ঢাকা    শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬
ঢাকা    শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬
গণবার্তা
সর্বশেষ

হজের বিমান টিকিটের দাম আরও ২৫ হাজার টাকা কমালো সরকার

বাংলাদেশি হজযাত্রীদের ব্যয় কমাতে হজের বিমান টিকিটের মূল্য সরকার আরও ২৫ হাজার টাকা কমিয়েছে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। তিনি জানান, ২০২৬ সালের হজে বিমান টিকিটের নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা।বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জাতীয় হজ ও ওমরাহ ফেয়ার-২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এই ঘোষণা দেন তিনি। তিন দিনব্যাপী এই ফেয়ারের আয়োজন করেছে হজ এজেন্সিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব)।প্রতিমন্ত্রী বলেন, 'সবার আগে বাংলাদেশ' প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকার দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। এই যাত্রায় বাংলাদেশি হজযাত্রীদের জন্য যৌক্তিক খরচে ও হয়রানিমুক্ত পরিবেশে হজ প্যাকেজ নিশ্চিত করাকে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।তিনি বলেন, গত বছর আমরা প্রতি টিকিটে ১২ হাজার টাকা খরচ কমাতে সক্ষম হয়েছিলাম। এই বছর আমরা টিকিটপ্রতি খরচ আরও ২৫ হাজার টাকা কমিয়ে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকায় নামিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছি।এছাড়া বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সৌদি সরকারের কাছে বিমান টিকিটের ওপর আরোপিত সৌদি বিমানবন্দরের নির্মাণ কর কমানোর অনুরোধ জানানো হয়েছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। মিল্লাত বলেন, 'বাংলাদেশি হাজিদের আবাসন ব্যয় কমানোর লক্ষ্যে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার বিষয়েও সৌদি রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বিস্তর আলোচনা হয়েছে।'অনুষ্ঠানে ধর্মসচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ এনডিসি জানান, বাংলাদেশের হজযাত্রীদের মাত্র পাঁচ শতাংশ সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ পালন করেন, আর বাকি ৯৫ শতাংশ বেসরকারি হজ এজেন্সির মাধ্যমে সৌদি আরব যান। তিনি সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয় এমন কোনো কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকতে এজেন্সি মালিকদের প্রতি আহ্বান জানান।অনুষ্ঠানে রাজকীয় সৌদি দূতাবাসের উপ-মিশন প্রধান খালিদ সাঈদ আল হাদাল, হাবের নেতারা এবং হজপ্রত্যাশীরা উপস্থিত ছিলেন। হজ এজেন্সিগুলো বলেছে, টিকিটের দাম কমানোর পাশাপাশি সৌদি আরবে আবাসন ও পরিবহন খরচ কমাতে সরকারের আরও উদ্যোগ প্রয়োজন। তারা আশা করেন, এই দাম কমানো হজযাত্রীদের জন্য চূড়ান্ত প্যাকেজের খরচ কিছুটা হলেও কমাবে।
৫ ঘন্টা আগে

ওয়ানডে অধিনায়কত্ব হারালেন মিরাজ, নতুন অধিনায়ক লিটন দাস

সাদা বলের ক্রিকেটে সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স ও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজ হারের পর গুঞ্জনটাই সত্যি হলো। বাংলাদেশ জাতীয় ওয়ানডে দলের অধিনায়কত্ব হারাতে হলো মেহেদী হাসান মিরাজকে। তার জায়গায় ওয়ানডে দলের নতুন অধিনায়ক হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে লিটন দাসকে।বুধবার (২৯ জুলাই) মিরপুরে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) তৃতীয় বোর্ড সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে আগে থেকেই টি-টোয়েন্টি দলের নেতৃত্ব সামলানো লিটন এখন থেকে সাদা বলের দুই ফরম্যাটেই (ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি) টাইগারদের নেতৃত্ব দেবেন।ওয়ানডে দলের সহ–অধিনায়ক করা হয়েছে তাওহিদ হৃদয়কে। টেস্ট অধিনায়ক হিসেবে থাকছেন নাজমুল হোসেন শান্তই।বিসিবি কার্যালয়ে পরিচালনা পর্ষদের সভার পর বোর্ড সভাপতি তামিম ইকবাল সাংবাদিকদের বলেন, 'আমি বিশ্বাস করি আমাদের দুই অধিনায়ক থাকা দরকার, বোর্ডও তাই বিশ্বাস করে।'জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সম্প্রতি ওয়ানডে সিরিজে বাংলাদেশ ২-১ ব্যবধানে হারে। সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে জয় পেলেও পরের দুই ম্যাচে হারের ফলে সিরিজ হাতছাড়া হয় টাইগারদের। এই ব্যর্থতার জের ধরেই মিরাজকে অধিনায়কত্ব থেকে সরানো হয়েছে বলে ধারণা করছেন ক্রিকেটবোদ্ধারা। তবে বিসিবি সভাপতি জানিয়েছেন, এই সিদ্ধান্ত দলের সামগ্রিক স্বার্থেই নেওয়া হয়েছে। লিটন দাস আগে থেকেই টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়ক এবং তার নেতৃত্বে দল ভালো করছে। তাকে ওয়ানডে দলের নেতৃত্ব দেওয়ার মাধ্যমে দুই ফরম্যাটে ধারাবাহিকতা আনা হবে বলে মনে করছেন বিসিবি কর্তৃপক্ষ।
৩০ জুলাই ২০২৬

মানবপাচারে শীর্ষে বাংলাদেশ, বাড়ছে সাইবার স্ক্যাম ও যুদ্ধে মানবঢালের ঝুঁকি

ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইতালি ও গ্রিসে প্রবেশকারী দেশগুলোর তালিকায় এবারও শীর্ষস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। গত কয়েক বছর ধরে ইতালিমুখী অবৈধ অভিবাসীদের মধ্যে বাংলাদেশিরা প্রথম স্থানে থাকলেও ২০২৬ সালে নতুন রেকর্ড তৈরি করে সাগরপথে গ্রিসে প্রবেশের তালিকাতেও শীর্ষে উঠে এসেছে দেশটি। একইসঙ্গে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় সাইবার স্ক্যামের শিকার হওয়া, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে মানবঢাল হিসেবে ব্যবহৃত হওয়া এবং নারী পাচারের ঘটনা মিলিয়ে মানবপাচারের সংকট ভয়াবহ আকার নিয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) আন্তর্জাতিক মানব পাচারবিরোধী দিবস। এই বছরের প্রতিপাদ্য 'প্রতারণার ফাঁদে বন্দি'।সাগরপথে ইউরোপে শীর্ষে বাংলাদেশইউরোপের সীমান্তরক্ষী সংস্থা ফ্রন্টেক্সের তথ্যের বরাতে বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাক জানিয়েছে, ২০২৫ সালে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে মোট ২০ হাজার ২৫৯ জন বাংলাদেশি ইউরোপে প্রবেশ করেছেন। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ৪ হাজার ২৪৯ জন সাগরপথে ইতালিতে এবং ৩ হাজার ৬০৮ জন লিবিয়া থেকে গ্রিসে পৌঁছেছেন। ২০০৯ থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত সেন্ট্রাল মেডিটেরেনিয়ান রুটে প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার বাংলাদেশি ইউরোপে প্রবেশ করেছেন।এই বছরের মার্চে লিবিয়ার তোবরুক থেকে গ্রিসের উদ্দেশে রওনা হওয়া একটি নৌকা দিক হারিয়ে ছয় দিন খাদ্য ও পানীয় ছাড়াই ভেসে থাকে। সেই যাত্রায় অন্তত ১৮ জন বাংলাদেশি মারা যান, যাদের ১২ জনই সুনামগঞ্জের বাসিন্দা। পাচারকারীদের নির্দেশে মরদেহগুলো সাগরে ফেলে দেওয়া হয়। এই ঘটনার পরও মৃত্যুযাত্রা থামেনি।ব্র্যাকের গবেষণা বলছে, ইউরোপমুখী এই অভিবাসীদের বেশিরভাগের বয়স ২৫ থেকে ৪০ বছর। তারা মূলত মাদারীপুর, শরীয়তপুর, ফরিদপুর, সিলেট, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, নোয়াখালী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কিশোরগঞ্জ ও কুমিল্লা জেলার বাসিন্দা। ঢাকা থেকে মিসর, দুবাই বা তুরস্ক হয়ে তারা লিবিয়া পৌঁছান। ভালো কাজের প্রলোভন দেওয়া হলেও ৭৫ শতাংশ কোনো কাজ পাননি। ৯৩ শতাংশ লিবিয়ায় ক্যাম্পে বন্দি ছিলেন, ৭৯ শতাংশ শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন এবং ৬৯ শতাংশ স্বাধীনভাবে চলাফেরার অধিকার হারিয়েছেন। জিম্মি করে পরিবারের কাছ থেকে ২৫ থেকে ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত আদায়ের ঘটনাও রয়েছে। গত ছয় বছরে প্রায় ১৫ হাজার বাংলাদেশিকে লিবিয়া থেকে ফেরত পাঠানো হয়েছে।সাইবার স্ক্যাম: চাকরির প্রলোভনে দাসত্বভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে যাওয়ার ছবির পাশাপাশি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় সাইবার স্ক্যামও মানবপাচারের এক নতুন রূপ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। কম্পিউটার অপারেটর, কল সেন্টারসহ বিভিন্ন পদে চাকরির বিজ্ঞাপন দিয়ে ভুয়া ওয়েবসাইট, ফেসবুক ও টেলিগ্রামে নিয়োগের প্রলোভন দেখানো হচ্ছে। পরে চাকরিপ্রার্থীদের কম্বোডিয়া বা মিয়ানমারের স্ক্যাম কম্পাউন্ডে নিয়ে গিয়ে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করা হচ্ছে।জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্য অনুযায়ী, গত দেড় বছরে ১৫ হাজার ৯২১ জন বাংলাদেশি কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে কম্বোডিয়ায় গেছেন, যাদের অধিকাংশই কোনো চাকরি পাননি। কম্বোডিয়ায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে চলতি বছরের জুনেই ৫৮৩ জন বাংলাদেশি ভুক্তভোগী উদ্ধার হয়ে দেশে ফিরেছেন।রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে বাংলাদেশিরাকাজের প্রলোভন দেখিয়ে বাংলাদেশিদের রাশিয়ায় নিয়ে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে মানবঢাল হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগও উঠেছে। ব্র্যাকের সঙ্গে রাশিয়ায় আহত কয়েকজন বাংলাদেশি উদ্ধারের জন্য যোগাযোগ করেছেন। স্বজনদের মরদেহ ফেরত আনার আবেদনও এসেছে। মানবাধিকার সংস্থা ফোর্টিফাই রাইটস ও ইউক্রেনভিত্তিক ট্রুথ হাউন্ডসের যৌথ তদন্তেও এ ধরনের অভিযোগ উঠে এসেছে। ইতিমধ্যে এই যুদ্ধে অর্ধশতাধিক বাংলাদেশি প্রাণ হারিয়েছেন বলে জানা গেছে।কাজের আশ্বাসে নারী পাচারবিদেশে পোশাক কারখানা, গৃহকর্মী বা বিউটি পার্লারে কাজের প্রলোভনে অনেক নারীকে জোরপূর্বক ডান্স ক্লাব ও যৌন ব্যবসায় যুক্ত করার তথ্যও পাওয়া গেছে। বিশেষ করে দুবাই ও মালয়েশিয়ায় ভ্রমণ ভিসায় নারী পাঠিয়ে এ ধরনের প্রতারণা নিয়মিত ঘটছে।আইন আছে, বিচার মিলছে নাস্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে মানবপাচার আইনে ১ হাজার ১২৬টি নতুন মামলা হয়েছে। পুরোনো মামলাসহ ২০২৬ সালের মে পর্যন্ত মোট ৫ হাজার ২৮৪টি মামলা ঝুলে আছে। এর মধ্যে ৩ হাজার ৩০৬টি বিচারাধীন এবং ১ হাজার ৯৭৮টি তদন্তাধীন। এই বছরের জানুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত ৫০০টি নতুন মামলা দায়ের হলেও নিষ্পত্তি হয়েছে মাত্র ১৭টি।সরকার নতুন 'মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০২৬' প্রণয়ন করেছে। এতে অভিবাসী চোরাচালানকেও আইনের আওতায় এনে সংঘবদ্ধ পাচারের ক্ষেত্রে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও মৃত্যুদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের সহযোগী পরিচালক শরিফুল হাসান বলেন, শুধু আইন প্রণয়ন করলেই হবে না, এর যথাযথ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। মূল অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনা, তাদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা এবং পাচারপ্রবণ জেলাগুলোতে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল প্রতিষ্ঠা জরুরি। তিনি আরও বলেন, বিদেশে কাজের প্রলোভন দেখিয়ে পাচারের ঘটনা বিচ্ছিন্নভাবে না দেখে সমন্বিতভাবে মোকাবিলা করতে হবে। পাচারকারীরা এখন তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করছে, কিন্তু আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তুলনামূলকভাবে পিছিয়ে। রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের অঙ্গীকার ছাড়া মানবপাচার, অর্থ পাচার ও মাদকের মতো আন্তঃসম্পর্কিত অপরাধ নির্মূল করা কঠিন।
৩০ জুলাই ২০২৬
নবম বেতন কমিশনের কাজ প্রায় শেষ, শিগগির মন্ত্রিসভায় যাবে: অর্থমন্ত্রী

নবম বেতন কমিশনের কাজ প্রায় শেষ, শিগগির মন্ত্রিসভায় যাবে: অর্থমন্ত্রী

সরকারি কর্মচারীদের জন্য নবম বেতন কমিশন ঘোষণা নিয়ে এখনো কাজ চলছে। কাজ শেষ হলে তা শিগগিরই মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে। মন্ত্রিসভা অনুমোদন করলে প্রজ্ঞাপন জারির কাজ শুরু হবে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বুধবার (২৯ জুলাই) সচিবালয়ে গণমাধ্যমকে এই কথা জানান তিনি।সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের সুপারিশ করতে গত ২১ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনিকে সভাপতি করে ১০ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি সুপারিশ প্রায় চূড়ান্ত করেছে বলে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে। এই কমিটিতে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, অর্থসচিব, জনপ্রশাসনসচিব, আইনসচিব, প্রতিরক্ষাসচিব, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা সচিব, স্বাস্থ্যসেবা সচিব, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার এবং হিসাব মহানিয়ন্ত্রক রয়েছেন।আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) একটি দল ১২-১৬ জুলাই ঢাকায় এসে অর্থমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে বৈঠক করে গেছে। দলটি এই সময় রাজস্ব আহরণে জোর দেওয়ার পরামর্শ দেয়। পাশাপাশি ফ্যামিলি কার্ড চালু এবং সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের অর্থ সংস্থানের উৎস সম্পর্কে জানতে চায়।সাত কিস্তিতে পাওয়ার জন্য আইএমএফের সঙ্গে বাংলাদেশের ৫৫০ কোটি মার্কিন ডলারের ঋণ কর্মসূচি ছিল ২০২৩ সালের ৩০ জানুয়ারি থেকে। পাঁচ কিস্তি পাওয়ার পর এটি আর এগোয়নি। তবে সংস্থাটির সঙ্গে ৪০০ কোটি ডলারের বেশি নতুন ঋণ কর্মসূচির আলোচনা চলছে। আগামী অক্টোবরে ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠেয় বিশ্বব্যাংক-আইএমএফের বার্ষিক সভায় এই নিয়ে আরও আলোচনা হওয়ার কথা।নতুন বেতন নিয়ে অর্থমন্ত্রী যা বললেনঅর্থমন্ত্রীর কাছে গতকাল প্রশ্ন ছিল, নতুন বেতনকাঠামো কার্যকর করলে কি আইএমএফের কাছ থেকে নতুন ঋণ পাওয়া যাবে না? জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, 'আইএমএফের ঋণের সঙ্গে নতুন বেতনকাঠামোর কোনো সম্পর্ক নেই। কাজ চলছে। বেতনকাঠামো হবে এবং প্রজ্ঞাপন জারি হতে বেশি সময় লাগবে না।'দুই দিন পর পর বেতনকাঠামো নিয়ে কথা বলতে চান না জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, 'বিষয়টি নিয়ে একেক গণমাধ্যম একেকভাবে সংবাদ প্রচার করছে। করুক। আমি একবারেই কথা বলব।'অর্থ বিভাগের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়ন করা নিয়ে আইএমএফ সরাসরি কিছু বলেনি, বলার এখতিয়ারও রাখে না। তারা অর্থের সংস্থান নিয়ে জানতে চেয়েছে এবং বাস্তবায়ন করতে চাইলে রাজস্ব আহরণে সরকার যেন জোর দেয়—সে কথা বলেছে।এক যুগ পর জাতীয় বেতন কমিশনঅষ্টম বেতন কমিশনের প্রায় এক যুগ পর ২০২৫ সালের ২৭ জুলাই অন্তর্বর্তী সরকার ২৩ সদস্যবিশিষ্ট নবম জাতীয় বেতন কমিশন গঠন করে। কমিশন তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে প্রতিবেদন দাখিল করে এই বছরের ২১ জানুয়ারি। কমিশন প্রধান সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খান।বিদ্যমান গ্রেড ২০টি বহাল রেখে কমিশন বেতন-ভাতা ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ বৃদ্ধির সুপারিশ করে। এতে সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়। আর সর্বোচ্চ বেতনকাঠামো নির্ধারিত ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে সুপারিশ করা হয় ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা।১৪ লাখ সরকারি কর্মচারী এবং ৯ লাখ পেনশনভোগীর জন্য বর্তমানে ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হলেও নতুন কাঠামো বাস্তবায়ন করতে বাড়তি ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকার দরকার পড়বে বলে কমিশনের পক্ষ থেকে তখন জানানো হয়।সুপারিশ বাস্তবায়নে নাসিমুল গনি কমিটি প্রথমে তিন অর্থবছরে ও পরে দুই অর্থবছরে নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের খসড়া সুপারিশ করে। শেষ পর্যন্ত চলতি অর্থবছরে মূল বেতন এবং পরের অর্থবছরে ভাতা দেওয়ার পক্ষে অবস্থান নেন কমিটির সদস্যরা।এদিকে ১ জুলাই থেকে সরকারি কর্মচারীদের নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়ন করা হবে বলে গত ১১ জুন জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপনের সময় ঘোষণা দেন অর্থমন্ত্রী। বাজেট বক্তৃতায় তিনি বলেন, প্রায় ১১ বছর ধরে সরকারি কর্মচারীরা একই বেতনকাঠামোতে বেতন-ভাতা পাচ্ছেন। এই সময়ে মূল্যস্ফীতির কারণে জীবনযাত্রার ব্যয় অনেক বেড়েছে। তাই ১ জুলাই থেকে ধাপে ধাপে নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়ন করা হবে।
৫ ঘন্টা আগে
নবম বেতন কমিশনের কাজ প্রায় শেষ, শিগগির মন্ত্রিসভায় যাবে: অর্থমন্ত্রী

নবম বেতন কমিশনের কাজ প্রায় শেষ, শিগগির মন্ত্রিসভায় যাবে: অর্থমন্ত্রী

সরকারি কর্মচারীদের জন্য নবম বেতন কমিশন ঘোষণা নিয়ে এখনো কাজ চলছে। কাজ শেষ হলে তা শিগগিরই মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে। মন্ত্রিসভা অনুমোদন করলে প্রজ্ঞাপন জারির কাজ শুরু হবে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বুধবার (২৯ জুলাই) সচিবালয়ে গণমাধ্যমকে এই কথা জানান তিনি।সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের সুপারিশ করতে গত ২১ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনিকে সভাপতি করে ১০ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি সুপারিশ প্রায় চূড়ান্ত করেছে বলে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে। এই কমিটিতে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, অর্থসচিব, জনপ্রশাসনসচিব, আইনসচিব, প্রতিরক্ষাসচিব, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা সচিব, স্বাস্থ্যসেবা সচিব, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার এবং হিসাব মহানিয়ন্ত্রক রয়েছেন।আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) একটি দল ১২-১৬ জুলাই ঢাকায় এসে অর্থমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে বৈঠক করে গেছে। দলটি এই সময় রাজস্ব আহরণে জোর দেওয়ার পরামর্শ দেয়। পাশাপাশি ফ্যামিলি কার্ড চালু এবং সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের অর্থ সংস্থানের উৎস সম্পর্কে জানতে চায়।সাত কিস্তিতে পাওয়ার জন্য আইএমএফের সঙ্গে বাংলাদেশের ৫৫০ কোটি মার্কিন ডলারের ঋণ কর্মসূচি ছিল ২০২৩ সালের ৩০ জানুয়ারি থেকে। পাঁচ কিস্তি পাওয়ার পর এটি আর এগোয়নি। তবে সংস্থাটির সঙ্গে ৪০০ কোটি ডলারের বেশি নতুন ঋণ কর্মসূচির আলোচনা চলছে। আগামী অক্টোবরে ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠেয় বিশ্বব্যাংক-আইএমএফের বার্ষিক সভায় এই নিয়ে আরও আলোচনা হওয়ার কথা।নতুন বেতন নিয়ে অর্থমন্ত্রী যা বললেনঅর্থমন্ত্রীর কাছে গতকাল প্রশ্ন ছিল, নতুন বেতনকাঠামো কার্যকর করলে কি আইএমএফের কাছ থেকে নতুন ঋণ পাওয়া যাবে না? জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, 'আইএমএফের ঋণের সঙ্গে নতুন বেতনকাঠামোর কোনো সম্পর্ক নেই। কাজ চলছে। বেতনকাঠামো হবে এবং প্রজ্ঞাপন জারি হতে বেশি সময় লাগবে না।'দুই দিন পর পর বেতনকাঠামো নিয়ে কথা বলতে চান না জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, 'বিষয়টি নিয়ে একেক গণমাধ্যম একেকভাবে সংবাদ প্রচার করছে। করুক। আমি একবারেই কথা বলব।'অর্থ বিভাগের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়ন করা নিয়ে আইএমএফ সরাসরি কিছু বলেনি, বলার এখতিয়ারও রাখে না। তারা অর্থের সংস্থান নিয়ে জানতে চেয়েছে এবং বাস্তবায়ন করতে চাইলে রাজস্ব আহরণে সরকার যেন জোর দেয়—সে কথা বলেছে।এক যুগ পর জাতীয় বেতন কমিশনঅষ্টম বেতন কমিশনের প্রায় এক যুগ পর ২০২৫ সালের ২৭ জুলাই অন্তর্বর্তী সরকার ২৩ সদস্যবিশিষ্ট নবম জাতীয় বেতন কমিশন গঠন করে। কমিশন তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে প্রতিবেদন দাখিল করে এই বছরের ২১ জানুয়ারি। কমিশন প্রধান সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খান।বিদ্যমান গ্রেড ২০টি বহাল রেখে কমিশন বেতন-ভাতা ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ বৃদ্ধির সুপারিশ করে। এতে সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়। আর সর্বোচ্চ বেতনকাঠামো নির্ধারিত ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে সুপারিশ করা হয় ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা।১৪ লাখ সরকারি কর্মচারী এবং ৯ লাখ পেনশনভোগীর জন্য বর্তমানে ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হলেও নতুন কাঠামো বাস্তবায়ন করতে বাড়তি ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকার দরকার পড়বে বলে কমিশনের পক্ষ থেকে তখন জানানো হয়।সুপারিশ বাস্তবায়নে নাসিমুল গনি কমিটি প্রথমে তিন অর্থবছরে ও পরে দুই অর্থবছরে নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের খসড়া সুপারিশ করে। শেষ পর্যন্ত চলতি অর্থবছরে মূল বেতন এবং পরের অর্থবছরে ভাতা দেওয়ার পক্ষে অবস্থান নেন কমিটির সদস্যরা।এদিকে ১ জুলাই থেকে সরকারি কর্মচারীদের নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়ন করা হবে বলে গত ১১ জুন জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপনের সময় ঘোষণা দেন অর্থমন্ত্রী। বাজেট বক্তৃতায় তিনি বলেন, প্রায় ১১ বছর ধরে সরকারি কর্মচারীরা একই বেতনকাঠামোতে বেতন-ভাতা পাচ্ছেন। এই সময়ে মূল্যস্ফীতির কারণে জীবনযাত্রার ব্যয় অনেক বেড়েছে। তাই ১ জুলাই থেকে ধাপে ধাপে নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়ন করা হবে।
৫ ঘন্টা আগে
চট্টগ্রামে সন্ত্রাসী চক্রের শীর্ষ সদস্যসহ ৫ জন গ্রেপ্তার

চট্টগ্রামে সন্ত্রাসী চক্রের শীর্ষ সদস্যসহ ৫ জন গ্রেপ্তার

চট্টগ্রামে আলোচিত সন্ত্রাসী চক্রের বিরুদ্ধে অভিযানে মামলার এজাহারভুক্ত আসামি মিঠু ওরফে ধামা ইলিয়াছের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শীর্ষ সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ওরফে ডেভিড ইমনসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে চট্টগ্রাম জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম।তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে ধামা ইলিয়াছ সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক, অস্ত্রের মজুদ ও সহযোগীদের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ফটিকছড়িতে অভিযান চালিয়ে একটি বিদেশি পিস্তল, দুটি দেশীয় এলজি ও অন্যান্য দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।পুলিশ সুপার বলেন, 'গত ১৩ জুন পাহাড়তলী এলাকায় সংঘটিত বহুল আলোচিত মাকসুদুল হক চৌধুরী হত্যা মামলার তদন্তে সিসিটিভি ফুটেজ, প্রযুক্তিগত তথ্য ও গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে জড়িতদের শনাক্ত করা হয়। তদন্তের অংশ হিসেবে গত ২২ জুলাই মামলার এজাহারভুক্ত আসামি মিঠু ওরফে ধামা ইলিয়াছকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে আদালতের অনুমতি নিয়ে তাকে দুই দিনের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক, অস্ত্রের মজুত ও সহযোগীদের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেন।'পুলিশ সুপার জানান, ধামা ইলিয়াছ কুখ্যাত সন্ত্রাসী রায়হানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী। তার বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র ও চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অভিযোগে ২১টি মামলা রয়েছে।রিমান্ডে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত ২৯ জুলাই যশোরের ঝুমঝুমপুর এলাকায় যশোর জেলা পুলিশের সহযোগিতায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে শীর্ষ সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ওরফে ডেভিড ইমনসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে পৃথক আরেকটি অভিযানে আরও একজনকে আটক করা হয়।রাউজানের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্নের জবাবে এসপি মাসুদ আলম বলেন, ডেভিড ইমন দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রাম মহানগর, ফটিকছড়ি ও রাঙ্গুনিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছিলেন। তার বিরুদ্ধে খুন, অস্ত্র, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অভিযোগে সিএমপি ও চট্টগ্রাম জেলার বিভিন্ন থানায় ১৩টি মামলা রয়েছে। এছাড়া রাউজান, রাঙ্গুনিয়া ও চট্টগ্রাম মহানগরের একাধিক হত্যাকাণ্ডে তার সম্পৃক্ততার তথ্যও তদন্তে উঠে এসেছে।তিনি বলেন, 'গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার ভোর সাড়ে ৩টার দিকে ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর ইউনিয়নের মানিকপুর গ্রামের একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। এই সময় একটি বিদেশি পিস্তল, দুটি দেশীয় এলজি এবং কয়েকটি দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় অস্ত্র আইনে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।'তিনি আরও বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সন্ত্রাসী চক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের উৎস, অর্থায়ন এবং পুরো নেটওয়ার্ক উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে।গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—মোবারক হোসেন ওরফে ডেভিড ইমন (২৫), মিঠু ওরফে ধামা ইলিয়াছ (৪৯), শামীম (২৮), আল ইসলাম আলিফ ওরফে তমাল (২৫) এবং সাফায়েত হোসেন (২৪)।
৫ ঘন্টা আগে
১৫ এপ্রিল ২০২৬, ১২:১১ এএম
আপনি কি মনে করেন বিএনপি জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর ও শব্দ বাস্তবায়ন করবে?

আপনি কি মনে করেন বিএনপি জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর ও শব্দ বাস্তবায়ন করবে?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ জন
 দাঁতের যত্নে বিষ? টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের খোঁজ

দাঁতের যত্নে বিষ? টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের খোঁজ

দেশে বিক্রি হওয়া প্রতি চারটি টুথপেস্টের মধ্যে তিনটিতেই মিলেছে মাইক্রোপ্লাস্টিক। এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের (এসডো) বৈজ্ঞানিক গবেষণায় ৩৪টি টুথপেস্টের মধ্যে ২৬টিতে (৭৬.৫%) মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত হয়েছে। প্রতি ১০০ গ্রাম টুথপেস্টে ২০ থেকে ৩২০টি পর্যন্ত মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা মিলেছে। মাইক্রোপ্লাস্টিক দূষণ বর্তমানে বিশ্বব্যাপী পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের বড় উদ্বেগের বিষয়। উদ্বেগের বিষয় হলো, শিশুদের জন্য বিক্রি হওয়া ৬টি টুথপেস্টের মধ্যে ৪টিতেই (৬৬.৭%) মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে।রোববার রাজধানীর লালমাটিয়ায় এসডোর প্রধান কার্যালয়ে এই গবেষণা প্রতিবেদন তুলে ধরা হয়। বাংলাদেশে টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক নিয়ে আগে কোনো বৈজ্ঞানিক গবেষণা, নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা বা নিয়মিত নজরদারি ছিল না। এই গুরুত্বপূর্ণ ঘাটতি বিবেচনায় নিয়ে এসডো ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত দেশব্যাপী একটি সমন্বিত গবেষণা পরিচালনা করে। গবেষণায় ভোক্তা জরিপ, ল্যাবরেটরি পরীক্ষা এবং নিয়ন্ত্রক ও বৈজ্ঞানিক বিশেষজ্ঞদের সাক্ষাৎকার অন্তর্ভুক্ত ছিল, যেন বাস্তব পরিস্থিতি ও নীতিগত চ্যালেঞ্জ একসঙ্গে মূল্যায়ন করা যায়।মাইক্রোপ্লাস্টিক দূষণ বর্তমানে বিশ্বব্যাপী পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের বড় উদ্বেগের বিষয়। যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ, দক্ষিণ কোরিয়াসহ বিভিন্ন দেশে বৈজ্ঞানিক গবেষণায় টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি প্রমাণিত হয়েছে। তবে বাংলাদেশে এ ধরনের বৈজ্ঞানিক মূল্যায়ন এই প্রথম, যা ভবিষ্যতে নিরাপদ টুথপেস্ট নিশ্চিত করতে মানদণ্ড নির্ধারণ, নজরদারি ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং কার্যকর নীতিমালা প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।গবেষণায় পরীক্ষা করা ৩৪টি টুথপেস্টের মধ্যে ২৬টিতে (৭৬.৫%) মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে। বাকি ৮টিতে (২৩.৫%) কোনো মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া যায়নি। প্রতি ১০০ গ্রাম টুথপেস্টে ২০ থেকে ৩২০টি পর্যন্ত মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা শনাক্ত হয়েছে। পরীক্ষা করা টুথপেস্টগুলো বাংলাদেশ, ভারত, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামে উৎপাদিত। চারটি দেশের উৎপাদিত টুথপেস্টেই মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে।গবেষণায় শুধু টুথপেস্টেই নয়, ভোক্তাদের সচেতনতাতেও বড় ঘাটতি উঠে এসেছে। জরিপে অংশ নেওয়া প্রায় সবাই নিয়মিত টুথপেস্ট ব্যবহার করলেও ৪১ দশমিক ৯ শতাংশ মানুষ জানতেনই না যে টুথপেস্টের মতো মুখের পরিচর্যার পণ্যেও মাইক্রোপ্লাস্টিক থাকতে পারে। মাত্র ২৬ দশমিক ৯ শতাংশ উত্তরদাতা এই বিষয়ে সচেতন বলে জানিয়েছেন।এসডো স্পষ্ট করেছে যে, এই গবেষণার উদ্দেশ্য কোনো নির্দিষ্ট ব্র্যান্ড বা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানকে দায়ী করা নয়। বরং বাংলাদেশে টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক নিয়ে কোনো জাতীয় মানদণ্ড, গ্রহণযোগ্য সীমা, পরীক্ষার নির্দেশিকা বা লেবেলে তথ্য প্রকাশের বাধ্যবাধকতা না থাকায় বর্তমান পরিস্থিতি বৈজ্ঞানিকভাবে তুলে ধরাই ছিল এই গবেষণার মূল লক্ষ্য।এসডোর চেয়ারপারসন সৈয়দ মার্গুব মোর্শেদ বলেন, 'ভালো নীতিমালা গড়ে ওঠে নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক তথ্যের ভিত্তিতে। বাংলাদেশে টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক নিয়ে এটিই প্রথম বৈজ্ঞানিক গবেষণা, যা ভবিষ্যতে মানদণ্ড প্রণয়ন, কার্যকর নিয়ন্ত্রণ এবং ভোক্তা ও পরিবেশ সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।'এসডোর মহাসচিব ও সিনিয়র টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজার ড. শাহরিয়ার হোসেন বলেন, 'টুথপেস্ট আমাদের প্রতিদিনের ব্যবহারের একটি পণ্য। অথচ গবেষণায় দেখা গেছে, এতে মাইক্রোপ্লাস্টিক থাকতে পারে—এই বিষয়টি সম্পর্কে অধিকাংশ মানুষই জানেন না। তাই আরও গবেষণার পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধি, পণ্যের লেবেলে উপাদানের স্পষ্ট তথ্য উল্লেখ এবং কার্যকর নিয়ন্ত্রক তদারকি এখন অত্যন্ত জরুরি।'বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউট (বিএসটিআই)-এর উপ-পরিচালক মো. মনজুরুল করিম বলেন, 'টুথপেস্ট তৈরির স্ট্যান্ডার্ড ও প্রয়োজনীয়তার ওপর ভিত্তি করে অনুমোদিত ৪০টি উপাদানের একটি তালিকা তৈরি করা হয়েছে। তবে এই তালিকায় এখনো মাইক্রোপ্লাস্টিক অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। আমরা এই বিষয়টি আমলে নিচ্ছি এবং দ্রুতই এসআরও সংশোধন করে তালিকায় মাইক্রোপ্লাস্টিকের মানদণ্ড বা সর্বোচ্চ সহনশীল মাত্রা যুক্ত করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবো।'পরিবেশ অধিদপ্তরের ইন্সপেক্টর মাহমুদা তামান্না খান বলেন, 'আজ যে বিষয়টি উন্মোচিত করেছি, তার ওপর ভিত্তি করে কাজ করতে আমরা অত্যন্ত আগ্রহী এবং বিএসটিআইকে সব ধরনের সহায়তা দিতে প্রস্তুত।'সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা, নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, প্রস্তুতকারক এবং ভোক্তা অধিকার সংগঠনগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে এসডো, যেন তারা একসঙ্গে কাজ করে পারসোনাল কেয়ার পণ্যে মাইক্রোপ্লাস্টিকের জন্য বিজ্ঞানভিত্তিক জাতীয় মানদণ্ড তৈরি করতে পারে। একই সঙ্গে সংস্থাটি নিয়মিত বাজার তদারকি, পরীক্ষাগারের সক্ষমতা বৃদ্ধি, পণ্যের লেবেলে উপাদানের স্বচ্ছ তথ্য নিশ্চিত করা এবং দৈনন্দিন ব্যবহারের পণ্য থেকে মানবদেহে মাইক্রোপ্লাস্টিক প্রবেশের ঝুঁকি নিয়ে আরও গবেষণা করার সুপারিশ করেছে।
২৬ জুলাই ২০২৬
নবম পে-স্কেল: আইএমএফের পরামর্শে আপাতত পেছাচ্ছে সরকার

নবম পে-স্কেল: আইএমএফের পরামর্শে আপাতত পেছাচ্ছে সরকার

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গে নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আগামী অক্টোবরে আলোচনা শেষ হওয়ার আগে সরকারি চাকরিজীবীদের নবম জাতীয় পে-স্কেল ঘোষণা করছে না সরকার। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত অনেকটাই নির্ভর করবে আইএমএফের সম্মতির ওপর।রাজস্ব ঘাটতি ও দুর্বল রাজস্ব আহরণের কথা উল্লেখ করে আইএমএফ সরকারকে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন অন্তত দুই বছর পিছিয়ে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে সরকারও বিষয়টি নিয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে।রোববার (২৬ জুলাই) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে রাজস্ব আদায়, সরকারি ব্যয়, প্রস্তাবিত পে-স্কেলের আর্থিক প্রভাব এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন। বৈঠকে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের সম্ভাব্য অতিরিক্ত ব্যয়ের বিষয়টি তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রী এ প্রস্তাব আরও বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনার নির্দেশ দেন এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানির মূল্য, গ্যাস সরবরাহ ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক ঝুঁকির বিষয়টি বিবেচনায় রাখতে বলেন।সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, আগামী ১২ থেকে ১৮ অক্টোবর ব্যাংককে বিশ্বব্যাংক-আইএমএফের বার্ষিক সভার ফাঁকে চূড়ান্ত আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। ওই আলোচনায় অনুন্নয়ন খাতের স্থায়ী ব্যয়, বিশেষ করে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বৃদ্ধির বিষয়ে আইএমএফ যে অবস্থান নেবে, সেটিই নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হবে।অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, চলতি মাসে বাংলাদেশ সফরকারী আইএমএফ প্রতিনিধিদলের সঙ্গে অর্থ বিভাগের বৈঠকে বেতন ও ভাতা বাজেটিং নিয়ে আলোচনা হয়। সেখানে আইএমএফ জানায়, বর্তমান রাজস্ব ভিত্তি সরকারি চাকরিজীবীদের বেতনে বড় ধরনের বৃদ্ধি বহন করার মতো শক্তিশালী নয়। পাশাপাশি ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে সরকারি ব্যয় বাড়লেও রাজস্ব প্রবৃদ্ধি সে তুলনায় পিছিয়ে রয়েছে। ফলে উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও সীমিত আর্থিক সক্ষমতার মধ্যে নতুন পে-স্কেল চালু করলে অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি হতে পারে।তবে সরকার নতুন পে-স্কেলের পরিকল্পনা থেকে সরে আসেনি। মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বাধীন ১০ সদস্যের উচ্চপর্যায়ের কমিটি জাতীয় বেতন কমিশন-২০২৫, বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পে কমিশন-২০২৫ এবং সশস্ত্র বাহিনী বেতন কমিটি-২০২৫-এর সুপারিশ পর্যালোচনা করে একটি সংশোধিত কাঠামো প্রস্তুত করেছে। প্রস্তাবটি অর্থ মন্ত্রণালয় এবং প্রধানমন্ত্রীর কাছে জমা দেওয়া হয়েছে।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানান, আর্থিক চাপ কমাতে সরকার ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন অথবা বিকল্প পদ্ধতির বিষয়টি বিবেচনা করছে। অক্টোবরে আইএমএফের বৈঠকের আগেই এ বিষয়ে কৌশল চূড়ান্ত হতে পারে।উল্লেখ্য, জাতীয় বেতন কমিশন-২০২৫ সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করেছে। পাশাপাশি বৈশাখী ভাতা ২০ শতাংশ থেকে ৫০ শতাংশে উন্নীত করা, যাতায়াত ভাতা সংশোধন এবং অন্যান্য ভাতা পুনর্বিন্যাসের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।কমিশনের হিসাব অনুযায়ী, এসব সুপারিশ বাস্তবায়নে বছরে অতিরিক্ত ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হবে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে এ উদ্দেশ্যে জনপ্রশাসন খাতে অতিরিক্ত ৫৪ হাজার ৫৭২ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকা সম্ভাব্য নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের জন্য সংরক্ষিত।অর্থনীতিবিদদের মতে, ২০১৫ সালের পর সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন পুনর্নির্ধারণ না হওয়ায় উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে তাদের ক্রয়ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। তবে তারা সতর্ক করে বলেছেন, রাজস্ব আহরণ শক্তিশালী না করে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন করলে সরকারকে আরও বেশি ঋণের ওপর নির্ভর করতে হতে পারে, যা বাজেট ঘাটতি ও সামগ্রিক অর্থনীতির ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করবে।
১৬ জুন ২০২৬
অর্থনীতির তিন সংকটে আইএমএফের উদ্বেগ, প্রবৃদ্ধি কমার শঙ্কা

অর্থনীতির তিন সংকটে আইএমএফের উদ্বেগ, প্রবৃদ্ধি কমার শঙ্কা

১৬ জুন ২০২৬
 প্রো ম্যাক্সের দাম ছাড়িয়ে যাবে ২ লাখ, আইফোন ১৮ নিয়ে যা জানলো বিশ্ব

প্রো ম্যাক্সের দাম ছাড়িয়ে যাবে ২ লাখ, আইফোন ১৮ নিয়ে যা জানলো বিশ্ব

এ বছর প্রযুক্তিপ্রেমীদের সব কৌতূহল কেবল একটি ফোনকে ঘিরে—অ্যাপলের ‘আইফোন ১৮’। এখনো উন্মোচনের প্রায় দুই মাস বাকি থাকলেও ফোনটির নকশা, শক্তিশালী চিপসেট, ক্যামেরায় বড় পরিবর্তন ও আকাশচুম্বী দাম নিয়ে ফাঁস থেমে নেই। ধারণা করা হচ্ছে, আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্সের দাম প্রায় দুই লাখ টাকা হতে পারে। চলুন জেনে নেওয়া যাক আইফোন ১৮ সিরিজের সম্ভাব্য ফিচার, দাম ও উন্মোচনের সময়সূচি সম্পর্কে বিস্তারিত।আকাশচুম্বী দামআইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্স হতে যাচ্ছে অ্যাপলের ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যয়বহুল স্মার্টফোন । চীনের টেক–বিষয়ক প্রতিষ্ঠান ‘স্মার্ট পিকাচু’ জানিয়েছে, চীনে এর প্রারম্ভিক মূল্য ১১ হাজার ইউয়ান থেকে শুরু হতে পারে, যা ডলারে প্রায় ১ হাজার ৬২৫ ডলার । বাংলাদেশি মুদ্রায় কর ও শুল্ক বাদে এর দাম পড়বে প্রায় ১ লাখ ৯৭ হাজার টাকার বেশি । প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, এই দাম বৃদ্ধির পেছনে প্রধান কারণ ২ ন্যানোমিটার প্রসেসর এবং ১২ জিবি র‍্যামের উচ্চ মূল্য ।টাটা গ্রুপের তথ্য ফাঁসএইবার অ্যাপলের কঠোর গোপনীয়তা প্রাচীরে বড় ফাটল ধরেছে। ভারতের টাটা ইলেকট্রনিকসের সার্ভারে ‘ওয়ার্ল্ড লিকস’ নামের হ্যাকার গ্রুপ হামলা চালিয়ে প্রায় ৬৩০ গিগাবাইট সংবেদনশীল তথ্য চুরি করে । ডার্ক ওয়েবে ছড়িয়ে পড়া এসব ফাইলের মধ্যে আইফোন ১৮ প্রোর আসল থ্রিডি নকশা, পার্টস সরবরাহকারীদের তালিকা এবং ড্রপ–টেস্টের ছবিও রয়েছে । ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থা ও অ্যাপল এই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে ।২ ন্যানোমিটারের প্রসেসরআইফোন ১৮ প্রো সিরিজের প্রধান আকর্ষণ হবে ‘এ২০ প্রো’ চিপসেট, যা তাইওয়ানের টিএসএমসি তৈরি করছে । এটি বিশ্বের প্রথম ২ ন্যানোমিটার প্রযুক্তিতে তৈরি চিপ । নতুন এই প্রযুক্তিতে বর্তমানের চেয়ে প্রায় ১৫ শতাংশ বেশি দ্রুত কাজ করতে পারবে এবং ব্যাটারি সাশ্রয় হবে ২৫-৩০ শতাংশ ।১২ জিবি র‍্যাম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাআইফোন ১৮ প্রো সিরিজে প্রথমবারের মতো ১২ জিবি র‍্যাম ব্যবহার করা হচ্ছে । এর পেছনে মূল কারণ হলো আইওএস ২৭-এর নতুন এআই ফিচার ‘অ্যাপল ইন্টেলিজেন্স’ এবং উন্নত ‘সিরি এআই’, যা ইন্টারনেট ছাড়াই ফোনের ভেতরে কাজ করবে ।ক্যামেরায় ডিএসএলআরের ছোঁয়াআইফোন ১৮ প্রো ও প্রো ম্যাক্সের প্রধান ৪৮ মেগাপিক্সেল ক্যামেরায় যুক্ত হচ্ছে ‘ভ্যারিয়েবল অ্যাপারচার’ । যান্ত্রিকভাবে লেন্সের মুখ ছোট-বড় করার সুবিধায় সিনেমার মতো উন্নত ভিডিও এবং প্রাকৃতিক ব্যাকগ্রাউন্ড ব্লার পাওয়া যাবে । আলট্রা-ওয়াইড ও ৫ গুণ জুমের টেলিফটো লেন্সকেও ৪৮ মেগাপিক্সেলে উন্নীত করা হচ্ছে ।ডায়নামিক আইল্যান্ডের সংকোচনডায়নামিক আইল্যান্ড প্রায় ৩৫ শতাংশ ছোট হয়ে যাচ্ছে । ফেস আইডির সেন্সর দুটোকে ডিসপ্লের নিচে নিয়ে যাওয়ায় এটি সম্ভব হচ্ছে । এছাড়া ‘গ্রেড ৫’ পলিশড টাইটানিয়ামের ব্যবহারে ফোন হবে হালকা ও স্ক্র্যাচ প্রতিরোধী, এবং নতুন রং যোগ হচ্ছে ‘স্যাটিন গোল্ড’ ও ‘ডিপ প্লাম’ ।কবে আসছে বাজারেফোর্বসের জ্যেষ্ঠ প্রযুক্তি লেখক ডেভিড ফেলানের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ৯ সেপ্টেম্বর অ্যাপলের ‘কি-নোট’ ইভেন্টে আইফোন ১৮ সিরিজ উন্মোচিত হবে । প্রি-অর্ডার শুরু হবে ১১ সেপ্টেম্বর এবং বিশ্বজুড়ে বিক্রি শুরু হবে ১৮ সেপ্টেম্বর ।
২৫ জুলাই ২০২৬
কোন ছবি নেই !
কোন ছবি নেই !
হজের বিমান টিকিটের দাম আরও ২৫ হাজার টাকা কমালো সরকার

হজের বিমান টিকিটের দাম আরও ২৫ হাজার টাকা কমালো সরকার

বাংলাদেশি হজযাত্রীদের ব্যয় কমাতে হজের বিমান টিকিটের মূল্য সরকার আরও ২৫ হাজার টাকা কমিয়েছে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। তিনি জানান, ২০২৬ সালের হজে বিমান টিকিটের নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা।বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জাতীয় হজ ও ওমরাহ ফেয়ার-২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এই ঘোষণা দেন তিনি। তিন দিনব্যাপী এই ফেয়ারের আয়োজন করেছে হজ এজেন্সিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব)।প্রতিমন্ত্রী বলেন, 'সবার আগে বাংলাদেশ' প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকার দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। এই যাত্রায় বাংলাদেশি হজযাত্রীদের জন্য যৌক্তিক খরচে ও হয়রানিমুক্ত পরিবেশে হজ প্যাকেজ নিশ্চিত করাকে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।তিনি বলেন, গত বছর আমরা প্রতি টিকিটে ১২ হাজার টাকা খরচ কমাতে সক্ষম হয়েছিলাম। এই বছর আমরা টিকিটপ্রতি খরচ আরও ২৫ হাজার টাকা কমিয়ে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকায় নামিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছি।এছাড়া বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সৌদি সরকারের কাছে বিমান টিকিটের ওপর আরোপিত সৌদি বিমানবন্দরের নির্মাণ কর কমানোর অনুরোধ জানানো হয়েছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। মিল্লাত বলেন, 'বাংলাদেশি হাজিদের আবাসন ব্যয় কমানোর লক্ষ্যে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার বিষয়েও সৌদি রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বিস্তর আলোচনা হয়েছে।'অনুষ্ঠানে ধর্মসচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ এনডিসি জানান, বাংলাদেশের হজযাত্রীদের মাত্র পাঁচ শতাংশ সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ পালন করেন, আর বাকি ৯৫ শতাংশ বেসরকারি হজ এজেন্সির মাধ্যমে সৌদি আরব যান। তিনি সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয় এমন কোনো কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকতে এজেন্সি মালিকদের প্রতি আহ্বান জানান।অনুষ্ঠানে রাজকীয় সৌদি দূতাবাসের উপ-মিশন প্রধান খালিদ সাঈদ আল হাদাল, হাবের নেতারা এবং হজপ্রত্যাশীরা উপস্থিত ছিলেন। হজ এজেন্সিগুলো বলেছে, টিকিটের দাম কমানোর পাশাপাশি সৌদি আরবে আবাসন ও পরিবহন খরচ কমাতে সরকারের আরও উদ্যোগ প্রয়োজন। তারা আশা করেন, এই দাম কমানো হজযাত্রীদের জন্য চূড়ান্ত প্যাকেজের খরচ কিছুটা হলেও কমাবে।
১৬ জুন ২০২৬
শেখ নূর কুতুব আলম: বাংলার আধ্যাত্মিক নেতৃত্বের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত

শেখ নূর কুতুব আলম: বাংলার আধ্যাত্মিক নেতৃত্বের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত

বাংলার মধ্যযুগীয় ইতিহাসে পান্ডুয়া ছিল জ্ঞান, সংস্কৃতি ও আধ্যাত্মিক সাধনার অন্যতম কেন্দ্র। এই শহরের খানকাগুলোতে যেমন ধর্মীয় শিক্ষা বিস্তার লাভ করত, তেমনি এখান থেকেই সমাজজীবনে নৈতিক নেতৃত্বও গড়ে উঠত। ১৩৫০ সালের কিছু আগে তৎকালীন বাংলার রাজধানী পান্ডুয়ায় তার জন্ম। তার প্রকৃত নাম নূরুদ্দীন নূরুল হক। ‘নূর কুতুবুল আলম’ তার উপাধি।তার পিতা ছিলেন বাংলার অন্যতম শ্রেষ্ঠ আলেম ও সুফি শায়খ আলাউল হক। বংশপরিচয়ও ছিল সম্মানজনক—তিনি লাহোরের প্রসিদ্ধ সাধক শেখ আসাদের পৌত্র। পিতার মতো তিনি ছিলেন চিশতিয়া তরিকার একজন বিশিষ্ট পীর। ইলিয়াস শাহী বংশের তৃতীয় সুলতান গিয়াস উদ্দিন আজম শাহ ছিলেন তার সহপাঠী ও বন্ধু। কিন্তু বংশগৌরবের চেয়েও বড় ছিল তার ব্যক্তিত্ব, জ্ঞান, দূরদর্শিতা এবং মানুষের জন্য আত্মনিবেদিত জীবন।ব্যক্তিগত জীবন ও আধ্যাত্মিক সাধনানূর কুতুব আলম তাঁর পিতার আমল থেকে সব ধরনের কায়িক শ্রমের অভ্যাস করতেন। দরগায় আগত ফকিরদের কাপড় ধোয়া, লাকড়ি ও পানি বহন, শীতকালে পীরের অজু করার জন্য সর্বদা পানি গরম রাখা, এমনকি খানকাহসংলগ্ন শৌচাগার পরিষ্কার করা প্রভৃতি কাজে তিনি নিজেকে নিয়োজিত রাখতেন।আজকের সময়ে নেতৃত্বকে আমরা প্রায়ই ক্ষমতা, প্রভাব কিংবা সামাজিক মর্যাদার সঙ্গে মিলিয়ে দেখি। অথচ নূর কুতুব আলমের জীবন আমাদের শেখায়, প্রকৃত নেতৃত্ব শুরু হয় সেবার মাধ্যমে। যে মানুষ নিজের হাতে মানুষের কষ্ট লাঘব করতে পারে, তিনিই প্রকৃত অর্থে মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিতে পারেন।রাজনৈতিক সংকটে নূর কুতুব আলমের ভূমিকানূর কুতুব আলমের জীবনের সবচেয়ে উজ্জ্বল অধ্যায় রচিত হয় এক ভয়াবহ রাজনৈতিক সংকটের সময়। ১৪১৫ খ্রিস্টাব্দে রাজা গণেশ নামক একজন হিন্দু শাসক ইলিয়াস শাহি বংশ উত্খাত করে ক্ষমতা গ্রহণ করেন। তিনি মুসলমানের ওপর নজিরবিহীন জুলুম-নির্যাতন শুরু করেন। এমনকি শায়খ ও আলেমদের ওপর অবর্ণনীয় অত্যাচার শুরু করেন।বিশেষ করে ধর্মীয় নেতৃত্ব, আলেম-ওলামা এবং সাধারণ মুসলমানদের ওপর নিপীড়নের অভিযোগ বিভিন্ন ঐতিহাসিক গ্রন্থে উল্লেখিত হয়েছে। বাংলার মুসলিম সমাজ গভীর অনিশ্চয়তা ও আতঙ্কের মধ্যে পড়ে।এই পরিস্থিতিতে শেখ নূর কুতুব আলম নীরব থাকেননি। তিনি উপলব্ধি করেছিলেন, কেবল খানকায় বসে ইবাদত করাই একজন আধ্যাত্মিক নেতার একমাত্র দায়িত্ব নয়; মানুষের জীবন, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সামাজিক নিরাপত্তা বিপন্ন হলে ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্যও এগিয়ে আসতে হয়। তার এই অবস্থান প্রমাণ করে, ইসলামী আধ্যাত্মিকতার প্রকৃত শিক্ষা সমাজবিমুখতা নয়; বরং মানুষের কল্যাণে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন।কূটনৈতিক পদক্ষেপ ও রাজা গণেশের সাথে সমঝোতাবাংলার মুসলমানদের রক্ষার জন্য তিনি এক গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। তিনি জৌনপুরের সুলতান ইবরাহিম শর্কিকে বাংলা আক্রমণ করে বাংলাকে গণেশের হাত থেকে রক্ষা করার অনুরোধ জানিয়ে চিঠি লেখেন। একই সঙ্গে তিনি প্রসিদ্ধ সুফি ব্যক্তিত্ব মীর সৈয়দ আশরাফ জাহাঙ্গীর সিমনানিকেও অনুরোধ করেন, যেন তিনিও ইবরাহিম শর্কিকে বাংলার মুসলমানদের সহায়তায় এগিয়ে আসতে উদ্বুদ্ধ করেন।সুলতান ইবরাহিম শর্কি এই অনুরোধ রক্ষা করে বাংলা আক্রমণের উদ্দেশ্যে পিরোজপুর এসে শিবির স্থাপন করেন। রাজা গণেশ এতে ভয় পেয়ে নূর কুতুব আলমের কাছে আত্মসমর্পণ করেন এবং তাঁকে ক্ষমা করে ইবরাহিম শর্কিকে জৌনপুরে ফিরে যেতে বলার অনুরোধ জানান।কিন্তু নূর কুতুব আলম এতে সম্মত হননি। তিনি জানিয়ে দেন, একজন মুসলিম শাসককে কোনো অমুসলিম শাসকের পক্ষ নিয়ে তিনি ফিরিয়ে দিতে পারেন না। বরং পূর্বশর্ত হিসেবে তিনি রাজা গণেশকে ইসলাম গ্রহণের আহ্বান জানান। গণেশ তাতে সম্মত হন, কিন্তু বিস্তারিত শুনে তাঁর রানি এতে বাধা দেন। গণেশ তখন তার ১২ বছরের ছেলে যদুকে নিয়ে শায়খের কাছে আসেন। যদুকে ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত করে 'জালালুদ্দীন' নাম দেওয়া হয় এবং গণেশ তার পক্ষে সিংহাসন ত্যাগ করেন।এই ঘটনার মধ্য দিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ এড়ানো সম্ভব হয় এবং বাংলার রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অন্তত সাময়িকভাবে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়।পরবর্তী পরিস্থিতি ও নূর কুতুব আলমের দূরদর্শিতাশায়খের মৃত্যুর পর গণেশ অবশ্য যদুকে হিন্দু ধর্মে পুনরায় দীক্ষিত করে নিজে সিংহাসনে অধিষ্ঠিত হন। কিন্তু রাজা গণেশের মৃত্যু হলে যদু জালালুদ্দীন মুহাম্মদ শাহ উপাধি গ্রহণ করে সিংহাসনে আরোহণ করেন এবং বাংলার মুসলিম শাসনব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়।এই ঘটনাপ্রবাহে নূর কুতুব আলমের দূরদর্শিতার প্রতিফলন স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তিনি হয়তো জানতেন, একটি সংকটময় সময়ে আপসের মধ্য দিয়েও দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার পথ তৈরি করা যায়।রচিত গ্রন্থসমূহ ও আধ্যাত্মিক উত্তরসূরিতিনি শুধু নিজের আধ্যাত্মিক সাধনায় সীমাবদ্ধ থাকেননি; পরবর্তী প্রজন্ম গড়ে তোলার প্রতিও ছিলেন সমান মনোযোগী। তাঁর রচিত গ্রন্থ সংখ্যা ১২১টি। সেগুলো তার প্রধান মুরিদ ও খলিফা হুসামুদ্দিন মানিকপুরী সম্পাদনা করেন। তন্মধ্যে বিখ্যাত দুটি গ্রন্থ হলো মুগিসুল ফুকারা ও আনিসুল গুরাবা।মুগিসুল ফুকারার একটি পাণ্ডুলিপি সংরক্ষিত আছে বিহারের ভাগলপুরের খলিফাবাগ একটি প্রাইভেট লাইব্রেরিতে। আরেকটি অসম্পূর্ণ কপি সংরক্ষিত আছে এশিয়াটিক সোসাইটি অব বেঙ্গল কলিকাতার লাইব্রেরিতে (সংগ্রহ নং- ৪৬৬)। সেখানে আনিসুল গুরাবা বইটির ২টি কপি সংরক্ষিত আছে (সংগ্রহ নং: ১২১২ ও ১২১৩)।তিনি তাঁর দুই পুত্র শেখ রাফকাতউদ্দীন এবং শেখ আনোয়ারকে আধ্যাত্মিক শিক্ষা দেন। সম্ভবত পিতার জীবদ্দশায় শেখ আনোয়ার রাজা গণেশের হাতে সোনারগাঁয়ে শহীদ হন। শেখ নূর কুতুব আলমের অন্য আর একজন প্রধান মুরিদ ছিলেন শেখ হুসামুদ্দীন মানিকপুরী।পত্র সংকলন ও ঐতিহাসিক দলিলনূর কুতুব আলমের ১৩টি পত্রের একটি গ্রন্থ সম্পাদনা করেন মুহাদ্দিস আব্দুল হক দেহলভী। যে গ্রন্থের নাম মাকতুবাত ই নূর কুতুবুল আলম। এটি দিল্লির ইন্ডিয়ান আর্কাইভে সংরক্ষিত আছে। এই পত্রগুলো থেকে সমসাময়িক রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়।সুলতানদের শ্রদ্ধা ও দরগাহের গুরুত্বশেখ নূর কুতুব আলমের প্রতি পরবর্তী সুলতানদের শ্রদ্ধাও ছিল অসাধারণ। তার দরগাহ সংলগ্ন সরাইখানা ও মাদরাসার ব্যয় নির্বাহের জন্য সুলতান আলাউদ্দীন হোসেন শাহ কয়েকটি গ্রাম দান করেন। দরবেশের মাজার জিয়ারতের জন্য সুলতান বছরে একবার রাজধানী শহর একডালা থেকে পান্ডুয়ায় আসতেন।শায়খ নূর কুতুব আলম পান্ডুয়ার পীর-আউলিয়ার মধ্যে শীর্ষ মর্যাদার অধিকারীদের অন্যতম। পিতা-পুত্র দুজনই পান্ডুয়ার বিখ্যাত শাশ হাজারি দরগায় শায়িত আছেন। পিতার মতো তিনি চিশতিয়া মতাদর্শের পীর ছিলেন। তাঁর অনুসারী শিষ্যকুল ও দরবেশরা কয়েক শতক ধরে বাংলায় মুসলিম সমাজজীবনে তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।ঐতিহাসিক দৃষ্টিতে শায়খ নূর কুতুব আলমের সর্বশ্রেষ্ঠ অবদান বাংলার মুসলিম শাসন রাজা গণেশের হাত থেকে রক্ষা করা।মৃত্যুশেখ নূর কুতুব আলম ৮১৮ হিজরি বা ১৪১৫ খ্রিস্টাব্দে (বাংলাপিডিয়া ও উইকিপিডিয়া মতে) ইন্তেকাল করেন। তবে প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, ১৪৪৭ সালের ৭ জানুয়ারি তার মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়। তার ইন্তেকালের সঙ্গে একটি সুন্দর ফারসি অভিব্যক্তি যুক্ত হয়েছে—"নূর বানূর-শুদ", অর্থাৎ "আলো আলোতে বিলীন হয়ে গেল।"এই বাক্যটি যেন তার সমগ্র জীবনেরই প্রতীক। তিনি এমন এক আলোকবর্তিকা ছিলেন, যিনি নিজের জন্য নয়, মানুষের পথ আলোকিত করার জন্য জীবন উৎসর্গ করেছিলেন।ইতিহাসে বহু রাজা এসেছেন, বহু সাম্রাজ্য গড়ে উঠেছে এবং বিলীন হয়েছে। কিন্তু যারা মানুষের হৃদয়ে নৈতিকতার আলো জ্বালিয়ে দেন, তাদের স্মৃতি যুগের পর যুগ অম্লান থাকে। শেখ নূর কুতুব আলম সেই বিরল ব্যক্তিত্বদের একজন, যার জীবন বাংলার ইতিহাসে আধ্যাত্মিক নেতৃত্ব, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং নৈতিক সাহসের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে আজও আমাদের সামনে দাঁড়িয়ে আছে।তথ্যসূত্র: উইকিপিডিয়া, বাংলাপিডিয়া, শায়েখ আব্দুল হক দেহলভী, আকবারুল উখিয়া ফি আসরারুল আবরার, সোস্যাল হিস্টোরি অফ দ্যা মুসলিম ইন ব্যাঙ্গাল।
ফিরোজ আল মামুন