ঢাকা    শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬
ঢাকা    শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬
গণবার্তা

ঢামেক ইতিহাসের জীবন্ত সাক্ষী: প্রধানমন্ত্রী

২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের প্রত্যেক চিকিৎসক, কর্মকর্তা-কর্মচারী সেই আন্দোলনের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে গিয়েছিলেন বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, ঢামেক ইতিহাসের জীবন্ত সাক্ষী, তারা ১৯৫২, ১৯৭১, ১৯৯০ সালের আন্দোলনে অবদান রেখেছিল।শনিবার (১১ জুলাই) ডিএমসি ডে-২০২৬ এবং বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ডাক্তাররা জনগণের পরম বন্ধু, ভরসার জায়গা। মানুষ বিপদে পড়লে ডাক্তারের কাছে যায়। চিকিৎসকরাই রোগ-শোকে কাতর মানুষের পরম বন্ধু হয়ে ওঠেন। এই কথাটি আমি আমার জীবনেও উপলব্ধি করেছি।তিনি আরও বলেন, দেশের প্রখ্যাত চিকিৎসকরাই বহু বছর ধরে আমার মায়ের চিকিৎসা করেছেন। মৃত্যুর আগমুহূর্ত পর্যন্ত তারা সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও মানবিকতার সঙ্গে তার পাশে ছিলেন। বিদেশে নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হলেও আমার বিশ্বাস ছিল, উন্নত যন্ত্রপাতি সেখানে থাকলেও এই মানবিক সেবা পাওয়া যেত না। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত দেখেছি, তারা কী অসাধারণ নিষ্ঠায় মায়ের সেবা করেছেন। তাদের প্রতি আমি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ।প্রধানমন্ত্রী বলেন, হাসপাতালে চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন হাসপাতালে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। হাসপাতালগুলোতে ১০ জন করে আনসার সদস্য মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে রোগীদের সেবা বাড়াতে ৫ হাজার এমবিবিএস চিকিৎসক নিয়োগের কার্যক্রম শুরু হয়েছে।তিনি আরও বলেন, একইসঙ্গে নার্স, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট, ফার্মাসিস্ট, মিডওয়াইফসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীর শূন্য পদ দ্রুত পূরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নিরাপদ মাতৃত্ব ও মানসম্মত নবজাতক সেবা নিশ্চিত করতে সরকারি পর্যায়ে আরও ২৫ হাজার মিডওয়াইফ নিয়োগের পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, স্বাস্থ্যসেবাকে আরও জনবান্ধব করতে ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে রোগীরা ঘরে বসেই চিকিৎসাসেবা নিতে পারেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এসব উদ্যোগ দেশের স্বাস্থ্যখাতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে।
১ ঘন্টা আগে

বাড়ছে দেশে মোবাইল ও ইন্টারনেট ব্যবহারের হার

দেশে ব্যক্তি পর্যায়ে মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেট ব্যবহারের হার বেড়েছে। সম্প্রতি বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ‘আইসিটি প্রয়োগ ও ব্যবহার জরিপ ২০২৫-২৬’-এর তৃতীয় প্রান্তিকের (জানুয়ারি-মার্চ ২০২৬) ফলাফলে এমন তথ্য উঠে এসেছে।বর্তমানে দেশের ৮৯.৫ শতাংশ ব্যক্তি মোবাইল ফোন ব্যবহার করেন, ৬৫.৪ শতাংশের নিজস্ব মোবাইল ফোন রয়েছে, ৫৮.৬ শতাংশ ইন্টারনেট ব্যবহার করেন এবং ১১.৭ শতাংশ কম্পিউটার ব্যবহার করেন। একই সঙ্গে দেশের ৯৮.৯ শতাংশ পরিবারের অন্তত একটি মোবাইল ফোন রয়েছে, ৭৩.৪ শতাংশ পরিবারের স্মার্টফোন, ৫৭.৪ শতাংশ পরিবারের ইন্টারনেট সংযোগ এবং ৯৮.৫ শতাংশ পরিবারের বিদ্যুৎ সুবিধা রয়েছে।বিবিএসের বাস্তবায়নাধীন ‘ব্যক্তি ও খানা পর্যায়ে জেলা ভিত্তিক আইসিটি ব্যবহারের সুযোগ ও প্রয়োগ পরিমাপ’ প্রকল্পের আওতায় জরিপটি পরিচালিত হচ্ছে। ২০১৩ সালে বাংলাদেশে প্রথম বারের মতো আইসিটি জরিপ পরিচালিত হয়। পরবর্তীকালে ২০২২ ও ২০২৩ সালে পৃথক জরিপের মাধ্যমে আইসিটি সূচক প্রকাশ করা হয় এবং আন্তর্জাতিক টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়নকে (আইটিইউ) ১৯টি সূচকের তথ্য সরবরাহ করা হয়। বর্তমানে চলমান জরিপে কম্পিউটার অ্যাসিস্টেড পার্সোনাল ইন্টারভিউয়িং (সিএপিআই) পদ্ধতিতে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।জরিপে পাঁচ বছর ও তদূর্ধ্ব বয়সি নারী-পুরুষকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। দেশের ৬৪ জেলার ২ হাজার ৫৬৮টি নির্বাচিত নমুনা এলাকায় প্রতি প্রান্তিকে ২৪টি করে মোট ৬১ হাজার ৬৩২টি পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়। বছরে মোট ২ লাখ ৪৬ হাজার ৫২৮টি পরিবারের তথ্য সংগ্রহের লক্ষ্য রয়েছে। এ কাজে ৬৪ জেলায় ২১৪ জন প্রশিক্ষিত তথ্য সংগ্রহকারী মাঠ পর্যায়ে কাজ করছেন।প্রান্তিকভিত্তিক তুলনায় দেখা যায়—চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীর হার ছিল ৮০.৬ শতাংশ, দ্বিতীয় প্রান্তিকে তা বেড়ে ৮৯.৪ শতাংশ এবং তৃতীয় প্রান্তিকে ৮৯.৫ শতাংশে পৌঁছেছে। একই সময়ে নিজস্ব মোবাইল ফোনের মালিকানা ৫৬.৫ শতাংশ থেকে বেড়ে দ্বিতীয় প্রান্তিকে ৬৫.৫ শতাংশ হলেও তৃতীয় প্রান্তিকে সামান্য কমে ৬৫.৪ শতাংশ হয়েছে। কম্পিউটার ব্যবহারকারীর হার প্রথম প্রান্তিকে ১০ শতাংশ, দ্বিতীয় প্রান্তিকে ১১.৪ শতাংশ এবং তৃতীয় প্রান্তিকে ১১.৭ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। অন্যদিকে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর হার প্রথম প্রান্তিকের ৪৮.৯ শতাংশ থেকে দ্বিতীয় প্রান্তিকে ৫৮.৪ শতাংশ এবং তৃতীয় প্রান্তিকে ৫৮.৬ শতাংশে পৌঁছেছে।গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ব্যক্তি পর্যায়ে বেশ কয়েকটি সূচকে উন্নতি হয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের তুলনায় মোবাইল ফোন ব্যবহার ৮৮.৪ শতাংশ থেকে বেড়ে ৮৯.৫ শতাংশে, নিজস্ব মোবাইল ফোনের মালিকানা ৬৪.৪ শতাংশ থেকে ৬৫.৪ শতাংশে এবং কম্পিউটার ব্যবহার ১১.৩ শতাংশ থেকে ১১.৭ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি অগ্রগতি হয়েছে ইন্টারনেট ব্যবহারে। এক বছরে এই হার ৫৩.৪ শতাংশ থেকে বেড়ে ৫৮.৬ শতাংশে পৌঁছেছে।খানা বা পরিবার পর্যায়ের তথ্যেও ডিজিটাল প্রযুক্তির বিস্তার স্পষ্ট হয়েছে। তৃতীয় প্রান্তিকে ১৫.১ শতাংশ পরিবারের রেডিও, ৫৮.৮ শতাংশ পরিবারের টেলিভিশন, ৯৮.৯ শতাংশ পরিবারের মোবাইল ফোন, ৭৩.৪ শতাংশ পরিবারের স্মার্টফোন, ৯.০ শতাংশ পরিবারের কম্পিউটার এবং ৫৭.৪ শতাংশ পরিবারের ইন্টারনেট সংযোগ রয়েছে। এছাড়া ৯৮.২ শতাংশ পরিবারে শুধু মোবাইল ফোন, ০.৭ শতাংশ পরিবারে স্থায়ী ও মোবাইল—উভয় ধরনের ফোন এবং ৯৮.৫ শতাংশ পরিবারে বিদ্যুৎ সুবিধা রয়েছে। স্থায়ী (ফিক্সড) টেলিফোন রয়েছে মাত্র ০.৭ শতাংশ পরিবারে।
১২ ঘন্টা আগে

আরও ৫ জেলায় বন্যা পরিস্থিতির আশঙ্কা

ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিতে দেশের কয়েকটি জেলায় বন্যা পরিস্থিতির উদ্ভব হয়েছে। সেই সঙ্গে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বেশ কয়েকটি জেলার নদী-সংলগ্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এই অবস্থায় আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় দেশের আরও ৫ জেলায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।শুক্রবার (১০ জুলাই) এক পূর্বাভাসে এ তথ্য জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।পূর্বাঞ্চল ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের অবস্থাগত ২৪ ঘণ্টায় পূর্বাঞ্চল ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় চট্টগ্রাম বিভাগের হালদা, সাঙ্গু, মাতামুহুরী, মুহুরী, ফেনী ও সেলোনিয়া নদীগুলোর পানি সমতল হ্রাস পেয়েছে। পাশাপাশি এই সময়ে গোমতী নদীর পানি সমতল বৃদ্ধি পেয়েছে।আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় বান্দরবান, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলার সাঙ্গু, মাতামুহুরী ইত্যাদি নদীর পানি সমতল ধীরগতিতে হ্রাস পেতে পারে এবং নদী সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলসমূহে বন্যা পরিস্থিতির ধীর গতিতে উন্নতি হতে পারে। তবে ফেনী, চট্টগ্রাম ও খাগড়াছড়ি জেলার গোমতী, মুহুরী, ফেনী, সেলোনিয়া, হালদা নদীগুলোর পানি সমতল কিছু কিছু স্থানে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে কোথাও কোথাও স্বল্পমেয়াদী বন্যা পরিস্থিতির উদ্ভব হতে পারে।এছাড়া লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালী জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল কোথাও কোথাও সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে।উত্তর-পূর্বাঞ্চলের অবস্থাগত ২৪ ঘণ্টায় উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সিলেট বিভাগের ধলাই ও খোয়াই নদীর পানি সমতল হ্রাস পেয়েছে এবং মনু নদীর পানি সমতল মৌলভীবাজার পয়েন্টে বৃদ্ধি পেয়েছে। আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার মনু, ধলাই, খোয়াই ইত্যাদি নদীর পানি সমতল ধীর গতিতে হ্রাস পেতে পারে এবং নদী সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলসমূহে বন্যা পরিস্থিতির ধীর গতিতে উন্নতি হতে পারে।উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নতুন ঝুঁকিঅন্যদিকে, সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোণা, শেরপুর ও ময়মনসিংহ জেলার সারিগোয়াইন, সোমেশ্বরী, যাদুকাটা ও ভুগাই-কংস ইত্যাদি নদীর পানি সমতল বৃদ্ধি পেয়ে কিছু কিছু স্থানে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে ও নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে কোথাও কোথাও স্বল্পমেয়াদী বন্যা পরিস্থিতির উদ্ভব হতে পারে। গত ২৪ ঘণ্টায় উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সুরমা-কুশিয়ারা নদীর পানি সমতল বৃদ্ধি পেয়েছে। আগামী ৪৮ ঘণ্টা এসব নদীর পানি বৃদ্ধি পেতে পারে। ফলে এই সময়ে সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলায় কুশিয়ারা নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতি অবনতি হতে পারে এবং সুরমা নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে কোথাও কোথাও স্বল্পমেয়াদী বন্যা পরিস্থিতির উদ্ভব হতে পারে।উত্তরাঞ্চলের অবস্থাগত ২৪ ঘণ্টায় উত্তরাঞ্চলীয় রংপুর বিভাগের তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি সমতল বৃদ্ধি পেয়েছে। আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় নীলফামারী, লালমনিরহাট ও রংপুর জেলার তিস্তা নদীর পানি সমতল বৃদ্ধি পেয়ে কিছু কিছু স্থানে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে কোথাও কোথাও স্বল্পমেয়াদী বন্যা পরিস্থিতির উদ্ভব হতে পারে। এছাড়াও আগামী ৭২ ঘণ্টায় লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম জেলার ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি সমতল বৃদ্ধি পেয়ে সতর্কসীমায় প্রবাহিত হতে পারে এবং নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল কোথাও কোথাও সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে।
২২ ঘন্টা আগে
আল-আজহারে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের বৃত্তি দ্বিগুণ

আল-আজহারে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের বৃত্তি দ্বিগুণ

বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ও ঐতিহ্যবাহী ইসলামি বিদ্যাপীঠ মিসরের আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দকৃত বৃত্তির সংখ্যা ১২ থেকে বৃদ্ধি করে ২৪-এ উন্নীত করেছে। এর ফলে দ্বিগুণ সংখ্যক বাংলাদেশি মেধাবী শিক্ষার্থী এই বিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয়ে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে উচ্চশিক্ষার সুবর্ণ সুযোগ লাভ করবেন।শনিবার (১১ জুলাই) মিসরের রাজধানী কায়রোতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস এ তথ্য জানিয়েছে।দূতাবাস জানায়, কায়রোর বাংলাদেশ দূতাবাসের হেড অব চ্যান্সারি আতাউল হক আল-আজহারের গ্র্যান্ড ইমামের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী-বিষয়ক উপদেষ্টা নাহলা সাইদির সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হন। সৌহার্দ্যপূর্ণ ও আন্তরিক পরিবেশে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে বাংলাদেশ ও আল-আজহারের মধ্যকার শিক্ষা ও অ্যাকাডেমিক সহযোগিতা, বিশেষ করে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের কল্যাণ ও উচ্চশিক্ষা-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়।বৈঠকের শুরুতে নাহলা সাইদি বলেন, মিসরে নিযুক্ত বাংলাদেশ সরকারের রাষ্ট্রদূত সামিনা নাজের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দকৃত বৃত্তির সংখ্যা ১২ থেকে বৃদ্ধি করে ২৪-এ উন্নীত করেছে। এর ফলে অধিক সংখ্যক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ইসলামি বিদ্যাপীঠ আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ লাভ করবেন।বৈঠকে নাহলা সাইদি আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের নবপ্রণীত নীতিমালা, চলমান কার্যক্রম এবং সামগ্রিক পরিস্থিতি সম্পর্কে বাংলাদেশ দূতাবাসকে অবহিত করেন। একই সঙ্গে তিনি রাষ্ট্রদূত সামিনা নাজের প্রতি আন্তরিক শুভেচ্ছা, সালাম ও শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন।বৈঠকে উভয় পক্ষ বাংলাদেশ ও আল-আজহারের মধ্যকার দীর্ঘদিনের সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করার পাশাপাশি শিক্ষা, গবেষণা, বৃত্তি এবং বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের কল্যাণে পারস্পরিক সহযোগিতা ভবিষ্যতে আরও সম্প্রসারণ ও শক্তিশালী করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।বাংলাদেশ দূতাবাস জানিয়েছে, বৃত্তি পাওয়া শিক্ষার্থীদের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য শিগগিরই তাদের ওয়েবসাইট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা হবে। আগ্রহী শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত যোগ্যতা ও আবেদন প্রক্রিয়া সম্পর্কে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে।
২২ মিনিট আগে
ঢামেক ইতিহাসের জীবন্ত সাক্ষী: প্রধানমন্ত্রী

ঢামেক ইতিহাসের জীবন্ত সাক্ষী: প্রধানমন্ত্রী

২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের প্রত্যেক চিকিৎসক, কর্মকর্তা-কর্মচারী সেই আন্দোলনের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে গিয়েছিলেন বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, ঢামেক ইতিহাসের জীবন্ত সাক্ষী, তারা ১৯৫২, ১৯৭১, ১৯৯০ সালের আন্দোলনে অবদান রেখেছিল।শনিবার (১১ জুলাই) ডিএমসি ডে-২০২৬ এবং বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ডাক্তাররা জনগণের পরম বন্ধু, ভরসার জায়গা। মানুষ বিপদে পড়লে ডাক্তারের কাছে যায়। চিকিৎসকরাই রোগ-শোকে কাতর মানুষের পরম বন্ধু হয়ে ওঠেন। এই কথাটি আমি আমার জীবনেও উপলব্ধি করেছি।তিনি আরও বলেন, দেশের প্রখ্যাত চিকিৎসকরাই বহু বছর ধরে আমার মায়ের চিকিৎসা করেছেন। মৃত্যুর আগমুহূর্ত পর্যন্ত তারা সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও মানবিকতার সঙ্গে তার পাশে ছিলেন। বিদেশে নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হলেও আমার বিশ্বাস ছিল, উন্নত যন্ত্রপাতি সেখানে থাকলেও এই মানবিক সেবা পাওয়া যেত না। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত দেখেছি, তারা কী অসাধারণ নিষ্ঠায় মায়ের সেবা করেছেন। তাদের প্রতি আমি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ।প্রধানমন্ত্রী বলেন, হাসপাতালে চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন হাসপাতালে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। হাসপাতালগুলোতে ১০ জন করে আনসার সদস্য মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে রোগীদের সেবা বাড়াতে ৫ হাজার এমবিবিএস চিকিৎসক নিয়োগের কার্যক্রম শুরু হয়েছে।তিনি আরও বলেন, একইসঙ্গে নার্স, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট, ফার্মাসিস্ট, মিডওয়াইফসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীর শূন্য পদ দ্রুত পূরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নিরাপদ মাতৃত্ব ও মানসম্মত নবজাতক সেবা নিশ্চিত করতে সরকারি পর্যায়ে আরও ২৫ হাজার মিডওয়াইফ নিয়োগের পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, স্বাস্থ্যসেবাকে আরও জনবান্ধব করতে ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে রোগীরা ঘরে বসেই চিকিৎসাসেবা নিতে পারেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এসব উদ্যোগ দেশের স্বাস্থ্যখাতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে।
১ ঘন্টা আগে
খামেনি হত্যার প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার আইআরজিসি কমান্ডারের

খামেনি হত্যার প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার আইআরজিসি কমান্ডারের

ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যার প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) শীর্ষ কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমাদ ওয়াহিদি। তিনি বলেন, এই হত্যাকাণ্ড ইতিহাসের স্মৃতি থেকে কখনও মুছে যাবে না।শুক্রবার (১০ জুলাই) ডনের এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়। প্রতিবেদনে বলা হয়, সেপাহ সংবাদ সংস্থার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসির শীর্ষ কমান্ডার ও প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমাদ ওয়াহিদি অপরাধীদের উপযুক্ত শাস্তি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। বিশেষ করে মার্কিন বাহিনীকে শিশু হত্যাকারী সেনাবাহিনী হিসেবে আখ্যা দিয়ে তিনি পূর্ণ ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার দাবি তোলেন।এক বিবৃতিতে ওয়াহিদি বলেন, 'আমেরিকার অপরাধী নেতা এবং ইসলামি বিপ্লব ও প্রতিরোধ ফ্রন্টের সমস্ত শত্রুদের জেনে রাখা উচিত যে, এই স্বর্গীয় নেতাকে কাপুরুষোচিতভাবে হত্যা করে তারা কখনোই প্রতিরোধের পতাকাকে মাটিতে নামিয়ে দিতে পারবে না।'এসময় তিনি শহীদদের রক্তের প্রতিশোধ এবং অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করা একটি চূড়ান্ত, বৈধ এবং কখনও বিস্মৃত না হওয়া দাবি হয়ে থাকবে বলে উল্লেখ করেন।মার্কিন ও ইসরায়েলি বিমান হামলায় খামেনি এবং তার পরিবারের চার সদস্য নিহত হওয়ার চার মাস পর, গতকাল তার নিজ শহর মাশহাদে দাফন সম্পন্ন হয়েছে। খামেনির দাফন কার্য সম্পন্ন হওয়ার পরপরই আইআরজিসি প্রধান এই হুঁশিয়ারি দিলেন।ইরানের বিভিন্ন শহরে খামেনির মৃত্যুতে তীব্র শোকের পরিবেশ বিরাজ করছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যুর পর দেশটির রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্ব কঠোর অবস্থান নিয়েছে। আইআরজিসির এই হুমকি অঞ্চলে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ানোর আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা। ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল তাদের কূটনৈতিক ও সামরিক প্রস্তুতি জোরদার করেছে বলে জানা গেছে।
২২ ঘন্টা আগে
১৫ এপ্রিল ২০২৬, ১২:১১ এএম
আপনি কি মনে করেন বিএনপি জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর ও শব্দ বাস্তবায়ন করবে?

আপনি কি মনে করেন বিএনপি জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর ও শব্দ বাস্তবায়ন করবে?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ জন
পাইলস রোগের হারবাল ঔষধ ও তার কার্যকারিতা

পাইলস রোগের হারবাল ঔষধ ও তার কার্যকারিতা

পাইলস, যা হেমোরয়েড নামেও পরিচিত, একটি সাধারণ স্বাস্থ্য সমস্যা। এটি মলদ্বারের রক্তনালী ফুলে যাওয়া এবং প্রদাহের কারণে হয়ে থাকে। এই রোগটি সাধারণত দীর্ঘমেয়াদি কোষ্ঠকাঠিন্য, অতিরিক্ত ওজন, গর্ভাবস্থা বা অত্যধিক চাপের কারণে হতে পারে। পাইলসের সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে অনেকেই হারবাল ঔষধ ও প্রাকৃতিক চিকিৎসার ওপর নির্ভর করেন। হারবাল ঔষধের কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া না থাকায় এগুলো দিন দিন আরও জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।পাইলসের লক্ষণপাইলস রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা সাধারণত নিচের লক্ষণগুলো অনুভব করে থাকেন:মলত্যাগের সময় রক্তপাতমলদ্বারের চারপাশে চুলকানি ও জ্বালাপোড়ামলদ্বারের কাছাকাছি ফুলে যাওয়া বা পিণ্ডের উপস্থিতিতীব্র ব্যথা, বিশেষত মলত্যাগের সময়পাইলসের হারবাল চিকিৎসার গুরুত্বপ্রাকৃতিক উপাদান থেকে তৈরি হারবাল ঔষধ পাইলসের চিকিৎসায় কার্যকর ভূমিকা পালন করে। এগুলোর মূল বৈশিষ্ট্য হলো প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহার, যা শরীরের অন্যান্য অঙ্গের ওপর কোনো ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে না। অস্ত্রোপচার বা কেমিক্যালজাত ওষুধের তুলনায় হারবাল চিকিৎসা অনেকটাই নিরাপদ ও সাশ্রয়ী।পাইলসের জন্য জনপ্রিয় হারবাল ঔষধ১. ত্রিফলা চূর্ণত্রিফলা চূর্ণ তিনটি ফল—আমলকি, হরীতকি এবং বহেরা—থেকে তৈরি একটি প্রাচীন আয়ুর্বেদিক ঔষধ। এটি হজম প্রক্রিয়া উন্নত করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সাহায্য করে। পাইলসের ক্ষেত্রে এটি মলত্যাগ সহজ করে এবং প্রদাহ কমায়।ব্যবহার পদ্ধতি: প্রতিদিন রাতে এক চামচ ত্রিফলা চূর্ণ উষ্ণ পানির সাথে সেবন করুন।২. অ্যালোভেরাঅ্যালোভেরা একটি প্রাকৃতিক প্রদাহনাশক ও ব্যথা কমানোর এজেন্ট হিসেবে পরিচিত। এটি পাইলসের ফোলাভাব কমাতে এবং মলদ্বারের সংবেদনশীলতা হ্রাস করতে সাহায্য করে।ব্যবহার পদ্ধতি: অ্যালোভেরা জেল সরাসরি মলদ্বারের চারপাশে প্রয়োগ করুন। এটি ঠান্ডা ও আরামদায়ক প্রভাব প্রদান করে।৩. নিমনিম তার অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি গুণের জন্য সুপরিচিত। এটি পাইলসের প্রদাহ ও সংক্রমণ কমাতে সাহায্য করে।ব্যবহার পদ্ধতি: নিমপাতা সেদ্ধ করে সেই পানি দিয়ে আক্রান্ত স্থান ধোয়া যেতে পারে। অথবা নিমের নির্যাস ধারণ করে এমন ক্রিম ব্যবহার করা যেতে পারে।৪. হলুদহলুদের মধ্যে রয়েছে কারকিউমিন নামক উপাদান, যা শক্তিশালী অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট গুণসম্পন্ন। এটি পাইলসের ব্যথা ও প্রদাহ কমাতে কার্যকর।ব্যবহার পদ্ধতি: এক গ্লাস গরম দুধের সাথে এক চিমটি হলুদ মিশিয়ে প্রতিদিন পান করুন। অথবা হলুদবাটা সরাসরি আক্রান্ত স্থানে প্রয়োগ করা যেতে পারে।৫. ঘৃতকুমারী ও মধুঘৃতকুমারী ও মধুর সংমিশ্রণ পাইলসের চিকিৎসায় অত্যন্ত কার্যকর। মধুতে রয়েছে অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল গুণ, যা সংক্রমণ রোধ করে।ব্যবহার পদ্ধতি: ঘৃতকুমারী জেলের সাথে সামান্য মধু মিশিয়ে আক্রান্ত স্থানে লাগান।৬. ওল্ডেনল্যান্ডিয়া ডিফুসা (Oldenlandia Diffusa)এই ভেষজটি চীনা হারবাল মেডিসিনে বহুল ব্যবহৃত হয়। এটি অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি ও অ্যান্টিটিউমার বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন। পাইলসের ফোলা ও ব্যথা কমাতে এটি বেশ কার্যকর।সতর্কতাহারবাল ঔষধ সেবনের আগে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। প্রতিটি মানুষের শরীরের ধরন ভিন্ন, তাই সবার জন্য একই ঔষধ সমান কাজ করে না। গর্ভাবস্থায় বা অন্য কোনো রোগ থাকলে সতর্কতার সাথে হারবাল ঔষধ সেবন করুন।পাইলস একটি অস্বস্তিকর ও বেদনাদায়ক রোগ। তবে সঠিক হারবাল চিকিৎসা ও জীবনযাত্রার পরিবর্তনের মাধ্যমে এর উপশম সম্ভব। ত্রিফলা, অ্যালোভেরা, নিম, হলুদসহ বিভিন্ন ভেষজ উপাদান পাইলসের চিকিৎসায় আশাব্যঞ্জক ফলাফল দেখায়। প্রাকৃতিক ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ামুক্ত এই সমাধানগুলো গ্রহণ করে দীর্ঘমেয়াদি আরাম পাওয়া যায়। তবে কঠিন বা দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা থাকলে অবশ্যই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন।
০৮ জুলাই ২০২৬
জাল নোট রাখলেও সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ডের বিধান আনছে সরকার

জাল নোট রাখলেও সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ডের বিধান আনছে সরকার

জাল নোট তৈরি, পরিবহন, বাজারজাত বা লেনদেনের পাশাপাশি জেনেশুনে নিজের কাছে জাল নোট রাখলেও সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ডের বিধান রেখে নতুন আইন আনছে সরকার। আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর জালিয়াতি মোকাবিলায় অর্থ মন্ত্রণালয় ‘জাল মুদ্রা প্রতিরোধ আইন, ২০২৬’-এর খসড়া প্রস্তুত করেছে।আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ প্রণীত আট পৃষ্ঠার এই খসড়া ইতোমধ্যে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থায় মতামতের জন্য পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি জনমত জানতে খসড়াটি বিভাগের ওয়েবসাইটেও প্রকাশ করা হয়েছে।খসড়া আইনে জাল নোট তৈরি, তৈরির চেষ্টা, বিশেষ কাগজ, কালি বা নিরাপত্তা উপকরণ সংগ্রহ, জাল নোট আমদানি-রপ্তানি, পরিবহন, বিক্রি ও বাজারজাত করাকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে জেনেশুনে জাল নোট নিজের কাছে রাখা বা লেনদেনে ব্যবহার করলেও সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ডের প্রস্তাব রাখা হয়েছে।বর্তমানে দণ্ডবিধিসহ বিভিন্ন আইনে জাল মুদ্রাসংক্রান্ত বিধান থাকলেও সেগুলো বিচ্ছিন্ন হওয়ায় তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়ায় জটিলতা তৈরি হয়। নতুন আইনের মাধ্যমে সব ধরনের অপরাধকে একক আইনি কাঠামোর আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।খসড়ায় জাল নোট তৈরিতে ব্যবহৃত কম্পিউটার, প্রিন্টিং মেশিন, বিশেষ কাগজ, কালি ও অন্যান্য সরঞ্জাম জব্দ এবং আদালতের নির্দেশে সেগুলো ধ্বংস করার বিধানও রাখা হয়েছে। ফলে শুধু জাল নোট উদ্ধার নয়, উৎপাদন ব্যবস্থাও ভেঙে দেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।প্রস্তাবিত আইনে প্রথমবারের মতো জাল মুদ্রার বিভিন্ন ধরন আলাদাভাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—টেম্পার্ড নোট: আসল নোটে কারসাজি করে মূল্যমান বা নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য পরিবর্তনব্লিচড নোট: রাসায়নিক ব্যবহার করে আসল নোটের ছাপ মুছে নতুনভাবে ছাপানোমিসম্যাচড নোট: বিভিন্ন নোটের অংশ বা সিরিয়াল নম্বর জোড়া দিয়ে নতুন নোট তৈরিএর ফলে সম্পূর্ণ নকল নোটের পাশাপাশি আসল নোট বিকৃত করে প্রতারণার ঘটনাও একই আইনের আওতায় আসবে।খসড়ায় বাংলাদেশ ব্যাংকের মনোনীত কারেন্সি অফিসারকে সন্দেহজনক নোট পরীক্ষা করে সেটি জাল কি না, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রত্যয়ন দেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। আদালতে এই প্রত্যয়ন গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হবে।প্রস্তাবিত আইনে অধিকাংশ অপরাধকে আমলযোগ্য, জামিন-অযোগ্য এবং আপস-অযোগ্য করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। ফলে পুলিশ সরাসরি মামলা গ্রহণ ও তদন্ত করতে পারবে এবং সহজে জামিন বা আপসের সুযোগ থাকবে না।২০১৫ সালের পর থেকে দেশে জাল নোট তৈরির কৌশলে বড় পরিবর্তন এসেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, আধুনিক কম্পিউটার, উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন রঙিন প্রিন্টার ও ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে জাল নোট তৈরির প্রবণতা বেড়েছে। ঈদসহ বড় উৎসবকে কেন্দ্র করে জাল নোটের বিস্তার রোধে র্যাব, সিআইডি, ডিবি ও বিজিবি নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে।বাংলাদেশ ব্যাংকও ব্যাংকগুলোতে নোট যাচাই যন্ত্র ব্যবহারের নির্দেশনা, গ্রাহক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং আসল নোটের নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য যাচাই করে লেনদেনের পরামর্শ দিয়ে আসছে। চলতি বছর কোরবানির ঈদ উপলক্ষে পশুর হাটে জাল নোট শনাক্তকরণ বুথ স্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সময়ে রাজধানীর টঙ্গী ও গুলিস্তানে অভিযান চালিয়ে প্রায় ৩৪ লাখ টাকার জাল নোট উদ্ধার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ।আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেক বলেন, 'মতামত গ্রহণ শেষে খসড়াটি চূড়ান্ত করা হবে। এরপর অনুমোদনের জন্য তা মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে।'
১৪ মে ২০২৬
নবম বেতনকাঠামো: গ্রেডভিত্তিক ইনক্রিমেন্ট, বাড়ছে নিম্ন ও মধ্যম গ্রেডের সুবিধা

নবম বেতনকাঠামো: গ্রেডভিত্তিক ইনক্রিমেন্ট, বাড়ছে নিম্ন ও মধ্যম গ্রেডের সুবিধা

১৪ মে ২০২৬
গোপনীয়তা রক্ষায় হোয়াটসঅ্যাপে এল ইউজারনেম ফিচার

গোপনীয়তা রক্ষায় হোয়াটসঅ্যাপে এল ইউজারনেম ফিচার

বিশ্বের জনপ্রিয় মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম হোয়াটসঅ্যাপ অবশেষে বহুল প্রতীক্ষিত ইউজারনেম ফিচার চালুর ঘোষণা দিয়েছে। নতুন এই সুবিধার মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা নিজেদের ফোন নম্বর প্রকাশ না করেই অন্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন। তবে অ্যাকাউন্ট খোলার জন্য আগের মতোই ফোন নম্বর ব্যবহার বাধ্যতামূলক থাকবে।মেটার মালিকানাধীন হোয়াটসঅ্যাপ কয়েক বছর ধরে ইউজারনেম ফিচার নিয়ে কাজ করছিল। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার থেকেই ব্যবহারকারীরা নিজেদের পছন্দের ইউজারনেম সংরক্ষণ (রিজার্ভ) করতে পারবেন। তবে ফিচারটি ধাপে ধাপে বিভিন্ন দেশে চালু হবে এবং আনুষ্ঠানিকভাবে চলতি বছরের শেষ দিকে সবার জন্য উন্মুক্ত করা হবে।হোয়াটসঅ্যাপের তথ্যমতে, ব্যবহারকারীরা ৩ থেকে ৩৫ অক্ষরের মধ্যে যেকোনো ইউজারনেম নির্বাচন করতে পারবেন। তবে সেটি অবশ্যই প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা লঙ্ঘন করতে পারবে না। এছাড়া জনপ্রিয় তারকা, ভিআইপি ব্যক্তি এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জন্য কিছু ইউজারনেম সংরক্ষিত রাখা হবে। ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও কনটেন্ট নির্মাতারা চাইলে তাদের ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রামের একই ইউজারনেম হোয়াটসঅ্যাপেও ব্যবহার করতে পারবেন।যখন কোনো দেশে এই সুবিধা চালু হবে, তখন ব্যবহারকারীরা একটি নোটিফিকেশন পাবেন। এরপর Settings > Account > Username অপশনে গিয়ে নিজেদের পছন্দের ইউজারনেম সেট করতে পারবেন। পাশাপাশি ব্যবহারকারীরা চাইলে একটি Username Key নির্ধারণ করতে পারবেন, যা জানলে তবেই অন্য কেউ তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবে।মেটা জানিয়েছে, বর্তমানে হোয়াটসঅ্যাপের ব্যবহারকারী সংখ্যা ৩০০ কোটিরও বেশি। তাই একই ইউজারনেম একাধিক ব্যক্তি ব্যবহার করতে না পারে, সে কারণে আগে থেকে ইউজারনেম সংরক্ষণের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।প্রতিষ্ঠানটি আরও জানিয়েছে, হোয়াটসঅ্যাপে ইউজারনেম সার্চ করে কাউকে খুঁজে পাওয়া যাবে না। শুধুমাত্র যাদের কাছে নির্দিষ্ট ইউজারনেম থাকবে, তারাই সেই ব্যক্তিকে বার্তা পাঠাতে পারবেন। ব্যবহারকারীরা চাইলে যেকোনো সময় এই ফিচার বন্ধ করতে বা নিজেদের ইউজারনেম পরিবর্তন করতে পারবেন।হোয়াটসঅ্যাপের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও প্রোডাক্ট প্রধান অ্যালিস নিউটন-রেক্স বলেন, নতুন কারও সঙ্গে পরিচয়ের সময় নিজের ফোন নম্বর শেয়ার করা অনেকের জন্য অস্বস্তিকর হতে পারে, কারণ ফোন নম্বর ব্যক্তিগত তথ্য এবং জীবনের নানা গুরুত্বপূর্ণ সেবার সঙ্গে যুক্ত। ইউজারনেম ফিচার ব্যবহারকারীদের সেই গোপনীয়তা রক্ষা এবং ফোন নম্বর কারা দেখতে পাবে, সে বিষয়ে আরও বেশি নিয়ন্ত্রণ দেবে।তবে প্রাথমিকভাবে ইউজারনেম অন্যদের জানাতে হবে লিখিত বার্তা বা মুখে বলার মাধ্যমে। এখনই কিউআর কোড স্ক্যান করে শুধু ইউজারনেমের সাহায্যে যোগাযোগের সুবিধা থাকছে না।উল্লেখ্য, প্রতিদ্বন্দ্বী মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম টেলিগ্রাম, সিগন্যাল এবং ওয়্যারের মতো অ্যাপগুলোতে বহু বছর ধরেই ইউজারনেমের মাধ্যমে ফোন নম্বর গোপন রেখে যোগাযোগের সুযোগ রয়েছে। হোয়াটসঅ্যাপের এই নতুন পদক্ষেপ গোপনীয়তা সচেতন ব্যবহারকারীদের কাছে ইতিবাচক সাড়া ফেলবে বলে ধারণা করছেন প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা।
০৯ জুলাই ২০২৬
কোন ছবি নেই !
কোন ছবি নেই !
ঢাকা-রিয়াদ সরাসরি ফ্লাইটের টিকিট বিক্রি শুরু করেছে রিয়াদ এয়ার

ঢাকা-রিয়াদ সরাসরি ফ্লাইটের টিকিট বিক্রি শুরু করেছে রিয়াদ এয়ার

আগামী ৭ আগস্ট ঢাকা-রিয়াদ সরাসরি দৈনিক ফ্লাইট চালুর আগে আজ থেকে এই রুটের টিকিট বিক্রি শুরু করেছে রিয়াদ এয়ার। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে আকাশপথে যোগাযোগ আরও সম্প্রসারিত হবে।এয়ারলাইন্সের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নতুন এই রুটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মধ্যে বোয়িং ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার উড়োজাহাজে দৈনিক ফ্লাইট পরিচালিত হবে। এই দৈনিক ফ্লাইট বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে ভ্রমণ, বাণিজ্য ও পর্যটন সংযোগ আরও জোরদার করবে। একই সঙ্গে রিয়াদ এয়ারের সম্প্রসারিত নেটওয়ার্ক ও কোডশেয়ার অংশীদারিত্বের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের বিভিন্ন গন্তব্যে যাত্রীদের জন্য সুবিধাজনক সংযোগ নিশ্চিত করবে।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নতুন এই রুট দক্ষিণ এশিয়ার দ্রুত বিকাশমান বিমান পরিবহন বাজারগুলোর একটির প্রতি রিয়াদ এয়ারের অঙ্গীকারের প্রতিফলন এবং বাংলাদেশ-সৌদি আরবের দীর্ঘদিনের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করবে।ফ্লাইট সূচি অনুযায়ী, আরএক্স০৭৬৩ ফ্লাইট রিয়াদ থেকে স্থানীয় সময় রাত ৯টা ২০ মিনিটে ছেড়ে পরদিন সকাল ৬টা ১০ মিনিটে ঢাকায় পৌঁছাবে। ফিরতি আরএক্স০৭৬৪ ফ্লাইট স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ৪০ মিনিটে ঢাকা থেকে ছেড়ে সকাল ১০টা ৫৫ মিনিটে রিয়াদে অবতরণ করবে।রিয়াদ এয়ার জানিয়েছে, নতুন এই সেবা ব্যবসা, অবকাশ যাপন ও শিক্ষাসংক্রান্ত ভ্রমণের নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গন্তব্যে যাতায়াতকারী বাংলাদেশি যাত্রীদের জন্য রিয়াদকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট হাব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে।এয়ারলাইন্সটি আরও জানায়, বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান আন্তর্জাতিক ভ্রমণ বাজার এবং সৌদি আরবের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিবেচনায় এই রুট তাদের বৈশ্বিক নেটওয়ার্কে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন।যাত্রীরা রিয়াদ এয়ারের ওয়েবসাইট, মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন এবং অনুমোদিত ট্রাভেল এজেন্টদের মাধ্যমে টিকিট কিনতে পারবেন। ফ্লাইটগুলো রিয়াদ এয়ারের বোয়িং ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনারে পরিচালিত হবে। উড়োজাহাজে বিজনেস এলিট, বিজনেস, প্রিমিয়াম ইকোনমি ও ইকোনমি—এই চারটি কেবিন শ্রেণি থাকবে। এতে সর্বাধুনিক ইন-ফ্লাইট বিনোদন ব্যবস্থা, ওয়্যারলেস সংযোগ এবং উন্নত যাত্রীসেবা সুবিধা থাকবে।সৌদি আরবের নতুন জাতীয় এয়ারলাইন্স রিয়াদ এয়ার দেশটির বৈশ্বিক সংযোগ বৃদ্ধি, পর্যটন খাতের বিকাশ এবং অর্থনীতির বহুমুখীকরণের লক্ষ্যে গৃহীত বৃহত্তর বিমান পরিবহন কৌশলের অংশ হিসেবে আন্তর্জাতিক রুট নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ করছে।
১৪ মে ২০২৬
শেখ নূর কুতুব আলম: বাংলার আধ্যাত্মিক নেতৃত্বের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত

শেখ নূর কুতুব আলম: বাংলার আধ্যাত্মিক নেতৃত্বের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত

বাংলার মধ্যযুগীয় ইতিহাসে পান্ডুয়া ছিল জ্ঞান, সংস্কৃতি ও আধ্যাত্মিক সাধনার অন্যতম কেন্দ্র। এই শহরের খানকাগুলোতে যেমন ধর্মীয় শিক্ষা বিস্তার লাভ করত, তেমনি এখান থেকেই সমাজজীবনে নৈতিক নেতৃত্বও গড়ে উঠত। ১৩৫০ সালের কিছু আগে তৎকালীন বাংলার রাজধানী পান্ডুয়ায় তার জন্ম। তার প্রকৃত নাম নূরুদ্দীন নূরুল হক। ‘নূর কুতুবুল আলম’ তার উপাধি।তার পিতা ছিলেন বাংলার অন্যতম শ্রেষ্ঠ আলেম ও সুফি শায়খ আলাউল হক। বংশপরিচয়ও ছিল সম্মানজনক—তিনি লাহোরের প্রসিদ্ধ সাধক শেখ আসাদের পৌত্র। পিতার মতো তিনি ছিলেন চিশতিয়া তরিকার একজন বিশিষ্ট পীর। ইলিয়াস শাহী বংশের তৃতীয় সুলতান গিয়াস উদ্দিন আজম শাহ ছিলেন তার সহপাঠী ও বন্ধু। কিন্তু বংশগৌরবের চেয়েও বড় ছিল তার ব্যক্তিত্ব, জ্ঞান, দূরদর্শিতা এবং মানুষের জন্য আত্মনিবেদিত জীবন।ব্যক্তিগত জীবন ও আধ্যাত্মিক সাধনানূর কুতুব আলম তাঁর পিতার আমল থেকে সব ধরনের কায়িক শ্রমের অভ্যাস করতেন। দরগায় আগত ফকিরদের কাপড় ধোয়া, লাকড়ি ও পানি বহন, শীতকালে পীরের অজু করার জন্য সর্বদা পানি গরম রাখা, এমনকি খানকাহসংলগ্ন শৌচাগার পরিষ্কার করা প্রভৃতি কাজে তিনি নিজেকে নিয়োজিত রাখতেন।আজকের সময়ে নেতৃত্বকে আমরা প্রায়ই ক্ষমতা, প্রভাব কিংবা সামাজিক মর্যাদার সঙ্গে মিলিয়ে দেখি। অথচ নূর কুতুব আলমের জীবন আমাদের শেখায়, প্রকৃত নেতৃত্ব শুরু হয় সেবার মাধ্যমে। যে মানুষ নিজের হাতে মানুষের কষ্ট লাঘব করতে পারে, তিনিই প্রকৃত অর্থে মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিতে পারেন।রাজনৈতিক সংকটে নূর কুতুব আলমের ভূমিকানূর কুতুব আলমের জীবনের সবচেয়ে উজ্জ্বল অধ্যায় রচিত হয় এক ভয়াবহ রাজনৈতিক সংকটের সময়। ১৪১৫ খ্রিস্টাব্দে রাজা গণেশ নামক একজন হিন্দু শাসক ইলিয়াস শাহি বংশ উত্খাত করে ক্ষমতা গ্রহণ করেন। তিনি মুসলমানের ওপর নজিরবিহীন জুলুম-নির্যাতন শুরু করেন। এমনকি শায়খ ও আলেমদের ওপর অবর্ণনীয় অত্যাচার শুরু করেন।বিশেষ করে ধর্মীয় নেতৃত্ব, আলেম-ওলামা এবং সাধারণ মুসলমানদের ওপর নিপীড়নের অভিযোগ বিভিন্ন ঐতিহাসিক গ্রন্থে উল্লেখিত হয়েছে। বাংলার মুসলিম সমাজ গভীর অনিশ্চয়তা ও আতঙ্কের মধ্যে পড়ে।এই পরিস্থিতিতে শেখ নূর কুতুব আলম নীরব থাকেননি। তিনি উপলব্ধি করেছিলেন, কেবল খানকায় বসে ইবাদত করাই একজন আধ্যাত্মিক নেতার একমাত্র দায়িত্ব নয়; মানুষের জীবন, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সামাজিক নিরাপত্তা বিপন্ন হলে ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্যও এগিয়ে আসতে হয়। তার এই অবস্থান প্রমাণ করে, ইসলামী আধ্যাত্মিকতার প্রকৃত শিক্ষা সমাজবিমুখতা নয়; বরং মানুষের কল্যাণে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন।কূটনৈতিক পদক্ষেপ ও রাজা গণেশের সাথে সমঝোতাবাংলার মুসলমানদের রক্ষার জন্য তিনি এক গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। তিনি জৌনপুরের সুলতান ইবরাহিম শর্কিকে বাংলা আক্রমণ করে বাংলাকে গণেশের হাত থেকে রক্ষা করার অনুরোধ জানিয়ে চিঠি লেখেন। একই সঙ্গে তিনি প্রসিদ্ধ সুফি ব্যক্তিত্ব মীর সৈয়দ আশরাফ জাহাঙ্গীর সিমনানিকেও অনুরোধ করেন, যেন তিনিও ইবরাহিম শর্কিকে বাংলার মুসলমানদের সহায়তায় এগিয়ে আসতে উদ্বুদ্ধ করেন।সুলতান ইবরাহিম শর্কি এই অনুরোধ রক্ষা করে বাংলা আক্রমণের উদ্দেশ্যে পিরোজপুর এসে শিবির স্থাপন করেন। রাজা গণেশ এতে ভয় পেয়ে নূর কুতুব আলমের কাছে আত্মসমর্পণ করেন এবং তাঁকে ক্ষমা করে ইবরাহিম শর্কিকে জৌনপুরে ফিরে যেতে বলার অনুরোধ জানান।কিন্তু নূর কুতুব আলম এতে সম্মত হননি। তিনি জানিয়ে দেন, একজন মুসলিম শাসককে কোনো অমুসলিম শাসকের পক্ষ নিয়ে তিনি ফিরিয়ে দিতে পারেন না। বরং পূর্বশর্ত হিসেবে তিনি রাজা গণেশকে ইসলাম গ্রহণের আহ্বান জানান। গণেশ তাতে সম্মত হন, কিন্তু বিস্তারিত শুনে তাঁর রানি এতে বাধা দেন। গণেশ তখন তার ১২ বছরের ছেলে যদুকে নিয়ে শায়খের কাছে আসেন। যদুকে ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত করে 'জালালুদ্দীন' নাম দেওয়া হয় এবং গণেশ তার পক্ষে সিংহাসন ত্যাগ করেন।এই ঘটনার মধ্য দিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ এড়ানো সম্ভব হয় এবং বাংলার রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অন্তত সাময়িকভাবে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়।পরবর্তী পরিস্থিতি ও নূর কুতুব আলমের দূরদর্শিতাশায়খের মৃত্যুর পর গণেশ অবশ্য যদুকে হিন্দু ধর্মে পুনরায় দীক্ষিত করে নিজে সিংহাসনে অধিষ্ঠিত হন। কিন্তু রাজা গণেশের মৃত্যু হলে যদু জালালুদ্দীন মুহাম্মদ শাহ উপাধি গ্রহণ করে সিংহাসনে আরোহণ করেন এবং বাংলার মুসলিম শাসনব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়।এই ঘটনাপ্রবাহে নূর কুতুব আলমের দূরদর্শিতার প্রতিফলন স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তিনি হয়তো জানতেন, একটি সংকটময় সময়ে আপসের মধ্য দিয়েও দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার পথ তৈরি করা যায়।রচিত গ্রন্থসমূহ ও আধ্যাত্মিক উত্তরসূরিতিনি শুধু নিজের আধ্যাত্মিক সাধনায় সীমাবদ্ধ থাকেননি; পরবর্তী প্রজন্ম গড়ে তোলার প্রতিও ছিলেন সমান মনোযোগী। তাঁর রচিত গ্রন্থ সংখ্যা ১২১টি। সেগুলো তার প্রধান মুরিদ ও খলিফা হুসামুদ্দিন মানিকপুরী সম্পাদনা করেন। তন্মধ্যে বিখ্যাত দুটি গ্রন্থ হলো মুগিসুল ফুকারা ও আনিসুল গুরাবা।মুগিসুল ফুকারার একটি পাণ্ডুলিপি সংরক্ষিত আছে বিহারের ভাগলপুরের খলিফাবাগ একটি প্রাইভেট লাইব্রেরিতে। আরেকটি অসম্পূর্ণ কপি সংরক্ষিত আছে এশিয়াটিক সোসাইটি অব বেঙ্গল কলিকাতার লাইব্রেরিতে (সংগ্রহ নং- ৪৬৬)। সেখানে আনিসুল গুরাবা বইটির ২টি কপি সংরক্ষিত আছে (সংগ্রহ নং: ১২১২ ও ১২১৩)।তিনি তাঁর দুই পুত্র শেখ রাফকাতউদ্দীন এবং শেখ আনোয়ারকে আধ্যাত্মিক শিক্ষা দেন। সম্ভবত পিতার জীবদ্দশায় শেখ আনোয়ার রাজা গণেশের হাতে সোনারগাঁয়ে শহীদ হন। শেখ নূর কুতুব আলমের অন্য আর একজন প্রধান মুরিদ ছিলেন শেখ হুসামুদ্দীন মানিকপুরী।পত্র সংকলন ও ঐতিহাসিক দলিলনূর কুতুব আলমের ১৩টি পত্রের একটি গ্রন্থ সম্পাদনা করেন মুহাদ্দিস আব্দুল হক দেহলভী। যে গ্রন্থের নাম মাকতুবাত ই নূর কুতুবুল আলম। এটি দিল্লির ইন্ডিয়ান আর্কাইভে সংরক্ষিত আছে। এই পত্রগুলো থেকে সমসাময়িক রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়।সুলতানদের শ্রদ্ধা ও দরগাহের গুরুত্বশেখ নূর কুতুব আলমের প্রতি পরবর্তী সুলতানদের শ্রদ্ধাও ছিল অসাধারণ। তার দরগাহ সংলগ্ন সরাইখানা ও মাদরাসার ব্যয় নির্বাহের জন্য সুলতান আলাউদ্দীন হোসেন শাহ কয়েকটি গ্রাম দান করেন। দরবেশের মাজার জিয়ারতের জন্য সুলতান বছরে একবার রাজধানী শহর একডালা থেকে পান্ডুয়ায় আসতেন।শায়খ নূর কুতুব আলম পান্ডুয়ার পীর-আউলিয়ার মধ্যে শীর্ষ মর্যাদার অধিকারীদের অন্যতম। পিতা-পুত্র দুজনই পান্ডুয়ার বিখ্যাত শাশ হাজারি দরগায় শায়িত আছেন। পিতার মতো তিনি চিশতিয়া মতাদর্শের পীর ছিলেন। তাঁর অনুসারী শিষ্যকুল ও দরবেশরা কয়েক শতক ধরে বাংলায় মুসলিম সমাজজীবনে তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।ঐতিহাসিক দৃষ্টিতে শায়খ নূর কুতুব আলমের সর্বশ্রেষ্ঠ অবদান বাংলার মুসলিম শাসন রাজা গণেশের হাত থেকে রক্ষা করা।মৃত্যুশেখ নূর কুতুব আলম ৮১৮ হিজরি বা ১৪১৫ খ্রিস্টাব্দে (বাংলাপিডিয়া ও উইকিপিডিয়া মতে) ইন্তেকাল করেন। তবে প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, ১৪৪৭ সালের ৭ জানুয়ারি তার মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়। তার ইন্তেকালের সঙ্গে একটি সুন্দর ফারসি অভিব্যক্তি যুক্ত হয়েছে—"নূর বানূর-শুদ", অর্থাৎ "আলো আলোতে বিলীন হয়ে গেল।"এই বাক্যটি যেন তার সমগ্র জীবনেরই প্রতীক। তিনি এমন এক আলোকবর্তিকা ছিলেন, যিনি নিজের জন্য নয়, মানুষের পথ আলোকিত করার জন্য জীবন উৎসর্গ করেছিলেন।ইতিহাসে বহু রাজা এসেছেন, বহু সাম্রাজ্য গড়ে উঠেছে এবং বিলীন হয়েছে। কিন্তু যারা মানুষের হৃদয়ে নৈতিকতার আলো জ্বালিয়ে দেন, তাদের স্মৃতি যুগের পর যুগ অম্লান থাকে। শেখ নূর কুতুব আলম সেই বিরল ব্যক্তিত্বদের একজন, যার জীবন বাংলার ইতিহাসে আধ্যাত্মিক নেতৃত্ব, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং নৈতিক সাহসের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে আজও আমাদের সামনে দাঁড়িয়ে আছে।তথ্যসূত্র: উইকিপিডিয়া, বাংলাপিডিয়া, শায়েখ আব্দুল হক দেহলভী, আকবারুল উখিয়া ফি আসরারুল আবরার, সোস্যাল হিস্টোরি অফ দ্যা মুসলিম ইন ব্যাঙ্গাল।
ফিরোজ আল মামুন