ঢাকা    শনিবার, ২৩ মে ২০২৬
ঢাকা    শনিবার, ২৩ মে ২০২৬
গণবার্তা
সর্বশেষ

বায়তুল মোকাররমে ঈদুল আজহার পাঁচ জামাত

জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে পবিত্র ঈদুল আজহার পাঁচটি জামাত অনুষ্ঠিত হবে। এখানে প্রথম জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল ৭টায়। এসব জামাতে ইমামতি ও মুকাব্বিরের দায়িত্ব পালনকারী আলেম ও সংশ্লিষ্টদের তালিকা চূড়ান্ত করেছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন (ইফা)। বৃহস্পতিবার ইফার পক্ষ থেকে দায়িত্বপ্রাপ্তদের তালিকা গণমাধ্যমে পাঠানো হয়েছে।প্রথম জামাত (সকাল ৭:০০)প্রথম জামাত সকাল ৭টায় অনুষ্ঠিত হবে। এতে ইমামতি করবেন বায়তুল মোকাররমের সিনিয়র পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা মুফতি মো. মিযানুর রহমান। এখানে মুকাব্বির হিসেবে থাকবেন মসজিদের মুয়াজ্জিন ক্বারি ইসহাক।দ্বিতীয় জামাত (সকাল ৮:০০)দ্বিতীয় জামাত সকাল ৮টায় অনুষ্ঠিত হবে। এতে ইমাম হিসেবে থাকবেন ফাউন্ডেশনের জাকাত ফান্ড বিভাগের পরিচালক (রুটিন দায়িত্ব) ড. মাওলানা ওয়ালীয়ূর রহমান খান। মুকাব্বিরের দায়িত্ব পালন করবেন মসজিদের চিফ খাদেম মো. নাসির উল্লাহ।তৃতীয় জামাত (সকাল ৯:০০)তৃতীয় জামাত সকাল ৯টায় অনুষ্ঠিত হবে। এতে ইমামতি করবেন ফাউন্ডেশনের মুফতি মো. আব্দুল্লাহ। মুকাব্বির হিসেবে থাকবেন মো. রুহুল আমিন।চতুর্থ জামাত (সকাল ১০:০০)চতুর্থ জামাত সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত হবে। এতে ইমামতি করবেন ইফার দ্বীনি দাওয়াত ও সংস্কৃতি বিভাগের উপ-পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মাওলানা মোহাম্মদ নূর উদ্দীন। মুকাব্বিরের দায়িত্ব পালন করবেন মো. আব্দুল হাদী।পঞ্চম (সর্বশেষ) জামাত (সকাল ১০:৪৫)পঞ্চম বা সর্বশেষ জামাত সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে অনুষ্ঠিত হবে। এতে ইমামতি করবেন ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমির ধর্মীয় প্রশিক্ষক জুবাইর আহাম্মদ আল-আযহারী। মুকাব্বির হিসেবে থাকবেন মো. আমির হোসেন।বিকল্প ব্যবস্থানির্ধারিত কোনো জামাতে ইমাম অনুপস্থিত থাকলে বিকল্প ইমাম হিসেবে ফাউন্ডেশনের সহকারী লাইব্রেরিয়ান মো. শহিদুল ইসলাম দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া বিকল্প মুকাব্বির হিসেবে মো. শামসুল হক দায়িত্ব পালন করবেন।ইসলামিক ফাউন্ডেশনের অনুরোধসংশ্লিষ্ট সবাইকে নির্ধারিত সময়ের আগে মসজিদে উপস্থিত হয়ে পবিত্র ঈদুল আযহার জামাতে অংশ নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন।বায়তুল মোকাররমে ঈদুল আজহার পাঁচ জামাতের এ আয়োজন ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের জন্য সুযোগ তৈরি করেছে। সকাল ৭টা থেকে শুরু হয়ে ১০টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত টানা জামাত থাকায় ভিড় সামলানো সহজ হবে। বিকল্প ইমাম ও মুকাব্বির রাখায় জামাত ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কাও কমেছে। সংশ্লিষ্ট সবাইকে সময়মতো উপস্থিত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন।
১০ ঘন্টা আগে

চতুর্থ শ্রেণি থেকে খেলাধুলা বাধ্যতামূলক করছে সরকার

জাতীয় শিক্ষাক্রমে বড় পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, চতুর্থ শ্রেণি থেকেই শিক্ষার্থীদের জন্য খেলাধুলা বাধ্যতামূলক করা হবে। এতে মোট আটটি ইভেন্ট অন্তর্ভুক্ত থাকবে। সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর লক্ষ্য হলো নতুন প্রজন্মকে ডিভাইস আসক্তি ও মাদক থেকে দূরে রেখে সুস্থ-সবল জাতি গঠন করা।৮টি খেলা বাধ্যতামূলকসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’-এ ফুটবল, ক্রিকেট, কাবাডি, মার্শাল আর্ট/ভলিবল, অ্যাথলেটিক্স, ব্যাডমিন্টন, দাবা এবং সাঁতার— এই মোট ৮টি খেলাকে বাধ্যতামূলকভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠনপ্রাথমিক সুপারিশ ও বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের জন্য ইতোমধ্যে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবকে আহ্বায়ক করে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী ১০ জুনের মধ্যে কমিটিকে বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনাসহ প্রাথমিক সুপারিশ দাখিল করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।আন্তঃমন্ত্রণালয় সভাগত ৬ মে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এই বিষয়ে একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী, দুই মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।ক্রীড়া শিক্ষক ও অফিসার নিয়োগএই বিশাল কার্যক্রম সফল করতে প্রতিটি উপজেলায় ৮টি ইভেন্টের প্রতিটির জন্য ৩ জন করে সারা দেশে মোট ১১ হাজার ৮৮০টি পদে বিষয়ভিত্তিক ক্রীড়া শিক্ষক এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ৪৯৫ জন উপজেলা ক্রীড়া অফিসার নিয়োগের বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।শিক্ষাক্রমে খেলাধুলাকে বাধ্যতামূলক করার এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন শিক্ষাবিদ ও ক্রীড়া সংশ্লিষ্টরা। ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে চতুর্থ শ্রেণি থেকেই শিক্ষার্থীরা নিয়মিত ক্রীড়া চর্চার সুযোগ পাবে। এটি যেমন শারীরিক ও মানসিক বিকাশে সহায়তা করবে, তেমনি ডিভাইস আসক্তি ও মাদকের ঝুঁকি কমাতেও ভূমিকা রাখবে। ১১ হাজার ৮৮০ জন ক্রীড়া শিক্ষক নিয়োগের পরিকল্পনা মহৎ। এখন বাস্তবায়ন ও সঠিক মনিটরিংয়ে সরকারের ভূমিই নির্ধারণ করবে এই উদ্যোগের সাফল্য।
১০ ঘন্টা আগে

বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের নতুন প্রধান কোচ থমাস ডুলি

বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের নতুন প্রধান কোচ হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন থমাস ডুলি। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে অভিজ্ঞ এই কোচের দায়িত্ব নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও জার্মানির দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকা ডুলির ফুটবলার ও কোচ হিসেবে দীর্ঘ ৪৩ বছরের সমৃদ্ধ ক্যারিয়ার রয়েছে। কিন্তু এই থমাস ডুলি আসলে কে? বিশ্ব ফুটবলের পরিচিত এক নাম— খেলোয়াড়ি জীবন থেকে শুরু করে কোচিং দুই ক্ষেত্রেই রয়েছে তার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও অসাধারণ সাফল্য।থমাস ডুলির জন্ম জার্মানিতে হলেও তিনি যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় দলের হয়ে খেলেছেন। খেলোয়াড়ি জীবনে ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার ও সেন্ট্রাল ব্যাক হিসেবে খেলা ডুলি যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় দলের হয়ে ১৯৯৪ সালের বিশ্বকাপে মাঠ কাঁপিয়েছেন। ১৯৯৪ সালে নিজ দেশের মাটিতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে ডিফেন্ডার হিসেবে তিনি ছিলেন অন্যতম নির্ভরযোগ্য ফুটবলার। আর চার বছর পরে, ১৯৯৮ সালের ফ্রান্স বিশ্বকাপে তিনি বহন করেন যুক্তরাষ্ট্র দলের অধিনায়কের আর্মব্যান্ড (ক্যাপ্টেনের দায়িত্ব)। বুন্দেসলিগার ক্লাব কাইজারস্লটার্নের হয়ে জার্মান লিগ ও কাপ জেতারও রেকর্ড রয়েছে তার।মাঠ ছেড়ে কোচিংয়েও সমান দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছেন ডুলি। ২০১১ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত তিনি বিশ্বখ্যাত ও কিংবদন্তি কোচ ইউর্গেন ক্লিন্সম্যানের অধীনে যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় দলের সহকারী কোচ হিসেবে কাজ করেছেন। আন্তর্জাতিক ফুটবলে প্রধান কোচ হিসেবে এর আগে তিনি ফিলিপাইন জাতীয় দলের দায়িত্বে ছিলেন। ফিলিপাইনে গিয়ে রীতিমতো ইতিহাস লিখেছেন। তার অধীনেই ফিলিপাইন দল অপরাজিত থেকে প্রথমবারের মতো এশিয়ান কাপের মূল পর্বে খেলার ঐতিহাসিক যোগ্যতা অর্জন করে এবং ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে নিজেদের ইতিহাসের সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছায়।বাংলাদেশের দায়িত্ব নেওয়ার আগে তিনি গায়ানা জাতীয় দলের প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন, যেখানে তার অধীনে খেলা চার ম্যাচের সবকটিতেই জয় পায় দল। দল গড়ে তোলার বিশেষ দক্ষতা এবং এশিয়ার ফুটবলের বাস্তবতা ও চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে গভীর ধারণা নিয়েই এবার বাংলাদেশে আসছেন থমাস ডুলি। এশিয়ার ফুটবলের বাস্তবতা সম্পর্কে তার অভিজ্ঞতা বাংলাদেশ দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছে বাফুফে।বাফুফে জানায়, বাংলাদেশের তরুণ ফুটবলারদের নিয়ে দীর্ঘমেয়াদে একটি দল গঠন এবং আন্তর্জাতিক স্তরে দলের ফলাফল উন্নয়নের লক্ষ্য নিয়ে থমাস ডুলি তার কাজ শুরু করতে যাচ্ছেন। তরুণ ফুটবলারদের সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে জাতীয় দলকে আরও প্রতিযোগিতামূলক ও সফল করে তোলাই তার লক্ষ্য।বাংলাদেশ ফুটবলের ইতিহাসে থমাস ডুলি অন্যতম অভিজ্ঞ ও সফল কোচ হিসেবে জায়গা করে নেবেন বলে আশা করছে বাফুফে। বিশ্বকাপ খেলা ও অধিনায়কের অভিজ্ঞতা, ক্লিন্সম্যানের সহকারী হিসেবে কাজ এবং ফিলিপাইন ও গায়ানাকে সাফল্য দেওয়ার রেকর্ড বাংলাদেশের ফুটবলে নতুন দিশা দেখাতে পারে। এখন দেখার বিষয়, তরুণ ফুটবলারদের নিয়ে ডুলি কীভাবে দল গঠন করেন এবং আন্তর্জাতিক পরীক্ষায় বাংলাদেশের ফলাফল কেমন হয়।
১২ ঘন্টা আগে
শিরোপা-খরা কাটানোর প্রতিশ্রুতি বাংলাদেশ ফুটবলের নতুন কোচ ডুলির

শিরোপা-খরা কাটানোর প্রতিশ্রুতি বাংলাদেশ ফুটবলের নতুন কোচ ডুলির

অপেক্ষার অবসান হয়েছে। নতুন কোচ পেয়েছে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল। আমেরিকার ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক থমাস ডুলিকে কোচ হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। শুক্রবার (২২ মে) সকালেই ঢাকায় পা রেখেছেন নতুন এই কোচ। কয়েক ঘণ্টা বিশ্রাম নিয়েই বাংলাদেশ স্পোর্টস প্রেস অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসপিএ) ‘কুল-বিএসপিএ স্পোর্টস অ্যাওয়ার্ড’ অনুষ্ঠানে হাজির হন ডুলি।আনুষ্ঠানিক পরিচয়এ সময় তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে সবার সামনে পরিচয় করিয়ে দেন বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল। বাংলাদেশের পতাকা হাতে নিয়ে বিএসপিএর অনুষ্ঠান মঞ্চে দাঁড়ান থমাস ডুলি। এ সময় নিজের লক্ষ্যের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘জীবনে কোনো কিছু অর্জন করতে হলে আপনাকে কিছু না কিছু ত্যাগ করতেই হবে। আর যারা সেটা করতে রাজি আছে, তাদের নিয়ে আমরা সফল হতে পারবো। তাই আমার লক্ষ্য হলো র‍্যাংকিংয়ে ১৬০ বা ১৫০-এর মধ্যে চলে আসা। এটা রাতারাতি হবে না। এটি একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া।’ট্রফি জয়ের লক্ষ্য২০০৩ সালে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জিতেছিল বাংলাদেশ। এরপর থেকে ট্রফি খরায় লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। প্রায় ২৩ বছর পর এবার ট্রফি জেতার সময় এসেছে উল্লেখ করে বাংলাদেশ দলের নতুন এই কোচ বলেন, ‘আমি সবসময় আমার খেলোয়াড়দের এবং ফেডারেশনকেও বলি— আমরা যেকোনো কিছু অর্জন করতে পারি, যদি লক্ষ্যটি বাস্তবসম্মত হয়। আর আমরা গত কত বছর ধরে কিছু জিতিনি, ২৩ বছর? এখন সময় এসেছে কিছু করে দেখানোর।’থমাস ডুলি বাংলাদেশে এসেছেন এক প্রতিশ্রুতি নিয়ে— দেশের ফুটবলের র‌্যাঙ্কিং উন্নত করা ও দীর্ঘ ট্রফি খরার অবসান ঘটানো। তাঁর বাস্তবসম্মত লক্ষ্য ও আত্মবিশ্বাসের বাণী ভক্তদের মনে নতুন আশা জাগিয়েছে। ২০০৩ সালের সাফ জয়ী বাংলাদেশ দল কি ডুলির হাত ধরে আবার স্বর্ণালী দিনে ফিরবে? সময়ই বলে দেবে।
৩ ঘন্টা আগে
ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের জরুরি নির্দেশনা জমির মালিকদের

ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের জরুরি নির্দেশনা জমির মালিকদের

সারাদেশের ভূমি মালিকদের জন্য ভূমি উন্নয়ন কর (খাজনা) পরিশোধ সংক্রান্ত জরুরি নির্দেশনা জারি করেছে সরকার। আগামী ৩০ জুনের মধ্যে চলতি অর্থবছরের বকেয়াসহ সব ধরনের ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ করতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে জমি সুরক্ষায় ডিজিটাল পদ্ধতি ব্যবহারের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। ভূমি মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক বার্তায় জানানো হয়, নাগরিকরা এখন ঘরে বসেই অনলাইনে ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ করতে পারবেন। এ জন্য ব্যবহার করতে হবে land.gov.bd ওয়েবসাইট।অনলাইনে কর পরিশোধের পদ্ধতিনির্দেশনায় বলা হয়েছে, কর পরিশোধের জন্য প্রথমে নির্ধারিত পোর্টালে নিবন্ধন করতে হবে। এরপর খতিয়ান ও জোত সংক্রান্ত তথ্য দিয়ে করের পরিমাণ জানা যাবে এবং মোবাইল ব্যাংকিং বা কার্ডের মাধ্যমে সহজেই পরিশোধ করা যাবে। সরকারের লক্ষ্য ভূমি ব্যবস্থাপনাকে সম্পূর্ণ স্মার্ট ও স্বচ্ছ করা।সময়সীমা না মানলে সুদমন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কর পরিশোধ না করলে বকেয়ার ওপর আইন অনুযায়ী সুদ আরোপ হতে পারে। তাই ৩০ জুনের মধ্যেই কর পরিশোধ করে আইনি জটিলতা এড়াতে নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।সুবিধা ও স্বচ্ছতাসরকার বলছে, অনলাইন পদ্ধতি চালুর ফলে এখন আর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে গিয়ে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়ানোর প্রয়োজন হবে না। এতে সময় ও খরচ দুটোই সাশ্রয় হবে এবং ভূমি কর আদায়ে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পাবে, পাশাপাশি মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাব কমবে।সরকারের এই উদ্যোগ ভূমি কর পরিশোধ প্রক্রিয়াকে সহজ, স্বচ্ছ ও সময়োপযোগী করবে। অনলাইন সুবিধা চালু হওয়ায় সাধারণ ভূমি মালিকদের হয়রানি কমবে। তবে সময়সীমার মধ্যে কর না দিলে সুদ গুনতে হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে। তাই আগামী ৩০ জুনের মধ্যে সবাই যেন অনলাইনে কর পরিশোধ করে তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও জনসচেতনতার ওপর।
৩ ঘন্টা আগে
২০১৪ বিশ্বকাপজয়ী দলের একমাত্র সদস্য নয়্যার, জার্মানির ২৬ সদস্যের স্কোয়াড ঘোষণা

২০১৪ বিশ্বকাপজয়ী দলের একমাত্র সদস্য নয়্যার, জার্মানির ২৬ সদস্যের স্কোয়াড ঘোষণা

২০২৬ ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপকে সামনে রেখে ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত দল ঘোষণা করেছে জার্মানি ফুটবল দল। তবে দল ঘোষণার সবচেয়ে বড় চমক হলো গোলকিপার ম্যানুয়েল নয়্যারের প্রত্যাবর্তন। ৪০ বছর বয়সী এই অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ২০২৪ ইউরোর পর আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানিয়েছিলেন। কিন্তু তাকে শুধু দলে ফেরানোই হয়নি, বরং প্রধান কোচ জুলিয়ান নাগলসমান তাকে দলের এক নম্বর গোলকিপার হিসেবেও ঘোষণা দিয়েছেন।নয়্যারের ফেরাবৃহস্পতিবার (২১ মে) ফ্রাঙ্কফুর্টে এক সংবাদ সম্মেলনে জার্মানির বিশ্বকাপ স্কোয়াড ঘোষণা করেন নাগলসমান। নয়্যার গত মাসেও জানিয়েছিলেন, জাতীয় দলের জার্সি গায়ে দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই। কিন্তু মত বদলে তাকে বিশ্বকাপ স্কোয়াডে ফিরিয়ে এনেছেন দলের কোচ। ২০১৪ বিশ্বকাপজয়ী দলের একমাত্র খেলোয়াড় হিসেবে শুধু নয়্যারই থাকছেন এবারের আসরে।অধিনায়ক ও অন্যান্য তারকাআসন্ন বিশ্বকাপে জার্মানির আর্মব্যান্ড পরবেন জোশুয়া কিমিখ। সমালোচনা সত্ত্বেও উইঙ্গার লেরয় সানেকেও দলে ডাকা হয়েছে। চোট কাটিয়ে দলে ফিরেছেন বায়ার্ন মিডফিল্ডার জামাল মুসিয়ালা। এছাড়া আছেন ফ্লোরিয়ান ভার্টজ, কাই হাভার্টজ, পাসকাল গ্রস ও মালিক থিয়াও।পূর্ণাঙ্গ স্কোয়াডগোলকিপার: মানুয়েল নয়্যার, অলিভার বাউমান, আলেকজান্ডার ন্যুবেল।ডিফেন্ডার: অ্যান্টোনিও রুডিগার, জোনাথন টাহ, নিকো শ্লটারবেক, ভালডেমার আন্টন, ডেভিড রাউম, মালিক থিয়াও, নাথানিয়েল ব্রাউন।মিডফিল্ডার: ফেলিক্স এনমেচা, পাসকাল গ্রস, ফ্লোরিয়ান ভার্টজ, জামাল মুসিয়ালা, লিয়ন গোরেৎসকা, অ্যাঞ্জেলো স্টিলার, লেনার্ট কার্ল, নাদিম আমিরি, জোশুয়া কিমিখ, আলেকজান্ডার পাভলোভিচ, জেমি লেভেলিং।ফরোয়ার্ড: কাই হাভার্টজ, ডেনিজ উনদাভ, লিরয় সানে, নিকোলাস ভোল্টেমাড, মাক্সিমিলিয়ান বায়ার।নয়্যারের প্রত্যাবর্তন জার্মান শিবিরে বাড়তি আত্মবিশ্বাস জোগাবে। ৪০ বছর বয়সেও তাঁর অভিজ্ঞতা দলের জন্য অমূল্য। কিমিখের নেতৃত্বে এবং মুসিয়ালা, ভার্টজ ও সানের মতো তারকাদের নিয়ে জার্মানি বিশ্বকাপে ভালো কিছু করার স্বপ্ন দেখছে। ২০১৪ সালের চ্যাম্পিয়নরা এখন আবার শিরোপার আশায়।
৯ ঘন্টা আগে
১৫ এপ্রিল ২০২৬, ১২:১১ এএম
আপনি কি মনে করেন বিএনপি জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর ও শব্দ বাস্তবায়ন করবে?

আপনি কি মনে করেন বিএনপি জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর ও শব্দ বাস্তবায়ন করবে?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ জন
২৪ ঘণ্টায় হাম ও উপসর্গে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু, দেড় মাসে নিহত ৪৩৯

২৪ ঘণ্টায় হাম ও উপসর্গে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু, দেড় মাসে নিহত ৪৩৯

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় (বুধবার সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা) হাম ও হামের উপসর্গে নিয়ে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে হামের উপসর্গে এবং ১ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হামে। একই সময়ে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ৫১৮ জন।বৃহস্পতিবার (১৪ মে) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত দেড় মাসে সারা দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৪৩৯ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে পরীক্ষায় নিশ্চিত হামে মারা গেছে ৭০ জন এবং উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ৩৬৯ জন।একই সময়ে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়েছে (পরীক্ষায় প্রমাণিত) ৭ হাজার ৩০৫ জন। আর হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে এসেছে ৫৪ হাজার ৪১৯ জন।ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানিস্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত ও মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে ঢাকা বিভাগে। বিভাগটিতে হাম ও উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ১৯২ জন এবং আক্রান্ত হয়েছে ২৯ হাজার ৪৮১ জন।নিবিড় পর্যবেক্ষণে সরকারহামের প্রকোপ নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বিভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। ইতিমধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করা হয়েছে। অভিভাবকদের সন্তানের জ্বর, সর্দি ও র্যাশ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক রোগ। সময়মতো টিকা নিলে এই রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব। অভিভাবকদের সন্তানের টিকার কার্ড পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় টিকা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
১৪ মে ২০২৬
নবম জাতীয় পে স্কেলের সম্ভাব্য বেতন গ্রেডের খসড়া প্রকাশ

নবম জাতীয় পে স্কেলের সম্ভাব্য বেতন গ্রেডের খসড়া প্রকাশ

সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে ২০২৬ সালে নতুন জাতীয় বেতন কাঠামো বা নবম পে স্কেল ঘোষণার বিষয়ে জোরালো আলোচনা শুরু হয়েছে। স্বাধীনতার পর ১৯৭৩ সালে প্রথম বেতন স্কেল কার্যকর হওয়ার পর থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত দেশে মোট আটবার নতুন বেতন কাঠামো প্রণয়ন করা হয়েছে। সাধারণত প্রতি পাঁচ বছর অন্তর নতুন পে স্কেল দেওয়ার রীতি থাকলেও বিশ্বজুড়ে মহামারি পরিস্থিতি এবং সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক চাপের কারণে এই প্রক্রিয়া বেশ কয়েক বছর পিছিয়ে যায়। তবে চলতি বছরের শুরু থেকেই সচিবালয়সহ সরকারি প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে নতুন বেতন কাঠামো নিয়ে নতুন করে আশা জাগ্রত হয়েছে।সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, প্রস্তাবিত নবম জাতীয় বেতন কাঠামো নিয়ে সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা চলছে। এ লক্ষ্যে গঠিত ১০ সদস্যের একটি বিশেষ উচ্চপর্যায়ের কমিটি বিভিন্ন সুপারিশ ও আর্থিক দিক বিশ্লেষণ করে চূড়ান্ত মতামত তৈরির কাজ করছে। বিশেষ করে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং মুদ্রাস্ফীতির সঙ্গে সংগতি রেখে সরকারি কর্মচারীদের জীবনমান উন্নয়নের বিষয়টি এই কমিটিতে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। কমিটি দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাদের সুপারিশমালা পেশ করবে বলে জানা গেছে।প্রস্তাবিত এই নবম পে স্কেলের একটি সম্ভাব্য খসড়া নিয়ে বর্তমানে সরকারি মহলে ব্যাপক কৌতূহল ও আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। যদিও এটি একটি প্রাথমিক প্রস্তাব মাত্র, তবুও এতে ১ নম্বর গ্রেডের বেতন নির্ধারিত ধরা হয়েছে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা। একইভাবে ১০ নম্বর গ্রেডের বেতন ৩২ হাজার থেকে ৭৭ হাজার ৩০০ টাকা এবং সর্বনিম্ন ২০ নম্বর গ্রেডের বেতন ২০ হাজার থেকে ৪৮ হাজার ৪০০ টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে বলে গুঞ্জন রয়েছে। নবম গ্রেডের কর্মকর্তাদের বেতন ৪৫ হাজার ১০০ টাকা থেকে ১ লাখ ৮ হাজার ৮০০ টাকার মধ্যে রাখার প্রস্তাবনাও এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।প্রস্তাবিত বেতন স্কেলের খসড়াগ্রেড ও বেতন স্কেল (টাকা):০১: ১,৬০,০০০ (নির্ধারিত)০২: ১,৩২,০০০ – ১,৫৩,০০০০৩: ১,১৩,০০০ – ১,৪৮,৮০০০৪: ১,০০,০০০ – ১,৪২,৪০০০৫: ৮৬,০০০ – ১,৩৯,৭০০০৬: ৭১,০০০ – ১,৩৪,০০০০৭: ৫৮,০০০ – ১,২৬,৮০০০৮: ৪৭,২০০ – ১,১৩,৭০০০৯: ৪৫,১০০ – ১,০৮,৮০০১০: ৩২,০০০ – ৭৭,৩০০১১: ২৫,০০০ – ৬০,৫০০১২: ২৪,৩০০ – ৫৮,৭০০১৩: ২৪,০০০ – ৫৮,০০০১৪: ২৩,৫০০ – ৫৬,৮০০১৫: ২২,৮০০ – ৫৫,২০০১৬: ২১,৯০০ – ৫২,৯০০১৭: ২১,৪০০ – ৫১,৯০০১৮: ২১,০০০ – ৫০,৯০০১৯: ২০,৫০০ – ৪৯,৬০০২০: ২০,০০০ – ৪৮,৪০০উল্লেখ্য, এই তালিকাটি বর্তমানে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আলোচনার একটি অংশ মাত্র এবং এটি চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নয়। সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন বা গেজেট প্রকাশিত হওয়ার পরেই এই বেতন কাঠামো চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে। তবে বর্তমান অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে সরকারি কর্মচারীদের জন্য এই নতুন পে স্কেল বাস্তবায়ন করা সরকারের জন্য যেমন চ্যালেঞ্জিং, তেমনি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য এটি একটি বড় স্বস্তির সংবাদ হিসেবে দেখা দিচ্ছে। 
০৬ এপ্রিল ২০২৬
ট্রাম্পের ১০ শতাংশ বৈশ্বিক শুল্ক অবৈধ ঘোষণা করে বাণিজ্য আদালতের রায়

ট্রাম্পের ১০ শতাংশ বৈশ্বিক শুল্ক অবৈধ ঘোষণা করে বাণিজ্য আদালতের রায়

০৬ এপ্রিল ২০২৬
এআই নিয়ে আদালতে মাস্ক বনাম অল্টম্যান, এআইয়ের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে মামলা শুরু

এআই নিয়ে আদালতে মাস্ক বনাম অল্টম্যান, এআইয়ের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে মামলা শুরু

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে প্রভাব ফেলতে পারে এমন এক বহুল আলোচিত মামলার বিচারিক কার্যক্রম আজ মঙ্গলবার শুরু হয়েছে। চ্যাটজিপিটির নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ওপেনএআইয়ের বিবর্তন নিয়ে দুই বিলিয়নিয়ার ইলন মাস্ক ও স্যাম অল্টম্যান এখন আদালতের মুখোমুখি। অলাভজনক সংস্থা থেকে শত শত বিলিয়ন ডলারের মুনাফালোভী প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর নিয়ে তাদের এ আইনি লড়াই। সোমবার নয় জন জুরির সংক্ষিপ্ত তালিকা তৈরির পর আজ ক্যালিফোর্নিয়ার ওকল্যান্ডের ফেডারেল আদালতে মাস্কের করা দেওয়ানি মামলার প্রাথমিক শুনানি শুরু হয়েছে।মাস্কের অভিযোগ, ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যান এবং প্রেসিডেন্ট গ্রেগ ব্রকম্যান তার ও জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। মানবতার কল্যাণে কাজ করার মূল লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হয়ে তারা প্রতিষ্ঠানটিকে নিজেদের এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি ‘সম্পদ বানানোর যন্ত্রে’ পরিণত করেছেন। বিশ্বের শীর্ষ ধনী মাস্ক ওপেনএআই এবং এর অন্যতম বড় বিনিয়োগকারী মাইক্রোসফটের কাছে প্রায় ১৭ লাখ ৭০ হাজার কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন। তিনি চান এই অর্থ ওপেনএআইয়ের দাতব্য শাখায় জমা হোক। এছাড়া তিনি ওপেনএআইকে পুনরায় অলাভজনক সংস্থায় ফিরিয়ে নেওয়া এবং অল্টম্যান ও ব্রকম্যানকে তাদের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।টেসলা ও স্পেসএক্সের প্রতিষ্ঠাতা মাস্ক জানান, ওপেনএআইয়ের মূল লক্ষ্য বাস্তবায়নে তিনি প্রায় ৪৫ কোটি টাকা প্রারম্ভিক মূলধন দিয়েছিলেন। কিন্তু ২০১৮ সালে তিনি বোর্ড ছাড়ার পরপরই ২০১৯ সালে প্রতিষ্ঠানটি মুনাফাভিত্তিক ব্যবসায়িক মডেলে চলে যায়। অন্যদিকে ওপেনএআইয়ের দাবি, মাস্ক এই পরিবর্তনের কথা আগে থেকেই জানতেন এবং সমর্থন করেছিলেন। তাদের মতে, মাস্ক নিজে সিইও হতে ব্যর্থ হওয়ার পর এখন ঈর্ষান্বিত হয়ে নিজের এআই কোম্পানি এক্সএআইকে এগিয়ে নিতেই এই মামলা করেছেন।মার্কিন ডিস্ট্রিক্ট জজ ইভন গনজালেজ রজার্স জানিয়েছেন, তিনি আগামী ১২ মে’র মধ্যে জুরিদের সিদ্ধান্ত জানতে চান। এই মামলায় ইলন মাস্ক, স্যাম অল্টম্যান এবং মাইক্রোসফট প্রধান সত্য নাদেলা সাক্ষ্য দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, চলতি সপ্তাহেই কাঠগড়ায় দাঁড়াবেন মাস্ক।২০১৫ সালে গুগলকে টেক্কা দিতে এবং মানবতার কল্যাণে এআই তৈরির লক্ষ্যে মাস্ক ও অল্টম্যান ওপেনএআই প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। ব্রকম্যানের সাধারণ একটি অ্যাপার্টমেন্টের ল্যাব থেকে শুরু হওয়া সংস্থাটির বর্তমান বাজারমূল্য ৮৫০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। এই মামলা ওপেনএআইয়ের সম্ভাব্য শেয়ার বাজার বা আইপিও আসার পরিকল্পনাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে এবং এআই প্রযুক্তি নিয়ে সাধারণ মানুষের ভীতি আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।এদিকে ওপেনএআইয়ের প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যানথ্রোপিকসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলোও এখন বাজার ধরতে মরিয়া। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইপিওতে আসলে ওপেনএআইয়ের বাজারমূল্য ১ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। বর্তমানে ওপেনএআই নিজেদের কাঠামো সংস্কার করে একটি ‘পাবলিক বেনিফিট কর্পোরেশন’-এ রূপান্তর করেছে, যেখানে মূল অলাভজনক শাখার ২৬ শতাংশ অংশীদারিত্ব রয়েছে। এই আইনি লড়াই কেবল দুই ধনকুবেরের দ্বন্দ্ব নয়, বরং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নৈতিকতা ও বাণিজ্যিক ব্যবহারের ভবিষ্যৎ কোন পথে যাবে—তা নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখবে।সূত্র: রয়টার্স, এএফপি
২৮ এপ্রিল ২০২৬
নাগরিকত্বের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সন্তান জন্ম দেওয়া ভিসা শর্তের পরিপন্থি: মার্কিন দূতাবাস

নাগরিকত্বের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সন্তান জন্ম দেওয়া ভিসা শর্তের পরিপন্থি: মার্কিন দূতাবাস

ক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পাওয়ার উদ্দেশ্যে দেশটিতে গিয়ে সন্তান জন্ম দেওয়া এখন থেকে ভিসার শর্তের পরিপন্থি হিসেবে গণ্য হবে। এমন উদ্দেশ্যে কেউ ভিসা আবেদন করলে তা সরাসরি বাতিল করা হবে বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে মার্কিন দূতাবাস।বুধবার সকালে দূতাবাসের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বিশেষ সতর্কবার্তায় এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।কী বলছে দূতাবাসের সতর্কবার্তাদূতাবাসের পোস্টে উল্লেখ করা হয়, কোনো ব্যক্তি যদি মূলত সন্তানের মার্কিন নাগরিকত্ব নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের পরিকল্পনা করেন, তবে তা দেশটির বর্তমান ভিসা নীতিমালার পরিপন্থি।কনস্যুলার কর্মকর্তারা যদি সাক্ষাৎকার বা তদন্তের মাধ্যমে বুঝতে পারেন যে আবেদনকারীর মূল লক্ষ্য সন্তান জন্ম দিয়ে নাগরিকত্ব অর্জন, তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ট্যুরিস্ট ভিসা আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হবে।সতর্কবার্তায় আরও বলা হয়, এ ধরনের কার্যক্রম মার্কিন ভিসা নীতিমালার গুরুতর লঙ্ঘন। তাই আবেদনকারীদের শুধু প্রকৃত এবং সঠিক উদ্দেশ্য উল্লেখ করে আবেদন করার আহ্বান জানিয়েছে দূতাবাস।কঠোর সতর্কতাভিসা পাওয়ার জন্য ভুল তথ্য প্রদান বা ভিসার শর্ত ভঙ্গ করলে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের ক্ষেত্রে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা বা নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলেও সতর্কবার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে।অর্থাৎ, কেউ যদি এ উদ্দেশ্যে ভিসা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সন্তান জন্ম দেন এবং তা প্রমাণিত হয়, তাহলে পরবর্তীতে তার যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়া পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যেতে পারে।যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে জন্ম নিলে সন্তান স্বয়ংক্রিয়ভাবে সে দেশের নাগরিক হয় – এই সুযোগ কাজে লাগাতে অনেকেই আগে ট্যুরিস্ট ভিসায় গিয়ে সন্তান প্রসব করতেন। এখন থেকে সেই পথ কার্যকরীভাবে বন্ধ করে দিলো মার্কিন দূতাবাস। শুধু ভিসা বাতিল নয়, ভবিষ্যতেও যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞার হুঁশিয়ারি দেওয়ায় এই সিদ্ধান্তকে ‘চরম কঠোর’ বলছেন অভিবাসন বিশ্লেষকরা। ফলে আবেদনকারীদের এখন ভিসা আবেদনের আগে তিনবার ভাবতে হবে।
০৬ এপ্রিল ২০২৬
ষাট গম্বুজ মসজিদ

ষাট গম্বুজ মসজিদ

বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমের জেলা বাগেরহাট। সবুজ শ্যামলিমা আর নদী-খাল বেষ্টিত এই জনপদকে বিশ্বের দরবারে পরিচিতি এনে দিয়েছে একটি অনন্য স্থাপনা – ষাট গম্বুজ মসজিদ। ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী তিনটি স্থানের একটি এই মসজিদ মুসলিম স্থাপত্যের এক অপূর্ব নিদর্শন। যেখানে ইতিহাস, আধ্যাত্মিকতা আর নির্মাণকৌশলের মিলন ঘটেছে চুন-সুরকি আর পাথরের বাঁধনে।ইতিহাসের আঁধার আলো: কে, কবে, কেন?মসজিদটির গায়ে কোনো শিলালিপি নেই। তাই এটি কে নির্মাণ করেছিলেন বা কোন সময়ে নির্মিত হয়েছিল, তা নিয়ে সঠিক তথ্য পাওয়া যায় না। তবে স্থাপত্যশৈলী ঘেঁটে ইতিহাসবিদরা প্রায় নিশ্চিত – এ মসজিদ পীর খানজাহান আলী (রহ.)-এর হাতেই গড়ে উঠেছিল। ধারণা করা হয়, তিনি পঞ্চদশ শতাব্দীর মাঝামাঝি (আনুমানিক ১৪৪২-১৪৫৯ খ্রিস্টাব্দ, অনেকের মতে ১৫০০ শতাব্দীতে) এটি নির্মাণ করেন।সুলতান নাসিরউদ্দিন মাহমুদ শাহের আমলে খান-ই-জাহান সুন্দরবনের কোল ঘেঁষে ‘খলিফাতাবাদ’ রাজ্য গড়ে তোলেন। দরবার ও নামাজের জন্য তিনি একটি বিশাল হল নির্মাণের উদ্যোগ নেন, যা কালক্রমে ‘ষাট গম্বুজ মসজিদ’ নামে পরিচিতি পায়। জনশ্রুতি আছে, মসজিদের পাথর চট্টগ্রাম থেকে আনা হয়েছিল। আবার কেউ কেউ বলেন, ভারতের উড়িষ্যার রাজমহল থেকে অলৌকিক ক্ষমতাবলে জলপথে ভাসিয়ে আনা হয়েছিল। বাস্তবে পাথরগুলো রাজমহল থেকেই আনা – এ নিয়ে ঐতিহাসিকরা একমত।নামকরণের নানা কাহিনিমসজিদটির নাম নিয়েও আছে নানা মত।ষাট গম্বুজ কেন? সংস্কৃত ‘সাত’ ও ফারসি ‘ছাদ’ মিলে ‘ছাদ গম্বুজ’ থেকে কথ্যরূপে ‘ষাট গম্বুজ’ হয়েছে বলে এক মত।আবার অন্য মতে, মসজিদের ভেতরে ছয়টি সারিতে দশটি করে মোট ৬০টি পাথরের স্তম্ভ (খাম্বা) আছে। স্তম্ভের ওপর ছাদ নির্মিত, তাই ‘ষাট খাম্বা’ থেকে ‘ষাট গম্বুজ’।গম্বুজের প্রকৃত সংখ্যা: নাম ‘ষাট গম্বুজ’ হলেও আসলে এখানে গম্বুজ ৬০টি নয়। মূল ভবনে ১১টি সারিতে ৭৭টি গম্বুজ, চার কোণার মিনারের ওপর চারটি গম্বুজ – মোট ৮১টি গম্বুজ। ৭৭টির মধ্যে ৭৪টিই অর্ধগোলাকার, শুধু মাঝের সারির সাতটি দেখতে বাংলার চৌচালা ঘরের চালের মতো।তাই অনেক গবেষক মনে করেন, মসজিদটির আসল নাম হওয়া উচিত ছিল ‘ষাট স্তম্ভ মসজিদ’ – কারণ এখানে প্রধান আকর্ষণ সেই ৬০টি পাথরের স্তম্ভ।স্থাপত্যের অনন্য বুননষাট গম্বুজ মসজিদের স্থাপত্যশৈলীতে মিশেছে মধ্য এশিয়ার তুঘলক (তুরস্ক) ও জৌনপুরী ধারা, আবার রয়েছে স্থানীয় বাংলার ছোঁয়া।আকার ও পরিমাপবাইরের দিক: উত্তর-দক্ষিণে ১৬০ ফুট, পূর্ব-পশ্চিমে ১০৪ ফুট।ভেতরের দিক: উত্তর-দক্ষিণে ১৪৩ ফুট, পূর্ব-পশ্চিমে ৮৮ ফুট।দেয়ালের পুরুত্ব: প্রায় ৮.৫ ফুট। ইটের তৈরি এসব দেয়াল অসাধারণ মজবুত।দরজা ও জানালাপূর্ব দেয়ালে ১১টি খিলানযুক্ত দরজা – মাঝেরটি সবচেয়ে বড়।উত্তর ও দক্ষিণ দেয়ালে ৭টি করে মোট ১৪টি দরজা।এই অসংখ্য দরজা আলো ও বাতাস চলাচলের জন্য তৈরি, তবু ভেতরের দিকটা কিছুটা অন্ধকারাচ্ছন্ন – যা উপাসনার গাম্ভীর্য বাড়ায়।মিনার ও কোঠাচার কোণে চারটি গোলাকার মিনার। এদের চূড়ায় ছোট গম্বুজ। ছাদের কার্নিশের চেয়ে মিনারগুলো কিছুটা উঁচু। সামনের দিকের দুটি মিনারের ভেতর প্যাঁচানো সিঁড়ি – একসময় এখান থেকে আজান দেওয়া হতো।রওশন কোঠা: দক্ষিণ-পূর্ব কোণের বুরুজ – আলো-বাতাসে ভরা।আন্ধার কোঠা: উত্তর-পূর্ব কোণের বুরুজ – তুলনামূলক অন্ধকার।ভেতরের স্তম্ভ ও গম্বুজের জঙ্গলভেতরে ৬০টি পাথরের স্তম্ভ – উত্তর থেকে দক্ষিণে ছয় সারিতে, প্রতিসারিতে দশটি করে। প্রতিটি স্তম্ভ পাথর কেটে বানানো, তবে পাঁচটি স্তম্ভ পরে ইট দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। এই স্তম্ভের ওপর ভর করেই গম্বুজগুলো দাঁড়িয়ে। এক কথায়, এটি খিলান-স্তম্ভ-গম্বুজের এক বিস্ময়কর সমন্বয়।মিহরাব ও মিম্বারপশ্চিম দেয়ালে ১০টি মিহরাব। মাঝের মিহরাবটি সবচেয়ে বড় ও কারুকার্যপূর্ণ। এর দক্ষিণে ৫টি, উত্তরে ৪টি মিহরাব। উত্তরে যেখানে একটি মিহরাব থাকার কথা, সেখানে রয়েছে একটি ছোট দরজা – অনেকে মনে করেন, এটি খানজাহান আলীর দরবার হলের প্রবেশপথ ছিল। ইমামের বসার জন্য রয়েছে পাথরের মিম্বার।রডবিহীন নির্মাণসবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো – এই মসজিদে কোনো লোহার রড ব্যবহার করা হয়নি। শুধু চুন, সুরকি, কালো পাথর ও ছোট ইট দিয়ে তৈরি এই কাঠামো প্রায় ৬০০ বছর ধরে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে।ইউনেস্কোর স্বীকৃতি ও বর্তমান অবস্থা১৯৮৩ সালে (অনেক সূত্রে ১৯৮৫) ইউনেস্কো বাগেরহাট শহরটিকেই ‘ঐতিহাসিক মসজিদ শহর’ হিসেবে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের মর্যাদা দেয়। আর এই মর্যাদার কেন্দ্রবিন্দু হলো ষাট গম্বুজ মসজিদ।বর্তমানে মসজিদটি বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর ও ইউনেস্কোর যৌথ তত্ত্বাবধানে সংরক্ষিত। এখনো এখানে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামাতের সাথে আদায় করা হয়। একসঙ্গে মসজিদের ভেতরে প্রায় দুই হাজার মুসল্লি নামাজ পড়তে পারেন।ভ্রমণ তথ্য: কখন, কীভাবে, কত টাকা?প্রবেশ ফিদেশি পর্যটক: ৩০ টাকা (অনেক সূত্রে ২০ টাকাও উল্লেখ আছে – বর্তমানে ৩০ টাকাই বেশি প্রচলিত)মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষার্থী: ১০ টাকাসার্কভুক্ত দেশের নাগরিক: ২০০ টাকাঅন্যান্য বিদেশি: ৫০০ টাকাশিশু (০-১০ বছর) ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী: বিনামূল্যেঅনলাইন টিকেট: চাইলে myGOV ওয়েবসাইট থেকে কিউআর কোডযুক্ত টিকেট কেটে নিতে পারেন।খোলা ও বন্ধের সময়গ্রীষ্মকাল (গরমকাল): সকাল ১০টা – সন্ধ্যা ৬টাশীতকাল: সকাল ৯টা – বিকেল ৫টামধ্যাহ্ন বিরতি: দুপুর ১টা – ১টা ৩০ মিনিট (উভয় মৌসুমে)শুক্রবার বিশেষ বন্ধ: জুমার নামাজের জন্য দুপুর ১২টা ৩০ মিনিট – বিকেল ৩টা ৩০ মিনিটসাপ্তাহিক ছুটি: রোববার সারাদিন বন্ধ (সোমবার দুপুর ২টা থেকে খোলে)টিপস: নামাজের সময় (ফজর, যোহর, আসর, মাগরিব, এশা) স্থানীয় মুসল্লিরা প্রবেশ করতে পারেন বিনামূল্যে। তবে পর্যটকদের নির্ধারিত সময় ও টিকিট মেনে চলতে হবে।মসজিদ চত্বরে জাদুঘরপ্রধান ফটকের ডান পাশে বাগেরহাট জাদুঘর। এখানে খানজাহান আমলের প্রাচীন মুদ্রা, পোড়ামাটির ফলক, অসংখ্য প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন – এমনকি খানজাহানের দিঘির ঐতিহ্যবাহী ‘কালা পাহাড়’ ও ‘ধলা পাহাড়’ কুমিরের মমি সংরক্ষিত আছে।জাদুঘরের সময়: গ্রীষ্মে সকাল ১০টা – সন্ধ্যা ৬টা, শীতে সকাল ৯টা – বিকেল ৫টা।মধ্যাহ্ন বিরতি: দুপুর ১টা – দেড়টা।ছুটি: রোববার সারাদিন।একই টিকিটে জাদুঘর ও মসজিদ কমপ্লেক্স ঘুরতে পারবেন।যাতায়াত: ঢাকা থেকে বাগেরহাটবাসেঢাকার সায়দাবাদ ও গাবতলী বাস টার্মিনাল থেকে নিয়মিত বাস ছাড়ে। উল্লেখযোগ্য পরিবহন: মেঘনা, বনফুল, ফাল্গুনী, আরা, পর্যটক, বলেশ্বর, হামিম, দোলা, সোহাগ, শাকুরা, হানিফ, কমফোর্ট লাইন, ঈগল।ভাড়া: ৬৫০-৮০০ টাকা (প্রতি জন)।সময়: সকাল ৬টা-১০টা এবং সন্ধ্যা ৭টা-রাত ১০টা পর্যন্ত ছাড়ে।বাগেরহাট বাসস্ট্যান্ড নেমে রিকশা বা সিএনজি নিলে ৩০-৪০ টাকায় পৌঁছে যাবেন ষাট গম্বুজ মসজিদে (সুন্দরঘোনা গ্রাম, খুলনা-বাগেরহাট মহাসড়কের উত্তর পাশে)।ট্রেনেঢাকা থেকে সুন্দরবন এক্সপ্রেস খুলগামী ট্রেনে খুলনা যান। সেখান থেকে বাস বা সিএনজিতে বাগেরহাট (সময় লাগে ১-১.৫ ঘণ্টা)।কোথায় থাকবেন?বাগেরহাটে তেমন বিলাসবহুল হোটেল নেই, তবে মাঝারি মানের থাকার জায়গা আছে।রেল রোডে মমতাজ হোটেল – সুযোগ-সুবিধা কম, কিন্তু সেবা ভালো। খরচ তুলনামূলক বেশি।খান জাহান আলীর মাজারের সামনে হোটেল অভি – মেইন হাইওয়েতে অবস্থিত।কেন্দ্রীয় বাসস্টেশন সংলগ্ন হোটেল আল আমিন এবং কর্মকার পট্টিতে হোটেল মোহনা।খুলনা খুব কাছে বলে চাইলে খুলনা গিয়েও রাত কাটাতে পারেন।খাওয়ার ব্যবস্থাবাসস্ট্যান্ড ও দরগার আশপাশে কয়েকটি মোটামুটি মানের হোটেল আছে। তবে দাম ও মান সম্পর্কে আগে জেনে নেওয়া ভালো। স্থানীয় মাছ ও ভাত খেতে পারেন – বাগেরহাটের ইলিশ বেশ有名।দক্ষিণাঞ্চলের সর্ববৃহৎ ঈদের জামাতষাট গম্বুজ মসজিদ শুধু একটি পর্যটন কেন্দ্র নয় – এটি জীবন্ত একটি উপাসনালয়। প্রতি ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহায় এখানে দেশ-বিদেশের প্রায় অর্ধলাখ মুসল্লি জড়ো হন। এটি দক্ষিণাঞ্চলের সর্ববৃহৎ ঈদের জামাত। রমজান মাসে দুই হাফেজ খতম তারাবির নামাজ পড়ান এবং মুসল্লিদের জন্য ইফতারের ব্যবস্থা থাকে।আশপাশের দর্শনীয় স্থানমসজিদ ঘুরে সময় থাকলে আরও কয়েকটি স্থান দেখতে পারেন:বিবি বেগনির মসজিদ (৫০০ মিটার পেছনে) – ফুলের কারুকার্যময়।চুনাখোলা মসজিদ (বিবি বেগনির আরও ৫০০ মিটার পেছনে)।সিঙ্গাইর মসজিদ (মহাসড়কের পাশে)।নয় গম্বুজ মসজিদখান জাহান আলীর মাজারঘোড়া দিঘি ও রণবিজয়পুর দিঘিমোংলা বন্দর (চাইলে সুন্দরবন যাতায়াতের গেটওয়ে)।ভ্রমণে যা মেনে চলবেনহালকা ও আরামদায়ক পোশাক পরুন – সুতির কাপড় উত্তম।পর্যাপ্ত পানি, বিস্কুট, মুড়ি, চিড়া ইত্যাদি সঙ্গে রাখুন।মোবাইলের চার্জার ও পাওয়ার ব্যাংক নিতে ভুলবেন না।জ্বর, সর্দি, গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ ও স্যালাইন রাখুন।মসজিদে প্রবেশের আগে জুতা বাইরে রেখে পায়ে মোজা পরে প্রবেশ করুন।নামাজরত মুসল্লিদের বিরক্ত করবেন না। নির্ধারিত পর্যটক এলাকায় ঘুরুন।টিকিট কাটার পর জাদুঘর দেখতে ভুলবেন না – এটি একই ফিতে।শেষকথাষাট গম্বুজ মসজিদ শুধু পাথর-চুন-সুরকির গাঁথনি নয়; এটি বাংলার ইতিহাস, সংস্কৃতি ও মুসলিম স্থাপত্যের এক জীবন্ত দলিল। এখানে দাঁড়ালে সময় থমকে দাঁড়ায়। শুনতে পাবেন খানজাহানের আজানের প্রতিধ্বনি, দেখতে পাবেন অর্ধগোলাকার গম্বুজের সারি মেঘ ছুঁতে চায়।আপনিও একবার চলে আসুন বাগেরহাটে। ষাট গম্বুজের ছায়ায় দাঁড়ান। ইতিহাসের স্পর্শ নিন। আর এই অসাধারণ স্থাপত্যের সাক্ষী হয়ে ফিরে আসুন – নতুন এক অভিজ্ঞতা নিয়ে।
গণবার্তা ফিচার