ঢাকা    বুধবার, ০৫ আগস্ট ২০২৬
ঢাকা    বুধবার, ০৫ আগস্ট ২০২৬
গণবার্তা
সর্বশেষ

জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্ক সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী

আগামী সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ৮১) উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনে অংশ নিতে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আগামী ২১ সেপ্টেম্বর তার নিউইয়র্কে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। সফরকালে তিনি জাতিসংঘের অধিবেশনে ভাষণ দেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। এছাড়া তার সম্মানে একটি নাগরিক সংবর্ধনার আয়োজন করা হবে।নিউইয়র্কের কর্মসূচি শেষে ক্যালিফোর্নিয়ার সানফ্রান্সিসকোতে আয়োজিত দুই দিনের একটি অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর সেখান থেকেই দেশে ফেরার কথা রয়েছে তার। সরকারের নির্ভরযোগ্য সূত্র এবং যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সংশ্লিষ্ট নেতাদের তথ্য অনুযায়ী, পুরো যুক্তরাষ্ট্র সফর ৮ থেকে ১০ দিনের হতে পারে।বিশ্লেষকরা বলছেন, এবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। ফলে দীর্ঘ চল্লিশ বছর পর জাতিসংঘ সদর দপ্তরের মিলনায়তনে একই সঙ্গে বাংলাদেশের সরকারপ্রধান ও সভাপতির আসন যেন সমসাময়িক বিশ্ব রাজনীতিতে বিরল এক কূটনৈতিক দৃশ্যপট প্রত্যক্ষ করতে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়। সরকারপ্রধানের সফর নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সফরসূচি ও অন্যান্য কর্মসূচি তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন বলে জানা গেছে।দীর্ঘ প্রায় দুই দশক পর প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের যুক্তরাষ্ট্র সফরকে ঘিরে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি ও এর বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা সফর উপলক্ষে নানা প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ২০০৬ সালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের সময় সর্বশেষ যুক্তরাষ্ট্র সফর করেছিলেন তিনি। এবার তার সফরকে স্মরণীয় করে রাখতে এবং তাকে স্বাগত জানাতে নিউইয়র্কে বড় পরিসরের একটি নাগরিক সংবর্ধনার আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে। এই লক্ষ্যে ইতোমধ্যে ভার্চুয়াল যৌথ প্রস্তুতি সভা করেছেন যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির নীতিনির্ধারক ও স্থানীয় নেতারা। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীর নিউইয়র্কে সমবেত হওয়ার কথা রয়েছে।এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী গণমাধ্যমকে বলেন, প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে যাওয়ার কথা রয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো শিডিউল চূড়ান্ত হয়নি। সফরসূচি চূড়ান্ত করা নিয়ে কার্যক্রম চলছে।প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ সফরের সময়সূচি ও গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি প্রসঙ্গে কূটনৈতিক ও দলীয় সূত্রগুলো বলছে, আগামী ২১ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর বহর নিউইয়র্কে পৌঁছানোর সম্ভাব্য সূচি নির্ধারিত রয়েছে। অধিবেশনে যোগদানের পাশাপাশি তিনি সফরকালে বিশ্বনেতাদের সঙ্গে একাধিক দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নিতে পারেন। পরে ২৪ সেপ্টেম্বর বিকেলে জাতিসংঘের সদর দপ্তরের মূল মিলনায়তনে তিনি সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বিশ্বনেতাদের উদ্দেশে তার বহুল প্রতীক্ষিত ঐতিহাসিক ভাষণ তুলে ধরবেন।উল্লেখ্য যে, সরকার গঠনের পর প্রথম বিদেশ সফর হিসেবে গত ২১ থেকে ২৬ জুলাই মালয়েশিয়া এবং চীন সফর করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তার ওই দ্বিপক্ষীয় রাষ্ট্রীয় সফরে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে জনশক্তি রপ্তানি, পণ্য আমদানি-রপ্তানি, করিডোর স্থাপনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে এমওইউ এবং চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এরপর কয়েকটি দেশ সফরের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগদানের আগে প্রধানমন্ত্রী আপাতত অন্য কোনো দেশ সফরে যাচ্ছেন না বলে সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে।
১২ ঘন্টা আগে

শেখ হাসিনার ‘ওপেন’ গুলি করার নির্দেশের অডিও ফাঁস

চব্বিশের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের ওপর প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের ‘ওপেন’ আদেশ দিয়েছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছিলেন, 'যেখানে তাদের পাবে, গুলি করবে।' আল-জাজিরার হাতে আসা শেখ হাসিনার ফোনালাপের গোপন রেকর্ডে এমনটা উঠে আসে।টানা প্রায় ১৫ বছর বাংলাদেশ শাসন করেছেন শেখ হাসিনা। কয়েক সপ্তাহের বিক্ষোভ এবং বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে সরকারি বাহিনীগুলোর নৃশংস পদক্ষেপের পর ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তিনি পদত্যাগ করেন এবং ভারত পালিয়ে যান। বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তথ্য অনুযায়ী, এই বিক্ষোভ ঘিরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ১ হাজার ৪০০ জনকে হত্যা এবং ২০ হাজারের বেশি মানুষকে আহত করেছে।ফোনালাপ রেকর্ডিংগুলোতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে কোনো কারসাজি করা হয়েছে কি না, তা যাচাই করার জন্য অডিও ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের দিয়ে বিশ্লেষণ করিয়েছে আল-জাজিরার ইনভেস্টিগেটিভ ইউনিট (আই-ইউনিট)। এ ছাড়া ভয়েস ম্যাচিংয়ের (কণ্ঠ মিলিয়ে দেখা) মাধ্যমে ফোনালাপকারীদেরও শনাক্ত করা হয়েছে।ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টার (এনটিএমসি) কর্তৃক ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই রেকর্ড করা একটি ফোনকলে শেখ হাসিনা তার এক সহযোগীকে বলেন, তিনি তার নিরাপত্তা বাহিনীকে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছেন। শেখ হাসিনা বলেন, 'আমার নির্দেশনা দেওয়া আছে। ওপেন নির্দেশনা দিয়ে দিয়েছি একদম। এখন লিথাল ওয়েপনস (প্রাণঘাতী অস্ত্র) ব্যবহার করবে। যেখানে পাবে, সোজা গুলি করবে। ওইটা বলা আছে। আমি এত দিন বাধা দিয়ে রাখছিলাম...ওই যে স্টুডেন্টরা ছিল, ওদের সেফটির (নিরাপত্তার) কথা চিন্তা করে।'পরে ঢাকা দক্ষিণ সিটির তৎকালীন মেয়র ও তার আত্মীয় ফজলে নূর তাপসের সঙ্গে এই ফোনালাপে বিক্ষোভ দমনে হেলিকপ্টার ব্যবহার নিয়ে কথা বলেন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী। ফোন রেকর্ডে তাকে বলতে শোনা যায়, 'যেখানেই গ্যাদারিং (জমায়েত) দেখবে, সেখানে ওপর থেকে...এখন ওপর থেকে করা হচ্ছে, অলরেডি শুরু হয়ে গেছে কয়েকটা জায়গায়। কিছু (বিক্ষোভকারী) সরে গেছে।'ওই সময় বাংলাদেশের নিরাপত্তা বাহিনী বিক্ষোভকারীদের ওপর হেলিকপ্টার থেকে গুলি করার বিষয়টি অস্বীকার করেছিল। তবে ঢাকার পপুলার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক শাবির শরিফ আল-জাজিরার আই-ইউনিটকে বলেন, 'আমাদের হাসপাতালের সামনে হেলিকপ্টার থেকে টার্গেট করে গুলি ও টিয়ার শেল ফেলা হয়েছে।'চিকিৎসক শাবির শরিফ বলেন, চিকিৎসকেরা আহত বিক্ষোভকারীদের চিকিৎসা দেন, যাদের গুলির জখম ছিল অস্বাভাবিক। তিনি বলেন, 'এসব বুলেট হয় কাঁধ অথবা বুক দিয়ে ঢুকেছিল এবং সেগুলো শরীরের ভেতরে থেকে গিয়েছিল। আমরা ওই সময় এ ধরনের আরও রোগী পাচ্ছিলাম।' এই চিকিৎসক বলেন, 'আমরা যখন এক্স-রেগুলো দেখছিলাম, তখন এত গুলি দেখে আমরা অবাক হয়েছিল।' তবে কী ধরনের গুলি ব্যবহার করা হয়েছিল, তা যাচাই করে দেখতে পারেনি আল-জাজিরা।আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম বলেন, সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী জানতেন তার ফোনালাপ রেকর্ড করা হচ্ছে। তাজুল ইসলাম বলেন, 'কিছু কিছু ক্ষেত্রে ফোনের অপর প্রান্ত থেকে বলা হতো, ফোনে এ বিষয়ে আমাদের কথা বলা উচিত হবে না। সাবেক প্রধানমন্ত্রীর জবাব ছিল, হ্যাঁ, আমি জানি, জানি; আমি জানি এটা রেকর্ড করা হচ্ছে; সমস্যা নেই।'আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর বলেন, 'তিনি (শেখ হাসিনা) অন্যের জন্য অনেক গভীর গর্ত খুঁড়েছিলেন। এখন তিনিই এই গর্তে পড়েছেন।'উত্তরাঞ্চলীয় শহর রংপুরে ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই বিক্ষোভে পুলিশের গুলিতে নিহত হন শিক্ষার্থী আবু সাঈদ। তার মৃত্যু ওই আন্দোলনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। এতে সারা দেশে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে এবং বিক্ষোভ তীব্র হয়।গোপনে রেকর্ড হওয়া এক ফোনালাপে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সহযোগী এবং তার বেসরকারি বিনিয়োগ ও শিল্পবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানকে আবু সাঈদের ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার চেষ্টা করতে শোনা যায়। এই ফোনালাপে তিনি তৎকালীন পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের কাছে জেরার সুরে জানতে চেয়েছিলেন, প্রতিবেদন কোন পর্যায়ে আছে?রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক রাজিবুল ইসলাম আল-জাজিরাকে বলেন, একাধিক গুলির জখমের বিষয়টি বাদ দিতে পুলিশ তাকে পাঁচবার আবু সাঈদের ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পরিবর্তন করতে বাধ্য করেছিল। রাজিবুল হক বলেন, 'তারা (পুলিশ) এমন একটি প্রতিবেদন লেখাতে চেয়েছিল যে আবু সাঈদ ইটপাটকেলের আঘাতে আহত হয়ে মারা গেছেন...যদিও তিনি মারা গেছেন পুলিশের গুলিতে।'আল-জাজিরাকে দেওয়া লিখিত বক্তব্যে আওয়ামী লীগের একজন মুখপাত্র দাবি করেছেন, শেখ হাসিনা কখনোই 'প্রাণঘাতী অস্ত্র' শব্দবন্ধ ব্যবহার করেননি এবং নিরাপত্তা বাহিনীকে প্রাণঘাতী শক্তি প্রয়োগে সুনির্দিষ্ট অনুমোদন দেননি। ওই মুখপাত্র বলেন, 'এই (শেখ হাসিনার ফোনালাপ) রেকর্ডিং হয় আলাপের খণ্ডাংশ বা বিকৃত করা হয়েছে অথবা দুটিই করা হয়েছে।' আবু সাঈদের মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধানে সরকারের 'আন্তরিক' প্রচেষ্টা ছিল বলেও লিখিত বক্তব্যে দাবি করা হয়।
১২ ঘন্টা আগে

ঢাকায় আসছেন অ্যাডাম আব্বাস, বাফুফের নিয়োগ আরো তিন নতুন বিদেশি কোচ

আগামী সপ্তাহে ঢাকায় বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ইংলিশ ফুটবলার অ্যাডাম আব্বাস আসছেন। এছাড়াও জাতীয় দলের প্রধান কোচ থমাস ডলির কোচিং স্টাফকে শক্তিশালী করতে তিন বিদেশি কোচ নিয়োগ দিয়েছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। তাদের মধ্যে রয়েছেন একজন গোলকিপিং কোচ ও দুই সহকারী কোচ।অ্যাডাম আব্বাসের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, আগামী পাঁচ দিনের মধ্যেই বাংলাদেশ সফরে আসছেন অ্যাডাম আব্বাস। সফরকালে তিনি একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক ও নির্ধারিত কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। তবে তার সফরের উদ্দেশ্য ও পূর্ণাঙ্গ সূচি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেনি বাফুফে। যদিও সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এই বিষয়ে বিস্তারিত শিগগিরই জানানো হবে।এদিকে জাতীয় দলের প্রধান কোচ থমাস ডুলির সহকারী হিসেবে আরও তিন বিদেশি কোচ নিয়োগ দিয়েছে বাফুফে। নতুন এই নিয়োগের মাধ্যমে জাতীয় দলের কোচিং কাঠামো আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্য নিয়েছে সংস্থাটি। গোলকিপিং কোচ হিসেবে দায়িত্ব নিতে আসছেন জার্মানির ক্রিস্তিয়ান বারবুচাক।৪৯ বছর বয়সী এই কোচ খেলোয়াড়ি জীবনে জার্মানি ও স্লোভাকিয়ার বিভিন্ন বয়সভিত্তিক দলে খেলেছেন। ২০০৩ সালে কোচিং ক্যারিয়ার শুরু করা বারবুচাক ২০১১-১২ মৌসুমে কাজাখস্তান জাতীয় দলের গোলকিপিং কোচ ছিলেন। সর্বশেষ ২০২৫-২৬ মৌসুমে অস্ট্রেলিয়ার শীর্ষ লিগের পার্থ এফসিতে কাজ করেছেন। বাংলাদেশ দলে এসে তিনি গোলরক্ষক শ্রাবণ ও মিতুল মারমাদের নিয়ে কাজ করবেন।সহকারী কোচ হিসেবে যোগ দিচ্ছেন ভিয়েতনামের এনগুয়েন হোয়াঙ ল্যান। এএফসির 'সি' লাইসেন্সধারী এই কোচ গায়ানা জাতীয় দলের সহকারী কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সর্বশেষ তিনি ভিয়েতনামের দ্বিতীয় বিভাগের ক্লাব ব্যাচ নিন এফসির সহকারী কোচ ছিলেন। ডুলির আরেক সহকারী হচ্ছেন জার্মানির রেনার্ড কার্ল স্টাম্ফ। ৬৪ বছর বয়সী সাবেক এই সেন্টার-ব্যাক ইউয়েফার প্রো লাইসেন্সধারী কোচ। সৌদি আরবের ক্লাব আল শাবাব ও আল ইত্তিফাকের প্রধান কোচ হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। খেলোয়াড়ি জীবনে গালাতাসারাই ও এফসি কোলনের মতো ক্লাবের প্রতিনিধিত্ব করেছেন তিনি।বাফুফের এই উদ্যোগকে জাতীয় দলের উন্নয়নে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন ফুটবলবোদ্ধারা। অ্যাডাম আব্বাসের সফর এবং নতুন কোচদের আগমন বাংলাদেশের ফুটবলের জন্য নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। আগামী দিনে এই কোচরা কীভাবে জাতীয় দলের খেলার ধারা বদলান, সেদিকে তাকিয়ে থাকবে ফুটবলপ্রেমীরা।
১২ ঘন্টা আগে
সংবিধানে বাদ যাচ্ছে মুজিবের ‘জাতির পিতা’ স্বীকৃতি

সংবিধানে বাদ যাচ্ছে মুজিবের ‘জাতির পিতা’ স্বীকৃতি

সংবিধানে প্রথমবার যুক্ত হতে যাচ্ছে সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের মহান মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদানের বিষয়টি। চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে তৎকালীন মেজর জিয়ার দেওয়া স্বাধীনতার ঘোষণা ঠাঁই পাবে সংবিধানে। বিপরীতে বাদ যাচ্ছে পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে যুক্ত হওয়া শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘জাতির পিতা’ হিসাবে স্বীকৃতি, তার ৭ মার্চের ভাষণ ও ২৬ মার্চের স্বাধীনতার ঘোষণা। থাকছে না তার প্রতিকৃতি টানানোর বাধ্যবাধকতাও।একই সঙ্গে সংবিধানে ফিরছে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ও গণভোটের বিধান। আর সাংবিধানিক স্বীকৃতি পেতে যাচ্ছে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান ও জুলাই যোদ্ধাদের অবদান। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। আজ সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির প্রথম বৈঠক ঘিরেই সামনে এসেছে এই প্রস্তাবনাগুলো।যা যুক্ত হচ্ছে ও বাদ যাচ্ছেসংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে যুক্ত হওয়া শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘জাতির পিতা’ হিসেবে স্বীকৃতি, তার ৭ মার্চের ভাষণ ও ২৬ মার্চের স্বাধীনতার ঘোষণা বাদ দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে তার প্রতিকৃতি টানানোর বাধ্যবাধকতাও থাকছে না। পরিবর্তে কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে মেজর জিয়াউর রহমানের দেওয়া স্বাধীনতার ঘোষণা সংবিধানে স্থান পাবে।সংবিধানের দ্বিতীয়ভাগের ৮-এর ১ অনুচ্ছেদে থাকা রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি-জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা-এও পরিবর্তন আসবে। একই ভাগের ৯ অনুচ্ছেদে থাকা ‘বাঙালি জাতির ঐক্য ও সংহতি হইবে বাঙালি জাতীয়তাবাদের ভিত্তি’-এখানে ‘বাঙালি’র জায়গায় যুক্ত করা হতে পারে ‘বাংলাদেশি’ শব্দ।আদালতের রায় মেনে যা বাদ যাচ্ছেসংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী সংক্রান্ত উচ্চ আদালতের রায় মেনে সংবিধান থেকে বাদ যাবে প্রথম ভাগের ৪-এর (ক), ৭-এর ১ (ক), (খ), ৭-এর ২, ৭-এর ৩, ৭-এর (খ) ও ৪৪ (২) অনুচ্ছেদ। এছাড়াও বাদ দেওয়া হবে সংবিধানের শেষে যুক্ত করা দুটি তফসিল। পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে পঞ্চম তফসিলে শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণ, ষষ্ঠ তফসিলে ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ শেখ মুজিবুর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা যুক্ত করা হয়েছিল, যা বাদ দেওয়া হতে পারে।নতুন যা যুক্ত হচ্ছেজানা যায়, নৈতিক অপরাধে অভিযুক্ত সংসদ-সদস্যদের (এমপি) সদস্যপদ বাতিলে নতুন বিধানসহ যুক্ত হবে আরও কিছু বিধান। বিশেষ করে জুলাই সনদকে সামনে রেখে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ, দুই মেয়াদের বেশি প্রধানমন্ত্রী নয়, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বাড়ানো, একাধিক ডেপুটি স্পিকারের পদ সৃষ্টি, নারী সদস্যদের আসন বাড়ানোসহ আরও অনেক প্রস্তাবনা সংবিধানে যুক্ত করার বিষয়ে আলাপ-আলোচনা চলছে।কমিটির বৈঠকআজ বেলা ১২টায় জাতীয় সংসদ ভবনের ক্যাবিনেট কক্ষে বিশেষ কমিটির প্রথম বৈঠক হয়েছে। এতে সভাপতিত্ব করেছেন কমিটির সভাপতি, বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন শেষ হওয়ার দুই দিন আগে ১৩ জুলাই সালাহউদ্দিন আহমদকে সভাপতি করে সংবিধান সংশোধনের জন্য ১২ সদস্যের বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়। ১৭ সদস্যের কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও বিরোধী দল নাম না দেওয়ায় ১২ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। বিরোধী দলের জন্য পাঁচটি পদ শূন্য রাখা হলেও এখন পর্যন্ত কমিটিতে সংসদের বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস কোনো নাম দেয়নি।
৬ ঘন্টা আগে
বাংলাদেশ-সৌদি সম্পর্ক কৌশলগত অংশীদারত্বে রূপ নেবে: প্রধানমন্ত্রী

বাংলাদেশ-সৌদি সম্পর্ক কৌশলগত অংশীদারত্বে রূপ নেবে: প্রধানমন্ত্রী

সৌদি আরবের সঙ্গে কৌশলগত, বহুমাত্রিক ও দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে চায় বাংলাদেশ বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে বাংলাদেশে সৌদি বিনিয়োগ আরও বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সৌদি আরবের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার ওয়ালিদ এল-খেরেইজি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় নেওয়া এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত হয়। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এই তথ্য জানিয়েছে।বৈঠকে ওয়ালিদ এল-খেরেইজি প্রধানমন্ত্রীকে সৌদি আরব সফরের আমন্ত্রণ জানান। আমন্ত্রণের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে সুবিধাজনক সময়ে সৌদি আরব সফরের আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।সৌদি উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশে বর্তমানে বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে দুই দেশের সম্পর্ক আরও জোরদার করতে এবং বিভিন্ন সম্ভাবনাময় খাতে সহযোগিতা ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে সৌদি আরব আগ্রহী।তিনি আরও বলেন, সৌদি আরবের উন্নয়নে বাংলাদেশি কর্মীদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। পাশাপাশি জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে ড. খলিলুর রহমান নির্বাচিত হওয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান তিনি।প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের আস্থা ও বন্ধুত্বের ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে আছে। বর্তমান সরকার এই সম্পর্ককে আরও কৌশলগত ও দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্বে রূপ দিতে চায়।বৈঠকে সৌদি আরবের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বাংলাদেশে প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, সি-ফুড, কৃষিভিত্তিক শিল্প, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং অন্যান্য সম্ভাবনাময় খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী দেশটি।এ সময় প্রধানমন্ত্রী বিশেষভাবে সৌরবিদ্যুৎ খাতে সৌদি বিনিয়োগের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, পরিচ্ছন্ন জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে বাংলাদেশ ব্যাপক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে এবং এই খাতে সৌদি বিনিয়োগ দুই দেশের জন্যই লাভজনক হবে।বৈঠকে সৌদি প্রতিনিধিদলের সদস্যদের পাশাপাশি বাংলাদেশের পক্ষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সৌদি আরব বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন অংশীদার এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য প্রধান গন্তব্য। এই সাক্ষাৎ দুই দেশের সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচনে সহায়ক হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
৬ ঘন্টা আগে
মালয়েশিয়ায় সহকর্মীদের সংঘর্ষে তিন বাংলাদেশি নিহত

মালয়েশিয়ায় সহকর্মীদের সংঘর্ষে তিন বাংলাদেশি নিহত

মালয়েশিয়ার নেগেরি সেম্বিলান অঙ্গরাজ্যের লিঙ্গি এলাকায় সহকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে তিন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরও একজন বাংলাদেশি। হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে তাদেরই এক বাংলাদেশি সহকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির পুলিশ।মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) মালয়েশিয়ার সংবাদমাধ্যম নিউ স্ট্রেইটস টাইমস-এর প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়।নেগেরি সেম্বিলানের পুলিশপ্রধান দাতুক আলজাফনি আহমদ জানান, সোমবার বিকেল সোয়া ৪টার দিকে লিঙ্গির তামান লিঙ্গি এলাকার একটি বাড়িতে কয়েকজন বাংলাদেশির মধ্যে সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে লিঙ্গি থানার একটি দল সেখানে অভিযান চালিয়ে এক বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করে।তদন্তের একপর্যায়ে লিঙ্গির সুয়া ম্যাঙ্গিস এস্টেট এলাকা থেকে তিন বাংলাদেশির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশের ভাষ্য, তাদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে এবং এসব আঘাতেই তাদের মৃত্যু হয়েছে।এই ঘটনায় আহত আরেক বাংলাদেশিকে উদ্ধার করে রেমবাউ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ঘটনায় জড়িত সবাই একই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন এবং একই বাসায় বসবাস করতেন। পুলিশের ধারণা, সংঘর্ষটি একাধিক স্থানে ঘটেছে। কীভাবে ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল এবং পুরো ঘটনার পেছনের কারণ কী, তা জানতে তদন্ত চলছে।আলজাফনি বলেন, প্রাথমিক যাচাইয়ে গ্রেপ্তার ব্যক্তির বিরুদ্ধে আগে কোনো অপরাধের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। তাকে আজ পোর্ট ডিকসন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে রিমান্ড চাওয়া হবে।তিনি আরও জানিয়েছেন, মালয়েশিয়ার দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় ঘটনাটি হত্যা মামলা হিসেবে তদন্ত করা হচ্ছে। তবে হত্যাকাণ্ডের উদ্দেশ্য বা প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ। বাংলাদেশি দূতাবাস ঘটনাটি পর্যবেক্ষণ করছে এবং নিহতদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চলছে।
৬ ঘন্টা আগে
১৫ এপ্রিল ২০২৬, ১২:১১ এএম
আপনি কি মনে করেন বিএনপি জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর ও শব্দ বাস্তবায়ন করবে?

আপনি কি মনে করেন বিএনপি জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর ও শব্দ বাস্তবায়ন করবে?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ জন
রাশিয়ায় তৈরি ক্যানসারের টিকা কার্যকরভাবে কাজ করছে

রাশিয়ায় তৈরি ক্যানসারের টিকা কার্যকরভাবে কাজ করছে

রাশিয়ায় উদ্ভাবিত ত্বকের ক্যানসার মেলানোমা চিকিৎসার জন্য তৈরি ব্যক্তিগতকৃত ভ্যাকসিনের প্রথম প্রয়োগে আশাব্যঞ্জক ফল পাওয়া গেছে। দেশটির বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, পরীক্ষামূলকভাবে এই ভ্যাকসিন গ্রহণকারী প্রথম রোগীর শরীরে কাঙ্ক্ষিত রোগপ্রতিরোধ প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে এবং তিনি বর্তমানে সুস্থ আছেন।গ্যামালেয়া ন্যাশনাল রিসার্চ ইনস্টিটিউটের বৈজ্ঞানিক পরিচালক আলেকজান্ডার গিনজবার্গ জানান, ‘নিওনকোভ্যাক’ নামের এমআরএনএ-ভিত্তিক এই ভ্যাকসিন গ্রহণের পর রোগীর শরীরে টিউমারের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য প্রয়োজনীয় প্রতিরোধ ব্যবস্থা সক্রিয় হয়েছে। তার শারীরিক অবস্থাও স্বাভাবিক রয়েছে এবং চিকিৎসা কার্যক্রম অব্যাহত আছে।রুশ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় গত বছর দুটি ব্যক্তিগতকৃত ক্যানসার চিকিৎসা প্রযুক্তির অনুমোদন দেয়। এর মধ্যে উন্নত পর্যায়ের মেলানোমার জন্য তৈরি নিওনকোভ্যাক এবং কোলরেক্টাল ক্যানসারের জন্য উদ্ভাবিত পেপটাইডভিত্তিক ওষুধ ‘অনকোপেপ্টি’ উল্লেখযোগ্য।চলতি বছরের এপ্রিল মাসে মস্কোর হারজেন অনকোলজি রিসার্চ ইনস্টিটিউটে তৃতীয় পর্যায়ের মেলানোমা ও মেটাস্টেসিসে আক্রান্ত ৬০ বছর বয়সী এক ব্যক্তির শরীরে প্রথমবারের মতো এই ভ্যাকসিন প্রয়োগ করা হয়। চিকিৎসকদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, রোগীকে আরও দুটি ডোজ দেওয়া হবে এবং পুরো চিকিৎসা চলাকালে তার রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে।গিনজবার্গ আরো জানান, বর্তমানে আরো ১০ জন রোগীর জন্য ব্যক্তিগতকৃত এই ভ্যাকসিন প্রস্তুতের কাজ চলছে। আগামী দেড় থেকে তিন মাসের মধ্যে সেগুলো ব্যবহারের উপযোগী হবে বলে আশা করা হচ্ছে।রাশিয়ার ন্যাশনাল মেডিকেল রিসার্চ সেন্টার অব রেডিওলজির প্রধান আন্ড্রে কাপরিনের ভাষ্য অনুযায়ী, এই প্রযুক্তি ক্যানসার চিকিৎসায় নতুন ধরনের দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করছে। এতে কেবল রোগের চিকিৎসাই নয়, বরং রোগীর নিজস্ব রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থাকে ক্যানসার কোষ শনাক্ত করে সেগুলো ধ্বংস করার জন্য প্রস্তুত করা হয়।এই পদ্ধতিতে রোগীর টিউমার এবং সুস্থ টিস্যুর নমুনা সংগ্রহ করে তাদের জিনগত বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করা হয়। সেই তথ্যের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট রোগীর জন্য আলাদাভাবে এমন একটি ভ্যাকসিন তৈরি করা হয়, যা ক্যানসার কোষকে লক্ষ্য করে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সহায়তা করে।এদিকে, রুশ স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কোলরেক্টাল ক্যানসারের জন্য তৈরি ‘অনকোপেপ্টি’ গ্রহণকারী রোগীদের শরীরেও প্রয়োজনীয় রোগপ্রতিরোধ প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। পাশাপাশি গ্যামালেয়া ইনস্টিটিউট বর্তমানে অগ্ন্যাশয়, কিডনি এবং নন-স্মল সেল ফুসফুসের ক্যানসারের জন্যও নতুন চিকিৎসা প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে এবং অন্যান্য দেশের গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোকে রাশিয়ার সঙ্গে সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছে।সূত্র: আরটি
৩১ জুলাই ২০২৬
নবম পে-স্কেল: আইএমএফের পরামর্শে আপাতত পেছাচ্ছে সরকার

নবম পে-স্কেল: আইএমএফের পরামর্শে আপাতত পেছাচ্ছে সরকার

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গে নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আগামী অক্টোবরে আলোচনা শেষ হওয়ার আগে সরকারি চাকরিজীবীদের নবম জাতীয় পে-স্কেল ঘোষণা করছে না সরকার। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত অনেকটাই নির্ভর করবে আইএমএফের সম্মতির ওপর।রাজস্ব ঘাটতি ও দুর্বল রাজস্ব আহরণের কথা উল্লেখ করে আইএমএফ সরকারকে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন অন্তত দুই বছর পিছিয়ে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে সরকারও বিষয়টি নিয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে।রোববার (২৬ জুলাই) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে রাজস্ব আদায়, সরকারি ব্যয়, প্রস্তাবিত পে-স্কেলের আর্থিক প্রভাব এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন। বৈঠকে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের সম্ভাব্য অতিরিক্ত ব্যয়ের বিষয়টি তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রী এ প্রস্তাব আরও বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনার নির্দেশ দেন এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানির মূল্য, গ্যাস সরবরাহ ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক ঝুঁকির বিষয়টি বিবেচনায় রাখতে বলেন।সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, আগামী ১২ থেকে ১৮ অক্টোবর ব্যাংককে বিশ্বব্যাংক-আইএমএফের বার্ষিক সভার ফাঁকে চূড়ান্ত আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। ওই আলোচনায় অনুন্নয়ন খাতের স্থায়ী ব্যয়, বিশেষ করে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বৃদ্ধির বিষয়ে আইএমএফ যে অবস্থান নেবে, সেটিই নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হবে।অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, চলতি মাসে বাংলাদেশ সফরকারী আইএমএফ প্রতিনিধিদলের সঙ্গে অর্থ বিভাগের বৈঠকে বেতন ও ভাতা বাজেটিং নিয়ে আলোচনা হয়। সেখানে আইএমএফ জানায়, বর্তমান রাজস্ব ভিত্তি সরকারি চাকরিজীবীদের বেতনে বড় ধরনের বৃদ্ধি বহন করার মতো শক্তিশালী নয়। পাশাপাশি ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে সরকারি ব্যয় বাড়লেও রাজস্ব প্রবৃদ্ধি সে তুলনায় পিছিয়ে রয়েছে। ফলে উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও সীমিত আর্থিক সক্ষমতার মধ্যে নতুন পে-স্কেল চালু করলে অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি হতে পারে।তবে সরকার নতুন পে-স্কেলের পরিকল্পনা থেকে সরে আসেনি। মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বাধীন ১০ সদস্যের উচ্চপর্যায়ের কমিটি জাতীয় বেতন কমিশন-২০২৫, বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পে কমিশন-২০২৫ এবং সশস্ত্র বাহিনী বেতন কমিটি-২০২৫-এর সুপারিশ পর্যালোচনা করে একটি সংশোধিত কাঠামো প্রস্তুত করেছে। প্রস্তাবটি অর্থ মন্ত্রণালয় এবং প্রধানমন্ত্রীর কাছে জমা দেওয়া হয়েছে।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানান, আর্থিক চাপ কমাতে সরকার ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন অথবা বিকল্প পদ্ধতির বিষয়টি বিবেচনা করছে। অক্টোবরে আইএমএফের বৈঠকের আগেই এ বিষয়ে কৌশল চূড়ান্ত হতে পারে।উল্লেখ্য, জাতীয় বেতন কমিশন-২০২৫ সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করেছে। পাশাপাশি বৈশাখী ভাতা ২০ শতাংশ থেকে ৫০ শতাংশে উন্নীত করা, যাতায়াত ভাতা সংশোধন এবং অন্যান্য ভাতা পুনর্বিন্যাসের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।কমিশনের হিসাব অনুযায়ী, এসব সুপারিশ বাস্তবায়নে বছরে অতিরিক্ত ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হবে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে এ উদ্দেশ্যে জনপ্রশাসন খাতে অতিরিক্ত ৫৪ হাজার ৫৭২ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকা সম্ভাব্য নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের জন্য সংরক্ষিত।অর্থনীতিবিদদের মতে, ২০১৫ সালের পর সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন পুনর্নির্ধারণ না হওয়ায় উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে তাদের ক্রয়ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। তবে তারা সতর্ক করে বলেছেন, রাজস্ব আহরণ শক্তিশালী না করে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন করলে সরকারকে আরও বেশি ঋণের ওপর নির্ভর করতে হতে পারে, যা বাজেট ঘাটতি ও সামগ্রিক অর্থনীতির ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করবে।
১৬ জুন ২০২৬
অর্থনীতির তিন সংকটে আইএমএফের উদ্বেগ, প্রবৃদ্ধি কমার শঙ্কা

অর্থনীতির তিন সংকটে আইএমএফের উদ্বেগ, প্রবৃদ্ধি কমার শঙ্কা

১৬ জুন ২০২৬
 প্রো ম্যাক্সের দাম ছাড়িয়ে যাবে ২ লাখ, আইফোন ১৮ নিয়ে যা জানলো বিশ্ব

প্রো ম্যাক্সের দাম ছাড়িয়ে যাবে ২ লাখ, আইফোন ১৮ নিয়ে যা জানলো বিশ্ব

এ বছর প্রযুক্তিপ্রেমীদের সব কৌতূহল কেবল একটি ফোনকে ঘিরে—অ্যাপলের ‘আইফোন ১৮’। এখনো উন্মোচনের প্রায় দুই মাস বাকি থাকলেও ফোনটির নকশা, শক্তিশালী চিপসেট, ক্যামেরায় বড় পরিবর্তন ও আকাশচুম্বী দাম নিয়ে ফাঁস থেমে নেই। ধারণা করা হচ্ছে, আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্সের দাম প্রায় দুই লাখ টাকা হতে পারে। চলুন জেনে নেওয়া যাক আইফোন ১৮ সিরিজের সম্ভাব্য ফিচার, দাম ও উন্মোচনের সময়সূচি সম্পর্কে বিস্তারিত।আকাশচুম্বী দামআইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্স হতে যাচ্ছে অ্যাপলের ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যয়বহুল স্মার্টফোন । চীনের টেক–বিষয়ক প্রতিষ্ঠান ‘স্মার্ট পিকাচু’ জানিয়েছে, চীনে এর প্রারম্ভিক মূল্য ১১ হাজার ইউয়ান থেকে শুরু হতে পারে, যা ডলারে প্রায় ১ হাজার ৬২৫ ডলার । বাংলাদেশি মুদ্রায় কর ও শুল্ক বাদে এর দাম পড়বে প্রায় ১ লাখ ৯৭ হাজার টাকার বেশি । প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, এই দাম বৃদ্ধির পেছনে প্রধান কারণ ২ ন্যানোমিটার প্রসেসর এবং ১২ জিবি র‍্যামের উচ্চ মূল্য ।টাটা গ্রুপের তথ্য ফাঁসএইবার অ্যাপলের কঠোর গোপনীয়তা প্রাচীরে বড় ফাটল ধরেছে। ভারতের টাটা ইলেকট্রনিকসের সার্ভারে ‘ওয়ার্ল্ড লিকস’ নামের হ্যাকার গ্রুপ হামলা চালিয়ে প্রায় ৬৩০ গিগাবাইট সংবেদনশীল তথ্য চুরি করে । ডার্ক ওয়েবে ছড়িয়ে পড়া এসব ফাইলের মধ্যে আইফোন ১৮ প্রোর আসল থ্রিডি নকশা, পার্টস সরবরাহকারীদের তালিকা এবং ড্রপ–টেস্টের ছবিও রয়েছে । ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থা ও অ্যাপল এই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে ।২ ন্যানোমিটারের প্রসেসরআইফোন ১৮ প্রো সিরিজের প্রধান আকর্ষণ হবে ‘এ২০ প্রো’ চিপসেট, যা তাইওয়ানের টিএসএমসি তৈরি করছে । এটি বিশ্বের প্রথম ২ ন্যানোমিটার প্রযুক্তিতে তৈরি চিপ । নতুন এই প্রযুক্তিতে বর্তমানের চেয়ে প্রায় ১৫ শতাংশ বেশি দ্রুত কাজ করতে পারবে এবং ব্যাটারি সাশ্রয় হবে ২৫-৩০ শতাংশ ।১২ জিবি র‍্যাম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাআইফোন ১৮ প্রো সিরিজে প্রথমবারের মতো ১২ জিবি র‍্যাম ব্যবহার করা হচ্ছে । এর পেছনে মূল কারণ হলো আইওএস ২৭-এর নতুন এআই ফিচার ‘অ্যাপল ইন্টেলিজেন্স’ এবং উন্নত ‘সিরি এআই’, যা ইন্টারনেট ছাড়াই ফোনের ভেতরে কাজ করবে ।ক্যামেরায় ডিএসএলআরের ছোঁয়াআইফোন ১৮ প্রো ও প্রো ম্যাক্সের প্রধান ৪৮ মেগাপিক্সেল ক্যামেরায় যুক্ত হচ্ছে ‘ভ্যারিয়েবল অ্যাপারচার’ । যান্ত্রিকভাবে লেন্সের মুখ ছোট-বড় করার সুবিধায় সিনেমার মতো উন্নত ভিডিও এবং প্রাকৃতিক ব্যাকগ্রাউন্ড ব্লার পাওয়া যাবে । আলট্রা-ওয়াইড ও ৫ গুণ জুমের টেলিফটো লেন্সকেও ৪৮ মেগাপিক্সেলে উন্নীত করা হচ্ছে ।ডায়নামিক আইল্যান্ডের সংকোচনডায়নামিক আইল্যান্ড প্রায় ৩৫ শতাংশ ছোট হয়ে যাচ্ছে । ফেস আইডির সেন্সর দুটোকে ডিসপ্লের নিচে নিয়ে যাওয়ায় এটি সম্ভব হচ্ছে । এছাড়া ‘গ্রেড ৫’ পলিশড টাইটানিয়ামের ব্যবহারে ফোন হবে হালকা ও স্ক্র্যাচ প্রতিরোধী, এবং নতুন রং যোগ হচ্ছে ‘স্যাটিন গোল্ড’ ও ‘ডিপ প্লাম’ ।কবে আসছে বাজারেফোর্বসের জ্যেষ্ঠ প্রযুক্তি লেখক ডেভিড ফেলানের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ৯ সেপ্টেম্বর অ্যাপলের ‘কি-নোট’ ইভেন্টে আইফোন ১৮ সিরিজ উন্মোচিত হবে । প্রি-অর্ডার শুরু হবে ১১ সেপ্টেম্বর এবং বিশ্বজুড়ে বিক্রি শুরু হবে ১৮ সেপ্টেম্বর ।
২৫ জুলাই ২০২৬
কোন ছবি নেই !
কোন ছবি নেই !
হজের বিমান টিকিটের দাম আরও ২৫ হাজার টাকা কমালো সরকার

হজের বিমান টিকিটের দাম আরও ২৫ হাজার টাকা কমালো সরকার

বাংলাদেশি হজযাত্রীদের ব্যয় কমাতে হজের বিমান টিকিটের মূল্য সরকার আরও ২৫ হাজার টাকা কমিয়েছে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। তিনি জানান, ২০২৬ সালের হজে বিমান টিকিটের নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা।বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জাতীয় হজ ও ওমরাহ ফেয়ার-২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এই ঘোষণা দেন তিনি। তিন দিনব্যাপী এই ফেয়ারের আয়োজন করেছে হজ এজেন্সিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব)।প্রতিমন্ত্রী বলেন, 'সবার আগে বাংলাদেশ' প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকার দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। এই যাত্রায় বাংলাদেশি হজযাত্রীদের জন্য যৌক্তিক খরচে ও হয়রানিমুক্ত পরিবেশে হজ প্যাকেজ নিশ্চিত করাকে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।তিনি বলেন, গত বছর আমরা প্রতি টিকিটে ১২ হাজার টাকা খরচ কমাতে সক্ষম হয়েছিলাম। এই বছর আমরা টিকিটপ্রতি খরচ আরও ২৫ হাজার টাকা কমিয়ে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকায় নামিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছি।এছাড়া বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সৌদি সরকারের কাছে বিমান টিকিটের ওপর আরোপিত সৌদি বিমানবন্দরের নির্মাণ কর কমানোর অনুরোধ জানানো হয়েছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। মিল্লাত বলেন, 'বাংলাদেশি হাজিদের আবাসন ব্যয় কমানোর লক্ষ্যে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার বিষয়েও সৌদি রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বিস্তর আলোচনা হয়েছে।'অনুষ্ঠানে ধর্মসচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ এনডিসি জানান, বাংলাদেশের হজযাত্রীদের মাত্র পাঁচ শতাংশ সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ পালন করেন, আর বাকি ৯৫ শতাংশ বেসরকারি হজ এজেন্সির মাধ্যমে সৌদি আরব যান। তিনি সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয় এমন কোনো কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকতে এজেন্সি মালিকদের প্রতি আহ্বান জানান।অনুষ্ঠানে রাজকীয় সৌদি দূতাবাসের উপ-মিশন প্রধান খালিদ সাঈদ আল হাদাল, হাবের নেতারা এবং হজপ্রত্যাশীরা উপস্থিত ছিলেন। হজ এজেন্সিগুলো বলেছে, টিকিটের দাম কমানোর পাশাপাশি সৌদি আরবে আবাসন ও পরিবহন খরচ কমাতে সরকারের আরও উদ্যোগ প্রয়োজন। তারা আশা করেন, এই দাম কমানো হজযাত্রীদের জন্য চূড়ান্ত প্যাকেজের খরচ কিছুটা হলেও কমাবে।
১৬ জুন ২০২৬
শেখ নূর কুতুব আলম: বাংলার আধ্যাত্মিক নেতৃত্বের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত

শেখ নূর কুতুব আলম: বাংলার আধ্যাত্মিক নেতৃত্বের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত

বাংলার মধ্যযুগীয় ইতিহাসে পান্ডুয়া ছিল জ্ঞান, সংস্কৃতি ও আধ্যাত্মিক সাধনার অন্যতম কেন্দ্র। এই শহরের খানকাগুলোতে যেমন ধর্মীয় শিক্ষা বিস্তার লাভ করত, তেমনি এখান থেকেই সমাজজীবনে নৈতিক নেতৃত্বও গড়ে উঠত। ১৩৫০ সালের কিছু আগে তৎকালীন বাংলার রাজধানী পান্ডুয়ায় তার জন্ম। তার প্রকৃত নাম নূরুদ্দীন নূরুল হক। ‘নূর কুতুবুল আলম’ তার উপাধি।তার পিতা ছিলেন বাংলার অন্যতম শ্রেষ্ঠ আলেম ও সুফি শায়খ আলাউল হক। বংশপরিচয়ও ছিল সম্মানজনক—তিনি লাহোরের প্রসিদ্ধ সাধক শেখ আসাদের পৌত্র। পিতার মতো তিনি ছিলেন চিশতিয়া তরিকার একজন বিশিষ্ট পীর। ইলিয়াস শাহী বংশের তৃতীয় সুলতান গিয়াস উদ্দিন আজম শাহ ছিলেন তার সহপাঠী ও বন্ধু। কিন্তু বংশগৌরবের চেয়েও বড় ছিল তার ব্যক্তিত্ব, জ্ঞান, দূরদর্শিতা এবং মানুষের জন্য আত্মনিবেদিত জীবন।ব্যক্তিগত জীবন ও আধ্যাত্মিক সাধনানূর কুতুব আলম তাঁর পিতার আমল থেকে সব ধরনের কায়িক শ্রমের অভ্যাস করতেন। দরগায় আগত ফকিরদের কাপড় ধোয়া, লাকড়ি ও পানি বহন, শীতকালে পীরের অজু করার জন্য সর্বদা পানি গরম রাখা, এমনকি খানকাহসংলগ্ন শৌচাগার পরিষ্কার করা প্রভৃতি কাজে তিনি নিজেকে নিয়োজিত রাখতেন।আজকের সময়ে নেতৃত্বকে আমরা প্রায়ই ক্ষমতা, প্রভাব কিংবা সামাজিক মর্যাদার সঙ্গে মিলিয়ে দেখি। অথচ নূর কুতুব আলমের জীবন আমাদের শেখায়, প্রকৃত নেতৃত্ব শুরু হয় সেবার মাধ্যমে। যে মানুষ নিজের হাতে মানুষের কষ্ট লাঘব করতে পারে, তিনিই প্রকৃত অর্থে মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিতে পারেন।রাজনৈতিক সংকটে নূর কুতুব আলমের ভূমিকানূর কুতুব আলমের জীবনের সবচেয়ে উজ্জ্বল অধ্যায় রচিত হয় এক ভয়াবহ রাজনৈতিক সংকটের সময়। ১৪১৫ খ্রিস্টাব্দে রাজা গণেশ নামক একজন হিন্দু শাসক ইলিয়াস শাহি বংশ উত্খাত করে ক্ষমতা গ্রহণ করেন। তিনি মুসলমানের ওপর নজিরবিহীন জুলুম-নির্যাতন শুরু করেন। এমনকি শায়খ ও আলেমদের ওপর অবর্ণনীয় অত্যাচার শুরু করেন।বিশেষ করে ধর্মীয় নেতৃত্ব, আলেম-ওলামা এবং সাধারণ মুসলমানদের ওপর নিপীড়নের অভিযোগ বিভিন্ন ঐতিহাসিক গ্রন্থে উল্লেখিত হয়েছে। বাংলার মুসলিম সমাজ গভীর অনিশ্চয়তা ও আতঙ্কের মধ্যে পড়ে।এই পরিস্থিতিতে শেখ নূর কুতুব আলম নীরব থাকেননি। তিনি উপলব্ধি করেছিলেন, কেবল খানকায় বসে ইবাদত করাই একজন আধ্যাত্মিক নেতার একমাত্র দায়িত্ব নয়; মানুষের জীবন, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সামাজিক নিরাপত্তা বিপন্ন হলে ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্যও এগিয়ে আসতে হয়। তার এই অবস্থান প্রমাণ করে, ইসলামী আধ্যাত্মিকতার প্রকৃত শিক্ষা সমাজবিমুখতা নয়; বরং মানুষের কল্যাণে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন।কূটনৈতিক পদক্ষেপ ও রাজা গণেশের সাথে সমঝোতাবাংলার মুসলমানদের রক্ষার জন্য তিনি এক গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। তিনি জৌনপুরের সুলতান ইবরাহিম শর্কিকে বাংলা আক্রমণ করে বাংলাকে গণেশের হাত থেকে রক্ষা করার অনুরোধ জানিয়ে চিঠি লেখেন। একই সঙ্গে তিনি প্রসিদ্ধ সুফি ব্যক্তিত্ব মীর সৈয়দ আশরাফ জাহাঙ্গীর সিমনানিকেও অনুরোধ করেন, যেন তিনিও ইবরাহিম শর্কিকে বাংলার মুসলমানদের সহায়তায় এগিয়ে আসতে উদ্বুদ্ধ করেন।সুলতান ইবরাহিম শর্কি এই অনুরোধ রক্ষা করে বাংলা আক্রমণের উদ্দেশ্যে পিরোজপুর এসে শিবির স্থাপন করেন। রাজা গণেশ এতে ভয় পেয়ে নূর কুতুব আলমের কাছে আত্মসমর্পণ করেন এবং তাঁকে ক্ষমা করে ইবরাহিম শর্কিকে জৌনপুরে ফিরে যেতে বলার অনুরোধ জানান।কিন্তু নূর কুতুব আলম এতে সম্মত হননি। তিনি জানিয়ে দেন, একজন মুসলিম শাসককে কোনো অমুসলিম শাসকের পক্ষ নিয়ে তিনি ফিরিয়ে দিতে পারেন না। বরং পূর্বশর্ত হিসেবে তিনি রাজা গণেশকে ইসলাম গ্রহণের আহ্বান জানান। গণেশ তাতে সম্মত হন, কিন্তু বিস্তারিত শুনে তাঁর রানি এতে বাধা দেন। গণেশ তখন তার ১২ বছরের ছেলে যদুকে নিয়ে শায়খের কাছে আসেন। যদুকে ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত করে 'জালালুদ্দীন' নাম দেওয়া হয় এবং গণেশ তার পক্ষে সিংহাসন ত্যাগ করেন।এই ঘটনার মধ্য দিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ এড়ানো সম্ভব হয় এবং বাংলার রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অন্তত সাময়িকভাবে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়।পরবর্তী পরিস্থিতি ও নূর কুতুব আলমের দূরদর্শিতাশায়খের মৃত্যুর পর গণেশ অবশ্য যদুকে হিন্দু ধর্মে পুনরায় দীক্ষিত করে নিজে সিংহাসনে অধিষ্ঠিত হন। কিন্তু রাজা গণেশের মৃত্যু হলে যদু জালালুদ্দীন মুহাম্মদ শাহ উপাধি গ্রহণ করে সিংহাসনে আরোহণ করেন এবং বাংলার মুসলিম শাসনব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়।এই ঘটনাপ্রবাহে নূর কুতুব আলমের দূরদর্শিতার প্রতিফলন স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তিনি হয়তো জানতেন, একটি সংকটময় সময়ে আপসের মধ্য দিয়েও দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার পথ তৈরি করা যায়।রচিত গ্রন্থসমূহ ও আধ্যাত্মিক উত্তরসূরিতিনি শুধু নিজের আধ্যাত্মিক সাধনায় সীমাবদ্ধ থাকেননি; পরবর্তী প্রজন্ম গড়ে তোলার প্রতিও ছিলেন সমান মনোযোগী। তাঁর রচিত গ্রন্থ সংখ্যা ১২১টি। সেগুলো তার প্রধান মুরিদ ও খলিফা হুসামুদ্দিন মানিকপুরী সম্পাদনা করেন। তন্মধ্যে বিখ্যাত দুটি গ্রন্থ হলো মুগিসুল ফুকারা ও আনিসুল গুরাবা।মুগিসুল ফুকারার একটি পাণ্ডুলিপি সংরক্ষিত আছে বিহারের ভাগলপুরের খলিফাবাগ একটি প্রাইভেট লাইব্রেরিতে। আরেকটি অসম্পূর্ণ কপি সংরক্ষিত আছে এশিয়াটিক সোসাইটি অব বেঙ্গল কলিকাতার লাইব্রেরিতে (সংগ্রহ নং- ৪৬৬)। সেখানে আনিসুল গুরাবা বইটির ২টি কপি সংরক্ষিত আছে (সংগ্রহ নং: ১২১২ ও ১২১৩)।তিনি তাঁর দুই পুত্র শেখ রাফকাতউদ্দীন এবং শেখ আনোয়ারকে আধ্যাত্মিক শিক্ষা দেন। সম্ভবত পিতার জীবদ্দশায় শেখ আনোয়ার রাজা গণেশের হাতে সোনারগাঁয়ে শহীদ হন। শেখ নূর কুতুব আলমের অন্য আর একজন প্রধান মুরিদ ছিলেন শেখ হুসামুদ্দীন মানিকপুরী।পত্র সংকলন ও ঐতিহাসিক দলিলনূর কুতুব আলমের ১৩টি পত্রের একটি গ্রন্থ সম্পাদনা করেন মুহাদ্দিস আব্দুল হক দেহলভী। যে গ্রন্থের নাম মাকতুবাত ই নূর কুতুবুল আলম। এটি দিল্লির ইন্ডিয়ান আর্কাইভে সংরক্ষিত আছে। এই পত্রগুলো থেকে সমসাময়িক রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়।সুলতানদের শ্রদ্ধা ও দরগাহের গুরুত্বশেখ নূর কুতুব আলমের প্রতি পরবর্তী সুলতানদের শ্রদ্ধাও ছিল অসাধারণ। তার দরগাহ সংলগ্ন সরাইখানা ও মাদরাসার ব্যয় নির্বাহের জন্য সুলতান আলাউদ্দীন হোসেন শাহ কয়েকটি গ্রাম দান করেন। দরবেশের মাজার জিয়ারতের জন্য সুলতান বছরে একবার রাজধানী শহর একডালা থেকে পান্ডুয়ায় আসতেন।শায়খ নূর কুতুব আলম পান্ডুয়ার পীর-আউলিয়ার মধ্যে শীর্ষ মর্যাদার অধিকারীদের অন্যতম। পিতা-পুত্র দুজনই পান্ডুয়ার বিখ্যাত শাশ হাজারি দরগায় শায়িত আছেন। পিতার মতো তিনি চিশতিয়া মতাদর্শের পীর ছিলেন। তাঁর অনুসারী শিষ্যকুল ও দরবেশরা কয়েক শতক ধরে বাংলায় মুসলিম সমাজজীবনে তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।ঐতিহাসিক দৃষ্টিতে শায়খ নূর কুতুব আলমের সর্বশ্রেষ্ঠ অবদান বাংলার মুসলিম শাসন রাজা গণেশের হাত থেকে রক্ষা করা।মৃত্যুশেখ নূর কুতুব আলম ৮১৮ হিজরি বা ১৪১৫ খ্রিস্টাব্দে (বাংলাপিডিয়া ও উইকিপিডিয়া মতে) ইন্তেকাল করেন। তবে প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, ১৪৪৭ সালের ৭ জানুয়ারি তার মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়। তার ইন্তেকালের সঙ্গে একটি সুন্দর ফারসি অভিব্যক্তি যুক্ত হয়েছে—"নূর বানূর-শুদ", অর্থাৎ "আলো আলোতে বিলীন হয়ে গেল।"এই বাক্যটি যেন তার সমগ্র জীবনেরই প্রতীক। তিনি এমন এক আলোকবর্তিকা ছিলেন, যিনি নিজের জন্য নয়, মানুষের পথ আলোকিত করার জন্য জীবন উৎসর্গ করেছিলেন।ইতিহাসে বহু রাজা এসেছেন, বহু সাম্রাজ্য গড়ে উঠেছে এবং বিলীন হয়েছে। কিন্তু যারা মানুষের হৃদয়ে নৈতিকতার আলো জ্বালিয়ে দেন, তাদের স্মৃতি যুগের পর যুগ অম্লান থাকে। শেখ নূর কুতুব আলম সেই বিরল ব্যক্তিত্বদের একজন, যার জীবন বাংলার ইতিহাসে আধ্যাত্মিক নেতৃত্ব, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং নৈতিক সাহসের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে আজও আমাদের সামনে দাঁড়িয়ে আছে।তথ্যসূত্র: উইকিপিডিয়া, বাংলাপিডিয়া, শায়েখ আব্দুল হক দেহলভী, আকবারুল উখিয়া ফি আসরারুল আবরার, সোস্যাল হিস্টোরি অফ দ্যা মুসলিম ইন ব্যাঙ্গাল।
ফিরোজ আল মামুন