মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে এক জটিল মোড়ে এসে পড়েছে দুই সমান্তরাল প্রক্রিয়া। পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দ্বিতীয় দফা আলোচনার পথ তৈরি করতে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি পাকিস্তানে পৌঁছেছেন। অন্যদিকে, ইসরাইল ও লেবাননের মধ্যে সম্ভাব্য ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তির পথে প্রধান বাধা হিসেবে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর নাম উল্লেখ করেছেন ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) রাতে ইসলামাবাদে পৌঁছানোর পর ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিকে স্বাগত জানান পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার এবং সেনাপ্রধান আসিম মুনির। তার এই সফর ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনার পথ সুগম করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সফরকালে আরাগচি দেশটির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করবেন, যেখানে সাম্প্রতিক আঞ্চলিক পরিস্থিতি এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা নিয়ে আলোচনা হবে। এই সফর এমন সময়ে হলো, যখন পাকিস্তান তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সংলাপ পুনরুজ্জীবিত করতে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করেছে।
এদিকে, হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকভ এবং উপদেষ্টা জ্যারেড কুশনার শনিবার পাকিস্তানে গিয়ে ইরানি প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করবেন। হোয়াইট হাউস প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভেট বলেন, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় এই সরাসরি আলোচনা হবে এবং ইসলামাবাদ গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা রাখছে।
প্রাথমিকভাবে আশা করা গেলেও এই আলোচনা কিছু জটিলতার মুখে পড়েছে। সিএনএনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসলামাবাদে ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির মুখোমুখি হচ্ছেন স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনার। তবে এই বৈঠকে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স অংশ নিচ্ছেন না।
কারণ, ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এই আলোচনায় অংশ না নেওয়ায় ভ্যান্সের উপস্থিতির পরিকল্পনা বর্তমানে স্থগিত রাখা হয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তারা গালিবাফকে ইরানি প্রতিনিধি দলের প্রধান এবং জেডি ভ্যান্সের সমকক্ষ হিসেবে দেখছেন। তবে আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হলে ভ্যান্সকে পাকিস্তানে যাওয়ার জন্য স্ট্যান্ডবাই করে রাখা হয়েছে।
এর আগে, গত ১১-১২ এপ্রিল ইসলামাবাদে প্রথম দফা সরাসরি আলোচনা অনুষ্ঠিত হলেও তা ভেস্তে যায়। জ্যারেড কুশনার এবং স্টিভ উইটকফ গত কয়েক মাস ধরে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে সম্ভাব্য চুক্তিতে পৌঁছাতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
এসব ঘটনার মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যের অন্য একটি প্রান্তে শান্তি প্রক্রিয়া নতুন করে জটিল হয়েছে। ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সরাসরি অভিযোগ করেছেন, ইসরাইল ও লেবাননের মধ্যে ঐতিহাসিক শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা বাধাগ্রস্ত করছে হিজবুল্লাহ।
এক ভিডিও বার্তায় নেতানিয়াহু দাবি করেন, একটি শান্তি প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে, কিন্তু হিজবুল্লাহ সুপরিকল্পিতভাবে তা নস্যাৎ করার চেষ্টা চালাচ্ছে। ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী এবং হিজবুল্লাহ একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলার প্রেক্ষাপটে তিনি এই মন্তব্য করেন।
নেতানিয়াহু স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, যেকোনো ধরনের হুমকির বিরুদ্ধে ইসরাইলের পূর্ণ ব্যবস্থা নেওয়ার স্বাধীনতা রয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতি ও শুক্রবার (২৩-২৪ এপ্রিল) ইসরাইলি বাহিনী হিজবুল্লাহর ওপর হামলা চালিয়েছে বলে তিনি নিশ্চিত করেন। তিনি ইরানের ওপর কঠোর চাপ প্রয়োগ করার জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশংসাও করেন।

শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৫ এপ্রিল ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন