ঢাকা    বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬
ঢাকা    বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬
গণবার্তা
সর্বশেষ

২ কোটি ৭৫ লাখ কৃষককে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে আনার উদ্যোগ

দেশের কৃষিকে প্রযুক্তিনির্ভর খাতে রূপান্তরে প্রায় ২ কোটি ৭৫ লাখ কৃষককে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে আনার কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে বলে সংসদে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (৮ জুলাই) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের ২১তম দিনে প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এ তথ্য জানান।কিশোরগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবুল কালামের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গবেষণা, আধুনিক প্রযুক্তি ও যান্ত্রিকীকরণের মাধ্যমে দেশের কৃষিকে প্রযুক্তিনির্ভর, লাভজনক ও টেকসই খাতে রূপান্তরে একগুচ্ছ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে সরকার। এ লক্ষ্যে ডিজিটাল কৃষি ব্যবস্থার সম্প্রসারণ, স্মার্ট কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি, কৃষিযন্ত্রের সম্প্রসারণ এবং জলবায়ু-সহিষ্ণু কৃষি উন্নয়নে বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে।প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার কৃষিকে সনাতনী ও শ্রমনির্ভর ব্যবস্থা থেকে বের করে গবেষণা, আধুনিক প্রযুক্তি, উদ্ভাবন ও যান্ত্রিকীকরণের মাধ্যমে প্রযুক্তিনির্ভর, লাভজনক, প্রতিযোগিতামূলক ও টেকসই খাতে রূপান্তরের লক্ষ্যে বাস্তবধর্মী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।কৃষি ব্যবস্থাপনায় ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে কৃষক নিবন্ধন, কৃষক ডাটাবেজ, ডিজিটাল কৃষিসেবা, মোবাইলভিত্তিক আবহাওয়ার তথ্য, বাজারদর, কৃষি পরামর্শ, ই-এক্সটেনশন সেবা এবং অনলাইন প্ল্যাটফর্ম চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কৃষকের ডিজিটাল ডাটাবেজ তৈরি এবং সরকারি সেবা সরাসরি কৃষকের কাছে পৌঁছে দিতে কৃষক কার্ড বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, উৎপাদন ব্যয় কমানো, শ্রম সংকট মোকাবিলা এবং কৃষিকে লাভজনক করতে কৃষি যান্ত্রিকীকরণের কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। কৃষিতে রিমোট সেন্সিং, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ইন্টারনেট অব থিংস (আইওটি), ড্রোন, জিপিএস, স্যাটেলাইট তথ্য ও বিগ ডাটাসহ আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার সম্প্রসারণে সরকার কাজ করছে।সংসদ নেতা বলেন, তথ্যনির্ভর প্রিসিশন অ্যাগ্রিকালচার চালুর মাধ্যমে উৎপাদন খরচ কমিয়ে কৃষকের আয় বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কৃষকদের জন্য ‘খামারি অ্যাপ’ চালু করা হয়েছে, যার মাধ্যমে কোন এলাকায় কোন সময়ে কোন ফসল ভালো হবে, কী পরিমাণ সার প্রয়োজন এবং আবহাওয়ার পূর্বাভাসসহ বিভিন্ন পরামর্শ পাওয়া যাচ্ছে।রাসায়নিক সারের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে জৈব সার, বায়োফার্টিলাইজার এবং পরিবেশবান্ধব কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় কৃষিকে জলবায়ু-স্মার্ট ও অভিযোজনক্ষম খাতে রূপান্তরের কার্যক্রমও চলমান রয়েছে।প্রধানমন্ত্রী বলেন, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নের ফলে দেশের কৃষি আরও উৎপাদনশীল, লাভজনক, প্রযুক্তিনির্ভর ও টেকসই খাতে পরিণত হবে, যা জাতীয় অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
২ ঘন্টা আগে

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক ‘শেষ’

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সই হওয়া দ্বিপক্ষীয় সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) চুক্তিটি এখন সম্পূর্ণভাবে অকার্যকর ও শেষ হয়ে গেছে বলে স্পষ্ট মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার (৮ জুলাই) তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় ন্যাটোর শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই কথা বলেন।ন্যাটো সম্মেলনে উপস্থিত সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প তেহরানের সঙ্গে হওয়া ওই সমঝোতা চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলেন। দুই দেশের চলমান সামরিক সংঘাতের জেরে চুক্তির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি সরাসরি বলেন, ‘আমি মনে করি এটি শেষ’। তিনি আরও জানান, তিনি আর তেহরানের সঙ্গে কোনো আলোচনায় বসতে চান না।এর আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প অত্যন্ত ক্ষোভের সঙ্গে উল্লেখ করেছিলেন যে মার্কিন সশস্ত্র বাহিনী ইরানের ভেতরে অবস্থান করা অত্যন্ত বিপজ্জনক ব্যক্তিদের লক্ষ্য করে শক্তিশালী ও বিধ্বংসী সামরিক হামলা পরিচালনা করেছে। গত রাতে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সশস্ত্র বাহিনী তাদের সর্বশেষ দফার বিমান হামলা সফলভাবে সম্পন্ন করে।মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে যে তারা অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট যুদ্ধাস্ত্রের সাহায্যে ইরানের ৮০টির বেশি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তু সফলভাবে ধ্বংস করেছে। একইসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তেল রপ্তানির অনুমতিপত্র প্রত্যাহার করে নিয়েছে। এই অনুমতিপত্রের মেয়াদ ছিল আগামী ২১ আগস্ট পর্যন্ত।যুক্তরাষ্ট্রের এই জোরদার বিমান হামলার জবাবে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) বাহরাইন ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোর ৮০টির বেশি লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। তেহরানের পক্ষ থেকে বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়েছে যে মার্কিন বিমান হামলার উপযুক্ত জবাব দিতে তাদের নৌ ও বিমান বাহিনী যৌথভাবে এই পাল্টা অভিযান পরিচালনা করেছে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করেছে।
৬ ঘন্টা আগে

অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন! মিসরকে ৩-২ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনা

কেপ ভার্দের ম্যাচের পর মিশরও আর্জেন্টিনার স্নায়ুর ওপর চূড়ান্ত পরীক্ষাটাই নিয়ে নিল। দুই গোল হজম করে বসেছিল আকাশী-সাদারা। পিছিয়ে ছিল ৭৯ মিনিট পর্যন্ত। তবে শেষ ১৩ মিনিটের পাগলামিতে তিন গোল করে ৩-২ গোলে জিতে চলে গেছে কোয়ার্টার ফাইনালে। ম্যাচের যোগ করা সময়ে এনজো ফার্নান্দেজের গোলটি নিশ্চিত করে এই নাটকীয় জয়।ম্যাচের শুরু থেকেই আর্জেন্টিনাকে ব্যাকফুটে ঠেলে দেয় মিশর। মাত্র ১৪ মিনিটেই কর্নার থেকে ইয়াসির ইব্রাহিমের হেডে এগিয়ে যায় তারা। এরপর ১৯ মিনিটে আর্জেন্টিনা পায় পেনাল্টি। কিন্তু মেসির শট ডানদিকে সেভ করেন মিশর গোলরক্ষক মোহাম্মদ শোবেইর। বিশ্বকাপে টানা দ্বিতীয় পেনাল্টি মিস করলেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক। ৫৮ মিনিটে মুস্তাফা জিকোর গোলে ব্যবধান বাড়ে ২-০। পিছিয়ে থেকেই হাইড্রেশন ব্রেকে যায় আর্জেন্টিনা।এরপরও মিশর গোলরক্ষক শোবেইর যেন অপ্রতিরোধ্য। ম্যাক আলিস্টারের হেডার ও আলভারেজের শট দুটোই দুর্দান্তভাবে ঠেকান। ৩০ মিনিটে মেসির ফ্রি কিকও লাগে বারে। মিশরের আরেকটি গোল ভিএআরে বাতিল হলেও আর্জেন্টিনা হতাশই ছিল। তবে ৭৯তম মিনিটে ঘুরে দাঁড়ান তারা। মেসির ক্রসে হেড করে গোল করেন ক্রিস্টিয়ান রোমেরো। পরে মেসি নিজেই বক্সের জটলা থেকে অসাধারণ এক গোল করেন, বল যায় শোবেইরের হাত ছুঁয়ে জালে।ম্যাচের যোগ করা সময়ে কাউন্টার অ্যাটাকে উঠে আসে আর্জেন্টিনা। লাউতারো মার্তিনেজের ক্রসে মাথা ছুঁইয়ে গোলটা করেন এনজো ফার্নান্দেজ। এই গোলই নিশ্চিত করে দেয় তাদের কোয়ার্টার ফাইনালে যাওয়া। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে লাউতারো আরেকটি সুযোগ পেলেও হেড লক্ষ্যে রাখতে পারেননি। তবে ততক্ষণে জয় নিশ্চিত হয়ে গেছে আর্জেন্টিনার।আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি বলেন, 'আমার দল কখনো হার মানে না। শেষ পর্যন্ত লড়াই করে তারা ম্যাচ জেতে।' অন্যদিকে মিশর কোচ হাসান শেহাতা বলেন, 'আমরা খুব কাছে ছিলাম। কিন্তু শেষ মুহূর্তে ভুল আমাদের ব্যয়বহুল হয়ে দাঁড়াল।'ম্যাচ শেষে আবেগপ্রবণ দেখা যায় মিশর তারকা মোহাম্মদ সালাহকে। তিনি বলেন, 'খুব কষ্টের এই ম্যাচ। জিততে পারতাম, কিন্তু শেষটা আমাদের ফেবারে আসেনি।'শোবেইরের অসাধারণ কিছু সেভ সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত টিকতে পারেনি মিশর। ১৯ মিনিটে পেনাল্টি সেভ আর ম্যাক আলিস্টারের হেডার ঠেকানো-সহ অসংখ্য দুর্দান্ত সেভ করেন তিনি। তবে শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনার ত্রিমুখী আক্রমণ সামলাতে পারেনি মিশর রক্ষণ। গ্যালারিতে উপস্থিত ছিলেন শাকিরাসহ বহু তারকা। এবারের বিশ্বকাপ যেন একের পর এক রোমাঞ্চকর নাটকের জন্ম দিয়েই চলেছে।
২২ ঘন্টা আগে
পঞ্চদশ সংশোধনী মামলায় বৃহস্পতিবার রায় ঘোষণা করবে আপিল বিভাগ

পঞ্চদশ সংশোধনী মামলায় বৃহস্পতিবার রায় ঘোষণা করবে আপিল বিভাগ

সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী নিয়ে বহুল আলোচিত মামলায় আপিল বিভাগের রায় বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ঘোষণা করা হবে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলসহ পঞ্চদশ সংশোধনীর কয়েকটি বিধান অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিলের শুনানি শেষে বুধবার (৮ জুলাই) রায়ের এ দিন ধার্য করেন সর্বোচ্চ আদালত।প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ টানা তিন দিনের শুনানি শেষে রায় ঘোষণার জন্য বৃহস্পতিবার দিন নির্ধারণ করেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। রিটকারীর পক্ষে ছিলেন আইনজীবী ড. শরীফ ভূঁইয়া এবং জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির।এর আগে গত বছরের ১৩ নভেম্বর তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলসহ পঞ্চদশ সংশোধনীর কয়েকটি বিধান অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিলের অনুমতি দেন আপিল বিভাগ। ওই আদেশ দেন প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ।গত বছরের ৩ নভেম্বর রিটকারী ও সুজনের সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদারের পক্ষে আইনজীবী ড. শরীফ ভূঁইয়া লিভ টু আপিল দায়ের করেন। আপিলে পঞ্চদশ সংশোধনীর পুরো আইন বাতিলের আবেদন জানানো হয়।এর আগে গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলসংক্রান্ত পঞ্চদশ সংশোধনীর ২০ ও ২১ অনুচ্ছেদসহ কয়েকটি বিধান সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ঘোষণা করে বাতিল করেন। একই সঙ্গে সংবিধানে গণভোটের বিধান পুনর্বহাল করা হয়। তবে আদালত পঞ্চদশ সংশোধনী পুরোপুরি বাতিল করেননি।রায়ে হাইকোর্ট পর্যবেক্ষণ দেন, গণতন্ত্র সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর অংশ এবং অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে তা বিকশিত হয়। আদালতের মতে, দলীয় সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত বিগত তিনটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটেনি এবং সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে জনগণের আস্থার সংকট সৃষ্টি হয়েছে।এছাড়া রায়ে সংবিধানের ৭ক, ৭খ ও ৪৪(২) অনুচ্ছেদও বাতিল ঘোষণা করা হয়। আদালত বলেন, গণভোটসংক্রান্ত বিধান বাতিল করে পঞ্চদশ সংশোধনীর ৪৭ ধারার মাধ্যমে সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর সঙ্গে অসামঞ্জস্য সৃষ্টি হয়েছে। ফলে সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদে গণভোটের বিধান পুনর্বহাল করা হয়।তবে হাইকোর্ট রায়ে উল্লেখ করেন, পঞ্চদশ সংশোধনীর অন্যান্য বিধান বহাল থাকবে এবং ভবিষ্যতে জাতীয় সংসদ প্রয়োজন হলে আইন অনুযায়ী জনগণের মতামত নিয়ে সেগুলো সংশোধন, পরিমার্জন বা পরিবর্তন করতে পারবে।উল্লেখ্য, ২০১১ সালের ৩০ জুন জাতীয় সংসদে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী পাস হয়। এর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলুপ্ত করা হয়, শেখ মুজিবুর রহমানকে জাতির পিতা হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়া হয় এবং নারী সংরক্ষিত আসনের সংখ্যা ৪৫ থেকে বাড়িয়ে ৫০ করা হয়।
২ ঘন্টা আগে
২ কোটি ৭৫ লাখ কৃষককে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে আনার উদ্যোগ

২ কোটি ৭৫ লাখ কৃষককে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে আনার উদ্যোগ

দেশের কৃষিকে প্রযুক্তিনির্ভর খাতে রূপান্তরে প্রায় ২ কোটি ৭৫ লাখ কৃষককে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে আনার কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে বলে সংসদে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (৮ জুলাই) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের ২১তম দিনে প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এ তথ্য জানান।কিশোরগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবুল কালামের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গবেষণা, আধুনিক প্রযুক্তি ও যান্ত্রিকীকরণের মাধ্যমে দেশের কৃষিকে প্রযুক্তিনির্ভর, লাভজনক ও টেকসই খাতে রূপান্তরে একগুচ্ছ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে সরকার। এ লক্ষ্যে ডিজিটাল কৃষি ব্যবস্থার সম্প্রসারণ, স্মার্ট কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি, কৃষিযন্ত্রের সম্প্রসারণ এবং জলবায়ু-সহিষ্ণু কৃষি উন্নয়নে বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে।প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার কৃষিকে সনাতনী ও শ্রমনির্ভর ব্যবস্থা থেকে বের করে গবেষণা, আধুনিক প্রযুক্তি, উদ্ভাবন ও যান্ত্রিকীকরণের মাধ্যমে প্রযুক্তিনির্ভর, লাভজনক, প্রতিযোগিতামূলক ও টেকসই খাতে রূপান্তরের লক্ষ্যে বাস্তবধর্মী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।কৃষি ব্যবস্থাপনায় ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে কৃষক নিবন্ধন, কৃষক ডাটাবেজ, ডিজিটাল কৃষিসেবা, মোবাইলভিত্তিক আবহাওয়ার তথ্য, বাজারদর, কৃষি পরামর্শ, ই-এক্সটেনশন সেবা এবং অনলাইন প্ল্যাটফর্ম চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কৃষকের ডিজিটাল ডাটাবেজ তৈরি এবং সরকারি সেবা সরাসরি কৃষকের কাছে পৌঁছে দিতে কৃষক কার্ড বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, উৎপাদন ব্যয় কমানো, শ্রম সংকট মোকাবিলা এবং কৃষিকে লাভজনক করতে কৃষি যান্ত্রিকীকরণের কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। কৃষিতে রিমোট সেন্সিং, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ইন্টারনেট অব থিংস (আইওটি), ড্রোন, জিপিএস, স্যাটেলাইট তথ্য ও বিগ ডাটাসহ আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার সম্প্রসারণে সরকার কাজ করছে।সংসদ নেতা বলেন, তথ্যনির্ভর প্রিসিশন অ্যাগ্রিকালচার চালুর মাধ্যমে উৎপাদন খরচ কমিয়ে কৃষকের আয় বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কৃষকদের জন্য ‘খামারি অ্যাপ’ চালু করা হয়েছে, যার মাধ্যমে কোন এলাকায় কোন সময়ে কোন ফসল ভালো হবে, কী পরিমাণ সার প্রয়োজন এবং আবহাওয়ার পূর্বাভাসসহ বিভিন্ন পরামর্শ পাওয়া যাচ্ছে।রাসায়নিক সারের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে জৈব সার, বায়োফার্টিলাইজার এবং পরিবেশবান্ধব কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় কৃষিকে জলবায়ু-স্মার্ট ও অভিযোজনক্ষম খাতে রূপান্তরের কার্যক্রমও চলমান রয়েছে।প্রধানমন্ত্রী বলেন, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নের ফলে দেশের কৃষি আরও উৎপাদনশীল, লাভজনক, প্রযুক্তিনির্ভর ও টেকসই খাতে পরিণত হবে, যা জাতীয় অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
২ ঘন্টা আগে
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক ‘শেষ’

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক ‘শেষ’

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সই হওয়া দ্বিপক্ষীয় সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) চুক্তিটি এখন সম্পূর্ণভাবে অকার্যকর ও শেষ হয়ে গেছে বলে স্পষ্ট মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার (৮ জুলাই) তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় ন্যাটোর শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই কথা বলেন।ন্যাটো সম্মেলনে উপস্থিত সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প তেহরানের সঙ্গে হওয়া ওই সমঝোতা চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলেন। দুই দেশের চলমান সামরিক সংঘাতের জেরে চুক্তির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি সরাসরি বলেন, ‘আমি মনে করি এটি শেষ’। তিনি আরও জানান, তিনি আর তেহরানের সঙ্গে কোনো আলোচনায় বসতে চান না।এর আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প অত্যন্ত ক্ষোভের সঙ্গে উল্লেখ করেছিলেন যে মার্কিন সশস্ত্র বাহিনী ইরানের ভেতরে অবস্থান করা অত্যন্ত বিপজ্জনক ব্যক্তিদের লক্ষ্য করে শক্তিশালী ও বিধ্বংসী সামরিক হামলা পরিচালনা করেছে। গত রাতে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সশস্ত্র বাহিনী তাদের সর্বশেষ দফার বিমান হামলা সফলভাবে সম্পন্ন করে।মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে যে তারা অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট যুদ্ধাস্ত্রের সাহায্যে ইরানের ৮০টির বেশি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তু সফলভাবে ধ্বংস করেছে। একইসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তেল রপ্তানির অনুমতিপত্র প্রত্যাহার করে নিয়েছে। এই অনুমতিপত্রের মেয়াদ ছিল আগামী ২১ আগস্ট পর্যন্ত।যুক্তরাষ্ট্রের এই জোরদার বিমান হামলার জবাবে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) বাহরাইন ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোর ৮০টির বেশি লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। তেহরানের পক্ষ থেকে বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়েছে যে মার্কিন বিমান হামলার উপযুক্ত জবাব দিতে তাদের নৌ ও বিমান বাহিনী যৌথভাবে এই পাল্টা অভিযান পরিচালনা করেছে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করেছে।
৬ ঘন্টা আগে
১৫ এপ্রিল ২০২৬, ১২:১১ এএম
আপনি কি মনে করেন বিএনপি জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর ও শব্দ বাস্তবায়ন করবে?

আপনি কি মনে করেন বিএনপি জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর ও শব্দ বাস্তবায়ন করবে?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ জন
পাইলস রোগের হারবাল ঔষধ ও তার কার্যকারিতা

পাইলস রোগের হারবাল ঔষধ ও তার কার্যকারিতা

পাইলস, যা হেমোরয়েড নামেও পরিচিত, একটি সাধারণ স্বাস্থ্য সমস্যা। এটি মলদ্বারের রক্তনালী ফুলে যাওয়া এবং প্রদাহের কারণে হয়ে থাকে। এই রোগটি সাধারণত দীর্ঘমেয়াদি কোষ্ঠকাঠিন্য, অতিরিক্ত ওজন, গর্ভাবস্থা বা অত্যধিক চাপের কারণে হতে পারে। পাইলসের সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে অনেকেই হারবাল ঔষধ ও প্রাকৃতিক চিকিৎসার ওপর নির্ভর করেন। হারবাল ঔষধের কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া না থাকায় এগুলো দিন দিন আরও জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।পাইলসের লক্ষণপাইলস রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা সাধারণত নিচের লক্ষণগুলো অনুভব করে থাকেন:মলত্যাগের সময় রক্তপাতমলদ্বারের চারপাশে চুলকানি ও জ্বালাপোড়ামলদ্বারের কাছাকাছি ফুলে যাওয়া বা পিণ্ডের উপস্থিতিতীব্র ব্যথা, বিশেষত মলত্যাগের সময়পাইলসের হারবাল চিকিৎসার গুরুত্বপ্রাকৃতিক উপাদান থেকে তৈরি হারবাল ঔষধ পাইলসের চিকিৎসায় কার্যকর ভূমিকা পালন করে। এগুলোর মূল বৈশিষ্ট্য হলো প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহার, যা শরীরের অন্যান্য অঙ্গের ওপর কোনো ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে না। অস্ত্রোপচার বা কেমিক্যালজাত ওষুধের তুলনায় হারবাল চিকিৎসা অনেকটাই নিরাপদ ও সাশ্রয়ী।পাইলসের জন্য জনপ্রিয় হারবাল ঔষধ১. ত্রিফলা চূর্ণত্রিফলা চূর্ণ তিনটি ফল—আমলকি, হরীতকি এবং বহেরা—থেকে তৈরি একটি প্রাচীন আয়ুর্বেদিক ঔষধ। এটি হজম প্রক্রিয়া উন্নত করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সাহায্য করে। পাইলসের ক্ষেত্রে এটি মলত্যাগ সহজ করে এবং প্রদাহ কমায়।ব্যবহার পদ্ধতি: প্রতিদিন রাতে এক চামচ ত্রিফলা চূর্ণ উষ্ণ পানির সাথে সেবন করুন।২. অ্যালোভেরাঅ্যালোভেরা একটি প্রাকৃতিক প্রদাহনাশক ও ব্যথা কমানোর এজেন্ট হিসেবে পরিচিত। এটি পাইলসের ফোলাভাব কমাতে এবং মলদ্বারের সংবেদনশীলতা হ্রাস করতে সাহায্য করে।ব্যবহার পদ্ধতি: অ্যালোভেরা জেল সরাসরি মলদ্বারের চারপাশে প্রয়োগ করুন। এটি ঠান্ডা ও আরামদায়ক প্রভাব প্রদান করে।৩. নিমনিম তার অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি গুণের জন্য সুপরিচিত। এটি পাইলসের প্রদাহ ও সংক্রমণ কমাতে সাহায্য করে।ব্যবহার পদ্ধতি: নিমপাতা সেদ্ধ করে সেই পানি দিয়ে আক্রান্ত স্থান ধোয়া যেতে পারে। অথবা নিমের নির্যাস ধারণ করে এমন ক্রিম ব্যবহার করা যেতে পারে।৪. হলুদহলুদের মধ্যে রয়েছে কারকিউমিন নামক উপাদান, যা শক্তিশালী অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট গুণসম্পন্ন। এটি পাইলসের ব্যথা ও প্রদাহ কমাতে কার্যকর।ব্যবহার পদ্ধতি: এক গ্লাস গরম দুধের সাথে এক চিমটি হলুদ মিশিয়ে প্রতিদিন পান করুন। অথবা হলুদবাটা সরাসরি আক্রান্ত স্থানে প্রয়োগ করা যেতে পারে।৫. ঘৃতকুমারী ও মধুঘৃতকুমারী ও মধুর সংমিশ্রণ পাইলসের চিকিৎসায় অত্যন্ত কার্যকর। মধুতে রয়েছে অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল গুণ, যা সংক্রমণ রোধ করে।ব্যবহার পদ্ধতি: ঘৃতকুমারী জেলের সাথে সামান্য মধু মিশিয়ে আক্রান্ত স্থানে লাগান।৬. ওল্ডেনল্যান্ডিয়া ডিফুসা (Oldenlandia Diffusa)এই ভেষজটি চীনা হারবাল মেডিসিনে বহুল ব্যবহৃত হয়। এটি অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি ও অ্যান্টিটিউমার বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন। পাইলসের ফোলা ও ব্যথা কমাতে এটি বেশ কার্যকর।সতর্কতাহারবাল ঔষধ সেবনের আগে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। প্রতিটি মানুষের শরীরের ধরন ভিন্ন, তাই সবার জন্য একই ঔষধ সমান কাজ করে না। গর্ভাবস্থায় বা অন্য কোনো রোগ থাকলে সতর্কতার সাথে হারবাল ঔষধ সেবন করুন।পাইলস একটি অস্বস্তিকর ও বেদনাদায়ক রোগ। তবে সঠিক হারবাল চিকিৎসা ও জীবনযাত্রার পরিবর্তনের মাধ্যমে এর উপশম সম্ভব। ত্রিফলা, অ্যালোভেরা, নিম, হলুদসহ বিভিন্ন ভেষজ উপাদান পাইলসের চিকিৎসায় আশাব্যঞ্জক ফলাফল দেখায়। প্রাকৃতিক ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ামুক্ত এই সমাধানগুলো গ্রহণ করে দীর্ঘমেয়াদি আরাম পাওয়া যায়। তবে কঠিন বা দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা থাকলে অবশ্যই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন।
২০ ঘন্টা আগে
নবম বেতনকাঠামো: গ্রেডভিত্তিক ইনক্রিমেন্ট, বাড়ছে নিম্ন ও মধ্যম গ্রেডের সুবিধা

নবম বেতনকাঠামো: গ্রেডভিত্তিক ইনক্রিমেন্ট, বাড়ছে নিম্ন ও মধ্যম গ্রেডের সুবিধা

সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বৃদ্ধির প্রচলিত নিয়মে বড় ধরনের পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। নবম জাতীয় বেতনকাঠামোয় সব গ্রেডে সমান হারে বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট দেওয়ার পরিবর্তে গ্রেডভিত্তিক ভিন্ন ভিন্ন হার নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। নতুন এই কাঠামোতে নিম্ন ও মধ্যম গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তুলনামূলক বেশি সুবিধা পেতে যাচ্ছেন।বর্তমান নিয়মে সরকারি কর্মচারীরা সব গ্রেডেই গড়ে ৫ শতাংশ হারে ইনক্রিমেন্ট পেয়ে থাকেন। তবে নতুন খসড়া প্রস্তাব অনুযায়ী ৬ষ্ঠ থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি মূল বেতনের ৫ শতাংশ বহাল রাখার সুপারিশ করা হয়েছে। এছাড়া ৫ম গ্রেডে ইনক্রিমেন্ট হার ৪ শতাংশ, ৩য় ও ৪র্থ গ্রেডে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ এবং ২য় গ্রেডে ২ দশমিক ৭৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। ১ম গ্রেডের বেতন বৃদ্ধির হার আলাদাভাবে নির্ধারণের কথা জানানো হয়েছে।সরকারের একটি বিস্তারিত জরিপে প্রায় ১ লাখ ৬৭ হাজার ৫০০ সরকারি চাকরিজীবী অংশ নিয়েছেন। সেখানে মাত্র ৫ দশমিক ৬ শতাংশ অংশগ্রহণকারী বর্তমান পদ্ধতির পক্ষে মত দিয়েছেন। অধিকাংশ চাকরিজীবী মূল্যস্ফীতির সাথে বেতন সমন্বয় এবং জীবনযাত্রার ব্যয়ের ওপর ভিত্তি করে ইনক্রিমেন্ট নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন। বিশেষ করে ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মীদের বেতন বাড়ানোর বিষয়ে ব্যাপক জনমত রয়েছে।নতুন বেতন কাঠামোতে সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন গ্রেডের বেতনের ব্যবধান বা অনুপাত ১:৯ দশমিক ৪ থেকে কমিয়ে ১:৭ দশমিক ৫ করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এছাড়া নতুন বেতন স্কেল চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রথম ধাপে মূল বেতন বৃদ্ধি কার্যকর হবে এবং ভাতা ও সুবিধাদি ২০২৭-২৮ অর্থবছর থেকে কার্যকর করা হবে।বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) 'লিভিং স্ট্যান্ডার্ড সার্ভে ২০২৫'-এর তথ্য অনুযায়ী, দেশের একটি পরিবারের গড় মাসিক ব্যয় ৩৫ হাজার ৩১১ টাকা। এই বাস্তবতাকে মাথায় রেখেই নতুন বেতনকাঠামো সাজানো হচ্ছে। বর্তমানে ২০তম গ্রেডের একজন কর্মচারীর বেতন-ভাতা ১৬ হাজার ৯৫০ টাকা হলেও, নতুন কাঠামো কার্যকর হলে তা প্রায় ৪১ হাজার ৯০৮ টাকায় উন্নীত হতে পারে।মন্ত্রিপরিষদ সচিবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে নবম বেতন কমিশনের সুপারিশ দ্রুত মন্ত্রিসভায় পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে এই প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় তোলা হতে পারে। অর্থমন্ত্রীর সম্মতির পরই এ বিষয়ে চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করবে অর্থ মন্ত্রণালয়।সরকারি চাকরিজীবীদের সংগঠনগুলো নতুন এই প্রস্তাবকে ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও, বাস্তবায়নে সময়ক্ষেপণ না করার আহ্বান জানিয়েছে। তারা বলেছেন, মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির সাথে সঙ্গতি রেখে দ্রুত এই বেতন কাঠামো কার্যকর করা জরুরি।
১৪ মে ২০২৬
বুধবার বন্ধ থাকবে ব্যাংক ও শেয়ারবাজার

বুধবার বন্ধ থাকবে ব্যাংক ও শেয়ারবাজার

১৪ মে ২০২৬
নতুন নকিয়া ১১০ পাওয়ার: এক চার্জে ১৫ দিন, দাম ২৮৯৯ টাকা

নতুন নকিয়া ১১০ পাওয়ার: এক চার্জে ১৫ দিন, দাম ২৮৯৯ টাকা

নকিয়ার চিরচেনা ফিচার ফোনের ঐতিহ্যকে আধুনিক রূপে ফিরিয়ে এনে বাংলাদেশে উৎপাদিত নতুন ‘নকিয়া ১১০ পাওয়ার’ উন্মোচন করা হয়েছে। ফোনটি একবার চার্জে ১৫ দিন চলবে, দাম ২ হাজার ৮৯৯ টাকা। মুঠোফোনের ইতিহাসে সবচেয়ে জনপ্রিয় ও সর্বাধিক বিক্রিত মডেলগুলোর একটি নকিয়া ১১০। সেই পরিচিত ফোনটিই এবার নতুন রূপে ফিরেছে বাংলাদেশের বাজারে। দীর্ঘস্থায়ী ব্যাটারি, বড় পর্দা ও পরিচিত নকশার সমন্বয়ে উন্মোচন করা হয়েছে নতুন নকিয়া ১১০ পাওয়ার।সম্প্রতি রাজধানীর গুলশান শুটিং ক্লাবে আয়োজিত দিনব্যাপী বিক্রয় প্রতিনিধি সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে ফোনটি উন্মোচন করা হয়। এর আয়োজন করে বাংলাদেশে নকিয়া ফোনের একমাত্র উৎপাদনকারী ও পরিবেশক প্রতিষ্ঠান সেলেক্সট্রা লিমিটেড। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এইচএমডি বাংলাদেশের বিজনেস ম্যানেজার কাজী আল আমিন, সেলেক্সট্রার ব্যবস্থাপনা পরিচালক রিয়াজুল ইসলাম, হেড অব সেলস মামুন খান, চিফ বিজনেস অফিসার মোহাম্মদ আসিফ আলমগীর প্রমুখ। অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, দেশে উৎপাদিত এই নতুন মডেলটি নকিয়ার ঐতিহ্যকে ধরে রেখে আধুনিক ব্যবহারকারীদের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তৈরি করা হয়েছে। নতুন নকিয়া ১১০ পাওয়ারের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ এর শক্তিশালী ১৭৫০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার ব্যাটারি। নির্মাতাদের দাবি, একবার পূর্ণ চার্জে ফোনটি টানা ১৫ দিন পর্যন্ত সচল থাকতে পারবে। ফলে নিয়মিত চার্জ দেওয়ার ঝামেলা ছাড়াই দীর্ঘ সময় ব্যবহার করা যাবে ফোনটি।ফিচার ফোন হলেও এতে রয়েছে দুই ইঞ্চি পর্দা, যা আগের অনেক মডেলের তুলনায় বড় ও ব্যবহারবান্ধব। ফোনটির পেছনে থাকা ক্যামেরার সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে এলইডি ফ্ল্যাশ, যা অল্প আলো বা অন্ধকার পরিবেশেও ছবি তুলতে সহায়তা করবে। নকিয়ার পুরোনো ব্যবহারকারীদের জন্য সুখবর হলো নতুন এই ফোনেও রাখা হয়েছে একসময়ের জনপ্রিয় স্নেক গেম। ফলে প্রযুক্তির আধুনিকতার পাশাপাশি নস্টালজিয়ার ছোঁয়াও মিলবে ডিভাইসটিতে। নকিয়া ১১০ পাওয়ার বাজারে আনা হয়েছে নীল, ধূসর ও বেগুনি—এই তিন রঙে।প্রসঙ্গত, নকিয়ার আসল ফোন দেখে কিনতে জানিয়েছেন নির্মাতারা। আপনার কেনা ফোনটি আসল কি না, তা যাচাই করতে মুঠোফোনের আইএমইআই নম্বর লিখে ‘KYD <স্পেস> ১৫ সংখ্যার আইএমইআই নম্বর’ টাইপ করে ১৬০০২ নম্বরে এসএমএস পাঠাতে হবে। ফিরতি এসএমএস ডিভাইসটির বৈধ বা নকলের তথ্য পাওয়া যাবে। নকিয়া ১১০ পাওয়ারকে বাংলাদেশের বাজারে ফিচার ফোনের মধ্যে অন্যতম সেরা বিকল্প হিসেবে দেখা হচ্ছে। এটির দাম ২ হাজার ৮৯৯ টাকা হওয়ায় এটি সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রয়েছে। বিশেষ করে যারা শুধু কল, এসএমএস এবং কিছু মৌলিক কাজের জন্য ফোন ব্যবহার করেন, তাদের জন্য এটি একটি চমৎকার পছন্দ। এর শক্তিশালী ব্যাটারি, বড় পর্দা, স্নেক গেমের নস্টালজিয়া এবং এলইডি ফ্ল্যাশ সহ ক্যামেরা ফোনটিকে আকর্ষণীয় করে তুলেছে। সেলেক্সট্রা লিমিটেড জানিয়েছে, তারা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এই ফোনের বিক্রি বাড়াতে কাজ করছে। তারা গ্রাহকদের সন্তুষ্টি এবং আফটার-সেলস সার্ভিস নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। নকিয়া ১১০ পাওয়ার উন্মোচনের পর থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফোনটির ব্যাপক আলোচনা হচ্ছে। অনেকে তাদের পুরোনো দিনের কথা স্মরণ করে এই ফোন কেনার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। আগামী কয়েক সপ্তাহে ফোনটির বিক্রি ভালো হতে পারে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা। নকিয়া বাংলাদেশে তাদের ফিচার ফোনের বাজার ধরে রাখতে আরও নতুন মডেল আনতে পারে বলে গুঞ্জন রয়েছে। ফোনটির বিষয়ে বিস্তারিত জানতে গ্রাহকরা সেলেক্সট্রার অফিসিয়াল ওয়েবসাইট বা নিকটস্থ মোবাইল ফোনের দোকানে যোগাযোগ করতে পারেন। নকিয়ার এই নতুন যাত্রা বাংলাদেশের মোবাইল বাজারে একটি ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
২৯ জুন ২০২৬
কোন ছবি নেই !
কোন ছবি নেই !
সাজেক পর্যটনকেন্দ্র সাময়িক বন্ধ ঘোষণা

সাজেক পর্যটনকেন্দ্র সাময়িক বন্ধ ঘোষণা

বৈরী আবহাওয়ার কারণে রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক পর্যটনকেন্দ্র সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসন। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নাজমা আশরাফী সই করা জরুরি গণবিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সবশেষ আবহাওয়া পরিস্থিতি এবং সাম্প্রতিক সময়ে জেলায় অব্যাহত ভারী বর্ষণের কারণে বিভিন্ন স্থানে ভূমিধস, পাহাড়ধস ও যোগাযোগ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হয়েছে। বিদ্যমান আবহাওয়ায় সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনায় পর্যটক ও জনসাধারণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সাজেক পর্যটনকেন্দ্র সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হলো। এসময়ে সাজেক ভ্যালির সব পর্যটনকেন্দ্র, ঝরনা, পাহাড়ি ট্রেইল, দুর্গম এলাকা ও ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে পর্যটক, ট্যুর অপারেটরসহ সর্বসাধারণের ভ্রমণ নিষিদ্ধ থাকবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, আবহাওয়া পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ থেকে বিরত থাকাই নিরাপদ।সাজেক পর্যটনকেন্দ্র বন্ধের এই সিদ্ধান্তের ফলে ইতিমধ্যে সেখানে অবস্থানরত পর্যটকদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, যারা ইতোমধ্যে সাজেক এলাকায় অবস্থান করছেন, তাদের আবহাওয়া স্বাভাবিক হওয়া পর্যন্ত নিরাপদ স্থানে থাকতে বলা হয়েছে এবং প্রয়োজনে তাদের উদ্ধারে প্রস্তুত রাখা হয়েছে উদ্ধারকারী দল। পাহাড়ি এই পর্যটনকেন্দ্রটি বর্তমানে দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন স্পট। প্রতি বছর হাজার হাজার পর্যটক সাজেকের অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করতে আসেন। তবে বর্ষা মৌসুমে এই অঞ্চলে প্রায়ই ভূমিধস ও পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে। সম্প্রতি কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পেও পাহাড় ধসে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে, যা প্রশাসনকে আরও সতর্ক করেছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী কয়েকদিন রাঙামাটি ও পার্বত্য এলাকায় ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে। ফলে নদ-নদীর পানি বাড়তে পারে এবং ভূমিধসের ঝুঁকি আরও বেড়ে যেতে পারে। পর্যটকদের নিরাপত্তায় প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা বলেছেন, সাজেকের পথটি অত্যন্ত দুর্গম এবং বৃষ্টির সময় সেখানে যাতায়াত করা ঝুঁকিপূর্ণ। প্রশাসনের এই উদ্যোগ অত্যন্ত সময়োপযোগী। সাজেক ভ্রমণের পরিকল্পনা করছিলেন এমন পর্যটকদের প্রশাসন পরবর্তী নির্দেশনা পর্যন্ত ভ্রমণ স্থগিত রাখতে বলেছে। তারা যেন কোনোভাবেই নিষিদ্ধ এলাকায় প্রবেশ না করেন, সেদিকে নজর রাখতে বলা হয়েছে স্থানীয় প্রশাসনকে। পর্যটন শিল্পের সঙ্গে জড়িতরা বলছেন, সাজেক বন্ধ থাকায় তাদের ব্যবসায়িক ক্ষতি হবে। তবে তারা জননিরাপত্তাকে প্রাধান্য দিয়ে প্রশাসনের এই সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছেন। আগামী কয়েকদিন আবহাওয়ার অবস্থা পর্যালোচনা করে সাজেক খোলার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন। পর্যটকরা প্রশাসনের ওয়েবসাইট ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে সাজেক খোলার আপডেট জানতে পারবেন। বর্তমানে রাঙামাটি জেলায় ভারী বর্ষণ অব্যাহত রয়েছে। সাজেক যাওয়ার প্রধান সড়কও কিছুস্থানে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক হতে আরও কিছুদিন সময় লাগতে পারে। পর্যটকদের সুরক্ষায় প্রশাসনের এই পদক্ষেপ সঠিক বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলেছেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় সতর্কতাই সর্বোত্তম পন্থা। তাই পর্যটকদেরও প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলা উচিত। আগামী কয়েকদিন আবহাওয়ার উন্নতি হলে সাজেক আবার খুলে দেওয়া হতে পারে। তবে সম্পূর্ণ নিরাপদ না হওয়া পর্যন্ত প্রশাসন কোনো ঝুঁকি নেবে না বলে জানিয়েছে। পর্যটন খাতের উন্নয়নে সরকার কাজ করলেও জননিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
১৪ মে ২০২৬
ইতিহাসের অবহেলিত বীর: মোহাম্মদ আব্দুল্লাহর গল্প

ইতিহাসের অবহেলিত বীর: মোহাম্মদ আব্দুল্লাহর গল্প

আমরা যারা বাংলাদেশের মানুষ, ছোটবেলা থেকে পাঠ্যবইয়ে ক্ষুদিরাম বসুর বীরত্বগাথা পড়ে বড় হয়েছি। ফাঁসির মঞ্চে যাওয়ার আগে তাঁর সেই বিখ্যাত গান—"একবার বিদায় দে মা ঘুরে আসি"—শোনেনি এমন বাঙালি খুঁজে পাওয়া দায়। ক্ষুদিরাম আমাদের আবেগ, আমাদের জাতীয় বীর। কিন্তু বুকে হাত দিয়ে বলুন তো, "মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ" নামটা আমাদের কয়জন জানি? অথচ এই আব্দুল্লাহও ছিলেন একজন বাঙালি উপমহাদেশীয় বিপ্লবী, যিনি ব্রিটিশদের বুকে কাঁপন ধরিয়ে দিয়েছিলেন। ক্ষুদিরামের আন্দোলনের মাত্র কয়েক দশক আগে, ১৮৭১ সালে কলকাতার টাউন হলের সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে এই আব্দুল্লাহ একাই বুক চিতিয়ে হত্যা করেছিলেন তৎকালীন ফোর্ট উইলিয়াম হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি জন প্যাক্সটন নরম্যানকে—যে বিচারক বিপ্লবীদের কঠোর সাজা ও ফাঁসি দেওয়ার জন্য কুখ্যাত ছিলেন।১৮৭১ সালের ২১ নভেম্বর কলকাতার টাউন হলে এক রাজকীয় অনুষ্ঠান চলছিল। সেখানে উপস্থিত ছিলেন ফোর্ট উইলিয়াম হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি স্যার জন প্যাক্সটন নরম্যান। অনুষ্ঠান শেষে তিনি যখন টাউন হলের সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামছিলেন, তখন আব্দুল্লাহ তাঁর পথ রোধ করেন। তিনি নরম্যানের বুকে একটি ছুরি দিয়ে আঘাত করেন, যা ছিল এতটাই নিখুঁত ও মারাত্মক যে নরম্যান ঘটনাস্থলেই মারা যান। আব্দুল্লাহকে সঙ্গে সঙ্গে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তাকে ফাঁসি দেওয়া হয়। অথচ ক্ষুদিরাম বসু ১৯০৮ সালে কিংসফোর্ডকে মারতে গিয়ে বোমা ছুড়েছিলেন, কিন্তু ভুলবশত দুজন নিরীহ ইউরোপীয় নারী মারা যান, কিংসফোর্ড বেঁচে যান। আর আব্দুল্লাহ একাই একটি ছুরি হাতে সরাসরি তাঁর মূল টার্গেট, ব্রিটিশদের প্রধান বিচারপতিকে খতম করেছিলেন। ফলাফল দুজনেরই ব্রিটিশদের ফাঁসির দড়ি।তাহলে আজ বাংলাদেশের ইতিহাস চর্চায় কেন এই আকাশ-পাতাল বৈষম্য? কেন ক্ষুদিরামের নাম আমাদের মুখে মুখে, আর আব্দুল্লাহর নাম ইতিহাসের পাতা থেকে একপ্রকার মুছে দেওয়া হলো? এর পেছনে লুকিয়ে আছে আমাদের বুদ্ধিবৃত্তিক দৈন্যতা। আব্দুল্লাহ যুক্ত ছিলেন ওহাবি আন্দোলনের সাথে। আমাদের আধুনিক তথাকথিত ধর্মনিরপেক্ষ ঐতিহাসিকরা ওহাবি আন্দোলনকে কেবল "ধর্মীয় আন্দোলন" তকমা দিয়ে আব্দুল্লাহর মতো খাঁটি স্বাধীনতা সংগ্রামীদের লাইমলাইট থেকে দূরে সরিয়ে রেখেছেন। অথচ ওহাবি আন্দোলন শুধু ধর্মীয় ছিল না, এটি ছিল ব্রিটিশবিরোধী প্রতিরোধের একটি শক্তিশালী ধারা, যার মাধ্যমে উপমহাদেশের মানুষ ইংরেজ শাসনের বিরুদ্ধে সংগঠিত হতে চেয়েছিল। আব্দুল্লাহ ছিলেন সেই আন্দোলনেরই একজন উজ্জ্বল সেনানী।ব্রিটিশরা সুকৌশলে আব্দুল্লাহর সমস্ত তথ্য, ছবি এবং স্মৃতি সেন্সর করেছিল যাতে তিনি মুসলিম তরুণদের আইকন বা শহীদ হতে না পারেন। ব্রিটিশরা জানত, একজন মুসলিম বিপ্লবী যদি আদর্শে পরিণত হয়, তাহলে তা উপমহাদেশের মুসলিম জনগোষ্ঠীর মধ্যে ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই তারা আব্দুল্লাহর নাম ও পরিচয় গুম করে দেয়। আর স্বাধীনতার পর আমাদের শিক্ষাবোর্ডগুলোও সেই ব্রিটিশদের তৈরি করা সিলেবাসের বৃত্ত থেকে বের হতে পারেনি। ফলে আব্দুল্লাহর মতো অনেক বীরই রয়ে গেছেন ইতিহাসের আড়ালে।ক্ষুদিরাম যেমন আমাদের জাতীয় বীর, আব্দুল্লাহও তেমনই বীর। ক্ষুদিরাম ফাঁসির আগে গান গেয়েছেন, আব্দুল্লাহও ফাঁসির আগে নির্ভীক ছিলেন। একজন ব্রিটিশ প্রধান বিচারপতিকে হত্যা করে তিনি প্রমাণ করেছিলেন, ভারতবাসী আর ব্রিটিশ শাসন সহ্য করবে না। তাঁর এই সাহসিকতা ও আত্মত্যাগের ইতিহাস আমাদের জানা উচিত। আজ সময় এসেছে এই ঐতিহাসিক বৈষম্যের অবসান ঘটানোর। ইতিহাস কারও একার সম্পত্তি নয়। রক্ত ক্ষুদিরামও দিয়েছেন, রক্ত আব্দুল্লাহও দিয়েছেন। দেশের স্বাধীনতার জন্য ফাঁসির মঞ্চে যাওয়া প্রতিটা মানুষই সমান শ্রদ্ধার পাত্র। আসুন, নিজেদের ইতিহাসকে নতুন করে জানি। আব্দুল্লাহদের মতো হারিয়ে যাওয়া বীরদের অবদানের কথা আমাদের পরবর্তী প্রজন্মকে জানাই।শিক্ষাবোর্ডগুলোর উচিত আব্দুল্লাহসহ সকল উপেক্ষিত বিপ্লবীদের ইতিহাস পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করা। আব্দুল্লাহর নামে স্মৃতিসৌধ, রাস্তা বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নামকরণ করা উচিত, যাতে তরুণ প্রজন্ম তাঁকে চিনতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোকে আব্দুল্লাহর জীবন ও আন্দোলন নিয়ে বিস্তারিত গবেষণায় উৎসাহিত করতে হবে। গণমাধ্যমে আব্দুল্লাহর কাহিনি প্রচার করতে হবে, যাতে তিনি ঘরে ঘরে পরিচিত হন। যাঁরা দেশের জন্য প্রাণ দিয়েছেন, তাঁরা সকলেই সমান সম্মানের অধিকারী। ক্ষুদিরাম যেমন আমাদের গর্ব, আব্দুল্লাহও তেমনই আমাদের গর্ব। ইতিহাসের এই একপেশে বয়ান থেকে বেরিয়ে এসে আমাদের উচিত প্রতিটি বীরের অবদানকে যথাযথ মর্যাদা দেওয়া। তবেই সত্যিকার অর্থে আমরা স্বাধীনতা সংগ্রামের পূর্ণ ইতিহাসকে আত্মস্থ করতে পারব। ইতিহাসের এই অজানা অধ্যায়কে সামনে এনে আমরা আমাদের পরবর্তী প্রজন্মকে একটি সম্পূর্ণ ও সঠিক ইতিহাস উপহার দিতে পারি। আব্দুল্লাহর মতো বীরদের প্রতি আমাদের এই দায়িত্ব অবশ্যই পালন করতে হবে। কারণ, স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রতিটি ফোঁটা রক্তই সমান মূল্যবান। এখন সময় এসেছে আব্দুল্লাহদের পুনর্বাসনের, যাতে নতুন প্রজন্ম জানে—স্বাধীনতার এই পথ কতটা রক্তক্ষয়ী ছিল এবং কতজন অজানা বীর এই পথ প্রশস্ত করেছেন।
ফিরোজ আল মামুন