ঢাকা    মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২৬
ঢাকা    মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২৬
গণবার্তা

মিরপুরে বাসা থেকে বৃদ্ধার পচাগলা মরদেহ উদ্ধার

মিরপুরে বাসা থেকে বৃদ্ধার পচাগলা মরদেহ উদ্ধার

রাজধানীর মিরপুর-১১ এলাকায় একটি বাসা থেকে নুরজাহান বেগম (৭২) নামে এক বৃদ্ধার পচাগলা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রবিবার (১ জুন) রাতে জাতীয় জরুরি সেবা ‘৯৯৯’ নম্বরে কল পেয়ে মিরপুরের ৬ নম্বর সেকশনের সি ব্লকের ১২ নম্বর রোডের একটি ফ্ল্যাট থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায় পল্লবী থানা পুলিশ।

পুলিশের ধারণা, উদ্ধারের অন্তত সাত থেকে আট দিন আগে ওই বৃদ্ধার মৃত্যু হয়েছে। দীর্ঘদিন পড়ে থাকায় মরদেহটিতে পচন ধরেছিল।

ঘটনার বিবরণ

পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাসান বাসির জানান, নুরজাহান বেগম মিরপুরের ওই বাসায় তার মেয়ের সঙ্গেই থাকতেন। তবে মেয়ে থাকতেন অন্য একটি কক্ষে। বেশ কিছুদিন মায়ের কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে রবিবার এক নার্সকে ডেকে আনেন মেয়ে। ওই নার্স কক্ষে গিয়ে বৃদ্ধাকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান। পরে খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করে।

মেয়ের অস্বাভাবিক আচরণে সন্দেহ

ওসি জানান, ‘বৃদ্ধার মেয়েকে তার মায়ের মৃত্যুর কারণ জিজ্ঞেস করলে যে উত্তর দেন তা আমার কাছে সন্তোষজনক মনে হয়নি। বৃদ্ধার মৃত্যুর সঠিক সময়ও তিনি বলতে পারেননি। তাই আমরা মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছি।’

কক্ষের অপরিচ্ছন্ন অবস্থা

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই বৃদ্ধার মেয়ের স্বামী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন, যিনি প্রায় পাঁচ বছর আগে মারা যান। পুলিশ জানিয়েছে, বৃদ্ধা যে কক্ষটিতে থাকতেন, সেটি ছিল অত্যন্ত অপরিচ্ছন্ন, অগোছালো এবং আবর্জনায় ভরা। কক্ষের ভেতরের পরিবেশ দেখে স্পষ্ট বোঝা গেছে যে দীর্ঘদিন ধরে তিনি চরম অবহেলা ও পরিচর্যার অভাবে ছিলেন।

ছেলেরা সুপ্রতিষ্ঠিত, মায়ের প্রতি অবহেলা

অনুসন্ধানে পুলিশ জানতে পেরেছে, মৃত নুরজাহান বেগমের তিন ছেলেই সমাজে সুপ্রতিষ্ঠিত। তাদের একজন সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, একজন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষক এবং অন্যজন কানাডায় থাকেন। তবে তারা মায়ের সঙ্গে থাকতেন না, আলাদা বাসায় বসবাস করতেন।

তদন্ত চলমান

পুলিশ আরও জানায়, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অন্তত এক সপ্তাহ আগে তার মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ঘটনায় থানায় ডায়েরি করা হয়েছে এবং মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।


বিষয় : রাজধানী ঢাকার সংবাদ

আপনার মতামত লিখুন

গণবার্তা

মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২৬


মিরপুরে বাসা থেকে বৃদ্ধার পচাগলা মরদেহ উদ্ধার

প্রকাশের তারিখ : ০২ জুন ২০২৬

featured Image
রাজধানীর মিরপুর-১১ এলাকায় একটি বাসা থেকে নুরজাহান বেগম (৭২) নামে এক বৃদ্ধার পচাগলা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রবিবার (১ জুন) রাতে জাতীয় জরুরি সেবা ‘৯৯৯’ নম্বরে কল পেয়ে মিরপুরের ৬ নম্বর সেকশনের সি ব্লকের ১২ নম্বর রোডের একটি ফ্ল্যাট থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায় পল্লবী থানা পুলিশ।পুলিশের ধারণা, উদ্ধারের অন্তত সাত থেকে আট দিন আগে ওই বৃদ্ধার মৃত্যু হয়েছে। দীর্ঘদিন পড়ে থাকায় মরদেহটিতে পচন ধরেছিল।ঘটনার বিবরণপল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাসান বাসির জানান, নুরজাহান বেগম মিরপুরের ওই বাসায় তার মেয়ের সঙ্গেই থাকতেন। তবে মেয়ে থাকতেন অন্য একটি কক্ষে। বেশ কিছুদিন মায়ের কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে রবিবার এক নার্সকে ডেকে আনেন মেয়ে। ওই নার্স কক্ষে গিয়ে বৃদ্ধাকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান। পরে খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করে।মেয়ের অস্বাভাবিক আচরণে সন্দেহওসি জানান, ‘বৃদ্ধার মেয়েকে তার মায়ের মৃত্যুর কারণ জিজ্ঞেস করলে যে উত্তর দেন তা আমার কাছে সন্তোষজনক মনে হয়নি। বৃদ্ধার মৃত্যুর সঠিক সময়ও তিনি বলতে পারেননি। তাই আমরা মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছি।’কক্ষের অপরিচ্ছন্ন অবস্থাস্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই বৃদ্ধার মেয়ের স্বামী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন, যিনি প্রায় পাঁচ বছর আগে মারা যান। পুলিশ জানিয়েছে, বৃদ্ধা যে কক্ষটিতে থাকতেন, সেটি ছিল অত্যন্ত অপরিচ্ছন্ন, অগোছালো এবং আবর্জনায় ভরা। কক্ষের ভেতরের পরিবেশ দেখে স্পষ্ট বোঝা গেছে যে দীর্ঘদিন ধরে তিনি চরম অবহেলা ও পরিচর্যার অভাবে ছিলেন।ছেলেরা সুপ্রতিষ্ঠিত, মায়ের প্রতি অবহেলাঅনুসন্ধানে পুলিশ জানতে পেরেছে, মৃত নুরজাহান বেগমের তিন ছেলেই সমাজে সুপ্রতিষ্ঠিত। তাদের একজন সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, একজন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষক এবং অন্যজন কানাডায় থাকেন। তবে তারা মায়ের সঙ্গে থাকতেন না, আলাদা বাসায় বসবাস করতেন।তদন্ত চলমানপুলিশ আরও জানায়, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অন্তত এক সপ্তাহ আগে তার মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ঘটনায় থানায় ডায়েরি করা হয়েছে এবং মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

গণবার্তা

সম্পাদকঃ নূর মোহাম্মদ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা