অপেক্ষার প্রহর যেন আরও একটু দীর্ঘ হলো বাংলাদেশের জন্য। টি-টোয়েন্টি সিরিজের ফয়সালা চট্টগ্রামেই করতে চেয়েছিল দল। কিন্তু সাগরিকার আকাশের মন খারাপ। বৃষ্টি ভেস্তে দিয়েছে পরিকল্পনা। লিটন অ্যান্ড কোম্পানি এখন তাকিয়ে ঢাকার মাঠের দিকে।
বুধবার সকাল থেকেই আকাশজুড়ে ঘন মেঘের আনাগোনা, তার সঙ্গে টুপটাপ বৃষ্টির ছন্দ। সব মিলিয়ে থমকে গেল নির্ধারিত উত্তেজনা। তবে খেলা না হলেও থেমে থাকেনি প্রাণচাঞ্চল্য। গ্যালারি আর আশপাশজুড়ে দর্শক-সমর্থকদের হাসি, গল্প আর আড্ডায় মুখর হয়ে উঠেছিল পুরো পরিবেশ।
বৃষ্টির ফোঁটায় ভিজে একদিকে যেমন বাড়ছিল অপেক্ষার চাপ, অন্যদিকে তেমনি তৈরি হচ্ছিল ভিন্ন এক আবহ। যেখানে হতাশার চেয়ে আনন্দই যেন বেশি জায়গা করে নিয়েছে। দিনের শেষে তাই এই বৃষ্টিভেজা সময়টুকু হয়ে রইল স্মৃতিতে অন্যরকম এক ভালো লাগার গল্প হয়ে।
শামীম হোসেন পাটোয়ারীর মতে, ‘বৃষ্টির সময় একটু অন্য রকম লাগে।’
বাংলাদেশের ড্রেসিংরুম সুখী পরিবারের প্রতিচ্ছবি। ফুটবল নিয়ে টোকাটুকি হয়েছিল। বল ব্যাটের আওয়াজও পাওয়া গেছে। হয়েছে শ্যাডো প্র্যাকটিস। তবে গোল টেবিলের আড্ডাটাই জমে উঠেছে চা-কফির কাপে চুমুক দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে। অতিথি ড্রেসিংরুমেও প্রায় একই চিত্র ছিল। তারা অবশ্য কার্ড খেলায় ব্যস্ত রেখেছিলেন নিজেদের। দুয়েকজনকে দেখা গেল ফিটনেস ট্রেনিংয়ে।
বৃষ্টির দিনে অলস বসে থাকা ছাড়া কাজ নেই। তবে শৈশবের রয়েছে কত স্মৃতি, কত গল্প। সাইফ বলতে গিয়েও যেন বললেন না সেসব, ‘বৃষ্টির দিনে কত স্মৃতি। কিন্তু এখন মনে পড়ছে না।’
কাজী নুরুল হাসান সোহান কিছুটা বললেন, ‘প্রচুর আড্ডা দেওয়া হয়। বিশেষ করে টেস্ট ম্যাচে। সময়টা বেশি পাওয়া যায়। একটা টেস্টে মনে হয় লাঞ্চের পর আমরা সবাই মিলে ভিজেছিলাম। অনুশীলনের সময়ে আমরা ভিজে ফুটবল খেলেছি। এগুলো সব সময়ই ভিন্ন।’
অধিনায়ক লিটন, ব্যাটিং কোচ আশরাফুলসহ বাকিদেরও দেখা গেছে চনমনে মনোভাবে, মন খুলে আড্ডায় মেতে উঠতে। তবে ড্রেসিংরুমে কোন গান বাজেনি তা নিশ্চিত করেছেন শামীম পাটোয়ারী।
বিকেল ৪টা ২০ মিনিটে দুই দলের অধিনায়ককে ডেকে ম্যাচ বাতিলের সিদ্ধান্ত জানান অফিসিয়ালরা। এরপর হাত মিলিয়ে ক্যামেরায় পোজ দিয়েছেন লিটন ও নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক টম লাথাম। এরপর ৩০ মিনিটের মধ্যেই দুই দলের গাড়ির বহর বেরিয়ে যায় হোটেলের উদ্দেশ্যে।
আগামীকাল দুই দল একসঙ্গে ঢাকায় ফিরবে। সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টি ঢাকায় ২ মে অনুষ্ঠিত হবে।
চট্টগ্রামে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ৬ উইকেটে জিতে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে আছে বাংলাদেশ। আজ দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি পরিত্যক্ত হওয়ায় এই সিরিজে নিউজিল্যান্ডের আর জেতার সুযোগ নেই। তৃতীয় টি-টোয়েন্টি জিততে পারলে সিরিজে সমতা আনতে পারবে তারা। ভিন্ন কিছু হলে সিরিজ জিতবে বাংলাদেশ।
২০২৩ সালে বাংলাদেশ ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যকার সর্বশেষ তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ ১-১ সমতায় শেষ হয়। নিউজিল্যান্ড সফরে প্রথম ম্যাচেই ৫ উইকেটে জয় পায় বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ম্যাচ বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত হয়। তৃতীয় ম্যাচ বৃষ্টি আইনে ১৭ রানে জিতে সিরিজ হার এড়ায় নিউজিল্যান্ড।
এবার কী বাংলাদেশের ভাগ্যে সিরিজ জয় লেখা আছে, নাকি নিউজিল্যান্ড সমতা ফেরাবে? ঢাকায় পাওয়া যাবে সেই উত্তর।
বৃষ্টির কারণে ম্যাচে একটি বলও খেলা হয়নি। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) জানিয়েছে, অনলাইনে যাঁরা টিকিট কেটেছেন, তাঁরা টাকা ফেরত পাবেন।
বৃষ্টি নামলেও কমেনি ক্রিকেটপ্রেমীদের আনন্দ। গ্যালারিতে হাসি-গল্প-আড্ডা—সব মিলিয়ে ভিন্ন এক আবহ তৈরি হয়েছিল চট্টগ্রামে। তবে মাঠে না নামায় আক্ষেপ আছে সবার। এখন সব দৃষ্টি ২ মে মিরপুরের দিকে। সিরিজ জয়ের সুযোগ হাতছাড়া করতে চায় না বাংলাদেশ। অন্যদিকে সমতা ফেরাতে মরিয়া নিউজিল্যান্ড। ঢাকার মাঠে কে হাসবে, সেটাই দেখার বাকি।

বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩০ এপ্রিল ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন