গণবার্তা
সর্বশেষ

ফ্লোরিডায় দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থী খুন, রুমমেট সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার

উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমানো দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জামিল লিমন ও নাহিদা বৃষ্টি ফ্লোরিডায় রহস্যজনক হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। নিখোঁজের ১০ দিন পর সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তারকৃত মার্কিন নাগরিক হিশাম আবুগারবিয়েহ ভিকটিম জামিল লিমনের রুমমেট বলে জানিয়েছে পুলিশ। তার তথ্যে শুক্রবার ফ্লোরিডার হাওয়ার্ড ফ্রাঙ্কল্যান্ড ব্রিজ এলাকা থেকে জামিলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর হিশামের বাসা থেকেই নাহিদা বৃষ্টির মরদেহের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের মাধ্যমে তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে বৃষ্টির পরিবার।গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার শিক্ষার্থী জামিল লিমন ও নাহিদা বৃষ্টি। নিখোঁজ হওয়ার পর তাদের সন্ধান পেতে মাঠে নামে ফ্লোরিডার চারটি কাউন্টির পুলিশ ও বিভিন্ন সংস্থা। বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল, মায়ামি থেকেও যোগাযোগ রাখা হয়। প্রায় দশ দিন পর স্থানীয় সময় শুক্রবার সন্দেহভাজন হিসেবে হিশামকে গ্রেপ্তার করে স্থানীয় পুলিশ। তদন্ত কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্যমতে, জামিল লিমনের খণ্ডিত মরদেহ সেতুর নিচ থেকে উদ্ধার এবং নাহিদা বৃষ্টির মৃত্যু চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত হওয়ার পর এখন হিশামকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।হিশামকে গ্রেপ্তারের প্রক্রিয়াটি ছিল নাটকীয়। টাম্পার উত্তরে হিশামের নিজের বাড়িতে পারিবারিক সহিংসতার খবর পেয়ে পুলিশ উপস্থিত হলে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর অস্ত্রসহ অবরুদ্ধ করে ফেলেন। পরিস্থিতি এতটাই জটিল আকার ধারণ করে যে, শেষ পর্যন্ত পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট সোয়াট টিম তলব করতে হয়। দীর্ঘ সময় পুলিশকে লক্ষ্য করে প্রতিরোধ গড়ে তোলার পর একপর্যায়ে সোয়াট টিমের কাছে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হন এই ঘাতক। মূলত তার পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে তাকে বাড়ি থেকে বের করে আনতে পুলিশকে বেশ বেগ পেতে হয়েছিল।হিলসবোরো কাউন্টি আদালত ও শেরিফ অফিসের রেকর্ড বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, হিশাম একই বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী ছিলেন। ২০২১ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ম্যানেজমেন্ট বিষয়ে পড়াশোনা করলেও গ্রেপ্তারের সময় তার ছাত্রত্ব ছিল না। আদালতের নথি বলছে, ২০২৩ সালের মে ও সেপ্টেম্বর মাসেও তার বিরুদ্ধে শারীরিক আঘাত এবং চুরির মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছিল। গ্রেপ্তারের পর হিশামের বিরুদ্ধে বর্তমানে একাধিক গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে মৃত্যুর সংবাদ গোপন করা, অবৈধভাবে মৃতদেহ সরানো, আলামত নষ্ট করা এবং পরিকল্পিতভাবে শারীরিক আঘাত ও সহিংসতা।ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডা এলাকায় বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির আকাশ চৌধুরী রাশু জানান, দুই শিক্ষার্থীর এমন নির্মম পরিণতিতে তারা শোকাহত। সহপাঠী এবং স্থানীয়দের সঙ্গে লিমন-বৃষ্টির ভালো সম্পর্ক ছিল। গত একুশে ফেব্রুয়ারিতেও কমিউনিটির বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন তারা। তিনি এমন হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল, মায়ামির কনসাল জেনারেল সেহেলী সাবরীন জানান, নিখোঁজ দুই শিক্ষার্থীর ব্যাপারে তারা শুরু থেকেই নিয়মিত যোগাযোগ রেখেছেন। শুক্রবার সন্দেহভাজন হিসেবে হিশামকে গ্রেপ্তারের পরই ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। দুই শিক্ষার্থীর এমন নির্মম হত্যাকাণ্ডে পুরো কমিউনিটি শোকাহত।স্বপ্ন নিয়ে বিদেশে পাড়ি জমানো দুই তরুণ-তরুণীর প্রাণের এমন নির্মম পরিণতি শুধু দুটি পরিবারের নয়, পুরো প্রবাসী সমাজের জন্যই এক গভীর বেদনার নাম হয়ে রইল। এই ঘটনার পর শোকের ছায়া নেমে এসেছে প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিতে। উল্লেখ্য, জামালপুর জেলার জামিল লিমন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের এবং নাহিদা বৃষ্টি নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন। লিমন ২০২৪ সালে এবং বৃষ্টি ২০২৫ সালে পিএইচডি করতে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় পাড়ি জমান।
৭ ঘন্টা আগে

জব্বারের বলিখেলায় প্রথমবার অংশ নিয়েই চমক ঢাকার কিশোর অরণ্যের

চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী জব্বারের বলিখেলায় প্রথমবার অংশ নিয়েই চমক দেখিয়েছেন ঢাকার ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষার্থী অরণ্য তৌফিক। ষোল বছর বয়সী এই কিশোর নিজের চেয়ে ১২ বছর বড় প্রতিদ্বন্দ্বী বলি মোহাম্মদ মানিককে পরাজিত করে আলোচনায় এসেছেন। শনিবার ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের লালদীঘি মাঠে এসে প্রতিযোগিতায় অংশ নেন তৌফিক। তার সঙ্গে ছিলেন কোচ সামির।ছোটবেলা থেকেই কুস্তি ও রেসলিংয়ে আগ্রহী তৌফিক ঢাকায় নিয়মিত অনুশীলন করেন। শখের বশে এবারই প্রথম অংশ নিলেন এই ঐতিহ্যবাহী বলিখেলায়। তৌফিক ও হালিশহরের মানিকের মধ্যকার লড়াইটি এক মিনিটের কিছু বেশি সময় স্থায়ী হয়। ম্যাচ শেষে রিং থেকে নামার সময় কোচকে জড়িয়ে ধরেন তিনি। জয়ের অনুভূতি জানাতে গিয়ে তৌফিক বলেন, তার চেয়ে অনেক বড় ও শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বীর মুখোমুখি হয়েছিলেন। শুরুতে কিছুটা নার্ভাস লাগলেও সাহস হারাননি। শেষ পর্যন্ত জিততে পেরে খুব ভালো লাগছে বলে জানান তিনি।ঢাকার মগবাজারের বাসিন্দা তৌফিক জানান, তার বাবা-মা সবসময় খেলাধুলায় তাকে উৎসাহ দেন। টেলিভিশনে নিয়মিত রেসলিং দেখেন তিনি এবং ভবিষ্যতে পেশাদার কুস্তিগির হওয়ার স্বপ্ন দেখেন। এবারের আসরে তৌফিকই ছিলেন সবচেয়ে কনিষ্ঠ প্রতিযোগী। জয়ে উচ্ছ্বসিত তৌফিক বলেন, অনেকদিন ধরে এই বলিখেলার কথা শুনেছেন, এবার সামনে থেকে দেখার সুযোগ হলো। উল্লেখ্য, শতবর্ষী এই আয়োজনের প্রবর্তক আবদুল জব্বারের নামানুসারে অনুষ্ঠিত জব্বারের বলিখেলা এবার ১১৭ বছরে পা দিয়েছে। এবারের আসরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে শতাধিক বলি অংশগ্রহণ করেছেন।
৭ ঘন্টা আগে

গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার হুমকি, বাড়ানো হয়েছে নজরদারি

দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার বিষয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের সতর্কতার পর গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। ভবনগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে। পুলিশের একাধিক সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের এক কর্মকর্তা জানান, এরই মধ্যে সন্দেহভাজনদের তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ শুরু করেছে সিটিটিসি। গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার আশপাশে গোয়েন্দা তৎপরতাও বাড়ানো হয়েছে।এদিকে রাজধানীর মিন্টু রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে সিটিটিসির যুগ্ম পুলিশ কমিশনার মুনশী শাহাবুদ্দীনকে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করেন। জবাবে তিনি বলেন, এ বিষয়ে তথ্য পেয়েছেন। সিটিটিসি, সাইবার ইন্টেলিজেন্সসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে। আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।এর আগে বৃহস্পতিবার পুলিশের রেঞ্জ ডিআইজি, মেট্রোপলিটন কমিশনার, পুলিশ সুপারসহ সব ইউনিটকে জরুরি নির্দেশনা দিয়ে একটি চিঠি পাঠায় সদর দপ্তর। চিঠিতে নিষিদ্ধঘোষিত একটি উগ্রবাদী সংগঠনের সমর্থকরা জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলা চালাতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়। জরুরি ওই নির্দেশনায় বলা হয়, সম্প্রতি গ্রেপ্তার হওয়া নিষিদ্ধঘোষিত উগ্রবাদী সংগঠনের সদস্য ইসতিয়াক আহম্মেদ সামীর সঙ্গে একটি বাহিনীর চাকরিচ্যুত দুই সদস্যের নিয়মিত যোগাযোগের তথ্য মিলেছে।গোয়েন্দা তথ্যে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, এই চক্রটি জাতীয় সংসদ ভবন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর স্থাপনা ও সদস্য, ধর্মীয় উপাসনালয়, বিনোদনকেন্দ্র, শাহবাগসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় হামলার পরিকল্পনা করতে পারে। বোমা বিস্ফোরণের পাশাপাশি দেশীয় ধারালো অস্ত্র বা আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে হামলার আশঙ্কাও রয়েছে। ঢাকার ধামরাই থেকে মো. রাকিব হাসান নামে এক ব্যক্তিকে আটকের কথা জানিয়েছে পুলিশ। শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে উপজেলার নান্না এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।ধামরাই থানার ওসি মোহাম্মদ নাজমুল খান ভূঁইয়া জানিয়েছেন, পুলিশের একটি বিশেষ ব্রাঞ্চের সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে রাকিবকে আটক করা হয়। তাকে নিয়ে সংস্থাটি সরাসরি কাজ করছে। রাকিবের বিরুদ্ধে দেশের বর্তমান পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টার অভিযোগ রয়েছে। তাকে দেশের স্থিতিশীল পরিস্থিতির জন্য হুমকিস্বরূপ মনে করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।সূত্র জানায়, নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠনের সদস্য ইসতিয়াক আহম্মেদের সঙ্গে সেনাবাহিনীর চাকরিচ্যুত দুই সদস্যের নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে। তাদের একজনের বাড়ি রংপুরে। রংপুরের এই সেনাসদস্যের বন্ধু বা ব্যাচমেট হলেন রাকিব হাসান। তিনিও বেসামরিক হিসেবে সেনাবাহিনীতে চাকরি করেন। রাকিব মূলত দাওলাতুল ইসলামের সদস্য। ধামরাই থানার ওসি আরও বলেন, অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় সিটিটিসি ইউনিটও বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে। আটক ব্যক্তিকে কোথায় হস্তান্তর করা হবে, তা নিয়ে এখনো সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়নি।পুলিশ সদর দপ্তরের চিঠিতে আরও বলা হয়, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জাতীয় সংসদ ভবন, বাংলাদেশ পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্য বা স্থাপনা, ধর্মীয় উপাসনালয়, বিনোদনকেন্দ্র, শাহবাগ চত্বরসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় বোমা বিস্ফোরণ বা ধারালো অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে হামলার পরিকল্পনা করতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন বাহিনীর অস্ত্রাগারে হামলার পরিকল্পনাও তারা নিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা জোরদার করার জন্য সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নজরদারি বাড়ানো এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক সময়ে প্রাপ্ত গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
৭ ঘন্টা আগে
ওয়াশিংটন হোটেলে বন্দুক হামলাকারী আটক

ওয়াশিংটন হোটেলে বন্দুক হামলাকারী আটক

যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসির একটি হোটেলে হোয়াইট হাউস প্রতিনিধিদের সঙ্গে নৈশভোজ চলাকালে বন্দুক হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলাকারীকে তৎক্ষণাৎ আটক করেছে নিরাপত্তা বাহিনী। পরিস্থিতি এখন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই ঘটনাকে তিনি ওয়াশিংটনের জন্য এক অদ্ভুত সন্ধ্যা বলে অভিহিত করেছেন। ঘটনাস্থল থেকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ট্রাম্প তাঁর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে জানিয়েছেন, ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প ও প্রশাসনের সব সদস্য সম্পূর্ণ সুস্থ ও নিরাপদ আছেন।দুজন আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা এপিকে জানিয়েছেন, গুলি চালানোর সন্দেহভাজন ব্যক্তি হলেন ক্যালিফোর্নিয়ার টরেন্সের বাসিন্দা ৩১ বছর বয়সী কোল টমাস অ্যালেন। ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্লাঞ্চ জানিয়েছেন, আটককৃত ব্যক্তির বিরুদ্ধে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র রাখা এবং জনসমক্ষে গুলি চালানোর মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগ আনা হচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে ইতিমধ্যেই সার্চ ওয়ারেন্ট ইস্যু করা হয়েছে এবং অভিযুক্তের ক্যালিফোর্নিয়ার বাসভবনে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন পরিচালক কাশ প্যাটেল জানিয়েছেন, তাদের ফরেনসিক দল ও ব্যালিস্টিক বিশেষজ্ঞরা ঘটনাস্থল থেকে একটি লম্বা বন্দুক এবং বেশ কিছু গুলির খোসা উদ্ধার করেছেন। সিক্রেট সার্ভিস এবং এফবিআইয়ের যৌথ তদন্তে এই ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মেট্রোপলিটন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত প্রধান জেফরি ক্যারল জানিয়েছেন, হামলাকারী ব্যক্তি কোনো সাধারণ অপরাধী ছিলেন না, তিনি অস্ত্রে সজ্জিত ছিলেন। তার কাছে একটি শটগান, একটি হ্যান্ডগান এবং বেশ কয়েকটি ধারালো ছুরি পাওয়া গেছে। চেকপয়েন্ট অতিক্রম করার সময় নিরাপত্তা রক্ষীরা তাকে বাধা দিলে উভয়পক্ষের মধ্যে গোলাগুলি শুরু হয়।এই সংঘর্ষে সিক্রেট সার্ভিসের ইউনিফর্ম পরিহিত একজন অফিসার গুলিবিদ্ধ হয়েছেন, তবে বুলেটপ্রুফ ভেস্ট পরিহিত থাকায় বড় ধরনের বিপদ থেকে তিনি বেঁচে গেছেন। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এবং আশঙ্কামুক্ত। ওয়াশিংটন ডিসির মেয়র মুরিয়েল বাউসার জানান, রাত ৮টা ৩৬ মিনিটে এই ঘটনা ঘটে। একজন বন্দুকধারী হোটেলের নিরাপত্তাবলয় ভেঙে লবিতে প্রবেশের চেষ্টা করলে সিক্রেট সার্ভিস এজেন্টদের তাৎক্ষণিক তৎপরতায় তাকে প্রতিহত করা সম্ভব হয়। মেয়র নিশ্চিত করেছেন, হামলাকারী বন্দুকধারী নিজেও আহত হয়েছে এবং বর্তমানে তাকে কড়া পাহারায় হাসপাতালে চিকিৎসা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানো হচ্ছে।প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে জানিয়েছেন, হামলাকারী ক্যালিফোর্নিয়ার বাসিন্দা এবং তার কাছে একাধিক অস্ত্র ছিল। হামলাকারীকে অসুস্থ ব্যক্তি হিসেবে বর্ণনা করে ট্রাম্প বলেন, নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা অত্যন্ত সাহসিকতার সঙ্গে দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে বড় বিপদ এড়াতে সক্ষম হয়েছেন। এই ঘটনায় ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প মানসিকভাবে কিছুটা আঘাত পেয়েছেন বলে উল্লেখ করেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, এই ধরনের সন্ত্রাসের কাছে নতি স্বীকার করবেন না তারা। স্থগিত হওয়া অনুষ্ঠানটি ৩০ দিনের মধ্যে পুনরায় আয়োজন করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। এই বার্ষিক ডিনারটি হোয়াইট হাউসে কাজ করা সাংবাদিকদের জন্য আয়োজন করা হয়। সাংবাদিকদের পাশাপাশি মিডিয়া জগতের অনেক তারকাও এতে উপস্থিত ছিলেন। সূত্র: এপি, বিবিসি, আলজাজিরা।
৬ ঘন্টা আগে
প্রধান সড়কে পর্যায়ক্রমে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা নিষিদ্ধ হবে: সেতুমন্ত্রী

প্রধান সড়কে পর্যায়ক্রমে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা নিষিদ্ধ হবে: সেতুমন্ত্রী

পর্যায়ক্রমে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা নিষিদ্ধ করা হবে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। এই সমস্যা বিস্তৃত হওয়ায় শৃঙ্খলা রক্ষায় সরকার জেনে-বুঝে-ভেবে-আলোচনা সাপেক্ষে সিদ্ধান্ত নিতে চাচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি। শনিবার ধানমন্ডিতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা অভিযানে অংশ নিয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।মন্ত্রী বলেন, অটোরিকশার দৌরাত্ম্য সব জায়গায় আছে, যেটা জনজীবন বিপর্যস্ত করছে। ঢাকা শহরের যানবাহনের শৃঙ্খলা ব্যাহত হচ্ছে। যার ফলে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, প্রধান প্রধান সড়ক ও প্রধান প্রধান এলাকায় পর্যায়ক্রমে অটোরিকশার প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হবে। এই প্রক্রিয়া অনুসরণের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হচ্ছে এবং সব পক্ষের মধ্যে আলোচনা চলছে।ঢাকা বাঁচলে দেশ বাঁচবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, একটাই রাজধানী আমাদের ফাংশন করে। সব ব্যবসা, উদ্যোগ, প্রশাসন ঢাকা কেন্দ্রিক। ফলে ঢাকাকে রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব। এই সমস্যাটা বেশ বিস্তৃত। তাই রাতারাতি যেকোনো সময় যেকোনো উদ্যোগ কিছুটা কঠিন। ফলে যেটা নিলে শৃঙ্খলা রক্ষা পায়, সেই জায়গায় আমরা জেনে-বুঝে-ভেবে-আলোচনা সাপেক্ষে যেতে চাচ্ছি। রবিউল আলম বলেন, এই সময় তিনি নিজেও জর্জরিত, সবাই জর্জরিত। আবার অটোরিকশাচালকরাও জর্জরিত। এর মধ্যে একটা সমন্বয় চাচ্ছেন যেটাতে সবাই একমত হয় এবং পাশাপাশি সবার স্বার্থটা রক্ষা হয়।
১৫ ঘন্টা আগে
ওয়াশিংটন হোটেলে বন্দুক হামলাকারী আটক

ওয়াশিংটন হোটেলে বন্দুক হামলাকারী আটক

যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসির একটি হোটেলে হোয়াইট হাউস প্রতিনিধিদের সঙ্গে নৈশভোজ চলাকালে বন্দুক হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলাকারীকে তৎক্ষণাৎ আটক করেছে নিরাপত্তা বাহিনী। পরিস্থিতি এখন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই ঘটনাকে তিনি ওয়াশিংটনের জন্য এক অদ্ভুত সন্ধ্যা বলে অভিহিত করেছেন। ঘটনাস্থল থেকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ট্রাম্প তাঁর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে জানিয়েছেন, ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প ও প্রশাসনের সব সদস্য সম্পূর্ণ সুস্থ ও নিরাপদ আছেন।দুজন আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা এপিকে জানিয়েছেন, গুলি চালানোর সন্দেহভাজন ব্যক্তি হলেন ক্যালিফোর্নিয়ার টরেন্সের বাসিন্দা ৩১ বছর বয়সী কোল টমাস অ্যালেন। ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্লাঞ্চ জানিয়েছেন, আটককৃত ব্যক্তির বিরুদ্ধে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র রাখা এবং জনসমক্ষে গুলি চালানোর মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগ আনা হচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে ইতিমধ্যেই সার্চ ওয়ারেন্ট ইস্যু করা হয়েছে এবং অভিযুক্তের ক্যালিফোর্নিয়ার বাসভবনে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন পরিচালক কাশ প্যাটেল জানিয়েছেন, তাদের ফরেনসিক দল ও ব্যালিস্টিক বিশেষজ্ঞরা ঘটনাস্থল থেকে একটি লম্বা বন্দুক এবং বেশ কিছু গুলির খোসা উদ্ধার করেছেন। সিক্রেট সার্ভিস এবং এফবিআইয়ের যৌথ তদন্তে এই ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মেট্রোপলিটন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত প্রধান জেফরি ক্যারল জানিয়েছেন, হামলাকারী ব্যক্তি কোনো সাধারণ অপরাধী ছিলেন না, তিনি অস্ত্রে সজ্জিত ছিলেন। তার কাছে একটি শটগান, একটি হ্যান্ডগান এবং বেশ কয়েকটি ধারালো ছুরি পাওয়া গেছে। চেকপয়েন্ট অতিক্রম করার সময় নিরাপত্তা রক্ষীরা তাকে বাধা দিলে উভয়পক্ষের মধ্যে গোলাগুলি শুরু হয়।এই সংঘর্ষে সিক্রেট সার্ভিসের ইউনিফর্ম পরিহিত একজন অফিসার গুলিবিদ্ধ হয়েছেন, তবে বুলেটপ্রুফ ভেস্ট পরিহিত থাকায় বড় ধরনের বিপদ থেকে তিনি বেঁচে গেছেন। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এবং আশঙ্কামুক্ত। ওয়াশিংটন ডিসির মেয়র মুরিয়েল বাউসার জানান, রাত ৮টা ৩৬ মিনিটে এই ঘটনা ঘটে। একজন বন্দুকধারী হোটেলের নিরাপত্তাবলয় ভেঙে লবিতে প্রবেশের চেষ্টা করলে সিক্রেট সার্ভিস এজেন্টদের তাৎক্ষণিক তৎপরতায় তাকে প্রতিহত করা সম্ভব হয়। মেয়র নিশ্চিত করেছেন, হামলাকারী বন্দুকধারী নিজেও আহত হয়েছে এবং বর্তমানে তাকে কড়া পাহারায় হাসপাতালে চিকিৎসা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানো হচ্ছে।প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে জানিয়েছেন, হামলাকারী ক্যালিফোর্নিয়ার বাসিন্দা এবং তার কাছে একাধিক অস্ত্র ছিল। হামলাকারীকে অসুস্থ ব্যক্তি হিসেবে বর্ণনা করে ট্রাম্প বলেন, নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা অত্যন্ত সাহসিকতার সঙ্গে দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে বড় বিপদ এড়াতে সক্ষম হয়েছেন। এই ঘটনায় ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প মানসিকভাবে কিছুটা আঘাত পেয়েছেন বলে উল্লেখ করেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, এই ধরনের সন্ত্রাসের কাছে নতি স্বীকার করবেন না তারা। স্থগিত হওয়া অনুষ্ঠানটি ৩০ দিনের মধ্যে পুনরায় আয়োজন করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। এই বার্ষিক ডিনারটি হোয়াইট হাউসে কাজ করা সাংবাদিকদের জন্য আয়োজন করা হয়। সাংবাদিকদের পাশাপাশি মিডিয়া জগতের অনেক তারকাও এতে উপস্থিত ছিলেন। সূত্র: এপি, বিবিসি, আলজাজিরা।
৬ ঘন্টা আগে
১৫ এপ্রিল ২০২৬, ১২:১১ এএম
আপনি কি মনে করেন বিএনপি জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর ও শব্দ বাস্তবায়ন করবে?

আপনি কি মনে করেন বিএনপি জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর ও শব্দ বাস্তবায়ন করবে?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ জন
হামের উপসর্গে আরও পাঁচ শিশুর মৃত্যু, নতুন রোগী শনাক্ত ১২৯

হামের উপসর্গে আরও পাঁচ শিশুর মৃত্যু, নতুন রোগী শনাক্ত ১২৯

হাম পরিস্থিতি নিয়ে দেশে উদ্বেগ কাটছেই না। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে এই সময়ে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। বুধবার স্বাস্থ্য অধিদফতরের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত তথ্য তুলে ধরা হয়।স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১২৯ জনের দেহে হাম শনাক্ত হয়েছে। এতে ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত মোট নিশ্চিত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৯৩৪ জনে। এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে ১ হাজার ২২৯ জনের মধ্যে হামের উপসর্গ দেখা গেছে। এ নিয়ে মোট সন্দেহজনক রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৭ হাজার ১৬৪ জনে।স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৩৮ জন। আর হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৯০ জনে। একই সময়ের মধ্যে হাম সন্দেহে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১৭ হাজার ৯৯৮ জন এবং চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১৪ হাজার ৮৯২ জন।
২২ এপ্রিল ২০২৬
আওয়ামী শাসনে ব্যাংক খালি, অলিগার্কদের হাতে অর্থনীতি: অর্থমন্ত্রী

আওয়ামী শাসনে ব্যাংক খালি, অলিগার্কদের হাতে অর্থনীতি: অর্থমন্ত্রী

অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, আগের সরকারের সময়ে আর্থিক খাতে অনেক বেশি রাজনীতিকীকরণ করার ফলে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো খালি হয়ে গেছে। অর্থনীতির সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় আওয়ামী শাসনামল থেকে অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাসের সময়কালও খুব বেশি যে ভালো ছিল না। শনিবার বিকালে সচিবালয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের সঙ্গে প্রাক-বাজেট আলোচনায় অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন।তিনি বলেন, আর্থিক খাতে যে বিশৃঙ্খলাগুলো হয়েছে সেগুলো কেন হয়েছে, আর্থিক খাত এত রাজনীতিকীকরণ হয়েছে যে ব্যাংকগুলো আজকে খালি হয়ে গেছে। শেয়ার বাজার লুটপাট করায় ফিনিশড হয়ে গেছে। এরকম একটা জায়গা থেকে যখন তারা ফিরে আসতে চাচ্ছেন, তখন ফিনান্সিয়াল সেক্টরে রেজুলেশনের বিষয় আছে। অর্থমন্ত্রী বলেন, ব্যাংকগুলো আন্ডার ক্যাপিটালাইজড হয়ে গেছে এবং বেসরকারি খাতও আন্ডার ক্যাপিটালাইজড হয়ে গেছে। একজন ব্যবসায়ীর যদি ৪০ শতাংশ কারেন্সি ডেপ্রিসিয়েশন ও ১৪ শতাংশ ইনফ্লেশন রেটে চলে যায়, তবে তার ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল ইরোডেড হয়ে গেছে এবং এই লোকগুলো অপারেট করতে পারছে না।আমির খসরু বলেন, এখানে আন্ডার পারফরম্যান্স করছে এমন ইন্ডাস্ট্রি ও বিজনেস অনেক বেশি, এজন্য অনেক লোক চাকরি হারাচ্ছে। সুতরাং তাদের রি-ক্যাপিটালাইজ করতে হবে। তবে তাদের পুঁজি সহায়তা করার ক্ষেত্রে সরকারের অক্ষমতার বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, এখন সরকারের তহবিলে এত টাকা নেই যে তারা এগুলো সব সরকারের তহবিল দিয়ে রি-ক্যাপিটালাইজ করতে পারবেন। তিনি বলেন, তারা যে অর্থনীতিটি পেয়েছেন সেটি ডিক্টেটোরিয়াল রেজিম থেকে ইনহেরিট করেছেন এবং গত ১৮ মাসের সময়টিও খুব বেশি যে ভালো ছিল তা বলতে পারবেন না। এরপর যুক্ত হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ, যা মোকাবিলা করতে হচ্ছে। ফলে বিশাল ঘাটতি সৃষ্টি হয়েছে এবং ফিসকাল সেক্টরেও স্পেস কমে গেছে।অর্থমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি একটা অলিগার্কদের হাতে চলে গিয়েছিল, পৃষ্ঠপোষকতার রাজনীতি হয়ে গিয়েছিল। আজকে বাংলাদেশ যে গর্তের মধ্যে পড়েছে তার মূল কারণ হচ্ছে পৃষ্ঠপোষকতা রাজনীতির মাধ্যমে কিছু লোকের কাছে দেশের অর্থনীতি তাদের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে। তিনি বলেন, যখন অর্থনীতি কিছু লোকের হাতে নিয়ন্ত্রিত হয়, তখন তা রাজনৈতিক প্রভাবের মধ্যে চলে যায়, সরকারের নীতিমালা প্রণয়ন পর্যন্ত প্রভাবিত হয়। এজন্য এই অলিগার্কিক পৃষ্ঠপোষকতা রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসার জন্য অর্থনীতির গণতন্ত্রায়নের কথা বলছেন তারা। শুধু রাজনীতিকে গণতন্ত্রায়ন করলে হবে না, অর্থনীতিকেও গণতন্ত্রায়ন করতে হবে।তিনি বলেন, এজন্য একদম প্রান্তিক মানুষের কাছে সরকারের সেবা ও সহযোগিতা পৌঁছে দিতে বিএনপি সরকার ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষি কার্ড দিচ্ছে। একই সঙ্গে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বাজেটে বরাদ্দ বাড়িয়ে ডেমোগ্রাফিক ডেভিডেন্ড বাড়াতে কাজ করার পরিকল্পনাও তুলে ধরেন তিনি, যার প্রতিফলন আগামী অর্থবছরেই দেখা যাবে বলে তার ভাষ্য।মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর মুদ্রানীতি প্রসঙ্গে আমির খসরু বলেন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে মুদ্রা সরবরাহ সীমিত রাখা জরুরি। অতীতে টাকা ছাপিয়ে ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার কারণে অর্থনীতিতে চাপ তৈরি হয়েছে, যা সুদের হার বাড়িয়েছে এবং বেসরকারি খাতকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। তিনি বলেন, তারা এমন একটি নীতিতে আছেন যেখানে হাই পাওয়ার মানি বাড়িয়ে বাজারে অতিরিক্ত তারল্য তৈরি করা হবে না, কারণ এতে মূল্যস্ফীতি বাড়ে এবং অর্থনীতির ভারসাম্য নষ্ট হয়।অর্থনীতির বর্তমান চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে আমির খসরু বলেন, ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলার অভাব, মুদ্রার অবমূল্যায়ন ও উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে বেসরকারি খাত চাপে রয়েছে। অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান আন্ডার পারফর্ম করছে। এছাড়া বিনিয়োগ বাড়াতে ডিরেগুলেশন প্রয়োজন, ব্যবসা করতে এত বাধা থাকলে বিনিয়োগ আসবে না বলেও উল্লেখ করেন তিনি। স্বাস্থ্যখাতে ব্যয় কমাতে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের কথাও তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী বলেন, আউট অব পকেট এক্সপেন্ডিচার বেশি হলে পরিবারের জীবনমান কমে যায়। প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে পারলে মানুষের আয় কার্যত বেড়ে যায়।ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প এবং স্টার্টআপ খাত অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সবচেয়ে বড় এমপ্লয়ার হচ্ছে এসএমই খাত। এ খাতের পাশাপাশি গ্রামীণ কুটিরশিল্প, কারিগর ও সৃজনশীল শিল্পকে অর্থনীতির মূলধারায় আনতে সরকার কাজ করছে। টাকা ছাপানোর বিষয়টিকে ভিত্তিহীন বলে নাকচ করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান। একই আলোচনায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীও টাকা ছাপানোর বিষয়টি নাকচ করে বলেন, এ ধরনের নীতি অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর। টাকা ছাপিয়ে স্থানীয় ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার প্রবণতা থেকে অর্থনীতিকে বের করে আনতে হবে, কারণ এতে সুদের হার বাড়ে এবং বেসরকারি খাত চাপে পড়ে। তিনি আরও বলেন, উচ্চমাত্রার মুদ্রা সরবরাহের মাধ্যমে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখাই সরকারের মূল নীতি। একইসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, অতীতে রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে অর্থনীতি একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর হাতে কেন্দ্রীভূত হয়েছিল, যা এখন পরিবর্তনের পথে রয়েছে।
২৮ মার্চ ২০২৬
ব্যাংকঋণ বেড়ে পৌনে দুই লাখ কোটি টাকা, অর্থনীতির জন্য ঝুঁকির সংকেত

ব্যাংকঋণ বেড়ে পৌনে দুই লাখ কোটি টাকা, অর্থনীতির জন্য ঝুঁকির সংকেত

২৮ মার্চ ২০২৬
৫২ বছর পর চাঁদ ঘুরে এল মানুষ, সফল আর্টেমিস-২ মিশন

৫২ বছর পর চাঁদ ঘুরে এল মানুষ, সফল আর্টেমিস-২ মিশন

চাঁদের কক্ষপথ প্রদক্ষিণের ঐতিহাসিক অভিযান শেষে পৃথিবীতে ফিরলেন আর্টেমিস-২ মিশনের চার নভোচারী। শনিবার (১১ এপ্রিল) বাংলাদেশ সকাল ৬টা ৭ মিনিটে (যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলীয় সময় শুক্রবার রাত ৮টা ৭ মিনিট) তাদের বহনকারী ‘ওরিয়ন’ মহাকাশযানটি ক্যালিফোর্নিয়ার সান ডিয়েগো উপকূলে প্রশান্ত মহাসাগরে অবতরণ করে। এর মাধ্যমে ৫০ বছরেরও বেশি সময় পর প্রথমবার মানুষের চাঁদের চারপাশ ঘুরে আসার ঐতিহাসিক মিশন সম্পন্ন হলো।সমুদ্রে অবতরণের পর আর্টেমিস-২-এর কমান্ডার রিড ওয়াইজম্যান ওরিয়ন ক্যাপসুলের ভেতরে থাকা নভোচারীদের অবস্থা সম্পর্কে ইতিবাচক প্রতিবেদন দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘কী অসাধারণ এক যাত্রা ছিল। আমরা স্থিতিশীল আছি। চার নভোচারীই সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন।’নভোচারী উদ্ধার প্রক্রিয়া শুরুমার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার আর্টেমিস-২ ল্যান্ডিং অ্যান্ড রিকভারি ডিরেক্টর লিলিয়ানা ভিয়ারিয়াল বলেছেন, সমুদ্রে অবতরণের দুই ঘণ্টার মধ্যে নভোচারীদের ওরিয়ন ক্যাপসুল থেকে উদ্ধার করা হবে। এরপর তাঁদের মার্কিন নৌবাহিনীর উদ্ধারকারী জাহাজ ‘ইউএসএস জন পি মুরথা’র মেডিকেল বেতে পৌঁছে দেওয়া হবে।কিছু প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে নভোচারীদের প্রথমে ওরিয়ন ক্যাপসুলের সঙ্গে যুক্ত একটি ভেলায় আনা হবে, যাকে বলা হচ্ছে ‘ফ্রন্ট পোর্চ’। এরপর সেখান থেকে হেলিকপ্টারে করে তাদের নৌবাহিনীর জাহাজে নেওয়া হবে। নাসার ফ্লাইট কন্ট্রোলার জেফ রাডিগান জানিয়েছেন, সমুদ্র শান্ত থাকলে ক্যাপসুল থেকে উদ্ধার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট সময় লাগতে পারে।জাহাজে প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর বিমানে করে তাদের হিউস্টনের জনসন স্পেস সেন্টারে নেওয়া হবে।ইতিহাসের পাতায় আর্টেমিস-২এর মধ্য দিয়ে সফলভাবে সমাপ্ত হলো ১০ দিনের এই রোমাঞ্চকর চন্দ্রাভিযান। ১ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের রিড ওয়াইজম্যান, ক্রিস্টিনা কোচ, ভিক্টর গ্লোভার এবং কানাডার জেরেমি হ্যানসেনকে নিয়ে শুরু হয়েছিল এই মহাকাশযাত্রা।মিশনটি একাধিক নতুন ইতিহাস গড়েছে। চাঁদের দূরবর্তী অংশে অবস্থানের সময় পৃথিবী থেকে তাদের দূরত্ব ছিল ২ লাখ ৫২ হাজার ৭৫৭ মাইল। এটি ১৯৭০ সালের অ্যাপোলো-১৩ মিশনের রেকর্ড (২ লাখ ৪৮ হাজার ৬৫৫ মাইল) ভেঙে দিয়েছে।এ ছাড়া ভিক্টর গ্লোভার প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ, ক্রিস্টিনা কোচ প্রথম নারী এবং জেরেমি হ্যানসেন প্রথম অ-মার্কিন নাগরিক হিসেবে চাঁদের কক্ষপথ ভ্রমণের অনন্য ইতিহাস গড়েছেন। নভোচারীরা এই চন্দ্রাভিযানে চন্দ্রপৃষ্ঠে অন্তত ছয়টি উজ্জ্বল উল্কাপাতের ঝলক সরাসরি দেখেছেন।আর্টেমিস-২ অভিযানটি ছিল ২০২৮ সালের মধ্যে চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে মানুষের পদচিহ্ন ফেলার নাসার পরিকল্পনার একটি পরীক্ষামূলক ধাপ। নাসা প্লাস, অ্যামাজন প্রাইম, নেটফ্লিক্স ও অ্যাপল টিভিতে এই ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তন সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।সূত্র: এএফপি ও সিএনএন
১১ এপ্রিল ২০২৬
ষাট গম্বুজ মসজিদ

ষাট গম্বুজ মসজিদ

বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমের জেলা বাগেরহাট। সবুজ শ্যামলিমা আর নদী-খাল বেষ্টিত এই জনপদকে বিশ্বের দরবারে পরিচিতি এনে দিয়েছে একটি অনন্য স্থাপনা – ষাট গম্বুজ মসজিদ। ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী তিনটি স্থানের একটি এই মসজিদ মুসলিম স্থাপত্যের এক অপূর্ব নিদর্শন। যেখানে ইতিহাস, আধ্যাত্মিকতা আর নির্মাণকৌশলের মিলন ঘটেছে চুন-সুরকি আর পাথরের বাঁধনে।ইতিহাসের আঁধার আলো: কে, কবে, কেন?মসজিদটির গায়ে কোনো শিলালিপি নেই। তাই এটি কে নির্মাণ করেছিলেন বা কোন সময়ে নির্মিত হয়েছিল, তা নিয়ে সঠিক তথ্য পাওয়া যায় না। তবে স্থাপত্যশৈলী ঘেঁটে ইতিহাসবিদরা প্রায় নিশ্চিত – এ মসজিদ পীর খানজাহান আলী (রহ.)-এর হাতেই গড়ে উঠেছিল। ধারণা করা হয়, তিনি পঞ্চদশ শতাব্দীর মাঝামাঝি (আনুমানিক ১৪৪২-১৪৫৯ খ্রিস্টাব্দ, অনেকের মতে ১৫০০ শতাব্দীতে) এটি নির্মাণ করেন।সুলতান নাসিরউদ্দিন মাহমুদ শাহের আমলে খান-ই-জাহান সুন্দরবনের কোল ঘেঁষে ‘খলিফাতাবাদ’ রাজ্য গড়ে তোলেন। দরবার ও নামাজের জন্য তিনি একটি বিশাল হল নির্মাণের উদ্যোগ নেন, যা কালক্রমে ‘ষাট গম্বুজ মসজিদ’ নামে পরিচিতি পায়। জনশ্রুতি আছে, মসজিদের পাথর চট্টগ্রাম থেকে আনা হয়েছিল। আবার কেউ কেউ বলেন, ভারতের উড়িষ্যার রাজমহল থেকে অলৌকিক ক্ষমতাবলে জলপথে ভাসিয়ে আনা হয়েছিল। বাস্তবে পাথরগুলো রাজমহল থেকেই আনা – এ নিয়ে ঐতিহাসিকরা একমত।নামকরণের নানা কাহিনিমসজিদটির নাম নিয়েও আছে নানা মত।ষাট গম্বুজ কেন? সংস্কৃত ‘সাত’ ও ফারসি ‘ছাদ’ মিলে ‘ছাদ গম্বুজ’ থেকে কথ্যরূপে ‘ষাট গম্বুজ’ হয়েছে বলে এক মত।আবার অন্য মতে, মসজিদের ভেতরে ছয়টি সারিতে দশটি করে মোট ৬০টি পাথরের স্তম্ভ (খাম্বা) আছে। স্তম্ভের ওপর ছাদ নির্মিত, তাই ‘ষাট খাম্বা’ থেকে ‘ষাট গম্বুজ’।গম্বুজের প্রকৃত সংখ্যা: নাম ‘ষাট গম্বুজ’ হলেও আসলে এখানে গম্বুজ ৬০টি নয়। মূল ভবনে ১১টি সারিতে ৭৭টি গম্বুজ, চার কোণার মিনারের ওপর চারটি গম্বুজ – মোট ৮১টি গম্বুজ। ৭৭টির মধ্যে ৭৪টিই অর্ধগোলাকার, শুধু মাঝের সারির সাতটি দেখতে বাংলার চৌচালা ঘরের চালের মতো।তাই অনেক গবেষক মনে করেন, মসজিদটির আসল নাম হওয়া উচিত ছিল ‘ষাট স্তম্ভ মসজিদ’ – কারণ এখানে প্রধান আকর্ষণ সেই ৬০টি পাথরের স্তম্ভ।স্থাপত্যের অনন্য বুননষাট গম্বুজ মসজিদের স্থাপত্যশৈলীতে মিশেছে মধ্য এশিয়ার তুঘলক (তুরস্ক) ও জৌনপুরী ধারা, আবার রয়েছে স্থানীয় বাংলার ছোঁয়া।আকার ও পরিমাপবাইরের দিক: উত্তর-দক্ষিণে ১৬০ ফুট, পূর্ব-পশ্চিমে ১০৪ ফুট।ভেতরের দিক: উত্তর-দক্ষিণে ১৪৩ ফুট, পূর্ব-পশ্চিমে ৮৮ ফুট।দেয়ালের পুরুত্ব: প্রায় ৮.৫ ফুট। ইটের তৈরি এসব দেয়াল অসাধারণ মজবুত।দরজা ও জানালাপূর্ব দেয়ালে ১১টি খিলানযুক্ত দরজা – মাঝেরটি সবচেয়ে বড়।উত্তর ও দক্ষিণ দেয়ালে ৭টি করে মোট ১৪টি দরজা।এই অসংখ্য দরজা আলো ও বাতাস চলাচলের জন্য তৈরি, তবু ভেতরের দিকটা কিছুটা অন্ধকারাচ্ছন্ন – যা উপাসনার গাম্ভীর্য বাড়ায়।মিনার ও কোঠাচার কোণে চারটি গোলাকার মিনার। এদের চূড়ায় ছোট গম্বুজ। ছাদের কার্নিশের চেয়ে মিনারগুলো কিছুটা উঁচু। সামনের দিকের দুটি মিনারের ভেতর প্যাঁচানো সিঁড়ি – একসময় এখান থেকে আজান দেওয়া হতো।রওশন কোঠা: দক্ষিণ-পূর্ব কোণের বুরুজ – আলো-বাতাসে ভরা।আন্ধার কোঠা: উত্তর-পূর্ব কোণের বুরুজ – তুলনামূলক অন্ধকার।ভেতরের স্তম্ভ ও গম্বুজের জঙ্গলভেতরে ৬০টি পাথরের স্তম্ভ – উত্তর থেকে দক্ষিণে ছয় সারিতে, প্রতিসারিতে দশটি করে। প্রতিটি স্তম্ভ পাথর কেটে বানানো, তবে পাঁচটি স্তম্ভ পরে ইট দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। এই স্তম্ভের ওপর ভর করেই গম্বুজগুলো দাঁড়িয়ে। এক কথায়, এটি খিলান-স্তম্ভ-গম্বুজের এক বিস্ময়কর সমন্বয়।মিহরাব ও মিম্বারপশ্চিম দেয়ালে ১০টি মিহরাব। মাঝের মিহরাবটি সবচেয়ে বড় ও কারুকার্যপূর্ণ। এর দক্ষিণে ৫টি, উত্তরে ৪টি মিহরাব। উত্তরে যেখানে একটি মিহরাব থাকার কথা, সেখানে রয়েছে একটি ছোট দরজা – অনেকে মনে করেন, এটি খানজাহান আলীর দরবার হলের প্রবেশপথ ছিল। ইমামের বসার জন্য রয়েছে পাথরের মিম্বার।রডবিহীন নির্মাণসবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো – এই মসজিদে কোনো লোহার রড ব্যবহার করা হয়নি। শুধু চুন, সুরকি, কালো পাথর ও ছোট ইট দিয়ে তৈরি এই কাঠামো প্রায় ৬০০ বছর ধরে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে।ইউনেস্কোর স্বীকৃতি ও বর্তমান অবস্থা১৯৮৩ সালে (অনেক সূত্রে ১৯৮৫) ইউনেস্কো বাগেরহাট শহরটিকেই ‘ঐতিহাসিক মসজিদ শহর’ হিসেবে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের মর্যাদা দেয়। আর এই মর্যাদার কেন্দ্রবিন্দু হলো ষাট গম্বুজ মসজিদ।বর্তমানে মসজিদটি বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর ও ইউনেস্কোর যৌথ তত্ত্বাবধানে সংরক্ষিত। এখনো এখানে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামাতের সাথে আদায় করা হয়। একসঙ্গে মসজিদের ভেতরে প্রায় দুই হাজার মুসল্লি নামাজ পড়তে পারেন।ভ্রমণ তথ্য: কখন, কীভাবে, কত টাকা?প্রবেশ ফিদেশি পর্যটক: ৩০ টাকা (অনেক সূত্রে ২০ টাকাও উল্লেখ আছে – বর্তমানে ৩০ টাকাই বেশি প্রচলিত)মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষার্থী: ১০ টাকাসার্কভুক্ত দেশের নাগরিক: ২০০ টাকাঅন্যান্য বিদেশি: ৫০০ টাকাশিশু (০-১০ বছর) ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী: বিনামূল্যেঅনলাইন টিকেট: চাইলে myGOV ওয়েবসাইট থেকে কিউআর কোডযুক্ত টিকেট কেটে নিতে পারেন।খোলা ও বন্ধের সময়গ্রীষ্মকাল (গরমকাল): সকাল ১০টা – সন্ধ্যা ৬টাশীতকাল: সকাল ৯টা – বিকেল ৫টামধ্যাহ্ন বিরতি: দুপুর ১টা – ১টা ৩০ মিনিট (উভয় মৌসুমে)শুক্রবার বিশেষ বন্ধ: জুমার নামাজের জন্য দুপুর ১২টা ৩০ মিনিট – বিকেল ৩টা ৩০ মিনিটসাপ্তাহিক ছুটি: রোববার সারাদিন বন্ধ (সোমবার দুপুর ২টা থেকে খোলে)টিপস: নামাজের সময় (ফজর, যোহর, আসর, মাগরিব, এশা) স্থানীয় মুসল্লিরা প্রবেশ করতে পারেন বিনামূল্যে। তবে পর্যটকদের নির্ধারিত সময় ও টিকিট মেনে চলতে হবে।মসজিদ চত্বরে জাদুঘরপ্রধান ফটকের ডান পাশে বাগেরহাট জাদুঘর। এখানে খানজাহান আমলের প্রাচীন মুদ্রা, পোড়ামাটির ফলক, অসংখ্য প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন – এমনকি খানজাহানের দিঘির ঐতিহ্যবাহী ‘কালা পাহাড়’ ও ‘ধলা পাহাড়’ কুমিরের মমি সংরক্ষিত আছে।জাদুঘরের সময়: গ্রীষ্মে সকাল ১০টা – সন্ধ্যা ৬টা, শীতে সকাল ৯টা – বিকেল ৫টা।মধ্যাহ্ন বিরতি: দুপুর ১টা – দেড়টা।ছুটি: রোববার সারাদিন।একই টিকিটে জাদুঘর ও মসজিদ কমপ্লেক্স ঘুরতে পারবেন।যাতায়াত: ঢাকা থেকে বাগেরহাটবাসেঢাকার সায়দাবাদ ও গাবতলী বাস টার্মিনাল থেকে নিয়মিত বাস ছাড়ে। উল্লেখযোগ্য পরিবহন: মেঘনা, বনফুল, ফাল্গুনী, আরা, পর্যটক, বলেশ্বর, হামিম, দোলা, সোহাগ, শাকুরা, হানিফ, কমফোর্ট লাইন, ঈগল।ভাড়া: ৬৫০-৮০০ টাকা (প্রতি জন)।সময়: সকাল ৬টা-১০টা এবং সন্ধ্যা ৭টা-রাত ১০টা পর্যন্ত ছাড়ে।বাগেরহাট বাসস্ট্যান্ড নেমে রিকশা বা সিএনজি নিলে ৩০-৪০ টাকায় পৌঁছে যাবেন ষাট গম্বুজ মসজিদে (সুন্দরঘোনা গ্রাম, খুলনা-বাগেরহাট মহাসড়কের উত্তর পাশে)।ট্রেনেঢাকা থেকে সুন্দরবন এক্সপ্রেস খুলগামী ট্রেনে খুলনা যান। সেখান থেকে বাস বা সিএনজিতে বাগেরহাট (সময় লাগে ১-১.৫ ঘণ্টা)।কোথায় থাকবেন?বাগেরহাটে তেমন বিলাসবহুল হোটেল নেই, তবে মাঝারি মানের থাকার জায়গা আছে।রেল রোডে মমতাজ হোটেল – সুযোগ-সুবিধা কম, কিন্তু সেবা ভালো। খরচ তুলনামূলক বেশি।খান জাহান আলীর মাজারের সামনে হোটেল অভি – মেইন হাইওয়েতে অবস্থিত।কেন্দ্রীয় বাসস্টেশন সংলগ্ন হোটেল আল আমিন এবং কর্মকার পট্টিতে হোটেল মোহনা।খুলনা খুব কাছে বলে চাইলে খুলনা গিয়েও রাত কাটাতে পারেন।খাওয়ার ব্যবস্থাবাসস্ট্যান্ড ও দরগার আশপাশে কয়েকটি মোটামুটি মানের হোটেল আছে। তবে দাম ও মান সম্পর্কে আগে জেনে নেওয়া ভালো। স্থানীয় মাছ ও ভাত খেতে পারেন – বাগেরহাটের ইলিশ বেশ有名।দক্ষিণাঞ্চলের সর্ববৃহৎ ঈদের জামাতষাট গম্বুজ মসজিদ শুধু একটি পর্যটন কেন্দ্র নয় – এটি জীবন্ত একটি উপাসনালয়। প্রতি ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহায় এখানে দেশ-বিদেশের প্রায় অর্ধলাখ মুসল্লি জড়ো হন। এটি দক্ষিণাঞ্চলের সর্ববৃহৎ ঈদের জামাত। রমজান মাসে দুই হাফেজ খতম তারাবির নামাজ পড়ান এবং মুসল্লিদের জন্য ইফতারের ব্যবস্থা থাকে।আশপাশের দর্শনীয় স্থানমসজিদ ঘুরে সময় থাকলে আরও কয়েকটি স্থান দেখতে পারেন:বিবি বেগনির মসজিদ (৫০০ মিটার পেছনে) – ফুলের কারুকার্যময়।চুনাখোলা মসজিদ (বিবি বেগনির আরও ৫০০ মিটার পেছনে)।সিঙ্গাইর মসজিদ (মহাসড়কের পাশে)।নয় গম্বুজ মসজিদখান জাহান আলীর মাজারঘোড়া দিঘি ও রণবিজয়পুর দিঘিমোংলা বন্দর (চাইলে সুন্দরবন যাতায়াতের গেটওয়ে)।ভ্রমণে যা মেনে চলবেনহালকা ও আরামদায়ক পোশাক পরুন – সুতির কাপড় উত্তম।পর্যাপ্ত পানি, বিস্কুট, মুড়ি, চিড়া ইত্যাদি সঙ্গে রাখুন।মোবাইলের চার্জার ও পাওয়ার ব্যাংক নিতে ভুলবেন না।জ্বর, সর্দি, গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ ও স্যালাইন রাখুন।মসজিদে প্রবেশের আগে জুতা বাইরে রেখে পায়ে মোজা পরে প্রবেশ করুন।নামাজরত মুসল্লিদের বিরক্ত করবেন না। নির্ধারিত পর্যটক এলাকায় ঘুরুন।টিকিট কাটার পর জাদুঘর দেখতে ভুলবেন না – এটি একই ফিতে।শেষকথাষাট গম্বুজ মসজিদ শুধু পাথর-চুন-সুরকির গাঁথনি নয়; এটি বাংলার ইতিহাস, সংস্কৃতি ও মুসলিম স্থাপত্যের এক জীবন্ত দলিল। এখানে দাঁড়ালে সময় থমকে দাঁড়ায়। শুনতে পাবেন খানজাহানের আজানের প্রতিধ্বনি, দেখতে পাবেন অর্ধগোলাকার গম্বুজের সারি মেঘ ছুঁতে চায়।আপনিও একবার চলে আসুন বাগেরহাটে। ষাট গম্বুজের ছায়ায় দাঁড়ান। ইতিহাসের স্পর্শ নিন। আর এই অসাধারণ স্থাপত্যের সাক্ষী হয়ে ফিরে আসুন – নতুন এক অভিজ্ঞতা নিয়ে।
২৮ মার্চ ২০২৬
ষাট গম্বুজ মসজিদ

ষাট গম্বুজ মসজিদ

বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমের জেলা বাগেরহাট। সবুজ শ্যামলিমা আর নদী-খাল বেষ্টিত এই জনপদকে বিশ্বের দরবারে পরিচিতি এনে দিয়েছে একটি অনন্য স্থাপনা – ষাট গম্বুজ মসজিদ। ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী তিনটি স্থানের একটি এই মসজিদ মুসলিম স্থাপত্যের এক অপূর্ব নিদর্শন। যেখানে ইতিহাস, আধ্যাত্মিকতা আর নির্মাণকৌশলের মিলন ঘটেছে চুন-সুরকি আর পাথরের বাঁধনে।ইতিহাসের আঁধার আলো: কে, কবে, কেন?মসজিদটির গায়ে কোনো শিলালিপি নেই। তাই এটি কে নির্মাণ করেছিলেন বা কোন সময়ে নির্মিত হয়েছিল, তা নিয়ে সঠিক তথ্য পাওয়া যায় না। তবে স্থাপত্যশৈলী ঘেঁটে ইতিহাসবিদরা প্রায় নিশ্চিত – এ মসজিদ পীর খানজাহান আলী (রহ.)-এর হাতেই গড়ে উঠেছিল। ধারণা করা হয়, তিনি পঞ্চদশ শতাব্দীর মাঝামাঝি (আনুমানিক ১৪৪২-১৪৫৯ খ্রিস্টাব্দ, অনেকের মতে ১৫০০ শতাব্দীতে) এটি নির্মাণ করেন।সুলতান নাসিরউদ্দিন মাহমুদ শাহের আমলে খান-ই-জাহান সুন্দরবনের কোল ঘেঁষে ‘খলিফাতাবাদ’ রাজ্য গড়ে তোলেন। দরবার ও নামাজের জন্য তিনি একটি বিশাল হল নির্মাণের উদ্যোগ নেন, যা কালক্রমে ‘ষাট গম্বুজ মসজিদ’ নামে পরিচিতি পায়। জনশ্রুতি আছে, মসজিদের পাথর চট্টগ্রাম থেকে আনা হয়েছিল। আবার কেউ কেউ বলেন, ভারতের উড়িষ্যার রাজমহল থেকে অলৌকিক ক্ষমতাবলে জলপথে ভাসিয়ে আনা হয়েছিল। বাস্তবে পাথরগুলো রাজমহল থেকেই আনা – এ নিয়ে ঐতিহাসিকরা একমত।নামকরণের নানা কাহিনিমসজিদটির নাম নিয়েও আছে নানা মত।ষাট গম্বুজ কেন? সংস্কৃত ‘সাত’ ও ফারসি ‘ছাদ’ মিলে ‘ছাদ গম্বুজ’ থেকে কথ্যরূপে ‘ষাট গম্বুজ’ হয়েছে বলে এক মত।আবার অন্য মতে, মসজিদের ভেতরে ছয়টি সারিতে দশটি করে মোট ৬০টি পাথরের স্তম্ভ (খাম্বা) আছে। স্তম্ভের ওপর ছাদ নির্মিত, তাই ‘ষাট খাম্বা’ থেকে ‘ষাট গম্বুজ’।গম্বুজের প্রকৃত সংখ্যা: নাম ‘ষাট গম্বুজ’ হলেও আসলে এখানে গম্বুজ ৬০টি নয়। মূল ভবনে ১১টি সারিতে ৭৭টি গম্বুজ, চার কোণার মিনারের ওপর চারটি গম্বুজ – মোট ৮১টি গম্বুজ। ৭৭টির মধ্যে ৭৪টিই অর্ধগোলাকার, শুধু মাঝের সারির সাতটি দেখতে বাংলার চৌচালা ঘরের চালের মতো।তাই অনেক গবেষক মনে করেন, মসজিদটির আসল নাম হওয়া উচিত ছিল ‘ষাট স্তম্ভ মসজিদ’ – কারণ এখানে প্রধান আকর্ষণ সেই ৬০টি পাথরের স্তম্ভ।স্থাপত্যের অনন্য বুননষাট গম্বুজ মসজিদের স্থাপত্যশৈলীতে মিশেছে মধ্য এশিয়ার তুঘলক (তুরস্ক) ও জৌনপুরী ধারা, আবার রয়েছে স্থানীয় বাংলার ছোঁয়া।আকার ও পরিমাপবাইরের দিক: উত্তর-দক্ষিণে ১৬০ ফুট, পূর্ব-পশ্চিমে ১০৪ ফুট।ভেতরের দিক: উত্তর-দক্ষিণে ১৪৩ ফুট, পূর্ব-পশ্চিমে ৮৮ ফুট।দেয়ালের পুরুত্ব: প্রায় ৮.৫ ফুট। ইটের তৈরি এসব দেয়াল অসাধারণ মজবুত।দরজা ও জানালাপূর্ব দেয়ালে ১১টি খিলানযুক্ত দরজা – মাঝেরটি সবচেয়ে বড়।উত্তর ও দক্ষিণ দেয়ালে ৭টি করে মোট ১৪টি দরজা।এই অসংখ্য দরজা আলো ও বাতাস চলাচলের জন্য তৈরি, তবু ভেতরের দিকটা কিছুটা অন্ধকারাচ্ছন্ন – যা উপাসনার গাম্ভীর্য বাড়ায়।মিনার ও কোঠাচার কোণে চারটি গোলাকার মিনার। এদের চূড়ায় ছোট গম্বুজ। ছাদের কার্নিশের চেয়ে মিনারগুলো কিছুটা উঁচু। সামনের দিকের দুটি মিনারের ভেতর প্যাঁচানো সিঁড়ি – একসময় এখান থেকে আজান দেওয়া হতো।রওশন কোঠা: দক্ষিণ-পূর্ব কোণের বুরুজ – আলো-বাতাসে ভরা।আন্ধার কোঠা: উত্তর-পূর্ব কোণের বুরুজ – তুলনামূলক অন্ধকার।ভেতরের স্তম্ভ ও গম্বুজের জঙ্গলভেতরে ৬০টি পাথরের স্তম্ভ – উত্তর থেকে দক্ষিণে ছয় সারিতে, প্রতিসারিতে দশটি করে। প্রতিটি স্তম্ভ পাথর কেটে বানানো, তবে পাঁচটি স্তম্ভ পরে ইট দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। এই স্তম্ভের ওপর ভর করেই গম্বুজগুলো দাঁড়িয়ে। এক কথায়, এটি খিলান-স্তম্ভ-গম্বুজের এক বিস্ময়কর সমন্বয়।মিহরাব ও মিম্বারপশ্চিম দেয়ালে ১০টি মিহরাব। মাঝের মিহরাবটি সবচেয়ে বড় ও কারুকার্যপূর্ণ। এর দক্ষিণে ৫টি, উত্তরে ৪টি মিহরাব। উত্তরে যেখানে একটি মিহরাব থাকার কথা, সেখানে রয়েছে একটি ছোট দরজা – অনেকে মনে করেন, এটি খানজাহান আলীর দরবার হলের প্রবেশপথ ছিল। ইমামের বসার জন্য রয়েছে পাথরের মিম্বার।রডবিহীন নির্মাণসবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো – এই মসজিদে কোনো লোহার রড ব্যবহার করা হয়নি। শুধু চুন, সুরকি, কালো পাথর ও ছোট ইট দিয়ে তৈরি এই কাঠামো প্রায় ৬০০ বছর ধরে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে।ইউনেস্কোর স্বীকৃতি ও বর্তমান অবস্থা১৯৮৩ সালে (অনেক সূত্রে ১৯৮৫) ইউনেস্কো বাগেরহাট শহরটিকেই ‘ঐতিহাসিক মসজিদ শহর’ হিসেবে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের মর্যাদা দেয়। আর এই মর্যাদার কেন্দ্রবিন্দু হলো ষাট গম্বুজ মসজিদ।বর্তমানে মসজিদটি বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর ও ইউনেস্কোর যৌথ তত্ত্বাবধানে সংরক্ষিত। এখনো এখানে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামাতের সাথে আদায় করা হয়। একসঙ্গে মসজিদের ভেতরে প্রায় দুই হাজার মুসল্লি নামাজ পড়তে পারেন।ভ্রমণ তথ্য: কখন, কীভাবে, কত টাকা?প্রবেশ ফিদেশি পর্যটক: ৩০ টাকা (অনেক সূত্রে ২০ টাকাও উল্লেখ আছে – বর্তমানে ৩০ টাকাই বেশি প্রচলিত)মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষার্থী: ১০ টাকাসার্কভুক্ত দেশের নাগরিক: ২০০ টাকাঅন্যান্য বিদেশি: ৫০০ টাকাশিশু (০-১০ বছর) ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী: বিনামূল্যেঅনলাইন টিকেট: চাইলে myGOV ওয়েবসাইট থেকে কিউআর কোডযুক্ত টিকেট কেটে নিতে পারেন।খোলা ও বন্ধের সময়গ্রীষ্মকাল (গরমকাল): সকাল ১০টা – সন্ধ্যা ৬টাশীতকাল: সকাল ৯টা – বিকেল ৫টামধ্যাহ্ন বিরতি: দুপুর ১টা – ১টা ৩০ মিনিট (উভয় মৌসুমে)শুক্রবার বিশেষ বন্ধ: জুমার নামাজের জন্য দুপুর ১২টা ৩০ মিনিট – বিকেল ৩টা ৩০ মিনিটসাপ্তাহিক ছুটি: রোববার সারাদিন বন্ধ (সোমবার দুপুর ২টা থেকে খোলে)টিপস: নামাজের সময় (ফজর, যোহর, আসর, মাগরিব, এশা) স্থানীয় মুসল্লিরা প্রবেশ করতে পারেন বিনামূল্যে। তবে পর্যটকদের নির্ধারিত সময় ও টিকিট মেনে চলতে হবে।মসজিদ চত্বরে জাদুঘরপ্রধান ফটকের ডান পাশে বাগেরহাট জাদুঘর। এখানে খানজাহান আমলের প্রাচীন মুদ্রা, পোড়ামাটির ফলক, অসংখ্য প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন – এমনকি খানজাহানের দিঘির ঐতিহ্যবাহী ‘কালা পাহাড়’ ও ‘ধলা পাহাড়’ কুমিরের মমি সংরক্ষিত আছে।জাদুঘরের সময়: গ্রীষ্মে সকাল ১০টা – সন্ধ্যা ৬টা, শীতে সকাল ৯টা – বিকেল ৫টা।মধ্যাহ্ন বিরতি: দুপুর ১টা – দেড়টা।ছুটি: রোববার সারাদিন।একই টিকিটে জাদুঘর ও মসজিদ কমপ্লেক্স ঘুরতে পারবেন।যাতায়াত: ঢাকা থেকে বাগেরহাটবাসেঢাকার সায়দাবাদ ও গাবতলী বাস টার্মিনাল থেকে নিয়মিত বাস ছাড়ে। উল্লেখযোগ্য পরিবহন: মেঘনা, বনফুল, ফাল্গুনী, আরা, পর্যটক, বলেশ্বর, হামিম, দোলা, সোহাগ, শাকুরা, হানিফ, কমফোর্ট লাইন, ঈগল।ভাড়া: ৬৫০-৮০০ টাকা (প্রতি জন)।সময়: সকাল ৬টা-১০টা এবং সন্ধ্যা ৭টা-রাত ১০টা পর্যন্ত ছাড়ে।বাগেরহাট বাসস্ট্যান্ড নেমে রিকশা বা সিএনজি নিলে ৩০-৪০ টাকায় পৌঁছে যাবেন ষাট গম্বুজ মসজিদে (সুন্দরঘোনা গ্রাম, খুলনা-বাগেরহাট মহাসড়কের উত্তর পাশে)।ট্রেনেঢাকা থেকে সুন্দরবন এক্সপ্রেস খুলগামী ট্রেনে খুলনা যান। সেখান থেকে বাস বা সিএনজিতে বাগেরহাট (সময় লাগে ১-১.৫ ঘণ্টা)।কোথায় থাকবেন?বাগেরহাটে তেমন বিলাসবহুল হোটেল নেই, তবে মাঝারি মানের থাকার জায়গা আছে।রেল রোডে মমতাজ হোটেল – সুযোগ-সুবিধা কম, কিন্তু সেবা ভালো। খরচ তুলনামূলক বেশি।খান জাহান আলীর মাজারের সামনে হোটেল অভি – মেইন হাইওয়েতে অবস্থিত।কেন্দ্রীয় বাসস্টেশন সংলগ্ন হোটেল আল আমিন এবং কর্মকার পট্টিতে হোটেল মোহনা।খুলনা খুব কাছে বলে চাইলে খুলনা গিয়েও রাত কাটাতে পারেন।খাওয়ার ব্যবস্থাবাসস্ট্যান্ড ও দরগার আশপাশে কয়েকটি মোটামুটি মানের হোটেল আছে। তবে দাম ও মান সম্পর্কে আগে জেনে নেওয়া ভালো। স্থানীয় মাছ ও ভাত খেতে পারেন – বাগেরহাটের ইলিশ বেশ有名।দক্ষিণাঞ্চলের সর্ববৃহৎ ঈদের জামাতষাট গম্বুজ মসজিদ শুধু একটি পর্যটন কেন্দ্র নয় – এটি জীবন্ত একটি উপাসনালয়। প্রতি ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহায় এখানে দেশ-বিদেশের প্রায় অর্ধলাখ মুসল্লি জড়ো হন। এটি দক্ষিণাঞ্চলের সর্ববৃহৎ ঈদের জামাত। রমজান মাসে দুই হাফেজ খতম তারাবির নামাজ পড়ান এবং মুসল্লিদের জন্য ইফতারের ব্যবস্থা থাকে।আশপাশের দর্শনীয় স্থানমসজিদ ঘুরে সময় থাকলে আরও কয়েকটি স্থান দেখতে পারেন:বিবি বেগনির মসজিদ (৫০০ মিটার পেছনে) – ফুলের কারুকার্যময়।চুনাখোলা মসজিদ (বিবি বেগনির আরও ৫০০ মিটার পেছনে)।সিঙ্গাইর মসজিদ (মহাসড়কের পাশে)।নয় গম্বুজ মসজিদখান জাহান আলীর মাজারঘোড়া দিঘি ও রণবিজয়পুর দিঘিমোংলা বন্দর (চাইলে সুন্দরবন যাতায়াতের গেটওয়ে)।ভ্রমণে যা মেনে চলবেনহালকা ও আরামদায়ক পোশাক পরুন – সুতির কাপড় উত্তম।পর্যাপ্ত পানি, বিস্কুট, মুড়ি, চিড়া ইত্যাদি সঙ্গে রাখুন।মোবাইলের চার্জার ও পাওয়ার ব্যাংক নিতে ভুলবেন না।জ্বর, সর্দি, গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ ও স্যালাইন রাখুন।মসজিদে প্রবেশের আগে জুতা বাইরে রেখে পায়ে মোজা পরে প্রবেশ করুন।নামাজরত মুসল্লিদের বিরক্ত করবেন না। নির্ধারিত পর্যটক এলাকায় ঘুরুন।টিকিট কাটার পর জাদুঘর দেখতে ভুলবেন না – এটি একই ফিতে।শেষকথাষাট গম্বুজ মসজিদ শুধু পাথর-চুন-সুরকির গাঁথনি নয়; এটি বাংলার ইতিহাস, সংস্কৃতি ও মুসলিম স্থাপত্যের এক জীবন্ত দলিল। এখানে দাঁড়ালে সময় থমকে দাঁড়ায়। শুনতে পাবেন খানজাহানের আজানের প্রতিধ্বনি, দেখতে পাবেন অর্ধগোলাকার গম্বুজের সারি মেঘ ছুঁতে চায়।আপনিও একবার চলে আসুন বাগেরহাটে। ষাট গম্বুজের ছায়ায় দাঁড়ান। ইতিহাসের স্পর্শ নিন। আর এই অসাধারণ স্থাপত্যের সাক্ষী হয়ে ফিরে আসুন – নতুন এক অভিজ্ঞতা নিয়ে।
গণবার্তা ফিচার