ঢাকা    মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
ঢাকা    মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
গণবার্তা

সৌদি আরবের পতাকা মাটিতে নামায়নি ফিফা, কালেমার সম্মানে ইতিহাস গড়ল সংস্থা

সৌদি আরব ও উরুগুয়ের ১-১ গোলে ড্র

সৌদি আরব ও উরুগুয়ের ১-১ গোলে ড্র

বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত যে কয়টি দেশ অংশ নিয়েছে তার মধ্যে কেবল দুটি দেশের পতাকাতেই আল্লাহর নাম লেখা আছে। সৌদি আরবের পতাকায় লেখা আছে কালেমা তাইয়্যিবা ও ইরাকের পতাকায় আল্লাহু আকবার। ইরাক এখন পর্যন্ত মাঠে নামেনি, তবে সৌদি আরব ইতোমধ্যে খেলে ফেলেছে তাদের প্রথম ম্যাচ। উরুগুয়ের বিপক্ষে যেখানে তারা ১-১ গোলে ড্র করে।

নিয়ম অনুযায়ী, ওই ম্যাচের শুরুতে জাতীয় সংগীত গাওয়ার আগে দুই দেশের পতাকা মাঠে প্রদর্শন করা হয়; কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে দেখা যায় সৌদি আরবের পতাকা মাটিতে নামানো হয়নি। এর আগে এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপের যে কয়টি ম্যাচ হয়েছে, সবগুলো ম্যাচেই জাতীয় সংগীত গাওয়ার সময় পতাকা মাটিতে নামানো হয়েছিল। শুধু এই ম্যাচেই ব্যতিক্রম দেখা গেল।
সৌদি আরবের পতাকা মাটিতে নামানো হয়নি। আবার যাতে এক দেশের পতাকা মাটিতে নামানো আরেক দেশেরটা উঠানো—এই বিতর্ক এড়াতে উরুগুয়ের পতাকাও ওপরে উঠিয়ে রাখা হয়

সৌদি আরবের নিয়ম অনুযায়ী, কালিমা খচিত হওয়ায় দেশটির পতাকাকে কখনো মাটিতে নামানো যাবে না। মূলত ফিফা তাদের এই স্পিরিটকেই সম্মান দেখিয়ে পতাকা না নামিয়ে হাতে উঁচিয়ে রেখেছিল। সৌদি আরবের অনুরোধেই ফিফা এমন সম্মান দেখায়। যার কারণে প্রশংসাও পাচ্ছে ফিফা।

বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ থেকেই জাতীয় সংগীতের সময় পতাকা মাটিতে নামানোর চল ছিল। কিন্তু সৌদি আরবের পতাকায় ইসলামের কালেমা থাকায় দেশটির পক্ষ থেকে ফিফাকে বিশেষ অনুরোধ জানানো হয় পতাকা যেন মাটিতে না নামানো হয়। ফিফা সেই অনুরোধ রক্ষা করেছে এবং পতাকা হাতেই উঁচিয়ে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

ফিফার এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে সৌদি আরব ফুটবল ফেডারেশন (এসএএফএফ)। তারা এক বিবৃতিতে ফিফাকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেছে, ‘আমাদের ধর্মীয় মূল্যবোধকে সম্মান জানানোর জন্য ফিফাকে ধন্যবাদ। এটি দেখায় ফুটবল শুধু খেলা নয়, বরং সংস্কৃতি ও বিশ্বাসের প্রতিও শ্রদ্ধাশীল।’


মিয়ামি স্টেডিয়ামে উরুগুয়ের দাপুটে খেলায় ম্যাচটি ১-১ ড্র হয়েছে। ফলে পয়েন্ট ভাগাভাগি করেছে দুই দল। ম্যাচে ২৭টি শট নিয়ে ১০টি লক্ষ্যে রাখলেও একটির বেশি গোল আদায় করতে পারেনি উরুগুয়ে। অন্যদিকে ৭ শটের তিনটি লক্ষ্যে রেখে একটি গোল করে সৌদি আরব।

শক্তিমত্তায় এগিয়ে থাকা দলের জন্য হতাশার রাত ছিল এটি! স্পেনকে রুখে গোলশূন্য ড্র করেছে কেপ ভার্দে, মিসরের সঙ্গে ড্র করেছে বেলজিয়াম, এবার সৌদি আরব ড্র করল উরুগুয়ের সাথে।

ম্যাচের ৪১তম মিনিটে এগিয়ে যায় সৌদি আরব। কর্নার থেকে চমৎকার বল ভাসিয়ে দেন আল জুয়াইর। বলটি পেছনের পোস্টে থাকা আবদুলহামিদের কাছে পৌঁছায়। সেখান থেকে তিনি শক্তিশালী শট নেন উরুগুয়ের গোলরক্ষক মুসলেরার দিকে। মুসলেরা প্রথম শটটি ঠেকাতে সক্ষম হলেও পুরোপুরি ক্লিয়ার করতে পারেননি। সুযোগ বুঝে দ্রুত বলের কাছে পৌঁছে যান আল আমরি। রিবাউন্ড থেকে সহজ টোকায় বল জালে পাঠিয়ে সৌদি আরবকে এনে দেন ১-০ লিড।

দ্বিতীয়ার্ধের পুরোটাই খেলেছে উরুগুয়ে। একের পর এক আক্রমণ করে গেছে। অবশেষে ৮০তম মিনিটে ডেডলক ভাঙেন ম্যাক্সিমিলিয়ানো আরাউহো। প্রথমে ভিনাসের হেড থেকে আসা বল দুর্দান্তভাবে ঠেকিয়ে দেন সৌদি গোলরক্ষক আল-ওয়াইস। তবে বলটি বিপদমুক্ত করতে না পারায় তা গিয়ে পড়ে আরাউহোর সামনে। গোলরক্ষক আল-ওয়াইস তখন অবস্থানের বাইরে থাকায় সহজ টোকায় বল জালে পাঠিয়ে দেন আরাউহো।

যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে আরও একবার নিজের দলকে বিপদ থেকে রক্ষা করেন আল-ওয়াইস। ফেদেরিকো ভালভার্দের দূর থেকে নেওয়া শক্তিশালী শট ডাইভ দিয়ে ঠেকিয়ে দেন তিনি, ফলে নিশ্চিত গোল থেকে বঞ্চিত হয় উরুগুয়ে।

গত বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে দিয়েছিল সৌদি আরব। এবার লাতিন আমেরিকার আরেক পরাশক্তি উরুগুয়ের বিপক্ষে প্রথমে এগিয়ে গিয়েছিল তারা। সেই লিড ধরে রাখতে পারেনি। তবে উরুগুয়ের মুহুর্মুহু আক্রমণ ঠেকিয়ে হার ঠিকই এড়িয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশটি।
সৌদি আরবের কোচ ম্যাচ শেষে বলেন, ‘আমরা দারুণ খেলেছি। উরুগুয়ের মতো দলের বিপক্ষে পয়েন্ট পাওয়া বড় ব্যাপার। বিশেষ করে দ্বিতীয়ার্ধে তাদের বাঁধা দেওয়া সহজ ছিল না।’

উরুগুয়ের কোচ অবশ্য হতাশ। তিনি বলেন, ‘আমরা ২৭টি শট নিয়েছি, অথচ মাত্র একটি গোল করতে পেরেছি। এটি আমাদের দুর্বল ফিনিশিংয়ের পরিচয়। সৌদি আরবকে কৃতিত্ব দিতে হবে তাদের রক্ষণ ও গোলরক্ষকের জন্য।’
ফিফার প্রশংসা

সৌদি আরবের পতাকা মাটিতে না নামানোর ফিফার সিদ্ধান্তটি এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশংসিত হচ্ছে। ফুটবলপ্রেমীরা বলছেন, ফিফা ধর্মীয় বিশ্বাস ও সংস্কৃতির প্রতি যথাযথ সম্মান দেখিয়েছে। অনেকে মনে করেন, ফিফার এমন উদার মনোভাব বিশ্বকাপকে আরও মানবিক ও সবার জন্য উন্মুক্ত করে তুলেছে।

এখন পর্যন্ত ফিফার এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কোনো আনুষ্ঠানিক আপত্তি জানানো হয়নি। সংশ্লিষ্ট মহল বলছে, এটাই ফুটবলের সার্বজনীন চেতনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। সৌদি আরবের পতাকা নিয়ে ফিফার এই সম্মানজনক পদক্ষেপ ভবিষ্যতের বিশ্বকাপ আয়োজনেও নজির হতে পারে।

বিষয় : সৌদি আরব ফুটবল বিশ্বকাপ উরুগুয়ে

আপনার মতামত লিখুন

গণবার্তা

মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬


সৌদি আরব ও উরুগুয়ের ১-১ গোলে ড্র

প্রকাশের তারিখ : ১৬ জুন ২০২৬

featured Image
বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত যে কয়টি দেশ অংশ নিয়েছে তার মধ্যে কেবল দুটি দেশের পতাকাতেই আল্লাহর নাম লেখা আছে। সৌদি আরবের পতাকায় লেখা আছে কালেমা তাইয়্যিবা ও ইরাকের পতাকায় আল্লাহু আকবার। ইরাক এখন পর্যন্ত মাঠে নামেনি, তবে সৌদি আরব ইতোমধ্যে খেলে ফেলেছে তাদের প্রথম ম্যাচ। উরুগুয়ের বিপক্ষে যেখানে তারা ১-১ গোলে ড্র করে।নিয়ম অনুযায়ী, ওই ম্যাচের শুরুতে জাতীয় সংগীত গাওয়ার আগে দুই দেশের পতাকা মাঠে প্রদর্শন করা হয়; কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে দেখা যায় সৌদি আরবের পতাকা মাটিতে নামানো হয়নি। এর আগে এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপের যে কয়টি ম্যাচ হয়েছে, সবগুলো ম্যাচেই জাতীয় সংগীত গাওয়ার সময় পতাকা মাটিতে নামানো হয়েছিল। শুধু এই ম্যাচেই ব্যতিক্রম দেখা গেল।সৌদি আরবের পতাকা মাটিতে নামানো হয়নি। আবার যাতে এক দেশের পতাকা মাটিতে নামানো আরেক দেশেরটা উঠানো—এই বিতর্ক এড়াতে উরুগুয়ের পতাকাও ওপরে উঠিয়ে রাখা হয়।সৌদি আরবের নিয়ম অনুযায়ী, কালিমা খচিত হওয়ায় দেশটির পতাকাকে কখনো মাটিতে নামানো যাবে না। মূলত ফিফা তাদের এই স্পিরিটকেই সম্মান দেখিয়ে পতাকা না নামিয়ে হাতে উঁচিয়ে রেখেছিল। সৌদি আরবের অনুরোধেই ফিফা এমন সম্মান দেখায়। যার কারণে প্রশংসাও পাচ্ছে ফিফা।বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ থেকেই জাতীয় সংগীতের সময় পতাকা মাটিতে নামানোর চল ছিল। কিন্তু সৌদি আরবের পতাকায় ইসলামের কালেমা থাকায় দেশটির পক্ষ থেকে ফিফাকে বিশেষ অনুরোধ জানানো হয় পতাকা যেন মাটিতে না নামানো হয়। ফিফা সেই অনুরোধ রক্ষা করেছে এবং পতাকা হাতেই উঁচিয়ে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।ফিফার এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে সৌদি আরব ফুটবল ফেডারেশন (এসএএফএফ)। তারা এক বিবৃতিতে ফিফাকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেছে, ‘আমাদের ধর্মীয় মূল্যবোধকে সম্মান জানানোর জন্য ফিফাকে ধন্যবাদ। এটি দেখায় ফুটবল শুধু খেলা নয়, বরং সংস্কৃতি ও বিশ্বাসের প্রতিও শ্রদ্ধাশীল।’মিয়ামি স্টেডিয়ামে উরুগুয়ের দাপুটে খেলায় ম্যাচটি ১-১ ড্র হয়েছে। ফলে পয়েন্ট ভাগাভাগি করেছে দুই দল। ম্যাচে ২৭টি শট নিয়ে ১০টি লক্ষ্যে রাখলেও একটির বেশি গোল আদায় করতে পারেনি উরুগুয়ে। অন্যদিকে ৭ শটের তিনটি লক্ষ্যে রেখে একটি গোল করে সৌদি আরব।শক্তিমত্তায় এগিয়ে থাকা দলের জন্য হতাশার রাত ছিল এটি! স্পেনকে রুখে গোলশূন্য ড্র করেছে কেপ ভার্দে, মিসরের সঙ্গে ড্র করেছে বেলজিয়াম, এবার সৌদি আরব ড্র করল উরুগুয়ের সাথে।ম্যাচের ৪১তম মিনিটে এগিয়ে যায় সৌদি আরব। কর্নার থেকে চমৎকার বল ভাসিয়ে দেন আল জুয়াইর। বলটি পেছনের পোস্টে থাকা আবদুলহামিদের কাছে পৌঁছায়। সেখান থেকে তিনি শক্তিশালী শট নেন উরুগুয়ের গোলরক্ষক মুসলেরার দিকে। মুসলেরা প্রথম শটটি ঠেকাতে সক্ষম হলেও পুরোপুরি ক্লিয়ার করতে পারেননি। সুযোগ বুঝে দ্রুত বলের কাছে পৌঁছে যান আল আমরি। রিবাউন্ড থেকে সহজ টোকায় বল জালে পাঠিয়ে সৌদি আরবকে এনে দেন ১-০ লিড।দ্বিতীয়ার্ধের পুরোটাই খেলেছে উরুগুয়ে। একের পর এক আক্রমণ করে গেছে। অবশেষে ৮০তম মিনিটে ডেডলক ভাঙেন ম্যাক্সিমিলিয়ানো আরাউহো। প্রথমে ভিনাসের হেড থেকে আসা বল দুর্দান্তভাবে ঠেকিয়ে দেন সৌদি গোলরক্ষক আল-ওয়াইস। তবে বলটি বিপদমুক্ত করতে না পারায় তা গিয়ে পড়ে আরাউহোর সামনে। গোলরক্ষক আল-ওয়াইস তখন অবস্থানের বাইরে থাকায় সহজ টোকায় বল জালে পাঠিয়ে দেন আরাউহো।যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে আরও একবার নিজের দলকে বিপদ থেকে রক্ষা করেন আল-ওয়াইস। ফেদেরিকো ভালভার্দের দূর থেকে নেওয়া শক্তিশালী শট ডাইভ দিয়ে ঠেকিয়ে দেন তিনি, ফলে নিশ্চিত গোল থেকে বঞ্চিত হয় উরুগুয়ে।গত বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে দিয়েছিল সৌদি আরব। এবার লাতিন আমেরিকার আরেক পরাশক্তি উরুগুয়ের বিপক্ষে প্রথমে এগিয়ে গিয়েছিল তারা। সেই লিড ধরে রাখতে পারেনি। তবে উরুগুয়ের মুহুর্মুহু আক্রমণ ঠেকিয়ে হার ঠিকই এড়িয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশটি।সৌদি আরবের কোচ ম্যাচ শেষে বলেন, ‘আমরা দারুণ খেলেছি। উরুগুয়ের মতো দলের বিপক্ষে পয়েন্ট পাওয়া বড় ব্যাপার। বিশেষ করে দ্বিতীয়ার্ধে তাদের বাঁধা দেওয়া সহজ ছিল না।’উরুগুয়ের কোচ অবশ্য হতাশ। তিনি বলেন, ‘আমরা ২৭টি শট নিয়েছি, অথচ মাত্র একটি গোল করতে পেরেছি। এটি আমাদের দুর্বল ফিনিশিংয়ের পরিচয়। সৌদি আরবকে কৃতিত্ব দিতে হবে তাদের রক্ষণ ও গোলরক্ষকের জন্য।’ফিফার প্রশংসাসৌদি আরবের পতাকা মাটিতে না নামানোর ফিফার সিদ্ধান্তটি এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশংসিত হচ্ছে। ফুটবলপ্রেমীরা বলছেন, ফিফা ধর্মীয় বিশ্বাস ও সংস্কৃতির প্রতি যথাযথ সম্মান দেখিয়েছে। অনেকে মনে করেন, ফিফার এমন উদার মনোভাব বিশ্বকাপকে আরও মানবিক ও সবার জন্য উন্মুক্ত করে তুলেছে।এখন পর্যন্ত ফিফার এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কোনো আনুষ্ঠানিক আপত্তি জানানো হয়নি। সংশ্লিষ্ট মহল বলছে, এটাই ফুটবলের সার্বজনীন চেতনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। সৌদি আরবের পতাকা নিয়ে ফিফার এই সম্মানজনক পদক্ষেপ ভবিষ্যতের বিশ্বকাপ আয়োজনেও নজির হতে পারে।

গণবার্তা

সম্পাদকঃ নূর মোহাম্মদ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা