ঢাকা    মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২৬
ঢাকা    মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২৬
গণবার্তা

স্ত্রীর পরকীয়ার জেরে মামাতো ভাইকে কুপিয়ে হত্যা, স্বীকারোক্তি ঘাতকের

স্ত্রীর পরকীয়ার জেরে মামাতো ভাইকে কুপিয়ে হত্যা, স্বীকারোক্তি ঘাতকের

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়ার জেরে জোবায়েদ (২৬) নামের এক যুবককে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় শনিবার (৩০ মে) রাতে দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার প্রধান আসামি মো. রানা (৩৮) পুলিশের কাছে প্রাথমিক স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। গ্রেপ্তার রানা উপজেলার চরপলাশ গ্রামের মো. ফিরোজ মিয়ার ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার (২৯ মে) রাত ৮টার দিকে উপজেলার কোদালিয়া-হোসেনপুর পাকা সড়কের শৈলজানি এলাকার পুরপুরা ব্রিজের ওপর জোবায়েদের রক্তাক্ত মরদেহ পরে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেয় স্থানীয়রা। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ কিশোরগঞ্জ শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

ঘটনার পর শনিবার রাতে নিহতের বাবা আলতাফ উদ্দীন বাদী হয়ে পাকুন্দিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জনি মিয়াকে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঘটনার পরদিন শনিবার সকালে পার্শ্ববর্তী হোসেনপুর উপজেলার শাহেদল ইউনিয়নের রহিমপুর গ্রামের একটি বাড়ি থেকে রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়। রোববার (৩১ মে) দুপুরে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

জিজ্ঞাসাবাদে রানা পুলিশের কাছে জানান, জোবায়েদ তার আপন মামাতো ভাই। এই সুবাদে রানার স্ত্রীর সঙ্গে জোবায়েদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এক পর্যায়ে জোবায়েদ রানার স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন। প্রায় দুই মাস আগে রানা বিষয়টি জানতে পারেন। পরে তিনি তার স্ত্রী ও জোবায়েদকে এ সম্পর্ক থেকে বিরত থাকতে অনুরোধ করেন। এর পরও জোবায়েদ সম্পর্ক চালিয়ে যেতে থাকেন।

এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। বিরোধ চরম আকার ধারণ করলে এক পর্যায়ে তার স্ত্রী বাবার বাড়ি চলে যান।

রানা জানান, ঈদুল আজহার দুই দিন আগে তিনি জানতে পারেন তার স্ত্রী জোবায়েদের বাড়িতে অবস্থান করছেন। সেখানে গিয়ে তিনি তাদের দুজনকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখতে পান বলে পুলিশকে জানিয়েছেন। এরপর ক্ষোভ ও দুঃখে প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে জোবায়েদকে হত্যার পরিকল্পনা করেন রানা।

রানা আরও জানান, সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী ঈদুল আজহার পরের দিন শুক্রবার রাতে তিনি জোবায়েদকে বাড়ি থেকে ডেকে শৈলজানি এলাকার পুরপুরা ব্রিজের ওপর নিয়ে যান। সেখানে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জোবায়েদকে হত্যা করে পালিয়ে যান।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. জনি মিয়া বলেন, গ্রেপ্তার রানাকে রোববার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন

গণবার্তা

মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২৬


স্ত্রীর পরকীয়ার জেরে মামাতো ভাইকে কুপিয়ে হত্যা, স্বীকারোক্তি ঘাতকের

প্রকাশের তারিখ : ০২ জুন ২০২৬

featured Image
কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়ার জেরে জোবায়েদ (২৬) নামের এক যুবককে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় শনিবার (৩০ মে) রাতে দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার প্রধান আসামি মো. রানা (৩৮) পুলিশের কাছে প্রাথমিক স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। গ্রেপ্তার রানা উপজেলার চরপলাশ গ্রামের মো. ফিরোজ মিয়ার ছেলে।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার (২৯ মে) রাত ৮টার দিকে উপজেলার কোদালিয়া-হোসেনপুর পাকা সড়কের শৈলজানি এলাকার পুরপুরা ব্রিজের ওপর জোবায়েদের রক্তাক্ত মরদেহ পরে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেয় স্থানীয়রা। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ কিশোরগঞ্জ শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।ঘটনার পর শনিবার রাতে নিহতের বাবা আলতাফ উদ্দীন বাদী হয়ে পাকুন্দিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জনি মিয়াকে।পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঘটনার পরদিন শনিবার সকালে পার্শ্ববর্তী হোসেনপুর উপজেলার শাহেদল ইউনিয়নের রহিমপুর গ্রামের একটি বাড়ি থেকে রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়। রোববার (৩১ মে) দুপুরে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।জিজ্ঞাসাবাদে রানা পুলিশের কাছে জানান, জোবায়েদ তার আপন মামাতো ভাই। এই সুবাদে রানার স্ত্রীর সঙ্গে জোবায়েদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এক পর্যায়ে জোবায়েদ রানার স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন। প্রায় দুই মাস আগে রানা বিষয়টি জানতে পারেন। পরে তিনি তার স্ত্রী ও জোবায়েদকে এ সম্পর্ক থেকে বিরত থাকতে অনুরোধ করেন। এর পরও জোবায়েদ সম্পর্ক চালিয়ে যেতে থাকেন।এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। বিরোধ চরম আকার ধারণ করলে এক পর্যায়ে তার স্ত্রী বাবার বাড়ি চলে যান।রানা জানান, ঈদুল আজহার দুই দিন আগে তিনি জানতে পারেন তার স্ত্রী জোবায়েদের বাড়িতে অবস্থান করছেন। সেখানে গিয়ে তিনি তাদের দুজনকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখতে পান বলে পুলিশকে জানিয়েছেন। এরপর ক্ষোভ ও দুঃখে প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে জোবায়েদকে হত্যার পরিকল্পনা করেন রানা।রানা আরও জানান, সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী ঈদুল আজহার পরের দিন শুক্রবার রাতে তিনি জোবায়েদকে বাড়ি থেকে ডেকে শৈলজানি এলাকার পুরপুরা ব্রিজের ওপর নিয়ে যান। সেখানে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জোবায়েদকে হত্যা করে পালিয়ে যান।মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. জনি মিয়া বলেন, গ্রেপ্তার রানাকে রোববার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

গণবার্তা

সম্পাদকঃ নূর মোহাম্মদ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা