ঢাকা    মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২৬
ঢাকা    মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২৬
গণবার্তা

পরকীয়ার জেরে বন্ধুকে ছুরিকাঘাতে হত্যা, স্বীকারোক্তি ঘাতকের

পরকীয়ার জেরে বন্ধুকে ছুরিকাঘাতে হত্যা, স্বীকারোক্তি ঘাতকের

সিলেটে স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়ার কারণেই বন্ধু জুয়েলকে খুন করা হয়েছে বলে স্বীকার করেছেন ঘাতক হাবিল। বারবার নিষেধ করা সত্ত্বেও জুয়েল সম্পর্ক থেকে সরে না দাঁড়ানোয় পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়। ঘটনার দিনও জুয়েলকে অবৈধ সম্পর্ক থেকে সরে দাঁড়াতে অনুরোধ করা হলে তিনি তর্কে জড়ান। এর জেরে নির্জন স্থানে নিয়ে জুয়েলের গলা, বুক ও পিঠে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে হাবিল।

রোববার (৩১ মে) ঘটনার পরপরই এলাকাবাসী হাবিলকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। আটকের পর থেকে তিনি একই বক্তব্য দিয়ে আসছেন। সোমবার (১ জুন) বিকালে আদালতেও তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

সিলেটের কোতোয়ালি থানার ওসি খান মো. মাইনুল জাকির জানান, জিজ্ঞাসাবাদে হাবিল পরকীয়ার বিষয়টি তুলে ধরেছে। তার স্ত্রীর সঙ্গে বন্ধু জুয়েলের পরকীয়ার কারণেই সে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে স্বীকার করেছে।

ঘাতক হাবিল আরও জানায়, ঘটনার দিন তিনি জুয়েলের সঙ্গে আলোচনা করেছিলেন। তাকে ওই পথ থেকে সরে যাওয়ার অনুরোধও করেন। এতে জুয়েল ক্ষান্ত না হওয়ায় তাদের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা ও পরে মারামারির ঘটনা ঘটে।

রোববার দুপুরে সিলেটের রায়নগর দপ্তরী পাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। কথা কাটাকাটির জেরে দুই বন্ধু হাবিল ও জুয়েলের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়। এক পর্যায়ে হাবিল জুয়েলকে টেনে পার্শ্ববর্তী গোয়ালীছড়া খালে ফেলে দেয় এবং ধারালো সুইচ গিয়ার চাকু দিয়ে তার গলা, পিঠ ও বুকে একাধিক আঘাত করে।

স্থানীয়রা জানান, হাবিল চাকু দিয়ে জুয়েলের শরীরে ৩০ থেকে ৪০টি আঘাত করে। এতে অধিক রক্তক্ষরণে জুয়েল ঘটনাস্থলেই জ্ঞান হারায়। হাসপাতালে নেওয়ার পথেই তার মৃত্যু হয়।

স্থানীয়রা জুয়েলকে উদ্ধার করে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে স্থানীয়রা হাবিলকে আটক করে গণধোলাই দিয়ে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে।

নিহত জুয়েল ময়মনসিংহ জেলার গৌরীপুর থানার ভেরা এলাকার আব্দুর রহিমের ছেলে। হাবিল সিলেটের শাহপরাণ থানাধীন বালুচর এলাকার মো. আলীর ছেলে। দুজনই বিবাহিত।

ঘটনার পর নিহতের পিতা বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় হাবিলকে আসামি করে হত্যা মামলা করেছেন।

নিহত জুয়েলের পরিবারের সদস্যরা হাবিলের স্ত্রীর সঙ্গে জুয়েলের কোনো অবৈধ সম্পর্ক থাকার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। তারা বলেছেন, খুনের ঘটনাকে ধামাচাপা দিতে হাবিল জুয়েলের ওপর দোষ চাপাচ্ছে। তারা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন।

ঘটনার পর গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন হাবিল। তিনি খুনের ঘটনা স্বীকার করে জানান, বারবার নিষেধ করা সত্ত্বেও জুয়েল তার স্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্ক না ছাড়ায় তিনি শেষ পর্যন্ত নিজেই বিচার করার সিদ্ধান্ত নেন।

আপনার মতামত লিখুন

গণবার্তা

মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২৬


পরকীয়ার জেরে বন্ধুকে ছুরিকাঘাতে হত্যা, স্বীকারোক্তি ঘাতকের

প্রকাশের তারিখ : ০২ জুন ২০২৬

featured Image
সিলেটে স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়ার কারণেই বন্ধু জুয়েলকে খুন করা হয়েছে বলে স্বীকার করেছেন ঘাতক হাবিল। বারবার নিষেধ করা সত্ত্বেও জুয়েল সম্পর্ক থেকে সরে না দাঁড়ানোয় পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়। ঘটনার দিনও জুয়েলকে অবৈধ সম্পর্ক থেকে সরে দাঁড়াতে অনুরোধ করা হলে তিনি তর্কে জড়ান। এর জেরে নির্জন স্থানে নিয়ে জুয়েলের গলা, বুক ও পিঠে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে হাবিল।রোববার (৩১ মে) ঘটনার পরপরই এলাকাবাসী হাবিলকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। আটকের পর থেকে তিনি একই বক্তব্য দিয়ে আসছেন। সোমবার (১ জুন) বিকালে আদালতেও তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।সিলেটের কোতোয়ালি থানার ওসি খান মো. মাইনুল জাকির জানান, জিজ্ঞাসাবাদে হাবিল পরকীয়ার বিষয়টি তুলে ধরেছে। তার স্ত্রীর সঙ্গে বন্ধু জুয়েলের পরকীয়ার কারণেই সে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে স্বীকার করেছে।ঘাতক হাবিল আরও জানায়, ঘটনার দিন তিনি জুয়েলের সঙ্গে আলোচনা করেছিলেন। তাকে ওই পথ থেকে সরে যাওয়ার অনুরোধও করেন। এতে জুয়েল ক্ষান্ত না হওয়ায় তাদের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা ও পরে মারামারির ঘটনা ঘটে।রোববার দুপুরে সিলেটের রায়নগর দপ্তরী পাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। কথা কাটাকাটির জেরে দুই বন্ধু হাবিল ও জুয়েলের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়। এক পর্যায়ে হাবিল জুয়েলকে টেনে পার্শ্ববর্তী গোয়ালীছড়া খালে ফেলে দেয় এবং ধারালো সুইচ গিয়ার চাকু দিয়ে তার গলা, পিঠ ও বুকে একাধিক আঘাত করে।স্থানীয়রা জানান, হাবিল চাকু দিয়ে জুয়েলের শরীরে ৩০ থেকে ৪০টি আঘাত করে। এতে অধিক রক্তক্ষরণে জুয়েল ঘটনাস্থলেই জ্ঞান হারায়। হাসপাতালে নেওয়ার পথেই তার মৃত্যু হয়।স্থানীয়রা জুয়েলকে উদ্ধার করে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে স্থানীয়রা হাবিলকে আটক করে গণধোলাই দিয়ে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে।নিহত জুয়েল ময়মনসিংহ জেলার গৌরীপুর থানার ভেরা এলাকার আব্দুর রহিমের ছেলে। হাবিল সিলেটের শাহপরাণ থানাধীন বালুচর এলাকার মো. আলীর ছেলে। দুজনই বিবাহিত।ঘটনার পর নিহতের পিতা বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় হাবিলকে আসামি করে হত্যা মামলা করেছেন।নিহত জুয়েলের পরিবারের সদস্যরা হাবিলের স্ত্রীর সঙ্গে জুয়েলের কোনো অবৈধ সম্পর্ক থাকার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। তারা বলেছেন, খুনের ঘটনাকে ধামাচাপা দিতে হাবিল জুয়েলের ওপর দোষ চাপাচ্ছে। তারা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন।ঘটনার পর গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন হাবিল। তিনি খুনের ঘটনা স্বীকার করে জানান, বারবার নিষেধ করা সত্ত্বেও জুয়েল তার স্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্ক না ছাড়ায় তিনি শেষ পর্যন্ত নিজেই বিচার করার সিদ্ধান্ত নেন।

গণবার্তা

সম্পাদকঃ নূর মোহাম্মদ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা