নওগাঁর নিয়ামতপুরে একই পরিবারের চারজনকে গলাকেটে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার দুই আসামিকে দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। বৃহস্পতিবার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মোনাবিল হক এই রিমান্ড মঞ্জুর করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও নিয়ামতপুর থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক চাঁদ আলী রিমান্ড মঞ্জুরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গত সোমবার রাতে নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামের নমির উদ্দিনের ছেলে হাবিবুর রহমান ও তার স্ত্রী পপি সুলতানাকে গলাকেটে এবং তাদের সন্তান পারভেজ রহমান ও সাদিয়া আক্তারকে মাথায় ও ঘাড়ে আঘাত করে হত্যা করা হয়। এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহত হাবিবুরের ভগ্নিপতি শহিদুল, ভাগনে শাহিন এবং সবুজ রানাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বুধবার তাদের আদালতে নেওয়া হয়। আদালতে নেওয়ার পর আসামি সবুজ রানা ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। অপর দুই আসামি শহিদুল ও শাহিনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। আজ বৃহস্পতিবার সেই আবেদনের শুনানি নিয়ে তাদের দুই দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা চাঁদ আলী জানান, বুধবার বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে গ্রেপ্তার তিন আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। আসামি সবুজ রানা দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিতে রাজি হলে বিচারক তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন। জবানবন্দি রেকর্ড শেষে সবুজকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অপর দুই আসামি শহিদুল ও তার ছেলে শাহিনের পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছিল, বৃহস্পতিবার তাদের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়। মামলার অপর আসামিদের ব্যাপারে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নেওয়ার জন্য তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে জানান তদন্ত কর্মকর্তা।
বুধবার বিকেলে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে সবুজ রানা বলেন, তার নানা নমির উদ্দিনের কাছ থেকে বেশি জমি লিখে নেওয়ায় তিনি ক্ষুব্ধ ছিলেন। জমির ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে বিরোধের জেরে এর আগে মামাকে নির্বংশ করার হুমকিও দিয়েছিলেন। জমি নিয়ে বিরোধের কারণেই সবুজ, শহিদুল ও শাহিন পরিকল্পনা করে তার মামা হাবিবুর, মামি পপি সুলতানা, মামাতো ভাই পারভেজ ও মামাতো বোন সাদিয়াকে গলাকেটে হত্যা করে। তিনি আরও জানান, ঘটনার দিন সোমবার দুপুরে সবুজ তার মামা হাবিবুরের সঙ্গে গরু কিনতে উপজেলার ছাতড়া হাটে যান। গরু না কিনেই তারা সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরে আসেন। বাজার থেকে ফিরে এসে তার খালু শহিদুল ও খালাতো ভাইয়েরা মিলে হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করে।
সবুজের জবানবন্দিতে আরও উল্লেখ করা হয়, সোমবার রাতে মামার বাড়িতে কাঁঠালের তরকারি দিয়ে ভাত খায়। এ সময় শাহিন বাড়িতে অন্যদের অগোচরে ঢুকে একটি ঘরে লুকিয়ে থাকে। সবুজ ভাত খেয়ে চলে যায়। রাতের খাবার শেষে সবাই ঘুমিয়ে গেলে শাহিন মূল দরজা খুলে দেন। এ সময় শহিদুল ও সবুজসহ ছয়জন বাড়িতে প্রবেশ করে। প্রথমেই সবুজ তার নানা নমির উদ্দিনের ঘরের দরজা বাইরে থেকে শিকল দিয়ে আটকে দেয়। পরে তারা একে একে হাবিবুরের কক্ষে ঢোকে। সবুজ ও শহিদুল হাবিবুরকে চেপে ধরে এবং শাহিন ছুরি দিয়ে গলা কেটে হত্যা করে। মামি পপি সুলতানা দুই সন্তানকে নিয়ে অন্য ঘরে শুয়ে ছিলেন। শব্দ পেয়ে পপি ঘর থেকে বের হলে শহিদুল পেছন থেকে হাসুয়া দিয়ে মাথায় আঘাত করে। আঘাত পেয়ে পপি পড়ে গেলে সবুজ তাকে গলা কেটে হত্যা করে। পরে ঘরের ভেতর ঘুমিয়ে থাকা শিশু পারভেজ ও তার বোন সাদিয়াকেও গলাকেটে হত্যা করে শাহিন ও সবুজ।

শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৪ এপ্রিল ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন