আসন ভাগাভাগি নিয়ে দীর্ঘদিনের টানাপোড়েনের অবসান ঘটিয়ে শেষ পর্যন্ত ভেঙে গেল জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ইসলামি জোট। জোটের দ্বিতীয় বৃহত্তম শরিক চরমোনাই পীর মুফতি রেজাউল করিমের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর ফলে ১১ দলীয় এই জোট কার্যত ১০ দলে নেমে এলো।
জোটের একাধিক অভ্যন্তরীণ সূত্র জানিয়েছে, গত এক সপ্তাহ ধরে চলা একাধিক বৈঠক ও আলোচনা সত্ত্বেও আসন বণ্টন নিয়ে কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেয়, তাদের জন্য অন্তত ৮০টি আসন নিশ্চিত না হলে তারা জোটে থাকবে না। তবে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে শুরুতে ৪০টি এবং পরে ৪৫টি আসন ছাড়ার পাশাপাশি কয়েকটি আসন উন্মুক্ত রাখার প্রস্তাব দেওয়া হলেও তাতে সন্তুষ্ট হননি চরমোনাই পীর।
এ অবস্থায় খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক মধ্যস্থতার চেষ্টা চালালেও তা সফল হয়নি। শেষ পর্যন্ত গভীর রাতে ইসলামী আন্দোলনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়, তারা আর জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটে থাকছে না। দলটি এবার ‘হাতপাখা’ প্রতীক নিয়ে দেশের ২৬৬টি আসনে স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
জোটসংশ্লিষ্ট নেতাদের মতে, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) জোটে যোগ দেওয়ার পর থেকেই ইসলামী আন্দোলনের মধ্যে অসন্তোষ বাড়তে থাকে। তারা দাবি করে, অন্তত ১৪৩টি আসনে তাদের জয়ের বাস্তব সম্ভাবনা রয়েছে এবং এমনকি জামায়াত ও এনসিপির প্রভাবশালী নেতাদের আসনও তারা দাবি করে বসে। এতে করে জামায়াতের পক্ষে এত বিপুলসংখ্যক আসন ছাড় দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। কারণ এতে অন্য শরিক দলগুলোর মধ্যেও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা ছিল। এই জটিলতার কারণেই বুধবার নির্ধারিত সংবাদ সম্মেলনও শেষ পর্যন্ত বাতিল করা হয়।
ইসলামী আন্দোলন জোট ছাড়লেও খেলাফত মজলিসসহ বাকি ৯টি শরিক দল জামায়াতের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ থাকার সিদ্ধান্তে অটল রয়েছে। জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম জানিয়েছেন, আজ দুপুরের মধ্যে জোটের শীর্ষ নেতারা বৈঠকে বসবেন। বৈঠক শেষে জোটের ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা ও আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানানো হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের ঠিক আগ মুহূর্তে চরমোনাই পীরের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলনের এই প্রস্থান ইসলামি দলগুলোর ভোটব্যাংকে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে যেসব আসনে জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীরা মুখোমুখি হবেন, সেখানে ভোটের হিসাব ও রাজনৈতিক সমীকরণে বড় পরিবর্তন আসতে পারে।
সূত্র: আমার দেশ

শনিবার, ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৫ জানুয়ারি ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন