ঢাকা    মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
ঢাকা    মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
গণবার্তা

একই দিনে সারা বিশ্বে ঈদ পালন ধর্ম ও বিজ্ঞানবিরোধী: বায়তুল মোকাররমের খতিব

একই দিনে সারা বিশ্বে ঈদ পালন ধর্ম ও বিজ্ঞানবিরোধী: বায়তুল মোকাররমের খতিব

যারা একই দিনে সারা বিশ্বে ঈদ পালনের কথা বলেন, তাদের মতবাদ ধর্ম ও বিজ্ঞানবিরোধী। এমন মন্তব্য করেছেন জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি আবদুল মালেক। শনিবার (৯ মে) দুপুরে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ‘রোজা ও ঈদ বিশ্বব্যাপী একই দিনে পালনের দাবির ভ্রান্তি নিরসন ও শরিয়াহ বিশ্লেষণ’ শীর্ষক জাতীয় সেমিনারে তিনি এ কথা বলেন।

একই তারিখে সারা বিশ্বে রোজা ও ঈদ পালনের দাবি দলিলভিত্তিক নয় এবং কার্যক্ষেত্রে এর বাস্তবায়নও অসম্ভব উল্লেখ করে আবদুল মালেক বলেন, ইসলামী শরিয়তে চন্দ্রমাস শুরুর মানদণ্ড হলো হেলাল দেখা কিংবা হেলালের সাক্ষ্য। অন্যথায় মাস ত্রিশ দিন পূর্ণ করা। এই মানদণ্ড বাদ দিয়ে অমাবস্যা থেকে মাস শুরু করা শরিয়ত পরিবর্তন এবং নিজ খেয়াল-খুশি মোতাবেক নতুন শরিয়ত প্রবর্তনের শামিল।

তিনি বলেন, হেলাল দেখার পরিবর্তে জ্যোতির্বিজ্ঞান-ভিত্তিক আগাম প্রস্তুতকৃত হিজরি ক্যালেন্ডারকে মানদণ্ড বানানোও স্পষ্ট নাজায়েজ এবং শরিয়তে হস্তক্ষেপের শামিল। মুসলমানদের ঈদ অন্য জাতিগোষ্ঠীর উৎসবের মতো নিছক আনন্দ-উৎসব নয়; বরং এটি ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। তাই একে অন্যদের উৎসবের আদলে উদযাপনের চিন্তা সম্পূর্ণ ভ্রান্ত ও অযৌক্তিক।

বায়তুল মোকাররমের খতিব আরও বলেন, হেলাল দেখাকে একমাত্র ভিত্তি গণ্য করে পুরো বিশ্বের জন্য একই সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া দলিলভিত্তিক নয় এবং উম্মতের ইজমা পরিপন্থী। নির্দিষ্ট কোনো শহরের চাঁদ দেখাকে ভিত্তি করে অন্য অঞ্চলের জন্য সিদ্ধান্ত গ্রহণও শরিয়তের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

মাওলানা আবদুল মালেক বলেন, শরয়ি সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের বক্তব্য অপরিহার্য নয়। অতীতে মুসলিম জ্যোতির্বিজ্ঞানীরাও বিশ্বব্যাপী একই দিনে রোজা-ঈদ পালনের পক্ষে ছিলেন না। কারণ এটি মূলত শরিয়তের বিষয় এবং শরিয়ত যা বলে তাই মেনে নেওয়াই মুসলমানদের কর্তব্য।

বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে যে পদ্ধতিতে রোজা ও ঈদ পালিত হয়ে আসছে, দেশের অধিকাংশ আলেম-মাশায়েখ সে ব্যাপারে একমত উল্লেখ করে তিনি বলেন, অনুমিত ধারা পরিবর্তনের কোনো শরয়ি কারণ নেই। বরং এর পরিবর্তনের ফলে সমাজে বিভ্রান্তি ও অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি হতে পারে।

ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি সরকার কর্তৃক দায়িত্বপ্রাপ্ত কমিটি উল্লেখ করে আবদুল মালেক বলেন, শরিয়তের দৃষ্টিতে কোনো আপত্তি না থাকলে এ কমিটির সিদ্ধান্ত মেনে চলা মুসলিম নাগরিকদের দায়িত্ব।

বিষয় : মাওলানা আবদুল মালেক

আপনার মতামত লিখুন

গণবার্তা

মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬


একই দিনে সারা বিশ্বে ঈদ পালন ধর্ম ও বিজ্ঞানবিরোধী: বায়তুল মোকাররমের খতিব

প্রকাশের তারিখ : ০৯ মে ২০২৬

featured Image
যারা একই দিনে সারা বিশ্বে ঈদ পালনের কথা বলেন, তাদের মতবাদ ধর্ম ও বিজ্ঞানবিরোধী। এমন মন্তব্য করেছেন জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি আবদুল মালেক। শনিবার (৯ মে) দুপুরে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ‘রোজা ও ঈদ বিশ্বব্যাপী একই দিনে পালনের দাবির ভ্রান্তি নিরসন ও শরিয়াহ বিশ্লেষণ’ শীর্ষক জাতীয় সেমিনারে তিনি এ কথা বলেন।একই তারিখে সারা বিশ্বে রোজা ও ঈদ পালনের দাবি দলিলভিত্তিক নয় এবং কার্যক্ষেত্রে এর বাস্তবায়নও অসম্ভব উল্লেখ করে আবদুল মালেক বলেন, ইসলামী শরিয়তে চন্দ্রমাস শুরুর মানদণ্ড হলো হেলাল দেখা কিংবা হেলালের সাক্ষ্য। অন্যথায় মাস ত্রিশ দিন পূর্ণ করা। এই মানদণ্ড বাদ দিয়ে অমাবস্যা থেকে মাস শুরু করা শরিয়ত পরিবর্তন এবং নিজ খেয়াল-খুশি মোতাবেক নতুন শরিয়ত প্রবর্তনের শামিল।তিনি বলেন, হেলাল দেখার পরিবর্তে জ্যোতির্বিজ্ঞান-ভিত্তিক আগাম প্রস্তুতকৃত হিজরি ক্যালেন্ডারকে মানদণ্ড বানানোও স্পষ্ট নাজায়েজ এবং শরিয়তে হস্তক্ষেপের শামিল। মুসলমানদের ঈদ অন্য জাতিগোষ্ঠীর উৎসবের মতো নিছক আনন্দ-উৎসব নয়; বরং এটি ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। তাই একে অন্যদের উৎসবের আদলে উদযাপনের চিন্তা সম্পূর্ণ ভ্রান্ত ও অযৌক্তিক।বায়তুল মোকাররমের খতিব আরও বলেন, হেলাল দেখাকে একমাত্র ভিত্তি গণ্য করে পুরো বিশ্বের জন্য একই সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া দলিলভিত্তিক নয় এবং উম্মতের ইজমা পরিপন্থী। নির্দিষ্ট কোনো শহরের চাঁদ দেখাকে ভিত্তি করে অন্য অঞ্চলের জন্য সিদ্ধান্ত গ্রহণও শরিয়তের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।মাওলানা আবদুল মালেক বলেন, শরয়ি সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের বক্তব্য অপরিহার্য নয়। অতীতে মুসলিম জ্যোতির্বিজ্ঞানীরাও বিশ্বব্যাপী একই দিনে রোজা-ঈদ পালনের পক্ষে ছিলেন না। কারণ এটি মূলত শরিয়তের বিষয় এবং শরিয়ত যা বলে তাই মেনে নেওয়াই মুসলমানদের কর্তব্য।বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে যে পদ্ধতিতে রোজা ও ঈদ পালিত হয়ে আসছে, দেশের অধিকাংশ আলেম-মাশায়েখ সে ব্যাপারে একমত উল্লেখ করে তিনি বলেন, অনুমিত ধারা পরিবর্তনের কোনো শরয়ি কারণ নেই। বরং এর পরিবর্তনের ফলে সমাজে বিভ্রান্তি ও অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি হতে পারে।ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি সরকার কর্তৃক দায়িত্বপ্রাপ্ত কমিটি উল্লেখ করে আবদুল মালেক বলেন, শরিয়তের দৃষ্টিতে কোনো আপত্তি না থাকলে এ কমিটির সিদ্ধান্ত মেনে চলা মুসলিম নাগরিকদের দায়িত্ব।

গণবার্তা

সম্পাদকঃ নূর মোহাম্মদ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা