবাশ্মীভূত অবশিষ্টাংশ বলে মনে করেছিলেন। তার পরিমাপ অনুযায়ী, ফরমেশনটির দৈর্ঘ্য প্রায় ১৬৪ মিটার—যা বাইবেলে বর্ণিত নূহের নৌকার প্রায় ১৫৭ মিটার দৈর্ঘ্যের কাছাকাছি। তবে পরে ফ্যাসোল্ড নিজেই নূহের নৌকা-সংক্রান্ত ওই তত্ত্ব থেকে সরে এসেছিলেন বলে নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে জানানো হয়।ফরমেশনের আশপাশে পাওয়া কয়েকটি বড় পাথর নিয়েও নূহের নৌকার তত্ত্বের সমর্থকেরা দাবি করেছেন, এগুলো প্রাচীন জাহাজের নোঙর হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিল। তবে সংশয়বাদীরা এগুলোকে স্মৃতিচিহ্ন বা সমাধিফলক হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন।এ ছাড়া ২০১৯ সালে করা ত্রিমাত্রিক গ্রাউন্ড-পেনিট্রেটিং রাডার স্ক্যানেও মাটির ঢিবিটির নিচে অস্বাভাবিক কাঠামোর ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছিল বলে ফক্স নিউজের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বর্তমান গবেষকেরা আগের এসব তথ্যের ওপরও কাজ করছেন।আরও দুই বছর চলতে পারে অনুসন্ধানগবেষকেরা জানিয়েছেন, বর্তমানে সংগৃহীত মাটির নমুনাগুলো শীতকালজুড়ে পরীক্ষা করা হবে। কয়েক মাসের মধ্যে এসব পরীক্ষার ফল পাওয়া যেতে পারে। এরপর গবেষণার ফলাফল নিয়ে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।শীতকালে পাহাড়ি এলাকায় গবেষণা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে চলমান অনুসন্ধানের একটি অংশ আগামী বছর পর্যন্ত গড়াতে পারে। গবেষণা দলটি আগামী বছর এবং তার পরের বছরও অনুসন্ধান চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছে।ইহুদি, খ্রিষ্টান ও মুসলিম—তিন ধর্মের বিশ্বাসেই নূহের নৌকা গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। ফলে দুরুপিনার ফরমেশনটি সত্যিই নূহের নৌকার ধ্বংসাবশেষের সঙ্গে সম্পর্কিত কি না, তা প্রমাণিত হলে এলাকাটি আন্তর্জাতিকভাবে ধর্মীয় ও পর্যটন আগ্রহের কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে।তবে গবেষণার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা এখনো এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত দাবি করছেন না। ‘নোয়া’স আর্ক স্ক্যানস’-এর সঙ্গে যুক্ত লরেন উইটজকে জানিয়েছেন, তাদের লক্ষ্য হলো বৈজ্ঞানিকভাবে নির্ধারণ করা—দুরুপিনার ফরমেশনটি নূহের নৌকার ধ্বংসাবশেষ কি না।
৫ ঘন্টা আগে
কোরিয়ার সঙ্গে অর্থনৈতিক ও প্রতিরক্ষা সম্পর্ক গড়তে চায় বাংলাদেশ

কোরিয়ার সঙ্গে অর্থনৈতিক ও প্রতিরক্ষা সম্পর্ক গড়তে চায় বাংলাদেশ

সিউল: দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে অর্থনৈতিক ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ। দ্রুত অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি স্বাক্ষর, বৃহত্তর বিনিয়োগ এবং বর্ধিত প্রশিক্ষণের সুযোগ তৈরির ওপর জোর দিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির দক্ষিণ কোরিয়ার প্রথম উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী পার্ক ইউন-জু এবং জাতীয় প্রতিরক্ষা উপমন্ত্রী লি ডু-হিরের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেছেন।পার্ক ইউন-জুর সঙ্গে বৈঠকে প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ংকে পারস্পরিক সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের একটি আমন্ত্রণপত্র হস্তান্তর করেন।তিনি দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও গভীর করতে কোরীয় সরকারের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করার বিষয়ে বাংলাদেশের প্রস্তুতির কথা জানান এবং বাংলাদেশ-কোরিয়া কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ এগ্রিমেন্ট (সিইপিএ) স্বাক্ষরের অগ্রগতির প্রশংসা করে এটি দ্রুত সই হওয়ার আশা প্রকাশ করেন।প্রতিমন্ত্রী দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বৃদ্ধি, বাংলাদেশি পণ্যের জন্য বৃহত্তর বাজার প্রবেশাধিকার এবং সেমিকন্ডাক্টর, ইলেকট্রনিক্স, জাহাজ নির্মাণ, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, হাই-অ্যান্ড তৈরি পোশাক, আইসিটি ও অন্যান্য প্রযুক্তিনির্ভর খাতে কোরীয় বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানান।তিনি কৃষি, কৃষি-প্রক্রিয়াজাতকরণ, লজিস্টিকস, ডিজিটাল রূপান্তর, দক্ষতা উন্নয়ন এবং সেবামূলক খাতেও বিভিন্ন সুযোগের কথা তুলে ধরেন। এমপ্লয়মেন্ট পারমিট সিস্টেমের (ইপিএস) মাধ্যমে বাংলাদেশি দক্ষ ও অর্ধদক্ষ কর্মীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ আরও প্রসারিত করতে কোরিয়ার সহযোগিতা কামনা করেন হুমায়ুন কবির।কোরিয়ার উন্নয়ন অংশীদারিত্বের প্রশংসা করে তিনি জলবায়ু সহনশীলতা, অবকাঠামো, মানবসম্পদ উন্নয়ন, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা এবং ডিজিটাল প্রযুক্তিতে সহযোগিতা বৃদ্ধির আহ্বান জানান। কোরিয়ার বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত নেতৃত্বে রূপান্তরের প্রশংসা করে তিনি বলেন, দেশটির উন্নয়নের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশকে অনুপ্রাণিত করে চলেছে।প্রতিমন্ত্রী নিয়মিত পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের বৈঠক (এফওসি) এবং অন্যান্য উচ্চপর্যায়ের বিনিময়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং কোরীয় উপদ্বীপে শান্তি ও স্থিতিশীলতার প্রতি বাংলাদেশের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তার জন্য কোরিয়াকে ধন্যবাদ জানান এবং মিয়ানমারে তাদের দ্রুত ও টেকসই প্রত্যাবাসনে অব্যাহত সহযোগিতা কামনা করেন।বৈঠকে দুই পক্ষ আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় করে এবং বহুপক্ষীয় ফোরামে সহযোগিতার গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করে।প্রতিরক্ষা উপমন্ত্রী লি ডু-হিরের সঙ্গে পৃথক বৈঠকে প্রশিক্ষণ, সক্ষমতা বৃদ্ধি, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী কার্যক্রম এবং প্রতিরক্ষা শিল্প সহযোগিতার মাধ্যমে দ্বিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা সম্পর্ক জোরদার করার ওপর আলোচনা কেন্দ্রীভূত ছিল।বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী, পুলিশ ও সিভিল ডিফেন্সের সদস্যদের প্রশিক্ষণ প্রদানে কোরিয়ার সহায়তার প্রশংসা করে হুমায়ুন কবির বিশেষায়িত প্রশিক্ষণের সুযোগ আরও বাড়ানোর অনুরোধ জানান। তিনি বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী কর্তৃক প্রদত্ত বিশেষায়িত কোর্সগুলোতে অংশগ্রহণের জন্য কোরিয়ার সামরিক কর্মীদের পাঠানোরও আহ্বান জানান।প্রতিমন্ত্রী কোরীয় পক্ষকে জানান যে, বাংলাদেশ একটি প্রতিরক্ষা শিল্পাঞ্চল প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে এবং প্রযুক্তি ও শিল্প সহযোগিতা এগিয়ে নিতে কোরীয় বিনিয়োগের সুযোগ অন্বেষণের আমন্ত্রণ জানান।কোরীয় পক্ষ বাংলাদেশের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সম্পর্ক জোরদারের আগ্রহকে স্বাগত জানায় এবং প্রশিক্ষণ, সক্ষমতা বৃদ্ধি ও শান্তিরক্ষী কার্যক্রমসহ পারস্পরিক সম্মত ক্ষেত্রগুলোতে বৃহত্তর সহযোগিতা অন্বেষণের জন্য তাদের প্রস্তুত থাকার কথাও উল্লেখ করে।
৪ ঘন্টা আগে
দুর্গাপূজায় সরকারি ছুটি বাড়ল, মোট পাঁচ দিন; শিক্ষার্থীদের টানা ১০ দিন

দুর্গাপূজায় সরকারি ছুটি বাড়ল, মোট পাঁচ দিন; শিক্ষার্থীদের টানা ১০ দিন

ঢাকা: হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা আসছে। এ উপলক্ষে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য ছুটি বাড়িয়েছে সরকার। আগামী ২২ অক্টোবর নির্বাহী আদেশে ছুটি ঘোষণা করায় এবারের দুর্গাপূজায় মোট পাঁচ দিনের ছুটি পাচ্ছে দেশের মানুষ।পাশাপাশি দুর্গাপূজা উপলক্ষে টানা ১০ দিনের ছুটি পাচ্ছে শিক্ষার্থীরা।শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একাডেমিক ক্যালেন্ডার ও মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের পৃথক বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ভেদে ছুটির মেয়াদে ভিন্নতা রয়েছে:মাধ্যমিক ও নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়: শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী সরকারি ছুটি ১৮ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত ৫ দিন। তবে এর আগে-পরে শুক্র ও শনিবার (১৬-১৭ অক্টোবর এবং ২৩-২৪ অক্টোবর) থাকায় এবং ২৫ অক্টোবর (রোববার) লক্ষ্মীপূজার ছুটি যুক্ত হলে মোট ১০ দিনের ছুটির (১৬ থেকে ২৫ অক্টোবর) সুবর্ণ সুযোগ পাচ্ছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।কলেজ ও উচ্চমাধ্যমিক স্তর: মাউশির কলেজ শাখার বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী ১৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত মোট ১০ দিনের ছুটি নির্ধারিত রয়েছে। তবে আগে-পরের দুটি সাপ্তাহিক ছুটি (১৬-১৭ ও ৩০-৩১ অক্টোবর) হিসাব করলে কলেজগুলোতে ছুটির ব্যাপ্তি দাঁড়াবে ১৬ দিন।মাদ্রাসার ছুটি: মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের তালিকা অনুযায়ী ইবতেদায়ি ও এমপিওভুক্ত মাদ্রাসায় আগামী ২০ অক্টোবর থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত মোট ৩ দিন ছুটি থাকবে।বিশ্ববিদ্যালয়সমূহ: বিশ্ববিদ্যালয়গুলো স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান হওয়ায় নিজস্ব একাডেমিক ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ছুটির সময়সূচি নির্ধারণ করবে।যারা পাবেন টানা ৭ দিনের ছুটি২২ অক্টোবরের নির্বাহী আদেশের ছুটির পাশাপাশি সনাতন ধর্মাবলম্বী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য থাকছে অতিরিক্ত ছুটির সুযোগ:ঐচ্ছিক ছুটি: ১৮ অক্টোবর (রোববার) মহাসপ্তমী ও ১৯ অক্টোবর (সোমবার) মহাষ্টমী উপলক্ষে তারা অতিরিক্ত ২ দিন ঐচ্ছিক ছুটি নিতে পারবেন।টানা ৭ দিন: ১৮ থেকে ২২ অক্টোবর সরকারি ও ঐচ্ছিক ছুটির পর ২৩ ও ২৪ অক্টোবর (শুক্রবার ও শনিবার) সাপ্তাহিক ছুটি যুক্ত হলে মোট টানা ৭ দিনের ছুটি (১৮ থেকে ২৪ অক্টোবর) উপভোগ করতে পারবেন সনাতন ধর্মাবলম্বী কর্মচারীরা।ছুটি পাবেন না যারা—আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও জরুরি সেবাদুর্গাপূজার নির্ধারিত সরকারি ছুটির দিনগুলোতে দেশের সব ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে। তবে গ্রাহকদের সুবিধার্থে এটিএম, অনলাইন ব্যাংকিং ও এটিএম সেবা সচল থাকবে।অন্যদিকে হাসপাতাল, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি সরবরাহ ও গণমাধ্যমের মতো জরুরি সেবার সঙ্গে যুক্ত কর্মীরা এই সাধারণ ছুটির আওতায় থাকবেন না; জনস্বার্থে তাদের দায়িত্ব পালন করতে হবে।
৫ ঘন্টা আগে
খাগড়াছড়ির ভারত সীমান্তে ৫ বস্তায় মিলল পিস্তল, গুলি, মদ ও গাঁজা

খাগড়াছড়ির ভারত সীমান্তে ৫ বস্তায় মিলল পিস্তল, গুলি, মদ ও গাঁজা

খাগড়াছড়ি: খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা সীমান্তবর্তী এলাকায় অভিযান চালিয়ে একটি বিদেশি পিস্তল, পাঁচটি গুলি, ভারতীয় মদ, গাঁজা ও সিগারেট জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। তবে এ ঘটনায় কাউকে আটক করা যায়নি।শুক্রবার (২ অক্টোবর) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিজিবি ৩২ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. শাহারিয়ার রাজীব।এর আগে এদিন ভোরে মনোরমের টিলা টিওবি থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার পশ্চিমে জানমারাটিলা ডাউন এলাকা থেকে এসব মালামাল জব্দ করা হয়।এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিজিবি জানায়, বৃহস্পতিবার রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানমারাটিলা ডাউন এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় পাচারকারীরা টহলদলের উপস্থিতি টের পেয়ে মালামাল ফেলে পাহাড়ের গহীন জঙ্গলের দিকে পালিয়ে যায়।পরে শুক্রবার ভোরে ওই এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় পাঁচটি বস্তা উদ্ধার করা হয়। বস্তাগুলোয় একটি বিদেশি পিস্তল ও ম্যাগাজিন, পাঁচটি গুলি, বিভিন্ন ধরনের ভারতীয় মদ ৩১ বোতল, ৪ দশমিক ৩ কেজি গাঁজা এবং ভারতীয় মনো সিগারেট ৪৭ কার্টন পাওয়া যায়।বিজিবির ভাষ্য অনুযায়ী, জব্দ করা এসব মালামালের আনুমানিক মূল্য ২ লাখ ৬১ হাজার ২৫০ টাকা।বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ৩২ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. শাহারিয়ার রাজীবের নির্দেশনায় সহকারী পরিচালক মো. জাকিরুল ইসলামের নেতৃত্বে ব্যাটালিয়ন সদর থেকে একটি বিশেষ টহল দল এ অভিযান পরিচালনা করে।জব্দ করা মালামালের বিষয়ে পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলেও জানিয়েছে বিজিবি।
৪ ঘন্টা আগে
১৫ এপ্রিল ২০২৬, ১২:১১ এএম
আপনি কি মনে করেন বিএনপি জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর ও শব্দ বাস্তবায়ন করবে?

আপনি কি মনে করেন বিএনপি জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর ও শব্দ বাস্তবায়ন করবে?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ ৩ জন
ভারত-বাংলাদেশ যৌথ আয়ুর্বেদ গবেষণা কেন্দ্র গড়ার প্রস্তাব ভারতীয় হাইকমিশনারের

ভারত-বাংলাদেশ যৌথ আয়ুর্বেদ গবেষণা কেন্দ্র গড়ার প্রস্তাব ভারতীয় হাইকমিশনারের

ঢাকা: আয়ুর্বেদিক চিকিৎসার একাডেমিক ও পেশাগত জ্ঞান বিনিময়ের জন্য ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে যৌথ গবেষণা কেন্দ্র গড়ে তোলার প্রস্তাব দিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। বুধবার ঢাকায় ইন্দিরা গান্ধী সাংস্কৃতিক কেন্দ্র (আইজিসিসি) আয়োজিত একাদশ আয়ুর্বেদ দিবস পালন অনুষ্ঠানে তিনি এ প্রস্তাব দেন। বৃহস্পতিবার ভারতীয় হাইকমিশনের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বক্তৃতায় সামগ্রিক সুস্থতা ও প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবার প্রসারে চিরায়ত জ্ঞান ব্যবস্থার স্থায়ী প্রাসঙ্গিকতার কথা তুলে ধরেন হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। ভারত-বাংলাদেশ যৌথ আয়ুর্বেদ গবেষণা কেন্দ্র গড়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ আরও বেশি একাডেমিক ও পেশাদার জ্ঞান বিনিময়ের পথ তৈরি করতে পারে। যার ফলশ্রুতিতে ভারত ও বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে থাকা দীর্ঘমেয়াদি বন্ধন আরও জোরদার হবে।অনুষ্ঠানে আইজিসিসি পরিচালক অ্যান মেরি জর্জ আয়ুর্বেদ দিবসের এ বছরের প্রতিপাদ্য ‘সুস্থ আগামীর জন্য আয়ুর্বেদ’ এর ওপর আলোকপাত করেন। আয়ুর্বেদ, যোগ ও প্রাকৃতিক চিকিৎসা (ন্যাচারোপ্যাথি), ইউনানি, সিদ্ধ এবং হোমিওপ্যাথি পদ্ধতির প্রসারে ভারতের আয়ুষ মন্ত্রণালয়ের ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন তিনি।অনুষ্ঠানে অতিথিদের মধ্যে ছিলেন সরকারি আয়ুর্বেদিক ও ইউনানি কলেজের অধ্যক্ষ রশিদুজ্জামান খান, প্রাচী (পিআরএসিএইচআই) সদস্যদের প্রতিনিধি ড. মুখলেসুর রহমান, নূর-মজিদ আয়ুর্বেদিক কলেজের অধ্যক্ষ ড. মোহাম্মদ মামুন মিয়া এবং নারায়ণগঞ্জ আর্টস কলেজের অধ্যক্ষ শামসুল আলম আজাদ।একাডেমিক সেশনে নূর-মজিদ আয়ুর্বেদিক কলেজের সহকারী অধ্যাপক ড. জাকির হোসেন, হামদর্দ বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়ুর্বেদ চিকিৎসা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. বাবুল আক্তার এবং নূর-মজিদ আয়ুর্বেদিক কলেজের অধ্যক্ষ ড. মোহাম্মদ মামুন মিয়া একটি কর্মশালা পরিচালনা করেন।অনুষ্ঠানে ছিল সাংস্কৃতিক পরিবেশনাও। বাংলাদেশি শিল্পী শাহিন সোবহানা সুরভীর তৈরি পশমের ‘গণপতি ট্যাপেস্ট্রির’ প্রতীকী উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে সাংস্কৃতিক আয়োজনের সূচনা হয়। এ পর্বে সংগীত পরিবেশন করেন প্রখ্যাত শাস্ত্রীয় ও বাংলা খেয়ালশিল্পী রঞ্জন চন্দ্র সরকার। পরিবেশনা শেষে শিল্পীকে সম্মাননা প্রদান এবং অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে সনদ বিতরণের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয়।
২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বাংলা কিউআর লেনদেনে নতুন প্রণোদনা, ২ হাজার টাকা পর্যন্ত সর্বোচ্চ ৬ টাকা

বাংলা কিউআর লেনদেনে নতুন প্রণোদনা, ২ হাজার টাকা পর্যন্ত সর্বোচ্চ ৬ টাকা

ঢাকা: বাংলা কিউআর কোডের মাধ্যমে লেনদেন বাড়াতে নতুন প্রণোদনা চালু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত প্রতিটি বাংলা কিউআরভিত্তিক লেনদেনের বিপরীতে সংশ্লিষ্ট দুটি প্রতিষ্ঠানকে সর্বোচ্চ ৬ টাকা প্রণোদনা দেওয়া হবে। এর মধ্যে অ্যাকুয়ারিং প্রতিষ্ঠান পাবে সর্বোচ্চ ২ টাকা এবং ইস্যুয়িং প্রতিষ্ঠান পাবে সর্বোচ্চ ৪ টাকা। এই প্রণোদনার অর্থ সরাসরি গ্রাহক বা বিক্রেতাকে দেওয়া হবে না।রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস ডিপার্টমেন্ট-২ এ-সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করেছে। এতে দেশে কার্যরত সব তফসিলি ব্যাংক, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) প্রদানকারী, পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডার (পিএসপি), পেমেন্ট সিস্টেম অপারেটর (পিএসও) এবং আন্তর্জাতিক পেমেন্ট স্কিমগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, ২ হাজার টাকা পর্যন্ত প্রতিটি বাংলা কিউআর কোডভিত্তিক এনপিএসবি লেনদেনের বিপরীতে মাসিক ভিত্তিতে এই প্রণোদনা দেওয়া হবে। ২ হাজার টাকার লেনদেনে অ্যাকুয়ারিং প্রতিষ্ঠান পাবে ০.১০ শতাংশ হিসেবে ২ টাকা এবং ইস্যুয়িং প্রতিষ্ঠান পাবে ০.২০ শতাংশ হিসেবে ৪ টাকা।একইভাবে, ১ হাজার টাকার লেনদেনে অ্যাকুয়ারিং প্রতিষ্ঠান পাবে ১ টাকা এবং ইস্যুয়িং প্রতিষ্ঠান পাবে ২ টাকা। অর্থাৎ ২ হাজার টাকা পর্যন্ত লেনদেনের ক্ষেত্রে নির্ধারিত হারে প্রণোদনা দেওয়া হবে, তবে অ্যাকুয়ারিং প্রতিষ্ঠানের জন্য সর্বোচ্চ সীমা ২ টাকা এবং ইস্যুয়িং প্রতিষ্ঠানের জন্য ৪ টাকা।বাংলাদেশ ব্যাংকের এই প্রণোদনার আওতায় থাকছে ব্যক্তিক রিটেইল হিসাবের মাধ্যমে অনবোর্ড করা ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক বিক্রেতা এবং সেবা প্রদানকারী মার্চেন্ট পয়েন্ট। পাশাপাশি ট্রেড লাইসেন্সধারী অন্যান্য সব মার্চেন্ট পয়েন্টে সম্পন্ন হওয়া বাংলা কিউআর কোডভিত্তিক এনপিএসবি লেনদেনও এ সুবিধার আওতায় আসবে।এর আগে গত ১০ আগস্ট জারি করা পিএসডি-২ সার্কুলার লেটারের অনুচ্ছেদ ২-এ বাংলা কিউআর লেনদেনের জন্য প্রণোদনার বিধান করা হয়েছিল। নতুন সার্কুলারের মাধ্যমে ওই অনুচ্ছেদটি প্রতিস্থাপন করে প্রণোদনার আওতা আরও বাড়ানো হয়েছে।ফলে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক বিক্রেতা এবং সেবা প্রদানকারীদের পাশাপাশি ট্রেড লাইসেন্সধারী অন্যান্য মার্চেন্ট পয়েন্টেও বাংলা কিউআরভিত্তিক লেনদেনের ক্ষেত্রে এই প্রণোদনা কার্যকর হবে।
২৬ জুলাই ২০২৬
চারটি ডিজিটাল ব্যাংক স্থাপনে প্রাথমিক অনুমোদন দিল বাংলাদেশ ব্যাংক

চারটি ডিজিটাল ব্যাংক স্থাপনে প্রাথমিক অনুমোদন দিল বাংলাদেশ ব্যাংক

২৬ জুলাই ২০২৬
৬৫ বছরের পরিচ্ছন্নতাকর্মীর এআই দিয়ে ২৯ বছরের ডাক্তার সেজে প্রতারণা

৬৫ বছরের পরিচ্ছন্নতাকর্মীর এআই দিয়ে ২৯ বছরের ডাক্তার সেজে প্রতারণা

সাংহাই: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে এক ব্যবসায়ীর সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে ৬৫ বছর বয়সী এক চীনা নারীর বিরুদ্ধে। জানা যায়, এআই ব্যবহার করে তৈরি ভিডিও এবং ছবি দিয়ে এক ব্যবসায়ীর কাছে নিজেকে ২৯ বছর বয়সী ডাক্তার হিসেবে উপস্থাপন করেন ওই নারী। আদতে তিনি একজন হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতাকর্মী। এভাবে পাঁচ মাসে প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার ইউয়ান হাতিয়ে নেন তিনি।পুলিশ জানিয়েছে, ৬৫ বছর বয়সী ওই নারীর নাম ইউ শিউঝেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভুয়া পরিচয় তৈরি করেছিলেন। এরপর ফেস চেঞ্জিং ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে নিজেকে সাংহাইয়ের একটি বড় হাসপাতালের চিকিৎসক হিসেবে উপস্থাপন করতেন।প্রায় পাঁচ বছর ধরে ইউ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় ৭ হাজার এআই নির্মিত ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করেন। তার ফলোয়ার সংখ্যা প্রায় ১০ হাজার।সাংহাইভিত্তিক একজন নির্মাণ ঠিকাদার লিউ হুই ২০২১ সালে তার ভুয়া অ্যাকাউন্টটি দেখতে পান। ইউ তাকে জানান যে, হাসপাতালে তার পদমর্যাদার কারণে তিনি বড় নির্মাণকাজের চুক্তি পাইয়ে দিতে সাহায্য করতে পারবেন।ব্যবসায়িক সুবিধা পাওয়ার আশায় লিউ ইউয়ের সঙ্গে অনলাইনে যোগাযোগ বাড়াতে থাকেন। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তবে লিউ বারবার দেখা করা বা ভিডিও কলে কথা বলার অনুরোধ করলেও ইউ প্রতিবারই ভিন্ন ভিন্ন অজুহাতে তা প্রত্যাখ্যান করতেন।পরে ইউ আরও একটি ভুয়া পরিচয় তৈরি করেন। এবার তিনি নিজেকে লিউয়ের কথিত প্রেমিকার মা হিসেবে পরিচয় দেন। তিনি লিউকে জানান যে, তার মা এই সম্পর্কের বিরোধিতা করছেন। এরপর ভুয়া মা সেজে তিনি লিউয়ের কাছে তিন লাখ ইউয়ান বিয়ের যৌতুক দেওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় এলাকায় একটি বাড়ি কেনার দাবি করেন।লিউ তার কথা বিশ্বাস করে পাঁচ মাসে মোট ১ লাখ ৭০ হাজার ইউয়ান তাকে পাঠান। কিন্তু কোনো ব্যবসায়িক চুক্তি না আসায় তিনি পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন। তদন্তের সময় পুলিশ ইউকে শনাক্ত করে জানতে পারে যে তিনি আসলে ৬৫ বছর বয়সী একজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী। পুলিশ আরও জানতে পারে, এর আগে তিনি একটি প্রতারণার মামলাতেও জড়িত ছিলেন।পুলিশ জানিয়েছে, ইউয়ের আসল মা কয়েক বছর আগেই মারা গেছেন। প্রতারণার মাধ্যমে পাওয়া অর্থ তিনি কসমেটিক সার্জারি, দামি ত্বকের যত্নের পণ্য এবং নতুন পোশাক কেনার পেছনে খরচ করেন। পরে পুলিশ ইউয়ের ভিডিওগুলো পরীক্ষা করে দেখতে পায়, ভিডিওগুলোর মধ্যে ছোট একটি সতর্কবার্তা দেওয়া ছিল। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছিল যে, ভিডিওগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে।পুলিশ যখন লিউকে ওই সতর্কবার্তাটি দেখায়, তখন তিনি জানান যে আধুনিক এআই প্রযুক্তি সম্পর্কে তিনি খুব বেশি জানতেন না। ফলে ভিডিওতে থাকা সতর্কবার্তাটি তার নজরে পড়েনি।
২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কোন ছবি নেই !
কোন ছবি নেই !
ভঙ্গুর এভিয়েশন খাত পেয়েছে বর্তমান সরকার: বিমানমন্ত্রী

ভঙ্গুর এভিয়েশন খাত পেয়েছে বর্তমান সরকার: বিমানমন্ত্রী

বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর একটি ভঙ্গুর ও বিশৃঙ্খল এভিয়েশন খাত পেয়েছে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। তিনি বলেন, ‘অতীতে এভিয়েশন খাতে যাত্রী হয়রানির তিক্ত অভিজ্ঞতা ছিল, এসব সমাধানই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।’শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর কুর্মিটোলার ইউনাইটেড কনভেনশন সেন্টারে দৈনিক বণিক বার্তার ‘বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে বিশ্বমানের এভিয়েশন’ শীর্ষক পলিসি কনক্লেভে এসব কথা বলেন তিনি।মন্ত্রী জানান, বিমানবন্দরের সেবার মানোন্নয়ন ও যাত্রী ভোগান্তি কমাতে বডি ক্যামেরা ব্যবহারের মতো প্রযুক্তিগত সংস্কার আনা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘বিমানবন্দরে যাত্রীদের লাগেজ পেতে একসময় দেড় থেকে দুই ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হতো। আমি পরিদর্শনে গিয়ে নির্দেশনা দিয়েছি—যাত্রীরা নামার সঙ্গে সঙ্গেই কার্গোর দরজাও খুলতে হবে, যাতে ২০ মিনিটের মধ্যে সব লাগেজ বেল্টে চলে আসে। খোঁজ নিয়ে দেখেছি, এখন ৪০ মিনিটের বেশি সময় লাগছে না।’রশিদুজ্জামান আরও জানান, আগের সরকার জাপানি কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে প্রকল্প বাতিল করে ২ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি করেছিল। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বর্তমান সরকার জাপানের সঙ্গে পাঁচবার বৈঠক করে সেই প্রকল্প পুনর্বহাল করেছে। ভবিষ্যতে কক্সবাজারে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর চালু এবং পিপিপি মডেলের মাধ্যমে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ বৃদ্ধির পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী নভেম্বরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ‘বাজেট এয়ারক্রাফট’ বা সাশ্রয়ী উড়োজাহাজ কেনা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হবে বলেও তিনি জানান।বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেন, ‘গত ১৫-১৬ বছরে দেশে গণতন্ত্র না থাকায় এভিয়েশন খাতে কোনো উপযুক্ত নীতি-পরিবেশ তৈরি হয়নি। তবে সরকার আগামী পাঁচ বছরে এ খাতে দৃশ্যমান পরিবর্তনের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে।’তিনি বলেন, বাংলাদেশকে আঞ্চলিক এভিয়েশন হাব হিসেবে গড়ে তুলতে অবকাঠামোর আধুনিকায়ন ও জাতীয় এয়ারলাইনকে শক্তিশালী করতে হবে।শাহজালাল বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী জানান, চলতি বছরের ডিসেম্বরে এর ‘সফট ওপেনিং’ এবং আগামী বছরের মার্চ-এপ্রিলের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম শুরুর পরিকল্পনা রয়েছে। টার্মিনালটি চালু হলে বছরে ১ কোটি ২০ লাখ যাত্রী পরিবহনের সক্ষমতা তৈরি হবে।তিনি বলেন, ‘আগের সরকারের তুলনায় এবার আমরা এমন একটি “উইন-উইন” চুক্তি স্বাক্ষর করতে যাচ্ছি, যেখানে বাংলাদেশের রাজস্বের অংশ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।’কনক্লেভে ‘বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে বিশ্বমানের এভিয়েশন’ বিষয়ে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বেবিচকের সাবেক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) মাহমুদ হোসেন। এ ছাড়া উন্মুক্ত আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন বেবিচকের সদস্য এয়ার কমডোর মো. নূর-ই-আলম, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের এমডি মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মামুন, টাস গ্রুপের চেয়ারম্যান কে. এম. মুজিবুল হক এবং ঢাকা ব্যাংক পিএলসির চেয়ারম্যান আব্দুল হাই সরকার।দৈনিক বণিক বার্তার সম্পাদক ও প্রকাশক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন। এভিয়েশন খাতের সম্ভাবনা, চ্যালেঞ্জ ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের রূপরেখা নিয়ে দেশি-বিদেশি চার শতাধিক প্রতিনিধি এতে অংশ নেন।
২৬ জুলাই ২০২৬
শেখ নূর কুতুব আলম: বাংলার আধ্যাত্মিক নেতৃত্বের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত

শেখ নূর কুতুব আলম: বাংলার আধ্যাত্মিক নেতৃত্বের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত

বাংলার মধ্যযুগীয় ইতিহাসে পান্ডুয়া ছিল জ্ঞান, সংস্কৃতি ও আধ্যাত্মিক সাধনার অন্যতম কেন্দ্র। এই শহরের খানকাগুলোতে যেমন ধর্মীয় শিক্ষা বিস্তার লাভ করত, তেমনি এখান থেকেই সমাজজীবনে নৈতিক নেতৃত্বও গড়ে উঠত। ১৩৫০ সালের কিছু আগে তৎকালীন বাংলার রাজধানী পান্ডুয়ায় তার জন্ম। তার প্রকৃত নাম নূরুদ্দীন নূরুল হক। ‘নূর কুতুবুল আলম’ তার উপাধি।তার পিতা ছিলেন বাংলার অন্যতম শ্রেষ্ঠ আলেম ও সুফি শায়খ আলাউল হক। বংশপরিচয়ও ছিল সম্মানজনক—তিনি লাহোরের প্রসিদ্ধ সাধক শেখ আসাদের পৌত্র। পিতার মতো তিনি ছিলেন চিশতিয়া তরিকার একজন বিশিষ্ট পীর। ইলিয়াস শাহী বংশের তৃতীয় সুলতান গিয়াস উদ্দিন আজম শাহ ছিলেন তার সহপাঠী ও বন্ধু। কিন্তু বংশগৌরবের চেয়েও বড় ছিল তার ব্যক্তিত্ব, জ্ঞান, দূরদর্শিতা এবং মানুষের জন্য আত্মনিবেদিত জীবন।ব্যক্তিগত জীবন ও আধ্যাত্মিক সাধনানূর কুতুব আলম তাঁর পিতার আমল থেকে সব ধরনের কায়িক শ্রমের অভ্যাস করতেন। দরগায় আগত ফকিরদের কাপড় ধোয়া, লাকড়ি ও পানি বহন, শীতকালে পীরের অজু করার জন্য সর্বদা পানি গরম রাখা, এমনকি খানকাহসংলগ্ন শৌচাগার পরিষ্কার করা প্রভৃতি কাজে তিনি নিজেকে নিয়োজিত রাখতেন।আজকের সময়ে নেতৃত্বকে আমরা প্রায়ই ক্ষমতা, প্রভাব কিংবা সামাজিক মর্যাদার সঙ্গে মিলিয়ে দেখি। অথচ নূর কুতুব আলমের জীবন আমাদের শেখায়, প্রকৃত নেতৃত্ব শুরু হয় সেবার মাধ্যমে। যে মানুষ নিজের হাতে মানুষের কষ্ট লাঘব করতে পারে, তিনিই প্রকৃত অর্থে মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিতে পারেন।রাজনৈতিক সংকটে নূর কুতুব আলমের ভূমিকানূর কুতুব আলমের জীবনের সবচেয়ে উজ্জ্বল অধ্যায় রচিত হয় এক ভয়াবহ রাজনৈতিক সংকটের সময়। ১৪১৫ খ্রিস্টাব্দে রাজা গণেশ নামক একজন হিন্দু শাসক ইলিয়াস শাহি বংশ উত্খাত করে ক্ষমতা গ্রহণ করেন। তিনি মুসলমানের ওপর নজিরবিহীন জুলুম-নির্যাতন শুরু করেন। এমনকি শায়খ ও আলেমদের ওপর অবর্ণনীয় অত্যাচার শুরু করেন।বিশেষ করে ধর্মীয় নেতৃত্ব, আলেম-ওলামা এবং সাধারণ মুসলমানদের ওপর নিপীড়নের অভিযোগ বিভিন্ন ঐতিহাসিক গ্রন্থে উল্লেখিত হয়েছে। বাংলার মুসলিম সমাজ গভীর অনিশ্চয়তা ও আতঙ্কের মধ্যে পড়ে।এই পরিস্থিতিতে শেখ নূর কুতুব আলম নীরব থাকেননি। তিনি উপলব্ধি করেছিলেন, কেবল খানকায় বসে ইবাদত করাই একজন আধ্যাত্মিক নেতার একমাত্র দায়িত্ব নয়; মানুষের জীবন, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সামাজিক নিরাপত্তা বিপন্ন হলে ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্যও এগিয়ে আসতে হয়। তার এই অবস্থান প্রমাণ করে, ইসলামী আধ্যাত্মিকতার প্রকৃত শিক্ষা সমাজবিমুখতা নয়; বরং মানুষের কল্যাণে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন।কূটনৈতিক পদক্ষেপ ও রাজা গণেশের সাথে সমঝোতাবাংলার মুসলমানদের রক্ষার জন্য তিনি এক গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। তিনি জৌনপুরের সুলতান ইবরাহিম শর্কিকে বাংলা আক্রমণ করে বাংলাকে গণেশের হাত থেকে রক্ষা করার অনুরোধ জানিয়ে চিঠি লেখেন। একই সঙ্গে তিনি প্রসিদ্ধ সুফি ব্যক্তিত্ব মীর সৈয়দ আশরাফ জাহাঙ্গীর সিমনানিকেও অনুরোধ করেন, যেন তিনিও ইবরাহিম শর্কিকে বাংলার মুসলমানদের সহায়তায় এগিয়ে আসতে উদ্বুদ্ধ করেন।সুলতান ইবরাহিম শর্কি এই অনুরোধ রক্ষা করে বাংলা আক্রমণের উদ্দেশ্যে পিরোজপুর এসে শিবির স্থাপন করেন। রাজা গণেশ এতে ভয় পেয়ে নূর কুতুব আলমের কাছে আত্মসমর্পণ করেন এবং তাঁকে ক্ষমা করে ইবরাহিম শর্কিকে জৌনপুরে ফিরে যেতে বলার অনুরোধ জানান।কিন্তু নূর কুতুব আলম এতে সম্মত হননি। তিনি জানিয়ে দেন, একজন মুসলিম শাসককে কোনো অমুসলিম শাসকের পক্ষ নিয়ে তিনি ফিরিয়ে দিতে পারেন না। বরং পূর্বশর্ত হিসেবে তিনি রাজা গণেশকে ইসলাম গ্রহণের আহ্বান জানান। গণেশ তাতে সম্মত হন, কিন্তু বিস্তারিত শুনে তাঁর রানি এতে বাধা দেন। গণেশ তখন তার ১২ বছরের ছেলে যদুকে নিয়ে শায়খের কাছে আসেন। যদুকে ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত করে 'জালালুদ্দীন' নাম দেওয়া হয় এবং গণেশ তার পক্ষে সিংহাসন ত্যাগ করেন।এই ঘটনার মধ্য দিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ এড়ানো সম্ভব হয় এবং বাংলার রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অন্তত সাময়িকভাবে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়।পরবর্তী পরিস্থিতি ও নূর কুতুব আলমের দূরদর্শিতাশায়খের মৃত্যুর পর গণেশ অবশ্য যদুকে হিন্দু ধর্মে পুনরায় দীক্ষিত করে নিজে সিংহাসনে অধিষ্ঠিত হন। কিন্তু রাজা গণেশের মৃত্যু হলে যদু জালালুদ্দীন মুহাম্মদ শাহ উপাধি গ্রহণ করে সিংহাসনে আরোহণ করেন এবং বাংলার মুসলিম শাসনব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়।এই ঘটনাপ্রবাহে নূর কুতুব আলমের দূরদর্শিতার প্রতিফলন স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তিনি হয়তো জানতেন, একটি সংকটময় সময়ে আপসের মধ্য দিয়েও দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার পথ তৈরি করা যায়।রচিত গ্রন্থসমূহ ও আধ্যাত্মিক উত্তরসূরিতিনি শুধু নিজের আধ্যাত্মিক সাধনায় সীমাবদ্ধ থাকেননি; পরবর্তী প্রজন্ম গড়ে তোলার প্রতিও ছিলেন সমান মনোযোগী। তাঁর রচিত গ্রন্থ সংখ্যা ১২১টি। সেগুলো তার প্রধান মুরিদ ও খলিফা হুসামুদ্দিন মানিকপুরী সম্পাদনা করেন। তন্মধ্যে বিখ্যাত দুটি গ্রন্থ হলো মুগিসুল ফুকারা ও আনিসুল গুরাবা।মুগিসুল ফুকারার একটি পাণ্ডুলিপি সংরক্ষিত আছে বিহারের ভাগলপুরের খলিফাবাগ একটি প্রাইভেট লাইব্রেরিতে। আরেকটি অসম্পূর্ণ কপি সংরক্ষিত আছে এশিয়াটিক সোসাইটি অব বেঙ্গল কলিকাতার লাইব্রেরিতে (সংগ্রহ নং- ৪৬৬)। সেখানে আনিসুল গুরাবা বইটির ২টি কপি সংরক্ষিত আছে (সংগ্রহ নং: ১২১২ ও ১২১৩)।তিনি তাঁর দুই পুত্র শেখ রাফকাতউদ্দীন এবং শেখ আনোয়ারকে আধ্যাত্মিক শিক্ষা দেন। সম্ভবত পিতার জীবদ্দশায় শেখ আনোয়ার রাজা গণেশের হাতে সোনারগাঁয়ে শহীদ হন। শেখ নূর কুতুব আলমের অন্য আর একজন প্রধান মুরিদ ছিলেন শেখ হুসামুদ্দীন মানিকপুরী।পত্র সংকলন ও ঐতিহাসিক দলিলনূর কুতুব আলমের ১৩টি পত্রের একটি গ্রন্থ সম্পাদনা করেন মুহাদ্দিস আব্দুল হক দেহলভী। যে গ্রন্থের নাম মাকতুবাত ই নূর কুতুবুল আলম। এটি দিল্লির ইন্ডিয়ান আর্কাইভে সংরক্ষিত আছে। এই পত্রগুলো থেকে সমসাময়িক রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়।সুলতানদের শ্রদ্ধা ও দরগাহের গুরুত্বশেখ নূর কুতুব আলমের প্রতি পরবর্তী সুলতানদের শ্রদ্ধাও ছিল অসাধারণ। তার দরগাহ সংলগ্ন সরাইখানা ও মাদরাসার ব্যয় নির্বাহের জন্য সুলতান আলাউদ্দীন হোসেন শাহ কয়েকটি গ্রাম দান করেন। দরবেশের মাজার জিয়ারতের জন্য সুলতান বছরে একবার রাজধানী শহর একডালা থেকে পান্ডুয়ায় আসতেন।শায়খ নূর কুতুব আলম পান্ডুয়ার পীর-আউলিয়ার মধ্যে শীর্ষ মর্যাদার অধিকারীদের অন্যতম। পিতা-পুত্র দুজনই পান্ডুয়ার বিখ্যাত শাশ হাজারি দরগায় শায়িত আছেন। পিতার মতো তিনি চিশতিয়া মতাদর্শের পীর ছিলেন। তাঁর অনুসারী শিষ্যকুল ও দরবেশরা কয়েক শতক ধরে বাংলায় মুসলিম সমাজজীবনে তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।ঐতিহাসিক দৃষ্টিতে শায়খ নূর কুতুব আলমের সর্বশ্রেষ্ঠ অবদান বাংলার মুসলিম শাসন রাজা গণেশের হাত থেকে রক্ষা করা।মৃত্যুশেখ নূর কুতুব আলম ৮১৮ হিজরি বা ১৪১৫ খ্রিস্টাব্দে (বাংলাপিডিয়া ও উইকিপিডিয়া মতে) ইন্তেকাল করেন। তবে প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, ১৪৪৭ সালের ৭ জানুয়ারি তার মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়। তার ইন্তেকালের সঙ্গে একটি সুন্দর ফারসি অভিব্যক্তি যুক্ত হয়েছে—"নূর বানূর-শুদ", অর্থাৎ "আলো আলোতে বিলীন হয়ে গেল।"এই বাক্যটি যেন তার সমগ্র জীবনেরই প্রতীক। তিনি এমন এক আলোকবর্তিকা ছিলেন, যিনি নিজের জন্য নয়, মানুষের পথ আলোকিত করার জন্য জীবন উৎসর্গ করেছিলেন।ইতিহাসে বহু রাজা এসেছেন, বহু সাম্রাজ্য গড়ে উঠেছে এবং বিলীন হয়েছে। কিন্তু যারা মানুষের হৃদয়ে নৈতিকতার আলো জ্বালিয়ে দেন, তাদের স্মৃতি যুগের পর যুগ অম্লান থাকে। শেখ নূর কুতুব আলম সেই বিরল ব্যক্তিত্বদের একজন, যার জীবন বাংলার ইতিহাসে আধ্যাত্মিক নেতৃত্ব, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং নৈতিক সাহসের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে আজও আমাদের সামনে দাঁড়িয়ে আছে।তথ্যসূত্র: উইকিপিডিয়া, বাংলাপিডিয়া, শায়েখ আব্দুল হক দেহলভী, আকবারুল উখিয়া ফি আসরারুল আবরার, সোস্যাল হিস্টোরি অফ দ্যা মুসলিম ইন ব্যাঙ্গাল।
ফিরোজ আল মামুন