ঢাকা    রোববার, ২১ জুন ২০২৬
ঢাকা    রোববার, ২১ জুন ২০২৬
গণবার্তা

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি ভেস্তে দিতে পারে ইসরায়েল, ট্রাম্প প্রশাসনকে সতর্ক করল মার্কিন গোয়েন্দা

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি ভেস্তে দিতে পারে ইসরায়েল, ট্রাম্প প্রশাসনকে সতর্ক করল মার্কিন গোয়েন্দা

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সমঝোতা নিয়ে ইসরায়েল যেন কোনো বড় ধরনের বাধা সৃষ্টি না করে, সে ব্যাপারে ট্রাম্প প্রশাসনকে সতর্ক করে দিয়েছে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। তারা বলছে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই চুক্তি ভেস্তে দিতে বেপরোয়া কোনো পদক্ষেপ নিতে পারেন। শনিবার ওয়াশিংটন পোস্টের বরাত দিয়ে জিও নিউজ জানিয়েছে, মার্কিন গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে নেতানিয়াহু বর্তমানে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে যাওয়ার জন্য তীব্র রাজনৈতিক চাপের মধ্যে রয়েছেন। এমন অবস্থায় তিনি মার্কিন-ইরান চুক্তি নস্যাৎ করার চেষ্টা করতে পারেন। সাবেক ও বর্তমান মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ইরানের সঙ্গে এই চুক্তিতে ইসরায়েল খুবই হতাশ। তারা মনে করছে, এই সমঝোতার কারণে লেবাননে তাদের অব্যাহত হামলার সুযোগ অনেকটা সীমিত হয়ে পড়েছে। একজন মার্কিন কর্মকর্তা বলেছেন, লেবাননের কিছু অংশ দখলে রাখা ইসরায়েলের জন্য বড় ধরনের বিপদ ডেকে আনবে। সেখান থেকে ইসরায়েলি সেনা পুরোপুরি সরিয়ে না নিলে যেকোনো সময় হিজবুল্লাহর সঙ্গে নতুন করে সংঘাত বেধে যেতে পারে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, লেবানন থেকে সেনা প্রত্যাহার করা নেতানিয়াহুর জন্য বড় ধরনের রাজনৈতিক পরাজয় হিসেবে দেখা হবে। এ ধরনের হঠকারী পদক্ষেপ ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ করার চেষ্টা ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সম্পর্কে ফাটল ধরিয়েছে।

মার্কিন গোয়েন্দা তথ্য অনুসারে, ট্রাম্পের শান্তি সমঝোতার মূল শর্তগুলো নিয়ে ইসরায়েল বেশ ক্ষুব্ধ। কারণ এতে তেহরান ও প্রতিরোধ অক্ষের ওপর চাপ প্রয়োগের যে লক্ষ্য ইসরায়েলের ছিল, তা সরাসরি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। ইসরায়েলি কর্মকর্তারা মনে করছেন, এই চুক্তি ইরানের আঞ্চলিক প্রভাবকে আইনি বৈধতা দেয় এবং তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি অব্যাহত রাখার সুযোগ দেয়। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র বলছে, এই চুক্তি অঞ্চলে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনবে এবং ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র থেকে বিরত রাখবে। ইসরায়েলি কর্মকর্তারা বলেছেন, তারা এই চুক্তির বিরোধিতা করবেন এবং প্রয়োজনে নিজেদের স্বার্থরক্ষায় একক পদক্ষেপ নিতে পারেন। এদিকে চুক্তির খসড়া ও শর্ত নিয়ে আরও আলোচনার জন্য সুইজারল্যান্ডে যাচ্ছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি। উভয়েই নিজ নিজ দেশ থেকে রওনা দিয়েছেন। হোয়াইট হাউস উইটকফের সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করলেও এ নিয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য দেয়নি। ইরানের সংবাদমাধ্যমেও আরাগচির এই সফর নিয়ে খুব বেশি বিস্তারিত বলা হয়নি। উল্লেখ্য, শুক্রবার (১৯ জুন) সুইজারল্যান্ডে ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরের কথা ছিল। মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে থাকার কথা ছিল ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের। কিন্তু শেষ মুহূর্তে ইরানের পক্ষ থেকে কিছু শর্ত নিয়ে আপত্তি ওঠায় তা স্থগিত হয়। এখন উইটকফ-আরাগচি বৈঠকে সেই শর্তগুলো চূড়ান্ত করা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী এই চুক্তিকে ‘ঐতিহাসিক ভুল’ আখ্যা দিয়ে বলেছেন, ইসরায়েল নিজের নিরাপত্তার ব্যাপারে কারও ওপর নির্ভর করবে না। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, প্রয়োজনে ইসরায়েল ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় সামরিক অভিযান চালাতে পারে। এই হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকে সতর্ক করে বলেছে, তারা যেন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বয় না করে কোনো পদক্ষেপ না নেয়। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো নেতানিয়াহুর সরকারের সম্ভাব্য পদক্ষেপগুলো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। পরিস্থিতি অত্যন্ত স্পর্শকাতর। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে সুইজারল্যান্ডে হওয়া আলোচনা এবং ইসরায়েলের প্রতিক্রিয়ার ওপর নির্ভর করছে এই চুক্তির ভবিষ্যৎ। আন্তর্জাতিক মহল উদ্বিগ্ন দৃষ্টিতে এই ঘটনা পর্যবেক্ষণ করছে। কারণ এই অঞ্চলে একটি ভুল পদক্ষেপ পুরো মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের সংঘাত ডেকে আনতে পারে।

আপনার মতামত লিখুন

গণবার্তা

রোববার, ২১ জুন ২০২৬


ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি ভেস্তে দিতে পারে ইসরায়েল, ট্রাম্প প্রশাসনকে সতর্ক করল মার্কিন গোয়েন্দা

প্রকাশের তারিখ : ২০ জুন ২০২৬

featured Image
ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সমঝোতা নিয়ে ইসরায়েল যেন কোনো বড় ধরনের বাধা সৃষ্টি না করে, সে ব্যাপারে ট্রাম্প প্রশাসনকে সতর্ক করে দিয়েছে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। তারা বলছে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই চুক্তি ভেস্তে দিতে বেপরোয়া কোনো পদক্ষেপ নিতে পারেন। শনিবার ওয়াশিংটন পোস্টের বরাত দিয়ে জিও নিউজ জানিয়েছে, মার্কিন গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে নেতানিয়াহু বর্তমানে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে যাওয়ার জন্য তীব্র রাজনৈতিক চাপের মধ্যে রয়েছেন। এমন অবস্থায় তিনি মার্কিন-ইরান চুক্তি নস্যাৎ করার চেষ্টা করতে পারেন। সাবেক ও বর্তমান মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ইরানের সঙ্গে এই চুক্তিতে ইসরায়েল খুবই হতাশ। তারা মনে করছে, এই সমঝোতার কারণে লেবাননে তাদের অব্যাহত হামলার সুযোগ অনেকটা সীমিত হয়ে পড়েছে। একজন মার্কিন কর্মকর্তা বলেছেন, লেবাননের কিছু অংশ দখলে রাখা ইসরায়েলের জন্য বড় ধরনের বিপদ ডেকে আনবে। সেখান থেকে ইসরায়েলি সেনা পুরোপুরি সরিয়ে না নিলে যেকোনো সময় হিজবুল্লাহর সঙ্গে নতুন করে সংঘাত বেধে যেতে পারে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, লেবানন থেকে সেনা প্রত্যাহার করা নেতানিয়াহুর জন্য বড় ধরনের রাজনৈতিক পরাজয় হিসেবে দেখা হবে। এ ধরনের হঠকারী পদক্ষেপ ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ করার চেষ্টা ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সম্পর্কে ফাটল ধরিয়েছে।মার্কিন গোয়েন্দা তথ্য অনুসারে, ট্রাম্পের শান্তি সমঝোতার মূল শর্তগুলো নিয়ে ইসরায়েল বেশ ক্ষুব্ধ। কারণ এতে তেহরান ও প্রতিরোধ অক্ষের ওপর চাপ প্রয়োগের যে লক্ষ্য ইসরায়েলের ছিল, তা সরাসরি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। ইসরায়েলি কর্মকর্তারা মনে করছেন, এই চুক্তি ইরানের আঞ্চলিক প্রভাবকে আইনি বৈধতা দেয় এবং তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি অব্যাহত রাখার সুযোগ দেয়। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র বলছে, এই চুক্তি অঞ্চলে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনবে এবং ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র থেকে বিরত রাখবে। ইসরায়েলি কর্মকর্তারা বলেছেন, তারা এই চুক্তির বিরোধিতা করবেন এবং প্রয়োজনে নিজেদের স্বার্থরক্ষায় একক পদক্ষেপ নিতে পারেন। এদিকে চুক্তির খসড়া ও শর্ত নিয়ে আরও আলোচনার জন্য সুইজারল্যান্ডে যাচ্ছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি। উভয়েই নিজ নিজ দেশ থেকে রওনা দিয়েছেন। হোয়াইট হাউস উইটকফের সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করলেও এ নিয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য দেয়নি। ইরানের সংবাদমাধ্যমেও আরাগচির এই সফর নিয়ে খুব বেশি বিস্তারিত বলা হয়নি। উল্লেখ্য, শুক্রবার (১৯ জুন) সুইজারল্যান্ডে ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরের কথা ছিল। মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে থাকার কথা ছিল ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের। কিন্তু শেষ মুহূর্তে ইরানের পক্ষ থেকে কিছু শর্ত নিয়ে আপত্তি ওঠায় তা স্থগিত হয়। এখন উইটকফ-আরাগচি বৈঠকে সেই শর্তগুলো চূড়ান্ত করা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।এদিকে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী এই চুক্তিকে ‘ঐতিহাসিক ভুল’ আখ্যা দিয়ে বলেছেন, ইসরায়েল নিজের নিরাপত্তার ব্যাপারে কারও ওপর নির্ভর করবে না। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, প্রয়োজনে ইসরায়েল ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় সামরিক অভিযান চালাতে পারে। এই হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকে সতর্ক করে বলেছে, তারা যেন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বয় না করে কোনো পদক্ষেপ না নেয়। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো নেতানিয়াহুর সরকারের সম্ভাব্য পদক্ষেপগুলো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। পরিস্থিতি অত্যন্ত স্পর্শকাতর। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে সুইজারল্যান্ডে হওয়া আলোচনা এবং ইসরায়েলের প্রতিক্রিয়ার ওপর নির্ভর করছে এই চুক্তির ভবিষ্যৎ। আন্তর্জাতিক মহল উদ্বিগ্ন দৃষ্টিতে এই ঘটনা পর্যবেক্ষণ করছে। কারণ এই অঞ্চলে একটি ভুল পদক্ষেপ পুরো মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের সংঘাত ডেকে আনতে পারে।

গণবার্তা

সম্পাদকঃ নূর মোহাম্মদ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা