ঢাকা    রোববার, ২১ জুন ২০২৬
ঢাকা    রোববার, ২১ জুন ২০২৬
গণবার্তা

আবারও হরমুজ প্রণালি বন্ধের ঘোষণা ইরানের

আবারও হরমুজ প্রণালি বন্ধের ঘোষণা ইরানের

আবারও হরমুজ প্রণালি বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) নৌবাহিনী। একই সঙ্গে বাণিজ্যিক ও অন্যান্য জাহাজকে প্রণালি দিয়ে না যেতে সতর্ক করেছে তারা। শনিবার আইআরজিসির নৌবাহিনী বিবৃতিতে জানায়, লেবাননে ইসরায়েলের অব্যাহত সামরিক অভিযান এবং যুদ্ধবিরতি-সংক্রান্ত প্রতিশ্রুতি রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্র ব্যর্থ হওয়ায় এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এদিকে ইরানের কেন্দ্রীয় সামরিক কমান্ড জানিয়েছে, দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের হামলার জেরে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করা হয়েছে। এ হামলা দুই দেশের সমঝোতা স্মারকের লঙ্ঘন। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত বিবৃতিতে খাতাম আল-আনবিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্স বলেছে, হরমুজ প্রণালি জাহাজ চলাচলের জন্য বন্ধ থাকবে। এই সিদ্ধান্ত শত্রুপক্ষের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের জবাবে নেওয়া প্রথম পদক্ষেপ। আগ্রাসন অব্যাহত থাকলে শত্রুদের সমঝোতার শর্ত মানতে বাধ্য করার পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

ইরানের এই ঘোষণার পরপরই বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম লাফিয়ে উঠেছে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রতি ব্যারেল ৮৫ ডলার ছাড়িয়েছে, যা গত সপ্তাহের তুলনায় প্রায় ৪ শতাংশ বেশি। হরমুজ প্রণালি বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ, যার মাধ্যমে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ যায়। এই পথ বন্ধ হয়ে গেলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধাক্কা লাগার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র এই সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। হোয়াইট হাউসের এক মুখপাত্র বলেন, ‘ইরানের এই পদক্ষেপ সম্পূর্ণ অযৌক্তিক ও প্রতিশ্রুতিবিহীন। আমরা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।’ ইসরায়েল অবশ্য ইরানের এই ঘোষণাকে ‘প্রচেষ্টা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী বলেন, ‘ইরান যদি প্রণালি বন্ধ রাখে, তাহলে তারা নিজেদের বিরুদ্ধেই ষড়যন্ত্র করবে। আমরা আমাদের স্বার্থ রক্ষায় যে কোনো পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত।’

 অন্যদিকে রাশিয়া ও চীন পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণভাবে সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে। আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইন অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালি একটি আন্তর্জাতিক জলপথ, যেখানে সব দেশের জাহাজ চলাচলের অধিকার রয়েছে। ইরানের এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তবে ইরান বলছে, এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় ‘প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা’ হিসেবে বৈধ। ইরানের সর্বোচ্চ নেতার উপদেষ্টা এক টুইটে বলেছেন, ‘যদি তেল প্রবাহ বন্ধ হয়, তাহলে পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতা বিপন্ন হবে। আমরা কাউকে হুমকি দিতে চাই না, কিন্তু আমাদের প্রতিরোধের অধিকার আমরা বরাবর ব্যবহার করব।’ হরমুজ প্রণালি বন্ধের এই ঘোষণার মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হলো।

গত সপ্তাহেই যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের মধ্যে একটি ঐতিহাসিক শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল, যা এই উত্তেজনা প্রশমনের কথা ছিল। কিন্তু সেই চুক্তি এখন হুমকির মুখে পড়ল। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় কীভাবে এই পরিস্থিতি সামাল দেয়, তার ওপর নির্ভর করছে বৈশ্বিক অর্থনীতির ভবিষ্যৎ।

আপনার মতামত লিখুন

গণবার্তা

রোববার, ২১ জুন ২০২৬


আবারও হরমুজ প্রণালি বন্ধের ঘোষণা ইরানের

প্রকাশের তারিখ : ২০ জুন ২০২৬

featured Image
আবারও হরমুজ প্রণালি বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) নৌবাহিনী। একই সঙ্গে বাণিজ্যিক ও অন্যান্য জাহাজকে প্রণালি দিয়ে না যেতে সতর্ক করেছে তারা। শনিবার আইআরজিসির নৌবাহিনী বিবৃতিতে জানায়, লেবাননে ইসরায়েলের অব্যাহত সামরিক অভিযান এবং যুদ্ধবিরতি-সংক্রান্ত প্রতিশ্রুতি রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্র ব্যর্থ হওয়ায় এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এদিকে ইরানের কেন্দ্রীয় সামরিক কমান্ড জানিয়েছে, দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের হামলার জেরে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করা হয়েছে। এ হামলা দুই দেশের সমঝোতা স্মারকের লঙ্ঘন। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত বিবৃতিতে খাতাম আল-আনবিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্স বলেছে, হরমুজ প্রণালি জাহাজ চলাচলের জন্য বন্ধ থাকবে। এই সিদ্ধান্ত শত্রুপক্ষের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের জবাবে নেওয়া প্রথম পদক্ষেপ। আগ্রাসন অব্যাহত থাকলে শত্রুদের সমঝোতার শর্ত মানতে বাধ্য করার পদক্ষেপ নেওয়া হবে।ইরানের এই ঘোষণার পরপরই বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম লাফিয়ে উঠেছে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রতি ব্যারেল ৮৫ ডলার ছাড়িয়েছে, যা গত সপ্তাহের তুলনায় প্রায় ৪ শতাংশ বেশি। হরমুজ প্রণালি বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ, যার মাধ্যমে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ যায়। এই পথ বন্ধ হয়ে গেলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধাক্কা লাগার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র এই সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। হোয়াইট হাউসের এক মুখপাত্র বলেন, ‘ইরানের এই পদক্ষেপ সম্পূর্ণ অযৌক্তিক ও প্রতিশ্রুতিবিহীন। আমরা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।’ ইসরায়েল অবশ্য ইরানের এই ঘোষণাকে ‘প্রচেষ্টা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী বলেন, ‘ইরান যদি প্রণালি বন্ধ রাখে, তাহলে তারা নিজেদের বিরুদ্ধেই ষড়যন্ত্র করবে। আমরা আমাদের স্বার্থ রক্ষায় যে কোনো পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত।’ অন্যদিকে রাশিয়া ও চীন পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণভাবে সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে। আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইন অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালি একটি আন্তর্জাতিক জলপথ, যেখানে সব দেশের জাহাজ চলাচলের অধিকার রয়েছে। ইরানের এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তবে ইরান বলছে, এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় ‘প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা’ হিসেবে বৈধ। ইরানের সর্বোচ্চ নেতার উপদেষ্টা এক টুইটে বলেছেন, ‘যদি তেল প্রবাহ বন্ধ হয়, তাহলে পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতা বিপন্ন হবে। আমরা কাউকে হুমকি দিতে চাই না, কিন্তু আমাদের প্রতিরোধের অধিকার আমরা বরাবর ব্যবহার করব।’ হরমুজ প্রণালি বন্ধের এই ঘোষণার মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হলো।গত সপ্তাহেই যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের মধ্যে একটি ঐতিহাসিক শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল, যা এই উত্তেজনা প্রশমনের কথা ছিল। কিন্তু সেই চুক্তি এখন হুমকির মুখে পড়ল। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় কীভাবে এই পরিস্থিতি সামাল দেয়, তার ওপর নির্ভর করছে বৈশ্বিক অর্থনীতির ভবিষ্যৎ।

গণবার্তা

সম্পাদকঃ নূর মোহাম্মদ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা