‘বাংলাদেশ সীমান্তের লোকজন চোরাচালানের সাথে জড়িত নয়। সীমান্তে সাধারণ লোকজন কাজ করতে গেলে ভারতীয় বিএসএফ গুলি করে হত্যা করে। ভারতের সঙ্গে যুদ্ধ হলে ভারত বাংলাদেশের সাথে পারবে না’— এমন মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। মঙ্গলবার (১৯ মে) লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় বিএসএফের গুলিতে নিহত কৃষক খাদেমুল ইসলামের কবর জিয়ারত শেষে তিনি এ কথা বলেন।
নিহতের ঘটনা ও কবর জিয়ারত
গত ১৪ মে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার আমজল সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের গুলিতে কৃষক খাদেমুল ইসলাম নিহত হন। নিহতের বাবা আমজাদ হোসেন জানান, তার ছেলে সেদিন সীমান্তে মাছ ধরতে গিয়েছিলেন। তিনি সম্পূর্ণ নিরস্ত্র ও স্বাভাবিক অবস্থায় ছিলেন, এরপরও তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় মঙ্গলবার নিহতের কবর জিয়ারত করেন এনসিপি নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।
সরকারের পররাষ্ট্রনীতির সমালোচনা
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকারের পররাষ্ট্রনীতির দুর্বলতার কারণে সীমান্তে হত্যাকাণ্ড বাড়ছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশি সাধারণ মানুষ কাজ করতে গেলে বিএসএফ গুলি করে হত্যা করে, অথচ বাংলাদেশি বিজিবি প্রেস বিজ্ঞপ্তির নামে প্রোপাগান্ডা ছড়ায়। তিনি দাবি করেন, এগুলো ভারতীয় বয়ান। সরকার সীমান্তের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে।
‘যুদ্ধ হলে ভারত পারবে না’
নাসিরুদ্দিন পাটওয়ারী আরও বলেন, ‘সীমান্তে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে, লাশ নিয়ে মিছিল করতে হবে। ভারতের সঙ্গে যুদ্ধ হলে ভারত বাংলাদেশের সাথে পারবে না।’ এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি ভারতের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দেন।
নিহতের পরিবারকে পুনর্বাসনের প্রতিশ্রুতি
তার দল ক্ষমতায় গেলে সীমান্তে নিহত বাংলাদেশিদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেয়া হবে এবং তাদের পরিবারকে পুনর্বাসনসহ আবাসন সুবিধা দেয়া হবে বলেও জানান তিনি।
সীমান্তবাসীদের সতর্ক থাকার আহ্বান
তিনি আরও দাবি করেন, ভারতের অভ্যন্তরীণ নাগরিকত্ব ইস্যু নিয়ে নতুন করে মানবিক সংকট তৈরি হতে পারে, যা সীমান্তবর্তী অঞ্চলে প্রভাব ফেলতে পারে। এ কারণে সীমান্তবাসীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি। এছাড়া সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার, বিজিবির টহল বৃদ্ধি এবং বাহিনীর বেতন-ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর দাবি জানান।
লালমনিরহাটে বিএসএফের গুলিতে কৃষক খাদেমুল ইসলাম নিহতের ঘটনা নতুন করে সীমান্ত উত্তেজনা তৈরি করেছে। এনসিপি নেতা নাসিরুদ্দীন পাটওয়ারীর ‘ভারতের সঙ্গে যুদ্ধ হলে তারা পারবে না’ মন্তব্য ও সরকারের পররাষ্ট্রনীতির তীব্র সমালোচনা রাজনৈতিক মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সীমান্ত নিরাপত্তা ও নিহতের পরিবারের ন্যায্য দাবি নিয়ে প্রশ্ন থেকেই গেল। ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের এই জটিল মুহূর্তে সব পক্ষের সংযত ও কূটনৈতিক ভূমিকা জরুরি।

বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২০ মে ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন