ঢাকা    সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
ঢাকা    সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
গণবার্তা

বিশ্বকাপের পেছনে ২২০ বিলিয়ন ডলার, অথচ ৪০ বিলিয়নেই শেষ হতো ক্ষুধা: শায়খ আহমাদুল্লাহ

বিশ্বকাপের পেছনে ২২০ বিলিয়ন ডলার, অথচ ৪০ বিলিয়নেই শেষ হতো ক্ষুধা: শায়খ আহমাদুল্লাহ

বর্তমান সময়ের বিশ্বব্যবস্থা ও মানুষের নৈতিক অবক্ষয় নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশিষ্ট ইসলামিক স্কলার শায়খ আহমাদুল্লাহ। সোমবার সকালে নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি মন্তব্য করেন যে, পৃথিবীজুড়ে এখন কেবলই মনুষ্যত্ব-বিবর্জিত ‘খোলস-মানুষের’ বসবাস।

ফেসবুকে দেওয়া পোস্টে শায়খ আহমাদুল্লাহ ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপের বিশাল ব্যয়ের প্রসঙ্গ টেনে আনেন। তিনি উল্লেখ করেন, ওই বিশ্বকাপে ২২০ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করা হয়েছিল। অথচ জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির তথ্যমতে, মাত্র ৪০ বিলিয়ন ডলার খরচ করলেই প্রতি বছর পৃথিবীর ৮২ কোটি ৮০ লাখ ক্ষুধার্ত মানুষের খাদ্যের জোগান দেওয়া সম্ভব। শায়খ আহমাদুল্লাহ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “একদিকে কোটি কোটি মানুষ খাদ্যাভাবে ভুগছে, অন্যদিকে একটি খেলার পেছনে গোটা পৃথিবীর সম্মিলিত উন্মাদনা প্রমাণ করে যে আমরা মনুষ্যত্বের মর্যাদা অনেক আগেই হারিয়ে ফেলেছি।”

তিনি আরও বলেন, বর্তমান বিশ্বে মানুষ যেন নৈতিকতা, মানবতা ও বিবেককে পাশ কাটিয়ে শুধু বস্তুবাদের পেছনে ছুটছে। ফুটবল খেলা উপভোগ করা যেমন স্বাভাবিক, কিন্তু সেখানে বিনিয়োগের এই পাগলামি ও ক্ষুধার্ত মানুষের কথা না ভাবাটা প্রমাণ করে আমরা কেবল ‘খোলস’ হয়ে যাচ্ছি—ভেতরে কোনো মনুষ্যত্ব নেই।

নিজের পোস্টের মন্তব্যের ঘরে তিনি ফুটবল বিশ্বকাপ ঘিরে করপোরেট দুনিয়ায় সম্ভাব্য ক্ষতির চিত্র তুলে ধরেন। আন্তর্জাতিক এআই প্ল্যাটফর্ম ‘ইউকেজি’-র জরিপ উদ্ধৃত করে তিনি জানান, চলতি বিশ্বকাপে করপোরেট দুনিয়ায় প্রায় দুই লাখ কোটি টাকার ক্ষতি হতে পারে।

জরিপের তথ্যানুযায়ী, বিশ্বকাপের ম্যাচগুলোর সময়ের সঙ্গে মিল রেখে বিশ্বের প্রায় ৩৭ শতাংশ কর্মী তাদের কাজের রুটিন পরিবর্তনের পরিকল্পনা করছেন। এছাড়া ২৭ শতাংশ কর্মী ম্যাচ দেখার জন্য দেরিতে অফিসে আসা, আগেভাগে চলে যাওয়া কিংবা কর্মদিবসে অনুপস্থিত থেকে কাজ ফাঁকি দিতে পারেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

শায়খ আহমাদুল্লাহর এই বিশ্লেষণধর্মী স্ট্যাটাসটি মুহূর্তের মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে পড়ে। পোস্ট দেওয়ার মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যে এতে প্রায় ৬২ হাজারেরও বেশি মানুষ বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। এছাড়া দেড় হাজারের বেশি ব্যবহারকারী পোস্টটির মন্তব্যের ঘরে নিজেদের মতামত প্রকাশ করেছেন।

প্রতিক্রিয়ায় অনেকেই এই বিশ্লেষণকে সময়োপযোগী ও বাস্তবসম্মত বলে মন্তব্য করেছেন। একজন ব্যবহারকারী লেখেন, “আমরা যেখানকার ভোক্তা সংস্কৃতি ও বিনোদন পাগলামিতে ডুবে আছি, সেখান থেকে বেরিয়ে আসার সময় এসেছে।” আরেকজন লেখেন, “ক্ষুধার্ত মানুষকে বাঁচাতে বিশ্বকাপের মাত্র ২০ শতাংশ ব্যয়ই যথেষ্ট। কিন্তু সেই অর্থনীতি আজ বাণিজ্যিক ফুটবলের ভেতর আটকে গেছে।”

তবে সব প্রতিক্রিয়া যে ইতিবাচক ছিল, তা নয়। কিছু ব্যবহারকারী শায়খ আহমাদুল্লাহর এই বক্তব্যকে ‘অতিরঞ্জিত’ বলেও আখ্যা দিয়েছেন। একজন কমেন্ট করেন, “বিশ্বকাপ বিনোদন, আর বিনোদনের পেছনে ব্যয় যেমন স্বাভাবিক, তেমনি ক্ষুধা দূরীকরণ একটি পৃথক রাষ্ট্রীয় ও আন্তর্জাতিক দায়িত্ব। এদের একসঙ্গে তুলনা করা যুক্তিযুক্ত নয়।”

অন্যদিকে সমর্থকেরা মনে করেন, সম্পদের সঠিক বণ্টন ও অগ্রাধিকারের ক্রম নির্ধারণের ক্ষেত্রে এই পোস্ট একটি সজাগ বার্তা বহন করছে।শায়খ আহমাদুল্লাহর পোস্টটি এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। আপাতত এটি ভাগ ও মন্তব্যের মাধ্যমে নতুন করে ভাবাচ্ছে মানুষকে—বিনোদনের নামে অমিত ব্যয় আর ক্ষুধার বিপরীত চিত্রটির পাশাপাশি বৈষম্যের এই চরম রূপকে।

আপনার মতামত লিখুন

গণবার্তা

সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬


বিশ্বকাপের পেছনে ২২০ বিলিয়ন ডলার, অথচ ৪০ বিলিয়নেই শেষ হতো ক্ষুধা: শায়খ আহমাদুল্লাহ

প্রকাশের তারিখ : ১৫ জুন ২০২৬

featured Image
বর্তমান সময়ের বিশ্বব্যবস্থা ও মানুষের নৈতিক অবক্ষয় নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশিষ্ট ইসলামিক স্কলার শায়খ আহমাদুল্লাহ। সোমবার সকালে নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি মন্তব্য করেন যে, পৃথিবীজুড়ে এখন কেবলই মনুষ্যত্ব-বিবর্জিত ‘খোলস-মানুষের’ বসবাস।ফেসবুকে দেওয়া পোস্টে শায়খ আহমাদুল্লাহ ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপের বিশাল ব্যয়ের প্রসঙ্গ টেনে আনেন। তিনি উল্লেখ করেন, ওই বিশ্বকাপে ২২০ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করা হয়েছিল। অথচ জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির তথ্যমতে, মাত্র ৪০ বিলিয়ন ডলার খরচ করলেই প্রতি বছর পৃথিবীর ৮২ কোটি ৮০ লাখ ক্ষুধার্ত মানুষের খাদ্যের জোগান দেওয়া সম্ভব। শায়খ আহমাদুল্লাহ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “একদিকে কোটি কোটি মানুষ খাদ্যাভাবে ভুগছে, অন্যদিকে একটি খেলার পেছনে গোটা পৃথিবীর সম্মিলিত উন্মাদনা প্রমাণ করে যে আমরা মনুষ্যত্বের মর্যাদা অনেক আগেই হারিয়ে ফেলেছি।”তিনি আরও বলেন, বর্তমান বিশ্বে মানুষ যেন নৈতিকতা, মানবতা ও বিবেককে পাশ কাটিয়ে শুধু বস্তুবাদের পেছনে ছুটছে। ফুটবল খেলা উপভোগ করা যেমন স্বাভাবিক, কিন্তু সেখানে বিনিয়োগের এই পাগলামি ও ক্ষুধার্ত মানুষের কথা না ভাবাটা প্রমাণ করে আমরা কেবল ‘খোলস’ হয়ে যাচ্ছি—ভেতরে কোনো মনুষ্যত্ব নেই।নিজের পোস্টের মন্তব্যের ঘরে তিনি ফুটবল বিশ্বকাপ ঘিরে করপোরেট দুনিয়ায় সম্ভাব্য ক্ষতির চিত্র তুলে ধরেন। আন্তর্জাতিক এআই প্ল্যাটফর্ম ‘ইউকেজি’-র জরিপ উদ্ধৃত করে তিনি জানান, চলতি বিশ্বকাপে করপোরেট দুনিয়ায় প্রায় দুই লাখ কোটি টাকার ক্ষতি হতে পারে।জরিপের তথ্যানুযায়ী, বিশ্বকাপের ম্যাচগুলোর সময়ের সঙ্গে মিল রেখে বিশ্বের প্রায় ৩৭ শতাংশ কর্মী তাদের কাজের রুটিন পরিবর্তনের পরিকল্পনা করছেন। এছাড়া ২৭ শতাংশ কর্মী ম্যাচ দেখার জন্য দেরিতে অফিসে আসা, আগেভাগে চলে যাওয়া কিংবা কর্মদিবসে অনুপস্থিত থেকে কাজ ফাঁকি দিতে পারেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।শায়খ আহমাদুল্লাহর এই বিশ্লেষণধর্মী স্ট্যাটাসটি মুহূর্তের মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে পড়ে। পোস্ট দেওয়ার মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যে এতে প্রায় ৬২ হাজারেরও বেশি মানুষ বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। এছাড়া দেড় হাজারের বেশি ব্যবহারকারী পোস্টটির মন্তব্যের ঘরে নিজেদের মতামত প্রকাশ করেছেন।প্রতিক্রিয়ায় অনেকেই এই বিশ্লেষণকে সময়োপযোগী ও বাস্তবসম্মত বলে মন্তব্য করেছেন। একজন ব্যবহারকারী লেখেন, “আমরা যেখানকার ভোক্তা সংস্কৃতি ও বিনোদন পাগলামিতে ডুবে আছি, সেখান থেকে বেরিয়ে আসার সময় এসেছে।” আরেকজন লেখেন, “ক্ষুধার্ত মানুষকে বাঁচাতে বিশ্বকাপের মাত্র ২০ শতাংশ ব্যয়ই যথেষ্ট। কিন্তু সেই অর্থনীতি আজ বাণিজ্যিক ফুটবলের ভেতর আটকে গেছে।”তবে সব প্রতিক্রিয়া যে ইতিবাচক ছিল, তা নয়। কিছু ব্যবহারকারী শায়খ আহমাদুল্লাহর এই বক্তব্যকে ‘অতিরঞ্জিত’ বলেও আখ্যা দিয়েছেন। একজন কমেন্ট করেন, “বিশ্বকাপ বিনোদন, আর বিনোদনের পেছনে ব্যয় যেমন স্বাভাবিক, তেমনি ক্ষুধা দূরীকরণ একটি পৃথক রাষ্ট্রীয় ও আন্তর্জাতিক দায়িত্ব। এদের একসঙ্গে তুলনা করা যুক্তিযুক্ত নয়।”অন্যদিকে সমর্থকেরা মনে করেন, সম্পদের সঠিক বণ্টন ও অগ্রাধিকারের ক্রম নির্ধারণের ক্ষেত্রে এই পোস্ট একটি সজাগ বার্তা বহন করছে।শায়খ আহমাদুল্লাহর পোস্টটি এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। আপাতত এটি ভাগ ও মন্তব্যের মাধ্যমে নতুন করে ভাবাচ্ছে মানুষকে—বিনোদনের নামে অমিত ব্যয় আর ক্ষুধার বিপরীত চিত্রটির পাশাপাশি বৈষম্যের এই চরম রূপকে।

গণবার্তা

সম্পাদকঃ নূর মোহাম্মদ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা