ঢাকা    সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬
ঢাকা    সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬
গণবার্তা
সর্বশেষ

পদোন্নতিতে রাজনীতির উর্ধ্বে পেশাগত দক্ষতাকে গুরুত্ব দিতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যদের পদোন্নতির ক্ষেত্রে রাজনৈতিক মতাদর্শ ও ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের ঊর্ধ্বে থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে তিনি পদোন্নতি মূল্যায়নে পেশাগত দক্ষতা, নেতৃত্ব, শৃঙ্খলা ও সততাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।রোববার (২৬ জুলাই) সকালে সেনা সদর দপ্তরে প্রধান অতিথি হিসেবে ‘সেনাসদর নির্বাচনী পর্ষদ-২০২৬’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনকালে তিনি এই আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনী পর্ষদের সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, পদোন্নতির জন্য যোগ্য কর্মকর্তাদের মূল্যায়নের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও পেশাদারিত্ব নিশ্চিত করতে হবে। ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক বিবেচনার পরিবর্তে কর্মকর্তাদের কর্মদক্ষতা, নেতৃত্বের সক্ষমতা, শৃঙ্খলাবোধ এবং সততার ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা উচিত।তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা, স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। দেশের প্রয়োজনে সেনাবাহিনীর এই অবদানের জন্য সেনাপ্রধান থেকে শুরু করে বাহিনীর সব সদস্যকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী।প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, একটি শক্তিশালী ও পেশাদার সেনাবাহিনী দেশের সার্বভৌমত্বের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই সেনাবাহিনীর প্রতিটি সদস্যের কর্মক্ষমতা ও নিষ্ঠার ভিত্তিতে পদোন্নতি নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নির্বাচনী পর্ষদ তাদের দায়িত্ব অত্যন্ত সততার সাথে পালন করবে এবং সেনাবাহিনীর জন্য যোগ্য নেতৃত্ব নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
১২ ঘন্টা আগে

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ নবনিযুক্ত নৌবাহিনী প্রধানের

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন নবনিযুক্ত বাংলাদেশ নৌবাহিনী প্রধান ভাইস অ্যাডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম। শনিবার (২৫ জুলাই) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।সাক্ষাৎকালে দেশের সামুদ্রিক নিরাপত্তা, নৌবাহিনীর পেশাগত সক্ষমতা বৃদ্ধি, আধুনিকায়ন এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বাংলাদেশ নৌবাহিনী প্রধান ভাইস অ্যাডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম।প্রধানমন্ত্রী নৌবাহিনীর পেশাদারিত্ব ও দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে তিনি নবনিযুক্ত নৌবাহিনী প্রধানের সফল দায়িত্ব পালন কামনা করেন। এই সময় নৌবাহিনী প্রধান প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।সাক্ষাৎ শেষে নৌবাহিনী প্রধান প্রধানমন্ত্রীর কাছে নৌবাহিনীর আধুনিকায়ন ও সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোরদারে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা গ্রহণ করেন। প্রধানমন্ত্রী নৌবাহিনীকে ডিজিটালাইজেশন ও প্রযুক্তিনির্ভর বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
২৫ জুলাই ২০২৬

অস্ত্র কেড়ে নিয়ে দুই দখলদার ইসরায়েলি সেনাকে হত্যা করলো এক বীর ফিলিস্তিনি

ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিমতীরের 'তেল' গ্রামে দখলদার ইসরায়েলের অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের গুলিতে চার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনার পরপরই এক ফিলিস্তিনি বীর দখলদার ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের কাছ থেকে অস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে দুই সেনাকে হত্যা করে।এই সংঘাতের পর শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাতভর সমগ্র পশ্চিমতীরজুড়ে ব্যাপক তাণ্ডব ও অভিযান চালিয়েছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। অভিযানের নামে বিভিন্ন এলাকা থেকে ৭০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনিকে আটক করা হয়েছে। এছাড়া জিজ্ঞাসাবাদের অজুহাতে আরও কয়েকশ সাধারণ মানুষকে চরম হেনস্তা করা হয়েছে বলে জানা গেছে।ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর দাবি, তারা যাদের আটক করেছে তারা সবাই আন্তর্জাতিকভাবে কিংবা স্থানীয়ভাবে 'ওয়ান্টেড' ছিল এবং ফিলিস্তিনভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসসহ অন্যান্য স্বাধীনতাকামী সংগঠনের সঙ্গে তাদের প্রত্যক্ষ সংযোগ রয়েছে। সেনাবাহিনী আরও নিশ্চিত করেছে যে, তেল গ্রামে অবৈধ সেটেলারদের রক্তক্ষয়ী ঘটনার পর সেখান থেকেই ১১ জন ফিলিস্তিনিকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং প্রায় ৮০ জনের বেশি মানুষকে ধরে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।অন্যদিকে, পশ্চিমতীরের জেনিন এলাকায় প্রায় ৩০০টিরও বেশি স্থান বা সাইটে একযোগে অভিযান চালায় ইসরায়েলি সেনাসদস্যরা। সেখান থেকেও বেশ কয়েকজন ফিলিস্তিনিকে আটক করা হয়েছে। ইসরায়েলি বাহিনীর দাবি, আটককৃতরা বিস্ফোরক দ্রব্য দিয়ে হামলা চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিল। তবে এই দাবির সপক্ষে কোনো বাস্তব প্রমাণ বা তথ্য প্রকাশ করতে পারেনি দখলদার বাহিনী।ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে ইসরায়েলের এই সহিংসতা বন্ধে হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে। জাতিসংঘও পশ্চিমতীরে সহিংসতা বৃদ্ধির বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং উভয় পক্ষকে সংযত থাকার আহ্বান জানিয়েছে।সূত্র: দ্য টাইমস অব ইসরায়েল
২৫ জুলাই ২০২৬
 দাঁতের যত্নে বিষ? টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের খোঁজ

দাঁতের যত্নে বিষ? টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের খোঁজ

দেশে বিক্রি হওয়া প্রতি চারটি টুথপেস্টের মধ্যে তিনটিতেই মিলেছে মাইক্রোপ্লাস্টিক। এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের (এসডো) বৈজ্ঞানিক গবেষণায় ৩৪টি টুথপেস্টের মধ্যে ২৬টিতে (৭৬.৫%) মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত হয়েছে। প্রতি ১০০ গ্রাম টুথপেস্টে ২০ থেকে ৩২০টি পর্যন্ত মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা মিলেছে। মাইক্রোপ্লাস্টিক দূষণ বর্তমানে বিশ্বব্যাপী পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের বড় উদ্বেগের বিষয়। উদ্বেগের বিষয় হলো, শিশুদের জন্য বিক্রি হওয়া ৬টি টুথপেস্টের মধ্যে ৪টিতেই (৬৬.৭%) মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে।রোববার রাজধানীর লালমাটিয়ায় এসডোর প্রধান কার্যালয়ে এই গবেষণা প্রতিবেদন তুলে ধরা হয়। বাংলাদেশে টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক নিয়ে আগে কোনো বৈজ্ঞানিক গবেষণা, নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা বা নিয়মিত নজরদারি ছিল না। এই গুরুত্বপূর্ণ ঘাটতি বিবেচনায় নিয়ে এসডো ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত দেশব্যাপী একটি সমন্বিত গবেষণা পরিচালনা করে। গবেষণায় ভোক্তা জরিপ, ল্যাবরেটরি পরীক্ষা এবং নিয়ন্ত্রক ও বৈজ্ঞানিক বিশেষজ্ঞদের সাক্ষাৎকার অন্তর্ভুক্ত ছিল, যেন বাস্তব পরিস্থিতি ও নীতিগত চ্যালেঞ্জ একসঙ্গে মূল্যায়ন করা যায়।মাইক্রোপ্লাস্টিক দূষণ বর্তমানে বিশ্বব্যাপী পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের বড় উদ্বেগের বিষয়। যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ, দক্ষিণ কোরিয়াসহ বিভিন্ন দেশে বৈজ্ঞানিক গবেষণায় টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি প্রমাণিত হয়েছে। তবে বাংলাদেশে এ ধরনের বৈজ্ঞানিক মূল্যায়ন এই প্রথম, যা ভবিষ্যতে নিরাপদ টুথপেস্ট নিশ্চিত করতে মানদণ্ড নির্ধারণ, নজরদারি ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং কার্যকর নীতিমালা প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।গবেষণায় পরীক্ষা করা ৩৪টি টুথপেস্টের মধ্যে ২৬টিতে (৭৬.৫%) মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে। বাকি ৮টিতে (২৩.৫%) কোনো মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া যায়নি। প্রতি ১০০ গ্রাম টুথপেস্টে ২০ থেকে ৩২০টি পর্যন্ত মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা শনাক্ত হয়েছে। পরীক্ষা করা টুথপেস্টগুলো বাংলাদেশ, ভারত, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামে উৎপাদিত। চারটি দেশের উৎপাদিত টুথপেস্টেই মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে।গবেষণায় শুধু টুথপেস্টেই নয়, ভোক্তাদের সচেতনতাতেও বড় ঘাটতি উঠে এসেছে। জরিপে অংশ নেওয়া প্রায় সবাই নিয়মিত টুথপেস্ট ব্যবহার করলেও ৪১ দশমিক ৯ শতাংশ মানুষ জানতেনই না যে টুথপেস্টের মতো মুখের পরিচর্যার পণ্যেও মাইক্রোপ্লাস্টিক থাকতে পারে। মাত্র ২৬ দশমিক ৯ শতাংশ উত্তরদাতা এই বিষয়ে সচেতন বলে জানিয়েছেন।এসডো স্পষ্ট করেছে যে, এই গবেষণার উদ্দেশ্য কোনো নির্দিষ্ট ব্র্যান্ড বা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানকে দায়ী করা নয়। বরং বাংলাদেশে টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক নিয়ে কোনো জাতীয় মানদণ্ড, গ্রহণযোগ্য সীমা, পরীক্ষার নির্দেশিকা বা লেবেলে তথ্য প্রকাশের বাধ্যবাধকতা না থাকায় বর্তমান পরিস্থিতি বৈজ্ঞানিকভাবে তুলে ধরাই ছিল এই গবেষণার মূল লক্ষ্য।এসডোর চেয়ারপারসন সৈয়দ মার্গুব মোর্শেদ বলেন, 'ভালো নীতিমালা গড়ে ওঠে নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক তথ্যের ভিত্তিতে। বাংলাদেশে টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক নিয়ে এটিই প্রথম বৈজ্ঞানিক গবেষণা, যা ভবিষ্যতে মানদণ্ড প্রণয়ন, কার্যকর নিয়ন্ত্রণ এবং ভোক্তা ও পরিবেশ সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।'এসডোর মহাসচিব ও সিনিয়র টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজার ড. শাহরিয়ার হোসেন বলেন, 'টুথপেস্ট আমাদের প্রতিদিনের ব্যবহারের একটি পণ্য। অথচ গবেষণায় দেখা গেছে, এতে মাইক্রোপ্লাস্টিক থাকতে পারে—এই বিষয়টি সম্পর্কে অধিকাংশ মানুষই জানেন না। তাই আরও গবেষণার পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধি, পণ্যের লেবেলে উপাদানের স্পষ্ট তথ্য উল্লেখ এবং কার্যকর নিয়ন্ত্রক তদারকি এখন অত্যন্ত জরুরি।'বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউট (বিএসটিআই)-এর উপ-পরিচালক মো. মনজুরুল করিম বলেন, 'টুথপেস্ট তৈরির স্ট্যান্ডার্ড ও প্রয়োজনীয়তার ওপর ভিত্তি করে অনুমোদিত ৪০টি উপাদানের একটি তালিকা তৈরি করা হয়েছে। তবে এই তালিকায় এখনো মাইক্রোপ্লাস্টিক অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। আমরা এই বিষয়টি আমলে নিচ্ছি এবং দ্রুতই এসআরও সংশোধন করে তালিকায় মাইক্রোপ্লাস্টিকের মানদণ্ড বা সর্বোচ্চ সহনশীল মাত্রা যুক্ত করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবো।'পরিবেশ অধিদপ্তরের ইন্সপেক্টর মাহমুদা তামান্না খান বলেন, 'আজ যে বিষয়টি উন্মোচিত করেছি, তার ওপর ভিত্তি করে কাজ করতে আমরা অত্যন্ত আগ্রহী এবং বিএসটিআইকে সব ধরনের সহায়তা দিতে প্রস্তুত।'সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা, নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, প্রস্তুতকারক এবং ভোক্তা অধিকার সংগঠনগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে এসডো, যেন তারা একসঙ্গে কাজ করে পারসোনাল কেয়ার পণ্যে মাইক্রোপ্লাস্টিকের জন্য বিজ্ঞানভিত্তিক জাতীয় মানদণ্ড তৈরি করতে পারে। একই সঙ্গে সংস্থাটি নিয়মিত বাজার তদারকি, পরীক্ষাগারের সক্ষমতা বৃদ্ধি, পণ্যের লেবেলে উপাদানের স্বচ্ছ তথ্য নিশ্চিত করা এবং দৈনন্দিন ব্যবহারের পণ্য থেকে মানবদেহে মাইক্রোপ্লাস্টিক প্রবেশের ঝুঁকি নিয়ে আরও গবেষণা করার সুপারিশ করেছে।
২ ঘন্টা আগে
পদোন্নতিতে রাজনীতির উর্ধ্বে পেশাগত দক্ষতাকে গুরুত্ব দিতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

পদোন্নতিতে রাজনীতির উর্ধ্বে পেশাগত দক্ষতাকে গুরুত্ব দিতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যদের পদোন্নতির ক্ষেত্রে রাজনৈতিক মতাদর্শ ও ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের ঊর্ধ্বে থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে তিনি পদোন্নতি মূল্যায়নে পেশাগত দক্ষতা, নেতৃত্ব, শৃঙ্খলা ও সততাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।রোববার (২৬ জুলাই) সকালে সেনা সদর দপ্তরে প্রধান অতিথি হিসেবে ‘সেনাসদর নির্বাচনী পর্ষদ-২০২৬’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনকালে তিনি এই আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনী পর্ষদের সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, পদোন্নতির জন্য যোগ্য কর্মকর্তাদের মূল্যায়নের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও পেশাদারিত্ব নিশ্চিত করতে হবে। ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক বিবেচনার পরিবর্তে কর্মকর্তাদের কর্মদক্ষতা, নেতৃত্বের সক্ষমতা, শৃঙ্খলাবোধ এবং সততার ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা উচিত।তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা, স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। দেশের প্রয়োজনে সেনাবাহিনীর এই অবদানের জন্য সেনাপ্রধান থেকে শুরু করে বাহিনীর সব সদস্যকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী।প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, একটি শক্তিশালী ও পেশাদার সেনাবাহিনী দেশের সার্বভৌমত্বের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই সেনাবাহিনীর প্রতিটি সদস্যের কর্মক্ষমতা ও নিষ্ঠার ভিত্তিতে পদোন্নতি নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নির্বাচনী পর্ষদ তাদের দায়িত্ব অত্যন্ত সততার সাথে পালন করবে এবং সেনাবাহিনীর জন্য যোগ্য নেতৃত্ব নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
১২ ঘন্টা আগে
বিয়ের প্রলোভনে তরুণীকে ধর্ষণ ও গর্ভপাত করানোর অভিযোগ

বিয়ের প্রলোভনে তরুণীকে ধর্ষণ ও গর্ভপাত করানোর অভিযোগ

বিয়ের প্রলোভনে ভাড়া বাসায় তরুণীকে আটকে রেখে ধর্ষণ ও গর্ভপাত করানোর অভিযোগ উঠেছে মনিরুজ্জামান লাভলু নামের এক ট্রাকচালকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী তরুণী থানায় মামলা করেছেন।রংপুর নগরীর হারাগাছ থানার সাহেবগঞ্জ এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় এই ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত ট্রাকচালকের বাড়ি রংপুর সিটি করপোরেশনের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বনুঘাট চওড়ারহাট করবলাটারী এলাকায়।রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের হারাগাছ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ও তদন্ত কর্মকর্তা রুহুল আমিন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।পুলিশ জানায়, প্রায় ছয় মাস আগে ওই তরুণীর সঙ্গে মোবাইলফোনে পরিচয় হয় লাভলুর। লাভলু মেয়েটিকে জানান, তিনি অবিবাহিত এবং তাকে বিয়ে করতে চায়। তবে মেয়েটি তাকে জানান, তার পরিবার আর্থিকভাবে অসচ্ছল এবং আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ে করা সম্ভব নয়। এই সুযোগে তাকে নিজ খরচে বিয়ে করার আশ্বাস দেন লাভলু।গত ৩ এপ্রিল মেয়েটিকে নিয়ে সাহেবগঞ্জ এলাকায় একটি ঘর ভাড়া নিয়ে ওঠে লাভলু। প্রায় তিন মাস ওই বাড়িতে স্বামী-স্ত্রীর পরিচয়ে তারা বসবাস করতে থাকেন। একপর্যায়ে মেয়েটি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে তাকে ওষুধ খাইয়ে গর্ভপাত করান। পরে মেয়েটি বিয়ের জন্য চাপ দিলে গত ৩ জুলাই ভাড়া বাসা থেকে তাকে বের করে দেন লাভলু।পুলিশ আরও জানায়, ৪ জুলাই মেয়েটি খোঁজ নিয়ে লাভলুর গ্রামের বাড়িতে যান এবং সেখানে গিয়ে জানতে পারেন, তিনি বিবাহিত এবং তার স্ত্রী ও সন্তান রয়েছে। ওই তরুণী প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরে শনিবার (২৫ জুলাই) রাতে হারাগাছ থানায় অভিযোগ করেন।তদন্ত কর্মকর্তা রুহুল আমিন বলেন, অভিযুক্ত মনিরুজ্জামান লাভলুর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ভুক্তভোগী তরুণীর মেডিকেল পরীক্ষা করা হয়েছে এবং ঘটনার সত্যতা যাচাই করতে তদন্ত চলছে।
৬ ঘন্টা আগে
১৫ এপ্রিল ২০২৬, ১২:১১ এএম
আপনি কি মনে করেন বিএনপি জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর ও শব্দ বাস্তবায়ন করবে?

আপনি কি মনে করেন বিএনপি জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর ও শব্দ বাস্তবায়ন করবে?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ জন
 দাঁতের যত্নে বিষ? টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের খোঁজ

দাঁতের যত্নে বিষ? টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের খোঁজ

দেশে বিক্রি হওয়া প্রতি চারটি টুথপেস্টের মধ্যে তিনটিতেই মিলেছে মাইক্রোপ্লাস্টিক। এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের (এসডো) বৈজ্ঞানিক গবেষণায় ৩৪টি টুথপেস্টের মধ্যে ২৬টিতে (৭৬.৫%) মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত হয়েছে। প্রতি ১০০ গ্রাম টুথপেস্টে ২০ থেকে ৩২০টি পর্যন্ত মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা মিলেছে। মাইক্রোপ্লাস্টিক দূষণ বর্তমানে বিশ্বব্যাপী পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের বড় উদ্বেগের বিষয়। উদ্বেগের বিষয় হলো, শিশুদের জন্য বিক্রি হওয়া ৬টি টুথপেস্টের মধ্যে ৪টিতেই (৬৬.৭%) মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে।রোববার রাজধানীর লালমাটিয়ায় এসডোর প্রধান কার্যালয়ে এই গবেষণা প্রতিবেদন তুলে ধরা হয়। বাংলাদেশে টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক নিয়ে আগে কোনো বৈজ্ঞানিক গবেষণা, নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা বা নিয়মিত নজরদারি ছিল না। এই গুরুত্বপূর্ণ ঘাটতি বিবেচনায় নিয়ে এসডো ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত দেশব্যাপী একটি সমন্বিত গবেষণা পরিচালনা করে। গবেষণায় ভোক্তা জরিপ, ল্যাবরেটরি পরীক্ষা এবং নিয়ন্ত্রক ও বৈজ্ঞানিক বিশেষজ্ঞদের সাক্ষাৎকার অন্তর্ভুক্ত ছিল, যেন বাস্তব পরিস্থিতি ও নীতিগত চ্যালেঞ্জ একসঙ্গে মূল্যায়ন করা যায়।মাইক্রোপ্লাস্টিক দূষণ বর্তমানে বিশ্বব্যাপী পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের বড় উদ্বেগের বিষয়। যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ, দক্ষিণ কোরিয়াসহ বিভিন্ন দেশে বৈজ্ঞানিক গবেষণায় টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি প্রমাণিত হয়েছে। তবে বাংলাদেশে এ ধরনের বৈজ্ঞানিক মূল্যায়ন এই প্রথম, যা ভবিষ্যতে নিরাপদ টুথপেস্ট নিশ্চিত করতে মানদণ্ড নির্ধারণ, নজরদারি ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং কার্যকর নীতিমালা প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।গবেষণায় পরীক্ষা করা ৩৪টি টুথপেস্টের মধ্যে ২৬টিতে (৭৬.৫%) মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে। বাকি ৮টিতে (২৩.৫%) কোনো মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া যায়নি। প্রতি ১০০ গ্রাম টুথপেস্টে ২০ থেকে ৩২০টি পর্যন্ত মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা শনাক্ত হয়েছে। পরীক্ষা করা টুথপেস্টগুলো বাংলাদেশ, ভারত, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামে উৎপাদিত। চারটি দেশের উৎপাদিত টুথপেস্টেই মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে।গবেষণায় শুধু টুথপেস্টেই নয়, ভোক্তাদের সচেতনতাতেও বড় ঘাটতি উঠে এসেছে। জরিপে অংশ নেওয়া প্রায় সবাই নিয়মিত টুথপেস্ট ব্যবহার করলেও ৪১ দশমিক ৯ শতাংশ মানুষ জানতেনই না যে টুথপেস্টের মতো মুখের পরিচর্যার পণ্যেও মাইক্রোপ্লাস্টিক থাকতে পারে। মাত্র ২৬ দশমিক ৯ শতাংশ উত্তরদাতা এই বিষয়ে সচেতন বলে জানিয়েছেন।এসডো স্পষ্ট করেছে যে, এই গবেষণার উদ্দেশ্য কোনো নির্দিষ্ট ব্র্যান্ড বা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানকে দায়ী করা নয়। বরং বাংলাদেশে টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক নিয়ে কোনো জাতীয় মানদণ্ড, গ্রহণযোগ্য সীমা, পরীক্ষার নির্দেশিকা বা লেবেলে তথ্য প্রকাশের বাধ্যবাধকতা না থাকায় বর্তমান পরিস্থিতি বৈজ্ঞানিকভাবে তুলে ধরাই ছিল এই গবেষণার মূল লক্ষ্য।এসডোর চেয়ারপারসন সৈয়দ মার্গুব মোর্শেদ বলেন, 'ভালো নীতিমালা গড়ে ওঠে নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক তথ্যের ভিত্তিতে। বাংলাদেশে টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক নিয়ে এটিই প্রথম বৈজ্ঞানিক গবেষণা, যা ভবিষ্যতে মানদণ্ড প্রণয়ন, কার্যকর নিয়ন্ত্রণ এবং ভোক্তা ও পরিবেশ সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।'এসডোর মহাসচিব ও সিনিয়র টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজার ড. শাহরিয়ার হোসেন বলেন, 'টুথপেস্ট আমাদের প্রতিদিনের ব্যবহারের একটি পণ্য। অথচ গবেষণায় দেখা গেছে, এতে মাইক্রোপ্লাস্টিক থাকতে পারে—এই বিষয়টি সম্পর্কে অধিকাংশ মানুষই জানেন না। তাই আরও গবেষণার পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধি, পণ্যের লেবেলে উপাদানের স্পষ্ট তথ্য উল্লেখ এবং কার্যকর নিয়ন্ত্রক তদারকি এখন অত্যন্ত জরুরি।'বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউট (বিএসটিআই)-এর উপ-পরিচালক মো. মনজুরুল করিম বলেন, 'টুথপেস্ট তৈরির স্ট্যান্ডার্ড ও প্রয়োজনীয়তার ওপর ভিত্তি করে অনুমোদিত ৪০টি উপাদানের একটি তালিকা তৈরি করা হয়েছে। তবে এই তালিকায় এখনো মাইক্রোপ্লাস্টিক অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। আমরা এই বিষয়টি আমলে নিচ্ছি এবং দ্রুতই এসআরও সংশোধন করে তালিকায় মাইক্রোপ্লাস্টিকের মানদণ্ড বা সর্বোচ্চ সহনশীল মাত্রা যুক্ত করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবো।'পরিবেশ অধিদপ্তরের ইন্সপেক্টর মাহমুদা তামান্না খান বলেন, 'আজ যে বিষয়টি উন্মোচিত করেছি, তার ওপর ভিত্তি করে কাজ করতে আমরা অত্যন্ত আগ্রহী এবং বিএসটিআইকে সব ধরনের সহায়তা দিতে প্রস্তুত।'সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা, নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, প্রস্তুতকারক এবং ভোক্তা অধিকার সংগঠনগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে এসডো, যেন তারা একসঙ্গে কাজ করে পারসোনাল কেয়ার পণ্যে মাইক্রোপ্লাস্টিকের জন্য বিজ্ঞানভিত্তিক জাতীয় মানদণ্ড তৈরি করতে পারে। একই সঙ্গে সংস্থাটি নিয়মিত বাজার তদারকি, পরীক্ষাগারের সক্ষমতা বৃদ্ধি, পণ্যের লেবেলে উপাদানের স্বচ্ছ তথ্য নিশ্চিত করা এবং দৈনন্দিন ব্যবহারের পণ্য থেকে মানবদেহে মাইক্রোপ্লাস্টিক প্রবেশের ঝুঁকি নিয়ে আরও গবেষণা করার সুপারিশ করেছে।
২ ঘন্টা আগে
সাফল্যের এক যুগ: ২০ দেশে উড়তে চায় ইউএস-বাংলা

সাফল্যের এক যুগ: ২০ দেশে উড়তে চায় ইউএস-বাংলা

২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে ২০টি দেশের ৩০টি গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালনার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে দেশের বেসরকারি বিমান সংস্থা ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স। একই সময়ে সংস্থাটির বহরে যুক্ত হবে ২১টি নতুন বিমান।রোববার (১৯ জুলাই) সন্ধ্যায় কক্সবাজারের একটি হোটেলে আয়োজিত 'মিট দ্য প্রেস' অনুষ্ঠানে এসব তথ্য জানান ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন। এ সময় জনসংযোগ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক কামরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।ইউএস-বাংলার পক্ষ থেকে জানানো হয়, ২০১৪ সালে যশোর রুটে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট পরিচালনার মাধ্যমে যাত্রা শুরু করেছিল ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স। সীমিত পরিসর থেকে শুরু করে আজ আমরা দেশের অন্যতম বৃহৎ বেসরকারি বিমান পরিবহন সংস্থায় পরিণত হয়েছি। এই অর্জনের পেছনে রয়েছে যাত্রীদের আস্থা, সরকারের নীতিগত সহায়তা, নিয়ন্ত্রক সংস্থার সহযোগিতা, ব্যবসায়িক অংশীদারদের সমর্থন এবং সর্বোপরি আমাদের চার হাজারেরও বেশি কর্মকর্তা-কর্মচারীর নিরলস পরিশ্রম।বর্তমানে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের বহরে রয়েছে ২৫টি আধুনিক উড়োজাহাজ। এর মধ্যে রয়েছে ৩টি এয়ারবাস এ৩৩০-৩০০, ৯টি বোয়িং ৭৩৭-৮০০ এবং এটিআর ৭২-৬০০ উড়োজাহাজ। এই বহর নিয়ে আমরা দেশের ৬টি অভ্যন্তরীণ গন্তব্য এবং ১০টি দেশের ১৪টি আন্তর্জাতিক গন্তব্যে নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনা করছি। প্রতিদিন দেশ-বিদেশ মিলিয়ে প্রায় ১০০টি ফ্লাইট পরিচালনার মাধ্যমে হাজার হাজার যাত্রীকে নিরাপদ, নির্ভরযোগ্য ও সময়নিষ্ঠ সেবা প্রদান করছি।আমাদের বিশ্বাস, একটি এয়ারলাইন্সের প্রকৃত শক্তি শুধু তার বহরের আকারে নয়; বরং নিরাপত্তা, সেবার মান, পরিচালন দক্ষতা এবং যাত্রীসন্তুষ্টির ওপর নির্ভর করে। সেই লক্ষ্য থেকেই ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স বাংলাদেশের প্রথম বেসরকারি এয়ারলাইন্স হিসেবে আইএটিএ এবং আইওএসএ-এর আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন করেছে। এই স্বীকৃতি আমাদের পরিচালন সক্ষমতা, নিরাপত্তা সংস্কৃতি এবং আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখার প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন।স্বাধীনতার পর ইউএস-বাংলা-ই প্রথম কোনো দেশীয় বিমান সংস্থা যা চীনের কোনো গন্তব্যে বা ভারতের চেন্নাই কিংবা মালদ্বীপের রাজধানী মালেতে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনা করছে। যাত্রীসেবায় উৎকর্ষ অর্জনের লক্ষ্যে আমরা ধারাবাহিকভাবে নতুন মানদণ্ড স্থাপন করছি। আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে ১৫ মিনিটের মধ্যে লাগেজ ডেলিভারির প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন তারই একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ।আগামী দিনের পরিকল্পনা আরও বিস্তৃত ও সুদূরপ্রসারী। ২০২৭ সালের মধ্যে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের বহরে যুক্ত হবে ২১টি সম্পূর্ণ নতুন বোয়িং উড়োজাহাজ—এর মধ্যে ১৫টি বোয়িং ৭৩৭-৮ এবং ৬টি বোয়িং ৭৩৭-৮০০এনজি। এটি বাংলাদেশের বেসরকারি বিমান পরিবহন খাতে অন্যতম বৃহৎ বহর সম্প্রসারণ কর্মসূচি। নতুন প্রজন্মের এই উড়োজাহাজগুলো জ্বালানি সাশ্রয়ী, পরিবেশবান্ধব, প্রযুক্তিনির্ভর এবং উন্নত যাত্রীসেবা নিশ্চিত করতে সক্ষম হবে।বহর সম্প্রসারণের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক রুট নেটওয়ার্কও বিস্তৃত করা হচ্ছে। আমাদের পরিকল্পনায় রয়েছে কুয়েত, বাহরাইন, মদিনা, দাম্মাম, কাঠমান্ডু, কলম্বো, হংকং, মালয়েশিয়ার জোহর বাহরু এবং পেনাং-এ নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনা। এর মাধ্যমে বাংলাদেশকে বৈশ্বিক বাণিজ্য, পর্যটন ও যোগাযোগ ব্যবস্থার সঙ্গে আরও কার্যকরভাবে সংযুক্ত করার লক্ষ্য বাস্তবায়িত হবে।বর্তমানে ইউএস-বাংলা এবং রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থা আন্তর্জাতিক রুটের মার্কেট শেয়ারের ২৫ শতাংশ পাচ্ছে আর বিদেশি এয়ারলাইন্সগুলো নিয়ে যাচ্ছে প্রায় ৭৫ শতাংশ, যা দেশের অর্থনীতিকে স্বাবলম্বী হওয়ার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। দেশের আকাশ পরিবহনে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক রুটের প্রায় শতাধিক ফ্লাইট প্রতিদিন পরিচালনা করছে, যা দেশের এভিয়েশনের অগ্রগতিকেই তুলে ধরছে।আমাদের অঙ্গীকার—নিরাপত্তায় আপসহীন থেকে, আন্তর্জাতিক মানের সেবা নিশ্চিত করে এবং প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক এয়ারলাইন্স হিসেবে ইউএস-বাংলাকে আগামী দিনের বৈশ্বিক আকাশপথে বাংলাদেশের অন্যতম শক্তিশালী ব্র্যান্ডে পরিণত করা।
১৬ জুন ২০২৬
মুজিববর্ষ উদযাপনে ৯৮২ কোটি টাকা ব্যয়: অর্থমন্ত্রী

মুজিববর্ষ উদযাপনে ৯৮২ কোটি টাকা ব্যয়: অর্থমন্ত্রী

১৬ জুন ২০২৬
 প্রো ম্যাক্সের দাম ছাড়িয়ে যাবে ২ লাখ, আইফোন ১৮ নিয়ে যা জানলো বিশ্ব

প্রো ম্যাক্সের দাম ছাড়িয়ে যাবে ২ লাখ, আইফোন ১৮ নিয়ে যা জানলো বিশ্ব

এ বছর প্রযুক্তিপ্রেমীদের সব কৌতূহল কেবল একটি ফোনকে ঘিরে—অ্যাপলের ‘আইফোন ১৮’। এখনো উন্মোচনের প্রায় দুই মাস বাকি থাকলেও ফোনটির নকশা, শক্তিশালী চিপসেট, ক্যামেরায় বড় পরিবর্তন ও আকাশচুম্বী দাম নিয়ে ফাঁস থেমে নেই। ধারণা করা হচ্ছে, আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্সের দাম প্রায় দুই লাখ টাকা হতে পারে। চলুন জেনে নেওয়া যাক আইফোন ১৮ সিরিজের সম্ভাব্য ফিচার, দাম ও উন্মোচনের সময়সূচি সম্পর্কে বিস্তারিত।আকাশচুম্বী দামআইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্স হতে যাচ্ছে অ্যাপলের ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যয়বহুল স্মার্টফোন । চীনের টেক–বিষয়ক প্রতিষ্ঠান ‘স্মার্ট পিকাচু’ জানিয়েছে, চীনে এর প্রারম্ভিক মূল্য ১১ হাজার ইউয়ান থেকে শুরু হতে পারে, যা ডলারে প্রায় ১ হাজার ৬২৫ ডলার । বাংলাদেশি মুদ্রায় কর ও শুল্ক বাদে এর দাম পড়বে প্রায় ১ লাখ ৯৭ হাজার টাকার বেশি । প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, এই দাম বৃদ্ধির পেছনে প্রধান কারণ ২ ন্যানোমিটার প্রসেসর এবং ১২ জিবি র‍্যামের উচ্চ মূল্য ।টাটা গ্রুপের তথ্য ফাঁসএইবার অ্যাপলের কঠোর গোপনীয়তা প্রাচীরে বড় ফাটল ধরেছে। ভারতের টাটা ইলেকট্রনিকসের সার্ভারে ‘ওয়ার্ল্ড লিকস’ নামের হ্যাকার গ্রুপ হামলা চালিয়ে প্রায় ৬৩০ গিগাবাইট সংবেদনশীল তথ্য চুরি করে । ডার্ক ওয়েবে ছড়িয়ে পড়া এসব ফাইলের মধ্যে আইফোন ১৮ প্রোর আসল থ্রিডি নকশা, পার্টস সরবরাহকারীদের তালিকা এবং ড্রপ–টেস্টের ছবিও রয়েছে । ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থা ও অ্যাপল এই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে ।২ ন্যানোমিটারের প্রসেসরআইফোন ১৮ প্রো সিরিজের প্রধান আকর্ষণ হবে ‘এ২০ প্রো’ চিপসেট, যা তাইওয়ানের টিএসএমসি তৈরি করছে । এটি বিশ্বের প্রথম ২ ন্যানোমিটার প্রযুক্তিতে তৈরি চিপ । নতুন এই প্রযুক্তিতে বর্তমানের চেয়ে প্রায় ১৫ শতাংশ বেশি দ্রুত কাজ করতে পারবে এবং ব্যাটারি সাশ্রয় হবে ২৫-৩০ শতাংশ ।১২ জিবি র‍্যাম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাআইফোন ১৮ প্রো সিরিজে প্রথমবারের মতো ১২ জিবি র‍্যাম ব্যবহার করা হচ্ছে । এর পেছনে মূল কারণ হলো আইওএস ২৭-এর নতুন এআই ফিচার ‘অ্যাপল ইন্টেলিজেন্স’ এবং উন্নত ‘সিরি এআই’, যা ইন্টারনেট ছাড়াই ফোনের ভেতরে কাজ করবে ।ক্যামেরায় ডিএসএলআরের ছোঁয়াআইফোন ১৮ প্রো ও প্রো ম্যাক্সের প্রধান ৪৮ মেগাপিক্সেল ক্যামেরায় যুক্ত হচ্ছে ‘ভ্যারিয়েবল অ্যাপারচার’ । যান্ত্রিকভাবে লেন্সের মুখ ছোট-বড় করার সুবিধায় সিনেমার মতো উন্নত ভিডিও এবং প্রাকৃতিক ব্যাকগ্রাউন্ড ব্লার পাওয়া যাবে । আলট্রা-ওয়াইড ও ৫ গুণ জুমের টেলিফটো লেন্সকেও ৪৮ মেগাপিক্সেলে উন্নীত করা হচ্ছে ।ডায়নামিক আইল্যান্ডের সংকোচনডায়নামিক আইল্যান্ড প্রায় ৩৫ শতাংশ ছোট হয়ে যাচ্ছে । ফেস আইডির সেন্সর দুটোকে ডিসপ্লের নিচে নিয়ে যাওয়ায় এটি সম্ভব হচ্ছে । এছাড়া ‘গ্রেড ৫’ পলিশড টাইটানিয়ামের ব্যবহারে ফোন হবে হালকা ও স্ক্র্যাচ প্রতিরোধী, এবং নতুন রং যোগ হচ্ছে ‘স্যাটিন গোল্ড’ ও ‘ডিপ প্লাম’ ।কবে আসছে বাজারেফোর্বসের জ্যেষ্ঠ প্রযুক্তি লেখক ডেভিড ফেলানের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ৯ সেপ্টেম্বর অ্যাপলের ‘কি-নোট’ ইভেন্টে আইফোন ১৮ সিরিজ উন্মোচিত হবে । প্রি-অর্ডার শুরু হবে ১১ সেপ্টেম্বর এবং বিশ্বজুড়ে বিক্রি শুরু হবে ১৮ সেপ্টেম্বর ।
২৫ জুলাই ২০২৬
কোন ছবি নেই !
কোন ছবি নেই !
ই-পাসপোর্টে জুলাই শহীদদের ছবি যুক্ত হচ্ছে

ই-পাসপোর্টে জুলাই শহীদদের ছবি যুক্ত হচ্ছে

বাংলাদেশের সাধারণ ই-পাসপোর্টের নকশায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনছে সরকার। ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের স্মৃতিকে ধরে রাখতে পাসপোর্টের পাতায় জলছাপ (ওয়াটারমার্ক) হিসেবে যুক্ত করা হচ্ছে শহীদ আবু সাঈদ, মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধ এবং মোহাম্মদ ওয়াসিমের ছবি।রোববার (১৯ জুলাই) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বহিরাগমন-৪ শাখা থেকে জারিকৃত এক প্রজ্ঞাপনে নতুন এই নকশার চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ই-পাসপোর্টের বিদ্যমান বুকলেটের নকশা ও জলছাপ পুনর্বিন্যাস করা হচ্ছে। নতুন অনুমোদিত নকশায় পাসপোর্টের ৩১ ও ৩২ নম্বর পৃষ্ঠায় জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক সেই উত্তাল মুহূর্তটি ঠাঁই পাবে। তরুণদের আত্মত্যাগের সেই স্মৃতিকে আন্তর্জাতিক এই ভ্রমণ নথিতে স্থায়ী রূপ দিতেই শহীদ আবু সাঈদ, মুগ্ধ ও ওয়াসিমের ছবি জলছাপ হিসেবে ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।পাসপোর্টের নতুন এই বিন্যাসে জুলাই অভ্যুত্থানের পাশাপাশি বাংলাদেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের নানা অনুষঙ্গও যুক্ত করা হয়েছে। বিভিন্ন পৃষ্ঠায় জলছাপ হিসেবে দেখা যাবে জাতীয় স্মৃতিসৌধ, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, জাতীয় সংসদ ভবন এবং সুপ্রিম কোর্টের ছবি। এ ছাড়া লালবাগ দুর্গ, কান্তজিউ মন্দির, পানামনগর ও কার্জন হলের মতো গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক স্থাপনাও ঠাঁই পেয়েছে নতুন নকশায়।দেশের প্রাকৃতিক ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে ঝাউবনসহ কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত, সুন্দরবন, টাঙ্গুয়ার হাওর ও নীলগিরির ছবি যুক্ত করা হয়েছে। জাতীয় ফুল, মাছ, পাখি ও ফলের পাশাপাশি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের বিখ্যাত চিত্রকর্ম 'সংগ্রাম'-কে।প্রজ্ঞাপনে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, পাসপোর্টের ডাটা পেজে আগের নিয়মই বহাল থাকছে। অর্থাৎ, এটি ইসরায়েল ব্যতীত বিশ্বের সব দেশের ভ্রমণের জন্য বৈধ থাকবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই সিদ্ধান্ত দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনা প্রদান করেছে।২০২৪ সালের জুলাই মাসে বাংলাদেশে সংগঠিত ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে আবু সাঈদ, মুগ্ধ ও ওয়াসিমসহ বহু মানুষ প্রাণ হারান। আন্দোলনের সেই গৌরবময় ইতিহাসকে পরবর্তী প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে এবং জাতীয় নথিতে তাদের অবদানকে স্বীকৃতি দিতেই এই উদ্যোগ নিয়েছে বর্তমান সরকার। এটি বাংলাদেশের পাসপোর্টের ইতিহাসে একটি অনন্য ও আবেগঘন পরিবর্তন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
১৬ জুন ২০২৬
শেখ নূর কুতুব আলম: বাংলার আধ্যাত্মিক নেতৃত্বের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত

শেখ নূর কুতুব আলম: বাংলার আধ্যাত্মিক নেতৃত্বের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত

বাংলার মধ্যযুগীয় ইতিহাসে পান্ডুয়া ছিল জ্ঞান, সংস্কৃতি ও আধ্যাত্মিক সাধনার অন্যতম কেন্দ্র। এই শহরের খানকাগুলোতে যেমন ধর্মীয় শিক্ষা বিস্তার লাভ করত, তেমনি এখান থেকেই সমাজজীবনে নৈতিক নেতৃত্বও গড়ে উঠত। ১৩৫০ সালের কিছু আগে তৎকালীন বাংলার রাজধানী পান্ডুয়ায় তার জন্ম। তার প্রকৃত নাম নূরুদ্দীন নূরুল হক। ‘নূর কুতুবুল আলম’ তার উপাধি।তার পিতা ছিলেন বাংলার অন্যতম শ্রেষ্ঠ আলেম ও সুফি শায়খ আলাউল হক। বংশপরিচয়ও ছিল সম্মানজনক—তিনি লাহোরের প্রসিদ্ধ সাধক শেখ আসাদের পৌত্র। পিতার মতো তিনি ছিলেন চিশতিয়া তরিকার একজন বিশিষ্ট পীর। ইলিয়াস শাহী বংশের তৃতীয় সুলতান গিয়াস উদ্দিন আজম শাহ ছিলেন তার সহপাঠী ও বন্ধু। কিন্তু বংশগৌরবের চেয়েও বড় ছিল তার ব্যক্তিত্ব, জ্ঞান, দূরদর্শিতা এবং মানুষের জন্য আত্মনিবেদিত জীবন।ব্যক্তিগত জীবন ও আধ্যাত্মিক সাধনানূর কুতুব আলম তাঁর পিতার আমল থেকে সব ধরনের কায়িক শ্রমের অভ্যাস করতেন। দরগায় আগত ফকিরদের কাপড় ধোয়া, লাকড়ি ও পানি বহন, শীতকালে পীরের অজু করার জন্য সর্বদা পানি গরম রাখা, এমনকি খানকাহসংলগ্ন শৌচাগার পরিষ্কার করা প্রভৃতি কাজে তিনি নিজেকে নিয়োজিত রাখতেন।আজকের সময়ে নেতৃত্বকে আমরা প্রায়ই ক্ষমতা, প্রভাব কিংবা সামাজিক মর্যাদার সঙ্গে মিলিয়ে দেখি। অথচ নূর কুতুব আলমের জীবন আমাদের শেখায়, প্রকৃত নেতৃত্ব শুরু হয় সেবার মাধ্যমে। যে মানুষ নিজের হাতে মানুষের কষ্ট লাঘব করতে পারে, তিনিই প্রকৃত অর্থে মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিতে পারেন।রাজনৈতিক সংকটে নূর কুতুব আলমের ভূমিকানূর কুতুব আলমের জীবনের সবচেয়ে উজ্জ্বল অধ্যায় রচিত হয় এক ভয়াবহ রাজনৈতিক সংকটের সময়। ১৪১৫ খ্রিস্টাব্দে রাজা গণেশ নামক একজন হিন্দু শাসক ইলিয়াস শাহি বংশ উত্খাত করে ক্ষমতা গ্রহণ করেন। তিনি মুসলমানের ওপর নজিরবিহীন জুলুম-নির্যাতন শুরু করেন। এমনকি শায়খ ও আলেমদের ওপর অবর্ণনীয় অত্যাচার শুরু করেন।বিশেষ করে ধর্মীয় নেতৃত্ব, আলেম-ওলামা এবং সাধারণ মুসলমানদের ওপর নিপীড়নের অভিযোগ বিভিন্ন ঐতিহাসিক গ্রন্থে উল্লেখিত হয়েছে। বাংলার মুসলিম সমাজ গভীর অনিশ্চয়তা ও আতঙ্কের মধ্যে পড়ে।এই পরিস্থিতিতে শেখ নূর কুতুব আলম নীরব থাকেননি। তিনি উপলব্ধি করেছিলেন, কেবল খানকায় বসে ইবাদত করাই একজন আধ্যাত্মিক নেতার একমাত্র দায়িত্ব নয়; মানুষের জীবন, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সামাজিক নিরাপত্তা বিপন্ন হলে ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্যও এগিয়ে আসতে হয়। তার এই অবস্থান প্রমাণ করে, ইসলামী আধ্যাত্মিকতার প্রকৃত শিক্ষা সমাজবিমুখতা নয়; বরং মানুষের কল্যাণে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন।কূটনৈতিক পদক্ষেপ ও রাজা গণেশের সাথে সমঝোতাবাংলার মুসলমানদের রক্ষার জন্য তিনি এক গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। তিনি জৌনপুরের সুলতান ইবরাহিম শর্কিকে বাংলা আক্রমণ করে বাংলাকে গণেশের হাত থেকে রক্ষা করার অনুরোধ জানিয়ে চিঠি লেখেন। একই সঙ্গে তিনি প্রসিদ্ধ সুফি ব্যক্তিত্ব মীর সৈয়দ আশরাফ জাহাঙ্গীর সিমনানিকেও অনুরোধ করেন, যেন তিনিও ইবরাহিম শর্কিকে বাংলার মুসলমানদের সহায়তায় এগিয়ে আসতে উদ্বুদ্ধ করেন।সুলতান ইবরাহিম শর্কি এই অনুরোধ রক্ষা করে বাংলা আক্রমণের উদ্দেশ্যে পিরোজপুর এসে শিবির স্থাপন করেন। রাজা গণেশ এতে ভয় পেয়ে নূর কুতুব আলমের কাছে আত্মসমর্পণ করেন এবং তাঁকে ক্ষমা করে ইবরাহিম শর্কিকে জৌনপুরে ফিরে যেতে বলার অনুরোধ জানান।কিন্তু নূর কুতুব আলম এতে সম্মত হননি। তিনি জানিয়ে দেন, একজন মুসলিম শাসককে কোনো অমুসলিম শাসকের পক্ষ নিয়ে তিনি ফিরিয়ে দিতে পারেন না। বরং পূর্বশর্ত হিসেবে তিনি রাজা গণেশকে ইসলাম গ্রহণের আহ্বান জানান। গণেশ তাতে সম্মত হন, কিন্তু বিস্তারিত শুনে তাঁর রানি এতে বাধা দেন। গণেশ তখন তার ১২ বছরের ছেলে যদুকে নিয়ে শায়খের কাছে আসেন। যদুকে ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত করে 'জালালুদ্দীন' নাম দেওয়া হয় এবং গণেশ তার পক্ষে সিংহাসন ত্যাগ করেন।এই ঘটনার মধ্য দিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ এড়ানো সম্ভব হয় এবং বাংলার রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অন্তত সাময়িকভাবে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়।পরবর্তী পরিস্থিতি ও নূর কুতুব আলমের দূরদর্শিতাশায়খের মৃত্যুর পর গণেশ অবশ্য যদুকে হিন্দু ধর্মে পুনরায় দীক্ষিত করে নিজে সিংহাসনে অধিষ্ঠিত হন। কিন্তু রাজা গণেশের মৃত্যু হলে যদু জালালুদ্দীন মুহাম্মদ শাহ উপাধি গ্রহণ করে সিংহাসনে আরোহণ করেন এবং বাংলার মুসলিম শাসনব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়।এই ঘটনাপ্রবাহে নূর কুতুব আলমের দূরদর্শিতার প্রতিফলন স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তিনি হয়তো জানতেন, একটি সংকটময় সময়ে আপসের মধ্য দিয়েও দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার পথ তৈরি করা যায়।রচিত গ্রন্থসমূহ ও আধ্যাত্মিক উত্তরসূরিতিনি শুধু নিজের আধ্যাত্মিক সাধনায় সীমাবদ্ধ থাকেননি; পরবর্তী প্রজন্ম গড়ে তোলার প্রতিও ছিলেন সমান মনোযোগী। তাঁর রচিত গ্রন্থ সংখ্যা ১২১টি। সেগুলো তার প্রধান মুরিদ ও খলিফা হুসামুদ্দিন মানিকপুরী সম্পাদনা করেন। তন্মধ্যে বিখ্যাত দুটি গ্রন্থ হলো মুগিসুল ফুকারা ও আনিসুল গুরাবা।মুগিসুল ফুকারার একটি পাণ্ডুলিপি সংরক্ষিত আছে বিহারের ভাগলপুরের খলিফাবাগ একটি প্রাইভেট লাইব্রেরিতে। আরেকটি অসম্পূর্ণ কপি সংরক্ষিত আছে এশিয়াটিক সোসাইটি অব বেঙ্গল কলিকাতার লাইব্রেরিতে (সংগ্রহ নং- ৪৬৬)। সেখানে আনিসুল গুরাবা বইটির ২টি কপি সংরক্ষিত আছে (সংগ্রহ নং: ১২১২ ও ১২১৩)।তিনি তাঁর দুই পুত্র শেখ রাফকাতউদ্দীন এবং শেখ আনোয়ারকে আধ্যাত্মিক শিক্ষা দেন। সম্ভবত পিতার জীবদ্দশায় শেখ আনোয়ার রাজা গণেশের হাতে সোনারগাঁয়ে শহীদ হন। শেখ নূর কুতুব আলমের অন্য আর একজন প্রধান মুরিদ ছিলেন শেখ হুসামুদ্দীন মানিকপুরী।পত্র সংকলন ও ঐতিহাসিক দলিলনূর কুতুব আলমের ১৩টি পত্রের একটি গ্রন্থ সম্পাদনা করেন মুহাদ্দিস আব্দুল হক দেহলভী। যে গ্রন্থের নাম মাকতুবাত ই নূর কুতুবুল আলম। এটি দিল্লির ইন্ডিয়ান আর্কাইভে সংরক্ষিত আছে। এই পত্রগুলো থেকে সমসাময়িক রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়।সুলতানদের শ্রদ্ধা ও দরগাহের গুরুত্বশেখ নূর কুতুব আলমের প্রতি পরবর্তী সুলতানদের শ্রদ্ধাও ছিল অসাধারণ। তার দরগাহ সংলগ্ন সরাইখানা ও মাদরাসার ব্যয় নির্বাহের জন্য সুলতান আলাউদ্দীন হোসেন শাহ কয়েকটি গ্রাম দান করেন। দরবেশের মাজার জিয়ারতের জন্য সুলতান বছরে একবার রাজধানী শহর একডালা থেকে পান্ডুয়ায় আসতেন।শায়খ নূর কুতুব আলম পান্ডুয়ার পীর-আউলিয়ার মধ্যে শীর্ষ মর্যাদার অধিকারীদের অন্যতম। পিতা-পুত্র দুজনই পান্ডুয়ার বিখ্যাত শাশ হাজারি দরগায় শায়িত আছেন। পিতার মতো তিনি চিশতিয়া মতাদর্শের পীর ছিলেন। তাঁর অনুসারী শিষ্যকুল ও দরবেশরা কয়েক শতক ধরে বাংলায় মুসলিম সমাজজীবনে তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।ঐতিহাসিক দৃষ্টিতে শায়খ নূর কুতুব আলমের সর্বশ্রেষ্ঠ অবদান বাংলার মুসলিম শাসন রাজা গণেশের হাত থেকে রক্ষা করা।মৃত্যুশেখ নূর কুতুব আলম ৮১৮ হিজরি বা ১৪১৫ খ্রিস্টাব্দে (বাংলাপিডিয়া ও উইকিপিডিয়া মতে) ইন্তেকাল করেন। তবে প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, ১৪৪৭ সালের ৭ জানুয়ারি তার মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়। তার ইন্তেকালের সঙ্গে একটি সুন্দর ফারসি অভিব্যক্তি যুক্ত হয়েছে—"নূর বানূর-শুদ", অর্থাৎ "আলো আলোতে বিলীন হয়ে গেল।"এই বাক্যটি যেন তার সমগ্র জীবনেরই প্রতীক। তিনি এমন এক আলোকবর্তিকা ছিলেন, যিনি নিজের জন্য নয়, মানুষের পথ আলোকিত করার জন্য জীবন উৎসর্গ করেছিলেন।ইতিহাসে বহু রাজা এসেছেন, বহু সাম্রাজ্য গড়ে উঠেছে এবং বিলীন হয়েছে। কিন্তু যারা মানুষের হৃদয়ে নৈতিকতার আলো জ্বালিয়ে দেন, তাদের স্মৃতি যুগের পর যুগ অম্লান থাকে। শেখ নূর কুতুব আলম সেই বিরল ব্যক্তিত্বদের একজন, যার জীবন বাংলার ইতিহাসে আধ্যাত্মিক নেতৃত্ব, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং নৈতিক সাহসের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে আজও আমাদের সামনে দাঁড়িয়ে আছে।তথ্যসূত্র: উইকিপিডিয়া, বাংলাপিডিয়া, শায়েখ আব্দুল হক দেহলভী, আকবারুল উখিয়া ফি আসরারুল আবরার, সোস্যাল হিস্টোরি অফ দ্যা মুসলিম ইন ব্যাঙ্গাল।
ফিরোজ আল মামুন