গাজীপুরের টঙ্গীতে নাজমিন আক্তার (২৩) নামে এক নারী তার প্রথম স্বামীর ছুরিকাঘাতে নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন দ্বিতীয় স্বামী। স্থানীয় জনতা ঘাতককে আটক করে পুলিশে দিয়েছে। মঙ্গলবার (১৯ মে) বিকেলে ৪টার দিকে টঙ্গীর পূর্ব আরিচপুর জামাই বাজার শহীদ স্মৃতি স্কুল রোডে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত ও আটকদের পরিচয়
নিহত নাজমিন আক্তার পটুয়াখালী জেলার গলাচিপা থানার গুলখালী গ্রামের নুর ইসলামের মেয়ে। খুনের অভিযোগে আটক সাবেক স্বামী জাকির হোসেন (২৮) ময়মনসিংহ জেলার কোতোয়ালি থানার ভাবখালী গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে। গুরুতর আহত দ্বিতীয় স্বামী সুজন মিয়া টঙ্গী এলাকায় থাকতেন।
বিবাহ, তালাক ও নতুন সম্পর্ক
পুলিশ জানায়, নাজমিন আক্তারের সাথে জাকির হোসেনের প্রথম বিয়ে হয় ও তাদের সংসারে একটি সন্তান আছে। পারিবারিক বিরোধে তাদের তালাক হলে সুজন মিয়ার সাথে নাজমিনের দ্বিতীয় বিয়ে হয়। এরপর থেকে তারা টঙ্গীর পূর্ব আরিচপুর জামাইবাজার এলাকায় শহীদ স্মৃতি স্কুল রোডে জনৈক শাহজাহানের বাড়িতে ভাড়ায় বসবাস করছিলেন।
হত্যাকাণ্ডের বিবরণ
মঙ্গলবার বিকেলে সাবেক স্বামী জাকির হোসেন নাজমিনের বাসায় এসে অতর্কিতে ছুরিকাঘাত করে নাজমিন ও সুজনকে গুরুতর আহত করে। এ সময় স্থানীয়রা ঘাতক জাকির হোসেনকে আটক করে পুলিশে দেয়।
হাসপাতালে নেওয়া ও মৃত্যু
আহত দুইজনকে উদ্ধার করে শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক নাজমিনকে মৃত ঘোষণা করেন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় সুজন মিয়াকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে।
প্রতিবেশীর বক্তব্য
প্রতিবেশী মাসুম তালুকদার জানান, ‘দুই বছর আগে আমাদের বাসায় গৃহপরিচারিকার কাজ করতেন নাজমিন। প্রায় সময় তার প্রথম স্বামীর সাথে পারিবারিক কলহ লেগে থাকতো। এর জেরে প্রায় ৫ মাস আগে প্রথম স্বামী জাকির হোসেনকে তালাক দেয়। নাজমিন ছেলেকে গ্রামের বাড়িতে রেখে আসে। এরপর প্রায় তিন মাস আগে সুজন নামে এক ব্যক্তিকে বিয়ে করে দুই মাস ধরে এই এলাকার শাহজাহানের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। আজকে প্রথম স্বামী জাকির হোসেন এসে নাজমিনকে হত্যা করে।’
পুলিশের বক্তব্য
টঙ্গী পূর্ব থানার ওসি মেহেদী হাসান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, অভিযুক্ত থানা হেফাজতে আছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
টঙ্গীর এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করল, পারিবারিক কলহ ও তালাক পরবর্তী হিংসা কতটা ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। নিহত নাজমিন মাত্র ২৩ বছরে জীবন হারালেন। প্রথম স্বামীর ছুরিকাঘাতে নিহত ও দ্বিতীয় স্বামী আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে। স্থানীয়রা ঘাতককে আটক করলেও প্রশ্ন থেকেই যায়— কেন আইনের আশ্রয় না নিয়ে হিংসার পথ বেছে নিলেন তিনি? এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এখন দরকার দ্রুত বিচার ও নারী নিরাপত্তায় আরও কঠোর আইন।

বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২০ মে ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন