ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬
ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬
গণবার্তা

সন্তানের মতো লালন, এবার ঈদের হাটে উঠছে ৩৬ মণের ‘জামাল মিয়া’

সন্তানের মতো লালন, এবার ঈদের হাটে উঠছে ৩৬ মণের ‘জামাল মিয়া’

কোরবানির ঈদ সামনে এলেই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের খামারগুলোতে বাড়তে থাকে ব্যস্ততা। তবে কিছু পশু আকার, পরিচর্যা ও খামারিদের ভালোবাসার কারণে আলাদা করে মানুষের নজর কাড়ে। তেমনই একটি গরু নিয়ে এখন আলোচনা চলছে জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলায়। বিশাল আকৃতির এই গরুর নাম রাখা হয়েছে ‘জামালপুরের জামাল মিয়া’।

উপজেলার কুলকান্দি ইউনিয়নের কুলকান্দি গ্রামের প্রান্তিক খামারি জাহিদ মিয়া ও তার স্ত্রী ছাবিনা বেগম প্রায় আড়াই বছর ধরে গরুটিকে লালন-পালন করছেন। তাদের দাবি, গরুটির বর্তমান ওজন প্রায় ৩৬ মণ, অর্থাৎ প্রায় ১ হাজার ৪০০ কেজি। আসন্ন ঈদুল আজহায় গরুটি বিক্রি করে ভালো দাম পাওয়ার আশা করছেন তারা।

খামার ঘুরে দেখা যায়, গরুটির বিশাল আকারের কারণে সেটিকে গোয়ালঘর থেকে বের করতেই বেশ কয়েকজন মানুষের সহায়তা লাগে। পরিবারের সদস্যরা জানান, কখনও কখনও ১০ থেকে ১২ জন মিলে রশি ধরে গরুটিকে নিয়ন্ত্রণ করতে হয়। তবে আকারে বড় হলেও নিয়মিত পরিচর্যা ও পরিচিত মানুষের সঙ্গে অভ্যস্ত হয়ে উঠেছে ‘জামাল মিয়া’।

খামারি পরিবার বলছে, গরুটিকে শুধু ব্যবসায়িক দৃষ্টিভঙ্গিতে নয়, পরিবারের সদস্যের মতো করেই বড় করা হয়েছে। প্রতিদিন নির্ধারিত খাবারের পাশাপাশি গরুটিকে মিষ্টি আলু ও বিভিন্ন ধরনের ফল খাওয়ানো হয়। এসব খাবার গরুটির বেশ পছন্দ বলেও জানান তারা।

এলাকাবাসীর মধ্যেও গরুটি নিয়ে তৈরি হয়েছে কৌতূহল। প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ গরুটিকে দেখতে আসছেন। স্থানীয় বাসিন্দা সোহেল মিয়া বলেন, এত বড় গরু এলাকায় খুব একটা দেখা যায় না। জাহিদ-ছাবিনা দম্পতি অনেক কষ্ট করে গরুটি লালন-পালন করেছেন। তারা যেন ন্যায্য দাম পান, সেটিই প্রত্যাশা।

খামারি জাহিদ মিয়া জানান, হালাল উপার্জনের আশায় তিনি চাকরি ছেড়ে খামার গড়ে তোলেন। ধীরে ধীরে গবাদিপশু পালনই এখন তার পরিবারের প্রধান আয়ের উৎসে পরিণত হয়েছে।

তিনি বলেন, “নিজের সন্তানের মতো করে গরুটিকে বড় করেছি। এখন বিক্রি করতে হবে ভাবতেই খারাপ লাগে। কিন্তু সংসারের প্রয়োজন তো আছেই।”

জাহিদ মিয়ার দাবি, গরুটিকে সম্পূর্ণ দেশীয় ও প্রাকৃতিক উপায়ে বড় করা হয়েছে। কোনো ধরনের ক্ষতিকর মোটাতাজাকরণ পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়নি। নিয়মিত পরিচর্যা, সুষম খাবার ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশের কারণেই গরুটি এত বড় হয়েছে বলে মনে করেন তিনি।

আসন্ন কোরবানির হাটে ‘জামাল মিয়া’র দাম ৯ লাখ টাকা আশা করছেন এই খামারি। তার ভাষ্য, এর চেয়ে কম দামে বিক্রি করলে লাভ তো হবেই না, বরং লোকসানের আশঙ্কা থাকবে।

কোরবানির ঈদ ঘিরে দেশে বড় আকারের গরুর প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহ প্রতি বছরই দেখা যায়। সেই ধারাবাহিকতায় এবার জামালপুরের ‘জামাল মিয়া’ও স্থানীয় হাটে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠবে বলে আশা করছেন খামারি পরিবার।

আপনার মতামত লিখুন

গণবার্তা

বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬


সন্তানের মতো লালন, এবার ঈদের হাটে উঠছে ৩৬ মণের ‘জামাল মিয়া’

প্রকাশের তারিখ : ১৯ মে ২০২৬

featured Image
কোরবানির ঈদ সামনে এলেই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের খামারগুলোতে বাড়তে থাকে ব্যস্ততা। তবে কিছু পশু আকার, পরিচর্যা ও খামারিদের ভালোবাসার কারণে আলাদা করে মানুষের নজর কাড়ে। তেমনই একটি গরু নিয়ে এখন আলোচনা চলছে জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলায়। বিশাল আকৃতির এই গরুর নাম রাখা হয়েছে ‘জামালপুরের জামাল মিয়া’।উপজেলার কুলকান্দি ইউনিয়নের কুলকান্দি গ্রামের প্রান্তিক খামারি জাহিদ মিয়া ও তার স্ত্রী ছাবিনা বেগম প্রায় আড়াই বছর ধরে গরুটিকে লালন-পালন করছেন। তাদের দাবি, গরুটির বর্তমান ওজন প্রায় ৩৬ মণ, অর্থাৎ প্রায় ১ হাজার ৪০০ কেজি। আসন্ন ঈদুল আজহায় গরুটি বিক্রি করে ভালো দাম পাওয়ার আশা করছেন তারা।খামার ঘুরে দেখা যায়, গরুটির বিশাল আকারের কারণে সেটিকে গোয়ালঘর থেকে বের করতেই বেশ কয়েকজন মানুষের সহায়তা লাগে। পরিবারের সদস্যরা জানান, কখনও কখনও ১০ থেকে ১২ জন মিলে রশি ধরে গরুটিকে নিয়ন্ত্রণ করতে হয়। তবে আকারে বড় হলেও নিয়মিত পরিচর্যা ও পরিচিত মানুষের সঙ্গে অভ্যস্ত হয়ে উঠেছে ‘জামাল মিয়া’।খামারি পরিবার বলছে, গরুটিকে শুধু ব্যবসায়িক দৃষ্টিভঙ্গিতে নয়, পরিবারের সদস্যের মতো করেই বড় করা হয়েছে। প্রতিদিন নির্ধারিত খাবারের পাশাপাশি গরুটিকে মিষ্টি আলু ও বিভিন্ন ধরনের ফল খাওয়ানো হয়। এসব খাবার গরুটির বেশ পছন্দ বলেও জানান তারা।এলাকাবাসীর মধ্যেও গরুটি নিয়ে তৈরি হয়েছে কৌতূহল। প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ গরুটিকে দেখতে আসছেন। স্থানীয় বাসিন্দা সোহেল মিয়া বলেন, এত বড় গরু এলাকায় খুব একটা দেখা যায় না। জাহিদ-ছাবিনা দম্পতি অনেক কষ্ট করে গরুটি লালন-পালন করেছেন। তারা যেন ন্যায্য দাম পান, সেটিই প্রত্যাশা।খামারি জাহিদ মিয়া জানান, হালাল উপার্জনের আশায় তিনি চাকরি ছেড়ে খামার গড়ে তোলেন। ধীরে ধীরে গবাদিপশু পালনই এখন তার পরিবারের প্রধান আয়ের উৎসে পরিণত হয়েছে।তিনি বলেন, “নিজের সন্তানের মতো করে গরুটিকে বড় করেছি। এখন বিক্রি করতে হবে ভাবতেই খারাপ লাগে। কিন্তু সংসারের প্রয়োজন তো আছেই।”জাহিদ মিয়ার দাবি, গরুটিকে সম্পূর্ণ দেশীয় ও প্রাকৃতিক উপায়ে বড় করা হয়েছে। কোনো ধরনের ক্ষতিকর মোটাতাজাকরণ পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়নি। নিয়মিত পরিচর্যা, সুষম খাবার ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশের কারণেই গরুটি এত বড় হয়েছে বলে মনে করেন তিনি।আসন্ন কোরবানির হাটে ‘জামাল মিয়া’র দাম ৯ লাখ টাকা আশা করছেন এই খামারি। তার ভাষ্য, এর চেয়ে কম দামে বিক্রি করলে লাভ তো হবেই না, বরং লোকসানের আশঙ্কা থাকবে। কোরবানির ঈদ ঘিরে দেশে বড় আকারের গরুর প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহ প্রতি বছরই দেখা যায়। সেই ধারাবাহিকতায় এবার জামালপুরের ‘জামাল মিয়া’ও স্থানীয় হাটে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠবে বলে আশা করছেন খামারি পরিবার।

গণবার্তা

সম্পাদকঃ নূর মোহাম্মদ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা