ঢাকা    মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২৬
ঢাকা    মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২৬
গণবার্তা

শিশু হত্যার অভিযোগে কিশোরের বাবা-চাচাকে গণপিটুনি, নিহত ২

শিশু হত্যার অভিযোগে কিশোরের বাবা-চাচাকে গণপিটুনি, নিহত ২

মানিকগঞ্জ সদর উপজেলায় সাত বছরের এক শিশুকে হত্যার অভিযোগ ওঠায় অভিযুক্ত কিশোরের বাবা ও চাচাকে পিটিয়ে হত্যা করেছে বিক্ষুব্ধ স্থানীয়রা। শিশুটির মা বাদী হয়ে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। এ ঘটনায় অভিযুক্ত কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

শনিবার (১৮ এপ্রিল) দুপুরে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সারওয়ার আলম প্রথম আলোকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, গত বৃহস্পতিবার বিকেল চারটার পর থেকে সদর উপজেলার বনপারিল গ্রামের সৌদিপ্রবাসী দুদল মিয়ার মেয়ে আতিকা আক্তার (৭) নিখোঁজ হয়। পরিবার এলাকায় মাইকিং ও ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে খোঁজ শুরু করে। এক শিশু জানায়, আতিকাকে একই গ্রামের এক কিশোরের (১৫) সঙ্গে দেখা গেছে। পরে ওই কিশোরকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করে পরিবার। রাত ১০টার দিকে কিশোরের দেওয়া তথ্যমতে, বাড়ির পাশের ভুট্টাখান থেকে গলায় কাপড় প্যাঁচানো অবস্থায় আতিকার লাশ উদ্ধার করা হয়।

লাশ উদ্ধারের পর বিক্ষুব্ধ স্বজন ও স্থানীয় লোকজন অভিযুক্ত কিশোরের বাবা পান্নু মিয়া (৪৫) ও চাচা ফজলু মিয়াকে (৩০) ডেকে এনে পিটুনি দেয়। এতে রাত ১১টার দিকে দুইজনের মৃত্যু হয়। পরে তাদের লাশ বাড়ির পাশের পুকুরের পানিতে ফেলে দেওয়া হয়। কিশোরের বড় ভাই নাজমুল হোসেন (২৪) গুরুতর আহত হন। খবর পেয়ে পুলিশ রাত ১২টার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে নাজমুলকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

শনিবার দুপুরে নিহত শিশুর মা আরিফা আক্তার বাদী হয়ে সদর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে। তারা হলেন—অভিযুক্ত কিশোর, কিশোরের বাবা নিহত পান্নু মিয়া, চাচা নিহত ফজলু মিয়া, ভাই আহত নাজমুল হোসেন ও একই গ্রামের মো. রনি (২২)।

পুলিশ সুপার জানান, গত শুক্রবার দিবাগত রাতে নবাবগঞ্জ এলাকা থেকে অভিযুক্ত কিশোরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বর্তমানে সে পুলিশ হেফাজতে আছে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে কিশোর আদালতে তোলা হবে। রনিকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

গণপিটুনির ঘটনায় এখন পর্যন্ত কেউ মামলা করেনি। স্বজনেরা লাশ দাফন নিয়ে ব্যস্ত থাকায় মামলা করতে আসেননি বলেও জানান পুলিশ সুপার। মামলা করলে তা নথিভুক্ত করা হবে বলে জানান তিনি।

শুক্রবার সন্ধ্যায় শিশু আতিকার লাশ দাফন করা হয়েছে। নিহত পান্নু ও ফজলুর লাশ শনিবার স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। শিশুর কবরের পাশেই তাদের কবর খোঁড়া হচ্ছে।

ড়ে থাকা একটি শিশুর জুতা। পটভূমিতে গ্রামের পুকুর ও টিনশেড ঘরের অস্পষ্ট ছায়া। দুটি নতুন কবর ও কাঠের তৈরি সাইনবোর্ড। পরিবেশ বিষণ্ণ ও শোকাবহ। সন্ধ্যার নরম আলো। বাস্তবসম্মত, ১৬:৯ রেশিও।

আপনার মতামত লিখুন

গণবার্তা

মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২৬


শিশু হত্যার অভিযোগে কিশোরের বাবা-চাচাকে গণপিটুনি, নিহত ২

প্রকাশের তারিখ : ১৮ এপ্রিল ২০২৬

featured Image
মানিকগঞ্জ সদর উপজেলায় সাত বছরের এক শিশুকে হত্যার অভিযোগ ওঠায় অভিযুক্ত কিশোরের বাবা ও চাচাকে পিটিয়ে হত্যা করেছে বিক্ষুব্ধ স্থানীয়রা। শিশুটির মা বাদী হয়ে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। এ ঘটনায় অভিযুক্ত কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।শনিবার (১৮ এপ্রিল) দুপুরে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সারওয়ার আলম প্রথম আলোকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, গত বৃহস্পতিবার বিকেল চারটার পর থেকে সদর উপজেলার বনপারিল গ্রামের সৌদিপ্রবাসী দুদল মিয়ার মেয়ে আতিকা আক্তার (৭) নিখোঁজ হয়। পরিবার এলাকায় মাইকিং ও ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে খোঁজ শুরু করে। এক শিশু জানায়, আতিকাকে একই গ্রামের এক কিশোরের (১৫) সঙ্গে দেখা গেছে। পরে ওই কিশোরকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করে পরিবার। রাত ১০টার দিকে কিশোরের দেওয়া তথ্যমতে, বাড়ির পাশের ভুট্টাখান থেকে গলায় কাপড় প্যাঁচানো অবস্থায় আতিকার লাশ উদ্ধার করা হয়।লাশ উদ্ধারের পর বিক্ষুব্ধ স্বজন ও স্থানীয় লোকজন অভিযুক্ত কিশোরের বাবা পান্নু মিয়া (৪৫) ও চাচা ফজলু মিয়াকে (৩০) ডেকে এনে পিটুনি দেয়। এতে রাত ১১টার দিকে দুইজনের মৃত্যু হয়। পরে তাদের লাশ বাড়ির পাশের পুকুরের পানিতে ফেলে দেওয়া হয়। কিশোরের বড় ভাই নাজমুল হোসেন (২৪) গুরুতর আহত হন। খবর পেয়ে পুলিশ রাত ১২টার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে নাজমুলকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।শনিবার দুপুরে নিহত শিশুর মা আরিফা আক্তার বাদী হয়ে সদর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে। তারা হলেন—অভিযুক্ত কিশোর, কিশোরের বাবা নিহত পান্নু মিয়া, চাচা নিহত ফজলু মিয়া, ভাই আহত নাজমুল হোসেন ও একই গ্রামের মো. রনি (২২)।পুলিশ সুপার জানান, গত শুক্রবার দিবাগত রাতে নবাবগঞ্জ এলাকা থেকে অভিযুক্ত কিশোরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বর্তমানে সে পুলিশ হেফাজতে আছে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে কিশোর আদালতে তোলা হবে। রনিকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।গণপিটুনির ঘটনায় এখন পর্যন্ত কেউ মামলা করেনি। স্বজনেরা লাশ দাফন নিয়ে ব্যস্ত থাকায় মামলা করতে আসেননি বলেও জানান পুলিশ সুপার। মামলা করলে তা নথিভুক্ত করা হবে বলে জানান তিনি।শুক্রবার সন্ধ্যায় শিশু আতিকার লাশ দাফন করা হয়েছে। নিহত পান্নু ও ফজলুর লাশ শনিবার স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। শিশুর কবরের পাশেই তাদের কবর খোঁড়া হচ্ছে।ড়ে থাকা একটি শিশুর জুতা। পটভূমিতে গ্রামের পুকুর ও টিনশেড ঘরের অস্পষ্ট ছায়া। দুটি নতুন কবর ও কাঠের তৈরি সাইনবোর্ড। পরিবেশ বিষণ্ণ ও শোকাবহ। সন্ধ্যার নরম আলো। বাস্তবসম্মত, ১৬:৯ রেশিও।

গণবার্তা

সম্পাদকঃ নূর মোহাম্মদ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা