ঢাকা    মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬
ঢাকা    মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬
গণবার্তা
সর্বশেষ

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান: আজ থেকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে জ্বালানি লোডিং শুরু

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) দুপুর ২টা ৩০ মিনিট থেকে পাবনার ঈশ্বরদীতে নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জ্বালানি লোডিং কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। এই ঐতিহাসিক মুহূর্তকে ঘিরে পুরো প্রকল্প এলাকা ও আশপাশে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম আধুনিক প্রযুক্তির পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি বাস্তবায়নের দিকে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ পেরোতে যাচ্ছে বাংলাদেশ।উদ্বোধন অনুষ্ঠানের আয়োজনজ্বালানি লোডিং কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন উপলক্ষে প্রকল্প এলাকায় বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। রূপপুর প্রকল্পের অভ্যন্তরে বিশাল প্যান্ডেল ও মঞ্চ নির্মাণ করা হয়েছে। নানা রঙের পতাকা ও ফেস্টুন দিয়ে প্রকল্পের ফটক ও অভ্যন্তরীণ এলাকা সাজানো হয়েছে।অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। বক্তব্য রাখবেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব আনোয়ার হোসেন, রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু শক্তি সংস্থা রোসাটমের মহাপরিচালক এলেক্সি লিখাচভ ও আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রসি।উচ্ছ্বসিত এলাকাবাসীজ্বালানি লোডিংকে ঘিরে এলাকার মানুষের মধ্যে বিরাজ করছে ব্যাপক উচ্ছ্বাস ও গর্ববোধ। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, এই প্রকল্প চালু হলে অর্থনীতি ও কৃষি খাতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।সিদ্দিকুর রহমান কুল ময়েজ (জাতীয় কৃষি পদকপ্রাপ্ত কৃষক):"দীর্ঘদিনের অপেক্ষার পর আজ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জ্বালানি লোডিং শুরু হচ্ছে। এটি শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদনই নয়, আমাদের কৃষিখাতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। আমরা ঈশ্বরদীবাসী অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত।"আসাদুল ইসলাম (রূপপুর গ্রামের বাসিন্দা):"আমার দাদার আমল থেকে শুনে আসছি এখানে বিদ্যুৎ কেন্দ্র হবে। এখানকার বিদ্যুৎ দেশের চাহিদা মেটাবে। আজ জ্বালানি লোডিংয়ের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হচ্ছে। এটি আমাদের জন্য খুবই আনন্দের।"আব্দুল করিম (স্থানীয় ব্যবসায়ী):"এই প্রকল্প চালু হলে আমাদের এলাকার অর্থনীতি আরও গতিশীল হবে। নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে, ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়বে এটাই আমাদের প্রত্যাশা।"শাহরিয়ার তাসিম (ঈশ্বরদী সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী):"রূপপুর প্রকল্প আমাদের জন্য গর্বের। এটি দেশের প্রযুক্তিগত অগ্রগতির প্রতীক। আমরা চাই এটি নিরাপদ ও সফলভাবে পরিচালিত হোক।"প্রকল্পের অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাপাবনার ঈশ্বরদীর পদ্মা নদীর তীরে অবস্থিত এই বিদ্যুৎকেন্দ্রের ইউনিট-১ এর ডিজাইন ও নির্মাণ লাইসেন্স পাওয়ার পর ২০১৭ সালের ৩০ নভেম্বর মূল নির্মাণ কাজ শুরু হয়। চলতি মাসের ১৬ তারিখে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ প্রথম ইউনিটের জন্য কমিশনিং লাইসেন্স প্রদান করে।প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের আশা, জ্বালানি লোডিং সফলভাবে সম্পন্ন হলে প্রথম ইউনিট থেকে প্রাথমিকভাবে অন্তত ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে, যা দেশের বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। দীর্ঘমেয়াদে এই বিদ্যুৎকেন্দ্র বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে এক মাইলফলক হয়ে থাকবে।
৩ ঘন্টা আগে

মিরসরাইয়ে ৬০ বছর ইমামতি করে অবসরে মাওলানা কামাল উদ্দিন, এলাকাবাসীর সংবর্ধনা

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে ৬০ বছর ইমামতি করার পর অবসরে গেলেন মাওলানা খোন্দকার কামাল উদ্দিন। উপজেলার ১২ নম্বর খৈয়াছড়া ইউনিয়নের পশ্চিম পোলমোগরা গ্রামের পশ্চিম পোলমোগরা জামে মসজিদে ইমামের দায়িত্বে ছিলেন তিনি। সোমবার বাদ আছর অবসরে বিদায়ী সংবর্ধনার মাধ্যমে তাকে সম্মান জানিয়েছে এলাকার জনসাধারণ ও মুসল্লিরা। সেই সঙ্গে এক লাখ নগদ টাকা সম্মাননা ও ক্রেস্ট ইমামের হাতে তুলে দেওয়া হয়।এ সময় উপস্থিত ছিলেন মসজিদ পরিচালনা কমিটির উপদেষ্টা মন্ডলির সদস্য জিয়াউর রহমান জিয়া, এনামুল হক ভূঁইয়া, সৈয়দ আহমদ লাতু, ফখরউদ্দিন খন্দকার, সহ-সভাপতি শহিদুল ইসলাম ভূঁইয়া, আব্দুল কাইয়ুম ভূঁইয়া, সহ সেক্রেটারি মনিরুল ইসলাম আজমির, আলতাব উদ্দিন সবুজ, শোভন, নাজমুল হাসান, কোষাধ্যক্ষ সোলেমান, নুরুল ইসলাম ভুঁইয়া, মনজুরুল ইসলাম, দিদারুল আলম, সৈয়দ আহমদ, পেশ ইমাম জাকির হোসেন প্রমুখ।অনুষ্ঠানে উপস্থিত বক্তব্যে ইমাম সাহেবের দীর্ঘ নেক হায়াত কামনা, সুস্থ সুন্দর জীবন যাপনে দোয়া এবং ভুল-ত্রুটির জন্য হুজুরের কাছে ক্ষমা চাওয়া হয়। এলাকাবাসীর সঙ্গে প্রবাসীদের একটি বড় অংশ অনুষ্ঠানে আর্থিক সহযোগিতা করে। দীর্ঘ ছয় দশক মসজিদে ইমামতি করার পর অবসরে যাওয়া এই ধর্মীয় নেতাকে নিয়ে এলাকায় শোক ও কৃতজ্ঞতার মিশ্রিত আবহ তৈরি হয়েছে।
১৬ ঘন্টা আগে

লিমন-বৃষ্টি নিখোঁজের বিকেল থেকে রাত, সন্দেহভাজন খুনির গোপন কার্যক্রম

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় নিখোঁজ দুই শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির সন্ধানে নেমে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য পেয়েছে স্থানীয় পুলিশ ও গোয়েন্দা বিভাগ। দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই দুই শিক্ষার্থীর নিখোঁজ হওয়ার নেপথ্যে তাদেরই এক রুমমেট হিশাম সালেহ আবুঘরবেহর সংশ্লিষ্টতার জোরালো প্রমাণ মিলেছে। সিসিটিভি ফুটেজ, ডিজিটাল ট্র্যাকিং এবং বাসায় পরিচালিত ফরেনসিক পরীক্ষায় উঠে এসেছে এক বীভৎস হত্যাকাণ্ডের ইঙ্গিত। বিশেষ করে নিখোঁজের আগে ও পরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চ্যাটজিপিটির কাছে অভিযুক্তের করা বিভিন্ন অদ্ভুত প্রশ্ন এবং ফ্ল্যাটে পাওয়া রক্তের দাগ এই রহস্যের জট খুলতে শুরু করেছে।গত ১৭ এপ্রিল বিকেলে ইউএসএফ শিক্ষার্থী ওমর হোসাইন বিশ্ববিদ্যালয়ের পুলিশ বিভাগে গিয়ে তার দুই বন্ধু লিমন ও বৃষ্টির নিখোঁজ হওয়ার সংবাদ জানান। তিনি জানান, ১৬ এপ্রিল সকাল ১০টার পর থেকে বৃষ্টির কোনো হদিস পাওয়া যাচ্ছে না। বৃষ্টির ফোন বন্ধ পেয়ে ওমর তাদের আরেক বন্ধু লিমনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন, কিন্তু লিমনের ফোনটিও বন্ধ ছিল। এরপর তিনি লিমনের ফ্ল্যাটে গিয়ে জানতে পারেন, লিমনের রুমমেট ঋষিত রাজ মাথুরও তাকে অনেকক্ষণ ধরে দেখেননি। লিমনের শোবার ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ থাকলেও কোনো সাড়া মেলেনি। আরেক বন্ধু নিশাত তাসনিম জানান, ১৬ এপ্রিল বিকেলে বৃষ্টির সঙ্গে তার দেখা করার কথা থাকলেও তিনি আসেননি।তদন্তে নেমে পুলিশ ইউএসএফ ক্যাম্পাসের ন্যাচারাল অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স ভবনে বৃষ্টির কার্যালয় থেকে তার আইপ্যাড ও টিফিন বক্স উদ্ধার করে। ক্যাম্পাসের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ১৬ এপ্রিল দুপুরে বৃষ্টি ভবন থেকে বেরিয়ে উত্তর দিকে হেঁটে যাচ্ছেন এবং রোদের কারণে তার মাথায় একটি ছাতা ছিল। অন্যদিকে, লিমনের ফোনের সিগন্যাল ট্র্যাক করে দেখা যায়, সেদিন বিকেলে ফোনটি ক্যাম্পাসেই ছিল, তবে দিনের শেষ ভাগে সেটি কোর্টনি ক্যাম্পবেল কজওয়ের কাছাকাছি এবং পরবর্তীতে ক্লিয়ারওয়াটার বিচের উত্তরে স্যান্ড কি পার্ক এলাকায় অবস্থান করছিল।তদন্তের ভার হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের গোয়েন্দা দলের হাতে যাওয়ার পর তারা লিমনের আরেক রুমমেট হিশাম আবুঘরবেহকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। গোয়েন্দারা লক্ষ্য করেন, আবুঘরবেহর বাঁ হাতের কনিষ্ঠ আঙুলে ব্যান্ডেজ ও কাটার দাগ রয়েছে। তিনি দাবি করেন পেঁয়াজ কাটতে গিয়ে এমনটি হয়েছে। আদালতের নথিতে বলা হয়েছে, গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন যে ১৬ এপ্রিল গভীর রাতে আবুঘরবেহর হুন্দাই জেনেসিস জি৮০ গাড়িটি কোর্টনি ক্যাম্পবেল কজওয়েতে একটি লাইসেন্স প্লেট রিডারে ধরা পড়েছে, ঠিক যখন লিমনের ফোনটিও ওই ব্রিজে থাকার সংকেত দিয়েছিল। নথিতে আরও বলা হয়েছে, গোয়েন্দারা আরও কিছু রেকর্ড ও ভিডিও ফুটেজ পেয়েছেন, যেখানে দেখা যায় হুন্দাই গাড়িটি ইউএসএফ এলাকা থেকে রওনা দিয়ে কজওয়ে, ক্লিয়ারওয়াটার এবং স্যান্ড কি এলাকা ঘুরে গভীর রাতে টাম্পায় ফিরে এসেছে।প্রথমে আবুঘরবেহ নিখোঁজ শিক্ষার্থীরা তার গাড়িতে ছিলেন না বলে দাবি করেন। তবে গোয়েন্দারা যখন তাকে লিমনের ফোনের রেকর্ডের কথা জানান, তখন তিনি বয়ান পাল্টে ফেলেন এবং বলেন যে লিমন তাকে সেখানে নিয়ে যেতে বলেছিলেন এবং তিনি তাদের নামিয়ে দিয়ে চলে আসেন। আদালতের নথি অনুযায়ী, গোয়েন্দারা যখন হুন্দাই গাড়িটি পরীক্ষা করেন, তখন গাড়িটি সদ্য পরিষ্কার করা হয়েছে বলে তাদের মনে হয়। আবুঘরবেহ ও লিমনের ফ্ল্যাটের ডাস্টবিন থেকে আবর্জনা সংগ্রহ করেন তদন্তকারীরা। সেখানে তারা ট্র্যাশ ব্যাগ, লাইজল ওয়াইপস, ফিব্রিজ, ফানিয়ানস এবং আইরিশ স্প্রিং বডি ওয়াশ কেনার একটি সিভিএস রসিদ পান। রসিদে সময় লেখা ছিল ১৬ এপ্রিল রাত ১০টা ৪৭ মিনিট, অর্থাৎ আবুঘরবেহ ক্লিয়ারওয়াটার থেকে ফেরার ঠিক পরপরই এসব জিনিস কেনা হয়। সিভিএসের ভিডিওতে দেখা যায় একজন ডেলিভারি ড্রাইভার এসব জিনিস কিনেছিলেন। ওই বাসায় থাকা আরেক রুমমেট মাথুর গোয়েন্দাদের জানান, আবুঘরবেহই এসব জিনিস ডেলিভারির মাধ্যমে অর্ডার করেছিলেন।তদন্তকারীরা আবর্জনার ভেতরে এক টুকরা রুপালি রঙের ডাক্ট টেপও পান, যাতে একটি লাল দাগ ছিল যা পরীক্ষায় রক্ত বলে প্রমাণিত হয়। লিমনের শোবার ঘরে গোয়েন্দারা বৃষ্টির কয়েন পার্স, ইউএসএফ পরিচয়পত্র, জুতা এবং একটি ছাতা পান, যা ক্যাম্পাসের সিসিটিভি ভিডিওতে বৃষ্টির হাতে দেখা গিয়েছিল। মাথুর জানান, ফ্ল্যাট থেকে বেশ কিছু জিনিস গায়েব হয়ে গেছে, যার মধ্যে ছিল রান্নাঘরের মেঝেতে বিছানো ম্যাট, একটি সাদা তোয়ালে এবং লিমনের একটি হাঁড়ি ও কড়াই। ট্র্যাশ কম্প্যাক্টরের ভেতরে গোয়েন্দারা হাঁড়ি-পাতিল, লিমনের মানিব্যাগ ও চশমা এবং বৃষ্টির গোলাপি রঙের আইফোন কেস পান। এ ছাড়া তারা রক্তমাখা একটি ধূসর শার্ট, ধূসর হাফপ্যান্ট ও তিন জোড়া মোজা পান।ফরেনসিক পরীক্ষায় ফ্ল্যাটের রান্নাঘর থেকে আবুঘরবেহর শোবার ঘর পর্যন্ত ছোট ছোট রক্তের ফোঁটার দাগ পাওয়া যায়। টেকনিশিয়ানরা রান্নাঘর, বসার ঘর ও বারান্দায় বড় পরিসরে রক্তের দাগ দেখতে পান। রাসায়নিক পরীক্ষায় আবুঘরবেহর শোবার ঘরের মেঝেতে দুটি আলাদা ছাপ ধরা পড়ে, যা তদন্তকারীদের মতে ‘মোটামুটি মানুষের আকারের’। পরীক্ষায় কার্পেটেও রক্তের উপস্থিতি পাওয়া যায়। বিছানার নিচে ট্র্যাশ ব্যাগ ও ডাক্ট টেপ লুকানো ছিল। আবুঘরবেহর ফোনের রেকর্ডে দেখা যায়, ১৭ এপ্রিল মধ্যরাতের পর তিনি দ্বিতীয়বারের মতো হাওয়ার্ড ফ্রাঙ্কল্যান্ড ব্রিজ পেরিয়ে উত্তর সেন্ট পিটার্সবার্গ পর্যন্ত যান।সবচেয়ে চমকপ্রদ তথ্য বেরিয়ে আসে চ্যাটজিপিটির ব্যবহারের ইতিহাস থেকে। আদালতের নথি অনুযায়ী, লিমন ও বৃষ্টি নিখোঁজ হওয়ার তিন দিন আগে ১৩ এপ্রিল আবুঘরবেহ চ্যাটজিপিটিকে প্রথম প্রশ্ন করেন: কীভাবে একজন মানুষকে ডাস্টবিনে ফেলে দেওয়া যায়। ১৬ এপ্রিল তিনি আরও জানতে চান, ‘যদি কেউ মারা যায়, কীভাবে তার হাতের ছাপ ভেসে যায়?’ এবং ‘দুটি ফোন কীভাবে অদৃশ্য করা যায়?’ পরবর্তী অনুসন্ধানে তিনি জানতে চান ‘নিখোঁজ বিপন্ন প্রাপ্তবয়স্ক বলতে কী বোঝায়?’ এবং ‘একটি মৃতদেহ পচতে কত সময় লাগে?’ বর্তমানে এই লোমহর্ষক ঘটনার তদন্ত এবং অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। নিহত দুই শিক্ষার্থীর পরিবার ও প্রবাসী কমিউনিটি দ্রুত ন্যায়বিচার দাবি জানিয়েছেন।
১৭ ঘন্টা আগে
১ মের মধ্যে ইরান অভিযান বন্ধ করতে বাধ্য ট্রাম্প

১ মের মধ্যে ইরান অভিযান বন্ধ করতে বাধ্য ট্রাম্প

ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে নিজ দেশের আইনসভা কংগ্রেস। ১৯৭৩ সালের ‘ওয়ার পাওয়ার অ্যাক্ট’ বা যুদ্ধ ক্ষমতা আইন অনুযায়ী, কোনো সশস্ত্র সংঘাত শুরু করার ৬০ দিনের মধ্যে কংগ্রেসের স্পষ্ট অনুমোদন না পেলে প্রেসিডেন্টকে সেই অভিযান গুটিয়ে নিতে হয়। সেই হিসাবে আগামী ১ মে ট্রাম্পের জন্য নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হতে যাচ্ছে। আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ালেও তেহরানের ওপর নৌ-অবরোধ অব্যাহত রেখেছেন। তবে ১ মে’র মধ্যে যদি তিনি প্রতিনিধি সভা ও সিনেটের যৌথ অনুমোদন না পান, তবে আইনত তাকে এই সংঘাত বন্ধ করতে হবে।মার্কিন এই আইনের মূল চারটি ধাপ:সামরিক পদক্ষেপ শুরুর ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রেসিডেন্টকে কংগ্রেসকে অবহিত করতে হয়।এরপর পরবর্তী ৬০ দিন পর্যন্ত তিনি একক সিদ্ধান্তে সেনা মোতায়েন রাখতে পারেন।এই সময়সীমা আরও ৩০ দিন বাড়ানো সম্ভব, যদি প্রেসিডেন্ট লিখিতভাবে সার্টিফাই করেন যে ‘অনিবার্য সামরিক প্রয়োজনে’ অভিযান চালানো জরুরি।৯০ দিনের এই চূড়ান্ত জানালার পরও যদি কংগ্রেস যুদ্ধ ঘোষণা না করে বা অনুমোদন না দেয়, তবে প্রেসিডেন্ট সেনা প্রত্যাহার করতে বাধ্য।কলোরাডো ল স্কুলের আইনের সহযোগী অধ্যাপক মরিয়ম জমশিদি বলেন, অতীতে অনেক প্রেসিডেন্ট এই আইনকে অসাংবিধানিক বলে দাবি করে তা উপেক্ষা করেছেন এবং কংগ্রেসের পক্ষ থেকেও প্রেসিডেন্টকে বাধ্য করার মতো স্পষ্ট কোনো আইনি পথ নেই।বর্তমানে মার্কিন কংগ্রেসে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে গভীর বিভাজন থাকায় ট্রাম্পের পক্ষে এই অনুমোদন পাওয়া বেশ কঠিন হয়ে পড়েছে। গত ১৫ এপ্রিল সিনেটে ট্রাম্পের যুদ্ধ ক্ষমতা খর্ব করার একটি দ্বিপক্ষীয় প্রচেষ্টা ৫২-৪৭ ভোটে ব্যর্থ হয়। রিপাবলিকান সিনেটর জন কার্টিস স্পষ্ট জানিয়েছেন, ৬০ দিনের সময়সীমা পার হওয়ার পর কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া তিনি আর এই যুদ্ধের পক্ষে থাকবেন না। ডেমোক্র্যাটরা সরাসরি অভিযোগ তুলেছেন, এই যুদ্ধ প্রতি সপ্তহে শতকোটি ডলার ব্যয় করছে, অথচ রিপাবলিকান নেতৃত্ব এর ওপর কোনো তদারকি করছে না।যুদ্ধবিরতি চললেও রণক্ষেত্রে উত্তেজনা কমেনি। সোমবার আরব সাগরে একটি ইরানি জাহাজ আটকের ঘটনা এবং পরবর্তীতে ইরানের পাল্টা পদক্ষেপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। বোডইন কলেজের ইতিহাসের অধ্যাপক সালার মোহানদেসি মনে করেন, এই যুদ্ধ ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় ধস নামালেও তার ‘জয়ী হওয়ার ভাবমূর্তি’ বজায় রাখতে তিনি হয়তো সংঘাত চালিয়ে যাবেন। তিনি চাইলে পরাজয় স্বীকার করে সরে আসতে পারেন, কিন্তু ট্রাম্প সম্ভবত তা করবেন না। বরং ২০০১ বা ২০০২ সালের ‘অথোরাইজেশন ফর ইউজ অফ মিলিটারি ফোর্স’ বা সামরিক শক্তি ব্যবহারের অনুমোদন আইনের ফাঁকফোকর ব্যবহার করে তিনি কংগ্রেসকে এড়িয়ে যেতে পারেন। এর আগে প্রেসিডেন্ট ওবামা ও বিল ক্লিনটনও ভিন্ন ভিন্ন আইনি ব্যাখ্যা দিয়ে কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই দীর্ঘ সময় সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছিলেন। সূত্র: আল জাজিরা।
২ ঘন্টা আগে
দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান: আজ থেকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে জ্বালানি লোডিং শুরু

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান: আজ থেকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে জ্বালানি লোডিং শুরু

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) দুপুর ২টা ৩০ মিনিট থেকে পাবনার ঈশ্বরদীতে নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জ্বালানি লোডিং কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। এই ঐতিহাসিক মুহূর্তকে ঘিরে পুরো প্রকল্প এলাকা ও আশপাশে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম আধুনিক প্রযুক্তির পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি বাস্তবায়নের দিকে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ পেরোতে যাচ্ছে বাংলাদেশ।উদ্বোধন অনুষ্ঠানের আয়োজনজ্বালানি লোডিং কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন উপলক্ষে প্রকল্প এলাকায় বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। রূপপুর প্রকল্পের অভ্যন্তরে বিশাল প্যান্ডেল ও মঞ্চ নির্মাণ করা হয়েছে। নানা রঙের পতাকা ও ফেস্টুন দিয়ে প্রকল্পের ফটক ও অভ্যন্তরীণ এলাকা সাজানো হয়েছে।অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। বক্তব্য রাখবেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব আনোয়ার হোসেন, রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু শক্তি সংস্থা রোসাটমের মহাপরিচালক এলেক্সি লিখাচভ ও আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রসি।উচ্ছ্বসিত এলাকাবাসীজ্বালানি লোডিংকে ঘিরে এলাকার মানুষের মধ্যে বিরাজ করছে ব্যাপক উচ্ছ্বাস ও গর্ববোধ। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, এই প্রকল্প চালু হলে অর্থনীতি ও কৃষি খাতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।সিদ্দিকুর রহমান কুল ময়েজ (জাতীয় কৃষি পদকপ্রাপ্ত কৃষক):"দীর্ঘদিনের অপেক্ষার পর আজ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জ্বালানি লোডিং শুরু হচ্ছে। এটি শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদনই নয়, আমাদের কৃষিখাতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। আমরা ঈশ্বরদীবাসী অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত।"আসাদুল ইসলাম (রূপপুর গ্রামের বাসিন্দা):"আমার দাদার আমল থেকে শুনে আসছি এখানে বিদ্যুৎ কেন্দ্র হবে। এখানকার বিদ্যুৎ দেশের চাহিদা মেটাবে। আজ জ্বালানি লোডিংয়ের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হচ্ছে। এটি আমাদের জন্য খুবই আনন্দের।"আব্দুল করিম (স্থানীয় ব্যবসায়ী):"এই প্রকল্প চালু হলে আমাদের এলাকার অর্থনীতি আরও গতিশীল হবে। নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে, ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়বে এটাই আমাদের প্রত্যাশা।"শাহরিয়ার তাসিম (ঈশ্বরদী সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী):"রূপপুর প্রকল্প আমাদের জন্য গর্বের। এটি দেশের প্রযুক্তিগত অগ্রগতির প্রতীক। আমরা চাই এটি নিরাপদ ও সফলভাবে পরিচালিত হোক।"প্রকল্পের অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাপাবনার ঈশ্বরদীর পদ্মা নদীর তীরে অবস্থিত এই বিদ্যুৎকেন্দ্রের ইউনিট-১ এর ডিজাইন ও নির্মাণ লাইসেন্স পাওয়ার পর ২০১৭ সালের ৩০ নভেম্বর মূল নির্মাণ কাজ শুরু হয়। চলতি মাসের ১৬ তারিখে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ প্রথম ইউনিটের জন্য কমিশনিং লাইসেন্স প্রদান করে।প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের আশা, জ্বালানি লোডিং সফলভাবে সম্পন্ন হলে প্রথম ইউনিট থেকে প্রাথমিকভাবে অন্তত ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে, যা দেশের বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। দীর্ঘমেয়াদে এই বিদ্যুৎকেন্দ্র বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে এক মাইলফলক হয়ে থাকবে।
৩ ঘন্টা আগে
১ মের মধ্যে ইরান অভিযান বন্ধ করতে বাধ্য ট্রাম্প

১ মের মধ্যে ইরান অভিযান বন্ধ করতে বাধ্য ট্রাম্প

ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে নিজ দেশের আইনসভা কংগ্রেস। ১৯৭৩ সালের ‘ওয়ার পাওয়ার অ্যাক্ট’ বা যুদ্ধ ক্ষমতা আইন অনুযায়ী, কোনো সশস্ত্র সংঘাত শুরু করার ৬০ দিনের মধ্যে কংগ্রেসের স্পষ্ট অনুমোদন না পেলে প্রেসিডেন্টকে সেই অভিযান গুটিয়ে নিতে হয়। সেই হিসাবে আগামী ১ মে ট্রাম্পের জন্য নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হতে যাচ্ছে। আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ালেও তেহরানের ওপর নৌ-অবরোধ অব্যাহত রেখেছেন। তবে ১ মে’র মধ্যে যদি তিনি প্রতিনিধি সভা ও সিনেটের যৌথ অনুমোদন না পান, তবে আইনত তাকে এই সংঘাত বন্ধ করতে হবে।মার্কিন এই আইনের মূল চারটি ধাপ:সামরিক পদক্ষেপ শুরুর ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রেসিডেন্টকে কংগ্রেসকে অবহিত করতে হয়।এরপর পরবর্তী ৬০ দিন পর্যন্ত তিনি একক সিদ্ধান্তে সেনা মোতায়েন রাখতে পারেন।এই সময়সীমা আরও ৩০ দিন বাড়ানো সম্ভব, যদি প্রেসিডেন্ট লিখিতভাবে সার্টিফাই করেন যে ‘অনিবার্য সামরিক প্রয়োজনে’ অভিযান চালানো জরুরি।৯০ দিনের এই চূড়ান্ত জানালার পরও যদি কংগ্রেস যুদ্ধ ঘোষণা না করে বা অনুমোদন না দেয়, তবে প্রেসিডেন্ট সেনা প্রত্যাহার করতে বাধ্য।কলোরাডো ল স্কুলের আইনের সহযোগী অধ্যাপক মরিয়ম জমশিদি বলেন, অতীতে অনেক প্রেসিডেন্ট এই আইনকে অসাংবিধানিক বলে দাবি করে তা উপেক্ষা করেছেন এবং কংগ্রেসের পক্ষ থেকেও প্রেসিডেন্টকে বাধ্য করার মতো স্পষ্ট কোনো আইনি পথ নেই।বর্তমানে মার্কিন কংগ্রেসে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে গভীর বিভাজন থাকায় ট্রাম্পের পক্ষে এই অনুমোদন পাওয়া বেশ কঠিন হয়ে পড়েছে। গত ১৫ এপ্রিল সিনেটে ট্রাম্পের যুদ্ধ ক্ষমতা খর্ব করার একটি দ্বিপক্ষীয় প্রচেষ্টা ৫২-৪৭ ভোটে ব্যর্থ হয়। রিপাবলিকান সিনেটর জন কার্টিস স্পষ্ট জানিয়েছেন, ৬০ দিনের সময়সীমা পার হওয়ার পর কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া তিনি আর এই যুদ্ধের পক্ষে থাকবেন না। ডেমোক্র্যাটরা সরাসরি অভিযোগ তুলেছেন, এই যুদ্ধ প্রতি সপ্তহে শতকোটি ডলার ব্যয় করছে, অথচ রিপাবলিকান নেতৃত্ব এর ওপর কোনো তদারকি করছে না।যুদ্ধবিরতি চললেও রণক্ষেত্রে উত্তেজনা কমেনি। সোমবার আরব সাগরে একটি ইরানি জাহাজ আটকের ঘটনা এবং পরবর্তীতে ইরানের পাল্টা পদক্ষেপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। বোডইন কলেজের ইতিহাসের অধ্যাপক সালার মোহানদেসি মনে করেন, এই যুদ্ধ ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় ধস নামালেও তার ‘জয়ী হওয়ার ভাবমূর্তি’ বজায় রাখতে তিনি হয়তো সংঘাত চালিয়ে যাবেন। তিনি চাইলে পরাজয় স্বীকার করে সরে আসতে পারেন, কিন্তু ট্রাম্প সম্ভবত তা করবেন না। বরং ২০০১ বা ২০০২ সালের ‘অথোরাইজেশন ফর ইউজ অফ মিলিটারি ফোর্স’ বা সামরিক শক্তি ব্যবহারের অনুমোদন আইনের ফাঁকফোকর ব্যবহার করে তিনি কংগ্রেসকে এড়িয়ে যেতে পারেন। এর আগে প্রেসিডেন্ট ওবামা ও বিল ক্লিনটনও ভিন্ন ভিন্ন আইনি ব্যাখ্যা দিয়ে কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই দীর্ঘ সময় সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছিলেন। সূত্র: আল জাজিরা।
২ ঘন্টা আগে
১৫ এপ্রিল ২০২৬, ১২:১১ এএম
আপনি কি মনে করেন বিএনপি জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর ও শব্দ বাস্তবায়ন করবে?

আপনি কি মনে করেন বিএনপি জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর ও শব্দ বাস্তবায়ন করবে?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ জন
হামের উপসর্গে আরও পাঁচ শিশুর মৃত্যু, নতুন রোগী শনাক্ত ১২৯

হামের উপসর্গে আরও পাঁচ শিশুর মৃত্যু, নতুন রোগী শনাক্ত ১২৯

হাম পরিস্থিতি নিয়ে দেশে উদ্বেগ কাটছেই না। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে এই সময়ে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। বুধবার স্বাস্থ্য অধিদফতরের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত তথ্য তুলে ধরা হয়।স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১২৯ জনের দেহে হাম শনাক্ত হয়েছে। এতে ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত মোট নিশ্চিত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৯৩৪ জনে। এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে ১ হাজার ২২৯ জনের মধ্যে হামের উপসর্গ দেখা গেছে। এ নিয়ে মোট সন্দেহজনক রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৭ হাজার ১৬৪ জনে।স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৩৮ জন। আর হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৯০ জনে। একই সময়ের মধ্যে হাম সন্দেহে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১৭ হাজার ৯৯৮ জন এবং চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১৪ হাজার ৮৯২ জন।
২২ এপ্রিল ২০২৬
আইএমএফের পূর্বাভাস, চলতি বছর মাথাপিছু জিডিপিতে ভারতকে ছাড়িয়ে যেতে পারে বাংলাদেশ

আইএমএফের পূর্বাভাস, চলতি বছর মাথাপিছু জিডিপিতে ভারতকে ছাড়িয়ে যেতে পারে বাংলাদেশ

চলতি বছর বর্তমান মূল্যে মাথাপিছু মোট দেশজ উৎপাদনের হিসেবে ভারতকে ছাড়িয়ে যেতে পারে বাংলাদেশ। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের সর্বশেষ প্রকাশিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক প্রতিবেদনে এমন পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০২৬ সালে বাংলাদেশের মাথাপিছু জিডিপি বেড়ে হবে ২ হাজার ৯১১ ডলার, যেখানে ভারতের ক্ষেত্রে তা হবে ২ হাজার ৮১২ ডলার। অংকের বিচারে এই পার্থক্য সামান্য হলেও এর প্রতীকী তাৎপর্য অনেক বেশি।আয়তনের দিক থেকে ভারতের অর্থনীতি বাংলাদেশের তুলনায় অনেক বড়। ২০২৫ সালের হিসাব অনুযায়ী, ভারতের ৩ হাজার ৯১৬ বিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি বাংলাদেশের ৪৫৮ বিলিয়ন ডলারের চেয়ে প্রায় আট গুণ বড়। কিন্তু মাথাপিছু আয়ের সূচকে ছোট প্রতিবেশী দেশটি ভারতের সঙ্গে সমানে সমান পাল্লা দিচ্ছে। বিশ্বব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ কৌশিক বসু এই ঘটনাকে বিস্ময়কর বলে অভিহিত করেছেন। ভারতীয় বিশ্লেষকদের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে, এটি কি বাংলাদেশের প্রকৃত অর্থনৈতিক অগ্রগতি নাকি শুধু হিসাবের কারসাজি।অর্থনীতিবিদদের মতে, এই পার্থক্যের পেছনে মূল কারণ মুদ্রার বিনিময় হার। আইএমএফের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, বর্তমান ডলারের হিসাবে ২০১৮ সাল থেকে পরবর্তী সাত বছর মাথাপিছু আয়ের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ভারতের চেয়ে এগিয়ে ছিল। তবে ২০২৫ সালে বাংলাদেশি টাকার মানে বড় ধরনের অবমূল্যায়নের ফলে ভারত ফের এগিয়ে যায়। অবশ্য এ ধরনের ঘটনা এবারই প্রথম নয়। ১৯৮৯ থেকে ২০০২ সালের মধ্যবর্তী সময়েও মাথাপিছু জিডিপিতে বাংলাদেশ ভারতের চেয়ে এগিয়ে ছিল। এরপর টানা প্রায় ১৫ বছর ভারত চালকের আসনে থাকলেও ২০১৮ সালে দেশটি বাংলাদেশের নিচে নেমে যায়। পরবর্তী সময়ে ডলারের বিপরীতে রুপির অবমূল্যায়ন এই তুলনামূলক সমীকরণকে আবারও ভারতের পক্ষে নিয়ে আসে।সাম্প্রতিক প্রাক্কলন অনুযায়ী, ২০২৬ সালে বাংলাদেশ মাথাপিছু আয়ে প্রায় ১০০ ডলারের ব্যবধানে ভারতের চেয়ে এগিয়ে যাবে। তবে আইএমএফ আশা করছে যে, ২০২৭ সালে ভারত আবারও শীর্ষস্থান ফিরে পাবে এবং অন্তত ২০৩১ সাল পর্যন্ত সেই অবস্থান ধরে রাখবে। এই সূচকটি কেন এত অস্থির বা পরিবর্তনশীল, তা বুঝতে গাণিতিক বিষয়টি বিবেচনা করা প্রয়োজন। প্রচলিত বিনিময় হারের ভিত্তিতে প্রতিটি দেশের উৎপাদনকে মার্কিন ডলারে রূপান্তর করে বর্তমান ডলার মূল্যে মাথাপিছু জিডিপি গণনা করা হয়। যখন কোনো মুদ্রার মান কমে যায়, যেমন সাম্প্রতিক বছরগুলোতে টাকা এবং রুপি উভয়ের ক্ষেত্রেই ঘটেছে, তখন অর্থনীতির উৎপাদনশীলতা যেমনই হোক না কেন, ডলারের মাপে উৎপাদনের মূল্য কমে আসে।২০২৬ সালে এই দুই রেখার একে অপরকে অতিক্রম করা একটি বাস্তব সত্যকেই তুলে ধরে যে বিনিময় হারের গতিপ্রকৃতি এই দুই অর্থনীতির ডলার আয়কে একে অপরের খুব কাছাকাছি নিয়ে এসেছে। তবে এটি এককভাবে নিশ্চিত করে না যে কোন দেশের মানুষ বেশি ভালো আছে। দ্বিতীয় আরেকটি পরিমাপ চিত্রটিকে বেশ জটিল করে তোলে। আইএমএফ ক্রয়ক্ষমতার সমতাভিত্তিক মাথাপিছু জিডিপিও প্রকাশ করে। এখানে বিনিময় হারের প্রভাব বাদ দেওয়া হয় ও প্রতিটি দেশের মুদ্রা নিজ দেশে আসলে কী পরিমাণ পণ্য বা সেবা কিনতে পারে, তার ভিত্তিতে একটি সাধারণ আন্তর্জাতিক ডলারে রূপান্তর করা হয়। এই পদ্ধতিতে দেখা যায় ভারত সব সময়ই বাংলাদেশের চেয়ে অনেকটা এগিয়ে। ২০২৫ সালে ভারতের পিপিপি-ভিত্তিক মাথাপিছু আয় ১১ হাজার ৭৮৯ ডলার, যা বাংলাদেশের ১০ হাজার ২৭১ ডলারের চেয়ে ১৫ শতাংশ বেশি। আইএমএফ বলছে, ২০৩১ সাল নাগাদ এই ব্যবধান বেড়ে ২৪ শতাংশ হতে পারে। অর্থাৎ পিপিপি অনুযায়ী তখন ভারতের মাথাপিছু আয় হবে ১৮ হাজার ৪৮৫ ডলার এবং বাংলাদেশের হবে ১৪ হাজার ৮৫৭ ডলার।
৩ ঘন্টা আগে
ব্যাংক রেজোলিউশন বিল পাস: পুরোনো শেয়ারধারীদের মালিকানায় ফেরার সুযোগ

ব্যাংক রেজোলিউশন বিল পাস: পুরোনো শেয়ারধারীদের মালিকানায় ফেরার সুযোগ

৩ ঘন্টা আগে
টেবিল টেনিসে বিশ্বখ্যাত খেলোয়াড়দের হারালো সনির তৈরি রোবট ‘এইস’

টেবিল টেনিসে বিশ্বখ্যাত খেলোয়াড়দের হারালো সনির তৈরি রোবট ‘এইস’

হাফ ম্যারাথন এবং বক্সিংয়ের পর এবার টেবিল টেনিসের ময়দানে যাত্রা শুরু করল জাপানের বহুজাতিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান সনির তৈরি রোবট। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও রোবোটিক্সের এক অভাবনীয় সাফল্যে টোকিওতে এইস নামের একটি স্বায়ত্তশাসিত পিং-পং রোবট বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় খেলোয়াড়দের মুখোমুখি হয়েছে এবং বেশ কয়েকটি ম্যাচে তাদের পরাজিত করে রীতিমতো তাক লাগিয়ে দিয়েছে। জাপানি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান সনির এআই রিসার্চ ডিভিশন এই রোবটটি তৈরি করেছে।প্রতিবেদন অনুযায়ী, এইস বিশ্বের প্রথম এমন একটি যন্ত্র যা কোনো প্রতিযোগিতামূলক শারীরিক খেলায় বিশেষজ্ঞ পর্যায়ে পারফর্ম করতে সক্ষম। শীর্ষস্থানীয় টেবিল টেনিস খেলোয়াড়দের বিরুদ্ধে পাঁচটি ম্যাচের মধ্যে তিনটিতেই জয়লাভ করেছে সনির তৈরি এই রোবটটি। এটির প্রজেক্ট লিডার জানিয়েছেন, রোবটটির এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে তিনটি মূল শক্তি। বলের গতিবিধি নিমেষের মধ্যে বুঝতে পারা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে খেলার কৌশল নির্ধারণ এবং মানুষের মতোই নিখুঁতভাবে শট দেওয়ার সক্ষমতা।বিশেষজ্ঞদের মতে, টেবিল টেনিসের এই সাফল্য কেবল একটি খেলার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এটি ভবিষ্যতে বিভিন্ন ক্ষেত্রে আরও উন্নত এবং সংবেদনশীল রোবোটিক সিস্টেম ব্যবহারের পথ প্রশস্ত করবে। যেখানে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং শারীরিক নিখুঁত কাজের প্রয়োজন, সেখানে এই প্রযুক্তি বিপ্লব ঘটাতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মত দিয়েছেন। সূত্র: সামা টিভি।
২৬ এপ্রিল ২০২৬
ষাট গম্বুজ মসজিদ

ষাট গম্বুজ মসজিদ

বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমের জেলা বাগেরহাট। সবুজ শ্যামলিমা আর নদী-খাল বেষ্টিত এই জনপদকে বিশ্বের দরবারে পরিচিতি এনে দিয়েছে একটি অনন্য স্থাপনা – ষাট গম্বুজ মসজিদ। ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী তিনটি স্থানের একটি এই মসজিদ মুসলিম স্থাপত্যের এক অপূর্ব নিদর্শন। যেখানে ইতিহাস, আধ্যাত্মিকতা আর নির্মাণকৌশলের মিলন ঘটেছে চুন-সুরকি আর পাথরের বাঁধনে।ইতিহাসের আঁধার আলো: কে, কবে, কেন?মসজিদটির গায়ে কোনো শিলালিপি নেই। তাই এটি কে নির্মাণ করেছিলেন বা কোন সময়ে নির্মিত হয়েছিল, তা নিয়ে সঠিক তথ্য পাওয়া যায় না। তবে স্থাপত্যশৈলী ঘেঁটে ইতিহাসবিদরা প্রায় নিশ্চিত – এ মসজিদ পীর খানজাহান আলী (রহ.)-এর হাতেই গড়ে উঠেছিল। ধারণা করা হয়, তিনি পঞ্চদশ শতাব্দীর মাঝামাঝি (আনুমানিক ১৪৪২-১৪৫৯ খ্রিস্টাব্দ, অনেকের মতে ১৫০০ শতাব্দীতে) এটি নির্মাণ করেন।সুলতান নাসিরউদ্দিন মাহমুদ শাহের আমলে খান-ই-জাহান সুন্দরবনের কোল ঘেঁষে ‘খলিফাতাবাদ’ রাজ্য গড়ে তোলেন। দরবার ও নামাজের জন্য তিনি একটি বিশাল হল নির্মাণের উদ্যোগ নেন, যা কালক্রমে ‘ষাট গম্বুজ মসজিদ’ নামে পরিচিতি পায়। জনশ্রুতি আছে, মসজিদের পাথর চট্টগ্রাম থেকে আনা হয়েছিল। আবার কেউ কেউ বলেন, ভারতের উড়িষ্যার রাজমহল থেকে অলৌকিক ক্ষমতাবলে জলপথে ভাসিয়ে আনা হয়েছিল। বাস্তবে পাথরগুলো রাজমহল থেকেই আনা – এ নিয়ে ঐতিহাসিকরা একমত।নামকরণের নানা কাহিনিমসজিদটির নাম নিয়েও আছে নানা মত।ষাট গম্বুজ কেন? সংস্কৃত ‘সাত’ ও ফারসি ‘ছাদ’ মিলে ‘ছাদ গম্বুজ’ থেকে কথ্যরূপে ‘ষাট গম্বুজ’ হয়েছে বলে এক মত।আবার অন্য মতে, মসজিদের ভেতরে ছয়টি সারিতে দশটি করে মোট ৬০টি পাথরের স্তম্ভ (খাম্বা) আছে। স্তম্ভের ওপর ছাদ নির্মিত, তাই ‘ষাট খাম্বা’ থেকে ‘ষাট গম্বুজ’।গম্বুজের প্রকৃত সংখ্যা: নাম ‘ষাট গম্বুজ’ হলেও আসলে এখানে গম্বুজ ৬০টি নয়। মূল ভবনে ১১টি সারিতে ৭৭টি গম্বুজ, চার কোণার মিনারের ওপর চারটি গম্বুজ – মোট ৮১টি গম্বুজ। ৭৭টির মধ্যে ৭৪টিই অর্ধগোলাকার, শুধু মাঝের সারির সাতটি দেখতে বাংলার চৌচালা ঘরের চালের মতো।তাই অনেক গবেষক মনে করেন, মসজিদটির আসল নাম হওয়া উচিত ছিল ‘ষাট স্তম্ভ মসজিদ’ – কারণ এখানে প্রধান আকর্ষণ সেই ৬০টি পাথরের স্তম্ভ।স্থাপত্যের অনন্য বুননষাট গম্বুজ মসজিদের স্থাপত্যশৈলীতে মিশেছে মধ্য এশিয়ার তুঘলক (তুরস্ক) ও জৌনপুরী ধারা, আবার রয়েছে স্থানীয় বাংলার ছোঁয়া।আকার ও পরিমাপবাইরের দিক: উত্তর-দক্ষিণে ১৬০ ফুট, পূর্ব-পশ্চিমে ১০৪ ফুট।ভেতরের দিক: উত্তর-দক্ষিণে ১৪৩ ফুট, পূর্ব-পশ্চিমে ৮৮ ফুট।দেয়ালের পুরুত্ব: প্রায় ৮.৫ ফুট। ইটের তৈরি এসব দেয়াল অসাধারণ মজবুত।দরজা ও জানালাপূর্ব দেয়ালে ১১টি খিলানযুক্ত দরজা – মাঝেরটি সবচেয়ে বড়।উত্তর ও দক্ষিণ দেয়ালে ৭টি করে মোট ১৪টি দরজা।এই অসংখ্য দরজা আলো ও বাতাস চলাচলের জন্য তৈরি, তবু ভেতরের দিকটা কিছুটা অন্ধকারাচ্ছন্ন – যা উপাসনার গাম্ভীর্য বাড়ায়।মিনার ও কোঠাচার কোণে চারটি গোলাকার মিনার। এদের চূড়ায় ছোট গম্বুজ। ছাদের কার্নিশের চেয়ে মিনারগুলো কিছুটা উঁচু। সামনের দিকের দুটি মিনারের ভেতর প্যাঁচানো সিঁড়ি – একসময় এখান থেকে আজান দেওয়া হতো।রওশন কোঠা: দক্ষিণ-পূর্ব কোণের বুরুজ – আলো-বাতাসে ভরা।আন্ধার কোঠা: উত্তর-পূর্ব কোণের বুরুজ – তুলনামূলক অন্ধকার।ভেতরের স্তম্ভ ও গম্বুজের জঙ্গলভেতরে ৬০টি পাথরের স্তম্ভ – উত্তর থেকে দক্ষিণে ছয় সারিতে, প্রতিসারিতে দশটি করে। প্রতিটি স্তম্ভ পাথর কেটে বানানো, তবে পাঁচটি স্তম্ভ পরে ইট দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। এই স্তম্ভের ওপর ভর করেই গম্বুজগুলো দাঁড়িয়ে। এক কথায়, এটি খিলান-স্তম্ভ-গম্বুজের এক বিস্ময়কর সমন্বয়।মিহরাব ও মিম্বারপশ্চিম দেয়ালে ১০টি মিহরাব। মাঝের মিহরাবটি সবচেয়ে বড় ও কারুকার্যপূর্ণ। এর দক্ষিণে ৫টি, উত্তরে ৪টি মিহরাব। উত্তরে যেখানে একটি মিহরাব থাকার কথা, সেখানে রয়েছে একটি ছোট দরজা – অনেকে মনে করেন, এটি খানজাহান আলীর দরবার হলের প্রবেশপথ ছিল। ইমামের বসার জন্য রয়েছে পাথরের মিম্বার।রডবিহীন নির্মাণসবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো – এই মসজিদে কোনো লোহার রড ব্যবহার করা হয়নি। শুধু চুন, সুরকি, কালো পাথর ও ছোট ইট দিয়ে তৈরি এই কাঠামো প্রায় ৬০০ বছর ধরে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে।ইউনেস্কোর স্বীকৃতি ও বর্তমান অবস্থা১৯৮৩ সালে (অনেক সূত্রে ১৯৮৫) ইউনেস্কো বাগেরহাট শহরটিকেই ‘ঐতিহাসিক মসজিদ শহর’ হিসেবে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের মর্যাদা দেয়। আর এই মর্যাদার কেন্দ্রবিন্দু হলো ষাট গম্বুজ মসজিদ।বর্তমানে মসজিদটি বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর ও ইউনেস্কোর যৌথ তত্ত্বাবধানে সংরক্ষিত। এখনো এখানে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামাতের সাথে আদায় করা হয়। একসঙ্গে মসজিদের ভেতরে প্রায় দুই হাজার মুসল্লি নামাজ পড়তে পারেন।ভ্রমণ তথ্য: কখন, কীভাবে, কত টাকা?প্রবেশ ফিদেশি পর্যটক: ৩০ টাকা (অনেক সূত্রে ২০ টাকাও উল্লেখ আছে – বর্তমানে ৩০ টাকাই বেশি প্রচলিত)মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষার্থী: ১০ টাকাসার্কভুক্ত দেশের নাগরিক: ২০০ টাকাঅন্যান্য বিদেশি: ৫০০ টাকাশিশু (০-১০ বছর) ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী: বিনামূল্যেঅনলাইন টিকেট: চাইলে myGOV ওয়েবসাইট থেকে কিউআর কোডযুক্ত টিকেট কেটে নিতে পারেন।খোলা ও বন্ধের সময়গ্রীষ্মকাল (গরমকাল): সকাল ১০টা – সন্ধ্যা ৬টাশীতকাল: সকাল ৯টা – বিকেল ৫টামধ্যাহ্ন বিরতি: দুপুর ১টা – ১টা ৩০ মিনিট (উভয় মৌসুমে)শুক্রবার বিশেষ বন্ধ: জুমার নামাজের জন্য দুপুর ১২টা ৩০ মিনিট – বিকেল ৩টা ৩০ মিনিটসাপ্তাহিক ছুটি: রোববার সারাদিন বন্ধ (সোমবার দুপুর ২টা থেকে খোলে)টিপস: নামাজের সময় (ফজর, যোহর, আসর, মাগরিব, এশা) স্থানীয় মুসল্লিরা প্রবেশ করতে পারেন বিনামূল্যে। তবে পর্যটকদের নির্ধারিত সময় ও টিকিট মেনে চলতে হবে।মসজিদ চত্বরে জাদুঘরপ্রধান ফটকের ডান পাশে বাগেরহাট জাদুঘর। এখানে খানজাহান আমলের প্রাচীন মুদ্রা, পোড়ামাটির ফলক, অসংখ্য প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন – এমনকি খানজাহানের দিঘির ঐতিহ্যবাহী ‘কালা পাহাড়’ ও ‘ধলা পাহাড়’ কুমিরের মমি সংরক্ষিত আছে।জাদুঘরের সময়: গ্রীষ্মে সকাল ১০টা – সন্ধ্যা ৬টা, শীতে সকাল ৯টা – বিকেল ৫টা।মধ্যাহ্ন বিরতি: দুপুর ১টা – দেড়টা।ছুটি: রোববার সারাদিন।একই টিকিটে জাদুঘর ও মসজিদ কমপ্লেক্স ঘুরতে পারবেন।যাতায়াত: ঢাকা থেকে বাগেরহাটবাসেঢাকার সায়দাবাদ ও গাবতলী বাস টার্মিনাল থেকে নিয়মিত বাস ছাড়ে। উল্লেখযোগ্য পরিবহন: মেঘনা, বনফুল, ফাল্গুনী, আরা, পর্যটক, বলেশ্বর, হামিম, দোলা, সোহাগ, শাকুরা, হানিফ, কমফোর্ট লাইন, ঈগল।ভাড়া: ৬৫০-৮০০ টাকা (প্রতি জন)।সময়: সকাল ৬টা-১০টা এবং সন্ধ্যা ৭টা-রাত ১০টা পর্যন্ত ছাড়ে।বাগেরহাট বাসস্ট্যান্ড নেমে রিকশা বা সিএনজি নিলে ৩০-৪০ টাকায় পৌঁছে যাবেন ষাট গম্বুজ মসজিদে (সুন্দরঘোনা গ্রাম, খুলনা-বাগেরহাট মহাসড়কের উত্তর পাশে)।ট্রেনেঢাকা থেকে সুন্দরবন এক্সপ্রেস খুলগামী ট্রেনে খুলনা যান। সেখান থেকে বাস বা সিএনজিতে বাগেরহাট (সময় লাগে ১-১.৫ ঘণ্টা)।কোথায় থাকবেন?বাগেরহাটে তেমন বিলাসবহুল হোটেল নেই, তবে মাঝারি মানের থাকার জায়গা আছে।রেল রোডে মমতাজ হোটেল – সুযোগ-সুবিধা কম, কিন্তু সেবা ভালো। খরচ তুলনামূলক বেশি।খান জাহান আলীর মাজারের সামনে হোটেল অভি – মেইন হাইওয়েতে অবস্থিত।কেন্দ্রীয় বাসস্টেশন সংলগ্ন হোটেল আল আমিন এবং কর্মকার পট্টিতে হোটেল মোহনা।খুলনা খুব কাছে বলে চাইলে খুলনা গিয়েও রাত কাটাতে পারেন।খাওয়ার ব্যবস্থাবাসস্ট্যান্ড ও দরগার আশপাশে কয়েকটি মোটামুটি মানের হোটেল আছে। তবে দাম ও মান সম্পর্কে আগে জেনে নেওয়া ভালো। স্থানীয় মাছ ও ভাত খেতে পারেন – বাগেরহাটের ইলিশ বেশ有名।দক্ষিণাঞ্চলের সর্ববৃহৎ ঈদের জামাতষাট গম্বুজ মসজিদ শুধু একটি পর্যটন কেন্দ্র নয় – এটি জীবন্ত একটি উপাসনালয়। প্রতি ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহায় এখানে দেশ-বিদেশের প্রায় অর্ধলাখ মুসল্লি জড়ো হন। এটি দক্ষিণাঞ্চলের সর্ববৃহৎ ঈদের জামাত। রমজান মাসে দুই হাফেজ খতম তারাবির নামাজ পড়ান এবং মুসল্লিদের জন্য ইফতারের ব্যবস্থা থাকে।আশপাশের দর্শনীয় স্থানমসজিদ ঘুরে সময় থাকলে আরও কয়েকটি স্থান দেখতে পারেন:বিবি বেগনির মসজিদ (৫০০ মিটার পেছনে) – ফুলের কারুকার্যময়।চুনাখোলা মসজিদ (বিবি বেগনির আরও ৫০০ মিটার পেছনে)।সিঙ্গাইর মসজিদ (মহাসড়কের পাশে)।নয় গম্বুজ মসজিদখান জাহান আলীর মাজারঘোড়া দিঘি ও রণবিজয়পুর দিঘিমোংলা বন্দর (চাইলে সুন্দরবন যাতায়াতের গেটওয়ে)।ভ্রমণে যা মেনে চলবেনহালকা ও আরামদায়ক পোশাক পরুন – সুতির কাপড় উত্তম।পর্যাপ্ত পানি, বিস্কুট, মুড়ি, চিড়া ইত্যাদি সঙ্গে রাখুন।মোবাইলের চার্জার ও পাওয়ার ব্যাংক নিতে ভুলবেন না।জ্বর, সর্দি, গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ ও স্যালাইন রাখুন।মসজিদে প্রবেশের আগে জুতা বাইরে রেখে পায়ে মোজা পরে প্রবেশ করুন।নামাজরত মুসল্লিদের বিরক্ত করবেন না। নির্ধারিত পর্যটক এলাকায় ঘুরুন।টিকিট কাটার পর জাদুঘর দেখতে ভুলবেন না – এটি একই ফিতে।শেষকথাষাট গম্বুজ মসজিদ শুধু পাথর-চুন-সুরকির গাঁথনি নয়; এটি বাংলার ইতিহাস, সংস্কৃতি ও মুসলিম স্থাপত্যের এক জীবন্ত দলিল। এখানে দাঁড়ালে সময় থমকে দাঁড়ায়। শুনতে পাবেন খানজাহানের আজানের প্রতিধ্বনি, দেখতে পাবেন অর্ধগোলাকার গম্বুজের সারি মেঘ ছুঁতে চায়।আপনিও একবার চলে আসুন বাগেরহাটে। ষাট গম্বুজের ছায়ায় দাঁড়ান। ইতিহাসের স্পর্শ নিন। আর এই অসাধারণ স্থাপত্যের সাক্ষী হয়ে ফিরে আসুন – নতুন এক অভিজ্ঞতা নিয়ে।
৩ ঘন্টা আগে
ষাট গম্বুজ মসজিদ

ষাট গম্বুজ মসজিদ

বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমের জেলা বাগেরহাট। সবুজ শ্যামলিমা আর নদী-খাল বেষ্টিত এই জনপদকে বিশ্বের দরবারে পরিচিতি এনে দিয়েছে একটি অনন্য স্থাপনা – ষাট গম্বুজ মসজিদ। ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী তিনটি স্থানের একটি এই মসজিদ মুসলিম স্থাপত্যের এক অপূর্ব নিদর্শন। যেখানে ইতিহাস, আধ্যাত্মিকতা আর নির্মাণকৌশলের মিলন ঘটেছে চুন-সুরকি আর পাথরের বাঁধনে।ইতিহাসের আঁধার আলো: কে, কবে, কেন?মসজিদটির গায়ে কোনো শিলালিপি নেই। তাই এটি কে নির্মাণ করেছিলেন বা কোন সময়ে নির্মিত হয়েছিল, তা নিয়ে সঠিক তথ্য পাওয়া যায় না। তবে স্থাপত্যশৈলী ঘেঁটে ইতিহাসবিদরা প্রায় নিশ্চিত – এ মসজিদ পীর খানজাহান আলী (রহ.)-এর হাতেই গড়ে উঠেছিল। ধারণা করা হয়, তিনি পঞ্চদশ শতাব্দীর মাঝামাঝি (আনুমানিক ১৪৪২-১৪৫৯ খ্রিস্টাব্দ, অনেকের মতে ১৫০০ শতাব্দীতে) এটি নির্মাণ করেন।সুলতান নাসিরউদ্দিন মাহমুদ শাহের আমলে খান-ই-জাহান সুন্দরবনের কোল ঘেঁষে ‘খলিফাতাবাদ’ রাজ্য গড়ে তোলেন। দরবার ও নামাজের জন্য তিনি একটি বিশাল হল নির্মাণের উদ্যোগ নেন, যা কালক্রমে ‘ষাট গম্বুজ মসজিদ’ নামে পরিচিতি পায়। জনশ্রুতি আছে, মসজিদের পাথর চট্টগ্রাম থেকে আনা হয়েছিল। আবার কেউ কেউ বলেন, ভারতের উড়িষ্যার রাজমহল থেকে অলৌকিক ক্ষমতাবলে জলপথে ভাসিয়ে আনা হয়েছিল। বাস্তবে পাথরগুলো রাজমহল থেকেই আনা – এ নিয়ে ঐতিহাসিকরা একমত।নামকরণের নানা কাহিনিমসজিদটির নাম নিয়েও আছে নানা মত।ষাট গম্বুজ কেন? সংস্কৃত ‘সাত’ ও ফারসি ‘ছাদ’ মিলে ‘ছাদ গম্বুজ’ থেকে কথ্যরূপে ‘ষাট গম্বুজ’ হয়েছে বলে এক মত।আবার অন্য মতে, মসজিদের ভেতরে ছয়টি সারিতে দশটি করে মোট ৬০টি পাথরের স্তম্ভ (খাম্বা) আছে। স্তম্ভের ওপর ছাদ নির্মিত, তাই ‘ষাট খাম্বা’ থেকে ‘ষাট গম্বুজ’।গম্বুজের প্রকৃত সংখ্যা: নাম ‘ষাট গম্বুজ’ হলেও আসলে এখানে গম্বুজ ৬০টি নয়। মূল ভবনে ১১টি সারিতে ৭৭টি গম্বুজ, চার কোণার মিনারের ওপর চারটি গম্বুজ – মোট ৮১টি গম্বুজ। ৭৭টির মধ্যে ৭৪টিই অর্ধগোলাকার, শুধু মাঝের সারির সাতটি দেখতে বাংলার চৌচালা ঘরের চালের মতো।তাই অনেক গবেষক মনে করেন, মসজিদটির আসল নাম হওয়া উচিত ছিল ‘ষাট স্তম্ভ মসজিদ’ – কারণ এখানে প্রধান আকর্ষণ সেই ৬০টি পাথরের স্তম্ভ।স্থাপত্যের অনন্য বুননষাট গম্বুজ মসজিদের স্থাপত্যশৈলীতে মিশেছে মধ্য এশিয়ার তুঘলক (তুরস্ক) ও জৌনপুরী ধারা, আবার রয়েছে স্থানীয় বাংলার ছোঁয়া।আকার ও পরিমাপবাইরের দিক: উত্তর-দক্ষিণে ১৬০ ফুট, পূর্ব-পশ্চিমে ১০৪ ফুট।ভেতরের দিক: উত্তর-দক্ষিণে ১৪৩ ফুট, পূর্ব-পশ্চিমে ৮৮ ফুট।দেয়ালের পুরুত্ব: প্রায় ৮.৫ ফুট। ইটের তৈরি এসব দেয়াল অসাধারণ মজবুত।দরজা ও জানালাপূর্ব দেয়ালে ১১টি খিলানযুক্ত দরজা – মাঝেরটি সবচেয়ে বড়।উত্তর ও দক্ষিণ দেয়ালে ৭টি করে মোট ১৪টি দরজা।এই অসংখ্য দরজা আলো ও বাতাস চলাচলের জন্য তৈরি, তবু ভেতরের দিকটা কিছুটা অন্ধকারাচ্ছন্ন – যা উপাসনার গাম্ভীর্য বাড়ায়।মিনার ও কোঠাচার কোণে চারটি গোলাকার মিনার। এদের চূড়ায় ছোট গম্বুজ। ছাদের কার্নিশের চেয়ে মিনারগুলো কিছুটা উঁচু। সামনের দিকের দুটি মিনারের ভেতর প্যাঁচানো সিঁড়ি – একসময় এখান থেকে আজান দেওয়া হতো।রওশন কোঠা: দক্ষিণ-পূর্ব কোণের বুরুজ – আলো-বাতাসে ভরা।আন্ধার কোঠা: উত্তর-পূর্ব কোণের বুরুজ – তুলনামূলক অন্ধকার।ভেতরের স্তম্ভ ও গম্বুজের জঙ্গলভেতরে ৬০টি পাথরের স্তম্ভ – উত্তর থেকে দক্ষিণে ছয় সারিতে, প্রতিসারিতে দশটি করে। প্রতিটি স্তম্ভ পাথর কেটে বানানো, তবে পাঁচটি স্তম্ভ পরে ইট দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। এই স্তম্ভের ওপর ভর করেই গম্বুজগুলো দাঁড়িয়ে। এক কথায়, এটি খিলান-স্তম্ভ-গম্বুজের এক বিস্ময়কর সমন্বয়।মিহরাব ও মিম্বারপশ্চিম দেয়ালে ১০টি মিহরাব। মাঝের মিহরাবটি সবচেয়ে বড় ও কারুকার্যপূর্ণ। এর দক্ষিণে ৫টি, উত্তরে ৪টি মিহরাব। উত্তরে যেখানে একটি মিহরাব থাকার কথা, সেখানে রয়েছে একটি ছোট দরজা – অনেকে মনে করেন, এটি খানজাহান আলীর দরবার হলের প্রবেশপথ ছিল। ইমামের বসার জন্য রয়েছে পাথরের মিম্বার।রডবিহীন নির্মাণসবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো – এই মসজিদে কোনো লোহার রড ব্যবহার করা হয়নি। শুধু চুন, সুরকি, কালো পাথর ও ছোট ইট দিয়ে তৈরি এই কাঠামো প্রায় ৬০০ বছর ধরে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে।ইউনেস্কোর স্বীকৃতি ও বর্তমান অবস্থা১৯৮৩ সালে (অনেক সূত্রে ১৯৮৫) ইউনেস্কো বাগেরহাট শহরটিকেই ‘ঐতিহাসিক মসজিদ শহর’ হিসেবে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের মর্যাদা দেয়। আর এই মর্যাদার কেন্দ্রবিন্দু হলো ষাট গম্বুজ মসজিদ।বর্তমানে মসজিদটি বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর ও ইউনেস্কোর যৌথ তত্ত্বাবধানে সংরক্ষিত। এখনো এখানে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামাতের সাথে আদায় করা হয়। একসঙ্গে মসজিদের ভেতরে প্রায় দুই হাজার মুসল্লি নামাজ পড়তে পারেন।ভ্রমণ তথ্য: কখন, কীভাবে, কত টাকা?প্রবেশ ফিদেশি পর্যটক: ৩০ টাকা (অনেক সূত্রে ২০ টাকাও উল্লেখ আছে – বর্তমানে ৩০ টাকাই বেশি প্রচলিত)মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষার্থী: ১০ টাকাসার্কভুক্ত দেশের নাগরিক: ২০০ টাকাঅন্যান্য বিদেশি: ৫০০ টাকাশিশু (০-১০ বছর) ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী: বিনামূল্যেঅনলাইন টিকেট: চাইলে myGOV ওয়েবসাইট থেকে কিউআর কোডযুক্ত টিকেট কেটে নিতে পারেন।খোলা ও বন্ধের সময়গ্রীষ্মকাল (গরমকাল): সকাল ১০টা – সন্ধ্যা ৬টাশীতকাল: সকাল ৯টা – বিকেল ৫টামধ্যাহ্ন বিরতি: দুপুর ১টা – ১টা ৩০ মিনিট (উভয় মৌসুমে)শুক্রবার বিশেষ বন্ধ: জুমার নামাজের জন্য দুপুর ১২টা ৩০ মিনিট – বিকেল ৩টা ৩০ মিনিটসাপ্তাহিক ছুটি: রোববার সারাদিন বন্ধ (সোমবার দুপুর ২টা থেকে খোলে)টিপস: নামাজের সময় (ফজর, যোহর, আসর, মাগরিব, এশা) স্থানীয় মুসল্লিরা প্রবেশ করতে পারেন বিনামূল্যে। তবে পর্যটকদের নির্ধারিত সময় ও টিকিট মেনে চলতে হবে।মসজিদ চত্বরে জাদুঘরপ্রধান ফটকের ডান পাশে বাগেরহাট জাদুঘর। এখানে খানজাহান আমলের প্রাচীন মুদ্রা, পোড়ামাটির ফলক, অসংখ্য প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন – এমনকি খানজাহানের দিঘির ঐতিহ্যবাহী ‘কালা পাহাড়’ ও ‘ধলা পাহাড়’ কুমিরের মমি সংরক্ষিত আছে।জাদুঘরের সময়: গ্রীষ্মে সকাল ১০টা – সন্ধ্যা ৬টা, শীতে সকাল ৯টা – বিকেল ৫টা।মধ্যাহ্ন বিরতি: দুপুর ১টা – দেড়টা।ছুটি: রোববার সারাদিন।একই টিকিটে জাদুঘর ও মসজিদ কমপ্লেক্স ঘুরতে পারবেন।যাতায়াত: ঢাকা থেকে বাগেরহাটবাসেঢাকার সায়দাবাদ ও গাবতলী বাস টার্মিনাল থেকে নিয়মিত বাস ছাড়ে। উল্লেখযোগ্য পরিবহন: মেঘনা, বনফুল, ফাল্গুনী, আরা, পর্যটক, বলেশ্বর, হামিম, দোলা, সোহাগ, শাকুরা, হানিফ, কমফোর্ট লাইন, ঈগল।ভাড়া: ৬৫০-৮০০ টাকা (প্রতি জন)।সময়: সকাল ৬টা-১০টা এবং সন্ধ্যা ৭টা-রাত ১০টা পর্যন্ত ছাড়ে।বাগেরহাট বাসস্ট্যান্ড নেমে রিকশা বা সিএনজি নিলে ৩০-৪০ টাকায় পৌঁছে যাবেন ষাট গম্বুজ মসজিদে (সুন্দরঘোনা গ্রাম, খুলনা-বাগেরহাট মহাসড়কের উত্তর পাশে)।ট্রেনেঢাকা থেকে সুন্দরবন এক্সপ্রেস খুলগামী ট্রেনে খুলনা যান। সেখান থেকে বাস বা সিএনজিতে বাগেরহাট (সময় লাগে ১-১.৫ ঘণ্টা)।কোথায় থাকবেন?বাগেরহাটে তেমন বিলাসবহুল হোটেল নেই, তবে মাঝারি মানের থাকার জায়গা আছে।রেল রোডে মমতাজ হোটেল – সুযোগ-সুবিধা কম, কিন্তু সেবা ভালো। খরচ তুলনামূলক বেশি।খান জাহান আলীর মাজারের সামনে হোটেল অভি – মেইন হাইওয়েতে অবস্থিত।কেন্দ্রীয় বাসস্টেশন সংলগ্ন হোটেল আল আমিন এবং কর্মকার পট্টিতে হোটেল মোহনা।খুলনা খুব কাছে বলে চাইলে খুলনা গিয়েও রাত কাটাতে পারেন।খাওয়ার ব্যবস্থাবাসস্ট্যান্ড ও দরগার আশপাশে কয়েকটি মোটামুটি মানের হোটেল আছে। তবে দাম ও মান সম্পর্কে আগে জেনে নেওয়া ভালো। স্থানীয় মাছ ও ভাত খেতে পারেন – বাগেরহাটের ইলিশ বেশ有名।দক্ষিণাঞ্চলের সর্ববৃহৎ ঈদের জামাতষাট গম্বুজ মসজিদ শুধু একটি পর্যটন কেন্দ্র নয় – এটি জীবন্ত একটি উপাসনালয়। প্রতি ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহায় এখানে দেশ-বিদেশের প্রায় অর্ধলাখ মুসল্লি জড়ো হন। এটি দক্ষিণাঞ্চলের সর্ববৃহৎ ঈদের জামাত। রমজান মাসে দুই হাফেজ খতম তারাবির নামাজ পড়ান এবং মুসল্লিদের জন্য ইফতারের ব্যবস্থা থাকে।আশপাশের দর্শনীয় স্থানমসজিদ ঘুরে সময় থাকলে আরও কয়েকটি স্থান দেখতে পারেন:বিবি বেগনির মসজিদ (৫০০ মিটার পেছনে) – ফুলের কারুকার্যময়।চুনাখোলা মসজিদ (বিবি বেগনির আরও ৫০০ মিটার পেছনে)।সিঙ্গাইর মসজিদ (মহাসড়কের পাশে)।নয় গম্বুজ মসজিদখান জাহান আলীর মাজারঘোড়া দিঘি ও রণবিজয়পুর দিঘিমোংলা বন্দর (চাইলে সুন্দরবন যাতায়াতের গেটওয়ে)।ভ্রমণে যা মেনে চলবেনহালকা ও আরামদায়ক পোশাক পরুন – সুতির কাপড় উত্তম।পর্যাপ্ত পানি, বিস্কুট, মুড়ি, চিড়া ইত্যাদি সঙ্গে রাখুন।মোবাইলের চার্জার ও পাওয়ার ব্যাংক নিতে ভুলবেন না।জ্বর, সর্দি, গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ ও স্যালাইন রাখুন।মসজিদে প্রবেশের আগে জুতা বাইরে রেখে পায়ে মোজা পরে প্রবেশ করুন।নামাজরত মুসল্লিদের বিরক্ত করবেন না। নির্ধারিত পর্যটক এলাকায় ঘুরুন।টিকিট কাটার পর জাদুঘর দেখতে ভুলবেন না – এটি একই ফিতে।শেষকথাষাট গম্বুজ মসজিদ শুধু পাথর-চুন-সুরকির গাঁথনি নয়; এটি বাংলার ইতিহাস, সংস্কৃতি ও মুসলিম স্থাপত্যের এক জীবন্ত দলিল। এখানে দাঁড়ালে সময় থমকে দাঁড়ায়। শুনতে পাবেন খানজাহানের আজানের প্রতিধ্বনি, দেখতে পাবেন অর্ধগোলাকার গম্বুজের সারি মেঘ ছুঁতে চায়।আপনিও একবার চলে আসুন বাগেরহাটে। ষাট গম্বুজের ছায়ায় দাঁড়ান। ইতিহাসের স্পর্শ নিন। আর এই অসাধারণ স্থাপত্যের সাক্ষী হয়ে ফিরে আসুন – নতুন এক অভিজ্ঞতা নিয়ে।
গণবার্তা ফিচার