ঢাকা    রোববার, ২১ জুন ২০২৬
ঢাকা    রোববার, ২১ জুন ২০২৬
গণবার্তা
সর্বশেষ

বিশ্ব বাবা দিবস আজ: ভালোবাসা, ত্যাগ ও দায়িত্ববোধের প্রতীক বাবাদের প্রতি শ্রদ্ধা

আজ (২১ জুন) বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে বিশ্ব বাবা দিবস। প্রতি বছরের জুন মাসের তৃতীয় রোববার এই বিশেষ দিনটি উদযাপন করা হয়। সন্তানের জীবনে বাবার অবদান, ত্যাগ, দায়িত্ববোধ ও নিঃস্বার্থ ভালোবাসাকে সম্মান জানাতেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দিবসটি পালন করা হয়।যদিও বাবা দিবসের সূচনা পশ্চিমা বিশ্বে, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটি বিশ্বের প্রায় সব দেশেই জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। বাংলাদেশেও দিনটি উপলক্ষে বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পারিবারিক আয়োজনে বাবাদের প্রতি ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হচ্ছে।বাবা দিবসের ইতিহাসইতিহাস অনুযায়ী, বাবা দিবসের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন যুক্তরাষ্ট্রের সনোরা স্মার্ট ডড। ১৯০৯ সালে তিনি মা দিবস উদযাপনের কথা শুনে উপলব্ধি করেন, বাবাদের জন্যও একটি বিশেষ দিন থাকা উচিত।ডডের মা অল্প বয়সেই মারা যান। এরপর তার বাবা একাই সাত সন্তানকে লালন-পালন করেন। বাবার অসাধারণ ত্যাগ ও দায়িত্ববোধ থেকেই তিনি বাবা দিবস চালুর উদ্যোগ নেন।তার দীর্ঘ প্রচেষ্টার ফলস্বরূপ ১৯১০ সালের ১৯ জুন প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনের স্পোকেন শহরে বাবা দিবস উদযাপিত হয়। পরে ধীরে ধীরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দিবসটি ছড়িয়ে পড়ে। বর্তমানে বাংলাদেশসহ বহু দেশে জুন মাসের তৃতীয় রোববার বিশ্ব বাবা দিবস পালিত হয়।বাবার ভালোবাসা প্রকাশের ধরন ভিন্নঅনেক সময় বাবার ভালোবাসা সরাসরি প্রকাশ পায় না। কারণ, তিনি আবেগের চেয়ে দায়িত্বকেই বেশি গুরুত্ব দেন। পরিবারের নিরাপত্তা, সন্তানের শিক্ষা ও ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে নিজের ইচ্ছা-আকাঙ্ক্ষাকেও অনেক সময় বিসর্জন দেন।সন্তানের সাফল্যই একজন বাবার সবচেয়ে বড় আনন্দ। নিজের কষ্টের কথা না বলেও তিনি পরিবারের জন্য নিরলস পরিশ্রম করে যান। তাই বাবাকে অনেকেই বিশাল এক বটগাছের সঙ্গে তুলনা করেন, যার ছায়া সবসময় অনুভব করা যায়, কিন্তু যার ত্যাগের গভীরতা সহজে বোঝা যায় না।কেন গুরুত্বপূর্ণ এই দিনব্যস্ত জীবনের কারণে অনেকেই বাবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের সুযোগ হারিয়ে ফেলেন। অথচ একটি আন্তরিক শুভেচ্ছা, কিছু সময় একসঙ্গে কাটানো কিংবা একটি ফোনকলও বাবার মুখে এনে দিতে পারে অনাবিল হাসি। তাই বাবা দিবস শুধু উপহার দেওয়ার দিন নয়; এটি পারিবারিক সম্পর্ককে আরও গভীর ও আন্তরিক করার একটি উপলক্ষ।বাবা দিবসে যা করতে পারেনবাবার সঙ্গে কিছু সময় কাটান।তার পছন্দের খাবারের আয়োজন করুন।ছোট একটি উপহার বা শুভেচ্ছা জানান।পুরোনো স্মৃতি নিয়ে গল্প করুন।দূরে থাকলে ফোন বা ভিডিও কলে কথা বলুন।সবচেয়ে বড় কথা, তাকে আন্তরিকভাবে বলুন— "ভালোবাসি, বাবা।"একজন বাবা শুধু পরিবারের অভিভাবক নন; তিনি সন্তানের প্রথম শিক্ষক, প্রথম নায়ক, সবচেয়ে বড় ভরসা এবং আজীবনের নিরাপদ আশ্রয়।
১২ ঘন্টা আগে

খেলাধুলার পাশাপাশি লেখাপড়াতেও এগিয়ে যেতে তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর

২২ লাখ ছেলে মেয়ে গত দেড় মাসে গোল্ডকাপে ১ লাখ ২৩ হাজার ইভেন্ট খেলেছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আয়োজকদের উদ্দেশে তিনি বলেছেন, আপনারা গিনেজ বুক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেন, যাতে আমাদের এ কাজগুলো তারা গিনেজ বুকে দিতে পারে। শনিবার বিকেলে রাজধানীর আর্মি স্টেডিয়ামে প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন সরকারপ্রধান। তিনি বলেন, ছোট বন্ধুরা, তোমাদের শুধু খেললে হবে না। আমি জানি তোমাদের অনেকে ভালো গান গাইতে পারো, কুরআন তেলাওয়াত করতে পারো। তোমরা বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ। কাজেই তোমাদের সবকিছুতে পারদর্শী হতে হবে। তোমরা যদি পারদর্শী হয়ে উঠতে পারো তবেই একটি সুন্দর বাংলাদেশ, একটি স্ট্রং বাংলাদেশ গড়ে উঠবে। তোমরা যখন বড় হবে তোমাদেরকেই বাংলাদেশ ভালোভাবে চালাতে হবে।এ সময় উপস্থিত ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রশ্ন রেখে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেখি তোমাদের কার কার মধ্যে এমন আত্মবিশ্বাস আছে, যারা খুব ভালোভাবে দেশ চালাতে পারবে। বিশ্বকাপ চলছে। রোনালদো ভালো খেলছে, মেসি খেলছে, এমবাপ্পে খেলছে। তোমাদের এমন ভালো খেলোয়ার হতে হবে। অলিম্পিকে যেন আমাদের রেজাল্ট ভালো হয়, এ জন্য এরই মধ্যে আমরা পরিকল্পনা করে ফেলেছি। তিনি বলেন, খেলাধুলার মাধ্যমে আমাদের অনেকদূর এগিয়ে যেতে হবে। যেমন ক্রিকেট। ক্রিকেটের মাধ্যমে সারাবিশ্ব বাংলাদেশকে চেনে। তাই শুধু ক্রিকেট দিয়ে নয়, ফুটবল দিয়ে আমাদের সবাই চিনবে ইনশাল্লাহ, হকি দিয়ে, সুইমিং দিয়ে, টেনিস দিয়েও সবাই আমাদের চিনবে। তোমরা সারাবিশ্বে বাংলাদেশের অ্যাম্বাসেডর হবে। বাংলাদেশকে তোমাদের এগিয়ে নিতে হবে, বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে হবে। তোমরা আমাদের চেয়ে অনেক ভালো দেশ গড়তে পারবে।প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখন থেকে লেখাপড়াও করতে হবে, তবে খেলা ছাড়লে হবে না। যে যেই খেলা পছন্দ করবে সে সেইটা খেলবে। খেলাধুলার চর্চা ধরে রাখতে হবে। উদ্ভাবনের চেষ্টা করতে হবে। আমি শুধু বিজয়ী না এই খেলায় সহযোগিতায় যারা ছিলেন সবাইকে অভিনন্দন জানাই, একইসঙ্গে স্কুলের শিক্ষক, অভিভাবক সবাইকে ধন্যবাদ দিতে চাই। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তোমাদের খেলা ছাড়লে চলবে না। তোমাদের আত্মবিশ্বাসী মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার সব ব্যবস্থা আমরা করবো। তোমাদের কোনো কিছু নিয়ে চিন্তা করতে হবে না। তোমাদের সব বিষয়ে পারদর্শী হয়ে উঠতে হবে। কিছুদিন পর ঢাকার চীনমৈত্রীতে একটি উদ্ভাবনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। সেখানে তোমাদের মতো বয়সী শিশুরা অংশ নেবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশকে একটি শক্তিশালী দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। বাংলাদেশকে একটি ফেমাস দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। এটা তোমাদের করতে হবে। কারণ এটা তোমাদের ভবিষ্যৎ, এটা তোমাদের বাংলাদেশ। করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ।অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন, পাবনা-১ আসনের সংসদ সদস্য নাজিবুর রহমান, ময়মনসিংহ-৭ আসনের সংসদ সদস্য ডা. মো. মাহবুবুর রহমান লিটন, বরিশাল-৬ আসনের এমপি আবুল হোসেন খান প্রমুখ। বক্তব্য শেষে প্রতিযোগিতায় বিজয়ী দল, রানার্সআপ দল, সেরা খেলোয়ার, সর্বোচ্চ গোলদাতাদের হাতে পুরস্কার হিসেবে নগদ অর্থ ও পদক তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। পুরস্কৃত করা হয় রেফারিদেরও। দেশের প্রাথমিক শিক্ষার সবচেয়ে বড় এ ক্রীড়া আয়োজন গত ৬ এপ্রিল শুরু হয়। এ প্রতিযোগিতায় দেশের ৬৫ হাজার ৩৪২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ১১ লাখের বেশি ছাত্র এবং ১১ লাখের বেশি ছাত্রী অংশগ্রহণ করেছে। গ্রাম পর্যায় থেকে শুরু হয়ে ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতা শেষে চারটি দল জাতীয় পর্যায়ের ফাইনালে জায়গা করে নেয়। প্রাথমিক স্তরে ক্রীড়া চর্চা ও প্রতিভা বিকাশের লক্ষ্যে আয়োজিত এ টুর্নামেন্টে ভবিষ্যতে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৫০ লাখে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন।প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই উদ্যোগকে শিক্ষাবিদ ও ক্রীড়া সংশ্লিষ্টরা স্বাগত জানিয়েছেন। তারা বলেছেন, প্রাথমিক স্তরে এত বড় পরিসরে ক্রীড়া আয়োজন বিশ্বের বিরল। এটি শুধু খেলাধুলার প্রতি আগ্রহই বাড়ায় না, শিশুদের মধ্যে শৃঙ্খলা, নেতৃত্বগুণ ও দলগত কাজের দক্ষতাও তৈরি করে। গিনেজ বুকের রেকর্ডের সম্ভাবনা এই আয়োজনকে আরও উৎসাহিত করবে বলে মনে করছেন আয়োজকরা। অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী ক্ষুদে খেলোয়াড়দের সঙ্গে গ্রুপফটো সেশনেও অংশ নেন, যা তাদের জন্য ছিল স্মরণীয় মুহূর্ত।
২০ জুন ২০২৬

ভোট কেড়ে নেওয়া হয়েছে, সংসদে সিংহের মতো লড়াই করব – জামায়াত আমির

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দেশে যেন গৃহযুদ্ধ শুরু না হয় সেজন্য নির্বাচনের ফলাফল মেনে নিয়েছিলাম। শনিবার বিকেলে খুলনা সার্কিট হাউজ ময়দানে ১১-দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় সমাবেশে এ কথা বলেন তিনি। শফিকুর রহমান বলেন, ‘শত যন্ত্রণা বুকে নিয়ে নির্বাচনের ফলাফল মেনে নিয়েছি। দেশে যাতে গৃহযুদ্ধ শুরু না হয় সেজন্যই মেনে নিয়েছিলাম।’নির্বাচন নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে জামায়াত আমির বলেন, ‘চুরি, ডাকাতি ও ইঞ্জিনিয়ারিং করে আমাদের ভোট কেড়ে নেওয়া হয়েছে। তবে সংসদে আমরা সিংহের মতো লড়াই করে যাব। যদি ফয়সালা সংসদে না হয়, তবে খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম, সিলেটসহ সারা দেশে আগ্নেয়গিরি তৈরি হবে।’ তিনি বিএনপিকে সতর্ক করে বলেন, ‘আপনারা জাতিকে দেওয়া কথা রাখেননি। ভুল করছেন। অবিলম্বে জনগণের কাতারে আসুন। জনরায়কে সম্মান না করার পরিণতি দফায় দফায় দেখার পরেও যদি শিক্ষা না হয়, তবে জীবনেও আপনাদের শিক্ষা হবে না।’যুবসমাজকে আরেকটি বিপ্লবের প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘এই বিপ্লব কোনো দলকে ক্ষমতায় বসানোর জন্য বা কোনো গোষ্ঠী ও পরিবারকে তোষামোদ করার জন্য নয়। আধিপত্যবাদের কাছে মাথা নত করার জন্যও নয়। বরং দুনিয়ার বুকে স্বাধীন, সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে সম্মান, শক্তি ও সাহস নিয়ে মাথা তুলে দাঁড়াতে আগামীর এই বিপ্লব।’ সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘যদি দেখতে পাই আধিপত্যবাদের সামনে মাথা নত করছেন, তবে ছেড়ে কথা বলব না। সাবধান।’সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) পুশইনের প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সীমান্তে উসকানি দেওয়া হচ্ছে এবং পুশইনের নামে অন্য দেশের নাগরিকদের অবৈধভাবে বাংলাদেশে ঢোকাতে চাচ্ছে। আমরা প্রতিবেশীর ঘুম ও শান্তি কেড়ে নিতে চাই না, আবার কেউ আমাদের দিকে কালো হাত বাড়াক—সেটাও বরদাশত করব না। আমাদের দিকে কালো হাত বাড়ালে তা ভেঙে দেওয়া হবে।’জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান ড. অলি আহমদ বীর বিক্রম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরুদ্দীন পাটোয়ারী। বক্তারা বিভিন্ন সরকারি কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে জনগণের কাছে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান। সমাবেশ শেষে খুলনা শহরে এক বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়, যেখানে অংশ নেন বিভিন্ন বয়সের মানুষ। ডা. শফিকুর রহমানের এই বক্তব্য নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, জামায়াতের এই অবস্থান ভবিষ্যতে আন্দোলনের দিকে যেতে পারে। তবে জামায়াত নেতারা বলছেন, তারা শান্তিপূর্ণ উপায়েই তাদের দাবি আদায় করবেন। খুলনার এই সমাবেশকে জামায়াতের শক্তি প্রদর্শন হিসেবেও দেখা হচ্ছে। খুলনাবাসী সমাবেশকে স্বাগত জানিয়েছে। তবে কেউ কেউ এই বক্তব্যের মাধ্যমে সহিংসতার উসকানি দেওয়া হচ্ছে কিনা, সে বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও খুলনায় অতিরিক্ত সতর্কতা জারি করেছে, যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।
২০ জুন ২০২৬
 বাংলাদেশ চরম ব্যাটিং ব্যর্থতায় ০-৩ জয়ে অস্ট্রেলিয়ার হোয়াইটওয়াশ

বাংলাদেশ চরম ব্যাটিং ব্যর্থতায় ০-৩ জয়ে অস্ট্রেলিয়ার হোয়াইটওয়াশ

চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে টি-টোয়েন্টি সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে অস্ট্রেলিয়া ৭ উইকেটের বড় জয়ে সিরিজ হোয়াইটওয়াশ করেছে। টস জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশ ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে মাত্র ১০৯ রান তুলতে সক্ষম হয়। জবাবে অস্ট্রেলিয়া মাত্র ১১ ওভারেই ৩ উইকেট হারিয়ে ১১২ রান তুলে জয় নিশ্চিত করে।বাংলাদেশের ইনিংসে অধিনায়ক তাওহীদ হৃদয় ৫১ বলে ৬১ রানের দায়িত্বশীল ইনিংস খেললেও অন্য প্রান্তে উইকেট পড়ায় দল বড় সংগ্রহ পায়নি। ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম (৩), সাইফ হাসান (০) ও পারভেজ হোসেন ইমন (২) ব্যর্থ হন। নুরুল হাসান সোহান ২২ রান করলেও সেটি যথেষ্ট ছিল না। অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের মধ্যে স্পেন্সার জনসন ৪ ওভারে মাত্র ৬ রান দিয়ে ২ উইকেট নেন, যা তার অসাধারণ বোলিং পারফরম্যান্স। নাথান এলিস ২টি ও অ্যাডাম জাম্পা ২টি উইকেট নেন।জবাবে ১১০ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে অস্ট্রেলিয়া শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক খেলে। ওপেনার মিচেল মার্শ মাত্র ২৮ বলে ৭টি চার ও ৪টি ছক্কায় ৬০ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলে দলকে দ্রুত জয়ের পথে নিয়ে যান। কুপার কনোলি ১৫ ও টিম ডেভিড ৩ বলে ১২ রান করেন। বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে রিশাদ হোসেন ১টি, শোরিফুল ইসলাম ১টি ও শরিফুল ইসলাম ১টি উইকেট পান। তবে তা জয় ঠেকানোর জন্য যথেষ্ট ছিল না।এই জয়ের মধ্য দিয়ে অস্ট্রেলিয়া টি-টোয়েন্টি সিরিজ ৩-০ ব্যবধানে জিতে নেয়। সিরিজের প্রথম ম্যাচে অস্ট্রেলিয়া ৪ উইকেটে এবং দ্বিতীয় ম্যাচে ৫ উইকেটে জয় পায়। ব্যাটিং ব্যর্থতায় বারবার হিমশিম খাচ্ছে বাংলাদেশ। ওপেনারদের ব্যর্থতা ও মিডল অর্ডারের দায়িত্বহীনতা দলের জন্য বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আগামী ওয়ানডে সিরিজের আগে বাংলাদেশকে এই ব্যাটিং সমস্যার সমাধান করতে হবে। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়া তাদের আধিপত্য দেখিয়ে সিরিজ জিতে নিয়েছে। ম্যাচ শেষে অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক মিচেল মার্শ বলেন, ‘আমরা পুরো সিরিজে দারুণ খেলেছি। বোলাররা দুর্দান্ত ছিল, ব্যাটিংও ভালো করেছে। বাংলাদেশের বিপক্ষে এত সহজে জয় আশা করিনি, তবে আমাদের পরিকল্পনা মেনে খেলাটা সহজ হয়েছে।’ অন্যদিকে বাংলাদেশ অধিনায়ক তাওহীদ হৃদয় বলেন, ‘ব্যাটিংয়ে আমরা সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছি। উইকেট কিছুটা সাহায্য করলেও আমরা সেভাবে মানিয়ে নিতে পারিনি। এই সিরিজ থেকে আমরা অনেক কিছু শিখেছি, ইনশাল্লাহ আগামী সিরিজে ঘুরে দাঁড়াব।’ সিরিজের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন মিচেল মার্শ, যিনি দুর্দান্ত ব্যাটিং ও বোলিং পারফরম্যান্সের মাধ্যমে এই পুরস্কার অর্জন করেন। এদিকে সিরিজ শেষে বাংলাদেশ দলকে কড়া সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে। ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপে ধারাবাহিকতার অভাব রয়েছে। তারা বলেছেন, বাংলাদেশের ব্যাটাররা বিশেষ করে পাওয়ার প্লে ও মিডল ওভারে রান তুলতে ব্যর্থ হচ্ছে। আগামী সিরিজে এই সমস্যা সমাধান না করলে বাংলাদেশকে আরও কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হবে। ওয়ানডে সিরিজও জুনের শেষ দিকে অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে বাংলাদেশ তাদের ভুলত্রুটি শুধরে নেওয়ার সুযোগ পাবে।
৬ ঘন্টা আগে
বিশ্ব বাবা দিবস আজ: ভালোবাসা, ত্যাগ ও দায়িত্ববোধের প্রতীক বাবাদের প্রতি শ্রদ্ধা

বিশ্ব বাবা দিবস আজ: ভালোবাসা, ত্যাগ ও দায়িত্ববোধের প্রতীক বাবাদের প্রতি শ্রদ্ধা

আজ (২১ জুন) বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে বিশ্ব বাবা দিবস। প্রতি বছরের জুন মাসের তৃতীয় রোববার এই বিশেষ দিনটি উদযাপন করা হয়। সন্তানের জীবনে বাবার অবদান, ত্যাগ, দায়িত্ববোধ ও নিঃস্বার্থ ভালোবাসাকে সম্মান জানাতেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দিবসটি পালন করা হয়।যদিও বাবা দিবসের সূচনা পশ্চিমা বিশ্বে, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটি বিশ্বের প্রায় সব দেশেই জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। বাংলাদেশেও দিনটি উপলক্ষে বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পারিবারিক আয়োজনে বাবাদের প্রতি ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হচ্ছে।বাবা দিবসের ইতিহাসইতিহাস অনুযায়ী, বাবা দিবসের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন যুক্তরাষ্ট্রের সনোরা স্মার্ট ডড। ১৯০৯ সালে তিনি মা দিবস উদযাপনের কথা শুনে উপলব্ধি করেন, বাবাদের জন্যও একটি বিশেষ দিন থাকা উচিত।ডডের মা অল্প বয়সেই মারা যান। এরপর তার বাবা একাই সাত সন্তানকে লালন-পালন করেন। বাবার অসাধারণ ত্যাগ ও দায়িত্ববোধ থেকেই তিনি বাবা দিবস চালুর উদ্যোগ নেন।তার দীর্ঘ প্রচেষ্টার ফলস্বরূপ ১৯১০ সালের ১৯ জুন প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনের স্পোকেন শহরে বাবা দিবস উদযাপিত হয়। পরে ধীরে ধীরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দিবসটি ছড়িয়ে পড়ে। বর্তমানে বাংলাদেশসহ বহু দেশে জুন মাসের তৃতীয় রোববার বিশ্ব বাবা দিবস পালিত হয়।বাবার ভালোবাসা প্রকাশের ধরন ভিন্নঅনেক সময় বাবার ভালোবাসা সরাসরি প্রকাশ পায় না। কারণ, তিনি আবেগের চেয়ে দায়িত্বকেই বেশি গুরুত্ব দেন। পরিবারের নিরাপত্তা, সন্তানের শিক্ষা ও ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে নিজের ইচ্ছা-আকাঙ্ক্ষাকেও অনেক সময় বিসর্জন দেন।সন্তানের সাফল্যই একজন বাবার সবচেয়ে বড় আনন্দ। নিজের কষ্টের কথা না বলেও তিনি পরিবারের জন্য নিরলস পরিশ্রম করে যান। তাই বাবাকে অনেকেই বিশাল এক বটগাছের সঙ্গে তুলনা করেন, যার ছায়া সবসময় অনুভব করা যায়, কিন্তু যার ত্যাগের গভীরতা সহজে বোঝা যায় না।কেন গুরুত্বপূর্ণ এই দিনব্যস্ত জীবনের কারণে অনেকেই বাবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের সুযোগ হারিয়ে ফেলেন। অথচ একটি আন্তরিক শুভেচ্ছা, কিছু সময় একসঙ্গে কাটানো কিংবা একটি ফোনকলও বাবার মুখে এনে দিতে পারে অনাবিল হাসি। তাই বাবা দিবস শুধু উপহার দেওয়ার দিন নয়; এটি পারিবারিক সম্পর্ককে আরও গভীর ও আন্তরিক করার একটি উপলক্ষ।বাবা দিবসে যা করতে পারেনবাবার সঙ্গে কিছু সময় কাটান।তার পছন্দের খাবারের আয়োজন করুন।ছোট একটি উপহার বা শুভেচ্ছা জানান।পুরোনো স্মৃতি নিয়ে গল্প করুন।দূরে থাকলে ফোন বা ভিডিও কলে কথা বলুন।সবচেয়ে বড় কথা, তাকে আন্তরিকভাবে বলুন— "ভালোবাসি, বাবা।"একজন বাবা শুধু পরিবারের অভিভাবক নন; তিনি সন্তানের প্রথম শিক্ষক, প্রথম নায়ক, সবচেয়ে বড় ভরসা এবং আজীবনের নিরাপদ আশ্রয়।
১২ ঘন্টা আগে
কাতারের উপহারে এল নতুন ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’, বিতর্কে ট্রাম্প

কাতারের উপহারে এল নতুন ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’, বিতর্কে ট্রাম্প

দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে মার্কিন প্রেসিডেন্টদের বহনকারী ঐতিহাসিক বোয়িং ৭৪৭ বিমানটির বিদায়ের পরদিনই নতুন ও সাময়িক ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’ উন্মোচন করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার মেরিল্যান্ডের জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজের একটি হ্যাঙ্গারে নতুন এই ভিআইপি বিমানের জমকালো উন্মোচন করা হয়। তবে কাতার সরকারের উপহার দেওয়া ৪০০ মিলিয়ন (৪০ কোটি) ডলার মূল্যের এই বিলাসবহুল বিমানটি নিয়ে ইতিমধ্যেই মার্কিন রাজনীতিতে তীব্র বিতর্ক ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে।‘ভিসি-২৫বি ব্রিজ’ নামের এই নতুন বিমানটি গাঢ় লাল, সাদা, গাঢ় নীল ও সোনালী রঙের সংমিশ্রণে সাজানো হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, মার্কিন কোনো কর্মকর্তা একই উৎস থেকে এক পঞ্জিকাবর্ষে সর্বোচ্চ ৫০ ডলার মূল্যের বেশি কোনো উপহার বিনাশর্তে গ্রহণ করতে পারেন না। সেখানে কাতারের কাছ থেকে ৪০০ মিলিয়ন ডলারের বিমান উপহার নেওয়া এই নিয়মকে মারাত্মকভাবে লঙ্ঘন করেছে বলে দাবি করছেন বিরোধীরা। তবে সমস্ত সমালোচনা উড়িয়ে দিয়ে ট্রাম্প একে একটি দারুণ সুযোগ হিসেবে দেখছেন। তিনি বলেন, এত বড় একটা প্রস্তাব ফিরিয়ে দেওয়াটা হবে চরম বোকামি। অন্যদিকে পেন্টাগনের তৎকালীন মুখপাত্র শন পার্নেল জানিয়েছেন, প্রতিরক্ষা সচিব সমস্ত ফেডারেল নিয়ম ও বিধান মেনেই কাতারের কাছ থেকে বোয়িং ৭৪৭ বিমানটি গ্রহণ করেছেন।উপহার হিসেবে পাওয়া বিমানটিকে প্রেসিডেন্টের ব্যবহারের উপযোগী করে গড়ে তুলতে (কনভার্সন) খরচ হয়েছে আরও প্রায় ১ বিলিয়ন (১০০ কোটি) ডলার। মূলত ২০২৭ এবং ২০২৮ সালে নির্ধারিত দুটি নতুন প্রেসিডেন্সিয়াল বোয়িং বিমান আসতে দেরি হওয়ায় অন্তর্বর্তীকালীন ‘সেতু’ বা ‘ব্রিজ’ হিসেবে এই কাতারী বিমানটি ব্যবহার করা হবে। উল্লেখ্য, মূল দুটি বিমানের নির্মাণ খরচ ইতিমধ্যেই ৩.৭ বিলিয়ন থেকে বেড়ে ৫ বিলিয়ন ডলারে গিয়ে ঠেকেছে। সমালোচকদের দাবি, কাতার এর আগে এই বিমানটি বিক্রি করার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছিল। এখন এটিকে মার্কিন প্রেসিডেন্সিয়াল স্ট্যান্ডার্ডে রূপান্তর করতে যে বিপুল অর্থ ব্যয় হয়েছে, তা যুক্তরাষ্ট্রের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (আইসিবিএম) আধুনিকীকরণ কর্মসূচি ‘সেন্টিনেল’ থেকে তহবিল ডাইভার্ট বা সরিয়ে নিতে পারে, যা ইতিমধ্যেই নির্ধারিত সময়ের চেয়ে কয়েক বছর পিছিয়ে রয়েছে।উন্মোচন অনুষ্ঠানে ট্রাম্প কাতারের আমিরকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, তিনি একজন চমৎকার মানুষ। গত কয়েক মাসে তিনি অনেক কিছুর মধ্য দিয়ে গেছেন। বিমানটির প্রশংসা করে ট্রাম্প বলেন, এটিকে বিশ্বের সবচেয়ে বিলাসবহুল বিমান বলা চলে। এটি যখন তৈরি করা হয়েছিল, এমন এক উচ্চমানে তৈরি করা হয়েছিল যা হয়তো আর কখনোই দেখা যাবে না। বিদেশি নেতাদের আধুনিক বিমানের সাথে তাল মেলাতেই এই পদক্ষেপ জরুরি ছিল দাবি করে ট্রাম্প বলেন, অন্যান্য দেশ আমাদের অনেক শ্রদ্ধা করে, অথচ তাদের বিমানগুলো আমাদের চেয়ে অনেক নতুন এবং উন্নত। আমাদের পুরোনো বিমান ব্যবহার করাটা কিছুটা হাস্যকর দেখায়।প্রেসিডেন্সিয়াল বহরে থাকা বর্তমান বিমান দুটি ১৯৯০ সালে জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশের আমলে যুক্ত হয়েছিল। দীর্ঘদিন ধরে সেবা দেওয়া এই বিমানগুলো এখন বেশ পুরোনো। চলতি বছরের শুরুর দিকে সুইজারল্যান্ডের দাভোসে যাওয়ার পথে একটি বিমানের যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিলে মাঝ আকাশ থেকে ওয়াশিংটনে ফিরে আসতে বাধ্য হন ট্রাম্প। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লিভিট তখন জানিয়েছিলেন, বিমানটিতে একটি ‘সামান্য বৈদ্যুতিক সমস্যা’ দেখা দিয়েছিল। এই ঘটনার পরই বিমান বাহিনীর পক্ষ থেকে কাতারী বিমানটির আধুনিকায়নের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা হয়। অন্তর্বর্তীকালীন বিমানটি যাতে দ্রুত বুঝিয়ে দেওয়া যায়, সেজন্য পরবর্তী প্রজন্মের মূল বিমানের কিছু পরিকল্পিত পরিবর্তন এখানে বাদ দেওয়া হয়েছে। তবে বিমান বাহিনীর সেক্রেটারি ট্রয় মেঙ্ক এক বিবৃতিতে আশ্বস্ত করেছেন, কমান্ডার ইন চিফের নিরাপত্তা আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। প্রেসিডেন্সিয়াল মিশনের উচ্চমান বজায় রেখেই এটি প্রস্তুত করা হয়েছে।ট্রাম্পের নিজস্ব ব্যক্তিগত জেটের রঙের সাথে মিল রেখে তৈরি করা এই নতুন বিমানটি আগামী ৪ঠা জুলাই আমেরিকার ২৫০তম স্বাধীনতা বার্ষিকী উদযাপনে ওয়াশিংটন ডিসির আকাশে ফ্লাইওভারে নেতৃত্ব দেবে। ট্রাম্প উপস্থিত জনতাকে বলেন, এই বিমানটি আমেরিকার ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ফ্লাইওভারের নেতৃত্ব দিতে যাচ্ছে। শুক্রবার সাংবাদিকদের বিমানটির ভেতরে ঘুরে দেখার সুযোগ দেওয়া হয়। এর ভেতরের আকর্ষণীয় ডেকোরেশনের মধ্যে লিংকন মেমোরিয়াল রিফ্লেক্টিং পুলে একটি হাঁসের সাঁতার কাটার বাঁধাই করা ছবি সাংবাদিকদের নজর কেড়েছে। নতুন বিমানটি যুক্ত হওয়ার সাথে সাথেই দীর্ঘদিনের পুরোনো টেইল নম্বর ২৯০০০ (বোয়িং ৭৪৭-২০০) বিমানটিকে অবসরে পাঠানো হচ্ছে, যা শেষ পর্যন্ত একটি মিউজিয়ামে স্থান পাবে। তবে হালকা নীল ও সাদা রঙের আরেকটি সহযোগী বিমান (টেইল নম্বর ২৮০০০) নতুন ভিসি-২৫বি বিমানের সাথে নতুন মূল বিমান না আসা পর্যন্ত আকাশে উড়বে। অনেকের আশঙ্কা ছিল, ২০২৮ সালে ট্রাম্পের রাষ্ট্রপতির মেয়াদ শেষ হলে তিনি এই কাতারী জেটটি নিজের ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করতে পারেন। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন সেই সম্ভাবনা ক্ষীণ। কারণ একটি ৭৪৭ বোয়িং বিমান উড়াতে প্রতি ঘণ্টায় খরচ হয় ১ লাখ ৮০ হাজার থেকে ২ লাখ মার্কিন ডলার। যেখানে ট্রাম্পের নিজস্ব বোয়িং ৭৫৭ বিমান উড্ডয়নে প্রতি ঘণ্টায় খরচ মাত্র ১২ হাজার থেকে সাড়ে ১৬ হাজার ডলার। ফলে বিপুল ব্যয়ের কারণে এটি ট্রাম্পের ব্যক্তিগত বহরে যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।
২০ জুন ২০২৬
১৫ এপ্রিল ২০২৬, ১২:১১ এএম
আপনি কি মনে করেন বিএনপি জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর ও শব্দ বাস্তবায়ন করবে?

আপনি কি মনে করেন বিএনপি জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর ও শব্দ বাস্তবায়ন করবে?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ জন
আদ-দ্বীন ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালকের পদত্যাগ, নতুন দায়িত্বে অধ্যাপক জামালুন্নেসা

আদ-দ্বীন ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালকের পদত্যাগ, নতুন দায়িত্বে অধ্যাপক জামালুন্নেসা

পদত্যাগ করেছেন আদ-দ্বীন ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ডা. শেখ মহিউদ্দিন। তার বদলে পরিচালনা পর্ষদ এই দায়িত্ব ন্যস্ত করেছে অধ্যাপক জামালুন্নেসার ওপর। মঙ্গলবার আদ-দ্বীন ফাউন্ডেশনের পরিচালক (কোম্পানি অ্যাফেয়ার্স) তারিকুল ইসলাম মুকুলের সই করা এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নতুন দায়িত্ব পাওয়া অধ্যাপক জামালুন্নেসা বিগত ২৫ বছরের অধিক সময় ধরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অণুজীববিজ্ঞান বিভাগে শিক্ষকতা করে সম্প্রতি স্বেচ্ছায় অবসর নিয়েছেন। তিনি ১৯৮৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অণুজীববিজ্ঞান বিভাগ থেকে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অধিকার করে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন এবং পরবর্তীতে লন্ডন স্কুল অব হাইজিন অ্যান্ড ট্রপিকাল মেডিসিন থেকে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন।একাডেমিক পটভূমি ছাড়াও তিনি শিক্ষাপ্রশাসন ও গবেষণায় দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার অধিকারী। তার নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠানের পরিচালনায় নতুন মাত্রা যোগ হবে বলে আশা করছে পরিচালনা পর্ষদ।প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, সম্প্রতি আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ঘটে যাওয়া শিশু মৃত্যুজনিত অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় দেশের মানুষের সঙ্গে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষও গভীরভাবে শোকাহত। এরই মধ্যে প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।কর্তৃপক্ষ জানায়, তদারকি ব্যবস্থা জোরদার এবং প্রোটকল পুনর্মূল্যায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারের দিকনির্দেশনা অনুযায়ী অবকাঠামো এবং ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আনতে প্রতিষ্ঠানটি দৃঢ় ইচ্ছা প্রকাশ করেছে।বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, ইতিমধ্যে অবকাঠামোগত উন্নয়নের কাজ পুরোদমে শুরু হয়েছে। আলো-বাতাস চলাচল তথা অক্সিজেনের উপস্থিতি সুগম করার জন্য তিনজন ইন্ডিপেন্ডেন্ট কনসালটেন্টের নেতৃত্বে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন ও পরিমার্জনের কাজ চলমান রয়েছে। পাশাপাশি করপোরেট অফিসের ওপর অবস্থিত বেকারিটি সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।এ ব্যবস্থাগুলো হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ পরিবেশ ও চিকিৎসাসেবার মান উন্নয়নে সহায়ক হবে বলে আশা করছে কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি ভবিষ্যতে যাতে কোনো রোগীকে অবহেলার শিকার হতে না হয়, সেজন্য কঠোর মনিটরিং ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।সম্প্রতি আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নবজাতক ও শিশু মৃত্যুর ঘটনা দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করে। অভিযোগ ওঠে, হাসপাতালের অবকাঠামোগত ত্রুটি ও চিকিৎসকদের অবহেলার কারণেই এই মৃত্যু ঘটেছে। ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভের ঝড় ওঠে এবং সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানানো হয়।সরকারের পাশাপাশি স্বাস্থ্য অধিদফতরও ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখে এবং তদন্ত কমিটি গঠন করে। সেই তদন্তের প্রেক্ষিতেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নিজেদের ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আনার সিদ্ধান্ত নেয়।নতুন নির্বাহী পরিচালক হিসেবে অধ্যাপক জামালুন্নেসা প্রতিষ্ঠানের চিকিৎসাসেবার মান বাড়ানো এবং স্বচ্ছ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিতে কাজ করবেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ইতোমধ্যে তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন এবং প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন বিভাগ পরিদর্শন শুরু করেছেন।এ বিষয়ে অধ্যাপক জামালুন্নেসা বলেন, ‘আমি একটি জবাবদিহিমূলক ও স্বচ্ছ সংস্কৃতি তৈরি করতে চাই। রোগীদের নিরাপত্তা ও মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করাই হবে আমার প্রথম অগ্রাধিকার।’উল্লেখ্য, ডা. শেখ মহিউদ্দিন গত ৮ বছর ধরে আদ-দ্বীন ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তার পদত্যাগের কারণ সম্পর্কে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। তবে শিশুমৃত্যুর ঘটনার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের এই পদক্ষেপকে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
১৬ জুন ২০২৬
পেনশন ব্যবস্থায় বড় সংস্কার: চাকরিকাল কমল ৫ বছর, বাড়ল পেনশনের হার

পেনশন ব্যবস্থায় বড় সংস্কার: চাকরিকাল কমল ৫ বছর, বাড়ল পেনশনের হার

২০১৫ সালে পেনশন ব্যবস্থায় ব্যাপক সংস্কার এনেছে সরকার। সরকারি চাকরিজীবীদের অবসরকালীন আর্থিক সুরক্ষা ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এমন পদক্ষেপ। এ লক্ষ্যে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে, যেখানে পেনশনযোগ্য চাকরিকাল, পেনশনের হার, আনুতোষিক (গ্র্যাচুইটি), পারিবারিক পেনশন এবং অব্যবহৃত ছুটি নগদায়নসহ বিভিন্ন বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন ও সংশোধনী অন্তর্ভুক্ত করা হয়।নতুন প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, পেনশন পাওয়ার জন্য ন্যূনতম চাকরিকাল ১০ বছর থেকে কমিয়ে ৫ বছর করা হয়। একই সঙ্গে সর্বোচ্চ পেনশনের হার শেষ অর্জিত মূল বেতনের ৮০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৯০ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়। এতে দীর্ঘদিন চাকরি করা কর্মচারীরা অবসর শেষে তুলনামূলকভাবে বেশি আর্থিক সুবিধা পাওয়ার সুযোগ পান। পাশাপাশি ৫ থেকে ২৫ বছর বা তার বেশি চাকরিকালের জন্য ধাপে ধাপে নতুন পেনশন হার নির্ধারণ করা হয়— যেখানে ৫ বছরে ২১ শতাংশ থেকে শুরু করে ২৫ বছর বা তদূর্ধ্ব চাকরিতে ৯০ শতাংশ পর্যন্ত পেনশন পাওয়ার বিধান রাখা হয়। তবে ৫ থেকে ২৪ বছর চাকরিকাল সাধারণত নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে— যেমন চাকরিরত অবস্থায় মৃত্যু, মেডিকেল বোর্ড কর্তৃক স্থায়ী অক্ষমতা বা পদ বিলুপ্তির কারণে চাকরি হারানো।২০১৫–১৬ অর্থবছর থেকে অবসরপ্রাপ্তদের পেনশনও বাড়ানো হয়। ৬৫ বছরের কম বয়সীদের ক্ষেত্রে ৪০ শতাংশ এবং ৬৫ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সীদের ক্ষেত্রে ৫০ শতাংশ পেনশন বৃদ্ধি করা হয়। একই সঙ্গে মাসিক ন্যূনতম পেনশন ৩ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়। চাকরিকাল কমিয়ে আনার ফলে আনুতোষিক (গ্র্যাচুইটি) হিসাবেও নতুন কাঠামো নির্ধারণ করা হয়। ৫ থেকে ৯ বছর চাকরিকালের ক্ষেত্রে প্রতি ১ টাকা পেনশনের বিপরীতে ২৬৫ টাকা আনুতোষিক নির্ধারণ করা হয়। এ ছাড়া চাকরির মেয়াদ ৫ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই কোনো কর্মচারী মৃত্যুবরণ করলে বা স্থায়ীভাবে অক্ষম হয়ে পড়লে তার পরিবার বিশেষ আর্থিক সহায়তা পাওয়ার বিধান রাখা হয়। প্রতিটি পূর্ণ বছরের জন্য শেষ তিন মাসের মূল বেতনের সমপরিমাণ অর্থ এককালীন সহায়তা হিসেবে দেওয়া হবে।পারিবারিক পেনশন ব্যবস্থায়ও গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়। বিধবা স্ত্রীদের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট বয়সের পর পুনর্বিবাহ না করার অঙ্গীকারনামার শর্ত শিথিল করা হয়। একই সঙ্গে প্রয়োজনে মৃত নারী কর্মচারীর স্বামীও পারিবারিক পেনশন পাওয়ার যোগ্যতা অর্জন করবেন বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের একটি হলো ছুটি নগদায়ন সুবিধা বৃদ্ধি। আগে যেখানে সর্বোচ্চ ১২ মাসের ছুটি নগদায়ন করা যেত, সেখানে তা বাড়িয়ে ১৮ মাস করা হয়। ফলে অবসরের সময় কর্মচারীরা বেশি আর্থিক সুবিধা পাওয়ার সুযোগ পান।প্রজ্ঞাপনটি ২০১৫ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর ধরা হয় এবং ওই সময় পিআরএলে থাকা কর্মচারীরাও নতুন সুবিধার আওতায় আসেন। পেনশন সংস্কারের এই উদ্যোগকে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট মহল বলছে, নতুন পেনশন কাঠামো অবসরপ্রাপ্তদের আর্থিক নিরাপত্তা ও সামাজিক মর্যাদা বাড়াবে। অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সংস্কারকৃত পেনশন ব্যবস্থা বাস্তবায়নের ফলে সরকারি কোষাগারের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়লেও দীর্ঘমেয়াদে এটি একটি টেকসই সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সহায়তা করবে। তারা আরও বলেন, এই সংস্কারের মাধ্যমে কর্মচারীরা চাকরিজীবনে আরও উৎসাহী ও মনোনিবেশী হবেন, কারণ তাদের অবসর পরবর্তী জীবন সম্পর্কে নিশ্চয়তা বেড়েছে। নতুন পেনশন কাঠামো বাস্তবায়নে ইতিমধ্যে প্রশিক্ষণ কর্মসূচি ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
২২ এপ্রিল ২০২৬
এআই প্রযুক্তিকে গুরুত্ব দিয়ে ৫০০ কোটি টাকার স্টার্টআপ তহবিলের প্রস্তাব

এআই প্রযুক্তিকে গুরুত্ব দিয়ে ৫০০ কোটি টাকার স্টার্টআপ তহবিলের প্রস্তাব

২২ এপ্রিল ২০২৬
লাইকা ক্যামেরা ও এআই প্রযুক্তির নতুন ফ্ল্যাগশিপ শাওমি ১৭টি উন্মোচন

লাইকা ক্যামেরা ও এআই প্রযুক্তির নতুন ফ্ল্যাগশিপ শাওমি ১৭টি উন্মোচন

দেশের বাজারে নতুন ফ্ল্যাগশিপ স্মার্টফোন ‘শাওমি ১৭টি’ উন্মোচন করেছে প্রযুক্তিপণ্য নির্মাতা শাওমি। লাইকা ইমেজিং প্রযুক্তিসমৃদ্ধ ট্রিপল ক্যামেরা, শক্তিশালী ব্যাটারি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) বিভিন্ন ফিচার নিয়ে আসা হয়েছে নতুন এই ডিভাইসটি।মঙ্গলবার রাজধানীতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ‘দ্য মোমেন্ট বিয়ন্ড সাইট’ প্রতিপাদ্যে স্মার্টফোনটি উন্মোচন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রযুক্তি সাংবাদিক, টেক রিভিউয়ার, আলোকচিত্রী এবং শাওমির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।ক্যামেরা সিস্টেমে কি বিশেষত্ব আছে?নতুন এই স্মার্টফোনের অন্যতম আকর্ষণ লাইকা-পাওয়ারড ট্রিপল ক্যামেরা সিস্টেম। এতে রয়েছে—৫০ মেগাপিক্সেলের প্রধান ক্যামেরা (লাইকা সামিলুক্স অপটিক্যাল লেন্সযুক্ত)৫০ মেগাপিক্সেলের লাইকা ৫এক্স টেলিফটো ক্যামেরা (১২০ গুণ পর্যন্ত এআই আল্ট্রা জুম সমর্থিত)লাইভ মোমেন্ট ও স্টেজ মোড সুবিধা (সৃজনশীল ছবি ও ভিডিও ধারণের জন্য)ডিসপ্লে ও ব্যাটারিডিভাইসটিতে ৬ দশমিক ৫৯ ইঞ্চির ১.৫কে অ্যামোলেড ডিসপ্লে ব্যবহার করা হয়েছে। এটি ১২০ হার্টজ পর্যন্ত রিফ্রেশ রেট সমর্থন করে। ৩ হাজার ৫০০ নিটস পিক ব্রাইটনেসের কারণে উজ্জ্বল আলোতেও পর্দার কনটেন্ট স্পষ্ট দেখা যাবে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।চোখের সুরক্ষার জন্য এতে টিইউভি রাইনল্যান্ড সনদপ্রাপ্ত আই কমফোর্ট প্রযুক্তি রয়েছে।ফোনটিতে ৬ হাজার ৫০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার ঘণ্টার সিলিকন-কার্বন ব্যাটারি ব্যবহার করা হয়েছে। শাওমির দাবি, একবার পূর্ণ চার্জে এটি প্রায় দেড় দিনের বেশি সময় ব্যাকআপ দিতে সক্ষম। পাশাপাশি আইপি৬৮ রেটিংয়ের ডাস্ট ও ওয়াটার রেজিস্ট্যান্স সুবিধাও রয়েছে।পারফরম্যান্স ও এআই সুবিধাপারফরম্যান্সের জন্য স্মার্টফোনটিতে—মিডিয়াটেক ডাইমেনসিটি ৮৫০০-আল্ট্রা প্রসেসরশাওমি হাইপারওএস ব্যবহার করা হয়েছেএ ছাড়া শাওমি হাইপারএআই, গুগল জেমিনি ইন্টিগ্রেশন এবং ‘সার্কেল টু সার্চ’-এর মতো এআই সুবিধাও যুক্ত করা হয়েছে।দাম ও বিক্রির তারিখশাওমি ১৭টি স্মার্টফোনটি ১২ জিবি র‍্যাম ও ২৫৬ জিবি স্টোরেজ সংস্করণে পাওয়া যাবে। দাম রাখা হয়েছে ৭৯ হাজার ৯৯৯ টাকা।যে সব কালারে পাওয়া যাচ্ছে —ভায়োলেটওপাল হোয়াইটব্ল্যাকআগামী ১১ জুন থেকে দেশের সব অনুমোদিত শাওমি স্টোরে এটি বিক্রি শুরু হবে।শাওমি বাংলাদেশের কান্ট্রি জেনারেল ম্যানেজার জিয়াউদ্দিন চৌধুরী বলেন, দেশের বাজারে শাওমির এই ফ্ল্যাগশিপ ডিভাইস আনতে পেরে তারা আনন্দিত। ব্যবহারকারীদের জন্য বিশ্বমানের ফটোগ্রাফি প্রযুক্তি এবং প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।টেক বিশ্লেষকদের মতে, লাইকা ক্যামেরা ও শক্তিশালী ব্যাটারি এই ফোনটিকে বাজারের অন্যান্য ফ্ল্যাগশিপের কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বী করে তুলবে। তবে ৮০ হাজার টাকার ঘরে বাংলাদেশি বাজারে এটি কতটা সাড়া পায়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
১৪ জুন ২০২৬
নাগরিকত্বের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সন্তান জন্ম দেওয়া ভিসা শর্তের পরিপন্থি: মার্কিন দূতাবাস

নাগরিকত্বের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সন্তান জন্ম দেওয়া ভিসা শর্তের পরিপন্থি: মার্কিন দূতাবাস

ক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পাওয়ার উদ্দেশ্যে দেশটিতে গিয়ে সন্তান জন্ম দেওয়া এখন থেকে ভিসার শর্তের পরিপন্থি হিসেবে গণ্য হবে। এমন উদ্দেশ্যে কেউ ভিসা আবেদন করলে তা সরাসরি বাতিল করা হবে বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে মার্কিন দূতাবাস।বুধবার সকালে দূতাবাসের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বিশেষ সতর্কবার্তায় এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।কী বলছে দূতাবাসের সতর্কবার্তাদূতাবাসের পোস্টে উল্লেখ করা হয়, কোনো ব্যক্তি যদি মূলত সন্তানের মার্কিন নাগরিকত্ব নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের পরিকল্পনা করেন, তবে তা দেশটির বর্তমান ভিসা নীতিমালার পরিপন্থি।কনস্যুলার কর্মকর্তারা যদি সাক্ষাৎকার বা তদন্তের মাধ্যমে বুঝতে পারেন যে আবেদনকারীর মূল লক্ষ্য সন্তান জন্ম দিয়ে নাগরিকত্ব অর্জন, তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ট্যুরিস্ট ভিসা আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হবে।সতর্কবার্তায় আরও বলা হয়, এ ধরনের কার্যক্রম মার্কিন ভিসা নীতিমালার গুরুতর লঙ্ঘন। তাই আবেদনকারীদের শুধু প্রকৃত এবং সঠিক উদ্দেশ্য উল্লেখ করে আবেদন করার আহ্বান জানিয়েছে দূতাবাস।কঠোর সতর্কতাভিসা পাওয়ার জন্য ভুল তথ্য প্রদান বা ভিসার শর্ত ভঙ্গ করলে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের ক্ষেত্রে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা বা নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলেও সতর্কবার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে।অর্থাৎ, কেউ যদি এ উদ্দেশ্যে ভিসা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সন্তান জন্ম দেন এবং তা প্রমাণিত হয়, তাহলে পরবর্তীতে তার যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়া পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যেতে পারে।যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে জন্ম নিলে সন্তান স্বয়ংক্রিয়ভাবে সে দেশের নাগরিক হয় – এই সুযোগ কাজে লাগাতে অনেকেই আগে ট্যুরিস্ট ভিসায় গিয়ে সন্তান প্রসব করতেন। এখন থেকে সেই পথ কার্যকরীভাবে বন্ধ করে দিলো মার্কিন দূতাবাস। শুধু ভিসা বাতিল নয়, ভবিষ্যতেও যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞার হুঁশিয়ারি দেওয়ায় এই সিদ্ধান্তকে ‘চরম কঠোর’ বলছেন অভিবাসন বিশ্লেষকরা। ফলে আবেদনকারীদের এখন ভিসা আবেদনের আগে তিনবার ভাবতে হবে।
২২ এপ্রিল ২০২৬
ইংরেজ আদালতে সিংহনাদ আর আপসহীন সংগ্রাম: শায়খুল ইসলাম হুসাইন আহমদ মাদানির গল্প

ইংরেজ আদালতে সিংহনাদ আর আপসহীন সংগ্রাম: শায়খুল ইসলাম হুসাইন আহমদ মাদানির গল্প

ভূমিকা: সেই দিনটির কথাভারত স্বাধীন হওয়ার অনেক আগের কথা। এক সিংহপুরুষ দাঁড়িয়ে আছেন ইংরেজ আদালতে। নাম তাঁর সৈয়দ হুসাইন আহমদ মাদানি। মামলা চলছে তাঁর বিরুদ্ধে। আদালত চত্বরে অসংখ্য লোক। সবাইকে থ করে দিয়ে ওই ব্যক্তির কণ্ঠ থেকে বেরিয়ে এল সিংহনাদ—"ইংরেজের সৈন্য বাহিনীতে যোগ দেওয়া মুসলমানদের জন্য হারাম।" জোর দিয়ে তিনি তিনবার এই বাক্য ঘোষণা করলেন।পাশে দাঁড়িয়ে থাকা আরেকজন মাওলানা হাত জোড় করে বললেন, "মহাশয়, আপনার উক্তি উঠিয়ে নিন, আপনি কী বললেন?" কিন্তু মাদানির কথা তো ধনুক থেকে বেরোনো তীরের মতো। যা বলেছেন, তা তো হবেই। কোনো অবস্থায় নড়চড় হবে না।ইংরেজ অফিসাররা প্রচণ্ড রেগে ওঠে। প্রধান অফিসার বললেন, "হোসাইন আহমদ, তুমি কি জানো, এই ঔদ্ধত্যের শাস্তি কী হতে পারে?" মাদানি জবাব দিলেন, "তোমরাই ঠিক করে নাও।" অফিসার বললেন, "এই অপরাধের কমসে কম শাস্তি মৃত্যুদণ্ড।"মাদানি নিজের কাঁধে থাকা সাদা চাদর দেখিয়ে বললেন, "হোসাইন আহমদ মাদানি যখন দেওবন্দ থেকে রওয়ানা হয়েছে, তখন মৃত্যু পরবর্তী শেষকৃত্যের জন্য কাফন নিয়েই বেরিয়েছে। হোসাইন এসব ধমকিতে ভয় করে না। আমি যা বলেছি, আবার বলছি—তোমাদের সেনায় যোগ দেওয়া আমাদের জন্য হারাম।"ইতিহাসের সেই ঘটনা আজও আমাদের মনে করিয়ে দেয়—স্বাধীনতা এমনিতেই আসেনি। এর পেছনে আছে রক্ত, ঘাম আর অসীম সাহস। সেই বীরদের একজন হলেন হুসাইন আহমদ মাদানি। যাঁকে পরবর্তীকালে ‘শায়খুল ইসলাম’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়।প্রারম্ভিক জীবন ও বংশহুসাইন আহমদ মাদানি ১৮৭৯ সালের ৬ অক্টোবর (১২৯৬ হিজরির ১৯ শাওয়াল) ভারতের উত্তরপ্রদেশের উন্নাও জেলার বাঙ্গারমৌ মৌজায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম সৈয়দ হাবিবুল্লাহ এবং মাতার নাম নুরুন্নিসা। বংশগতভাবে পিতা ও মাতা উভয়ের দিক থেকেই তিনি ছিলেন নবী মুহাম্মদ (স.)-এর বংশধর। হোসাইন ইবনে আলী ছিলেন তাঁর ৩৩তম পূর্বপুরুষ।ছোটবেলায় মায়ের কাছে কুরআনের প্রথম পাঁচ পারা পড়েন। পরে পিতার কাছে ধর্মীয় ও সাধারণ শিক্ষা লাভ করেন। কিন্তু স্কুলের পড়াশোনা তাঁর পছন্দ ছিল না। তাই ১৮৯২ সালে তাকে দারুল উলুম দেওবন্দে ভর্তি করে দেওয়া হয়।দেওবন্দে শিক্ষাজীবনদেওবন্দে ভর্তির সময় প্রধান অধ্যাপক ছিলেন মাহমুদ হাসান দেওবন্দি। তিনিই মাদানির শিক্ষার মূল ভিত্তি গড়ে দেন। মাদানি সাড়ে ছয় বছরে ১৭টি বিষয়ের ৬৭টি কিতাব অধ্যয়ন করেন। এর মধ্যে ২৪টি কিতাব এককভাবে দেওবন্দির কাছে পড়েন।শিক্ষাজীবনে তিনি যুক্তিবিদ্যা ও দর্শনের প্রতি বেশি আগ্রহী ছিলেন। পরে হাদিস ও আরবি সাহিত্যের প্রতি অনুরাগী হন। ১৮৯৮ সালে তাঁর প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা সমাপ্ত হয়। তখন তাঁর বয়স ছিল মাত্র ১৯ বছর।মদিনা গমন ও মসজিদে নববীতে শিক্ষকতাশিক্ষা শেষে পিতামাতার সঙ্গে তিনি মদিনা চলে যান। সেখানে গিয়ে মসজিদে নববীতে বিনা বেতনে শিক্ষকতা শুরু করেন। জীবিকা নির্বাহের জন্য ছোট একটি দোকানও খোলেন। কিন্তু বেশি দিন টিকল না। পরে খেজুরের ব্যবসা ও গ্রন্থ নকলের কাজ করেন।মদিনায় তাঁর খ্যাতি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। তিনি ‘শায়খুল হারাম’ নামে পরিচিত হন। মসজিদে নববীতে তাঁর ক্লাসে উপস্থিত থাকতেন মদিনার ওলামা, কাজী, মুফতি এমনকি সরকারি কর্মকর্তারাও। তিনি মালিকি ও শাফিঈ ফিকহের কিতাবগুলোও আয়ত্ত করেন, কারণ মদিনায় এগুলোর প্রচলন ছিল।তাসাউফ ও আধ্যাত্মিকতা১৮৯৮ সালে রশিদ আহমদ গাঙ্গুহির কাছে তিনি বায়আত গ্রহণ করেন। গাঙ্গুহির নির্দেশে পরবর্তীতে ইমদাদুল্লাহ মুহাজিরে মক্কির কাছে তাসাউফের শিক্ষা নেন। মাত্র ২২ বছর বয়সে গাঙ্গুহি তাকে খেলাফত দান করেন।মাদানি চারটি তরিকার ইজাযতপ্রাপ্ত ছিলেন। তিনি চিশতিয়া, নকশবন্দিয়া, কাদেরিয়া ও সোহরাওয়ার্দিয়া তরিকায় দীক্ষা দিতেন। তাঁর কাছে লক্ষাধিক মুরিদ ছিল, যার মধ্যে ১৬৭ জনকে তিনি নিজের খলিফা মনোনীত করেছিলেন।তাসাউফ সম্পর্কে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি ছিল স্পষ্ট—তিনি শিরক ও বিদআতের ঘোর বিরোধী ছিলেন। আহমদ রেজা খান যখন আরব দেশে গিয়ে বিদআতের সমর্থনে ফতোয়া সংগ্রহ করতে চান, মাদানি তাকে মদিনা থেকে বহিষ্কারের ব্যবস্থা করেন।প্রথম কারাবরণ ও মাল্টা নির্বাসন১৯১৫ সালে মাহমুদ হাসান দেওবন্দি মদিনায় এলে মাদানি তাঁর সংস্পর্শে আসেন এবং স্বাধীনতা আন্দোলনে যোগ দেন। ১৯১৬ সালে মক্কার বিদ্রোহী গভর্নর শরিফ হুসাইনের নির্দেশে মাদানি ও দেওবন্দিকে গ্রেফতার করে মাল্টায় নির্বাসিত করা হয়। মাদানি স্বেচ্ছায় দেওবন্দির সঙ্গে কারাবরণ করেন।মাল্টায় প্রায় ৪ বছর বন্দি থাকার সময় তিনি কুরআন হেফজ সম্পন্ন করেন। এখানে তিনি তুর্কি ভাষাও আয়ত্ত করেন। জেলের ভেতর অন্ধকার প্রকোষ্ঠে থাকলেও তিনি ইসলামি বিধান নিয়ে আপস করেননি। জেল কর্তৃপক্ষকে বাধ্য করে মুসলিম কয়েদিদের জন্য আলাদা খাবারের ব্যবস্থা করতে হয়েছিল।ভারতে প্রত্যাবর্তন ও রাজনীতিতে সক্রিয় অংশগ্রহণ১৯২০ সালে মুক্তি পেয়ে তিনি ভারতে ফিরে আসেন। মদিনায় ফিরে যাওয়ার ইচ্ছা থাকলেও মাহমুদ হাসান দেওবন্দি তাকে ভারতে থাকার পরামর্শ দেন। দেওবন্দির মৃত্যুর পর তিনি ‘জানাশীনে শায়খুল হিন্দ’ উপাধি লাভ করেন।তিনি কংগ্রেস ও খেলাফত আন্দোলনে যোগ দেন। ১৯২১ সালে করাচিতে অনুষ্ঠিত খেলাফত সম্মেলনে তিনি ইংরেজ সেনাবাহিনীতে চাকরি করা হারাম ঘোষণা করেন। এই ফতোয়া মুদ্রিত হয়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করলে তাকে ২ বছরের জন্য কারাদণ্ড দেওয়া হয়।সিলেটে আগমন ও শিক্ষা বিস্তার১৯২৩ সালে মুক্তি পেয়ে তিনি সিলেটে আসেন। এখানকার ইসলামি শিক্ষাব্যবস্থার মানোন্নয়নে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। স্থানীয়দের অনুরোধে তিনি তিন বছর সিলেটে অবস্থান করেন এবং সিহাহ সিত্তাহর পাঠদান শুরু করেন।সিলেটেই তিনি তাসাউফের বেশিরভাগ কাজ সম্পাদন করেন। প্রতি রমজানে সিলেটে এসে ইতিকাফ করতেন। তাঁর উদ্যোগে সিলেট ও আসাম অঞ্চলে অসংখ্য মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠিত হয়। আজও সে অঞ্চলে তাঁর অবদান স্মরণীয় হয়ে আছে।দেওবন্দে সদরুল মুদাররিস১৯২৮ সালে তিনি দারুল উলুম দেওবন্দের প্রধান অধ্যাপক (সদরুল মুদাররিস) পদে যোগ দেন। এখানে ৩১ বছর তিনি হাদিসের অধ্যাপনা করেন। তাঁর অধ্যাপনায় দারুল উলুমের খ্যাতি বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে। আফ্রিকা ও ইউরোপ থেকেও ছাত্ররা আসতেন।তিনি পাঠ্যক্রম সংস্কার করেন। তাফসিরের কিতাব, ইতিহাস, ভূগোল, রাষ্ট্রদর্শন এবং এমনকি ইংরেজি ভাষার অধ্যয়ন চালু করেন। শরীরচর্চার জন্যও বিভাগ খোলেন। ছাত্রদের কেরাআত শিক্ষার দিকেও বিশেষ গুরুত্ব দেন।ইকবাল-মাদানি বিতর্ক১৯৩৮ সালে এক ভাষণে মাদানি বলেন, বর্তমানে জাতীয়তা নির্ধারিত হয় ভূখণ্ডের ভিত্তিতে, ধর্মের ভিত্তিতে নয়। সংবাদপত্রে এটি বিকৃতভাবে ছাপা হলে কবি মুহাম্মদ ইকবাল মাদানিকে বিদ্রুপ করে একটি কবিতা লেখেন। এ নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়। মৃত্যুর আগে ইকবাল মাদানির কাছে ক্ষমা চেয়ে পাঠিয়েছিলেন বলে জানা যায়।ভারত বিভক্তি ও মাদানির ভূমিকামাদানি দ্বিজাতি তত্ত্ব ও ভারত বিভক্তির বিরোধী ছিলেন। তিনি ‘সম্মিলিত জাতীয়তাবাদ’ ও ‘মাদানি ফর্মুলা’ উপস্থাপন করেন, যেখানে সুবাগুলোর স্বায়ত্তশাসন ও সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তার কথা বলা হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ভারত বিভক্ত হয়।বিভক্তির পর তিনি ভারতে থাকা মুসলমানদের অভিভাবকের দায়িত্ব নেন। তাদের ধৈর্য ধারণের উপদেশ দেন এবং সরকারের কাছে তাদের অধিকার আদায়ে কাজ করেন। তিনি দখল হওয়া মসজিদ, মাদ্রাসা ও সম্পত্তি উদ্ধারের চেষ্টা করেন।রচনাবলি ও সাহিত্যকর্মমাদানি একজন লেখক হিসেবেও সমাদৃত। তাঁর রচনার মধ্যে রয়েছে:নকশে হায়াত (আত্মজীবনী)মুত্তাহিদায়ে কাওমিয়াত আওর ইসলাম (সম্মিলিত জাতীয়তাবাদ ও ইসলাম)আশ শিহাবুস সাকিব (বেরলভি মতবাদের সমালোচনা)এছাড়া তাঁর অসংখ্য চিঠি ও বক্তৃতা ‘মাকতুবাতে শায়খুল ইসলাম’ নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়েছে।শেষ জীবন ও মৃত্যু১৯৫৫ সালে তিনি শেষ হজ সম্পন্ন করেন। ১৯৫৭ সালের ৫ ডিসেম্বর দারুল উলুম দেওবন্দে তিনি ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮১ বছর। ভারত সরকার রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তার জানাজা সম্পন্ন করে। প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরুও এতে অংশ নেন।তাকে মাজারে কাসেমিতে মাহমুদ হাসান দেওবন্দির পাশে সমাহিত করা হয়।সম্মাননা ও উত্তরাধিকার১৯৫৪ সালে ভারত সরকার তাকে পদ্মভূষণ পুরস্কারে ভূষিত করে। ২০১২ সালে ভারতীয় ডাক বিভাগ তার সম্মানে একটি স্মারক ডাকটিকিট প্রকাশ করে। সিলেটে তার স্মৃতি বিজড়িত স্থানে নির্মিত হয়েছে ‘মাদানি চত্বর’। দেওবন্দে তার নামে সড়ক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে।উপসংহারহুসাইন আহমদ মাদানি শুধু একজন ইসলামি পণ্ডিত ছিলেন না; তিনি ছিলেন একাধারে স্বাধীনতা সংগ্রামী, শিক্ষাবিদ, সুফি, লেখক ও অকুতোভয় নেতা। ইংরেজ আদালতে কাফন কাঁধে নিয়ে তিনি দেখিয়ে গেছেন— সত্যের পথে কথা বলার জন্য মৃত্যুও বড় বাধা নয়। আজকের প্রজন্ম যদি ইতিহাসের লুক্কায়িত পাতা থেকে তাঁদের বীরত্বের গল্প জানে, তাহলে সেই রক্ত শিরায় শিরায় বইবে আর দেশমাতৃকার প্রতি ভালোবাসা আরও গভীর হবে।
ফিরোজ আল মামুন