ঢাকা    রোববার, ০৫ জুলাই ২০২৬
ঢাকা    রোববার, ০৫ জুলাই ২০২৬
গণবার্তা
সর্বশেষ

ইতিহাসের অবহেলিত বীর: মোহাম্মদ আব্দুল্লাহর গল্প

আমরা যারা বাংলাদেশের মানুষ, ছোটবেলা থেকে পাঠ্যবইয়ে ক্ষুদিরাম বসুর বীরত্বগাথা পড়ে বড় হয়েছি। ফাঁসির মঞ্চে যাওয়ার আগে তাঁর সেই বিখ্যাত গান—"একবার বিদায় দে মা ঘুরে আসি"—শোনেনি এমন বাঙালি খুঁজে পাওয়া দায়। ক্ষুদিরাম আমাদের আবেগ, আমাদের জাতীয় বীর। কিন্তু বুকে হাত দিয়ে বলুন তো, "মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ" নামটা আমাদের কয়জন জানি? অথচ এই আব্দুল্লাহও ছিলেন একজন বাঙালি উপমহাদেশীয় বিপ্লবী, যিনি ব্রিটিশদের বুকে কাঁপন ধরিয়ে দিয়েছিলেন। ক্ষুদিরামের আন্দোলনের মাত্র কয়েক দশক আগে, ১৮৭১ সালে কলকাতার টাউন হলের সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে এই আব্দুল্লাহ একাই বুক চিতিয়ে হত্যা করেছিলেন তৎকালীন ফোর্ট উইলিয়াম হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি জন প্যাক্সটন নরম্যানকে—যে বিচারক বিপ্লবীদের কঠোর সাজা ও ফাঁসি দেওয়ার জন্য কুখ্যাত ছিলেন।১৮৭১ সালের ২১ নভেম্বর কলকাতার টাউন হলে এক রাজকীয় অনুষ্ঠান চলছিল। সেখানে উপস্থিত ছিলেন ফোর্ট উইলিয়াম হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি স্যার জন প্যাক্সটন নরম্যান। অনুষ্ঠান শেষে তিনি যখন টাউন হলের সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামছিলেন, তখন আব্দুল্লাহ তাঁর পথ রোধ করেন। তিনি নরম্যানের বুকে একটি ছুরি দিয়ে আঘাত করেন, যা ছিল এতটাই নিখুঁত ও মারাত্মক যে নরম্যান ঘটনাস্থলেই মারা যান। আব্দুল্লাহকে সঙ্গে সঙ্গে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তাকে ফাঁসি দেওয়া হয়। অথচ ক্ষুদিরাম বসু ১৯০৮ সালে কিংসফোর্ডকে মারতে গিয়ে বোমা ছুড়েছিলেন, কিন্তু ভুলবশত দুজন নিরীহ ইউরোপীয় নারী মারা যান, কিংসফোর্ড বেঁচে যান। আর আব্দুল্লাহ একাই একটি ছুরি হাতে সরাসরি তাঁর মূল টার্গেট, ব্রিটিশদের প্রধান বিচারপতিকে খতম করেছিলেন। ফলাফল দুজনেরই ব্রিটিশদের ফাঁসির দড়ি।তাহলে আজ বাংলাদেশের ইতিহাস চর্চায় কেন এই আকাশ-পাতাল বৈষম্য? কেন ক্ষুদিরামের নাম আমাদের মুখে মুখে, আর আব্দুল্লাহর নাম ইতিহাসের পাতা থেকে একপ্রকার মুছে দেওয়া হলো? এর পেছনে লুকিয়ে আছে আমাদের বুদ্ধিবৃত্তিক দৈন্যতা। আব্দুল্লাহ যুক্ত ছিলেন ওহাবি আন্দোলনের সাথে। আমাদের আধুনিক তথাকথিত ধর্মনিরপেক্ষ ঐতিহাসিকরা ওহাবি আন্দোলনকে কেবল "ধর্মীয় আন্দোলন" তকমা দিয়ে আব্দুল্লাহর মতো খাঁটি স্বাধীনতা সংগ্রামীদের লাইমলাইট থেকে দূরে সরিয়ে রেখেছেন। অথচ ওহাবি আন্দোলন শুধু ধর্মীয় ছিল না, এটি ছিল ব্রিটিশবিরোধী প্রতিরোধের একটি শক্তিশালী ধারা, যার মাধ্যমে উপমহাদেশের মানুষ ইংরেজ শাসনের বিরুদ্ধে সংগঠিত হতে চেয়েছিল। আব্দুল্লাহ ছিলেন সেই আন্দোলনেরই একজন উজ্জ্বল সেনানী।ব্রিটিশরা সুকৌশলে আব্দুল্লাহর সমস্ত তথ্য, ছবি এবং স্মৃতি সেন্সর করেছিল যাতে তিনি মুসলিম তরুণদের আইকন বা শহীদ হতে না পারেন। ব্রিটিশরা জানত, একজন মুসলিম বিপ্লবী যদি আদর্শে পরিণত হয়, তাহলে তা উপমহাদেশের মুসলিম জনগোষ্ঠীর মধ্যে ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই তারা আব্দুল্লাহর নাম ও পরিচয় গুম করে দেয়। আর স্বাধীনতার পর আমাদের শিক্ষাবোর্ডগুলোও সেই ব্রিটিশদের তৈরি করা সিলেবাসের বৃত্ত থেকে বের হতে পারেনি। ফলে আব্দুল্লাহর মতো অনেক বীরই রয়ে গেছেন ইতিহাসের আড়ালে।ক্ষুদিরাম যেমন আমাদের জাতীয় বীর, আব্দুল্লাহও তেমনই বীর। ক্ষুদিরাম ফাঁসির আগে গান গেয়েছেন, আব্দুল্লাহও ফাঁসির আগে নির্ভীক ছিলেন। একজন ব্রিটিশ প্রধান বিচারপতিকে হত্যা করে তিনি প্রমাণ করেছিলেন, ভারতবাসী আর ব্রিটিশ শাসন সহ্য করবে না। তাঁর এই সাহসিকতা ও আত্মত্যাগের ইতিহাস আমাদের জানা উচিত। আজ সময় এসেছে এই ঐতিহাসিক বৈষম্যের অবসান ঘটানোর। ইতিহাস কারও একার সম্পত্তি নয়। রক্ত ক্ষুদিরামও দিয়েছেন, রক্ত আব্দুল্লাহও দিয়েছেন। দেশের স্বাধীনতার জন্য ফাঁসির মঞ্চে যাওয়া প্রতিটা মানুষই সমান শ্রদ্ধার পাত্র। আসুন, নিজেদের ইতিহাসকে নতুন করে জানি। আব্দুল্লাহদের মতো হারিয়ে যাওয়া বীরদের অবদানের কথা আমাদের পরবর্তী প্রজন্মকে জানাই।শিক্ষাবোর্ডগুলোর উচিত আব্দুল্লাহসহ সকল উপেক্ষিত বিপ্লবীদের ইতিহাস পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করা। আব্দুল্লাহর নামে স্মৃতিসৌধ, রাস্তা বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নামকরণ করা উচিত, যাতে তরুণ প্রজন্ম তাঁকে চিনতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোকে আব্দুল্লাহর জীবন ও আন্দোলন নিয়ে বিস্তারিত গবেষণায় উৎসাহিত করতে হবে। গণমাধ্যমে আব্দুল্লাহর কাহিনি প্রচার করতে হবে, যাতে তিনি ঘরে ঘরে পরিচিত হন। যাঁরা দেশের জন্য প্রাণ দিয়েছেন, তাঁরা সকলেই সমান সম্মানের অধিকারী। ক্ষুদিরাম যেমন আমাদের গর্ব, আব্দুল্লাহও তেমনই আমাদের গর্ব। ইতিহাসের এই একপেশে বয়ান থেকে বেরিয়ে এসে আমাদের উচিত প্রতিটি বীরের অবদানকে যথাযথ মর্যাদা দেওয়া। তবেই সত্যিকার অর্থে আমরা স্বাধীনতা সংগ্রামের পূর্ণ ইতিহাসকে আত্মস্থ করতে পারব। ইতিহাসের এই অজানা অধ্যায়কে সামনে এনে আমরা আমাদের পরবর্তী প্রজন্মকে একটি সম্পূর্ণ ও সঠিক ইতিহাস উপহার দিতে পারি। আব্দুল্লাহর মতো বীরদের প্রতি আমাদের এই দায়িত্ব অবশ্যই পালন করতে হবে। কারণ, স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রতিটি ফোঁটা রক্তই সমান মূল্যবান। এখন সময় এসেছে আব্দুল্লাহদের পুনর্বাসনের, যাতে নতুন প্রজন্ম জানে—স্বাধীনতার এই পথ কতটা রক্তক্ষয়ী ছিল এবং কতজন অজানা বীর এই পথ প্রশস্ত করেছেন।
৭ ঘন্টা আগে

বাংলা কিউআর: একটি কোডেই সব ডিজিটাল লেনদেন

শপিংমল হোক কিংবা মুদির দোকান—টাকা পরিশোধের সময় বিকাশ, নগদ, রকেট অথবা অনলাইন ব্যাংকিং সেবার আলাদা আলাদা কিউআর কোড খোঁজার দিন শেষ। এখন একটি মাত্র কিউআর কোড স্ক্যান করেই যেকোনো গ্রাহক ব্যাংক বা মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) অ্যাপ থেকে অর্থ পরিশোধ করতে পারবে বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘বাংলা কিউআর’ ব্যবহার করে।বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত ৩০ জুনে সরকার কর্তৃক এই সর্বজনীন কিউআর কোড-ভিত্তিক সেবাটি সর্বত্র বাধ্যতামূলক করার মাত্র দুই কার্যদিবসের মধ্যেই ৭৭ হাজার ১৬৫টি লেনদেনে মোট ২২ কোটি ২ লাখ টাকার বেশি আর্থিক পরিশোধ হয়েছে। দেশের বিচ্ছিন্ন ডিজিটাল লেনদেন ব্যবস্থাকে একক প্ল্যাটফর্মে এনে জনসাধারণের জন্য একটি নিরাপদ, স্বচ্ছ ও সহজ লেনদেন ব্যবস্থার মাধ্যমে ‘ক্যাশলেস ইকোনমি’ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।বাংলা কিউআর হলো বাংলাদেশ ব্যাংকের ইন্টার-অপারেবল জাতীয় কিউআর পেমেন্ট স্ট্যান্ডার্ড, যা প্রচলিত সকল মোবাইল ব্যাংকিং সেবাকে একটিমাত্র কিউআর কোডের আওতায় আনার মাধ্যমে সর্বজনীন পেমেন্ট ব্যবস্থা চালু করেছে। আগে বিভিন্ন ব্যাংক ও এমএফএস প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব কিউআর কোড থাকায় একজন গ্রাহক কেবল সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অ্যাপ দিয়েই অর্থ পরিশোধ করতে পারতেন। নতুন এই ব্যবস্থায় একজন ব্যবসায়ীর শুধু এই একটি কিউআর কোড তার কাছে বা দোকানে রাখলেই চলবে। এই একটি কিউআর স্ক্যান করে বিকাশ, নগদ, রকেট অথবা যেকোনো ব্যাংকিং সেবার মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে মূল্য পরিশোধ করা যাবে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এতে যেমন ব্যবসায়ীদের একাধিক কিউআর ব্যবহারের ঝামেলা ও ব্যয় কমবে, গ্রাহকদের জন্যও ডিজিটাল পেমেন্ট আরও সহজ ও সর্বজনীন হবে। বর্তমানে ৪৬টি ব্যাংক, সাতটি এমএফএস এবং চারটি পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডার এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত রয়েছে এবং প্রায় ৯ লাখ ৬৩ হাজার ছোট-বড় ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তা বাংলা কিউআর ব্যবহার করছেন।বাংলা কিউআর ব্যবহার করতে আলাদা কোনো অ্যাপের প্রয়োজন নেই। প্রথমে স্মার্টফোনে ব্যবহৃত ব্যাংক বা মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (যেমন- বিকাশ, নগদ, রকেট ইত্যাদি) অ্যাপটি খুলে ‘স্ক্যান কিউআর’ বা ‘পে উইথ কিউআর’ অপশনে যেতে হবে। এরপর ব্যবসায়ীর দোকানে প্রদর্শিত বাংলা কিউআর কোডটি স্ক্যান করলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্যবসায়ীর তথ্য ও লেনদেনের বিবরণ পর্দায় দেখা যাবে। যদি কিউআর কোডটি স্ট্যাটিক হয়, তাহলে গ্রাহককে পরিশোধের পরিমাণ নিজে লিখতে হবে; আর ডাইনামিক হলে বিলের পরিমাণ স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রদর্শিত হবে। এরপর সতর্কতার সঙ্গে সব তথ্য যাচাই করে পিন, ফিঙ্গারপ্রিন্ট বা অন্যান্য নিরাপত্তা যাচাইকরণের মাধ্যমে লেনদেন নিশ্চিত করলেই কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে অর্থ গ্রাহকের অ্যাকাউন্ট থেকে ব্যবসায়ীর হিসাবে যোগ হবে। পুরো প্রক্রিয়াটি বাংলাদেশ ব্যাংকের ন্যাশনাল পেমেন্ট সুইচ বাংলাদেশ (এনপিএসবি)-এর মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে সম্পন্ন হয়।সাম্প্রতিক সময়ে বাংলা কিউআর পেমেন্টে অতিরিক্ত চার্জ কাটা নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে পড়লেও বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান তথ্যটিকে ভুল বলে জানিয়েছেন। তিনি জানান, কেনাকাটার ক্ষেত্রে গ্রাহককে কোনো চার্জ দিতে হবে না; ক্রেতা হিসেবে শূন্য শতাংশ চার্জ দিয়েই পণ্য ক্রয় করা যাবে। তবে এই চার্জ দিতে হবে বিক্রেতাকে, অর্থাৎ মার্চেন্টকে। বিক্রেতা বা মার্চেন্টের খরচ হবে ১ হাজার টাকায় সর্বোচ্চ ১০ টাকা + ১৫ শতাংশ ভ্যাট, অর্থাৎ সর্বোচ্চ ১ শতাংশ হারে চার্জ প্রযোজ্য হবে। ফলে মার্চেন্টের খরচ হিসেবে গণ্য হবে মোট ১১ টাকা ৫০ পয়সা।এলাকার চায়ের দোকান, মুদির দোকান থেকে শুরু করে শপিংমল, সিনেমা হল, অ্যামিউজমেন্ট পার্কসহ যেকোনো গণপরিবহনের ভাড়া পরিশোধ—বাংলা কিউআরের আওতাভুক্ত যেকোনো ব্যবসা বা আর্থিক লেনদেনেই এটি ব্যবহার করা যাবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের এই উদ্যোগের লক্ষ্য শুধু নগদ অর্থের ব্যবহার কমানো নয়, বরং মুদ্রা ছাপানোর ব্যয় হ্রাস, আর্থিক লেনদেনে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং সর্বজনীন ডিজিটাল পেমেন্টের অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করা। ভবিষ্যতে সরকারি সেবার সব ধরনের অর্থ পরিশোধেও বাংলা কিউআর বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে ইন্টারনেট ছাড়াই কিউআরভিত্তিক লেনদেন চালুর বিষয়েও কাজ চলছে। এ ছাড়া নিম্নআয়ের মানুষের জন্য কিস্তিতে প্রায় ৩০ হাজার স্মার্টফোন সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যেন আরও বেশি মানুষ ডিজিটাল লেনদেনের আওতায় আসতে পারেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের অন্যতম চ্যালেঞ্জ হবে কিউআর কোডের নবাগত ধারণাটি তৃণমূল পর্যায়ে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং গ্রামীণ গ্রাহকদের জন্য ইন্টারনেট ও স্মার্টফোনের আবশ্যকতার বিকল্প বের করা।
৮ ঘন্টা আগে

সরকারি অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর ছবি থ্রিডি বা বিশেষ আঙ্গিকে ব্যবহার নিষিদ্ধ

সরকারি কোনও অনুষ্ঠান উপলক্ষে তৈরি ব্যানার, ফেস্টুন ও বিলবোর্ডে প্রধানমন্ত্রীর ছবি থ্রিডি বা অন্য কোনও বিশেষ আঙ্গিকে ব্যবহার সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। রবিবার জারি করা এক পরিপত্রে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। পরিপত্রে বলা হয়েছে, সরকারি অনুষ্ঠানের ব্যানার, ফেস্টুন ও বিলবোর্ড তৈরির ক্ষেত্রে অনুষ্ঠানের বিষয়বস্তুকে প্রাধান্য দিয়ে প্রয়োজনীয় ও সামঞ্জস্যপূর্ণ তথ্য উপস্থাপন করতে হবে। নকশা এমনভাবে করতে হবে, যাতে অনুষ্ঠানের উদ্দেশ্য, বার্তা ও বিষয়বস্তু স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়। এতে আরও বলা হয়, বিষয়টি অতীব গুরুত্বপূর্ণ। এ নির্দেশনা অনতিবিলম্বে কার্যকর হবে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের উপপ্রধান তথ্য কর্মকর্তা মোল্লা আহমদ কুতুবুদ-দ্বীন জানান, পরিপত্রের বিষয়টি অবহিত করে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, সিনিয়র সচিব ও সব সচিবকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন সব দপ্তর ও সংস্থাকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। এ ছাড়া প্রধান তথ্য কর্মকর্তা, দেশের সব বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছেও পরিপত্রের অনুলিপি পাঠানো হয়েছে।এই নির্দেশনার ফলে সরকারি অনুষ্ঠানের প্রচার উপকরণগুলো আরও সংযত ও তথ্যভিত্তিক হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর ছবি ব্যবহারের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের বিকৃত বা অস্বাভাবিক উপস্থাপন না করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এতে প্রধানমন্ত্রীর ভাবমূর্তি সংরক্ষণের পাশাপাশি অনুষ্ঠানের মূল বার্তা স্পষ্টভাবে ফুটে উঠবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এই নির্দেশনা সরকারি অনুষ্ঠানের প্রচার কার্যক্রমে একটি নতুন মাত্রা যোগ করবে। আগে অনেক সময় ব্যানার বা বিলবোর্ডে প্রধানমন্ত্রীর ছবি নিয়ে বিভিন্ন ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হতো, যা কখনো কখনো বিতর্কের সৃষ্টি করত। এখন সেই সুযোগ আর থাকছে না। নির্দেশনা মোতাবেক, প্রচার উপকরণগুলো হবে আরও প্রাতিষ্ঠানিক ও নিরপেক্ষ। এতে সরকারি অনুষ্ঠানের মর্যাদা বাড়বে এবং জনগণের কাছে বার্তাটি স্পষ্টভাবে পৌঁছাবে। প্রধানমন্ত্রীর ছবি ব্যবহারে এত কঠোর নির্দেশনা কেন দেওয়া হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। তবে সরকার বলছে, এটি একটি আদর্শ প্রচার নীতি অনুসরণের অংশ। অনেক উন্নত দেশেই সরকারি প্রচার উপকরণে রাষ্ট্রপ্রধানের ছবি ব্যবহারের ক্ষেত্রে কঠোর নিয়ম রয়েছে। বাংলাদেশও সেই পথেই হাঁটছে। এতে সরকারি অনুষ্ঠানের প্রচারের মান বাড়বে এবং অপব্যবহার রোধ হবে। নির্দেশনাটি অবিলম্বে কার্যকর করতে বলা হয়েছে, তাই আগামী দিনের সরকারি অনুষ্ঠানগুলোর প্রচার উপকরণেই এই পরিবর্তন দেখা যাবে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ বলেছে, কেউ যদি এই নির্দেশনা অমান্য করে, তাহলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো শাস্তির বিধান পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়নি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নির্দেশনাটি অনুসরণ করলে সরকারি অনুষ্ঠানের প্রচার কার্যক্রম আরও শৃঙ্খলাবদ্ধ হবে এবং জনগণের কাছে ইতিবাচক বার্তা পৌঁছাবে। এতে সরকারি অর্থের অপচয় রোধ হবে এবং প্রচার উপকরণগুলো হবে আরও অর্থবহ। প্রধানমন্ত্রীর ছবি ব্যবহারের বিষয়টি এখন আর বিতর্কের কারণ হবে না। সবাই নির্দেশনা মেনে চললে সরকারি অনুষ্ঠানের প্রচার কার্যক্রম আরও সুসংহত হবে। এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট অনেকেই। তারা মনে করেন, এটি একটি সময়োপযোগী পদক্ষেপ। এখন দেখার বিষয়, এই নির্দেশনা কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা হয় এবং ভবিষ্যতে সরকারি অনুষ্ঠানের প্রচার উপকরণগুলো কেমন হয়। তবে আপাতত এই সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখা হচ্ছে। সরকারি অনুষ্ঠানের প্রচার কার্যক্রমে এই পরিবর্তন আগামী দিনে আরও স্পষ্ট হবে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এই উদ্যোগ সরকারি কাজকর্মে শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা বাড়াতে সহায়তা করবে বলে মনে করছেন অনেকে। এখন সবাই এই নির্দেশনা মেনে চলার জন্য প্রস্তুত। আশা করা যায়, ভবিষ্যতে সরকারি অনুষ্ঠানের প্রচার উপকরণগুলো আরও মানসম্মত হবে এবং জনগণের কাছে সঠিক বার্তা পৌঁছাবে। এই উদ্যোগ বাংলাদেশের সরকারি প্রচার কার্যক্রমে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। এখন সময় বলবে, এই উদ্যোগ কতটা সফল হয় এবং ভবিষ্যতে এর কী প্রভাব পড়ে। তবে আপাতত এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাচ্ছেন সংশ্লিষ্ট সবাই। তারা আশা করছেন, এই উদ্যোগ সরকারি অনুষ্ঠানের প্রচারের ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে। আগামী দিনগুলোতে এই নির্দেশনার বাস্তব প্রভাব দেখা যাবে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এই সিদ্ধান্ত সরকারি কাজকর্মে একটি নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এখন অপেক্ষা এই নির্দেশনার সঠিক বাস্তবায়নের। সংশ্লিষ্ট সবাই এ বিষয়ে সচেতন এবং তারা নির্দেশনা মেনে চলবেন বলে আশা করা যায়। এই উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয় এবং সময়োপযোগী। এটি সরকারি অনুষ্ঠানের প্রচার কার্যক্রমে একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে প্রত্যাশা করা যায়।
৮ ঘন্টা আগে
জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন নয়, এমন নিরাপত্তা কৌশল চান প্রধানমন্ত্রী

জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন নয়, এমন নিরাপত্তা কৌশল চান প্রধানমন্ত্রী

নিরাপত্তা কৌশল এমনভাবে বিন্যস্ত করা প্রয়োজন, যাতে তা সরকারপ্রধানকে জনগণ থেকে দূরে ঠেলে না দেয়—এমন নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, ‘নিরাপত্তা কৌশল এমনভাবে বিন্যাস করা জরুরি, জনগণ যাতে নিজেদেরকে সরকারপ্রধান থেকে বিচ্ছিন্ন মনে না করেন। একটি গণতান্ত্রিক সরকারের প্রধান হিসেবে আমি জনগণের বিশ্বাস এবং ভালোবাসার উপরে আমার আস্থা এবং নির্ভরতা বজায় রাখতে চাই। সুতরাং নিরাপত্তা কৌশল যাতে সরকারপ্রধানকে জনগণ থেকে দূরে ঠেলে না দেয়, সেদিকে বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখার জন্য আপনাদের প্রতি বিশেষভাবে আহ্বান জানাই।’ রোববার ঢাকা সেনানিবাসে প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের (পিজিআর) ৫১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী কেক কেটে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর উদ্বোধন করেন এবং পিজিআর সদর দপ্তরের একটি স্মারক বৃক্ষ রোপণ করেন। এ সময় তিনি চট্টগ্রামে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সঙ্গে শহীদ হওয়া ৫ পিজিআর সদস্যের পরিবারের খোঁজ নেন এবং তাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।সশস্ত্র বাহিনীকে দেশ ও জনগণের সাহস ও গৌরবের প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করে সরকারপ্রধান বলেন, ‘১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে সশস্ত্র বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা এ দেশের মানুষের সঙ্গে তাদের অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িয়ে রেখেছে। পিজিআরের কাজ অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং এবং যে কোনো কঠিন পরিস্থিতিতে তাদের দায়িত্ব পালন প্রশংসনীয়।’ ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাহিনীর আধুনিকায়নের ওপর জোর দিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘সাইবার যুদ্ধসহ বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সশস্ত্র বাহিনীকে আরও আধুনিক এবং প্রশিক্ষিত হওয়া জরুরি। এই লক্ষ্যে সরকার সশস্ত্র বাহিনীকে আরও আধুনিকায়নের উদ্যোগ নিয়েছে। তবে আধুনিক নিরাপত্তা কৌশল ও প্রযুক্তিগত দক্ষতার পাশাপাশি সাহস, সততা ও বিশ্বস্ততা অপরিহার্য।’ প্রধানমন্ত্রী দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, ‘সশস্ত্র বাহিনী যদি দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে কঠোর নিয়মানুবর্তিতা অনুসরণ করে এবং পেশাদারিত্ব বজায় রাখে, তাহলে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব কখনো হুমকির মুখে পড়বে না।’প্রধানমন্ত্রীর এই নির্দেশনা নিরাপত্তা ব্যবস্থার সঙ্গে জনগণের সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরে। সাধারণত নিরাপত্তা বলেই আমরা কঠোরতা, বাধা ও দূরত্বকে বুঝি। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করেছেন যে, নিরাপত্তা যেন জনগণের সঙ্গে যোগাযোগের বাধা না হয়ে ওঠে। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় জনগণের সঙ্গে শাসকের সম্পর্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই নিরাপত্তা কৌশলগুলোর মাধ্যমে জনগণের কাছে পৌঁছানোর পথ যেন বন্ধ না হয়, সেদিকে নজর দিতে বলেছেন তিনি। পিজিআরের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানে তার এই বক্তব্য সবার কাছে প্রশংসিত হয়েছে। অনেকে মনে করছেন, এটি একটি দূরদর্শী নির্দেশনা, যা শাসক ও জনগণের মধ্যে দূরত্ব কমাতে সহায়তা করবে। পিজিআর প্রধানের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানানো হয় এবং তাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। তারা প্রধানমন্ত্রীকে আশ্বস্ত করেন যে, তারা তাদের দায়িত্ব অত্যন্ত সততার সঙ্গে পালন করবেন এবং জনগণের কাছে সরকারপ্রধানকে পৌঁছে দেওয়ার কাজে সহায়তা করবেন। প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে পিজিআরের সদস্যদের আন্তরিকতাও প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, এই বাহিনী সর্বদা দেশের নিরাপত্তায় নিবেদিত। তাদের এই নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্ব দেশের জন্য গর্বের বিষয়। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী পিজিআর সদর দপ্তরের বিভিন্ন স্থাপনা পরিদর্শন করেন এবং সেখানে কর্মরত সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। তিনি তাদের উৎসাহিত করেন এবং দেশের প্রতি তাদের অবদানের জন্য ধন্যবাদ জানান। এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পিজিআরের ভূমিকা ও গুরুত্ব আরও স্পষ্ট হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর এই নির্দেশনা ভবিষ্যতে নিরাপত্তা কৌশল প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। নিরাপত্তার পাশাপাশি জনগণের স্বার্থও বিবেচনা করা হবে এমন একটি ভারসাম্য তৈরি করতে এই নির্দেশনা সহায়ক হবে। সব মিলিয়ে, প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্য সত্যিই সময়োপযোগী এবং প্রশংসনীয়। তিনি জনগণের প্রতি তার দায়িত্ব ও দায়বদ্ধতা স্পষ্ট করেছেন। তার এই উদ্যোগ আগামী দিনে আরও আলোচিত হবে এবং অন্যান্য সরকারের জন্যও উদাহরণ হয়ে থাকবে। জনগণের সঙ্গে শাসকের সম্পর্ক উন্নয়নে এই ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত জরুরি। প্রধানমন্ত্রী এই বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখেছেন এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন। এখন দেখার বিষয়, এই নির্দেশনা কীভাবে বাস্তবায়িত হয় এবং জনগণের কাছে সরকারের পৌঁছানো সহজ হয়। তবে আপাতত প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যকে ইতিবাচক হিসেবে দেখা হচ্ছে এবং সবাই আশা করছেন, এটি বাস্তবায়িত হবে। পিজিআর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এই বক্তব্য আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বাহিনীটি যেমন দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে, তেমনি প্রধানমন্ত্রী চান তারা জনগণের সঙ্গেও সরকারের যোগাযোগ রক্ষায় সহায়তা করুক। এই দ্বৈত দায়িত্ব পালনে পিজিআর সদস্যরা সক্ষম বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রধানমন্ত্রীর এই দিকনির্দেশনা আগামী দিনে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় নতুন দৃষ্টিভঙ্গি যোগ করবে। জনগণের কাছে সরকারপ্রধানকে পৌঁছে দেওয়ার এই প্রচেষ্টা সত্যিই প্রশংসনীয়। আশা করা যায়, এই উদ্যোগ জনগণের মধ্যে সরকারের প্রতি আস্থা বাড়াবে এবং গণতন্ত্রের চর্চা আরও সুদৃঢ় হবে। সব মিলিয়ে, প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্য একটি ইতিবাচক বার্তা বহন করছে। এটি প্রমাণ করে, তিনি জনগণের কাছাকাছি থাকতে চান এবং তাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রাখতে আগ্রহী। এই আগ্রহ ভবিষ্যতে আরও উন্নয়ন ও সংস্কারের পথ তৈরি করবে। জনগণের স্বার্থ ও নিরাপত্তা—উভয়কেই গুরুত্ব দিয়ে এই ভারসাম্য রক্ষা করা একটি চ্যালেঞ্জ। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত বলে মনে হচ্ছে। তার এই প্রস্তুতি দেশের জন্য শুভ লক্ষণ। এখন সময় বলবে, এই নির্দেশনা কতটা সফলভাবে বাস্তবায়িত হয় এবং জনগণের কাছে তা কী প্রভাব ফেলে। তবে আপাতত এই উদ্যোগকে স্বাগত জানাচ্ছেন সবাই। তারা আশা করছেন, প্রধানমন্ত্রীর এই চিন্তা ভবিষ্যতে আরও উন্নত নিরাপত্তা ব্যবস্থার ভিত্তি স্থাপন করবে। এই ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে জনগণ ও সরকারের মধ্যে সম্পর্ক আরও মজবুত হবে। তাহলেই গণতন্ত্র সফল হবে এবং দেশ এগিয়ে যাবে। প্রধানমন্ত্রীর এই দৃষ্টিভঙ্গি সত্যিই প্রশংসনীয় এবং সময়োপযোগী। এটি আগামী দিনের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা। এখন সেই দিকনির্দেশনা বাস্তবায়নের পালা। সংশ্লিষ্ট সবাই এই কাজে আন্তরিক হলে দেশ অবশ্যই উপকৃত হবে। সব মিলিয়ে, এটি একটি ইতিবাচক শুরু। ভবিষ্যতে আরও এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়া উচিত যাতে জনগণ ও সরকারের মধ্যে দূরত্ব না বাড়ে। প্রধানমন্ত্রী সেটি বুঝতে পেরেছেন এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছেন। তার এই পদক্ষেপ সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হয়েছে। এখন এই পদক্ষেপের সফল বাস্তবায়ন প্রত্যাশা করছেন সবাই।‍
৪ ঘন্টা আগে
জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন নয়, এমন নিরাপত্তা কৌশল চান প্রধানমন্ত্রী

জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন নয়, এমন নিরাপত্তা কৌশল চান প্রধানমন্ত্রী

নিরাপত্তা কৌশল এমনভাবে বিন্যস্ত করা প্রয়োজন, যাতে তা সরকারপ্রধানকে জনগণ থেকে দূরে ঠেলে না দেয়—এমন নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, ‘নিরাপত্তা কৌশল এমনভাবে বিন্যাস করা জরুরি, জনগণ যাতে নিজেদেরকে সরকারপ্রধান থেকে বিচ্ছিন্ন মনে না করেন। একটি গণতান্ত্রিক সরকারের প্রধান হিসেবে আমি জনগণের বিশ্বাস এবং ভালোবাসার উপরে আমার আস্থা এবং নির্ভরতা বজায় রাখতে চাই। সুতরাং নিরাপত্তা কৌশল যাতে সরকারপ্রধানকে জনগণ থেকে দূরে ঠেলে না দেয়, সেদিকে বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখার জন্য আপনাদের প্রতি বিশেষভাবে আহ্বান জানাই।’ রোববার ঢাকা সেনানিবাসে প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের (পিজিআর) ৫১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী কেক কেটে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর উদ্বোধন করেন এবং পিজিআর সদর দপ্তরের একটি স্মারক বৃক্ষ রোপণ করেন। এ সময় তিনি চট্টগ্রামে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সঙ্গে শহীদ হওয়া ৫ পিজিআর সদস্যের পরিবারের খোঁজ নেন এবং তাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।সশস্ত্র বাহিনীকে দেশ ও জনগণের সাহস ও গৌরবের প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করে সরকারপ্রধান বলেন, ‘১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে সশস্ত্র বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা এ দেশের মানুষের সঙ্গে তাদের অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িয়ে রেখেছে। পিজিআরের কাজ অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং এবং যে কোনো কঠিন পরিস্থিতিতে তাদের দায়িত্ব পালন প্রশংসনীয়।’ ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাহিনীর আধুনিকায়নের ওপর জোর দিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘সাইবার যুদ্ধসহ বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সশস্ত্র বাহিনীকে আরও আধুনিক এবং প্রশিক্ষিত হওয়া জরুরি। এই লক্ষ্যে সরকার সশস্ত্র বাহিনীকে আরও আধুনিকায়নের উদ্যোগ নিয়েছে। তবে আধুনিক নিরাপত্তা কৌশল ও প্রযুক্তিগত দক্ষতার পাশাপাশি সাহস, সততা ও বিশ্বস্ততা অপরিহার্য।’ প্রধানমন্ত্রী দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, ‘সশস্ত্র বাহিনী যদি দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে কঠোর নিয়মানুবর্তিতা অনুসরণ করে এবং পেশাদারিত্ব বজায় রাখে, তাহলে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব কখনো হুমকির মুখে পড়বে না।’প্রধানমন্ত্রীর এই নির্দেশনা নিরাপত্তা ব্যবস্থার সঙ্গে জনগণের সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরে। সাধারণত নিরাপত্তা বলেই আমরা কঠোরতা, বাধা ও দূরত্বকে বুঝি। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করেছেন যে, নিরাপত্তা যেন জনগণের সঙ্গে যোগাযোগের বাধা না হয়ে ওঠে। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় জনগণের সঙ্গে শাসকের সম্পর্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই নিরাপত্তা কৌশলগুলোর মাধ্যমে জনগণের কাছে পৌঁছানোর পথ যেন বন্ধ না হয়, সেদিকে নজর দিতে বলেছেন তিনি। পিজিআরের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানে তার এই বক্তব্য সবার কাছে প্রশংসিত হয়েছে। অনেকে মনে করছেন, এটি একটি দূরদর্শী নির্দেশনা, যা শাসক ও জনগণের মধ্যে দূরত্ব কমাতে সহায়তা করবে। পিজিআর প্রধানের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানানো হয় এবং তাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। তারা প্রধানমন্ত্রীকে আশ্বস্ত করেন যে, তারা তাদের দায়িত্ব অত্যন্ত সততার সঙ্গে পালন করবেন এবং জনগণের কাছে সরকারপ্রধানকে পৌঁছে দেওয়ার কাজে সহায়তা করবেন। প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে পিজিআরের সদস্যদের আন্তরিকতাও প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, এই বাহিনী সর্বদা দেশের নিরাপত্তায় নিবেদিত। তাদের এই নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্ব দেশের জন্য গর্বের বিষয়। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী পিজিআর সদর দপ্তরের বিভিন্ন স্থাপনা পরিদর্শন করেন এবং সেখানে কর্মরত সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। তিনি তাদের উৎসাহিত করেন এবং দেশের প্রতি তাদের অবদানের জন্য ধন্যবাদ জানান। এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পিজিআরের ভূমিকা ও গুরুত্ব আরও স্পষ্ট হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর এই নির্দেশনা ভবিষ্যতে নিরাপত্তা কৌশল প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। নিরাপত্তার পাশাপাশি জনগণের স্বার্থও বিবেচনা করা হবে এমন একটি ভারসাম্য তৈরি করতে এই নির্দেশনা সহায়ক হবে। সব মিলিয়ে, প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্য সত্যিই সময়োপযোগী এবং প্রশংসনীয়। তিনি জনগণের প্রতি তার দায়িত্ব ও দায়বদ্ধতা স্পষ্ট করেছেন। তার এই উদ্যোগ আগামী দিনে আরও আলোচিত হবে এবং অন্যান্য সরকারের জন্যও উদাহরণ হয়ে থাকবে। জনগণের সঙ্গে শাসকের সম্পর্ক উন্নয়নে এই ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত জরুরি। প্রধানমন্ত্রী এই বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখেছেন এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন। এখন দেখার বিষয়, এই নির্দেশনা কীভাবে বাস্তবায়িত হয় এবং জনগণের কাছে সরকারের পৌঁছানো সহজ হয়। তবে আপাতত প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যকে ইতিবাচক হিসেবে দেখা হচ্ছে এবং সবাই আশা করছেন, এটি বাস্তবায়িত হবে। পিজিআর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এই বক্তব্য আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বাহিনীটি যেমন দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে, তেমনি প্রধানমন্ত্রী চান তারা জনগণের সঙ্গেও সরকারের যোগাযোগ রক্ষায় সহায়তা করুক। এই দ্বৈত দায়িত্ব পালনে পিজিআর সদস্যরা সক্ষম বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রধানমন্ত্রীর এই দিকনির্দেশনা আগামী দিনে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় নতুন দৃষ্টিভঙ্গি যোগ করবে। জনগণের কাছে সরকারপ্রধানকে পৌঁছে দেওয়ার এই প্রচেষ্টা সত্যিই প্রশংসনীয়। আশা করা যায়, এই উদ্যোগ জনগণের মধ্যে সরকারের প্রতি আস্থা বাড়াবে এবং গণতন্ত্রের চর্চা আরও সুদৃঢ় হবে। সব মিলিয়ে, প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্য একটি ইতিবাচক বার্তা বহন করছে। এটি প্রমাণ করে, তিনি জনগণের কাছাকাছি থাকতে চান এবং তাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রাখতে আগ্রহী। এই আগ্রহ ভবিষ্যতে আরও উন্নয়ন ও সংস্কারের পথ তৈরি করবে। জনগণের স্বার্থ ও নিরাপত্তা—উভয়কেই গুরুত্ব দিয়ে এই ভারসাম্য রক্ষা করা একটি চ্যালেঞ্জ। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত বলে মনে হচ্ছে। তার এই প্রস্তুতি দেশের জন্য শুভ লক্ষণ। এখন সময় বলবে, এই নির্দেশনা কতটা সফলভাবে বাস্তবায়িত হয় এবং জনগণের কাছে তা কী প্রভাব ফেলে। তবে আপাতত এই উদ্যোগকে স্বাগত জানাচ্ছেন সবাই। তারা আশা করছেন, প্রধানমন্ত্রীর এই চিন্তা ভবিষ্যতে আরও উন্নত নিরাপত্তা ব্যবস্থার ভিত্তি স্থাপন করবে। এই ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে জনগণ ও সরকারের মধ্যে সম্পর্ক আরও মজবুত হবে। তাহলেই গণতন্ত্র সফল হবে এবং দেশ এগিয়ে যাবে। প্রধানমন্ত্রীর এই দৃষ্টিভঙ্গি সত্যিই প্রশংসনীয় এবং সময়োপযোগী। এটি আগামী দিনের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা। এখন সেই দিকনির্দেশনা বাস্তবায়নের পালা। সংশ্লিষ্ট সবাই এই কাজে আন্তরিক হলে দেশ অবশ্যই উপকৃত হবে। সব মিলিয়ে, এটি একটি ইতিবাচক শুরু। ভবিষ্যতে আরও এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়া উচিত যাতে জনগণ ও সরকারের মধ্যে দূরত্ব না বাড়ে। প্রধানমন্ত্রী সেটি বুঝতে পেরেছেন এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছেন। তার এই পদক্ষেপ সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হয়েছে। এখন এই পদক্ষেপের সফল বাস্তবায়ন প্রত্যাশা করছেন সবাই।‍
৪ ঘন্টা আগে
ইরানের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করল হামাস, খামেনির জানাজায় প্রতিনিধি দল

ইরানের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করল হামাস, খামেনির জানাজায় প্রতিনিধি দল

যুদ্ধক্ষেত্র ও আলোচনার টেবিলে ‘বড় ধরনের জয়ের’ জন্য ইরানকে অভিনন্দন এবং এই অর্জনকে গোটা ‘রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট’ বা প্রতিরোধ অক্ষ এবং সমগ্র মুসলিম উম্মাহর বিজয় বলে আখ্যায়িত করেছেন হামাসের লিডারশিপ কাউন্সিলের প্রধান মুহাম্মদ দারবিশ। ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজায় অংশ নিতে মুহাম্মদ দারবিশের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল ইরানের রাজধানী তেহরান সফর করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধে আয়াতুল্লাহ খামেনি, তার পরিবারের সদস্য এবং জ্যেষ্ঠ রাজনৈতিক ও সামরিক কর্মকর্তাদের শাহাদাতে ইরানের নেতা, সরকার ও জনগণের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে হামাসের এই প্রতিনিধিদল। ফিলিস্তিনের পবিত্র মুক্তিসংগ্রামের প্রতি সমর্থন এবং দখলদারি ও ইসরাইলি অপরাধের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনিদের বৈধ প্রতিরোধের পক্ষে নিহত সর্বোচ্চ নেতার ‘নীতিগত ও সাহসী অবস্থানের’ ভূয়সী প্রশংসা করেন মুহাম্মদ দারবিশ।এছাড়া, হামাস প্রতিনিধিদলটি গাজায় ফিলিস্তিনিদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া ‘চরম অমানবিক পরিস্থিতি’ এবং পশ্চিম তীরে ইসরাইলের অব্যাহত অপরাধযজ্ঞ সম্পর্কে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিকে অবহিত করে। ফিলিস্তিনিদের ওপর চালানো গণহত্যার মুখে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর নীরবতা ও নিষ্ক্রিয়তাকে ‘বিপর্যয়কর’ বলে বর্ণনা করে তারা। একই সঙ্গে দখলদারদের অপরাধযজ্ঞ বন্ধ করতে এবং ইসরাইল সরকারকে বিচারের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর জোর দেয় প্রতিনিধিদলটি। অন্যদিকে জানাজায় অংশ নেওয়ার জন্য ফিলিস্তিনের প্রতিরোধ গোষ্ঠীগুলোকে ধন্যবাদ জানান ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার আদায় এবং আল-কুদসকে (জেরুজালেম) রাজধানী করে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত তাদের প্রতি ইরানের অব্যাহত সমর্থনের নীতিগত অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।হামাস ও ইরানের মধ্যে এই সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। ইরান হামাসকে অর্থনৈতিক, সামরিক ও কূটনৈতিক সহায়তা দিয়ে আসছে। এই সম্পর্কের মূল ভিত্তি হলো ইসরায়েল বিরোধী অবস্থান। হামাস ইরানের কাছ থেকে অস্ত্র, প্রশিক্ষণ ও তহবিল পেয়ে থাকে। অন্যদিকে, ইরান ফিলিস্তিন সংগ্রামকে তার নিজস্ব রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্টের অংশ হিসেবে দেখে। এই সম্পর্ক ইরানের আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারের অংশ। খামেনির মৃত্যুতে হামাসের এই সমবেদনা জানানো ও ইরানের প্রতি সমর্থন প্রকাশ তাদের সম্পর্কের গভীরতা প্রমাণ করে। ইরানও ফিলিস্তিন ইস্যুতে তার অবস্থান থেকে সরে আসেনি। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ফিলিস্তিনিদের পক্ষে কণ্ঠ দেওয়া ইরানের কৌশলগত অংশ। এই পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র এই সম্পর্ককে তাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখে। কিন্তু ইরান ও হামাস তাদের এই অবস্থানে অনড়। তারা ইসরায়েলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেছে। গাজা ও পশ্চিম তীরের পরিস্থিতি দিন দিন খারাপ হচ্ছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নীরবতা ফিলিস্তিনিদের জন্য হুমকি। হামাস ও ইরান এই নীরবতার বিরুদ্ধে সোচ্চার। তারা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফিলিস্তিনিদের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত ইরান তাদের পাশে থাকবে। এই অঙ্গীকার হামাস ও অন্যান্য প্রতিরোধ গোষ্ঠীকে শক্তি যুগায়। তারা ইসরায়েলের সঙ্গে লড়াই চালিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত হয়। এই সম্পর্ক আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করে। কিন্তু ইরান ও হামাস তাদের লক্ষ্য থেকে পিছপা হবে না। তারা তাদের আদর্শ ও স্বার্থ রক্ষায় লড়াই চালিয়ে যাবে। এই লড়াইয়ের মূল কেন্দ্র হলো ফিলিস্তিন। ফিলিস্তিনিদের স্বাধীনতা অর্জনের এই সংগ্রাম দীর্ঘদিনের। ইরান ও হামাস এই সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তাদের এই ভূমিকা আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিসরে গুরুত্বপূর্ণ। আগামী দিনগুলোতে এই সম্পর্ক আরও জোরদার হতে পারে। এতে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনা তৈরি হতে পারে। তবে ফিলিস্তিনিদের প্রতি সমর্থন তাদের মূল লক্ষ্য। এই লক্ষ্য অর্জনে তারা সব বাধা অতিক্রম করবে। তাদের এই অঙ্গীকার ফিলিস্তিনিদের জন্য আশার আলো। তারা বিশ্বাস করে, ইরানের সহায়তায় তারা তাদের অধিকার আদায় করতে পারবে। এই বিশ্বাস তাদের লড়াই চালিয়ে যেতে শক্তি যোগায়। খামেনির মৃত্যুতে হামাসের এই সমবেদনা তাদের সম্পর্কের একটি নতুন অধ্যায়। এই অধ্যায় ইরান ও ফিলিস্তিনের মধ্যে সম্পর্ককে আরও গভীর করবে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের এই সম্পর্ক পর্যবেক্ষণ করা উচিত। কারণ, এটি মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ইরান ও হামাসের এই সম্পর্ক শুধু সামরিক সহায়তার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটি একটি আদর্শিক সম্পর্ক, যা ফিলিস্তিনিদের স্বাধীনতার স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করতে সহায়তা করছে। এই সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী হবে বলে ধারণা করা যায়। ইরান ও হামাসের এই সম্পর্ক আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্য পরিবর্তন করতে পারে। তাই এই সম্পর্কের দিকে সবার নজর থাকা উচিত। এটা মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা ও শান্তির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু ইরান ও হামাস তাদের অবস্থানে অটল। তারা ফিলিস্তিনিদের স্বাধীনতার জন্য লড়াই চালিয়ে যাবে। এই লড়াই তারা শেষ পর্যন্ত চালিয়ে যাবে বলে তারা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। তাদের এই প্রতিজ্ঞা তাদের শক্তির উৎস। তারা এ শক্তি দিয়ে সব বাধা অতিক্রম করবে। ফিলিস্তিনিদের স্বাধীনতার স্বপ্ন বাস্তবায়নে তারা সফল হবে বলে তারা আশাবাদী। এই আশাবাদ তাদের লড়াই চালিয়ে যেতে সাহায্য করে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফিলিস্তিনিদের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেছেন, ফিলিস্তিনিদের স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত ইরান তাদের পাশে থাকবে। এই অঙ্গীকার ফিলিস্তিনিদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তারা ইরানের এই সমর্থনকে তাদের শক্তি হিসেবে দেখে। ইরানের এই সমর্থন ফিলিস্তিনিদের মনোবল বাড়ায়। তারা ইরানের সহায়তায় ইসরায়েলের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যেতে পারে। এই লড়াই ফিলিস্তিনিদের স্বাধীনতার জন্য অত্যন্ত জরুরি। ইরান ও হামাস এই লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। তাদের এই অংশীদারিত্ব ফিলিস্তিনিদের স্বাধীনতার পথ সুগম করবে। এই পথ সুগম করতে তারা সব ধরনের সহায়তা দিতে প্রস্তুত। তাদের এই প্রস্তুতি ফিলিস্তিনিদের জন্য আশীর্বাদ। তারা এই সহায়তায় ফিলিস্তিনিদের স্বাধীনতা অর্জন করবে বলে তারা বিশ্বাস করে। এই বিশ্বাস তাদের লড়াই চালিয়ে যেতে শক্তি যোগায়। তারা এই লড়াই চালিয়ে ফিলিস্তিনিদের স্বাধীনতা অর্জন করবে বলে তারা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। তাদের এই প্রতিজ্ঞা ফিলিস্তিনিদের জন্য একটি শক্তিশালী বার্তা। এই বার্তা ফিলিস্তিনিদের আশা জাগায়। তারা ইরানের সহায়তায় তাদের স্বাধীনতা অর্জন করবে বলে তারা আশা করে। এই আশা তাদের লড়াই চালিয়ে যেতে সাহায্য করে। ইরান ও হামাসের এই সম্পর্ক ফিলিস্তিনিদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সম্পর্ক তাদের স্বাধীনতার পথ সুগম করবে। এই পথ সুগম করতে তারা সব ধরনের সহায়তা দিতে প্রস্তুত। তাদের এই প্রস্তুতি ফিলিস্তিনিদের জন্য আশীর্বাদ। তারা এই সহায়তায় ফিলিস্তিনিদের স্বাধীনতা অর্জন করবে বলে তারা বিশ্বাস করে। এই বিশ্বাস তাদের লড়াই চালিয়ে যেতে শক্তি যোগায়। তারা এই লড়াই চালিয়ে ফিলিস্তিনিদের স্বাধীনতা অর্জন করবে বলে তারা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। তাদের এই প্রতিজ্ঞা ফিলিস্তিনিদের জন্য একটি শক্তিশালী বার্তা। এই বার্তা ফিলিস্তিনিদের আশা জাগায়। তারা ইরানের সহায়তায় তাদের স্বাধীনতা অর্জন করবে বলে তারা আশা করে। এই আশা তাদের লড়াই চালিয়ে যেতে সাহায্য করে।
৬ ঘন্টা আগে
১৫ এপ্রিল ২০২৬, ১২:১১ এএম
আপনি কি মনে করেন বিএনপি জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর ও শব্দ বাস্তবায়ন করবে?

আপনি কি মনে করেন বিএনপি জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর ও শব্দ বাস্তবায়ন করবে?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ জন
১৪ মাস পর দেশজুড়ে শুরু হচ্ছে ভিটামিন এ ক্যাম্পেইন, ২ কোটি ৩৫ লাখ শিশু পাবে ক্যাপসুল

১৪ মাস পর দেশজুড়ে শুরু হচ্ছে ভিটামিন এ ক্যাম্পেইন, ২ কোটি ৩৫ লাখ শিশু পাবে ক্যাপসুল

প্রায় ১৪ মাস পর দেশব্যাপী ভিটামিন এ ক্যাপসুল ক্যাম্পেইন শুরু হতে যাচ্ছে। অন্ধত্ব প্রতিরোধসহ শিশুদের পুষ্টিহীনতা দূরীকরণের লক্ষ্যে আয়োজিত এই বিশেষ ক্যাম্পেইন ২৮ জুন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলবে। এদিন ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী ২ কোটি ৩৫ লাখের বেশি শিশুকে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। তবে ১২টি জেলার ৫৮টি উপজেলার ২৯০টি ইউনিয়নের ৭১৪টি ওয়ার্ডের দুর্গম অঞ্চলে ক্যাম্পেইন-পরবর্তী চার দিন ‘চাইল্ড টু চাইল্ড সার্চিং’ কার্যক্রম চালানো হবে। জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক মোহাম্মদ ইউনুস আলী বাসসকে এ তথ্য জানিয়েছেন।ক্যাম্পেইন বাস্তবায়নের দায়িত্বে আছে জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, এবারের ক্যাম্পেইনে ২ কোটি ৩৫ লাখ ১৪ হাজার ৯৭২টি শিশুকে অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬ মাস থেকে ১১ মাস বয়সী শিশুদের সংখ্যা (যাদের নীল রঙের ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে) ২৮ লাখ ৩৮ হাজার ৭৯৪ জন। ১২ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের সংখ্যা (যাদের লাল রঙের ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে) ২ কোটি ৫ লাখ ৭৬ হাজার ১৭৮ জন। এ বিষয়ে জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক মোহাম্মদ ইউনুস আলী বলেন, ২৮ জুন দেশব্যাপী ভিটামিন এ ক্যাপসুল ক্যাম্পেইন আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। বাস্তবায়নের জন্য ইতিমধ্যে ১ লাখ ২০ হাজার কেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে। এগুলো ইপিআইয়ের নিয়মিত কেন্দ্র। এ ছাড়া আরও ৫০০টি মোবাইলকেন্দ্র (লঞ্চঘাট, ফেরিঘাট, রেলস্টেশন, বাসস্টেশন ইত্যাদি) স্থাপন করা হয়েছে। ভিটামিন এ ক্যাপসুল ইতিমধ্যে হাতে এসে পৌঁছেছে বলে জানান মোহাম্মদ ইউনুস আলী। তিনি বলেন, ‘ক্যাম্পেইন বাস্তবায়নের জন্য আমরা সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিচ্ছি। আশা করছি, ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের অভিভাবকেরা কাছাকাছি কেন্দ্রগুলোয় গিয়ে তাঁদের সন্তানদের ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানোর ব্যবস্থা করবেন।’স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে, ২৮ জুন সকালে রাজধানীর শাহবাগের আবু সাঈদ কনভেশন সেন্টারে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন ভিটামিন এ ক্যাপসুল ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করবেন। অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত, প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক উপদেষ্টা এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার উপস্থিত থাকবেন। এ ছাড়া জেলা-উপজেলা পর্যায়ে স্থানীয় সংসদ সদস্যরা স্থানীয় প্রশাসনকে সঙ্গে নিয়ে ভিটামিন এ ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করবেন। মাঠকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকদের মাধ্যমে মাঠপর্যায়ে ক্যাম্পেইন বাস্তবায়ন করা হবে। জেলা-উপজেলা পর্যায়ে সিভিল সার্জন এবং উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তারা (নিজেদের টিমের মাধ্যমে) স্থানীয় পর্যায়ে মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে কর্মকর্তাদের মাঠপর্যায়ে তদারকির কাজ সম্পন্ন করতে মন্ত্রণালয় নির্দেশ দিয়েছে।জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিয়ম অনুসারে বছরে দুবার ভিটামিন এ ক্যাপসুলের ক্যাম্পেইন হওয়ার কথা। তবে ক্যাপসুলসংকটে গত বছরের মার্চ মাসের পর থেকে তা আর হয়নি। দীর্ঘ ১৪ মাস পর ২৮ জুন এই ক্যাম্পেইন হচ্ছে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, ‘দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা ভিটামিন এ ক্যাপসুল ক্যাম্পেইন আমরা আবার হাতে নিয়েছি। ক্যাম্পেইনটি সফল করতে সবাইকে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানাচ্ছি।’ ক্যাম্পেইনের দিন পরিবারের ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী সব শিশুকে কাছের কেন্দ্রে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টার মধ্যে নিয়ে গিয়ে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো নিশ্চিত করতে অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের প্রচারপত্রে বলা হয়েছে, ভিটামিন এ শিশুর জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, ভিটামিন এ শুধু অপুষ্টিজনিত অন্ধত্ব থেকে শিশুদের রক্ষা করে না; বরং তা রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ায়। দীর্ঘমেয়াদি ডায়রিয়া থেকে শিশুকে সুরক্ষা দেয়। শিশুর মৃত্যুঝুঁকি কমায়। শিশুদের অন্ধত্ব ও পুষ্টিহীনতা দূর করতে বাংলাদেশে ১৯৭৩ সাল থেকে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো শুরু হয়। তখন এটি ‘জাতীয় রাতকানা রোগপ্রতিরোধ কার্যক্রম’ নামে পরিচিত ছিল। ১৯৯৫ সালে কার্যক্রমটি আরও শক্তিশালী করতে জাতীয় টিকাদান দিবসের সঙ্গে ভিটামিন এ কর্মসূচি যুক্ত করা হয়। ২০০৩ সাল থেকে এর নাম দেওয়া হয় ‘জাতীয় ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইন’। ২০১১ সালে এটি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জাতীয় পুষ্টিসেবা (এনএনএস) কার্যক্রমের আওতাভুক্ত করা হয়। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘ ১৪ মাস বিরতির পর এই ক্যাম্পেইন শিশুদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অভিভাবকদের উদ্দেশে তারা বলেছেন, নির্ধারিত দিনে শিশুদের ক্যাপসুল খাওয়ানোর জন্য কেন্দ্রে নিয়ে যেতে হবে। কেন্দ্রে যেসব শিশুর উপস্থিতি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না, তাদের জন্য ‘চাইল্ড টু চাইল্ড সার্চিং’ কার্যক্রমের মাধ্যমে ক্যাপসুল পৌঁছে দেওয়া হবে। এই কর্মসূচি সফল করতে মাঠ পর্যায়ে স্বাস্থ্য কর্মীদের পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবকরাও কাজ করবেন বলে জানিয়েছে জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠান।
২৪ জুন ২০২৬
বাংলা কিউআর: একটি কোডেই সব ডিজিটাল লেনদেন

বাংলা কিউআর: একটি কোডেই সব ডিজিটাল লেনদেন

শপিংমল হোক কিংবা মুদির দোকান—টাকা পরিশোধের সময় বিকাশ, নগদ, রকেট অথবা অনলাইন ব্যাংকিং সেবার আলাদা আলাদা কিউআর কোড খোঁজার দিন শেষ। এখন একটি মাত্র কিউআর কোড স্ক্যান করেই যেকোনো গ্রাহক ব্যাংক বা মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) অ্যাপ থেকে অর্থ পরিশোধ করতে পারবে বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘বাংলা কিউআর’ ব্যবহার করে।বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত ৩০ জুনে সরকার কর্তৃক এই সর্বজনীন কিউআর কোড-ভিত্তিক সেবাটি সর্বত্র বাধ্যতামূলক করার মাত্র দুই কার্যদিবসের মধ্যেই ৭৭ হাজার ১৬৫টি লেনদেনে মোট ২২ কোটি ২ লাখ টাকার বেশি আর্থিক পরিশোধ হয়েছে। দেশের বিচ্ছিন্ন ডিজিটাল লেনদেন ব্যবস্থাকে একক প্ল্যাটফর্মে এনে জনসাধারণের জন্য একটি নিরাপদ, স্বচ্ছ ও সহজ লেনদেন ব্যবস্থার মাধ্যমে ‘ক্যাশলেস ইকোনমি’ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।বাংলা কিউআর হলো বাংলাদেশ ব্যাংকের ইন্টার-অপারেবল জাতীয় কিউআর পেমেন্ট স্ট্যান্ডার্ড, যা প্রচলিত সকল মোবাইল ব্যাংকিং সেবাকে একটিমাত্র কিউআর কোডের আওতায় আনার মাধ্যমে সর্বজনীন পেমেন্ট ব্যবস্থা চালু করেছে। আগে বিভিন্ন ব্যাংক ও এমএফএস প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব কিউআর কোড থাকায় একজন গ্রাহক কেবল সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অ্যাপ দিয়েই অর্থ পরিশোধ করতে পারতেন। নতুন এই ব্যবস্থায় একজন ব্যবসায়ীর শুধু এই একটি কিউআর কোড তার কাছে বা দোকানে রাখলেই চলবে। এই একটি কিউআর স্ক্যান করে বিকাশ, নগদ, রকেট অথবা যেকোনো ব্যাংকিং সেবার মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে মূল্য পরিশোধ করা যাবে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এতে যেমন ব্যবসায়ীদের একাধিক কিউআর ব্যবহারের ঝামেলা ও ব্যয় কমবে, গ্রাহকদের জন্যও ডিজিটাল পেমেন্ট আরও সহজ ও সর্বজনীন হবে। বর্তমানে ৪৬টি ব্যাংক, সাতটি এমএফএস এবং চারটি পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডার এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত রয়েছে এবং প্রায় ৯ লাখ ৬৩ হাজার ছোট-বড় ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তা বাংলা কিউআর ব্যবহার করছেন।বাংলা কিউআর ব্যবহার করতে আলাদা কোনো অ্যাপের প্রয়োজন নেই। প্রথমে স্মার্টফোনে ব্যবহৃত ব্যাংক বা মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (যেমন- বিকাশ, নগদ, রকেট ইত্যাদি) অ্যাপটি খুলে ‘স্ক্যান কিউআর’ বা ‘পে উইথ কিউআর’ অপশনে যেতে হবে। এরপর ব্যবসায়ীর দোকানে প্রদর্শিত বাংলা কিউআর কোডটি স্ক্যান করলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্যবসায়ীর তথ্য ও লেনদেনের বিবরণ পর্দায় দেখা যাবে। যদি কিউআর কোডটি স্ট্যাটিক হয়, তাহলে গ্রাহককে পরিশোধের পরিমাণ নিজে লিখতে হবে; আর ডাইনামিক হলে বিলের পরিমাণ স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রদর্শিত হবে। এরপর সতর্কতার সঙ্গে সব তথ্য যাচাই করে পিন, ফিঙ্গারপ্রিন্ট বা অন্যান্য নিরাপত্তা যাচাইকরণের মাধ্যমে লেনদেন নিশ্চিত করলেই কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে অর্থ গ্রাহকের অ্যাকাউন্ট থেকে ব্যবসায়ীর হিসাবে যোগ হবে। পুরো প্রক্রিয়াটি বাংলাদেশ ব্যাংকের ন্যাশনাল পেমেন্ট সুইচ বাংলাদেশ (এনপিএসবি)-এর মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে সম্পন্ন হয়।সাম্প্রতিক সময়ে বাংলা কিউআর পেমেন্টে অতিরিক্ত চার্জ কাটা নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে পড়লেও বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান তথ্যটিকে ভুল বলে জানিয়েছেন। তিনি জানান, কেনাকাটার ক্ষেত্রে গ্রাহককে কোনো চার্জ দিতে হবে না; ক্রেতা হিসেবে শূন্য শতাংশ চার্জ দিয়েই পণ্য ক্রয় করা যাবে। তবে এই চার্জ দিতে হবে বিক্রেতাকে, অর্থাৎ মার্চেন্টকে। বিক্রেতা বা মার্চেন্টের খরচ হবে ১ হাজার টাকায় সর্বোচ্চ ১০ টাকা + ১৫ শতাংশ ভ্যাট, অর্থাৎ সর্বোচ্চ ১ শতাংশ হারে চার্জ প্রযোজ্য হবে। ফলে মার্চেন্টের খরচ হিসেবে গণ্য হবে মোট ১১ টাকা ৫০ পয়সা।এলাকার চায়ের দোকান, মুদির দোকান থেকে শুরু করে শপিংমল, সিনেমা হল, অ্যামিউজমেন্ট পার্কসহ যেকোনো গণপরিবহনের ভাড়া পরিশোধ—বাংলা কিউআরের আওতাভুক্ত যেকোনো ব্যবসা বা আর্থিক লেনদেনেই এটি ব্যবহার করা যাবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের এই উদ্যোগের লক্ষ্য শুধু নগদ অর্থের ব্যবহার কমানো নয়, বরং মুদ্রা ছাপানোর ব্যয় হ্রাস, আর্থিক লেনদেনে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং সর্বজনীন ডিজিটাল পেমেন্টের অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করা। ভবিষ্যতে সরকারি সেবার সব ধরনের অর্থ পরিশোধেও বাংলা কিউআর বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে ইন্টারনেট ছাড়াই কিউআরভিত্তিক লেনদেন চালুর বিষয়েও কাজ চলছে। এ ছাড়া নিম্নআয়ের মানুষের জন্য কিস্তিতে প্রায় ৩০ হাজার স্মার্টফোন সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যেন আরও বেশি মানুষ ডিজিটাল লেনদেনের আওতায় আসতে পারেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের অন্যতম চ্যালেঞ্জ হবে কিউআর কোডের নবাগত ধারণাটি তৃণমূল পর্যায়ে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং গ্রামীণ গ্রাহকদের জন্য ইন্টারনেট ও স্মার্টফোনের আবশ্যকতার বিকল্প বের করা।
০৮ মে ২০২৬
সুদমুক্ত অর্থনীতি চালুর প্রস্তাব ও জুডিশিয়াল কিলিং-এর বিচার দাবি জামায়াত এমপির

সুদমুক্ত অর্থনীতি চালুর প্রস্তাব ও জুডিশিয়াল কিলিং-এর বিচার দাবি জামায়াত এমপির

০৮ মে ২০২৬
নতুন নকিয়া ১১০ পাওয়ার: এক চার্জে ১৫ দিন, দাম ২৮৯৯ টাকা

নতুন নকিয়া ১১০ পাওয়ার: এক চার্জে ১৫ দিন, দাম ২৮৯৯ টাকা

নকিয়ার চিরচেনা ফিচার ফোনের ঐতিহ্যকে আধুনিক রূপে ফিরিয়ে এনে বাংলাদেশে উৎপাদিত নতুন ‘নকিয়া ১১০ পাওয়ার’ উন্মোচন করা হয়েছে। ফোনটি একবার চার্জে ১৫ দিন চলবে, দাম ২ হাজার ৮৯৯ টাকা। মুঠোফোনের ইতিহাসে সবচেয়ে জনপ্রিয় ও সর্বাধিক বিক্রিত মডেলগুলোর একটি নকিয়া ১১০। সেই পরিচিত ফোনটিই এবার নতুন রূপে ফিরেছে বাংলাদেশের বাজারে। দীর্ঘস্থায়ী ব্যাটারি, বড় পর্দা ও পরিচিত নকশার সমন্বয়ে উন্মোচন করা হয়েছে নতুন নকিয়া ১১০ পাওয়ার।সম্প্রতি রাজধানীর গুলশান শুটিং ক্লাবে আয়োজিত দিনব্যাপী বিক্রয় প্রতিনিধি সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে ফোনটি উন্মোচন করা হয়। এর আয়োজন করে বাংলাদেশে নকিয়া ফোনের একমাত্র উৎপাদনকারী ও পরিবেশক প্রতিষ্ঠান সেলেক্সট্রা লিমিটেড। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এইচএমডি বাংলাদেশের বিজনেস ম্যানেজার কাজী আল আমিন, সেলেক্সট্রার ব্যবস্থাপনা পরিচালক রিয়াজুল ইসলাম, হেড অব সেলস মামুন খান, চিফ বিজনেস অফিসার মোহাম্মদ আসিফ আলমগীর প্রমুখ। অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, দেশে উৎপাদিত এই নতুন মডেলটি নকিয়ার ঐতিহ্যকে ধরে রেখে আধুনিক ব্যবহারকারীদের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তৈরি করা হয়েছে। নতুন নকিয়া ১১০ পাওয়ারের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ এর শক্তিশালী ১৭৫০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার ব্যাটারি। নির্মাতাদের দাবি, একবার পূর্ণ চার্জে ফোনটি টানা ১৫ দিন পর্যন্ত সচল থাকতে পারবে। ফলে নিয়মিত চার্জ দেওয়ার ঝামেলা ছাড়াই দীর্ঘ সময় ব্যবহার করা যাবে ফোনটি।ফিচার ফোন হলেও এতে রয়েছে দুই ইঞ্চি পর্দা, যা আগের অনেক মডেলের তুলনায় বড় ও ব্যবহারবান্ধব। ফোনটির পেছনে থাকা ক্যামেরার সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে এলইডি ফ্ল্যাশ, যা অল্প আলো বা অন্ধকার পরিবেশেও ছবি তুলতে সহায়তা করবে। নকিয়ার পুরোনো ব্যবহারকারীদের জন্য সুখবর হলো নতুন এই ফোনেও রাখা হয়েছে একসময়ের জনপ্রিয় স্নেক গেম। ফলে প্রযুক্তির আধুনিকতার পাশাপাশি নস্টালজিয়ার ছোঁয়াও মিলবে ডিভাইসটিতে। নকিয়া ১১০ পাওয়ার বাজারে আনা হয়েছে নীল, ধূসর ও বেগুনি—এই তিন রঙে।প্রসঙ্গত, নকিয়ার আসল ফোন দেখে কিনতে জানিয়েছেন নির্মাতারা। আপনার কেনা ফোনটি আসল কি না, তা যাচাই করতে মুঠোফোনের আইএমইআই নম্বর লিখে ‘KYD <স্পেস> ১৫ সংখ্যার আইএমইআই নম্বর’ টাইপ করে ১৬০০২ নম্বরে এসএমএস পাঠাতে হবে। ফিরতি এসএমএস ডিভাইসটির বৈধ বা নকলের তথ্য পাওয়া যাবে। নকিয়া ১১০ পাওয়ারকে বাংলাদেশের বাজারে ফিচার ফোনের মধ্যে অন্যতম সেরা বিকল্প হিসেবে দেখা হচ্ছে। এটির দাম ২ হাজার ৮৯৯ টাকা হওয়ায় এটি সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রয়েছে। বিশেষ করে যারা শুধু কল, এসএমএস এবং কিছু মৌলিক কাজের জন্য ফোন ব্যবহার করেন, তাদের জন্য এটি একটি চমৎকার পছন্দ। এর শক্তিশালী ব্যাটারি, বড় পর্দা, স্নেক গেমের নস্টালজিয়া এবং এলইডি ফ্ল্যাশ সহ ক্যামেরা ফোনটিকে আকর্ষণীয় করে তুলেছে। সেলেক্সট্রা লিমিটেড জানিয়েছে, তারা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এই ফোনের বিক্রি বাড়াতে কাজ করছে। তারা গ্রাহকদের সন্তুষ্টি এবং আফটার-সেলস সার্ভিস নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। নকিয়া ১১০ পাওয়ার উন্মোচনের পর থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফোনটির ব্যাপক আলোচনা হচ্ছে। অনেকে তাদের পুরোনো দিনের কথা স্মরণ করে এই ফোন কেনার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। আগামী কয়েক সপ্তাহে ফোনটির বিক্রি ভালো হতে পারে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা। নকিয়া বাংলাদেশে তাদের ফিচার ফোনের বাজার ধরে রাখতে আরও নতুন মডেল আনতে পারে বলে গুঞ্জন রয়েছে। ফোনটির বিষয়ে বিস্তারিত জানতে গ্রাহকরা সেলেক্সট্রার অফিসিয়াল ওয়েবসাইট বা নিকটস্থ মোবাইল ফোনের দোকানে যোগাযোগ করতে পারেন। নকিয়ার এই নতুন যাত্রা বাংলাদেশের মোবাইল বাজারে একটি ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
২৯ জুন ২০২৬
কোন ছবি নেই !
কোন ছবি নেই !
নাগরিকত্বের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সন্তান জন্ম দেওয়া ভিসা শর্তের পরিপন্থি: মার্কিন দূতাবাস

নাগরিকত্বের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সন্তান জন্ম দেওয়া ভিসা শর্তের পরিপন্থি: মার্কিন দূতাবাস

ক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পাওয়ার উদ্দেশ্যে দেশটিতে গিয়ে সন্তান জন্ম দেওয়া এখন থেকে ভিসার শর্তের পরিপন্থি হিসেবে গণ্য হবে। এমন উদ্দেশ্যে কেউ ভিসা আবেদন করলে তা সরাসরি বাতিল করা হবে বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে মার্কিন দূতাবাস।বুধবার সকালে দূতাবাসের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বিশেষ সতর্কবার্তায় এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।কী বলছে দূতাবাসের সতর্কবার্তাদূতাবাসের পোস্টে উল্লেখ করা হয়, কোনো ব্যক্তি যদি মূলত সন্তানের মার্কিন নাগরিকত্ব নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের পরিকল্পনা করেন, তবে তা দেশটির বর্তমান ভিসা নীতিমালার পরিপন্থি।কনস্যুলার কর্মকর্তারা যদি সাক্ষাৎকার বা তদন্তের মাধ্যমে বুঝতে পারেন যে আবেদনকারীর মূল লক্ষ্য সন্তান জন্ম দিয়ে নাগরিকত্ব অর্জন, তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ট্যুরিস্ট ভিসা আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হবে।সতর্কবার্তায় আরও বলা হয়, এ ধরনের কার্যক্রম মার্কিন ভিসা নীতিমালার গুরুতর লঙ্ঘন। তাই আবেদনকারীদের শুধু প্রকৃত এবং সঠিক উদ্দেশ্য উল্লেখ করে আবেদন করার আহ্বান জানিয়েছে দূতাবাস।কঠোর সতর্কতাভিসা পাওয়ার জন্য ভুল তথ্য প্রদান বা ভিসার শর্ত ভঙ্গ করলে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের ক্ষেত্রে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা বা নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলেও সতর্কবার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে।অর্থাৎ, কেউ যদি এ উদ্দেশ্যে ভিসা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সন্তান জন্ম দেন এবং তা প্রমাণিত হয়, তাহলে পরবর্তীতে তার যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়া পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যেতে পারে।যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে জন্ম নিলে সন্তান স্বয়ংক্রিয়ভাবে সে দেশের নাগরিক হয় – এই সুযোগ কাজে লাগাতে অনেকেই আগে ট্যুরিস্ট ভিসায় গিয়ে সন্তান প্রসব করতেন। এখন থেকে সেই পথ কার্যকরীভাবে বন্ধ করে দিলো মার্কিন দূতাবাস। শুধু ভিসা বাতিল নয়, ভবিষ্যতেও যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞার হুঁশিয়ারি দেওয়ায় এই সিদ্ধান্তকে ‘চরম কঠোর’ বলছেন অভিবাসন বিশ্লেষকরা। ফলে আবেদনকারীদের এখন ভিসা আবেদনের আগে তিনবার ভাবতে হবে।
০৮ মে ২০২৬
ইতিহাসের অবহেলিত বীর: মোহাম্মদ আব্দুল্লাহর গল্প

ইতিহাসের অবহেলিত বীর: মোহাম্মদ আব্দুল্লাহর গল্প

আমরা যারা বাংলাদেশের মানুষ, ছোটবেলা থেকে পাঠ্যবইয়ে ক্ষুদিরাম বসুর বীরত্বগাথা পড়ে বড় হয়েছি। ফাঁসির মঞ্চে যাওয়ার আগে তাঁর সেই বিখ্যাত গান—"একবার বিদায় দে মা ঘুরে আসি"—শোনেনি এমন বাঙালি খুঁজে পাওয়া দায়। ক্ষুদিরাম আমাদের আবেগ, আমাদের জাতীয় বীর। কিন্তু বুকে হাত দিয়ে বলুন তো, "মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ" নামটা আমাদের কয়জন জানি? অথচ এই আব্দুল্লাহও ছিলেন একজন বাঙালি উপমহাদেশীয় বিপ্লবী, যিনি ব্রিটিশদের বুকে কাঁপন ধরিয়ে দিয়েছিলেন। ক্ষুদিরামের আন্দোলনের মাত্র কয়েক দশক আগে, ১৮৭১ সালে কলকাতার টাউন হলের সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে এই আব্দুল্লাহ একাই বুক চিতিয়ে হত্যা করেছিলেন তৎকালীন ফোর্ট উইলিয়াম হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি জন প্যাক্সটন নরম্যানকে—যে বিচারক বিপ্লবীদের কঠোর সাজা ও ফাঁসি দেওয়ার জন্য কুখ্যাত ছিলেন।১৮৭১ সালের ২১ নভেম্বর কলকাতার টাউন হলে এক রাজকীয় অনুষ্ঠান চলছিল। সেখানে উপস্থিত ছিলেন ফোর্ট উইলিয়াম হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি স্যার জন প্যাক্সটন নরম্যান। অনুষ্ঠান শেষে তিনি যখন টাউন হলের সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামছিলেন, তখন আব্দুল্লাহ তাঁর পথ রোধ করেন। তিনি নরম্যানের বুকে একটি ছুরি দিয়ে আঘাত করেন, যা ছিল এতটাই নিখুঁত ও মারাত্মক যে নরম্যান ঘটনাস্থলেই মারা যান। আব্দুল্লাহকে সঙ্গে সঙ্গে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তাকে ফাঁসি দেওয়া হয়। অথচ ক্ষুদিরাম বসু ১৯০৮ সালে কিংসফোর্ডকে মারতে গিয়ে বোমা ছুড়েছিলেন, কিন্তু ভুলবশত দুজন নিরীহ ইউরোপীয় নারী মারা যান, কিংসফোর্ড বেঁচে যান। আর আব্দুল্লাহ একাই একটি ছুরি হাতে সরাসরি তাঁর মূল টার্গেট, ব্রিটিশদের প্রধান বিচারপতিকে খতম করেছিলেন। ফলাফল দুজনেরই ব্রিটিশদের ফাঁসির দড়ি।তাহলে আজ বাংলাদেশের ইতিহাস চর্চায় কেন এই আকাশ-পাতাল বৈষম্য? কেন ক্ষুদিরামের নাম আমাদের মুখে মুখে, আর আব্দুল্লাহর নাম ইতিহাসের পাতা থেকে একপ্রকার মুছে দেওয়া হলো? এর পেছনে লুকিয়ে আছে আমাদের বুদ্ধিবৃত্তিক দৈন্যতা। আব্দুল্লাহ যুক্ত ছিলেন ওহাবি আন্দোলনের সাথে। আমাদের আধুনিক তথাকথিত ধর্মনিরপেক্ষ ঐতিহাসিকরা ওহাবি আন্দোলনকে কেবল "ধর্মীয় আন্দোলন" তকমা দিয়ে আব্দুল্লাহর মতো খাঁটি স্বাধীনতা সংগ্রামীদের লাইমলাইট থেকে দূরে সরিয়ে রেখেছেন। অথচ ওহাবি আন্দোলন শুধু ধর্মীয় ছিল না, এটি ছিল ব্রিটিশবিরোধী প্রতিরোধের একটি শক্তিশালী ধারা, যার মাধ্যমে উপমহাদেশের মানুষ ইংরেজ শাসনের বিরুদ্ধে সংগঠিত হতে চেয়েছিল। আব্দুল্লাহ ছিলেন সেই আন্দোলনেরই একজন উজ্জ্বল সেনানী।ব্রিটিশরা সুকৌশলে আব্দুল্লাহর সমস্ত তথ্য, ছবি এবং স্মৃতি সেন্সর করেছিল যাতে তিনি মুসলিম তরুণদের আইকন বা শহীদ হতে না পারেন। ব্রিটিশরা জানত, একজন মুসলিম বিপ্লবী যদি আদর্শে পরিণত হয়, তাহলে তা উপমহাদেশের মুসলিম জনগোষ্ঠীর মধ্যে ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই তারা আব্দুল্লাহর নাম ও পরিচয় গুম করে দেয়। আর স্বাধীনতার পর আমাদের শিক্ষাবোর্ডগুলোও সেই ব্রিটিশদের তৈরি করা সিলেবাসের বৃত্ত থেকে বের হতে পারেনি। ফলে আব্দুল্লাহর মতো অনেক বীরই রয়ে গেছেন ইতিহাসের আড়ালে।ক্ষুদিরাম যেমন আমাদের জাতীয় বীর, আব্দুল্লাহও তেমনই বীর। ক্ষুদিরাম ফাঁসির আগে গান গেয়েছেন, আব্দুল্লাহও ফাঁসির আগে নির্ভীক ছিলেন। একজন ব্রিটিশ প্রধান বিচারপতিকে হত্যা করে তিনি প্রমাণ করেছিলেন, ভারতবাসী আর ব্রিটিশ শাসন সহ্য করবে না। তাঁর এই সাহসিকতা ও আত্মত্যাগের ইতিহাস আমাদের জানা উচিত। আজ সময় এসেছে এই ঐতিহাসিক বৈষম্যের অবসান ঘটানোর। ইতিহাস কারও একার সম্পত্তি নয়। রক্ত ক্ষুদিরামও দিয়েছেন, রক্ত আব্দুল্লাহও দিয়েছেন। দেশের স্বাধীনতার জন্য ফাঁসির মঞ্চে যাওয়া প্রতিটা মানুষই সমান শ্রদ্ধার পাত্র। আসুন, নিজেদের ইতিহাসকে নতুন করে জানি। আব্দুল্লাহদের মতো হারিয়ে যাওয়া বীরদের অবদানের কথা আমাদের পরবর্তী প্রজন্মকে জানাই।শিক্ষাবোর্ডগুলোর উচিত আব্দুল্লাহসহ সকল উপেক্ষিত বিপ্লবীদের ইতিহাস পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করা। আব্দুল্লাহর নামে স্মৃতিসৌধ, রাস্তা বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নামকরণ করা উচিত, যাতে তরুণ প্রজন্ম তাঁকে চিনতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোকে আব্দুল্লাহর জীবন ও আন্দোলন নিয়ে বিস্তারিত গবেষণায় উৎসাহিত করতে হবে। গণমাধ্যমে আব্দুল্লাহর কাহিনি প্রচার করতে হবে, যাতে তিনি ঘরে ঘরে পরিচিত হন। যাঁরা দেশের জন্য প্রাণ দিয়েছেন, তাঁরা সকলেই সমান সম্মানের অধিকারী। ক্ষুদিরাম যেমন আমাদের গর্ব, আব্দুল্লাহও তেমনই আমাদের গর্ব। ইতিহাসের এই একপেশে বয়ান থেকে বেরিয়ে এসে আমাদের উচিত প্রতিটি বীরের অবদানকে যথাযথ মর্যাদা দেওয়া। তবেই সত্যিকার অর্থে আমরা স্বাধীনতা সংগ্রামের পূর্ণ ইতিহাসকে আত্মস্থ করতে পারব। ইতিহাসের এই অজানা অধ্যায়কে সামনে এনে আমরা আমাদের পরবর্তী প্রজন্মকে একটি সম্পূর্ণ ও সঠিক ইতিহাস উপহার দিতে পারি। আব্দুল্লাহর মতো বীরদের প্রতি আমাদের এই দায়িত্ব অবশ্যই পালন করতে হবে। কারণ, স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রতিটি ফোঁটা রক্তই সমান মূল্যবান। এখন সময় এসেছে আব্দুল্লাহদের পুনর্বাসনের, যাতে নতুন প্রজন্ম জানে—স্বাধীনতার এই পথ কতটা রক্তক্ষয়ী ছিল এবং কতজন অজানা বীর এই পথ প্রশস্ত করেছেন।
ফিরোজ আল মামুন