এক ঘরে রাউটার রাখলে অন্য ঘরে ইন্টারনেটের গতি থাকে খুবই কম। এমন সমস্যায় সবাই কমবেশি পড়েন। সেলুলার নেটওয়ার্কের ইন্টারনেটের চেয়ে নিঃসন্দেহে বেশি স্পিড দেয়। কিন্তু তার পরেও ওয়াই-ফাই নিয়ে একটা অভিযোগ অনেকেরই থেকে যায়। ওয়াই-ফাইয়ের সিগন্যাল বাড়ির প্রতি কোণে একই রকম গতিতে কাজ করে না।তবে কয়েকটি কাজ করলে আপনি ঘরের যে প্রান্তেই রাউটার রাখুন না কেন, সব জায়গায় সমান ইন্টারনেটের গতি পাবেন। জেনে নিন সেসব—রাউটারটি সঠিক অবস্থানে রাখুন। রাউটারটি বাড়ির কেন্দ্রীয় কোনো স্থানে রাখার চেষ্টা করুন। যাতে সর্বাধিক কভারেজ বাড়ির বেশিরভাগ অংশে পৌঁছাতে পারে। মনে রাখতে হবে যে এক্ষেত্রে রাউটারটি একটু উঁচু জায়গায় রাখতে হবে এবং এটিকে খোলা রাখতে হবে। অর্থাৎ উপরে কোনো ঢাকনা থাকলে চলবে না।একটি ওয়াই-ফাই রেঞ্জ এক্সটেন্ডার বা মেশ ওয়াইফাই সিস্টেম কিনুন। এটি পুরো বাড়িতে বিদ্যমান ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্কের কভারেজ বাড়ানোর একটি ভালো উপায় হতে পারে। বিশেষ করে বড় বাড়ির জন্য মেশ ওয়াইফাই সিস্টেম খুব কার্যকরী, যেখানে একাধিক রাউটার একসঙ্গে কাজ করে পুরো বাড়ি কভার করে।হাই পারফরম্যান্স রাউটারে আপগ্রেড করুন। কেউ যদি পুরোনো রাউটার ব্যবহার করেন তবে তার কর্মক্ষমতা খুব স্বাভাবিকভাবেই সময়ের সঙ্গে সঙ্গে প্রভাবিত হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে, আরও ভালো রেঞ্জ এবং ক্ষমতা সহ আরও শক্তিশালী রাউটার কেনা একটি ভালো বিকল্প হতে পারে। বর্তমানে ওয়াই-ফাই ৬ সাপোর্টেড রাউটারগুলো অনেক বেশি স্পিড এবং ভালো কভারেজ দিয়ে থাকে।ওয়াই-ফাই সেটিংস অপ্টিমাইজ করুন। কাছাকাছি নেটওয়ার্ক থেকে বাধা কমাতে রাউটারে ওয়াই-ফাই চ্যানেল অ্যাডজাস্ট করা দরকার। অননুমোদিত অ্যাক্সেস রোধ করতে ওয়াই-ফাইয়ের সিকিউরিটি ফিচারও এনেবল করে রাখতে পারেন। রাউটারের অ্যাডমিন প্যানেলে ঢুকে চ্যানেল পরিবর্তন করলে প্রতিবেশী ওয়াই-ফাইয়ের সঙ্গে কনফ্লিক্ট কমে এবং স্পিড বাড়ে।একটি ওয়াই-ফাই রিপিটার ব্যবহার করুন। বিদ্যমান ওয়াই-ফাই সিগন্যাল ক্যাপচার করতে একটি ওয়াই-ফাই রিপিটার রাখলে ভালো হয় এবং আমাদের বাড়ির বাকি অংশেও সিগন্যাল পৌঁছানোর জন্য এটি কাজে আসবে। রিপিটার রাউটারের সিগন্যাল গ্রহণ করে তা পুনরায় সম্প্রচার করে, ফলে বাড়ির দূরবর্তী প্রান্তেও নেটওয়ার্ক পৌঁছায়।এছাড়া বাড়ির দেয়ালের ধরন, ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম এবং ধাতব আসবাবও ওয়াই-ফাই সিগন্যালে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। মাইক্রোওয়েভ ওভেন, ব্লুটুথ ডিভাইস বা ধাতব ফার্নিচারের কাছ থেকে রাউটারকে দূরে রাখলে সিগন্যালের মান উন্নত হবে। নিয়মিত রাউটার রিস্টার্ট দিলেও অনেক সময় স্পিড বাড়ে। সপ্তাহে একবার রাউটার রিস্টার্ট দিলে এর ক্যাশ ক্লিয়ার হয় এবং পারফরম্যান্স ভালো থাকে।