কক্সবাজারের কুতুবদিয়া উপজেলায় জুমার খুতবা প্রদান ও ইমামতি করে স্থানীয় মুসল্লিদের মাঝে প্রশংসায় ভাসছেন নতুন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান। শুক্রবার ১৯ জুন দক্ষিণ ধুরুং ইউনিয়ন পরিষদের পাশের একটি মসজিদে এই ব্যতিক্রমী জুমার জামাত অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে তিনি মুসল্লিদের উদ্দেশে সমসাময়িক নানা বিষয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় বক্তব্য উপস্থাপন করেন। প্রশাসনিক কাজের বাইরে তার এমন ধর্মীয় অংশগ্রহণ পুরো এলাকায় এক ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে যে জুমার নামাজ উপলক্ষে ওই মসজিদে দুপুরের দিকে বিপুলসংখ্যক মুসল্লির সমাগম ঘটেছিল। জুমার খুতবা দেওয়ার শুরুতে ইসলামের মৌলিক শিক্ষা, মানবিক মূল্যবোধ এবং সামাজিক সম্প্রীতি বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন এই সরকারি কর্মকর্তা। তিনি সমাজে শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার পাশাপাশি পারস্পরিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা সুন্দরভাবে তুলে ধরেন। ধর্মীয় অনুশাসন নিখুঁতভাবে মেনে চলার পাশাপাশি নিজ নিজ নাগরিক দায়িত্ব পালনের বিষয়েও তিনি উপস্থিত সবাইকে উদ্বুদ্ধ করেন। খুতবা শেষে তিনি জুমার নামাজে সরাসরি ইমামতি করলে স্থানীয় সাধারণ মুসল্লিরা তার পেছনে কাতারবদ্ধ হয়ে নামাজ আদায় করেন। দক্ষিণ ধুরুং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন আল আজাদ জানান যে নবাগত এই কর্মকর্তা অত্যন্ত শিক্ষণীয় বয়ান পেশ করেছেন।
একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা হিসেবে সাধারণ মানুষের এত কাছাকাছি আসার এই উদ্যোগ সত্যিই ব্যাপক প্রশংসার দাবি রাখে। এর ফলে সাধারণ জনগণের সাথে স্থানীয় প্রশাসনের দূরত্ব অনেক কমে আসবে এবং পারস্পরিক আস্থা বৃদ্ধি পাবে। টাঙ্গাইল জেলার মির্জাপুর উপজেলার বাসিন্দা মো. মিজানুর রহমান সম্প্রতি কুতুবদিয়া উপজেলায় নিজের প্রশাসনিক দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এর আগে গত পবিত্র ঈদুল আজহায় তিনি দীর্ঘদিনের প্রচলিত পৃথক পৃথক জামাতের পরিবর্তে সবাইকে ঈদগাহ মাঠে একত্রিত করেছিলেন। সামাজিক সংহতি ও ভ্রাতৃত্ববোধ জোরদারে কুতুবদিয়ার সর্বস্তরের মানুষ প্রশাসনের এই কর্মকর্তার সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় উপস্থিতিকে সাধুবাদ জানিয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে মিজানুর রহমানের এই উদ্যোগ প্রশাসন ও জনগণের মাঝে নতুন সেতুবন্ধন তৈরি করবে। মুসল্লিরা বলেন, কোনো প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে মসজিদে খুতবা দিতে ও ইমামতি করতে দেখে তারা অভিভূত হয়েছেন। তারা আশা করছেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে স্থানীয় প্রশাসনের প্রতি মানুষের আস্থা আরও বাড়বে। ইউএনও মিজানুর রহমান বলেন, ইসলাম শান্তি ও সম্প্রীতির ধর্ম। তিনি চান তার প্রশাসনিক দায়িত্বের পাশাপাশি ধর্মীয় কাজেও সমাজের মানুষের পাশে থাকতে। কুতুবদিয়াবাসী তার এমন মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি ও আন্তরিকতায় মুগ্ধ হয়েছেন। আদর্শ প্রশাসনের যে প্রতিচ্ছবি তিনি ফুটিয়ে তুলেছেন, তা দীর্ঘদিন মনে রাখবেন স্থানীয়রা।

রোববার, ২১ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২০ জুন ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন