গ্রুপ এফ-এর ম্যাচে শক্তিশালী নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে দুবার পিছিয়ে পড়েও ড্র নিয়ে মাঠ ছেড়েছে জাপান। রোববার ডালাসে অনুষ্ঠিত ম্যাচের প্রথমার্ধ ছিল গোলশূন্য। আর দ্বিতীয়ার্ধে হয়েছে চারটি গোল। ভার্জিল ফন ডাইকের গোলে পিছিয়ে পড়ার পর সমতায় টানেন নাকামুরা। কিছুক্ষণ পর নেদারল্যান্ডসকে আবার এগিয়ে নেন সামারভিল। দ্বিতীয়বার ম্যাচে সমতা ফেরান দাইচি কামাদা।
ম্যাচের শুরুতেই বল দখলে এগিয়ে ছিল নেদারল্যান্ডস। তবে জাপানের রক্ষণভাগ দারুণ শৃঙ্খলার সঙ্গে খেলায় প্রথমার্ধে গোল করতে পারেনি অরেঞ্জ বাহিনী। জাপানও তেমন আক্রমণ পাতাতে পারেনি। প্রথমার্ধ শেষ হয় ০-০ গোলে।
দ্বিতীয়ার্ধের ষষ্ঠ মিনিটে অবশেষে ম্যাচের ডেডলক ভাঙে। রায়ান খ্রাফেনবের্খের ক্রস ডি-বক্সে পেয়ে নিখুঁত হেডে গোল করেন ভার্জিল ফন ডাইক। বল পোস্টে লেগে জালে জড়ায়। নেদারল্যান্ডস ১-০ গোলে এগিয়ে যায়।
৫৭তম মিনিটে জাপান প্রথমবার লক্ষ্যে শট নিয়েই গোল পেয়ে যায়। তাকেফুসা কুবোর কাটব্যাক ধরে একটু পিছু হটে ডি-বক্সের বাইরে বেরিয়ে শট নেন নাকামুরা। বল একজনের পা ছুঁয়ে গোলরক্ষককে ফাঁকি দিয়ে জালে জড়ায়। ১-১ গোলে সমতা ফেরে।
জাপান ম্যাচে ফিরে এলে আক্রমণ আরও বাড়ায় নেদারল্যান্ডস। তাদের প্রচেষ্টা সফল হয় সামারভিলের গোলে।
নাকামুরার গোলের সাত মিনিট পরেই দারুণ নৈপুণ্যে দলকে আবার এগিয়ে নেন সামারভিল। খ্রাফেনবের্খের পাস ডি-বক্সে ডান দিকে পেয়ে জায়গা বানিয়ে জোরাল শটে দূরের পোস্ট দিয়ে গোল করেন এই উইঙ্গার। নেদারল্যান্ডস ২-১ গোলে এগিয়ে যায়।
ওই গোলের পর জাপান সমতা ফেরাতে মরিয়া হয়ে ওঠে। তবে নেদারল্যান্ডসের রক্ষণ বলতে দিচ্ছিল না। শেষ দিকে চাপ আরও বাড়ায় জাপানি বাহিনী।
নির্ধারিত সময়ের দুই মিনিট বাকি থাকতে দৃশ্যপট বদলে দেন দাইচি কামাদা। কিছুক্ষণ আগে বদলি হিসেবে মাঠে নামা এই ফরোয়ার্ড সবার ওপর লাফিয়ে হেড করেন কর্নার থেকে আসা বল। বল সামনে কামাদার মাথায় লেগে একটু দিক পাল্টে জালে জড়ায়। ২-২ গোলে সমতা ফেরে জাপানের।
এরপর আর কোনো দলই গোল করতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত নেদারল্যান্ডসকে ২-২ গোলে ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়। পুরো ম্যাচে খুব বেশি সুযোগ তৈরি করতে পারেনি জাপান। পজেশন রাখার পাশাপাশি আক্রমণের বিচারেও বেশিরভাগ সময় পিছিয়ে ছিল এশিয়ার দলটি। তবে শেষ দিকে সমতায় ফিরতে তীব্র চেষ্টা করে তারা, তাতে সাফল্যও ধরা দেয়।
ম্যাচ পরিসংখ্যান
ম্যাচের সেরা নির্বাচিত হন দাইচি কামাদা। শেষ মুহূর্তের গুরুত্বপূর্ণ গোল ও মাঝমাঠে তার অসামান্য উপস্থিতি জাপানকে এই ড্র উপহার দিয়েছে।
ম্যাচ শেষে নেদারল্যান্ডসের কোচ বলেন, “আমরা ম্যাচ নিয়ন্ত্রণে ছিলাম। কিন্তু শেষ দিকে একটি ভুলের কারণে জাপান সমতা ফিরিয়ে নেয়। এটা হতাশাজনক। সামনের ম্যাচগুলোতে আরও সতর্ক হতে হবে।”
অন্যদিকে জাপানি কোচ বলেন, “দলের লড়াইয়ের মানসিকতা দেখে আমি গর্বিত। দুবার পিছিয়ে পড়েও দল হাল ছেড়ে দেয়নি। শেষ মুহূর্তে কামাদার গোলটা দারুণ ছিল। এই একটি পয়েন্ট সামনের ম্যাচের জন্য আত্মবিশ্বাস জোগাবে।”
গোলদাতা নাকামুরা বলেন, “আমরা জানতাম নেদারল্যান্ডস শক্তিশালী দল। কিন্তু আমরা প্রমাণ করেছি, লড়াই করতে জানি। দ্বিতীয়ার্ধে আমরা নিজেদের খেলাটা খেলতে পেরেছি।”
এক পয়েন্ট করে পেয়েছে নেদারল্যান্ডস ও জাপান। একই গ্রুপের অপর ম্যাচে আগেই ঘানাকে ২-০ গোলে হারিয়েছে উরুগুয়ে। ফলে ৩ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপের শীর্ষে আছে উরুগুয়ে। পরবর্তী ম্যাচগুলোতে এই গ্রুপে উত্তেজনা আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
জাপানের পরবর্তী প্রতিপক্ষ উরুগুয়ে, আর নেদারল্যান্ডস খেলবে ঘানার বিপক্ষে। ডালাসের এই ম্যাচ প্রমাণ করল, এশিয়ার জাপান যে কোনো বড় দলের মোকাবিলা করতে সক্ষম। আর নেদারল্যান্ডসের জন্য শেষ মুহূর্তের এই গোল হজম বড় শেখার বিষয় হয়ে দাঁড়াল।
বিষয় : জাপান ডাচ নেদারল্যান্ডস

সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৫ জুন ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন