ঢাকা    শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
ঢাকা    শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
গণবার্তা

শরিয়াহ বোর্ডকে ক্ষমতায়নের ওপর জোর বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নরের

শরিয়াহ বোর্ডকে ক্ষমতায়নের ওপর জোর বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নরের

ইসলামী ব্যাংকিং সঠিক পথে ফেরাতে শরিয়াহ বোর্ডকে কার্যকর ও শক্তিশালী করার ওপর জোর দিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান। তিনি বলেছেন, শরিয়াহ বোর্ডের সিদ্ধান্তকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে এবং পরিচালনা পর্ষদের প্রভাবমুক্ত রেখে স্বাধীনভাবে কাজের আইনি নিশ্চয়তা দিতে হবে।

সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে শীর্ষস্থানীয় শরিয়াহ বিশেষজ্ঞ, আলেম-উলামা এবং ইসলামী ব্যাংকের শরীয়াহ বোর্ডের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ‘ইসলামী ব্যাংকিংয়ের বর্তমান পরিস্থিতি, চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ করণীয়’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

গভর্নর বলেন, শক্তিশালী শরিয়াহ গভর্ন্যান্স নিশ্চিত হলেই প্রকৃত তদারকি ফিরে আসবে। তখন আর ব্যাংকে অনিয়ম বন্ধ হবে, কেউ ব্যাংকের অর্থ পাচার করতে পারবে না এবং ইসলামী ব্যাংকের ওপর আস্থা বেড়ে যাবে।

তিনি জানান, অতীতে ইসলামী ব্যাংকিং খাতের কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে অর্থপাচারের ঘটনা ঘটেছে। এর অন্যতম কারণ ছিল যথাযথ তদারকির অভাব। তিনি বলেন, ইসলামী ব্যাংকিং মূলত সম্পদভিত্তিক কাঠামোর ওপর পরিচালিত হওয়ার কথা। কিন্তু বাস্তবে সেই কাঠামো পুরোপুরি অনুসরণ না হওয়ায় ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে, যা উদ্বেগজনক।

সভায় আলেম-উলামারা ইসলামী ব্যাংকিং খাতের সংকট উত্তরণে ২০ দফা সুপারিশ পেশ করেন। এর মধ্যে রয়েছে—সুদমুক্ত ব্যবস্থা নিশ্চিত করা, প্রতারণামুক্ত লেনদেন ও লাভ-ক্ষতি ভাগাভাগি ভিত্তিক বিনিয়োগ। তদারকি ও কাঠামোগত সংস্কারের মাধ্যমে শরিয়াহ সুপারভাইজরি কমিটি, সেক্রেটারিয়েট ও অডিট শক্তিশালী করার কথাও বলা হয়।

এ ছাড়া স্বতন্ত্র ‘ইসলামী ব্যাংকিং আইন’ প্রণয়ন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকে ইসলামী ব্যাংকিংয়ের জন্য আলাদা ডেপুটি গভর্নর ও পৃথক কমপ্লায়েন্স বিভাগ গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বছরে অন্তত একবার বাহ্যিক শরিয়াহ অডিট ও শরিয়াহ কমপ্লাইন্স রেটিং চালুর সুপারিশও করা হয়।

আলোচনায় বাংলাদেশকে ইসলামী ব্যাংকিংয়ের আঞ্চলিক হাব হিসেবে গড়ে তোলার প্রস্তাবও উঠে আসে। গবেষণা কেন্দ্র ও সমৃদ্ধ লাইব্রেরি স্থাপন, আন্তর্জাতিক কনফারেন্স আয়োজন এবং বিশ্বখ্যাত শরিয়াহ স্কলারদের আমন্ত্রণ জানানোর কথাও বলেন অংশগ্রহণকারীরা।

সভায় বাংলাদেশ ব্যাংকের শরীয়াহ অ্যাডভাইজরি বোর্ডের সদস্য অধ্যাপক ড. আবু বকর রফিক, মুফতি শাহেদ রহমানী, ড. মুফতি ইউসুফ সুলতানসহ শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। বিভিন্ন ব্যাংকের শরীয়াহ বোর্ডের চেয়ারম্যান ও প্রতিনিধিরা, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবং খ্যাতিমান আলেম-উলামারাও সভায় অংশ নেন।

গভর্নর জানান, শরিয়াহ বোর্ডের সদস্যরা স্বাধীনভাবে কাজ করবেন এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংক তাদের পূর্ণ সুরক্ষা প্রদান করবে। এর মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংকিং খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বড় ধরনের সংস্কারের ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।

বিষয় : ইসলামী ব্যাংকিং শরীয়াহ বোর্ড

আপনার মতামত লিখুন

গণবার্তা

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬


শরিয়াহ বোর্ডকে ক্ষমতায়নের ওপর জোর বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নরের

প্রকাশের তারিখ : ০৯ এপ্রিল ২০২৬

featured Image
ইসলামী ব্যাংকিং সঠিক পথে ফেরাতে শরিয়াহ বোর্ডকে কার্যকর ও শক্তিশালী করার ওপর জোর দিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান। তিনি বলেছেন, শরিয়াহ বোর্ডের সিদ্ধান্তকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে এবং পরিচালনা পর্ষদের প্রভাবমুক্ত রেখে স্বাধীনভাবে কাজের আইনি নিশ্চয়তা দিতে হবে।সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে শীর্ষস্থানীয় শরিয়াহ বিশেষজ্ঞ, আলেম-উলামা এবং ইসলামী ব্যাংকের শরীয়াহ বোর্ডের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ‘ইসলামী ব্যাংকিংয়ের বর্তমান পরিস্থিতি, চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ করণীয়’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।গভর্নর বলেন, শক্তিশালী শরিয়াহ গভর্ন্যান্স নিশ্চিত হলেই প্রকৃত তদারকি ফিরে আসবে। তখন আর ব্যাংকে অনিয়ম বন্ধ হবে, কেউ ব্যাংকের অর্থ পাচার করতে পারবে না এবং ইসলামী ব্যাংকের ওপর আস্থা বেড়ে যাবে।তিনি জানান, অতীতে ইসলামী ব্যাংকিং খাতের কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে অর্থপাচারের ঘটনা ঘটেছে। এর অন্যতম কারণ ছিল যথাযথ তদারকির অভাব। তিনি বলেন, ইসলামী ব্যাংকিং মূলত সম্পদভিত্তিক কাঠামোর ওপর পরিচালিত হওয়ার কথা। কিন্তু বাস্তবে সেই কাঠামো পুরোপুরি অনুসরণ না হওয়ায় ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে, যা উদ্বেগজনক।সভায় আলেম-উলামারা ইসলামী ব্যাংকিং খাতের সংকট উত্তরণে ২০ দফা সুপারিশ পেশ করেন। এর মধ্যে রয়েছে—সুদমুক্ত ব্যবস্থা নিশ্চিত করা, প্রতারণামুক্ত লেনদেন ও লাভ-ক্ষতি ভাগাভাগি ভিত্তিক বিনিয়োগ। তদারকি ও কাঠামোগত সংস্কারের মাধ্যমে শরিয়াহ সুপারভাইজরি কমিটি, সেক্রেটারিয়েট ও অডিট শক্তিশালী করার কথাও বলা হয়।এ ছাড়া স্বতন্ত্র ‘ইসলামী ব্যাংকিং আইন’ প্রণয়ন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকে ইসলামী ব্যাংকিংয়ের জন্য আলাদা ডেপুটি গভর্নর ও পৃথক কমপ্লায়েন্স বিভাগ গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বছরে অন্তত একবার বাহ্যিক শরিয়াহ অডিট ও শরিয়াহ কমপ্লাইন্স রেটিং চালুর সুপারিশও করা হয়।আলোচনায় বাংলাদেশকে ইসলামী ব্যাংকিংয়ের আঞ্চলিক হাব হিসেবে গড়ে তোলার প্রস্তাবও উঠে আসে। গবেষণা কেন্দ্র ও সমৃদ্ধ লাইব্রেরি স্থাপন, আন্তর্জাতিক কনফারেন্স আয়োজন এবং বিশ্বখ্যাত শরিয়াহ স্কলারদের আমন্ত্রণ জানানোর কথাও বলেন অংশগ্রহণকারীরা।সভায় বাংলাদেশ ব্যাংকের শরীয়াহ অ্যাডভাইজরি বোর্ডের সদস্য অধ্যাপক ড. আবু বকর রফিক, মুফতি শাহেদ রহমানী, ড. মুফতি ইউসুফ সুলতানসহ শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। বিভিন্ন ব্যাংকের শরীয়াহ বোর্ডের চেয়ারম্যান ও প্রতিনিধিরা, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবং খ্যাতিমান আলেম-উলামারাও সভায় অংশ নেন।গভর্নর জানান, শরিয়াহ বোর্ডের সদস্যরা স্বাধীনভাবে কাজ করবেন এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংক তাদের পূর্ণ সুরক্ষা প্রদান করবে। এর মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংকিং খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বড় ধরনের সংস্কারের ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।

গণবার্তা

সম্পাদকঃ নূর মোহাম্মদ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা