ঢাকা    শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬
ঢাকা    শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬
গণবার্তা
সর্বশেষ

ভোটকক্ষে ভোটার সংখ্যা বাড়ালো ইসি, বাড়বে গোপন কক্ষ

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র ও ভোটকক্ষ নির্ধারণের ক্ষেত্রে নতুন নীতিমালা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সংশোধিত নীতিমালা অনুযায়ী, একটি ভোটকক্ষে আগের তুলনায় বেশি সংখ্যক ভোটারকে ভোট দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে ভোটগ্রহণের চাপ কমাতে প্রয়োজন অনুযায়ী প্রতিটি ভোটকক্ষে একাধিক গোপন কক্ষ বা মার্কিং প্লেস রাখার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সহকারী সচিব (নির্বাচন সহায়তা-৩) মো. রশিদ মিয়ার সই করা এক গেজেট বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, সাধারণ নির্বাচনে গড়ে প্রতি ২ হাজার ভোটারের জন্য একটি ভোটকেন্দ্র স্থাপন করা হবে। আগে একটি ভোটকক্ষে সাধারণত ৪০০ জন পুরুষ ভোটার এবং ৩০০ থেকে ৩৫০ জন নারী ভোটারের জন্য ব্যবস্থা রাখা হতো। এখন সেই সংখ্যা বাড়িয়ে প্রতি ভোটকক্ষে ৬০০ জন পুরুষ ভোটার এবং ৫০০ জন নারী ভোটারের জন্য একটি করে কক্ষ নির্ধারণ করা হয়েছে।উপনির্বাচনের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম কার্যকর হবে। আগে উপনির্বাচনে কোনো একটি পদের জন্য প্রতি ৫০০ জন পুরুষ এবং ৪০০ জন নারী ভোটারের জন্য একটি ভোটকক্ষ বরাদ্দ করা হতো। সংশোধিত নীতিমালায় সাধারণ নির্বাচন ও উপনির্বাচন—উভয় ক্ষেত্রেই প্রতি ৬০০ জন পুরুষ এবং ৫০০ জন নারী ভোটারের জন্য একটি করে ভোটকক্ষ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।ইসি জানিয়েছে, ভোটকক্ষে ভোটারের চাপ কমানো এবং ভোটগ্রহণের গতি বাড়ানোর জন্য প্রয়োজন অনুযায়ী একাধিক গোপন কক্ষ বা মার্কিং প্লেস স্থাপন করা যাবে। নীতিমালায় আরও বলা হয়েছে, সাধারণ ওয়ার্ডের সীমানার মধ্যেই একটি ভোটকেন্দ্র স্থাপন করতে হবে। তবে স্থানীয় পরিস্থিতি ও প্রয়োজন বিবেচনায় একই ওয়ার্ডে একাধিক ভোটকেন্দ্র স্থাপনের সুযোগ রাখা হয়েছে।নির্বাচন কমিশন বলেছে, এই সিদ্ধান্ত ভোটারদের ভোটদানে সহজতা বাড়াবে এবং নির্বাচনী ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর করবে। নতুন নীতিমালা দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানিয়েছে তারা।
১ ঘন্টা আগে

ঢাকা-রিয়াদ সরাসরি ফ্লাইটের টিকিট বিক্রি শুরু করেছে রিয়াদ এয়ার

আগামী ৭ আগস্ট ঢাকা-রিয়াদ সরাসরি দৈনিক ফ্লাইট চালুর আগে আজ থেকে এই রুটের টিকিট বিক্রি শুরু করেছে রিয়াদ এয়ার। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে আকাশপথে যোগাযোগ আরও সম্প্রসারিত হবে।এয়ারলাইন্সের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নতুন এই রুটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মধ্যে বোয়িং ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার উড়োজাহাজে দৈনিক ফ্লাইট পরিচালিত হবে। এই দৈনিক ফ্লাইট বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে ভ্রমণ, বাণিজ্য ও পর্যটন সংযোগ আরও জোরদার করবে। একই সঙ্গে রিয়াদ এয়ারের সম্প্রসারিত নেটওয়ার্ক ও কোডশেয়ার অংশীদারিত্বের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের বিভিন্ন গন্তব্যে যাত্রীদের জন্য সুবিধাজনক সংযোগ নিশ্চিত করবে।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নতুন এই রুট দক্ষিণ এশিয়ার দ্রুত বিকাশমান বিমান পরিবহন বাজারগুলোর একটির প্রতি রিয়াদ এয়ারের অঙ্গীকারের প্রতিফলন এবং বাংলাদেশ-সৌদি আরবের দীর্ঘদিনের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করবে।ফ্লাইট সূচি অনুযায়ী, আরএক্স০৭৬৩ ফ্লাইট রিয়াদ থেকে স্থানীয় সময় রাত ৯টা ২০ মিনিটে ছেড়ে পরদিন সকাল ৬টা ১০ মিনিটে ঢাকায় পৌঁছাবে। ফিরতি আরএক্স০৭৬৪ ফ্লাইট স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ৪০ মিনিটে ঢাকা থেকে ছেড়ে সকাল ১০টা ৫৫ মিনিটে রিয়াদে অবতরণ করবে।রিয়াদ এয়ার জানিয়েছে, নতুন এই সেবা ব্যবসা, অবকাশ যাপন ও শিক্ষাসংক্রান্ত ভ্রমণের নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গন্তব্যে যাতায়াতকারী বাংলাদেশি যাত্রীদের জন্য রিয়াদকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট হাব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে।এয়ারলাইন্সটি আরও জানায়, বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান আন্তর্জাতিক ভ্রমণ বাজার এবং সৌদি আরবের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিবেচনায় এই রুট তাদের বৈশ্বিক নেটওয়ার্কে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন।যাত্রীরা রিয়াদ এয়ারের ওয়েবসাইট, মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন এবং অনুমোদিত ট্রাভেল এজেন্টদের মাধ্যমে টিকিট কিনতে পারবেন। ফ্লাইটগুলো রিয়াদ এয়ারের বোয়িং ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনারে পরিচালিত হবে। উড়োজাহাজে বিজনেস এলিট, বিজনেস, প্রিমিয়াম ইকোনমি ও ইকোনমি—এই চারটি কেবিন শ্রেণি থাকবে। এতে সর্বাধুনিক ইন-ফ্লাইট বিনোদন ব্যবস্থা, ওয়্যারলেস সংযোগ এবং উন্নত যাত্রীসেবা সুবিধা থাকবে।সৌদি আরবের নতুন জাতীয় এয়ারলাইন্স রিয়াদ এয়ার দেশটির বৈশ্বিক সংযোগ বৃদ্ধি, পর্যটন খাতের বিকাশ এবং অর্থনীতির বহুমুখীকরণের লক্ষ্যে গৃহীত বৃহত্তর বিমান পরিবহন কৌশলের অংশ হিসেবে আন্তর্জাতিক রুট নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ করছে।
৬ ঘন্টা আগে

অলস রাষ্ট্রীয় সম্পদকে উৎপাদনমুখী করতে সরকারের উদ্যোগ

রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন অলস শিল্পসম্পদকে উৎপাদনমুখী ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী সম্পদে রূপান্তরের লক্ষ্য নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে বন্ধ শিল্পকারখানায় বেসরকারি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সচিবালয়ে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশ জুট মিলস লিমিটেডের নরসিংদী ইউনিটের অতিরিক্ত ১৪ দশমিক ৮০ একর জমি জুট অ্যালায়েন্স লিমিটেডের কাছে লিজ প্রদানসংক্রান্ত চুক্তি সই অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।খন্দকার মুক্তাদির বলেন, রাষ্ট্রীয় সম্পদ দীর্ঘদিন অলস পড়ে থাকলে তা সম্পদ নয়, বরং দায়ে পরিণত হয়। তাই বন্ধ মিলগুলোকে আধুনিক প্রযুক্তি ও নতুন বিনিয়োগের মাধ্যমে পুনরুজ্জীবিত করে উৎপাদন, কর্মসংস্থান এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করাই বর্তমান সরকারের অগ্রাধিকার।তিনি জানান, নতুন এই বিনিয়োগের মাধ্যমে প্রায় ১ হাজার ৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগ হবে এবং বছরে প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকার উৎপাদন সম্ভব হবে। পাশাপাশি নতুন করে প্রায় ৩ হাজার জনের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। সয়াবিন বীজ প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে ভোজ্যতেল উৎপাদন দেশের খাদ্যনিরাপত্তা শক্তিশালী করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।মন্ত্রী বলেন, সরকার ব্যবসা পরিচালনার পরিবর্তে দক্ষ বেসরকারি খাতকে বিনিয়োগে উৎসাহিত করছে। দীর্ঘমেয়াদি লিজ, রাজস্ব ভাগাভাগি কিংবা যৌথ মালিকানাভিত্তিক বিভিন্ন পিপিপি মডেলে রাষ্ট্রীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠান পুনরুজ্জীবনের উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী দুই বছরের মধ্যে অধিকাংশ বন্ধ শিল্পপ্রতিষ্ঠানে উৎপাদন কার্যক্রম দৃশ্যমান হবে।রপ্তানি আয় প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতি, ইউরোপীয় বাজারে চাহিদা হ্রাস এবং নতুন শুল্কনীতির প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে ভোক্তা ব্যয় কমেছে। তবে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত ধীরে ধীরে উচ্চমূল্যের ম্যানমেড ফাইবার ও ভ্যালু-অ্যাডেড পণ্যে রূপান্তরিত হচ্ছে। এ রূপান্তর সম্পন্ন হলে একই পরিমাণ পণ্য রপ্তানি করেও অধিক বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম জানান, নরসিংদীর বাংলাদেশ জুট মিলস লিমিটেডের ৭৭.০২ একর জমির মধ্যে পূর্বে ৩৪ দশমিক ৫০ একর জমি জুট অ্যালায়েন্স লিমিটেডকে লিজ দেওয়া হয়েছিল। সেখানে বর্তমানে দৈনিক প্রায় ৪০ টন পাটজাত পণ্য উৎপাদিত হচ্ছে এবং প্রায় ৩ হাজার ২০০ জনের কর্মসংস্থান হয়েছে। নতুন জমি যুক্ত হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদন ও বিনিয়োগ সক্ষমতা আরও বাড়বে।প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, উৎপাদন বন্ধ থাকা ২৫টি পাটকলের মধ্যে ২০টি মিল লিজের জন্য নির্বাচন করা হয়েছে। এরই মধ্যে ১৪টি মিলের লিজ চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে এবং ৯টি মিলে উৎপাদন শুরু হয়েছে। এসব মিলে প্রায় ৯ হাজার ৫০০ জনের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে এবং দৈনিক প্রায় ১৬০ টন পাটজাত পণ্য উৎপাদিত হচ্ছে।জুট অ্যালায়েন্স লিমিটেডের পক্ষে হায়দার বলেন, সরকারের উদ্যোগে বন্ধ পাটকল পুনরায় চালুর কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠানটি গত দুই বছরে প্রায় ৩ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে। কারখানার দৈনিক উৎপাদন সক্ষমতা ৩৫ টন থেকে বাড়িয়ে ৫০ টনে উন্নীত করা হয়েছে এবং উৎপাদিত পণ্য শতভাগ রপ্তানি করা হচ্ছে।পরবর্তী ধাপে ১ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগে দৈনিক ৩ হাজার টন সক্ষমতার একটি সিড ক্রাশিং প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে, যা আন্তর্জাতিক অর্থায়ন সংস্থা আইএফসির সহযোগিতায় বাস্তবায়িত হবে। এ প্রকল্প থেকে সয়াবিন তেল ও সয়ামিল উৎপাদনের মাধ্যমে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা জোরদার এবং আরও প্রায় ৩ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।
৭ ঘন্টা আগে
পাহাড়ধসে প্রাণহানি রোধে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের পুনর্বাসনের ঘোষণা

পাহাড়ধসে প্রাণহানি রোধে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের পুনর্বাসনের ঘোষণা

পাহাড় ধসে প্রাণহানি রোধে পাহাড়ের পাদদেশ ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী পরিবারগুলোকে নিরাপদ স্থানে পুনর্বাসন করে সরকারিভাবে বাড়ি নির্মাণ করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু।বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ২২তম কার্যদিবসে স্পিকার ড. হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে ৩০০ বিধিতে দেওয়া বিবৃতিতে তিনি এ ঘোষণা দেন।মন্ত্রী বলেন, 'সাম্প্রতিক টানা বর্ষণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের বিভিন্ন এলাকায় পাহাড় ধসে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে চট্টগ্রামে ৫ জন, কক্সবাজারে ১৯ জন, রাঙামাটিতে একজন এবং বান্দরবানে ৫ জন নিহত হয়েছেন।'তিনি জানান, দুর্গত এলাকায় চট্টগ্রামে ৪১টি, কক্সবাজারে ৬৪০টি, রাঙামাটিতে ২১টি, খাগড়াছড়িতে ১৩৫টি এবং বান্দরবানে ২২০টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে আশ্রয় নেওয়া মানুষের জন্য নিরাপদ খাবার, সুপেয় পানি, স্যানিটেশন ও শিশু খাদ্যের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে মাইকিংসহ সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।ত্রাণমন্ত্রী বলেন, 'গত ৭ জুলাই প্রথম দফায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি জেলায় ১০ লাখ টাকা জিআর নগদ সহায়তা এবং ২০০ টন করে চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে পরিস্থিতি বিবেচনায় চট্টগ্রামে আরও ২৫ লাখ টাকা, কক্সবাজারে ২০ লাখ টাকা এবং রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে ১০ লাখ টাকা করে অতিরিক্ত বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে চট্টগ্রামে ৩০০ টন, কক্সবাজারে ২৫০ টন এবং রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে ২০০ টন করে অতিরিক্ত চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।'তিনি আরও জানান, প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকেও প্রতিটি ক্ষতিগ্রস্ত জেলার জন্য ২০ লাখ টাকা করে বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় মন্ত্রণালয়ের সচিব দুর্গত এলাকায় অবস্থান করছেন এবং জেলা ও উপজেলা প্রশাসন সার্বক্ষণিক ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করছে।আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, 'প্রতি বছর একই ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী মানুষকে নিরাপদ স্থানে স্থানান্তর করা জরুরি। সরকারের খাস জমি ও আবাসন মন্ত্রণালয়ের উপযুক্ত জমিতে তাদের পুনর্বাসন করে বাড়ি নির্মাণ করে দেওয়া হবে।' এ কাজে স্থানীয় সংসদ সদস্যদের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।মন্ত্রী বলেন, 'সম্মিলিত উদ্যোগে কাজ করলে ভবিষ্যতে পাহাড় ধসে আর কোনো প্রাণহানি ঘটবে না বলে সরকার আশাবাদী।' তিনি জানান, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে পাহাড়ি এলাকায় গাছপালা সংরক্ষণ ও ভূমি ব্যবহারের ওপরও নজর দেওয়া হচ্ছে।
১ ঘন্টা আগে
পাহাড়ধসে প্রাণহানি রোধে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের পুনর্বাসনের ঘোষণা

পাহাড়ধসে প্রাণহানি রোধে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের পুনর্বাসনের ঘোষণা

পাহাড় ধসে প্রাণহানি রোধে পাহাড়ের পাদদেশ ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী পরিবারগুলোকে নিরাপদ স্থানে পুনর্বাসন করে সরকারিভাবে বাড়ি নির্মাণ করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু।বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ২২তম কার্যদিবসে স্পিকার ড. হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে ৩০০ বিধিতে দেওয়া বিবৃতিতে তিনি এ ঘোষণা দেন।মন্ত্রী বলেন, 'সাম্প্রতিক টানা বর্ষণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের বিভিন্ন এলাকায় পাহাড় ধসে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে চট্টগ্রামে ৫ জন, কক্সবাজারে ১৯ জন, রাঙামাটিতে একজন এবং বান্দরবানে ৫ জন নিহত হয়েছেন।'তিনি জানান, দুর্গত এলাকায় চট্টগ্রামে ৪১টি, কক্সবাজারে ৬৪০টি, রাঙামাটিতে ২১টি, খাগড়াছড়িতে ১৩৫টি এবং বান্দরবানে ২২০টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে আশ্রয় নেওয়া মানুষের জন্য নিরাপদ খাবার, সুপেয় পানি, স্যানিটেশন ও শিশু খাদ্যের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে মাইকিংসহ সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।ত্রাণমন্ত্রী বলেন, 'গত ৭ জুলাই প্রথম দফায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি জেলায় ১০ লাখ টাকা জিআর নগদ সহায়তা এবং ২০০ টন করে চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে পরিস্থিতি বিবেচনায় চট্টগ্রামে আরও ২৫ লাখ টাকা, কক্সবাজারে ২০ লাখ টাকা এবং রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে ১০ লাখ টাকা করে অতিরিক্ত বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে চট্টগ্রামে ৩০০ টন, কক্সবাজারে ২৫০ টন এবং রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে ২০০ টন করে অতিরিক্ত চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।'তিনি আরও জানান, প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকেও প্রতিটি ক্ষতিগ্রস্ত জেলার জন্য ২০ লাখ টাকা করে বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় মন্ত্রণালয়ের সচিব দুর্গত এলাকায় অবস্থান করছেন এবং জেলা ও উপজেলা প্রশাসন সার্বক্ষণিক ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করছে।আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, 'প্রতি বছর একই ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী মানুষকে নিরাপদ স্থানে স্থানান্তর করা জরুরি। সরকারের খাস জমি ও আবাসন মন্ত্রণালয়ের উপযুক্ত জমিতে তাদের পুনর্বাসন করে বাড়ি নির্মাণ করে দেওয়া হবে।' এ কাজে স্থানীয় সংসদ সদস্যদের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।মন্ত্রী বলেন, 'সম্মিলিত উদ্যোগে কাজ করলে ভবিষ্যতে পাহাড় ধসে আর কোনো প্রাণহানি ঘটবে না বলে সরকার আশাবাদী।' তিনি জানান, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে পাহাড়ি এলাকায় গাছপালা সংরক্ষণ ও ভূমি ব্যবহারের ওপরও নজর দেওয়া হচ্ছে।
১ ঘন্টা আগে
ইমাম রেজার মাজারে দাফন হলেন আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি

ইমাম রেজার মাজারে দাফন হলেন আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি

ছয় দিনের জানাজা মিছিলের পর ইমাম রেজার মাজারে শায়িত হলেন ইসরায়েলি হামলায় নিহত ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। বৃহস্পতিবার তাকে দাফন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আল-জাজিরা অনলাইন।বৃহস্পতিবার মাশহাদের জনাকীর্ণ রাস্তা দিয়ে ট্রাকে করে ধীরে ধীরে খামেনির মরদেহ ইমাম রেজার মাজারের দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। কালো পোশাক পরা শোকাহতরা ইরানের পতাকা, প্রয়াত নেতার ছবি এবং বিপ্লবী স্লোগান লেখা লাল প্ল্যাকার্ড নাড়াচ্ছিল।২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রথম দিনে পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে নিহত হন খামেনি। যুদ্ধাবস্থার কারণে ওই সময় খামেনির জানাজা অনুষ্ঠিত হয়নি। সর্বোচ্চ এই নেতার জন্য ইরান সপ্তাহব্যাপী গণ জানাজা মিছিলের আয়োজন করে। তেহরানের ইমাম খোমেনি গ্র্যান্ড মোসাল্লায় নিহতদের প্রথম জানাজা হয়। এরপর ইরানের বিভিন্ন প্রদেশ ঘুরিয়ে খামেনির মরদেহ আনা হয় মাশহাদে।ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতার দাফন উপলক্ষে মাশহাদে লক্ষাধিক মানুষ সমবেত হয়েছেন। নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং শহরের বিভিন্ন স্থানে শোকসভার আয়োজন করা হয়েছে। খামেনির মৃত্যুর পর ইরানের নেতৃত্বে শূন্যতা তৈরি হয়েছে, তবে দেশটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সংবিধান অনুযায়ীই পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।এদিকে খামেনির দাফনকে কেন্দ্র করে ইরানজুড়ে তীব্র শোকের পরিবেশ বিরাজ করছে। বিভিন্ন দেশের নেতারা ইরানের জনগণ ও সরকারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। তবে ইরানের শত্রু দেশগুলোয় খামেনির মৃত্যুতে ভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। খামেনির স্থলাভিষিক্ত কে হচ্ছেন, তা নিয়ে এখন ইরানের রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা চলছে।
১ ঘন্টা আগে
১৫ এপ্রিল ২০২৬, ১২:১১ এএম
আপনি কি মনে করেন বিএনপি জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর ও শব্দ বাস্তবায়ন করবে?

আপনি কি মনে করেন বিএনপি জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর ও শব্দ বাস্তবায়ন করবে?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ জন
পাইলস রোগের হারবাল ঔষধ ও তার কার্যকারিতা

পাইলস রোগের হারবাল ঔষধ ও তার কার্যকারিতা

পাইলস, যা হেমোরয়েড নামেও পরিচিত, একটি সাধারণ স্বাস্থ্য সমস্যা। এটি মলদ্বারের রক্তনালী ফুলে যাওয়া এবং প্রদাহের কারণে হয়ে থাকে। এই রোগটি সাধারণত দীর্ঘমেয়াদি কোষ্ঠকাঠিন্য, অতিরিক্ত ওজন, গর্ভাবস্থা বা অত্যধিক চাপের কারণে হতে পারে। পাইলসের সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে অনেকেই হারবাল ঔষধ ও প্রাকৃতিক চিকিৎসার ওপর নির্ভর করেন। হারবাল ঔষধের কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া না থাকায় এগুলো দিন দিন আরও জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।পাইলসের লক্ষণপাইলস রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা সাধারণত নিচের লক্ষণগুলো অনুভব করে থাকেন:মলত্যাগের সময় রক্তপাতমলদ্বারের চারপাশে চুলকানি ও জ্বালাপোড়ামলদ্বারের কাছাকাছি ফুলে যাওয়া বা পিণ্ডের উপস্থিতিতীব্র ব্যথা, বিশেষত মলত্যাগের সময়পাইলসের হারবাল চিকিৎসার গুরুত্বপ্রাকৃতিক উপাদান থেকে তৈরি হারবাল ঔষধ পাইলসের চিকিৎসায় কার্যকর ভূমিকা পালন করে। এগুলোর মূল বৈশিষ্ট্য হলো প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহার, যা শরীরের অন্যান্য অঙ্গের ওপর কোনো ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে না। অস্ত্রোপচার বা কেমিক্যালজাত ওষুধের তুলনায় হারবাল চিকিৎসা অনেকটাই নিরাপদ ও সাশ্রয়ী।পাইলসের জন্য জনপ্রিয় হারবাল ঔষধ১. ত্রিফলা চূর্ণত্রিফলা চূর্ণ তিনটি ফল—আমলকি, হরীতকি এবং বহেরা—থেকে তৈরি একটি প্রাচীন আয়ুর্বেদিক ঔষধ। এটি হজম প্রক্রিয়া উন্নত করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সাহায্য করে। পাইলসের ক্ষেত্রে এটি মলত্যাগ সহজ করে এবং প্রদাহ কমায়।ব্যবহার পদ্ধতি: প্রতিদিন রাতে এক চামচ ত্রিফলা চূর্ণ উষ্ণ পানির সাথে সেবন করুন।২. অ্যালোভেরাঅ্যালোভেরা একটি প্রাকৃতিক প্রদাহনাশক ও ব্যথা কমানোর এজেন্ট হিসেবে পরিচিত। এটি পাইলসের ফোলাভাব কমাতে এবং মলদ্বারের সংবেদনশীলতা হ্রাস করতে সাহায্য করে।ব্যবহার পদ্ধতি: অ্যালোভেরা জেল সরাসরি মলদ্বারের চারপাশে প্রয়োগ করুন। এটি ঠান্ডা ও আরামদায়ক প্রভাব প্রদান করে।৩. নিমনিম তার অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি গুণের জন্য সুপরিচিত। এটি পাইলসের প্রদাহ ও সংক্রমণ কমাতে সাহায্য করে।ব্যবহার পদ্ধতি: নিমপাতা সেদ্ধ করে সেই পানি দিয়ে আক্রান্ত স্থান ধোয়া যেতে পারে। অথবা নিমের নির্যাস ধারণ করে এমন ক্রিম ব্যবহার করা যেতে পারে।৪. হলুদহলুদের মধ্যে রয়েছে কারকিউমিন নামক উপাদান, যা শক্তিশালী অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট গুণসম্পন্ন। এটি পাইলসের ব্যথা ও প্রদাহ কমাতে কার্যকর।ব্যবহার পদ্ধতি: এক গ্লাস গরম দুধের সাথে এক চিমটি হলুদ মিশিয়ে প্রতিদিন পান করুন। অথবা হলুদবাটা সরাসরি আক্রান্ত স্থানে প্রয়োগ করা যেতে পারে।৫. ঘৃতকুমারী ও মধুঘৃতকুমারী ও মধুর সংমিশ্রণ পাইলসের চিকিৎসায় অত্যন্ত কার্যকর। মধুতে রয়েছে অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল গুণ, যা সংক্রমণ রোধ করে।ব্যবহার পদ্ধতি: ঘৃতকুমারী জেলের সাথে সামান্য মধু মিশিয়ে আক্রান্ত স্থানে লাগান।৬. ওল্ডেনল্যান্ডিয়া ডিফুসা (Oldenlandia Diffusa)এই ভেষজটি চীনা হারবাল মেডিসিনে বহুল ব্যবহৃত হয়। এটি অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি ও অ্যান্টিটিউমার বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন। পাইলসের ফোলা ও ব্যথা কমাতে এটি বেশ কার্যকর।সতর্কতাহারবাল ঔষধ সেবনের আগে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। প্রতিটি মানুষের শরীরের ধরন ভিন্ন, তাই সবার জন্য একই ঔষধ সমান কাজ করে না। গর্ভাবস্থায় বা অন্য কোনো রোগ থাকলে সতর্কতার সাথে হারবাল ঔষধ সেবন করুন।পাইলস একটি অস্বস্তিকর ও বেদনাদায়ক রোগ। তবে সঠিক হারবাল চিকিৎসা ও জীবনযাত্রার পরিবর্তনের মাধ্যমে এর উপশম সম্ভব। ত্রিফলা, অ্যালোভেরা, নিম, হলুদসহ বিভিন্ন ভেষজ উপাদান পাইলসের চিকিৎসায় আশাব্যঞ্জক ফলাফল দেখায়। প্রাকৃতিক ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ামুক্ত এই সমাধানগুলো গ্রহণ করে দীর্ঘমেয়াদি আরাম পাওয়া যায়। তবে কঠিন বা দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা থাকলে অবশ্যই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন।
০৮ জুলাই ২০২৬
অলস রাষ্ট্রীয় সম্পদকে উৎপাদনমুখী করতে সরকারের উদ্যোগ

অলস রাষ্ট্রীয় সম্পদকে উৎপাদনমুখী করতে সরকারের উদ্যোগ

রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন অলস শিল্পসম্পদকে উৎপাদনমুখী ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী সম্পদে রূপান্তরের লক্ষ্য নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে বন্ধ শিল্পকারখানায় বেসরকারি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সচিবালয়ে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশ জুট মিলস লিমিটেডের নরসিংদী ইউনিটের অতিরিক্ত ১৪ দশমিক ৮০ একর জমি জুট অ্যালায়েন্স লিমিটেডের কাছে লিজ প্রদানসংক্রান্ত চুক্তি সই অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।খন্দকার মুক্তাদির বলেন, রাষ্ট্রীয় সম্পদ দীর্ঘদিন অলস পড়ে থাকলে তা সম্পদ নয়, বরং দায়ে পরিণত হয়। তাই বন্ধ মিলগুলোকে আধুনিক প্রযুক্তি ও নতুন বিনিয়োগের মাধ্যমে পুনরুজ্জীবিত করে উৎপাদন, কর্মসংস্থান এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করাই বর্তমান সরকারের অগ্রাধিকার।তিনি জানান, নতুন এই বিনিয়োগের মাধ্যমে প্রায় ১ হাজার ৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগ হবে এবং বছরে প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকার উৎপাদন সম্ভব হবে। পাশাপাশি নতুন করে প্রায় ৩ হাজার জনের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। সয়াবিন বীজ প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে ভোজ্যতেল উৎপাদন দেশের খাদ্যনিরাপত্তা শক্তিশালী করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।মন্ত্রী বলেন, সরকার ব্যবসা পরিচালনার পরিবর্তে দক্ষ বেসরকারি খাতকে বিনিয়োগে উৎসাহিত করছে। দীর্ঘমেয়াদি লিজ, রাজস্ব ভাগাভাগি কিংবা যৌথ মালিকানাভিত্তিক বিভিন্ন পিপিপি মডেলে রাষ্ট্রীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠান পুনরুজ্জীবনের উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী দুই বছরের মধ্যে অধিকাংশ বন্ধ শিল্পপ্রতিষ্ঠানে উৎপাদন কার্যক্রম দৃশ্যমান হবে।রপ্তানি আয় প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতি, ইউরোপীয় বাজারে চাহিদা হ্রাস এবং নতুন শুল্কনীতির প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে ভোক্তা ব্যয় কমেছে। তবে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত ধীরে ধীরে উচ্চমূল্যের ম্যানমেড ফাইবার ও ভ্যালু-অ্যাডেড পণ্যে রূপান্তরিত হচ্ছে। এ রূপান্তর সম্পন্ন হলে একই পরিমাণ পণ্য রপ্তানি করেও অধিক বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম জানান, নরসিংদীর বাংলাদেশ জুট মিলস লিমিটেডের ৭৭.০২ একর জমির মধ্যে পূর্বে ৩৪ দশমিক ৫০ একর জমি জুট অ্যালায়েন্স লিমিটেডকে লিজ দেওয়া হয়েছিল। সেখানে বর্তমানে দৈনিক প্রায় ৪০ টন পাটজাত পণ্য উৎপাদিত হচ্ছে এবং প্রায় ৩ হাজার ২০০ জনের কর্মসংস্থান হয়েছে। নতুন জমি যুক্ত হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদন ও বিনিয়োগ সক্ষমতা আরও বাড়বে।প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, উৎপাদন বন্ধ থাকা ২৫টি পাটকলের মধ্যে ২০টি মিল লিজের জন্য নির্বাচন করা হয়েছে। এরই মধ্যে ১৪টি মিলের লিজ চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে এবং ৯টি মিলে উৎপাদন শুরু হয়েছে। এসব মিলে প্রায় ৯ হাজার ৫০০ জনের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে এবং দৈনিক প্রায় ১৬০ টন পাটজাত পণ্য উৎপাদিত হচ্ছে।জুট অ্যালায়েন্স লিমিটেডের পক্ষে হায়দার বলেন, সরকারের উদ্যোগে বন্ধ পাটকল পুনরায় চালুর কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠানটি গত দুই বছরে প্রায় ৩ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে। কারখানার দৈনিক উৎপাদন সক্ষমতা ৩৫ টন থেকে বাড়িয়ে ৫০ টনে উন্নীত করা হয়েছে এবং উৎপাদিত পণ্য শতভাগ রপ্তানি করা হচ্ছে।পরবর্তী ধাপে ১ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগে দৈনিক ৩ হাজার টন সক্ষমতার একটি সিড ক্রাশিং প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে, যা আন্তর্জাতিক অর্থায়ন সংস্থা আইএফসির সহযোগিতায় বাস্তবায়িত হবে। এ প্রকল্প থেকে সয়াবিন তেল ও সয়ামিল উৎপাদনের মাধ্যমে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা জোরদার এবং আরও প্রায় ৩ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।
১৪ মে ২০২৬
করদাতাদের সতর্ক করল এনবিআর

করদাতাদের সতর্ক করল এনবিআর

১৪ মে ২০২৬
গোপনীয়তা রক্ষায় হোয়াটসঅ্যাপে এল ইউজারনেম ফিচার

গোপনীয়তা রক্ষায় হোয়াটসঅ্যাপে এল ইউজারনেম ফিচার

বিশ্বের জনপ্রিয় মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম হোয়াটসঅ্যাপ অবশেষে বহুল প্রতীক্ষিত ইউজারনেম ফিচার চালুর ঘোষণা দিয়েছে। নতুন এই সুবিধার মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা নিজেদের ফোন নম্বর প্রকাশ না করেই অন্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন। তবে অ্যাকাউন্ট খোলার জন্য আগের মতোই ফোন নম্বর ব্যবহার বাধ্যতামূলক থাকবে।মেটার মালিকানাধীন হোয়াটসঅ্যাপ কয়েক বছর ধরে ইউজারনেম ফিচার নিয়ে কাজ করছিল। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার থেকেই ব্যবহারকারীরা নিজেদের পছন্দের ইউজারনেম সংরক্ষণ (রিজার্ভ) করতে পারবেন। তবে ফিচারটি ধাপে ধাপে বিভিন্ন দেশে চালু হবে এবং আনুষ্ঠানিকভাবে চলতি বছরের শেষ দিকে সবার জন্য উন্মুক্ত করা হবে।হোয়াটসঅ্যাপের তথ্যমতে, ব্যবহারকারীরা ৩ থেকে ৩৫ অক্ষরের মধ্যে যেকোনো ইউজারনেম নির্বাচন করতে পারবেন। তবে সেটি অবশ্যই প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা লঙ্ঘন করতে পারবে না। এছাড়া জনপ্রিয় তারকা, ভিআইপি ব্যক্তি এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জন্য কিছু ইউজারনেম সংরক্ষিত রাখা হবে। ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও কনটেন্ট নির্মাতারা চাইলে তাদের ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রামের একই ইউজারনেম হোয়াটসঅ্যাপেও ব্যবহার করতে পারবেন।যখন কোনো দেশে এই সুবিধা চালু হবে, তখন ব্যবহারকারীরা একটি নোটিফিকেশন পাবেন। এরপর Settings > Account > Username অপশনে গিয়ে নিজেদের পছন্দের ইউজারনেম সেট করতে পারবেন। পাশাপাশি ব্যবহারকারীরা চাইলে একটি Username Key নির্ধারণ করতে পারবেন, যা জানলে তবেই অন্য কেউ তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবে।মেটা জানিয়েছে, বর্তমানে হোয়াটসঅ্যাপের ব্যবহারকারী সংখ্যা ৩০০ কোটিরও বেশি। তাই একই ইউজারনেম একাধিক ব্যক্তি ব্যবহার করতে না পারে, সে কারণে আগে থেকে ইউজারনেম সংরক্ষণের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।প্রতিষ্ঠানটি আরও জানিয়েছে, হোয়াটসঅ্যাপে ইউজারনেম সার্চ করে কাউকে খুঁজে পাওয়া যাবে না। শুধুমাত্র যাদের কাছে নির্দিষ্ট ইউজারনেম থাকবে, তারাই সেই ব্যক্তিকে বার্তা পাঠাতে পারবেন। ব্যবহারকারীরা চাইলে যেকোনো সময় এই ফিচার বন্ধ করতে বা নিজেদের ইউজারনেম পরিবর্তন করতে পারবেন।হোয়াটসঅ্যাপের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও প্রোডাক্ট প্রধান অ্যালিস নিউটন-রেক্স বলেন, নতুন কারও সঙ্গে পরিচয়ের সময় নিজের ফোন নম্বর শেয়ার করা অনেকের জন্য অস্বস্তিকর হতে পারে, কারণ ফোন নম্বর ব্যক্তিগত তথ্য এবং জীবনের নানা গুরুত্বপূর্ণ সেবার সঙ্গে যুক্ত। ইউজারনেম ফিচার ব্যবহারকারীদের সেই গোপনীয়তা রক্ষা এবং ফোন নম্বর কারা দেখতে পাবে, সে বিষয়ে আরও বেশি নিয়ন্ত্রণ দেবে।তবে প্রাথমিকভাবে ইউজারনেম অন্যদের জানাতে হবে লিখিত বার্তা বা মুখে বলার মাধ্যমে। এখনই কিউআর কোড স্ক্যান করে শুধু ইউজারনেমের সাহায্যে যোগাযোগের সুবিধা থাকছে না।উল্লেখ্য, প্রতিদ্বন্দ্বী মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম টেলিগ্রাম, সিগন্যাল এবং ওয়্যারের মতো অ্যাপগুলোতে বহু বছর ধরেই ইউজারনেমের মাধ্যমে ফোন নম্বর গোপন রেখে যোগাযোগের সুযোগ রয়েছে। হোয়াটসঅ্যাপের এই নতুন পদক্ষেপ গোপনীয়তা সচেতন ব্যবহারকারীদের কাছে ইতিবাচক সাড়া ফেলবে বলে ধারণা করছেন প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা।
৯ ঘন্টা আগে
কোন ছবি নেই !
কোন ছবি নেই !
ঢাকা-রিয়াদ সরাসরি ফ্লাইটের টিকিট বিক্রি শুরু করেছে রিয়াদ এয়ার

ঢাকা-রিয়াদ সরাসরি ফ্লাইটের টিকিট বিক্রি শুরু করেছে রিয়াদ এয়ার

আগামী ৭ আগস্ট ঢাকা-রিয়াদ সরাসরি দৈনিক ফ্লাইট চালুর আগে আজ থেকে এই রুটের টিকিট বিক্রি শুরু করেছে রিয়াদ এয়ার। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে আকাশপথে যোগাযোগ আরও সম্প্রসারিত হবে।এয়ারলাইন্সের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নতুন এই রুটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মধ্যে বোয়িং ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার উড়োজাহাজে দৈনিক ফ্লাইট পরিচালিত হবে। এই দৈনিক ফ্লাইট বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে ভ্রমণ, বাণিজ্য ও পর্যটন সংযোগ আরও জোরদার করবে। একই সঙ্গে রিয়াদ এয়ারের সম্প্রসারিত নেটওয়ার্ক ও কোডশেয়ার অংশীদারিত্বের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের বিভিন্ন গন্তব্যে যাত্রীদের জন্য সুবিধাজনক সংযোগ নিশ্চিত করবে।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নতুন এই রুট দক্ষিণ এশিয়ার দ্রুত বিকাশমান বিমান পরিবহন বাজারগুলোর একটির প্রতি রিয়াদ এয়ারের অঙ্গীকারের প্রতিফলন এবং বাংলাদেশ-সৌদি আরবের দীর্ঘদিনের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করবে।ফ্লাইট সূচি অনুযায়ী, আরএক্স০৭৬৩ ফ্লাইট রিয়াদ থেকে স্থানীয় সময় রাত ৯টা ২০ মিনিটে ছেড়ে পরদিন সকাল ৬টা ১০ মিনিটে ঢাকায় পৌঁছাবে। ফিরতি আরএক্স০৭৬৪ ফ্লাইট স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ৪০ মিনিটে ঢাকা থেকে ছেড়ে সকাল ১০টা ৫৫ মিনিটে রিয়াদে অবতরণ করবে।রিয়াদ এয়ার জানিয়েছে, নতুন এই সেবা ব্যবসা, অবকাশ যাপন ও শিক্ষাসংক্রান্ত ভ্রমণের নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গন্তব্যে যাতায়াতকারী বাংলাদেশি যাত্রীদের জন্য রিয়াদকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট হাব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে।এয়ারলাইন্সটি আরও জানায়, বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান আন্তর্জাতিক ভ্রমণ বাজার এবং সৌদি আরবের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিবেচনায় এই রুট তাদের বৈশ্বিক নেটওয়ার্কে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন।যাত্রীরা রিয়াদ এয়ারের ওয়েবসাইট, মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন এবং অনুমোদিত ট্রাভেল এজেন্টদের মাধ্যমে টিকিট কিনতে পারবেন। ফ্লাইটগুলো রিয়াদ এয়ারের বোয়িং ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনারে পরিচালিত হবে। উড়োজাহাজে বিজনেস এলিট, বিজনেস, প্রিমিয়াম ইকোনমি ও ইকোনমি—এই চারটি কেবিন শ্রেণি থাকবে। এতে সর্বাধুনিক ইন-ফ্লাইট বিনোদন ব্যবস্থা, ওয়্যারলেস সংযোগ এবং উন্নত যাত্রীসেবা সুবিধা থাকবে।সৌদি আরবের নতুন জাতীয় এয়ারলাইন্স রিয়াদ এয়ার দেশটির বৈশ্বিক সংযোগ বৃদ্ধি, পর্যটন খাতের বিকাশ এবং অর্থনীতির বহুমুখীকরণের লক্ষ্যে গৃহীত বৃহত্তর বিমান পরিবহন কৌশলের অংশ হিসেবে আন্তর্জাতিক রুট নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ করছে।
১৪ মে ২০২৬
ইতিহাসের অবহেলিত বীর: মোহাম্মদ আব্দুল্লাহর গল্প

ইতিহাসের অবহেলিত বীর: মোহাম্মদ আব্দুল্লাহর গল্প

আমরা যারা বাংলাদেশের মানুষ, ছোটবেলা থেকে পাঠ্যবইয়ে ক্ষুদিরাম বসুর বীরত্বগাথা পড়ে বড় হয়েছি। ফাঁসির মঞ্চে যাওয়ার আগে তাঁর সেই বিখ্যাত গান—"একবার বিদায় দে মা ঘুরে আসি"—শোনেনি এমন বাঙালি খুঁজে পাওয়া দায়। ক্ষুদিরাম আমাদের আবেগ, আমাদের জাতীয় বীর। কিন্তু বুকে হাত দিয়ে বলুন তো, "মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ" নামটা আমাদের কয়জন জানি? অথচ এই আব্দুল্লাহও ছিলেন একজন বাঙালি উপমহাদেশীয় বিপ্লবী, যিনি ব্রিটিশদের বুকে কাঁপন ধরিয়ে দিয়েছিলেন। ক্ষুদিরামের আন্দোলনের মাত্র কয়েক দশক আগে, ১৮৭১ সালে কলকাতার টাউন হলের সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে এই আব্দুল্লাহ একাই বুক চিতিয়ে হত্যা করেছিলেন তৎকালীন ফোর্ট উইলিয়াম হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি জন প্যাক্সটন নরম্যানকে—যে বিচারক বিপ্লবীদের কঠোর সাজা ও ফাঁসি দেওয়ার জন্য কুখ্যাত ছিলেন।১৮৭১ সালের ২১ নভেম্বর কলকাতার টাউন হলে এক রাজকীয় অনুষ্ঠান চলছিল। সেখানে উপস্থিত ছিলেন ফোর্ট উইলিয়াম হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি স্যার জন প্যাক্সটন নরম্যান। অনুষ্ঠান শেষে তিনি যখন টাউন হলের সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামছিলেন, তখন আব্দুল্লাহ তাঁর পথ রোধ করেন। তিনি নরম্যানের বুকে একটি ছুরি দিয়ে আঘাত করেন, যা ছিল এতটাই নিখুঁত ও মারাত্মক যে নরম্যান ঘটনাস্থলেই মারা যান। আব্দুল্লাহকে সঙ্গে সঙ্গে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তাকে ফাঁসি দেওয়া হয়। অথচ ক্ষুদিরাম বসু ১৯০৮ সালে কিংসফোর্ডকে মারতে গিয়ে বোমা ছুড়েছিলেন, কিন্তু ভুলবশত দুজন নিরীহ ইউরোপীয় নারী মারা যান, কিংসফোর্ড বেঁচে যান। আর আব্দুল্লাহ একাই একটি ছুরি হাতে সরাসরি তাঁর মূল টার্গেট, ব্রিটিশদের প্রধান বিচারপতিকে খতম করেছিলেন। ফলাফল দুজনেরই ব্রিটিশদের ফাঁসির দড়ি।তাহলে আজ বাংলাদেশের ইতিহাস চর্চায় কেন এই আকাশ-পাতাল বৈষম্য? কেন ক্ষুদিরামের নাম আমাদের মুখে মুখে, আর আব্দুল্লাহর নাম ইতিহাসের পাতা থেকে একপ্রকার মুছে দেওয়া হলো? এর পেছনে লুকিয়ে আছে আমাদের বুদ্ধিবৃত্তিক দৈন্যতা। আব্দুল্লাহ যুক্ত ছিলেন ওহাবি আন্দোলনের সাথে। আমাদের আধুনিক তথাকথিত ধর্মনিরপেক্ষ ঐতিহাসিকরা ওহাবি আন্দোলনকে কেবল "ধর্মীয় আন্দোলন" তকমা দিয়ে আব্দুল্লাহর মতো খাঁটি স্বাধীনতা সংগ্রামীদের লাইমলাইট থেকে দূরে সরিয়ে রেখেছেন। অথচ ওহাবি আন্দোলন শুধু ধর্মীয় ছিল না, এটি ছিল ব্রিটিশবিরোধী প্রতিরোধের একটি শক্তিশালী ধারা, যার মাধ্যমে উপমহাদেশের মানুষ ইংরেজ শাসনের বিরুদ্ধে সংগঠিত হতে চেয়েছিল। আব্দুল্লাহ ছিলেন সেই আন্দোলনেরই একজন উজ্জ্বল সেনানী।ব্রিটিশরা সুকৌশলে আব্দুল্লাহর সমস্ত তথ্য, ছবি এবং স্মৃতি সেন্সর করেছিল যাতে তিনি মুসলিম তরুণদের আইকন বা শহীদ হতে না পারেন। ব্রিটিশরা জানত, একজন মুসলিম বিপ্লবী যদি আদর্শে পরিণত হয়, তাহলে তা উপমহাদেশের মুসলিম জনগোষ্ঠীর মধ্যে ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই তারা আব্দুল্লাহর নাম ও পরিচয় গুম করে দেয়। আর স্বাধীনতার পর আমাদের শিক্ষাবোর্ডগুলোও সেই ব্রিটিশদের তৈরি করা সিলেবাসের বৃত্ত থেকে বের হতে পারেনি। ফলে আব্দুল্লাহর মতো অনেক বীরই রয়ে গেছেন ইতিহাসের আড়ালে।ক্ষুদিরাম যেমন আমাদের জাতীয় বীর, আব্দুল্লাহও তেমনই বীর। ক্ষুদিরাম ফাঁসির আগে গান গেয়েছেন, আব্দুল্লাহও ফাঁসির আগে নির্ভীক ছিলেন। একজন ব্রিটিশ প্রধান বিচারপতিকে হত্যা করে তিনি প্রমাণ করেছিলেন, ভারতবাসী আর ব্রিটিশ শাসন সহ্য করবে না। তাঁর এই সাহসিকতা ও আত্মত্যাগের ইতিহাস আমাদের জানা উচিত। আজ সময় এসেছে এই ঐতিহাসিক বৈষম্যের অবসান ঘটানোর। ইতিহাস কারও একার সম্পত্তি নয়। রক্ত ক্ষুদিরামও দিয়েছেন, রক্ত আব্দুল্লাহও দিয়েছেন। দেশের স্বাধীনতার জন্য ফাঁসির মঞ্চে যাওয়া প্রতিটা মানুষই সমান শ্রদ্ধার পাত্র। আসুন, নিজেদের ইতিহাসকে নতুন করে জানি। আব্দুল্লাহদের মতো হারিয়ে যাওয়া বীরদের অবদানের কথা আমাদের পরবর্তী প্রজন্মকে জানাই।শিক্ষাবোর্ডগুলোর উচিত আব্দুল্লাহসহ সকল উপেক্ষিত বিপ্লবীদের ইতিহাস পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করা। আব্দুল্লাহর নামে স্মৃতিসৌধ, রাস্তা বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নামকরণ করা উচিত, যাতে তরুণ প্রজন্ম তাঁকে চিনতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোকে আব্দুল্লাহর জীবন ও আন্দোলন নিয়ে বিস্তারিত গবেষণায় উৎসাহিত করতে হবে। গণমাধ্যমে আব্দুল্লাহর কাহিনি প্রচার করতে হবে, যাতে তিনি ঘরে ঘরে পরিচিত হন। যাঁরা দেশের জন্য প্রাণ দিয়েছেন, তাঁরা সকলেই সমান সম্মানের অধিকারী। ক্ষুদিরাম যেমন আমাদের গর্ব, আব্দুল্লাহও তেমনই আমাদের গর্ব। ইতিহাসের এই একপেশে বয়ান থেকে বেরিয়ে এসে আমাদের উচিত প্রতিটি বীরের অবদানকে যথাযথ মর্যাদা দেওয়া। তবেই সত্যিকার অর্থে আমরা স্বাধীনতা সংগ্রামের পূর্ণ ইতিহাসকে আত্মস্থ করতে পারব। ইতিহাসের এই অজানা অধ্যায়কে সামনে এনে আমরা আমাদের পরবর্তী প্রজন্মকে একটি সম্পূর্ণ ও সঠিক ইতিহাস উপহার দিতে পারি। আব্দুল্লাহর মতো বীরদের প্রতি আমাদের এই দায়িত্ব অবশ্যই পালন করতে হবে। কারণ, স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রতিটি ফোঁটা রক্তই সমান মূল্যবান। এখন সময় এসেছে আব্দুল্লাহদের পুনর্বাসনের, যাতে নতুন প্রজন্ম জানে—স্বাধীনতার এই পথ কতটা রক্তক্ষয়ী ছিল এবং কতজন অজানা বীর এই পথ প্রশস্ত করেছেন।
ফিরোজ আল মামুন