ঢাকা    সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা    সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
গণবার্তা
সর্বশেষ

পুলিশের মনোবল ফেরাতে আসছে বড় পদোন্নতি

ঢাকা: বছরের পর বছর আটকে থাকা পদোন্নতি, একই ব্যাচের সহকর্মীদের এগিয়ে যেতে দেখা, বঞ্চনা আর পদোন্নতিজনিত হতাশা—সব মিলিয়ে পুলিশের ভেতরে দীর্ঘদিনের যে অস্বস্তি তা কাটানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি বছরের নভেম্বরের মধ্যে পরিদর্শক থেকে ডিআইজি পদমর্যাদায় প্রায় ৪৯২ জন কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে অনেক কর্মকর্তার ক্যারিয়ারে খুলতে পারে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার, ফিরতে পারে হারানো মনোবল।পুলিশ সদর দপ্তর ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পদোন্নতির প্রক্রিয়া নভেম্বরের মাঝামাঝি চূড়ান্ত হতে পারে। এরপর জারি হতে পারে আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন। বিএনপি নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের আমলে এটি পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ে প্রথম বড় পদোন্নতি কার্যক্রম।সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, পুলিশের ভেতরে দীর্ঘদিনের পদোন্নতিজট নিরসন, ঊর্ধ্বতন পদে শূন্যতা পূরণ এবং কর্মকর্তাদের মনোবল ফিরিয়ে আনতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগের সরকারের আমলে বছরের পর বছর পদোন্নতি আটকে থাকায় অনেক কর্মকর্তার পেশাগত জীবনে হতাশা জমেছে। একই বিসিএস ব্যাচের কেউ কেউ পদোন্নতি পেয়ে ঊর্ধ্বতন পদে পৌঁছালেও অনেকে রয়েছেন আগের অবস্থানে। কেউ কেউ নিজেদের ব্যাচের জুনিয়র কর্মকর্তাদেরও পরবর্তী পদে দায়িত্ব পালন করতে দেখেছেন।সম্প্রতি কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর পর পুলিশের ঊর্ধ্বতন পদগুলোতে আরও শূন্যতা তৈরি হয়েছে। সব মিলিয়ে দীর্ঘদিনের পদোন্নতিজট কাটানোর বিষয়টি নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে।শূন্য পদের বিপরীতে তিনজনের নামপদোন্নতি প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত পুলিশ সদর দপ্তরের দুজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, প্রতিটি শূন্য পদের বিপরীতে অন্তত তিনজন কর্মকর্তার নাম প্রস্তাব করা হয়েছে। বিভিন্ন পদে যোগ্য কর্মকর্তাদের বিবেচনায় নিয়ে তালিকা তৈরি ও যাচাই-বাছাইয়ের কাজ চলছে।তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিভাগীয় পদোন্নতি কমিটি (ডিপিসি) প্রায় ১৬০ জন পরিদর্শক ও ট্রাফিক পরিদর্শককে সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) পদে উন্নীত করার অনুমোদন দিয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি হয়নি।এছাড়া ৩৬তম, ৩৭তম ও ৩৮তম বিসিএস ব্যাচের প্রায় ১৫৫ জন সহকারী পুলিশ সুপারকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদে পদোন্নতি দেওয়ার কথা রয়েছে। ২৮তম, ২৯তম ও ৩০তম বিসিএস ব্যাচের আরও ৯৫ জন কর্মকর্তা পুলিশ সুপার (এসপি) পদে পদোন্নতির অপেক্ষায় রয়েছেন।২৮তম ও ২৯তম বিসিএস ব্যাচের যেসব কর্মকর্তা আগে অতিরিক্ত পদ সৃষ্টি করে পুলিশ সুপার হয়েছিলেন, তাদের পদোন্নতি এবার নিয়মিত করার পরিকল্পনা রয়েছে। একইভাবে ২২তম ও ২৪তম বিসিএস ব্যাচের ৬০ জনের বেশি এসপি আগে অতিরিক্ত পদ সৃষ্টি করে অতিরিক্ত ডিআইজি হয়েছিলেন। তাদের পদোন্নতিও নিয়মিত করার কথা রয়েছে।পুলিশ সদর দপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ২১তম, ২২তম ও ২৪তম বিসিএস ব্যাচের প্রায় ২০ জন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে ডিআইজি পদে পদোন্নতি দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি ১৭তম ও ১৮তম বিসিএস ব্যাচের দুজন কর্মকর্তা অতিরিক্ত আইজিপি পদে পদোন্নতি পেতে পারেন।পদোন্নতির তালিকায় থাকছে না ২০তম বিসিএসপদোন্নতির এ উদ্যোগে সব ব্যাচের কর্মকর্তাদের জন্য সমান সুযোগ তৈরি হচ্ছে না। এবার ২০তম বিসিএস ব্যাচের কর্মকর্তাদের ডিআইজি পদে পদোন্নতির জন্য বিবেচনা করা হবে না। এ ব্যাচের প্রায় ৩৩ জন কর্মকর্তা এখনো পদোন্নতি পাননি।এ প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত একজন কর্মকর্তা জানান, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এই ব্যাচের (২০তম) কর্মকর্তারা পাঁচ দফায় পদোন্নতি পেয়েছিলেন। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেও তাদের আরেক দফায় পদোন্নতি দেওয়া হয়েছিল।রাজনৈতিক বিবেচনায় বঞ্চিতরা কি মূল্যায়ন পাবে?পদোন্নতি প্রক্রিয়ায় সবচেয়ে আলোচিত বিষয়গুলোর একটি হলো, আগের সরকারের আমলে রাজনৈতিক পরিচয় বা সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে যেসব কর্মকর্তা পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত হয়েছেন বলে দাবি করেন, তাদের মূল্যায়ন।নাম প্রকাশ না করার শর্তে পদোন্নতি প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত একজন কর্মকর্তা জানান, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিএনপিপন্থি হিসেবে বিবেচিত হওয়ার কারণে যেসব কর্মকর্তার ভালো চাকরির রেকর্ড ও পেশাগত দক্ষতা থাকা সত্ত্বেও পদোন্নতি বা উপযুক্ত পদায়ন হয়নি, তারা এবার অগ্রাধিকার পেতে পারেন।তবে পদোন্নতি না পাওয়া সব কর্মকর্তা রাজনৈতিক বৈষম্যের শিকার হয়েছেন, এমনটি ধরে নেওয়া ঠিক হবে না বলে জানিয়েছেন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। তাদের মতে, কারও কারও মেধা, চাকরির রেকর্ড কিংবা অসদাচরণের অভিযোগও পদোন্নতির পথে বাধা হয়ে থাকতে পারে।আরেক অতিরিক্ত ডিআইজি বলেন, দুই বছর আগেই তার পদোন্নতি পাওয়ার কথা ছিল। একই বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে সরকারি চাকরিতে যোগ দেওয়া অন্যান্য ক্যাডারের অনেক কর্মকর্তা এরই মধ্যে পদোন্নতি পেয়েছেন। অথচ পুলিশের ক্ষেত্রে দীর্ঘ অপেক্ষা করতে হয়েছে। এ ধরনের বৈষম্য কর্মকর্তাদের মনোবল মারাত্মকভাবে দুর্বল করেছে।কীভাবে হবে পদোন্নতিসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পদোন্নতির ক্ষেত্রে জ্যেষ্ঠতা, পেশাগত দক্ষতা, মেধা, চাকরির রেকর্ড, বার্ষিক গোপনীয় প্রতিবেদন এবং গোয়েন্দা যাচাই প্রতিবেদন মূল্যায়ন করা হয়।সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিবের নেতৃত্বে এএসপি থেকে এসপি পদে পদোন্নতির বিষয়টি পর্যালোচনা করে বিভাগীয় পদোন্নতি কমিটি (ডিপিসি)। অন্যদিকে, অতিরিক্ত ডিআইজি থেকে অতিরিক্ত আইজিপি পদে পদোন্নতির দায়িত্ব পালন করে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বাধীন সুপিরিয়র সিলেকশন বোর্ড (এসএসবি)।শূন্য পদ পূরণের পাশাপাশি মনোবল ফেরানোর প্রত্যাশাপ্রশাসনিক রদবদলের সময় কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর পর পুলিশের ঊর্ধ্বতন পর্যায়ে বেশ কিছু পদ শূন্য হয়েছে। ২০১৮ সালের সরকারি চাকরি আইনের ৪৫ ধারায় জনস্বার্থে ২৫ বছর চাকরি পূর্ণ করা কোনো সরকারি কর্মচারীকে নির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ না করেও অবসরে পাঠানোর সুযোগ রয়েছে।২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচন, রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা কিংবা জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের সময় ভূমিকা নিয়ে ওঠা অভিযোগের ভিত্তিতেও এমন বেশ কয়েকজন কর্মকর্তাকে অবসরে পাঠানো হয়েছে।এ অবস্থায় নভেম্বরের মধ্যে পদোন্নতির এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের শত শত কর্মকর্তার কর্মজীবনে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসতে পারে।
২ ঘন্টা আগে

সাপের বিষের প্রতিষেধক তৈরির গবেষণা থমকে আছে অর্থের অভাবে

চট্টগ্রাম: বাংলাদেশে সাপের কামড়ে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসায় নিজস্ব অ্যান্টিভেনম বা প্রতিষেধক তৈরির উদ্যোগ থমকে আছে অর্থের অভাবে। রাসেলস ভাইপারের অ্যান্টিবডি তৈরির কাজ শেষ করে দুই বছর আগেই সরকারের কাছে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের ভেনম রিসার্চ সেন্টার। তবে ২০২৪ সালের ৩০ জুনের পর থেকে সরকারি অর্থায়ন বন্ধ থাকায় পরবর্তী গবেষণা কার্যক্রম এগোচ্ছে না।স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, প্রকল্পটি ভবিষ্যতে পরিচালন বা রাজস্ব খাত কিংবা উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবের (ডিপিপি) আওতায় চালানো হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি।সাপের কামড়ে বছরে হাজারো মৃত্যু২০২৩ সালের সরকারি তথ্যের বরাত দিয়ে প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় সাড়ে চার লাখ মানুষ সাপের কামড়ের শিকার হন। এতে সাড়ে সাত হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয় বলে ওই তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে।বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ২০১৭ সালে সাপের কামড়কে ‘চরম উপেক্ষিত’ জনস্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে তালিকাভুক্ত করে। সংস্থাটির হিসাব অনুযায়ী, বিশ্বে প্রতি বছর প্রায় ৫৪ লাখ মানুষ সাপের কামড়ের শিকার হন। তাদের মধ্যে ১৮ লাখ থেকে ২৭ লাখ মানুষের শরীরে সাপের বিষ প্রবেশ করে।এই সেন্টারের প্রাথমিক লক্ষ্য ছিল সাপের নমুনা ও বিষ সংগ্রহ করা। পরবর্তীতে অ্যান্টিভেনম তৈরির দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্যও রয়েছে।রাসেলস ভাইপারের অ্যান্টিবডি তৈরি, আটকে পরবর্তী ধাপভেনম রিসার্চ সেন্টারের মুখ্য গবেষক ও চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক অনিরুদ্ধ ঘোষ জানান, ডব্লিউএইচও বলে দিয়েছে, সব দেশকেই চেষ্টা করতে হবে, তাদের অঞ্চলের সাপের ভেনম ব্যবহার করে যাতে অ্যান্টিভেনম তৈরি করা হয়। সেই ক্ষেত্রে এই অ্যান্টিভেনমটি অনেক বেশি স্পেসিফিক হবে।তবে ২০২৪ সালের ৩০ জুনের পর থেকে সরকার আর কোনো অর্থ অনুমোদন না দেওয়ায় তহবিলের অভাবে বর্তমানে গবেষণা কার্যক্রম প্রায় থমকে গেছে বলে জানিয়েছেন এই সেন্টারের মুখ্য গবেষক অধ্যাপক ঘোষ।এদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ বিভাগের পরিচালক অধ্যাপক মো. হালিমুর রশীদ জানিয়েছেন, যেসব প্রকল্প অপারেশনাল প্ল্যানের অধীনে ছিল, সেগুলোকে রেভিনিউ খাত এবং ডিপিপির আওতায় নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। ভেনম রিসার্চ সেন্টারের অর্থায়ন আপাতত বন্ধ থাকবে। কারণ এটির অর্থায়ন কোন খাত থেকে হবে, সেই সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি বলে জানান তিনি।দেশে কখন, কেন অ্যান্টিভেনম তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়?বিষধর প্রাণীর বিষ সংগ্রহ করে তার কিছু অংশ ইনজেকশনের মাধ্যমে অন্য একটি প্রাণীতে প্রয়োগ করা হলে ওই প্রাণীর শরীরে রোগ প্রতিরোধক্ষমতা অর্থাৎ অ্যান্টিবডি তৈরি হয়। এই অ্যান্টিবডি পিউরিফাই বা পরিশুদ্ধ করে তৈরি হয় অ্যান্টিভেনম।বাংলাদেশে বর্ষাকালে সাপের উপদ্রব বৃদ্ধি পায়। দেশে সাপের কামড়ের এক-চতুর্থাংশ ঘটনায় বিষধর সাপ জড়িত বলে ২০২৩ সালে করা জাতীয় সর্পদংশন সংক্রান্ত এক জরিপে পাওয়া গেছে। রাসেলস ভাইপার, কালকেউটে, গোখরা, চন্দ্রবোড়ার মতো সাপের দংশনে বর্ষাকালে মানুষ মারা গেছে বলে প্রায়ই শোনা যায়। গ্রামীণ এলাকায় সাপের কামড়ের ৯৫ শতাংশ ঘটনা ঘটে।স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালিত ওই গবেষণায় দেখা গেছে, প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষ সাপের কামড়ের স্থানে গিঁট দেয়। আর চিকিৎসকের বদলে ওঝা বা ঝাড়ফুঁকের ওপর নির্ভরতার কারণে দেশে প্রতি বছর ছয় হাজারের বেশি মানুষ মারা যায়।সরকারি জরিপের তথ্য অনুযায়ী, সাপে কাটা রোগীদের ৮৬ শতাংশ অপচিকিৎসার শিকার হন। মাত্র তিন শতাংশ মানুষ চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে যান।গবেষকরা বলছেন, বর্তমানে বাংলাদেশের বিভিন্ন হাসপাতালে দক্ষিণ ভারত থেকে আনা সাপের বিষের প্রতিষেধক দিয়ে সাপে কাটা রোগীর চিকিৎসা করা হয়। ওই অ্যান্টিভেনম ভারতীয় প্রজাতির সাপের বিরুদ্ধে তৈরি করা, যেটি দেশের স্থানীয় সাপের বিষ নিষ্ক্রিয় করতে বৈজ্ঞানিকভাবে যথাযথ বা পুরোপুরি কার্যকর নয়।২০১৮ সালের মে মাসে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সাপে কাটাকে একটি বৈশ্বিক স্বাস্থ্য সংকট হিসেবে অভিহিত করে এবং ২০৩০ সালের মধ্যে সাপের কামড়ে মৃত্যুর সংখ্যা ৫০ শতাংশ অর্থাৎ অর্ধেকে কমিয়ে আনার লক্ষ্য নিয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সদস্য দেশগুলোকে আহ্বান জানায়। এই লক্ষ্য অর্জনে বাংলাদেশও স্বাক্ষরকারী দেশ।পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের মেডিসিন বিভাগে ভেনম রিসার্চ সেন্টার প্রতিষ্ঠার পর থেকেই সরকারি এই প্রতিষ্ঠানটি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অপারেশনাল প্ল্যানের অধীনে পরিচালিত হচ্ছিল। তবে দুই বছর ধরে এই সেন্টারের অর্থায়ন বন্ধ রয়েছে।রিসার্চ সেন্টারের ফান্ডিং বন্ধ কেন?ভেনম রিসার্চ সেন্টারের মুখ্য গবেষক অনিরুদ্ধ ঘোষ জানান, এরই মধ্যে একটি সাপের অ্যান্টিবডি তৈরির কাজ শেষ করেছে ভেনম রিসার্চ সেন্টার। “আমরা রাসেলস ভাইপারের অ্যান্টিবডি তৈরি করে সেটির রিপোর্টসহ সরকারের কাছে জমা দিয়েছি।”এই গবেষক জানান, এই গবেষণাগারের পরবর্তী লক্ষ্য ছিল, “নিউরোটক্সিক বাইট বা যেসব সাপের কামড়ে স্নায়ুতন্ত্র অবশ হয়ে যায়, যেমন—ক্রেইট এবং কোবরা। এই দুটি সাপের অ্যান্টিবডি উৎপাদন করা যায় কি না এবং অ্যান্টিবডিগুলো ওই সাপের বিষকে নিউট্রালাইজ করে কি না এবং কাজ করে কি না। আমাদের কাজগুলো শুধু ল্যাব পর্যন্ত। কিন্তু এই কাজ এখনো শুরু করা যায়নি।”এর কারণ হিসেবে এই গবেষক জানান, ২০২৪ সালের ৩০ জুনের পর থেকে ভেনম রিসার্চ সেন্টারে আর কোনো সরকারি ফান্ডিং নেই। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অপারেশনাল প্ল্যানের অধীনে পরিচালিত সব প্রকল্প ২০২৪ সালে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়।“একটা সিদ্ধান্ত ছিল, আর এভাবে ওপি দিয়ে চলবে না। এটা দীর্ঘমেয়াদি প্ল্যান-পরিকল্পনায় করবে। ২০২৪-এর পরে আর কোনো ওপি পাশ না হওয়াতে আমাদের ফান্ডিং বন্ধ হয়ে গেছে,” বলেন অনিরুদ্ধ ঘোষ।তবে এরই মধ্যে ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট প্রপোজাল বা ডিপিপির আওতায় সরকার এসব প্রকল্প চালিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানান ভেনম রিসার্চ সেন্টারের মুখ্য গবেষক অনিরুদ্ধ ঘোষ। তবে এটি সময়সাপেক্ষ বিষয় বলেও জানান তিনি।“এরমধ্যে সরকার আবার নতুন করে চেষ্টা করছে ডিপিপি প্রণয়ন করার। আমরা ডিপিপি করে সেটা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয়, প্ল্যানিং কমিশন এগুলো পার হয়ে ফাইনালটা আবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে জমা দিয়েছি। এটা অধিদপ্তর থেকে আবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে যাবে, ওইখান থেকে যদি পাশ হয় তখন এটার গভর্নমেন্ট ফান্ডিং আসবে,” বলেন অনিরুদ্ধ ঘোষ।অ্যান্টিবডি তৈরির আগে সাপের ‘ভেনম ক্যারেক্টারাইজেশন’ করতে হয় বলে জানান এই গবেষক। “এগুলোয়ার অ্যান্টিবডি সাথে সাথে হয় না। আগে করতে হয় ভেনম ক্যারেক্টারাইজেশন। মানে ভেনমটাকে ভালোভাবে দেখা, বিভিন্ন কম্পোনেন্ট কী কী আছে। এগুলো করার মতো ফান্ডিংও আমাদের কাছে নেই। আমরা কোনো রকমে বেঁচে আছি গত দুই বছর ধরে,” বলেন মুখ্য গবেষক অনিরুদ্ধ ঘোষ।এদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ বিভাগের পরিচালক অধ্যাপক মো. হালিমুর রশীদ জানান, সরকার অপারেশনাল প্ল্যানের অধীনে থাকা সকল প্রকল্প পরিচালন খাত এবং ডিপিপির অধীনে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।“ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা দুইটা, একটা হলো অনেক কাজ পরিচালন বা রেভিনিউ বাজেটে চলে যাচ্ছে। আর অনেক কাজে ডিপিপি হচ্ছে, ডিপিপি তৈরি হচ্ছে। এই প্রকল্পটি ডিপিপি নাকি রেভিনিউ খাতের অধীনে যাবে সেই সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি। প্রকল্প থেকে ওরা যদি ডিজির কাছে একটা চিঠি দেয় তাহলে হয়তো ডিজি এটা আমলে নিয়ে একটা ব্যবস্থা করবে,” বলেন হালিমুর রশীদ।২ বছর ধরে সাপ সংগ্রহ বন্ধদেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বিভিন্ন প্রজাতির সাড়ে তিনশোর বেশি বিষধর সাপ সংগ্রহ করেছে ভেনম রিসার্চ সেন্টার। তবে অর্থায়নের অভাবে গত দুই বছর কোনো সাপ সংগ্রহ করেনি প্রতিষ্ঠানটি।এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের সবচেয়ে বিষধর ১১ প্রজাতির সাপের বিষ এই সেন্টার সংগ্রহ করেছে বলে জানিয়েছেন সেন্টারের ইনভেস্টিগেটর ও সুপারভাইজার এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণীবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক মো. আব্দুল ওয়াহেদ চৌধুরী। তিনি বলেন, “এর মধ্যে দুই প্রজাতির কোবরা, এক প্রজাতির কিং কোবরা, পাঁচ প্রজাতির ক্রেইট, এক প্রজাতির রাসেলস ভাইপার এবং দুই প্রজাতির পিট ভাইপার সাপের বিষ সংগ্রহ করা হয়েছে।”বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রোটোকল অনুযায়ী, অ্যান্টিভেনম তৈরির প্রাথমিক ধাপে সারা দেশের বিভিন্ন ভৌগোলিক অঞ্চল থেকে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে সাপ সংগ্রহ করে লালন-পালন করে সেগুলো থেকে বিষের নমুনা সংগ্রহ করে একটি নির্দিষ্ট মান নির্ধারণ করতে হয়।অধ্যাপক আব্দুল ওয়াহেদ চৌধুরী জানান, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রোটোকল অনুযায়ী, একটা স্ট্যান্ডার্ড লেভেলের ভেনম লাগে। রাসেলস ভাইপার বা কোবরার তুলনায় ক্রেইট সাপের বিষ সংগ্রহ করা খুবই কঠিন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।“অ্যান্টিভেনম সিনথেসিসের কাজ শুরু করতে হলে আমাদের মিনিমাম পাঁচ মিলিগ্রাম ভেনম লাগে। ক্রেইট টাইপের কিছু সাপ আছে যেগুলো থেকে পাঁচ মিলিগ্রাম ভেনম সংগ্রহ করতে হলে এক হাজার ক্রেইট যদি ছয় মাস লালন-পালন করেন, প্রতি মাসে ভেনম কালেক্ট করলে হয়তো পাঁচ মিলিগ্রাম আসতে পারে। কারণ ক্রেইট থেকে এত কম পাওয়া যায়, মানে এক ড্রপের মতো একটু পাওয়া যায়,” বলেন অধ্যাপক চৌধুরী।ভেনম রিসার্চ সেন্টার প্রাথমিক লক্ষ্য অনুযায়ী, পাঁচ বছর ধরে কোয়ালিটি ও স্ট্যান্ডার্ড মানের বিষ সংগ্রহ ও সংরক্ষণের কাজ শতভাগ করা হয়েছে বলে জানান অধ্যাপক আব্দুল ওয়াহেদ চৌধুরী। এর পরের ধাপে অ্যান্টিভেনম তৈরির কাজ ছিল বলে জানান তিনি।এই সেন্টারে যেসব সাপ লালন-পালন করা হয় সেগুলোর জন্য সেখানেই একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ ইঁদুর প্রজনন কেন্দ্র গড়ে তোলা হয়েছে। এতে প্রতি মাসে প্রায় এক লাখ টাকার মতো খরচ হয় বলে জানান সেন্টারটির মুখ্য গবেষক অনিরুদ্ধ ঘোষ।ভারতীয় অ্যান্টিভেনম কেন কম উপযোগী?বাংলাদেশে ভারতীয় যে অ্যান্টিভেনম দিয়ে চিকিৎসা করা হয় সেটি অন্য পরিবেশের রোগীর দেহে কম কাজ করে। সে কারণেই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা প্রতিটি দেশকে নিজস্ব অ্যান্টিভেনম তৈরির তাগিদ দিয়েছিল বলে জানান দুই গবেষকই।ভারতে চারটি সাপের ভেনম বা বিষের সমন্বয়ে অ্যান্টিভেনম তৈরি করা হয় বলে উল্লেখ করেন অধ্যাপক মো. আব্দুল ওয়াহেদ চৌধুরী। “আমরা ভারত থেকে যে অ্যান্টিভেনম কিনি সেটা মূলত চারটি সাপের বিষ একসঙ্গে করে অ্যান্টিভেনম তৈরি করা হয়। চারটি সাপের মধ্যে একটি কোবরা, একটি ক্রেইট, দুইটি ভাইপারের মধ্যে একটি রাসেলস ভাইপার আরেকটি স-স্কেলড ভাইপার। এই চার প্রজাতিকে ভারত বিগ ফোর বলে অ্যান্টিভেনমটি বানিয়েছে তারা,” বলেন অধ্যাপক মো. আব্দুল ওয়াহেদ চৌধুরী।চারটির মধ্যে তিনটি সাপ বাংলাদেশে আছে, শুধু একটি সাপ স-স্কেলড ভাইপার বাংলাদেশে নেই বলে জানান এই গবেষক। অধ্যাপক চৌধুরী বলেন, “পরিবেশগত কারণে দক্ষিণ ভারতের একই প্রজাতির কোবরার সাথে বাংলাদেশের সেই কোবরার ভেনমের মিল নাই। যেহেতু দক্ষিণ ভারতের স্থানীয় প্রজাতির কোবরার বিষ থেকে তারা অ্যান্টিভেনম বানিয়েছে তাই সেটা লোকাল ভেনমের বিরুদ্ধেই শতভাগ বা বেশি ভালো কাজ করবে।”ফলে ওই তিনটি সাপের বেঁচে থাকার পরিবেশ, প্রজনন পরিবেশ ভিন্ন হওয়ায় ভারতীয় অ্যান্টিভেনম বাংলাদেশে রোগীর দেহে ‘খুবই স্বল্প মাত্রায়’ কাজ করে বলে জানান তিনি।“কিন্তু যখন এটা আমাদের দেশে প্রায় পাঁচশো কিলোমিটার দূরে অন্য ধরনের এনভায়রনমেন্টে চলে আসছে তখন প্রজাতি একই হলেও ভেনম ভিন্ন হওয়ার কারণে আমাদের দেশে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বাইরের থেকে কেনা অ্যান্টিভেনমগুলো কাজ করে না। একদম করে না বলতে পারব না, খুবই কম মাত্রায়। এর কারণে যেটা হয় রোগীর দেহে আমাদের বেশি পরিমাণে অ্যান্টিভেনম ইনজেক্ট করতে হয়,” বলেন অধ্যাপক চৌধুরী।বিষয়টি ব্যাখ্যা করে তিনি জানান, দক্ষিণ ভারতের সাপে কাটা রোগীকে এই অ্যান্টিভেনম এক ভায়াল দিলে হয়তো কাজ হয়ে যেত। কিন্তু একই প্রজাতির হলেও দক্ষিণ ভারতের ওই অ্যান্টিভেনম বাংলাদেশের রোগীর দেহে ব্যবহার করলে ১০, ২০ বা ৪০ ভায়াল ইনজেক্ট করতে হয়।এই কারণে বাংলাদেশে রোগীদের নানা ধরনের শারীরিক জটিলতার মুখোমুখি হতে হয় বলে জানান অধ্যাপক চৌধুরী। “দুর্ঘটনা যেটা হয় হয়তো বেশি ভায়াল দেওয়ার কারণে ভেনমটা নিউট্রালাইজ হয় অথবা একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ হয়। কিন্তু অতিরিক্ত অ্যান্টিভেনম রোগীর দেহে যাওয়ার কারণে অন্যান্য অনেক রিঅ্যাকশন দেখা দেয় বা ক্রিটিক্যাল প্রবলেম দেখা দেয়। যেটা কাভার দিতে ডাক্তারদের আবার হিমশিম খেতে হয়,” বলেও জানান অধ্যাপক মো. আব্দুল ওয়াহেদ চৌধুরী।
২ ঘন্টা আগে

ক্যালিফোর্নিয়ায় ভয়াবহ দাবানল: ১৬ হাজার বাসিন্দাকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ

লস অ্যাঞ্জেলেস: যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার অরেঞ্জ কাউন্টিতে তীব্র বাতাসের কারণে দাবানল দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে অন্তত ছয়টি বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। আগুনের বিস্তার রুখতে প্রায় ছয় হাজার বাড়িঘরের অন্তত ১৬ হাজার বাসিন্দাকে অবিলম্বে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) অরেঞ্জ কাউন্টির উপকূলীয় শহর সান ক্লেমেন্তে থেকে ‘নর্তে ফায়ার’ নামের এই দাবানল শুরু হয়। পরে তা দ্রুত পার্শ্ববর্তী সান হুয়ান ক্যাপিস্ত্রানো এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।ক্যালিফোর্নিয়ার বন ও অগ্নিনির্বাপণ সংস্থা ‘ক্যাল ফায়ার’ জানিয়েছে, শুক্রবার সন্ধ্যা নাগাদ দাবানলে প্রায় ২৩১ হেক্টর পাহাড়ি বনভূমি ও এলাকা পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। ঝুঁকিতে থাকা বাসিন্দাদের জন্য উভয় শহরেই জরুরি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে।আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, অতিরিক্ত তাপমাত্রা, বাতাসে আর্দ্রতার মাত্রাতিরিক্ত ঘাটতি এবং ঘণ্টায় ৫৫ থেকে ৯০ কিলোমিটার বেগে বয়ে চলা শুষ্ক ‘সান্তা আনা’ বাতাসের কারণেই আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। শনিবার রাত পর্যন্ত সেখানে চরম গরম ও শুষ্ক আবহাওয়া অব্যাহত থাকার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।এদিকে নতুন করে আগুনের সূত্রপাত প্রতিরোধ করতে আগাম সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির কয়েক হাজার গ্রাহকের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রাখা হয়েছে। দমকল বিভাগ আশঙ্কা করছে, ঝোড়ো বাতাসে বৈদ্যুতিক তারে স্ফুলিঙ্গ তৈরি হয়ে দাবানলের মাত্রা আরও বাড়তে পারে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ড্রপ-পদ্ধতিতে হেলিকপ্টার ব্যবহারের পাশাপাশি কয়েক শ অগ্নিনির্বাপক কর্মী মাটিতে নেমে কাজ করছেন।একই সময়ে ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যে আরও দুটি বড় দাবানল নিয়ন্ত্রণে লড়াই করছেন দমকলকর্মীরা। লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির মালিবু সংলগ্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়া ‘ব্রাইসন ফায়ার’-এ পুড়েছে প্রায় ৫৯ হেক্টর এলাকা, যার মাত্র ১৭ শতাংশ নিয়ন্ত্রণে এসেছে। অন্যদিকে সান দিয়েগো কাউন্টির ‘হেন্ডারসন ফায়ার’-এ ৮৪২ হেক্টর এলাকা পুড়ে গেছে এবং আগুনের ২০ শতাংশ আয়ত্তে আনা সম্ভব হয়েছে। এ দাবানলের কারণে মার্কিন মেরিন কোরের অন্যতম প্রধান ঘাঁটি ‘ক্যাম্প পেন্ডলটন’ এলাকায় বড় প্রভাব পড়েছে এবং নিরাপত্তার স্বার্থে আশপাশের একাধিক মহাসড়ক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
১৮ অক্টোবর ২০২৬
জাপানের প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে টোকিও পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

জাপানের প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে টোকিও পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

টোকিও: জাপানের প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে চার দিনের সরকারি সফরে জাপানের টোকিও পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকালে পৌঁছান তিনি। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ফেসবুক পেজ থেকে এ তথ্য জানা গেছে।এর আগে রোববার (২৫ অক্টোবর) দিবাগত রাত ১২টা ১০ মিনিটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি বিশেষ ফ্লাইটে ঢাকা ত্যাগ করেন প্রধানমন্ত্রী। ২৬ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত জাপানে অবস্থান করবেন তিনি।জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ।
২ ঘন্টা আগে
জাপানের প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে টোকিও পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

জাপানের প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে টোকিও পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

টোকিও: জাপানের প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে চার দিনের সরকারি সফরে জাপানের টোকিও পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকালে পৌঁছান তিনি। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ফেসবুক পেজ থেকে এ তথ্য জানা গেছে।এর আগে রোববার (২৫ অক্টোবর) দিবাগত রাত ১২টা ১০ মিনিটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি বিশেষ ফ্লাইটে ঢাকা ত্যাগ করেন প্রধানমন্ত্রী। ২৬ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত জাপানে অবস্থান করবেন তিনি।জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ।
২ ঘন্টা আগে
ইসরায়েলের নির্বাচনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস, ফিলিস্তিনি ইসরায়েলি ভোটাররা হতে পারেন নির্ধারক

ইসরায়েলের নির্বাচনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস, ফিলিস্তিনি ইসরায়েলি ভোটাররা হতে পারেন নির্ধারক

তেল আবিব: ইসরায়েলের সংসদ বা নেসেটের আসন সংখ্যা ১২০টি। কেউ যদি সরকার গঠন করতে চায় তাহলে তাকে এককভাবে ৬১টি আসনে জয় পেতে হবে। যদিও জটিল হিসাব-নিকাশের কারণে নেসেটে কোনো দলের পক্ষে এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া কঠিন। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর দল লিকুদ পার্টিও সর্বশেষ নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। ফলে উগ্রপন্থি দলগুলোর সঙ্গে জোট করে তাদের ক্ষমতায় আসতে হয়েছে।সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, গত শুক্রবার ভোটের ফলাফলের যে জরিপ প্রকাশ করা হয়েছে, তাতে দেখা গেছে নেতানিয়াহুর জোট ও প্রধান বিরোধী জোটের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে। এর অন্যতম কারণ এবার প্রথমবারের মতো ভোট দেবে প্রায় ৫ লাখ তরুণ ইসরায়েলি। এছাড়া প্রায় ৭০ হাজার ইসরায়েলি বিশ্বের অন্যান্য দেশ থেকে শুধুমাত্র ভোট দিতে আসছেন।সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা জানিয়েছে, ইসরায়েলের জন্মের পর তাদের ইতিহাসে এখন পর্যন্ত কোনো দল এককভাবে ৬১টি আসন পায়নি। ফলে অন্যান্য দলগুলোকে জোট করে সরকার গঠন করতে হয়েছে।এবারের নির্বাচনে নেতানিয়াহুর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোত। তিনি নেতানিয়াহুর দলের চেয়ে বেশি আসন পেতে পারেন। তবে এর মানে এই নয় যে, নেতানিয়াহু ক্ষমতা হারাবেন।যেহেতু ইসরায়েলে ছোট ছোট দলগুলো জোট করার পর যারা ৬১টি বা তার বেশি আসন জোগাড় করতে পারে তারাই ক্ষমতায় যায়, তাই নেতানিয়াহু কম আসন পেলেও অন্য উগ্রপন্থি দলগুলোর সঙ্গে জোট করে আবারও ক্ষমতায় আসতে পারেন। অন্যদিকে গাদি আইজেনকোতও ক্ষমতায় আসতে পারেন।আলজাজিরা বলেছে, সম্প্রতি চালানো এক জরিপে দেখা গেছে গাদি আইজেনকোতের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট ৫২টি আসন পেতে পারে। অপরদিকে নেতানিয়াহুর উগ্রপন্থি জোট পেতে পারে ৫০টি আসন। ফলে ফিলিস্তিনিদের নেতৃত্বাধীন দলগুলো নির্ধারণ করে দিতে পারে কারা ক্ষমতায় আসবে।ফিলিস্তিনি ইসরায়েলিরা গড়ে দিতে পারেন ব্যবধানআলজাজিরা বলেছে, জয়েন্ট লিস্ট এবং রা'ম নামে ইসরায়েলে দুটি আরব দল আছে, যারা ফিলিস্তিনি ইসরায়েলি নাগরিকদের প্রতিনিধিত্ব করে। দখলদার ইসরায়েলের যে জনসংখ্যা রয়েছে তারমধ্যে ২০ শতাংশ ফিলিস্তিনি ইসরায়েলি। আর এ দুটি দল এবারের নির্বাচনে ১৩টি আসনে জিততে পারে।২০২১ সালে রা'ম সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেনেটের সঙ্গে জোট করে তাকে সরকার গঠনে সহায়তা করেছিল। ইসরায়েলের ইতিহাসে এটিই ছিল প্রথম ঘটনা, যেখানে আরব দলগুলো ইসরায়েলি সরকারের অংশ ছিল।রা'মের প্রধান নেতা মানসুর আব্বাস বলেছেন, যদি নেতানিয়াহুকে এবার ক্ষমতাচ্যুত করতে প্রধান বিরোধী জোটের অতিরিক্ত আসন প্রয়োজন হয় তাহলে তিনি তাদের সহায়তা করতে প্রস্তুত আছেন।
২ ঘন্টা আগে
১৫ এপ্রিল ২০২৬, ১২:১১ এএম
আপনি কি মনে করেন বিএনপি জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর ও শব্দ বাস্তবায়ন করবে?

আপনি কি মনে করেন বিএনপি জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর ও শব্দ বাস্তবায়ন করবে?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ ৩ জন
ভারত-বাংলাদেশ যৌথ আয়ুর্বেদ গবেষণা কেন্দ্র গড়ার প্রস্তাব ভারতীয় হাইকমিশনারের

ভারত-বাংলাদেশ যৌথ আয়ুর্বেদ গবেষণা কেন্দ্র গড়ার প্রস্তাব ভারতীয় হাইকমিশনারের

ঢাকা: আয়ুর্বেদিক চিকিৎসার একাডেমিক ও পেশাগত জ্ঞান বিনিময়ের জন্য ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে যৌথ গবেষণা কেন্দ্র গড়ে তোলার প্রস্তাব দিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। বুধবার ঢাকায় ইন্দিরা গান্ধী সাংস্কৃতিক কেন্দ্র (আইজিসিসি) আয়োজিত একাদশ আয়ুর্বেদ দিবস পালন অনুষ্ঠানে তিনি এ প্রস্তাব দেন। বৃহস্পতিবার ভারতীয় হাইকমিশনের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বক্তৃতায় সামগ্রিক সুস্থতা ও প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবার প্রসারে চিরায়ত জ্ঞান ব্যবস্থার স্থায়ী প্রাসঙ্গিকতার কথা তুলে ধরেন হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। ভারত-বাংলাদেশ যৌথ আয়ুর্বেদ গবেষণা কেন্দ্র গড়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ আরও বেশি একাডেমিক ও পেশাদার জ্ঞান বিনিময়ের পথ তৈরি করতে পারে। যার ফলশ্রুতিতে ভারত ও বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে থাকা দীর্ঘমেয়াদি বন্ধন আরও জোরদার হবে।অনুষ্ঠানে আইজিসিসি পরিচালক অ্যান মেরি জর্জ আয়ুর্বেদ দিবসের এ বছরের প্রতিপাদ্য ‘সুস্থ আগামীর জন্য আয়ুর্বেদ’ এর ওপর আলোকপাত করেন। আয়ুর্বেদ, যোগ ও প্রাকৃতিক চিকিৎসা (ন্যাচারোপ্যাথি), ইউনানি, সিদ্ধ এবং হোমিওপ্যাথি পদ্ধতির প্রসারে ভারতের আয়ুষ মন্ত্রণালয়ের ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন তিনি।অনুষ্ঠানে অতিথিদের মধ্যে ছিলেন সরকারি আয়ুর্বেদিক ও ইউনানি কলেজের অধ্যক্ষ রশিদুজ্জামান খান, প্রাচী (পিআরএসিএইচআই) সদস্যদের প্রতিনিধি ড. মুখলেসুর রহমান, নূর-মজিদ আয়ুর্বেদিক কলেজের অধ্যক্ষ ড. মোহাম্মদ মামুন মিয়া এবং নারায়ণগঞ্জ আর্টস কলেজের অধ্যক্ষ শামসুল আলম আজাদ।একাডেমিক সেশনে নূর-মজিদ আয়ুর্বেদিক কলেজের সহকারী অধ্যাপক ড. জাকির হোসেন, হামদর্দ বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়ুর্বেদ চিকিৎসা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. বাবুল আক্তার এবং নূর-মজিদ আয়ুর্বেদিক কলেজের অধ্যক্ষ ড. মোহাম্মদ মামুন মিয়া একটি কর্মশালা পরিচালনা করেন।অনুষ্ঠানে ছিল সাংস্কৃতিক পরিবেশনাও। বাংলাদেশি শিল্পী শাহিন সোবহানা সুরভীর তৈরি পশমের ‘গণপতি ট্যাপেস্ট্রির’ প্রতীকী উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে সাংস্কৃতিক আয়োজনের সূচনা হয়। এ পর্বে সংগীত পরিবেশন করেন প্রখ্যাত শাস্ত্রীয় ও বাংলা খেয়ালশিল্পী রঞ্জন চন্দ্র সরকার। পরিবেশনা শেষে শিল্পীকে সম্মাননা প্রদান এবং অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে সনদ বিতরণের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয়।
২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
নতুন বেতনকাঠামোয় পে ফিক্সেশন শুরু সোমবার, শেষ করতে হবে ২০ অক্টোবরের মধ্যে

নতুন বেতনকাঠামোয় পে ফিক্সেশন শুরু সোমবার, শেষ করতে হবে ২০ অক্টোবরের মধ্যে

ঢাকা: নতুন জাতীয় বেতনকাঠামো অনুযায়ী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন নির্ধারণের (পে ফিক্সেশন) কাজ শুরু হচ্ছে আগামীকাল সোমবার (৫ অক্টোবর)। আইবাস প্লাস প্লাসের পে ফিক্সেশন মডিউলে অনলাইনে এ কাজ করতে হবে।অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ ২০ অক্টোবরের মধ্যে সব সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর পে ফিক্সেশন শেষ করার নির্দেশ দিয়েছে। তবে অনলাইনে শুধু কয়েকটি তথ্য পূরণ করলেই হবে না; আগের বেতন নির্ধারণ, পদোন্নতি, বদলি, সময় স্কেল, সিলেকশন গ্রেড ও উচ্চতর গ্রেডসহ চাকরির বিভিন্ন তথ্যও সঠিকভাবে দিতে হবে।কারণ পে ফিক্সেশনে কোনো তথ্য ভুল বা অসম্পূর্ণ থাকলে নতুন মূল বেতন নির্ধারণে জটিলতা তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে বকেয়া বা এরিয়ার পাওনার হিসাবেও প্রভাব পড়তে পারে।আইবাস প্লাস প্লাসে পে ফিক্সেশন করার আগে চাকরিজীবীদের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নম্বর, জন্মতারিখ, বর্তমান পদবি ও গ্রেড, চাকরিতে যোগদানের তারিখ এবং ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে থাকা মূল বেতনের তথ্য প্রস্তুত রাখতে হবে।এর পাশাপাশি আগের বেতন নির্ধারণের তথ্য, পদোন্নতি, বদলি, সময় স্কেল, সিলেকশন গ্রেড বা উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার তথ্য এবং এসবের পক্ষে থাকা অফিস আদেশ ও প্রয়োজনীয় নথি হাতের কাছে রাখতে হবে। আইবাস প্লাস প্লাসে নিবন্ধিত মোবাইল নম্বরও সচল থাকতে হবে।ভুল তথ্য দিলে যা হতে পারেপে ফিক্সেশনের সময় কোনো তথ্য ভুল বা অসম্পূর্ণ দিলে বেতন নির্ধারণে জটিলতা তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে নাম, এনআইডি নম্বর, জন্মতারিখ, পদবি, গ্রেড ও মূল বেতনের তথ্যে ভুল থাকলে তা সংশোধনের প্রয়োজন হতে পারে।পদোন্নতি, বদলি, সময় স্কেল, সিলেকশন গ্রেড বা উচ্চতর গ্রেডের তথ্য বাদ পড়লেও নতুন বেতন নির্ধারণের হিসাবে সমস্যা হতে পারে। তাই এসবের পক্ষে থাকা অফিস আদেশ ও নথি আগে থেকেই প্রস্তুত রাখা জরুরি।শুধু অনলাইনে তথ্য পূরণ করলেই পে ফিক্সেশন শেষ হবে না। সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ কার্যালয় অনলাইনে দেওয়া তথ্য ও চাকরির নথি যাচাই করবে। তথ্যের সঙ্গে নথির অসংগতি পাওয়া গেলে সংশোধন করতে হতে পারে। তথ্য দিতে কোনো সমস্যা হলে সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার সহায়তা নেওয়া যাবে।তথ্য দেওয়ার পরও থাকবে যাচাইঅনলাইনে তথ্য পূরণ করে আবেদন জমা দিলেই পে ফিক্সেশন শেষ হবে না। সংশ্লিষ্ট বেতন ও হিসাব পরিশোধ কর্মকর্তার কার্যালয় চাকরির নথির সঙ্গে অনলাইনে দেওয়া তথ্য মিলিয়ে দেখবে। তথ্য সঠিক থাকলে চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হবে।অনুমোদনের পর আইবাস প্লাস প্লাস থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে একটি বিশেষ যাচাই নম্বর তৈরি হবে। এরপর চাকরির নথিতে যাচাই নম্বর ও নতুন নির্ধারিত বেতন লিপিবদ্ধ করা হবে।অক্টোবরের বেতনের সঙ্গে মিলতে পারে বকেয়াপে ফিক্সেশন শেষ হওয়ার পর নতুন মূল বেতনের ভিত্তিতে অক্টোবর মাসের বেতন বিল তৈরি করা হবে। একই সঙ্গে নতুন ও পুরোনো বেতনের পার্থক্য হিসাব করে প্রায় তিন মাসের বকেয়া বা এরিয়ার নির্ধারণ করা হবে।তবে কে কত টাকা বকেয়া পাবেন, তা সবার ক্ষেত্রে এক হবে না। গ্রেড, ৩০ জুন ২০২৬ তারিখের মূল বেতন, নতুন কাঠামোয় নির্ধারিত বেতন এবং বেতন কার্যকর হওয়ার তারিখসহ বিভিন্ন বিষয়ের ওপর বকেয়ার পরিমাণ নির্ভর করবে।এ কারণে পে ফিক্সেশনের সময় বর্তমান বেতনের পাশাপাশি চাকরির আগের ইতিহাস ও সংশ্লিষ্ট সব নথির তথ্য সঠিকভাবে দেওয়া সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
২৬ জুলাই ২০২৬
যেসব কর্মচারীরা নতুন বেতনস্কেলের সুবিধা পাবেন না

যেসব কর্মচারীরা নতুন বেতনস্কেলের সুবিধা পাবেন না

২৬ জুলাই ২০২৬
৬৫ বছরের পরিচ্ছন্নতাকর্মীর এআই দিয়ে ২৯ বছরের ডাক্তার সেজে প্রতারণা

৬৫ বছরের পরিচ্ছন্নতাকর্মীর এআই দিয়ে ২৯ বছরের ডাক্তার সেজে প্রতারণা

সাংহাই: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে এক ব্যবসায়ীর সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে ৬৫ বছর বয়সী এক চীনা নারীর বিরুদ্ধে। জানা যায়, এআই ব্যবহার করে তৈরি ভিডিও এবং ছবি দিয়ে এক ব্যবসায়ীর কাছে নিজেকে ২৯ বছর বয়সী ডাক্তার হিসেবে উপস্থাপন করেন ওই নারী। আদতে তিনি একজন হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতাকর্মী। এভাবে পাঁচ মাসে প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার ইউয়ান হাতিয়ে নেন তিনি।পুলিশ জানিয়েছে, ৬৫ বছর বয়সী ওই নারীর নাম ইউ শিউঝেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভুয়া পরিচয় তৈরি করেছিলেন। এরপর ফেস চেঞ্জিং ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে নিজেকে সাংহাইয়ের একটি বড় হাসপাতালের চিকিৎসক হিসেবে উপস্থাপন করতেন।প্রায় পাঁচ বছর ধরে ইউ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় ৭ হাজার এআই নির্মিত ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করেন। তার ফলোয়ার সংখ্যা প্রায় ১০ হাজার।সাংহাইভিত্তিক একজন নির্মাণ ঠিকাদার লিউ হুই ২০২১ সালে তার ভুয়া অ্যাকাউন্টটি দেখতে পান। ইউ তাকে জানান যে, হাসপাতালে তার পদমর্যাদার কারণে তিনি বড় নির্মাণকাজের চুক্তি পাইয়ে দিতে সাহায্য করতে পারবেন।ব্যবসায়িক সুবিধা পাওয়ার আশায় লিউ ইউয়ের সঙ্গে অনলাইনে যোগাযোগ বাড়াতে থাকেন। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তবে লিউ বারবার দেখা করা বা ভিডিও কলে কথা বলার অনুরোধ করলেও ইউ প্রতিবারই ভিন্ন ভিন্ন অজুহাতে তা প্রত্যাখ্যান করতেন।পরে ইউ আরও একটি ভুয়া পরিচয় তৈরি করেন। এবার তিনি নিজেকে লিউয়ের কথিত প্রেমিকার মা হিসেবে পরিচয় দেন। তিনি লিউকে জানান যে, তার মা এই সম্পর্কের বিরোধিতা করছেন। এরপর ভুয়া মা সেজে তিনি লিউয়ের কাছে তিন লাখ ইউয়ান বিয়ের যৌতুক দেওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় এলাকায় একটি বাড়ি কেনার দাবি করেন।লিউ তার কথা বিশ্বাস করে পাঁচ মাসে মোট ১ লাখ ৭০ হাজার ইউয়ান তাকে পাঠান। কিন্তু কোনো ব্যবসায়িক চুক্তি না আসায় তিনি পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন। তদন্তের সময় পুলিশ ইউকে শনাক্ত করে জানতে পারে যে তিনি আসলে ৬৫ বছর বয়সী একজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী। পুলিশ আরও জানতে পারে, এর আগে তিনি একটি প্রতারণার মামলাতেও জড়িত ছিলেন।পুলিশ জানিয়েছে, ইউয়ের আসল মা কয়েক বছর আগেই মারা গেছেন। প্রতারণার মাধ্যমে পাওয়া অর্থ তিনি কসমেটিক সার্জারি, দামি ত্বকের যত্নের পণ্য এবং নতুন পোশাক কেনার পেছনে খরচ করেন। পরে পুলিশ ইউয়ের ভিডিওগুলো পরীক্ষা করে দেখতে পায়, ভিডিওগুলোর মধ্যে ছোট একটি সতর্কবার্তা দেওয়া ছিল। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছিল যে, ভিডিওগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে।পুলিশ যখন লিউকে ওই সতর্কবার্তাটি দেখায়, তখন তিনি জানান যে আধুনিক এআই প্রযুক্তি সম্পর্কে তিনি খুব বেশি জানতেন না। ফলে ভিডিওতে থাকা সতর্কবার্তাটি তার নজরে পড়েনি।
২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কোন ছবি নেই !
কোন ছবি নেই !
ভঙ্গুর এভিয়েশন খাত পেয়েছে বর্তমান সরকার: বিমানমন্ত্রী

ভঙ্গুর এভিয়েশন খাত পেয়েছে বর্তমান সরকার: বিমানমন্ত্রী

বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর একটি ভঙ্গুর ও বিশৃঙ্খল এভিয়েশন খাত পেয়েছে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। তিনি বলেন, ‘অতীতে এভিয়েশন খাতে যাত্রী হয়রানির তিক্ত অভিজ্ঞতা ছিল, এসব সমাধানই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।’শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর কুর্মিটোলার ইউনাইটেড কনভেনশন সেন্টারে দৈনিক বণিক বার্তার ‘বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে বিশ্বমানের এভিয়েশন’ শীর্ষক পলিসি কনক্লেভে এসব কথা বলেন তিনি।মন্ত্রী জানান, বিমানবন্দরের সেবার মানোন্নয়ন ও যাত্রী ভোগান্তি কমাতে বডি ক্যামেরা ব্যবহারের মতো প্রযুক্তিগত সংস্কার আনা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘বিমানবন্দরে যাত্রীদের লাগেজ পেতে একসময় দেড় থেকে দুই ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হতো। আমি পরিদর্শনে গিয়ে নির্দেশনা দিয়েছি—যাত্রীরা নামার সঙ্গে সঙ্গেই কার্গোর দরজাও খুলতে হবে, যাতে ২০ মিনিটের মধ্যে সব লাগেজ বেল্টে চলে আসে। খোঁজ নিয়ে দেখেছি, এখন ৪০ মিনিটের বেশি সময় লাগছে না।’রশিদুজ্জামান আরও জানান, আগের সরকার জাপানি কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে প্রকল্প বাতিল করে ২ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি করেছিল। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বর্তমান সরকার জাপানের সঙ্গে পাঁচবার বৈঠক করে সেই প্রকল্প পুনর্বহাল করেছে। ভবিষ্যতে কক্সবাজারে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর চালু এবং পিপিপি মডেলের মাধ্যমে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ বৃদ্ধির পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী নভেম্বরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ‘বাজেট এয়ারক্রাফট’ বা সাশ্রয়ী উড়োজাহাজ কেনা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হবে বলেও তিনি জানান।বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেন, ‘গত ১৫-১৬ বছরে দেশে গণতন্ত্র না থাকায় এভিয়েশন খাতে কোনো উপযুক্ত নীতি-পরিবেশ তৈরি হয়নি। তবে সরকার আগামী পাঁচ বছরে এ খাতে দৃশ্যমান পরিবর্তনের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে।’তিনি বলেন, বাংলাদেশকে আঞ্চলিক এভিয়েশন হাব হিসেবে গড়ে তুলতে অবকাঠামোর আধুনিকায়ন ও জাতীয় এয়ারলাইনকে শক্তিশালী করতে হবে।শাহজালাল বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী জানান, চলতি বছরের ডিসেম্বরে এর ‘সফট ওপেনিং’ এবং আগামী বছরের মার্চ-এপ্রিলের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম শুরুর পরিকল্পনা রয়েছে। টার্মিনালটি চালু হলে বছরে ১ কোটি ২০ লাখ যাত্রী পরিবহনের সক্ষমতা তৈরি হবে।তিনি বলেন, ‘আগের সরকারের তুলনায় এবার আমরা এমন একটি “উইন-উইন” চুক্তি স্বাক্ষর করতে যাচ্ছি, যেখানে বাংলাদেশের রাজস্বের অংশ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।’কনক্লেভে ‘বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে বিশ্বমানের এভিয়েশন’ বিষয়ে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বেবিচকের সাবেক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) মাহমুদ হোসেন। এ ছাড়া উন্মুক্ত আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন বেবিচকের সদস্য এয়ার কমডোর মো. নূর-ই-আলম, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের এমডি মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মামুন, টাস গ্রুপের চেয়ারম্যান কে. এম. মুজিবুল হক এবং ঢাকা ব্যাংক পিএলসির চেয়ারম্যান আব্দুল হাই সরকার।দৈনিক বণিক বার্তার সম্পাদক ও প্রকাশক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন। এভিয়েশন খাতের সম্ভাবনা, চ্যালেঞ্জ ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের রূপরেখা নিয়ে দেশি-বিদেশি চার শতাধিক প্রতিনিধি এতে অংশ নেন।
২৬ জুলাই ২০২৬
শেখ নূর কুতুব আলম: বাংলার আধ্যাত্মিক নেতৃত্বের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত

শেখ নূর কুতুব আলম: বাংলার আধ্যাত্মিক নেতৃত্বের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত

বাংলার মধ্যযুগীয় ইতিহাসে পান্ডুয়া ছিল জ্ঞান, সংস্কৃতি ও আধ্যাত্মিক সাধনার অন্যতম কেন্দ্র। এই শহরের খানকাগুলোতে যেমন ধর্মীয় শিক্ষা বিস্তার লাভ করত, তেমনি এখান থেকেই সমাজজীবনে নৈতিক নেতৃত্বও গড়ে উঠত। ১৩৫০ সালের কিছু আগে তৎকালীন বাংলার রাজধানী পান্ডুয়ায় তার জন্ম। তার প্রকৃত নাম নূরুদ্দীন নূরুল হক। ‘নূর কুতুবুল আলম’ তার উপাধি।তার পিতা ছিলেন বাংলার অন্যতম শ্রেষ্ঠ আলেম ও সুফি শায়খ আলাউল হক। বংশপরিচয়ও ছিল সম্মানজনক—তিনি লাহোরের প্রসিদ্ধ সাধক শেখ আসাদের পৌত্র। পিতার মতো তিনি ছিলেন চিশতিয়া তরিকার একজন বিশিষ্ট পীর। ইলিয়াস শাহী বংশের তৃতীয় সুলতান গিয়াস উদ্দিন আজম শাহ ছিলেন তার সহপাঠী ও বন্ধু। কিন্তু বংশগৌরবের চেয়েও বড় ছিল তার ব্যক্তিত্ব, জ্ঞান, দূরদর্শিতা এবং মানুষের জন্য আত্মনিবেদিত জীবন।ব্যক্তিগত জীবন ও আধ্যাত্মিক সাধনানূর কুতুব আলম তাঁর পিতার আমল থেকে সব ধরনের কায়িক শ্রমের অভ্যাস করতেন। দরগায় আগত ফকিরদের কাপড় ধোয়া, লাকড়ি ও পানি বহন, শীতকালে পীরের অজু করার জন্য সর্বদা পানি গরম রাখা, এমনকি খানকাহসংলগ্ন শৌচাগার পরিষ্কার করা প্রভৃতি কাজে তিনি নিজেকে নিয়োজিত রাখতেন।আজকের সময়ে নেতৃত্বকে আমরা প্রায়ই ক্ষমতা, প্রভাব কিংবা সামাজিক মর্যাদার সঙ্গে মিলিয়ে দেখি। অথচ নূর কুতুব আলমের জীবন আমাদের শেখায়, প্রকৃত নেতৃত্ব শুরু হয় সেবার মাধ্যমে। যে মানুষ নিজের হাতে মানুষের কষ্ট লাঘব করতে পারে, তিনিই প্রকৃত অর্থে মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিতে পারেন।রাজনৈতিক সংকটে নূর কুতুব আলমের ভূমিকানূর কুতুব আলমের জীবনের সবচেয়ে উজ্জ্বল অধ্যায় রচিত হয় এক ভয়াবহ রাজনৈতিক সংকটের সময়। ১৪১৫ খ্রিস্টাব্দে রাজা গণেশ নামক একজন হিন্দু শাসক ইলিয়াস শাহি বংশ উত্খাত করে ক্ষমতা গ্রহণ করেন। তিনি মুসলমানের ওপর নজিরবিহীন জুলুম-নির্যাতন শুরু করেন। এমনকি শায়খ ও আলেমদের ওপর অবর্ণনীয় অত্যাচার শুরু করেন।বিশেষ করে ধর্মীয় নেতৃত্ব, আলেম-ওলামা এবং সাধারণ মুসলমানদের ওপর নিপীড়নের অভিযোগ বিভিন্ন ঐতিহাসিক গ্রন্থে উল্লেখিত হয়েছে। বাংলার মুসলিম সমাজ গভীর অনিশ্চয়তা ও আতঙ্কের মধ্যে পড়ে।এই পরিস্থিতিতে শেখ নূর কুতুব আলম নীরব থাকেননি। তিনি উপলব্ধি করেছিলেন, কেবল খানকায় বসে ইবাদত করাই একজন আধ্যাত্মিক নেতার একমাত্র দায়িত্ব নয়; মানুষের জীবন, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সামাজিক নিরাপত্তা বিপন্ন হলে ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্যও এগিয়ে আসতে হয়। তার এই অবস্থান প্রমাণ করে, ইসলামী আধ্যাত্মিকতার প্রকৃত শিক্ষা সমাজবিমুখতা নয়; বরং মানুষের কল্যাণে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন।কূটনৈতিক পদক্ষেপ ও রাজা গণেশের সাথে সমঝোতাবাংলার মুসলমানদের রক্ষার জন্য তিনি এক গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। তিনি জৌনপুরের সুলতান ইবরাহিম শর্কিকে বাংলা আক্রমণ করে বাংলাকে গণেশের হাত থেকে রক্ষা করার অনুরোধ জানিয়ে চিঠি লেখেন। একই সঙ্গে তিনি প্রসিদ্ধ সুফি ব্যক্তিত্ব মীর সৈয়দ আশরাফ জাহাঙ্গীর সিমনানিকেও অনুরোধ করেন, যেন তিনিও ইবরাহিম শর্কিকে বাংলার মুসলমানদের সহায়তায় এগিয়ে আসতে উদ্বুদ্ধ করেন।সুলতান ইবরাহিম শর্কি এই অনুরোধ রক্ষা করে বাংলা আক্রমণের উদ্দেশ্যে পিরোজপুর এসে শিবির স্থাপন করেন। রাজা গণেশ এতে ভয় পেয়ে নূর কুতুব আলমের কাছে আত্মসমর্পণ করেন এবং তাঁকে ক্ষমা করে ইবরাহিম শর্কিকে জৌনপুরে ফিরে যেতে বলার অনুরোধ জানান।কিন্তু নূর কুতুব আলম এতে সম্মত হননি। তিনি জানিয়ে দেন, একজন মুসলিম শাসককে কোনো অমুসলিম শাসকের পক্ষ নিয়ে তিনি ফিরিয়ে দিতে পারেন না। বরং পূর্বশর্ত হিসেবে তিনি রাজা গণেশকে ইসলাম গ্রহণের আহ্বান জানান। গণেশ তাতে সম্মত হন, কিন্তু বিস্তারিত শুনে তাঁর রানি এতে বাধা দেন। গণেশ তখন তার ১২ বছরের ছেলে যদুকে নিয়ে শায়খের কাছে আসেন। যদুকে ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত করে 'জালালুদ্দীন' নাম দেওয়া হয় এবং গণেশ তার পক্ষে সিংহাসন ত্যাগ করেন।এই ঘটনার মধ্য দিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ এড়ানো সম্ভব হয় এবং বাংলার রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অন্তত সাময়িকভাবে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়।পরবর্তী পরিস্থিতি ও নূর কুতুব আলমের দূরদর্শিতাশায়খের মৃত্যুর পর গণেশ অবশ্য যদুকে হিন্দু ধর্মে পুনরায় দীক্ষিত করে নিজে সিংহাসনে অধিষ্ঠিত হন। কিন্তু রাজা গণেশের মৃত্যু হলে যদু জালালুদ্দীন মুহাম্মদ শাহ উপাধি গ্রহণ করে সিংহাসনে আরোহণ করেন এবং বাংলার মুসলিম শাসনব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়।এই ঘটনাপ্রবাহে নূর কুতুব আলমের দূরদর্শিতার প্রতিফলন স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তিনি হয়তো জানতেন, একটি সংকটময় সময়ে আপসের মধ্য দিয়েও দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার পথ তৈরি করা যায়।রচিত গ্রন্থসমূহ ও আধ্যাত্মিক উত্তরসূরিতিনি শুধু নিজের আধ্যাত্মিক সাধনায় সীমাবদ্ধ থাকেননি; পরবর্তী প্রজন্ম গড়ে তোলার প্রতিও ছিলেন সমান মনোযোগী। তাঁর রচিত গ্রন্থ সংখ্যা ১২১টি। সেগুলো তার প্রধান মুরিদ ও খলিফা হুসামুদ্দিন মানিকপুরী সম্পাদনা করেন। তন্মধ্যে বিখ্যাত দুটি গ্রন্থ হলো মুগিসুল ফুকারা ও আনিসুল গুরাবা।মুগিসুল ফুকারার একটি পাণ্ডুলিপি সংরক্ষিত আছে বিহারের ভাগলপুরের খলিফাবাগ একটি প্রাইভেট লাইব্রেরিতে। আরেকটি অসম্পূর্ণ কপি সংরক্ষিত আছে এশিয়াটিক সোসাইটি অব বেঙ্গল কলিকাতার লাইব্রেরিতে (সংগ্রহ নং- ৪৬৬)। সেখানে আনিসুল গুরাবা বইটির ২টি কপি সংরক্ষিত আছে (সংগ্রহ নং: ১২১২ ও ১২১৩)।তিনি তাঁর দুই পুত্র শেখ রাফকাতউদ্দীন এবং শেখ আনোয়ারকে আধ্যাত্মিক শিক্ষা দেন। সম্ভবত পিতার জীবদ্দশায় শেখ আনোয়ার রাজা গণেশের হাতে সোনারগাঁয়ে শহীদ হন। শেখ নূর কুতুব আলমের অন্য আর একজন প্রধান মুরিদ ছিলেন শেখ হুসামুদ্দীন মানিকপুরী।পত্র সংকলন ও ঐতিহাসিক দলিলনূর কুতুব আলমের ১৩টি পত্রের একটি গ্রন্থ সম্পাদনা করেন মুহাদ্দিস আব্দুল হক দেহলভী। যে গ্রন্থের নাম মাকতুবাত ই নূর কুতুবুল আলম। এটি দিল্লির ইন্ডিয়ান আর্কাইভে সংরক্ষিত আছে। এই পত্রগুলো থেকে সমসাময়িক রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়।সুলতানদের শ্রদ্ধা ও দরগাহের গুরুত্বশেখ নূর কুতুব আলমের প্রতি পরবর্তী সুলতানদের শ্রদ্ধাও ছিল অসাধারণ। তার দরগাহ সংলগ্ন সরাইখানা ও মাদরাসার ব্যয় নির্বাহের জন্য সুলতান আলাউদ্দীন হোসেন শাহ কয়েকটি গ্রাম দান করেন। দরবেশের মাজার জিয়ারতের জন্য সুলতান বছরে একবার রাজধানী শহর একডালা থেকে পান্ডুয়ায় আসতেন।শায়খ নূর কুতুব আলম পান্ডুয়ার পীর-আউলিয়ার মধ্যে শীর্ষ মর্যাদার অধিকারীদের অন্যতম। পিতা-পুত্র দুজনই পান্ডুয়ার বিখ্যাত শাশ হাজারি দরগায় শায়িত আছেন। পিতার মতো তিনি চিশতিয়া মতাদর্শের পীর ছিলেন। তাঁর অনুসারী শিষ্যকুল ও দরবেশরা কয়েক শতক ধরে বাংলায় মুসলিম সমাজজীবনে তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।ঐতিহাসিক দৃষ্টিতে শায়খ নূর কুতুব আলমের সর্বশ্রেষ্ঠ অবদান বাংলার মুসলিম শাসন রাজা গণেশের হাত থেকে রক্ষা করা।মৃত্যুশেখ নূর কুতুব আলম ৮১৮ হিজরি বা ১৪১৫ খ্রিস্টাব্দে (বাংলাপিডিয়া ও উইকিপিডিয়া মতে) ইন্তেকাল করেন। তবে প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, ১৪৪৭ সালের ৭ জানুয়ারি তার মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়। তার ইন্তেকালের সঙ্গে একটি সুন্দর ফারসি অভিব্যক্তি যুক্ত হয়েছে—"নূর বানূর-শুদ", অর্থাৎ "আলো আলোতে বিলীন হয়ে গেল।"এই বাক্যটি যেন তার সমগ্র জীবনেরই প্রতীক। তিনি এমন এক আলোকবর্তিকা ছিলেন, যিনি নিজের জন্য নয়, মানুষের পথ আলোকিত করার জন্য জীবন উৎসর্গ করেছিলেন।ইতিহাসে বহু রাজা এসেছেন, বহু সাম্রাজ্য গড়ে উঠেছে এবং বিলীন হয়েছে। কিন্তু যারা মানুষের হৃদয়ে নৈতিকতার আলো জ্বালিয়ে দেন, তাদের স্মৃতি যুগের পর যুগ অম্লান থাকে। শেখ নূর কুতুব আলম সেই বিরল ব্যক্তিত্বদের একজন, যার জীবন বাংলার ইতিহাসে আধ্যাত্মিক নেতৃত্ব, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং নৈতিক সাহসের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে আজও আমাদের সামনে দাঁড়িয়ে আছে।তথ্যসূত্র: উইকিপিডিয়া, বাংলাপিডিয়া, শায়েখ আব্দুল হক দেহলভী, আকবারুল উখিয়া ফি আসরারুল আবরার, সোস্যাল হিস্টোরি অফ দ্যা মুসলিম ইন ব্যাঙ্গাল।
ফিরোজ আল মামুন