ঢাকা    শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬
ঢাকা    শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬
গণবার্তা
সর্বশেষ

সাঈদী মামলার সাক্ষী অপহরণ মামলায় সাবেক এএসপি গ্রেপ্তার

জামায়াতে ইসলামীর সাবেক নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মামলার অন্যতম সাক্ষী সুখরঞ্জন বালিকে অপহরণের ঘটনায় অভিযুক্ত সাবেক এক সহকারী পুলিশ সুপারকে (এএসপি) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকায় তার বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গ্রেপ্তার সাবেক পুলিশ কর্মকর্তার নাম ফজলুর রহমান। ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মামলার সাক্ষী সুখরঞ্জন বালিকে অপহরণের ঘটনায় সাবেক এক পুলিশ কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।প্রয়াত জামায়াত নেতা মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর পক্ষে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাফাই সাক্ষ্য দিতে গিয়ে ২০১২ সালের ৫ নভেম্বর ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণ থেকে অপহরণের শিকার হন পিরোজপুরের সুখরঞ্জন বালি। পরে তাকে ভারতে খুঁজে পাওয়া যায়। দীর্ঘদিন ধরে সুখরঞ্জন বালির অপহরণের রহস্য উদঘাটনে তদন্ত চলছিল। ডিবি জানিয়েছে, ঘটনার তদন্তে ফজলুর রহমানের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। তিনি অপহরণের সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন এবং অপহরণে সহায়তা করেছিলেন বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে। ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সুখরঞ্জন বালিকে অপহরণের ঘটনায় ফজলুর রহমানের সরাসরি ভূমিকা ছিল। আমরা তার বিরুদ্ধে প্রমাণ পেয়েছি এবং তাকে গ্রেপ্তার করেছি।’ তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় আরও কয়েকজন জড়িত থাকতে পারে এবং তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।সুখরঞ্জন বালি ২০১২ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাঈদীর পক্ষে সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য ডাক পেয়েছিলেন। কিন্তু ট্রাইব্যুনালে হাজির হওয়ার সময় তাকে অপহরণ করা হয়। পরে দীর্ঘদিন তিনি নিখোঁজ ছিলেন। ২০১৭ সালে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। তিনি জানান, তাকে জোর করে ভারতে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল এবং সেখানে আটকে রাখা হয়েছিল। এই ঘটনার পর তদন্ত শুরু হয় এবং কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে। এরই মধ্যে ফজলুর রহমান গ্রেপ্তার হলেন। এখন দেখার বিষয়, এই মামলায় আর কারা জড়িত এবং তাদের কী শাস্তি হয়। মানবাধিকার সংগঠনগুলো এই গ্রেপ্তারকে স্বাগত জানিয়েছে। তারা বলেছে, সাক্ষীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অপহরণের মতো ঘটনার বিচার করা অত্যন্ত জরুরি। তারা আশা করেন, এই মামলার মাধ্যমে অপহরণের নেপথ্যে যারা ছিল তাদের সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে। এদিকে, সুখরঞ্জন বালি এখন নিরাপদে আছেন এবং তিনি এই গ্রেপ্তারের খবরে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমি আশা করি, এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত সবাইকে শাস্তি দেওয়া হবে।’ সাবেক এএসপি ফজলুর রহমানকে আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলছে। পুলিশ জানিয়েছে, তারা এই ঘটনার আরও তদন্ত করবে এবং জড়িতদের গ্রেপ্তার করবে। এই গ্রেপ্তারের মাধ্যমে সুখরঞ্জন বালি অপহরণ মামলায় নতুন অধ্যায় শুরু হলো। সাধারণ মানুষ ন্যায়বিচার পাওয়ার আশায় রয়েছেন। তারা চান, এই ধরনের ঘটনা যাতে আর না ঘটে এবং সাক্ষীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও সতর্ক ও তৎপর হতে হবে। অন্যথায় সাক্ষীরা ভয় পাবেন এবং ন্যায়বিচার ব্যাহত হবে। এই মামলার রায় সবার জন্য একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। আগামী দিনগুলোতে এই মামলার অগ্রগতি জানা যাবে এবং আদালতের সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে থাকবেন সবাই। অপহরণ ও সাক্ষীদের ওপর হামলা একটি গুরুতর অপরাধ, এবং এর বিচার হওয়া উচিত। পুলিশ ও আদালতের ওপর জনগণের আস্থা রয়েছে যে, তারা ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবে। এই ঘটনা বাংলাদেশের আইনি ব্যবস্থার জন্য একটি পরীক্ষা। এখন দেখার বিষয়, এই পরীক্ষায় তারা কতটা সফল হয়।
৪ ঘন্টা আগে

‘এক ইঞ্চি ভূমিও কাউকে আগ্রাসন চালাতে দেব না’, সীমান্ত রক্ষায় দৃঢ় অবস্থান জামায়াত আমিরের

দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো ধরনের আপস করা হবে না বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। শুক্রবার সকালে নেত্রকোনায় সার্কিট হাউজে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি আরও বলেন, দেশের এক ইঞ্চি ভূমির ওপরও কাউকে আগ্রাসন চালাতে দেওয়া হবে না। স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে আমরা এক ইঞ্চিও ছাড় দেব না। জামায়াত আমির বলেন, দেশের সীমান্ত রক্ষার দায়িত্বে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) রয়েছে। তবে দেশের সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে পড়লে শুধু বিজিবি নয়, দেশের প্রতিটি নাগরিকও দেশপ্রেম নিয়ে সীমান্তে দাঁড়াবে। বিজিবি থাকবে অস্ত্র নিয়ে, আর জনগণ থাকবে দেশপ্রেম নিয়ে।ড. শফিকুর রহমান আরও বলেন, দেশের স্বাধীনতা, সীমান্ত ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষার প্রশ্নে দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। জাতীয় স্বার্থের বিষয়ে কোনো আপসের সুযোগ নেই। জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা ছাদেক আহমেদ হারিছের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন নেত্রকোণা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মাছুম মোস্তফা, জামায়াতের ময়মনসিংহ অঞ্চলের পরিচালক মো. শাহাবুদ্দিনসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।মতবিনিময় সভায় ডা. শফিকুর রহমান সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, সীমান্তে বিজিবির সদস্যরা আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন, কিন্তু তাদের পাশে দাঁড়াতে জনগণেরও ভূমিকা রয়েছে। তিনি সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান এবং বলেন, দেশের প্রতি ভালোবাসা ও দায়িত্ববোধ থেকেই জনগণকে এগিয়ে আসতে হবে। তিনি আরও বলেন, কোনো দেশই আমাদের স্বাধীনতা হরণ করতে পারবে না এবং আমরা কাউকে আমাদের মাটিতে পা রাখতে দেব না। তার এই বক্তব্য সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষদের মধ্যে উৎসাহ সৃষ্টি করেছে। তারা বলেছেন, তারা দেশের স্বাধীনতা রক্ষায় সবসময় প্রস্তুত। নেত্রকোনার সার্কিট হাউজে এই মতবিনিময় সভা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এতে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা ও সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন। তারা জামায়াত আমিরের বক্তব্যকে সময়োপযোগী ও প্রাসঙ্গিক বলে মন্তব্য করেছেন। বর্তমান প্রেক্ষাপটে সীমান্ত সুরক্ষা ও জাতীয় ঐক্যের গুরুত্ব নিয়ে এই বক্তব্য সবার মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। ডা. শফিকুর রহমানের এই বক্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে এবং কোনো অবস্থাতেই ছাড় দেওয়া হবে না। তার এই অবস্থান বিরোধী দলকে একটি শক্তিশালী জাতীয় অবস্থান হিসেবে তুলে ধরেছে। আগামী দিনগুলোতে সীমান্ত পরিস্থিতি ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া দেখার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে জামায়াত আমিরের এই বক্তব্য দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
৫ ঘন্টা আগে

ইরান থেকে শিখে অনলাইনে সিসা ব্যবসা, গ্রেপ্তার মাদককারবারীরা

দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় সিসার চালানসহ মাদক কারবারি চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। ডিএনসি বলছে, গ্রেপ্তারদের মধ্যে দুই সহোদর ইরান থেকে সিসা বিক্রির কার্যক্রম শিখে এসে বাংলাদেশে অনলাইনে এই অবৈধ ব্যবসা পরিচালনা করতেন। শুক্রবার সেগুনবাগিচায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান অতিরিক্ত পরিচালক (গোয়েন্দা) মোহাম্মদ বদরুদ্দীন। গ্রেফতার আহমেদ শরীফি (৩৪) ও মেহদাদ শরীফি (৩৪) ইরানি বংশোদ্ভূত বাংলাদেশি নাগরিক। এছাড়া অপর ব্যক্তি হলেন- মো. মাকসুদ আলম (৪০)।মোহাম্মদ বদরুদ্দীন বলেন, রাজধানীর গুলশান ও ভাটারা এলাকায় অভিযান চালিয়ে সিসা উদ্ধারসহ একটি আন্তঃজেলা অনলাইন মাদক সরবরাহকারী চক্রের দুই সহোদরসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। তাদের কাছ থেকে ৬৫ কেজি ৯০০ গ্রাম সিসা, ৪১টি হুক্কা, ৪০ কেজি সিসা সেবনের কয়লা, ৫টি মোবাইল ফোন ও বিপুল পরিমাণ সিসা সেবনের সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। তিনি বলেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায় আহমেদ শরীফি ও মেহদাদ শরীফি নামের এই দুই সহোদরের নেতৃত্বে একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে একটি ফেসবুক পেজ পরিচালনার মাধ্যমে ঢাকাসহ সারাদেশে অনলাইনে অবৈধ সিসা ও সেবনের উপকরণ বিক্রি ও সরবরাহ করে আসছে। ওই পেজের মাধ্যমে অর্ডার করা দুটি চালান দেশীয় কুরিয়ার প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে গ্রাহকদের কাছে পাঠানো হবে। এসব তথ্যের ভিত্তিতে ডিএনসির একটি বিশেষ টিম গত ২ জুলাই রাজধানীর ভাটারা থানাধীন বসুন্ধরা এলাকায় প্রথম অভিযান চালায়। সেখান থেকে ওই ফেসবুক পেজের নামে পাঠানো ১ কেজি সিসাসহ একটি পার্সেল জব্দ করা হয়। তারপর একই দিন রমনা থানাধীন মালিবাগ থেকে একই পেজের নামে পাঠানো আরও ১ কেজি সিসাসহ দ্বিতীয় পার্সেলটি জব্দ করা হয়।তিনি আরও বলেন, জব্দ পার্সেল দুটির প্রেরক-ঠিকানা যাচাই করে অভিযানিক দল একই দিনে গুলশান থানাধীন কালাচাঁদপুরে একটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত ওই দুই সহোদরকে ভাড়া বাসা থেকে হাতেনাতে আটক করা হয়। ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ ও তাদের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে ওই ফ্ল্যাটে তল্লাশি চালিয়ে আরও ৪৫ কেজি ৯০০ গ্রাম সিসা এবং ২০টি হুক্কা উদ্ধার করা হয়। আটক দুই ভাই জানান- তাদের সরবরাহ করা সিসার একটি বড় অংশ আসতো মো. মাকসুদ আলম নামে আরেক ব্যক্তির কাছ থেকে, যিনি ভাটারা থানাধীন নূরেরচালা এলাকায় বসবাস করেন। এই তথ্যের ভিত্তিতে ওইদিন রাতে অভিযানিক দলটি নূরেরচালায় একটি ভাড়া বাসায় অভিযান চালিয়ে মাকসুদ আলমকে আটক করে। পরবর্তীতে তল্লাশি চালিয়ে সেখান থেকে আরও ১৮ কেজি সিসা ও ২১টি হুক্কা উদ্ধার করা হয়।গ্রেফতার দুই ভাই বাংলাদেশি নাগরিক হলেও তাদের পূর্বপুরুষ ইরানি। দুজনও দীর্ঘ সময় ইরানে অবস্থান করেছেন। সেখানে থাকার সময় তারা সিসা ব্যবসার কার্যক্রম, বাজারব্যবস্থা এবং সরবরাহ পদ্ধতি সম্পর্কে অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। পরবর্তীতে বাংলাদেশে ফিরে তারা একই ব্যবসায়িক মডেল অনুসরণ করে অনলাইনে সিসা বিক্রির নেটওয়ার্ক গড়ে তোলেন এবং ধীরে ধীরে দেশের বিভিন্ন জেলায় তাদের কার্যক্রম সম্প্রসারণ করেন। তারা একটি ফেসবুক পেজ চালু করেন, যা বাংলাদেশে অনলাইনে সিসা বিক্রয়কারী প্রথম দিকের পেজগুলোর অন্যতম। তারা ফেসবুকের মাধ্যমে গ্রাহকদের সঙ্গে যোগাযোগ, পণ্যের ছবি প্রকাশ, অর্ডার গ্রহণ, মূল্য নির্ধারণ এবং ডেলিভারির সমন্বয় করতো। অর্ডার নিশ্চিত হওয়ার পর দেশীয় কুরিয়ার সার্ভিস ব্যবহার করে দেশের বিভিন্ন স্থানে পার্সেল পাঠাতো।চক্রটি মূলত বিভিন্ন মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের ব্যবহার করে পণ্যের মূল্য গ্রহণ করতো। বিভিন্ন ব্যক্তির নামে নিবন্ধিত একাধিক মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে তারা অর্থ সংগ্রহ করতো, যাতে প্রকৃত লেনদেনের উৎস ও সুবিধাভোগীদের পরিচয় গোপন রাখা যায়। ডিজিটাল ফরেনসিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে এসব আর্থিক লেনদেন, সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্ট এবং অর্থের প্রবাহ যাচাই করা হচ্ছে। অভিযানে জব্দ মোবাইল ফোন, ডিজিটাল ডিভাইস এবং অনলাইন অ্যাকাউন্ট থেকে একটি বিস্তৃত গ্রাহক ডাটাবেজ উদ্ধার করেছে ডিএনসি। এতে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলার অসংখ্য ক্রেতার তথ্য, যোগাযোগের ইতিহাস, অর্ডারের বিবরণ এবং লেনদেন সংক্রান্ত তথ্য পাওয়া গেছে। এসব তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে নিয়মিত ক্রেতা, পরিবেশক, সহযোগী এবং এই নেটওয়ার্কের অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত করার কাজ চলমান বলে জানান ডিএনসির অতিরিক্ত এই পরিচালক। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর দেশের বিভিন্ন এলাকায় মাদকের অবৈধ ব্যবসা ও পাচার রোধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার পাশাপাশি অনলাইনে এ ধরনের কার্যক্রম বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
৬ ঘন্টা আগে
ভারতের গভীর নজরে চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা ও উন্নয়ন সহযোগিতা

ভারতের গভীর নজরে চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা ও উন্নয়ন সহযোগিতা

চীনের কাছে থেকে ২০টি ‘জে-১০সিই’ যুদ্ধবিমান ক্রয়ের বিষয়ে সম্ভাব্য আলোচনা, বেইজিংয়ের প্রস্তাবিত ‘চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক করিডোর’ ও তিস্তা প্রকল্প নিয়ে মন্তব্য করেছে ভারত সরকার। দিল্লির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা এসব বিষয়ের ওপর গভীর নজর রাখছে। শুক্রবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল তার সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে বলেছেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর যেকোনো ধরনের উন্নয়নমূলক বা কৌশলগত কর্মকাণ্ডের ওপর দিল্লি সবসময়ই গভীর নজর রাখে। এ ছাড়া এদিন তিস্তা নদী সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্প (টিআরসিএমআরপি) নিয়ে প্রশ্নের জবাবে জয়সওয়াল বলেছেন, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের উন্নয়ন সহযোগিতা পারস্পরিক বোঝাপড়া এবং নিয়মিত পরামর্শের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়। জয়সওয়াল বলেছেন, বাংলাদেশে ভারতের উন্নয়ন সহায়তা উভয় দেশের সম্মত একটি রোডম্যাপের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়, যা নিয়মিত পর্যালোচনা করা হয়। তিনি আরও বলেন, তিস্তা নদী প্রকল্প সম্পর্কে আমাদের অবস্থান ইতিমধ্যেই বাংলাদেশকে জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে ভবিষ্যতে যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় সংশ্লিষ্ট সব সাম্প্রতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় রাখা হবে।বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে তিস্তা এবং ভারত থেকে প্রবাহিত অন্যান্য আন্তঃসীমান্ত নদীর ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতার বিষয়ে সমঝোতার কয়েকদিন পরই দিল্লির এই মন্তব্য এলো। সম্প্রতি চীন সফর শেষে গত ২৯ জুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এক ঘোষণায় বলেন, দেশের উত্তরাঞ্চলের দীর্ঘদিনের পানির সংকট নিরসনে জাতীয় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ‘যেকোনো মূল্যে’ তিস্তা ব্যারেজ মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে। অন্যদিকে বৃহস্পতিবার ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেছেন, বাংলাদেশের তিস্তা প্রকল্পে বেইজিংয়ের সমর্থন অব্যাহত থাকবে। গতকাল তিনি আরও বলেন, তিস্তা প্রকল্পে চীন কাজ করবে। বাংলাদেশের অনুরোধে তিস্তা প্রকল্পে চীন কাজ করবে। তিস্তা প্রকল্পে চীনের অবস্থান অপরিবর্তিত রয়েছে।ভারতের এই মন্তব্যে ইঙ্গিত রয়েছে যে, তারা দক্ষিণ এশিয়ায় চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব নিয়ে উদ্বিগ্ন। বিশেষ করে বাংলাদেশ যদি চীনের কাছ থেকে যুদ্ধবিমান ক্রয় করে এবং চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক করিডোর বাস্তবায়িত হয়, তাহলে তা ভারতের কৌশলগত স্বার্থকে প্রভাবিত করতে পারে। তবে ভারতীয় মুখপাত্রের বক্তব্যে সরাসরি কোনো সমালোচনা না থাকলেও, তারা বিষয়গুলো পর্যবেক্ষণ করছে বলে জানিয়েছেন। অন্যদিকে, বাংলাদেশ ও চীন তাদের সম্পর্ক জোরদার করতে চায়। তারা বলেছে, এই সহযোগিতা বাংলাদেশের উন্নয়নের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিস্তা প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে উত্তরাঞ্চলের কৃষি ও অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক করিডোর হলে এই অঞ্চলের বাণিজ্য ও যোগাযোগ বাড়বে। আর যুদ্ধবিমান ক্রয় বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াবে। ভারতের উদ্বেগ সত্ত্বেও বাংলাদেশ ও চীন তাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে অগ্রসর হচ্ছে। আগামী দিনগুলোতে এই বিষয়গুলো নিয়ে আরও আলোচনা ও প্রতিক্রিয়া দেখা যেতে পারে। বিশেষ করে তিস্তা প্রকল্প নিয়ে ভারতের অবস্থান স্পষ্ট নয়, যা উদ্বেগের কারণ। তবে বাংলাদেশ বলেছে, তারা জাতীয় স্বার্থে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে। পরিস্থিতি কীভাবে পরিবর্তিত হয়, সেদিকে নজর দিচ্ছে সবাই। কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই বিষয়গুলোতে ভারত-চীন-বাংলাদেশ ত্রিপক্ষীয় সম্পর্কের নতুন মাত্রা তৈরি হতে পারে। বাংলাদেশ তার স্বার্থে চীনের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াচ্ছে, যা ভারতকে কিছুটা চিন্তিত করছে। কিন্তু বাংলাদেশের উন্নয়নের জন্য এটি প্রয়োজনীয়। এখন দেখার বিষয়, ভারত কীভাবে এই পরিস্থিতি সামাল দেয় এবং বাংলাদেশের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক কেমন হয়। আপাতত সবাই এই উন্নয়নের দিকে তাকিয়ে আছে।
৪৭ মিনিট আগে
প্রতিরক্ষা বাহিনীর ১৫০ কর্মকর্তা পাচ্ছেন ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি ও আর্থিক সুবিধা

প্রতিরক্ষা বাহিনীর ১৫০ কর্মকর্তা পাচ্ছেন ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি ও আর্থিক সুবিধা

সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত, অপসারিত, অব্যাহতি পাওয়া এবং বরখাস্ত হওয়া ১৫০ কর্মকর্তাকে স্বাভাবিক অবসর, ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি, বকেয়া বেতন-ভাতাসহ বিভিন্ন আর্থিক সুবিধা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সুবিধাপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবদুল্লাহিল আমান আযমী, লেফট্যানেন্ট জেনারেল (অব.) আমিনুল করিম এবং স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের (এসএসএফ) সাবেক মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ ফাতেমী আহমেদ রুমী। গত বুধবার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। প্রতিরক্ষা সচিব মো. আশরাফ উদ্দিন স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে আদেশটি অবিলম্বে কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট পর্যন্ত সময়ে চাকরিতে বঞ্চনা, অবিচার ও প্রতিহিংসার শিকার হওয়া কর্মকর্তাদের আবেদন পর্যালোচনা করে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের গঠিত উচ্চপর্যায়ের কমিটির সুপারিশ এবং তিন বাহিনীর সদরদপ্তরের মতামতের ভিত্তিতে এ প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। সুবিধাপ্রাপ্ত ১৫০ কর্মকর্তার মধ্যে সেনাবাহিনীর ১১৫ জন, নৌবাহিনীর ২১ জন এবং বিমানবাহিনীর ১৪ জন রয়েছেন। অধিকাংশ কর্মকর্তার বাধ্যতামূলক বা অকালীন অবসর বাতিল করে চাকরির মেয়াদ পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত কর্মরত হিসেবে গণ্য করে স্বাভাবিক অবসর দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অনেককে লেফট্যানেন্ট জেনারেল, মেজর জেনারেল, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ও কর্নেল পদে ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। এর ফলে তারা সংশ্লিষ্ট পদমর্যাদার বকেয়া বেতন-ভাতা ও বিধি অনুযায়ী অন্যান্য আর্থিক সুবিধা পাবেন।প্রজ্ঞাপনে কয়েকজন কর্মকর্তার জন্য বিশেষ আর্থিক ও প্রশাসনিক সুবিধারও ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে এককালীন ৩০ লাখ, ৫০ লাখ এবং সর্বোচ্চ ১ কোটি টাকা পর্যন্ত বিশেষ আর্থিক প্রণোদনার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এছাড়া প্রচলিত নীতিমালা অনুযায়ী প্লট বা ফ্ল্যাট বরাদ্দ এবং বয়স ও যোগ্যতার ভিত্তিতে সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে পদায়নের সুযোগও রাখা হয়েছে। সুবিধাপ্রাপ্তদের মধ্যে এসএসএফের সাবেক মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ ফাতেমী আহমেদ রুমীর ২০০৯ সালের বাধ্যতামূলক অবসর সংশোধন করে ২০১৩ সালের ২৫ আগস্ট স্বাভাবিক অবসর দেখানো হয়েছে। ফলে তিনি ২০০৯ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত মেজর জেনারেল পদমর্যাদার বকেয়া বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা পাবেন। ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবদুল্লাহিল আমান আযমীকে ২০১১ সালের ২৬ ডিসেম্বর থেকে মেজর জেনারেল এবং ২০১৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর থেকে লেফট্যানেন্ট জেনারেল পদে ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি তিনি বকেয়া বেতন-ভাতা, অন্যান্য আর্থিক সুবিধা, এক কোটি টাকা বিশেষ আর্থিক প্রণোদনা এবং যোগ্যতা অনুযায়ী সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে পদায়নের সুযোগ পাবেন। এ ছাড়া সাবেক রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহমেদের সামরিক সচিব লেফট্যানেন্ট জেনারেল (অব.) আমিনুল করিমের বাধ্যতামূলক অবসর সংশোধন করে ২০১২ সালের ৩০ জুন স্বাভাবিক অবসর নির্ধারণ করা হয়েছে। এর ফলে তিনি ২০০৯ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত লেফট্যানেন্ট জেনারেল পদমর্যাদার বকেয়া বেতন-ভাতা ও অন্যান্য প্রাপ্য সুবিধা পাবেন।এই সিদ্ধান্তের ফলে দীর্ঘদিন ধরে অবিচারের শিকার হওয়া অনেক সামরিক কর্মকর্তা তাদের প্রাপ্য সম্মান ও আর্থিক সুবিধা পাচ্ছেন। সরকারের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা বলেছেন, এটি একটি ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত, যা প্রতিরক্ষা বাহিনীতে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হবে। বিশেষ করে যারা রাজনৈতিক কারণে বঞ্চিত হয়েছিলেন, তারা এখন কিছুটা হলেও ন্যায়বিচার পেলেন। তবে এখনও অনেক কর্মকর্তা রয়েছেন যারা এই সুবিধার আওতায় আসেননি। তারা আশা করছেন, ভবিষ্যতে তাদেরও এই সুবিধা দেওয়া হবে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা এই প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখবে এবং আরও কর্মকর্তাদের আবেদন পর্যালোচনা করবে। সরকারের এই সিদ্ধান্ত সেনাবাহিনীর মনোবল বাড়াবে এবং ভবিষ্যতে আরও কার্যকর ভূমিকা পালনে উৎসাহিত করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তারা বলেছেন, এই ধরনের উদ্যোগ সামরিক বাহিনীতে সুশাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করবে। আগামী দিনগুলোতে এই সিদ্ধান্তের প্রভাব স্পষ্ট হবে। আপাতত সুবিধাপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা তাদের প্রাপ্য সুবিধা পেতে শুরু করেছেন এবং তারা সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। এই পদক্ষেপ দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য একটি ইতিবাচক পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে। ভবিষ্যতে আরও অনেক সংস্কার আসতে পারে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
২২ মিনিট আগে
পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি পরিবারের ‘স্বপ্নের বাড়ি’ দখল করল ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা

পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি পরিবারের ‘স্বপ্নের বাড়ি’ দখল করল ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা

অধিকৃত পশ্চিম তীরের এক ফিলিস্তিনি পরিবারের স্বপ্নের বাড়ি নির্মাণ শেষ হওয়ার আগেই সেটি দখল করে নিয়েছে একদল ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী (সেটলার)। বাড়িটি ছিল মোহাম্মদ সালামেহর পরিবারের জন্য নির্মাণাধীন, যেখানে সম্প্রতি বাগদান হওয়া তার ছেলে বিয়ের পর নতুন জীবন শুরু করার কথা ছিল। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের যাচাই করা ভিডিওতে দেখা গেছে, অন্তত ছয়জন ইসরায়েলি সেটলার দুই তলা নির্মাণাধীন বাড়িটির ছাদে ঘোরাফেরা করছেন। বাড়িটি একটি পাহাড়ের নিচে অবস্থিত। মোহাম্মদ সালামেহ জানান, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ও পুলিশের কাছে একাধিকবার অভিযোগ করলেও কোনো সহায়তা পাননি। এখন তার আশঙ্কা, পরিবারের বাড়িটি আর কখনও ফিরে পাওয়া যাবে না। একই পরিণতি আশপাশের অন্যান্য ফিলিস্তিনি বাড়িরও হতে পারে। তিনি বলেন, শুধু আল্লাহই জানেন কী হবে। যদি সত্যিই আইন-শৃঙ্খলা বলে কিছু থাকে, তাহলে তারা চলে যাবে। কিন্তু যদি তারা একটি বাড়ি দখলে সফল হয়, তাহলে একের পর এক অন্য বাড়িগুলোও দখল করবে। রয়টার্স দখলকারী সেটলারদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেনি। বৃহস্পতিবারও তাদের একজনকে বাড়িটির ছাদে হাঁটাহাঁটি করতে দেখা গেছে। এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাইলে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানায়, তারা বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। তবে প্রতিবেদন প্রকাশ পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেয়নি। ইসরায়েলি পুলিশও মন্তব্যের অনুরোধে তাৎক্ষণিক সাড়া দেয়নি।পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের জমি দখল নতুন কোনো ঘটনা নয়। বর্তমানে সেখানে প্রায় পাঁচ লাখ ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী প্রায় ৩০ লাখ ফিলিস্তিনির পাশাপাশি বসবাস করছেন। বহু বছর ধরে ফিলিস্তিনিরা অভিযোগ করে আসছেন, বসতি সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে তাদের কৃষিজমি নষ্ট করা, বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর এবং গাছপালা উপড়ে ফেলার ঘটনা নিয়মিত ঘটছে। জাতিসংঘের এক তদন্ত প্রতিবেদনে গত মাসে জানানো হয়, ২০২৩ সালের পর থেকে ফিলিস্তিনি গ্রাম ও কৃষিজমিতে ইসরায়েলি সেটলারদের হামলা ১৩০ শতাংশ বেড়েছে। সালামেহর গ্রামের নাম জালুদ। গ্রামের কাউন্সিল প্রধান রায়েদ আল-হাজ মোহাম্মদ বলেন, এবারের ঘটনাটি বিশেষভাবে উদ্বেগজনক, কারণ এবার প্রথমবারের মতো নির্মাণাধীন একটি বাড়িই দখল করে নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, সেটলাররা এখন জালুদের শেষ বাড়ি থেকে মাত্র ১০০ মিটার দূরে নেমে এসেছে। ওই বাড়িটিও গ্রামের এক বাসিন্দার নির্মাণাধীন বাড়ি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, জালুদ গ্রাম ইতোমধ্যে অন্তত পাঁচটি বড় ধরনের সেটলার হামলার শিকার হয়েছে। এসব হামলায় বাড়িঘরে আগুন দেয়া, যানবাহন ভাঙচুর এবং শত শত গাছ উপড়ে ফেলার ঘটনা ঘটেছে।জাতিসংঘ এবং বিশ্বের অধিকাংশ দেশ পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচনা করে। তাদের মতে, চতুর্থ জেনেভা কনভেনশন অনুযায়ী দখলকৃত ভূখণ্ডে দখলদার রাষ্ট্রের বেসামরিক জনগণকে স্থানান্তর করা নিষিদ্ধ। তবে ইসরাইল এই অবস্থান প্রত্যাখ্যান করে। দেশটির দাবি, পশ্চিম তীর একটি “বিতর্কিত ভূখণ্ড” এবং সেখানে হাজার হাজার বছর ধরে ইহুদিদের ঐতিহাসিক উপস্থিতি রয়েছে। অন্যদিকে ফিলিস্তিনিরা পশ্চিম তীর, গাজা উপত্যকা এবং পূর্ব জেরুজালেমকে ভবিষ্যৎ স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের অংশ হিসেবে দাবি করে। বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণ এবং সেটলারদের সহিংসতা দীর্ঘদিন ধরেই ইসরাইল-ফিলিস্তিন শান্তি প্রচেষ্টার অন্যতম প্রধান বাধা। যুক্তরাষ্ট্রসহ ইসরাইলের ঘনিষ্ঠ মিত্ররাও বহুবার সেটলারদের সহিংস কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করেছে। তবুও প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আসার পর বসতি সম্প্রসারণের গতি আরও বেড়েছে। সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে সরকারটি বসতিপন্থী কট্টরপন্থি রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর নির্ভরশীল।মোহাম্মদ সালামেহ জানান, ২০২৩ সালে গাজা যুদ্ধ শুরুর পর তার ছেলে কাজ হারিয়ে ফেলেন। এতে পরিবারের আর্থিক সংকট তৈরি হয় এবং বাড়ির নির্মাণকাজও থেমে যায়। তিনি বলেন, আমাদের পাশের প্রতিবেশীও দুইতলা একটি বাড়ি নির্মাণ করেছেন। যদি আমরা এই বাড়িটি হারাই, তাহলে সম্ভবত তাদের বাড়িটিও তারা দখল করে নেবে। সালামেহর পরিবারের এই ঘটনা পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনিদের জন্য একটি নতুন উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। তারা আশঙ্কা করছেন, এভাবে একের পর এক বাড়ি দখল করা হলে তারা তাদের এলাকা থেকে বিতাড়িত হবে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে তারা দ্রুত হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন। ইসরায়েলের এই পদক্ষেপের ফলে পশ্চিম তীরের পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে মামলা করার হুমকি দিয়েছে। তবে ইসরায়েলি সরকার তাদের অবস্থানে অনড়। তারা বলেছে, বসতি স্থাপন তাদের অধিকার এবং তারা তা অব্যাহত রাখবে। এই সংঘাতের কোনো সহজ সমাধান নেই বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। আপাতত সালামেহর পরিবারের মতো আরও কত পরিবার তাদের স্বপ্নের বাড়ি হারায়, সেদিকে তাকিয়ে আছে বিশ্ব। ফিলিস্তিনিরা তাদের অধিকার ও জমি রক্ষায় আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। অন্যদিকে, ইসরায়েলি সরকারও তাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে এগিয়ে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার পথে আরও একটি বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত এই সমস্যার সমাধানে আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করা। অন্যথায় এই অঞ্চলে সহিংসতা আরও বাড়তে পারে এবং আরও বেশি ফিলিস্তিনি তাদের বাড়ি-জমি হারাবে। সালামেহর পরিবারের করুণ কাহিনী এই সংঘাতের বাস্তব চিত্র তুলে ধরে। তাদের মতো আরও কত পরিবার প্রতিদিন এই সংকটের মুখোমুখি হচ্ছে। এই সমস্যার সমাধান না হলে ফিলিস্তিনিদের দুর্ভোগ বাড়তেই থাকবে। তাই এখন সময় এসেছে বিশ্ব নেতাদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার এবং এই সংকটের স্থায়ী সমাধান খোঁজার। অন্যথায় ভবিষ্যতে আরও ভয়াবহ পরিণতি হতে পারে। সবাই আশা করে, শান্তি ও ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে এই সংকটের সমাধান হবে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, এই পথটি অত্যন্ত কঠিন এবং দীর্ঘ। তবুও আশা ছাড়া উপায় নেই। সালামেহর পরিবারের মতো মানুষরা তাদের বাড়ি ফিরে পাওয়ার আশায় রয়েছে। হয়তো একদিন সেই দিন আসবে। ততদিন পর্যন্ত তারা সংগ্রাম চালিয়ে যাবে এবং বিশ্বের দৃষ্টি আকর্ষণ করবে। এই ঘটনা শুধু একটি পরিবারের গল্প নয়, এটি পুরো ফিলিস্তিনি জনগণের সংগ্রামের প্রতীক। তাদের অধিকার ও মর্যাদার জন্য এই লড়াই অব্যাহত থাকবে। আশা করি, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই বিষয়ে সচেতন হবে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে। ফিলিস্তিনিদের স্বপ্নের বাড়ি যেন আর কেউ দখল করতে না পারে, সেজন্য সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। তবেই একটি শান্তিপূর্ণ ও ন্যায়পূর্ণ সমাধান সম্ভব।
২৮ মিনিট আগে
১৫ এপ্রিল ২০২৬, ১২:১১ এএম
আপনি কি মনে করেন বিএনপি জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর ও শব্দ বাস্তবায়ন করবে?

আপনি কি মনে করেন বিএনপি জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর ও শব্দ বাস্তবায়ন করবে?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ জন
১৪ মাস পর দেশজুড়ে শুরু হচ্ছে ভিটামিন এ ক্যাম্পেইন, ২ কোটি ৩৫ লাখ শিশু পাবে ক্যাপসুল

১৪ মাস পর দেশজুড়ে শুরু হচ্ছে ভিটামিন এ ক্যাম্পেইন, ২ কোটি ৩৫ লাখ শিশু পাবে ক্যাপসুল

প্রায় ১৪ মাস পর দেশব্যাপী ভিটামিন এ ক্যাপসুল ক্যাম্পেইন শুরু হতে যাচ্ছে। অন্ধত্ব প্রতিরোধসহ শিশুদের পুষ্টিহীনতা দূরীকরণের লক্ষ্যে আয়োজিত এই বিশেষ ক্যাম্পেইন ২৮ জুন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলবে। এদিন ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী ২ কোটি ৩৫ লাখের বেশি শিশুকে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। তবে ১২টি জেলার ৫৮টি উপজেলার ২৯০টি ইউনিয়নের ৭১৪টি ওয়ার্ডের দুর্গম অঞ্চলে ক্যাম্পেইন-পরবর্তী চার দিন ‘চাইল্ড টু চাইল্ড সার্চিং’ কার্যক্রম চালানো হবে। জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক মোহাম্মদ ইউনুস আলী বাসসকে এ তথ্য জানিয়েছেন।ক্যাম্পেইন বাস্তবায়নের দায়িত্বে আছে জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, এবারের ক্যাম্পেইনে ২ কোটি ৩৫ লাখ ১৪ হাজার ৯৭২টি শিশুকে অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬ মাস থেকে ১১ মাস বয়সী শিশুদের সংখ্যা (যাদের নীল রঙের ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে) ২৮ লাখ ৩৮ হাজার ৭৯৪ জন। ১২ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের সংখ্যা (যাদের লাল রঙের ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে) ২ কোটি ৫ লাখ ৭৬ হাজার ১৭৮ জন। এ বিষয়ে জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক মোহাম্মদ ইউনুস আলী বলেন, ২৮ জুন দেশব্যাপী ভিটামিন এ ক্যাপসুল ক্যাম্পেইন আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। বাস্তবায়নের জন্য ইতিমধ্যে ১ লাখ ২০ হাজার কেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে। এগুলো ইপিআইয়ের নিয়মিত কেন্দ্র। এ ছাড়া আরও ৫০০টি মোবাইলকেন্দ্র (লঞ্চঘাট, ফেরিঘাট, রেলস্টেশন, বাসস্টেশন ইত্যাদি) স্থাপন করা হয়েছে। ভিটামিন এ ক্যাপসুল ইতিমধ্যে হাতে এসে পৌঁছেছে বলে জানান মোহাম্মদ ইউনুস আলী। তিনি বলেন, ‘ক্যাম্পেইন বাস্তবায়নের জন্য আমরা সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিচ্ছি। আশা করছি, ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের অভিভাবকেরা কাছাকাছি কেন্দ্রগুলোয় গিয়ে তাঁদের সন্তানদের ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানোর ব্যবস্থা করবেন।’স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে, ২৮ জুন সকালে রাজধানীর শাহবাগের আবু সাঈদ কনভেশন সেন্টারে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন ভিটামিন এ ক্যাপসুল ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করবেন। অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত, প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক উপদেষ্টা এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার উপস্থিত থাকবেন। এ ছাড়া জেলা-উপজেলা পর্যায়ে স্থানীয় সংসদ সদস্যরা স্থানীয় প্রশাসনকে সঙ্গে নিয়ে ভিটামিন এ ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করবেন। মাঠকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকদের মাধ্যমে মাঠপর্যায়ে ক্যাম্পেইন বাস্তবায়ন করা হবে। জেলা-উপজেলা পর্যায়ে সিভিল সার্জন এবং উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তারা (নিজেদের টিমের মাধ্যমে) স্থানীয় পর্যায়ে মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে কর্মকর্তাদের মাঠপর্যায়ে তদারকির কাজ সম্পন্ন করতে মন্ত্রণালয় নির্দেশ দিয়েছে।জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিয়ম অনুসারে বছরে দুবার ভিটামিন এ ক্যাপসুলের ক্যাম্পেইন হওয়ার কথা। তবে ক্যাপসুলসংকটে গত বছরের মার্চ মাসের পর থেকে তা আর হয়নি। দীর্ঘ ১৪ মাস পর ২৮ জুন এই ক্যাম্পেইন হচ্ছে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, ‘দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা ভিটামিন এ ক্যাপসুল ক্যাম্পেইন আমরা আবার হাতে নিয়েছি। ক্যাম্পেইনটি সফল করতে সবাইকে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানাচ্ছি।’ ক্যাম্পেইনের দিন পরিবারের ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী সব শিশুকে কাছের কেন্দ্রে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টার মধ্যে নিয়ে গিয়ে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো নিশ্চিত করতে অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের প্রচারপত্রে বলা হয়েছে, ভিটামিন এ শিশুর জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, ভিটামিন এ শুধু অপুষ্টিজনিত অন্ধত্ব থেকে শিশুদের রক্ষা করে না; বরং তা রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ায়। দীর্ঘমেয়াদি ডায়রিয়া থেকে শিশুকে সুরক্ষা দেয়। শিশুর মৃত্যুঝুঁকি কমায়। শিশুদের অন্ধত্ব ও পুষ্টিহীনতা দূর করতে বাংলাদেশে ১৯৭৩ সাল থেকে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো শুরু হয়। তখন এটি ‘জাতীয় রাতকানা রোগপ্রতিরোধ কার্যক্রম’ নামে পরিচিত ছিল। ১৯৯৫ সালে কার্যক্রমটি আরও শক্তিশালী করতে জাতীয় টিকাদান দিবসের সঙ্গে ভিটামিন এ কর্মসূচি যুক্ত করা হয়। ২০০৩ সাল থেকে এর নাম দেওয়া হয় ‘জাতীয় ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইন’। ২০১১ সালে এটি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জাতীয় পুষ্টিসেবা (এনএনএস) কার্যক্রমের আওতাভুক্ত করা হয়। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘ ১৪ মাস বিরতির পর এই ক্যাম্পেইন শিশুদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অভিভাবকদের উদ্দেশে তারা বলেছেন, নির্ধারিত দিনে শিশুদের ক্যাপসুল খাওয়ানোর জন্য কেন্দ্রে নিয়ে যেতে হবে। কেন্দ্রে যেসব শিশুর উপস্থিতি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না, তাদের জন্য ‘চাইল্ড টু চাইল্ড সার্চিং’ কার্যক্রমের মাধ্যমে ক্যাপসুল পৌঁছে দেওয়া হবে। এই কর্মসূচি সফল করতে মাঠ পর্যায়ে স্বাস্থ্য কর্মীদের পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবকরাও কাজ করবেন বলে জানিয়েছে জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠান।
২৪ জুন ২০২৬
বুধবার বন্ধ থাকবে ব্যাংক ও শেয়ারবাজার

বুধবার বন্ধ থাকবে ব্যাংক ও শেয়ারবাজার

অর্ধবার্ষিক হিসাব-নিকাশ সম্পন্ন করার জন্য বুধবার (১ জুলাই) সারা দেশে পালিত হবে ব্যাংক হলিডে। এ উপলক্ষে সব ধরনের ব্যাংকিং লেনদেন বন্ধ থাকবে। পাশাপাশি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) শেয়ার লেনদেন বন্ধ থাকবে। তবে গ্রাহকসেবা বন্ধ থাকলেও বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সব তফসিলি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় এবং প্রয়োজনীয় গুরুত্বপূর্ণ শাখা খোলা থাকবে। এসব কার্যালয়ে অর্ধবার্ষিক আর্থিক হিসাব-নিকাশ ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালিত হবে।প্রতি বছরের ১ জুলাই ব্যাংকগুলো ছয় মাসের আর্থিক হিসাব চূড়ান্ত করে অর্ধবার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদন প্রস্তুত করে। এ কারণে দিনটিকে ব্যাংক হলিডে হিসেবে পালন করা হয়। ব্যাংক বন্ধ থাকায় শেয়ারবাজারেও লেনদেন হবে না। কারণ, পুঁজিবাজারের অধিকাংশ আর্থিক লেনদেন ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। উল্লেখ্য, প্রতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর বার্ষিক হিসাব-নিকাশ ও আর্থিক প্রতিবেদন প্রস্তুতের জন্যও ব্যাংক হলিডে পালন করা হয়।ব্যাংক হলিডে উপলক্ষে সাধারণ গ্রাহকদের জন্য কোনো লেনদেন না থাকলেও ব্যাংকগুলোর অভ্যন্তরীণ কার্যক্রম চলবে। প্রধান কার্যালয় ও গুরুত্বপূর্ণ শাখাগুলো খোলা থাকায় আর্থিক প্রতিবেদন তৈরির কাজ সম্পন্ন করা হবে। ব্যাংক কর্মকর্তারা এদিন তাদের দৈনন্দিন কাজের পাশাপাশি অর্ধবার্ষিক প্রতিবেদন প্রস্তুত করতে ব্যস্ত থাকবেন। এদিন কোনো চেক ক্লিয়ারিং বা অন্যান্য লেনদেন হবে না। তবে এটিএম বুথ ও অনলাইন ব্যাংকিং সেবা চালু থাকতে পারে, যা গ্রাহকদের জরুরি প্রয়োজনে সহায়তা করবে। তবে অধিকাংশ ব্যাংক তাদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ও মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে আগেই গ্রাহকদের এ বিষয়ে জানিয়ে দিয়েছে। আগামী ২ জুলাই থেকে স্বাভাবিক ব্যাংকিং কার্যক্রম শুরু হবে। শেয়ারবাজারও ২ জুলাই থেকে খোলা থাকবে। বিনিয়োগকারীদের এ বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পুঁজিবাজারে বুধবার কোনো লেনদেন না থাকায় বিনিয়োগকারীদের জন্য এটি একটি বিরতি হিসেবে কাজ করবে। আগামী কার্যদিবসে বাজার খোলার পর স্বাভাবিক লেনদেন শুরু হবে। ব্যাংক হলিডে উপলক্ষে গ্রাহকদের প্রয়োজনীয় লেনদেন আগেই সম্পন্ন করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। কারণ, এদিন কোনো আর্থিক লেনদেন সম্ভব হবে না। তবে জরুরি প্রয়োজনে এটিএম ও অনলাইন সেবা ব্যবহার করা যেতে পারে। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা যাতে গ্রাহকদের কোনো অসুবিধা না হয়, সেজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে। আগামীকাল থেকে সবকিছু স্বাভাবিক থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। গ্রাহকরা নিজেদের আর্থিক লেনদেন পরিকল্পনা করে নিলে ভালো হবে। এ ধরনের ব্যাংক হলিডে প্রতি বছর দুবার হয়, যা আর্থিক খাতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই দিনগুলোতে ব্যাংকগুলো তাদের হিসাব-নিকাশ ঠিক করে এবং আর্থিক প্রতিবেদন তৈরি করে। এতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়ে। আগামী বছরের জন্য এ প্রতিবেদনগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে কাজ করে। তাই ব্যাংক হলিডে পালন করা অত্যন্ত জরুরি। বুধবার ব্যাংক ও শেয়ারবাজার বন্ধ থাকায় সাধারণ মানুষ ও বিনিয়োগকারীদের এ বিষয়ে সচেতন থাকা উচিত।
০৮ মে ২০২৬
পেপ্যালসহ বৈশ্বিক পেমেন্ট প্ল্যাটফর্ম আসছে বাংলাদেশে: অর্থমন্ত্রী

পেপ্যালসহ বৈশ্বিক পেমেন্ট প্ল্যাটফর্ম আসছে বাংলাদেশে: অর্থমন্ত্রী

০৮ মে ২০২৬
নতুন নকিয়া ১১০ পাওয়ার: এক চার্জে ১৫ দিন, দাম ২৮৯৯ টাকা

নতুন নকিয়া ১১০ পাওয়ার: এক চার্জে ১৫ দিন, দাম ২৮৯৯ টাকা

নকিয়ার চিরচেনা ফিচার ফোনের ঐতিহ্যকে আধুনিক রূপে ফিরিয়ে এনে বাংলাদেশে উৎপাদিত নতুন ‘নকিয়া ১১০ পাওয়ার’ উন্মোচন করা হয়েছে। ফোনটি একবার চার্জে ১৫ দিন চলবে, দাম ২ হাজার ৮৯৯ টাকা। মুঠোফোনের ইতিহাসে সবচেয়ে জনপ্রিয় ও সর্বাধিক বিক্রিত মডেলগুলোর একটি নকিয়া ১১০। সেই পরিচিত ফোনটিই এবার নতুন রূপে ফিরেছে বাংলাদেশের বাজারে। দীর্ঘস্থায়ী ব্যাটারি, বড় পর্দা ও পরিচিত নকশার সমন্বয়ে উন্মোচন করা হয়েছে নতুন নকিয়া ১১০ পাওয়ার।সম্প্রতি রাজধানীর গুলশান শুটিং ক্লাবে আয়োজিত দিনব্যাপী বিক্রয় প্রতিনিধি সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে ফোনটি উন্মোচন করা হয়। এর আয়োজন করে বাংলাদেশে নকিয়া ফোনের একমাত্র উৎপাদনকারী ও পরিবেশক প্রতিষ্ঠান সেলেক্সট্রা লিমিটেড। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এইচএমডি বাংলাদেশের বিজনেস ম্যানেজার কাজী আল আমিন, সেলেক্সট্রার ব্যবস্থাপনা পরিচালক রিয়াজুল ইসলাম, হেড অব সেলস মামুন খান, চিফ বিজনেস অফিসার মোহাম্মদ আসিফ আলমগীর প্রমুখ। অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, দেশে উৎপাদিত এই নতুন মডেলটি নকিয়ার ঐতিহ্যকে ধরে রেখে আধুনিক ব্যবহারকারীদের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তৈরি করা হয়েছে। নতুন নকিয়া ১১০ পাওয়ারের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ এর শক্তিশালী ১৭৫০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার ব্যাটারি। নির্মাতাদের দাবি, একবার পূর্ণ চার্জে ফোনটি টানা ১৫ দিন পর্যন্ত সচল থাকতে পারবে। ফলে নিয়মিত চার্জ দেওয়ার ঝামেলা ছাড়াই দীর্ঘ সময় ব্যবহার করা যাবে ফোনটি।ফিচার ফোন হলেও এতে রয়েছে দুই ইঞ্চি পর্দা, যা আগের অনেক মডেলের তুলনায় বড় ও ব্যবহারবান্ধব। ফোনটির পেছনে থাকা ক্যামেরার সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে এলইডি ফ্ল্যাশ, যা অল্প আলো বা অন্ধকার পরিবেশেও ছবি তুলতে সহায়তা করবে। নকিয়ার পুরোনো ব্যবহারকারীদের জন্য সুখবর হলো নতুন এই ফোনেও রাখা হয়েছে একসময়ের জনপ্রিয় স্নেক গেম। ফলে প্রযুক্তির আধুনিকতার পাশাপাশি নস্টালজিয়ার ছোঁয়াও মিলবে ডিভাইসটিতে। নকিয়া ১১০ পাওয়ার বাজারে আনা হয়েছে নীল, ধূসর ও বেগুনি—এই তিন রঙে।প্রসঙ্গত, নকিয়ার আসল ফোন দেখে কিনতে জানিয়েছেন নির্মাতারা। আপনার কেনা ফোনটি আসল কি না, তা যাচাই করতে মুঠোফোনের আইএমইআই নম্বর লিখে ‘KYD <স্পেস> ১৫ সংখ্যার আইএমইআই নম্বর’ টাইপ করে ১৬০০২ নম্বরে এসএমএস পাঠাতে হবে। ফিরতি এসএমএস ডিভাইসটির বৈধ বা নকলের তথ্য পাওয়া যাবে। নকিয়া ১১০ পাওয়ারকে বাংলাদেশের বাজারে ফিচার ফোনের মধ্যে অন্যতম সেরা বিকল্প হিসেবে দেখা হচ্ছে। এটির দাম ২ হাজার ৮৯৯ টাকা হওয়ায় এটি সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রয়েছে। বিশেষ করে যারা শুধু কল, এসএমএস এবং কিছু মৌলিক কাজের জন্য ফোন ব্যবহার করেন, তাদের জন্য এটি একটি চমৎকার পছন্দ। এর শক্তিশালী ব্যাটারি, বড় পর্দা, স্নেক গেমের নস্টালজিয়া এবং এলইডি ফ্ল্যাশ সহ ক্যামেরা ফোনটিকে আকর্ষণীয় করে তুলেছে। সেলেক্সট্রা লিমিটেড জানিয়েছে, তারা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এই ফোনের বিক্রি বাড়াতে কাজ করছে। তারা গ্রাহকদের সন্তুষ্টি এবং আফটার-সেলস সার্ভিস নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। নকিয়া ১১০ পাওয়ার উন্মোচনের পর থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফোনটির ব্যাপক আলোচনা হচ্ছে। অনেকে তাদের পুরোনো দিনের কথা স্মরণ করে এই ফোন কেনার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। আগামী কয়েক সপ্তাহে ফোনটির বিক্রি ভালো হতে পারে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা। নকিয়া বাংলাদেশে তাদের ফিচার ফোনের বাজার ধরে রাখতে আরও নতুন মডেল আনতে পারে বলে গুঞ্জন রয়েছে। ফোনটির বিষয়ে বিস্তারিত জানতে গ্রাহকরা সেলেক্সট্রার অফিসিয়াল ওয়েবসাইট বা নিকটস্থ মোবাইল ফোনের দোকানে যোগাযোগ করতে পারেন। নকিয়ার এই নতুন যাত্রা বাংলাদেশের মোবাইল বাজারে একটি ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
২৯ জুন ২০২৬
কোন ছবি নেই !
কোন ছবি নেই !
নাগরিকত্বের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সন্তান জন্ম দেওয়া ভিসা শর্তের পরিপন্থি: মার্কিন দূতাবাস

নাগরিকত্বের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সন্তান জন্ম দেওয়া ভিসা শর্তের পরিপন্থি: মার্কিন দূতাবাস

ক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পাওয়ার উদ্দেশ্যে দেশটিতে গিয়ে সন্তান জন্ম দেওয়া এখন থেকে ভিসার শর্তের পরিপন্থি হিসেবে গণ্য হবে। এমন উদ্দেশ্যে কেউ ভিসা আবেদন করলে তা সরাসরি বাতিল করা হবে বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে মার্কিন দূতাবাস।বুধবার সকালে দূতাবাসের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বিশেষ সতর্কবার্তায় এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।কী বলছে দূতাবাসের সতর্কবার্তাদূতাবাসের পোস্টে উল্লেখ করা হয়, কোনো ব্যক্তি যদি মূলত সন্তানের মার্কিন নাগরিকত্ব নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের পরিকল্পনা করেন, তবে তা দেশটির বর্তমান ভিসা নীতিমালার পরিপন্থি।কনস্যুলার কর্মকর্তারা যদি সাক্ষাৎকার বা তদন্তের মাধ্যমে বুঝতে পারেন যে আবেদনকারীর মূল লক্ষ্য সন্তান জন্ম দিয়ে নাগরিকত্ব অর্জন, তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ট্যুরিস্ট ভিসা আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হবে।সতর্কবার্তায় আরও বলা হয়, এ ধরনের কার্যক্রম মার্কিন ভিসা নীতিমালার গুরুতর লঙ্ঘন। তাই আবেদনকারীদের শুধু প্রকৃত এবং সঠিক উদ্দেশ্য উল্লেখ করে আবেদন করার আহ্বান জানিয়েছে দূতাবাস।কঠোর সতর্কতাভিসা পাওয়ার জন্য ভুল তথ্য প্রদান বা ভিসার শর্ত ভঙ্গ করলে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের ক্ষেত্রে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা বা নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলেও সতর্কবার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে।অর্থাৎ, কেউ যদি এ উদ্দেশ্যে ভিসা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সন্তান জন্ম দেন এবং তা প্রমাণিত হয়, তাহলে পরবর্তীতে তার যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়া পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যেতে পারে।যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে জন্ম নিলে সন্তান স্বয়ংক্রিয়ভাবে সে দেশের নাগরিক হয় – এই সুযোগ কাজে লাগাতে অনেকেই আগে ট্যুরিস্ট ভিসায় গিয়ে সন্তান প্রসব করতেন। এখন থেকে সেই পথ কার্যকরীভাবে বন্ধ করে দিলো মার্কিন দূতাবাস। শুধু ভিসা বাতিল নয়, ভবিষ্যতেও যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞার হুঁশিয়ারি দেওয়ায় এই সিদ্ধান্তকে ‘চরম কঠোর’ বলছেন অভিবাসন বিশ্লেষকরা। ফলে আবেদনকারীদের এখন ভিসা আবেদনের আগে তিনবার ভাবতে হবে।
০৮ মে ২০২৬
হাদিসশাস্ত্রের মহান ইমাম: ইমাম মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল আল-বুখারি (রহ.)

হাদিসশাস্ত্রের মহান ইমাম: ইমাম মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল আল-বুখারি (রহ.)

যে নামের সঙ্গে জড়িয়ে আছে রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর বাণীর নিরাপদ সংরক্ষণইসলামের ইতিহাসে এমন কিছু মনীষীর আবির্ভাব ঘটেছে, যাঁদের অবদান কোনো নির্দিষ্ট যুগ, ভূখণ্ড কিংবা জাতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তাঁদের কর্ম মানবসভ্যতার ইতিহাসে স্থায়ী প্রভাব রেখে গেছে। সেই বিরল ব্যক্তিত্বদের অন্যতম হলেন ইমাম আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল আল-বুখারি (রহ.)—যাঁর নাম উচ্চারিত হলেই মনে ভেসে ওঠে 'সহিহ বুখারি', হাদিসশাস্ত্রের সর্বাধিক নির্ভরযোগ্য সংকলন।আজ পৃথিবীর যে প্রান্তেই মুসলমান বসবাস করুক না কেন, কুরআনুল কারিমের পর যে গ্রন্থটি সবচেয়ে বেশি সম্মান, গ্রহণযোগ্যতা ও নির্ভরযোগ্যতার মর্যাদা লাভ করেছে, সেটি হলো সহিহ আল-বুখারি। এটি শুধু একটি হাদিসগ্রন্থ নয়; বরং রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর জীবন, বাণী, কর্ম ও সুন্নাহকে বিশুদ্ধভাবে সংরক্ষণের এক অসাধারণ বৈজ্ঞানিক প্রচেষ্টা।কিন্তু এই বিস্ময়কর কীর্তির পেছনে ছিল এক শিশুর অশ্রুসিক্ত শৈশব, একজন মায়ের অবিচল ঈমান, সীমাহীন ত্যাগ, হাজার হাজার মাইল দীর্ঘ সফর, অক্লান্ত গবেষণা এবং সত্যের প্রতি আপসহীন নিষ্ঠা।বুখারা—জ্ঞান ও সভ্যতার এক উজ্জ্বল নগরীবর্তমান উজবেকিস্তানের অন্তর্গত প্রাচীন নগরী বুখারা একসময় ছিল মুসলিম বিশ্বের অন্যতম প্রধান জ্ঞানকেন্দ্র। মধ্য এশিয়ার এই শহরটি ছিল সিল্ক রোডের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র। এখানে যেমন বণিকদের আনাগোনা ছিল, তেমনি ছিল কুরআন, হাদিস, ফিকহ, ভাষাতত্ত্ব, দর্শন ও চিকিৎসাবিজ্ঞানের খ্যাতিমান পণ্ডিতদের সমাবেশ।অষ্টম ও নবম শতাব্দীতে বুখারা শুধু রাজনৈতিকভাবেই নয়, জ্ঞানচর্চার ক্ষেত্রেও খ্যাতির শীর্ষে অবস্থান করছিল। দূর-দূরান্ত থেকে ছাত্ররা এখানে আসতেন ইসলামী জ্ঞান অর্জনের জন্য।এই জ্ঞানময় পরিবেশেই জন্ম নেন সেই মহান ব্যক্তিত্ব, যিনি পরবর্তীকালে মানবজাতির অন্যতম শ্রেষ্ঠ গবেষক হিসেবে ইতিহাসে অমর হয়ে থাকবেন।জন্ম ও বংশপরিচয়ইমাম বুখারির পূর্ণ নাম—আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল ইবনে ইবরাহিম ইবনে আল-মুগিরাহ ইবনে বারদিযবাহ আল-জুফি আল-বুখারি (রহ.)।তিনি ১৩ শাওয়াল, ১৯৪ হিজরি (৮১০ খ্রিস্টাব্দ) বুখারা নগরীতে জন্মগ্রহণ করেন।তাঁর পরিবার মূলত পারস্য বংশোদ্ভূত ছিল। তাঁর প্রপিতামহ আল-মুগিরাহ ইসলামের সুশীতল ছায়ায় আশ্রয় গ্রহণ করেন এবং জুফি গোত্রের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করেন। সেই সূত্রেই তাঁদের বংশের সঙ্গে "আল-জুফি" উপাধি যুক্ত হয়।যদিও বংশগতভাবে তিনি আরব ছিলেন না, কিন্তু ইসলামী জ্ঞান, চরিত্র, গবেষণা ও অবদানের কারণে তিনি মুসলিম বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ইমাম হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেন।এক ধার্মিক পিতার উত্তরাধিকারইমাম বুখারির পিতা ইসমাইল ইবনে ইবরাহিম ছিলেন একজন সম্মানিত মুহাদ্দিস ও অত্যন্ত পরহেজগার ব্যক্তি।তিনি বিখ্যাত মুহাদ্দিস ইমাম মালিক ইবনে আনাস (রহ.), হাম্মাদ ইবনে যায়েদ (রহ.) প্রমুখ আলেমের নিকট হাদিস অধ্যয়ন করেছিলেন।তাঁর সম্পর্কে জীবনীকাররা উল্লেখ করেছেন, মৃত্যুর আগে তিনি বলেছিলেন—"আমার সম্পদের মধ্যে এমন একটি দিরহামও নেই, যা হারাম উপার্জন থেকে এসেছে কিংবা যার মধ্যে সন্দেহ রয়েছে।"এই বক্তব্য শুধু তাঁর ব্যক্তিগত সততার পরিচয় দেয় না; বরং বোঝায়, ইমাম বুখারির জীবনের ভিত্তি নির্মিত হয়েছিল হালাল রিজিক, তাকওয়া ও সততার ওপর।দুঃখজনকভাবে ইমাম বুখারি খুব অল্প বয়সেই তাঁর পিতাকে হারান। ফলে তাঁর লালন-পালনের সম্পূর্ণ দায়িত্ব এসে পড়ে তাঁর মায়ের ওপর।একজন মায়ের দোয়া বদলে দিয়েছিল ইতিহাসইমাম বুখারির শৈশবের সবচেয়ে হৃদয়স্পর্শী ঘটনাগুলোর একটি হলো তাঁর দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলা।শৈশবে এক দুরারোগ্য ব্যাধির কারণে তিনি সম্পূর্ণ অন্ধ হয়ে যান। চিকিৎসকরা আশাহত হয়ে পড়েন। পরিবারের লোকজনও প্রায় আশা ছেড়ে দেন।কিন্তু একজন মানুষ আশা হারাননি।তিনি ছিলেন তাঁর মা।দিনের পর দিন, রাতের পর রাত তিনি আল্লাহর দরবারে কেঁদে কেঁদে দোয়া করতে থাকেন।ইতিহাসবিদদের একটি প্রসিদ্ধ বর্ণনায় এসেছে, এক রাতে তিনি স্বপ্নে আল্লাহর নবী ইবরাহিম (আ.)-কে দেখেন। তিনি বলেন—"তোমার অধিক দোয়া ও কান্নার কারণে আল্লাহ তোমার সন্তানের দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দিয়েছেন।"পরদিন ঘুম থেকে উঠে তিনি বিস্ময়ের সঙ্গে দেখলেন—ছেলের চোখে আবার আলো ফিরে এসেছে।ঐতিহাসিক মন্তব্যএই ঘটনাটি প্রাচীন জীবনীগ্রন্থে উল্লেখিত একটি প্রসিদ্ধ ঐতিহ্যগত বর্ণনা। ইতিহাসবিদরা এটি উদ্ধৃত করলেও এর সনদ হাদিসের মানদণ্ডে সহিহ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত নয়। তবে মুসলিম ঐতিহাসিক সাহিত্যে ঘটনাটি ব্যাপকভাবে বর্ণিত হয়েছে এবং একজন মায়ের দোয়ার শক্তির অনন্য উদাহরণ হিসেবে আলোচিত।দৃষ্টি ফিরে পাওয়ার পর শুরু হয় আরেক অলৌকিক যাত্রাচোখের আলো ফিরে পাওয়ার পর যেন তাঁর মেধারও নতুন দ্বার উন্মুক্ত হয়ে গেল।অন্য শিশুরা যখন খেলাধুলায় ব্যস্ত থাকত, তখন ছোট্ট মুহাম্মদের সবচেয়ে প্রিয় কাজ ছিল আলেমদের দরসে বসা।তিনি মনোযোগ দিয়ে শুনতেন।বারবার শুনতেন।একবার শুনলেই মনে গেঁথে যেত।তাঁর স্মৃতিশক্তি এতটাই প্রখর ছিল যে, শৈশবেই শিক্ষকরা তাঁর অসাধারণ মেধায় বিস্মিত হয়ে পড়েন।মাত্র দশ বছর বয়সে শুরু হাদিস সংশোধনইমাম বুখারির জীবনীকারদের বর্ণনা অনুযায়ী, মাত্র দশ বছর বয়সেই তিনি হাদিস অধ্যয়নে এমন দক্ষতা অর্জন করেন যে, কোনো শিক্ষক হাদিস বর্ণনার সময় ভুল করলে তিনি বিনয়ের সঙ্গে তা সংশোধন করে দিতেন।প্রথম দিকে শিক্ষকরা তাঁর আপত্তি গ্রহণ করতেন না।কিন্তু যখন মূল গ্রন্থ বের করে মিলিয়ে দেখা হতো, তখন দেখা যেত—ছোট্ট মুহাম্মদই সঠিক ছিলেন।এই ঘটনাগুলো খুব দ্রুত পুরো বুখারায় ছড়িয়ে পড়ে।এগারো বছর বয়সে বিস্ময়কর ঘটনাএকদিন তাঁর শিক্ষক একটি সনদ (ইসনাদ) পাঠ করছিলেন।তিনি ভুলবশত একজন রাবির নাম অন্যজনের সঙ্গে পরিবর্তন করে ফেলেন।ইমাম বুখারি বিনয়ের সঙ্গে বলেন—"হে উস্তাদ, এখানে সম্ভবত নামটি ভিন্ন হবে।"শিক্ষক প্রথমে বিষয়টি গুরুত্ব দেননি।কিন্তু পরে মূল কপি বের করে দেখেন, কিশোর ছাত্রটির বক্তব্যই সঠিক।সেদিন থেকেই আলেমরা বুঝতে পারেন—এই শিশুর স্মৃতি ও বিশ্লেষণক্ষমতা সাধারণ মানুষের মতো নয়।কৈশোরেই সম্পূর্ণ হাদিসবিদমাত্র ষোলো বছর বয়সে তিনি হাদিসশাস্ত্রের বহু গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ অধ্যয়ন শেষ করেন।এর মধ্যে ছিল—আবদুল্লাহ ইবনে মুবারক (রহ.)-এর সংকলনওয়াকী ইবনে জাররাহ (রহ.)-এর রেওয়ায়েততৎকালীন বহু মুহাদ্দিসের মৌলিক হাদিসগ্রন্থএই সময়েই তাঁর মা ও ভাই আহমদের সঙ্গে তিনি হজ পালনের উদ্দেশ্যে মক্কায় যান।হজ শেষে তাঁর মা ও ভাই বুখারায় ফিরে এলেও মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল থেকে যান।কারণ তাঁর সামনে তখন আরেকটি স্বপ্ন।রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর প্রতিটি সহিহ হাদিস খুঁজে বের করা।সংগ্রহ করা।যাচাই করা।সংরক্ষণ করা।তিনি তখনও জানতেন না—এই স্বপ্নই একদিন তাঁকে ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ মুহাদ্দিসে পরিণত করবে।জ্ঞানার্জনের দীর্ঘ সফর, বিস্ময়কর স্মৃতিশক্তি ও বিশ্বসেরা মুহাদ্দিসে পরিণত হওয়ার গল্পমাত্র ষোলো বছর বয়সে হজ পালন শেষে ইমাম বুখারি (রহ.) একটি যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নেন। তাঁর মা ও বড় ভাই আহমদ বুখারায় ফিরে গেলেও তিনি মক্কায় থেকে যান। কারণ তাঁর হৃদয়ে তখন একটি মাত্র স্বপ্ন—রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর সহিহ হাদিসগুলোকে পৃথিবীর জন্য সংরক্ষণ করা।এই সিদ্ধান্তই তাঁর পুরো জীবনকে বদলে দেয়।মক্কা ও মদিনায় ইলমের নতুন অধ্যায়হজের পর ইমাম বুখারি (রহ.) দীর্ঘ সময় মক্কায় অবস্থান করেন। তিনি মসজিদুল হারামে বসে হাদিস, ফিকহ, আরবি ভাষা ও রিজালশাস্ত্র অধ্যয়ন করতে থাকেন। পরে তিনি মদিনায় চলে যান। রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর রওজা মোবারকের সান্নিধ্যে কাটানো সময় তাঁর জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে ওঠে।ঐতিহাসিক সূত্রে উল্লেখ রয়েছে, মদিনায় অবস্থানকালে রাতের নির্জনে, অনেক সময় চাঁদের আলোয় কিংবা মসজিদে নববীর নিকট বসেই তিনি তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ ‘আত-তারীখুল কাবীর’-এর রচনা শুরু করেন। তখন তাঁর বয়স মাত্র আঠারো বছর।এই গ্রন্থটি পরবর্তীকালে রাবিদের জীবনীসংক্রান্ত (ইলমুর রিজাল) অন্যতম মৌলিক গ্রন্থ হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে।ইলমের জন্য চল্লিশ বছরের অবিশ্রান্ত সফরইমাম বুখারি (রহ.) বিশ্বাস করতেন—ইলম ঘরে বসে অর্জন করা যায় না; এর জন্য ত্যাগ, ধৈর্য ও দীর্ঘ সফর প্রয়োজন।তিনি জীবনের প্রায় চার দশক ধরে মুসলিম বিশ্বের প্রধান প্রধান জ্ঞানকেন্দ্র সফর করেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য—মক্কামদিনাবসরাকুফাবাগদাদওয়াসিতমিশরদামেস্কহিমসনিশাপুরমারভবালখরায়সমরখন্দসহ বহু নগরী।জীবনীকারদের মতে, তিনি কিছু শহরে একাধিকবার সফর করেছিলেন। উদাহরণস্বরূপ, বসরায় তিনি চারবার, বাগদাদে বহুবার এবং কুফায়ও একাধিকবার গিয়েছিলেন, যাতে কোনো নির্ভরযোগ্য মুহাদ্দিসের কাছ থেকে হাদিস গ্রহণ বাদ না পড়ে।এক হাজারেরও বেশি শায়খের নিকট শিক্ষাইমাম বুখারি (রহ.) নিজেই বলেছেন—"আমি এক হাজারেরও বেশি শায়খের নিকট থেকে হাদিস লিখেছি।"প্রত্যেক শায়খের কাছ থেকে তিনি শুধু হাদিস শুনেই সন্তুষ্ট হতেন না। তিনি তাদের ব্যক্তিগত চরিত্র, তাকওয়া, স্মৃতিশক্তি এবং নির্ভরযোগ্যতা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করতেন।তাঁর শিক্ষকদের মধ্যে ছিলেন—ইমাম আলী ইবনে আল-মাদিনী (রহ.)ইসহাক ইবনে রাহওয়াইহ (রহ.)ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন (রহ.)আহমদ ইবনে হাম্বল (রহ.)মাক্কী ইবনে ইবরাহিম (রহ.)আবদুল্লাহ ইবনে যুবাইর আল-হুমায়দী (রহ.)কুতাইবা ইবনে সাঈদ (রহ.)-সহ বহু প্রখ্যাত মুহাদ্দিস।বিশেষত ইমাম আলী ইবনে আল-মাদিনী (রহ.)-কে তিনি নিজের অন্যতম শ্রেষ্ঠ শিক্ষক হিসেবে উল্লেখ করেছেন।অসাধারণ স্মৃতিশক্তির বিস্ময়কর দৃষ্টান্তইমাম বুখারির (রহ.) স্মৃতিশক্তি নিয়ে মুসলিম বিশ্বের ইতিহাসে অসংখ্য ঘটনা সংরক্ষিত রয়েছে।তিনি একবার বলেছিলেন—"আমার এক লাখ সহিহ হাদিস এবং দুই লাখ অ-সহিহ হাদিস মুখস্থ রয়েছে।"এটি কেবল হাদিসের মূল বক্তব্য নয়; বরং প্রতিটি হাদিসের পূর্ণ সনদ, বর্ণনাকারীদের নাম, তাদের শিক্ষক, ছাত্র এবং বর্ণনার পার্থক্যসহ মুখস্থ থাকার ইঙ্গিত বহন করে।ছাত্রজীবনের ১৫ হাজার হাদিসের ঘটনাশিক্ষাজীবনের একটি ঘটনা তাঁর অসাধারণ স্মৃতিশক্তির প্রমাণ হিসেবে যুগে যুগে আলোচিত হয়েছে।সহপাঠীরা প্রতিদিন শিক্ষকদের বক্তব্য লিখে রাখতেন। কিন্তু ইমাম বুখারি (রহ.) শুধু মনোযোগ দিয়ে শুনতেন, কিছুই লিখতেন না।একদিন সহপাঠীরা প্রশ্ন করলেন—"তুমি কিছুই লেখ না। তাহলে এতদিন এখানে এসে কী শিখলে?"তিনি শান্তভাবে বললেন—"তোমাদের লিখে রাখা খাতাগুলো নিয়ে এসো।"তারা প্রায় ১৬ দিনের নোট নিয়ে এলো, যাতে ১৫ হাজারেরও বেশি হাদিস লেখা ছিল।ইমাম বুখারি (রহ.) খাতা না দেখেই একের পর এক সব হাদিস মুখস্থ শুনিয়ে দিলেন। শুধু তাই নয়, কোথায় কোথায় ভুল লেখা হয়েছে তাও সংশোধন করে দিলেন।সহপাঠীরা বিস্মিত হয়ে নিজেদের নোট তাঁর মুখস্থ পাঠ থেকে সংশোধন করতে লাগলেন।বাগদাদের ১০০ হাদিস পরীক্ষার ঐতিহাসিক ঘটনাইমাম বুখারির জীবনের সবচেয়ে বিখ্যাত ঘটনাগুলোর একটি ঘটেছিল বাগদাদে।তাঁর অসাধারণ খ্যাতির কথা শুনে বাগদাদের একদল মুহাদ্দিস তাঁর স্মৃতিশক্তি পরীক্ষা করার সিদ্ধান্ত নেন।তারা ১০০টি হাদিস নির্বাচন করেন।প্রতিটি হাদিসের সনদ (ইসনাদ) অন্য হাদিসের সঙ্গে ইচ্ছাকৃতভাবে অদলবদল করে দেওয়া হয়।এরপর দশজন আলেমকে দশটি করে ভুল সনদযুক্ত হাদিস মুখস্থ করিয়ে জনসম্মুখে ইমাম বুখারির সামনে উপস্থাপন করা হয়।প্রথম ব্যক্তি একটি হাদিস পড়ে শোনালে ইমাম বুখারি (রহ.) বললেন—"আমি এভাবে জানি না।"একই উত্তর দিলেন দ্বিতীয়, তৃতীয়—এভাবে একশোটি হাদিসের ক্ষেত্রেই।অনেক সাধারণ মানুষ ভাবলেন, হয়তো তিনি উত্তর জানেন না।কিন্তু সবশেষে তিনি প্রথম ব্যক্তি থেকে শুরু করে একে একে সব ১০০টি হাদিস পুনরায় পাঠ করেন।প্রথমে ভুল সনদটি উল্লেখ করেন, তারপর সঙ্গে সঙ্গে সঠিক সনদ ও সঠিক হাদিস বলে দেন।এভাবে একশোটির একটিতেও তিনি ভুল করেননি।সভায় উপস্থিত সকল মুহাদ্দিস তাঁর অসাধারণ হিফজ, স্মৃতিশক্তি ও গবেষণার সামনে অভিভূত হয়ে যান।এই ঘটনার পর তাঁর খ্যাতি সমগ্র মুসলিম বিশ্বে আরও ছড়িয়ে পড়ে।'আমীরুল মুমিনীন ফিল হাদিস' উপাধিতাঁর সমসাময়িক অনেক মহান আলেম তাঁকে "আমীরুল মুমিনীন ফিল হাদিস"—অর্থাৎ হাদিসশাস্ত্রের মুমিনদের নেতা—উপাধিতে ভূষিত করেন।এটি ছিল হাদিসশাস্ত্রে সর্বোচ্চ সম্মানজনক উপাধিগুলোর একটি।প্রখ্যাত মুহাদ্দিস ইসহাক ইবনে রাহওয়াইহ (রহ.) একদিন তাঁর ছাত্রদের বলেছিলেন—"ইশ! যদি এমন একজন মানুষ থাকতেন, যিনি রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর শুধু সহিহ হাদিসগুলো একত্রিত করে একটি গ্রন্থ সংকলন করতেন।"এই কথাটি তরুণ ইমাম বুখারির হৃদয়ে গভীরভাবে দাগ কাটে।পরে তিনি নিজেই বলেছেন—"শায়খ ইসহাকের এই কথাই আমাকে সহিহ হাদিস সংকলনের কাজে উদ্বুদ্ধ করেছিল।"এই একটি বাক্যই ইতিহাসের গতিপথ বদলে দেয়। কারণ এর ফলশ্রুতিতেই রচিত হয় বিশ্বের সর্বাধিক নির্ভরযোগ্য হাদিসগ্রন্থ সহিহ আল-বুখারি।এক নতুন যুগের সূচনাতখনও কেউ কল্পনা করতে পারেনি—এই তরুণ মুহাদ্দিস এমন একটি গ্রন্থ রচনা করবেন, যা এক হাজার বছরেরও বেশি সময় ধরে মুসলিম বিশ্বের সর্বোচ্চ গ্রহণযোগ্যতা লাভ করবে।তাঁর সামনে তখন অপেক্ষা করছিল আরও কঠিন পরীক্ষা—ছয় লাখ হাদিসের মধ্য থেকে সহিহ হাদিস নির্বাচন, বর্ণনাকারীদের যাচাই, বছরের পর বছর গবেষণা এবং মানব ইতিহাসের অন্যতম শ্রেষ্ঠ জ্ঞানভান্ডার সংকলনের বিশাল দায়িত্ব।এই অধ্যায়ই তাঁকে চিরদিনের জন্য ইতিহাসে অমর করে রাখবে।‘সহিহ বুখারি’ সংকলনের ইতিহাস, বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি ও বিশ্বসভ্যতার এক অনন্য জ্ঞানভান্ডারের জন্মপৃথিবীর ইতিহাসে বহু গ্রন্থ রচিত হয়েছে। কোনোটি দর্শনের, কোনোটি বিজ্ঞানের, কোনোটি আইন বা সাহিত্যের। কিন্তু এমন একটি গ্রন্থ, যার প্রতিটি বাক্য লেখার আগে একজন গবেষক বছরের পর বছর ভ্রমণ করেছেন, হাজারো মানুষের চরিত্র যাচাই করেছেন, অসংখ্য বর্ণনা তুলনা করেছেন এবং সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে সত্য-মিথ্যা পৃথক করেছেন—এমন উদাহরণ ইতিহাসে খুব কমই রয়েছে।ইমাম মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল আল-বুখারি (রহ.)-এর ‘আল-জামি‘ আস-সহিহ’, যা আজ ‘সহিহ বুখারি’ নামে সমগ্র মুসলিম বিশ্বের কাছে পরিচিত, ঠিক এমনই এক বিস্ময়কর গবেষণার ফসল।একটি বাক্য, যা ইতিহাস বদলে দিয়েছিলইমাম বুখারি (রহ.)-এর শ্রদ্ধেয় শিক্ষক ইসহাক ইবনে রাহওয়াইহ (রহ.) একদিন তাঁর ছাত্রদের উদ্দেশে বলেছিলেন—"যদি এমন কেউ থাকত, যে রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর কেবল বিশুদ্ধ (সহিহ) হাদিসগুলো একত্র করে একটি সংকলন তৈরি করত!"এই কথাটি তরুণ ইমাম বুখারির হৃদয়ে গভীরভাবে দাগ কাটে। পরে তিনি নিজেই বলেন, এই আহ্বানই তাঁকে এমন একটি গ্রন্থ রচনায় উদ্বুদ্ধ করেছিল, যেখানে কেবল সর্বোচ্চ মানদণ্ডে যাচাইকৃত হাদিস স্থান পাবে।আরেকটি প্রসিদ্ধ বর্ণনায় এসেছে, তিনি স্বপ্নে দেখেন—তিনি রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর সামনে দাঁড়িয়ে একটি পাখা দিয়ে তাঁকে রক্ষা করছেন। স্বপ্নের ব্যাখ্যাকারীরা বলেন, তিনি মিথ্যা বর্ণনা থেকে রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর হাদিসকে রক্ষা করবেন। এই স্বপ্নও তাঁর মনোবল আরও দৃঢ় করে। (এটি জীবনীগ্রন্থে বর্ণিত একটি ঐতিহ্যগত ঘটনা; সহিহ হাদিস নয়।)ছয় লাখ হাদিস—কিন্তু সব নয়অনেকেই মনে করেন, ইমাম বুখারি (রহ.) ছয় লাখ হাদিস সংগ্রহ করেছিলেন। এখানে একটি বিষয় স্পষ্ট করা জরুরি।জীবনীকারদের ভাষ্যমতে, তিনি প্রায় ছয় লাখ রেওয়ায়েত (বর্ণনা) অধ্যয়ন করেছিলেন। এর মধ্যে একই হাদিসের বহু ভিন্ন সনদ ও বর্ণনা অন্তর্ভুক্ত ছিল। অর্থাৎ এটি ছয় লাখ সম্পূর্ণ ভিন্ন বক্তব্য নয়, বরং বিভিন্ন সূত্রে প্রচলিত হাদিসের বিপুল ভাণ্ডার।এই বিশাল সংগ্রহ থেকে তিনি কঠোর যাচাই-বাছাই করে তাঁর গ্রন্থে স্থান দেন মাত্র ৭,২৭৫টি রেওয়ায়েত (পুনরাবৃত্তিসহ)। পুনরাবৃত্তি বাদ দিলে সংখ্যা প্রায় ২,৬০০-এর কিছু বেশি।এই পরিসংখ্যানই তাঁর গবেষণার গভীরতা ও সতর্কতার পরিচয় বহন করে।হাদিস গ্রহণে ছিল কঠোর বৈজ্ঞানিক নীতিমালাইমাম বুখারির (রহ.) আগে অনেক মুহাদ্দিস হাদিস সংকলন করেছেন। কিন্তু তিনি যাচাইয়ের ক্ষেত্রে এমন কঠোর মানদণ্ড গ্রহণ করেন, যা তাঁকে অন্যদের থেকে স্বতন্ত্র মর্যাদা দেয়।তিনি সাধারণভাবে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো নিশ্চিত না হলে কোনো হাদিস গ্রহণ করতেন না—১. সনদ (ইসনাদ) অবিচ্ছিন্ন হতে হবেপ্রত্যেক বর্ণনাকারী তাঁর পূর্ববর্তী বর্ণনাকারীর কাছ থেকে সরাসরি হাদিস শুনেছেন—এ বিষয়ে শক্ত প্রমাণ থাকতে হবে।শুধু একই যুগে জীবিত থাকাই যথেষ্ট নয়; তাঁদের সাক্ষাৎ বা সাক্ষাতের বাস্তব সম্ভাবনাও প্রতিষ্ঠিত হতে হবে।২. প্রত্যেক রাবি হতে হবে ন্যায়পরায়ণহাদিস বর্ণনাকারীকে হতে হবে—সৎদ্বীনদারতাকওয়াবানবড় গুনাহ থেকে বিরতচরিত্রবান৩. স্মৃতিশক্তি হতে হবে অসাধারণরাবির মুখস্থশক্তি দুর্বল হলে অথবা বয়সের কারণে স্মৃতি নষ্ট হয়ে গেলে তাঁর বর্ণনা গ্রহণে অত্যন্ত সতর্কতা অবলম্বন করা হতো।৪. গোপন ত্রুটি (ইল্লত) মুক্ত হতে হবেকখনো কখনো একটি হাদিস বাহ্যিকভাবে সহিহ মনে হলেও গভীর গবেষণায় সূক্ষ্ম ত্রুটি ধরা পড়ত। ইমাম বুখারি (রহ.) এই ধরনের গোপন ত্রুটি শনাক্ত করার ক্ষেত্রে ছিলেন অসাধারণ পারদর্শী।৫. অন্য নির্ভরযোগ্য বর্ণনার বিরোধী হওয়া যাবে নাযদি কোনো বর্ণনা অধিক নির্ভরযোগ্য রাবিদের বর্ণনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতো, তবে তিনি তা গ্রহণ করতেন না।রাবিদের জীবন নিয়ে বিস্ময়কর গবেষণাইমাম বুখারি (রহ.) শুধু হাদিস শুনেই সন্তুষ্ট থাকতেন না। তিনি বর্ণনাকারীদের ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কেও গভীর অনুসন্ধান করতেন।একজন রাবির সম্পর্কে জানার জন্য তিনি কখনো শত শত কিলোমিটার পথ অতিক্রম করেছেন।ঐতিহাসিক সূত্রে একটি ঘটনা বর্ণিত হয়েছে—এক ব্যক্তি ঘোড়াকে খালি থলি দেখিয়ে কাছে ডাকছিলেন, যেন থলিতে খাবার আছে। ঘোড়া কাছে এলে কিছুই পেল না।ইমাম বুখারি (রহ.) এ দৃশ্য দেখে বলেন, যে ব্যক্তি একটি প্রাণীকেও প্রতারণা করতে পারে, তার কাছ থেকে আমি রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর হাদিস গ্রহণ করব না।যদিও এই ঘটনার বিভিন্ন বর্ণনা রয়েছে, তবুও এটি তাঁর সতর্কতার প্রতীক হিসেবে জীবনীগ্রন্থে সুপরিচিত।সহিহ বুখারি রচনায় ষোলো বছরের সাধনাইমাম বুখারি (রহ.) প্রায় ষোলো বছর ধরে সহিহ বুখারি সংকলনের কাজ করেন।তিনি বিভিন্ন শহরে অবস্থান করে হাদিস যাচাই করেন, সনদ মিলিয়ে দেখেন, রাবিদের জীবন অনুসন্ধান করেন এবং প্রতিটি অধ্যায় সুচিন্তিতভাবে সাজান।এই দীর্ঘ সময়ে তিনি অসংখ্য আলেমের সঙ্গে আলোচনা করেছেন এবং প্রাপ্ত তথ্য বারবার যাচাই করেছেন।প্রতিটি হাদিস লেখার আগে ইবাদতজীবনীকারদের মধ্যে প্রসিদ্ধ একটি বর্ণনায় এসেছে—ইমাম বুখারি (রহ.) সহিহ বুখারিতে কোনো হাদিস অন্তর্ভুক্ত করার আগে অজু করতেন, দুই রাকাত নফল সালাত আদায় করতেন এবং আল্লাহর কাছে ইস্তিখারা ও দোয়া করতেন।এ বিষয়টি হাদিসের অংশ নয়; বরং জীবনীগ্রন্থে উল্লেখিত একটি ঐতিহ্যগত বর্ণনা। তবে এটি তাঁর গভীর খোদাভীতি ও দায়িত্ববোধের পরিচয় বহন করে।সহিহ বুখারির অনন্য বৈশিষ্ট্যসহিহ বুখারি শুধু হাদিসের সংকলন নয়; এটি একাধারে—হাদিসগ্রন্থফিকহের উৎসআকিদার দলিলনৈতিক শিক্ষার ভাণ্ডারইসলামী সভ্যতার গবেষণাগ্রন্থএর অধ্যায়গুলো এমনভাবে সাজানো হয়েছে, যাতে একটি অধ্যায়ের শিরোনাম থেকেই অনেক সময় ইমাম বুখারির ফিকহি মতামত বোঝা যায়।এই বিশেষ পদ্ধতিকে আলেমরা "ফিকহুল বুখারি ফি তারাজিমিহি" নামে উল্লেখ করেছেন—অর্থাৎ, অধ্যায়ের শিরোনামেই ইমাম বুখারির ফিকহ ফুটে ওঠে।কেন এত পুনরাবৃত্তি?অনেক পাঠকের প্রশ্ন—সহিহ বুখারিতে একই হাদিস বারবার কেন এসেছে?এর উত্তর হলো, ইমাম বুখারি (রহ.) একই হাদিসকে বিভিন্ন অধ্যায়ে ভিন্ন ভিন্ন ফিকহি শিক্ষা প্রমাণের জন্য ব্যবহার করেছেন।একটি হাদিস থেকে যদি পাঁচটি ভিন্ন মাসআলার দলিল পাওয়া যায়, তবে তিনি প্রয়োজন অনুযায়ী সেটিকে বিভিন্ন অধ্যায়ে উল্লেখ করেছেন।এটি তাঁর সংকলনশৈলীর একটি বৈজ্ঞানিক বৈশিষ্ট্য।সমসাময়িক আলেমদের মূল্যায়নইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল (রহ.), আলী ইবনে আল-মাদিনী (রহ.), ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন (রহ.) এবং ইসহাক ইবনে রাহওয়াইহ (রহ.)-এর মতো শ্রেষ্ঠ মুহাদ্দিসরা তাঁর মেধা ও গবেষণার উচ্চ প্রশংসা করেছেন।বিশেষভাবে ইমাম মুসলিম (রহ.), যিনি পরবর্তীতে সহিহ মুসলিম সংকলন করেন, তিনি ইমাম বুখারিকে গভীর শ্রদ্ধা করতেন। ঐতিহাসিক সূত্রে বর্ণিত আছে, তিনি একবার ইমাম বুখারির কপালে চুম্বন করে বলেন—"হে উস্তাদদের উস্তাদ! আমাকে অনুমতি দিন, আমি আপনার পা চুম্বন করি।"এই উক্তির সনদ নিয়ে গবেষকদের মধ্যে আলোচনা থাকলেও এটি তাঁদের পারস্পরিক শ্রদ্ধার একটি প্রসিদ্ধ ঐতিহাসিক বর্ণনা হিসেবে উল্লেখিত।বিশ্বের সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য হাদিসগ্রন্থমুসলিম উম্মাহর সংখ্যাগরিষ্ঠ মুহাদ্দিস, ফকিহ ও আলেমের ঐকমত্য হলো—আল্লাহর কিতাব আল-কুরআনের পর সবচেয়ে বিশুদ্ধ গ্রন্থ হলো ‘সহিহ আল-বুখারি’।এই মর্যাদা কোনো আবেগের কারণে নয়; বরং শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে হাদিসবিশারদদের নিরবচ্ছিন্ন গবেষণা, সমালোচনা ও পর্যালোচনার মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।জনপ্রিয়তার মূল্য, নির্বাসনের বেদনা, শেষ জীবন ও চিরন্তন উত্তরাধিকার"জ্ঞানকে আমি কখনো শাসকের দরজায় নিয়ে যাব না; যে ইলম চায়, সে ইলমের মজলিসে আসবে।"— ইমাম মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল আল-বুখারি (রহ.)যেখানে যেতেন, সেখানেই ভিড় জমাতো জ্ঞানপিপাসুরাসহিহ বুখারির সংকলন শেষ হওয়ার আগেই ইমাম বুখারি (রহ.)-এর খ্যাতি সমগ্র মুসলিম বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছিল। তাঁর দরসে অংশ নেওয়ার জন্য মক্কা, মদিনা, বসরা, কুফা, বাগদাদ, নিশাপুর, মারভ ও সমরখন্দসহ বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ছাত্ররা ছুটে আসতেন।ইতিহাসবিদদের বর্ণনায় জানা যায়, তাঁর কোনো কোনো হাদিসের মজলিসে কয়েক হাজার শিক্ষার্থী উপস্থিত থাকতেন। তাঁদের মধ্যে অনেকে সরাসরি তাঁর কাছ থেকে হাদিস লিখতেন, আবার কেউ কেউ প্রথম সারির ছাত্রদের কাছ থেকে শুনে লিপিবদ্ধ করতেন।প্রখ্যাত মুহাদ্দিস ইমাম মুসলিম (রহ.), ইমাম তিরমিজি (রহ.), ইমাম নাসায়ি (রহ.)-সহ অসংখ্য আলেম তাঁর জ্ঞান, গবেষণা ও হাদিস বিশ্লেষণ থেকে উপকৃত হয়েছেন। যদিও ইমাম নাসায়ি (রহ.)-এর সঙ্গে প্রত্যক্ষ সাক্ষাৎ নিয়ে গবেষকদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে, তবে তাঁর প্রজন্ম ইমাম বুখারির গবেষণার দ্বারা গভীরভাবে প্রভাবিত হয়েছিল।নিশাপুরে অভূতপূর্ব অভ্যর্থনাহিজরি তৃতীয় শতাব্দীতে নিশাপুর ছিল ইসলামী জ্ঞানচর্চার অন্যতম প্রাণকেন্দ্র। ইমাম বুখারি (রহ.) যখন সেখানে পৌঁছান, তখন পুরো শহরে উৎসবের আবহ তৈরি হয়।ঐতিহাসিক সূত্রে বর্ণিত আছে, হাজার হাজার মানুষ শহরের বাইরে গিয়ে তাঁকে অভ্যর্থনা জানায়। অনেক আলেম তাঁর আগমনকে ইসলামী জ্ঞানচর্চার জন্য এক মহাসৌভাগ্য বলে আখ্যায়িত করেন।অল্পদিনের মধ্যেই তাঁর দরসে মানুষের ঢল নামে। জ্ঞান, স্মৃতিশক্তি ও হাদিস বিশ্লেষণের অসাধারণ দক্ষতা তাঁকে নিশাপুরের সবচেয়ে জনপ্রিয় মুহাদ্দিসে পরিণত করে।'লাফয বিল-কুরআন' বিতর্ক: একটি ভুল বোঝাবুঝির ইতিহাসইমাম বুখারির জীবনের সবচেয়ে আলোচিত ঘটনাগুলোর একটি ছিল তথাকথিত 'লাফয বিল-কুরআন' বিতর্ক।তিনি ব্যাখ্যা করেছিলেন—মানুষের কণ্ঠস্বর, উচ্চারণ ও কর্ম সৃষ্ট; কিন্তু আল্লাহর কালাম—আল-কুরআন—অসৃষ্ট (গায়রে মাখলুক)।এই সূক্ষ্ম বিষয়টি অনেকেই সঠিকভাবে বুঝতে পারেননি, আবার কেউ কেউ ইচ্ছাকৃতভাবেও ভুলভাবে প্রচার করেন।নিশাপুরের প্রখ্যাত আলেম মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া আয-যুহলি (রহ.)-এর সঙ্গে এই বিষয়কে কেন্দ্র করে মতভেদ সৃষ্টি হয়। ঐতিহাসিক সূত্রে দেখা যায়, এই মতভেদ শুধু আকিদাগত আলোচনার ফল ছিল না; বরং তৎকালীন সামাজিক, রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত প্রভাবও এতে ভূমিকা রেখেছিল।পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, আয-যুহলি ঘোষণা দেন—যারা ইমাম বুখারির কাছে যাবে, তারা তাঁর মজলিসে উপস্থিত হতে পারবে না।এই ঘটনায় অনেক ছাত্র ভীত হয়ে সরে গেলেও কিছু বিশ্বস্ত ছাত্র শেষ পর্যন্ত তাঁর সঙ্গ ত্যাগ করেননি। তাঁদের অন্যতম ছিলেন ইমাম মুসলিম (রহ.)। ইতিহাসে উল্লেখ আছে, তিনি প্রকাশ্যেই তাঁর শিক্ষক ইমাম বুখারির প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেন।বুখারায় প্রত্যাবর্তন এবং নতুন পরীক্ষানিশাপুর ত্যাগ করে ইমাম বুখারি (রহ.) নিজ জন্মভূমি বুখারায় ফিরে আসেন। কিন্তু সেখানেও তাঁর জন্য অপেক্ষা করছিল আরেক কঠিন পরীক্ষা।বুখারার গভর্নর খালিদ ইবনে আহমদ আয-যুহলি (কিছু ঐতিহাসিক সূত্রে নামের সামান্য ভিন্নতা পাওয়া যায়) তাঁর কাছে অনুরোধ পাঠান যে, তিনি যেন রাজপ্রাসাদে এসে গভর্নর ও তাঁর সন্তানদের ব্যক্তিগতভাবে সহিহ বুখারি ও অন্যান্য হাদিস পাঠ করান।ইলমের মর্যাদায় আপসহীন এক ইমামইমাম বুখারি (রহ.) গভর্নরের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি বলেন—"আমি জ্ঞানকে অপমান করতে পারি না। ইলমকে মানুষের ঘরে ঘরে নিয়ে বেড়ানো আমার কাজ নয়। যে ইলম চায়, সে সাধারণ মানুষের মতো মজলিসে এসে বসবে।"আরও একটি বর্ণনায় তাঁর বক্তব্য এভাবে এসেছে—"আমি ইলমকে সুলতানদের দরজায় নিয়ে যাব না। যদি আপনার সন্তানদের ইলমের প্রয়োজন হয়, তারা অন্য সবার মতো মজলিসে আসুক।"এই বক্তব্য ইসলামী জ্ঞানচর্চার ইতিহাসে স্বাধীন আলেমদের মর্যাদার এক অনন্য দলিল হয়ে আছে।নির্বাসনের বেদনাময় অধ্যায়গভর্নর তাঁর এই অবস্থান ভালোভাবে নেননি। পরিণতিতে ইমাম বুখারিকে বুখারা ত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়।নিজ জন্মভূমি, প্রিয় শহর, ছাত্র, বন্ধু—সবকিছু ছেড়ে তাঁকে চলে যেতে হয় সমরখন্দের নিকটবর্তী ছোট্ট গ্রাম খরতঙ্ক-এ।জীবনের শেষ অধ্যায়টি তিনি সেখানেই কাটিয়েছেন।শেষ রাতের দোয়ানির্বাসিত জীবনে শারীরিক ক্লান্তি, মানসিক বেদনা এবং দীর্ঘ সফরের পরিশ্রম তাঁর শরীরকে দুর্বল করে দেয়।জীবনীকারদের বর্ণনায় এসেছে, এক রাতে তাহাজ্জুদের সালাত শেষে তিনি অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে আল্লাহর কাছে দোয়া করেন—"হে আল্লাহ! এই বিশাল পৃথিবী আজ আমার জন্য সংকীর্ণ হয়ে গেছে। আপনি আমাকে আপনার সান্নিধ্যে নিয়ে নিন।"অল্প কিছুদিনের মধ্যেই তাঁর সেই দোয়া কবুল হয়।ইন্তিকাল২৫৬ হিজরির ৩০ রমজান (অনেক সূত্রে ঈদুল ফিতরের রাত) তিনি ইন্তিকাল করেন। তাঁর বয়স হয়েছিল প্রায় ৬২ বছর।তাঁর মৃত্যুর সংবাদ দ্রুত সমগ্র মুসলিম বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। অসংখ্য আলেম, ছাত্র ও সাধারণ মানুষ গভীর শোক প্রকাশ করেন।দাফন ও ঐতিহ্যগত বর্ণনাখরতঙ্ক গ্রামেই তাঁকে দাফন করা হয়।প্রাচীন জীবনীগ্রন্থে কয়েকটি ঘটনা বর্ণিত হয়েছে, যেমন—তাঁর কবর থেকে দীর্ঘ সময় সুগন্ধ ছড়িয়ে পড়া।অনেক মানুষ সেই সুগন্ধ অনুভব করেছেন বলে বর্ণনা করা।তাঁর বিরোধীদের কেউ কেউ পরে অনুতপ্ত হওয়ার কথা উল্লেখ করা।তবে গবেষণাগত সততার স্বার্থে উল্লেখ করা প্রয়োজন, এসব ঘটনা ঐতিহাসিক জীবনীগ্রন্থে বর্ণিত ঐতিহ্যগত বিবরণ। এগুলো সহিহ হাদিস নয় এবং সবগুলোর সনদ সমান শক্তিশালী নয়। তাই এগুলোকে অলৌকিক ঘটনা হিসেবে নিশ্চিতভাবে প্রতিষ্ঠিত না করে ঐতিহাসিক বর্ণনা হিসেবেই দেখা অধিক সতর্কতার পরিচায়ক।সহিহ বুখারি: এক হাজার বছরেরও বেশি সময়ের আস্থার প্রতীকইমাম বুখারি (রহ.) শুধু একটি গ্রন্থ রচনা করেননি; তিনি হাদিস যাচাইয়ের এমন এক বৈজ্ঞানিক মানদণ্ড প্রতিষ্ঠা করেছেন, যা আজও ইসলামী গবেষণার অন্যতম ভিত্তি।তাঁর গ্রন্থের ওপর শত শত ব্যাখ্যাগ্রন্থ রচিত হয়েছে। এর মধ্যে সর্বাধিক প্রসিদ্ধ—ফাতহুল বারি — হাফিজ ইবনে হাজার আল-আসকালানি (রহ.)উমদাতুল কারি — বদরুদ্দীন আইনি (রহ.)ইরশাদুস সারি — কাস্তাল্লানি (রহ.)আজ বিশ্বের অসংখ্য বিশ্ববিদ্যালয়, মাদরাসা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানে সহিহ বুখারি পাঠ্য হিসেবে অধ্যয়ন করা হয়।ইমাম বুখারির অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থঅনেকেই মনে করেন, তিনি শুধু সহিহ বুখারিই লিখেছেন। বাস্তবে তিনি ছিলেন অত্যন্ত বহুমুখী গবেষক। তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে—আত-তারীখুল কাবীরআত-তারীখুল আওসাতআত-তারীখুস সাগীরআল-আদাবুল মুফরাদখালকু আফ'আলিল ইবাদজুযউ রাফইল ইয়াদাইনআত-তাফসীরুল কাবীর (অসম্পূর্ণ)আদ-দু'আফাউস সাগীরএসব গ্রন্থ প্রমাণ করে, তিনি কেবল একজন মুহাদ্দিসই নন; বরং ইতিহাসবিদ, জীবনীকার, আকিদা-বিশারদ এবং গবেষণাপদ্ধতিরও এক অগ্রদূত ছিলেন।আজকের মুসলিম সমাজের জন্য শিক্ষাইমাম বুখারি (রহ.)-এর জীবন আমাদের শেখায়—সত্যের জন্য জনপ্রিয়তা বিসর্জন দেওয়া যায়।জ্ঞান কখনো ক্ষমতার কাছে নতজানু হয় না।গবেষণায় সততা আপসহীন হতে হবে।একজন মায়ের দোয়া সন্তানের ভাগ্য বদলে দিতে পারে।খ্যাতি নয়, আল্লাহর সন্তুষ্টিই একজন আলেমের প্রকৃত লক্ষ্য।উপসংহারসম্রাটদের প্রাসাদ ধ্বংস হয়েছে, সাম্রাজ্য বিলীন হয়েছে, কিন্তু একজন মুহাদ্দিসের কলমে সংরক্ষিত রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর বাণী আজও কোটি কোটি মানুষের ঈমান, ইবাদত ও জীবন পরিচালনার পথপ্রদর্শক।ইমাম মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল আল-বুখারি (রহ.)-এর জীবন আমাদের মনে করিয়ে দেয়—মানুষের প্রকৃত মর্যাদা সম্পদে নয়, ক্ষমতায় নয়; বরং সত্যের প্রতি নিষ্ঠা, জ্ঞানের প্রতি ভালোবাসা এবং আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলার সন্তুষ্টির জন্য নিবেদিত জীবনে।যতদিন পৃথিবীতে রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর সুন্নাহ অধ্যয়ন করা হবে, যতদিন সহিহ বুখারির পৃষ্ঠা উল্টে মানুষ সত্যের সন্ধান করবে, ততদিন ইতিহাসের আকাশে ইমাম বুখারি (রহ.)-এর নাম এক উজ্জ্বল নক্ষত্রের মতো জ্বলজ্বল করতে থাকবে।তথ্যসূত্র (নির্বাচিত):সিয়ার আ'লাম আন-নুবালা — ইমাম শামসুদ্দীন আয-যাহাবিহাদিউস সারি ও ফাতহুল বারি — হাফিজ ইবনে হাজার আল-আসকালানিতারীখ বাগদাদ — আল-খতীব আল-বাগদাদিতাযকিরাতুল হুফফায — ইমাম আয-যাহাবিআত-তারীখুল কাবীর — ইমাম আল-বুখারিমুকাদ্দিমা — ইবন খালদুন
ফিরোজ আল মামুন